Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Topics - Md.Towhiduzzaman

Pages: [1] 2 3 4
1
Common Forum / গবেষণা নিয়ে ৫ প্রশ্ন
« on: January 15, 2020, 10:11:41 AM »

গবেষণা নিয়ে ৫ প্রশ্ন

আমাদের দেশের বহু তরুণ এখন দেশ-বিদেশে গবেষণা করছেন। নামী জার্নালেও প্রকাশিত হয়েছে অনেকের গবেষণাপ্রবন্ধ। গবেষণায় আগ্রহ আছে অনেকের। কিন্তু নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খায় শিক্ষার্থীদের মনে। এমনই পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর থাকছে এবারের মূল রচনায়।

গবেষণা নিয়ে ৫টি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন ৫ জন বাংলাদেশি গবেষক।

১.

রাগিব হাসান
সহযোগী অধ্যাপক, কম্পিউটারবিজ্ঞান বিভাগ, যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব অ্যালাবামা অ্যাট বার্মিংহাম
গবেষণা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে স্নাতকে যাঁরা গবেষণা করছেন, গবেষণাপত্র প্রকাশ করছেন, তাঁদের বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ অনেক বেশি। বিভিন্ন জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাপত্র, প্রবন্ধ, পোস্টার উপস্থাপনকে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের নামীদামি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গবেষণার অভিজ্ঞতা বিদেশে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনে ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়ে দেয়। দেশে গবেষণার অভিজ্ঞতা থাকলে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার ক্ষেত্রে অনুদান, ফেলোশিপ, অ্যাসিস্ট্যান্সি, বৃত্তির মাধ্যমে আর্থিক সহযোগিতা পাওয়ার সুযোগ থাকে।

গবেষণা শুধু উচ্চশিক্ষার সুযোগকে বিস্তৃত করে না, ভবিষ্যতের কর্মবাজারেও দারুণ কার্যকর। যে বিষয়ে গবেষণা করছেন, সে বিষয় নিয়ে কাজ করা কোনো না কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান আপনার কর্মস্থল হতে পারে। গবেষণারত অবস্থায় অনেক প্রযুক্তিগত ও বৈজ্ঞানিক গবেষণাগারে কাজের সুযোগ পান গবেষকেরা। গবেষণাকালীন সময়ে বিভিন্ন দেশে পেপার উপস্থাপন ও কনফারেন্সে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকে।

যাঁরা ভবিষ্যতে শুধু শিক্ষক বা গবেষক হতে চান, তাঁদের জন্যই শুধু গবেষণা নয়, গবেষণা আসলে উচ্চশিক্ষার একটি অংশ। স্নাতক-স্নাতকোত্তর পর্যায়ে গবেষণায় আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বেশি জোর দেওয়া প্রয়োজন।

২.

সাইফুল ইসলাম
পিএইচডি গবেষক, কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়, অস্ট্রেলিয়া
গবেষণার কাজ কোন সময়ে শুরু করা উচিত?

আমাদের দেশে বেশির ভাগ শিক্ষার্থীই স্নাতক পর্যায়ে গবেষণার দিকে তেমন মনোযোগী নন। কিন্তু গবেষণা নিয়ে ভাবনা আসলে বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের শুরু থেকেই করা উচিত। যে বিষয়েই পড়ুন না কেন, প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষ থেকেই ভবিষ্যতে কোন বিষয়ে গবেষণা করতে চান, তা খুঁজতে থাকুন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষ গবেষণার মনন বিকাশের দারুণ সময়। হুট করে তো একদিন গবেষক হয়ে ওঠা যায় না, তাই এই সময়কে গোছানোর জন্য কাজে লাগানো প্রয়োজন। স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অনেকে তাড়াহুড়া করে গবেষণা শুরু করেন। তখন একটু বেশি চাপ হয়ে যায়। যত আগে শুরু করা যায়, যত আগে গবেষণার কৌশল সম্পর্কে শেখা যায়, আর্টিকেল লেখার চর্চা করা যায়, ততই নিজেকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকে। বিভিন্ন জার্নাল পেপারে আর্টিকেল জমা দেওয়ার নিয়ম জানতে হবে। বিভিন্ন সেমিনার ও সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে কোন কোন ক্ষেত্রে নিজেকে গবেষক হিসেবে তৈরি করবেন, তা জানার সুযোগ আছে। যে বিষয়ে গবেষণা করতে চান, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ইমেইলে যোগাযোগের চেষ্টা করতে পারেন। গবেষক হিসেবে নেটওয়ার্ক গড়ে তোলাও জরুরি।বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের শুরু থেকেই গবেষণার বিষয়ের খোঁজ করতে হবে। আর সে জন্য বেশি বেশি পড়তে হবে, জানতে হবে। ছবি: খালেদ সরকারবিশ্ববিদ্যালয়জীবনের শুরু থেকেই গবেষণার বিষয়ের খোঁজ করতে হবে। আর সে জন্য বেশি বেশি পড়তে হবে, জানতে হবে। ছবি: খালেদ সরকার

৩.

শরিফা সুলতানা
পিএইচডি ইন ইনফরমেশন সায়েন্স, কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাষ্ট্র
কীভাবে বেছে নেব গবেষণার বিষয়?

গবেষণার দুনিয়া অনেক বড়, উন্মুক্ত। নানা বিষয়ে গবেষণার সুযোগ আছে। যাঁরা গবেষণার অ আ ক খ মোটামুটি জানেন, তাঁদের জন্য পুরো প্রক্রিয়া বোঝা সহজ। যে বিষয়ে পড়ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে, তা নিয়ে যেমন গবেষণার সুযোগ আছে, তেমনি নিত্যনতুন অসংখ্য বিষয় আছে। আমি যেমন মানুষ ও কম্পিউটারে মিথস্ক্রিয়া ও ডিজিটাল সিগন্যাল প্রসেসের মতো বিষয় নিয়ে গবেষণা করছি। নিজের বিষয়ের বাইরেও আমাকে জানতে হচ্ছে, শিখতে হচ্ছে। প্রকৌশলের শিক্ষার্থী হওয়া সত্ত্বেও কবিরাজি চিকিৎসা নিয়ে আমার একটি গবেষণাপত্র ২০১৯ সালে প্রকাশিত হয়।

গবেষণার ক্ষেত্রে আসলে নিজের পছন্দের বিষয়কে যেমন গুরুত্ব দিতে হয়, তেমনি যে বিষয় নিয়ে কাজের সুযোগ আছে, তা ভাবা জরুরি। প্রকৌশল কিংবা জীববিজ্ঞানের কোনো বিষয়ে পড়েও সামাজিক বিজ্ঞানের সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো গবেষণাপত্র তৈরি করতে পারেন। স্নাতকে যে বিষয়ে পড়ছেন, বা যে কোর্সে আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তা নিয়েই শুরু করুন। ধীরে ধীরে জানার দুনিয়া বড় করতে হবে, গবেষণাকে বিস্তৃত করতে হবে। গবেষণায় তাত্ত্বিক পড়াশোনার দিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিভিন্ন গবেষণা কৌশল, তথ্য বিশ্লেষণ, তথ্য সংগ্রহের মতো বিষয় সম্পর্কে জানতে হবে। ধীরে ধীরে আপনার গবেষণার বিষয় ও আগ্রহ সম্পর্কে জেনে যাবেন।

৪.

আলিয়া নাহিদ
প্রধান, ইনিশিয়েটিভ ফর নন কমিউনিকেবল ডিজিজেস, আইসিডিডিআরবি ও ক্লিনিক্যাল রিসার্চ প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ
একজন গবেষকের মধ্যে কী কী দক্ষতা বা গুণ থাকা উচিত?

আগ্রহ আর ধৈর্যশক্তির জোরে যেকোনো শিক্ষার্থীই গবেষক হয়ে উঠতে পারেন। বুদ্ধিমত্তা ও কৌতূহল গবেষক হওয়ার জন্য ভীষণ জরুরি। অন্যদের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ, নেতৃত্বদান, অন্য গবেষকের অধীনে কিংবা দলের সঙ্গে কাজ করার কৌশল আয়ত্ত করতে হবে। নিজেকে যেমন বুঝতে হবে, তেমনি নিজের যোগ্যতাকে বিকাশে সময় দিতে হবে। তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের সক্ষমতা থাকতে হবে।

গবেষণায় শেষ বলে কিছু নেই, তাই সব সময় পর্যবেক্ষণ মনোভাবে থাকতে হবে। অনুসন্ধিৎসু হতে হবে।

গবেষকদের আরেকটি গুণ থাকা ভীষণ জরুরি—তা হচ্ছে সততা ও নৈতিকতা। মানসিকভাবে সৎ ও নৈতিক হওয়া প্রত্যেক গবেষকের জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি কাজের ক্ষেত্রেও নৈতিক থাকতে হবে। গবেষক হিসেবে গবেষণা নিয়ে অনেক সমালোচনা কিংবা নেতিবাচক ফল আসতে পারে, তাই বলে হাল ছেড়ে দিলে চলবে না।

শিক্ষক ও বিশেষজ্ঞ পেশাজীবীদের সঙ্গে গবেষণার সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। বর্তমান সময়ে গবেষণার ক্ষেত্রে যেসব টুলস বা প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়, যেমন এসপিএসএস, ম্যাটল্যাব—এগুলোর ব্যবহার শিখতে হবে।

৫.

নিগার সুলতানা
পিএইচডি, ওয়াটারলু বিশ্ববিদ্যালয়, কানাডা
গবেষণার মাঝপথে এসে থমকে গেলে কী করব?

গবেষণা অনেক সময়ের বিষয়। হুট করে শুরু করা যায় না। তবে বাস্তবতার কারণে গবেষণায় বাধা আসতেই পারে, থেমে যেতে হতে পারে। গবেষণায় হয়তো ফান্ড কমে গেল কিংবা বন্ধ হয়ে গেল। হয়তো
গবেষণা করছেন, কিন্তু ফল পাচ্ছেন না। গবেষণা তত্ত্বাবধায়ক, সহগবেষকদের সঙ্গে অনেক বিষয়ে তর্ক ও বিতর্কের অবকাশ থাকে।

একজন গবেষককে সব পরিস্থিতির জন্য তৈরি থাকতে হবে। প্রয়োজনে সুপারভাইজার ও অন্যান্য গবেষকদের সহায়তা নিতে হবে। গবেষণা আসলে প্রকল্প ব্যবস্থাপনা। কাজটাকে ছোট ছোট ভাগ করে নিতে হবে। অনেকেই গবেষণা শুরুর পরে হাল ছেড়ে দেন। তরুণ গবেষকদের মধ্যে এই প্রবণতা খুব বেশি। প্রয়োজনে শিক্ষক ও মনোবিদদের পরামর্শ নিতে হবে।

গবেষক হিসেবে আপনার জীবনের চাপ অন্যরা গুরুত্ব না–ও দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে নিজের স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রাখা জরুরি। প্রয়োজনে একটু বিরতির পর আবার জেদ নিয়ে ফিরে আসুন। কাজে আগ্রহ হারিয়ে ফেলা তরুণ গবেষকদের সাধারণ সংকট বলা যায়। এ ক্ষেত্রে জীবনের অন্যান্য বিষয় আর শখকেও গুরুত্ব দিতে হবে। গবেষণাকাজ ও জীবনের মধ্যে ‘সামঞ্জস্য’ এনে নিজেকে উজ্জীবিত করতে হবে।

2
চোখের উপযোগী ব্যায়াম নিয়মিত করা উচিত। এতে চোখের অতিরিক্ত ক্লান্তি দূর হওয়ার পাশাপাশি আর্দ্রতা ধরে রাখা সহজ হবে।

শীতে ত্বক ও চুলের পাশাপাশি চোখের যত্নও নেওয়া প্রয়োজন। কারণ, এ সময় পরিবেশে ধুলাবালি বেশি থাকে এবং আবহাওয়া শুষ্ক হওয়ায় চোখের স্বাভাবিক আর্দ্রতা নষ্ট হয়। ফলে চোখের অ্যালার্জি, চুলকানি, শুষ্ক চোখ, খচখচ করার মতো সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। শীতকালে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করলে এই সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া যায়।

চশমা ব্যবহার করুন: বাইরে বের হলে চশমা বা রোদচশমা ব্যবহার করুন। সরাসরি সূর্যের আলো যাতে না পড়ে, সে জন্য পুরো চোখ ঢেকে থাকে—এমন ফ্রেমের চশমা ব্যবহার করুন।
Vaseline Veer

শরীর আর্দ্র রাখুন: শরীর আর্দ্র রাখতে প্রচুর তরলজাতীয় খাবার খেতে হবে। এমনিতেই শীতে পানি পান কমে যায়। তাই পানি ছাড়াও ফলের রস, গরম স্যুপ ইত্যাদি খেতে পারেন, যা শরীর উষ্ণ ও আর্দ্র রাখতে সাহায্য করবে। এতে চোখের শুষ্কভাবও কমে যাবে।

ওমেগা-৩ যুক্ত খাবার খান: ওমেগা-৩ যুক্ত মাছ বেশি খেতে হবে। এতে চোখে অশ্রু বেশি তৈরি হবে।

শাকসবজি খান: শাকসবজিতে প্রয়োজনীয় ভিটামিন, ক্যারোটিন ইত্যাদি আছে, যা চোখ ভালো রাখে। ফুলকপিতে থাকা ভিটামিন–এ চোখের দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়। চোখের পুষ্টি উপাদানের ‘পাওয়ার হাউস’ বলা যেতে পারে মিষ্টিকুমড়াকে।

চোখের ব্যায়াম

চোখের উপযোগী ব্যায়াম নিয়মিত করা উচিত। এতে চোখের অতিরিক্ত ক্লান্তি দূর হওয়ার পাশাপাশি আর্দ্রতা ধরে রাখা সহজ হবে।

ব্যায়াম ১: মাথা সোজা রেখে চোখ হাতের ডান থেকে বাঁয়ে ও বাঁ থেকে ডানে ১০ বার ঘোরাতে হবে। প্রতিদিন সম্ভব না হলে সপ্তাহে অন্তত তিন দিন করা যেতে পারে।

ব্যায়াম ২: কাজের ফাঁকে কিছু সময় চোখ বন্ধ রাখুন। হাতে হাত ঘষে হাতের তালু কিছুটা গরম করে বন্ধ চোখের ওপর রাখুন। হাতের তালু এমনভাবে রাখুন, যাতে ভেতরে কোনো আলো না যেতে পারে। দুই মিনিট এভাবে থাকুন। দিনে বেশ কয়েকবার এমন করলে চোখের বিশ্রাম হবে।

ব্যায়াম ৩: যাঁরা কম্পিউটার ও মুঠোফোন বেশি ব্যবহার করেন, তাঁদের চোখ শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যায় ভুগতে দেখা যায়। কাজেই একটানা তাকিয়ে না থেকে কম্পিউটার ও মুঠোফোন ব্যবহারের সময় ঘন ঘন চোখের পাতা ফেলুন। নিয়মিত পানির ঝাপটা দিয়ে চোখ পরিষ্কার করুন।

ব্যায়াম ৪: রাতে ঘুমানোর সময় বিছানায় শুয়ে চোখ বন্ধ করে চোখের পাতা আঙুলের ডগা দিয়ে হালকা করে ঘুরিয়ে ম্যাসাজ করুন। ভ্রুর নিচের দিকে ও চোখের নিচের দিক এভাবে দুই মিনিট ম্যাসাজ করুন। এতে ঘুমও ভালো হবে, চোখের অতিরিক্ত ক্লান্তিও দূর হবে।

চক্ষু বিশেষজ্ঞ, সহকারী অধ্যাপক, গ্লকোমা বিভাগ, জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল

3
Common Forum / মেডিটেরিনিয়ান ডায়েট
« on: December 23, 2019, 09:25:43 AM »

মেডিটেরিনিয়ান ডায়েট
২১ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৩:৫৪
আপডেট: ২২ ডিসেম্বর ২০১৯, ১১:৩৫
প্রিন্ট সংস্করণ
 
 
মেডিটেরিনিয়ান ডায়েট

বিশ্বজুড়ে মেডিটেরিনিয়ান ডায়েট জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। গবেষণা বলছে, এই বিশেষ ধরনের ডায়েট মেনে চললে টাইপ–২ ডায়াবেটিস, হৃদ্‌রোগ, স্ট্রোক ও স্থূলতার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে। এতে শাকসবজি, ফলমূল, বাদাম, মটরশুঁটি, শস্য, মাছ ও অলিভ অয়েলের মতো অসম্পৃক্ত চর্বির পরিমাণ বেশি। সেই সঙ্গে মাংস এবং দুগ্ধজাতীয় খাবার কম খাওয়ার পরামর্শও থাকে এই ডায়েটে।

মেডিটেরিনিয়ান  ডায়েটে অভ্যস্ত হতে কিছু পরামর্শ

সকালের নাশতা নিয়ে অযথা আলস্য বা কালক্ষেপণ করবেন না। ঘুম থেকে উঠে ফল, ওটস, লাল আটার রুটি এবং অন্যান্য ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার পেট ভরে খান।

সপ্তাহে দুবার সামুদ্রিক মাছ খাবেন। টুনা, স্যামন, সার্ডিন জাতীয় মাছ ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ।

স্বাস্থ্যকর তেল ব্যবহার করুন। জলপাই তেল, বাদাম, সূর্যমুখীর বীজ, জলপাই ও অ্যাভোকাডো আপনার প্রতিদিনের স্বাস্থ্যকর খাবারের তালিকায় থাকতে পারে। দিনে ৬ থেকে ৮ গ্লাস পানি পান করুন। সপ্তাহে দুই দিন নিরামিষ খান। শাকসবজি, রুটি, ননিহীন দই বা পনির এবং নানা ধরনের ফল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। দুই দিন না পারলে অন্তত এক দিন এ ধরনের খাবারে অভ্যস্ত হোন।

ডেজার্ট হিসেবে তাজা ফল খেতে পারেন। আইসক্রিম, কেক বা অন্যান্য বেকড সামগ্রীর পরিবর্তে স্ট্রবেরি, তরমুজ, আঙুর বা আপেল বেছে নিন।

একটি মেডিটেরিনিয়ান ডায়েট খাবারের নমুনা

সকালের নাশতা: সেদ্ধ ডিম ১টি, লাল আটার রুটি ২টি এবং সবজি (টমেটো, ব্রকলি, পালংশাক, ফুলকপি, গাজর, ব্রাসেলস স্প্রাউটস, শসা ইত্যাদি)

স্ন্যাকস: একটি ফল (আপেল, কলা, কমলা, নাশপাতি, পেয়ারা ইত্যাদি)

দুপুরের খাবার: লাল চালের ভাত, সবজি, মাছ

বিকেলের নাশতা: বীজ বা বাদাম (বাদাম, আখরোট, হ্যাজেলনাট, কাজু, সূর্যমুখীর বীজ, কুমড়ার বীজ ইত্যাদি), এক থেকে দুই কাপ ননিহীন দই বা পনির

রাতের খাবার: মাঝারি আকারের লাল আটার দুটি রুটি, সবজি এবং একটি ফল।

আগামীকাল পড়ুন: শীতে শিশুর যত্ন

ডা. আ ফ ম হেলালউদ্দিন, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ

লেখক: লাজিনা ইসলাম চৌধুরী: পিপলস হাসপাতাল খিলগাঁও, ঢাকা।

4
কথা বলা বা ভাষা বোঝার জন্য মস্তিষ্কের কিছু বিশেষ এলাকা ব্যবহৃত হয়। কোনো কারণে স্ট্রোক, আঘাত বা মস্তিষ্কের নানা সমস্যায় এই এলাকাগুলো আক্রান্ত হলে কথা বুঝতে ও বলতে রোগীর সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই সমস্যাগুলো নানা রকমের। যেমন ভাষা বা কথা বুঝতে সমস্যা হলে তাকে বলা হয় এল রিসেপটিভ অ্যাফেসিয়া বা ভার্নিকস অ্যাফেসিয়া। আবার কারও বুঝতে অসুবিধা নেই, অন্যরা কী বলছে, তা ঠিক বুঝতে পারেন কিন্তু তার উত্তরে কিছু বলতে পারেন না ঠিকমতো। এটি হলো মটর অ্যাফেসিয়া। কারও আবার বুঝতে বা বলতে—কোনোটাতেই সমস্যা নেই কিন্তু মুখের পেশিগুলোর দুর্বলতার কারণে উচ্চারণে সমস্যা হয়, কথা অস্পষ্ট হয়, একে বলে ডিসআরথ্রিয়া। আবার ডিসপ্রেক্সিয়া মানে হলো, কথা বলার প্রয়োজনীয় অঙ্গগুলো যেমন জিব, ঠোঁট, তালু ঠিকমতো ব্যবহার না করতে পারা।

স্ট্রোকের পর প্রায় ৪০ শতাংশ রোগীর অ্যাফেসিয়া হয়, মানে তাদের বাক্‌শক্তি রহিত হয়। মস্তিষ্কের কোন এলাকা কতটুকু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার ওপর নির্ভর করে এর ধরন। তবে এই অবস্থা থেকে সম্পূর্ণ বা আংশিক উত্তরণ সম্ভব, যদি সময়মতো ও ঠিকমতো থেরাপি নেওয়া যায়। আসুন, দেখা যাক কীভাবে তা করতে পারেন।

শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম: নাক দিয়ে নিশ্বাস নিয়ে মুখ দিয়ে ছাড়তে বলুন। এতে কথা বলার সময় শ্বাসপ্রশ্বাসের নিয়ন্ত্রণ উন্নত হয়। জিব, ঠোঁট ও গালের পেশির ব্যায়াম: জিব বাইরে বের করা এবং আবার ভেতরে নেওয়ার ব্যায়াম করতে হবে বারবার। জিব ডানে–বাঁয়ে নেওয়া, জিব ঠোঁটের চারপাশে ঘোরানো, জিব ওপরে–নিচে নেওয়ার ব্যায়াম করান। গাল ফোলানোর ব্যায়ামে গালের পেশি শক্ত হয়। দুই দাঁতে কামড় দিয়ে ঠোঁট দুই পাশে বিস্তৃত করতে হবে—অনেকটা ইংরেজি ই বলার মতো করে। উ উ বলার মতো করে ঠোঁট গোল করে ধরে রাখুন।

কথা বলার অনুশীলন
শব্দ দিয়ে বাক্য গঠনের অনুশীলন করান। যেমন আম, আম খাব, আমি আম খাব—এভাবে ধীরে ধীরে দক্ষতা বাড়ান।

হিমিকা আরজুমান, বিভাগীয় প্রধান, স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি অ্যান্ড রিসার্চ ইউনিট, বাংলাদেশ থেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন ফাউন্ডেশন

আগামীকাল পড়ুন: অ্যান্টিবায়োটিক
প্রশ্ন-উত্তর
আমাদের দৈনন্দিন জীবনে রয়েছে নানা স্বাস্থ্য সমস্যা। অনেক সময় ঘরে বসে কিংবা জীবনধারা পরিবর্তনের মাধ্যমে এসব সমস্যার সমাধান সম্ভব। আপনার সমস্যা নিয়ে প্রশ্ন পাঠান। উত্তর দেবেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা। বয়স লিখতে ভুলবেন না।

5

চোখে একটি বস্তু দুটি দেখলে কী করবেন
ডা. মো. ছায়েদুল হক
০৬ নভেম্বর ২০১৯, ১১:০৫
আপডেট: ০৭ নভেম্বর ২০১৯, ১০:৫২
প্রিন্ট সংস্করণ
 
 
চোখে একটি বস্তু দুটি দেখলে কী করবেন

আমাদের দুই চোখ একটি বস্তুর ত্রিমাত্রিক ছবি মস্তিষ্কে উপস্থাপন করে। সেভাবেই আমরা দেখি এবং এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু কেউ কেউ একটি বস্তুকে দুটি দেখেন। একে বলে ডিপ্লোপিয়া বা ডাবল ভিশন।

বিভিন্ন কারণে ডাবল ভিশন হতে পারে। এ সমস্যার জন্য চোখের ভেতরের পেশির ভারসাম্যহীনতা দায়ী। চোখের পেশিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে কয়েকটি নির্দিষ্ট স্নায়ু আছে। যেমন অকুলোমটর নার্ভ, ট্রকলিয়ার নার্ভ, এবডুসেন্ট নার্ভ। এই স্নায়ুগুলো মস্তিষ্কের ভেতর থেকে এসে চোখের পেছন দিকে চক্ষুকোটরে (অরবিট) প্রবেশ করে এবং সবশেষে চোখের পেশিগুলোয় পৌঁছায়। মস্তিষ্ক বা চক্ষুকোটরে (অরবিট) টিউমার, আঘাত, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের কারণে এসব স্নায়ুতে বৈকল্য দেখা দিতে পারে। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা স্ট্রোক, স্নায়ুরোগ মাল্টিপল স্লেরোসিসের জন্যও স্নায়ুবৈকল্য দেখা দিতে পারে। থাইরয়েড গ্রন্থির সমস্যা বা মায়াসথেনিয়া রোগেও পেশিগুলো আক্রান্ত হতে পারে। ডিপ্লোপিয়ার সঙ্গে চোখ ট্যারা, চোখ বা মাথাব্যথা, চোখের পাতা ঝুলে যাওয়া, চোখের নড়াচড়া সীমিত হয়ে আসা ইত্যাদি উপসর্গও থাকতে পারে।

বয়স্কদের বেলায় হঠাৎ করেই ডিপ্লোপিয়া দেখা দেয়। একে অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। প্রথমত একজন চক্ষুবিশেষজ্ঞের মাধ্যমে চোখ পরীক্ষা করিয়ে নিশ্চিত হতে হবে। রোগীর ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ থাকলে তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নিতে হবে। মস্তিষ্কের কারণগুলোর মধ্যে ব্রেইন টিউমার, মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ, মস্তিষ্কের প্রদাহ অন্যতম। এই কারণগুলো চিহ্নিত করতে সিটি স্ক্যান বা এমআরআই ইত্যাদি পরীক্ষার সাহায্য নিতে হতে পারে। এ ক্ষেত্রে দ্রুত একজন নিউরোসার্জনের তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে হবে। হরমোনের সমস্যা থাকলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ দরকার।

দ্রুত ডিপ্লোপিয়ার চিকিৎসা না নিলে এ সমস্যা স্থায়ী হয়ে যেতে পারে। টিউমার, হরমোন, স্ট্রোক ইত্যাদি কারণে এ সমস্যা হলে সামান্য অবহেলাও জীবন সংশয়ের কারণ হতে পারে।

চক্ষুবিশেষজ্ঞ ও সার্জন, সাবেক সহযোগী অধ্যাপক, জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল

6
Common Forum / পায়ুপথের যত সমস্যা
« on: October 17, 2019, 12:24:46 PM »
সাধারণত পায়ুপথের সব রোগকেই বেশির ভাগ মানুষ পাইলস বলে জানে। পায়ুপথের রোগ মানেই পাইলস নয়। পায়ুপথে ফিসার, ফিস্টুলা, হেমোরয়েড, ফোড়া, প্রোলাপস, রক্ত জমাট, পলিপ বা টিউমার হতে পারে। সবগুলো ক্ষেত্রেই কোষ্ঠকাঠিন্য অন্যতম কারণ।

ফিসার

কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে পায়ুপথের সামনে অথবা পেছনে ফেটে গিয়ে ক্ষত তৈরি হলে তাকে ফিসার বলে। বাংলায় বলে ভগন্দর। এই সমস্যায় তীব্র বা মাঝারি ব্যথা ও জ্বালাপোড়া হয়। মলত্যাগের সময় সামান্য রক্ত যায়। পায়ুপথ সরু হয়ে আসে। অনেক দিন ধরে যাঁরা ভুগছেন, তাঁদের অস্ত্রোপচারের দরকার হয়। প্রাথমিক অবস্থায় খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, জিটিএন মলম ব্যবহার, পভিসেপ লোশন মেশানো কুসুম গরম পানিতে ছেঁক দিলে ভালো থাকা যায়।

পাইলস

চিকিৎসকেরা একে বলেন হেমোরয়েড। বাংলায় অর্শ। পাইলস ক্রমান্বয়ে আকারে বৃদ্ধি পেয়ে নিচে নেমে আসে। পায়ুপথকে ঘড়ির সঙ্গে তুলনা করলে ৩টা, ৭টা ও ১১টার কাঁটার জায়গায় তিনটি রক্তের শিরা কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে চাপ খেয়ে ফুলে ক্রমশ নিচের দিকে নামতে থাকে। এর পাঁচটি পর্যায় আছে। পাইলস ব্যথাহীন হলেও প্রচুর রক্তপাত হতে পারে। প্রথম পর্যায়ের পাইলস খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন, মল নরম করার ওষুধ এবং কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ দিয়ে সারানো সম্ভব। দ্বিতীয় পর্যায়ের পাইলসে ব্যান্ড লাইগেশন খুবই কার্যকরী অস্ত্রোপচার। তৃতীয় ও চতুর্থ মাত্রার পাইলসে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পাইলসগুলো কেটে ফেলা হয়।

ফোড়া বা এবসেস

পায়ুপথের ভেতরে ও বাইরে ছোট-বড় নানা ধরনের ফোড়া হতে পারে। ডায়াবেটিস এর অন্যতম কারণ। অস্ত্রোপচার না করলে এই সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের পরে ফিস্টুলা হওয়ার ঝুঁকি খুব বেশি।

ফিস্টুলা

ফিস্টুলা হলো একটি ঘা, যার একটি মুখ পায়ুপথের বাইরে, অপরটি ভেতরে থাকে। ফোড়া হওয়ার কারণে এটি হয়। এরও চিকিৎসা অস্ত্রোপচার। তবে নালির ভেতরের মুখ যদি খুব ওপরে হয় বা আঁকাবাঁকা হয়, তবে অস্ত্রোপচার ব্যর্থ হতে পারে। কাজেই অস্ত্রোপচারের আগে ফিস্টুলোগ্রাম, এমআরআই করে নেওয়া ভালো।

প্রোলাপস

পায়ুপথ দিয়ে অনেক সময় বৃহদন্ত্রের কোনো অংশ আংশিক বা পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে পারে। একে প্রোলাপস বলে। ল্যাপারোসকপি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এর চিকিৎসা করা যায়।

হেমাটোমা

কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে পায়ুপথের রক্তনালি ফেটে রক্ত জমাট বাঁধতে পারে। কখনো কখনো প্রচণ্ড ব্যথা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে পরিস্থিতি জটিল হয়ে গেলে অস্ত্রোপচার করা লাগতে পারে।

7
ত্রিশ বছর বয়সকে জীবনের একটি বাঁকও বলা হয়ে থাকে। এ সময় শরীর ও মনে অনেক পরিবর্তন হয়। তাই খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে সচেতন হতে হবে। কারণ ত্রিশ বছর পেরিয়ে গেলে কিছু খাবার বাদ দিলে আপনি সুস্থ থাকবেন।

ত্রিশের পর সুস্থ থাকতে খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এমন চারটি খাবারের বিষয়ে জানিয়েছে স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট ডেমিক।

আসুন জেনে নেই ত্রিশের পর যে ৪ খাবার এড়িয়ে চললে সুস্থ থাকবেন।

১.৩০ বছরের পরে কৃত্রিম চিনি অতিরিক্ত খাওয়া যাবে না। কৃত্রিম চিনি অতিরিক্ত খেলে নসার ও টাইপ-টু ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।

২.অ্যালকোহলে ক্যালরি থাকায় ৩০ বছরের পর শরীরের বাড়তি ক্যালরি ঝড়াতে কষ্ট হয়। এছাড়া অ্যালকোহল শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ফলে শরীর ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

৩.চায়ে থাকা ক্যাফেইন ও দুধে থাকে ক্যাজেইন। যা ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। এ ছাড়া দুধ চা শরীরকে পানিশূন্য করে দেয়। আর ৩০ বছরের পর যেহেতু ত্বক ধীরে ধীরে বার্ধক্যের দিকে এগোতে থাকে তাই চা কফি না খাওয়াই ভালো।

৪.ত্রিশের পর সাদা আটার রুটি এড়িয়ে যেতে বলেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ শরীর আটাকে গ্লুকোজে রূপান্তর করে। ফলে দ্রুত চর্বি জমায়।তাই সাদা আটা না খেয়ে লাল আটার রুটি খাওয়া পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

8
ঢাকার রায়েরবাজার বস্তির ঘিঞ্জি পরিবেশে বেড়ে ওঠা। মালিকের পক্ষে একটি বস্তির দেখভাল করে যা কিছু আয়, তাই দিয়ে সিয়াম হোসেনের বাবা সংসার চালান। ওই পরিবেশ থেকে ঠিকমতো পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে কি না, তারও নিশ্চয়তা ছিল না। বড় স্বপ্নের পথ তো বহুদূর। তবে সিয়াম পেরেছে। সে আমেরিকার ইউনাইটেড ওয়ার্ল্ড কলেজে (ইউডব্লিউসি) পড়ার জন্য নিউ মেক্সিকোতে যাচ্ছে।

বুধবার রাজধানীর বনানীতে জাগো ফাউন্ডেশনের অফিসে সিয়ামকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। জাগো ফাউন্ডেশন স্কুলের শিক্ষার্থী সিয়াম হোসেন গত বছর এ-গ্রেড পেয়ে এসএসসি পাস করে। ইউনাইটেড ওয়ার্ল্ড কলেজের শতভাগ বৃত্তি নিয়ে সিয়াম আমেরিকায় পড়তে যাবে। আগামী ৩০ আগস্ট থেকে তার ক্লাস শুরু।

ইউনাইটেড ওয়ার্ল্ড কলেজ একটি বৈশ্বিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। যেখানে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও টেকসই ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষার মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন জাতি ও সংস্কৃতিকে এক করতে সাহায্য করে। সারা বিশ্বের চারটি মহাদেশে ইউডব্লিউসির ১৮টি স্কুল ও কলেজ রয়েছে। প্রতিবছর বিশ্বের ১৫৫টি দেশ থেকে সাড়ে ৯ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী সেখানে পড়ার সুযোগ পায়। বাংলাদেশ থেকে এ বছর সিয়ামসহ ৩০ জন শিক্ষার্থী ইউডব্লিউসির বিভিন্ন কলেজে পড়ার সুযোগ পেয়েছে। তবে এদের মধ্যে সিয়ামসহ চারজন শতভাগ বৃত্তিতে পড়তে যাবে। বাংলাদেশে ইউডব্লিউসি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন এই শিক্ষার্থীদের মনোনীত করেছে।

ইউডব্লিউসির ‘ডেয়ার টু ড্রিম’ বৃত্তিটি পেয়েছে সিয়াম হোসেন। অর্থাৎ সিয়ামের আর্থিক দিক বিবেচনাতেই এই বৃত্তির জন্য সে মনোনীত হয়েছে। সিয়ামের অবস্থা থেকে বৈশ্বিক মানের একটি কলেজে পড়তে যাওয়া সাহসেরই বটে। সিয়াম হোসেন বলে, ‘এমন একটা পরিবার থেকে আসছি, যেখান থেকে আমেরিকায় যাওয়া আসলেই কখনোই সম্ভব ছিল না। হয়তো পড়াশোনা হতো, হয়তো থেমেও যেত। কিন্তু আমার স্কুল জাগো ও যাঁরা পড়াশোনার জন্য আমাকে সহায়তা করেছেন, তাঁদের জন্যই সম্ভব হয়েছে। আমি এখন বড় বড় স্বপ্ন দেখতে পারি।’

ইউডব্লিউসির আমেরিকার কলেজটি নিউ মেক্সিকোতে অবস্থিত। সিয়াম দু বছর সেখানে পড়াশোনা করবে। সে জানায়, সেখানে থাকা অবস্থাতেই তার লক্ষ্য থাকবে নামকরা কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তির জন্য চেষ্টা করা।

প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় সিয়াম জিপিএ-৫ পেলে বাবা মো. বেলাল হোসেন ছেলেকে নিয়ে স্বপ্ন দেখা শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘এ প্লাস পাওয়ায় ভাবি, আমার ছেলের জন্য কিছু হবে।’ জাগো ফাউন্ডেশন স্কুলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বেলাল হোসেন বলেন, ‘এখানে খুব ভালো পড়াশোনা হয়। যার প্রমাণ আমার ছেলে। এখন সে আমেরিকায় পড়তে যাচ্ছে।’

সিয়ামের সঙ্গেতার বাবা-মা, জাগো ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা করভী রাকসান্দসহ প্রতিষ্ঠানের অন্যরা ও কাতার এয়ারওয়েজের প্রতিনিধিরা। ছবি: সংগৃহীতসিয়ামের সঙ্গে তার বাবা-মা, জাগো ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা করভী রাকসান্দসহ প্রতিষ্ঠানের অন্যরা ও কাতার এয়ারওয়েজের প্রতিনিধিরা। ছবি: সংগৃহীতনিজের প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষার্থী বৃত্তি নিয়ে আমেরিকায় পড়তে যাওয়ায় নিজেকে খুবই গর্বিত মনে করছেন জাগো ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা করভী রাকসান্দ। তিনি বলেন, ‘অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা বলতে কোনোভাবে পাস করানো দরকার। কিন্তু জাগোর লক্ষ্য তা নয়। ওদের ইংলিশ ভার্সনে পড়াশোনা করানো হয়। যাতে ওরা শুধু বাংলাদেশে আটকে না থেকে বিশ্বমানের হয়ে গড়ে ওঠে।’ এ ছাড়া তিনি আশা প্রকাশ করেন, সিয়ামরা একদিন বড় হয়ে দেশের জন্য কাজ করবে এবং জাগোকে সহায়তা করবে।

ইশরাক শাবীব ও তাঁর স্ত্রী শরীফ সুরাইয়া দীর্ঘদিন সিয়ামকে পড়াশোনার জন্য সহায়তা করেছেন। তাঁদের পরে ফারহানা রশিদ সিয়ামের পড়াশোনায় সহায়তা করে আসছেন। ইশরাক ও ফারহানা বলেন, দেশ ও সমাজের দায়বদ্ধতা থেকেই সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য তাঁরা সিয়ামের সহযোগী হয়েছেন।

রায়েরবাজার বৈশাখী খেলার মাঠের পাশে একটি বস্তিতে ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় জাগো ফাউন্ডেশন। ১৭ জন শিক্ষার্থী নিয়ে তাদের যাত্রা শুরু হয়। সিয়াম হোসেন সেই ১৭ জনের একজন। অলাভজনক এই প্রতিষ্ঠান বিনা মূল্যে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা দেয়। বর্তমানে সারা দেশে তাদের ১২টি স্কুল রয়েছে।

আমেরিকায় যাওয়ার জন্য সিয়ামকে বিমানের টিকিট দিয়ে সহায়তা করেছে কাতার এয়ারওয়েজ। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউডব্লিউসি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ থেকে খাদিজা আফজাল, আয়েশা দাদা, জাগো ফাউন্ডেশন স্কুলের প্রিন্সিপাল নিজামুল করিম, সমন্বয়কারী শারমিন আহমেদ, সিয়ামের মা শিউলি বেগম প্রমুখ।

9
ব্যস্ততা, দুশ্চিন্তা, হতাশা, আক্ষেপসহ নানা কারণে আমাদের মনের জোর কমে যায়। মনকে কি আর সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) অধ্যাপক রিদওয়ানুল হক জানান, ‘মনের জোরে চলতে পারি বলেই আমরা মানুষ। যেকোনো সমস্যার সমাধান থেকে শুরু করে ইতিবাচক জীবনযাপনে মনের বিকাশ বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আপনার আর্থিক ক্ষমতা কিংবা জোর যা–ই থাকুক না কেন, সতেজ মন থাকলে আপনার জীবন সব সময় রঙিন।’ প্রাত্যহিক জীবনে মনের জোর বাড়ানোর জন্য রিদওয়ানুল হক ১০টি নিয়ম অনুসরণ করার পরামর্শ দেন

এখনই কাজ করা


আপনার বসকে পদোন্নতির কথা বলেও বলতে পারছেন না? এখনই বলে ফেলুন। কিংবা আপনার প্রতিষ্ঠানের কোনো গ্রাহককে আপনার না বলতে হবে, আপনি না বলা নিয়ে দ্বিধায় আছেন। বলে ফেলুন। আপনার যখন কিছুর প্রয়োজন হবে, তার গুরুত্ব বুঝে করে ফেলুন।

মোকাবিলা করতে শিখুন

আপনি যা এড়িয়ে চলবেন, তা আপনাকে বেশি বিপদে ফেলতে পারে। যেকোনো বিপদ বা সমস্যা সরাসরি মোকাবিলা করতে শিখুন। আপনি যদি কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে ভয় পান, তাহলে সেই ভয় আপনাকে পরাজিত করবে।

ভুল স্বীকার করুন

জীবনে চলার পথে ব্যক্তিজীবন কিংবা কর্মক্ষেত্রে কোনো ভুল করলে তা স্বীকার করুন। সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যান।

বিনয়ী হোন

আপনার যখন সুসময়, তখন অবশ্যই বিনয়ী থাকবেন। সাধারণ মানুষ উদ্ধত ও অহংকারীদের পছন্দ করে না। আপনার সুসময় কিংবা দুঃসময় সব সমই বিনয়ী হয়ে চলুন। নিজের ইগো ও ব্যক্তিত্বের ইতিবাচক বিকাশে মনোযোগী হোন।

বেশি বেশি শুনুন

সাধারণ মানুষ হিসেবে আমরা কথা বলতেই বেশি পছন্দ করি। নিজের দৃঢ় মনন প্রতিষ্ঠার জন্য মনোযোগী হয়ে শোনার অভ্যাস করুন। সবার কথা শুনুন। প্রয়োজনীয় মতামত দিন।

শিখতে সময় দিন

আপনার দুর্বলতা থাকতেই পারে। সে ক্ষেত্রে দুর্বলতা কাটিয়ে তোলার জন্য শিখুন। শিখতে নিজেকে সময় দিন।

কঠিন বাস্তবতা সম্পর্কে জানুন

কর্মক্ষেত্রে আপনার ভুলের কারণে প্রতিষ্ঠানের কোটি কোটি টাকা ক্ষতি হতে পারে, আবার আপনার চাকরি চলে যেতে পারে। সব সময়ই কঠিন বাস্তবতা সম্পর্কে ধারণা রাখুন, এতে আপনার দায়িত্বশীলতা বাড়বে।

অন্যকে সম্মান করতে শিখুন

আপনার চেয়ে বয়সে কিংবা পদবিতে ছোট-বড় সবাইকে সম্মান দিন। তুই-তুকারি করে সম্বোধন সব সময়ই এড়িয়ে চলবেন। অন্যকে সম্মান দিলে ইতিবাচক মননের প্রভাব প্রকাশিত হয়।

কৌতূহলী হোন

স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে যে সব শিখে এসেছেন, তা ভাববেন না। কিংবা নিজে সব জানেন ও পারেন, এমনটা কখনোই মনে করবেন না। কৌতূহলী মন তৈরি করুন।

নিজের দুর্বলতা জয় করুন

দুর্বলতা কাটিয়ে সামনে চলা আর দুর্বলতা ছাপিয়ে সামনে চলা ভিন্ন বিষয়। আপনার দুর্বলতা কাটানোর দিকে মনোযোগ দিন।

10

পাস করা ও ফেল করা কলেজের গল্প

কয়েক দিন আগে বেসরকারি কলেজের কয়েকজন শিক্ষক এসেছিলেন প্রথম আলো কার্যালয়ে তাঁদের দুঃখ–কষ্টের কথা জানাতে। তাঁরা সবাই সরকারের এমপিওভুক্ত কলেজের নন–এমপিওভুক্ত শিক্ষক। তাঁদের সংখ্যা ৩ হাজার ৫০০। এমপিওভুক্ত হলে সরকারের বাড়তি খরচ হবে বছরে ১০৪ কোটি ৯ লাখ টাকা। ২০১৮ সালের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (স্কুল ও কলেজ) জনবলকাঠামো ও এমপিওভুক্তি নীতিমালায় তাঁদের দাবি গ্রাহ্য না হওয়ায় শিক্ষকেরা আন্দোলনে নেমেছেন। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ছয় দিন অবস্থান ধর্মঘট পালন করেছেন। কিন্তু সরকারের শিক্ষামন্ত্রী বা উপমন্ত্রী—কারও দেখা পাননি। শিক্ষাসচিব বলেছেন, সরকার শিক্ষকদের দাবিদাওয়ার ব্যাপারে সহানুভূতিশীল। এই সহানুভূতিটুকু নিয়েই তাঁরা ঘরে ফিরে গেছেন। শিক্ষকেরা আশা করছেন, আগামী অর্থবছরে তাঁদের দাবি মেনে নেওয়া হবে।

এই শিক্ষকেরা স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পাঠদান করেন। কলেজগুলো এমপিওভুক্ত হওয়ার সময় সরকার ঠিক করে দেয় কোন বিভাগে কতজন শিক্ষককে এমপিওভুক্ত করা হবে। কিন্তু তাঁদের দিয়ে কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা সম্ভব নয়। তাই বাড়তি শিক্ষক নিতে হয়। এঁরাই হলেন এমপিওভুক্ত কলেজের নন–এমপিওভুক্ত শিক্ষক। এখানে একই সমাজে দুটি শ্রেণি নয়, একই কলেজের শিক্ষকদের মধ্যে দুটি শ্রেণি তৈরি হয়েছে। কেউ নিয়মিত বেতন পান, কেউ পান না। সরকার বলবে, তাঁদের বেতন–ভাতা দেওয়ার দায়িত্ব কলেজ কর্তৃপক্ষের। কিন্তু দায়িত্ব যারই থাকুক না কেন, শিক্ষকেরা তো অভুক্ত থেকে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে পারেন না।

নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বাংলার শিক্ষার দুরবস্থা প্রসঙ্গে ‘আধা পেট খেয়ে নামতা মুখস্থ’ করার কথা বলেছিলেন। অর্থাৎ আমাদের গ্রামাঞ্চলে যারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে, তাদের বেশির ভাগই পেট ভরে খেতে পায় না। হালে গ্রামীণ অর্থনীতি কিছুটা চাঙা হলেও, শিক্ষার্থীরা ভরা পেটে নামতা মুখস্থ করতে পারলেও নিজের আয়ে চলতে পারে, এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুব বেশি নেই। কাগজে খাতা–কলমে যা–ই লেখা থাকুক না কেন, বেশির ভাগ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারের দেওয়া অর্থের বাইরে খুব বেশি আর্থিক সুবিধা শিক্ষকদের দেয় না, দিতে পারে না। এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা সরকারি খাত থেকে বেতন-ভাতার সিংহভাগ পেয়ে থাকেন (মূল বেতনের শতভাগ এবং কিছু ভাতা। বাংলাদেশে সবচেয়ে অবহেলিত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা, সেটি স্কুল কিংবা কলেজ হোক। তাঁদের অধিকাংশ নিয়মিত বেতন-ভাতা পান না। চাকরি শেষ হলে সরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের মতো নিয়মিত পেনশন পান না। পেনশনের নামে যে সামান্য টাকা দেওয়ার কথা, তা–ও পেতে বছরের পর বছর ঘুরতে হয়।

বর্তমানে বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৫ লাখ বলে সরকারি হিসাবে জানা গেছে। এর মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজগুলোতেই আছে ২৮ লাখ। আর সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে বাকি যে ১৪৬টি বিশ্ববিদ্যালয় আছে, তাদের শিক্ষার্থী মাত্র ৭ লাখ। সরকার প্রতি জেলায় একটি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার ঘোষণা দিয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় একটি করে কলেজ জাতীয়করণ করা হচ্ছে। নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন কিংবা নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণ করায় যে বিশাল ব্যয় হবে, সেই তুলনায় ৩ হাজার ৫০০ নন–এমপিওভুক্ত শিক্ষককে এমপিওভুক্ত করার খরচ খুবই নগণ্য। বিনিয়োগ তখনই লাভজনক হয়, যখন কম ব্যয় করে বেশি মুনাফা পাওয়া যায়। এখানে মুনাফা হলো উচ্চশিক্ষিত জনবল। সরকার যদি সত্যি সত্যি উচ্চশিক্ষার উন্নয়ন চায়, তাহলে ২৮ লাখ শিক্ষার্থীকে উপেক্ষা করতে পারে না। আর শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা ভাবলে তাঁদের পাঠদানকারী শিক্ষকদের বেতন–ভাতা সমস্যারও সুরাহা করতে হবে।

Eprothom Alo
২ মার্চ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় তাদের অধীন কলেজগুলোর পারফর্মিং র্যাঙ্কিং বা শিক্ষা মানক্রম ঘোষণা উপলক্ষে আন্তর্জাতিক ভাষা ইনস্টিটিউটে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল, যাতে পুরস্কার পাওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানেরা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, শিক্ষাসচিব সোহরাব হোসাইনও। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হারুন অর রশিদ কলেজশিক্ষার মানক্রমের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, ‘পূর্বনির্ধারিত সূচকের ভিত্তিতে অনার্স পর্যায়ের কলেজসমূহের বার্ষিক পারফরম্যান্স র্যাঙ্কিং করে জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে শীর্ষ কলেজসমূহকে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কৃত ও সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে।’

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ৩১টি সূচকের ভিত্তিতে এই পুরস্কার দিয়ে থাকে, যার মধ্যে আছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের সংখ্যা, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও এমফিল, পিএইচডিধারী শিক্ষকের সংখ্যা, প্রকাশনা, অবকাঠামোগত সুবিধা, একাডেমিক উৎকর্ষ, পরীক্ষার ফল, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে অবদান ইত্যাদি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ ৭১৮টি। এর মধ্যে সরকারি ২৭৭, বেসরকারি ৪৪১। প্রতিযোগী ৩৫৪টি কলেজের মধ্যে মানক্রমে উত্তীর্ণ হয় ১৭৯টি। এর মধ্যে রাজশাহী কলেজ পরপর দুই বছর (২০১৬ ও ২০১৭) প্রথম হয়েছে ১০০ নম্বরের মধ্যে যথাক্রমে ৬৮ দশমিক ১৩ ও ৭২ নম্বর পেয়ে। দ্বিতীয় স্থান পাওয়া বরিশালের ব্রজমোহন কলেজ পেয়েছে ৬৩ দশমিক ৯৫ ও ৬৬ দশমিক ১৫ নম্বর। তৃতীয় অবস্থানে থাকা সরকারি আজিজুল হক কলেজের নম্বর ৬৩ দশমিক ৭০ ও ৬৬ দশমিক ১১। ৬৫ দশমিক ৯৬ ও ৬৪ দশমিক ৩১ নম্বর পেয়ে চতুর্থ হয়েছে পাবনার এডওয়ার্ড কলেজ। পঞ্চম অবস্থানে থাকা কারমাইকেল কলেজ পেয়েছে ৬৪ দশমিক ৫ ও ৬৫ দশমিক ৭৯ নম্বর। এরপর রয়েছে আনন্দ মোহন কলেজ, খুলনা ব্রজলাল কলেজ, কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ, ঢাকা কমার্স কলেজ, সা’দত কলেজ, মধুসূদন কলেজ, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ, দিনাজপুর সরকারি কলেজ ও ফেনী সরকারি কলেজ। মেয়েদের কলেজের মধ্যে এগিয়ে আছে লালমাটিয়া মহিলা কলেজ ও সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ। জাতীয় পর্যায়ে শীর্ষে থাকা পাঁচটি কলেজের মধ্যে চারটিই উত্তরাঞ্চলের।

তালিকায় সর্বনিম্ন ১৯ দশমিক ৬৩ নম্বর পাওয়া ১৮৯টি কলেজ স্থান পেলেও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলেছে, যারা ৫০ নম্বর পেয়েছে, তাদেরই আমরা উত্তীর্ণ বলে ধরে নিয়েছি। যারা এর কম পেয়েছে, তারা সবাই ফেল। সে ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ৩৫৪ কলেজের মধ্যে ৯২টি উত্তীর্ণ হয়েছে। ফেল করা কলেজের পাল্লাই ভারী।

ওই দিনের অনুষ্ঠানে বক্তারা শিক্ষার মানোন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছেন। কেউ কেউ বলেছেন, এত দিন আমরা সংখ্যায় এগিয়েছি। এখন মানের দিকে জোর দিতে হবে। কিন্তু শিক্ষা এমন একটি বিষয়, যেখানে আগে সংখ্যা, পরে মানের কথা ভাবার কোনো সুযোগ নেই। দুটো একসঙ্গে এগোতে হয়। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর দেশের মোট জনসংখ্যার ৩০ শতাংশ নিরক্ষর। তাহলে আমরা কতটা এগোলাম? শিক্ষার ভিতটি শক্ত করতে হয় প্রাথমিক থেকে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে দুর্বল থাকলে ওপরে ঘষামাজা করলে খুব লাভ হয় না। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের অনেক শিক্ষকের কাছ থেকে এই অভিযোগ পেয়েছি।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ৭১৮টি কলেজের মধ্যে ৪৬৪টি প্রতিযোগিতায়ই অংশ নেয়নি। অর্থাৎ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার মানক্রমে যেসব নম্বর বেঁধে দিয়েছে, সেগুলো অর্জন করার সামর্থ্য তাদের নেই। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এই মানক্রমে দেখা যায়, পরীক্ষায় শুধু শিক্ষার্থীরা পাস বা ফেল করে না। তাদের শিক্ষাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও পাস বা ফেল করে থাকে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় পাস করা কলেজগুলোকে পুরস্কৃত করেছে। আমরাও তাদের অভিনন্দন জানাই। একই সঙ্গে ফেল করা এবং প্রতিযোগিতায় না আসা কলেজগুলোর জন্য তিরস্কারের ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।

রাজশাহী কলেজ যদি পরপর দুবার সর্বোচ্চ নম্বর পেতে পারে, তাহলে অন্যরা তার ধারেকাছেও কেন আসতে পারবে না? শুধু জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে নয়, সব বিশ্ববিদ্যালয়ে এই পুরস্কার ও তিরস্কার তথা শাস্তির ব্যবস্থা চালু করতে হবে। অন্যথায় উচ্চশিক্ষার নিম্নগতি ঠেকানো যাবে না।

সোহরাব হাসান: প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক ও কবি

11
স্বাধীনতা ও মানবাধিকার একটি অন্যটির পরিপূরক। মানুষের চিন্তার স্বাধীনতা ও কর্মের স্বাধীনতা জন্মগত অধিকার। স্বাধীনতা সীমাহীন নয়; স্বাধীনতা নির্দিষ্ট সীমারেখার বৃত্তে সংরক্ষিত। যা বিদায় হজের ভাষণে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) তিনটি শব্দে ঘোষণা দিয়েছেন—সব মানুষের জীবন, সম্পদ, সম্মান সংরক্ষিত। যেমন আরাফাতের দিন, আরাফাতের প্রান্তর, মক্কা ভূমি ও কাবা শরিফ সম্মানিত ও সুসংরক্ষিত। (মুসনাদে ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল রহ.)।

ইসলামের অনুশাসন অনুসরণের জন্য চাই স্বাধীনতা। স্বাধীনতার মাধ্যমেই সুরক্ষিত হয় মানবাধিকার। অর্থাৎ স্বাভাবিক জীবন ও স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা।

আল্লাহ মানুষকে জ্ঞান দিয়েছেন ভালো–মন্দ, সত্য–মিথ্যা ও ন্যায়–অন্যায় অনুধাবনের জন্য। চিন্তা ও কাজের স্বাধীনতা দিয়েছেন কর্ম অনুযায়ী পরকালে বিচার ও ফলাফল প্রদানের নিমিত্তে। কর্মফল অনুসারে জান্নাত বা জাহান্নামের অধিকারী হবে। তাই আল্লাহ এই জগতে মানুষকে কোনো কাজে বাধ্য করেন না। এমনকি ধর্ম–কর্ম বিষয়েও জোর করা হয় না। এ বিষয়ে কোরআন মজিদে রয়েছে, ‘ধর্মে কোনো জবরদস্তি নেই, সত্যাসত্য সুস্পষ্ট পার্থক্য হয়ে গেছে। যারা অশুভ শক্তিকে অস্বীকার করে মহান আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করল; তারা মজবুত হাতল শক্তভাবে ধারণ করল, যা কখনো ভাঙার নয়; আল্লাহ সর্বশ্রোতা মহাজ্ঞানী।’ (সুরা-২ বাকারা, রুকু: ৩৪, আয়াত: ২৫৬)।

সব মানুষের পিতা হজরত আদম (আ.) এবং মাতা মা হাওয়া (আ.)। জগতের সব মানুষ একই পিতা–মাতার সন্তান। সব মানুষ ভাই ভাই, মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ নেই। শ্রেণিবিভেদ, জাতি–গোত্র ও গোষ্ঠীভেদ, বর্ণবৈষম্য, ভাষাবৈচিত্র্য এবং ভৌগোলিক ও নৃতাত্ত্বিক পার্থক্য মানুষে মানুষে কোনো প্রভেদ সৃষ্টি করে না। বিদায় হজের ভাষণে নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘কালোর ওপর সাদার প্রাধান্য নেই, অনারবের ওপর আরবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই।’ (আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ইবনে কাসির রহ.)।

Eprothom Alo
মানুষের কর্মের প্রকৃত বিচার ও পূর্ণ ফলাফল দুনিয়াতে নয়, পরকালেই মানুষ তার কৃতকর্মের ফল সম্পূর্ণ লাভ করবে ও ভোগ করবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘কিতাবধারীদের মধ্যে যারা কুফরি করে এবং মুশরিকরা জাহান্নামের অগ্নিতে স্থায়ীভাবে বসবাস করবে; তারাই সৃষ্টির অধম। নিশ্চয় যারা ইমান আনবে ও সত্কর্ম করবে, তারাই সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ। তাদের প্রতিপালকের কাছে তাদের জন্য পুরস্কার হিসেবে রয়েছে স্থায়ী জান্নাত; যার নিম্নদেশ দিয়ে নদী প্রবাহিত হয়, সেথায় তারা চিরস্থায়ী হবে। আল্লাহ তাদের প্রতি প্রসন্ন এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট। এটি তার জন্য যে তার প্রতিপালককে সমীহ করে।’ (সুরা-৯৮ বায়্যিনাহ, রুকু: ১, আয়াত: ৬-৮)।

ইসলামের মহত্ত্ব ও সৌন্দর্য হলো উদার চিন্তা, যুক্তিনির্ভরতা, পরমতসহিষ্ণুতা, ভিন্ন ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা ও সহাবস্থান। সর্বোপরি বিশ্বভ্রাতৃত্ব ও সর্বজনীন মানবতাবোধ। ধৈর্য-সহ্য, ক্ষমা, দয়া—এসব মহৎ গুণ ইসলামকে অনন্য করেছে। স্রষ্টায় বিশ্বাস করে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হজরত মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সা.)–এর অনুপম আদর্শকে ধারণ করাই হলো ইসলাম। ইসলাম জন্মগত ধর্ম নয়। পৃথিবীর যেসব মানুষ ওই বিশ্বাস ও আদর্শ গ্রহণ করবে, তারাই মুমিন ও মুসলিম।

বিশ্বমানবতার মুক্তি, স্বাধীনতা ও মানবাধিকার সুরক্ষার জন্য সব মানুষকে মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন হতে হবে। বিশেষত মুমিন মুসলমানদের জন্য এসব গুণে গুণান্বিত হওয়ায় ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বিশ্বশান্তি স্থাপন, স্বাধীনতা সুরক্ষা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করা মুসলমানের প্রধান দায়িত্ব। আল্লাহ সহায় রয়েছেন, এ মর্মে কোরআন কারিমে বলেছেন, ‘হে বিশ্বাসীরা! তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গেই আছেন। যারা আল্লাহর পথে নিহত হয় তোমরা তাদের মৃত বলো না, বরং তারা জীবিত কিন্তু তোমরা উপলব্ধি করতে পারো না। আমি তোমাদের ভয়, ক্ষুধা এবং ধনসম্পদ ও জীবনহানি এবং ফল-ফসলের ক্ষয়ক্ষতি দ্বারা পরীক্ষা করব। তুমি সুসংবাদ দাও ধৈর্যশীলদের। যারা তাদের ওপর বিপদ আপতিত হলে বলে—আমরা তো আল্লাহরই এবং নিশ্চিতভাবে তারই নিকট প্রত্যাবর্তনকারী। এরাই তারা, যাদের প্রতি তাদের প্রতিপালকের কাছ থেকে বিশেষ অনুগ্রহ ও রহমত বর্ষিত হয়, আর এরাই সত্পথে পরিচালিত।’ (সুরা-২ বাকারা, আয়াত: ১৫৩-১৫৭)।

প্রিয় নবী (সা.)–এর দাওয়াতি কার্যক্রমে তায়েফের হৃদয়বিদারক ঘটনায় মহানুভবতা ও মক্কা বিজয়ের ক্ষমা ও উদারতা তাঁকে সর্বোচ্চ শিখরে আসীন করেছে, যা সর্বকালের সব মানুষের জন্য অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে অনন্তকাল। মহানবী (সা.)–এর উম্মত হিসেবে সে আদর্শ আমাদেরও অনুসরণ করতে হবে।

মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী: বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির যুগ্ম মহাসচিব ও আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজমের সহকারী অধ্যাপক

12
কথা বলছে রোবট, নাচছে। করছে চলাফেরা। শারীরিক প্রশিক্ষণেও (পিটি) রোবট। সঙ্গে তাল মিলিয়েছে ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা। রোবটের কমান্ডে তারা প্রাণোচ্ছ্বল। এ দৃশ্য রাজধানীর ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের (ডিআইএস)।

বিশ্বে অনেক দেশে স্কুলে রোবটের ব্যবহার হয়ে আসছে। কিন্তু বাংলাদেশে কোনো স্কুলে রোবটের ব্যবহার এই প্রথম দেখা গেল।

rubot-2

স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, সম্প্রতি চীন থেকে তিনটি রোবট আনা হয় স্কুলটির সাইন্স, টেকনোলজি ও ম্যাথমেটিক্স ল্যাবের (এসটিইএম) জন্য। প্রত্যেক রোবটের দাম পড়েছে এক লাখ টাকা।

মাঝে মাঝেই শিক্ষার্থীদের সকালের পিটিতে এই রোবটের ব্যবহার করছেন ডিআইএস’র আইটি (তথ্যপ্রযুক্তি) কো-অর্ডিনেটর মাহমুদুল হক বাশার।

rubot-3

তিনি জানান, এতে করে শিক্ষার্থীরা অধিক আনন্দ পায়। তারা অনেক স্বতঃস্ফূর্তভাবে পিটিতে অংশ নেয়। অনেক প্রফুল্ল হয়।

rubot-4

এ বিষয়ে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ভাইস প্রিন্সিপাল ড. মো. মাসুদুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের ল্যাবে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি তিনটি রোবট সংযোজন করা হয়। শিক্ষার্থীদের আমরা বিজ্ঞান বিষয়ে আগ্রহী করতে চাই। রোবট ও রোবটিক্সের ওপর শিক্ষার্থীরা আকৃষ্ট হচ্ছে, যা তাদের বিজ্ঞানমনস্ক করে তুলবে বলে আমি মনে করি। সেইসঙ্গে এ নগরজীবনে ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা কিছুটা আনন্দও পাচ্ছে।

13


বই নিয়ে গ্রামের পথে পলান সরকার। প্রথম আলো ফাইল ছবিবই নিয়ে গ্রামের পথে পলান সরকার। প্রথম আলো ফাইল ছবিপলান সরকারের মৃত্যুর খবর শুনে মলি রানী কুণ্ডু খুব কেঁদেছেন। তাঁর বাড়ি নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার গালিমপুর গ্রামে। ২০১৭ সালে মলি রানী ও তাঁর ছেলে পিয়াল কুণ্ডু একসঙ্গে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছিলেন। মা ও ছেলের একসঙ্গে পরীক্ষা দিয়ে পাসের খবর শুনে পলান সরকার গিয়ে হাজির হন মলি রানীর বাড়িতে। মা ও ছেলের জন্য তিনি উপহার হিসেবে দুইখানা বই নিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁদের হাতে বই দুইখানা তুলে দিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘আজ আমার বই পড়ার আন্দোলন সার্থক হলো।’

লেখাপড়ার অদম্য ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও মলি রানী সুযোগ পাননি। তাঁকে অসময়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয়েছিল। বাবার সংসারে লেখাপড়ার সুযোগ না পেলেও নিজের সংসারে এসে তিনি তাঁর অপূর্ণ ইচ্ছা পূরণ করেছেন। তাঁর পুরস্কার হিসেবে স্বয়ং পলান সরকারের হাত থেকে বই উপহার পেয়ে সেদিন তিনি আনন্দে কেঁদেছিলেন। তাই পলান সরকারের মৃত্যু তাঁকে দ্বিতীয়বার কাঁদিয়েছে। মলি রানী এবার এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ করেছেন। আগামী ১ এপ্রিল তিনি এইচএসসি পরীক্ষা দেবেন। মুঠোফোনে মলি রানী বলেন, ‘পলান সরকার সেদিন আমাকে বলেছিলেন, “মা, তোমার আর পেছন ফিরে তাকানোর সময় নেই। তোমাকে এগিয়ে যেতে হবে।” সেই দিনই আমি ভেবে নিয়েছি, যেভাবেই হোক আমি পড়াশোনা শেষ করব। আমার বাড়িতে কোনো ছেলেমানুষ না থাকার কারণে আমি পলান সরকারকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে যেতে পারিনি। কান্নাকাটি করেছি। সারা দিন খুব মন খারাপ ছিল।’

পলান সরকার হেঁটে হেঁটে মানুষের বাড়িতে যেতেন। খুঁজে বের করতেন এ রকম মায়েদের। তাঁদের হাতে বই তুলে দিতেন। মাইনর (চতুর্থ শ্রেণি) পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় পলান সরকারের নিজের জুতা ছিল না। প্রতিবেশীর একটি রাবারের জুতা ধার নিয়ে পরীক্ষা দিতে গিয়েছিলেন। অভিভাবক না থাকার কারণে মাইনর পাস করলেও পরে আর লেখাপড়া করা সম্ভব হয়নি। অদম্য ইচ্ছা থাকার পরও পড়া ছেড়ে দেওয়ার কী জ্বালা, শিশু বয়সেই তিনি খুব ভালো করে বুঝেছিলেন। তাই যে মায়েরা ছোটবেলায় পড়তে শিখেছিলেন, কিন্তু শিক্ষাজীবন শেষ করতে পারেননি, তিনি আগে সেই মায়েদের খুঁজে বের করতেন। আর মাঝেমধ্যেই নেপোলিয়নের প্রসঙ্গ টেনে মায়েদের শিক্ষিত হওয়ার কথা বলতেন।

মনে আছে, প্রথম যেদিন পলান সরকারের সঙ্গে কথা বলতে যাই, তিনি আমাকে বলেছিলেন, ‘অত নামের দরকার কী।’ পরে আমি তাঁকে বোঝাতে সক্ষম হই, আপনার বই পড়ার এই গল্প অন্যরা জানলে তারাও এটা অনুসরণ করতে পারে। সারা দেশে তা ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ কথা শুনে তিনি রাজি হন। তাঁকে রাজি করানোর জন্য সেদিন কথাটা বলেছিলাম। অতটা ভেবেও বলিনি। পরে সেই কথাটিই এভাবে ফলে যাবে—ভাবতেও পারিনি। পলান সরকারের গল্প যখন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে, তখন দেশের আনাচকানাচে বইপড়ার আন্দোলন গড়ে ওঠার অনেক খবর পেয়েছি। খবর পেয়েছিলাম নওগাঁর নিয়ামতপুরে সবুজ সরকার নামের এক কলেজশিক্ষার্থী এই কাজ শুরু করেন। রাজশাহীর চারঘাটের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ওরা ১১ জন’ বাড়ি বাড়ি গিয়ে বই দেওয়ার কর্মসূচি চালু করে। পলান সরকারকে দেখে বাঘার জুবায়ের আল মাহমুদ স্কুলভিত্তিক বই পড়ার আন্দোলন গড়ে তোলেন। বইমেলা করেন। আরও অনেক জায়গা থেকে এ রকম খবর পেয়েছিলাম। রাজশাহী নগরের তেরখাদিয়া উত্তরপাড়ার সোহাগ আলী নামের এক যুবক ২০১৫ সাল থেকে ‘পলান সরকার বইপড়া আন্দোলন’ নামে একটি কর্মসূচি চালু করেছেন। কেউ ফোন করলে তিনি তাঁর বাড়িতে পছন্দমতো বই পৌঁছে দিয়ে আসেন। পড়া শেষ হলে পুরোনো বই ফেরত নিয়ে আবার নতুন বই দিয়ে আসেন। শহরের ৫০-৬০ জন পাঠক তাঁর কাছ থেকে নিয়মিত বই নিয়ে থাকেন। সোহাগ সম্প্রতি শহরের সেলুনে সেলুনে বই রাখছেন, যাতে সেলুনে আসা অপেক্ষমাণ লোকজন বই পড়ে সময়টা পার করতে পারেন।

Eprothom Alo
১ মার্চ সকালে মৃত্যুর সংবাদ শুনেই ঢাকা থেকে ফোনে মুক্তিযোদ্ধা আজিজুল আলম আহা করে উঠলেন। বললেন ১৯৬৩ সালের কথা। অমিয় চক্রবর্তীর লেখা তমালতলার ঘাট ও উজানতলীর হাট বই দুটি কোথাও না পেয়ে পলান সরকারের কাছে গিয়ে পেয়েছিলেন। এই মানুষ আর কোথায় মিলবে! নাট্যকার মলয় ভৌমিকের নেওয়া পলান সরকারের একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকার প্রথম আলোয় ছাপা হয়েছিল। শ্রদ্ধাঞ্জলি হিসেবে তিনি সেই সাক্ষাৎকারটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেড়ে দেন।

জানাজায় গিয়েছিলেন রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বিড়ালদহ গ্রামের জুলফিকার রহমান। তাঁর একটি গৃহপাঠাগার রয়েছে। তিনি বললেন, ‘বইয়ের টানে বহুবার আমি পলান সরকারের কাছে এসেছি। তাঁর মৃত্যুর খবর শুনে আমি না এসে থাকতে পারিনি।’ রাজশাহী শহর থেকে তাঁর ভক্ত আরাফাত রুবেল এসেছিলেন। পলান সরকারের দাফন সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত তিনি তাঁর কবরের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।

খুবই অবাক লাগে, একুশে পদকের একটি টাকাও পলান সরকার খরচ করেননি। সন্তানদের দেননি। সব টাকা ডাক বিভাগে জমা রেখেছেন। প্রতি মাসে সেখান থেকে যে মুনাফা আসে, তা তাঁর পাঠাগার পরিচালনার জন্য বরাদ্দ করে গেছেন।

হেঁটে তিনি বহুদূর চলে গেছেন। আর কেউ পলান সরকার হতে পারবেন না। তবু রবীন্দ্রনাথের সেই কথাটি আমরা আপাতত ভাবতে পারি—

‘কে লইবে মোর কার্য, কহে সন্ধ্যারবি—

শুনিয়া জগৎ রহে নিরুত্তর ছবি।

মাটির প্রদীপ ছিল; সে কহিল, স্বামী,

আমার যেটুকু সাধ্য করিব তা আমি।।’

14
উন্নয়ন, বিনিয়োগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আয়ুষ্কাল, মরণব্যাধি ইত্যাকার তাবৎ বিষয় নিয়ে বিশ্বব্যাংকের চিন্তাভাবনা বিশ্বকে সর্বদাই তাড়িত করে। সাম্প্রতিক সময়ে তাদের প্রকাশিত আমাদের শিক্ষা ও শিক্ষার মান নিয়ে প্রতিবেদনটি কয়েকটি প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। প্রশ্ন করার তাগিদটা বেশি অনুভব করেছি রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের দায়িত্ব পালনের সীমাবদ্ধতা নিয়ে করা আল-জাজিরার একটি প্রশ্নের উত্তর থেকে।

দর্শকদের উপস্থিতিতে আল–জাজিরা থেকে প্রশ্নটি করা হয় যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাদিয়া মুনা তাসনিমকে। জবাবে হাইকমিশনার পুরো বিশ্বকে, বিশেষ করে যুক্তরাজ্যকে পাল্টা প্রশ্নবাণে ফেলে দেন। তিনি স্পষ্টতই বলেছেন, বাংলাদেশের রোহিঙ্গা ইস্যুতে সাহায্য–সহযোগিতার সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন করার আগে পুরো বিশ্বকে প্রশ্ন করা উচিত, কী করেছে পুরো বিশ্ব? অথবা যুক্তরাজ্য কি আগত রোহিঙ্গাদের কোনো একটি অংশ পুনর্বাসন করবে তাদের দেশে?

সম্মানিত হাইকমিশনার এভাবে বলতে পেরেছেন, কারণ তিনি বিষয়টি সম্পর্কে জানেন এবং ভেবেছেন, একই সঙ্গে তিনি বৈশ্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি তুলনা করার মতো তথ্য রাখেন। কোনো মানুষ, দেশ বা জাতিকে প্রশ্ন করে বিব্রত করা যায়, আবার সহযোগিতাও করা যায়—নির্ভর করে কোথায় কী কারণে প্রশ্নের পাল্টাপাল্টি চলছে, তার ওপর।

অনেক কিছুই আমরা প্রশ্নহীন রেখে দিই, হয়তো নিজেদের অজ্ঞতায় বা সজ্ঞানে। সব প্রশ্নের উত্তর কিন্তু উত্তর দিয়ে দেওয়া যায় না বরং পাল্টা প্রশ্নই যথার্থ উত্তর এনে দেয়। মনে পড়ে, একটি দূতাবাসে ভিসা ইন্টারভিউয়ের পর আমাকে বলা হয়েছিল ‘দুঃখিত, আপনার দেশে ফিরে আসার মতো যথেষ্ট কারণ না থাকায় ভিসা দেওয়া যাচ্ছে না।’ আমি বোকার মতো বলেছিলাম, কীভাবে বুঝলেন আমি ফিরব না? সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বললেন ‘এ রকম অনেকেই গিয়ে ফিরে আসেননি।’ আমি বললাম, আপনারা ভিসা অফিসার হিসেবে অদক্ষ বলেই এমন হয়। কর্মকর্তা বললেন, ‘কীভাবে এবং কেন?’ আমার উত্তর ছিল, আমি তো ভিসা দেওয়ার কেউ নই, আপনাদের ভুল মূল্যায়নে আপনারাই ভুল ব্যক্তিকে ভিসা দিয়ে, নিজেদের অদক্ষতা প্রমাণ করে আমাকে অহেতুক অসত্যবাদী বলছেন, অথচ আমার ফিরে আসার তারিখ এবং টিকিট আবেদনে যুক্ত আছে। এই জবাবে ওই কর্মকর্তা হাসলেন, বসতে বললেন এবং কয়েক মিনিট পরে নিজে ভিসাসহ পাসপোর্ট দিয়ে হ্যান্ডশেক করে ধন্যবাদ দিলেন।

ওপরের এ ঘটনাটি একটা আন্তর্জাতিক যুব সম্মেলনে যাওয়ার সময়—তখন সবেমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করে বের হয়েছি। এ রকম অনেক প্রশ্নের উত্তর প্রশ্ন দিয়ে দেওয়ার শিক্ষাটা পাওয়া যায় সক্রেটিসকে অধ্যায়ন করে। আজও তাই লেখাটা হয়ে যাক প্রশ্নে প্রশ্নে। প্রথম আলোর ৭৬ লাখ পাঠকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অগণিত পাঠকের কাছে একটা প্রশ্ন, দয়া করে হৃদয়ের চোখ দিয়ে দেখবেন:

‘১১ বছরের স্কুল জীবনের সাড়ে ৪ বছরই নষ্ট’  শিরোনামে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম আলোতে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তাতে কয়েকটি বিষয় থাকলেও শিরোনামের বিষয়টি নিয়েই আমার প্রশ্ন:

প্রশ্ন-১: তাহলে কি আমাদের দেশের শিক্ষার্থীদের পিএইচডিসহ অন্য যেকোনো উচ্চশিক্ষা গ্রহণের ইচ্ছা হলে এ দেশে সম্পন্ন করা শিক্ষাজীবনকে কমিয়ে ধরা হবে? যখন পুনরায় অনার্স মাস্টার্স না করলে বিদেশে পিএইচডি করা যাবে না?
প্রশ্ন-২: তাহলে কি নিকট ভবিষ্যতে বিশ্ববাজারে আমাদের দেশে পাস করা গ্র্যাজুয়েটদের হাইস্কুল পাস গণ্য করে চাকরিতে ডাকা হবে?
প্রশ্ন-৩: সাম্প্রতিক সময়ে অথবা চলমান উচ্চশিক্ষিতরা আমাদের প্রয়োজন মেটাতে না পারলে বিদেশ থেকে উচ্চশিক্ষিত আমদানি করতে হবে? কারণ, আমরা জানি আশপাশের অনেক দেশে উচ্চশিক্ষিতরা কর্মের অভাবে পথে পথে ঘুরছে অথবা ঝাড়ুদার পদে নিয়োগের আশায় আবেদন করছে!
প্রশ্ন-৪: আমাদের এ রকম একটা জাতীয় বিপর্যয় দু–এক বছর পিছিয়ে যাওয়ার সময় না জানিয়ে এতগুলো বছর পিছিয়ে একেবারে গর্তে পড়ে যাওয়ার পর জানলাম বা জানানো হলো কেন? বিশেষ করে পদে পদে এতগুলো পরীক্ষা এবং অসাধারণ কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও! তাহলে কি পরীক্ষাই আমাদের শিক্ষাকে পিছিয়ে দিল? জাতিকে অন্ধকারে ফেলে দেওয়ার আর দ্বিতীয় কোনো কারণ লাগে কী?

Eprothom Alo
একটা বিষয় আমাদের বিশেষভাবে মনে রাখা দরকার, মানুষ ছাড়া আমাদের তেমন কোনো সম্পদই নেই। সারা বিশ্বের কাছে আমাদের জনসম্পদের শিক্ষাদীক্ষা, দক্ষতার ওপর নির্ভর করবে আমাদের অর্থনীতি, আমাদের ভবিষ্যৎ।

ইংরেজি ও গণিতের জ্ঞান নিয়ে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা বরাবরের মতো প্রশ্নবিদ্ধ হলেও মাতৃভাষায় আমাদের শিশুদের মূল্যায়ন যখন লিখতে হয় এ দেশের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ভালোভাবে বাংলা পড়ার দক্ষতা পরীক্ষায় দেখা গেছে, ৩৫ শতাংশ শিক্ষার্থীর স্কোর খুবই কম। এর মানে, তারা ভালোভাবে বাংলা পড়তে পারে না। তাদের ৪৩ শতাংশ বাংলায় কোনো প্রশ্নের পুরো উত্তরও দিতে পারে না। তখন নিশ্চয়ই বিষয়টি দেশের কাছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে, শিক্ষাবিদদের কাছে এমনকি মিডিয়ার কাছে আরও গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে, যেখানে আমরা হরহামেশাই দেখি নানা কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অতিমাত্রায় সচেতনতার ছড়াছড়ি!

যেকোনো মূল্যায়ন বোঝার, বুঝে নেওয়ার এবং বুঝিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন সর্বাগ্রে। মনে রাখতে হবে, এটি কোনো ব্যক্তিক বা প্রাতিষ্ঠানিক বিষয় নয় বরং জাতীয় তথা আন্তর্জাতিক। কেননা, বাংলাদেশিরা সমগ্র পৃথিবীজুড়ে রয়েছে নানাভাবে। আমি মনে করি, এ রিপোর্টটি নিয়ে আরও গভীর আলোচনা-সমালোচনা প্রয়োজন, প্রয়োজন গভীর উপলব্ধি। সমস্যা যেখানে রয়েছে সেগুলো সমাধানের জোর চেষ্টা শুরু করতে হবে সবার জাতীয় স্বার্থে। কেননা, এভাবে নিম্নগামিতার শিকার হলে অথবা প্রতিবেদন আসতে থাকলে এ দেশের শিক্ষিত মানুষেরা শুধু অশিক্ষিত নয়, কুশিক্ষিত হিসেবে পরিচিতি পাবে। এভাবে ডুবে যাওয়ার অগ্রিম তথ্য পেয়েও ন্যূনতম শিক্ষার শক্তিতে শিক্ষাব্যবস্থাকে রক্ষা করতে না পারলে এ দুঃখ কোথায় রাখা যায়?

লেখক: ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক

15
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান মো. সবুর খান। ছবি: খালেদ সরকার
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান মো. সবুর খান। নিজে একজন সফল উদ্যোক্তা, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করতেও সব সময় আগ্রহী। ব্যবসায়ী হয়ে ওঠার গল্প, বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ভাবনা, উদ্যোক্তাদের জন্য পরামর্শ—এমন নানা কিছু নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মো. সাইফুল্লাহ

Eprothom Alo
যত দূর জানি, আপনি পাইলট হতে চেয়েছিলেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিসংখ্যান বিভাগে পড়েছেন। জীবনে নিশ্চয়ই এমন একটা মুহূর্ত এসেছে, যেটা আপনার ক্যারিয়ারের গতিপথ ঠিক করে দিয়েছে।

এটা ঠিক যে স্কুল-কলেজে আমার পাইলট হওয়ার ইচ্ছা ছিল। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় সেনাবাহিনীর লং কোর্সে টিকেও গিয়েছিলাম। আমি ও আমার এক বন্ধুর সকাল ১০টায় রিপোর্টিং করার কথা। অর্থাৎ সকাল ৮টায় জাহাঙ্গীরনগর থেকে রওনা হতে হবে। সকালে বন্ধু যখন আমার রুমের দরজায় টোকা দিল, কেন যেন বলে বসলাম, আমি যাব না। মনে হচ্ছিল, আর্মিতে চলে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়–জীবনটা মিস করব। সবাই খুব অবাক হয়েছিল। মা-বাবা অখুশি হয়েছিলেন। সেদিন যদি আর্মিতে যেতাম, হয়তো জীবনটা অন্য রকম হতো। কিন্তু এই সুযোগটা হারানোর কারণে আমার জেদ চেপে গিয়েছিল। এরপর আরও নানা কিছু করেছি। বিদেশে যাব ভেবে টোয়েফল দিয়েছি। স্নাতক শেষ হওয়ার পর দেখি বন্ধুরা সবাই বিসিএস দেয়, আমিও দিলাম। টিকে গেলাম। আমার পোস্টিং হয়েছিল ডাক বিভাগে। পররাষ্ট্র ক্যাডার পেলে হয়তো সরকারি চাকরিতেই যেতাম। আবার ব্যাংকে চাকরি পেয়েছি। কিন্তু ব্যবসা করার ইচ্ছে সব সময় ছিল, তাই মাস্টার্সের রেজাল্ট হওয়ার আগেই আমি ব্যবসা শুরু করেছিলাম। আমি মনে করি প্রতিটা ব্যর্থতাই একেকটা শিক্ষা। এই যে পররাষ্ট্র ক্যাডারে হলো না, এই ব্যর্থতা আমাকে আরও ভালো কিছু করার অনুপ্রেরণা দিয়েছে।

এখন যেমন সবকিছুই কম্পিউটারনির্ভর, প্রযুক্তিনির্ভর। নব্বইয়ের দশকে তো এমনটা ছিল না। কম্পিউটারের ব্যবসা কেন শুরু করলেন?
আমার সব সময় একটা মনোভাব ছিল, আমি সেই ব্যবসাই করব, যেটা সম্পর্কে আমি ভালো জানি। সে সময় কম্পিউটার হয়তো এত পরিচিত ছিল না, কিন্তু যে অল্প কয়েকটা প্রোগ্রাম ছিল, সেগুলোই খুব ভালো জানতাম। কম্পিউটার নিয়ে যেহেতু আমার আত্মবিশ্বাস ছিল, ভাবলাম এই খাতেই ব্যবসা করি। সে সময় কম্পিউটার সায়েন্স নামে কোনো বিষয় ছিল না। কিন্তু আমাদের সময়ই প্রথম কম্পিউটার সায়েন্স নামে ১০০ নম্বরের একটা কোর্স চালু হলো। আমি সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছিলাম। কারণ পরিসংখ্যানের কিছু বিষয় মজা লাগত না, কিন্তু কম্পিউটার সায়েন্স খুব ভালো লাগত।

ছাত্রজীবন থেকেই বোধ হয় ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা আপনার মধ্যে ছিল। একজন উদ্যোক্তা হতে হলে যেই বৈশিষ্ট্যটা খুব প্রয়োজন।
হ্যাঁ। আমি কখনোই বেকার থাকতে পছন্দ করতাম না। তখনকার রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দীর্ঘ দিন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকত। এলাকায় গিয়ে তরুণদের ডেকে তখন উন্নয়নের অগ্রদূত নামে একটা সামাজিক সংগঠনের কাজ করতাম। স্কুলে পড়ার সময় খেলাঘর আসর করেছি, স্কাউটিং করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে রোটার​্যাক্ট ক্লাবে খুব সক্রিয় ছিলাম। সব সময় আগ্রহ ছিল নতুন কিছু করার। পারি বা না পারি, কবিতা আবৃত্তি, বিতর্ক, গান, সবকিছুতে নাম লেখাতাম। কখনো কখনো পুরস্কারও পেতাম। এখন বুঝি, এই আগ্রহই পরে কর্মজীবনে কাজে এসেছে।

২৪ জানুয়ারি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ১৭ বছর পূর্ণ হলো। ২০০২ সালে যখন শুরু করেছিলেন, তখন বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আপনার ভাবনা কী ছিল?
আমাদের খুব সৌভাগ্য, শুরুতেই উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক আমিনুল ইসলামের মতো একজন মানুষকে পেয়েছিলাম। তিনি এত দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব নিয়েছিলেন যে সত্যি বলতে, ২০০৭ সাল পর্যন্ত আমি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে খুব একটা ভাবিনি। ২০০৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটা মূল্যায়ন করল। দেখলাম সেরা ৯ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে আমাদের অবস্থান ৬ নম্বরে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়স তখন মাত্র ৪-৫ বছর, অনেক সময় শিক্ষকদের বেতন ঠিকমতো দিতে পারি না, নানা সমস্যা। আমি খুব অবাক হলাম, এত সীমাবদ্ধতার মধ্যেও কীভাবে আমরা এত ভালো করলাম। তখন বুঝলাম, এটা আসলে অধ্যাপক আমিনুল ইসলামের কঠিন নিয়মকানুন ও স্বচ্ছতার ফল। এই ঘটনাটা আমাকে খুব অনুপ্রাণিত করল। তখন মনে হলো, আমিনুল ইসলাম স্যার যদি বিশ্ববিদ্যালয়টাকে এত দূর নিয়ে আসতে পারেন, তাহলে আমি কেন আমার অভিজ্ঞতাটাও তাঁর সঙ্গে যোগ করি না? বিশ্ববিদ্যালয়ে সময় দিতে শুরু করলাম। ঠিক করলাম, প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে আমরা একটা করে ল্যাপটপ দেব, বিনা মূল্যে। তখন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত আমরা প্রায় ৩৪ হাজার ছাত্রছাত্রীকে ল্যাপটপ দিয়েছি।

 ল্যাপটপ দেওয়ার কথা ভাবলেন কেন?
আমার ভাবনা ছিল, শিক্ষার্থীরা যদি ল্যাপটপ পায়, তারা কর্মজীবনে ভালো করবে। তাদের একটা বিরাট অংশ এটাকে কাজে লাগাবে। হয়েছেও তাই। আউটসোর্সিং, ফ্রিল্যান্সিংসহ তথ্যপ্রযুক্তির সব খাতে দেখবেন আমাদের ছেলেমেয়েরা ভালো করছে। কয়েক দিন আগে একটা ছেলে এসে বলল, স্যার, আমি নারায়ণগঞ্জে একটা ব্যবসা করছি। আপনাকে একটা প্রেজেন্টেশন দেখাতে চাই। সে যখন প্রেজেন্টেশন দিতে শুরু করল, দেখলাম সে ড্যাফোডিলের দেওয়া ল্যাপটপ নিয়ে এসেছে। সে যখন বলল, স্যার, এই ল্যাপটপ দিয়েই তো আমি জ্যামে বসে পরিকল্পনা করেছি, ছোটখাটো ব্যবসা শুরু করেছি; আমার মন ভরে গেল।

উদ্যোক্তা তৈরির জন্য আপনি অনেক দিন ধরেই কাজ করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে যেমন ইনোভেশন অ্যান্ড এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ নামে একটা বিভাগ আছে। শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আরও নানা রকম কার্যক্রম আছে ড্যাফোডিলের।
প্রতি সপ্তাহে আমরা ছাত্রছাত্রীদের জন্য একটা স্টার্টআপ মার্কেটের সুযোগ করে দিই। এই মার্কেটে ছাত্রছাত্রীরা বিভিন্ন পণ্য সাজিয়ে বিক্রি করে। আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেস্তোরাঁ চালানো থেকে শুরু করে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের খাবার কিংবা টি–শার্ট সরবরাহ...সবকিছুই করে শিক্ষার্থীরা। একটা দল পাস করে বের হয়ে যাচ্ছে, নিজের ব্যবসা চালু করছে। আবার নতুন একটা ব্যাচ এসে হাল ধরছে। এ ছাড়া আমরা ক্যাম্পাসে প্রচুর প্রতিযোগিতার আয়োজন করি। হাল্ট প্রাইজ, গেট ইন দ্য রিং, আর ইউ নেক্সট স্টার্টআপ, স্টার্টআপ আইডিয়া ফর ফান্ড...এই সব প্রতিযোগিতার উদ্দেশ্যই হলো শিক্ষার্থীকে ব্যবসায় উদ্বুদ্ধ করা, চর্চা করার সুযোগ করে দেওয়া। সম্প্রতি একটা তহবিল চালু করেছি। আমি ছাত্রছাত্রীদের কিছু ক্লাস নিই। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী তার জন্য আমাকে বেতন দেওয়া হয়। আমি বললাম, আমি বেতন নিলে সেটা তো ভালো দেখা যায় না। এই টাকাটা দিয়ে বরং একটা তহবিল গঠন করা হোক। উদ্যোক্তা উন্নয়ন তহবিল। কোনো শিক্ষার্থী যদি ব্যবসা করতে চায়, তার যদি তহবিলের দরকার হয়, সে বিনা সুদে এই তহবিল থেকে ঋণ নিতে পারবে।

 তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য যদি সংক্ষেপে ৩টি পরামর্শ দিতে বলি...
প্রথম পরামর্শ হলো, শুরু করো। দ্বিতীয় পরামর্শ, ফান্ড নিয়ে ভেবো না। শুরু করতে পারলে ফান্ডের ব্যবস্থা হবে। তৃতীয় পরামর্শ হলো, সব লিখে রাখো। আমি অনেক বড় ব্যবসায়ীকে দেখেছি, যদি বলি আপনার ব্যবসার পরিকল্পনা আমাকে পাঠান, আমি একটু বিশ্লেষণ করে দেখি। দিতে পারে না। এটা খুব দুঃখজনক। মাথায় রাখলে হবে না। নোট রাখতে হবে। তাহলে পরিকল্পনাটা গোছানো হয়, ভুলগুলো জানা যায়।

আরও ৬ পরিচিতি

● পরিচালক, ওয়ার্ল্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি সার্ভিসেস অ্যালায়েন্স (উইটসা)

● হাইকমিশনার, ওয়ার্ল্ড বিজনেস অ্যাঞ্জেল ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম বাংলাদেশ

● সহসভাপতি, অ্যাসোসিয়েশন অব ইউনিভার্সিটিজ অব এশিয়া অ্যান্ড দি প্যাসিফিক

● সাবেক সভাপতি, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ

● সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি

● প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি, বাংলাদেশ বিজনেস অ্যাঞ্জেল নেটওয়ার্ক (বিবিএএন)
মো. সবুর খান

১৯৬৫
জন্ম, বাবুরহাট, চাঁদপুর

১৯৮৯
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর

১৯৯০
ড্যাফোডিল কম্পিউটারস লিমিটেড প্রতিষ্ঠা

১৯৯৫
দেশের প্রথম কম্পিউটার সুপারস্টোর ধারণার প্রবর্তন

১৯৯৬
ড্যাফোডিল ইনস্টিটিউট অব আইটি প্রতিষ্ঠা

১৯৯৭
প্রথম দেশে ব্র্যান্ড কম্পিউটার ড্যাফোডিলপিসি বাজারজাত

২০০২
প্রথম তথ্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জে ‘পাবলিক লিস্টেড প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে তালিকাভুক্ত হয় ড্যাফোডিল কম্পিউটারস লিমিটেড

২০১৮
ভারতের কলিঙ্গ ইনস্টিটিউট অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল টেকনোলজি থেকে সম্মানসূচক ডি লিট ডিগ্রি অর্জন

৫ প্রতিষ্ঠান

● ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

● বাংলাদেশ স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট (বিএসডিআই)

● ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল প্রফেশনাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট

● ড্যাফোডিল ইনস্টিটিউট অব আইটি (ডিআইআইটি)

● ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি (ডিআইএ)

৩ বই

● হ্যান্ডবুক অব এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ ডেভেলপমেন্ট

● উদ্যোক্তা উন্নয়ন নির্দেশিকা

● আর্ট অব ইফেক্টিভ লিভিং এবং আ জার্নি টুওয়ার্ডস এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ

৫ পুরস্কার

● দ্য ডেইলি স্টার আইসিটি বিজনেস পারসন অব দ্য ইয়ার ২০১৮

● লাইট অব এশিয়া অ্যাওয়ার্ড

● ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস অব আইটি (ডব্লিউসিআইটি) ২০১৭ মেরিট অ্যাওয়ার্ড

● এশিয়া’স মোস্ট ইনস্পায়ারিং ন্যাশন বিল্ডার পুরস্কার

● উইটসা অ্যাওয়ার্ড ফর বেস্ট আইসিটি এন্ট্রাপ্রেনিউর

Pages: [1] 2 3 4