Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - rumman

Pages: 1 2 3 [4] 5 6 ... 68
46
Ramadan and Fasting / Kaza and Kaffarara Rules of Fasting
« on: May 31, 2018, 11:52:29 AM »
প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমান ইচ্ছাকৃত রমজানের রোজা না রাখা মারাত্মক অপরাধ ও গুনাহের কাজ। কেননা রমজানের একটি রোজা ছুটে যাওয়া অনেক বড় কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হওয়ার নামান্তর। হাদিস শরিফে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি শরিয়তসম্মত কারণ বা অসুস্থতা ছাড়া রমজানের একটি রোজা ভাঙে, তার ওই রোজার বিপরীতে সারা জীবনের রোজাও রমজানের একটি রোজার সমমর্যাদা ও স্থলাভিষিক্ত হবে না।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৭২৩)

তবে অসুস্থতা বা অন্য ওজর থাকলে ভিন্ন কথা, সে ক্ষেত্রে অন্যদিন পালনের সুযোগ রয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যে মাসটিতে (রমজানে) উপস্থিত হবে, সে যেন তাতে সিয়াম পালন করে। আর যে ব্যক্তি অসুস্থ বা মুসাফির হয়, সে অন্য দিনে সংখ্যা পূরণ করে নেবে, আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজটাই চান, কঠিন করতে চান না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৫)

রোজার কাজার বিধান : কোনো সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমান ইচ্ছাকৃত রমজানের রোজা না রাখলে বা অনিচ্ছায় ভেঙে ফেললে অথবা কোনো ওজরের কারণে ভেঙে ফেললে পরে ওই রোজার কাজা আদায় করতে হবে। মুসাফির ও অসুস্থ ব্যক্তি রোজা রাখতে কষ্ট হলে, অনুরূপ গর্ভবতী বা দুগ্ধদানকারী নারী যদি নিজের বা বাচ্চার ক্ষতির আশঙ্কা করে, তাহলে রমজানে রোজা না রেখে পরে তা কাজা করে নিতে পারবে, এ ক্ষেত্রে কাফফারা দিতে হবে না। (দেখুন : সুরা বাকারা, আয়াত ১৮৫, সুনানে তিরমিজি হাদিস : ৭১৫)

মাসিক ঋতুস্রাব ও সন্তান প্রসবের স্রাবের সময় রোজা রাখা জায়েজ নেই। তবে ওই দিনগুলোর রোজার কাজা দিতে হবে, কাফফারা দিতে হবে না।

রোজা রাখার পর দিনের বেলায় যদি কোনো নারীর মাসিক শুরু হয়, ওই নারীর জন্য খাওয়াদাওয়ার অনুমতি আছে। তবে লোকজনের সামনে না খেয়ে নির্জনে খাওয়াদাওয়া করবে। আর যে নারী মাসিকের কারণে রোজা রাখেনি, দিনের যে সময়ে তার রক্ত বন্ধ হবে, তখন থেকেই খাওয়াদাওয়া বন্ধ করে রোজাদারের মতো দিনের অবশিষ্ট অংশ অতিবাহিত করবে এবং পরে ওই দিনের রোজা কাজা করে নেবে। (আললুবাব : ১/১৭৩)

নারীদের জন্য কৃত্রিম উপায়ে সাময়িক ঋতুস্রাব বন্ধ রাখা অনুচিত। এতে শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা আছে। তা সত্ত্বেও এ পদ্ধতিতে ঋতুস্রাব বন্ধ থাকা অবস্থায় রোজা-নামাজ করলে তা আদায় হয়ে যাবে। (ফাতাওয়ায়ে রহিমিয়া : ৬/৪০৪, আপকে মাসায়েল আওর উনকা হল : ৩/২৭৮)

যেসব কারণে কাফফারা দিতে হয় : শরিয়তসম্মত কোনো কারণ ছাড়া ইচ্ছাকৃত পানাহার বা সহবাসের মাধ্যমে রমজানের রোজা ভেঙে ফেললে তার কাজা ও কাফফারা অর্থাৎ লাগাতার ৬০ দিন রোজা রাখতে হবে। পানাহার ও সহবাস ছাড়া অন্য পদ্ধতিতে ইচ্ছাকৃত ভাঙলেও কাফফারা দিতে হবে না, তবে কাজা করতে হবে। (মাবসুতে সারাখসি : ৩/৭২)

কাফফারা আদায়ের ক্ষেত্রে লাগাতার ৬০ দিন রোজা রাখার সময় যদি এক দিনও বাদ যায়, তাহলে আবার শুরু থেকে গণনা আরম্ভ হবে, আগেরগুলো বাদ হয়ে যাবে। (মাবসুতে সারাখসি : ৩/৮২)

কোনো ব্যক্তির ইচ্ছাকৃতভাবে একাধিকবার একই রমজানের রোজা ভাঙার কারণে এক কাফফারাই যথেষ্ট হবে। অর্থাৎ ভেঙে ফেলা সব রোজার জন্য ৬০ জন মিসকিনকে দুবেলা খানা খাওয়াবে, অথবা প্রতি মিসকিনকে এক ফিতরা পরিমাণ সম্পদ সদকার মাধ্যমেও কাফফারা আদায় করা যাবে। (বাদায়েউস সানায়ে : ২/১০১, রদ্দুল মুহতার : ২/৪১৩)

৬০ মিসকিনকে দুবেলা খানা খাওয়ানোর পরিবর্তে প্রত্যেককে এক ফিতরা পরিমাণ অর্থাৎ এক কেজি (৬৩৫ গ্রামের কিছু বেশি) গম বা তার সমপরিমাণ অর্থ দেওয়া যেতে পারে। তবে শর্ত হলো, ওই টাকা দ্বারা মিসকিনকে খানা খাওয়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে। একজন গরিবকে প্রতিদিন এক ফিতরা পরিমাণ করে ৬০ দিন দিলেও আদায় হবে। ৬০ দিনের ফিতরা পরিমাণ একত্রে বা এক দিনে দিলে আদায় হবে না। (ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া ১/৫১৩, রদ্দুল মুহতার ৩/৪৭৮)


Source: লেখক : সিইও, সেন্টার ফর ইসলামিক ইকোনমিকস বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা।

47
Public Health / Obesity is also good
« on: May 26, 2018, 10:35:32 AM »
হৃদরোগ কিংবা অকালমৃত্যুর ঝুঁকি বেশি, উদ্যম কম, ডায়াবেটিসের ঝুুঁকি বেশি—স্থূলকায় ব্যক্তিদের এ রকম আরো অনেক সতর্কবার্তা শুনতে হয়। এবার তাদের জন্য একটা ভালো খবর নিয়ে এসেছেন একদল গবেষক। তাঁরা বলছেন, বড় কোনো সংক্রমণের (ইনফেকশন) শিকার হওয়ার পর স্থূলকায় ব্যক্তিদের বাঁচার সম্ভাবনা অন্যদের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ বেশি।

গবেষণাটি করেছেন ডেনমার্কের ‘আরহুস ইউনিভার্সিটি হসপিটাল’-এর একদল গবেষক। এর নেতৃত্বে ছিলেন সিগরিদ গ্রিবশল্ট। গবেষণার অংশ হিসেবে দেশটির মধ্যাঞ্চলের ১৮ হাজার রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। তাদের সবাই তীব্র সংক্রমণের (ইনফেকশন) শিকার হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিল। গবেষকরা জানার চেষ্টা করেন, হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তাদের মধ্যে কত শতাংশ রোগী ৯০ দিনের মধ্যে মারা গেছে। এ জন্য সব রোগীকে তিনটি মানদণ্ডে ভাগ করেন তাঁরা। এগুলো হলো স্বাভাবিকের চেয়ে কম ওজন, স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ওজন এবং স্থূলকায় (স্বাভাবিকের চেয়ে মাত্রাতিরিক্ত ওজন বেশি)।

গবেষণায় দেখা গেছে, স্বাভাবিক ওজনের চেয়ে স্থূলকায় ব্যক্তির মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ৫০ শতাংশ কম। আবার যারা স্থূলকায় নয়; কিন্তু স্বাভাবিকের চেয়ে ওজন বেশি, তাদের মৃত্যুর ঝুঁকি স্বাভাবিক ওজনের মানুষের চেয়ে ৪০ শতাংশ কম।

এর কারণ হিসেবে গবেষকরা বলছেন, অতিরিক্ত ওজন সম্ভবত ব্যাকটেরিয়া কিংবা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সময় শরীরকে সহায়তা করে।

সূত্র : ডেইলি মেইল।

48

    রমজান মাসের রোজার উদ্দেশ্য হচ্ছে আল্লাহমুখি মানুষ ও আল্লাহমুখি অন্তর তৈরি করা। সারা বছর নানাবিধ পার্থিব ধারণা ও মোহে আচ্ছন্ন মানুষের কুমন্ত্রণা, পাপাচারমূলক কাজের অনুভূতিকে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে রমজান ব্যক্তির নৈতিক সত্তা ও চরিত্রকে ঈমানের আলোয় আলোকিত করে।

    রমজান মাসের রোজার উদ্দেশ্য হচ্ছে আল্লাহমুখি মানুষ ও আল্লাহমুখি অন্তর তৈরি করা। সারা বছর নানাবিধ পার্থিব ধারণা ও মোহে আচ্ছন্ন মানুষের কুমন্ত্রণা, পাপাচারমূলক কাজের অনুভূতিকে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে রমজান ব্যক্তির নৈতিক সত্তা ও চরিত্রকে ঈমানের আলোয় আলোকিত করে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো- আজ ব্যক্তি, সমাজ, পরিবার বা রাষ্ট্রীয় জীবনে রমজান মাসের কোনো সেভাবে পরিলক্ষিত হয় না। ধীরে ধীরে এ মাসের পবিত্রতা, পরিশুদ্ধতা গানিতিক হারে লোপ পাচ্ছে। রমজান ক্রমেই হয়ে উঠছে আচার-অনুষ্ঠান-উৎসবের উপলক্ষ্য।

    হাজারো মহিমায় উদ্ভাসিত পবিত্রতম এ মাসে মানুষ ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় ইসলামি শরিয়া বিরোধী প্রচলিত এমন কিছু কার্যকলাপে লিপ্ত  হয়ে যায়, যা রমজান মাসের মর্যাদা ও পরিত্রতাকে ক্ষুন্ন করে। প্রকৃত মুমিনের দায়িত্ব ও কর্তব্য হলো রমজান মাসে সিয়াম পালনের পাশাপাশি প্রচলিত ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলো থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা এবং এসব বিষয় সম্পর্কে অপরকে নিরুৎসাহিত করা।

    রমজান মাসে মানুষের পক্ষ থেকে সম্পাদিত প্রচলিত ত্রুটি-বিচ্যুতি ও ভুল-ভ্রান্তিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো-

    রমজানকে একটি প্রথাগত অনুষ্ঠান মনে করা
    অনেকে রমজানকে একটি প্রথাগত অনুষ্ঠান হিসেবে গ্রহণ করেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আশপাশের লোকজন রোজাদার বলে সম্বোধন করবে, অনেকটা লৌকিকতার উদ্দেশ্যেই সিয়াম পালন করছি। আমরা ভুলে যাই, এ সিয়াম সকল প্রকার অন্যায় কাজ থেকে অন্তরকে পরিশুদ্ধ করার জন্য, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে ভুলে যাই, ভুলে যাই জাহান্নামের আজাব থেকে মুক্তির এ দূর্লভ সুযোগকে।

    বিলম্বে ইফতার করা
    কেউ কেউ সূর্যাস্তের পরও অধিক সতর্কতার অজুহাতে বিলম্বে ইফতার করে। সুন্নত হলো, রোজাদার ওয়াক্ত প্রবেশ নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইফতার গ্রহণ করবে। হজরত সাহল ইবনে সাদ আস-সায়েদি (রা.) হতে বর্ণিত হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ততদিন যাবত মানুষ কল্যাণে থাকবে যতদিন তারা ইফতার আগেভাগে বা তরান্বিত করবে।’ –সহিহ বোখারি ও মুসলিম

    রোজা রাখা কিন্তু নামাজ আদায় না করা
    অনেকে রোজা পালন করেনম কিন্তু

    নামাজ আদায় করেন না। এটা কাম্য নয়। হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নামাজ হচ্ছে ঈমান এবং কুফরের পার্থক্যকারী।’ –সহিহ মুসলিম
রাতে জাগা ও নিদ্রায় দিন অতিবাহিত করা

অনেকে এ অভ্যাসের কারণে রোজার বিভিন্ন কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়। কখনও কখনও এর কারণে জামাতের সঙ্গে নামাজ ছুটে যায় বা নামাজের সময়ও পার হয়ে যায়। 

খাদ্য-পানীয় গ্রহণে অতিমাত্রায় বাড়াবাড়ি করা
পরিমিতবোধ সব কিছুর চাবিকাঠি। অনেক মানুষের নিকট রমজান মাস খানা-পিনা গ্রহণ প্রতিযোগিতার মওসুমে পরিণত হয়। যদিও রমজান মাস গরিব-দুঃখীর অভাব-অনটন, দুঃখ-কষ্ট অনুধাবনের। অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ একজন মানুষকে আবশ্যকীয় অনেক আমল ও ইবাদত হতে দূরে সরিয়ে নেয়, মানুষকে করে তোলে অলস এবং অন্তরকে করে ফেলে বধির।

স্বাস্থ্য কমানোর লক্ষ্যে রোজা রাখা
প্রত্যেকটি কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। রোজা পালনের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো, মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। স্বাস্থ্য কমানোর জন্য অনেকেই রোজা পালন করেন, এটা কাম্য নয়। যদি কেউ এ উদ্দেশ্যে রোজা পালন করেন, তাহলে তা হবে গোনাহের কারণ।

রোজা রাখা অথচ খারাপ কাজ বর্জন না করা
অনেক রোজাদার রোজা রাখেন কিন্তু মিথ্যাচার, গীবত, পরনিন্দা, চোগলখোরি, মারামারি ইত্যাদি পরিত্যাগ করতে ব্যর্থ হন। রোজা রাখার উদ্দেশ্য কেবল পানাহার থেকে বিরত থাকা নয় বরং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে সকল প্রকার অনাচার, পাপাচার, অশ্লীলতা, হারামকার্য, খারাপ কাজ থেকে নিজেকে বিরত রেখে আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে ব্যক্তিসত্তাকে পূতপবিত্র  করা। হরজত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সিয়ামরত অবস্থায় মিথ্যা কথা ও কাজ পরিত্যাগ করে না, তার পানাহার ত্যাগ করাতে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।’ –সহিহ বোখারি

রোগীর কষ্ট হওয়া সত্বেও রোজায় অটল থাকা
আল্লাহতায়ালা বান্দার ওপর তার সামর্থ্যরে বাইরে কোনো কিছু চাপিয়ে দেন না। কোনো রোগীর কষ্ট হওয়া সত্ত্বেও তাকে সিয়াম পালন করতে হবে এটা মহান রবের বিধান হতে পারে না। আল্লাহতায়ালা অসুস্থ ব্যক্তির জন্য রোজা ভঙ্গ করা ও পরবর্তীতে তা কাজা করার অনুমতি দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন, ‘কাজেই তোমাদের মধ্যে যে এ মাস পাবে সে যেন এ মাসে সিয়াম পালন করে। তবে তোমাদের মধ্যে কেউ অসুস্থ থাকলে বা সফরে থাকলে অন্য দিনগুলোতে এ সংখ্যা পূরণ করবে।’ -সূরা আল বাকারা: ১৮৫

মুসাফিরের জন্য রোজা ভঙ্গ করা ত্রুটি মনে করা
মুসাফিরের জন্য রোজা রাখার বিধানটি তার ইচ্ছাধীন। ইচ্ছা করলে সে রোজা রাখবে অথবা সে রোজা ভেঙে ফেলবে। এটি মুসাফিরের অবস্থার ওপর নির্ভরশীল।

পরীক্ষা কিংবা কর্মব্যস্ততার দোহাই দিয়ে রোজা ত্যাগ করা
পরীক্ষা বা কর্মব্যস্ততার কারণে সিয়াম ত্যাগ করা শরীয়তসিদ্ধ নয়। আমাদের স্মরণে থাকা উচিত, পরীক্ষায় ভালো ফলাফল যেমন মহান আল্লাহর ইচ্ছা ও সাহায্য ব্যতীত সম্ভব নয় তেমনি মানুষের কর্মস্থলের কর্মতৎপরতায় সহজ ও সুচারুপে সম্পাদনের একমাত্র মালিক হলেন মহান রব নিজেই। সুতরাং পরীক্ষা ও কর্মব্যস্ততার দোহাই দিয়ে সিয়াম ত্যাগ না করে তার সাহায্য ও রহমতের প্রত্যাশী হয়ে সিয়াম পালন করা আমাদের কর্তব্য। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে তার জন্য তিনিই যথেষ্ট।’ -সূরা তালাক: ৩

রোজাদার ভুলবশত খেয়ে ফেললে রোজা ভেঙে গেছে ধারণা করা
রোজাদার ভুলবশত কিছু খেয়ে ফেললে অথবা পান করে ফেললে রোজা ভেঙে গেছে ধারণা করা। যে ধারণাটি সঠিক নয়। কেননা হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যদি তোমাদের মধ্যে কেউ ভুলক্রমে কিছু খেয়ে বা পান করে ফেলে সে যেন তার রোজা পূর্ণ করে কেননা তাকে আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে খাওয়ানো ও পান করানো হয়েছে।’ –সহিহ বোখারি

তারাবির নামাজ আদায়ে অনীহা
অনেক রোজাদারের মধ্যে তারাবির নামাজ আদায়ে অনীহা লক্ষ্য করা যায়। তারা তারাবি আদায় না করে নিরর্থক কাজে লিপ্ত থেকে মূল্যবান এ সময়কে অতিবাহিত করেন, যা বড় ধরনের পাপ।
রোজার রাতে স্ত্রীগমন হারাম মনে করা

বস্তুত দিনের বেলায় রোজা থাকাবস্থায় স্ত্রীগমন নিষিদ্ধ। কিন্তু রাতে স্ত্রীগমন হারাম নয়। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমাদের জন্য রোজার রাতে স্ত্রীগমন হালাল করা হয়েছে, তারা তোমাদের পোষাক এবং তোমরা তাদের পোশাক।’ -সূরা বাকারা: ১৮৭

দোয়া কবুল হওয়ার সুযোগগুলো ছেড়ে দেয়া
সিয়াম পালনকারীর দোয়া মহান আল্লাহতায়ালা কবুল করে থাকেন। আমাদের কেউ কেউ এ সময়ে দোয়া না করে অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা, দুনিয়াবী কাজ-কর্ম নিয়ে ব্যস্ত থাকি। আমাদের অসর্তকর্তার কারণে দোয়া কবুলের এ মহৎসুযোগগুলো আমাদের হাত ছাড়া হয়ে যায়। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তিন ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না, ১. পিতার দোয়া, ২. রোজাদারের দোয়া ও ৩. মুসাফিরের  দোয়া।’ -আহমাদ

ঈদের প্রস্তুতির জন্য শেষ দশককে অবহেলায় কাটানো
অনেকেই ঈদের কেনাকাটা নিয়ে মার্কেটে ঘোরাঘুরি করে রমজানের শেষ দশকের দিনগুলো অবহেলায় অতিবাহিত করে থাকেন। যথাযথভাবে ইবাদত না করে বা লাইলাতুল কদর অন্বেষণ না করে মার্কেটিং এ ব্যস্ত থাকা কাম্য নয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) রমজানের শেষ দশকে আল্লাহর ইবাদতে খুব বেশি সময় নিমগ্ন থাকতেন। রমজান শুরু হওয়ার পূর্বেই আমাদের কেনাকাটা শেষ করা উচিত। হজরত আয়েশা (রা) বলেন, ‘যখন রমজানের শেষ দশক শুরু হতো, রাসূল (সা.) লুঙ্গি শক্ত করে বাঁধতেন, রাত্রি জাগরণ করতেন এবং তার পরিবারকে জাগিয়ে তুলতেন।’ –সহিহ বোখারি ও মুসলিম

রমজান মাসকে যথার্থ গুরুত্ব না দেওয়া
অনেক রোজাদার এ মহামূল্যবান মৌসুমকে যথাযথ গুরুত্ব দিতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে থাকেন। আমাদের উচিত, এ পবিত্র মাসের প্রতিটি সময়, ক্ষণ, মুহূর্ত মহান রবের ইবাদতে কাটানো, যাতে এ মাসের সর্বোচ্চ সওয়ব হাসিল করতে পারি। অত্যন্ত মূল্যবান এ মাসকে যাতে আমরা অবহেলা না করে যথার্থ গুরুত্ব দিয়ে ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে অতিবাহিত করতে পারি।

রমজান মাসের যেমন রয়েছে অজস্র ফজিলাত তেমন রয়েছে এ মাসের পবিত্রতা ও পরিশুদ্ধতার মাহাত্ম। বছরের সবচেয়ে পবিত্রতম মাস জানা সত্ত্বেও আমরা এমন কিছু ভুল ও অন্যায় করে ফেলি যা রমজান মাসের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক। এ ভুল-ভ্রান্তি থেকে আমাদেরকে বেরিয়ে আসতে হবে।

মহান রবের নৈকট্য লাভে মাসব্যাপী একনিষ্ঠভাবে রোজা পালন, তারাবি আদায়, অপরকে ইফতার করানো, তাহাজ্জুদ আদায়, বেশি বেশি নফল ইবাদত পালন, নিয়মিত কোরআন তেলাওয়াত, বেশি বেশি ইসতেগফার করা, দোয়া, জিকির-আজকার, দান-সদকাহসহ নানাবিধ আমলের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি অর্জনের সর্বাত্মক চেষ্টা করাই হবে রমজান মাসের মূল অঙ্গীকার। প্রচলিত ভুল-ভ্রান্তি নিজে পরিহার করে অন্যকে সেবিষয়ে সচেতন করাই হবে একজন মুমিনের দায়িত্বও কর্তব্য। আল্লাহতায়ালা আমাদের তওফিক দান করুন। আমিন।

Source: মাহফুজ আবেদ, অতিথি লেখক, ইসলাম | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

49
Heart / Four days a week to protect the heart muscle
« on: May 22, 2018, 10:13:25 AM »
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, হূদযন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত প্রধান ধমনিগুলোর আড়ষ্টতা দূর করতে সপ্তাহে অন্তত চার দিন শরীরচর্চা প্রয়োজন। আর এতে করে হূিপণ্ড নতুন করে সতেজ হয়ে উঠতে পারে।

নতুন এ গবেষণায় দেখা গেছে, সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন শরীরচর্চায় সব ধমনিকে সতেজ রাখা সম্ভব হচ্ছে না। প্রয়োজন অন্তত চার দিন। পাঁচ দিন করতে পারলে সবচেয়ে ভালো। গবেষকরা বলছেন, যেকোনো ধরনের শরীরচর্চা হূদরোগের ঝুঁকি কমায়। এমনকি উপযুক্ত বয়সে প্রয়োজনীয় মাত্রায়

শরীরচর্চা করলে হূিপণ্ড, ধমনি এবং শিরা-উপশিরা নতুন করে সতেজ করে তোলা সম্ভব।

৬০ বছরের চেয়ে বেশি বয়স—এমন ১০০ জনের ওপর গবেষণাটি করা হয়। সম্প্রতি গবেষণা প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে ‘জার্নাল অব ফিজিওলজি’ সাময়িকীতে। হূিপণ্ডে রক্ত সরবরাহ এবং পুনরায় বের করে তা শরীরের সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়ার ভূমিকা পালন করে বেশ কিছু ধমনি। এসব ধমনির আকৃতি নলের মতো। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এগুলো আড়ষ্ট হতে থাকে। এ ছাড়া অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের কারণে ধমনিতে চর্বির আস্তরণ পড়তে শুরু করে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন (৩০ মিনিট করে) শরীরচর্চা করলে মাঝামাঝি আকৃতির যেসব ধমনি মাথায় ও ঘাড়ে রক্ত সরবরাহ করে, সেগুলো সতেজ থাকে। কিন্তু সপ্তাহে চার থেকে পাঁচ দিন শরীরচর্চা করলে মাঝারি ধমনিগুলোর সঙ্গে সঙ্গে প্রধান যে ধমনিগুলো বুকে এবং পেটে রক্ত সরবরাহ করে, সেগুলোও সতেজ থাকে।

তবে এই গবেষণায় মানুষের খাদ্যাভ্যাস, শিক্ষা এবং সামাজিক অবস্থানের বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

গবেষকদলের প্রধান ও যুক্তরাষ্ট্রের ইনস্টিটিউট অব এক্সারসাইজ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল মেডিসিনের ড. বেঞ্জামিন লেভিন বলেন, ‘আমরা এখন বুঝতে পারছি যে উপযুক্ত শরীরচর্চা করে হূিপণ্ড এবং রক্তবাহী নালির দুরবস্থা বদলে ফেলা যায়।’

সূত্র : বিবিসি।

50
একটি পয়সা দান বা সদকা করলে তার সত্তর গুণ সওয়াব মেলে। এভাবে একটা জামা দান-সদকা করলে সেটার সওয়াব পাওয়া যাবে সত্তরটি জামা দান-সদকার সমান। এমন ফজিলত কেবল পবিত্র রমজানেই মেলে। অন্য সময়ে যেখানে দান করলে একে এক, সেখানে এই মাসে এমন সওয়াব মেলে বলে রমজানকে রহমত-বরকত-নাজাতের মাস হিসেবে দেখা হয়।

পবিত্র রমজানে দান-সদকার ফজিলত সম্পর্কে বাংলানিউজকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এমনটাই বলছিলেন সিলেটের হযরত শাহজালাল (র.) দরগাহ মাজার মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা হুযায়ফা হুসাইন চৌধুরী।

তিনি বলেন, আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে জীবন দান করেছেন। এই জীবনের মধ্যে মানুষ আল্লাহ পাকের নৈকট্য কিভাবে অর্জন করতে পারে? এজন্য আল্লাহ তায়ালা বিভিন্ন সময়, দিবস ও সুযোগ দিয়ে থাকেন। সেসব দিবস ও সুযোগ আল্লাহর নৈকট্য পাওয়ার জন্যই। এসব দিবসের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম রামাদানের মাস। আল্লাহ পাক এজন্য এই মাসকে নাম দিয়েছেন ‘শাহরুল্লাহ’ তথা আল্লাহ পাকের মাস।

হাফেজ মাওলানা হুযায়ফা হুসাইন চৌধুরী বলেন, রমজানে মানুষ যে আমল করে। আল্লাহ পাক এর অধিক প্রতিদান দিয়ে থাকেন। যেমন, এক হাদিসে আছে, হযরত সালমান ফার্সি (রা.) থেকে বর্ণিত; ‘রাসুল (সা.) শাবান মাসের শেষ তারিখে আমাদের উদ্দেশ্যে উপদেশমূলক বক্তব্যে বলেছেন- হে লোক সকল তোমাদের মধ্যে এমন একটি মাস আসছে, যে মাসে এমন একটি রজনী আছে, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। আল্লাহ পাক এই মাসে রোজা ফরজ করে দিয়েছেন। যে ব্যক্তি এই মাসে একটি নেক কাজ করলো, সে যেন রমজান ছাড়া অন্য মাসের একটি ফরজ আদায় করলো। আর যে ব্যক্তি এ মাসে একটি ফরজ আদায় করলো। সে অন্য মাসে ৭০টি ফরজ আদায় করলো।’ সে হিসেবে নামাজ-রোজা যেমন একটি আমল। ঠিক সেভাবে দান ও সদকা করা একটি আমল। রমজানে এ কাজ করলে আল্লাহ তায়ালা সত্তর গুণ সওয়াব বাড়িয়ে দেন।

হাদিসেও বলা হয়েছে, যদি আমরা দান করি, আল্লাহ আমাদের দানের সওয়াব সত্তর গুণ বাড়িয়ে দেবেন।

Source: বাংলাদেশ সময়: ২১০৭ ঘণ্টা, মে ২০, ২০১৮

51
Ramadan and Fasting / What is the Rozda Rules without intention?
« on: May 19, 2018, 12:12:46 PM »
অপার মহিমার মাস রমজান। আত্মশুদ্ধি-আত্মগঠনের এ মাসে মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তোষ অর্জনের জন্য ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। রমজান মাসকে সঠিকভাবে পালনে করণীয় ও বর্জনীয়সহ নানা বিষয়ে জানার থাকে মুসল্লিদের। এজন্য মাহে রমজানে বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কমের বিশেষ আয়োজন ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। এই আয়োজনের মাধ্যমে (bn24.islam@gmail.com ঠিকানায় ইমেইল করে) পাঠক তার রমজান বিষয়ক প্রশ্ন করে জেনে নিতে পারেন উত্তর। পবিত্র কোরআন ও হাদিস শরিফের আলোকে পাঠকের জিজ্ঞাসার উত্তর দেবেন বিশিষ্ট মুফাস্সিরে কুরআন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী। এরইমধ্যে এই আয়োজনে প্রশ্নকর্তা পাঠকরা জেনে নিন তাদের উত্তর।
মো. রফিকুল ইসলাম; বাবুগঞ্জ, বরিশাল।
প্রশ্ন: রোজার নিয়ত কিভাবে করতে হয়?
উত্তর: রোজার নিয়ত করা ফরজ। নিয়ত অর্থ সংকল্প। যেমন মনে মনে এ সংকল্প করবে, আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আগামীকালের রোজা রাখছি। মুখে বলা জরুরি নয়। হাদিস শরিফে আছে, ‘সব আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।’ (সহিহ বুখারি ১/২)
মো. এনামুল হক; পল্টন, ঢাকা।
প্রশ্ন: রাত থাকতেই কি রোজার নিয়ত করতে হবে?
উত্তর: ফরজ রোজার নিয়ত রাত বাকি থাকতেই করা উত্তম। উম্মুল মুমিনিন হাফসা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ফজরের আগে রোজা রাখার নিয়ত করবে না তার রোজা (পূর্ণাঙ্গ) হবে না। (সুনানে আবু দাউদ ১/৩৩৩)
মো. সুমন তালুকদার; উত্তরা, ঢাকা।
প্রশ্ন: রাতে নিয়ত না করতে পারলে আমার রোজার হবে কি?
উত্তর: রাতে নিয়ত করতে না পারলে দিনে সূর্য ঢলে পড়ার আগে নিয়ত করলেও রোজা হয়ে যাবে। সালামা ইবনুল আকওয়া (রা.) বলেন, (আশুরার রোজা যখন ফরজ ছিল তখন) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আসলাম’ গোত্রের একজন ব্যক্তিকে ঘোষণা করতে বললেন, ‘যে সকাল থেকে কিছু খায়নি সে বাকি দিন রোজা রাখবে। আর যে খেয়েছে সেও বাকি দিন রোজা রাখবে। কারণ আজ আশুরা-দিবস।’ (সহিহ বুখারি)
আবদুল করিম জাযারি বলেন, কিছু লোক সকালে চাঁদ দেখার সাক্ষ্য দিল। তখন উমর ইবনে আবদুল আজিজ (রহ.) বললেন, ‘যে ব্যক্তি (ইতিমধ্যে কিছু) খেয়েছে সে বাকি দিন খাওয়া থেকে বিরত থাকবে। আর যে খায়নি সে বাকি দিন রোজা রাখবে।’ (মুহাল্লা ৪/২৯৩)
জাহানারা বেগম; বাবুগঞ্জ, বরিশাল।
প্রশ্ন: প্রতিদিন কি রোজার নিয়ত করা জরুরি?
উত্তর: রমজানের প্রতিদিনই রোজার নিয়ত করতে হবে। একদিন নিয়ত করলে পুরো রমজানের জন্য তা যথেষ্ট নয়। (সূত্র: ইলমুল ফিকাহ, খ- ৩, পৃষ্ঠা ১৮)
আসিয়া; যাত্রাবাড়ী, ঢাকা।
প্রশ্ন: আমি যদি সকালে নিয়ত করি তাহলে রোজা হবে কি?
উত্তর: রাতেই নিয়ত করা আবশ্যক নয়, করে ফেললে ভালো। নিয়ত করার বিষয়টি মনে না থাকলে সকালে যখন মনে হবে, তখনই নিয়ত করে নিলেও তা হয়ে যাবে। তবে সেহরির সময় পার হয়ে যাওয়ার পর কোনও কিছু পানাহার করলে বা রোজা ভঙ্গের কোনও কারণ ঘটে যাওয়ার পর নিয়ত করলে তা আদায় হবে না। (সূত্র: বেহেশতি জেওর, খ- ৩, পৃষ্ঠা ৩)
সেতারা বেগম; শনির আখরা, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা।
প্রশ্ন: মনে মনে কি রোজার নিয়ত করা যাবে?
উত্তর: রমজানুল মোবারকে মনে মনে শুধু এটুকু ভাবলেই নিয়ত হয়ে যাবে যে আমি আজ রোজা রাখবো। নির্দিষ্টভাবে কোনও দোয়া পাঠ করা বা আমি আজ রমজানের ফরজ রোজা রাখছি এমন কিছু বলা জরুরি নয়। (সূত্র: বেহেশতি জেওর, খ- ৩, পৃষ্ঠা ৩)
মাসুমা আক্তার; হাতিরপুল, ঢাকা।
প্রশ্ন: কোন কোন রোজার নিয়ত রাতেই জরুরি?
উত্তর: নফল রোজা, নির্দিষ্ট মানতের রোজা এবং রমজানের রোজাসমূহের নিয়ত রাতের বেলা অথবা শরিয়তের ঘোষিত অর্ধদিবস পর্যন্ত করা যাবে। অন্য সব ধরনের রোজার জন্য রাতের মধ্যেই নিয়ত করে নেওয়া জরুরি। (সূত্র: ফাতাওয়া দারুল উলুম, খ- ৬, পৃষ্ঠা ৩৪৬)
সিমা আক্তার; জুরাইন, ঢাকা।
প্রশ্ন: সেহরি খাওয়াটা রোজার নিয়ত বলে গণ্য হবে কি?
উত্তর: রমজান মাসে সেহরি খাওয়াটাও রোজার নিয়ত বলে গণ্য হবে। তবে সেহরি খাওয়ার সময় রোজা রাখার ইচ্ছা না থাকলে তা নিয়ত বলে গণ্য হবে না।
(সূত্র: কিতাবুল ফিকাহ, খ- ১, পৃষ্ঠা ৮৮১)
সাথী; সেগুনবাগিচা, ঢাকা।
প্রশ্ন: নিয়ত ছাড়া রোজার বিধান কী?
উত্তর: কোনও ব্যক্তি সারাদিন কিছুই পানাহার করেনি, রোজা ভাঙার কোনও কাজও তার মাধ্যমে সংঘটিত হয়নি; অথচ তার মনে রোজার রাখার কোনও ইচ্ছা ছিল না। হয়তো তার ক্ষুধাই লাগেনি বা তেমন কিছু করার প্রয়োজন হয়নি। এমন অবস্থায় তা রোজা বলে গণ্য হবে না। তবে মনে মনে রোজা পালনের ইচ্ছে করে থাকলে তার রোজা হয়ে যেতো।

Source: ইসলাম ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

52
ক্যান্সার নামক এই মরণব্যাধিটি সকলের কাছেই রহস্যের মতো। অনেকেই জানেন না এবং একেবারেই বুঝতে পারেন না কেন দেহে এই ক্যান্সারের কোষের জন্ম হয়। পরিবারে ইতিহাস থাকলেই যে ক্যান্সার হবে এমন কোন কথা নেই। আমাদের দৈনন্দিন কাজের খারাপ প্রভাবের কারণেও কিন্তু দেহে জন্মায় ক্যান্সারের কোষ। আর এ থেকে মুক্তি পাওয়ার চাবিকাঠি কিন্তু আমাদের হাতেই।
         
আপনি হয়তো জানেনও না আপনার ছোট্ট কিছু সাবধানতা এবং সতর্কতা দেহে ক্যান্সারের কোষ গঠনে বাঁধা প্রদানে কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারে। তাই দৈনন্দিন জীবনে কিছু সাবধানতা অবলম্বন করুন। এতে করে ক্যান্সারের মরণ থাবা থেকে বেঁচে যাবেন আপনি এবং আপনার পরিবার।
     
১) একটানা বসে থাকবেন না-জার্মানির রিজেন্সবার্গ ইউনিভার্সিটির গবেষকগণ সম্প্রতি তাদের গবেষণায় এই ব্যাপারটি নিশ্চিত করেছেন যে যারা একটানা অনেক্ষন বসে থাকেন তাদের ক্যান্সারে আক্রান্তের সম্ভাবনা প্রতি ২ ঘণ্টায় প্রায় ১০% বেড়ে যায়। গবেষকদের মতে আধাঘণ্টা পরপরই উঠে কিছুক্ষন হাঁটাহাঁটি করে নেয়া ভালো। যদি তাও সম্ভব না হয় তাহলে অবশ্যই প্রতি ২ ঘণ্টায় একটু বড় ধরণের ব্রেক নেয়া জরুরী।
     
২) মাংস মেরিনেট করে খাবেন-কয়লার আগুনে পোড়ানো এবং তেলে ভাজা উচ্চতাপমাত্রায় রান্না মাংসে অনেক ধরণের কেমিক্যাল উৎপন্ন হয় যা ক্যান্সারের কোষ গঠনে সহায়তা করে। অ্যামেরিকান ইন্সটিটিউট ফর ক্যান্সার রিসার্চের গবেষকগণ বলেন মেরিনেট করার ফলে মাংসের উপরে যে লেয়ার তৈরি হয় তা সরাসরি আগুনের তাপে মাংস রান্না হতে বাঁধা দেয় এবং ক্ষতিকর কেমিক্যাল উৎপন্ন হতে পারে না। তাই রান্নার আগে অবশ্যই মাংস মেরিনেট করে নিন।
     
৩) ফলমূল ফ্রিজে রাখবেন না-গবেষণায় দেখা যায় ফলমূল স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রাখলে তার পুষ্টিগুণ অটুট থাকে এবং ক্যান্সার কোষ বাঁধা দানের ক্ষমতা সম্পন্ন নিউট্রিয়েন্টের পরিমাণ বেশী থাকে। যেমন টমেটো ও মরিচ যদি বাইরে রেখে দেন ফ্রিজে রাখার পরিবর্তে তাহলে এতে দ্বিগুণ পরিমাণে ব্যাক্টেকারোটেন এবং ২০ গুন বেশী পরিমাণে লাইকোপেন থাকে যা ক্যান্সারের কোষ গঠনে বাঁধা দানে বিশেষ কার্যকরী।
     
৪) সবজি মাইক্রোওয়েভে দেবেন না-যদি আপনি স্বাস্থ্যকর খাবারের আশায় তেলে না ভেজে ওভেনে বেক করে সবজি খেতে চান তাহলে তা একেবারেই ভুলে যান। কারণ একটি স্প্যানিশ গবেষণায় দেখা যায় ওভেনে দেয়ার ফলে ব্রকলির ক্যান্সার প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রায় ৯৭% কমে যায়। একই বিষয় প্রযোজ্য অন্যান্য সবজির ক্ষেত্রেও। যদি স্বাস্থ্যকর খেতে চান তাহলে ওভেনে না দিয়ে সেদ্ধ করে খান।
     
৫) সুগন্ধি মোমবাতি জ্বালাবেন না-গবেষকগণের মতে সুগন্ধি কেমিক্যালযুক্ত মোমবাতির কারসিনোজেনিক প্রভাব রয়েছে। বিশেষ করে বদ্ধ ঘরে এই ধরণের কেমিক্যাল সমৃদ্ধ মম পোড়ানোর ধোঁয়া এবং গন্ধ খুবই ক্ষতিকর। ঘরে আলো বাতাস চলাচল হতে দিন এবং সুগন্ধি মোম কেনা বন্ধ করুন।
     
৬) বাড়তি লবণ খাবেন না-অতিরিক্ত লবণ খাওয়ার সাথে ইউকে এর প্রায় ১৪% পাকস্থলীর ক্যান্সার হওয়ার যোগাযোগ দেখা গিয়েছে। প্রতিদিন আমাদের ৬ গ্রামের কম পরিমাণে লবণ অর্থাৎ ২.৪ গ্রাম সোডিয়াম খাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। এর চাইতে বেশী খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
     
৭) একেবারে অন্ধকার ঘরে ঘুমান-বেশ কয়েকটি গবেষণায় দেখা যায় আর্টিফিশিয়াল আলোর দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের কারণে বিশেষ করে রাতের বেলার লাইটের কারণে স্তন ও প্রোস্টেট ক্যান্সারের সম্ভাবনা বেশী বেড়ে যায়। এর কারণ হিসেবে গবেষকগণ আলোতে দেহের হরমোনের উপর প্রভাব পড়াকেই দায়ী করেন যা ঘুমের সময় আমাদের দেহে ঘটে থাকে। তাই আর্টিফিশিয়াল আল যতো কম ব্যবহার করা যায় ততোই ভালো।
সূত্র: indiatimes


53
Public Health / 8 diseases of the drug, only date, know!
« on: May 18, 2018, 05:00:39 PM »

অনেকেই বিশ্বাস করেন মিষ্টি খাবার মানেই তা শরীরের জন্য ভালো নয়। এই ধরণা কিন্তু ঠিক নয়। কারণ খেজুর একটা মিষ্টি ফল, তবু এর মধ্য কোনও ক্ষতিকর উপাদান নেই। বরং এটি খেলে সার্বিকভাবে শরীর অনেক চাঙ্গা থাকে।

খেজুরের মধ্য বিপুল পরিমাণে ভিটামিন, মিনারেল, ক্য়ালসিয়াম, আয়রন, পটাশিয়াম এবং ফাইবার থাকার কারণে শীতকালে এই ফলটি খাওয়া খুব জরুরি। সর্বোপরি এর খাদ্যগুনের জন্য রমজান মাস চালাকলীন মুসলমানরা ইফতার করেন এই ফল দিয়েই।

কারণ রোজার কারণে শরীরের বিপুল পিরমাণ শক্তির দরকার পরে, আর খেজুর সে সময় এই কাজটিই করে খুব সুন্দরভাবে। এখানেই শেষ নয়, যারা নিজের ওজন কমাতে ইচ্ছুক তাদের জন্যও এই ফলটি খাওয়া জরুরি। কারণ খেজুর ওজন কমাতে দারুন কাজে আসে।

খেজুরের আরো কিছু গুনাগুন আমরা জানি

১. শরীর গরম রাখে:

খেজুরে বিপুল পরিমাণে ফাইবার, আয়রন, ক্য়ালসিয়াম, ভিটামিন এবং ম্য়াগেনশিয়াম থাকার কারণে এটি শরীর গরম রাখতে খুব সাহায্য় করে। সেই কারণেই তো শীতকালে এই ফলটি খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা।

২. ঠান্ডা কমায় :

ঠান্ডায় খুব হাঁচি-কাশি হচ্ছে। চিন্তা নেই। এখনই ২-৩ টে খেজুর, কিছুটা মরিচ আর ১-২ টো এলাচ নিয়ে গরম জলে ফেল সেদ্ধ করে নিন। দাঁড়ান দাঁড়ান, এখনই খাবেন না। শুতে যাওয়ার আগে ওই জল খেয়ে নিন। দেখবেন ঠান্ডা কেমন দূরে পালাচ্ছে।

৩. অ্যাজমা সারায়:

শীতে যে যে রোগ খুব মাথাচারা দিয়ে ওঠে তার মধ্য়ে অন্য়তম হল হাঁপানি বা অ্যাস্থেমা। প্রতিদিন সকালে আর বিকালে নিয়ন করে ১-২ টো খেজুর খান। দেখবেন শীতকালে আর হাঁপানি হচ্ছে না আপনার।

৪. শরীরের শক্তি বৃদ্ধি করে:

খেজুরে যেহেতু অনেক পরিমাণে প্রাকৃতিক মিষ্টি থাকে, তাই এই ফলটি খেলে নিমেষ শরীরের শক্তি বেড়ে যায়।

৫. কোষ্ঠকাঠিন্য সারায়:

কেয়েকটা খেজুর নিয়ে সারা রাত জলে ভিজিয়ে রাখুন। পরের দিন সকালে খেজুরটা ফাটিয়ে জলে মিশিয়ে সেই জল পান করুন। দেখবেন কোষ্ঠকাঠিন্যর সমস্য়া কেমন কমতে শুরু করেছে। আসলে খেজুরে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকার কারণে এটি কোষ্ঠকাঠিন্য সারাতে দারুন কাজে আসে।

৬. হার্টের জন্য ভালো:

হার্টকে ভালো রাখে। আর একথা তো সকলেরই জানা যে খেজুরে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে। তাই এই ফলটি খেলে হার্ট যেমন ভালো থাকে, তেমনি হার্টরেটও নিয়ন্ত্রণে থাকে। ফেল কমে হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা।

৭. আর্থারাইটিস কমায়:

শীতে যারা আর্থ্রারাইটিসের সমস্য়ায় খুব ভোগেন তারা আজ থেকেই খেজুর খাওয়া শুরু করুন। এতে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি প্রপাটিজ থাকার কারণে আর্থ্রারাইটিসের ব্য়থা কমাতে এটা দারুন কাজে দেয়।

৮. উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে:

ম্য়াগনেশিয়াম আর পটাশিয়াম উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য় করে। আর এই দুটি খনিজ খেজুরে প্রচুর পরিমাণে থাকায় এই ফলটি খেলে রক্তচাপ একেবারে নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাই যাদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্য়া আছে, তারা প্রতিদিন ৫-৬টা খজুর খেতে ভুলবেন না যেন!

54
ICT / Robots fly like insects
« on: May 17, 2018, 01:38:41 PM »

বিজ্ঞানীরা একধরনের রোবট উদ্ভাবন করেছেন, যার আকৃতি ও স্বভাব পোকামাকড়ের মতো। আর রোবটটি চলবে কোনো ইলেকট্রিক্যাল তার ছাড়াই। তবে রোবটটিকে চালাতে ব্যবহার করা হয়েছে লেজার রশ্মি। একটি ক্ষুদ্র বোর্ড সার্কিট ব্যবহার করে লেজারের বিদ্যুত্শক্তি ওড়াবে রোবটটিকে। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, এ ধরনের রোবট ভবিষ্যতে আক্রান্ত ফসল পরিদর্শন ও গ্যাস লিক শনাক্তকরণের কাজ করতে পারবে।

ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির একদল প্রকৌশলী গবেষক আগামী সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে রোবটিক্স অ্যান্ড অটোমেশন ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্সে তাঁদের গবেষণা উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন। এই দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. সায়েইয়ার ফুলার।

ড. সায়েইয়ার ফুলার বলেন, ‘এর আগে কল্পবিজ্ঞানে এ ধরনের রোবট ছিল শুধু ধারণামাত্র। এখন তা বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। আমরা কখনো ভাবিনি এ ধরনের কল্পনাকে বাস্তব বানিয়ে তা জীবন-জীবিকায় কাজে লাগাতে পারব। যা কার্যকারিতার দ্বারপ্রান্তে।’

গবেষণাদলের সহলেখক ও স্কুল অব কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. শ্যাম গোলেকোটা বলেন, রোবটটি ওড়াতে একটি সূক্ষ্ম ও অদৃশ্য লেজারের রশ্মি ব্যবহার করা হয়েছে, যা আলোকে বিদ্যুতের মধ্যে রূপান্তরিত করবে। সাধারণত রোবফ্লাইতে অনেক বেশি ওজন যোগ না করে তাকে কিভাবে দ্রুত কার্যকর করা যায়, এটিই তার দৃষ্টান্ত।

সূত্র : স্কাই নিউজ।

55
Lungs / Asthma prevention at home food
« on: May 12, 2018, 10:59:07 AM »
অ্যাজমা এক ধরনের ইনফ্লামাটেরি রোগ। এ সমস্যা শ্বাসযন্ত্র সংশ্লিষ্ট। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অ্যাজমার প্রকোপ বেড়েছে। এক পরিসংখ্যানে বলা হয়, ভারতের প্রতি দশ জন রোগীর দশমজনের অ্যাজমা রয়েছে। আমাদের দেশেও চিত্রটা ভয়ংকর। তবে যারা এখনো সুস্থ এবং মাত্র আ্যাজমায় আক্রান্ত হয়েছে তাদের জন্যে কিছু পরামর্শ এনেছেন বিশেষজ্ঞরা। আসলে অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের কারণে অ্যাজমার ঝুঁকি বাড়ে। বদভ্যাস বাদ দিয়ে ব্যায়াম করলে অ্যাজমামুক্ত থাকতে পারবেন। এখানে ঘরে থাকে এমন কয়েকটি খাবারের কথা বলা হলো। এগুলো নিয়মিত খেলে অ্যাজমার হাত থেকে রেহাই পাবেন।

দুধ
যদি অ্যাজমা থেকে দূরে থাকতে চান তো দুধকে 'হ্যাঁ' বলুন। দুধে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়ামের সঙ্গে ম্যাগনেশিয়ামও থাকে। যখন আপনি পর্যাপ্ত পরিমাণে ম্যাগনেশিয়াম খাচ্ছেন, তখন আপনার শ্বাসনালীর পেশিগুলো আরাম পায়। ফলে এগুলো সবসময় খোলা থাকে। দুধে আরো আছে ভিটামিন ডি। এটাও অ্যাজমা প্রতিরোধ করে বলা হয়।

পেঁয়াজ এবং রসুন
যদিও আমাদের খাবারে এ দুটোর ব্যবহার প্রচুর ঘটে, তবুও অনেক মানুষ আছেনন যারা পেঁয়াজ-রসুন একেবারেই খেতে চান না। আপনার বংশে অ্যাজমার রোগী থাকলে আগেভাগেই সাবধান হতে হবে। পেঁয়াজ এবং রসুনে আপত্তি থাকলে চলবে না।

গাজর
এতে আছে বেটা ক্যারোটিন এবং নেন্স। বলা হয়, ব্যায়ামের কারণে যে অ্যাজমা হয় তা থেকে রক্ষা করে বেটা-ক্যারোটিন। আরো আছে ভিটামিন এ। এটি অ্যাজমার আক্রমণ থেকে দেহকে সুরক্ষা দেয়। তাই গাজর খান নিয়মিত।

হলুদ
এমনিতেই হলুদের গুণের কোনো শেষ নেই। হলুদ কিন্তু অ্যাজমার বিরুদ্ধেও কাজ করে। বিশেষ করে শ্বাসনালীর যত্নআত্তিতে হলুদের কার্যকারিতা রয়েছে।

ভিটামিন সি
যেসব খাবারে ভিটামিন সি রয়েছে সেগুলো বেশি করে খান। সাইট্রাস জাতীয় ফলে পাবেন এই ভিটামিন। এটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। রোগ প্রতিরোধী ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। সর্দি লাগলে লেবু খেলে দেখবেন উপকার মেলে। অ্যাজমা প্রতিরোধেও ভিটামিন সি দারুণ কার্যকর।

Source: সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া

56
Public Health / Those who warm up the microwave, they are careful!
« on: May 12, 2018, 10:53:27 AM »

ব্যস্ত জীবনে পেরেশানি অনেকটা কমিয়ে দিয়েছে মাইক্রোওয়েভ ওভেন। চটজলদি খাবারটা গরম করে নিতে এর চেয়ে সুবিধাজনক উপায় আর নেই। কিন্তু এই যন্ত্রের বিষয়ে আরো বেশি সচেতন হতে হবে। কারণ বিজ্ঞানীরা দিচ্ছেন শঙ্কার বার্তা।

গবেষণায় বলা হয়, যেসব প্লাস্টিক বাটিতে মাইক্রোওয়েভে খাবার গরম করা হয় তা গর্ভে থাকা শিশুর অনুর্বরতা, ডায়াবেটিস, স্থূলতা এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। মাইক্রোওয়েভে গরম হয়ে ওঠা প্লাস্টিক পাত্র তার ৯৫ শতাংশ রাসায়নিক উপাদান নিঃসৃত করে। এগুলো খাবারে মিশে যায়। এসব খাবার উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায়। উর্বরতা নষ্ট করে এবং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতায় বিরূপ প্রভাব ফেলে। 

নিউ দিল্লির ইন্দিরা আইভিএফ হসপিটালের আইভিএফ বিশেষজ্ঞ ড. নিতাশা গুপ্ত বলেন, প্লাস্টিকের পাত্র থাকা সবচেয়ে ক্ষতিকর উপাদান হলো বাইস্ফেনল এ। এটা বিপিএ নামেই পরিচিত। আরো আছে ফাথালেট। বিপিএ রক্তে মিশে যায় এবং অনুর্বরতা, হরমোনে পরিবর্তন, লিঙ্গ নির্ধারণে সমস্যা এবং নানা ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। অন্যান্য প্রাণীদের ক্ষেত্রে এই উপাদান টেস্টিকুলার ক্যান্সার, জেনিটাল ডিফর্মেশন, শুক্রাণু কমে আসা এবং অনুর্বরতা দেখা দেয়। বিশেষ করে পোলার ভালুক, তিমি এবং অন্যান্য প্রাণীদের ক্ষেত্রে এমনটা ঘটেছে।

বিপিএ'র প্রভাব এতটাই বেশি যে সেন্টার্স ফর ডিজিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন দেখিয়েছে, আমেরিকার জনগণের ৯০ শতাংশের দেহেই সহজেই বিপিএ খুঁজে পাওয়া যায়। প্লাস্টিকে আরো থাকে পিভিসি, ডিওক্সিন এবং স্টাইরিন। এগুলো সবই ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।

এটাই সত্য যে তাপমাত্রা প্লাস্টিক থেকে এসব ক্ষতিকর উপাদান খুব সহজেই খাবারে ছড়িয়ে দেয়। দেহের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে ব্যাহত করে এসব উপাদান, জানান নিতাশা।

গাইনকোলজিস্ট ড. সোয়াতি জানান, খাবার রাখা এবং গরম করার জন্য সবচেয়ে ভালো কাচের পাত্র। কাচ থেকে কখনো কোনো ক্ষতিকর উপাদান বের হয় না। তাপমাত্রতেও কোনো সমস্যা নেই।

আমেরিকান সোসাইটি অবব রিপ্রোডাক্টিভ হেলথ এক গবেষণায় জানায়, বিপিএ গর্ভের ভ্রূণের সঙ্গেও মিশে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে গর্ভের শিশুকে নষ্টও করে দিতে সক্ষম।

Source: সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

57
Ramadan and Fasting / The way we welcome Ramadan
« on: May 12, 2018, 10:41:27 AM »
প্রতিটি মানুষের সীমাবদ্ধতা থাকে। তাই কোনো কাজ করতে হলে পূর্বপ্রস্তুতি নিতে হয়। আমাদের দুয়ারেও কড়া নাড়ছে পবিত্র মাহে রমজান। রমজানের আগমনে সাড়া পড়ে যায় আসমান ও জমিনে। আনন্দের হিল্লোল বয়ে যায় গোটা সৃষ্টিজগতে! কল্যাণের সব দরজা এ মাসে খুলে দেওয়া হয়। আর অকল্যাণের পথ রুদ্ধ করা হয়। মহানবী (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যখন রমজানের প্রথম রাতের আগমন ঘটে, শয়তান ও অবাধ্য জিনদের শৃঙ্খলিত করা হয়, জাহান্নামের সব দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। খোলা রাখা হয় না কোনো দরজা। আর জান্নাতের দুয়ারগুলো অর্গলমুক্ত করে দেওয়া হয়। বন্ধ রাখা হয় না কোনো তোরণ। এদিকে একজন ঘোষক ঘোষণা করেন, ‘হে পুণ্যের অনুগামী! অগ্রসর হও। হে মন্দ পথের যাত্রী! থেমে যাও’। আবার অনেক ব্যক্তিকে আল্লাহ জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন। আর এমনটি করা হয় রমজানের প্রতিটি রাতেই’। (তিরমিজি, হাদিস : ৬৮২; ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৬৪২)   

মহানবী (সা.) রমজান আসার আগেই রমজানের জন্য প্রস্তুতি নিতেন। তিনি শাবান মাসে অধিক হারে নফল রোজা রাখতেন। তিনি তাঁর সাহাবিদের রমজানের শুভাগমনের সুসংবাদ দিতেন, যাতে তাঁরাও রমজানে বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগি করতে পারেন। এ বিষয়ে হাদিস শরিফে এসেছে, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত,

‘রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর সঙ্গীদের এ মর্মে সুসংবাদ শোনাতেন—‘তোমাদের সামনে রমজান মাস এসেছে। এটি বরকতময় মাস। আল্লাহ তোমাদের ওপর এ মাসের রোজা ফরজ করেছেন। এ মাসে জান্নাতের দরজা খোলা হয়। বন্ধ রাখা হয় জাহান্নামের দরজা। শয়তানকে বেঁধে রাখা হয় শিকলে। এ মাসে এমন একটি রজনী রয়েছে, যা হাজার মাস থেকেও উত্তম। যে এর কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো, সে যেন যাবতীয় কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত হলো।’  (নাসায়ি, হাদিস : ২৪২৭; মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ৮৯৭৯)

সুতরাং আমাদের কর্তব্য হলো, এ মাস আসার আগেই এর যথার্থ মূল্যায়নের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা। সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হলো, যারা রমজান পেয়েও নিজের জীবনকে পরিবর্তন করতে পারেনি, তারা বড় হতভাগা।

এমন ব্যক্তি আল্লাহর ফেরেশতা ও খোদ রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বদদোয়াপ্রাপ্ত। কেননা এমন ব্যক্তির ওপর জিব্রাইল আলাইহিস সালাম লানত করেছেন, আর রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর সঙ্গে ‘আমিন’ বলেছেন! হাদিস শরিফে  এসেছে, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘নবী করিম (সা.) একদা মিম্বরে আরোহণ করেন। অতঃপর বলেন—আমিন, আমিন, আমিন। জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল, এটা আপনি কী করলেন? তিনি বললেন, জিবরাইল আমাকে বলেছেন, ওই ব্যক্তির নাক ধূলিধূসরিত হোক, যার সামনে রমজান প্রবেশ করেছে অথচ তাকে ক্ষমা করা হলো না। আমি শুনে বললাম, আমিন (আল্লাহ কবুল করুন)। এরপর তিনি বলেন, ওই ব্যক্তির নাক ধূলিধূসরিত হোক, যার সামনে আপনার কথা আলোচিত হয়; তথাপি সে আপনার ওপর দরুদ পড়ে না। তখন আমি বললাম, আমিন (আল্লাহ কবুল করুন)। অতঃপর তিনি বলেন, ওই ব্যক্তির নাক ধূলিধূসরিত হোক, যে তার পিতা-মাতা বা তাঁদের একজনকে পেল, অথচ সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারল না। তখন আমি বললাম, আমিন (আল্লাহ কবুল করুন)।’ (আল-আদাবুল মুফরাদ, হাদিস : ৬৪৬;  সহিহ ইবনে খুজাইমাহ, হাদিস : ১৮৮৮)

রমজানকে স্বাগত জানানোর ক্ষেত্রে সুন্নত হলো, রমজানের চাঁদ দেখে নিম্নের দোয়া পাঠ করা। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করিম (সা.) যখন চাঁদ দেখতেন, তখন তিনি বলতেন—

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু আলাইনা বিল ইউমনি ওয়াল-ঈমান ওয়াস-সালামাতি ওয়াল-ইসলাম, রাব্বি ওয়া রব্বুকাল্লাহ।’

অর্থ : হে আল্লাহ! আপনি এই চাঁদকে আমাদের ওপর নিরাপত্তা ও ঈমানের সঙ্গে এবং সুস্থতা ও ইসলামের সঙ্গে উদিত করুন, তোমার ও আমার রব হলেন আল্লাহ। (তিরমিজি, হাদিস : ৩৪৫১, মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ১৩৯৭)

রমজানকে স্বাগত জানানোর সর্বোত্তম উপায় হলো, রমজানকে সব গুনাহ থেকে মুক্ত রাখা। কেননা রমজান হলো তাওবার সুবর্ণ সময়। রমজানকে স্বাগত  জানাতে হবে ইবাদতে দ্বিগুণ চেষ্টা, দান-সাদাকা, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-ইস্তিগফার এবং অন্য নেক আমল বেশি পরিমাণে করার দৃঢ় সংকল্প নিয়ে।

মহান আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুন। আমিন।

Source: মুফতি তাজুল ইসলাম

58
Ramadan and Fasting / How to Prepare Ramadan
« on: May 12, 2018, 10:36:25 AM »
রমজানের পূর্বাভাস নিয়ে হাজির হওয়া শাবান মাস ক্রমেই এগিয়ে যাচ্ছে সমাপ্তির দিকে। ক্ষমার মহান বারতা নিয়ে সমহিমায় হাজির হচ্ছে পবিত্র রমজান। দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়ছে রমজানের আগমনী বার্তা। মুমিনের হৃদয়মাত্রই প্রহর গুনছে রমজানের একফালি চাঁদের জন্য। এ মাসে প্রতিটি ইবাদতের প্রতিদান যেমন বহুগুণে বেড়ে যায়, তেমনি সব পাপ ছেড়ে দিয়ে ভালো মানুষ হিসেবে নিজের জীবনকে নতুন করে সাজানোর সুযোগও এনে দেয় রমজান। কোরআনে নিষিদ্ধ জিনিসগুলোকে ‘না’ বলে, নির্দেশিত বিষয়গুলোর চর্চার মহাসুযোগ রমজান। প্রতিটি ইবাদতের সওয়াব বহুগুণে বাড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি মুমিনের জীবন বদলে দেওয়ার যে মহাসুযোগ রমজান নিয়ে আসে, তা যেন কিছুতেই হাতছাড়া না হয়। সে জন্য প্রয়োজন প্রস্তুতি নেওয়ার। প্রতিটি মুসলমানের উচিত নিজেদের আল্লাহর কাছে নিবেদন করতে রমজানের আগেই যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ করা। রমজানের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে নিম্নের বিষয়গুলো খেয়াল রাখা যেতে পারে।

সমাজে প্রস্তুতি : সামাজিক পরিমণ্ডলে রমজানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রতিবেশী ও সমাজের লোকজন একে অন্যের সঙ্গে দেখা হলে রমজানের বিভিন্ন ফজিলত ও ইতিবাচক দিক নিয়ে আলোচনা করে। এ ব্যাপারে অন্যকে রোজার বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করা চাই। রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় এ মাস আসার আগেই সামাজিকভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে, যেন সমাজটাও হয় ইসলামবান্ধব।

পরিবারে প্রস্তুতি : পরিবারের সদস্যদের রমজানের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে রোজার ফজিলতের হাদিস ও এর বিভিন্ন উপকারিতা তুলে ধরে খাবারের টেবিলে বা অন্য কোনো সুযোগে প্রতিদিন কিছু সময় ঘরোয়া তালিম হতে পারে। এ ব্যাপারে মাতা-পিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। পরিবারে এমন একটি রুটিন করে নেওয়া প্রয়োজন, যাতে কাজের কারণে ইবাদতে ব্যাঘাত না ঘটে। একটি মুহৃর্তও নফল ইবাদত, তিলাওয়াত ও আল্লাহর জিকিরমুক্ত না হয়।

সন্তানের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তার জন্য মাতা-পিতা খুবই দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেন, কিন্তু সেই সন্তানই যে পারলৌকিক জীবনে চরম অনিরাপত্তার দিকে চলে যাচ্ছে, সেদিকে অনেক মাতা-পিতাই উদাসীন। নিজের সন্তানকে জাহান্নাম থেকে বাঁচাতে রমজানে সন্তানদের জন্যও মাতা-পিতার পরিকল্পনা দরকার। এ বছর কোন সন্তানের ওপর রোজা ফরজ হলো, তা ভেবে তাদের রোজা রাখতে বলা, যাদের ওপর এখনো রোজা ফরজ হয়নি, কিন্তু কাছাকাছি চলে এসেছে তাদের অন্তত দু-এক দিন পর পর রোজা রাখিয়ে রোজায় অভ্যস্ত করে তোলা উচিত। রমজানে স্কুলগুলো বন্ধ থাকে। কোনো সন্তান কোরআন তিলাওয়াত না জানলে অথবা তিলাওয়াত অশুদ্ধ থাকলে তাকে এ সুযোগে শুদ্ধ তিলাওয়াত শেখানোর ব্যবস্থা গ্রহণ মাতা-পিতার দায়িত্ব। এ জন্য রমজানের আগেই শিক্ষক ঠিক করে রাখা উচিত। অন্তত নামাজ পড়ার জন্য জরুরি পরিমাণ সুরা ও নামাজের মাসায়েল ভালোভাবে শেখানো এ রমজানেই নিশ্চিত করা চাই। পরিবারের প্রত্যেক সদস্যই যেন রমজানে কোরআন তিলাওয়াতের অভ্যাস গড়ে তোলে, সে জন্য পরিবারপ্রধান তাদের উৎসাহিত করবেন। অনৈসলামিক টিভি প্রগ্রামমুক্ত পরিবার গঠনের সিদ্ধান্তও নিতে হবে রমজান থেকে। সন্তানরা যেন ফেসবুক বা টিভিতে অযথা সময় নষ্ট না করে ইবাদতে মনোযোগী হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। আর রমজানের জন্য সংযমী বাজেট প্রণয়নের সময়ও এখন।

গৃহিণীর প্রস্তুতি : সাহরি ও ইফতার ব্যবস্থাপনা নিশ্চয়ই সওয়াবের কাজ। তবে এগুলোতে লিপ্ত থেকে যেন নিজের ইবাদতে ব্যাঘাত না ঘটে, সেদিকে প্রত্যেক গৃহিণীর খেয়াল রাখা উচিত। কঠিন কোনো কাজ রমজানের জন্য ফেলে না রেখে আগে থেকেই এমন একটি পরিকল্পনা করা, যাতে সংসারের কাজ কিছুটা কমিয়ে সময় বের করে হলেও কিছু সময় কোরআন তিলাওয়াতের জন্য বরাদ্দ রাখা। কিছুতেই যেন ফরজ নামাজ, তারাবি ছুটে না যায়, সে দিকে খেয়াল রাখা। সংযমের মাসে প্রত্যেক গৃহিণীর উচিত অপব্যয় ও অপচয় পরিহার করে পরিবারের অতিরিক্ত খরচ কমিয়ে তা দান-সদকায় ব্যয় করার ক্ষেত্রে স্বামীকে সহযোগিতা করা।

গুনাহ ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তুতি : নিজের ভালোর জন্যই গুনাহগুলো ছেড়ে দিতে হবে। জাহান্নাম থেকে নিজেকে বাঁচাতে গুনাহগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোর অভ্যাস ছেড়ে নিজেকে পরিশুদ্ধ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে দৃঢ়সংকল্প করে গুনাহর উপায়-উপকরণগুলোও দূর করে ফেলতে হবে আগেই।

চাকরিজীবীদের প্রস্তুতি : রমজান তো ভালো মানুষ হয়ে যাওয়ার ট্রেনিং কোর্স। চাকরিতে মালিককে না ঠকানো এবং ইবাদত ছেড়ে নিজেও না ঠকার প্রশিক্ষণ নিতে হবে রমজানে। অনৈতিক কোনো অভ্যাস থাকলে তা ছেড়ে দেওয়ার দৃঢ়সংকল্প করতে হবে। কর্মব্যস্ততার ভেতরেও কিভাবে বেশি ইবাদত করা যায়, তার পরিকল্পনা করা উচিত। অফিসের কাজের ফাঁকে ও অফিসে যেতে যে সময় রাস্তায় কাটে, তা-ও ইবাদতে ব্যবহার করতে মোবাইলে কোরআন শরিফসহ বিভিন্ন ইসলামিক অ্যাপস চালু করে তা কাজে লাগাতে পারেন।

প্রয়োজনীয় জ্ঞানার্জনের প্রস্তুতি : প্রত্যেক মুসলমানেরই উচিত রমজানের প্রয়োজনীয় মাসায়েল জেনে নেওয়া। প্রয়োজনে রমজানের আগেই এ বিষয়ে কিছু পুস্তক কিনে নেওয়া যায়, যাতে পরিবারের অন্য সদস্যরাও তা পড়তে পারে। ইতিকাফ করতে আগ্রহীরা এর জন্য প্রস্তুতি নেবেন আগে থেকেই।

ব্যবসায়ীদের প্রস্তুতি : ঈমানদারদের বেশি সওয়াব অর্জনের প্রতীক্ষার বিপরীতে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী প্রস্তুতি নিতে থাকেন গণমানুষকে ঠকিয়ে বেশি লাভ করার। ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্যের প্রশিক্ষণের মাস রমজানে ভাতৃঘাতী ও নির্মমতার চর্চা করেন তাঁরা। মজুদকরণ বা অপকৌশলে নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে ‘বড়লোক’ হওয়ার স্বপ্নে বিভোর হন। তাঁদের লুটেরা মনোভাবের কারণে যুক্তিগ্রাহ্য কারণ না থাকলেও বাড়ে নিত্যপণ্যের দাম। চাল, ডাল, ছোলা, চিনি, ভোজ্য তেল, খেজুর ইত্যাদির দাম হয় গগনচুম্বী।

একজন মুসলমান ব্যবসায়ীর রমজানকেন্দ্রিক এমন প্রস্তুতি হতে পারে না। কারণ পণ্য মজুদকরণের মাধ্যমে দাম বাড়ালে সে ব্যবসায়ীর প্রতি আল্লাহ তাআলা ক্ষুব্ধ হন এবং সম্পর্ক ছিন্ন করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ৪০ দিন খাদ্য মজুদ রাখল সে আল্লাহর কাছ থেকে নিঃসম্পর্ক হয়ে গেল, আল্লাহ নিঃসম্পর্ক হয়ে গেলেন তার থেকে।’ (মুসনাদে আহমাদ : ৮/৪৮১)

সাধারণ ভোক্তাদের জিম্মি করে ‘বিত্তশালী’ হয়ে গেলেও কোনো লাভ নেই। তার এ অবৈধ সম্পদ যেমন পরকালে জাহান্নামে প্রবেশের কারণ হবে, তেমনি দুনিয়ার জীবনেও তা অভিশাপ হয়ে দাঁড়াবে। উপার্জন হারাম হওয়ার কারণে নামাজ, রোজা, হজ, দান-সদকা কিছুই কবুল হবে না। মজুদদারির মাধ্যমে কোটিপতি হলেও তার জন্য দারিদ্র্য অবধারিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কেউ যদি খাদ্য গুদামজাত করে কৃত্রিম উপায়ে সংকট তৈরি করে, আল্লাহ তাকে দুরারোগ্য ব্যাধি ও দারিদ্র্য দ্বারা শাস্তি দেন।’ (ইবনে মাজাহ : ২/৭২৯)

পক্ষান্তরে যারা মজুদদারি না করে স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা করল, এ ব্যবসা পরিণত হবে ইবাদতে। তার উপার্জন আল্লাহ তাআলা বরকতময় করে দেবেন। তাকে অপ্রত্যাশিত রিজিক প্রদান করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘খাঁটি ব্যবসায়ী রিজিকপ্রাপ্ত হয় আর পণ্য মজুদদকারী অভিশপ্ত হয়।’ (ইবনে মাজাহ : ২/৭২৮)

দুনিয়ায় রিজিকে বরকত পাওয়ার পাশাপাশি হাশরের ময়দানেও পুরস্কৃত হবে। তাকে প্রদান করা হবে নবীগণের সঙ্গী হওয়ার পরম সৌভাগ্য। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত ব্যবসায়ীদের হাশরে নবীগণ, সিদ্দিকগণ ও শহীদগণের সঙ্গে হাশর হবে।’ (তিরমিজি : ৩/৫১৫)

তাই একজন ব্যবসায়ীর উচিত রমজানকেন্দ্রিক এমন একটি পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি গ্রহণ করা, যেন তার ব্যবসা তাকে নামাজসহ অন্যান্য ইবাদত থেকে বিরত রাখতে না পারে, আবার ব্যবসায় সব ধরনের হারামকে ‘না’ বলে আল্লাহর বান্দাদের জন্য সুলভমূল্যে নিত্যপণ্য সরবরাহ করে ব্যবসাকেও যেন ইবাদতে পরিণত করতে পারে। দুনিয়াবি জীবনে ব্যবসায় আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে বরকত ও হাশরের ময়দানে মহানবী (সা.)-এর সঙ্গী হওয়ার মতো ব্যবসার চর্চা করার প্রস্তুতি নিতে হবে ব্যবসায়ীদের।

রমজানের আর্থিক প্রস্তুতি : রমজান আর্থিক ইবাদতেরও এক অপূর্ব সুযোগ। এ মাসে দৈহিক ইবাদতের মতো আর্থিক ইবাদতেও সওয়াব বেশি। আত্মীয়-স্বজনের কাছে ইফতারসহ নিত্যপণ্য কিনে পাঠানোর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘কেউ কোনো রোজাদারকে ইফতার করালে সে উক্ত রোজাদারের সমান সওয়াব পাবে। তবে এতে সে রোজাদারের সওয়াব একটুও কমবে না।’ (তিরমিজি : ৩/১৭১) তাই প্রতিটি মুসলমানের উচিত রমজানকেন্দ্রিক আর্থিক একটা পরিকল্পনা করা। কিছু টাকা জমিয়ে তা দিয়ে অভাবী প্রতিবেশী কিংবা আত্মীয়-স্বজনের ঘরে যেন কিছু ইফতার ও খাদ্যসামগ্রী পাঠানো যায়। যাদের ওপর জাকাত ফরজ, তাদের আগে থেকেই রমজানকেন্দ্রিক জাকাতের পরিকল্পনা করে নেওয়া উচিত। রমজানে ওমরাহর বিশেষ ফজিলত রয়েছে। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘রমজান মাসে একটি ওমরাহ আদায় করা একটি ফরজ হজ আদায় করার সমান।’ (বুখারি : ৩/২২২) এ জন্য অর্থনৈতিকভাবে সামর্থ্যবানদের উচিত রমজানে ওমরাহর নিয়ত করে এর প্রস্তুতি নেওয়া।

Source: লেখক : খতিব, বাইতুশ শফিক মসজিদ, বোর্ড বাজার (আ. গনি রোড), গাজীপুর

59
Public Health / Pregnancy effects of fast food
« on: May 07, 2018, 12:48:59 PM »

যেসব নারী নিয়মিত ফাস্ট ফুড খান কিন্তু ফলমূল কম খান, তাঁরা গর্ভধারণ করতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে পারেন বলে নতুন একটি গবেষণায় বলা হয়েছে। প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার নারীর ওপর গবেষণা চালিয়ে দেখা গেছে, যাঁরা ফাস্ট ফুড খান না, তাঁদের তুলনায় যাঁরা সপ্তাহে চার বা আরো বেশিবার ফাস্ট ফুড খান, তাঁদের গর্ভধারণে  অন্তত গড়ে এক মাস সময় বেশি লাগে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই গবেষণা এটাও প্রমাণ করছে যে ভালো খাবার খেলে গর্ভধারণের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডের নারীদের জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, প্রথম সন্তান ধারণের কয়েক মাস আগে তাঁরা কোন ধরনের খাবার খেয়েছিলেন।

গবেষকরা দেখতে পান, যাঁরা মাসে তিনটির কম ফল খেয়েছেন, তাঁদের গর্ভধারণে নিয়মিত ফলাহারীদের তুলনায় দেড় মাস সময় বেশি লাগে।

Source: সূত্র : বিবিসি।

60
You need to know / What to do if you lose the bank card?
« on: April 25, 2018, 07:55:07 PM »
ঝোলা ব্যাগ নিয়ে মার্কেটে ঘুরতে ঘুরতেই অস্বস্তিটা টের পাচ্ছিলেন শায়মা আরা। কিছু একটা সমস্যা হয়েছে, ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় ইঙ্গিত দিলেও ধরতে পারছিলেন না তিনি। কিছুক্ষণ পরেই বুঝতে পারলেন ঘটনাটা। এক জোড়া জুতো কিনে দাম পরিশোধ করতে গিয়েই টের পেলেন ঝোলার মধ্যে নেই টাকার ব্যাগ। কোন ফাঁকে চোর ঝোলা থেকে বের করে নিয়েছে, তা টেরই পাননি।

প্রথমে হতভম্ব, পরে মেজাজটায় খারাপ হলো শায়মার। ব্যাগের ভেতর টাকা তেমন না থাকলেও ছিল বিভিন্ন ব্যাংক কার্ড (ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড)। সব গেছে। একটু পরেই দুশ্চিন্তা নাড়া দিল মনে। ভাবলেন, ক্রেডিট কার্ড দিয়ে যদি কেনাকাটা করে ফেলে চোর। এখন কী করবেন?

নগদ টাকা বহনের বদলে প্লাস্টিক, অর্থাৎ ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড হয়ে উঠেছে মানুষের অতি প্রয়োজনীয় একটি জিনিস। রাস্তাঘাটে চুরি বা ছিনতাইয়ে এটি হারালেও আপনার টাকা হারানোর উপায় কম। তবে অবশ্যই জানতে হবে, এটি হারালে প্রাথমিক করণীয়টা কী।

ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড হারালে প্রথমেই যা করতে হবে, তা হলো যত দ্রুত সম্ভব কার্ডের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য সব ব্যাংকেরই ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে—এমন ফোন নম্বর বা কাস্টমার সার্ভিসের নম্বর আছে। কার্ড হারানোর পর সেই নম্বরে ফোন করে কার্ডের সব ধরনের লেনদেন বন্ধ করে দিতে হবে। গ্রাহকের সমস্ত তথ্য নিয়ে নিশ্চিত হয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কার্ডটি বন্ধ করে দেবে।

এ বিষয়ে কয়েকজন ব্যাংক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কার্ড হারানোর পরপরই প্রথম কাজ হবে কার্ডের লেনদেন বন্ধ করা। লেনদেন বন্ধ না করলে যদি কার্ড ব্যবহার করে কেউ টাকা তুলে নেয়, তাহলে তাঁর দায় গ্রাহকের ওপরই পড়বে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নেবে না। এরপর কার্ড হারানোর পর নতুন কার্ড পেতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শাখায় যোগাযোগ করতে হবে গ্রাহককে। অনলাইনে বা শাখায় নিজে গিয়ে রিকুইজিশন দিতে হবে। ওই শাখা প্রিন্সিপাল ব্যাংককে অভিহিত করে নতুন কার্ড ইস্যু করবে।

অনেক সময় ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড হ্যাক হয়। এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ব্যাংকের জমা-খরচের ওপর নজর রাখা। ব্যাংক হিসাবে যদি দেখা যায়, আপনার অগোচরে অর্থ লেনদেন হয়েছে, তাহলে বুঝতে হবে কার্ডের গোপন তথ্য বেহাত হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে ব্যাংক এবং ক্রেডিট কার্ড যেখান থেকে নিয়েছেন, সেই আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে।

সাধারণত, প্রতারণামূলক লেনদেন ঠেকাতে ক্রেডিট কার্ড কোম্পানি এবং ব্যাংকের নিজস্ব নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকে। এমন কিছু বুঝলে গ্রাহককে দ্রুত তা জানানো হয়। তবে ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে কোনো খবর পাওয়ার অপেক্ষা না করেই নিজেই প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা ভালো। কার্ড হ্যাক হয়েছে—এটা বোঝার সঙ্গে সঙ্গেই কর্তৃপক্ষের সাহায্যে পিন নম্বর পরিবর্তন করতে হবে।

এ ছাড়া ডেবিট কার্ড বা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করার ক্ষেত্রে গ্রাহককে কার্ড ও পাসওয়ার্ডের ব্যাপারে সচেতন থাকতে হয়। প্রয়োজন ছাড়া এসব কার্ড সব সময় বহন না করাই ভালো। এ ছাড়া ব্যাংক কর্মকর্তারা কয়েকটি বিষয়ে খেয়াল রাখতে পরামর্শ দেন। সেগুলো হলো:

১. যে মোবাইল ফোনটি ব্যবহার করছেন, তার কোনো জায়গায় কার্ডের নম্বর বা পাসওয়ার্ড সংগ্রহ করে রাখা যাবে না।

২. কাছে রাখা হাতব্যাগ বা পকেটে কার্ডের গোপন পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ করা যাবে না।

৩. অনেক সময় খামের ওপর, বিজনেস কার্ডে, এমনকি মার্কেট থেকে পাওয়া কেনাকাটার স্লিপে পাসওয়ার্ড লিখে রাখেন অনেকে। এভাবে না লিখে রাখাই ভালো। কারণ, এগুলো খুব সহজেই অন্যের নজরে পড়ে।

৪. বাড়িতে একটি নোটবুকে ব্যাংক হিসাবের নম্বর, ব্যাংক কার্ডগুলোর মেয়াদের তারিখ, জরুরি তথ্যসেবা কেন্দ্রের ফোন নম্বর, কোন শাখা থেকে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলেছেন, এসব তথ্য লিখে রাখার অভ্যাস করা ভালো।

Pages: 1 2 3 [4] 5 6 ... 68