Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Topics - Anuz

Pages: [1] 2 3 ... 44
1
ডায়াবেটিস রোগীর অতিরিক্ত গ্লুকোজের কারণে রক্তের ঘনত্ব বেড়ে যায়, ফলে পানিশূন্যতার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। ডায়াবেটিসের রোগীদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কম। যাঁদের ডায়াবেটিসের নিয়ন্ত্রণ ভালো নয় (রক্তের গ্লুকোজ কাঙ্ক্ষিত মাত্রার চেয়ে বেশি) তাঁদের ডেঙ্গু জ্বর হলে ক্ষতির তীব্রতা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা বেশি। রক্তের গ্লুকোজের তিন মাসের গড় বা এইচবিএওয়ান সির মাত্রা বেশি থাকলে ডেঙ্গুর জটিলতার ঝুঁকি বেশি তা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত। ডেঙ্গু রোগের মৃত্যুর কারণ প্রধানত ডেঙ্গু শক সিনড্রোম (ডিএসএস)। ডায়াবেটিসের রোগী ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে ডেঙ্গু শক সিনড্রোম হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। তাঁদের মৃত্যুহারও অনেক বেশি।
ডেঙ্গুর এ মৌসুমে ডায়াবেটিসের রোগীরা যা মনে রাখবেন:

: বাড়িতে বা আশপাশে কারও ডেঙ্গু হলে সতর্ক থাকুন। দিনের বেলা মশারির নিচে ঘুমাবেন, মশানিরোধক ক্রিম ব্যবহার করুন। ডেঙ্গু হলে যথেষ্ট পানি ও তরল পান করবেন, তবে ডায়াবেটিস থাকার কারণে চিনিবিহীন তরল বেছে নিন। যেমন—চিনিবিহীন ফলের রস, খাওয়ার স্যালাইন, ডাবের পানি, স্যুপ ইত্যাদি।

: ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন। এতে জটিলতার ঝুঁকি কমে। খালি পেটে ৬ মিলিমোলের নিচে, খাওয়ার দুই ঘণ্টা পর ৮ মিলিমোলের নিচে এবং এইচবিএওয়ানসি ৭–এর নিচে রাখাকে সুনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস বলে।

: অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস বা এর জটিলতা থাকলে (যেমন—কিডনি রোগ, প্রস্রাবে আমিষ যাওয়া, হৃদ্‌রোগ) ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেওয়াই শ্রেয়।

: ডেঙ্গু হলেও ডায়াবেটিস রোগীর সাধারণ ওষুধ বন্ধ করা যাবে না, যেমন—ইনসুলিন, মুখে খাওয়ার ওষুধ ইত্যাদি। তবে এসজিএলটি ইনিহিবটর পানিশূন্যতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ডেঙ্গু হলে অরুচি বেড়ে যায়, বমি হতে পারে, রোগী কিছু খেতে পারে না। তাই রক্তে শর্করা কমে যেতে পারে। ইনসুলিন বা মুখে খাওয়ার ওষুধের মাত্রা পরিবর্তন করতে হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ দরকার।

: বেশির ভাগ ডায়াবেটিসের রোগী উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ, অ্যাসপিরিন ইত্যাদি গ্রহণ করেন। ডেঙ্গুর সময় অ্যাসপিরিন বন্ধ রাখাই ভালো। রক্তচাপ কমে যাওয়ার প্রবণতার ওপর নির্ভর করে রক্তচাপের ওষুধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

: ডায়াবেটিসের সঙ্গে কিডনি বা হার্টের জটিলতা থাকলে স্যালাইন দেওয়ার বিষয়ে অতি সতর্কতা প্রয়োজন।

2
এক সাংবাদিক কাল রসিকতা করেই বললেন, ‘রাসেল ডমিঙ্গোকে নিয়ে ভালোই লাভ হলো বিসিবির’। কোচের বাজারে হাই প্রোফাইলরা যে ‘দাম’ হাঁকছিলেন, দক্ষিণ আফ্রিকান কোচকে বেছে নিয়ে টাকার অঙ্কে একটু লাভই হয়েছে বিসিবির।
ট্যাক্স বা আয়কর বাদে ডমিঙ্গো মাসে পাবেন ১৫ হাজার ডলারের কাছাকাছি, টাকায় যেটি ১২ লাখ ৬৮ হাজার। আয়করসহ প্রোটিয়া কোচের বেতন দাঁড়াবে ১৮ হাজার ডলারের মতো। বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসে কোচদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেতন পেয়েছেন চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। শ্রীলঙ্কান কোচ মাসে পেতেন ২৫ হাজার ৮০০ ডলার, টাকায় যেটি ২১ লাখ ৭৩ হাজার। বছরে ২ কোটি ৬০ লাখ টাকা, আগেই বলা হলো বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে সর্বোচ্চ। সর্বশেষ কোচ স্টিভ রোডসকে বিসিবি দিত ২২ হাজার ডলার বা সাড়ে ১৮ লাখ টাকা। সে তুলনায় ডমিঙ্গোকে কমেই পেয়েছে বিসিবি।

অবশ্য আরও খরচ করতে নাকি আপত্তি ছিল না বিসিবির। সে কারণেই তারা পেতে চেয়েছিল মাইক হেসনকে। ভারতের কোচ হতে সাক্ষাৎকার দেওয়া হেসন বিসিবির কাছে পারিশ্রমিকটা অবশ্য একটু বেশিই চেয়ে ফেলেছিলেন, মাসে যেটি ৩০ হাজার ডলারেরও (২৫ লাখ টাকা) বেশি। তার শর্তও ছিল অনেক। আগামী ৩-৪ মাসের আগে কাজে যোগ দিতে পারবেন কি না, এটি নিয়েও ছিল সংশয়। বেতন চাচ্ছেন বেশি, কবে আসবেন সেটিও নির্দিষ্ট করে বলতে পারছেন না—বিসিবি কেন হেসনের জন্য বসে থাকবে! ডমিঙ্গোকে তাই দ্রুত নিয়ে নেওয়া যুক্তিযুক্ত মনে হয়েছে তাদের।

বাংলাদেশে আসা বিদেশি কোচিং স্টাফদের থাকার ব্যবস্থা দুই রকম। কেউ গুলশান-বনানীতে ফ্ল্যাট নিয়ে থাকেন, কেউ আবার হোটেলে থাকেন। তাঁরা যেখানেই থাকুন, ভাড়াটা বিসিবিই দিয়ে থাকে। ডমিঙ্গোর ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হবে না। সাবেক এ দক্ষিণ আফ্রিকান কোচ বিশ্বমানের ইনস্যুরেন্স পাবেন, যেটি বিশ্বের বেশির ভাগ আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় কিংবা কোচ পেয়ে থাকেন। চালকসহ ২৪ ঘণ্টা গাড়ি থাকবে তাঁর জন্য। শুধু নিজেই নন, কোচের পরিবারের জন্য থাকবে ভ্রমণভাতা। সঙ্গে যোগ হবে বোনাস। সাধারণত বোনাস তো আছেই, থাকবে সফর, ম্যাচ, পারফরম্যান্স বোনাসও। কখনো কখনো সার্বক্ষণিক নিরাপত্তাকর্মীও থাকবে, তবে সেটি নির্ভর করছে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর। বাংলাদেশ ড্রেসিংরুমে পা রেখেই ডমিঙ্গো পরিচিত পরিবেশ পাবে, কোচিং স্টাফে যে আরও তিনজন দক্ষিণ আফ্রিকান কোচ আছেন—ব্যাটিং কোচ নিল ম্যাকেঞ্জি, পেস বোলিং কোচ চার্লস ল্যাঙ্গেভেল্ট আর ফিল্ডিং কোচ রায়ান কুক। টাকার অঙ্কে লাভ-লোকসান কতটা হলো, সেটি নয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বাংলাদেশ কতটা সাফল্য পায়, সেটির ওপর নির্ভর করবে ডমিঙ্গোকে এনে বিসিবির কতটা লাভ হলো।

3
পাকিস্তান দলে আপাতত কোচ নেই; কমান্ড্যান্ট আছেন! মিসবাহ-উল হককে দেওয়া হয়েছে ক্যাম্প কমান্ড্যান্টের দায়িত্ব। কোনো ক্রিকেট দলে এমন পদ এর আগে কখনো ছিল কি না কে জানে! বিশ্বকাপ ব্যর্থতার দায়ে কোচ মিকি আর্থার আর তাঁর সহকারীদের ছেঁটে ফেলেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। নতুন কোচ নিয়োগের আগে পিসিবি ধীরে চলো নীতি নিয়েছে। তবে এর মধ্যে পাকিস্তানের নতুন ক্রিকেট মৌসুম শুরু হয়ে যাচ্ছে। তারই প্রস্তুতি নিতে পাকিস্তান ১৭ দিনের প্রাক মৌসুম ক্যাম্প করবে। এই ক্যাম্পের দায়িত্বে থাকবেন মিসবাহ-উল হক। ২২ আগস্ট লাহোরে শুরু হবে ক্যাম্প।

সাবেক অধিনায়ক ও ব্যাটসম্যান মিসবাহ দীর্ঘ মেয়াদে পাকিস্তানের দায়িত্ব নিতে পারেন, এমন একটা গুঞ্জনও ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পর স্বদেশি কোচের অধীনে দলের দায়িত্ব সঁপে দেওয়ার একটা দাবি উঠেছে। অবশ্য পাকিস্তানের সদ্য বিদায়ী ব্যাটিং কোচ গ্রান্ট ফ্লাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন, সাবেক কিছু পাকিস্তানি ক্রিকেটারই নাকি তাঁদের পিঠে ছুরিটা মেরেছে। মিসবাহ দীর্ঘ মেয়াদে দায়িত্ব নেবেন কি না, তা বোঝা যাবে শিগগিরই। আপাতত তাঁর দায়িত্ব আসন্ন ঘরোয়া ও পরবর্তী আন্তর্জাতিক সূচির জন্য ক্রিকেটারদের প্রস্তুত করা। ১২ সেপ্টেম্বর শুরু হবে পাকিস্তানের ঘরোয়া ফার্স্ট ক্লাস টুর্নামেন্ট কায়েদ-এ আজম ট্রফি।

পাকিস্তানের ক্রিকেটে এমনিতেই বেশ কিছু বড় রদবদল এসেছে। কোচিং স্টাফদের ছাঁটাই ছাড়াও কেন্দ্রীয় চুক্তির খেলোয়াড় সংখ্যা ছেঁটে কমিয়ে আনা হয়েছে। যাঁদের মধ্যে শীর্ষ ‘এ’ ক্যাটাগরিতে মাত্র দুজন। সাফল্য পেলে পুরস্কৃত হওয়ার পাশাপাশি ব্যর্থ হলে তার প্রাপ্যও পেতে হবে, এই হলো পিসিবির বার্তা। কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকা ১৪ ক্রিকেটারের সঙ্গে আরও ৬ জনকে নিয়ে ক্যাম্প শুরু করবেন মিসবাহ।

কায়েদ-এ আজম ট্রফিতে ৩১টি ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচ হবে এবার। এর পাশাপাশি হবে ঘরোয়া ওয়ানে পাকিস্তান কাপ। এ মৌসুমে পাকিস্তান ৬টি টেস্ট, তিনটি ওয়ানডে ও নয়টি টি-টোয়েন্টিও খেলবে। মিসবাহকে বিশেষ করে টেস্ট দলের দিকনির্দেশনার জন্য দীর্ঘ মেয়াদেও যে ভাবা হতে পারে সে ইঙ্গিত আছে পিসিবি পরিচালক জাকির খানের কথায়, 'পাকিস্তানের সবচেয়ে সফল কোচ ছিলেন মিসবাহ। বিশেষত তিনি জানেন এই যুগে টেস্ট ক্রিকেট কীভাবে খেলতে হয়। আইসিসির টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ যখন দুয়ারে, পিসিবি চায় পাকিস্তান দল যেন নিজেদের মাটিতে দুই টেস্টের হোম সিরিজে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হওয়ার আগে লাল বলের ক্রিকেটে সেরা প্রস্তুতি নিতে পারে।'

4
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের নতুন কোচ হিসেবে রাসেল ডমিঙ্গোকেই নির্বাচন করল বিসিবি। আজ সংবাদ সম্মেলনে নতুন কোচ হিসেবে ডমিঙ্গোর নাম জানান বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান। তাঁর সঙ্গে দুই বছরের চুক্তি করেছে বিসিবি। ২১ আগস্ট বাংলাদেশের কোচ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজে যোগ দেবেন ৪৪ বছর বয়সী ডমিঙ্গো। এর আগে বিসিবিতে সাক্ষাৎকার দিতে ঢাকায় এসেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার এ কোচ।

সাক্ষাৎকারে ডমিঙ্গো দুই ভাবে তাঁর পরিকল্পনা তুলে ধরেছিলেন বিসিবির পরিচালকদের সামনে। একটি পরিকল্পনা ২০২০ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সামনে রেখে। আরেকটি ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপকে লক্ষ্য রেখে। তাঁর পরিকল্পনা ভালোই লেগেছে বলে তখন জানিয়েছিলেন সাক্ষাৎকার বোর্ডে উপস্থিত বিসিবির এক পরিচালক। শুরুতে অনেকের নাম শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের কোচ হওয়ার দৌড়ে টিকে ছিলেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক কোচ মাইক হেসন ও ডমিঙ্গো। দুজনের মধ্যে শুধু ডমিঙ্গোই ঢাকায় এসে সাক্ষাৎকার দিয়ে গেছেন।

বড় পর্যায়ে ক্রিকেট না খেললেও কোচিংয়ের ভালো অভিজ্ঞতা রয়েছে ডমিঙ্গোর। খেলা ছাড়ার পর অর্জন করেন স্পোর্টস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং মার্কেটিংয়ের ওপর ডিগ্রি। এরপর মাত্র ২৫ বছর বয়সেই দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন প্রভিন্স যুব দলের কোচের দায়িত্ব পেয়ে যান তিনি। পরের ১২ বছরে দক্ষিণ আফ্রিকার অনূর্ধ্ব-১৩, অনূর্ধ্ব-১৯ , বি দল ও এ দলের দায়িত্ব পালন করেন ডমিঙ্গো। ২০০৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া দল ওয়ারিয়র্স কোচের দায়িত্বও পান তিনি। ২০১১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হন গ্যারি কারস্টেন। তখন ডমিঙ্গোকে নিজের সহকারী হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন তিনি। এক বছরের মাথায় সহকারী কোচ থেকে টি-টোয়েন্টি দলের হেড কোচে উন্নীত হন ডমিঙ্গো। ২০১৩ সালে গ্যারি কারস্টেনের বিদায়ের পর তিন সংস্করণেই দক্ষিণ আফ্রিকার প্রধান কোচের দায়িত্ব পান ডমিঙ্গো। তাঁর অধীনে ১৩ টেস্ট সিরিজের ৮টিতে জয়ী হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান থেকে সাতে নেমে যাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকাকে দুইয়ে টেনে তুলেছিলেন ডমিঙ্গো।

ডমিঙ্গোর সময়ে ২২ ওয়ানডে সিরিজের ১৪টিতে জয়ী হয়ে ওয়ানডেতে শীর্ষ দল হিসেবে জায়গা করে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার একমাত্র জয়টি আসে তাঁর সময়েই। টি-টোয়েন্টিতে ৪২ ম্যাচের মধ্যে ২৩ জয় এসেছে এ সময়। তাঁর অধীনে ২০১৫ বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলে দক্ষিণ আফ্রিকা। ২০১৭ সালে ওটিস গিবসনের হাতে দায়িত্ব দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা দল ছাড়েন ডমিঙ্গো। উপমহাদেশের কোনো দলের সঙ্গে এর আগে কাজ করেননি ডমিঙ্গো। দক্ষিণ আফ্রিকার বাইরেও কোনো দলের সঙ্গে কাজ করেননি তিনি। তাঁর কোচিংয়ে বিশেষ ব্যাপার হলো, ক্রিকেটারদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে মিশে যান, কিন্তু ক্রিকেটাররা যেন তাদের দায়িত্ব পালন করেন সেদিকেও সর্বদা খেয়াল রাখেন।

5
ন্যায্য দাম না পেয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে কোরবানির পশুর ৯০০টি চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছরের মতো এবারও সৈয়দপুর হোসাইনিয়া হাফিজিয়া আরাবিয়া দারুল হাদিস মাদ্রাসার পক্ষে থেকে বিভিন্ন গ্রাম থেকে কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করা হয়। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ চামড়া বিক্রির জন্য দুই দিন ধরে চেষ্টা করেও ন্যায্য দামে তা বিক্রি করতে পারেনি। ফলে ক্ষুব্ধ হয়ে চামড়াগুলো মাটি চাপা দেয় তারা। ওই মাদ্রাসার মুহতামিম সৈয়দ ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘মাদ্রাসার উন্নয়নের জন্য এবারও আমাদের মাদ্রাসার পক্ষ থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কোরবানি দাতাদের কাছ থেকে কোরবানির পশুর ৯০০ চামড়া সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে গরুর চামড়া রয়েছে ৮০০টি এবং ছাগলের চামড়া ১০০টি। এসব চামড়ার ন্যায্য দাম না পেয়ে বাধ্য হয়ে চামড়াগুলো মাটি চাপা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।’ তিনি অভিযোগ করেন, ‘চামড়াগুলো সংগ্রহ ও চামড়ায় লবণ ব্যবহারে জন্য প্রায় ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে।’

সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তৈয়ব মিয়া বলেন, চামড়ার দামে এমন পতনে ক্ষুব্ধ হয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ মাদ্রাসার উন্নয়নের জন্য সংগৃহীত চামড়াগুলো মাটি চাপা দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে।

রাত ১০টার দিকে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহফুজুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে নয় শ চামড়া মাটি চাপা দেওয়ার বিষয়টি তিনি জেনেছেন। তিনি বলেন, ‘মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ আর্থিকভাবে এখন স্বাবলম্বী। ফলে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য তারা এ ধরনের কাজ করেছে।’

6
কমনওয়েলথ গেমসের আগামী আসর অনুষ্ঠিত হবে ২০২২ সালে বার্মিংহামে। এ সংস্করণ দিয়ে ক্রিকেটকে আবারও ফেরানো হবে কমনওয়েলথ গেমসে। মেয়েদের শীর্ষ আট দল টি-টোয়েন্টি সংস্করণে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে কমনওয়েলথ গেমসের (সিডব্লিউজি) আগামী আসরে। সিডব্লিউজি ফেডারেশন সভাপতি ডেম লুই মার্টিন বলেন, ‘আজ একটি ঐতিহাসিক দিন। কমনওয়েলথ গেমসে ক্রিকেট ফিরিয়ে আনতে পেরে আমরা খুশি।’

২০২২ কমনওয়েলথ গেমসে মেয়েদের সব ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে এজবাস্টনে। ক্রিকেট সবশেষ অন্তর্ভুক্ত ছিল ১৯৯৮ কমনওয়েলথ গেমসে। সেবার ৫০ ওভার সংস্করণের ফাইনালে স্টিভ ওয়াহর অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে স্বর্ণ জিতেছিল শন পোলকের দক্ষিণ আফ্রিকা। এদিকে ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলস অলিম্পিকেও ফেরানো হতে পারে ক্রিকেট। এমসিসি বিশ্ব ক্রিকেট কমিটির সভাপতি মাইক গ্যাটিং জানিয়েছেন এ খবর। তাঁর কমিটিকে আইসিসির নতুন প্রধান নির্বাহী মানু স্বহনে বলেছেন, অলিম্পিকে ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত করার ব্যাপারে অনেকটা পথ অগ্রসর হওয়া গেছে। এমসিসির এই বিশ্ব ক্রিকেট কমিটির সদস্য বাংলাদেশের তারকা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।

সংবাদমাধ্যমকে গ্যাটিং বলেন, ‘আইসিসির প্রধান নির্বাহী মানু স্বহনের সঙ্গে কথা হয়েছে। ২০২৮ অলিম্পিকে ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত করানোর ব্যাপারে তিনি খুব আশাবাদী। ক্রিকেটের জন্য এটি হবে দারুণ খবর।’ গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে এর আগে একবারই ক্রিকেট খেলা হয়েছে—সেটি ১৯০০ সালে প্যারিস অলিম্পিকে। সেবার ফ্রান্সকে ১৫৮ রানে হারিয়ে স্বর্ণ জিতেছিল ব্রিটেন।

7
বিশ্বকাপ ক্রিকেটের পর্দা নেমেছে প্রায় এক মাস হতে চলল। অথচ ফাইনালের রেশ এখনো রয়ে গেছে। ফাইনালে মার্টিন গাপটিলের সেই ওভার থ্রো নিয়ে এখনো চলছে তর্ক-বিতর্ক। সেই বিতর্কিত ওভার থ্রো সেপ্টেম্বর মাসে পর্যালোচনা করা হবে বলে জানিয়েছে ক্রিকেটের নিয়ম নির্ধারণ সংস্থা মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব বা এমসিসি। ফাইনালে ইংল্যান্ডের ইনিংসে জয়ের জন্য শেষ ৩ বলে দরকার ছিল ৯ রান। এমন পরিস্থিতিতে মার্টিন গাপটিলের থ্রো বেন স্টোকসের ব্যাটে লেগে বাউন্ডারি সীমানা টপকে যায়। আর ব্যাটসম্যানরা দৌড়ে ২ রান নেওয়ায় আম্পায়ার মোট ৬ রান যোগ করতে বলেন স্কোরবোর্ডে। এটা নিয়েই যত বিতর্ক।

সুপার ওভারেও ম্যাচ টাই হওয়ায় শিরোপার নিষ্পত্তি হয়েছে বাউন্ডারি সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে, যেখানে এগিয়ে থেকে শিরোপা জিতেছে ইংল্যান্ড। আর হৃদয় জিতেছে নিউজিল্যান্ড। তবে ভরপুর উত্তেজনার এ ম্যাচেও জন্ম নিয়েছে বিতর্ক আর সেটি ইংল্যান্ডের ইনিংসে শেষ ওভারে, ১ রান নিয়ে।

শেষ ৩ বলে ৯ রান দরকার ছিল ইংল্যান্ডের। ট্রেন্ট বোল্টের করা চতুর্থ বলটি ডিপ মিডউইকেটে পাঠিয়ে ২ রান নিতে চেয়েছিলেন বেন স্টোকস। মার্টিন গাপটিল বেশ ভালো থ্রো করেছিলেন। স্টাম্পে সরাসরি লাগলে হয়তো রানআউট হতে পারত। সে শঙ্কাতেই পড়িমরি করে ডাইভ দিয়েছিলেন স্টোকস। বল তাঁর ব্যাটে লেগে থার্ড ম্যান দিয়ে পার হয় সীমানা! পুরো ঘটনা এবং স্টোকসের ক্ষমা প্রার্থনাসুলভ চাহনি দেখে তখনই বোঝা গেছে, এ বাউন্ডারি হওয়ায় তাঁর ইচ্ছাকৃত কোনো হাত ছিল না। নিতান্ত অনিচ্ছাকৃতভাবেই ঘটে গেছে।

সে যা-ই হোক, মাঠের সহকর্মী আম্পায়ারের সঙ্গে আলোচনা করে স্কোরবোর্ডে ৬ রান (দৌড়ে ২ রান ও ওভার থ্রোতে ৪ রান) যোগ করার সিগন্যাল দেন আরেক আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা। কিন্তু আম্পায়ারের দেওয়া ৬ রান নিয়েই বিতর্ক। কারণ ওটা ৬ রান না, ৫ রান হবে। কারণ আইনের ১৯.৮ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে ফিল্ডারের ওভার থ্রো কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে করা কোনো কিছু থেকে বাউন্ডারি হলে...বাউন্ডারি যোগ হবে এবং ব্যাটসম্যানরা একসঙ্গে যত রান নিয়েছেন সেটাও, যদি থ্রোয়ের সময় তাঁরা ইতিমধ্যেই একে অপরকে পার হয়ে যান। আইনের শেষের কথাটি নিয়েই প্যাঁচ লেগেছে। ওই ঘটনার ভিডিও রিপ্লে দেখে পরিষ্কার বোঝা গেছে, গাপটিল থ্রো করার সময় ইংল্যান্ডের দুই ব্যাটসম্যান বেন স্টোকস ও আদিল রশিদ দ্বিতীয় রান নেওয়ার জন্য একে অপরকে ক্রস (পার হওয়া) করেননি। অর্থাৎ গাপটিল যখন থ্রোয়ের জন্য বল তুলছিলেন, স্টোকস ননস্ট্রাইক প্রান্তে আর আদিল রশিদ স্ট্রাইকারের প্রান্তে ছিলেন। অর্থাৎ দৌড়ে ২ রান নয়, ১ রান হবে আর সঙ্গে বাউন্ডারি—মোট ৫ রান।

আইনটির অস্পষ্টতার কারণেই এ প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, ফিল্ডারদের থ্রো নিয়ে যেমন পরিষ্কার করে কিছু বলা হয়নি, তেমনি গোটা প্রক্রিয়ায় ব্যাটসম্যানদের ভূমিকা নিয়েও স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। গাপটিলের থ্রো কিন্তু উইকেটরক্ষক বরাবরই ছিল। ব্যাটসম্যানের ব্যাটে লাগার কারণে তা ওভার থ্রো হয়েছে। ফলে ওভার থ্রো এর নিয়ম নিয়ে পর্যালোচনায় বসবে ক্রিকেটের নিয়ম নির্ধারণ সংস্থা এমসিসি। তাদের তরফ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ‘বিশ্বকাপের ফাইনালে ওভার থ্রো বিতর্কের দিকে নজর রেখে ওভার থ্রোর ১৯.৮ ধারা নিয়ে আলোচনা করা হবে। এই বিষয়ে আইনে যা আছে, তা স্পষ্ট হলেও ফাইনালের বিতর্কিত ওভার থ্রো নিয়ে সেপ্টেম্বরে পর্যালোচনায় বসবে সাব কমিটি।

8
মনে জেগেছে প্রশ্ন? বাংলাদেশের ফুটবলারের প্রতি মিনিটের আয় এত টাকা? হ্যাঁ, এবার সদ্য সমাপ্ত প্রিমিয়ার লিগে এমনটাই হয়েছে। মাঠের খেলার সময় ও পারিশ্রমিকের বিচার হিসাবে এমন দুর্দান্ত কাণ্ড করেছেন দিদারুল হক। সদ্য শেষ হওয়া মৌসুমে ৩২ লাখ টাকায় শেখ জামাল থেকে ডিফেন্ডার দিদারুলকে দলে ভিড়িয়েছিল বসুন্ধরা কিংস। মোটা অঙ্কের বিনিময়ে ক্লাব বদল করলেও নতুন দলের জার্সিতে প্রিমিয়ার লিগে খেলা হয়েছে মাত্র একটি ম্যাচ। ময়মনসিংহে সাইফ স্পোর্টিংয়ের বিপক্ষে বদলি নেমে এই ডিফেন্ডার খেলেছিলেন মাত্র ২৩ মিনিট। মিনিটে ১ লাখ ৩৯ হাজার টাকা!

৩২ লাখ টাকায় ক্লাব বদল। সুতরাং দেশের ফুটবলের প্রেক্ষিতে সে ফুটবলার হিসেবে কেমন, আপাতত সে প্রশ্নে যাওয়ার দরকার আছে বলে মনে হয় না। ৩৯ বছর বয়সেও এখন দারুণ ফিট সাবেক এই সেনা সদস্য। গত মৌসুমেও শেখ জামাল ধানমন্ডির অধিনায়কত্বের দায়িত্ব ছিল তাঁর কাঁধে। তাঁর নেতৃত্বে তারুণ্য নির্ভর জামাল লিগ শেষ করেছিল টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে থেকে। আর লিগের মোট ২২ ম্যাচের ২১টিতেই মাঠে ছিলেন এই সেন্টারব্যাক। ২১টি ম্যাচেই মাঠে ছিলেন পুরো সময়।

ধারাবাহিকভাবে কয়েক মৌসুম ভালো খেলার সুবাদেই নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্ত করতে তাঁকে ৩২ লাখ টাকা দিতে কার্পণ্য করেনি সাফল্য পিপাসু বসুন্ধরা। দুর্দান্ত প্রতাপে দল চ্যাম্পিয়ন হলেও দিদারুলের মাঠে নামার সৌভাগ্য হয়নি। হতাশার এক মৌসুম শেষে স্বাভাবিকভাবে ভেঙে পড়েছেন, ‘খুবই খারাপ একটা মৌসুম কাটালাম। এ রকম হবে জীবনেও ভাবিনি। এত টাকা নিয়ে খেলতে পারব না, এটা খুবই কষ্টের। অনেক হিসেব করেই আমি বসুন্ধরায় গিয়েছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আবাহনী থেকে নাসিরকে (নাসিরউদ্দিন চৌধুরীকে) নিয়ে আসায় আমার জন্য খেলাটা কষ্ট হয়ে যায়। সঙ্গে বিদেশি ডিফেন্ডাররা তো ছিলই।’

প্রায় ১০ কোটি টাকার বিনিময়ে এবার তারকার হাঁট বসিয়েছিল বসুন্ধরা। দেশের প্রায় সব ভালো খেলোয়াড়দের সঙ্গে ভালো মানের বিদেশি। মুখে মুখে হিসেব করেই বলে দেওয়া যায় তাদের পুরো রক্ষণভাগের দাম হবে প্রায় ২ কোটি টাকা। লিগের প্রথম পর্ব পর্যন্ত স্পেন অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় দলের হয়ে খেলা সেন্টারব্যাক জর্জ গোতর ছিলেন। লিগের দ্বিতীয় পর্বে কিরগিজ মিডফিল্ডার বখতিয়ার দুশবেকভকেও খেলানো হয়েছে সেন্টারব্যাক পজিশনে। এ ছাড়া চোট কাটিয়ে দুর্দান্তভাবে ফিরে আসেন নুরুল নাঈম ফয়সাল। আর শুরু থেকে নাসিরউদ্দিন তো ছিলই। সব মিলিয়ে চ্যাম্পিয়নদের রক্ষণভাগের সেনা হয়ে ওঠার সুযোগ হয়নি সাবেক এই সেনা সদস্যের।

এর পেছনে স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজোনকেও কিছুটা দায়ী করছেন দিদারুল, ‘অস্কার ব্রুজোন যাকে দেখতে পারেন না, তাঁর খেলার কোনো সুযোগ নেই। সে আমাকে অনুশীলনেও সুযোগ দিয়ে দেখেননি, আমি পারি কিনা। হয়তো অন্য যে কোনো কোচের অধীনে থাকলে কম-বেশি খেলার সুযোগ পেতাম।’ ক্লাব বদলের ইঙ্গিতও দিয়ে রাখলেন। তাঁর নতুন গন্তব্য হতে পারে পুরোনো শেখ জামাল। যে ক্লাবের জার্সিতেই পেশাদার ফুটবলে আসা দিদারুলের।

দিদারুলের ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে। সেনাবাহিনীর জার্সিতে বিভিন্ন টুর্নামেন্টে নজর কাড়ায় ২০১৩-১৪ মৌসুমে তাঁকে দলে ভেড়ায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্র। এর পরে সে সময়ের সাড়া জাগানো ক্লাব শেখ জামাল ধানমন্ডির জার্সি গায়ে তুলে নিয়ে টানা চার মৌসুম খেলা। জামালের জার্সিতে জিতেছেন দুইটি লিগ শিরোপা, ফেডারেশন কাপ ও ভুটানের কিংস কাপের শিরোপা। এর আগে পেশাদার ফুটবলার হিসেবে নতুন জীবন শুরু করার জন্য ২০১২ সালে সেনাবাহিনী থেকে নেন স্বেচ্ছা অবসর।

দিদারুলের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়ে লোডভিক ডি ক্রইফ তাঁকে জাতীয় দলে জায়গা দেন। গোয়ায় ভারতের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ছিলেন বাংলাদেশ দলে। এর পরে জাতীয় দলে খেলার সৌভাগ্য না হলেও টানা চার মৌসুম শেখ জামালের রক্ষণভাগ জমাট রাখার দায়িত্বটা ভালোই করেছেন। এবারই ধানমন্ডির মায়া ছেড়ে বসুন্ধরার আবাসিক এলাকায় তাঁবু গেড়ে ছিলেন। কিন্তু নতুন ক্লাবে সময়টা গিয়েছে একেবারে যাচ্ছে তাই।

9
এবারের ঈদের পুরো ছুটিটা হচ্ছে শেষ বর্ষায়। এক দিন ছুটি নিলে ৯ দিনের বেশ দীর্ঘ ছুটি পাওয়া যাবে। চাইলে দেশের ভেতরেই বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে আসা যায়। বর্ষাকালে বাংলাদেশের রূপ সত্যি দেখার মতো। প্রকৃতি হয়ে ওঠে সবুজ, নদী-পুকুর-খাল-বিল হয়ে ওঠে জলে ভরপুর। এর ওপর থাকে মেঘ-বৃষ্টির লুকোচুরি। সে এক অসাধারণ ব্যাপারই বটে। এই বর্ষাকালে ঘুরতে গিয়ে ভালো লাগবে, দক্ষিণবঙ্গের তেমন কিছু জায়গার কথা রইল আপনাদের জন্য।

স্বরূপকাঠির পেয়ারাবাগান

যদি যেতে চান ভরা বর্ষায়, তবে বিশাল বিশাল পেয়ারাবাগানের পাশাপাশি দেখতে পাবেন পেয়ারার এক ভাসমান বাজার। যেটার শুরু স্বরূপকাঠি থেকে, আর শেষ হয় গিয়ে কয়েক কিলোমিটার দূরের আটগর কুরিয়ানায়। সারি সারি পেয়ারার বাগানের ফাঁকে ফাঁকে চলে যায় ছোট ছোট ক্যানেল ডিঙিনৌকা। এসব নৌকায় যাওয়া যায় পেয়ারাবাগানের একদম গভীরে। চাইলেই গাছ থেকে পেড়ে খাওয়া যায় পেয়ারা, যত ইচ্ছে। তবে সঙ্গে করে নিয়ে আসা যাবে না। নিয়ে আসতে হলে কিনেই আনতে হবে। এখানে যেতে হলে রাতের লঞ্চ জার্নি শেষ করে উঠে পড়তে হবে ভাড়া করা ছোট নৌকায়। যতক্ষণ খুশি পেয়ারাবাগানের চারপাশের সৌন্দর্য উপভোগ করে ফিরে আসতে পারেন। চাইলে থেকেও যেতে পারেন কোনো এক পেয়ারাবাগানে।

শাপলার গ্রাম সাঁতলা

সকালে স্বরূপকাঠিতে নেমে নাশতা করে নিতে পারেন যেকোনো হোটেলে বা লঞ্চঘাটে। এরপর সোজা একটি ট্রলার ভাড়া করে চলে যান সাঁতলা, যেখানে রয়েছে মাইলের পর মাইল পানিপথ, বিলজুড়ে ফুটে থাকা গাঢ় গোলাপি শাপলা ফুলের মনোমুগ্ধকর আয়োজন। একটি ডিঙিতে করে ভেসে পড়ুন সাঁতলার শাপলা বিলে, কতক্ষণ ভেসে বেড়াবেন, সে আপনার ইচ্ছা। সাদা আর গোলাপি শাপলার সঙ্গে হঠাৎ এই বিলের কোথাও দেখা যায় বিরল প্রজাতির বেগুনি শাপলা। স্বচ্ছ জলে চোখ নামালে দেখা যায় হরেক রঙের শেওলা, রং বেরঙের মাছ, ইচ্ছে হলে বিলের নরম আর ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে নিতে পারেন নিজেকে। স্থানীয় রেস্টুরেন্টে চেখে দেখতে পারেন মিষ্টি পানির দারুণ সুস্বাদু মাছ।

গুঠিয়া মসজিদ
আজকাল বরিশাল যাঁরা ভ্রমণে যান, বিশেষ করে বরিশালের বাইরে থেকে, তাঁদের কাছে গুঠিয়া জামে মসজিদ এক বিশেষ আকর্ষণ নিঃসন্দেহে। কেননা প্রায় অজপাড়াগাঁয়ের এত চমৎকার কারুকাজ, এত নান্দনিক আর আধুনিকতার মিশেলে কোনো স্থাপনা খুব সহজে চোখে পড়ে না। বরিশাল শহর থেকে স্বরূপকাঠি পেয়ারা বাজারে যাওয়ার পথে বানারীপাড়ার একটু আগেই পথের পাশে পড়বে এই দৃষ্টিনন্দন মসজিদ। যেটার জন্য খুব বেশি সময় নষ্ট করতে হবে না। তাই একবার দেখে আসতেই পারেন।

বাংলার বাঘ এ কে ফজলুল হকের বাড়ি
বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক এক গুরুত্বপূর্ণ নাম। ‘বাংলার বাঘ’ নামে পরিচিত ফজলুল হকের জন্ম, শিক্ষা, বেড়ে ওঠা বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলায়। চাইলে এই ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের জন্মভিটাও দেখে আসতে পারেন।

জীবনানন্দের বাড়ি

দক্ষিণ বাংলায় যাবেন আর ‘রূপসী বাংলার কবি’ জীবনানন্দের বাড়ি যাবেন না? তাই সময় করে ঘুরে আসতে পারেন বরিশালকে বিখ্যাত করে তোলা জীবনানন্দ দাশের বাড়ির উঠানেও। বরিশাল শহরেই জীবনানন্দের বাড়ি।

সুন্দরবনের ছোঁয়া
বরিশাল থেকে আর কিছুটা দক্ষিণে গেলেই পেয়ে যাবেন বাংলাদেশের অপার প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর বনভূমি, সুন্দরী সুন্দরবনের দেখা। যেখানে শুধু বন নয়, চিরাচরিত সবুজ বনভূমির সঙ্গে দেখা মিলতে পারে দুর্লভ বেঙ্গল টাইগার, চঞ্চলা হরিণের পাল, খালের কাদায় কাদায় কুমিরের রোদ পোহানো, নানা রকম বন্য জীবের অভয়ারণ্যের রোমাঞ্চকর স্বাদ। এ সময় গেলে আপনি শুধু করমজল পর্যন্ত যেতে পারবেন।

শাহি বাংলার পুদিনার শহর

দক্ষিণবঙ্গের বাগেরহাটের অন্যতম স্থান শাহি বাংলার পুদিনার শহর নামে। ঘুরে আসতে পারেন এই প্রাচীন শহরটি থেকে। এই শহরটি আজ থেকে প্রায় ছয় শ বছর আগে তৈরি হয়। এখানে ষাটগম্বুজ মসজিদসহ আরও অন্যান্য প্রাচীন নিদর্শন রয়েছে।

ঈদের দীর্ঘ ছুটি কাজে লাগিয়ে ঘুরে আসতে পারেন দক্ষিণবঙ্গ। দেশের যেকোনো জায়গা থেকে সড়কপথে যেকোনো সময়ই যেতে পারবেন। তবে এই সময় নদীপথে গেলে পাবেন বাড়তি রোমাঞ্চ। ঢাকা থেকে নদীপথে যেতে পারেন স্বরূপকাঠি। সেখান থেকে বরিশাল, বাগেরহাট, খুলনা হয়ে ফিরতে পারেন নদীপথে বা সড়কপথে।

10
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলমের পরিবারটা বেশ বড়। বছরের শেষের দিকে মাসের বেতনটাও একটু দেরিতে হয়। পরিবারের চাহিদা ও সময়মতো বেতন না হলে ক্রেডিট কার্ডই তাঁর ভরসা। আর সময়ের মধ্যে কার্ডের ঋণ শোধ করায় গত তিন বছরে কখনো সুদও দেননি। অভিজ্ঞতা থেকে জাহাঙ্গীর আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রথম দিকে বিপদের সঙ্গী ছিল ক্রেডিট কার্ড। এখন অনেকটা প্রতিদিনের জীবনযাত্রার সঙ্গী হয়ে গেছে। কেনাকাটা, ঘোরাফেরা, জরুরি চিকিৎসা—সব ক্ষেত্রেই এখন এ কার্ড ব্যবহার করছি। কার্ডে যে অফার দেওয়া হয়, তা-ও মাঝেমধ্যে গ্রহণ করছি।’ এমন অনেক চাহিদা ও প্রয়োজনের কারণে ক্রেডিট কার্ড এখন দেশের প্রায় ১২ লাখ মানুষের জীবনসঙ্গী। ধীরে ধীরে এ সংখ্যা বাড়ছেই। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে, গত মে মাসে দেশে ক্রেডিট কার্ডের সংখ্যা ছিল ১১ লাখ ৮৯ হাজার ৭৯। ২০১৪ সালেও দেশের ক্রেডিট কার্ডে ছিল প্রায় ৬ লাখ। এখন ক্রেডিট কার্ডে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ ৪ হাজার ৮৮৯ কোটি টাকা। শুধু গত মে মাসেই কার্ডের মাধ্যমে প্রায় ১৬ লাখ লেনদেন হয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ৯০০ কোটি টাকা। সূত্র জানায়, ক্রেডিট কার্ড গ্রাহকদের মধ্যে ৮৪ শতাংশ পুরুষ ও ১৬ শতাংশ নারী।

বাংলাদেশে ১৯৯৭ সালে তৎকালীন এএনজেড গ্রিন্ডলেজ (বর্তমানে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড) ব্যাংক প্রথম ক্রেডিট কার্ড সেবা নিয়ে আসে। কাছাকাছি সময়ে তৎকালীন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ভানিক বাংলাদেশ (বর্তমানে লংকাবাংলা ফাইন্যান্স) ও ন্যাশনাল ব্যাংক এ সেবা চালু করে। এরপর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেশের অন্য ব্যাংকগুলোও এ সেবায় মনোযোগী হয়। বর্তমানে দেশে ৪০টির মতো ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড সেবা দিচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় সবাই দিচ্ছে ভিসা ও মাস্টারকার্ড ব্র্যান্ডের কার্ড। তবে এর বাইরে কয়েকটি ব্যাংক কার্ড সেবাকে অভিনবত্ব দিতে অন্য ব্র্যান্ডের কার্ডও এনেছে। সিটি ব্যাংক অ্যামেক্স কার্ড, প্রাইম ব্যাংক জেবিসি কার্ড, ইস্টার্ণ ব্যাংক ডিনার্স ক্লাব কার্ড, ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংক নেক্সাস পে কার্ড ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ইউনিয়ন পে ইন্টারন্যাশনালের সেবা দিচ্ছে। ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে গ্রাহকেরা নির্দিষ্ট পরিমাণ কেনাকাটা ও ঋণ নিতে পারেন। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে এ দেশের কার্ডের ব্যবহার বেড়েছে বিদেশেও। তাই টাকার পাশাপাশি ডলারেও ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার বেড়েছে। দেশে-বিদেশে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে হোটেল বুকিং, বিমানভাড়া, রেস্টুরেন্ট ও কেনাকাটায় মিলে নানা ছাড় ও পয়েন্ট জেতার সুযোগ। এ ছাড়া এসব কার্ড দিয়ে দেশে-বিদেশে কেনাকাটা, খাওয়া, থাকা, ভ্রমণে মিলছে বিশেষ সুবিধা, যা অন্যদের থেকে কিছুটা এগিয়ে রাখছে কার্ড গ্রাহকদের। সময়মতো কার্ডের টাকা পরিশোধ করলে কোনো সুদও দিতে হয় না। বর্তমানে বাংলাদেশে ক্রেডিট কার্ড ব্যবসায় নেতৃত্ব দিচ্ছে দেশীয় মালিকানার দি সিটি ব্যাংক। ব্যাংকটির মাধ্যমে বাংলাদেশের বাজারে আসে আমেরিকান এক্সপ্রেস বা অ্যামেক্স কার্ড। এ কারণেই ক্রেডিট কার্ড সেবায় ব্যাংকটি এগিয়ে। বাজারে ব্যাংকটির রয়েছে ২৪ হাজার পয়েন্ট অব সেলস বা পিওএস মেশিন। আর চার লাখের বেশি কার্ড। ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘ক্রেডিট কার্ড এখন আর ধনীদের সেবা পণ্য নয়। নির্দিষ্ট আয়ের মানুষেরাও এখন ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করছেন। আমরা চেষ্টা করছি প্রত্যন্ত অঞ্চলে এ কার্ডের ব্যবহার ছড়িয়ে দেওয়ার। এ জন্য বাইরের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সিটি ব্যাংক কাজ করছে।’ সিটি ব্যাংকের পাশাপাশি এ সেবায় শীর্ষ পর্যায়ে রয়েছে ইস্টার্ণ, ব্র্যাক, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, প্রাইম, যমুনা, প্রিমিয়ার, ঢাকাসহ আরও কয়েকটি ব্যাংক। এখন ১৬ বছরের ঊর্ধ্বের যেকোনো নাগরিক এ কার্ড সেবা নিতে পারেন। তবে তাঁর নির্দিষ্ট আয়ের ব্যবস্থা থাকতে হয়। আর এ কার্ডের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা ঋণ নেওয়া যায়। অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহবুবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, বর্তমান সময়ে সবাই চান একটু স্বাচ্ছন্দ্য। এ জন্য কার্ড ব্যবহার করেন। সময়ের সঙ্গে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার বাড়বে, ছড়িয়ে পড়বে দেশজুড়ে।

11
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরিচয় নতুন করে দেওয়ার কিছু নেই। তিনিই একমাত্র কবি যিনি একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও ভারতের মতো দুটি স্বাধীন দেশের জাতীয় সংগীত রচয়িতা। পৃথিবীতে এটি অপূর্ব এবং বিরল দৃষ্টান্ত। তৎকালীন পূর্ববাংলায় তথা বাংলাদেশে বিশ্বকবির পদচারণা ছিল। তিনি জমিদারি তদারকির জন্য বাংলাদেশের নওগাঁর পতিসর, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর ও কুষ্টিয়ার শিলাইদহে অবস্থান করেছেন। তাঁর শ্বশুরবাড়ির খুলনা জেলার ফুলতলা উপজেলার দক্ষিণডিহি গ্রামে। কাজেই বাংলাদেশ ভূখণ্ডের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের যোগাযোগ ছিল ঘনিষ্ঠ।

এ বছর বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭৮তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যে নোবেল প্রাপ্তিতে তাঁকে বিশ্বকবির মর্যাদা এনে দেয়। তাঁর পরিচিতি বিশ্বব্যাপী। বিশ্বে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এত জনপ্রিয়তা যে ৩৫টি দেশ থেকে তাঁর ওপর স্মারক ডাকটিকিট, স্যুভেনির শিট, উদ্বোধনী খাম, বিশেষ খাম, পোস্টকার্ড, অ্যারো গ্রাম, বিশেষ সিলমোহর, মিটার ফ্রাংকিং ইত্যাদি প্রকাশিত হয়েছে। রবীন্দ্রনাথের ওপর অধিকাংশ ডাকটিকিট জন্মবার্ষিকী ও নোবেল বিজয়ী হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। তাঁকে নিয়ে প্রথম ডাকটিকিট প্রকাশিত হয় ভারত থেকে, ১৯৫২ সালের ১ অক্টোবর—যার মূল্যমান ছিল ১২ আনা। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রথম ডাকটিকিট প্রকাশ করে বাংলাদেশ। ১৯৯১ সালের ৭ আগস্ট বিশ্বকবির ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ ৪ টাকা মূল্যমানের ১টি স্মারক ডাকটিকিট, ১টি উদ্বোধনী খাম ও ১টি ডেটা কার্ড প্রকাশ করে। বাংলাদেশ থেকে রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এটি প্রথম প্রকাশিত ডাকটিকিট। এর ডিজাইনার ছিলেন আহমেদ ফজলুল করিম। ডাকটিকিটে রবীন্দ্রনাথ ও তাঁর স্মৃতিবিজড়িত কুষ্টিয়ার শিলাইদহ কুঠিবাড়ির ছবি স্থান পায়। কুঠিবাড়িটি শিলাইদহ গ্রামের উত্তরে ১৩ বিঘা জমির ওপর ১৮৯২ সালের শেষ দিকে নির্মিত হয়। জমিদারি তদারকির জন্য রবীন্দ্রনাথ শিলাইদহে বেশ কয়েকবার অবস্থান করেছেন।

এরপর ২০১১ সালের ১৪ আগস্ট মাসে আফ্রিকা মহাদেশের ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলোর একটি গিনি বিসাউ বিশ্বকবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ৪টি ডাকটিকিটের সিটলেট ও ১টি স্যুভেনির সিট প্রকাশ করে। রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ২০১৬ সালের ১৫ আগস্ট পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজার একটি স্যুভেনির সিট প্রকাশ করে। এ ছাড়া ২০১৭ সালের ১০ আগস্ট ফিলাটেলিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (পিএবি) আয়োজিত ডাকটিকিট প্রদর্শনী ‘পাবেক্স -২০১৭’-এর উদ্বোধনী দিনে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ একটি বিশেষ খাম প্রকাশ করে। সেই বিশেষ খামে রবীন্দ্রনাথের ছবি স্থান পায়। রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুবার্ষিকী থাকায় বিশেষ খামে তাঁর ছবি ব্যবহার করা হয়।

জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রকাশিত ডাকটিকিট, স্যুভেনির শিট ইত্যাদির চেয়ে রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুবার্ষিকীতে প্রকাশিত ডাকটিকিট, স্যুভেনির শিটের পরিমাণ কম। ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশগুলো এই বিশ্ববরেণ্য বাঙালির নামে আরও ডাকটিকিট, স্যুভেনির শিট ইত্যাদি প্রকাশ করবে বলেই আশা করি আমরা।

12
দেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে তাপদাহ। আর মৌসুমী বায়ু প্রবলভাবে সক্রিয় থাকায় সাগর উত্তাল। এই অবস্থায় সমুদ্র ও নদীবন্দরগুলোক সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় এলাকায় একটি লঘুচাপের সৃষ্টি হওয়ায় এই অবস্থা বিরাজ করছে। মৌসুমী বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল হয়ে উত্তর-পূর্বদিকে অগ্রসর হয়ে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল ধরে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে তা মাঝারি থেকে প্রবল অবস্থায় বিরাজ করছে।

আবহাওয়াবিদ আবদুর রহমান খান জানিয়েছেন, মৌসুমী বায়ু প্রবল থাকায় সাগরে গভীর সঞ্চারণশীল মেঘমালার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। তাই কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কতার সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলগুলোর ওপর দিয়ে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠে যেতে পারে। তাই এসব এলকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (০৬ আগস্ট) পর্যন্ত এক পূর্বভাসে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সাতক্ষীরা, যশোর, কুষ্টিয়া, রংপুর, দিনাজপুর, সৈয়দপুর, রাজশাহী, ভোলা, কুমিল্লা, নোয়াখালী, সীতাকুন্ডু, ময়মনসিংহ, ঢাকা, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, রাজশাহী ও সিলেটের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। কিছু কিছু জায়গায় এটা অব্যাহত থাকতে পারে। আবার ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহসহ কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।

বৃহস্পতিবার (০৮ আগস্ট) বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়বে। সোমবার (০৫ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা থেকে আগের ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ফেনীতে; ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে রাঙামাটিতে; ৬ মিলিমিটার।

13
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে প্রবাসীরা তাদের স্বজনদের কাছে বিনা খরচে দেশে টাকা পাঠাতে পারবেন। আজ থেকে এ সুবিধা চালু করেছে আমিরাতে জনতা ব্যাংক লিমিটেড। আগামী ৯ আগস্ট পর্যন্ত এ সুযোগ গ্রহণ করতে পারবেন তারা। এই সময়ের মধ্যে দেশে টাকা পাঠাতে গেলে তাদের অতিরিক্ত ফি দিতে হবে না। আবুধাবি জনতা ব্যাংকের নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ আমিরুল হাসান ও আবুধাবি শাখার ম্যানেজার আবদুল হাই এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নির্বাহী কর্মকর্তা আমিরুল হাসান বলেন, ‘বাংলাদেশ জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) নির্দেশে পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এতে আমিরাতের প্রবাসীরা লাভবান হবেন।’ আবুধাবি শাখার ম্যানেজার আবদুল হাই জনতা ব্যাংকের এই সুবর্ণ সুযোগ গ্রহণ করতে প্রবাসীদের আহ্বান জানান। প্রবাসীদের সুবিধার্থে প্রয়োজনে তারা অতিরিক্ত সেবা দেওয়ার কথাও জানান। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি, আল আইন, দুবাই ও শারজা জনতা ব্যাংকের এই চারটি শাখার মাধ্যমে প্রবাসীরা সুযোগটি গ্রহণ করতে পারবেন। হুন্ডি লেনদেন বর্জন করে জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন করার আহ্বান জানান ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, দেশে রেমিটেন্স পাঠাতে প্রবাসীদের উৎসাহিত করতে চলতি বছর বেশ কয়েক দফায় বিনা খরচে টাকা পাঠানোর সুযোগ দিয়েছে জনতা ব্যাংক। ভবিষ্যতেও এ রকম সুযোগ অব্যাহত থাকবে বলে জানান ব্যাংকের নির্বাহী কর্মকর্তা আমিরুল হাসান।

14
ফের একবার‌ বিশ্বজুড়ে ব্যাহত হল ফেসবুক পরিষেবা। গতকাল রবিবার সন্ধ্যা থেকে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং ইউরোপের বিস্তীর্ণ অংশে বেশ কিছুক্ষণ বন্ধ রইল ফেসবুক। ব্যবহারকারীরা ফেসবুক খুলতে চেষ্টা করেও সফল হননি।

মূলত গতকাল রবিবার সন্ধ্যা সাতটা থেকে এই সমস্যা দেখা দেয়। ৫৯ শতাংশ মানুষ নিউজফিড নিয়ে অভিযোগ তোলেন। আবার ২৪ শতাংশের অভিযোগ ছিল ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লগ ইন করা যাচ্ছে না। আবার ১৬ শতাংশ ব্যবহারকারীর দাবি, ফেসবুক পুরোপুরি কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। অনেকে আবার এই সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে ছবি পোস্ট বা শেয়ার না করতে পারারও অভিযোগ করেন।

শুধু ফেসবুক নয়, তাদের বাকি দু’‌টি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ এবং ইনস্টাগ্রাম নিয়েও অনেকেই অভিযোগ তুলেছেন। তবে এই প্রথম নয়, এর আগেও একাধিকবার এভাবেই ব্যাহত হয়েছে ফেসবুকের পরিষেবা।

15
সম্প্রতি মালবাহী জাহাজ স্টেনা ইমপেরো আটক করেছে ইরান, যেটি চলছিল ব্রিটিশ পতাকা নিয়ে। কিন্তু আসলে এই জাহাজটির মালিক একটি সুইডিশ কোম্পানি এবং পুরো জাহাজে কোনো ব্রিটিশ নাগরিক ছিলেন না।কিন্তু এটা অস্বাভাবিক নয়। বরং অনেক সময়েই দেখা যায় যে, জাহাজটি এমন একটি দেশের পতাকা নিয়ে চলাচল করছে, যার মালিক একেবারেই ভিন্ন দেশের লোক।কিন্তু কেন এটা করা হয়? তাতে কি সুবিধা? কেন লাইবেরিয়া, পানামা আর মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী জাহাজ বেশি দেখা যায়?

সাগরে চলাচলকারী প্রতিটি বাণিজ্যিক জাহাজকে কোনো না কোনো দেশে নিবন্ধন করতে হয় এবং সেই দেশের পতাকা ওই জাহাজটি বহন করে। দেশটিকে বলা হয় ফ্ল্যাগড স্টেট। ওপেন রেজিস্ট্রি পদ্ধতিতে, যাকে অনেক সময় ‘সুবিধা অনুযায়ী পতাকা’ বলেও বর্ণনা করা হয়, জাহাজ যেকোনো দেশে তালিকাভুক্ত হতে পারে, জাহাজের মালিক অন্য দেশের হলেও তাতে কোন সমস্যা নেই। তবে অন্য পদ্ধতিগুলোয় পতাকার বিষয়ে বেশ কড়াকড়ি রয়েছে, এসব জাহাজের মালিক কে হতে পারবে এবং কিভাবে জাহাজ পরিচালনা করা হবে। যে দেশে নিবন্ধন করা হয়, সে দেশের আইনকানুন জাহাজটিকে মেনে চলতে হয়।

পানামা, মার্শাল আইল্যান্ড আর লাইবেরিয়া হচ্ছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ফ্ল্যাগ স্টেট বা পছন্দের পতাকার দেশ। যুক্তরাজ্যের বাণিজ্যিক জাহাজের তালিকায় প্রায় তেরশো জাহাজ তালিকাভুক্ত রয়েছে।এই লাল পতাকার ব্যানারের দলে যুক্তরাজ্য, ক্রাউন ডিপেন্ডেনসিস (আইল অফ ম্যান, গার্নসে, এবং জার্সি) এবং যুক্তরাজ্যের ওভারসিজ টেরিটরি (অ্যানগুলিয়া,বারমুডা, দ্যা ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড, দ্যা কেইম্যান আইল্যান্ড, দ্যা ফকল্যান্ড আইল্যান্ড, জিব্রাল্টার, মন্টসেরাত, সেন্ট হেলেনা এবং দ্যা টার্ক ও কাইকোস আইল্যান্ড) মিলে বিশ্বের নবম বৃহত্তম জাহাজ বহরে পরিণত হয়েছে।

ম্যারিটাইম নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ আয়োনিস চাপসোস জানান, ‘অনেকগুলো বাণিজ্যিক কারণ বিবেচনায় রেখে জাহাজ মালিকরা নিবন্ধন করার দেশটিকে বাছাই করেন। এসবের মধ্যে রয়েছে সেখানকার আইনকানুন, করের হার, সেবার মান। গ্রীস হচ্ছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় জাহাজ মালিকের দেশ। কিন্তু সেখানকার বেশিরভাগ জাহাজই গ্রীসের পতাকা বহন করে না। এর একটি বড় কারণ, সেখানে অনেক বেশি অংকের ট্যাক্স দিতে হয়। বরং ফ্ল্যাগ স্টেট, অনেক সময় দেখা যায় যেগুলো একটু গরীব দেশ, তারা জাহাজ নিবন্ধন করে অর্থ আয় করার সুযোগ পায়। যেমন জাহাজ নিবন্ধন খাত থেকে পানামার অর্থনীতিতে প্রতিবছর কোটি কোটি ডলার যোগ হয়। এখানকার নিবন্ধন পদ্ধতির কারণে বিশ্বের যেকোনো স্থান থেকে জাহাজের কর্মীদের নিয়োগ দেয়া যায়, যা কোম্পানির খরচও অনেক কমিয়ে আনে।

এই ‘সুবিধা অনুযায়ী পতাকা’ পদ্ধতির অনেক সমালোচনা রয়েছে, বিশেষ করে এর দুর্বল নিয়মাবলী আর তদারকির অভাব, যা এমনকি অনেক সময় আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের নিয়মের বিরুদ্ধে চলে যায়। যদিও গত তিন দশক ধরে জাহাজ চলাচলের রীতিনীতির বিশেষ উন্নতি ঘটতে দেখা গেছে। তবে এখনো এই ব্যবস্থার অনেক সমালোচনা করা হয়। ভিন্ন দেশের পতাকাবাহী হওয়ার কারণে অনেক সময় মজুরি বৈষম্য বা খারাপ কাজের পরিবেশর জন্য মালিকের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে, বলছে আন্তর্জাতিক ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কাস ফেডারেশন।

কোন দেশে নিবন্ধন করার পর পতাকা বহনের পাশাপাশি ওই জাহাজের ওপর ওই দেশের আইন কার্যকর হবে। পতাকাবাহী জাহাজের কোনো অপরাধের জন্য দায়দায়িত্ব বহন করবে যে দেশে তালিকাভুক্ত হয়েছে, সেই দেশটি। যার মানে হলো নিবন্ধন দেয়ার সময় প্রতিটা জাহাজকে জরিপ এবং যাচাই বাছাইয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নিশ্চিত করতে হবে, বলছে আইএমও।

যেসব দেশে জাহাজ তালিকাভুক্ত হয়, প্রতিটা দেশই আন্তর্জাতিক ম্যারিটাইম চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে এবং চুক্তির শর্তগুলো বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিয়েছে। যেসব বিধিবিধানের মধ্যে রয়েছে জাহাজ কিভাবে তৈরি হবে, নকশা, সরঞ্জাম এবং কিভাবে জাহাজটি পরিচালিত হবে ইত্যাদি। জাতিসংঘের কনভেনশন ফর দি ল অফ দি সী অনুযায়ী, সমুদ্রে চলাচলের সময় জাহাজে যেন সবরকম নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকে, সেটা নিশ্চিত করবে নিবন্ধন করা দেশটি, যাদের পতাকা ওই জাহাজে রয়েছে।

এটা খুব অস্বাভাবিক ব্যাপার নয় যে, কোনো একটা দেশে জাহাজ নিবন্ধন এবং ওই দেশের পতাকা জাহাজটি বহন করলেও, এই নিবন্ধনের পুরো কাজটি হয়ত করা হচ্ছে আরেকটি দেশে। লাইবেরিয়ার উদাহরণ দেখা যাক, যেখানে জাহাজ নিবন্ধনের কাজটি করে একটি আমেরিকান কোম্পানি, যাদের সদর দপ্তর ওয়াশিংটন ডিসিতে। ভূমিবেষ্টিত মঙ্গোলিয়ার নিবন্ধন দপ্তর সিঙ্গাপুরে অবস্থিত। কোমোরোসের নিবন্ধন হয় বুলগেরিয়া থেকে। ভানুয়াতুর জাহাজ নিবন্ধন অফিস রয়েছে নিউইয়র্কে। জাহাজ নিবন্ধনের এই অস্বাভাবিক পদ্ধতি অনেক সময় নিরাপত্তা ঝুঁকিরও তৈরি করে। চাপসোস বলেন, ‘নিবন্ধনকারী কোনো দেশের পক্ষে তালিকাভুক্ত হওয়া সব জাহাজকে নিরাপত্তা দেয়া সম্ভব নয়, যদিও ওই জাহাজটি হয়ত ওই দেশেরই একটি বর্ধিত অংশ। আর এটা সেসব দেশের জন্য আরো কঠিন যাদের হয়তো ছোট আকারের নৌবাহিনী রয়েছে।

Pages: [1] 2 3 ... 44