Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Topics - aklima.ph

Pages: [1] 2 3 4
4
মশা ওষুধ প্রতিরোধী হয়ে ওঠায় রাজধানীতে দুই সিটি করপোরেশন যে ওষুধ ছিটাচ্ছে, তা কোনো কাজে আসছে না।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা মশা নিয়ে গবেষণা চালিয়ে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) এই পতঙ্গের ওষুধ প্রতিরোধের সক্ষমতার প্রমাণ পেয়েছে।

গত মে মাসে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান, আইইডিসিআরের একটি সভায় দুই সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়।

ইউএস সিডিসির অর্থায়নে পরিচালিত এই গবেষণায় ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে এডিস এজিপ্টি ও কিউলেক্স মশার ডিম সংগ্রহ করে আইসিডিডিআর,বির গবেষণাগারে বড় করা হয়।

আইসিডিডিআর,বির গবেষক ড. মোহাম্মদ শফিউল আলম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন,  এসব মশা বড় করার পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষা করে দেখেন তারা।

ডব্লিউএইচওর প্রটোকল অনুযায়ী, নির্ধারিত মাত্রার ওষুধ দেওয়ার একটি নির্দিষ্ট সময় পর মশার মৃত্যুর হার ৯০ শতাংশের কম হলে সেটি ওষুধ প্রতিরোধী হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হয়।

“কিন্তু আমরা দেখেছি, বেশিরভাগ জায়গার মশার মরার হার শূন্য শতাংশ। আবার দ্বিগুণ মাত্রায় ওষুধ দিলেও শতভাগ মশা মরছে না,” বলেন ড. শফিউল।

মশার ওষুধ প্রতিরোধী হয়ে ওঠার বিষয়টি স্বীকার করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যালেরিয়া অ্যান্ড এডিস ট্রান্সমিটেড ডিজিজেজ’র উপ কর্মসূচি ব্যবস্থাপক ডা. এম এম আক্তারুজ্জামানও। 

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, কিউলেক্স মশা নিয়ে তারাও একটি গবেষণা করে দেখেছেন, মশার ওষুধ প্রতিরোধী হয়ে উঠেছে।

“আমরা কিছু জটিলতা দেখেছি। মশা মারতে তিন ধরনের ওষুধ ব্যবহার করে। এরমধ্যে একটিতে মশার রেজিস্টেন্স তৈরি হয়েছে। বিষয়টি আমরা সিটি করপোরেশনকে জানিয়েছি।“

মশার লার্ভা দমনে এখনও ওষুধ কার্যকর বলে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা জানিয়েছেন মশার লার্ভা দমনে এখনও ওষুধ কার্যকর বলে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা জানিয়েছেন
পূর্ণ বয়স্ক মশা মারতে না পারলেও ওষুধে মশার শুককীট বা লার্ভা দমন হচ্ছে বলে জানান ডা. আক্তারুজ্জামান।

রাজধানীর মশা মারতে দুই সিটি করপোরেশন বিদায়ী অর্থ বছরে ৪৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা খরচ করার পরও কমছে না মশা। ফলে বর্ষা শুরুর সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে শুরু করেছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা।

গত পহেলা জানুয়ারি থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত এক হাজার ৮৭ জন ডেঙ্গু রোগী সনাক্ত হওয়ার কথা জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা। এরমধ্যে দুজন মারা গেছেন।

ডেঙ্গুর প্রকোপের জন্য দুই সিটি করপোরেশনকেই দায়ী করছে নগরবাসী। তাদের অভিযোগ, নগর কর্তৃপক্ষ ঠিকমতো মশার ওষুধ ছিটায় না।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে জানা যায়, তারা পূর্ণ বয়স্ক মশা নিধনে প্রতি এক লিটার কেরোসিনের সঙ্গে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ পারমেথ্রিন, শূন্য দশমিক দুই শতাংশ টেট্রামেথ্রিন এবং শূন্য দশমিক এক শতাংশ এস-বায়োঅ্যালাথ্রিন মিশিয়ে ফগার মেশিন দিয়ে ছড়িয়ে দেন।

১০ লিটার পানিতে ৫ মিলিলিটার টেমিফস নামে একটি ওষুধ মিশিয়ে তা মশার লার্ভার প্রজননস্থলে ছিটানো হয়।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) পূর্ণ বয়স্ক মশা মারতে এক লিটার কেরোসিনের সঙ্গে শূন্য দশমিক দুই শতাংশ পারমেথ্রিন, শূন্য দশমিক দুই শতাংশ টেট্রামেথ্রিন এবং শূন্য দশমিক দুই শতাংশ অ্যালেথ্রিন মেশায়।

গত ১০ বছর ধরে মশা নিধনে এই ওষুধ ব্যবহার করে আসছে দুই সিটি করপোরেশন। নোকন লিমিটেড থেকে মশার ওষুধ সংগ্রহ করে ডিএনসিসি। আর ডিএসসিসিকে মশা মারার ওষুধ সরবরাহ করে নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড।

গবেষণার ফলাফল দেখে পূর্ণ বয়স্ক মশা নিধনের জন্য ওষুধ পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছে আইসিডিডিআর,বি। মশা মারতে পারমেথ্রিনের পরিবর্তে ম্যালাথিয়ন ও ডেল্টামেথ্রিন ব্যবহার করতে বলেছে তারা।

তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ডা. আক্তারুজ্জামান বলছেন, এখনই ওষুধ পাল্টে ফেলা যাবে না। এজন্য সময় লাগবে।

এডিস প্রজাতির এডিস ইজিপ্টি এবং এডিস এলবোপিকটাস মশা থেকেই চিকুনগুনিয়া রোগের সংক্রমণ ঘটে এডিস প্রজাতির এডিস ইজিপ্টি এবং এডিস এলবোপিকটাস মশা থেকেই চিকুনগুনিয়া রোগের সংক্রমণ ঘটে
দীর্ঘদিন ব্যবহারের কারণে মশার ওষুধ প্রতিরোধী হয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে ‘অবগত আছেন’ বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানালেন ঢাকা দক্ষিণের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন।

তারপরও ওষুধ না পাল্টানোর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এজন্য অনেকগুলো প্রক্রিয়া শেষ করে আসতে হয়।

“আমরাও চেষ্টা করছি এখানে কিছু পরিবর্তন আনা যায় কি না। অন্য কিছু ব্যবহার করে যদি বেশি সুফল পাই তাহলে আনতে সমস্যা নেই। তবে আমরা যাই করি না কেন, তার প্রেসক্রিপশন আনতে হবে ডব্লিউএইচও থেকে।

“এখানে স্বাস্থ্য, পরিবেশগত অনেক ব্যাপার থাকে। এজন্য প্রেসক্রিপশনের বাইরে যাওয়ার সুযোগ কম। কাল (বৃহস্পতিবার) আমাদের একটা সেমিনার আছে এ বিষয়ে। সেখানে বিশেষজ্ঞদের মতামত আমরা চাইব। দেখি তারা কী বলেন।”

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোমিনুর রহমান মামুনও বলেন, ওষুধ পরিবর্তনের চিন্তা করছেন তারা।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা এই ওষুধ কেনার আগে নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষা করি। সেই টেস্টে কিন্তু আমরা ওষুধের কার্যকারিতা কখনোই কম পাই নাই।

“তারপরও যেহেতু অভিযোগ আছে, অনেকদিন ব্যবহারের কারণে রেজিস্টেন্স ডেভেলপ করেছে। আইসিডিডিআরবির কাছে আমরা ডকুমেন্ট চেয়েছি। এটা যদি প্রমাণিত হয় ওষুধে কাজ হচ্ছে না আর বাজারে যদি অল্টারনেটিভ থাকে, তাহলে আমাদের কোনো সমস্যা নাই।”

Source: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

6
Pharmacy / ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে
« on: June 27, 2019, 11:47:26 AM »
বর্ষা মৌসুমে মশার উপদ্রব তো আছেই। তাই ডেঙ্গু থেকে বাঁচার প্রস্তুতি নিন।

ডেঙ্গুর জন্য দায়ী মশা ‘এইডিস ইজেপ্টাই’, যার একটি কামড়ই ডেঙ্গু সংক্রমণের জন্য যথেষ্ট। আর বর্ষা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সবস্থানেই মশার উপদ্রব শুরু হয়ে গেছে।

ডেঙ্গুর উপসর্গ হল জ্বর, পেশি ব্যথা, শরীর ব্যথা, দুর্বলতা ইত্যাদি। সব মিলিয়ে এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সহজ নয়। তবে রোগ থেকে বাঁচার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে পারেন।

স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে জানানো হল এই পদক্ষেপগুলো।

আবৃত থাকা: হাত আর পা মশার জন্য সবচাইতে সহজ লক্ষ্য। তাই ঘরে বাইরে যেখানেই থাকুন, চেষ্টা করতে হবে যথাসম্ভব কাপড়ে আবৃত থাকা। ফুল প্যান্ট, ফুলহাতা শার্ট, জুতা ইত্যাদি দিয়ে শরীর ঢেকে রাখতে হবে। ঢিলেঢালা কাপড় পরাই হবে সবচাইতে আরামদায়ক।

বদ্ধ পানি অপসারণ: মশার বংশবিস্তারের আদর্শ স্থান হল জমে থাকা পানি। বৃষ্টির দিনে জলাবদ্ধতা বাড়ে, ফলে মশার বংশবিস্তারের স্থানও বাড়ে। তাই মশার উপদ্রব থেকে বাঁচতে অবশ্য করণীয়গুলোর মধ্যে অন্যতম হল যেসব জায়গায় পানি জমে থাকতে পারে সেগুলো পরিষ্কার করে ফেলা। পাশাপাশি গাছে বেশি পানি দেওয়া যাবে না।

মশা দুরে রাখা গাছ: মশা তাড়ানোর একটি কার্যকর এবং স্বাস্থ্যকর উপায় হল মশা দূরে রাখে এমন গাছ ঘরের আশপাশে রোপন করা। তুলসি, সিট্রোনেলা, লেমনগ্রাস ইত্যাদি একাজে কার্যকর।

ঘরোয়া সমাধান: মশা দূরে রাখার নিরাপদ উপায় হল ঘরোয়া উপাদান, যা প্রায় সবার রান্নাঘরেই আছে। মৃদু কর্পূর, সরিষার তেলের সঙ্গে মেশানো ক্যারোম সিড বা আজওয়াই ইত্যাদি মশা তাড়াতে কাজে আসে। নিমের ও ল্যাভেন্ডার তেল, ইউক্যালিপ্টাস অয়েল ইত্যাদিও উপকারী।

ময়লা রাখার পাত্র: যেকোনো ময়লা রাখার পাত্র প্রতিদিন পরিষ্কার করতে হবে। আর ব্যবহারের সময় তা ঢেকে রাখতে হবে। জীবাণু ভরা ময়লার পাত্র মশা টানে। এছাড়াও ঘরের কোণা, ছায়াবৃত স্থান, বাগান ইত্যাদিও নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।

মশা তাড়ানোর ওষুধ: মশা তাড়ানোর স্প্রে, মলম ইত্যাদি ব্যবহারে জোর দিতে হবে। ঘরে কিংবা বাইরে সবখানেই এগুলো ব্যবহার করা উচিত। বিশেষ করে, শিশুদের ক্ষেত্রে এগুলো অবশ্যই ব্যবহার করা উচিত।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস মেনে চলার মাধ্যমে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে হবে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশারী হলে সব ধরনের রোগ দূরে থাকবে। এজন্য খাবারের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর ‘সাপ্লিমেন্ট’ও গ্রহণ করা যেতে পারে।

দরজা-জানালা বন্ধ: দিনের শেষে এবং রাতেই মশার উপদ্রব বেশি হয়। তাই এই সময় ঘরের দরজা জানালা বন্ধ রাখলে মশা ঢুকতে পারবে কম। পাশাপাশি জানালা ও দরজার ‘মসকিউটো নেট’ লাগানো যেতে পারে।

দিনের বেলাও ঘরে মশা ঢুকতে পারে। তাই জানালায় নেটের পাল্লা ব্যবহার করতে হবে।
Source: bangla.bdnews24.com

7
পরোক্ষ ধূমপানের কারণে ঢাকার স্কুলপড়ুয়া শিশুদের ৯৫ শতাংশের দেহে উচ্চ মাত্রার ‍নিকোটিনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলে একটি গবেষণার বরাত দিয়ে জানিয়েছে তামাকবিরোধী সংগঠন প্রগতির জন্য জ্ঞান (প্রজ্ঞা)।

বিশ্ব তামাক মুক্ত দিবসের আগের দিন বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে পরোক্ষ ধূমপানের কারণে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরেছে তারা।

প্রজ্ঞার বিবৃতিতে বলা হয়, “তামাক ব্যবহারের কারণে বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার মানুষ মারা যায়। বাংলাদেশে শিশু যক্ষ্মা রোগী উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১৭ সালে এই হার বেড়ে ৪.৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা ২০১৩ সালে ছিল মাত্র ২.৮ শতাংশ।

“সাম্প্রতিক এক গবেষণায় রাজধানী ঢাকার প্রাথমিক স্কুলে পড়া ৯৫ শতাংশ শিশুর দেহে উচ্চমাত্রার নিকোটিন পাওয়া গেছে, যার মূল কারণ পরোক্ষ ধূমপান।”

গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে ২০১৭ অনুযায়ী, বাংলাদেশে এখনও তিন কোটি ৭৮ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করে।

গবেষণার তথ্য তুলে ধরে প্রজ্ঞার বিবৃতিতে বলা হয়, “কর্মক্ষেত্রে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয় ৮১ লাখ মানুষ। এমনকি বাড়িতেই পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছে ৪ কোটি ৮ লাখ মানুষ এবং এক্ষেত্রে নারীরা আক্রান্ত হচ্ছে অনেক বেশি। “

বিবৃতিতে বলা হয়, তামাক ব্যবহারের ফলে প্রতি বছর বিশ্বে ৮০ লাখেরও বেশি মানুষ মারা যায় । আর পরোক্ষ ধূমপানের কারণে মারা যায় ১০ লাখ মানুষ, যার বড় একটি অংশ শিশু।

“ফুসফুস ও শ্বাসতন্ত্র সংক্রান্ত অসুস্থতা বিশ্বব্যাপী অকাল মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ এবং গোটা বিশ্বে মৃত্যুর ৫টি শীর্ষস্থানীয় কারণের মধ্যে ২টিই ফুসফুস ও শ্বাসতন্ত্র সংক্রান্ত জটিলতা।”

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেব অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১০ শতাংশ মৃত্যুর জন্য দায়ী দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রজনিত রোগ।

ফুসফুস ও শ্বাসতন্ত্র জটিলতার সঙ্গে তামাক সেবনের সম্পর্ক বিষয়ে জনসাধারণ এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ব্যাপক পরিসরে সচেতনতা তৈরিতে এ বছর বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবসের প্রতিপাদ্য ঠিক করা হয়েছে ‘টোবাকো অ্যান্ড লাং হেলথ’।

এই প্রতিপাদ্য অনুসরণ করে বাংলাদেশে বিশ্ব তামাক দিবসের স্লোগান করা হয়েছে,  ‘তামাকে হয় ফুসফুস ক্ষয়, সুস্বাস্থ্য কাম্য তামাক নয়’।

বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবসকে সামনে রেখে ফুসফুসের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাকপণ্যের দাম বাড়িয়ে ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করার আহ্বান জানিয়েছে প্রজ্ঞা।

এ বিষয়ে প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কার্যকর কর ও মূল্য পদক্ষেপের অভাবে বাংলাদেশে তামাকপণ্যের দাম অত্যন্ত কম। ফলে দেশের তরুণ এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠী খুব সহজেই তামাক ব্যবহার শুরু করতে পারে।

“স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্যই আসন্ন বাজেটে কার্যকর কর আরোপের মাধ্যমে তামাকপণ্যের দাম জনগণ, বিশেষ করে তরুণ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ক্রয় ক্ষমতার বাইরে নিয়ে যেতে হবে।”

গৃহস্থালি, কর্মস্থল, গণপরিবহনসহ সব ধরনের পাবলিক প্লেসে পরোক্ষ ধূমপানের প্রকোপ কমানো না গেলে ফুসফুস ও শ্বাসতন্ত্র সংক্রান্ত জটিলতা এবং মৃত্যু হ্রাস করা সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন তিনি।

“এক্ষেত্রে সকল পাবলিক প্লেস থেকে ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান বিলুপ্ত করাসহ বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। একই সাথে এফসিটিসি আর্টিক্যাল ৫.৩ বাস্তবায়নের মাধ্যমে তামাক কোম্পানির আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে,” বলেন জুবায়ের।

১৯৮৭ সাল থেকে প্রতিবছর ৩১ মে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং এর সহযোগী সংস্থাগুলো তামাকের স্বাস্থ্য ঝুঁকি তুলে ধরে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ণের লক্ষ্যে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস পালন করে আসছে।
Source: https://bangla.bdnews24.com/health/article1627918.bdnews

13
Pharmaceutical Microbiology / Gram staining process
« on: March 27, 2019, 01:42:07 PM »

14
এক.

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিজ্ঞানের সবচেয়ে অবদান আমার কাছে মনে হয়, জেমস ওয়াটসন ও ফ্রান্সিস ক্রিকের ডি-অক্সিরাইবো নিউক্লিক এসিড বা ডিএনএ আবিষ্কার। আর এর মধ্য দিয়ে বিজ্ঞানের অভূতপূর্ব পরিবর্তন শুরু হয়। মানুষের খাদ্য থেকে রোগবালাই সনাক্তকরণ ও তা প্রতিরোধে নিত্যনতুন ওষুধ তৈরিসহ অনেককিছুই সম্ভব হয় ওয়াটসন ও ক্রিকের বিজ্ঞানে দেয়া সেরা উপহারের বদৌলতে। অনুজীব বিজ্ঞান বা মলিকিউলার বায়োলজির মাদার হিসেবে বিজ্ঞানীরা ডিএনএ নিত্যদিনই প্রশস্ত করে চলছেন।

কয়েক দশক ধরে, মানুষ-পশু-পাখি-উদ্ভিদের জিনম রহস্য বা জেনিটিক ম্যাপ উম্মোচন করে এটাই প্রমাণ হয়েছে যে, ডিএনএ জীবের সকল ট্রেটইস বা বৈশিষ্ট্য ধারক। ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠির খাদ্য চাহিদা পূরণ করতে বিশ্ব যখন হুমকির মুখে ঠিক তখনই বিজ্ঞানীদের মাথায় ডিএনএ প্রকৌশল বা জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং দিয়ে তা সমাধানের ব্যাপারটি মাথায় এলো। ১৯৭২ সালের গোড়ার দিকে হারব্রেট বয়ার ও স্ট্যানলি কোহেন জেনেটিক মডিফাইড অর্গানিজম বা জিএমও বিষয়ক ধারণা দিয়েছিলেন, যা থেকে আজ অবধি আমরা মাছ, মাংস, সবজি, শস্যের উৎপাদন কয়েকগুণ বাড়িয়ে আমাদের চাহিদা মেটানোর লড়াই অব্যাহত রেখেছি।

জিএমও খাদ্যের উৎকর্ষতায় আমরা যে ডিএনএ প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছি, তার সবই সম্ভব হয়েছে ‘জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা জিন প্রকৌশল বিদ্যার যুগান্তকারী আবিষ্কারের ফলে। আজ আমরা এই জিন প্রকৌশলকে কাজে লাগিয়ে রোগ-বালাই বিরুদ্ধে লড়াই করছি। নতুন একটি বিশ্বকে ভবিষৎ প্রজন্মের কাছে উপহার দিয়ে চলেছি। এই যে আমরা ডায়াবেটিস রোগ হলে যে ইনসুলিন নিই, তা কিন্তু আমাদের হাতের নাগালে এনে দিয়েছে জিন প্রযুক্তি।

নব্বই দশকের পর থেকে আমরা ফলমূল বর্ধিতকরণ থেকে শুরু করে নিজেরাই তার স্বাদ কেমন হবে তা নির্ধারণ করে দিচ্ছি। ১৯৯৮ সালের দিকে আমরা এই প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে তিন বাবা-মা-বাবা জিন একত্রিকরণ করে প্রথমবারের মানব সন্তান হতেও দেখেছি। যা এর আগে কখনো সম্ভব হয়নি। অ্যাকোয়ারিয়ামে যে রঙ্গিন মাছগুলো আমাদের মনের আনন্দ যোগান দিয়ে যাচ্ছে, তাও জিন প্রযুক্তিরই ফসল।

ডিএনএ যে চারটি নিউক্লিওটাইড বা রাসায়নিক উপাদান দিয়ে তৈরি, এ চারটি উপাদানের নাড়াচাড়া করালেই তৈরি নতুন নতুন বৈশিষ্ট্যর প্রোটিন তৈরি হয়। আর জিন প্রকৌশলে আমরা যে প্রযুক্তির সাহায্য নিয়েছি তাহলো মেগানিউক্লিয়েজ, জিংক ফিঙ্গার নিউক্লিয়েজ (জেএফএন) এবং ট্রান্সক্রিপশন আক্টিভেটর লাইক এফেক্টর নিউক্লিয়েজ বা ট্যালেন।
ব্যাকটেরিয়া নি:সৃত এনজাইম যাকে আমরা রেস্টিকশন এইনজাইম বলি, তা দিয়ে ডিএনএ কোনও নিদিষ্ট অংশ কেটে অন্য একটি অংশ সেখানে এনে জোড়া দেয়ার প্রযুক্তি হলো জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং। তবে দীর্ঘদিন ধরে এই প্রযুক্তি সময়সাপেক্ষ, ব্যয়বহুল ও জটিলতার অভিযোগ গবেষকদের মুখে মুখে ছিল। তবে তা সমাধানের লড়াই বিজ্ঞানীদের অব্যাহত ছিল।

দুই.

আমরা এক সময় কল্পবিজ্ঞানের বা সায়েন্স ফিকশনের বিভিন্ন গল্পে পকেটে রাখা হচ্ছে কম্পিউটার। সায়েন্স ফিকশনের এসব ধারণা যেন বাস্তবে রূপান্তর শুরু করেছে। বর্তমানে বিজ্ঞানের ছোঁয়ায় কম্পিউটারকে কয়েক মিলিমিটারের যন্ত্রে পরিণত করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া এক সময় আমাদের মনের ভেতর ঘুরপাক খাওয়া প্রশ্নগুলোর মধ্যে ছিল, ইস আমরা যদি আইনস্টাইন কিংবা নিউটনের মতো মেধাবী হতে পারতাম, কিংবা দুর্ঘটনায় হারিয়ে ফেলা চোখ কিংবা মানুষের কোনও অঙ্গ নিজেরাই তৈরি করতে পারতাম, রোগবালাই মুক্ত মানব জীবন উপহার পেতাম অথবা আমরা যদি চিরসবুজ বা এভারগ্রিন হতে পারতাম তাহলে কতই না খুশি হতাম?

আমাদের এই কল্প বিজ্ঞানের চিন্তাগুলোকে ঠিক বাস্তবিক রূপ দেয়ার সময়ের সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন গবেষকরা। ২০১২ সালের আগেও আমরা যেমন এই বিষয়গুলোকে কেবল নিজেদের ভ্রান্তিবিলাস মনে করে দু:খ পেতাম, তার দিন মোটামুটি শেষ হয়েছে।

আপনি বিশ্বাস করুন বা না করুন, একবিংশ শতাব্দীর এই দিনে বিজ্ঞান আমাদের এমন একটি আর্শীবাদ এনে দিয়েছে যা দিয়ে আমরা ইচ্ছে করলে, মানবভ্রুণ সম্পাদনা বা নিজেদের চাহিদামত বুদ্ধিমত্তা, শক্তিশালী ও আকার-আকৃতির তৈরি করতে পারবো। তাতে যে বিন্দু পরিমাণ বাধা থাকবে না তা ইতোমধ্যে গবেষকদের আবিষ্কারই বলে দিয়েছে। (তথ্যসূত্র ১)

অনেকটা কম্পিউটার গেইমের মতো। নিজেদের প্রয়োজনে পছন্দমত কোন চরিত্র তৈরি করা যেমন কঠিন কিছু নয়, ঠিক তেমন নতুন আবিষ্কৃত জিন প্রকৌশল প্রযুক্তি দিয়েও বাস্তব রূপায়নে প্যানডোরার বাক্স খুলতে যাচ্ছে অদূর ভবিষ্যতের মানুষ।

Clustered Regularly Interspaced Short Palindromic Repeats যাকে আমরা ক্রিসপার (CRISPR) বলি। যদিও এর সাথে একটি সহযোগী এনজাইম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাকে আমরা ক্যাস ৯ (Cas9)। দ্বৈতভাবে এই প্রযুক্তিকে বলা হচ্ছে ‘ক্রিসপার-ক্যাস ৯’। দেখতে যা কিনা জিংক ফিঙ্গার কিংবা ট্যানেলের মতো। এটি জিন প্রকৌশলের অনুরূপ একটি প্রযুক্তি। ২০১২ সালে বিজ্ঞানীদের সামনে এই প্রযুক্তি আসার পর এখন পর্যন্ত একবিংশ শতাব্দীর সেরা আবিষ্কার বলে বিজ্ঞানীরা মত দিয়েছেন।

তিন.

পৃথিবীর শুরু থেকে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের এক ধরনের যুদ্ধ চলে আসছে। ব্যাকটেরিয়াফাজ নামের এক ধরনের ভাইরাস ব্যাকটেরিয়ার জিনমে এক ধরনের ডিএনএ প্রবেশ করিয়ে ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেল। ব্যাকটেরিয়াফাজ বা ফাজ ভাইরাসের এই জিনটি প্রতিরোধক হিসেবে ব্যাকটেরিয়াও এক ধরনের অ্যান্টি ভাইরাস তৈরি করে। ব্যাকেটিরিয়ায় প্রবেশকৃত ভাইরাসের ডিএনএ প্রতিরূপী ডিএনএ সিকোয়েন্স যাকে ক্রিসপার বলা হচ্ছে, সেটি পরবর্তীতে ব্যাকটেরিয়ার বিশেষ ধরনের এনজাইম ক্যাস৯ সহায়তা নিয়ে ক্ষতিকর ভাইরাসের ডিএনএকে ভেঙ্গে দেয়, ফলে ভাইরাসের আক্রমণের বিপরীতে ব্যাকটেরিয়া নিজেদের অস্তিস্ত্ব টিকে রাখতে পারে। ক্যাস ৯ ব্যাকটেরিয়ার ভিতর অনেকটায় ডিএনএ সার্জন হিসেবে কাজ করে।

ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের এই আদিম লড়াই থেকে বিজ্ঞানীরা জানতে পারে যে ব্যাকটেরিয়ার ক্রিসপার সিস্টেম প্রোগামেবল বা ক্রিসপার ডিএনএ সিকোয়েন্সকে আমাদের চাহিদা অনুযায়ী পরিবর্তন করা সম্ভব হয়।

তবে অ্যাকাডেমিকভাবে ক্রিসপার-ক্যাস৯ বলতে বোঝানো হয়, কোন কাঙ্ক্ষিত সিকোয়েন্সকে যাকে আমরা গাইড আরএনএ বলছি। তা যখন কোন জিনোম (সমগ্র ডিএনএ) সিকোয়েন্সের সাথে মিলে যায়, তখন ক্যাস৯ এনজাইম, যাকে আমরা ধরে নিতে পারে এক জোড়া কাঁচি তা ওই ডিএনএকে কেটে দেয়।

ধরুন, আপনি একটি রোগের প্রোটিন কোন প্রাণীর দেহে সনাক্ত করতে চাচ্ছেন। আপনি যদি ওই প্রোটিনের জেনেটিক নকশা বা কোডন বা ডিএনএ সিকুয়েন্স বা ক্রিসপার জানেন, তাহলে ওই ডিএনএ সিকোয়েন্স ওই প্রাণীর দেহে প্রবেশ করানো হয়। পরবর্তীতে এই ক্রিসপার ওই প্রাণীর দেহে অনেকটা জিপিএস সিস্টেমের মতো কাজ করে। কাঙ্ক্ষিত ডিএনএ সিকোয়েন্স যখন ওই প্রাণীর দেহেরে জিনোম (সমগ্র ডিএনএ) সাথে মিলে যায়, তখন আমরা সেই জিনের বিষয় জানতে পারি।

১৯৮৭ সালে ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইয়োশিজুমি ইশিনু ব্যাকটেরিয়া থেকে ক্রিসপারের ডিএনএ সিকোয়েন্স আবিষ্কার করলেও তিনি তার সঠিক ব্যবহার জানতেন না । পরবর্তীতে বিভিন্ন বিজ্ঞানী এই বিষয়ে কাজ করলেও ক্রিসপার প্রযুক্তির বৈপ্লবিক পরিবর্তনের কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যার্লিফোনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেনিফার ডোডানা এবং সুইডেনের ইউমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইমানুয়েল শরপেনটির।

২০১২ সালে ১৭ অগাস্ট (অনলাইন ভার্সন ২৮ জুন) বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সায়েন্স’ এ ‘A Programmable Dual-RNA–Guided DNA Endonuclease in Adaptive Bacterial Immunity’ শীর্ষক এক গবেষণা নিবন্ধে ক্রিসপার-ক্যাস৯  শক্তিশালী এই প্রযুক্তির প্রথম ধারণা দেন। (সূত্র-৯)

তবে মজার বিষয় হলো, প্রায় ছয় মাস পর ‘সায়েন্স’ ২০১৩ সালের ৩ জানুয়ারি ইমানুয়েল শরপেনটির সাবেক ছাত্র ব্রড ইনস্টিটিউটের ফেং জাং ক্রিসপার-ক্যাস/৯ ব্যবহার নিয়ে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন। তবে এই প্রযুক্তির মেধাস্বত্ত্ব নিয়ে তৈরি হয়ে ঝামেলা। ডোডানা ও শরপেনটির ২০১২ সালের তাদের প্রকাশনার আগেই মে মাসে দিকে পেটেন্টের (মেধাসত্ত্ব) আবেদন করে।  (সূত্র-৪-৫-৭)

পরবর্তীতে ফিং জাং এবং প্রায় এক ডজন গবেষক পেটেন্টের জন্য আবেদন করলে তিনি ২০১৪ সালে ক্রিসপার-ক্যাস বিষয়ক পেটেন্ট অনুমতি পান। ফলে ক্রিসপাস-ক্যাস৯ মূল নায়ক ডোডানা ও শরপেনটির বেকায়দায় পড়ে যান।

পেটেন্ট বিষয়ক একটি মামলা যুক্তরাষ্ট্রের আদালত করে ক্যার্লিফোনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়। দুই পক্ষের তুমুল লড়াই শেষে চলতি বছরের ১৯ জুন ক্রিসপার-ক্যাস৯ মেধাসত্ত্বধিকারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত জেনিফার ডোডানা ও ইমানুয়েল শরপেনটির নাম ঘোষণা করেন। (সূত্র: ৪)

ক্রিসপার-ক্যাস৯ বিজ্ঞানীদের কাছে এতটায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে যে গত ছয় বছরে প্রায় ১৪ হাজারের বেশি গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশ হয়েছে এ নিয়ে। যা এযাবতকালে বিজ্ঞানীদের নতুন কোনও গবেষণা কেন্দ্রিক সর্বোচ্চ প্রকাশনা।  তবে বিজ্ঞানী মহলে গত কয়েক বছর ধরে ক্রিসপার-ক্যাস৯ নোবেল পাওয়ার শোরগোল থাকলেও মূলত পেটেন্ট নিয়ে আদালতের রায় না আসায় তা দেয়া হয়নি বলেই মনে করা হয়।

তবে পেটেন্টের রায় পাওয়ার পর পুরো বিশ্বজুড়ে চলতি বছরে কেমিস্ট্রি কিংবা চিকিৎসাশাস্ত্রের নোবেল পুরষ্কার ‘ক্রিসপার-ক্যাস৯’ ছিনিয়ে নিতে পারে ধারণা করা হচ্ছে।

চার.

ক্রিসপার প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে ২০১৩ সালে চীনের একদল গবেষক মানবদেহের অপ্রতিরোধ্য রোগ এইচআইভি বিরুদ্ধে ৪৮ শতাংশ সফল হয়। ২০১৬ সালে বিজ্ঞান সাময়িকী সায়েন্স প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়, ক্রিসপার-ক্যাস৯ ক্লিনিক্যালি অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ডিএনএ’র মধ্যে মাত্র একটি নিউক্লিওটাইডের হেরফের হলেই জেনেটিক রোগ তৈরি হয়। প্রায় তিন হাজারের মতো জেনেটিক রোগ আমাদের চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা ইতোমধ্যে সনাক্ত করেছেন।

 

ভ্রুণের জেনেটিক রোগের কারণে ইউরোপে ১৯ শতাংশ গর্ভপাত করা হয়। জেনেটিক ডিফেক্ট বা ত্রুটি সংশোধনের কোনও চিকিৎসা না থাকায় নিরাপদ পৃথিবী গড়তে ইউরোপের বাবা-মা এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেন বলে মনে করা হচ্ছে। হ্যানটিংটন, অ্যালঝেইমার, বর্ণাদ্ধতা, হেমোফিলিয়ার মতো জেনিটিক রোগের বিরুদ্ধে কার্যকরী ভূমিকায় আর্বিভুত হয়েছে ক্রিসপার-ক্যাস৯।

বার্ধক্যজনিত কারণে আমাদের এই পৃথিবীতে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ মারা যায়। আমাদের দেহের ক্রোমোজোমের টেলোমেয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হলে আমরা বয়স্ক বা এজিং হয়ে পড়ি। ক্রিসপার-ক্রাস৯ সিস্টেম নিয়ে গবেষকরা ইতোমধ্যে টেলোমেয়ার মেরামত করে এজিং বা বয়স্ক হওয়ার প্রবণতা কমিয়ে ফেলছে।

২০১৬ সালের এক গবেষণায় প্রমাণ হয়েছে, যে ক্রিসপার-ক্যাস৯ কে কাজে লাগিয়ে এজিং থেরাপি তৈরি করা সম্ভব, যা চিরসবুজ থাকার নতুন দিগন্তের সূচনা করবে। (সূত্র-২)

ক্যান্সারের মত দূরারোগ্যব্যধি প্রতিরোধে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ও জিন থেরাপির গবেষণাও চোখে পড়ার মতো। ক্রিসপার-ক্যাস৯ যে বিজ্ঞানের জাদুর কাঠিতে পরিণত হয়েছে তাতে কারও দ্বিমত নেই। অ্যানিমিয়া থেকে শুরু করে স্তনক্যান্সার প্রতিরোধে ডিএনএ প্রযুক্তির সফল প্রয়োগ এখনই দেখা যাচ্ছে।

 

২০১৭ সালে ‘নেচার’ প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা যায়, হৃদপেশির অন্যতম জটিল রোগ হাইপারট্রপিক ক্যার্ডিওমায়োপ্যাথ প্রতিরোধে মানব ভ্রণে ডিএনএ সংশোধনের সুযোগ করে দিয়েছে ক্রিসপার-ক্যাস৯।

তাছাড়া অধিক পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ ফল কিংবা তাতে এলার্জি অনুসঙ্গ কমানোর চেষ্টা গবেষকদের দীর্ঘদিনের। সেটাতে পানি এনে দিয়েছে ক্রিসপার-ক্যাস৯। দক্ষিণ কোরিয়ার একদল গবেষক ইতোমধ্যে তার সফলতাও পেয়েছেন। সুতরাং বলা যেতে পারে কৃষিতে যে জিএমও প্রযুক্তি এতোদিন ব্যবহার করা হতো, তার চেয়ে শক্তিশালী প্রযুক্তি ব্যবহার করে অধিক ফলনশীল খাদ্যশস্য উদ্ভাবন করা সম্ভব হচ্ছে।

আমরা অনেকেই জানি বর্তমানে অনেক ব্যাকটেরিয়ার আন্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে উঠেছে। যার কারণে ড্রাগ রেজিস্টেন্স বিশ্বব্যাপী ভয়ানক সমস্যা তৈরি করছে। আশার কথা হলো ক্রিসপার সহায়তায় আরো বেশি শক্তিশালী আন্টিবায়োটিক ও আন্টিভাইরাল তৈরি করার লক্ষ্য গবেষকরা চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন।

ম্যালেরিয়া কিংবা ইবোলার মতো ঘাতকব্যাধি রুখতে ক্রিসপার-ক্যাস৯ কে কাজে লাগানো হয়েছে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ক্রিসপারের এই যুগান্তকারী ভূমিকার প্রশংসা করে বলেছে এই প্রযুক্তি আগামী বিশ্বকে অন্য রকম একটি বিশ্বের দ্বারপান্তে নিয়ে যাবে।

ধর্মীয় ও নৈতিকতার প্রশ্নে ‘মানব ভ্রণ’ ডিজাইন করার বিষয়টি বিশ্বব্যাপী এখনো অনুমোদন মেলেনি। তবে চীন ও যুক্তরাজ্য মানুষের রোগের থেরাপি কিংবা জিনগত ক্রুটি সংশোধনের অনুমতি দিয়েছে। যা নিয়ে বিশ্বব্যাপী অনেক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। আমরা এরইমধ্যে জেনেছি যে,  চীনের একটি গবেষণাগার দুইবার মানব ভ্রণ দুই সপ্তাহের জন্য নিজেদের ইচ্ছেমত ডিজাইন করে গবেষণাগারে সফল হয়েছেন। তবে নৈতিকতার প্রশ্ন নিয়ে চীন একদম নিরব। (সূত্র-১-৮)

ক্রিসপার নিয়ে বিজ্ঞানী মহলে অনেক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অধিকাংশ বিজ্ঞানী এই জিন প্রকৌশলকে মানব ইতিহাসের যুগান্তকারী আবিষ্কার মনে করলেও অনেকে বিপরীত মত দিয়েছেন।

ভবিষ্যত পৃথিবী যে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই নিয়ন্ত্রিত হতে চলছে তাতে কারও কোন সন্দেহ নেই। তবে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংকে কাজে লাগিয়ে সঙ্কর মানব অর্থাৎ শক্তি, বুদ্ধি, রোগ প্রতিরোধক্ষম করা যে সম্ভব তাতে কারও দ্বিধা নেই।

যদি মানুষের ভ্রুণকে গবেষণাগারে ডিএনএ বাছাই করে অসুর শক্তিধারী করে তোলা হয়, তাহলে এই শৃঙ্খল পৃথিবীতে ধর্ম ও ঐশ্বরিক বিশ্বাসে আঘাত হানবে, যা মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভুল হতে পারে। পবিত্র ধর্মের প্রতি মানুষের বিশ্বাসবোধ আমাদেরকে চলার পাথেয় হলেও বিজ্ঞানের এইসব আবিষ্কার, ধর্মীয় সংঘাত তীব্রতর করে তুলতে পারে।

এছাড়াও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং নিউক্লিয়ার শক্তির চেয়ে ভয়ানক কিছু হতে পারে। যদি এর অপব্যবহার করা হয়, দেখা যাবে সংকর মানুষের, প্রকৃতির সৃষ্টি মানুষের মতো আবেগ অনুভূতি ও ভালোবাসা নাও থাকতে পারে। ফলে আমাদের শান্তির পৃথিবী হয়ে যেতে পারে অশান্তির প্রতীক।

এ কথা অকাট্য যে, যেভাবে পৃথিবীতে রোগ বালাই শক্তিশালী হয়ে উঠছে তার বিরুদ্ধে ক্রিসপার ক্যাস-৯ আলাউদ্দিনের জাদুর চেরাগ। আমরা যদি ক্যান্সার মতো মরণব্যাধিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি, দৃষ্টিহীনদের দৃষ্টি, হৃদপিণ্ড অকেজোদের হৃদপিণ্ড ফিরিয়ে দিতে পারি তাহলে সেটা হবে আমাদের জন্য আর্শীবাদ।

বিজ্ঞানীরা মূলত সেই লক্ষে ক্রিসপার-ক্যাস৯ কে মানব উপকারে লাগাতে তৎপর হয়ে উঠছে। আমরা বিশ্বাস করি, অদূর ভবিষত ক্ষুধা, রোগ-বালাইবিহীন নতুন পৃথিবী গড়ার স্বপ্ন দেখছি।

 

লেখক: নাদিম মাহমুদ, জাপানের ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত

 

তথ্যসূত্র

১. http://science.sciencemag.org/content/337/6096/816.long

২. https://www.nature.com/articles/gim201628.pdf?origin=ppub

৩. https://www.nature.com/news/second-chinese-team-reports-gene-editing-in-human-embryos-1.19718

৪. http://news.berkeley.edu/crisprpatent/

৫. http://news.berkeley.edu/2018/06/19/doudna-charpentier-team-awarded-u-s-patent-for-crispr-cas9/

৬. http://science.sciencemag.org/content/361/6405/866

৭. http://www.sciencemag.org/news/2017/02/round-one-crispr-patent-legal-battle-goes-broad-institute

৮. https://www.quantamagazine.org/crispr-natural-history-in-bacteria-2015020

৯. w.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC213968/

15
Pharmacy / পেয়ারা নাকি আপেল?
« on: September 13, 2018, 12:05:47 PM »
পেয়ারা ও আপেল দুটো ফলই পুষ্টিগুণে ভরপুর। আপেল বিদেশি ফল। আবার পেয়ারাকে অনেকে দেশীয় আপেল বলে। পুষ্টিগুণে ভরপুর ও স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী আপেল ও পেয়ারা সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন ঢাকার বারডেম জেনারেল হাসপাতালের খাদ্য ও পুষ্টি বিভাগের প্রধান পুষ্টিবিদ শামসুন্নাহার নাহিদ।

পেয়ারাপেয়ারাপেয়ারা

● পেয়ারায় প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি রয়েছে। তাই ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করে শরীরের রোগ প্রতিরোধ করতে পারে।

● পেয়ারায় অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে, যা রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ায়।

● বহুমূত্র রোগীদের জন্য পেয়ারা বিশেষ উপকারী। দৃষ্টিশক্তি ও ক্যানসার প্রতিরোধেও এটি প্রয়োজনীয়।

● পেয়ারা রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ায়। তাই পেয়ারা মৌসুমে প্রতিদিন এই ফল খাওয়া উচিত।

● চোখের জন্য ভালো, পেটের জন্য উপকারী একটি ফল পেয়ারা।

● পেয়ারায় রয়েছে ভিটামিন এ। তাই পেয়ারা খেলে চোখের দৃষ্টিশক্তি বাড়ে। রাতকানা রোগ থেকে বাঁচায়।

● উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেয়ারা বেশ কাজে দেয়।

● বয়সের সঙ্গে জড়িত নানা রোগ চোখে ছানি, আর্থ্রাইটিস বা হাঁটুব্যথা প্রতিরোধে সহায়তা করে।

আপেলআপেলআপেল

● শরীরে রোগ প্রতিরোধক বৃদ্ধি পায়।

● আপেলে রয়েছে ভিটামিন এ এবং ভিটামিন সি। এটি খেলে ভিটামিন এ এবং সি-জনিত রোগ প্রতিরোধ হয়।

● এতে রয়েছে শর্করা, ভিটামিন, খনিজ লবণ, আঁশ, পেকটিন ও ম্যালিক অ্যাসিড। এ উপকরণগুলো শরীর গঠনে সাহায্য করে।

● ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়তা করে আপেল।

● আপেল খেলে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমে।

● যাঁরা মেদ কমিয়ে ওজন কমাতে চান, তাঁরা আপেল খেতে পারেন। আপেল খেলে মেদ জমে না।

● আপেলের রস দাঁতের জন্য ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে। একই সঙ্গে এটি দাঁতের মাড়ির জন্য উপকারী। ফলে আপেল খেলে দাঁত ভালো থাকে।

● প্রতিদিন খেলে হজমক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এ ফল হজম-সহায়ক ব্যাকটেরিয়া তৈরি করে পেটে।

● আপেলে আছে পর্যাপ্ত পরিমাণে বোরন, যা হাড়কে শক্ত রাখতে সাহায্য করে।

গ্রন্থনা: তারিকুর রহমান খান

Pages: [1] 2 3 4