Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Topics - nafees_research

Pages: [1] 2 3 ... 13
1
২০১৮ সালের প্রযুক্তি ও বিশ্ববাজার
[/b]

এ বছর প্রযুক্তি বাজারে পতনের চেয়ে উত্থানই বেশি দেখা গেছে। মোবাইল ফোন, বিভিন্ন অ্যাপ, অফিস ও হোম গ্যাজেট থেকে শুরু করে ছোট থেকে ছোট প্রযুক্তিপণ্য বাজারে পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে আমাদের জীবনযাত্রায় কতটা পরিবর্তন এনেছে এই পণ্যগুলোর নামেই বোঝা যায়। তাছাড়া প্রযুক্তিখাতে আমরা কি কি পরিবর্তন দেখেছি তাও বছর শেষে আলোচনায় উঠে এসেছে। বিশ্ববিখ্যাত প্রযুক্তিবিষয়ক সংস্থাগুলো প্রকাশ করেছে ২০১৮ সালের প্রযুক্তি বাজারের আদ্যপান্ত।

বছরের প্রথমার্ধে

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাস প্রযুক্তিপণ্য বাজারে কিছুটা ধীর গতিতেই মুক্তি পেয়েছে। অটোম্যাটিক স্যুটকেস, স্ন্যাপচ্যাট ছিল অন্যতম ‘ট্যাকনিক্যাল রিলিজ’। এছাড়া পুরনো কয়েকটি প্রযুক্তির হালনাগাদ করা হয়েছে। সচরাচর জীবনে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে বিভিন্ন রাইড শেয়ারিং অ্যাপ। কোয়ালকমকে ১২০ কোটি ডলার জরিমানা ধার্য করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। গুগল এসিস্ট্যান্টকে মানুষের মতো স্বাভাবিক কণ্ঠ দেওয়া হয়। নাইকির সেলফ্‌-লেসিং স্মার্ট শু-এর সাথে মানুষ পরিচিত হয়েছে। চালু হয়েছে ই-কমার্স ব্যবসা। শীর্ষ ধনীর তালিকায় এক নম্বরে উঠে আসেন জেফ বেজোস। ইনস্টাগ্রামে ভাইরাল হয় এক ফরাসির পরপর দুবার চেহারা প্রতিস্থাপন করানো ছবি। উবারের সেল্‌ফ ড্রাইভিং গাড়ি প্রথমবারের মতো দুর্ঘটনায় পড়ে। কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা কেলেঙ্কারিতে ৮ দশমিক ৭ কোটি ফেসবুক ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহ করে। ফেসবুক জানায় তারা ১৫৬ কোটি স্প্যাম পোস্ট ও প্রায় ১২৭ কোটি ভুয়া অ্যাকাউন্ট সরিয়ে ফেলেছে।

বছরের দ্বিতীয়ার্ধে

প্রযুক্তি বাজারে মূল পরিবর্তন ঘটেছে পরবর্তী ছয় মাসে। এসময় ফেসবুকের নিয়মিত গ্রাহক সংখ্যা ১৪৭ কোটিতে পৌঁছেছে অন্যদিকে গ্রাহকের অভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয় গুগল প্লাসের। ইলেকট্রিক ইমপ্লান্ট ব্যবহার করে আবারও হাঁটতে শুরু করে এক মানুষ। ইউরোপ ও এশিয়ায় দুইবার হাজার কোটি ডলার জরিমানার মুখে পড়ে গুগল। চালু হয় অত্যাধুনিক প্রযুক্তির  বোয়িংয়ের তৈরি ড্রিমলাইনার ৭৮৭। নেটফ্লিক্সে যোগ করা হয় স্মার্ট ডাউনলোড ফিচার। এলজি তাদের রোল্যাবল ওলেড টিভি’র হালনাগাদ করে। বাজারে আসে স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট ৯, অ্যাপলের আইফোন টেনএস, আইফোন এক্স, এক্স-ম্যাক্স, মটোরোলার মটো জেড৩, গুগলের পিক্সেল ৩ এক্সএল, ওয়ানপ্লাসের ওয়ানপ্লাস ৬টি, হুয়াওয়ের মেট ২০।

দৃষ্টিশক্তিহীনতাকে জয় করেছে ইসাইট প্রযুক্তি। গ্রাহকরা অ্যান্ড্রয়েডের এখন পর্যন্ত সর্বশেষ সংস্করণ “অ্যান্ড্রয়েড পাই” পেয়েছে। বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়ন ডলারের মাইনফলক স্পর্শ করেছে অ্যাপল। হ্যাক্‌ড হয়েছে ফেসবুক। ২০টি গেমসহ খুদে এক গেমিং কনসোলের ঘোষণা দেয় সনি। অটোম্যাটিক ড্যান্সিং, ওয়াকিং, পুলিশ রোবট বাজারে আনা হয়েছে। মঙ্গলে অবতরণ করেছে রোবট।

রেডিও-ধাঁচের অন-ডিমান্ড অডিও নিউজফিড চালু করে গুগল। টানা চতুর্থ প্রান্তিকের মতো বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোনের বিক্রি কমতে থাকে। সৈনিকদের ফিটনেস ট্র্যাকার যন্ত্র ও স্মার্টফোন অ্যাপ ব্যবহারে কড়া নিয়ম আরোপ করে পেন্টাগন। কানাডার জেল থেকে জামিনে মুক্তি পান হুয়াওয়ের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা।

বাজার মূল্যের দিক থেকে অ্যামাজনকে হটিয়ে আবারও দ্বিতীয় অবস্থান দখল করেছে মাইক্রোসফট। অ্যাপল, অ্যালফাবেট, অ্যামাজন, মাইক্রোসফট, ফেসবুক -বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ প্রতিষ্ঠানের বাজারমূল্য হারিয়েছে মোট ৭৫০০ কোটি মার্কিন ডলার। ফেসবুক নিয়ে চাপের মুখে পড়েছে মার্ক জুকারবার্গ। ফেসবুকের মেসেঞ্জার ও ইনস্টাগ্রামে আনা হয়েছে নতুন হালনাগাদ। সরানো হয়েছে গুগল ইনবক্স, বন্ধ হয়েছে গুগল হ্যাংআউটস্‌। আমাজনের অ্যালেক্সা-নির্ভর স্পিকারে অ্যাপল মিউজিক সুবিধা দেওয়া হয়। প্রতারণা কমাতে চেহারা শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে চীন। গুগলের ভিডিও চ্যাট অ্যাপ ডুয়ো ১০০ কোটির বেশিবার ডাউনলোড করা হয়েছে।

স্মার্টফোন বিক্রিতে মার্কিন প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাপলকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে চীনা প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে; প্রথম স্থানে রয়েছে স্যামসাং। কমেছে বিটকয়েনের মূল্য। দক্ষিণ কোরিয়ায় ফাইভজি চালু করার মাধ্যমে প্রথমবারের মত পঞ্চম প্রজন্মের পথে পা দিয়েছে বিশ্ব।

Source: http://bangla.fintechbd.com/2018/12/31/%E0%A7%A8%E0%A7%A6%E0%A7%A7%E0%A7%AE-%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AF%E0%A7%81%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF-%E0%A6%93-%E0%A6%AC%E0%A6%BF/?fbclid=IwAR1CHAIkME3xaE5S8ri5gfnPLNs6TTDU2FwRZpBs52aIHVB2-tRaXyGH--g

2
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হুমকি নাকি সম্ভাবনা?

           -ড. মো. সবুর খান, চেয়ারম্যান, বোর্ড অব ট্রাস্টিজ, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি 

সবকিছু ভেঙে পড়ছে। রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ, সংস্কৃতি, সম্পর্ক, বন্ধন, বন্ধুত্ব, সংসার, সভ্যতা থেকে শুরু করে সবকিছু। চাকরির বাজারে কান পাতুন, সেখানেও ভাঙনের শব্দ শোনা যাচ্ছে। তো সবকিছু ভেঙেচুরে কি বিলীন হয়ে যাচ্ছে? না, বরং ভেঙেচুরে নতুন অবয়ব নিয়ে দাঁড়াচ্ছে। প্রযুক্তির প্রাচুর্য আর বিজ্ঞানের অনন্য উৎকর্ষ আমাদের এমন এক সময়ের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে, সেখানে প্রচলিত-পুরোনো সব ধ্যানধারণা বাতিলের খাতায় চলে যাচ্ছে। নতুন নতুন উদ্ভাবন যেন গলা বাড়িয়ে বলছে, ‘এসেছে নতুন শিশু, ছেড়ে দিতে হবে স্থান।’

একটু ভালো করে লক্ষ করলে দেখা যাবে, চাকরির বাজারেও এসেছে এক ‘নতুন শিশু’। তার নাম ‘রোবট’ এবং ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’। এই নবতর শিশুদের দুরন্তপনায় চাকরির নিয়োগ-প্রক্রিয়ায় চলছে এক প্রগাঢ় বিপ্লব। সেই বিপ্লবের সঙ্গী যদি আপনি না হতে পারেন, হে নতুন যুগের চাকরিপ্রত্যাশী যুবক, তবে আপনার পরাজয় অনিবার্য। তাই আসুন, সময় থাকতেই রোবট এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স তথা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে স্বাগত জানাই।

সারা বিশ্বে শুরু হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জয়জয়কার। বিশেষ করে, চাকরির নিয়োগ-প্রক্রিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ একটি আবশ্যিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী ম্যাগাজিন ফরচুন-এ প্রকাশিত বিশ্বের শীর্ষ ৫০০ প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মী নিয়োগ-প্রক্রিয়ায় অটোমেশন পদ্ধতির ব্যবহার শুরু করেছে বলে সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। ওই প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, চাকরিপ্রত্যাশীদের সিভি থেকে বিভিন্ন শব্দ বিশ্লেষণের মাধ্যমে সবচেয়ে উপযুক্ত প্রার্থী খুঁজে বের করছে রোবট! রোবট ছাড়াও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং মেশিন লার্নিং টুল ব্যবহারের মাধ্যমে কর্মী নিয়োগের পদ্ধতি বিশ্বের বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। যেমন সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যাকাউন্ট বিশ্লেষণের মাধ্যমে ব্যক্তির চরিত্র ও বুদ্ধিমত্তা নির্ধারণপূর্বক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপক নিয়োগ দেয় ডিপসেন্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান। সানফ্রান্সিসকো ও ভারতভিত্তিক এ প্রতিষ্ঠানটি জানাচ্ছে, তারা ব্যক্তির ফেসবুক, টুইটার, লিংকডইন ইত্যাদি সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যাকাউন্ট বিশ্লেষণের কাজে ডেটা সায়েন্স ব্যবহার করে থাকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনি কী ধরনের ছবি পোস্ট করছেন, কী লিখছেন, কী ধরনের খবর শেয়ার করছেন, আপনার প্রোফাইলের ছবিটা কেমন ইত্যাদি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে আপনার আচরণগত দক্ষতা নির্ণয় করা সম্ভব।



এ ছাড়া এখন ব্যক্তির কণ্ঠস্বর, কথা বলার ভঙ্গি, শব্দচয়ন এবং কথা বলার সময় চেহারার পরিবর্তন বিশ্লেষণ করেও চাকরি দেওয়া হচ্ছে! নিয়োগ-প্রক্রিয়ায় এ নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করে রীতিমতো ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে হায়ার ভিউ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। ব্যাপারটা সরেজমিনে দেখতে ও বুঝতে হায়ার ভিউয়ের কার্যালয় পরিদর্শনে গিয়েছিলেন জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান মুভিং আপস্ট্রিম অ্যাবাভ-এর প্রতিনিধি জেসন বেল্লিনি। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ জর্ডানে অবস্থিত কার্যালয়টি পরিদর্শনের পর জেসন বেল্লিনি ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এ লিখেছেন, প্রতিষ্ঠানটি ইউনিলিভার, হিলটনসহ বিশ্বের অর্ধশতাধিক কোম্পানির জন্য ডিজিটাল ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে কর্মী বাছাই করে দিয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে তারাও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে। তবে তাদের প্রয়োগটা ভিন্ন। অনলাইনে সাক্ষাৎকার গ্রহণের সময় সাক্ষাৎকারদাতার কণ্ঠ, উচ্চারণ, শব্দচয়ন, বাচনভঙ্গি, মুখভঙ্গি ইত্যাদি বিশ্লেষণ করে সেই ব্যক্তির আইকিউ, মেধা, দক্ষতা ও যোগ্যতা শনাক্ত করে থাকে হায়ার ভিউ। হায়ার ভিউয়ের প্রধান মনোবিজ্ঞানী নাথান মনড্রাগন বলছেন, তাঁরা এ কাজে এমন একটি সফটওয়্যার ব্যবহার করে থাকেন, যার মাধ্যমে ব্যক্তির হাসি, মুখভঙ্গি, চোখের পলক ফেলানো ইত্যাদি বিশ্লেষণ করা যায়। এর মাধ্যমে ওই ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি ও ব্যক্তিত্ব নির্ধারণ করা যায়। সাক্ষাৎকারদাতা কথা বলার সময় স্বতঃস্ফূর্তভাবে কথা বলছেন নাকি ভয় নিয়ে কথা বলছেন, সঠিক তথ্য দিচ্ছেন নাকি ভুল তথ্য দিচ্ছেন, সত্য বলছেন নাকি মিথ্যা বলছেন—এই সবকিছু তাঁর মুখভঙ্গি, কণ্ঠস্বর ও শারীরিক ভাষা দেখে শনাক্ত করে ফেলে ওই সফটওয়্যার। সফটওয়্যারটির নাম ফেস অ্যানালাইজার।

সুতরাং, চাচা-মামার বদৌলতে চাকরি পাওয়ার দিন সমাহিত। আপনি কতটা পরিশ্রমী, কতটা ত্যাগী, কতটা নিবেদিতপ্রাণ, কতটা ভদ্র, কতটা দলগত কাজে পারদর্শী—এসব ব্যাপারে সুপারিশ করার জন্য এখন আর চাচা-মামার প্রয়োজন নেই। এখন রোবটই এসব কাজে সবচেয়ে পারদর্শী। রোবট এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগের মাধ্যমে বের করে আনছে আপনার ভেতরের সব খবরাখবর। আপনি ঠিক কোন কাজের উপযুক্ত, তা নির্ধারণ করে দিচ্ছে ডেটা সায়েন্স, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, মেশিন লার্নিং টুল ইত্যাদি।

আপনি আপনার ফেসবুক, টুইটার, লিংকডইন, ইনস্টাগ্রাম ইত্যাদিতে কী পোস্ট করছেন, কী শেয়ার করছেন, কোন কোন সাইট ভিজিট করছেন, কী ধরনের গ্রুপে বা পেজে সময় কাটাচ্ছেন, কোন কোন হোটেল সার্চ করছেন, কী ধরনের ই-কমার্স সাইট ভিজিট করছেন—এই সবকিছুর অনলাইন ফুটপ্রিন্ট ভার্চ্যুয়াল জগতে থেকে যাচ্ছে। ফলে আপনার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, পছন্দ, অপছন্দ সবকিছুই অনলাইন থেকে বের করা সম্ভব। আমরা অনেকেই ভেবে থাকি যে আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যাকাউন্টে প্রাইভেসি দেওয়া আছে, সুতরাং আমি কোথায় কী দেখছি, কী ছবি ডাউনলোড করছি, কোন পোস্টে লাইক দিচ্ছি, কোন পোস্টে কমেন্ট করছি—এসব বোধ হয় কেউ দেখছে না। এ ধারণা সঠিক নয়। কারণ, আপনার সব ডেটাই উন্মুক্ত, এখানে প্রাইভেট ডেটা বলে কিছু নেই। আপনি লক্ষ করে দেখবেন যে যখনই আপনি কোনো অ্যাপ ইনস্টল করেন অথবা কম্পিউটারে কোনো সাইটে নিবন্ধন করেন, তখন শুরুতেই বলা হয় যে তাদের টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশন অনুযায়ী তারা আপনার ডেটা ব্যবহার করবে। আপনার ডেটার ওপর আপনার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। সোশ্যাল মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলো আপনার ডেটা যাচ্ছেতাইভাবে ব্যবহার করতে পারে এবং তারা তা করছেও। গত মার্চে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের তথ্য একটি রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের কাছে চলে যাওয়ার কথা স্বীকার করে এর জন্য ক্ষমা চেয়েছেন ফেসবুকের সহ–প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ। এর আগে অভিযোগ ওঠে, কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা নামের একটি প্রতিষ্ঠান ফেসবুক অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের তথ্য সংগ্রহ করে তাদের রাজনৈতিক গ্রাহকের জন্য এসব তথ্য ব্যবহার করেছে। কেমব্রিজ অ্যানালিটিকার সেই রাজনৈতিক গ্রাহক আর কেউ নন, স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প! গত মার্কিন নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে প্রচারণার জন্য কনটেন্ট তৈরিতে ওই সব তথ্য ব্যবহার করেছিল কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা।

অতএব, বলা নিষ্প্রয়োজন যে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমাদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা এখন সময়ের দাবি।

লেখক: ড. মো. সবুর খান ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান

Source of the news: https://www.prothomalo.com/opinion/article/1569775/%E0%A6%95%E0%A7%83%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%AE-%E0%A6%AC%E0%A7%81%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A6%BF%E0%A6%AE%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE-%E0%A6%B9%E0%A7%81%E0%A6%AE%E0%A6%95%E0%A6%BF-%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%BF-%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A6%BE?fbclid=IwAR00cecZcp00pegTNrgICazdbLQ_CWspcqxvWtOsDAR1ajGN7b27sxDxlcc

3
অস্ট্রেলিয়ায় ফেসবুক-গুগলের জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠনের সুপারিশ

ক্তিগত গোপনীয়তা থেকে সংবাদ প্রচার সর্বত্রই টেক জায়ান্টদের আধিপত্য বাড়ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের লাগাম টেনে ধরতে সোচ্চার বিভিন্ন দেশের আইনপ্রণেতারা। এরই ধারাবাহিকতায় এবার অস্ট্রেলিয়ার অনলাইন বিজ্ঞাপন ও সংবাদ বাজারে ফেসবুক ও গুগলের আধিপত্য নিয়ন্ত্রণে একটি নতুন নিয়ন্ত্রক সংস্থা স্থাপনের সুপারিশ এসেছে। গতকাল অস্ট্রেলিয়ান কম্পিটিশন অ্যান্ড কনজিউমার কমিশনের (এসিসিসি) প্রাথমিক প্রতিবেদনে এ সুপারিশ করা হয়। খবর রয়টার্স।

অস্ট্রেলিয়ার প্রতিযোগিতা-বিষয়ক ওয়াচডগটির এ প্রতিবেদন সবার কাছেই আগ্রহের বিষয়। মিডিয়া পুনর্গঠনের বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এক বছর আগে দেশটির সরকার এসিসিসিকে এ প্রতিবেদন তৈরির নির্দেশ দেয়। ওই সময়ে জানানো হয়, ২০১৯ সালের জুনে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়া যেতে পারে।

প্রাইভেট ইউজারদের তথ্যে পুলিশকে প্রবেশাধিকার দিতে টেক কোম্পানিগুলোকে বাধ্য করার বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ায় আইন পাসের কিছুদিন পরই এ সুপারিশের কথা জানা গেল। এ আইন প্রণয়নের আরেকটি কারণ হলো, টেক জায়ান্টদের ব্যবসায়িক আচরণ এবং তথাকথিত ফেক নিউজ নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ।

সিডনিতে এসিসিসি চেয়ারম্যান রড সিমস সাংবাদিকদের বলেন, আপনি যখন একটি নির্দিষ্ট ধাপে উঠে আসবেন এবং বাজারে আপনার প্রভাব থাকবে, যা গুগল ও ফেসবুক উভয়েরই আছে, তখন বিশেষ দায়িত্ব পালন ও অতিরিক্ত নজরদারির প্রয়োজন হয়।

তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ার ওয়েব সার্চ বাজারে গুগলের অংশীদারিত্ব ৯৪ শতাংশ। বাজারে বিরাট অংশীদারিত্ব ও বিজ্ঞাপনের ক্রম নির্ধারণে অস্বচ্ছ পদ্ধতির সুবাদে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান বিজ্ঞাপনদাতাদের ওপর তাদের ব্যবসাকে অগ্রাধিকার দেয়ার সুযোগ ও ক্ষমতা লাভ করে।

তিনি আরো বলেন, সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রেও গুগল ও ফেসবুকের প্রভাব বিশাল। প্রস্তাবিত নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাজ হবে সবসময় নজর রাখা এবং সক্রিয়ভাবে কিছু স্বচ্ছতা আনা। এসিসিসি টেক কোম্পানিগুলো কীভাবে বিজ্ঞাপন ও সংবাদের ক্রম সাজায়, তার অনুসন্ধানের ক্ষমতা নতুন নিয়ন্ত্রকের কাছে হস্তান্তরেরও প্রস্তাব দিয়েছে।

সিমস জানান, এ রিপোর্ট তৈরি করতে গিয়ে তারা অস্ট্রেলিয়ায় ভোক্তা বা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের সম্ভাব্য পাঁচটি তদন্তের বিষয়ে আগ্রহী হয়েছেন। তবে তিনি এর সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচয় প্রকাশ করেননি।

এসিসিসির সুপারিশের বিষয়ে পৃথক বিবৃতিতে ফেসবুক ও গুগল জানায়, তারা এসিসিসির সঙ্গে কাজ করা অব্যাহত রাখবে। এরই মধ্যে তারা ফেক নিউজের বিস্তার ঠেকাতে আরো পদক্ষেপ নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, বিজ্ঞাপনদাতাদের সস্তা পদ্ধতিতে বিরাট শ্রোতার কাছে পৌঁছে দেয়ার পাশাপাশি ইউজারদের বৈশ্বিক সংবাদ প্রবেশাধিকার দেয়া হচ্ছে।

অনলাইন প্রতিযোগীদের চাপের মুখে থাকা নাইন এন্টারটেইনমেন্ট এবং নিউজ করপোরেশনের স্থানীয় শাখার মতো অস্ট্রেলিয়ার প্রথাগত মিডিয়া কোম্পানিগুলো পৃথক বিবৃতিতে এসিসিসির এ সুপারিশকে স্বাগত জানিয়েছে।

সিডনির মোনাশ ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক মার্গারেট সিমন্স বলেন, এর মাধ্যমে টেক কোম্পানিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর মধ্যে আনা যাবে।

Source: http://bonikbarta.net/bangla/news/2018-12-11/179767/%E0%A6%85%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A7%9F-%E0%A6%AB%E0%A7%87%E0%A6%B8%E0%A6%AC%E0%A7%81%E0%A6%95-%E0%A6%97%E0%A7%81%E0%A6%97%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%9C%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%AF-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%95-%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A6%BE-%E0%A6%97%E0%A6%A0%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A7%81%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%B6/

4
আইটিইউর প্রতিবেদন : চলতি বছরেই বিশ্বের ৫১% মানুষ ইন্টারনেটের আওতায়
[/b][/size]

চলতি বছর শেষে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৫১ দশমিক ২ শতাংশ (৩৯০ কোটি মানুষ) ইন্টারনেট সেবার আওতায় আসবে। মোবাইল ইন্টারনেটের পরিসর বৃদ্ধি ও সাশ্রয়ী সেবার কারণে অনলাইন জনসংখ্যার এ অর্জন সম্ভব হতে যাচ্ছে। তবে বৈশ্বিক ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সিংহভাগই হবে উন্নত দেশের নাগরিক। গত শুক্রবার জাতিসংঘের ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিইউ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমনটাই বলা হয়েছে। খবর পিটিআই ও ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস।

আইটিইউর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৫ সালে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর ৫১ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট সেবার আওতায় ছিল, যা চলতি বছর শেষে ৮০ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছবে। অন্যদিকে ২০০৫ সালে বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোর ৭ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট সেবার আওতায় ছিল, যা চলতি বছর শেষে ৪৫ দশমিক ৩ শতাংশে পৌঁছবে।

স্মার্টফোন ও ট্যাবলেটের মতো ইন্টারনেট-সংশ্লিষ্ট মোবাইল ডিভাইসের কারণে অনলাইন জনসংখ্যা বাড়ছে দ্রুত। তবে উন্নত বিশ্বের দেশগুলোয় ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বাড়লেও উন্নয়নশীল ও স্বল্প উন্নত দেশগুলোয় প্রত্যাশা অনুযায়ী ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বাড়ছে না। এখনো ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বিবেচনায় উন্নত দেশগুলোর তুলনায় বহুলাংশে পিছিয়ে রয়েছে উন্নয়নশীল ও স্বল্প উন্নত দেশগুলো।

বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় ইন্টারনেট ব্যবহারে সবচেয়ে পিছিয়ে আছে আফ্রিকা মহাদেশের দেশগুলো। ২০০৫ সালে আফ্রিকা অঞ্চলের

মাত্র ২ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট সেবার আওতায় ছিল, যা চলতি বছর শেষে ২৪ দশমিক ৪ শতাংশে পৌঁছবে। আফ্রিকা অঞ্চলের দরিদ্র ও অত্যন্ত নাজুক দেশগুলোর নাগরিকরা ইন্টারনেট ব্যবহারে এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে।

আইটিইউর মহাসচিব হাউলিন ঝাউ বলেন, বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট সেবা সহজলভ্য হয়েছে। এর সুবাদে চলতি বছরই বিশ্বের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি ইন্টারনেটের আওতায় আসতে যাচ্ছে, যা বৈশ্বিক ইনফরমেশন সোসাইটির জন্য দারুণ অর্জন।

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী এখনো অনেক মানুষ ডিজিটাল অর্থনীতির সুফল থেকে বঞ্চিত রয়ে গেছে। বিশেষ করে আফ্রিকা অঞ্চলে ইন্টারনেট সেবার বাইরে থাকা মানুষদের বড় একটি অংশ নারী। এছাড়া উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বল্প শিক্ষিত, দরিদ্র ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসকারীদের মধ্যে এখনো ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ-সুবিধা পৌঁছায়নি।

২০২০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক জনসংখ্যার ৬০ শতাংশকে অনলাইনের আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে জাতিসংঘ। এক্ষেত্রে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা থেকে এখনো অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে সংস্থাটি।

আইটিইউর তথ্যমতে, চলতি বছর শেষে বৈশ্বিক ফিক্সড-ব্রডব্যান্ড সংযোগ ১১০ কোটিতে পৌঁছবে। এছাড়া ফিক্সড-টেলিফোন সংযোগ ৯৪ কোটি ২০ লাখে পৌঁছবে। ২০০৭ সালে সক্রিয় মোবাইল-ব্রডব্যান্ড সাবস্ক্রিপশন পেনিট্রেশনের হার ছিল প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ৪, যা চলতি বছর শেষে ৬৯ দশমিক ৩-এ পৌঁছবে। অন্যদিকে ২০০৭ সালে সক্রিয় মোবাইল-ব্রডব্যান্ড সাবস্ক্রিপশন ছিল ২৬ কোটি ৮০ লাখ, যা চলতি বছর ৫৩০ কোটিতে পৌঁছবে। উন্নয়নশীল দেশগুলোয় চলতি বছর শেষে মোবাইল-ব্রডব্যান্ড পেনিট্রেশনের হার প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ৬১তে পৌঁছবে।

আইটিইউর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈশ্বিক জনসংখ্যার ৯৬ শতাংশই মোবাইল সেলুলার নেটওয়ার্ক কাভারেজের মধ্যে বসবাস করছে। এছাড়া ৯০ শতাংশ মানুষ এখন থ্রিজি কিংবা তার চেয়ে দ্রুতগতির ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন। চলতি বছর শেষে বিশ্বের ৬০ শতাংশ বাসাবাড়িতে ইন্টারনেটে প্রবেশের সুবিধা থাকবে। ২০০৫ সালে বিশ্বের মাত্র ২০ শতাংশ বাসাবাড়িতে ইন্টারনেটে প্রবেশের সুবিধা ছিল।

বলা হচ্ছে, মানুষ এখন অনলাইনে যায়, এটি বলা ঠিক হবে না। চলতি বছর অসংখ্য মানুষ অনলাইনে থেকেছেন। বরং তৃতীয় ও চতুর্থ প্রজন্মের দ্রুতগতির নেটওয়ার্ক সেবা থ্রিজি ও ফোরজির সম্প্রসারণের কারণে বিশ্বব্যাপী বিপুলসংখ্যক মানুষ নতুন করে ইন্টারনেটে যুক্ত হয়েছেন।

Source: http://bonikbarta.net/bangla/news/2018-12-10/179642/%E0%A6%86%E0%A6%87%E0%A6%9F%E0%A6%BF%E0%A6%87%E0%A6%89%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%A6%E0%A6%A8-:--%E0%A6%9A%E0%A6%B2%E0%A6%A4%E0%A6%BF-%E0%A6%AC%E0%A6%9B%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%87-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A7%AB%E0%A7%A7--%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%81%E0%A6%B7-%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%9F%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%86%E0%A6%93%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A7%9F/

5
টোকিও অলিম্পিকের পদক তৈরি হবে ই-বর্জ্য থেকে

প্রাচীন গ্রীসে অলিম্পিক গেমস যখন শুরু হয়েছিল তখন বিজয়ীদের মাথায় পরিয়ে দেওয়া হতো জলপাই গাছের পাতা আর কাণ্ডে নির্মিত জয়মাল্য। এই জয়মাল্য ছিল বীরত্বের প্রতীক।

১৮৯৬ সালে যখন আধুনিক অলিম্পিক শুরু হয় তখন বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদেরকে পদক দেওয়ার নিয়ম চালু করা হয়। তবে তখন প্রতিযোগিতায় প্রথম হওয়া ব্যক্তিকে রৌপ্য আর রানার্স-আপ প্রতিযোগীকে দেওয়া হতো তামার পদক। ১৯০৪ সালের অলিম্পিক গেমস থেকে কোনো প্রতিযোগীতায় প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় হওয়া প্রতিযোগীদের যথাক্রমে স্বর্ণ, রৌপ্য এবং ব্রোঞ্জের পদক দেওয়ার নিয়ম চালু করা হয়।

বর্তমানে একেকটি অলিম্পিক স্বর্ণপদকে থাকে ৫৫০ গ্রাম রৌপ্য আর ছয় গ্রাম স্বর্ণ। রৌপ্যপদকে থেকে ৫০৯ গ্রাম রৌপ্য এবং ৪১ গ্রাম তামা দিয়ে। সর্বশেষ, ব্রোঞ্জ পদক বানানো হয়ে থাকে তামা, টিন আর দস্তা বিভিন্ন অনুপাতে মিশিয়ে।

২০২০ সালে জাপানে অনুষ্ঠিত হবে গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক এবং প্যারাঅলিম্পিক। দেশ-বিদেশের হাজারো প্রতিযোগী অংশ নেবে অলিম্পিকের এই আসরে। প্রতিটি প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের গলায় ঝুলবে বিজয়ের জয়মাল্য। আর এই লক্ষ্যে জাপানের অলিম্পিক গেমস আয়োজন কমিটিকে তৈরি করতে হবে পাঁচ হাজার স্বর্ণ, রৌপ্য আর ব্রোঞ্জ পদক।



কিন্তু এই পদকগুলো সরাসরি নিরেট স্বর্ণ থেকে বানানো হচ্ছে না। বিজয়ীদের গলায় ঝুলবে এমন প্রতিটি পদকই নির্মিত হবে ইলেকট্রনিক বর্জ্য বা ই-বর্জ্য থেকে। হিটাচি, সনি, মিতসুবিশি আর প্যানাসনিক ইত্যাদি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের আতুড়ঘর জাপানে অন্যতম প্রধান সমস্যা ই-বর্জ্য। আর ই-বর্জ্যের ব্যাপারে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে জনসাধারণের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে তাদের অপ্রয়োজনীয় ই-বর্জ্য।

ইলেকট্রনিক বর্জ্যের ভেতর, হোক সেটি মোবাইল, কম্পিউটার কিংবা ছোটোখাটো ক্যালকুলেটর, এদের প্রতিটিতেই থাকে খুব অল্প পরিমাণ স্বর্ণ, রৌপ্য, তামা, টিন, দস্তার মতো ধাতু। তৈরির সময়ই এই ধাতুগুলো থাকে ইলেকট্রনিক যন্ত্রের অভ্যন্তরে। জাপান যেহেতু খনিজ সম্পদে অপ্রতুল তাই জনগণের হাতে জমা থাকা বিপুল পরিমাণ ইলেকট্রনিক বর্জ্য সংগ্রহ করে সেখান থেকে মূল্যবান ধাতু সংগ্রহ করে অলিম্পিকের পদক বানানোর পদক্ষেপ নেয় অলিম্পিক আয়োজকরা।

পৃথিবীর প্রায় সব বড় শহরের অন্যতম প্রধান সমস্যা ইলেকট্রনিক বর্জ্য। প্রতিদিন নতুন ইলেকট্রনিক পণ্য বাজারে আসার সাথে সাথে গ্রাহকরা পরিত্যাগ করছে পুরোনো পণ্যটি। তৈরি হচ্ছে ইলেকট্রনিক পণ্যের বিশাল জঞ্জাল। এই জঞ্জালের আড়ালে লুকিয়ে থাকা মূল্যবান ধাতুর খনিকে অনেক বিশ্লেষক তাই ‘আরবান মাইন’ বা ‘শহুরে খনি’ নামে অভিহিত করে থাকেন।

তবে এই ই-বর্জ্যে মূল্যবান ধাতুর পাশাপাশি ভারী ধাতুর মতো বিষাক্ত পদার্থও থাকে। ঠিকভাবে এদেরকে আলাদা করতে না পারলে এরা খাদ্যশৃংখলে ঢুকে যেতে পারে এবং ঘটাতে পারে মারাত্মক বিপর্যয়।

২০১৬ সাল নাগাদ পৃথিবীজুড়ে জমা হয়েছে প্রায় ৪৪.৭ মিলিয়ন মেট্রিক টন ই-বর্জ্য। প্রতি বছর এই বর্জ্যের পরিমাণ ৩-৪ শতাংশ করে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই বর্জ্যের তালিকায় পুরোনো মোবাইল ফোন থেকে শুরু করে ফ্রিজ, টেলিভিশন, ভ্যাকুয়াম ক্লিনার, কম্পিউটার সবই আছে। তাই পৃথিবীর স্বার্থে এদেরকে পুনরায় ব্যবহারের বিকল্প নেই।

জাপানে ই-বর্জ্যকে কাজে লাগিয়ে অলিম্পিকের পদক তৈরির ব্যাপারটি আসলেই অসাধারণ। আর এই কাজে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে টোকিও অলিম্পিকের আয়োজক কমিটি দেশব্যাপী জনগণকে তাদের ঘরে পড়ে থাকা অপ্রয়োজনীয় ই-বর্জ্য জমা দিতে আহ্বান করে।

ঘোষণার এক বছরের মাথায় জমা পড়া ই-বর্জ্য থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে ১৬.৩ কেজি স্বর্ণ। পদক বানাতে যতটুকো স্বর্ণ প্রয়োজন তার অর্ধেকেরও বেশি (৫৪.৫ শতাংশ)-এর ব্যবস্থা করে দিয়েছে। রৌপ্য উদঘাটিত হয়েছে ১৮০০ কেজি যা লক্ষ্যমাত্রার ৪৩.৯ শতাংশ। আর ব্রোঞ্জ সংগ্রহ করা হয়েছে ৪১০০ কেজি। যা ইতোমধ্যেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করেছে।

জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সাল নাগাদ সারাবিশ্বে ই-বর্জ্যের পরিমাণ দাঁড়াবে ৫২ মিলিয়ন টনে। আর ফেলে দেওয়া এই বর্জ্যের মাত্র ২০ শতাংশ পুনরায় ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। অনুন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশে ই-বর্জ্য জমা হচ্ছে ল্যান্ডফিল আকারে, বিশাল জায়গাজুড়ে ফেলে দেওয়া ই-বর্জ্যের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মাটি পানি আর পরিবেশ।

খনি খুঁড়ে প্রতি টন আকরিক থেকে যেখানে তিন থেকে চার গ্রাম স্বর্ণ পাওয়া যায় সেখানে এক টন মোবাইল ফোন থেকে পাওয়া যায় ৩৫০ গ্রাম স্বর্ণ। এই বাস্তবতার কথা চিন্তা করেই জাপানকে নামতে হয়েছে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায়। তবে ফেলনা জিনিস থেকে অলিম্পিক মেডেল তৈরির ঘটনা এটাই প্রথম নয়। ২০১৬ সালের রিও অলিম্পিকের ৩০ শতাংশ রৌপ্য এসেছিল ফেলে দেওয়া আয়না থেকে। আয়নার পেছনে রূপার যে প্রলেপ দেওয়া হয় সেখান থেকেই রৌপ্য উদ্ধার করা হয়েছিল।

টাকশালের বর্জ্য থেকে এসেছিল ব্রোঞ্জ মেডেলের ৪০ শতাংশ তামা। ২০১০ সালের ভ্যাংকুভার অলিম্পিকের মেডেলেও ছিল ১.৫ শতাংশ পুনব্যবহৃত ধাতু। তবে ২০২০ সালের জাপানের টোকিওতে অনুষ্ঠিতব্য অলিম্পিক ছাড়িয়ে যাবে সব রেকর্ড। প্রতিযোগীদেরকে দেওয়া মেডেলে যে ধাতু ব্যবহার হবে তার সম্পূর্ণটাই আসবে ই-বর্জ্য থেকে।

অনেক বাঁধা বিপত্তি অতিক্রম করে ২০১৮ সালের জুন নাগাদ ৪.৩২ মিলিয়ন ব্যবহৃত মোবাইল ফোন সংগ্রহ করা হয়েছিল জাপানের অধিবাসীদের কাছ থেকে। অব্যবহৃত ইলেকট্রনিক দ্রব্যাদি দানে উদ্বুদ্ধ করতে দেশব্যাপী চালানো হয় ক্যাম্পেইন, নির্মাণ করা হয় ভিডিওচিত্র। টোকিও অলিম্পিকের পদক নির্মাণের কাজে সহায়তার আহ্বানে জাপানজুড়ে বেশ ভালো সাড়া জাগে। ই-বর্জ্যের ব্যাপারে তৈরি হয়েছে সচেতনতাও।

স্থানীয় মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনগুলোও এই প্রকল্পে অংশ নিয়েছে। তারা সংগ্রহ করেছে ৩৮ হাজার ৫৭৯ টন বর্জ্য। এর মধ্যে আছে ছোটখাটো ইলেকট্রনিক বর্জ্য পণ্য থেকে মোবাইল ফোন পর্যন্ত।

তবে এখন পর্যন্ত যা ই-বর্জ্য সংগৃহীত হয়েছে তা জাপানের বার্ষিক ই-বর্জ্যের মাত্র তিন শতাংশ। তবে ই-বর্জ্য থেকে স্বর্ণ, রৌপ্য এবং ব্রোঞ্জ আহরণের পরে বাকি অধাতব অংশ দিয়ে কী করা হবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মূল্যবান ধাতু সংগ্রহের পর অধাতব অংশ যদি আবারো ফেলে দেওয়া হয় তাহলে তা আবারো পরিবেশের ক্ষতি করতে পারে। তাই অধাতব অংশ বিশেষ করে প্লাস্টিককে আবারো ব্যবহার উপযোগী করে তোলাও জরুরী।

টোকিও অলিম্পিকের আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে এই বিপুল কর্মযজ্ঞে তাদের সহযোগীদের কাছ থেকে তারা স্বর্ণ, রৌপ্য এবং ব্রোঞ্জের সরবরাহ নিচ্ছেন। অধাতব অংশ সাধারণভাবেই প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়। মোট ছয়টি ধাপে কাজগুলো করা হচ্ছে। আগ্রহী দাতাদের কাছ থেকে মোবাইল সংগ্রহের কাজ করছে জাপানি টেলিকম কোম্পানি 'এনটিটি ডোকোমো'। ছোট বড় গৃহস্থালী ইলেকট্রনিক পণ্য সংগ্রহ করছে জাপানের বিভিন্ন মিউনিসিপ্যাল কর্তৃপক্ষ।
সংগ্রহের পর যাছাই বাছাই করার কাজটি শুরু হয়। দক্ষ কর্মীরা বাছাই করে আলাদা করেন কোন মোবাইলগুলো থেকে ধাতু ব্যবহার করা যাবে পদক তৈরির কাজে। যাছাই বাছাই শেষ হবার পর এদেরকে ভেঙ্গে ফেলার পালা। মোবাইলকে ভেঙ্গে এর ভেতর থেকে স্বর্ণ, রৌপ্য কিংবা অন্য মূল্যবান ধাতুর প্রলেপ বের করে আনা হয়।

প্রতিটি মোবাইল কিংবা ইলেকট্রনি পণ্য থেকে খুব সামান্য পরিমাণ মূল্যবান ধাতব উপাদান পাওয়া যায়। এক ধাতুর সাথে মিশ্রিত থাকে আরেক ধাতু। বিশাল চুল্লিতে ফেলে অপদ্রব্য দূর করে কাজে লাগানোর উপযোগী করে নেওয়া হয় এদেরকে।

অপদ্রব্য দূর করতে বেশ কয়েক ধাপে পরিশোধন করা হয়। সর্বশেষ পরিশোধনের পর পাওয়া যায় পদক তৈরির উপযোগী খাঁটি স্বর্ণ। প্রায় একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করে রৌপ্য, তামা এবং টিনও আলাদা করে হয়ে থাকে। এবং এদের নির্দিষ্ট অনুপাতে মিশিয়ে তৈরি করা হয় পদক। টোকিও অলিম্পিকের আয়োজকদের প্রত্যাশা, ই-বর্জ্য থেকে তৈরি এই স্বর্ণ, রৌপ্য আর ব্রোঞ্জের পদক গলায় ঝুলিয়েই অলিম্পিকে বিজয়ীরা সারা পৃথিবীর কাজে বর্জ্য পুনঃব্যবহারের গুরুত্ব সবার কাছে ছড়িয়ে দেবেন।

Source: https://roar.media/bangla/main/world/japan-olympics-medal-from-e-waste/


6
হ্যাংআউটস বন্ধ করে দিচ্ছে গুগল

ভিডিও চ্যাট, মেসেজিং, এসএমএস ও ভিওআইপি ফিচার সংবলিত যোগাযোগের প্লাটফর্ম হ্যাংআউটস বন্ধ করতে যাচ্ছে গুগল। ২০২০ সালের কোনো এক সময় সেবাটি বন্ধ করা হতে পারে। গুগলের পণ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে সিনেট।

২০১৩ সালে জিচ্যাটের পরিবর্তে হ্যাংআউটস প্লাটফর্ম চালু করেছিল গুগল। এরপর দীর্ঘদিন অ্যাপটির আর কোনো হালনাগাদ দেয়নি প্রতিষ্ঠানটি। যে কারণে গ্রাহক সম্পৃক্ততা হারায় হ্যাংআউটস। এছাড়া অ্যাপটি থেকে এসএমএস মেসেজিং সেবাও আলাদা করে ফেলেছে কর্তৃপক্ষ। তবে হ্যাংআউটস এখনো ওয়েব সংস্করণের জিমেইলে গুরুত্বপূর্ণ চ্যাট সুবিধা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এমনকি প্লেস্টোরেও এখনো অ্যাপটি রয়েছে।

৯টু৫গুগলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইন্টারনেটভিত্তিক যোগাযোগ প্লাটফর্ম হিসেবে গুরুত্ব হারিয়েছে হ্যাংআউটস। দীর্ঘদিন হালনাগাদ না দেয়ায় এতে বড় ধরনের সফটওয়্যার ত্রুটি রয়েছে এবং এর পারফরম্যান্সও ভালো নয়।

Source: http://bonikbarta.net/bangla/news/2018-12-03/178823/%E0%A6%B9%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%86%E0%A6%89%E0%A6%9F%E0%A6%B8-%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A7-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%9A%E0%A7%8D%E0%A6%9B%E0%A7%87-%E0%A6%97%E0%A7%81%E0%A6%97%E0%A6%B2/

7
ফোর্বসের সেরা তালিকায় বাংলাদেশি দুই তরুণ

বিশ্বখ্যাত সাময়িকী ফোর্বস-এর ত্রিশের নিচে ত্রিশ (৩০ আন্ডার ৩০) দুটি বিভাগে দুজন বাংলাদেশি তরুণ এবার স্থান পেয়েছেন। সদ্য প্রকাশিত ফোর্বস-এর ৩০ আন্ডার ৩০: ২০১৯ তালিকার শক্তি (এনার্জি) বিভাগে স্থান পেয়েছেন ভার্ড টু গোর প্রতিষ্ঠাতা ২৮ বছর বয়সী সানি সানওয়ার এবং বিজ্ঞান বিভাগে রয়েছেন ২৯ বছর বয়সী বিজ্ঞানী জি এম মাহমুদ আরিফ পাভেল।

সানি সানওয়ার লিথিয়াম-পলিমার ব্যাটারি প্যাক তৈরি করে সেটি বাণিজ্যিকভাবে সরবরাহ করেন তাঁর যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ভার্ড টু গোর মাধ্যমে। কার্বন নিঃসরণ না করে বড় আকারের বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করা যায় সানির এই উদ্ভাবনী প্রকল্প থেকে। জি এম মাহমুদ আরিফ পাভেল গবেষণা করেন মানবদেহের আয়ন চ্যানেল নিয়ে। এই আয়ন চ্যানেলে সমস্যা হলে কিডনিতেও সমস্যা হয়। পাভেলের গবেষণা এ সমস্যা দূর করতে ভূমিকা রাখবে।
২০০৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কেনেডি-লুগার এক্সচেঞ্জ স্টুডেন্ট কর্মসূচির মাধ্যমে সানি সানওয়ার যখন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যানসাস সিটিতে যান তখন তাঁর বয়স ছিল ১৫। বাংলাদেশে তখন তিনি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে পড়তেন। যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে দ্বাদশ শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ পেলেন। তাই মাত্র ১৯ বছর বয়সে যন্ত্র প্রকৌশলে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন সানি। ২২ বছর বয়সে তিনি লিথিয়াম-পলিমার ব্যাটারি প্যাক তৈরি করেন। দ্রুতই এই ব্যাটারি প্যাকের বিদ্যুৎ উৎপাদন ১ কিলোওয়াট থেকে ১ মেগাওয়াটে উন্নীত করেন। ২০১৬ সালে ২০ লাখ মার্কিন ডলারে সানির এই ব্যাটারি উদ্যোগ কিনে নেয় এভারগোনিক্স।
যোগাযোগ করা হলে সানি সানওয়ার ই-মেইলে প্রথম আলোকে জানান, এই বিভাগে সাধারণত ৩০ বছরের কম বয়সী উদ্ভাবক, আবিষ্কারক বা কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতাকে স্থান দেন, যাঁরা কমপক্ষে ১ মিলিয়ন ডলারের তহবিল সংগ্রহ করতে পারেন।
এর আগে এই তালিকায় ফেসবুকের মার্ক জাকারবার্গ, স্ন্যাপচ্যাটের ইভান স্পিগেলের মতো বিশ্বখ্যাত উদ্যোক্তারা স্থান পেয়েছেন। নিজের প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে সানি বলেন, ‘ভার্ড টু গোর মূল লক্ষ্যই হলো কার্বন নিঃসরণকারী বিদ্যুৎ শক্তির ব্যবহার কমিয়ে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার প্রতিষ্ঠা করা। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু শহরে লিথিয়াম-পলিমার ব্যাটারি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। ঢাকায় নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ নিয়ে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনাও শুরু করেছি।’
সানি সানওয়ার ক্যানসাস সিটির মিজৌরি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় উদ্যোগ ও উদ্ভাবন বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। সানির জন্ম ঢাকায় হলেও তাঁদের বাড়ি রাজশাহীতে। তাঁর বাবা সারওয়ার আজমও একজন যন্ত্র প্রকৌশলী। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে কর্নেল হিসেবে অবসর নেন। নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কামরুন নাহার সানির মা। সানি সানওয়ার এখন মিজৌরি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতাও করছেন। সানি ২০১৬ সালে এসিএস হেইঞ্জ ভন ফোয়েস্টার পুরস্কার অর্জন করেছেন।
ফোর্বস তালিকার বিজ্ঞানে স্থান পাওয়া জি এম মাহমুদ আরিফ পাভেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জিনবিজ্ঞানে স্নাতক হওয়ার পর বৃত্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করতে যান। নিউইয়র্কের সেন্ট জন্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। পাভেল এখন যুক্তরাষ্ট্রের স্ক্রিপস রিসার্চে পোস্ট ডক্টরাল সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন যুক্তরাষ্ট্রে।
বংশগত কিডনি রোগের তেমন কোনো চিকিৎসা নেই। তবে পাভেলদের গবেষণায় দেখা গেছে, মানবদেহের আয়ন চ্যানেলের বৈশিষ্ট্যে যদি সঠিকভাবে পরিবর্তন আনা যায়, তবে এ রকম কিডনি রোগের চিকিৎসায় সুফল পাওয়া যেতে পারে। এই আয়ন চ্যানেলকে ‘জীবনের মৌলিক সেন্সর’ বলছেন এই বিজ্ঞানীরা। পাভেলের গবেষণা কিডনি রোগ এবং অস্ত্রোপচারের সময় অবেদন (অ্যানেসথেসিয়া) প্রক্রিয়াকে আরও নিরাপদ করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জি এম মাহমুদ আরিফ পাভেল যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার জুপিটার থেকে ই-মেইলে প্রথম আলোকে জানান, ‘আমার চেয়েও অনেক মেধাবী বাংলাদেশি বিজ্ঞানী রয়েছেন। আমার বয়স ৩০ বছরের কম বলে এ তালিকায় স্থান পেয়েছি। বিশ্বখ্যাত দুই বিজ্ঞানী ইয়ং য়ু এবং স্কট হ্যানসেনের সঙ্গে এই গবেষণা করেছি, এটাই বড় পাওয়া।’

Source: https://www.prothomalo.com/bangladesh/article/1566497/%E0%A6%AB%E0%A7%8B%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%B0%E0%A6%BE-%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A7%9F-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A6%BF-%E0%A6%A6%E0%A7%81%E0%A6%87-%E0%A6%A4%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%A3?fbclid=IwAR0yJ5xuuQclk4IOED11MAsHglMkHX7RLkHbIjemZUFy9Z4VpFZEcQoExtw

8
Forbes এর সেরা বিজ্ঞানীর তালিকায় বাংলাদেশি পাভেল

বিশ্বখ্যাত ফোর্বস সাময়িকীর ২০১৯ সালের তালিকায় গবেষণায় সেরা ৩০ বছরের কম বয়সী ৩০ জনের মধ্যে (থার্টি আন্ডার থার্টি) এক বাংলাদেশিও রয়েছেন। এই বায়োলজিস্টের নাম জি এম মাহমুদ আরিফ পাভেল। বয়স ২৯ বছর। তার নাম রয়েছে তালিকার প্রথমেই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক করার পর নিউইয়র্কের সেন্ট জোন্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর পিএইচডি করেছেন। মানব শরীরের আয়োন চ্যানেল নিয়ে গবেষণা করছেন পাভেল। এই চ্যানেলকে ‘ফান্ডামেন্টাল সেন্সর্স অব লাইফ’ অভিহিত করে তা অ্যানেসথেসিয়াসহ অটোসমাল পলিসিসটিক কিডনি রোগের চিকিৎসায় নবদিগন্তের সূচনা ঘটাতে পারে বলে মনে করছেন পাভেল।



উল্লেখ্য, মাহমুদ পাভেল বর্তমানে পোস্ট ডক্টরাল অ্যাসোসিয়েট হিসেবে ‘স্ক্রিপস রিসার্চ’-এ কাজ করছেন।

আমেরিকায় ৩০ বছরের কম বয়সী তরুণ-তরুণীরা মানবকল্যাণে গবেষণা-উদ্ভাবনে অবদান রাখছেন। তাদের মধ্য থেকেই ৩০ জনকে সম্মানিত করার উদ্দেশ্যে অন্য বছরের মতো এবারও তালিকা সংগ্রহের উদ্যোগ নেয় ফোর্বস। কয়েক হাজার মেধাবীর তালিকা পায় তারা। এরপর ৪ বিচারকের মাধ্যমে সবকিছু পর্যবেক্ষণ, যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে গত শুক্রবার প্রকাশ করা হয়েছে  সেই সেরা মেধাবী বিজ্ঞানীদের তালিকা। একইভাবে গণমাধ্যম, সংগীত, ব্যবসা, আর্ট, শিক্ষা, জ্বালানিসহ ২০ ক্যাটাগরির তালিকাও প্রকাশ করেছে ম্যাগাজিনটি। গত ৮ বছর থেকেই এমন তালিকা প্রকাশ পাচ্ছে।

আমেরিকা অঞ্চলের সেরা ৩০ বিজ্ঞানীর তালিকা দক্ষিণ এশিয়ান বংশোদ্ভূতদের মধ্যে আরও রয়েছেন মেঘালি চুপরা (২৯), হাসিনী জয়তিলকা (২৯), নাসরিন মোস্তফা (২৮), মৈত্র রাঘু (২৭), দেবাকি রাজ (২৮), গীতাঞ্জলি রাও (১২)।

Source: http://www.bd-pratidin.com/saturday-morning/2018/11/24/378239

9
স্বচালিত গাড়ি সম্ভব নয়: ওজনিয়াক

প্রথম স্বচালিত গাড়িটা অ্যাপলই বানাবে, এক সময় এমনটাই আশা করতেন মার্কিন টেক জায়ান্টটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ ওজনিয়াক।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি-কে এ কথা বলেন ‘ওজ’ নামে পরিচিত এই মার্কিন প্রকৌশলী ও বিনিয়োগকারী। তিনি আরও বলেন, “আমি স্বচালিত গাড়িতে বিশ্বাস করি না।” এক্ষেত্রে “আমি আসলেই বিশ্বাস করি না যে এটি সম্ভব” যে গাড়িগুলো কোনো স্টিয়ারিং হুইল ছাড়া নিজেরাই নিজেদের চালাতে সক্ষম হবে।”

ওজনিয়াক বলেন, রাস্তাগুলো স্বচালিত গাড়ির জন্য প্রস্তুত নয় এর কারণ হচ্ছে এগুলো “ত্রুটিপূর্ণ” মানুষের বানানো, যারা “প্রকৃতি ও গণিত আর এমনকি বিবর্তনের মতো এত ভালো নয়।” তবে গাড়ি চালনার ক্ষেত্রে “সহযোগী” যে প্রযুক্তির জন্য গাড়িগুলো এখন লাল আলো ও থামতে বলার নির্দেশনা শনাক্ত করতে ও কিছু দুর্ঘটনা এড়াতে পারে তার উন্নতি সমর্থন করেন তিনি।

কিন্তু তিনি সতর্ক করে বলেন, “মানুষের এই বিষয়টি থেকে নজর সরানো উচিৎ নয় যে আপনি এমন কোনো গাড়ি পাবেন না যা নিজে নিজে চলবে।”

ওজনিয়াক নিজেই বৈদ্যুতিক ও স্বচালিত গাড়ি ব্র্যান্ড টেসলার একটি গাড়ির মালিক। এটি চালানো তিনি উপভোগ করেন বললেও এর তথাকথিত অটোপাইলট ফিচার আসলেই স্বচালিত নয় বলে মত তার।

“টেসলা অনেক ভুল করে”- এমন মন্তব্য করলেও এ ভুলগুলো কেমন তা নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি ওজনিয়াক। তিনি বলেন, “আমার কাছে সত্যিই তাই মনে হয় যে অটোপাইলটিং বা অটো স্টিয়ারিং গাড়ি নিজেই চলছে এমনটা হতে যাচ্ছে না।”

ওজনিয়াক বলেন, তিনি তার টেসলা গাড়িটি উন্নত করতে কাজ করছিলেন আর স্বচালিত গাড়ির ধারণা থেকে “হাল ছেড়ে দিয়েছেন”। “এটি সত্যিই হতে যাচ্ছে না” বলে ফের মন্তব্য তার।

ওজনিয়াক-এর এই সাক্ষাৎকারের পর সংবাদমাধ্যমটির পক্ষ থেকে টেসলার কাছে মন্তব্য চেয়ে অনুরোধ করা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে মার্কিন এই প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

Source: https://bangla.bdnews24.com/tech/article1560890.bdnews

10
টেকনাফ সোলারটেক এনার্জি উৎপাদনে

পরিবেশ দূষণ এড়াতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে জোর দিচ্ছে যখন বিশ্বের সবাই; তখন বাংলাদেশও পিছিয়ে নেই। বাংলাদেশের এই যাত্রায় বড় ভূমিকা রাখতে এসেছে টেকনাফ সোলারটেক এনার্জি লিমিটেড।

বাংলাদেশে সৌর বিদ্যুত খাতে প্রথম আইপিপি কোম্পানি হিসেবে ইতোমধ্যে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করেছে টেকনাফ সোলারটেক এনার্জি। ২৮ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার এই কেন্দ্রটি দেশের প্রথম বড় সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র।

 বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের ২০ মাসের মধ্যেই উৎপাদনে এসেছে টেকনাফ সোলারটেক এনার্জি।

২০ বছরের চুক্তি অনুযায়ী, সুর্যের আলোর সময় টেকনাফ সোলারটেক এনার্জি থেকে ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কিনবে পিডিবি।

টেকনাফ সোলারটেক এনার্জির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুহের লতিফ খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতা করায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বিদ্যুৎ বিভাগ ও পিডিবিকে ধন্যবাদ।

“বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নে নবায়নযোগ্য জ্বালানির আরও প্রকল্পে ভবিষ্যতে সংযুক্ত থাকতে পারলে ধন্য হব।”

মধ্যম আয়ের দেশ থেকে বাংলাদেশকে উন্নত দেশে পরিণত করতে বিদ্যুতের মহাপরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে সরকার।

এর আওতায় ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট, ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০ হাজার মেগাওয়াট এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় মোট বিদ্যুতের মধ্যে ১০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে।


নতুন সৌর আইপিপি কেন্দ্র চালু হওয়াকে ’খুবই ভালো’ বলে মন্তব্য করছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “নতুন এ কেন্দ্রটি চালু হয়েছে এটা খুবই ভালো। এটা খুবই দ্রুত হয়েছে।”

গত বছরের অক্টোবরে জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে বাংলাদেশের প্রথম সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিন মেগাওয়াট ক্ষমতার ‘এনগ্রিন সরিষাবাড়ী সোলার প্ল্যান্ট লিমিটেড’ নামের ওই কেন্দ্রে জমি দিয়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। বিনিয়োগ করেছে জার্মানির আইএফই এরিকসেন এজি, বাংলাদেশের কনকর্ড প্রগতি কনসোর্টিয়াম লিমিটেড ও জুপিটার এনার্জি লিমিটেড।

দেশের বিভিন্নস্থানে সৌরভিত্তিক ৫৫৭ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার ১০টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন। নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে ৫৮০ মেগাওয়াট ক্ষমতার আরও নয়টি কেন্দ্র।  এছাড়া ২১৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার তিনটি সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন পরিকল্পনাধীন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় ১০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন সম্ভব হবে কি না- এ প্রশ্নের উত্তরে আবুল কালাম আজাদ বলেন, “আমরা খুবই আশাবাদী। আগ্রাসী পরিকল্পনা নিয়ে আমরা অগ্রসর হচ্ছি।”

তেল, কয়লা ও অন্যান্য জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে গিয়ে পরিবেশের দূষণ হওয়ার নবায়নযোগ্য জ্বালানির গুরুত্ব বাড়ছে বিশ্বজুড়ে।

টেকনাফ সোলারটেক এনার্জি নির্মাণ করা হয়েছে উপজেলার হ্নীলায় ১১৬ একর জমির উপর। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়েছে বলে কোম্পানির তরফ থেকে বলা হয়েছে।

কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুহের লতিফ খান উদীয়মান ব্যবসায়ী হিসাবে এর আগে শিরোনামে এসেছিলেন; যিনি মাত্র ২১ বছর বয়সে দেশ এনার্জি নামে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে তোলেন।

Source: https://bangla.bdnews24.com/business/article1541152.bdnews?fbclid=IwAR1c9McDtm_7BLgKai97NVLYtqgxulkQz2f6E8gfL8_QDZzV5sQJxC0BBmY

11
বাংলাদেশে বিনিয়োগ করবে স্যামসাং-এলজি

বাংলাদেশের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্ক শুরু হয়েছে সেই ১৯৭৫ সালে। তখন থেকে এ দুই দেশের সম্পর্ক কখনো অবনতি হয়নি। বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা, বাণিজ্য, সামরিক ও শিক্ষা খাতে পারস্পারিক সহযোগিতাও বরবরই উচ্চ পর্যায়ের। এবার সেই সম্পর্ক আরও বাড়াতে স্যামসাং ও এলজির মত ১৫০টি কোম্পানিকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে বলা হয়েছে।

বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশে ৩ হাজার পন্য কোনো রকম ট্যাক্স ছাড়াই প্রবেশ করাতে পারে। বাংলাদেশও পণ্য ও শ্রমিক রপ্তানিতে অগ্রাধিকার পায়। দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশে পাওয়া সুযোগ বরাবরই কাজে লাগিয়েছে। ইদানিং বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি দেখে তারা নতুন করে বিনিয়োগের চিন্তা করছে বলে জানা গেছে।

দেশটির ট্রেড-ইনভেস্টমেন্ট প্রোমোশন এজেন্সি বুধবার জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, প্রকৌশল, অবকাঠামো, খাদ্য-প্রক্রিয়াজাত এবং ইলেকট্রনিক্স খাতে নতুন করে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তারা বলছে, গত ছয় বছর বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৬ থেকে ৭ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। তাতে বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে এগোচ্ছে এ জন্য কোরিয়ার বড় বড় কোম্পানি বিনিয়োগ করতে চায়।

স্যামসাং ও এলজির মত ১৫০টি কোম্পানি বাংলাদেশে বিনিয়োগ করবে উল্লেখ করে কোরিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (কেবিসিসিআই) মুখপত্র জং উন কিম বলেন, ‘আমাদের সরকার থেকেই ওই কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য বলা হয়েছে।’

দক্ষিণ কোরিয়ার ঢাকা মিশনের ডেপুটি চিপ ডং-জং লি বলেন, দুই দেশের মধ্যে যে ব্যবসায়িক দূরত্ব আছে সেটা কমাতে তাদের দেশ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কেবিসিসিআইয়ের নেতা সাহাব উদ্দিন খান জানান, কোরিয়া বাংলাদেশের ইলেকট্রনিক্স পন্য, অটোমোবাইল মেশিনারিসহ বিভিন্ন খাতে যে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা আমাদের দেশের জন্য বিরাট সুযোগ।

তিনি বলেন, এলজি ও স্যামসাং তো ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের বাজার দখল করেছে। আরও আসছে কিআ, হুনদাই, সাংইয়ং মোটরসের মত বিশ্ববিখ্যাত কোরিয়ান কোম্পানি।

Source: http://www.bangla.24livenewspaper.com/bangladesh/32689-samsung-lg-to-invest-in-bangladesh?fbclid=IwAR2nYTB6dMTmXjWABQysgf0gSazYEAqoFEDfz2PeLNrr_LWvoCLlmuPeM_s

12
বাংলাদেশে চালু হচ্ছে রাশিয়ার ব্যাংক

বাংলাদেশে শিগগিরই রাশিয়ার বাণিজ্যিক একটি ব্যাংক চালু হতে যাচ্ছে। এরই মধ্যে সম্ভাব্য ব্যাংকের নামও প্রস্তাব করেছে দেশটি। তা হচ্ছে ‘স্পুটনিক ব্যাংক’।

দুই দেশের সরকার, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে চূড়ান্ত আলোচনা ও সমঝোতা চুক্তির পরপরই ব্যাংকটি কার্যক্রমে আসবে। এটি চালু হলে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার লেনদেন নির্বিঘ্নে করা সম্ভব হবে। তবে লেনদেনের মাধ্যম টাকা, রুবল না ডলার হবে-সেটি এখনও ঠিক হয়নি।

বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক, বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি সহায়তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গড়া বাংলাদেশ-রাশিয়া আন্তঃসরকার কমিশনের প্রথম বৈঠকের কার্যপত্র পর্যালোচনা করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

শুধু ব্যাংক লেনদেনের সুরাহাই নয়, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, বাণিজ্য, বিজ্ঞান, কারিগরি ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে সহায়তা, সরাসরি বিমান ও সমুদ্রপথে যোগাযোগ এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির দ্বারও উন্মোচিত হতে যাচ্ছে দুই দেশের মধ্যে। প্রথম বৈঠকে এসব বিষয়ে একমত হওয়ার পর এখন বাস্তবে রূপ দেয়ার কলাকৌশল নির্ধারণে বসতে যাচ্ছেন আন্তঃসরকার কমিশন প্রতিনিধিরা। রাশিয়ার মস্কোয় আজ থেকে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী এই (দ্বিতীয়) বৈঠক।

এতে যোগ দিতে আন্তঃসরকার কমিশনের বাংলাদেশ কো-চেয়ার ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শফিকুল আযমের নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের দল রোববার মস্কোয় পৌঁছেছে।

সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন কমনওয়েলথ অব ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্টেটস-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিআইএস-বিসিসিআই) সভাপতি মো. হাবীব উল্লাহ ডন ও ঢাকায় রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার আই ইগ্নাটভ, গ্যাজপ্রমের বাংলাদেশ প্রতিনিধি অনিরুদ্ধ কুমার রায়।

সূত্রমতে, দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্কোন্নয়নের ক্ষেত্র তৈরির জন্য যে ধরনের পরিবেশ তৈরি করা দরকার সেটাই এ বৈঠক থেকে নিশ্চিত করা হবে। আর এ বিষয়ে বাংলাদেশের মতো রাশিয়া সরকারেরও আগ্রহের কমতি নেই। যে কারণে এই আন্তঃসরকার কমিশন গঠন হয়েছে এবং প্রতিবছর অন্তত একবার বৈঠক আহ্বানের বিধান রাখা হয়েছে। গত বছরের ১ মার্চ মন্ত্রী পর্যায়ে চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে এ কমিশন যাত্রা করে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার আই ইগ্নাটভ বলেন, মস্কো-ঢাকার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বিশেষ করে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ভিত আরও মজবুত করতে ব্যাংকিং চ্যানেল স্থাপনে জোর দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশে শিগগিরই রাশিয়ার ব্যাংক চালু হবে।

তিনি আরও বলেন, রাশিয়া বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে সাহায্য করতে অত্যন্ত আগ্রহী। প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে নির্মাণাধীন পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র তারই উদাহরণ। তবে সম্ভাবনার সদ্ব্যবহার করতে হলে দু’দেশের বেসরকারি খাতকেও একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এ ছাড়া বাণিজ্য সম্প্রসারণে কার্গোসহ এয়ার কানেক্টিভিটি ও সরাসরি সমুদ্র পথে যোগাযোগ স্থাপনেও রাশিয়া সরকারের আগ্রহের কথা জানান তিনি।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, ভৌগোলিক দূরত্ব, সরাসরি যাতায়াতে প্রতিবন্ধকতা, শুল্ক সংক্রান্ত জটিলতা এবং ব্যাংক সুবিধা না থাকা সত্ত্বেও ২৬ বছরে দেশটিতে রফতানি বেড়েছে প্রায় ২০ গুণ। আমদানি বেড়েছে এর চেয়েও বেশি, ৫৩ গুণ। এর মধ্যে বর্তমান সরকারের ১০ বছরেই রফতানির পরিমাণ সোয়া ১১ গুণ এবং আমদানি দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।

জানতে চাইলে সিআইএস-বিসিসিআই সভাপতি মো. হাবীব উল্লাহ ডন যুগান্তরকে বলেন, রাশিয়া ও সিআইএসভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে যেভাবে ব্যবসা করা উচিত সেভাবে আমরা পারি না। তা করতে পারলে দু’দেশের বাণিজ্য অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাত। না পারার কারণ দেশটির সঙ্গে আমাদের সরাসরি ব্যাংক লেনদেন সুবিধা নেই।

ফলে তৃতীয় দেশ অর্থাৎ হংকংয়ের মাধ্যমে আমদানি-রফতানি হয়। সেখানে অর্থ বিনিময় করা হয় টেলিগ্রাফিক ট্রান্সফারের (টিটি) মাধ্যমে। এতে আস্থা-অনাস্থার বিষয় থাকে। এ বাধার কারণে রাশিয়ার সম্ভাবনার বাজার দখল করছে মিয়ানমার ও ভারত।

ইইউর ব্যবসায়ীরা মধ্যস্বত্বভোগীর সুবিধা নিচ্ছে। ফলে বাংলাদেশে রাশিয়ার ব্যাংকিং সিষ্টেম চালুর কোনো বিকল্প ছিল না। এর গুরুত্ব অনুধাবন করেই আমরা রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের কাছে প্রথম দাবিটি করি।

এক প্রশ্নে ডন বলেন, রাশিয়া আমাদেরকে স্পুটনিক ব্যাংকের কার্যক্রম চালু করার কথা বলেছে। তবে লেনদেনের মাধ্যম রুবল না টাকা হবে সেটি এখনও ঠিক হয়নি। আমরা চেয়েছি টাকাই। আর তারা রুবল। এখন আলোচনার মাধ্যমেই তা ঠিক হবে বলে বিশ্বাস করি।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ মাসুকুর রহমান সিকদার এ প্রসঙ্গে যুগান্তরকে জানান, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি ব্যাংক লেনদেন চালু করার আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে। এ লক্ষ্যে অনেক আগেই একটি কোর গ্রুপ গঠন করা হয়।

দুই দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতিনিধিরা এ বিষয়ে পর্যালোচনা করে দেখছে। রাশিয়া সরকারও ইতিমধ্যেই ব্যাংক প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে। পাশাপাশি বাণিজ্য-বিনিয়োগ ও কারিগরি সহায়তাসহ দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কোন্নয়নে আন্তঃসরকার কমিশন কাজ করছে। ভবিষ্যতে এর ইতিবাচক ফলাফল অবশ্যই পাওয়া যাবে।

১৯৯১-৯২ অর্থবছরে রাশিয়ায় রফতানির পরিমাণ ছিল ২ কোটি ৬৯ লাখ মার্কিন ডলার এবং আমদানি ১ কোটি ১৮ লাখ ডলার। সেটা ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরে বেড়ে রফতানি দাঁড়ায় ২৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলার এবং আমদানি ২৮ কোটি ৬৪ লাখ ডলার, যা ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এসে রফতানি ৪৮ কোটি ৫২ লাখ ডলার এবং আমদানি ৬২ কোটি ৮৬ লাখ ডলারে উন্নীত হয়েছে।

Source: https://www.jugantor.com/todays-paper/last-page/103440/%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A7%87-%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%81-%E0%A6%B9%E0%A6%9A%E0%A7%8D%E0%A6%9B%E0%A7%87-%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%95?fbclid=IwAR3-jJscol92vAWAJeDPqtmh-7AB-emCN6f8ekCodJD2lNfCAAHlujGn0rY

13
বাজারে এসেছে গুগলের নতুন ‘কর্ম অ্যাপ’


সম্প্রতি একটি নতুন অ্যাপ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে নতুন ফিচারের ‘কর্ম অ্যাপ’। মূলত ছোট ছোট কাজ সহজে খুঁজে পেতে এবং দরকারি দক্ষতা উন্নয়নে নতুন ফিচার যুক্ত হচ্ছে ‘কর্ম’ অ্যাপে। ২০১৭ সালের দিকে এটি মুক্তি পাওয়ার কথা থাকলেও কিছু টেস্টিং সমস্যার কারণে এর উদ্বোধন এক বছর পিছিয়ে গেছে। গুগলের স্টার্টআপ তৈরির প্রকল্প ‘এরিয়া ১২০-এর’ অধীনে অ্যাপটি তৈরির কাজ হয়েছে। বিকি রাসেলের অধীনস্থ এই প্রকল্পের তিনজন সদস্য বাংলাদেশি। 

অ্যাপটি মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে ‘বেস্ট ম্যাচ’ মডেলিংয়ে সমতা বজায় রেখে চাকরিপ্রার্থীর সঙ্গে গ্রহণযোগ্য চাকরির সংযোগ করে দেবে। এটি চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগদাতা উভয়ের জন্যই টু-ওয়ে রেটিং সিস্টেম।

অ্যাপটি ডাউনলোড করে গেস্ট হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। তবে এটি ব্যক্তিগত ব্যবহার ও নিজের উপযোগী প্রোফাইল তৈরি করতে ফোন নম্বর বা গুগল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে হবে। এতে নিজের দক্ষতা যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। অ্যাপে জব ডিসকভারি পেজ, জব কার্ড ফিচার থাকবে।

অ্যাপটির বাংলা সংস্করণও রয়েছে। অ্যাপটি ব্যবহারকারীদের দক্ষতা উন্নয়নে নানা প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন। ভবিষ্যতে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করবে কর্ম।

গুগল ও কর্ম অ্যাপটির বিপণন কর্মকর্তা জেস বেয়ার্ন বলেন, “দেশে তরুণদের সঠিক চাকরি মেলানোর প্ল্যাটফর্ম এটি। এর সঙ্গে প্রচলিত চাকরির সাইটের কিছু পার্থক্য রয়েছে। এটি অ্যাপের মাধ্যমে খণ্ডকালীন চাকরি ও দরকারি কাজের খোঁজ পাবে।”

গুগল প্লে স্টোর থেকে অ্যাপটি ডাউনলোড করা যাবে।
Source: http://bangla.fintechbd.com/2018/10/23/%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%8F%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%9B%E0%A7%87-%E0%A6%97%E0%A7%81%E0%A6%97%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%A8%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%A8/?fbclid=IwAR29QiU-3XGSMmRBi-bjfvSrTb4gBgpO0mZf28GcS5M61GshA2RbY4fNv2g

14
অস্ট্রেলিয়ায় IT বাজার আর আমাদের সম্ভাবনা

সময়টা ২০১৪, একযুগেরও বেশি সময়ের ক্যারিয়ার বিসর্জন দিয়ে তল্পিতল্পা গুছিয়ে পাড়ি জমালাম সুদূর অস্ট্রেলিয়া। প্লেনটা যখন সিডনি এয়ারপোর্টে নামলো, তখন থেকে আমি হয়ে গেলাম এক জীবন্ত কারেন্সী কনভার্টার। কি এক আজব দেশ, এককাপ কফির দাম ২৪০ টাকা !মনে মনে ভাবলাম, তিন/চার মাসে যদি কোনো চাকরি না পাই তাহলে হয়তো না খেয়ে মরতে হবে অথবা আবার দেশে ব্যাক করতে হবে। ধীরে ধীরে পরিচয় হলো আরো অনেক দেশি ভাই এর সাথে, শুনলাম তাদের IT চাকরি পাওয়ার করুন সংগ্রামের কাহিনী। কেউ কেউ পরামর্শ দিলো সিকিউরিটি বা এধরনের কোন জবের ট্রেনিং নেয়ার জন্য। কিন্তু এতদিনের অভিজ্ঞতটা আর স্বপ্ন, কোনটা বিসর্জন দিয়ে সম্পূর্ণ একটা ভিন্ন প্রফেশনে যাওয়ায় মন সায় দিচ্ছিলনা। পরদিন থেকে নেমে পড়লাম চাকরির সন্ধানে, ৭২০ টা জব এপ্লাই করলাম ১৭ দিনে, কল পেলাম ৪টা আর ইন্টারভিউ দিলাম ২টা। ১৮ দিনের মাথায় শুরু হলো আমার নতুন অধ্যায়।

একটা কনসাল্টেন্সি ফার্মে চাকরি পেলাম। দু রুম এর ছোট্ট একটা অফিস, মন কোনো ভাবে টেকেনা – দেশে তো হাজার গুন ভালো ছিলাম, কেন যে মরতে আসলাম এই বিদেশ বিভুঁইয়ে! যাইহোক দমলামনা, চোখকান খোলা রাখলাম। আমার আলটিমেট স্বপ্ন একটা টেক পাইওনিয়ার এর সাথে কাজ করবো। সেই স্বপ্ন পূরণ হলো এক বছরের মাথায়, চাকরি পেলাম আমাজনে।

এই চার বছরে একটা জিনিস বিশেষ ভাবে লক্ষ্য করলাম – অষ্ট্রেলিয়ায় কোম্পানি গুলো নতুন টেকনোলজি এডোপশন এ অনেক এগিয়ে। সাম্প্রতিক cloudscorecard রিপোর্টে অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান পাঁচ নম্বরে। চার পাঁচ বছর আগেও কোম্পানি গুলো নিজস্ব ডাটাসেন্টার বিল্ডিংয়ে ইনভেস্ট করছিলো, আর এখন ডিমান্ড বেসিসে ক্লাউড বেসড টেকনোলজি ইউজ করা নিউ নরমাল। এটাকে তুলনা করা যায় ইলেকট্রিসিটি ইউজ করার মতো, যেখানে আপনি বিল পে করেন শুধু মাত্র ইউসেজ এর জন্য। বিগত কয়েক বছরে অস্ট্রেলিয়াতে একটা রেডিক্যাল টেকনোলজি শিফট লক্ষ্য করলাম। কোম্পানিগুলো এখানে অনেক ওপেন নতুন আইডিয়া বা ভিন্ন প্রসেস ফলো করতে। এই “change acceptance mentality” অনেক নতুন চাকরির বাজার উন্মোচন করলো। প্রথম যখন Cloud computing নিয়ে কথা শুরু হলো সবাই ভাবতো “চাকুরীটা মনে হয় এবার গেলো” অথবা “এইটা শুধু ছোট খাটো কোম্পানির জন্য”। ধীরে ধীরে সবাই বুঝলো যে ইলেকট্রিসিটি ইউজ করার জন্য যেমন ঘরে ঘরে “quick rental power plant” বসানোর দরকার নেই তেমনি টেকনোলজি ইউজ করার জন্য মিলিয়ন ডলার খরচ করে ডাটাসেন্টার বানানোরও দরকার নেই।

তা যাই হোক, নতুন চাকরির বাজার তো তৈরী হলো, কিন্তু এইখানে IT ইন্ডাস্ট্রিতে লোকাল ট্যালেন্ট এর অনেক অভাব। এবং সচরাচর যা হয় , সেই সুযোগটা আবারো কাজে লাগলো আমাদের প্রতিবেশী দেশ। আর অপরদিকে আমরা বাংলাদেশিরা হতাশ হয়ে অন্য ক্যারিয়ার এ শিফট হচ্ছি। কিছু জিনিস খুব জরুরি IT ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকার জন্য। যেমনঃ

প্যাশনেট হওয়া
এই গুনটা আসলে সব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। বিশেষত IT ইন্ডাস্ট্রিতে। এই ইন্ডাস্ট্রিতে প্রতিটা মুহূর্তে নতুন কিছুর আগমন হচ্ছে। আপনার যদি নতুন কিছু শেখার আগ্রহ না থাকে অথবা চেঞ্জ একসেপ্ট করার মানসিকতা না থাকে, খুব সম্ভবতো IT ক্যারিয়ার আপনার জন্য উপযুক্ত না।

টেকনোলজি ট্রেন্ড সম্পর্কে সচেতন থাকা
যখন CD আবিষ্কার হয়, সবাই বলতো শত বছরের ডাটা প্রটেকশন এর জন্য এর চেয়ে আধুনিক কিছু নাই। আর এখন এই বেপারটা ইতিহাস! টেকনোলজি নিউজ পড়া , LinkedIn এ টেকলোজি লিডারদের ফলো করা, meetup এ জয়েন করা, ইত্যাদি, এই প্রাকটিস গুলো ট্রেন্ড বুঝতে খুব সহযোগিতা করে। আর বিশেষ করে Sydney, Melbourne এ টেক জায়ান্টদের ইভেন্ট খুব ফ্রিকুয়েন্টলি হয়। এই ইভেন্ট গুলোতে অন্য টেকনোলজি এক্সপার্ট দের সাথে নেটওয়ার্কিং করার বিশাল একটা সুযোগ থাকে। IT ইন্ডাস্ট্রিতে একটা জিনিস খুব জরুরি, তা হলো – আপনি যা জানেন তা খুব ভালো ভাবেই জানেন এবং সেটা অন্যকে জানাতেও আপনি পারদর্শী।

দীর্ঘ মেয়াদী চিন্তা করা
স্বল্পমেয়াদী চিন্তা করা, সবসময় শর্টকাট খোঁজা বাঙালির শতবছরের সমস্যা !! এই দোষে আমিও দূষি। IT ইন্ডাস্ট্রিতে আমরা ইন্টারন্যাশনাল সার্টিফিকেশন গুলোর পেছনে দৌড়াই শুধু মাত্র সার্টিফিকেট পাওয়ার জন্য। এর ফল আমরা পাই যখন আমরা ইন্টারভিউ ফেস করি। সার্টিফিকেশন খুব জরুরী, এই সার্টিফিকেশন প্রোগ্রাম কোম্পানি গুলো বানায় একটা এক্সপার্ট টেকনিক্যাল কমিউনিটি গ্রো করার জন্য, আর আমরা শুধু খুঁজি Question Set, যাতে মুখস্ত করে পাশ করা যায়। এই attitude টা খুব খারাপ ইম্ম্প্রেশন ক্রিয়েট করে যখন একজন চাকরি প্রার্থী গাদা গাদা সার্টিফিকেট নিয়ে যায় কিন্তু ইন্টারভিউতে সফল হতে পারেনা।

অন্যকে উৎসাহ দেয়া আর নিজের অজ্ঞতায় লজ্জা না পাওয়া
গত সাড়ে চার বছরে এটা আমার সবচেয়ে বড় শিক্ষা। একটা সময় ছিল, আমি ইমেইল লিখতে ভয় পেতাম। কারণ কিছুনা কিছু ভুল থাকতো ইমেইলে আর আমার বস অলওয়েজ বেপারটার সমালোচনা করতো। মানুষ মনের জোরে অনেক কিছু করতে পারে আর উৎসাহ মনের জোর বাড়ায়। এখন যে খুব ভালো ইংরেজী লিখি তা কিন্তু না, কিন্তু এখানে বসদের কাছ থেকে এই এটিটিউড পাইনাই কখনো। বরং পেয়েছি উৎসাহ, যেটা কনফিডেন্টস আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। ইংরেজী ভাষায় দেশি কাউকে কথা বলতে দেখলে বাঁকা চোখে দেখা আর ভুল ধরাটা আমাদের কমন অভ্যাস। আসলে ভাষা হলো যোগাযোগের মাধ্যম, অপরপক্ষের বোঝা নিয়ে কথা – কঠিন কঠিন ওয়ার্ড ইউজ করা আর ১০০% শুদ্ধ ব্যাকরণ প্রয়োগ কিন্তু মুখ্য না। এই ক্রিটিসিজমটা বাদ না দিলে বাঙালীর বিশ্ববাজারে বোল খুলতে আরো সময় লাগবে। আমাদের প্রতিবেশী দেশ এই প্রব্লেমটা ওভারকাম করেছে বলেই বিশ্ববাজারে ওদের এতো একসেপ্টেন্স। এই টেক ইন্ডাস্ট্রিতে জানার কোনো শেষ নাই, প্রতিদিন এতো টেলেন্টেড কলিগদের ভিড়ে নিজেকে কিছুক্ষনের জন্য হলেও বলদ মনে হয়, মনে হয় কিছুই জানি না। আর একটা জিনিস শিখলাম – না জানলে অকপটে শিকার করা আর জানার চেষ্টা করা। তাই নিজের অজ্ঞতায় লজ্জা পেয়ে বসে না থেকে শর্টকামিং একসেপ্ট করা আর শেখার চেষ্টা করাটা IT ইন্ডাস্ট্রিতে একটা sustainable ক্যারিয়ার গড়তে খুব জরুরী ।

পড়া, পড়া এবং বেশি বেশি পড়া
IT ইন্ডাস্ট্রিতে একটানা পড়ার কোনো বিকল্প নাই। সপ্তাহে অন্তত নতুন একটা টপিক পড়ার অভ্যাস আপনাকে সাহায্য করবে নিজের স্কিল গ্যাপ আইডেন্টিফাই করতে এবং পরিকল্পনা করতে নিজেকে তৈরি করার – লেটেস্ট ট্রেন্ড এর সাথে এডজাস্ট করার জন্য।

বের্থতায় হার না মানা
আমরা যারা মাইগ্রেশন নিয়ে এই দেশে আসি, আমারদের জন্য বেপারটা অনেক কঠিন হয় শুরুতে এই দেশে। প্রত্যেকে আমরা দেশে একটা সলিড ক্যারিয়ার সেক্রিফাইস করে এখানে আসি আর অনেকে হতাশ হয়ে পড়ি সামান্য ব্যর্থতায়। আমি জানি এই সিচুয়েশনটা হ্যান্ডেল করা অনেক কঠিন, কারণ আমিও একই সিচুয়েশন পার করেছি। এই সময়ে নিজের উপর বিশ্বাস রাখুন, IT ক্যারিয়ার বাদ দেয়ার চিন্তা মাথা থেকে ছাড়ুন, ধর্য্য ধরুন আর চেষ্টা করে যান – নিশ্চিত উৎরে যাবেন।

যাইহোক, অনেক জ্ঞান দিলাম, এই ইস্যু গুলোতে আমি নিজেও কাজ করছি নিজের ইমপ্রুভমেন্ট এর জন্য। অনেকেই হয়তো রিসেন্টলি মাইগ্রেট করেছেন অথবা নতুন অপর্চুনিটির খোঁজ করছেন অস্ট্রেলিয়াতে। তাই যদি হয়, তাহলে এখনই উপযুক্ত সময় নিজেকে আগামী বছরের চাকরির বাজারের জন্য তৈরি করার। হাতে আছে ৪ মাস, নিজেকে তৈরি করুন কোনো একটা ডিমান্ডিং সেগমেন্টের জন্য। আর আমার বিশ্বাস ২০১৯ সালে নিম্নক্ত স্কিল গুলোর ডিমান্ড বাড়বে।

১. ক্লাউড মাইগ্রেশন স্পেশালিস্ট
ক্লাউড টেকনোলজি এখন আর ইভ্যালুশন এর পর্যায়ে নাই, এখন কোম্পানী গুলো প্ল্যান করছে ঠিক কখন তারা ক্লাউড এ মাইগ্রেট করবে। এই ক্ষেত্রে অনেক কোম্পানির স্কীলড লোক দরকার হবে যারা মাইগ্রেশন মেথডোলজি গুলো ভালো বোঝে, আর যাদের ক্লাউড সার্ভিস নিয়ে হ্যান্ডসঅন এক্সপেরিয়েন্স আছে (যেমন আমাজন ওয়েব সার্ভিস এ কাজ করার অভিজ্ঞতা)।

২. কন্টেইনার স্পেশালিস্ট
একটা সময় ছিল, আমার ফিজিক্যাল সার্ভার ইউজ করতাম আলাদা আলাদা সার্ভিস হোস্ট করার জন্য। তারপর আসলো ভার্চুয়ালইজেশন। আর এখন কোম্পানি গুলো ঝুঁকছে Containerization এ। আমার বিশ্বাস, কেও যদি Kubernetes এ দক্ষ হয় তার চাকরির অভাব হবেনা (অন্তত ২০১৯ সালে) । এ ব্যাপারে আমি বাজি ধরতেও রাজি!!

৩. আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স – মেশিন লার্নিং স্পেশালিস্ট
যত দিন যাচ্ছে ভার্চুয়ালাইজেশন, মাইক্রো সার্ভিস আর্কিটেকচার বেপার গুলো বেসিক আন্ডারস্ট্যান্ডিং হয়ে যাচ্ছে। কোম্পানি গুলোও এই টেকনোলজি গুলোতে মাচুরর্ড হচ্ছে। আর এই পরিস্থিতি নতুন রিকুয়ারমেন্ট তৈরি করছে। সবাই এখন এনগেজমেন্ট প্লাটফর্ম বানাতে আগ্রহী। আর তার জন্য দরকার আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স/ মেশিন লার্নিং এ দক্ষতা। এখন একটা মোবাইল এপ্লিকেশন ডেভেলপারও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স / মেশিন লার্নিং ফীচার যোগ করছে ওদের সফটওয়্যার এ। অন্যদিকে সারা দুনিয়া একটা স্কিল ক্রাইসিস এ আছে এই সেগমেন্ট এ। আপনি যদি এই বিষয়ে দক্ষ হতে চান, ৪ মাস খুবই কম সময়। এ ব্যাপারে দক্ষ হতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এবং মেশিন লার্নিং এর উপর ইউনিভার্সিটির কোর্স গুলো আপনাকে সাহায্য করবে।

৪. মাইক্রোসার্ভিসেস স্পেশালিস্ট
Monolithic এপ্লিকেশন বানানোর যুগ সেই কবেই শেষ। এখন কোম্পানি গুলো ফোকাস করছে highly available, resilient, fault tolerant এপ্লিকেশন ডিজানের। মাইক্রোসার্ভিসেস আর্কিটেকচার এই ডিজাইন রিকুয়ারমেন্ট গুলো পূরণ করতে পারে। শিখে ফেলুন কিভাবে এপ্লিকেশন ডিজাইন করা যায় মাইক্রোসার্ভিসেস আর্কিটেকচার ফলো করে।

আশাকরি আমার সীমিত জ্ঞানের ভাবনা গুলো কারো কারো কাজে লাগবে। শুভকামনা রইলো সকল কঠোর পরিশ্রমী আর প্যাশনেট IT প্রফেশনালদের জন্য।

মাসুদুর রহমান সায়েম
সলিউশন আর্কিটেক্ট
সিডনি, অস্ট্রেলিয়া।

Source: http://www.proshantika.com/%E0%A6%85%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%AF%E0%A6%BC-it-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%86%E0%A6%B0/?fbclid=IwAR0TZLBzEzSiJC53VPi2bateus80vDESfy4m3JcskqfsBtMooMf7HV_3vQ4

15
বিশ্বের সেরা উদ্ভাবনী বিশ্ববিদ্যালয়গুলো

উদ্ভাবনীতে সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষেই আছে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ বছর বিশ্বের সেরা ১০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি তালিকা করেছে। বিজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তি, যোগাযোগপ্রযুক্তি, গবেষণা ও উদ্ভাবনী কাজে গবেষণার ভিত্তিতে এ তালিকা করা হয়েছে। বিশ্বের সেরা উদ্ভাবনী বিশ্ববিদ্যালয় নামের এ তালিকায় শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়।

চার বছর ধরে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভাবনীতে সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষেই আছে। বিশ্বের সেরা উদ্ভাবনী বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে অ্যাডভান্স সায়েন্স, নতুন ধারার প্রযুক্তির সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া, শিক্ষার্থীদের সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার শিক্ষা কারিকুলাম প্রণয়নের কাজ চালিয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে এগিয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়।

সম্প্রতি স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তাদের গবেষণার ক্ষেত্র বাড়িয়ে চলেছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ক্যামেরা প্রযুক্তি, চালকবিহীন গাড়ি এবং অসুস্থ হলে মানুষকে কী পরিমাণ ওষুধ সেবন করতে হতে পারে—এমন নানান উদ্ভাবনী ব্যাপারে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে।

রয়টার্সের র‍্যাঙ্কিংয়ে এশিয়ার দেশগুলো এবং যুক্তরাজ্যের চেয়ে এগিয়ে আছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তালিকায় মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের জয়জয়কার। ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) দ্বিতীয়, হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি তৃতীয় স্থানে আছে। ২০১৮ সালের আগের তিন বছরে এই তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় সেরা তিনে ছিল। দ্য ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়া আছে চারে। এ নিয়ে দ্বিতীয়বার যুক্তরাষ্ট্রের এই বিশ্ববিদ্যালয়টি র‍্যাঙ্কিংয়ে জায়গা করে নিল। সেরা পাঁচ ও ছয়ে আছে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়। পাঁচে দ্য ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটন আর ছয়ে দ্য ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস। দ্য ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটন গতবারের চেয়ে এবার দুধাপ এগিয়েছে।

সেরা সাতে বেলজিয়ামের ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি লুভেন। র‍্যাঙ্ক অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে সেরায় প্রথম ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি লুভেন। ইমপিরিয়াল কলেজ লন্ডন, ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলাইনা চ্যাপেল হিল এবং ভ্যানডারবিল্ট ইউনিভার্সিটি আছে যথাক্রমে আট, নয় ও দশে।

রয়টার্সের উদ্ভাবনী বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরা দশের আটটি বিশ্ববিদ্যালয় গতবার সেরা দশে ছিল।

এবারের তালিকায় সবচেয়ে এগিয়েছে ইউনিভার্সিটি অব ম্যানচেস্টার। বিশ্ববিদ্যালয়টি ২৭ ধাপ এগিয়েছে। গতবারের তালিকার ৮০-তে থাকা এই বিশ্ববিদ্যালয় এবার ৫৩-তে উঠে এসেছে। শক্তিশালী পদার্থ নিয়ে নিয়মিত গবেষণার কারণে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের এ উল্লম্ফন।

এশিয়ার মান রক্ষা জাপান-কোরিয়ায়
সেরা ১০-এর তালিকায় আমেরিকা ও ইউরোপের সংখ্যা বেশি থাকলেও জায়গা করে নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া, চীন ও জাপান। এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো জায়গা করে নিয়েছে গবেষণা ও উদ্ভাবনীতে মূল লক্ষ্য নির্ধারণ করায়।

সর্বেসর্বা যুক্তরাষ্ট্র
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দিন দিন গবেষণা ও উদ্ভাবনী কাজে প্রচুর ডলার ব্যয়ের ফল হাতেনাতেই পাচ্ছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিজ্ঞানী, গবেষকেরা বিশ্বকে এগিয়ে নিতে নতুন নতুন কাজ করে যাচ্ছেন। তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬টি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে।

দেশ হিসেবে জার্মানি ও জাপান আছে দ্বিতীয় স্থানে। এ দুটি দেশের নয়টি করে বিশ্ববিদ্যালয় তালিকায় আছে। দক্ষিণ কোরিয়ার আটটি, চীন, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের আছে ৫টি করে। সুইজারল্যান্ডের আছে ৩টি, বেলজিয়াম, কানাডা, ইসরায়েল, নেদারল্যান্ডসের দুটি করে।

অঞ্চলের ভিত্তিতে জরিপের দিকে তাকালে উদ্ভাবনী সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় উত্তর আমেরিকা থেকে সবচেয়ে বেশি বিশ্ববিদ্যালয় জায়গা করে নিয়েছে। ১০০ টির মধ্য ৪৮টি উত্তর আমেরিকা (যুক্তরাষ্ট্র ৪৬, কানাডা ২) থেকে। ইউরোপ থেকে ২৭, এশিয়া থেকে ২৩ এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে দুটি বিশ্ববিদ্যালয় আছে। আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা এবং ওশেনিয়া অঞ্চল থেকে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় তালিকায় জায়গা করে নিতে পারেনি। তথ্যসূত্র: ইকোনমিক টাইমস।

Source: https://www.prothomalo.com/international/article/1561324/%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%B0%E0%A6%BE-%E0%A6%89%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%80-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%9F%E0%A6%97%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A7%8B

Pages: [1] 2 3 ... 13