Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Topics - sheikhabujar

Pages: [1]
1
By Fuad Hasan Shishir
বর্তমান যুগ স্মার্টফোনের যুগ। স্মার্টফোনের সহজলভ্যতা ও উপকারিতার কারণে মানুষের হাতে হাতে একটি করে স্মার্টফোন দেখতে পাওয়া যায়। বর্তমানে বেশ স্বল্পমূল্যেই উন্নত স্মার্টফোন পাওয়া যায়। পাশাপাশি গুণগত মান, সফটওয়্যার, ক্যামেরা এবং অন্যান্য দিক দিয়ে একদম ভালো মানের স্মার্টফোনও পাওয়া যায়। প্রযুক্তির ভাষায় যাকে বলে লেটেস্ট অ্যান্ড গ্রেটেস্ট  স্মার্টফোন।


স্যামসাং নোট-৮;

নামীদামী মোবাইল কোম্পানিগুলো সব ধরনের ক্রেতাদের কথা মাথায় রেখেই সাধারণত তাদের ফোনগুলো বাজারজাত করে থাকে। একদম কম দাম থেকে মধ্যম দামের এবং সব দিক থেকে উন্নত বেশি দামী স্মার্টফোনও তারা বাজারজাত করে থাকে। এদিক থেকে দেখলে অ্যাপল কোম্পানি একটু আলাদা। তারা সবসময়েই সমাজের অভিজাত সদস্যদের লক্ষ্য করে বেশি দামী স্মার্টফোন তৈরি করে থাকে। যেমন ২০১৭ সালে অ্যাপল তাদের আইফোন টেন বের করেছে। যা বিক্রি হচ্ছে রেকর্ড পরিমাণ দাম ১ হাজার মার্কিন ডলারে। বাংলাদেশে যার দাম রাখা হচ্ছে লাখ টাকার উপরে। বিগত তিন বছর থেকে স্মার্টফোনগুলোর দাম দিনদিন বেড়েই চলেছে। এখান থেকে মনে প্রশ্ন জাগতে পারে স্মার্টফোনগুলো তৈরিতে খরচ কেমন হয়?

স্মার্টফোন প্রস্তুত করতে কত খরচ হয়?
এত টাকা দামের ফোনগুলো তৈরি করতে কোম্পানিগুলোর কত টাকা খরচ হয়? তারা কতই বা মুনাফা অর্জন করে থাকে ফোনগুলো থেকে? জেনে হয়তো অবাক হবেন কিছু কিছু স্মার্টফোন থেকে কোম্পানিগুলো প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি লাভ করে থাকে। চলুন দেখা যাক কিছু স্মার্টফোন তৈরি করতে কত টাকা খরচ হয়, কত টাকায় বিক্রি করা হয় এবং কত টাকা লাভ করা হয়।

১. অ্যাপল আইফোন টেন (৬৪ জিবি)
তৈরিকৃত খরচ- ৩৭০.২৫ মার্কিন ডলার
বিক্রিত দাম- ৯৯৯ মার্কিন ডলার
লাভ- ৬২.৯৩%

আইফোন টেন;

২. অ্যাপল আইফোন ৮ (৬৪ জিবি)
তৈরিকৃত খরচ- ২৫৫.১৬ মার্কিন ডলার
বিক্রিত দাম- ৬৯৯ মার্কিন ডলার
লাভ- ৬৩.৪৯%
৩. গুগল পিক্সেল এক্সএল (৩২ জিবি)
তৈরিকৃত খরচ- ২৮৫.৭৫ মার্কিন ডলার
বিক্রিত দাম- ৭৬৯ মার্কিন ডলার
লাভ- ৬২.৮৪%



৪. স্যামসাং এস ৯ প্লাস
তৈরিকৃত খরচ- ৩৭৯ মার্কিন ডলার
বিক্রিত দাম- ৮৩৯ মার্কিন ডলার
লাভ- ৫৪.৮%
৫. স্যামসাং গ্যালাক্সি এস ৮
তৈরিকৃত খরচ- ৩০৭.৫০ মার্কিন ডলার
বিক্রিত দাম- ৭২০ মার্কিন ডলার
লাভ- ৫৭.৩%
 

 

এই দামগুলো কীভাবে নির্ধারিত হয়?
একটি স্মার্টফোনের মূল্য সামগ্রিকভাবে সরল একটি সংখ্যা হলেও এর দাম নির্ভর করে বিভিন্ন যন্ত্রাংশের উপর। যেমন ডিসপ্লে, ক্যামেরা, টাচ, চিপসেট, বডি ইত্যাদি। এ অংশগুলো আলাদাভাবে তৈরি করা হয়ে থাকে। পরবর্তীতে এসব আলাদা যন্ত্রাংশগুলো একসাথে যুক্ত করা হয়। যাকে প্রযুক্তির ভাষায় ম্যানুফ্যাকচারিং বলা হয়। চলুন অ্যাপল আইফোন টেন ও স্যামসাং গ্যালাক্সি এস ৮-এর শুধু যন্ত্রাংশগুলোর উপর ভিত্তি করলে তাদের কত টাকা খরচ হয় সে বিষয়ে জানা যাক।

IHS Markit এর একটি গবেষণাপত্রের বিশ্লেষণ থেকে পাওয়া গেছে অ্যাপল আইফোন টেন-এর উৎপাদন খরচ মাত্র ৩০৭.২৫ মার্কিন ডলার (Techwalls-এর মতে ৩৮৯.৫০ মার্কিন ডলার)। যা কোম্পানিটির একইসাথে বের করা আইফোন ৮-এর তুলনায় ৪৫% বেশি। এই দুই স্মার্টফোনের যন্ত্রাংশের দামের মধ্যে প্রায় ১২২ মার্কিন ডলার পার্থক্য রয়েছে। কারণ প্রতিটি আইফোন টেনের স্ক্রিনের পেছনে অ্যাপলকে ১১০ ডলার করে খরচ করতে হয়েছে। অন্যদিকে আইফোন ৮ এর স্ক্রিনের দাম ৫২.৫০ ডলার। আইফোন টেনের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো এর ফেস আইডি। যা ‘ট্রু ডেপথ ক্যামেরা’-র উপর ভিত্তি করে তৈরি। এক্ষেত্রে অ্যাপলের প্রতিটি ফোনে খরচ হয়েছে ১৭.৭০ মার্কিন ডলার। আইফোন টেনের কেসিংয়ে ব্যবহৃত স্টেইনলেস স্টিলের কারণে প্রতিটি ফোনে খরচ লেগেছে ৬০ ডলার করে যা আইফোন ৮-এর চেয়ে ১০ ডলার বেশি।

এভাবে প্রত্যেকটি আলাদা আলাদা যন্ত্রাংশের দাম এক করলে আইফোন টেনের সত্যিকারের উৎপাদন খরচ আসে ৩০৭.৫০ ডলার। এই দামের সাথে পরবর্তীতে বিজ্ঞাপন, মার্কেটিং, কর, শোরুম, ম্যানুফ্যাকচারিং ইত্যাদি খরচ যোগ হয়। তবে এসব হিসেবে আনলেও অ্যাপল তার প্রতিটি আইফোন টেন থেকে দ্বিগুণেরও বেশি লাভ করে থাকে।

এবার আসি স্যামসাং-এর গ্যালাক্সি এস ৮-এর যন্ত্রাংশের দামের ব্যাপারে। IHS Markit-এর মতে প্রতিটি গ্যালাক্সি এস ৮-এর যন্ত্রাংশের পেছনে স্যামসাংয়ের খরচ পড়ে ৩০১.৬০ মার্কিন ডলার। এটি ম্যানুফ্যাকচার করতে স্যামসাংয়ের আরো ৫.৯ ডলার করে খরচ হয়। ফলে মোট দাম আসে ৩০৭.৫০ মার্কিন ডলার। যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২৫ হাজার ৫০০ টাকা।


স্যামসাং গ্যালাক্সি এস-৮ এর যন্ত্রাংশ;

IHS Markit-এর মতে ফোনটির ন্যান্ড ফ্ল্যাশ মেমরি এবং ডির‍্যাম-এর পেছনে খরচ পড়ে প্রায় ৪১.৫০ মার্কিন ডলার। ফোনটির প্রতি ৩০০০ এমএএইচ ব্যাটারিতে খরচ পড়ে মাত্র ৪.৫০ ডলার। বাংলাদেশি টাকায় যা মাত্র ৩৭৩ টাকা। মূলত ৭২০ মার্কিন ডলারে বিক্রি করলেও কিছু বিশেষ ক্যাম্পেইন ও অফারে স্যামসাংকে তাদের গ্যালাক্সি এস ৮ সর্বনিম্ন ৪১২ মার্কিন ডলারেও বিক্রি করতে দেখা গেছে। কিন্তু এই দামে বিক্রি করলেও স্যামসাংয়ের প্রায় ১০০ ডলারের মতো লাভ থেকে যায়।

স্মার্টফোনগুলি কোথায় প্রস্তুত করা হয়?
অধিকাংশ স্মার্টফোন কোম্পানি তাদের ফোনগুলোর ম্যানুফ্যাকচার করে থাকে চীনে। এর পেছনে কারণ হলো, এই কোম্পানিগুলোকে একসাথে লক্ষ লক্ষ স্মার্টফোন প্রস্তুত করতে হয়। অধিক সংখ্যক স্মার্টফোন প্রস্তুত করতে অধিক শ্রমশক্তির প্রয়োজন। চীনের শ্রম বাজার একই সাথে সস্তা এবং অভিজ্ঞ। সবদিক থেকে স্বল্প খরচে এবং ভালো মানের উৎপাদনের জন্য কোম্পানিগুলো চীনকেই বেছে নেয় সবার আগে।

চীনে প্রতিটি স্মার্টফোনের পেছনে কোম্পানিগুলোর মাত্র ৪ ডলার থেকে সর্বোচ্চ ১০ ডলার ম্যানুফ্যাকচারিং খরচ হয়। অধিক জনসংখ্যা এবং সুলভ শ্রমশক্তি থাকার কারণে বর্তমানে বড় বড় কোম্পানিগুলো ভারতেও তাদের স্মার্টফোন তৈরি করার প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করছে।


একটি স্মার্টফোন ফ্যাক্টরি;

স্মার্টফোনের দাম দিনদিন কেন বেড়ে চলেছে?
স্মার্টফোনগুলোর যে আকাশচুম্বী দাম, এর পেছনে কারণ কী? একটু ভেবে দেখলেই আমরা এর কারণটি ধরতে পারবো। স্মার্টফোনগুলোর দাম বৃদ্ধির পেছনে মূল কারণ আমরা নিজেরাই। মানুষের চাহিদার শেষ নেই। বর্তমানের একটি ৩০০ ডলার দামের স্মার্টফোন সবধরনের কাজই সম্পন্ন করতে সক্ষম। মধ্যম দামের প্রায় সকল স্মার্টফোনই যেকোনো অ্যাপস, গেমস, মাল্টিমিডিয়া ইত্যাদির কাজ দ্রুত করতে সক্ষম। তবুও মানুষ সবসময় চায় লেটেস্ট আইটেম। অনেকে চায় তাদের কাছে অন্য সকলের চেয়ে সবচেয়ে ভালো ফোনটি থাকুক।

অনেকেই আছে যারা টাকা নিয়ে প্রস্তুত থাকে বিশেষ কোম্পানির লেটেস্ট স্মার্টফোন বের হওয়া মাত্র তা লুফে নেওয়ার জন্য। যেখানে ক্রেতারা নতুন ফোন যেকোনো দামে নিতে প্রস্তুত থাকে সেখানে কোম্পানিগুলোর বেশি দামে ফোন বের করতে কোনো বাধা থাকে না। তারা তাদের এই বেশি দামী ফোনগুলো দিয়েই সর্বোচ্চ লাভ করে থাকে। অন্যান্য আয়ের মানুষদের জন্যও তাদের রয়েছে বিভিন্ন মানের ও দামের স্মার্টফোন। তাই তারা এভাবে প্রায় সকল শ্রেণীর মানুষদেরকেই ধরে রাখার চেষ্টা করে।


অ্যাপল স্টোরের সামনে লম্বা লাইন;

তাদের মূল লক্ষ্য থাকে সমাজের অভিজাত শ্রেণীর উপরেই। মানুষ চাইছে আগের তুলনায় দ্রুত গতির প্রসেসর, উন্নত এবং আলাদা ফিচার, উচ্চ রেজুলেশনের ডিসপ্লে, অতিরিক্ত মেমোরি ও র‍্যাম এবং উন্নত ক্যামেরা। এসব ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলোও মানুষের চাহিদা যথাসাধ্য পূরণ করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। এই মান উন্নয়নে পূর্বের তুলনায় কোম্পানিগুলোর একটু বেশি খরচ হচ্ছে যদিও তবুও এগুলোকে যুগান্তকারী কোনো উন্নয়ন বলা যায় না। তবুও ফোনগুলোর পেছনে তাদের এই অতিরিক্ত খরচের তুলনায় তারা অনেক বেশিই দাম রাখছে।


যখন নতুন আইফোন বের হয় তখন আসক্ত ক্রেতার অবস্থা!

অ্যাপলের কথা বলা যেতে পারে এক্ষেত্রে। অ্যাপলের রয়েছে বিরাট ফ্যানবেজ। নতুন আইফোন বের হওয়া মাত্রই বিশাল লাইন ধরে তা কিনতে প্রস্তুত থাকে তারা। এক্ষেত্রে অ্যাপল তাদের স্মার্টফোনের দাম বেশি হাঁকালেও তারা তা-ই কিনবে। কারণ তারা অ্যাপলের স্মার্টফোনের গুণগত মান, সফটওয়্যার সাপোর্ট এবং বিক্রয়োত্তর সেবা সম্পর্কে সবসময় নিশ্চিন্ত। তবে অনেক কোম্পানি রয়েছে, বিশেষ করে কিছু চীনা স্মার্টফোন কোম্পানি; স্বল্পমূল্যে বেশ ভালোমানের স্মার্টফোন প্রদান করছে। যে ফোনগুলো এই নামীদামী কোম্পানিগুলোর ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোনের মতোই পারফরমেন্স এবং সুবিধা প্রদান করে থাকছে। তাহলে তারা কীভাবে দাম কম রাখছে? সে বিষয়ে পরবর্তীতে খুঁটিনাটি আলোচনা করা হবে।

Web-link: https://roar.media/bangla/main/tech/actual-cost-of-manufacturing-a-smartphone/

2
By Sajal Paik
আমরা আমাদের দৈনন্দিন কাজে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন সফটওয়্যার বা প্রোগ্রাম ব্যবহার করে থাকি। পিসিতে হোক বা স্মার্টফোনে, বিভিন্ন কাজ, টাস্ক বা কোনো আসাইনমেন্ট সম্পন্ন করতে এই সফটওয়্যার বা প্রোগ্রামগুলোর কোনো বিকল্প নেই।

এই প্রোগ্রামগুলো ব্যবহার করার জন্য আমরা অনেকক্ষেত্রেই শঠতা বা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে থাকি। আমরা বিভিন্ন সফটওয়্যারের পাইরেসি কপি ব্যবহার করি। এতে একদিকে যেমন সফটওয়্যার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানটি লোকসান গুনছে, আবার ঠিক তেমনি আমরা বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছি। অথচ এই পেইড প্রোগ্রামগুলোর পাইরেসি কপি অথবা ক্র্যাকড কপি ব্যবহার না করে খুব সহজেই আমরা বিনামূল্যে এসব প্রোগ্রামের বিকল্প ব্যবহার করতে পারি। আজকের লেখায় থাকছে বিনামূল্যের প্রয়োজনীয় সব প্রযুক্তি প্রোগ্রাম সম্ভার।


আসুন, আমরা সফটওয়্যার পাইরেসিকে 'না' বলি;
ফ্রি অনলাইন স্টোরেজ
স্মার্টফোন, ট্যাব কিংবা ল্যাপটপে অফলাইন স্টোরেজের পাশাপাশি অনলাইন স্টোরেজ আজকাল বেশ জনপ্রিয়। উন্নত দেশগুলোতে বেশ আগে থেকে ক্লাউড স্টোরেজ ব্যবস্থা ব্যবহৃত হয়ে আসলেও বর্তমানে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অনেকেই অনলাইন বা ক্লাউড স্টোরেজ ব্যবহার করছেন। ক্লাউড স্টোরেজের অন্যতম প্রধান সুবিধা হচ্ছে, এই অনলাইন স্টোরেজে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল, ডকুমেন্ট ইত্যাদি জমা করে রাখলে পরবর্তীতে খুব সহজে পৃথিবীর যেকোনো কম্পিউটার অথবা স্মার্টফোন থেকে ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করে এই ফাইল বা ডকুমেন্টগুলো ব্যবহার করা যায়।

আপনি যদি গুগল ব্যবহারকারী হয়ে থাকেন তবে গুগল ড্রাইভ অনলাইন স্টোরেজ হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। গুগলের আরেকটি সার্ভিস ড্রপবক্সও বিকল্প একটি ক্লাউড স্টোরেজ ব্যবস্থা হতে পারে। ফ্রি ব্যবহারকারী হিসেবে গুগল ড্রাইভ ১৫ গিগাবাইট এবং ড্রপবক্স ২ গিগাবাইট ক্লাউড স্টোরেজ সুবিধা দিয়ে থাকে।


গুগল ড্রাইভ হতে পারে কার্যকরী অনলাইন স্টোরেজ;
অ্যাপল ব্যবহারকারীরা আইক্লাউডে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ৫ গিগাবাইট পরিমাণ তথ্য এবং ফাইল জমা করে রাখতে পারেন। এছাড়া, কেউ অ্যামাজন প্রাইম সদস্য হলে ৫ গিগাবাইট ক্লাউড স্টোরেজ এবং সীমাহীন ফটো স্টোরেজ সুবিধা পেতে পারেন।

ফ্রি অফিস সফটওয়্যার
মাইক্রোসফট অফিস পৃথিবীর সবথেকে জনপ্রিয় অফিস সফটওয়্যার হলেও প্রোগ্রামটি কিন্তু ফ্রি নয়। আমরা বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় এই প্রোগ্রাম ব্যবহার করে থাকলেও কেউ চাইলে জনপ্রিয় এই সেবাটির বিকল্প ব্যবহার করতে পারেন, একদম বিনামূল্যেই।

LibreOffice মাইক্রোসফট অফিসের অন্যতম বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। প্রোগ্রামটি সম্পূর্ণ ফ্রি এবং উন্মুক্ত। মাইক্রোসফট অফিসের যাবতীয় কাজ এই প্রোগ্রামটি দিয়ে বেশ ভালভাবেই করা সম্ভব। এছাড়া, মাইক্রোসফট অফিসের বিকল্প হিসেবে গুগলের জনপ্রিয় সেবা 'গুগল ডস' ব্যবহার করা যেতে পারে। মোবাইলবান্ধব এই প্রোগ্রামটি পিসিতেও সহজে ব্যবহার করা যায়। প্রোগ্রামটির ইন্টারফেস বেশ সহজ এবং ঝামেলাহীন।

ফ্রি ফটো এডিটিং সফটওয়্যার
'অ্যাডোবি' কোম্পানির ফটোশপসহ বেশ কিছু সফটওয়্যার ছবি সম্পাদনার জন্য পৃথিবীতে সবথেকে জনপ্রিয় হলেও অপ্রিয় সত্য এই যে, এই প্রোগ্রামগুলো কিন্তু একদমই ফ্রি নয়। সৎভাবে এই প্রোগ্রামগুলো ব্যবহার করতে চাইলে আমাদের অবশ্যই ডলার গুণতে হবে। কিন্তু ছবি সম্পাদনার জন্য এই ফটোশপের বেশ কিছু বিকল্প ভালো ফ্রি প্রোগ্রাম রয়েছে।

GIMP একটি উন্মুক্ত ছবি সম্পাদনার প্রোগ্রাম। ফটোশপের মতোই এই প্রোগ্রামটিতে ছবি সম্পাদনার জন্য প্রায় সব রকমের অপশনই রয়েছে। তাই কেউ চাইলে খুব সহজে এই প্রোগ্রামটি ডাউনলোড করে ছবি সম্পাদনার কাজ করতে পারেন। এক্ষেত্রে ছবি সম্পাদনার জন্য একদিকে যেমন কোনো অসৎ উপায় অবলম্বন করতে হবে না, আবার ঠিক তেমনি ছবি সম্পাদনার কাজগুলো আমরা সহজেই কাজ চালিয়ে নিতে পারবো।

ফ্রি অডিওবুক
উন্নত দেশগুলোতে পেপারব্যাকের বিকল্প বিসেবে অডিওবুক অত্যন্ত জনপ্রিয়। অডিওবুকের বাড়তি সুবিধা হচ্ছে, অন্য কোনো কাজ (যেমন- গাড়ি চালানো, জিম, অফিস ইত্যাদি) করার সময় খুব সহজেই অডিওবুক শোনা সম্ভব।

অডিবল এবং আইটিউন্স অত্যন্ত জনপ্রিয় দুটি অডিওবুক সেবা হলেও এই দুটি প্রোগ্রাম ফ্রিতে ব্যবহার করা আদৌ সম্ভব নয়। এই প্রোগ্রাম দুটির মাসিক কিংবা বাৎসরিক ফি বেশ চড়াই বটে! এক্ষেত্রে Overdrive নামের প্রোগ্রামটি ব্যবহার করা যেতে পারে। এই প্রোগামটির বিশেষত্ব হচ্ছে, খুব সহজে আঞ্চলিক লাইব্রেরি অথবা একাডেমিক প্রতিষ্ঠানের সাথে সংযুক্ত করা সম্ভব। প্রোগ্রামটিতে লাইব্রেরি কার্ড সংযুক্ত করার মাধ্যমে অডিওবুকের এক বিশাল সম্ভারে প্রবেশ করা সম্ভব।

এছাড়া আপনি যদি ক্লাসিক সাহিত্যে আগ্রহী হয়ে থাকেন তবে LibriVox প্রোগামটি আপনার জন্য একটি বেশ ভালো মানের ফ্রি অডিওবুক সেবা হতে পারে।

ফ্রি ইন্টারনেট স্পিড টেস্ট
আমরা প্রায়ই আমাদের বাসার ওয়াই-ফাই অথবা আমাদের প্রিয় স্মার্টফোনটিতে ইন্টারনেট স্পিড পরিমাপ করে থাকি। ব্যবহৃত ইন্টারনেট ঠিক কতটা সুস্থির, এই বিষয়টি ঠিকভাবে বোঝার জন্য এই স্পিড পরিমাপের কোন বিকল্প নেই। ইন্টারনেট স্পিড পরিমাপের জনপ্রিয় ওয়েবসাইট Speedtest.net অথবা এই কোম্পানির ‘স্পিডটেস্ট’ অ্যাপটির মাধ্যমে আমরা খুব সহজে আমাদের ব্যবহৃত ইন্টারনেটের মান যাচাই করে নিতে পারি।


স্পিড টেস্ট সাইটের মাধ্যমে ইন্টারনেট স্পিড মাপা সম্ভব;
ইন্টারনেটের মান যাচাই করার আরেকটি বেশ জনপ্রিয় সাইট হচ্ছে Fast.com। ভিডিও স্ট্রিমিং কোম্পানি নেটফ্লিক্সের মালিকানাধীন এই সাইটের মাধ্যমেও আমরা খুব সহজে ইন্টারনেটের গতি, মান, পিং ইত্যাদি যাবতীয় বিষয়গুলো যাচাই করে নিতে পারি।

নাসার ফ্রি সফটওয়্যার এবং ছবি সম্ভার
আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান নাসার এক বিশাল উন্মুক্ত সফটওয়্যার এবং ছবির সম্ভার হচ্ছে। আনন্দের বিষয় হচ্ছে, এগুলোর অধিকাংশই বিনামূল্যে যে কেউ ব্যবহার করতে পারেন।


মহাকাশ বিষয়ে নাসার যাবতীয় সাফল্যের পেছনে তাদের নির্মিত নানা এপ্লিকেশনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নাসার এযাবতকালের সামগ্রিক সাফল্যের অন্তত ৩০ ভাগ হচ্ছে তাদের বিস্ময়কর সব প্রোগ্রাম এবং এপ্লিকেশন। এছাড়া, নাসার পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে মহাকাশের বিভিন্ন বস্তু এবং গ্রহের ছবি সংবলিত একটি বিনামূল্যের আর্কাইভও রয়েছে। মহাকাশ সম্পর্কে কেউ জানতে চাইলে বা পড়াশোনা করতে চাইলে খুব সহজে এই টুলগুলো এবং ছবি সম্ভার কাজে লাগাতে পারেন।

ফ্রি সাউন্ড এডিটর
সাউন্ড এডিট করার জন্য বেশ কিছু ভালো প্রোগ্রাম রয়েছে। কিন্তু এগুলোর অধিকাংশই ব্যবহার করতে হলে আমাদের প্রোগ্রামটি কিনে নিতে হবে। এক্ষেত্রে আমরা বিনামূল্যে সাউন্ড এডিটের কাজ করতে চাইলে Audacity প্রোগ্রামটি ব্যবহার করতে পারি। উন্মুক্ত এই প্রোগ্রামটি বেশ ভালো মানের এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ের যাবতীয় প্রয়োজন মেটানোর জন্য এই প্রোগ্রামটিতে প্রয়োজনীয় সব ধরণের ফিচারই রয়েছে।

ফ্রি এই সফটওয়্যারটি দিয়ে সাউন্ড রেকর্ডিং, ব্যাকগ্রাউন্ড নয়েজ দূরীকরণসহ ফ্রি পডকাস্ট সুবিধাও পাওয়া সম্ভব।

ফ্রি ফায়ারওয়াল
এন্টিভাইরাস অথবা ম্যালওয়্যার নিরাপত্তা প্রোগ্রামের পাশাপাশি আমাদের ব্যবহৃত কম্পিউটারকে হ্যাকার বা সাইবার আক্রমণের হাত থেকে বাঁচাতে ফায়ারওয়াল প্রোগ্রামগুলোর ভূমিকা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। যদিও উইন্ডোস পিসিগুলোতে নিজস্ব ফায়ারওয়াল প্রোগ্রাম দেয়া থাকে, এক্ষেত্রে কিন্তু বেশ কিছু বেশ ভালো মানের সফটওয়্যার রয়েছে।

TinyWall প্রোগ্রামটি বেশ ভালো মানের একটি ফায়ারওয়াল প্রোগ্রাম। বিনামূল্যের এই প্রোগ্রামটি পুরোপুরি উন্মুক্ত, হালকা এবং কম্পিউটারকে একদমই স্লো করে না। প্রোগ্রামটির অন্যতম বিশেষত্ব হচ্ছে, প্রোগ্রামটি কোনো ধরনের বিরক্তিকর ম্যাসেজ প্রদর্শন না করেই নিজে থেকে যাবতীয় কাজ করে থাকে।

ফ্রি ফায়ারওয়াল প্রোগ্রাম হিসেবে ZoneAlarm-ও বেশ কার্যকরী। বিনামূল্যের প্রোগ্রাম হিসেবে এটিও যে কেউ ব্যবহার করতে পারেন।

ফ্রি ভিডিও এডিটর
ভিডিও সম্পাদনার জন্য 'অ্যাডোবি' কোম্পানির বেশ কিছু প্রোগ্রাম অত্যন্ত জনপ্রিয় হলেও এগুলো মূলত ফ্রি নয়। তবে ব্যক্তিগত পর্যায়ে ভিডিও সম্পাদনা করার জন্য বেশ কিছু বিনামূল্যের প্রোগ্রাম রয়েছে।

এক্ষেত্রে Lightworks, VSDC নামের বিনামূল্যের সফটওয়্যারগুলো দিয়ে ভালো মানের ভিডিও সম্পাদনা করা সম্ভব। উল্লেখ্য,  The Wolf of Wall Street’ এর মতো নামকরা চলচিত্র সম্পাদনার কাজে Lightworks ব্যবহার করা হয়েছিল।


লাইট ওয়ার্কস;
ঠিক এভাবে থ্রিডি ডিজাইনিং করার জন্য পেইড প্রোগ্রাম AutoCAD এর পরিবর্তে বিনামূল্যের প্রোগ্রাম SketchUp Make বা EasyHome Homestyler ব্যবহার করা যেতে পারে। বিনামূল্যের এই প্রোগ্রাম দুটি দিয়ে ব্যক্তিগত যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব।

ফ্রি গ্রামার চেক এবং লেখার প্রোগ্রাম
লেখার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই মাইক্রোসফট ওয়ার্ড ব্যবহার করে থাকি। প্রোগ্রামটি অত্যন্ত জনপ্রিয় হলেও ফ্রি নয়। এক্ষেত্রে ইংরেজি লেখার জন্য আমরা অত্যন্ত জনপ্রিয় ফ্রি প্রোগ্রাম Grammarly ব্যবহার করতে পারি। প্রোগ্রামটির সুবিধা হচ্ছে, এর মাধ্যমে গ্রামারের ভুলগুলো খুব সহজে শুধরে নেওয়া সম্ভব।


ইংরেজি লেখার ক্ষেত্রে Hemingway Editor প্রোগ্রামটিও বেশ জনপ্রিয়। দীর্ঘ বাক্য, কঠিন শব্দগুলো এই প্রোগ্রামটি ব্যবহার করে সরলীকরণ করা সম্ভব। এছাড়া, খুব সাধারণ ইন্টারফেসে লেখার জন্য FocusWriter প্রোগ্রামটি ব্যবহার করা যেতে পারে। বিরক্তিহীন লেখার জন্য প্রোগ্রামটি পরিচিত।

ফ্রি অস্থায়ী ইমেইল সার্ভিস
অনেক সময়েই আমাদের ঠিক একবারের জন্য কোনো ইমেইল আড্রেস ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়ে। অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ এসব ক্ষেত্রে আমরা আমাদের স্থায়ী ইমেইলটি ব্যবহার না করে ফ্রি অস্থায়ী ইমেইল সার্ভিস ব্যবহার করতে পারি। এক্ষেত্রে অস্থায়ী ইমেইল ব্যবস্থা হিসেবে Mailinator অথবা Maildrop ব্যবহার করা যেতে পারে।

Web-link: https://roar.media/bangla/main/tech/some-free-tech-upgrade/

3
By Soumik Nafis Sadeek
পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো প্রকৌশলবিদ্যা হচ্ছে পুরকৌশল বিভাগ বা সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং। আমরা যে বসবাসের জন্য এবং নিজস্ব কাজের জন্য উঁচু উঁচু দালান নির্মাণ করি এবং চলাচলের জন্য ব্রিজ ব্যবহার করি সেগুলো তৈরি একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারের কাজ। মূলত Structural Engineer এসব কাজের জন্য নিয়োজিত থাকে।

যে রাস্তা দিয়ে আমরা যাতায়াত করি সেই রাস্তা নির্মাণ, রাস্তার উপর দিয়ে বিভিন্ন ধরনের গাড়ি চলাচলের নিরাপত্তা থেকে শুরু করে তাদের গতিবিদ্যা নিয়ে কাজ করা হয় এই প্রকৌশল বিভাগে, যা Transportation Engineering এর মধ্যে পড়ে। মাটি বা সয়েল নিয়ে কাজ করা হয় এই বিভাগে। উঁচু উঁচু যে দালান নির্মাণ করা হয় সেগুলোর ভিত্তি থাকে মাটির নিচে। এই ভিত্তি হতে হয় মজবুত এবং ভারবাহী। এই ভিত্তি এমনভাবে তৈরি করতে হয় যেন ভূমিকম্প হলেও দালান মাটিতে বসে না যায় বা হেলে না পড়ে। এ বিষয় পড়ানো হয় Geotechinal Engineering এর ভিতর।

পরিবেশ প্রকৌশল (Environmental Engineering) নিয়ে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এ খুবই গুরুত্বপূর্ণ কাজ হয়। এই বিষয়টিতে যেকোনো পরিবেশ দূষণের বিরুদ্ধে গবেষণা করা হয়। ঘরে ঘরে মানুষ যেন বিশুদ্ধ পানি পেতে পারে সেজন্য যে যে বিষয় পড়ানো উচিত তার সব কিছু পরিবেশবিদ্যার মধ্যে পড়ে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে, যার নাম পানি সম্পদ প্রকৌশল বা Water Resource Engineering। বাঁধ তৈরি, বন্যা এবং খরা নিয়ন্ত্রণ, বিভিন্ন ঋতুতে ফসলের জন্য প্রয়োজনীয় পানি বণ্টন ইত্যাদি বিষয়বস্তু পড়ানো হয় এই বিভাগে।


অনেক পুরনো প্রকৌশলবিদ্যা হলেও ধীরে ধীরে দেখা যাচ্ছে এই বিষয়টি জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের কিছু বিশ্ববিদ্যালয় এই বিভাগ বন্ধ পর্যন্ত করে দিয়েছে। তুলান বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা ইউনিয়ন কলেজ এরকম দুটি প্রতিষ্ঠান। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের নাম দেখলে দেখা যাবে তারা এই নামের সঙ্গে নতুন বিষয়ের শব্দ যোগ করে দিয়েছে। বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয় এই বিভাগের নাম রাখছে Civil and Environmental Engineering। কিছু বিশ্ববিদ্যালয় এই নামের সাথে Building, Geodetic, Infrastructural, Transportation ইত্যাদি শব্দ যোগ করছে। এরকম করার মূল কারণ হচ্ছে শিক্ষার্থীদেরকে আকৃষ্ট করা এবং তাদেরকে এককথায় বোঝানো যে আসলে এই বিষয়ে পড়াশোনা করলে পরবর্তীতে কী কাজ করা যাবে।

সিভিল কথাটি ঐতিহ্যের কারণে আমাদেরকে রাখতেই হবে। কিন্তু বিষয়টিকে আরও আধুনিক করার জন্য অন্য নাম ব্যবহার করা অবশ্যই যুক্তিযুক্ত। হাই স্কুল বা কলেজ পড়ুয়া কোনো শিক্ষার্থীকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বলতে তারা কী বোঝে, তখন দেখা যাবে যে হাতেগোনা কয়েকজন শিক্ষার্থী এই বিষয় সম্পর্কে বলতে পারছে। কিন্তু সাথে যদি Environmental Engineering বলা হয়, তাহলে আগের তুলনায় বেশি শিক্ষার্থী পাওয়া যাবে যারা এই বিষয় সম্পর্কে একটু হলেও জানে।

বর্তমানে মিডিয়ার বদৌলতে 'অবকাঠামো' কথাটি সবার মুখে মুখে চলে এসেছে। এই শব্দের ইংরেজি হচ্ছে Infrastructure। পদ্মা কিংবা যমুনা ব্রিজ, বিভিন্ন ফ্লাইওভার, ইউ-লুপ ইত্যাদি তৈরি হওয়ার কারণে 'অবকাঠামো' শব্দটি গুরুত্ব পেয়েছে। পুরকৌশল বিভাগের নামের সাথে যদি Infrastructure শব্দটি যোগ করা যায় তাহলে বিষয়টির গুরুত্ব আরও বেশি করে জনগণের কাছে প্রকাশ পাবে।

তবে পুনরায় জনপ্রিয়তা লাভের জন্য সিভিলের সঙ্গে অন্যান্য প্রকৌশলবিদ্যাকে যোগ করতে হবে। এরকমটি করলে দেখা যাবে, একবিংশ শতাব্দীতে এই বিষয়ে যারা পড়াশোনা করছে এবং গবেষণা করছে, তাদের জন্য প্রচুর কাজ লুকিয়ে আছে। সিভিলের সাথে প্রযুক্তির একটি মিশ্রণ ঘটিয়ে চমৎকার সব কাজ করার সুযোগ আছে এই বিষয়ে। আজ সেই বিষয়গুলো নিয়েই আলোচনা করা হবে।


সিভিলের সাথে প্রযুক্তির একটি মিশ্রণ ঘটিয়ে চমৎকার সব কাজ করার সুযোগ আছে এই বিষয়ে;
Sustainability শব্দটির কথা প্রায়ই শোনা যায়। এ শব্দটির টেকনিক্যাল অর্থ হচ্ছে পৃথিবীতে যতটুকু সম্পদ আছে সেগুলো সুষ্ঠুভাবে ব্যবহার করে, পরিবেশের উপর কোনো প্রভাব না ফেলে, পরিবেশবান্ধব রুপে সেগুলো ব্যবহার করা। অবকাঠামো নির্মাণের বেলাতেও এই বিষয়টি আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। কারণ এসব কাঠামো তৈরি করার জন্য যে কাঁচামাল আমাদের প্রয়োজন সেগুলো কিন্তু অপরিসীম নয়। যেসব অবকাঠামোর অনেক বছর বয়স হয়ে গিয়েছে সেসব কাঠামোকে আবার সংস্কার করার জন্য প্রচুর অর্থ এবং প্রাকৃতিক সম্পদের প্রয়োজন। পরিবেশবান্ধব উপায়ে এসব কাঠামো তৈরি করার জন্য এখন নতুন প্রযুক্তির প্রয়োজন। যেমন- দালানকোঠার জন্য গ্রিন ডিজাইন তৈরি করা।

অবকাঠামো নির্মাণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক বিষয় হচ্ছে এর নির্মাণ খরচ। একবিংশ শতাব্দীর প্রকৌশলীদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হচ্ছে কীভাবে অবকাঠামোর বাইরের সৌন্দর্য বজায় রেখে জটিল জটিল ডিজাইন কম খরচে করা যায় সেটার উপায় বের করা। শুধু খরচ কম রাখলেই হবে না, কম খরচে ভালো কাঁচামাল ব্যবহার করে অনেক বেশি স্থায়িত্ব নিয়ে এই কাঠামো তৈরি করতে হবে। এই খরচের ভিতর কিন্তু আবার কাঠামো নির্মাণ করার পরবর্তী রক্ষণাবেক্ষণ এবং সংস্কার- এই দুটোর জন্য যে খরচ হবে সেটাও ধরতে হবে। বিষয়টি একটু জটিল মনে হতে পারে। কিন্তু যেসব কাঠামোর ডিজাইন এই পদ্ধতি অনুসরণ করবে সেসব  অবকাঠামো Sustainable শব্দটির প্রতিনিধিত্ব করবে। এটা নিয়ে আরও বেশি গবেষণার প্রয়োজন। ইতোমধ্যে এ ধরনের কাজের জন্য গাণিতিক একটি উপায় বের করা হয়েছে, যাকে বলা হচ্ছে “Life-cycle Cost Optimization”।


Intelligent Freeway System আগে ভাগে দুর্ঘটনার সম্ভাব্যতা যাচাই করতে পারবে;
সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এর প্রত্যেক প্রকৌশলীকে নিজ বিষয়ের বাইরে গিয়ে চিন্তা করতে হবে। অন্যান্য বিভাগ কিংবা বিষয়াদির সাথে সিভিলের বিভিন্ন কাজকে যুক্ত করার চেষ্টা করতে হবে। নতুন নতুন প্রযুক্তিকে আলিঙ্গন করতে হবে। বিখ্যাত সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হোজ্জাত আদেলি একবার বলেছিলেন, পুরকৌশল বিভাগে অনেক ধরনের জটিল জটিল বিষয় আছে যেগুলোর সমাধান করার জন্য অন্য বিষয়ের সাহায্য নেয়া জরুরি।

সিভিলে যা যা পড়ানো হয় সেগুলোর সাথে যদি অন্যান্য প্রকৌশল বিভাগে বিষয়বস্তু এক করা যায়, তাহলে যেকোনো কঠিন সমস্যা সহজেই সমাধান করা সম্ভব। প্রোগ্রামিংয়ের কথা আমরা ধরে নিতে পারি। এখন প্রোগ্রামিং করে সিভিলের জন্য বড় এবং দামি সফটওয়ার তৈরি করা হচ্ছে। যেমন- Autocad, Civil 3D, Revit, StaadPro, Etabs ইত্যাদি। আবার অনেকে নিজেদের মতো করে প্রোগ্রামিং শিখে বিভিন্ন ডিজাইন নিমিষেই করে ফেলতে পারছে। অবকাঠামোর কোথায় কতটুকু ফাটল ধরেছে সেগুলোImage Processing এর সাহায্যে বের করা যায়। এমনকি আগে থেকে ভবিষ্যদ্বাণীও করা যায় যে কোথায় কোথায় ফাটল ধরতে পারে এবং কতটুকু ধরতে পারে।

আর্কিটেকচার, মেকানিক্যাল, ইলেকট্রিক্যাল, কম্পিউটার ইত্যাদি প্রকৌশলবিদ্যা এবং গণিত, পদার্থবিদ্যা, অর্থনীতি, পরিসংখ্যান ইত্যাদি বিষয় এক করে সিভিলে ব্যবহার করলে এই বিভাগটিকে সময়োপযোগী এবং আরও আধুনিক করা যেতে পারে। যদিও এখন অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে পুরকৌশলের সিলেবাসে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং, অর্থনীতি, ইলেকট্রিক্যালের দুই বা তিন ক্রেডিটের কোর্স রাখা হয়, কিন্তু সেগুলো কতটুকু গুরুত্ব দিয়ে করানো হয় সেখানে একটি প্রশ্ন থেকে যায়।


ভবিষ্যতে Smart Structure তৈরি করা হবে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের তত্ত্বাবধানে;
সিভিলের কোর্সগুলোতে Intelligent System কীভাবে তৈরি করা যায় এবং এগুলো কীভাবে ব্যবহার করা যায় এসব বিষয়াদি রাখা যেতে পারে। মেশিন লার্নিং, নিউরাল নেটওয়ার্ক, প্যাটার্ন রিকগনিশন, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইত্যাদির প্রয়োগ বেড়ে যাওয়ার কারণে প্রযুক্তি নির্মাণ সহজ হয়ে যাচ্ছে। স্পিচ রেকগ্নিশন এবং ভয়েস রিকগনিশন দিন দিন নিখুঁত হচ্ছে। অনেক কোম্পানি এগুলো ব্যবহার করছে তাদের গাড়ির জন্য স্মার্ট ব্রেক তৈরি করতে। এই স্মার্ট ব্রেক নিয়ে Transportation Engineering- এ পড়ানো যেতে পারে এবং এর নিরাপত্তা নিয়ে গবেষণা করা যেতে পারে।

এখন Smart City তৈরির দিকে সবাই জোর দিচ্ছে যেটা হবে একাধারে সবুজ, পরিবেশবান্ধব, উন্নত প্রযুক্তি সম্পন্ন এবং এসব শহরে Smart Intelligent Freeway System থাকবে। এসব রাস্তার নিচে নিচে আধুনিক ডিটেক্টর থাকবে এবং এসব ডিটেক্টরের সাথে রাস্তার উপর চলাচল করা গাড়ির একটি সংযোগ থাকবে। গাড়ি চলাচলের ডাটা নিয়ে সেটার উপর গাণিতিক বিশ্লেষণ করে কোথায় কী ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে সেগুলোর সংকেত ৩০-৬০ সেকেন্ডের মধ্যে বুঝিয়ে দিতে হবে। বর্তমানে উন্নত দেশগুলোর ফ্রিওয়েতে ডিটেক্টর লাগানো থাকে। সেখান থেকে ডাটা দিয়ে আগেভাগে কোনো দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাব্যতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং জাপানে কাজ হচ্ছে, যাকে বলা হয়ে থাকে Real-time Crash Prediction Model।


সিভিলের কোর্সগুলোতে Intelligent System কীভাবে তৈরি করা যায় এবং এগুলো কীভাবে ব্যবহার করা যায় এসব বিষয়াদি রাখা যেতে পারে;
উপরে যে যে বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হলো এসব বিষয় নিয়ে এখন আধুনিক বিশ্বে কাজ হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলো এখানে পিছিয়ে আছে। এসব কাজ আমাদের দেশে নিয়ে আসার জন্য জনবল দরকার। এই জনবল তৈরি করার একমাত্র মাধ্যম বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে এসব পড়ানোর জন্য যোগ্য শিক্ষক দরকার এবং তাদের পড়ানোর সিলেবাসের মধ্যে এসব বিষয় আনয়ন জরুরি। একবিংশ শতাব্দীতে পুরকৌশলবিদদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে এ ধরনের নতুন প্রযুক্তি তৈরি এবং সেগুলোর প্রয়োগ।

পরবর্তী পর্বে পুরকৌশলে কী কী প্রযুক্তি এবং নতুন নতুন গাণিতিক ফর্মুলা ব্যবহার করে নতুন নতুন বিষয় আবিষ্কার করা যেতে পারে সেগুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে।

Source: https://roar.media/bangla/main/tech/vision-for-civil-and-environmental-engineering-departments-in-the-21st-century/

4
By Soumik Nafis Sadeek
গবেষণা জগতে যারা কাজ করেন তাদের কাছে জার্নাল শব্দটির মানে অন্যরকম। বিশ্ববিদ্যালয়ে টিকে থাকতে হলে একজন শিক্ষককে শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে তার নিজস্ব বিষয়ে নতুন কাজ করতে হয় এবং সে কাজের ফলাফল একই বিষয়ের অন্য গবেষকদের কাছ থেকে যাচাই করার জন্য জার্নাল বা প্রবন্ধ আকারে প্রকাশ করতে হয়।

গবেষকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে উপযুক্ত জার্নাল নির্বাচন করা। এখন অনেক ধরনের জার্নাল বের হয়েছে, যেখানে যেটা ইচ্ছা ছাপানো হয়। অনেক জার্নাল আবার অর্থ নিয়ে এরপর প্রবন্ধ ছাপায়। হাতেগোনা কয়েকটি জার্নাল, যেগুলো আসলেই ভালো, তারা প্রবন্ধ রিভিউ করতে এবং রঙ্গিন ছবিতে ছাপাতে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ নেয়। কিন্তু বেশিরভাগ বড় বড় জার্নাল সাধারণত অর্থ নেয় না। তবে একটি জার্নাল ভালো কিনা সেটা শুধুমাত্র এই বিষয় দিয়ে পরিমাপ করা যাবে না। আরও কিছু বিষয় আছে যেগুলো এখানে সরাসরি প্রভাব ফেলে। সেসব বিষয় নিয়েই এখন আলোচনা করা হবে।

বিভিন্ন বিষয়ের গবেষকদের জন্য সেই বিষয় সম্পর্কিত বড় এবং ভালো জার্নাল পাওয়া যায়। বর্তমানে যেটা সবচেয়ে বেশি দেখা হয় সেটা হচ্ছে কোনো জার্নালের ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর কত। যেসব জার্নালের ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর বেশি সেসব জার্নালকে ভালো জার্নাল বলা হয়ে থাকে। যে জার্নালের ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর যত বেশি, সেই জার্নাল তত বেশি ভালো।

ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর ব্যাপারটি বোঝা খুব সোজা। ধরি, একটি জার্নালে ২০১৫-১৬ সালে একশটি প্রবন্ধ প্রকাশ করা হয়েছে। আবার ২০১৭ সালে সেই জার্নাল থেকে গড়ে একশটি প্রবন্ধ অন্য কোনো প্রবন্ধে সাইট বা উল্লেখ করা হয়েছে (গবেষণা জগতে এরকম করাকে Referencing বলা হয়ে থাকে)। তাহলে সেই জার্নালের ২০১৭ সালের জন্য ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর হবে ১। অনেক গবেষকের ধারণা যে, ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর বেশি হলেই সেই জার্নাল ভালো হবে। এরকম মনে করার মধ্যে কোনো ভুল নেই। কারণ কোনো জার্নাল থেকে প্রকাশিত প্রবন্ধ যদি বেশি বেশি করে অন্য কোনো জার্নালে এবং অন্যান্য বিভিন্ন প্রবন্ধে সাইট করা হয়, তাহলে অবশ্যই প্রকাশিত জার্নালের গুণাগুণ নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকার কথা নয়। তবে সবসময় যে ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর দেখেই আমরা জার্নাল নির্বাচন করবো তা কিন্তু নয়। আরও কিছু বিষয় আমাদের মাথায় রাখতে হবে।

প্রতিটি জার্নালের একজন এডিটর বা সম্পাদক থাকেন। সম্পাদক শব্দটি বলতে আমাদের দেশে পত্রিকার সম্পাদককেই শুধু বোঝা হয়। তাই এই পুরো লেখায় এডিটর শব্দটি ব্যবহার করা হবে। কোনো জার্নালের এডিটরের কাজ হচ্ছে যখন কোনো গবেষণা প্রবন্ধ ছাপানোর জন্য তার জার্নালে পাঠানো হয়, তখন সেটাকে প্রথমে নিজে দেখে নেয়া যে আদৌ প্রবন্ধটি সেই জার্নালের গবেষণা পরিসরের মধ্যে পড়ে কিনা। সেটা যদি মিলে যায় তাহলে প্রবন্ধটি মূল্যায়নের জন্য রিভিউয়ার ঠিক করা, রিভিউয়ার তাদের নিজস্ব মতামত দেয়ার পর সেই মতামতের উপর নির্ভর করে প্রবন্ধটির লেখককে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়া হয়।

এই সিদ্ধান্ত কয়েকভাবে হতে পারে। হয়তো প্রবন্ধটি পুরোপুরি বাদ দিয়ে দেয়া বা রিভিউয়ারদের মতামতগুলো লেখককে পাঠিয়ে সেই অনুযায়ী আবারো প্রবন্ধ ঠিক করে পুনরায় রিভিউয়ের জন্য পাঠানো বা ছাপানোর জন্য সম্মতি দিয়ে দেয়া। পুরো ব্যাপারটি রিভিউয়ারদের মতামতের উপর নির্ভর করে। অনেক সময় এডিটর প্রবন্ধটি বিবেচনায় রেখে বড় বা ছোট সংশোধন দিয়েও মূল লেখকদের কাছে পাঠাতে পারেন।

একটি জার্নাল নির্বাচন করতে কিংবা জার্নালটির খ্যাতি ধরে রাখতে একজন এডিটরের খ্যাতি অনেক বড় প্রভাব ফেলে । অনেক সময় এমন হয় যে, এডিটর পেপার ফেলে রেখে দিয়েছেন। অনেক দিন হয়ে যাওয়ার পরও রিভিউয়ারদের কাছে পেপার পাঠাচ্ছেন না। আবার পাঠালেও রিভিউয়াররা দেরি করলে তাদেরকে তাগাদা দিয়ে পেপার নিয়ে তাদের মতামত লেখকদের কাছে পাঠাচ্ছেন না, যার ফলে একটি জার্নালে প্রবন্ধ ছাপাতে দেড় থেকে দুই বছর পর্যন্ত সময় লেগে যাচ্ছে। এরকম হলে গবেষকরা এমন জার্নালে নিজেদের গবেষণা ছাপাতে চান না। তাই এডিটরদের দায়িত্ব এখানে অনেক বেশি।

কোনো প্রবন্ধ মূল্যায়নের জন্য যে জার্নালে যত বেশি রিভিউয়ার ঠিক করা হবে, সেই জার্নাল তত বেশি ভালো। বর্তমানে বেশিরভাগ জার্নালে তিনজন রিভিউয়ারের কাছে কোনো একটি প্রবন্ধ পাঠানো হয় এবং এই তিনজনের মতামতের উপর প্রবন্ধটির গুণগত মান পরিমাপ করা হয় এবং ছাপানো হয়। অনেক জার্নাল আছে যেখানে পাঁচ থেকে দশ জনের কাছে প্রবন্ধ পাঠানো হয় এবং তাদের মতামত নেয়া হয়। এডিটরদের কাজ এমন রিভিউয়ার ঠিক করা যাতে করে তাদের কাছ থেকে সৃজনশীল মতামত পাওয়া যায় এবং পেপারটিতে আর কী করলে সেটার মান বৃদ্ধি পাবে সেরকম মতামত পাওয়া যায়। যেসব জার্নালে এরকম কঠোর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয় এরকম জায়গায় নিজেদের গবেষণাপত্র ছাপানো ভালো। এতে নিজের গবেষণাকে আরও বড় পরিসরে প্রকাশ করার সুযোগ আসে এবং রিভিউয়ারদের মতামত গ্রহণ করে ও সেই অনুযায়ী কাজ করলে প্রবন্ধের মানও বৃদ্ধি পায়।

একটি জার্নালের অনেকগুলো পদ থাকে। যেমন: জার্নালের প্রধান যে এডিটর, তিনি হচ্ছেন Editor-in-Chief। এরপর থাকেন Associate Editors, তারপর Editorial Advisory Board। কোনো জার্নাল বেছে নেয়ার আগে সেই জার্নালের এই পদগুলোতে কাদের নাম আছে সেটা দেখে নেয়া উচিত। যদি এমন সব নাম পাওয়া যায় যেটা জানা এবং এমন সব নাম আছে যারা নিজেদের গবেষণা করা বিষয়ে পরিচিত মুখ, তাহলে নিজের মধ্যে একটি আত্মবিশ্বাস আসে যে এই জার্নালটি অবশ্যই ভালো।

একটি জার্নালের বয়স কত সেটাও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একটি জার্নাল ভালোভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে কমপক্ষে ৭-১০ বছর পর্যন্ত সময় প্রয়োজন। অনেক সময় দেখা যায়, কোনো কোনো জার্নাল ৫ বছর পর আর দেখা যায় না বা বন্ধ হয়ে যায়। নেচার বা সায়েন্সের মতো জার্নালের বয়স একশো বছরের উপরে। নিজ নিজ বিষয়ে এমন অনেক জার্নাল পাওয়া যায় যাদের বয়স বিশ বছর বা তার থেকেও বেশি হয়ে থাকে। হয়তো এসব জার্নালের ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর কম হতে পারে, কিন্তু দেখা যাবে প্রচুর গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রবন্ধ এসব জার্নালে প্রকাশিত হচ্ছে।

সাইটেশন ইনডেক্স আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যেটার মধ্যে পূর্বে বর্ণিত ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর পড়ে। কিন্তু এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নয় এবং এটাকে চূড়ান্ত মাপকাঠি ধরা যাবে না। কারণ কোনো কোনো বিজ্ঞানী আছেন যারা নিজেদের সময় থেকে অনেক বেশি এগিয়ে থাকেন। তাদের প্রবর্তিত কোনো বৈজ্ঞানিক ধারণা হয়তো অনেকে বুঝতেই পারছেন না। তখন দেখা যায় তাদের গবেষণা প্রবন্ধের সাইটেশন কম হচ্ছে, অথচ গবেষণাটি গুরুত্বপূর্ণ (যেমন: গ্যলিলিও)।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে বছরে একটি জার্নালের প্রকাশনা সংখ্যা। ভালো জার্নালগুলোর প্রকাশনা খুব দ্রুত হয়। এর একটি অন্যতম কারণ হচ্ছে সেই জার্নালগুলোর পাঠক এবং লেখক সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। আবার গবেষকদের আস্থা সেই জার্নালের উপর অনেক বেশি থাকে বিধায় প্রচুর পরিমাণে গবেষণা প্রবন্ধ সেখানে ছাপানোর জন্য পাঠানো হয়। এরকম জার্নালে ছাপানোর জন্য পাঠালে অনেক সময় নিজের গবেষণা দ্রুত প্রকাশ করা যায়।

সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে জার্নালের পাবলিশার। যদিও ভালো প্রবন্ধ ছাপানোর জন্য পাবলিশারদের প্রভাব অনেক কম। কিন্তু ভালো পাবলিশাররা ব্যবসার দিকটা খুব ভালোভাবে পরিচালনা করতে পারে বিধায় জার্নালের ছাপানোর গুণাগুণ অনেক বৃদ্ধি পায় এবং উন্নত হয়।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, একটি ভালো গবেষণা প্রকাশ করার জন্য এবং নিজের গবেষণার মূল্য অন্যদের কাছে পৌঁছানোর জন্য ভালো জার্নালে প্রকাশ করার মধ্যে সুবিধা আছে। একদিক দিয়ে যেমন অনেক বেশি পাঠকের কাছে থেকে মতামত পাওয়া যায় এবং কঠোর পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যে দিয়ে গিয়ে প্রবন্ধের গুণ বৃদ্ধি পায়, ঠিক তেমনই নিজের কাছে আত্মতুষ্টি আসে যে, একটি ভালো, বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ জার্নালে নিজের গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ পেয়েছে।         

Source: https://roar.media/bangla/main/science/how-can-we-evaluate-a-research-journal-for-publications/

5
Science and Information / Open Source Deep Learning Curriculum
« on: June 21, 2018, 11:34:16 PM »
Deep learning is one the most top trending subject in current research field. A lot of request i receive in my social media account regarding  "How to start deep learning in concept of Open Source". This is one the finest resource I've found on internet to share with all of AI seekers. Several machine learning and fundamental mathematics has been proposed here to learn. Please read full article and let me know if you need any further help regarding deep learning research.
Read: https://www.deeplearningweekly.com/blog/open-source-deep-learning-curriculum

6
Science and Information / Future iOS Access Restrictions
« on: June 21, 2018, 11:27:31 PM »
There's a widespread belief that USB Restricted Mode targets law enforcement agencies, which use passcode cracking tools -- such as those from Cellebrite and GrayShift -- to get around iPhone security.
Please read more details: https://www.technewsworld.com/story/Upcoming-iOS-Access-Restrictions-Could-Stymie-Law-Enforcement-85396.html

7
Data Science is future of Artificial Intelligence,
The more data we process the more we can predict !
read more: https://hackernoon.com/a-gentle-introduction-to-data-science-1d8193a3cfcb

8
Teaching & Research Forum / AI in new dimension
« on: May 16, 2018, 02:42:23 PM »
Dear All,
AI is becoming more and more powerful day by day.
See the reflection in carnegie mellon University.
We should start thinking about it asap.

More details: https://thenextweb.com/artificial-intelligence/2018/05/15/carnegie-mellon-becomes-first-us-university-to-offer-undergraduate-degree-in-ai/

9
Science Discussion Forum / Admission Counselor (Robot) !
« on: May 11, 2018, 12:52:21 AM »
I was planning to propose for implementing an interactive robot as Admission counselor. The Machine will help the guardians and other prospective students by providing necessary information , whom visit DIU admission office for several reasons. It will be the first ever agent who will serve as admission counselor. It will make a history in Bangladesh. 
It will draw more attention among prospective students.
I was planning to use deep neural network and other necessary tools for this project. We also have few robotics club, i want to draw all their attention in this project.
Initially we can try for research purpose and then for real life use.
Please provide your feedback and any other idea we can add.
Thanks for your time.

10
Web based Developer Forum / Speech Recognition using Sphinx !
« on: May 10, 2018, 02:14:24 AM »
Sphinx is one of the most widely used library file for speech recognition system.
A speech recognition tools may develop using Sphinx library as well in different programming language.
It supports, C++, java and python as well.
For java , it is being called CMUSphinx, in python it is being called  just sphinx.
I'm sharing some resources regarding speech recognition tools development.

resources:
http://www.sphinx-doc.org/en/1.5/tutorial.html
https://cmusphinx.github.io/wiki/tutorialsphinx4
https://pythonhosted.org/an_example_pypi_project/sphinx.html

11
Java Forum / Top Java libraries for java developers !
« on: May 10, 2018, 02:03:01 AM »
Java is one of top programming language in the world. Currently it is trending in top 3 (Ranking may vary based on several research resorts).
As java have 4240 different classes and more than 217 packages in Java 8. Now, It became very much important to take a note about the most widely used libraries, for the betterment of self study as well coding. 
Apart from java standard libraries, JHipster , Maven, Apache Commons, Guava and Hibernate-ORM are more widely used libraries for java developers.

More resources and/or references are given below.
Happy Coding !

https://jaxenter.com/top-10-java-libraries-137587.html
https://www.tiobe.com/tiobe-index
https://www.quora.com/How-many-packages-are-in-Java

Pages: [1]