Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - smsirajul

Pages: [1] 2 3 4
1
বাঙালি আর ভাত, একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রত ভাবে জড়িত। বাঙালি সর্বভূক! সারা দিনে দেশি-বিদেশি যত রকমই খাবার খেয়ে বেড়াক না কেন, দিনে অন্তত একবার তার ভাত চাই-ই-চাই। অনেকে আবার ডায়েটের কারণে ভাতের থেকে দূরে থাকেন। কিন্তু জানেন কি ত্বক আর চুলের স্বাস্থ্য ফেরাতেও ভাতের জুড়ি মেলা ভার! তবে এ ক্ষেত্রে ভাত সরাসরি নয়, ভাতের মাড় কাজে লাগানো যেতে পারে ত্বক আর চুলের পরিচর্যায়। আসুন এ বিষয়ে সবিস্তারে জেনে নেওয়া যাক...
ত্বক আর চুলের স্বাস্থ্য ফেরাতে ভাতের মাড়ের ব্যবহার:

স্নানের জলে ভাতের মাড় মিশিয়ে স্নান করলে ত্বকের মধ্যে অস্বস্তিকর জ্বালা, চুলকানি থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া যায়।
ব্রণর সমস্যায় ভুগছেন? তাহলে, ভাতের মাড় ঠান্ডা করে তুলোর সাহায্যে লাগান ব্রণ আক্রান্ত স্থানে। দিনে ২-৩ বার ব্যবহার করলেই ফারাক বুঝতে পারবেন।

সান ট্যান পড়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গা পুড়ে যায়। পুড়ে যাওয়া জায়গাগুলিতে ঠান্ডা ভাতের মাড় লাগালে চলে যায় ট্যান। একইসঙ্গে বাড়বে ত্বকের জেল্লাও।
শ্যাম্পু করার পর, জল আর ভাতের মাড় মিশিয়ে চুলের গোড়ায় দিন। মিশ্রনটি চুলে দেওয়ার পর ৩-৪ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। এতে চুলের ডগা ফাটার মতো সমস্যা থেকে রক্ষা পাবেন।

এছাড়াও মজবুত ও ঊজ্জ্বল্য চুল পেতে ব্য়বহার করুণ ভাতের মাড়।

2
লম্বা মানুষ কে না পছন্দ করেন! লম্বা মানুষের প্রতি প্রায় সকলেরই একটু বাড়তি আকর্ষণ থাকে। লম্বা হওয়ার বিষয়টা সম্পূর্ণ নির্ভর করে বংশগত বৈশিষ্ট্যের উপর। একটা নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত মানব শরীরের বৃদ্ধি ঘটে, উচ্চতা বাড়ে। তবে উচ্চতা ঠিক মতো বৃদ্ধি পাওয়ার ক্ষেত্রে সঠিক খাওয়া দাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। শরীর ঠিক মতো পুষ্টি না পেলে আপনার যতটুকু লম্বা হওয়ার উচিত, ততটুকু বৃদ্ধি নাও হতে পারেন। তাই মায়েরা ছেলে-মেয়েদের এটা-ওটা-সেটা খাওয়াতে সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকেন। বাজার চলতি হেলথ ড্রিঙ্কসের উপরেও ভরসা রাখেন অনেকেই।

তবে এমন কিছু খাবার আছে, যেগুলি শরীরের বৃদ্ধির এই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। সাধারণত পুরুষের উচ্চতা সর্বোচ্চ ২৫ বছর পর্যন্ত আর মেয়েদের উচ্চতা সর্বোচ্চ ২১ বছর পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। এই সময় যদি প্রতিদিনকার খাদ্যতালিকায় এই খাবারগুলো রাখা যায় তবে শরীরের উচ্চতা বৃদ্ধির গতি ত্বরান্বিত হবে। এ বার জেনে নেওয়া যাক, কোন খাবারগুলি উচ্চতা বৃদ্ধি করতে বিশেষ ভাবে সহায়ক।

১) ঢ্যাড়স: উচ্চতা বৃদ্ধিতে সহায়ক যে সবজিগুলি আছে, তার মধ্যে ঢ্যাড়স অন্যতম। ঢ্যাড়সে আছে ভিটামিন, মিনারেল, কার্বোহাইড্রেট, জল ও ফাইবার যা গ্রোথ হরমোনের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে উচ্চতা বাড়াতে সহায়তা করে।

২) শালগম: শালগম অনেকেরই পছন্দের সবজি। এই শালগমই আপনাকে উচ্চতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে। শালগমে আছে ভিটামিন, মিনারেল, ফাইবার, প্রোটিন, এবং ফ্যাট। এই উপাদানগুলো উচ্চতা বৃদ্ধিতে সহায়ক।

৩) মটরশুঁটি: মটরশুঁটি ছোট বড় সবাই বেশ পছন্দ করেন। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, মিনারেল, ফাইবার, লুটেইন ও প্রোটিন আছে যা শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে সহায়তা করে এবং উচ্চতা বাড়াতে সহায়ক। তবে শুকনো মটরশুঁটিতে এই সকল উপাদান উপস্থিতি থাকে না।

৪) বাঁধাকপি: ধাকপিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, মিনারেল, আয়রন, প্রোটিন ও ফাইবার আছে। যা উচ্চতা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি ক্যান্সার প্রতিরোধ করে থাকে।

৫) পালং শাক: পালং শাকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, ফাইবার ও মিনারেল। আর এই উপাদানগুলি উচ্চতা বৃদ্ধি করে থাকে। নিয়মিত পালং শাক খেলে অল্প কিছু দিনের মধ্যে উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে।

৬) সয়াবিন: সয়াবিনের প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন আছে যার টিস্যু ও হাড় গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্রতিদিন ৫০ গ্রাম সয়াবিন খান আর দেখুন আপানার উচ্চতা কয়েক ইঞ্চি বেড়ে গিয়েছে মাত্র কয়েক সপ্তাহেই।

৭) ব্রোকলি: উচ্চতা বৃদ্ধিতে সবুজ রঙের এই সবজিটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সামান্য তেতো স্বাদের কারণে অনেকে ব্রোকলি পছন্দ করেন না। কিন্তু এতে রয়েছে ভিটামিন সি, ফাইবার, আয়রন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা উচ্চতা বাড়াতে সহায়তা করে।

3
কর্মব্যস্ততা, খাওয়াদাওয়ার অনিয়ম, ব্যায়াম করার অবকাশ না মেলায় সব মিলিয়ে শরীরে রোজ যেটুকু ক্ষতি হয়, ডায়েট মেনে খানিক হাঁটাহাঁটি করে সেটুকু পুষিয়ে দেওয়ার কিছুটা চেষ্টা করি আমরা। তাতেও অনেক সময় দেখা যায়, কাঙ্ক্ষিত ফল মিলছে না। হয়তো নিয়ম মেনে ডায়েটের পরেও কমছে না মেদ।

এমনটা কেন হয় তা নিয়ে নানা চলতি ধারণা রয়েছে আমাদের। কেউ মনে করেন, শুধু ডায়েটে কিছুই লাভ হয় না, কেউ আবার ভাবেন, ডায়েটে খাবারের পরিমাণে রদবদল ঘটানোর সময় এসেছে। পুষ্টিবিদ সুমেধা সিংহের মতে, ‘‘আজকাল অনেকেই সোশ্যাল সাইট দেখে ডায়েট শুরু করে দেন। এতেও ক্ষতি হয় বিস্তর। শরীরের ওজনই শুধু নয়, ডায়েট নির্ণয়ের সময় শরীরের বিপাক হার, অন্য কোনও অসুখ রয়েছে কি না— এমন অনেক কিছুই খেয়াল রাখতে হয়।সে সব মানলে ওজনও কমে। মেদ না কমার যে শঙ্কা তাড়া করে বেড়ায় তার মূলে অনেকটাই রয়েছে আত্মবিশ্বাসের অভাব, কারণ ডায়েট বাছাই বা পালন করার মধ্যেই থেকে যায় নানা ভুল। যেমন, পেটের মেদ জমতে যতটা সময় নেয়, গলতে সময় নেয় তার চেয়ে অনেক বেশি। খাপছাড়া ও অবৈজ্ঞানিক ডায়েট বা অনিয়মিত শরীরচর্চা দিয়ে তাকে রোখা বেশ কঠিন।’’

ডায়েট শুরু করার পর তাই ভুল রুখতে খেয়াল রাখতে হয় বেশ কিছু বিশেষ দিকে। তবেই মিলবে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল। ডায়েট মানার সময় কোন কোন ক্ষেত্রে বিশেষ জোর দেবেন, জানালেন বিশেষজ্ঞ।

আপনার বয়স, ওজন, শরীরের রোগ-ব্যাধি ইত্যাদি বিষয়ের উপর নির্ভর করে তবেই আপনার পক্ষে উপযুক্ত ডায়েট প্ল্যান নির্ধারণ করা সম্ভব। কোনও অনলাইন সাইটের পক্ষে এত কিছু জেনে আপনার ডায়েট চার্ট বানানো সম্ভব নয়। এ ছাড়া সব ডায়েট সব শরীরের উপর কার্যকরী হয় না। তাই এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের মতামত খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ওজন কমানো একটি সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। কোনও ডায়েট প্ন্যানই সহজেই আপনার ওজন অনেকটা কমিয়ে আনতে পারে না। যদি আনেও, তবে তা শরীরের কিছু ক্ষতি করে। তাই তেমন ডায়েট প্ল্যান থেকে দূরেই থাকুন।

আপনার ডায়েট প্ল্যানটি যদি অতিরিক্ত খরচসাপেক্ষ হয়, তা হলে সেই ডায়েট মানার কোনও মানেই হয় না। দামি সাপ্লিমেন্ট খেলে তবেই আপনার ওজন হ্রাস হবে এমনটাও দাবি করে অনেক অনলাইন সাইট। বাস্তবে সুস্থ শরীরে সাধারণ ডায়েট মেনে চলার পাশাপাশি যদি শরীরচর্চা চালিয়ে যাওয়া যায়, তা হলে ওজন কমতে বাধ্য। দরকার শুধু একটু ধৈর্য্যের।

এমন অনেক ডায়েট প্ল্যান আছে যা আপনাকে নির্দিষ্ট কিছু খাদ্য একেবারেই পরিত্যাগ করতে বলে। অথচ ডায়েটে প্রোটিন, ফ্যাট, কার্বোহাইড্রেট সবরকম খাবারই অল্পস্বল্প হলেও শরীরে প্রয়োজন। দীর্ঘ দিন যাবত এই ধরনের ডায়েট প্ল্যান আপনার ওজন কমাতে সাহায্য করলেও এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় আপনাকে অনেকটা ভুগতে হতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে তবেই গ্রহণ করুন যে কোনও ডায়েট।

আপনার শরীরে চিট ডায়েট আদৌ চলবে কি না সেটাও চিকিৎসকই জানাবেন। যুগের হাওয়ায় না বুঝে এমন সিদ্ধান্ত নেবেন না।

4
Food Habit / বন্ধু হোক ফাইবার
« on: January 01, 2020, 06:02:33 PM »
রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরলের পরিমাণ যেমন নিয়ন্ত্রণে রাখে, তেমনই কোষ্ঠকাঠিন্যও দূর করে ফাইবার
শরীর সুস্থ রাখতে ফাইবারের ভূমিকা খুব জরুরি। অধিক মাত্রায় পুষ্টির জোগান না দিলেও ইনটেস্টাইনের স্বাস্থ্য রক্ষায় ফাইবারের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ফল, আনাজপাতি, হোলগ্রেন ফাইবারে ভরপুর। তবে কী ধরনের ফাইবার খাবেন, তা নির্ভর করছে আপনার শরীরের উপরে।

 ফাইবার আসলে কী?
শস্য, দানা, ফল বা আনাজপাতিতে ফাইবার থাকে। পেট ভরাতে ও পেট পরিষ্কার করাই ফাইবারের আসল কাজ। কিছু ফাইবার হজমও করা যায় না। বিশেষত বীজ, যে ভাবে খাবেন, সে ভাবেই তা মল দ্বারা শরীরের বাইরে নির্গত হয়। কিন্তু ইনটেস্টাইন পরিষ্কার রাখে। শরীরের টক্সিন বার করতে সাহায্য করে ফাইবার।

 
কোন কোন খাবারে থাকে?

প্রথমেই বুঝতে হবে ফাইবারের ভাগ। ফাইবার আসলে দু’রকমের হয়— দ্রাব্য এবং অদ্রাব্য। দ্রাব্য ফাইবার জলের সঙ্গে মিশে জেলের মতো তরল প্রস্তুত করে। যেমন ধরুন, ওটস, বার্লি, আপেল, সিট্রাস ফল (মুসাম্বি, কমলালেবু), গাজর  ইত্যাদি। এই দ্রাব্য ফাইবার রক্তে কোলেস্টেরল ও শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য এই জাতীয় ফাইবার রোজ খাদ্যতালিকায় রাখা ভাল। অন্য দিকে অদ্রাব্য ফাইবার পেট পরিষ্কার করে। যেমন ধরুন, আটা, বাদাম, বীজ, আনাজ ইত্যাদি। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

 
রোজ কতটা ফাইবার দরকার?

এক জন প্রাপ্তবয়স্ক মহিলার প্রত্যেক দিন ২০ থেকে ২৫ গ্রাম এবং প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের ৩৮ থেকে ৪০ গ্রাম ফাইবার প্রয়োজন। তবে এই ফাইবারের পরিমাণটা বুঝতে হবে। যেমন, এক কাপ আপেলে ফাইবার থাকে ২-৪ গ্রাম। অন্য দিকে এক কাপ ডালে ফাইবার থাকে ৬-৭ গ্রাম। এ বার সারা দিনের খাদ্যতালিকা ধরে সেই হিসেব করে নিতে হবে।

 
এক নজরে

•কোষ্ঠকাঠিন্য, পাইলস, ফিশারের মতো সমস্যায় দীর্ঘদিন ভুগলে অবশ্যই রোজকার ডায়েটে ফাইবার রাখতে হবে। এতে বাওয়েল মুভমেন্ট স্বাভাবিক হবে। তার সঙ্গেই সমস্যাও কমবে।

•অন্য দিকে গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল ট্র্যাকে আলসার থাকলে ফাইবার নিয়ন্ত্রিত ভাবে গ্রহণ করতে হবে। সে ক্ষেত্রে বেশি ফাইবার খেলে পেটে ব্যথা বা জ্বালা করার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তখন সলিউবল বা দ্রাব্য ফাইবার খেতে হবে। ইনসলিউবল ফাইবার কমাতে হবে, অবশ্যই ডায়াটিশিয়ানের পরামর্শে।

•হুট করে হাই ফাইবার ডায়েট শুরু করা উচিত নয়। সে ক্ষেত্রে পেটে ব্যথা, গ্যাসের সমস্যা হতে পারে। তাই ধীরে ধীরে খাদ্যতালিকায় ফাইবারের পরিমাণ বাড়াতে হবে।

•ফাইবার অনেকটা স্ক্রাবার-ব্রাশের মতোই কোলন পরিষ্কার রাখে। এতে কোলন ক্যানসারের আশঙ্কাও কমে।

•বেশি ফাইবার খেলে অনেকক্ষণ পেট ভরে থাকে। ফলে জাঙ্ক খাওয়ার প্রবণতা কমে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডায়েটে ফাইবারের পরিমাণ একটু বাড়াতে পারেন।

•মানবশরীরের অন্ত্রে অনেক ভাল ব্যাকটিরিয়া থাকে, যা স্বাস্থ্যরক্ষায় সহায়ক। এই ব্যাকটিরিয়ার খাদ্য জোগায় ফাইবার। ইনটেস্টাইনে ভাল ব্যাকটিরিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখতেও ফাইবারের ভূমিকা রয়েছে।

বয়স ও রোগ অনুসারে ফাইবার গ্রহণের পরিমাণ বাড়াতে বা কমাতে হতে পারে। তাই প্রয়োজনে খাদ্যতালিকা বানানোর আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

5
শীতের অন্যতম খাবার কমলালেবু। কেবল স্বাদই নয়, স্বাস্থ্যের কারণেও এই মরসুমি ফলকে ডায়েটে রাখতে বলেন বিশেষজ্ঞরা। কমলালেবুর বিশেষ কিছু গুণ শরীরকে তরতাজা রাখতে সাহায্য করে।

পুষ্টিবিদ সুমেধা সিংহের মতে, “কমলালেবু যেমন মরসুমি ফলের ভূমিকা পালন করে, তেমনই শীতে স্ট্রোক রুখতে, ওবেসিটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে ও শরীরে ফাইবারের চাহিদা মেটাতে খুবই কাজে আসে। কমলালেবুর গুণাগুণ নিয়ে দেশ-বিদেশের বহু সংস্থাই গবেষণা করছে। আমেরিকান জার্নাল অব এপিডেমিওলজি যেমন দাবি করেছে শিশুকে ৬ মাসের পর থেকে ২ বছর অবধি শীতকাল জুড়ে কমলালেবুর রস খাওয়ালে তার লিউকোমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে।”

আর কী কী উপকার মেলে কমলালেবুতে?
ফাইবারের পরিমাণ বাড়লে রক্তে ইনসুলিনও বাড়ে। একটি মাঝারি আকারের কমলালেবুতে ৩ গ্রাম ফাইবার থাকে। ফলে ইনসুলিনের পরিমাণ বেড়ে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে কমলালেবু।

কমলালেবুতে মেলে ফাইবার, পটাশিয়াম, ভিটামিন সি, কোলিন। এগুলি হার্টের স্বাস্থ্য রক্ষা করতে বিশেষ উপকারে আসে। হৃদযন্ত্রকে সক্রিয় রাখতে, হৃদস্পন্দনের গতি ঠিক রাখতে এই উপাদানগুলির ভূমিকা অনেক।

আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের গবেষণা অনুসারে নিয়মিত কমলালেবু বা আঙুর জাতীয় ফল খেলে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে। মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলের পথকে মসৃণ ও অনুকূল করতে কমলালেবু ও আঙুর জাতীয় ফলের পটাশিয়াম ও কোলিন কাজে আসে।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও লেবুর পটাশিয়াম সোডিয়াম সাহায্য করে। তাই উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের ডায়েটে রাখা হয় কমলালেবু।

ত্বক ও চুলের যত্নের জন্য প্রয়োজনী ভিটামিন সি। চুলের বৃদ্ধি, ত্বকের ঔজ্জ্বল্য এ সব ধরে রাখতে ভিটামিন সি বিশেষ ভূমিকা পালন করে। কমলালেবুতে ভিটামিন সি-এর প্রাচুর্য রয়েছে। তাই ত্বক ও চুলের যত্নে বিশেষ উপকারী এই ফল।

6
নিম একটি ওষধিগুণ সম্পন্ন, চির হরিত, বহু বর্ষজীবি বৃক্ষ। নিম গাছের ডাল, পাতা— সবই কাজে লাগে। যেমন, নিমের কাঠ খুব শক্ত। নিম কাঠে উইপোকা বাসা বাঁধে না। ফলে নিম কাঠে কখনও ঘুণ ধরে না। শুধু উইপোকাই নয়, নিম গাছে কোনও পোকাই বাসা বাঁধে না। তাই নিম কাঠ দিয়ে আসবাবপত্রও তৈরি করা হয়। আসুন এ বার নিমের ১০টি আশ্চর্য ওষধিগুণ ও কার্যকারিতা সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক...

১) নিম তেলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-ই এবং ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে যা আমাদের ত্বক এবং চুলের জন্য খুবই উপকারী।

২) নিমপাতা ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক (ফাঙ্গাস) বিরোধী। তাই ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাকের আক্রমণের হাত থেকে ত্বককে সুরক্ষিত করতে নিমপাতা খুবই কার্যকরী! ব্রণর সমস্যা থেকে দ্রুত নিস্তার পেতে নিমপাতা বেটে লাগাতে পারেন।

৩) ত্বকের উজ্জলতা বাড়াতে নিয়মিত নিমপাতার সঙ্গে কাঁচা হলুদ ভাল করে বেটে মেখে দেখুন। খেয়াল রাখতে হবে, মিশ্রণে নিমপাতার চেয়ে হলুদের পরিমাণ যেন কম হবে। তবে হলুদ ব্যবহার করার পর কয়েক ঘণ্টা রোদ এড়িয়ে চলাই ভাল।

৪) দাঁতের জন্য নিমের ডাল খুবই উপকারী। মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে আর দাঁতের ফাঁকে জীবাণু বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ রোধ করতে নিম বেশ কার্যকরী।

৫) কেটে-ছড়ে গেলে বা পুড়ে গেলে ক্ষত স্থানে নিম পাতার রস ভেষজ ওষুধের মতো কাজ করে।

৬) নিম পাতা রোদে শুকিয়ে ভাল করে গুঁড়ো করে রেখে দিতে পারলে পরবর্তীকালে তা ফেস প্যাক হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

৭) মাথার ত্বকের চুলকানির সমস্যায় নিমপাতার রস খুবই কার্যকরী একটি উপাদান। নিমপাতার রস মাথায় নিয়মিত লাগাতে পারলে এই চুলকানির সমস্যা কমে যায়। তাছাড়া নিমপাতার রসে চুলের গোড়া শক্ত হয়, চুলের শুষ্কতা বা রুক্ষ ভাব কমে যায় এবং নতুন চুল গজাতে শুরু করে।

৮) শুধুমাত্র চুলের নয় ত্বকের যে কোনও চুলকানির সমস্যায় নিমপাতা বেটে লাগাতে পারলে দ্রুত উপকার পাওয়া যায়।

৯) গায়ের দুর্গন্ধ বা ঘামের দুর্গন্ধ দূর করতে নিমপাতার রস খুবই কার্যকরী একটি উপাদান।

১০) নিয়মিত সামান্য পরিমাণে নিমপাতা খেতে পারলে কোষ্ঠকাঠিন্য-সহ নানা লিভারের সমস্যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে। এরই সঙ্গে রক্ত পরিশুদ্ধ করতে এবং শরীর থেকে বিষাক্ত, ক্ষতিকর উপাদান বের করে শরীর সুস্থ-সতেজ ও রোগমুক্ত রাখতে নিমপাতার রস খুবই কার্যকরী।

7
একটু একটু করে ঠান্ডা পড়তে শুরু করেছে। বিকেলের পর থেকেই বেশ আরামদায়ক আবহাওয়ায় মন ফুরফুরে হয়ে যায়। ক্লান্তি কেটে গিয়ে অফিসের পর বাড়ি ফিরে একটু চায়ের আড্ডা হবে না, তা-ও কি হয় নাকি! বাড়িতে চা-কফির আড্ডাতে সঙ্গে মুখরোচক মুচমুচে কিছু একটা না থাকলে কি চলে! শীতে তো সবজির অভাব নেই। যে কোনও একটা পছন্দসই সবজি বেছে নিয়ে সেটা দিয়ে মুচমুচে কিছু একটা বানিয়ে ফেললেই হল।

এখন বাজারে ফুলকপির দেখা মিলতে শুরু করেছে। ফুলকপি ভালবাসেন না, এমন মানুষ খুব কমই আছেন বোধহয়। আজ সন্ধের চায়ের আড্ডায় বানিয়ে ফেলুন মুচমুচে মুখরোচক ফুলকপির পকোড়া। এই পদটি বানানো খুবই সহজ আর খেতেও মজাদার। চলুন, জেনে নেওয়া যাক মুখরোচক রেসিপিটি।

২টো মাঝারি মাপের ফুলকপি, ২ কাপ ময়দা ও কর্নফ্লাওয়ার, আধা চামচ কালিজিরা, ধনেপাতা কুচি আধা কাপ, আধা কাপ কাঁচা লঙ্কা কুচি, ১ চামচ চিনি, স্বাদমতো নুন, ১ চামচ গোলমরিচের গুঁড়ো, ১ চামচ সয়াসস, ২ কাপ সাদা তেল আর ৩টে ডিম।

ফুলকপির পকোড়া বানানোর পদ্ধতি:—

প্রথমে ছোট ছোট করে ফুলকপি কেটে নিন। এ বার তাতে সামান্য নুন দিয়ে ফুলকপি একটু ভাপিয়ে নিন।

তেল ছাড়া সব উপকরণ নিয়ে তাতে জল দিয়ে গোলা তৈরি করুন। খেয়াল রাখবেন গোলা যেন খুব পাতলা বা খুব ঘন না হয়ে যায়।

এ বার গোলায় ভাল করে ডুবিয়ে ডুবো তেলে ভাজুন। গরম গরম পরিবেশন করুন।

ফুলকপির সবটা ফুল ভাজা হয়ে গেলে টমেটো সস, ধনেপাতা বা পুদিনার চাটনি দিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন মুচমুচে মুখরোচক ফুলকপির পকোড়া। আড্ডার আসর জমে যাবে।

8
সুন্দর মেদহীন শরীর পেতে কে না চায়? তবে বর্তমানে ব্যাস্ততায় ফাস্ট ফুড বা বাইরের খাবারের উপর ভরসা করে যাঁদের দিনের বেশির ভাগ সময় কাটাতে হয়, তাঁদের কাছে সুন্দর মেদহীন শরীর পাওয়াটা একটা স্বপ্নের মতো বিষয়। দৈনন্দিনের ব্যস্ত জীবনযাত্রায় অল্প বয়সেই স্থুলতার সমস্যায় ভোগেন অনেকেই।

ভুঁড়ি বা স্থুল, মেদবহুল শরীর স্বাস্থ্যের পক্ষেও অত্যন্ত ক্ষতিকর। শরীরের অতিরিক্ত মেদ বা ওজনের ফলে ডায়েবিটিস, রক্তচাপ, কোমর বা হাঁটুর ব্যথার মতো সমস্যা বাড়তে পারে। এ ছাড়াও সামান্য পরিশ্রমেই ক্লান্ত হয়ে পড়া, অনিদ্রা, শ্বাসকষ্টের মতো একাধিক শারীরিক সমস্যাও দেখা দিতে পারে। শরীরের বাড়তি ওজন কমাতে আমরা কত কিছুই না করি! তবে সহজে চটজলদি ওজন কমাতে ডায়েটে রাখুন পাঁচ রকমের বাদাম। জেনে নিন কোন কোন বাদাম সহজে ওজন কমাতে সাহায্য করবে.

১) খিদে পেলে একমুঠো চিনেবাদাম খেয়ে নিতে পারেন। এতে শরীর তার প্রয়োজনীয় পুষ্টিও পাবে, খিদেও কমবে।
২) কাজু বাদামে ক্যালসিয়ামের মাত্রা কম থাকলেও এতে কপার, ম্যাগনেসিয়াম ও ফসফরাস প্রচুর পরিমাণে থাকে। তাই ওজন কমাতে পাতে রাখুন কাজু।
৩) আমন্ডে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট যা আপনার খাওয়ার ইচ্ছা বা খিদের বোধ কমিয়ে দিতে সাহায্য করে। তাই ওজন কমাতে পাতে রাখুন আমন্ড। উপকার পাবেন।
৪) প্রতিদিন সকালে একমুঠো আখরোট নিয়মিত খেতে পারলে ভাল থাকবে স্বাস্থ্য, সেই সঙ্গে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও কমবে অনেকটাই। খিদেও কমবে। তাই ওজন কমাতে পাতে রাখুন আখরোট।
৫) অন্য বাদামের সঙ্গে খানিকটা পেস্তা মিশিয়ে নিয়ে বা শুধু পেস্তাও নিয়মিত খেয়ে দেখুন। টানা ১২ সপ্তাহ পেস্তা খেলে ওজন কমবেই। তাই ওজন কমাতে পাতে রাখুন পেস্তা।

9
শুক্রবার থেকে আকাশ ঢেকেছে কালো মেঘে। আর ভোজনরসিক বাঙালির কাছে বৃষ্টি মানেই খিচুড়ি। বৃষ্টিভেজা দিনে গরম গরম ধোঁওয়া ওঠা খিচুড়ির মজাই আলাদা। সঙ্গে একটু ইলিশ পেলে তো লা-জবাব! তবে সাধারণ খিচুড়ি নয়, আজ জেনে নিন পঞ্চরত্ন খিচুড়ির বিশেষ রেসিপি। 
উপকরণ : ১ কাপ সেদ্ধ চাল, ১ কাপ পাঁচমেশালি ডাল(সমপরিমাণ মুগ, মুসুর, ছোলা, অড়হর, বিউলি), ১ কাপ পেঁয়াজ কুচি, ১ চামচ আদা বাটা, ১ চামচ রসুন বাটা, ১ চামচ ধনে গুঁড়ো, ২ চামচ জিরে বাটা, ১/২ আধ কাপ টমেটো কুচি, ৪ টি কাঁচালঙ্কা, ১/২ চামচ গরম মশলা গুঁড়ো, ফোড়নের জন্য গোটা গরম মশলা, ২টি তেজপাতা, পরিমাণ মতো হলুদ, নুন, চিনি, সাদা তেল, ২ চামচ ঘি।

প্রণালী : ছোলার ডাল ও বিউলির ডাল সেদ্ধ হতে সময় লাগে। তাই রান্নার বেশ কিছুক্ষণ আগেই ছোলার ডাল ও বিউলির ডাল ভিজিয়ে রাখুন। বাকি চাল ও ডাল ভাল করে ধুয়ে নিন। এবার একটি কড়াইতে ছোলার ডাল ও বিউলির ডাল সেদ্ধ হতে দিন। নুন ও হলুদ দিয়ে কড়াই ঢাকা দিয়ে রাখুন। ডাল আধসেদ্ধ হয়ে এলে বাকি ডালগুলি মিশিয়ে দিন। আরও কিছুক্ষণ ফুটতে দিন। প্রয়োজন অনুযায়ী জল দিন।

এবার খানিকটা গরম জল করে নিয়ে ডালের কড়াইতে ঢেলে দিন। এবার আগে থেকে ভিজিয়ে রাখা চাল কড়াইতে দিন। কড়াইতে চাল-ডাল যতক্ষণ ফুটছে অপর একটি কড়াইতে তেল গরম করতে দিন। তাতে গরম মশলা, লঙ্কা, তেজপাতা ফোড়ন দিন। নেড়েচেড়ে পেঁয়াজকুচি, রসুন বাটা, আদা বাটা দিয়ে ভেজে নিন। টমেটো কুচি দিয়ে দিন। একটু কষিয়ে নিয়েই এই ফোড়ন ফুটতে থাকা চাল-ডালের সঙ্গে মিশিয়ে দিন। সবকিছু সেদ্ধ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। শেষের দিকে ক্রমাগত নাড়াচাড়া করতে ভুলবেন না। নয়তো খিচুড়ি তলা থেকে জ্বলে উঠতে পারে। নেড়েচেড়ে আঁচে কিছুক্ষণ রেখে উপর থেকে ঘি ও গুঁড়ো গরম মশলা ছড়িয়ে নামিয়ে নিন।

বৃষ্টির দিনে গরম গরম অমলেটের সঙ্গে জমে যাবে পঞ্চরত্ন খিচুড়ি।

10
যত দিন যাচ্ছে, ততই চড়ছে তাপমাত্রার পারদ! আর এই গরমে রীতিমতো হাসফাঁস অবস্থা আট থেকে আশি— সকলের। গরমের তীব্র দাবদাহে শরীর সুস্থ রাখতে আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস দ্রুত বদলে ফেলতে হবে। সুস্থ থাকতে হলে এই গরমে তেলে ভাজা, মশলাদার খাবার-দাবার এড়িয়ে চলা জরুরি। তবে এর সঙ্গে পাতে রাখতে হবে কয়েকটি সাধারণ সবজি, যেগুলি এই গরমে আমাদের শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে। আসুন জেনে নেওয়া যাক সেই সবজিগুলির সম্পর্কে যেগুলি চড়া গরমেও আমাদের শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করে...

১) গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে সবচেয়ে সহজলভ্য সবজি হল শশা। এই গরমে সুস্থ থাকতে শশার চেয়ে ভাল কিছু হতেই পারে না! ফাইবারে ভরপুর শশা খাবার দ্রুত হজম করতে সাহায্য করে। তাই তরকারি, স্যালাডে বা এমনই— দিনে যতটা সম্ভব শশা খান।

২) চাঁদি ফাটা গরমে শরীর আর পেট ঠান্ডা রাখতে লাউয়ের জুড়ি মেলা ভার! লাউয়ের ৯২ শতাংশই হল জল। এ ছাড়াও লাউয়ে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার। সব মিলিয়ে জলের ঘাটতি মিটিয়ে শরীরকে ডি-হাইড্রেশনের হাত থেকে বাঁচাতে লাউ অত্যন্ত উপকারী একটি সবজি। এ ছাড়াও ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম, জিঙ্ক, আয়রন ও ম্যাগনেশিয়ামে সমৃদ্ধ লাউ খুবই পুষ্টিকর!

৩) তিক্ত স্বাদের জন্য করলা বা উচ্ছে অনেকেই তেমন পছন্দ করেন না। কিন্তু জানেন কি, করোলায় রয়েছে ‘পলিপিটাইড-পি’ নামের একটি যৌগ যা স্বাভাবিক ভাবে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে! এতে ক্যালোরি রয়েছে নামমাত্র। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতেও উচ্ছে বা করলা খুবই উপকারী!

৪) ঢ্যাঁড়স সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে রক্তের শর্করার মাত্রা। এই গরমে হজমের সমস্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বেড়ে যায়। ঢ্যাঁড়স এই সমস্যাগুলি সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে।

11
Skin / রূপচর্চার বাগান
« on: June 20, 2019, 07:40:49 PM »
রূপচর্চায় গাছগাছড়ার ব্যবহার আজকের নয়। সিন্ধু সভ্যতার সময় থেকেই এই ধরনের রূপচর্চার কথা শোনা যায়। পরবর্তী কালে বিভিন্ন গাছগাছড়া ও ফুলের রস থেকেই প্রসাধনী তৈরি শুরু হয়। বাজার থেকে কিনে আনা প্রসাধনীর উপরে ভরসা না করে যদি বাড়িতেই বানিয়ে নেওয়া যায় রূপচর্চার বাগান, তবে কেমন হয়? দেখা যাক, কী ধরনের গাছ রাখতে পারেন সে বাগানে।

তুলনা নেই তুলসীর
তুলসীর মঞ্জরি থেকেই নতুন গাছ তৈরি হয়। ফলে একটা তুলসী গাছ বাড়িতে থাকলে তার থেকেই একাধিক গাছ তৈরি হয়ে যায়। তুলসীর পাতা বাটা ত্বক ও চুল দুইয়ের পক্ষেই ভাল। ত্বকে কোনও ব্যাকটিরিয়া বাসা বাঁধতে দেয় না। আর স্ক্যাল্পে লাগালে খুসকিও হয় না।
চুলের যত্নে ভৃঙ্গরাজও ভাল কাজ দেয়। বিশেষ করে আমলকী, হরিতকী ও বহেড়ার সঙ্গে ভৃঙ্গরাজ মিশিয়ে তেলে ফুটিয়ে নিতে হবে। তার পরে শ্যাম্পু করার আগের রাতে পুরো চুলে ভাল করে মেখে রাখলে খুসকি, চুলে পাক ধরা, চুল পড়ে যাওয়ার মতো অনেক সমস্যার মোকাবিলা করে। ভৃঙ্গরাজ গাছ পেতে আয়ুর্বেদের দোকানে খোঁজ করতে পারেন। আমলকী, হরিতকী গাছের জন্য অনেকটা জমির প্রয়োজন। তাই জায়গার অভাবে এগুলো কিনে নেওয়াই ভাল।

গোলাপেরই বাগে
অনেকের বাগানেই এই গাছটি থাকে। ত্বকের যত্নে এর ব্যবহার বিবিধ। গোলাপের পাপড়ি ফুটিয়ে গোলাপজল তৈরি করে রাখতে পারেন। প্রত্যেক দিন স্নানের জলে এই গোলাপজল মিশিয়ে নিলে সারা দিনের ক্লান্তি কাটবে। অন্য দিকে গোলাপ জলকে টোনার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন মুখে। আবার যাঁদের ঠোঁট কালো হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা রয়েছে, তাঁরা গোলাপের পাপড়ি বেটে, মধু সহযোগে ঠোঁটে লাগিয়ে রাখতে পারেন। এতে ঠোঁটের রং হালকা হয়ে আসবে।

অ্যালো ভেরার আলোয়
বহু বছর ধরে ত্বকের যৌবন ধরে রাখতে অ্যালো জেল ব্যবহার করা হয়ে আসছে। অ্যালো ভেরার জেলে ভিটামিন এ, সি এবং ই থাকে। ফলে ত্বককে ময়শ্চারাইজ় করে ত্বকের বলিরেখা দূর করতে এর বিকল্প কমই। এ ছাড়া ত্বকের পোড়া-কাটা দাগ মেলাতেও অ্যালো ভেরা খুব কাজে লাগে। অ্যালো ভেরা টবে পুঁতলে বেশ তাড়াতাড়ি বাড়ে। তবে তার জন্য প্রয়োজন একটু উষ্ণ আবহাওয়া। বাড়ির যে দিকে রোজ রোদ আসে, সে দিকেই অ্যালো ভেরা গাছ রাখতে পারেন। এতে গাছ বাড়েও তাড়াতাড়ি, পাতা বেশ পুরুষ্টও হয়। ফলে জেলের পরিমাণও বাড়ে।

যৌবন ধরে রাখতে জবা
ত্বকের ইলাস্টিসিটি ধরে রাখতে জবার জবাব নেই। যার জন্য এই গাছ বোটক্স গাছ নামেও পরিচিত। অন্য দিকে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টে ভরপুর থাকায় জবা ফুল দূষণের মোকাবিলা করতেও ত্বককে সাহস জোগায়। ফলে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি বা রাস্তাঘাটে ধুলো-ধোঁয়ায় ত্বক খুব একটা ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। জবা ফুল চুলের জন্যও খুব ভাল। নারকেল তেলের সঙ্গে জবা ফুল ফুটিয়ে রোজ সেই তেল চুলে ও স্ক্যাল্পে লাগালে চুল ঘন হয়। জবা গাছের যত্ন নেওয়াও খুব কঠিন নয়।

ল্যাভেন্ডারে লালিত্য
এই গাছ করাও খুব কঠিন নয়। তবে রোদ ও জল জরুরি। ল্যাভেন্ডার গাছে ফুল আসতেও সময় লাগে। তবে ফুল এলে ভরে যায়। ল্যাভেন্ডারের পাপড়িগুলো একটা বাটিতে নিন। তার পরে একটি পাত্রে গরম জল ঢেলে এই পাপড়িগুলো তার মধ্যে ভিজিয়ে রাখুন। ঘণ্টাখানেক পরে পাপড়ি ছেঁকে জলটা নিয়ে তার মধ্যে ওটমিল পাউডার মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। এই ফেসপ্যাক মুখে লাগিয়ে অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা জলে ধুয়ে নিন। এতে ত্বকের রং অনেক পরিষ্কার হবে। একইসঙ্গে ত্বক সতেজ থাকবে।

সৌন্দর্যে সূর্যমুখী
এই ফুলকে ন্যাচারাল সানস্ক্রিন বলা যেতে পারে। সূর্যমুখী ফুলে ভিটামিন ই থাকে প্রচুর পরিমাণে, যা ত্বকের দাগছোপ, বলিরেখা দূর করে। চুলের ডগা ফাটার মতো সমস্যারও মোকাবিলা করে। রূপচর্চায় উপকারী ভিটামিনের মধ্যে ই ভিটামিনের গুরুত্ব অপরিসীম। আর এই ভিটামিন বেশি থাকায় সূর্যমুখী ফুলও ব্যবহার করতে পারেন রূপচর্চায়। সূর্যমুখী বীজের তেলও রূপচর্চায় বহুল ব্যবহৃত। তবে এই ফুলের বাগান করতে অনেকটা জায়গার প্রয়োজন।

জুঁইয়ের জাদুতে
এর জন্য অবশ্য খুব বেশি জায়গার প্রয়োজন নেই। ছোট টবেই জুঁইগাছ বাড়তে পারে। খুব বেশি যত্নেরও প্রয়োজন পড়ে না। কিন্তু সৌন্দর্যচর্চায় জুঁইয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। জুঁই ফুলের নির্যাস, মধুর সঙ্গে মুখে লাগিয়ে রাখতে পারেন। ত্বকের ময়শ্চার বজায় থাকবে। এ ছাড়া চুলের কন্ডিশনার হিসেবে, স্ক্যাল্প পরিষ্কার রাখতেও জুঁইয়ের ভূমিকা অনস্বীকার্য। এর জন্য নারকেল বা আমন্ড তেলে জুঁই ফুল দিয়ে রাখুন। তেল মাখার আগে একটু গরম করে নিতে হবে। শ্যাম্পু করার ঘণ্টাখানেক আগে চুলে ও স্ক্যাল্পে এই তেল মাখুন। এতে স্ক্যাল্পে কোনও ব্যাকটিরিয়া বাসা বাঁধবে না। একই সঙ্গে স্ক্যাল্পে খুসকিও হবে না। চুলের কন্ডিশনিংও হবে।

গাছগুলো কিন্তু দুষ্প্রাপ্যও নয়। সহজেই নার্সারিতে পেয়ে যাবেন। আর বাড়িতেই যদি রূপচর্চার বাগান করে নেওয়া যায়, তা হলে প্রসাধনী সম্পর্কেও নিশ্চিন্ত থাকা যাবে।

12
জুস, কোল্ড ড্রিঙ্ক, কোল্ড কফি, মিল্ক শেক বা ওই জাতীয় পানীয় আমরা অনেকেই স্ট্র দিয়ে খাই। বাড়িতে না হলেও রেস্তরাঁয় এ সব অর্ডার করলে পরিবেশনের সময় সঙ্গে স্ট্র দেবেই। কিন্তু স্ট্র দিয়ে জুস, কোল্ড ড্রিঙ্ক, কোল্ড কফি, মিল্ক শেক ইত্যাদি খাওয়া কি আদৌ স্বাস্থ্যকর? আসুন এ বিষয়ে সবিস্তারে জেনে নেওয়া যাক...

১) স্ট্র দিয়ে জুস, কোল্ড ড্রিঙ্ক, মিল্ক শেক ইত্যাদি খাওয়ার সময় পেটে অতিরিক্ত হাওয়াও চলে যায়। এর ফলে গ্যাসট্রিকের সমস্যা থাকলে তা আরও বেড়ে যেতে পারে। দেখা দিতে পারে হজমের আরও নানা সমস্যা।

২) স্ট্র দিয়ে তরল কিছু পান করার সময় মুখের পেশীতে অতিরিক্ত চাপ পড়ে। নিয়মিত স্ট্র ব্যবহার করলে মুখে দ্রুত বলিরেখার সৃষ্টি হয়।

৩) পাত্রে চুমুক দিয়ে জল বা কোনও পানীয় খেলে দাঁত আর মুখের মধ্যে জমা ব্যাকটেরিয়া ধুয়ে সাফ হয়ে যায়। স্ট্র ব্যবহার করলে তা হয় না। উল্টে দাঁতের বা মুখের একটা নির্দিষ্ট অংশে অতিরিক্ত চিনি জমে ক্ষতির আশঙ্কা বেড়ে যায়।

৪) প্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে আমরা এখন প্রায় সকলেই অবগত। আর স্ট্র প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি হয়। তাই স্ট্র দিয়ে ঠান্ডা বা গরম পানীয় খাওয়ার সময় এর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্লাস্টিকের কণা মিশে যেতে পারে ওই পানীয়র সঙ্গে। ক্ষতিকর প্লাস্টিকের কণা শরীরে ঢুকে রক্তের সঙ্গে মিশে গেলে নানা মারণ রোগের সৃষ্টি করতে পারে।

13
লিচু খেতে কে না ভালবাসেন! রসালো এই ফলটির স্বাদ যেমন, তেমনই এর কয়েকটি আশ্চর্য গুণ রূপচর্চার ক্ষেত্রেও অপরিহার্য। রোগ প্রতিরোধে আর রূপচর্চার ক্ষেত্রে লিচুর আশ্চর্য কয়েকটি ব্যবহার সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক...

১) লিচুতে রয়েছে ফাইটোকেমিক্যালস যা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট হিসেবে কাজ করে। এই ফাইটোকেমিক্যালস চোখে ছানি পড়া আটকাতে সাহায্য করে।

২) লিচুতে রয়েছে অলিগোনল নামের একটি উপাদান যা শরীরে ভাইরাসকে বাড়তে দেয় না। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

৩) লিচুতে ফ্যাট আর ক্যালোরির পরিমাণ থাকে নামমাত্র। তাই ওজন বাড়ার ভয় নেই।

৪) ত্বকের কালচে দাগ-ছোপ দূর করতে লিচুর রস অত্যন্ত কার্যকরী! ৫-৬টা লিচু চটকে তা মুখে মেখে মিনিট পনেরো রেখে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত ২ দিন এমন করতে পারলে মুখের ত্বকের কালচে দাগ-ছোপ সহজেই দূর হয়ে যাবে।

৫) রোদে পোড়া ত্বকের ট্যান দূর করতে লিচুর রস অত্যন্ত কার্যকরী! ৪-৫টা লিচু চটকে তার সঙ্গে ভিটামিন-ই ক্যাপসুল মিশিয়ে সেটি মুখে ও হাতে পায়ের ট্যান পড়া ত্বকে ভাল করে মেখে নিন। ৩০ মিনিট রেখে ঠান্ডা জল দিয়ে ভাল করে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২-৩ দিন এমন করতে পারলে ফারাক চোখে পড়বে সকলেরই।

৬) ত্বকের বলিরেখা দূর করতে লিচুর রসের জুড়ি মেলা ভার! লিচুর রস মুখে মেখে মিনিট দশেক রেখে ধুয়ে ফেলুন। ফল পাবেন হাতে নাতে।

14
ডিম প্রায় প্রতি দিন সব বাড়িতেই কম-বেশি আনা হয়। সুষম, পুষ্টিকর খাবারের তালিকায় সবচেয়ে সহজলভ্য হল ডিম। বাড়িতে ছোট বাচ্চা থাকলে ডিমের প্রয়োজন আরও বেড়ে যায়। কিন্তু জানেন কি ওজন কমাতেও ডিম অত্যন্ত কার্যকরী! তিন রকম পদ্ধতিতে ডিম খেতে পারলে ওজন দ্রুত কমবে। আসুন এ বিষয়ে সবিস্তারে জেনে নেওয়া যাক...

পদ্ধতি ১: ডিম আর নারকেল তেল

নারকেল তেল আমাদের বিপাকক্রিয়াকে সক্রিয় করতে সাহায্য করে। তাই তেল বা মাখনের পরিবর্তে নারকেল তেল দিয়ে ডিমের ওমলেট তৈরি করে খেয়ে দেখুন। উপকার পাবেন।

পদ্ধতি ২: ডিম আর ওটমিল

ডিম আর ওটমিল একসঙ্গে খেয়ে দেখুন। এই দুই উপাদানের মিশেলে ঝটপট ওজন কমবে। খাবার ধীরে ধীরে হজম করায় ওটমিল। ওটমিল পাচক রস ক্ষরণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং একই সঙ্গে অতিরিক্ত অ্যাসিড ক্ষরণে বাধা দেয়। ডিম আর ওটমিল একসঙ্গে খেতে পারলে আমাদের বিপাক প্রক্রিয়া সক্রিয় হয়ে ওঠে।

পদ্ধতি ৩: ডিম আর পালং শাক

ডিমের সঙ্গে খান পালং শাক। পালং শাকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন। পালং শাক খেলে দীর্ঘ ক্ষণ পেট ভরা থাকে বা খিদে বোধ হয় না। তাই ডিমের সঙ্গে খান পালং শাক অবশ্যই একসঙ্গে পাতে রাখুন।

15
তাপমাত্রার পারদ এখনও উর্দ্ধমুখী। মাঝে দু-এক পশলা বৃষ্টি আর কালবৈশাখীর দৌলতে ঘণ্টা খানেকের জন্য স্বস্তি মিললেও প্যাচপেচে গরমের ঠেলায় সকলেই নাজেহাল। এই গরমে সবচেয়ে আগে আর সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় ত্বকের। ত্বকের নানা সমস্যা এই সময় মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারে। কালচে ছোপ, ট্যান ইত্যাদি আরও নানা সমস্যা একের পর এক বাড়তে থাকে।

গরমে বাড়তে থাকা ত্বকের সমস্যা থেকে রেহাই পেতে মোক্ষম দাওয়াই হল ‌ভিটামিন-সি। এই গরমের হাত থেকে ত্বককে বাঁচাতে তাই অনেকেই ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ সিরাম ব্যবহার করেন। বাজারে ২০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা— বিভিন্ন দামে এই সিরাম কিনতে পাওয়া যায়। তবে বাড়িতেও এই সিরাম বানিয়ে নিতে পারেন একেবারে সামান্য খরচে। আসুন জেনে নেওয়া যাক কী ভাবে বাড়িতে বানাবেন ভিটামিন-সি সিরাম...

ভিটামিন-সি সিরাম বানানোর পদ্ধতি:

২ চামচ গোলাপ জলের সঙ্গে আধা চামচ ভিটামিন-সি পাউডার মিশিয়ে নিন।

এ বার এর সঙ্গেই মিশিয়ে নিন ২ চামচ ভেজিটেবল গ্লিসারিন। এ বার এই মিশ্রণ ঘণ্টা খানেক ফ্রিজে রেখে দিন।

ঘণ্টা খানেক পর মিশ্রণটি ফ্রিজ থেকে বের করে এর সঙ্গে ১ চামচ অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে নিন। ব্যস, ত্বকের যত্ন নিন বাড়িতে তৈরি ভিটামিন-সি সিরামে। তবে হ্যাঁ, যাঁদের ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল তাঁরা ভিটামিন-সি পাউডার কিছুটা কম পরিমাণে ব্যবহার করবেন।

Pages: [1] 2 3 4