Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Topics - Reza.

Pages: [1] 2 3 ... 21
1
(মিথ্যাবাদীর আকাশ)

সব ছিল কেবল তার মুখের কথায়। কথা বলাতেও যে অনেক এনার্জি লাগে - এটা তাকে দেখে বোঝা যায়। মুখের প্রতিটা পেশি শক্ত হয়ে বুঝিয়ে দেয় কথাগুলোতে কত নিপুন দক্ষতা আছে। প্রতিটা শব্দের উঠানামা আর বিরতিতে স্পষ্ট সজ্ঞান আচরণ। কত নিপুণ দক্ষতায় সে কথা বলে চলে। সে সব বলে চলে - কেবল যা বলার কথা সেটি বাদে। কত সূক্ষ তার বাচন ভঙ্গী - কত নিখুঁত তার বাক্য চয়ন। ঠিক যেমন দাবাখেলার সময় মাথা কাজ করে চলে - সেই রকম সুক্ষতায় সে ভেবে চলে।
তার একমাত্র ভয় হল মোবাইল রেকর্ডার। তার চক্ষুশূল রেকর্ডার মিথ্যা গুলোকে তার বিরুদ্ধেই সাক্ষ্য দেয়। আর ভয় পায় সে লিখতে। তার পছন্দ হল পেন্সিলের রাবার আর কি বোর্ডের ইরেজ বাটন। কারণ এগুলো দিয়ে তার মিথ্যাগুলোকে মুছে ফেলা যায়। কখনোবা সত্য গুলোকে মিথ্যায় পরিনত করা যায়। অভিনয়ে সে অতি দক্ষ। যেভাবে মাছ শিকারির নৌকা চালানোর দরকার পড়ে - অভিনয়ও মিথ্যার সাথে অঙ্গাঙ্গী একইভাবে তার দরকার পড়ে। সে যা বলে - অস্বীকার করে তা পরের মুহূর্তেই। তার অভিনয়ের নিপুণ দক্ষতা অস্কার পাওয়ার যোগ্য।
মিথ্যাবাদীর চোখ চকচক করে উঠে। আগে কখনো লিখেনি সে। লেখাকে বরাবরই সে ঘৃণা করে। লেখা গুলো মনে হয় তার মুখের কথাকে চপাটেঘাত করে চলে। প্রতি মুহূর্তে তার মনে হয় লেখা যদি না থাকতো - থাকতো যদি শুধু মুখের কথা। সে ইচ্ছা মত কথা গুলোকে ঘুরির মত উড়িয়ে যেত। কখনো বা বেলুনের মত আকাশে পাঠিয়ে দিত। লেখা গুলো যেন তীর হয়ে কেটে দেয় ঘুরিগুলোকে আর ফাটিয়ে দেয় তার বেলুন। মুখ থেকে বের হওয়া মিথ্যার বাবল্গুলো ফেটে গিয়ে দুর্গন্ধ ছড়ায় চারিদিকে।
 
আকাশটা ছিল ঘন নীল। বাতাসে ছিল সৌরভ। চারিদিকে ছিল পাখির কলতান আর ছিল সবুজ ঘাস। এখানে কবিতা লিখে চলা যায় অনন্তকাল। ছবি আঁকা যায় তুলির টানে। মিথ্যাবাদী কবিতা লিখতে চায়। সে জানে লেখা হবে না কিছুই। মিথ্যা দিয়ে কবিতা হয় না। আঁকা যায় না ছবি।

সে জানে না তাকে নিয়ে একজন কবিতা লেখার চেষ্টা করে চলেছে।জানে না সে নিজেই একটা নাটকের খল চরিত্র। তার কথা বলার ভঙ্গী কত নিখুঁত ভাবে অনুসরন করে চলে লেখক শুধু একেকটি ডায়ালগ লেখার জন্য। তার বাচনভঙ্গি অনুকরণ করা হয়েছে সিনেমার ভিলেন চরিত্রের ডায়ালগে - তা তার জানা নেই। হি হিমসেলফ ইজ এ পিস অফ আর্ট।

2
Textile Engineering / মিথ্যাবাদীর আকাশ
« on: June 24, 2019, 12:28:45 AM »
(মিথ্যাবাদীর আকাশ)

সব ছিল কেবল তার মুখের কথায়। কথা বলাতেও যে অনেক এনার্জি লাগে - এটা তাকে দেখে বোঝা যায়। মুখের প্রতিটা পেশি শক্ত হয়ে বুঝিয়ে দেয় কথাগুলোতে কত নিপুন দক্ষতা আছে। প্রতিটা শব্দের উঠানামা আর বিরতিতে স্পষ্ট সজ্ঞান আচরণ। কত নিপুণ দক্ষতায় সে কথা বলে চলে। সে সব বলে চলে - কেবল যা বলার কথা সেটি বাদে। কত সূক্ষ তার বাচন ভঙ্গী - কত নিখুঁত তার বাক্য চয়ন। ঠিক যেমন দাবাখেলার সময় মাথা কাজ করে চলে - সেই রকম সুক্ষতায় সে ভেবে চলে।
তার একমাত্র ভয় হল মোবাইল রেকর্ডার। তার চক্ষুশূল রেকর্ডার মিথ্যা গুলোকে তার বিরুদ্ধেই সাক্ষ্য দেয়। আর ভয় পায় সে লিখতে। তার পছন্দ হল পেন্সিলের রাবার আর কি বোর্ডের ইরেজ বাটন। কারণ এগুলো দিয়ে তার মিথ্যাগুলোকে মুছে ফেলা যায়। কখনোবা সত্য গুলোকে মিথ্যায় পরিনত করা যায়। অভিনয়ে সে অতি দক্ষ। যেভাবে মাছ শিকারির নৌকা চালানোর দরকার পড়ে - অভিনয়ও মিথ্যার সাথে অঙ্গাঙ্গী একইভাবে তার দরকার পড়ে। সে যা বলে - অস্বীকার করে তা পরের মুহূর্তেই। তার অভিনয়ের নিপুণ দক্ষতা অস্কার পাওয়ার যোগ্য।
মিথ্যাবাদীর চোখ চকচক করে উঠে। আগে কখনো লিখেনি সে। লেখাকে বরাবরই সে ঘৃণা করে। লেখা গুলো মনে হয় তার মুখের কথাকে চপাটেঘাত করে চলে। প্রতি মুহূর্তে তার মনে হয় লেখা যদি না থাকতো - থাকতো যদি শুধু মুখের কথা। সে ইচ্ছা মত কথা গুলোকে ঘুরির মত উড়িয়ে যেত। কখনো বা বেলুনের মত আকাশে পাঠিয়ে দিত। লেখা গুলো যেন তীর হয়ে কেটে দেয় ঘুরিগুলোকে আর ফাটিয়ে দেয় তার বেলুন। মুখ থেকে বের হওয়া মিথ্যার বাবল্গুলো ফেটে গিয়ে দুর্গন্ধ ছড়ায় চারিদিকে।
 
আকাশটা ছিল ঘন নীল। বাতাসে ছিল সৌরভ। চারিদিকে ছিল পাখির কলতান আর ছিল সবুজ ঘাস। এখানে কবিতা লিখে চলা যায় অনন্তকাল। ছবি আঁকা যায় তুলির টানে। মিথ্যাবাদী কবিতা লিখতে চায়। সে জানে লেখা হবে না কিছুই। মিথ্যা দিয়ে কবিতা হয় না। আঁকা যায় না ছবি।

সে জানে না তাকে নিয়ে একজন কবিতা লেখার চেষ্টা করে চলেছে।জানে না সে নিজেই একটা নাটকের খল চরিত্র। তার কথা বলার ভঙ্গী কত নিখুঁত ভাবে অনুসরন করে চলে লেখক শুধু একেকটি ডায়ালগ লেখার জন্য। তার বাচনভঙ্গি অনুকরণ করা হয়েছে সিনেমার ভিলেন চরিত্রের ডায়ালগে - তা তার জানা নেই। হি হিমসেলফ ইজ এ পিস অফ আর্ট।

3
Permanent Campus of DIU / If you are feeling down - visit hospitals.
« on: June 13, 2019, 11:04:45 PM »
হাসপাতালের এইচ ডি ইউ। হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট।
এখানে সবাই অনেক সিরিয়াস অবস্থার রুগী। প্রায় সবাই অচেতন অবস্থায় বেডে শুয়ে আছে। কেউ লাইফ সাপোর্টে। কারো মুখে অক্সিজেন মাস্ক লাগানো। পুরো এইচ ডি ইউয়ে ২৪ ঘন্টা একই রকম আলো ও তাপমাত্রা। দিন রাত্রির কোন পার্থক্য করা যায় না। না জানলে যে কেউ আশ্চর্য হয়ে ভাববে কিছু মানুষ যেন ঘুমিয়ে আছে অনন্তকাল কি এক মোহনিয় পরিবেশে। যেন তাদেরকে ডাক দিলেই এক এক জন জেগে উঠবে - চোখ কচলিয়ে ঘুম থেকে উঠে কথা বলে উঠবে। মেশিনের টিক টিক শব্দের সাথে নিশ্বাস নেয়ার ফোঁস ফোঁস শব্দ শোনা যায়। মনে হয় কিছু একটার জন্য সময় গননা চলতেছে।
এইচ ডি ইউ এর ভর্তি রুগীদের সাথে তাদের আত্মীয় স্বজনরা ভিতরে গিয়ে সকাল ১১ টা থেকে ১২ টা পর্যন্ত তাদের স্বজনকে দেখতে পারে।
সকাল ১০ঃ৫৫। এইচ ডি ইউয়ের গেটে ২০ - ২৫ জন আত্মীয়ের ভীর। তারা ব্যস্ত তাদের মুখে মাস্ক মাথায় টুপি পায়ের কভার আর আপ্রন পড়ার কাজে। শুধু ১১ঃ০০ টা বাজার অপেক্ষা। খুব দ্রুত তারা হাত দিয়ে আপ্রন মাস্ক পড়ে চলে। এই এক ঘন্টার প্রতি মুহূর্ত অতি মূল্যবান।
১১ঃ০০ টা বাজার সাথে সাথে সবাই প্রায় ছুটে চলে এইচ ডি ইউ এর ভিতরে। ছোটবেলায় স্কুল ছুটি হলে যে চিত্র ফুটে উঠে তার সাথে এর কিছুটা মিল আছে। এইচ ডি ইউ এ সব কিছুর হিসেব ভিন্ন। এখানে স্বজনের নিঃশ্বাস চলতেছে এইটা দেখাও যেন বহু মুল্যবান একটি উপহার। এখানে নাই কোন হিংসা শত্রুতার হিসেব। নাই কোন প্রথম হওয়ার বা লাভ ক্ষতির হিসেব। এখানে শুধুই হার্টবিট আর নিঃশ্বাস চলার হিসেব। প্রিয় জনের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকা। প্রতিদিনই তো কাছে থেকে দেখা হত। কিন্তু এখন সেই একই মানুষের মুখে কথা না থাকলেও অনেক মমতা উথলে উঠে। দুপুর ১২ঃ০০ টা বাজে। মনে হয় কত দ্রুত চলে গেল সময়টুকু। মেডিক্যাল এসিস্টেন্টদের বার বার অনুরোধ সত্ত্বেও কিছু সময় নেয়া। যতক্ষণ কাছে থাকা যায় প্রিয়জনের। বের হতে হতে বার বার পিছনে প্রিয়জনের দিকে ফিরে তাকানো। বের হওয়ার সময় গেটে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা।
রাত ১২ঃ০০ টা। এইচ ডি ইউয়ের গেট বন্ধ। বাইরে লম্বা বারান্দা। পুরো জায়গা সুনসান জনমানবহীন। কিন্তু জানি এখানে মন পড়ে আছে স্বজনদের। ঝড়ো বাতাস উঠে চলেছে। কিছুক্ষণ পরে ঝড় উঠবে। স্বজনের তাতে কোন ভ্রূক্ষেপ নাই। লম্বা বারান্দায় আনমনে হেটে চলে অক্লান্ত। বারান্দার বাইরে বড়বড় গাছের ডাল পালা ঝড়ে দুলে চলে। মনে পড়ে সেই শ্বাসের শব্দ। কিছুটা রহস্যময় মনে হয়। যেন ঝড় জানে অনেক কিছু। সেই অচেতন রুগীর কথা তার স্বজনের মনের কথা।

4
Textile Engineering / If you are feeling down - visit hospitals.
« on: June 13, 2019, 11:04:00 PM »
হাসপাতালের এইচ ডি ইউ। হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট।
এখানে সবাই অনেক সিরিয়াস অবস্থার রুগী। প্রায় সবাই অচেতন অবস্থায় বেডে শুয়ে আছে। কেউ লাইফ সাপোর্টে। কারো মুখে অক্সিজেন মাস্ক লাগানো। পুরো এইচ ডি ইউয়ে ২৪ ঘন্টা একই রকম আলো ও তাপমাত্রা। দিন রাত্রির কোন পার্থক্য করা যায় না। না জানলে যে কেউ আশ্চর্য হয়ে ভাববে কিছু মানুষ যেন ঘুমিয়ে আছে অনন্তকাল কি এক মোহনিয় পরিবেশে। যেন তাদেরকে ডাক দিলেই এক এক জন জেগে উঠবে - চোখ কচলিয়ে ঘুম থেকে উঠে কথা বলে উঠবে। মেশিনের টিক টিক শব্দের সাথে নিশ্বাস নেয়ার ফোঁস ফোঁস শব্দ শোনা যায়। মনে হয় কিছু একটার জন্য সময় গননা চলতেছে।
এইচ ডি ইউ এর ভর্তি রুগীদের সাথে তাদের আত্মীয় স্বজনরা ভিতরে গিয়ে সকাল ১১ টা থেকে ১২ টা পর্যন্ত তাদের স্বজনকে দেখতে পারে।
সকাল ১০ঃ৫৫। এইচ ডি ইউয়ের গেটে ২০ - ২৫ জন আত্মীয়ের ভীর। তারা ব্যস্ত তাদের মুখে মাস্ক মাথায় টুপি পায়ের কভার আর আপ্রন পড়ার কাজে। শুধু ১১ঃ০০ টা বাজার অপেক্ষা। খুব দ্রুত তারা হাত দিয়ে আপ্রন মাস্ক পড়ে চলে। এই এক ঘন্টার প্রতি মুহূর্ত অতি মূল্যবান।
১১ঃ০০ টা বাজার সাথে সাথে সবাই প্রায় ছুটে চলে এইচ ডি ইউ এর ভিতরে। ছোটবেলায় স্কুল ছুটি হলে যে চিত্র ফুটে উঠে তার সাথে এর কিছুটা মিল আছে। এইচ ডি ইউ এ সব কিছুর হিসেব ভিন্ন। এখানে স্বজনের নিঃশ্বাস চলতেছে এইটা দেখাও যেন বহু মুল্যবান একটি উপহার। এখানে নাই কোন হিংসা শত্রুতার হিসেব। নাই কোন প্রথম হওয়ার বা লাভ ক্ষতির হিসেব। এখানে শুধুই হার্টবিট আর নিঃশ্বাস চলার হিসেব। প্রিয় জনের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকা। প্রতিদিনই তো কাছে থেকে দেখা হত। কিন্তু এখন সেই একই মানুষের মুখে কথা না থাকলেও অনেক মমতা উথলে উঠে। দুপুর ১২ঃ০০ টা বাজে। মনে হয় কত দ্রুত চলে গেল সময়টুকু। মেডিক্যাল এসিস্টেন্টদের বার বার অনুরোধ সত্ত্বেও কিছু সময় নেয়া। যতক্ষণ কাছে থাকা যায় প্রিয়জনের। বের হতে হতে বার বার পিছনে প্রিয়জনের দিকে ফিরে তাকানো। বের হওয়ার সময় গেটে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা।
রাত ১২ঃ০০ টা। এইচ ডি ইউয়ের গেট বন্ধ। বাইরে লম্বা বারান্দা। পুরো জায়গা সুনসান জনমানবহীন। কিন্তু জানি এখানে মন পড়ে আছে স্বজনদের। ঝড়ো বাতাস উঠে চলেছে। কিছুক্ষণ পরে ঝড় উঠবে। স্বজনের তাতে কোন ভ্রূক্ষেপ নাই। লম্বা বারান্দায় আনমনে হেটে চলে অক্লান্ত। বারান্দার বাইরে বড়বড় গাছের ডাল পালা ঝড়ে দুলে চলে। মনে পড়ে সেই শ্বাসের শব্দ। কিছুটা রহস্যময় মনে হয়। যেন ঝড় জানে অনেক কিছু। সেই অচেতন রুগীর কথা তার স্বজনের মনের কথা।

5
১. স্পষ্ট মনে আছে। একেবারে ছোটবেলায় থাকতাম মোহাম্মাদপুরে। প্রথমে অনেক বছর আমাদের বাসার রান্না হত কেরোসিনের চুলাতে। কেননা সেখানে তখনও গ্যাস আসে নাই। তখন রবিবারে ছিল সাপ্তাহিক ছুটি। রবিবারে বাসার একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল রান্নার জন্য দুইটা বড় ক্যান ভরে কেরসিন কেনা। তখন আমাদের বাসায় ছিল না কোন টেলিভিশন, ফ্রিজ। ল্যান্ড ফোনও ছিল না আমাদের বাসায়। (মোবাইল মনে হয় তখনও আবিস্কার হয় নাই। কম্পিউটার এর কথা বাদই দিলাম।)
জীবন তখন কতটুকু কঠিন ছিল না সহজ ছিল তা আমার জানা নাই। তবে আমরা স্কুলের পরে সারাদিন খেলা ধুলা করে বেড়াতাম। আমার বাবাও অফিস থেকে এসে আমাদের সাথে পুরো অবসর সময় কাটাতেন। আমাদের সাথে খেলতেন বা বাসার জন্য কিছু কাজ করতেন।
২. এখন আমাদের বাসায় কি নাই? জীবনকে সহজ করার জন্য ফ্রিজ টেলিভিশন, মোবাইল, ওভেন, ওয়াশিং মেশিন, এক দুইটা কম্পিউটার, ল্যাপ্টপ, অ্যাই পি এস সবই আছে। রান্না ঘরে গ্যাসের চুলা, নব ধরে ঘুরালে আগুন জ্বলে উঠে।
ভাবতেছি - আমাদের জীবন কি এই সব উপকরণের ফলে আগের থেকে সহজ হয়েছে? আমাদের অবসর সময় কি বেড়েছে? না সব সময় ক্লান্ত পরিশ্রান্ত আমরা আগের থেকে?

6
১. স্পষ্ট মনে আছে। একেবারে ছোটবেলায় থাকতাম মোহাম্মাদপুরে। প্রথমে অনেক বছর আমাদের বাসার রান্না হত কেরোসিনের চুলাতে। কেননা সেখানে তখনও গ্যাস আসে নাই। তখন রবিবারে ছিল সাপ্তাহিক ছুটি। রবিবারে বাসার একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল রান্নার জন্য দুইটা বড় ক্যান ভরে কেরসিন কেনা। তখন আমাদের বাসায় ছিল না কোন টেলিভিশন, ফ্রিজ। ল্যান্ড ফোনও ছিল না আমাদের বাসায়। (মোবাইল মনে হয় তখনও আবিস্কার হয় নাই। কম্পিউটার এর কথা বাদই দিলাম।)
জীবন তখন কতটুকু কঠিন ছিল না সহজ ছিল তা আমার জানা নাই। তবে আমরা স্কুলের পরে সারাদিন খেলা ধুলা করে বেড়াতাম। আমার বাবাও অফিস থেকে এসে আমাদের সাথে পুরো অবসর সময় কাটাতেন। আমাদের সাথে খেলতেন বা বাসার জন্য কিছু কাজ করতেন।
২. এখন আমাদের বাসায় কি নাই? জীবনকে সহজ করার জন্য ফ্রিজ টেলিভিশন, মোবাইল, ওভেন, ওয়াশিং মেশিন, এক দুইটা কম্পিউটার, ল্যাপ্টপ, অ্যাই পি এস সবই আছে। রান্না ঘরে গ্যাসের চুলা, নব ধরে ঘুরালে আগুন জ্বলে উঠে।
ভাবতেছি - আমাদের জীবন কি এই সব উপকরণের ফলে আগের থেকে সহজ হয়েছে? আমাদের অবসর সময় কি বেড়েছে? না সব সময় ক্লান্ত পরিশ্রান্ত আমরা আগের থেকে?

7
আমাদের শেখানো হয়েছে - ' ক্ষমা মহৎ গুণ।' আমাদের ইসলাম ধর্মেও বলা আছে অন্যকে ক্ষমা করার জন্যে।
মনে হল ক্ষমা করা অনেক কঠিন একটি ব্যাপার। বিশেষতঃ কেউ যদি আপনার ক্ষতি করে থাকে। বা ক্ষতি করার চেষ্টা করে থাকে। কিভাবে তখন কাউকে ক্ষমা করা যায়?
নিজে হয়তো তেমন ক্ষমতাধর কেউ নই। উপায় নাই কারো উপর প্রতিশোধ নেয়ার। তার পরেও শত্রুকে মনে মনে ক্ষমা করে তার মঙ্গলের জন্য দোয়া করাও যে কারো জন্যেই খুব কঠিন একটি ব্যাপার।
আমার এই জীবনের অভিজ্ঞতায় কিছু মানুষ দেখেছি যারা কোন কারণ ছাড়াই অন্যের ক্ষতি করার জন্য লেগে থাকে। কোন কারণ ছাড়াই মিথ্যা কুৎসা রটায়। এমনকি তার জীবনে যে উপকার করেছে তার নামেও কুৎসা রটাতে তার মুহূর্ত মাত্র সময় লাগে না। অদ্ভুত ব্যাখ্যাহীন এদের প্রবৃত্তি। মানুষের দুঃসময়ে এরা আরও বেশী তৎপর হয়। আরও বেশী ক্ষতিসাধন করার জন্য উঠে পড়ে লাগে।
তবে এরা নিজেরাও খুব ভাল থাকে তা নয়। এদের জীবনের পুরোটাই খুব হতাশার ও দুঃখের। অন্যের ক্ষতিসাধনে তারা এতটাই ব্যস্ত যে নিজের অবস্থা নিয়ে এরা ভাবার সময় পায় না। এমনকি তার নিজের পরিণাম নিয়ে যদি বুঝত - তাহলে বাকি জীবন তার আতংকেই পার হত।
আমাদের এই পৃথিবীতে কত অদ্ভুত মানুষের সমাহার। কেউ জীবন গেলেও মিথ্যা বলবে না। আবার কেউ 'সত্য কথা বলে মানুষের কি লাভ' - এইটাই ভাবে। কেউ কেবলমাত্র মানুষের ভাল দোয়া পাওয়ার জন্য কত পরিশ্রম করে। আবার কেউ মানুষের বদদোয়ার ভ্রূক্ষেপ বা তোয়াক্কা না করে তার অপকর্ম করে যায়।
সাথে সাথে এইটাও মনে হইতেছে যে - আমি তো এমন মানুষও দেখেছি যারা কেবলমাত্র মানুষের ভালবাসা ও দোয়া পাওয়ার জন্য মানুষের উপকার করে যায়। বিনিময়ে কি পাবে তার কোন হিসেব তারা কখনো করে না।
মানুষের সব কর্মই তার অতীত জীবন, তার পরিবার ও তার পারিবারিক শিক্ষা সম্পর্কে ধারণা দেয়। তার চিন্তা-চেতনা ও বিশ্বাস-অবিশ্বাসের ছায়া ফুটে উঠে মানুষের প্রতি তার ব্যবহার দেখে।
এর সাথে মানুষের মনের চিত্রও ফুটে উঠে তার কর্মের মাধ্যমে। যারা বিনা কারণে মানুষের পিছনে লেগে থাকে তারা মানসিক ভাবে কতটুকু সুস্থ বা অসুস্থ এইটা সবারই ভাবনায় আনা উচিৎ।
ডিকশনারিতে একটি শব্দ পেলাম - সেটি হল ' ম্যানিয়াক'। ডিকশনারিতে এর অর্থ দেখতেছি - 'বাতিকগ্রস্থ'।
ক্লেপ্টোম্যানিয়াক বলা হয় সেই সব মানুষদেরকে যারা বিনা কারণে চুরি করে। কোন একটা জিনিষ হয়তো তার প্রয়োজন নাই তাও অভ্যাস বসে চুরি করে ফেলে। সেই রকম কিছু অসুস্থ মানুষ থাকে যারা কোন কারণ ছাড়াই মিথ্যা বলে ও অন্যের ক্ষতি সাধন করে চলে - কেননা তারা মানসিক ভাবে সুস্থ্য নয়। তারাও এক ধরনের 'ম্যানিয়াক'।

8
আমাদের শেখানো হয়েছে - ' ক্ষমা মহৎ গুণ।' আমাদের ইসলাম ধর্মেও বলা আছে অন্যকে ক্ষমা করার জন্যে।
মনে হল ক্ষমা করা অনেক কঠিন একটি ব্যাপার। বিশেষতঃ কেউ যদি আপনার ক্ষতি করে থাকে। বা ক্ষতি করার চেষ্টা করে থাকে। কিভাবে তখন কাউকে ক্ষমা করা যায়?
নিজে হয়তো তেমন ক্ষমতাধর কেউ নই। উপায় নাই কারো উপর প্রতিশোধ নেয়ার। তার পরেও শত্রুকে মনে মনে ক্ষমা করে তার মঙ্গলের জন্য দোয়া করাও যে কারো জন্যেই খুব কঠিন একটি ব্যাপার।
আমার এই জীবনের অভিজ্ঞতায় কিছু মানুষ দেখেছি যারা কোন কারণ ছাড়াই অন্যের ক্ষতি করার জন্য লেগে থাকে। কোন কারণ ছাড়াই মিথ্যা কুৎসা রটায়। এমনকি তার জীবনে যে উপকার করেছে তার নামেও কুৎসা রটাতে তার মুহূর্ত মাত্র সময় লাগে না। অদ্ভুত ব্যাখ্যাহীন এদের প্রবৃত্তি। মানুষের দুঃসময়ে এরা আরও বেশী তৎপর হয়। আরও বেশী ক্ষতিসাধন করার জন্য উঠে পড়ে লাগে।
তবে এরা নিজেরাও খুব ভাল থাকে তা নয়। এদের জীবনের পুরোটাই খুব হতাশার ও দুঃখের। অন্যের ক্ষতিসাধনে তারা এতটাই ব্যস্ত যে নিজের অবস্থা নিয়ে এরা ভাবার সময় পায় না। এমনকি তার নিজের পরিণাম নিয়ে যদি বুঝত - তাহলে বাকি জীবন তার আতংকেই পার হত।
আমাদের এই পৃথিবীতে কত অদ্ভুত মানুষের সমাহার। কেউ জীবন গেলেও মিথ্যা বলবে না। আবার কেউ 'সত্য কথা বলে মানুষের কি লাভ' - এইটাই ভাবে। কেউ কেবলমাত্র মানুষের ভাল দোয়া পাওয়ার জন্য কত পরিশ্রম করে। আবার কেউ মানুষের বদদোয়ার ভ্রূক্ষেপ বা তোয়াক্কা না করে তার অপকর্ম করে যায়।
সাথে সাথে এইটাও মনে হইতেছে যে - আমি তো এমন মানুষও দেখেছি যারা কেবলমাত্র মানুষের ভালবাসা ও দোয়া পাওয়ার জন্য মানুষের উপকার করে যায়। বিনিময়ে কি পাবে তার কোন হিসেব তারা কখনো করে না।
মানুষের সব কর্মই তার অতীত জীবন, তার পরিবার ও তার পারিবারিক শিক্ষা সম্পর্কে ধারণা দেয়। তার চিন্তা-চেতনা ও বিশ্বাস-অবিশ্বাসের ছায়া ফুটে উঠে মানুষের প্রতি তার ব্যবহার দেখে।
এর সাথে মানুষের মনের চিত্রও ফুটে উঠে তার কর্মের মাধ্যমে। যারা বিনা কারণে মানুষের পিছনে লেগে থাকে তারা মানসিক ভাবে কতটুকু সুস্থ বা অসুস্থ এইটা সবারই ভাবনায় আনা উচিৎ।
ডিকশনারিতে একটি শব্দ পেলাম - সেটি হল ' ম্যানিয়াক'। ডিকশনারিতে এর অর্থ দেখতেছি - 'বাতিকগ্রস্থ'।
ক্লেপ্টোম্যানিয়াক বলা হয় সেই সব মানুষদেরকে যারা বিনা কারণে চুরি করে। কোন একটা জিনিষ হয়তো তার প্রয়োজন নাই তাও অভ্যাস বসে চুরি করে ফেলে। সেই রকম কিছু অসুস্থ মানুষ থাকে যারা কোন কারণ ছাড়াই মিথ্যা বলে ও অন্যের ক্ষতি সাধন করে চলে - কেননা তারা মানসিক ভাবে সুস্থ্য নয়। তারাও এক ধরনের 'ম্যানিয়াক'।

9
১৯৯৯ সাল। টেক্সটাইলে চতুর্থ বর্ষ চলতেছে। আমাদের টেক্সটাইলের কারিকুলাম অনুযায়ী দুই মাসের ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং চলবে। আমি ছিলাম এডভান্সড ফেব্রিক মান্যুফ্যাকচারিং্যের ছাত্র। সেই হিসেবে আমার তিনটা ফ্যাক্টরিতে ট্রেনিং করতে হবে। উইভিং এ ১ মাস, নিটিং এ ২০ দিন ও জুট ফ্যাক্টরিতে ১০ দিন ট্রেনিং ঠিক করে দেয়া হল কলেজ থেকে। উইভিং ফ্যাক্টরি ঠিক হল শামসুল আল আমিন কটন মিলস লিমিটেড। আমি থাকি উত্তরাতে। আর শামসুল আল আমিন কটন মিলস হল নারায়নগঞ্জে। প্রতিদিন সকালে ৭ঃ১৫ তে উত্তরা থেকে বি আর টি সি দোতালা বাসে উঠি। সোজা চলে যাই গুলিস্থান। (ঢাকায় তখনও জ্যাম ছিল। তবে এতটা নয়।) গুলিস্থান থেকে লক্কর ঝক্কর বাসে করে যাই আদমজী জুট মিলে। সেখানে পৌছে যতটুকু মনে পড়ে রিক্সা নিতে হত। রিক্সায় পৌঁছুতাম শীতলক্ষ্যা নদীর ধারে। নদীর অন্যপারে ছিল শামসুল আল আমিন কটন মিলস। নদীর ঘাটে পৌঁছুলে সেখানকার ফ্যাক্টোরির গার্ড অপরপারে পতাকা দেখাতেন। তখন ফ্যাক্টোরির ইঞ্জিনচালিত নৌকা এইপারে এসে আমাদের নিয়ে নদী পার হয়ে অপরপারে পৌছে দিত। মনে আছে আমরা ফাইনালি ফ্যাক্টরিতে পৌঁছুতাম ঘড়ির কাটা যখন ১০ঃ৩০ এ থাকতো।
১ মাস সেইখানে প্রতিদিন গেলাম। এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা। এই ফ্যাক্টরিটি ছিল অনেক পুরানো। ফ্যাক্টরিটি আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে রানিং ছিল। আর পুরানো অংশটি সেই কোন ব্রিটিশ টাইমের যন্ত্রপাতি নিয়ে স্থবির পড়ে থাকতো। সেই অংশের স্মৃতি এখনও মনে দাগ কেটে আছে। সেই অংশের সকল যন্ত্রপাতি ধুলোর পুরো আস্তরে ঢাকা ছিল। পুরো অংশটিতে একেবারে ছাদ থেকে মাকড়শার জালে আলপনা কাঁটা ছিল। সূর্যের দিনের আলো যতটুকু ঢুকতে পারতো সেই অল্পটুকুই আলোকিত হত। সেখানে লাইটের কোন ব্যাবস্থা ছিল না। বিশাল শেডে এক ভুতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করতো।
আমি এমনিতেই খুব নস্টালজিয়া উপভোগ করি। আমার মনে হল আর মানুষ পাইলো না। আমি অভিভূত যে আমি এইরকম একটি জায়গা দেখতে পেয়েছি। স্থবির যন্ত্রপাতির মাঝে কল্পনার চোখে ভেসে উঠত আগের সেই ব্যস্ত মানুষের সারাদিনের কর্ম চাঞ্চল্য। সেইখানে আরেকটি মজার জিনিষ দেখেছিলাম। সেইটা হল একটি পুরানো বিশাল বয়লার। এই বয়লারটির নীচে বিশাল একটি উনুন বা চুলা। নীচের এই চুলাতে কয়লা জ্বালিয়ে বয়লারটি থেকে বাষ্প তৈরি করে ফ্যাক্টরিতে বিভিন্ন কাজের জন্য সাপ্লাই দেয়া হত। এখন তার সব ব্যস্ততা শেষ হয়ে গেছে। অলস পড়ে আছে অতীতের সাক্ষী হিসেবে।
আমরা সব জিনিসের লেটেস্ট টেকনোলজি নিয়ে অনেক কর্ম ব্যস্ত সময় কাটাই। আমাদের নিঃশ্বাস ফেলার সময় নাই। আমার সব সময়ই মনে হয়েছে ইঞ্জিনিয়ারিং এর শুরুর প্রাথমিক বিষয় গুলো শেখার জন্য কনভেনশনাল মেকানিক্যাল যন্ত্রপাতিই বেশী উপযুক্ত। কেননা সেখানে খালি চোখেই বিভিন্ন মেকানিজম কিভাবে কাজ করে তা সহজেই দেখা যায়। আর প্রাথমিক টপিক গুলো পরিস্কার ভাবে বোঝা হয়ে গেলে আধুনিক মেশিনের সাহায্যে শেখা অনেক দ্রুত ও সহজ হয়। আমার মতে নিটিং শেখার জন্য প্রথমে হোস নিটিং মেশিন ও ভি বেড নিটিং মেশিন সব থেকে সহজ। একই ভাবে উইভিং শেখার জন্য কনভেনশনাল শাটেল লুম দিয়ে শুরু করা উচিৎ।

10
১৯৯৯ সাল। টেক্সটাইলে চতুর্থ বর্ষ চলতেছে। আমাদের টেক্সটাইলের কারিকুলাম অনুযায়ী দুই মাসের ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং চলবে। আমি ছিলাম এডভান্সড ফেব্রিক মান্যুফ্যাকচারিং্যের ছাত্র। সেই হিসেবে আমার তিনটা ফ্যাক্টরিতে ট্রেনিং করতে হবে। উইভিং এ ১ মাস, নিটিং এ ২০ দিন ও জুট ফ্যাক্টরিতে ১০ দিন ট্রেনিং ঠিক করে দেয়া হল কলেজ থেকে। উইভিং ফ্যাক্টরি ঠিক হল শামসুল আল আমিন কটন মিলস লিমিটেড। আমি থাকি উত্তরাতে। আর শামসুল আল আমিন কটন মিলস হল নারায়নগঞ্জে। প্রতিদিন সকালে ৭ঃ১৫ তে উত্তরা থেকে বি আর টি সি দোতালা বাসে উঠি। সোজা চলে যাই গুলিস্থান। (ঢাকায় তখনও জ্যাম ছিল। তবে এতটা নয়।) গুলিস্থান থেকে লক্কর ঝক্কর বাসে করে যাই আদমজী জুট মিলে। সেখানে পৌছে যতটুকু মনে পড়ে রিক্সা নিতে হত। রিক্সায় পৌঁছুতাম শীতলক্ষ্যা নদীর ধারে। নদীর অন্যপারে ছিল শামসুল আল আমিন কটন মিলস। নদীর ঘাটে পৌঁছুলে সেখানকার ফ্যাক্টোরির গার্ড অপরপারে পতাকা দেখাতেন। তখন ফ্যাক্টোরির ইঞ্জিনচালিত নৌকা এইপারে এসে আমাদের নিয়ে নদী পার হয়ে অপরপারে পৌছে দিত। মনে আছে আমরা ফাইনালি ফ্যাক্টরিতে পৌঁছুতাম ঘড়ির কাটা যখন ১০ঃ৩০ এ থাকতো।
১ মাস সেইখানে প্রতিদিন গেলাম। এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা। এই ফ্যাক্টরিটি ছিল অনেক পুরানো। ফ্যাক্টরিটি আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে রানিং ছিল। আর পুরানো অংশটি সেই কোন ব্রিটিশ টাইমের যন্ত্রপাতি নিয়ে স্থবির পড়ে থাকতো। সেই অংশের স্মৃতি এখনও মনে দাগ কেটে আছে। সেই অংশের সকল যন্ত্রপাতি ধুলোর পুরো আস্তরে ঢাকা ছিল। পুরো অংশটিতে একেবারে ছাদ থেকে মাকড়শার জালে আলপনা কাঁটা ছিল। সূর্যের দিনের আলো যতটুকু ঢুকতে পারতো সেই অল্পটুকুই আলোকিত হত। সেখানে লাইটের কোন ব্যাবস্থা ছিল না। বিশাল শেডে এক ভুতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করতো।
আমি এমনিতেই খুব নস্টালজিয়া উপভোগ করি। আমার মনে হল আর মানুষ পাইলো না। আমি অভিভূত যে আমি এইরকম একটি জায়গা দেখতে পেয়েছি। স্থবির যন্ত্রপাতির মাঝে কল্পনার চোখে ভেসে উঠত আগের সেই ব্যস্ত মানুষের সারাদিনের কর্ম চাঞ্চল্য। সেইখানে আরেকটি মজার জিনিষ দেখেছিলাম। সেইটা হল একটি পুরানো বিশাল বয়লার। এই বয়লারটির নীচে বিশাল একটি উনুন বা চুলা। নীচের এই চুলাতে কয়লা জ্বালিয়ে বয়লারটি থেকে বাষ্প তৈরি করে ফ্যাক্টরিতে বিভিন্ন কাজের জন্য সাপ্লাই দেয়া হত। এখন তার সব ব্যস্ততা শেষ হয়ে গেছে। অলস পড়ে আছে অতীতের সাক্ষী হিসেবে।
আমরা সব জিনিসের লেটেস্ট টেকনোলজি নিয়ে অনেক কর্ম ব্যস্ত সময় কাটাই। আমাদের নিঃশ্বাস ফেলার সময় নাই। আমার সব সময়ই মনে হয়েছে ইঞ্জিনিয়ারিং এর শুরুর প্রাথমিক বিষয় গুলো শেখার জন্য কনভেনশনাল মেকানিক্যাল যন্ত্রপাতিই বেশী উপযুক্ত। কেননা সেখানে খালি চোখেই বিভিন্ন মেকানিজম কিভাবে কাজ করে তা সহজেই দেখা যায়। আর প্রাথমিক টপিক গুলো পরিস্কার ভাবে বোঝা হয়ে গেলে আধুনিক মেশিনের সাহায্যে শেখা অনেক দ্রুত ও সহজ হয়। আমার মতে নিটিং শেখার জন্য প্রথমে হোস নিটিং মেশিন ও ভি বেড নিটিং মেশিন সব থেকে সহজ। একই ভাবে উইভিং শেখার জন্য কনভেনশনাল শাটেল লুম দিয়ে শুরু করা উচিৎ।

11
(দিন শেষে কিছু লেখা)
আনন্দ গুলো লিখে বুঝানো যায় না। লেখার থেকে হাসি মুখ দেখে বেশী বোঝা যায়। দুঃখও লিখে বুঝানো যায় না। এর থেকে কান্না দেখে দুঃখ বেশী বোঝা যায়।
মানুষের মন কত অদ্ভুত। মনের অনুভুতি গুলো লিখে বা কথায় বোঝানো খুব কঠিন। মনের অনুভুতি গুলো কেবলমাত্র অনুভব করা সম্ভব।
একজায়গায় পড়েছিলাম - একজন মানুষের তিনটি অংশ থাকে। দেহ, মন ও আত্মা।
মন অনেক শক্তিশালী। সে যত ভাবে অনুভব করতে পারে তার খুব কমই আমরা প্রকাশ করতে পারি। সে ভুলে না কিছুই। কিন্তু আমরা নিজেরা ভুলে যাই। ঘুম থেকে উঠা মাত্র দেখা স্বপ্নের সব কিছুই মনে থাকে। সময় গেলে সেই স্বপ্ন মনে করা কত কঠিন। খুব ছোটবেলার কতকিছু চোখের সামনে ভেসে উঠে। স্পষ্ট মনে পরে যায় সেই মানুষগুলোকে, সেই বাড়ি, সেই মাঠ। কিন্তু এখন আর জানা নেই তারা কারা ছিল? কোন বাড়ি ছিল সেটা? কোথায় সেই শব্দের অনুরণন?
মাঝে মাঝে মনে হয় - মন আমাদের সাথে সবসময় হেয়ালী করে চলে। সে জানে অনেক কিছু। কিন্তু আমাকে জানতে দেয় না। লুকিয়ে রাখে। যে মন আমার বলি।
মন অসংখ্য ডাইমেনশনে অনুভব করতে পারে। সেখানে আমরা প্রকাশ করতে পারি বড়জোর একটি বা দুইটি ডাইমেনশনে।
মন কখনো অতীতে চলে যায়। কখনো বর্তমানে আবার কখনো বা ভবিষ্যৎ নিয়ে ভেবে চলে। কখনো কাছে দেখে, কখনো বা বহু দূরের জিনিষ নিয়ে ভেবে চলে। কখনো সে বন্ধুত্ব করে কখনো রেগে যায় কখনো বা সব কিছু হাল্কা ভাবে নেয়। মনের ইনপুট দেয় আমাদের চোখ, কান, নাক - এরা। এদের মাধ্যমেই মন অভিজ্ঞতা অর্জন করে। আমরা যা দেখি তাই নিয়ে কেবল ভাবতে পারি। আমরা যা শুনি তাই নিয়ে কেবল ভেবে চলি। সত্যি কি তাই? এর বাইরে কি কিছু নাই?
তাহলে একই গ্লাস একজন অর্ধেক পূর্ণ আর আরেকজন অর্ধেক খালি দেখে কেন? একই কথা একজন বিশ্বাস করে আরেকজন অবিশ্বাসের সাথে প্রশ্ন তুলে? কিংবা একজন হত্যা করে অপরজন সেবা করে? সেই একই চোখ কান নাক সব মানুষের। কিন্তু কত পার্থক্য তাদের চিন্তা চেতনায়।
কিভাবে মানুষ কবিতা লিখে? গানের সুর গুলো কোথা থেকে আসে? চোখ বন্ধ করে কিভাবে মানুষ কল্পনা করে যায়? সে তো আগে শুনে নাই সেই সুর,দেখে নাই সেই ছবি।
কিভাবে একজন মানুষের মনের স্বপ্ন হাজার মানুষের মাঝে প্রজ্জলিত হয়?

12
(দিন শেষে কিছু লেখা)
আনন্দ গুলো লিখে বুঝানো যায় না। লেখার থেকে হাসি মুখ দেখে বেশী বোঝা যায়। দুঃখও লিখে বুঝানো যায় না। এর থেকে কান্না দেখে দুঃখ বেশী বোঝা যায়।
মানুষের মন কত অদ্ভুত। মনের অনুভুতি গুলো লিখে বা কথায় বোঝানো খুব কঠিন। মনের অনুভুতি গুলো কেবলমাত্র অনুভব করা সম্ভব।
একজায়গায় পড়েছিলাম - একজন মানুষের তিনটি অংশ থাকে। দেহ, মন ও আত্মা।
মন অনেক শক্তিশালী। সে যত ভাবে অনুভব করতে পারে তার খুব কমই আমরা প্রকাশ করতে পারি। সে ভুলে না কিছুই। কিন্তু আমরা নিজেরা ভুলে যাই। ঘুম থেকে উঠা মাত্র দেখা স্বপ্নের সব কিছুই মনে থাকে। সময় গেলে সেই স্বপ্ন মনে করা কত কঠিন। খুব ছোটবেলার কতকিছু চোখের সামনে ভেসে উঠে। স্পষ্ট মনে পরে যায় সেই মানুষগুলোকে, সেই বাড়ি, সেই মাঠ। কিন্তু এখন আর জানা নেই তারা কারা ছিল? কোন বাড়ি ছিল সেটা? কোথায় সেই শব্দের অনুরণন?
মাঝে মাঝে মনে হয় - মন আমাদের সাথে সবসময় হেয়ালী করে চলে। সে জানে অনেক কিছু। কিন্তু আমাকে জানতে দেয় না। লুকিয়ে রাখে। যে মন আমার বলি।
মন অসংখ্য ডাইমেনশনে অনুভব করতে পারে। সেখানে আমরা প্রকাশ করতে পারি বড়জোর একটি বা দুইটি ডাইমেনশনে।
মন কখনো অতীতে চলে যায়। কখনো বর্তমানে আবার কখনো বা ভবিষ্যৎ নিয়ে ভেবে চলে। কখনো কাছে দেখে, কখনো বা বহু দূরের জিনিষ নিয়ে ভেবে চলে। কখনো সে বন্ধুত্ব করে কখনো রেগে যায় কখনো বা সব কিছু হাল্কা ভাবে নেয়। মনের ইনপুট দেয় আমাদের চোখ, কান, নাক - এরা। এদের মাধ্যমেই মন অভিজ্ঞতা অর্জন করে। আমরা যা দেখি তাই নিয়ে কেবল ভাবতে পারি। আমরা যা শুনি তাই নিয়ে কেবল ভেবে চলি। সত্যি কি তাই? এর বাইরে কি কিছু নাই?
তাহলে একই গ্লাস একজন অর্ধেক পূর্ণ আর আরেকজন অর্ধেক খালি দেখে কেন? একই কথা একজন বিশ্বাস করে আরেকজন অবিশ্বাসের সাথে প্রশ্ন তুলে? কিংবা একজন হত্যা করে অপরজন সেবা করে? সেই একই চোখ কান নাক সব মানুষের। কিন্তু কত পার্থক্য তাদের চিন্তা চেতনায়।
কিভাবে মানুষ কবিতা লিখে? গানের সুর গুলো কোথা থেকে আসে? চোখ বন্ধ করে কিভাবে মানুষ কল্পনা করে যায়? সে তো আগে শুনে নাই সেই সুর,দেখে নাই সেই ছবি।
কিভাবে একজন মানুষের মনের স্বপ্ন হাজার মানুষের মাঝে প্রজ্জলিত হয়?

13
Permanent Campus of DIU / Unsatisfied thirst.
« on: April 29, 2019, 02:30:52 AM »
তিনি লিখে চলেন অক্লান্ত। সেই লেখাটি লিখতে চান তিনি। পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা লেখা হয়। কিন্তু কোনটিই সেই লেখা নয়। যে লেখা লিখে তিনি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে ঘুমাতে যাবেন। তার পর আর কোন লেখা লিখবেন না। কেননা আসল লেখা হয়ে গেছে। লিখে লিখে খাতা ভরে যায়। পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা ছিঁড়ে ফেলে দেন তিনি।
এ কেমন তৃষ্ণা? যার কোন তৃপ্তি হয় না। মনে হয় - এই তিনি তার আসল লেখা লিখে ফেলেছেন। তারপরই তা ছিঁড়ে ফেলে দেন তিনি ঝুড়িতে।
কেউ কি লিখেছে নিজের লেখা - যেটি লিখে তৃপ্তিতে মন ভরে গেছে? এর পর আর কোন লেখা লিখতে ইচ্ছা হয়নি?
কত লেখা শেষ হয়। কিন্তু কোনটিতেই লেখা হয়নি তার মনের আসল কথা। ছেড়া কাগজের স্তুপের মাঝে বসে মনে হয় - চারিদিকে কত পানি। ঠিক তার ঠোঁটের নীচে আছে। কিন্তু কোনটাই তৃষ্ণা মেটাতে পারে না।
কেউ তার সেই লেখা লিখতে পারেনি সেই লেখা। সবাই তৃষ্ণা নিয়েই শেষ করেছে তাদের লেখা।
পাখি গান গেয়ে শেষ করতে পারেনি। ফুল ফুটে আবার ঝরে যায়। বাতাসে বয়ে চলে তাদের হাহাকার। কোথায় সেই তৃপ্তি ও শান্তি? কোন গানই মন ভরাতে পারেনি। কোন রঙ ছড়াতে পারেনি সেই বর্ণচ্ছটা।
খরার মাঠে সেই বর্ষণের হাহাকার। নদী বয়ে চলে - শোনা যায় অতৃপ্ত স্রোতের শব্দ।
সমুদ্রের মাঝে বয়ে চলে সেই অতৃপ্ত হৃদয়ের কান্নার আওয়াজ।

14
Textile Engineering / Unsatisfied thirst.
« on: April 29, 2019, 02:29:54 AM »
তিনি লিখে চলেন অক্লান্ত। সেই লেখাটি লিখতে চান তিনি। পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা লেখা হয়। কিন্তু কোনটিই সেই লেখা নয়। যে লেখা লিখে তিনি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে ঘুমাতে যাবেন। তার পর আর কোন লেখা লিখবেন না। কেননা আসল লেখা হয়ে গেছে। লিখে লিখে খাতা ভরে যায়। পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা ছিঁড়ে ফেলে দেন তিনি।
এ কেমন তৃষ্ণা? যার কোন তৃপ্তি হয় না। মনে হয় - এই তিনি তার আসল লেখা লিখে ফেলেছেন। তারপরই তা ছিঁড়ে ফেলে দেন তিনি ঝুড়িতে।
কেউ কি লিখেছে নিজের লেখা - যেটি লিখে তৃপ্তিতে মন ভরে গেছে? এর পর আর কোন লেখা লিখতে ইচ্ছা হয়নি?
কত লেখা শেষ হয়। কিন্তু কোনটিতেই লেখা হয়নি তার মনের আসল কথা। ছেড়া কাগজের স্তুপের মাঝে বসে মনে হয় - চারিদিকে কত পানি। ঠিক তার ঠোঁটের নীচে আছে। কিন্তু কোনটাই তৃষ্ণা মেটাতে পারে না।
কেউ তার সেই লেখা লিখতে পারেনি সেই লেখা। সবাই তৃষ্ণা নিয়েই শেষ করেছে তাদের লেখা।
পাখি গান গেয়ে শেষ করতে পারেনি। ফুল ফুটে আবার ঝরে যায়। বাতাসে বয়ে চলে তাদের হাহাকার। কোথায় সেই তৃপ্তি ও শান্তি? কোন গানই মন ভরাতে পারেনি। কোন রঙ ছড়াতে পারেনি সেই বর্ণচ্ছটা।
খরার মাঠে সেই বর্ষণের হাহাকার। নদী বয়ে চলে - শোনা যায় অতৃপ্ত স্রোতের শব্দ।
সমুদ্রের মাঝে বয়ে চলে সেই অতৃপ্ত হৃদয়ের কান্নার আওয়াজ।

15
Permanent Campus of DIU / Return trip to home.
« on: April 21, 2019, 01:32:46 AM »
(স্কুল বাস - রিটার্ন ট্রিপ টু হোম।)
স্কুল ছুটি হলে আমাদের দুইটি স্কুল বাস - আমাদেরটি সবুজ ও অপরটি নীল - সোজা চলে আসতো ফার্মগেটে। সেখান থেকে নীল বাসটি মগবাজার - মালিবাগের দিকে চলে যেত। আর আমাদের সবুজ বাসটি আনন্দ সিনেমা হলের সামনে দিয়ে গ্রীন রোডে ঢুকে যেত। সেখানে কিছু স্টুডেন্টদের নামিয়ে দিয়ে ধানমন্ডি ৮ নাম্বার রোড দিয়ে মিরপুর রোডে ঢুকত। এর পর বাসটি সোবহানবাগ পর্যন্ত যেত। সেখানে আবার কিছু স্টুডেন্ট নামতো। এর মধ্যে ছিল আমার ক্লাসমেট ইস্তিয়াক, জাভেদ। সোবহানবাগ মসজিদের ওখানে ইউ টার্ন নিয়ে একেবারে আজিমপুর চলে যেত। পথে পড়ত ঢাকা কলেজ, নিউমার্কেট ইডেন কলেজ।
এরপর আমাদের বাসটি আজিমপুর হয়ে পলাশী মোড় থেকে যেত এলিফেন্ট রোড। এলিফেন্ট রোডের মাথায় বাম পাশে ছিল বেশ কিছু চশমার দোকান।
এর পর আমাদের বাস যেত সিটি কলেজের সামনে দিয়ে - ধানমন্ডি ২ নাম্বার রোড ধরে। তৎকালীন বিডিআর গেটের সামনে মোড় নিয়ে জিগাতলা শংকর সব ছাড়িয়ে সাত মসজিদ রোড দিয়ে একেবারে মোহাম্মাদপুর। আসাদ এভিনিউ ধরে একটু আগানোর পরে পোস্ট অফিসের সামনে আমি নামতাম।
আমাদের স্কুল ছুটি হত ঠিক ১২ টায়। আর আমি পোষ্ট অফিসের সামনে নেমে প্রায় প্রতিদিনই যোহরের আজান শুনতাম। অর্থাৎ এই আমাদের বিশাল স্কুল বাসের প্রায় অর্ধেক ঢাকা ঘুরে পথে পথে সবাইকে নামিয়ে আমার পৌছাতে সময় লাগতো মাত্র ৪৫ মিনিট।

Pages: [1] 2 3 ... 21