Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - Reza.

Pages: [1] 2 3 ... 45
1
Permanent Campus of DIU / If you are feeling down - visit hospitals.
« on: June 13, 2019, 11:04:45 PM »
হাসপাতালের এইচ ডি ইউ। হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট।
এখানে সবাই অনেক সিরিয়াস অবস্থার রুগী। প্রায় সবাই অচেতন অবস্থায় বেডে শুয়ে আছে। কেউ লাইফ সাপোর্টে। কারো মুখে অক্সিজেন মাস্ক লাগানো। পুরো এইচ ডি ইউয়ে ২৪ ঘন্টা একই রকম আলো ও তাপমাত্রা। দিন রাত্রির কোন পার্থক্য করা যায় না। না জানলে যে কেউ আশ্চর্য হয়ে ভাববে কিছু মানুষ যেন ঘুমিয়ে আছে অনন্তকাল কি এক মোহনিয় পরিবেশে। যেন তাদেরকে ডাক দিলেই এক এক জন জেগে উঠবে - চোখ কচলিয়ে ঘুম থেকে উঠে কথা বলে উঠবে। মেশিনের টিক টিক শব্দের সাথে নিশ্বাস নেয়ার ফোঁস ফোঁস শব্দ শোনা যায়। মনে হয় কিছু একটার জন্য সময় গননা চলতেছে।
এইচ ডি ইউ এর ভর্তি রুগীদের সাথে তাদের আত্মীয় স্বজনরা ভিতরে গিয়ে সকাল ১১ টা থেকে ১২ টা পর্যন্ত তাদের স্বজনকে দেখতে পারে।
সকাল ১০ঃ৫৫। এইচ ডি ইউয়ের গেটে ২০ - ২৫ জন আত্মীয়ের ভীর। তারা ব্যস্ত তাদের মুখে মাস্ক মাথায় টুপি পায়ের কভার আর আপ্রন পড়ার কাজে। শুধু ১১ঃ০০ টা বাজার অপেক্ষা। খুব দ্রুত তারা হাত দিয়ে আপ্রন মাস্ক পড়ে চলে। এই এক ঘন্টার প্রতি মুহূর্ত অতি মূল্যবান।
১১ঃ০০ টা বাজার সাথে সাথে সবাই প্রায় ছুটে চলে এইচ ডি ইউ এর ভিতরে। ছোটবেলায় স্কুল ছুটি হলে যে চিত্র ফুটে উঠে তার সাথে এর কিছুটা মিল আছে। এইচ ডি ইউ এ সব কিছুর হিসেব ভিন্ন। এখানে স্বজনের নিঃশ্বাস চলতেছে এইটা দেখাও যেন বহু মুল্যবান একটি উপহার। এখানে নাই কোন হিংসা শত্রুতার হিসেব। নাই কোন প্রথম হওয়ার বা লাভ ক্ষতির হিসেব। এখানে শুধুই হার্টবিট আর নিঃশ্বাস চলার হিসেব। প্রিয় জনের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকা। প্রতিদিনই তো কাছে থেকে দেখা হত। কিন্তু এখন সেই একই মানুষের মুখে কথা না থাকলেও অনেক মমতা উথলে উঠে। দুপুর ১২ঃ০০ টা বাজে। মনে হয় কত দ্রুত চলে গেল সময়টুকু। মেডিক্যাল এসিস্টেন্টদের বার বার অনুরোধ সত্ত্বেও কিছু সময় নেয়া। যতক্ষণ কাছে থাকা যায় প্রিয়জনের। বের হতে হতে বার বার পিছনে প্রিয়জনের দিকে ফিরে তাকানো। বের হওয়ার সময় গেটে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা।
রাত ১২ঃ০০ টা। এইচ ডি ইউয়ের গেট বন্ধ। বাইরে লম্বা বারান্দা। পুরো জায়গা সুনসান জনমানবহীন। কিন্তু জানি এখানে মন পড়ে আছে স্বজনদের। ঝড়ো বাতাস উঠে চলেছে। কিছুক্ষণ পরে ঝড় উঠবে। স্বজনের তাতে কোন ভ্রূক্ষেপ নাই। লম্বা বারান্দায় আনমনে হেটে চলে অক্লান্ত। বারান্দার বাইরে বড়বড় গাছের ডাল পালা ঝড়ে দুলে চলে। মনে পড়ে সেই শ্বাসের শব্দ। কিছুটা রহস্যময় মনে হয়। যেন ঝড় জানে অনেক কিছু। সেই অচেতন রুগীর কথা তার স্বজনের মনের কথা।

2
Textile Engineering / If you are feeling down - visit hospitals.
« on: June 13, 2019, 11:04:00 PM »
হাসপাতালের এইচ ডি ইউ। হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট।
এখানে সবাই অনেক সিরিয়াস অবস্থার রুগী। প্রায় সবাই অচেতন অবস্থায় বেডে শুয়ে আছে। কেউ লাইফ সাপোর্টে। কারো মুখে অক্সিজেন মাস্ক লাগানো। পুরো এইচ ডি ইউয়ে ২৪ ঘন্টা একই রকম আলো ও তাপমাত্রা। দিন রাত্রির কোন পার্থক্য করা যায় না। না জানলে যে কেউ আশ্চর্য হয়ে ভাববে কিছু মানুষ যেন ঘুমিয়ে আছে অনন্তকাল কি এক মোহনিয় পরিবেশে। যেন তাদেরকে ডাক দিলেই এক এক জন জেগে উঠবে - চোখ কচলিয়ে ঘুম থেকে উঠে কথা বলে উঠবে। মেশিনের টিক টিক শব্দের সাথে নিশ্বাস নেয়ার ফোঁস ফোঁস শব্দ শোনা যায়। মনে হয় কিছু একটার জন্য সময় গননা চলতেছে।
এইচ ডি ইউ এর ভর্তি রুগীদের সাথে তাদের আত্মীয় স্বজনরা ভিতরে গিয়ে সকাল ১১ টা থেকে ১২ টা পর্যন্ত তাদের স্বজনকে দেখতে পারে।
সকাল ১০ঃ৫৫। এইচ ডি ইউয়ের গেটে ২০ - ২৫ জন আত্মীয়ের ভীর। তারা ব্যস্ত তাদের মুখে মাস্ক মাথায় টুপি পায়ের কভার আর আপ্রন পড়ার কাজে। শুধু ১১ঃ০০ টা বাজার অপেক্ষা। খুব দ্রুত তারা হাত দিয়ে আপ্রন মাস্ক পড়ে চলে। এই এক ঘন্টার প্রতি মুহূর্ত অতি মূল্যবান।
১১ঃ০০ টা বাজার সাথে সাথে সবাই প্রায় ছুটে চলে এইচ ডি ইউ এর ভিতরে। ছোটবেলায় স্কুল ছুটি হলে যে চিত্র ফুটে উঠে তার সাথে এর কিছুটা মিল আছে। এইচ ডি ইউ এ সব কিছুর হিসেব ভিন্ন। এখানে স্বজনের নিঃশ্বাস চলতেছে এইটা দেখাও যেন বহু মুল্যবান একটি উপহার। এখানে নাই কোন হিংসা শত্রুতার হিসেব। নাই কোন প্রথম হওয়ার বা লাভ ক্ষতির হিসেব। এখানে শুধুই হার্টবিট আর নিঃশ্বাস চলার হিসেব। প্রিয় জনের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকা। প্রতিদিনই তো কাছে থেকে দেখা হত। কিন্তু এখন সেই একই মানুষের মুখে কথা না থাকলেও অনেক মমতা উথলে উঠে। দুপুর ১২ঃ০০ টা বাজে। মনে হয় কত দ্রুত চলে গেল সময়টুকু। মেডিক্যাল এসিস্টেন্টদের বার বার অনুরোধ সত্ত্বেও কিছু সময় নেয়া। যতক্ষণ কাছে থাকা যায় প্রিয়জনের। বের হতে হতে বার বার পিছনে প্রিয়জনের দিকে ফিরে তাকানো। বের হওয়ার সময় গেটে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা।
রাত ১২ঃ০০ টা। এইচ ডি ইউয়ের গেট বন্ধ। বাইরে লম্বা বারান্দা। পুরো জায়গা সুনসান জনমানবহীন। কিন্তু জানি এখানে মন পড়ে আছে স্বজনদের। ঝড়ো বাতাস উঠে চলেছে। কিছুক্ষণ পরে ঝড় উঠবে। স্বজনের তাতে কোন ভ্রূক্ষেপ নাই। লম্বা বারান্দায় আনমনে হেটে চলে অক্লান্ত। বারান্দার বাইরে বড়বড় গাছের ডাল পালা ঝড়ে দুলে চলে। মনে পড়ে সেই শ্বাসের শব্দ। কিছুটা রহস্যময় মনে হয়। যেন ঝড় জানে অনেক কিছু। সেই অচেতন রুগীর কথা তার স্বজনের মনের কথা।

3
আমরা আমাদের জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট নই। কেননা আমাদের শিক্ষা ও জীবনের দর্শন অপুস্ট। আমরা শিক্ষা মানে বুঝি কেবলমাত্র বৈষয়িক শিক্ষা। জীবন মানে কেবলমাত্র টাকা অর্জন। ফার্মের মুরগির জীবন আমাদের আদর্শ। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় স্বাস্থ্য মানে কি শুধু পুস্ট শরীর? তাহলে তো স্থুলদেহীরাই কেবলমাত্র স্বাস্থ্যবান। মানুষ মানে মন, শরীর ও শিক্ষার দিক থেকে পুস্ট। যে সময় পায় নিজের কাজ, পরিবার, সমাজ, আত্মিক ও মানসিক কর্মকাণ্ডের জন্য। আমরা আমাদের সব মেশিন পত্র নিয়ে জীবন যাপন করি এক এক টি প্রতিবন্ধি জীবন।

4
আমরা আমাদের জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট নই। কেননা আমাদের শিক্ষা ও জীবনের দর্শন অপুস্ট। আমরা শিক্ষা মানে বুঝি কেবলমাত্র বৈষয়িক শিক্ষা। জীবন মানে কেবলমাত্র টাকা অর্জন। ফার্মের মুরগির জীবন আমাদের আদর্শ। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় স্বাস্থ্য মানে কি শুধু পুস্ট শরীর? তাহলে তো স্থুলদেহীরাই কেবলমাত্র স্বাস্থ্যবান। মানুষ মানে মন, শরীর ও শিক্ষার দিক থেকে পুস্ট। যে সময় পায় নিজের কাজ, পরিবার, সমাজ, আত্মিক ও মানসিক কর্মকাণ্ডের জন্য। আমরা আমাদের সব মেশিন পত্র নিয়ে জীবন যাপন করি এক এক টি প্রতিবন্ধি জীবন।

5
১. স্পষ্ট মনে আছে। একেবারে ছোটবেলায় থাকতাম মোহাম্মাদপুরে। প্রথমে অনেক বছর আমাদের বাসার রান্না হত কেরোসিনের চুলাতে। কেননা সেখানে তখনও গ্যাস আসে নাই। তখন রবিবারে ছিল সাপ্তাহিক ছুটি। রবিবারে বাসার একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল রান্নার জন্য দুইটা বড় ক্যান ভরে কেরসিন কেনা। তখন আমাদের বাসায় ছিল না কোন টেলিভিশন, ফ্রিজ। ল্যান্ড ফোনও ছিল না আমাদের বাসায়। (মোবাইল মনে হয় তখনও আবিস্কার হয় নাই। কম্পিউটার এর কথা বাদই দিলাম।)
জীবন তখন কতটুকু কঠিন ছিল না সহজ ছিল তা আমার জানা নাই। তবে আমরা স্কুলের পরে সারাদিন খেলা ধুলা করে বেড়াতাম। আমার বাবাও অফিস থেকে এসে আমাদের সাথে পুরো অবসর সময় কাটাতেন। আমাদের সাথে খেলতেন বা বাসার জন্য কিছু কাজ করতেন।
২. এখন আমাদের বাসায় কি নাই? জীবনকে সহজ করার জন্য ফ্রিজ টেলিভিশন, মোবাইল, ওভেন, ওয়াশিং মেশিন, এক দুইটা কম্পিউটার, ল্যাপ্টপ, অ্যাই পি এস সবই আছে। রান্না ঘরে গ্যাসের চুলা, নব ধরে ঘুরালে আগুন জ্বলে উঠে।
ভাবতেছি - আমাদের জীবন কি এই সব উপকরণের ফলে আগের থেকে সহজ হয়েছে? আমাদের অবসর সময় কি বেড়েছে? না সব সময় ক্লান্ত পরিশ্রান্ত আমরা আগের থেকে?

6
১. স্পষ্ট মনে আছে। একেবারে ছোটবেলায় থাকতাম মোহাম্মাদপুরে। প্রথমে অনেক বছর আমাদের বাসার রান্না হত কেরোসিনের চুলাতে। কেননা সেখানে তখনও গ্যাস আসে নাই। তখন রবিবারে ছিল সাপ্তাহিক ছুটি। রবিবারে বাসার একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল রান্নার জন্য দুইটা বড় ক্যান ভরে কেরসিন কেনা। তখন আমাদের বাসায় ছিল না কোন টেলিভিশন, ফ্রিজ। ল্যান্ড ফোনও ছিল না আমাদের বাসায়। (মোবাইল মনে হয় তখনও আবিস্কার হয় নাই। কম্পিউটার এর কথা বাদই দিলাম।)
জীবন তখন কতটুকু কঠিন ছিল না সহজ ছিল তা আমার জানা নাই। তবে আমরা স্কুলের পরে সারাদিন খেলা ধুলা করে বেড়াতাম। আমার বাবাও অফিস থেকে এসে আমাদের সাথে পুরো অবসর সময় কাটাতেন। আমাদের সাথে খেলতেন বা বাসার জন্য কিছু কাজ করতেন।
২. এখন আমাদের বাসায় কি নাই? জীবনকে সহজ করার জন্য ফ্রিজ টেলিভিশন, মোবাইল, ওভেন, ওয়াশিং মেশিন, এক দুইটা কম্পিউটার, ল্যাপ্টপ, অ্যাই পি এস সবই আছে। রান্না ঘরে গ্যাসের চুলা, নব ধরে ঘুরালে আগুন জ্বলে উঠে।
ভাবতেছি - আমাদের জীবন কি এই সব উপকরণের ফলে আগের থেকে সহজ হয়েছে? আমাদের অবসর সময় কি বেড়েছে? না সব সময় ক্লান্ত পরিশ্রান্ত আমরা আগের থেকে?

7
মানুষ তার সারাজীবনে কত পরিশ্রম করে। কত কর্ম ও অপকর্ম করে। এর মাঝে কিছু মানুষ অর্থ ও ক্ষমতার জন্য অপকর্ম করে যায়। কিন্তু অর্থ ও ক্ষমতা ক্ষনস্থায়ী ও মুল্যহীন এইটা বুঝতেই একটি জীবনের পুরোটাই চলে যায়। তখন আর ভুল্গুলো ঠিক করার সুযোগ থাকে না। মানুষের সাথে শেষ পর্যন্ত যা থেকে যায় তা হল মানুষের ভালবাসা ও দোয়া। আমাদের ধর্মে নির্দিষ্ট করে বলা আছে কার প্রতি কি দায়িত্ব আছে প্রত্যেক মানুষের। বাবা-মা, ছেলেমেয়ে, স্ত্রী স্বামী, আত্মীয়স্বজন প্রতিবেশী, সমাজ ও দেশ কার জন্য কি করতে হবে সব স্পষ্ট করে বর্ণনা দেয়া আছে। আবেগপ্রবন হওয়ার কোন অবকাশ এতে নাই। কেউ অন্যায় আচরণ করলে এর প্রতিদানে কি করতে হবে তাও বর্ণনা দেয়া আছে। এই বিষয়গুলোর ব্যাপারে আমাদের অজ্ঞতা আমাদের জীবনে কত দুঃখজনক পরিনতি এনে দেয় তা নিজের বা অন্যের জীবনে আমরা প্রত্যক্ষ করি। অনেকে যেমন এইগুলো সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে আবার কিছু মানুষ মানসিক ভাবে অসুস্থতার জন্য অনেক অপকর্ম করে যা করতে স্পষ্ট করে নিষেধ করা আছে। যে কোন আর্থিক ক্ষতির থেকে মানুষের প্রতি অন্যায় আচরণ মানুষের মনে অনেক বড় কষ্টের কারণ হয়। লিখতে শুরু করেছিলাম অনেক আবেগ নিয়ে। কিন্তু লেখাটিতে সেই আবেগের কিছুই ফুটিয়ে তুলতে পারি নাই। আমার সব লেখাতেই বাস্তব উদাহরণ বা ঘটনা দিয়ে শুরু করার চেষ্টা করি। এইটাতে সেই রকম কিছু দেয়া সম্ভব হয় নাই। মানুষের সব দুর্ভোগের কারণ মানুষের অজ্ঞতা ও ক্ষেত্র বিশেষে তার মনের অসুস্থতা। আল্লাহ আমাকে সহ সবাইকে অনুগ্রহ করুন ও আমাদের মন্দ কাজের জন্য ক্ষমা করুন এইটাই দোয়া করতেছি মন থেকে।

8
মানুষ তার সারাজীবনে কত পরিশ্রম করে। কত কর্ম ও অপকর্ম করে। এর মাঝে কিছু মানুষ অর্থ ও ক্ষমতার জন্য অপকর্ম করে যায়। কিন্তু অর্থ ও ক্ষমতা ক্ষনস্থায়ী ও মুল্যহীন এইটা বুঝতেই একটি জীবনের পুরোটাই চলে যায়। তখন আর ভুল্গুলো ঠিক করার সুযোগ থাকে না। মানুষের সাথে শেষ পর্যন্ত যা থেকে যায় তা হল মানুষের ভালবাসা ও দোয়া। আমাদের ধর্মে নির্দিষ্ট করে বলা আছে কার প্রতি কি দায়িত্ব আছে প্রত্যেক মানুষের। বাবা-মা, ছেলেমেয়ে, স্ত্রী স্বামী, আত্মীয়স্বজন প্রতিবেশী, সমাজ ও দেশ কার জন্য কি করতে হবে সব স্পষ্ট করে বর্ণনা দেয়া আছে। আবেগপ্রবন হওয়ার কোন অবকাশ এতে নাই। কেউ অন্যায় আচরণ করলে কি এর প্রতিদানে কি করতে হবে তাও বর্ণনা দেয়া আছে। এই বিষয়গুলোর ব্যাপারে আমাদের অজ্ঞতা আমাদের জীবনে কত দুঃখজনক পরিনতি এনে দেয় তা নিজের বা অন্যের জীবনে আমরা প্রত্যক্ষ করি। অনেকে যেমন এইগুলো সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে আবার কিছু মানুষ মানসিক ভাবে অসুস্থতার জন্য অনেক অপকর্ম করে যা করতে স্পষ্ট করে নিষেধ করা আছে। যে কোন আর্থিক ক্ষতির থেকে মানুষের প্রতি অন্যায় আচরণ মানুষের মনে অনেক বড় কষ্টের কারণ হয়। লিখতে শুরু করেছিলাম অনেক আবেগ নিয়ে। কিন্তু লেখাটিতে সেই আবেগের কিছুই ফুটিয়ে তুলতে পারি নাই। আমার সব লেখাতেই বাস্তব উদাহরণ বা ঘটনা দিয়ে শুরু করার চেষ্টা করি। এইটাতে সেই রকম কিছু দেয়া সম্ভব হয় নাই। মানুষের সব দুর্ভোগের কারণ মানুষের অজ্ঞতা ও ক্ষেত্র বিশেষে তার মনের অসুস্থতা। আল্লাহ আমাকে সহ সবাইকে অনুগ্রহ করুন ও আমাদের মন্দ কাজের জন্য ক্ষমা করুন এইটাই দোয়া করতেছি মন থেকে।

9
আমাদের শেখানো হয়েছে - ' ক্ষমা মহৎ গুণ।' আমাদের ইসলাম ধর্মেও বলা আছে অন্যকে ক্ষমা করার জন্যে।
মনে হল ক্ষমা করা অনেক কঠিন একটি ব্যাপার। বিশেষতঃ কেউ যদি আপনার ক্ষতি করে থাকে। বা ক্ষতি করার চেষ্টা করে থাকে। কিভাবে তখন কাউকে ক্ষমা করা যায়?
নিজে হয়তো তেমন ক্ষমতাধর কেউ নই। উপায় নাই কারো উপর প্রতিশোধ নেয়ার। তার পরেও শত্রুকে মনে মনে ক্ষমা করে তার মঙ্গলের জন্য দোয়া করাও যে কারো জন্যেই খুব কঠিন একটি ব্যাপার।
আমার এই জীবনের অভিজ্ঞতায় কিছু মানুষ দেখেছি যারা কোন কারণ ছাড়াই অন্যের ক্ষতি করার জন্য লেগে থাকে। কোন কারণ ছাড়াই মিথ্যা কুৎসা রটায়। এমনকি তার জীবনে যে উপকার করেছে তার নামেও কুৎসা রটাতে তার মুহূর্ত মাত্র সময় লাগে না। অদ্ভুত ব্যাখ্যাহীন এদের প্রবৃত্তি। মানুষের দুঃসময়ে এরা আরও বেশী তৎপর হয়। আরও বেশী ক্ষতিসাধন করার জন্য উঠে পড়ে লাগে।
তবে এরা নিজেরাও খুব ভাল থাকে তা নয়। এদের জীবনের পুরোটাই খুব হতাশার ও দুঃখের। অন্যের ক্ষতিসাধনে তারা এতটাই ব্যস্ত যে নিজের অবস্থা নিয়ে এরা ভাবার সময় পায় না। এমনকি তার নিজের পরিণাম নিয়ে যদি বুঝত - তাহলে বাকি জীবন তার আতংকেই পার হত।
আমাদের এই পৃথিবীতে কত অদ্ভুত মানুষের সমাহার। কেউ জীবন গেলেও মিথ্যা বলবে না। আবার কেউ 'সত্য কথা বলে মানুষের কি লাভ' - এইটাই ভাবে। কেউ কেবলমাত্র মানুষের ভাল দোয়া পাওয়ার জন্য কত পরিশ্রম করে। আবার কেউ মানুষের বদদোয়ার ভ্রূক্ষেপ বা তোয়াক্কা না করে তার অপকর্ম করে যায়।
সাথে সাথে এইটাও মনে হইতেছে যে - আমি তো এমন মানুষও দেখেছি যারা কেবলমাত্র মানুষের ভালবাসা ও দোয়া পাওয়ার জন্য মানুষের উপকার করে যায়। বিনিময়ে কি পাবে তার কোন হিসেব তারা কখনো করে না।
মানুষের সব কর্মই তার অতীত জীবন, তার পরিবার ও তার পারিবারিক শিক্ষা সম্পর্কে ধারণা দেয়। তার চিন্তা-চেতনা ও বিশ্বাস-অবিশ্বাসের ছায়া ফুটে উঠে মানুষের প্রতি তার ব্যবহার দেখে।
এর সাথে মানুষের মনের চিত্রও ফুটে উঠে তার কর্মের মাধ্যমে। যারা বিনা কারণে মানুষের পিছনে লেগে থাকে তারা মানসিক ভাবে কতটুকু সুস্থ বা অসুস্থ এইটা সবারই ভাবনায় আনা উচিৎ।
ডিকশনারিতে একটি শব্দ পেলাম - সেটি হল ' ম্যানিয়াক'। ডিকশনারিতে এর অর্থ দেখতেছি - 'বাতিকগ্রস্থ'।
ক্লেপ্টোম্যানিয়াক বলা হয় সেই সব মানুষদেরকে যারা বিনা কারণে চুরি করে। কোন একটা জিনিষ হয়তো তার প্রয়োজন নাই তাও অভ্যাস বসে চুরি করে ফেলে। সেই রকম কিছু অসুস্থ মানুষ থাকে যারা কোন কারণ ছাড়াই মিথ্যা বলে ও অন্যের ক্ষতি সাধন করে চলে - কেননা তারা মানসিক ভাবে সুস্থ্য নয়। তারাও এক ধরনের 'ম্যানিয়াক'।

10
আমাদের শেখানো হয়েছে - ' ক্ষমা মহৎ গুণ।' আমাদের ইসলাম ধর্মেও বলা আছে অন্যকে ক্ষমা করার জন্যে।
মনে হল ক্ষমা করা অনেক কঠিন একটি ব্যাপার। বিশেষতঃ কেউ যদি আপনার ক্ষতি করে থাকে। বা ক্ষতি করার চেষ্টা করে থাকে। কিভাবে তখন কাউকে ক্ষমা করা যায়?
নিজে হয়তো তেমন ক্ষমতাধর কেউ নই। উপায় নাই কারো উপর প্রতিশোধ নেয়ার। তার পরেও শত্রুকে মনে মনে ক্ষমা করে তার মঙ্গলের জন্য দোয়া করাও যে কারো জন্যেই খুব কঠিন একটি ব্যাপার।
আমার এই জীবনের অভিজ্ঞতায় কিছু মানুষ দেখেছি যারা কোন কারণ ছাড়াই অন্যের ক্ষতি করার জন্য লেগে থাকে। কোন কারণ ছাড়াই মিথ্যা কুৎসা রটায়। এমনকি তার জীবনে যে উপকার করেছে তার নামেও কুৎসা রটাতে তার মুহূর্ত মাত্র সময় লাগে না। অদ্ভুত ব্যাখ্যাহীন এদের প্রবৃত্তি। মানুষের দুঃসময়ে এরা আরও বেশী তৎপর হয়। আরও বেশী ক্ষতিসাধন করার জন্য উঠে পড়ে লাগে।
তবে এরা নিজেরাও খুব ভাল থাকে তা নয়। এদের জীবনের পুরোটাই খুব হতাশার ও দুঃখের। অন্যের ক্ষতিসাধনে তারা এতটাই ব্যস্ত যে নিজের অবস্থা নিয়ে এরা ভাবার সময় পায় না। এমনকি তার নিজের পরিণাম নিয়ে যদি বুঝত - তাহলে বাকি জীবন তার আতংকেই পার হত।
আমাদের এই পৃথিবীতে কত অদ্ভুত মানুষের সমাহার। কেউ জীবন গেলেও মিথ্যা বলবে না। আবার কেউ 'সত্য কথা বলে মানুষের কি লাভ' - এইটাই ভাবে। কেউ কেবলমাত্র মানুষের ভাল দোয়া পাওয়ার জন্য কত পরিশ্রম করে। আবার কেউ মানুষের বদদোয়ার ভ্রূক্ষেপ বা তোয়াক্কা না করে তার অপকর্ম করে যায়।
সাথে সাথে এইটাও মনে হইতেছে যে - আমি তো এমন মানুষও দেখেছি যারা কেবলমাত্র মানুষের ভালবাসা ও দোয়া পাওয়ার জন্য মানুষের উপকার করে যায়। বিনিময়ে কি পাবে তার কোন হিসেব তারা কখনো করে না।
মানুষের সব কর্মই তার অতীত জীবন, তার পরিবার ও তার পারিবারিক শিক্ষা সম্পর্কে ধারণা দেয়। তার চিন্তা-চেতনা ও বিশ্বাস-অবিশ্বাসের ছায়া ফুটে উঠে মানুষের প্রতি তার ব্যবহার দেখে।
এর সাথে মানুষের মনের চিত্রও ফুটে উঠে তার কর্মের মাধ্যমে। যারা বিনা কারণে মানুষের পিছনে লেগে থাকে তারা মানসিক ভাবে কতটুকু সুস্থ বা অসুস্থ এইটা সবারই ভাবনায় আনা উচিৎ।
ডিকশনারিতে একটি শব্দ পেলাম - সেটি হল ' ম্যানিয়াক'। ডিকশনারিতে এর অর্থ দেখতেছি - 'বাতিকগ্রস্থ'।
ক্লেপ্টোম্যানিয়াক বলা হয় সেই সব মানুষদেরকে যারা বিনা কারণে চুরি করে। কোন একটা জিনিষ হয়তো তার প্রয়োজন নাই তাও অভ্যাস বসে চুরি করে ফেলে। সেই রকম কিছু অসুস্থ মানুষ থাকে যারা কোন কারণ ছাড়াই মিথ্যা বলে ও অন্যের ক্ষতি সাধন করে চলে - কেননা তারা মানসিক ভাবে সুস্থ্য নয়। তারাও এক ধরনের 'ম্যানিয়াক'।

11
১৯৯৯ সাল। টেক্সটাইলে চতুর্থ বর্ষ চলতেছে। আমাদের টেক্সটাইলের কারিকুলাম অনুযায়ী দুই মাসের ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং চলবে। আমি ছিলাম এডভান্সড ফেব্রিক মান্যুফ্যাকচারিং্যের ছাত্র। সেই হিসেবে আমার তিনটা ফ্যাক্টরিতে ট্রেনিং করতে হবে। উইভিং এ ১ মাস, নিটিং এ ২০ দিন ও জুট ফ্যাক্টরিতে ১০ দিন ট্রেনিং ঠিক করে দেয়া হল কলেজ থেকে। উইভিং ফ্যাক্টরি ঠিক হল শামসুল আল আমিন কটন মিলস লিমিটেড। আমি থাকি উত্তরাতে। আর শামসুল আল আমিন কটন মিলস হল নারায়নগঞ্জে। প্রতিদিন সকালে ৭ঃ১৫ তে উত্তরা থেকে বি আর টি সি দোতালা বাসে উঠি। সোজা চলে যাই গুলিস্থান। (ঢাকায় তখনও জ্যাম ছিল। তবে এতটা নয়।) গুলিস্থান থেকে লক্কর ঝক্কর বাসে করে যাই আদমজী জুট মিলে। সেখানে পৌছে যতটুকু মনে পড়ে রিক্সা নিতে হত। রিক্সায় পৌঁছুতাম শীতলক্ষ্যা নদীর ধারে। নদীর অন্যপারে ছিল শামসুল আল আমিন কটন মিলস। নদীর ঘাটে পৌঁছুলে সেখানকার ফ্যাক্টোরির গার্ড অপরপারে পতাকা দেখাতেন। তখন ফ্যাক্টোরির ইঞ্জিনচালিত নৌকা এইপারে এসে আমাদের নিয়ে নদী পার হয়ে অপরপারে পৌছে দিত। মনে আছে আমরা ফাইনালি ফ্যাক্টরিতে পৌঁছুতাম ঘড়ির কাটা যখন ১০ঃ৩০ এ থাকতো।
১ মাস সেইখানে প্রতিদিন গেলাম। এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা। এই ফ্যাক্টরিটি ছিল অনেক পুরানো। ফ্যাক্টরিটি আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে রানিং ছিল। আর পুরানো অংশটি সেই কোন ব্রিটিশ টাইমের যন্ত্রপাতি নিয়ে স্থবির পড়ে থাকতো। সেই অংশের স্মৃতি এখনও মনে দাগ কেটে আছে। সেই অংশের সকল যন্ত্রপাতি ধুলোর পুরো আস্তরে ঢাকা ছিল। পুরো অংশটিতে একেবারে ছাদ থেকে মাকড়শার জালে আলপনা কাঁটা ছিল। সূর্যের দিনের আলো যতটুকু ঢুকতে পারতো সেই অল্পটুকুই আলোকিত হত। সেখানে লাইটের কোন ব্যাবস্থা ছিল না। বিশাল শেডে এক ভুতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করতো।
আমি এমনিতেই খুব নস্টালজিয়া উপভোগ করি। আমার মনে হল আর মানুষ পাইলো না। আমি অভিভূত যে আমি এইরকম একটি জায়গা দেখতে পেয়েছি। স্থবির যন্ত্রপাতির মাঝে কল্পনার চোখে ভেসে উঠত আগের সেই ব্যস্ত মানুষের সারাদিনের কর্ম চাঞ্চল্য। সেইখানে আরেকটি মজার জিনিষ দেখেছিলাম। সেইটা হল একটি পুরানো বিশাল বয়লার। এই বয়লারটির নীচে বিশাল একটি উনুন বা চুলা। নীচের এই চুলাতে কয়লা জ্বালিয়ে বয়লারটি থেকে বাষ্প তৈরি করে ফ্যাক্টরিতে বিভিন্ন কাজের জন্য সাপ্লাই দেয়া হত। এখন তার সব ব্যস্ততা শেষ হয়ে গেছে। অলস পড়ে আছে অতীতের সাক্ষী হিসেবে।
আমরা সব জিনিসের লেটেস্ট টেকনোলজি নিয়ে অনেক কর্ম ব্যস্ত সময় কাটাই। আমাদের নিঃশ্বাস ফেলার সময় নাই। আমার সব সময়ই মনে হয়েছে ইঞ্জিনিয়ারিং এর শুরুর প্রাথমিক বিষয় গুলো শেখার জন্য কনভেনশনাল মেকানিক্যাল যন্ত্রপাতিই বেশী উপযুক্ত। কেননা সেখানে খালি চোখেই বিভিন্ন মেকানিজম কিভাবে কাজ করে তা সহজেই দেখা যায়। আর প্রাথমিক টপিক গুলো পরিস্কার ভাবে বোঝা হয়ে গেলে আধুনিক মেশিনের সাহায্যে শেখা অনেক দ্রুত ও সহজ হয়। আমার মতে নিটিং শেখার জন্য প্রথমে হোস নিটিং মেশিন ও ভি বেড নিটিং মেশিন সব থেকে সহজ। একই ভাবে উইভিং শেখার জন্য কনভেনশনাল শাটেল লুম দিয়ে শুরু করা উচিৎ।

12
১৯৯৯ সাল। টেক্সটাইলে চতুর্থ বর্ষ চলতেছে। আমাদের টেক্সটাইলের কারিকুলাম অনুযায়ী দুই মাসের ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং চলবে। আমি ছিলাম এডভান্সড ফেব্রিক মান্যুফ্যাকচারিং্যের ছাত্র। সেই হিসেবে আমার তিনটা ফ্যাক্টরিতে ট্রেনিং করতে হবে। উইভিং এ ১ মাস, নিটিং এ ২০ দিন ও জুট ফ্যাক্টরিতে ১০ দিন ট্রেনিং ঠিক করে দেয়া হল কলেজ থেকে। উইভিং ফ্যাক্টরি ঠিক হল শামসুল আল আমিন কটন মিলস লিমিটেড। আমি থাকি উত্তরাতে। আর শামসুল আল আমিন কটন মিলস হল নারায়নগঞ্জে। প্রতিদিন সকালে ৭ঃ১৫ তে উত্তরা থেকে বি আর টি সি দোতালা বাসে উঠি। সোজা চলে যাই গুলিস্থান। (ঢাকায় তখনও জ্যাম ছিল। তবে এতটা নয়।) গুলিস্থান থেকে লক্কর ঝক্কর বাসে করে যাই আদমজী জুট মিলে। সেখানে পৌছে যতটুকু মনে পড়ে রিক্সা নিতে হত। রিক্সায় পৌঁছুতাম শীতলক্ষ্যা নদীর ধারে। নদীর অন্যপারে ছিল শামসুল আল আমিন কটন মিলস। নদীর ঘাটে পৌঁছুলে সেখানকার ফ্যাক্টোরির গার্ড অপরপারে পতাকা দেখাতেন। তখন ফ্যাক্টোরির ইঞ্জিনচালিত নৌকা এইপারে এসে আমাদের নিয়ে নদী পার হয়ে অপরপারে পৌছে দিত। মনে আছে আমরা ফাইনালি ফ্যাক্টরিতে পৌঁছুতাম ঘড়ির কাটা যখন ১০ঃ৩০ এ থাকতো।
১ মাস সেইখানে প্রতিদিন গেলাম। এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা। এই ফ্যাক্টরিটি ছিল অনেক পুরানো। ফ্যাক্টরিটি আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে রানিং ছিল। আর পুরানো অংশটি সেই কোন ব্রিটিশ টাইমের যন্ত্রপাতি নিয়ে স্থবির পড়ে থাকতো। সেই অংশের স্মৃতি এখনও মনে দাগ কেটে আছে। সেই অংশের সকল যন্ত্রপাতি ধুলোর পুরো আস্তরে ঢাকা ছিল। পুরো অংশটিতে একেবারে ছাদ থেকে মাকড়শার জালে আলপনা কাঁটা ছিল। সূর্যের দিনের আলো যতটুকু ঢুকতে পারতো সেই অল্পটুকুই আলোকিত হত। সেখানে লাইটের কোন ব্যাবস্থা ছিল না। বিশাল শেডে এক ভুতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করতো।
আমি এমনিতেই খুব নস্টালজিয়া উপভোগ করি। আমার মনে হল আর মানুষ পাইলো না। আমি অভিভূত যে আমি এইরকম একটি জায়গা দেখতে পেয়েছি। স্থবির যন্ত্রপাতির মাঝে কল্পনার চোখে ভেসে উঠত আগের সেই ব্যস্ত মানুষের সারাদিনের কর্ম চাঞ্চল্য। সেইখানে আরেকটি মজার জিনিষ দেখেছিলাম। সেইটা হল একটি পুরানো বিশাল বয়লার। এই বয়লারটির নীচে বিশাল একটি উনুন বা চুলা। নীচের এই চুলাতে কয়লা জ্বালিয়ে বয়লারটি থেকে বাষ্প তৈরি করে ফ্যাক্টরিতে বিভিন্ন কাজের জন্য সাপ্লাই দেয়া হত। এখন তার সব ব্যস্ততা শেষ হয়ে গেছে। অলস পড়ে আছে অতীতের সাক্ষী হিসেবে।
আমরা সব জিনিসের লেটেস্ট টেকনোলজি নিয়ে অনেক কর্ম ব্যস্ত সময় কাটাই। আমাদের নিঃশ্বাস ফেলার সময় নাই। আমার সব সময়ই মনে হয়েছে ইঞ্জিনিয়ারিং এর শুরুর প্রাথমিক বিষয় গুলো শেখার জন্য কনভেনশনাল মেকানিক্যাল যন্ত্রপাতিই বেশী উপযুক্ত। কেননা সেখানে খালি চোখেই বিভিন্ন মেকানিজম কিভাবে কাজ করে তা সহজেই দেখা যায়। আর প্রাথমিক টপিক গুলো পরিস্কার ভাবে বোঝা হয়ে গেলে আধুনিক মেশিনের সাহায্যে শেখা অনেক দ্রুত ও সহজ হয়। আমার মতে নিটিং শেখার জন্য প্রথমে হোস নিটিং মেশিন ও ভি বেড নিটিং মেশিন সব থেকে সহজ। একই ভাবে উইভিং শেখার জন্য কনভেনশনাল শাটেল লুম দিয়ে শুরু করা উচিৎ।

13
Thank you for your comment.

14
(দিন শেষে কিছু লেখা)
আনন্দ গুলো লিখে বুঝানো যায় না। লেখার থেকে হাসি মুখ দেখে বেশী বোঝা যায়। দুঃখও লিখে বুঝানো যায় না। এর থেকে কান্না দেখে দুঃখ বেশী বোঝা যায়।
মানুষের মন কত অদ্ভুত। মনের অনুভুতি গুলো লিখে বা কথায় বোঝানো খুব কঠিন। মনের অনুভুতি গুলো কেবলমাত্র অনুভব করা সম্ভব।
একজায়গায় পড়েছিলাম - একজন মানুষের তিনটি অংশ থাকে। দেহ, মন ও আত্মা।
মন অনেক শক্তিশালী। সে যত ভাবে অনুভব করতে পারে তার খুব কমই আমরা প্রকাশ করতে পারি। সে ভুলে না কিছুই। কিন্তু আমরা নিজেরা ভুলে যাই। ঘুম থেকে উঠা মাত্র দেখা স্বপ্নের সব কিছুই মনে থাকে। সময় গেলে সেই স্বপ্ন মনে করা কত কঠিন। খুব ছোটবেলার কতকিছু চোখের সামনে ভেসে উঠে। স্পষ্ট মনে পরে যায় সেই মানুষগুলোকে, সেই বাড়ি, সেই মাঠ। কিন্তু এখন আর জানা নেই তারা কারা ছিল? কোন বাড়ি ছিল সেটা? কোথায় সেই শব্দের অনুরণন?
মাঝে মাঝে মনে হয় - মন আমাদের সাথে সবসময় হেয়ালী করে চলে। সে জানে অনেক কিছু। কিন্তু আমাকে জানতে দেয় না। লুকিয়ে রাখে। যে মন আমার বলি।
মন অসংখ্য ডাইমেনশনে অনুভব করতে পারে। সেখানে আমরা প্রকাশ করতে পারি বড়জোর একটি বা দুইটি ডাইমেনশনে।
মন কখনো অতীতে চলে যায়। কখনো বর্তমানে আবার কখনো বা ভবিষ্যৎ নিয়ে ভেবে চলে। কখনো কাছে দেখে, কখনো বা বহু দূরের জিনিষ নিয়ে ভেবে চলে। কখনো সে বন্ধুত্ব করে কখনো রেগে যায় কখনো বা সব কিছু হাল্কা ভাবে নেয়। মনের ইনপুট দেয় আমাদের চোখ, কান, নাক - এরা। এদের মাধ্যমেই মন অভিজ্ঞতা অর্জন করে। আমরা যা দেখি তাই নিয়ে কেবল ভাবতে পারি। আমরা যা শুনি তাই নিয়ে কেবল ভেবে চলি। সত্যি কি তাই? এর বাইরে কি কিছু নাই?
তাহলে একই গ্লাস একজন অর্ধেক পূর্ণ আর আরেকজন অর্ধেক খালি দেখে কেন? একই কথা একজন বিশ্বাস করে আরেকজন অবিশ্বাসের সাথে প্রশ্ন তুলে? কিংবা একজন হত্যা করে অপরজন সেবা করে? সেই একই চোখ কান নাক সব মানুষের। কিন্তু কত পার্থক্য তাদের চিন্তা চেতনায়।
কিভাবে মানুষ কবিতা লিখে? গানের সুর গুলো কোথা থেকে আসে? চোখ বন্ধ করে কিভাবে মানুষ কল্পনা করে যায়? সে তো আগে শুনে নাই সেই সুর,দেখে নাই সেই ছবি।
কিভাবে একজন মানুষের মনের স্বপ্ন হাজার মানুষের মাঝে প্রজ্জলিত হয়?

15
(দিন শেষে কিছু লেখা)
আনন্দ গুলো লিখে বুঝানো যায় না। লেখার থেকে হাসি মুখ দেখে বেশী বোঝা যায়। দুঃখও লিখে বুঝানো যায় না। এর থেকে কান্না দেখে দুঃখ বেশী বোঝা যায়।
মানুষের মন কত অদ্ভুত। মনের অনুভুতি গুলো লিখে বা কথায় বোঝানো খুব কঠিন। মনের অনুভুতি গুলো কেবলমাত্র অনুভব করা সম্ভব।
একজায়গায় পড়েছিলাম - একজন মানুষের তিনটি অংশ থাকে। দেহ, মন ও আত্মা।
মন অনেক শক্তিশালী। সে যত ভাবে অনুভব করতে পারে তার খুব কমই আমরা প্রকাশ করতে পারি। সে ভুলে না কিছুই। কিন্তু আমরা নিজেরা ভুলে যাই। ঘুম থেকে উঠা মাত্র দেখা স্বপ্নের সব কিছুই মনে থাকে। সময় গেলে সেই স্বপ্ন মনে করা কত কঠিন। খুব ছোটবেলার কতকিছু চোখের সামনে ভেসে উঠে। স্পষ্ট মনে পরে যায় সেই মানুষগুলোকে, সেই বাড়ি, সেই মাঠ। কিন্তু এখন আর জানা নেই তারা কারা ছিল? কোন বাড়ি ছিল সেটা? কোথায় সেই শব্দের অনুরণন?
মাঝে মাঝে মনে হয় - মন আমাদের সাথে সবসময় হেয়ালী করে চলে। সে জানে অনেক কিছু। কিন্তু আমাকে জানতে দেয় না। লুকিয়ে রাখে। যে মন আমার বলি।
মন অসংখ্য ডাইমেনশনে অনুভব করতে পারে। সেখানে আমরা প্রকাশ করতে পারি বড়জোর একটি বা দুইটি ডাইমেনশনে।
মন কখনো অতীতে চলে যায়। কখনো বর্তমানে আবার কখনো বা ভবিষ্যৎ নিয়ে ভেবে চলে। কখনো কাছে দেখে, কখনো বা বহু দূরের জিনিষ নিয়ে ভেবে চলে। কখনো সে বন্ধুত্ব করে কখনো রেগে যায় কখনো বা সব কিছু হাল্কা ভাবে নেয়। মনের ইনপুট দেয় আমাদের চোখ, কান, নাক - এরা। এদের মাধ্যমেই মন অভিজ্ঞতা অর্জন করে। আমরা যা দেখি তাই নিয়ে কেবল ভাবতে পারি। আমরা যা শুনি তাই নিয়ে কেবল ভেবে চলি। সত্যি কি তাই? এর বাইরে কি কিছু নাই?
তাহলে একই গ্লাস একজন অর্ধেক পূর্ণ আর আরেকজন অর্ধেক খালি দেখে কেন? একই কথা একজন বিশ্বাস করে আরেকজন অবিশ্বাসের সাথে প্রশ্ন তুলে? কিংবা একজন হত্যা করে অপরজন সেবা করে? সেই একই চোখ কান নাক সব মানুষের। কিন্তু কত পার্থক্য তাদের চিন্তা চেতনায়।
কিভাবে মানুষ কবিতা লিখে? গানের সুর গুলো কোথা থেকে আসে? চোখ বন্ধ করে কিভাবে মানুষ কল্পনা করে যায়? সে তো আগে শুনে নাই সেই সুর,দেখে নাই সেই ছবি।
কিভাবে একজন মানুষের মনের স্বপ্ন হাজার মানুষের মাঝে প্রজ্জলিত হয়?

Pages: [1] 2 3 ... 45