Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Topics - Anuz

Pages: 1 [2] 3 4 ... 45
16
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলমের পরিবারটা বেশ বড়। বছরের শেষের দিকে মাসের বেতনটাও একটু দেরিতে হয়। পরিবারের চাহিদা ও সময়মতো বেতন না হলে ক্রেডিট কার্ডই তাঁর ভরসা। আর সময়ের মধ্যে কার্ডের ঋণ শোধ করায় গত তিন বছরে কখনো সুদও দেননি। অভিজ্ঞতা থেকে জাহাঙ্গীর আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রথম দিকে বিপদের সঙ্গী ছিল ক্রেডিট কার্ড। এখন অনেকটা প্রতিদিনের জীবনযাত্রার সঙ্গী হয়ে গেছে। কেনাকাটা, ঘোরাফেরা, জরুরি চিকিৎসা—সব ক্ষেত্রেই এখন এ কার্ড ব্যবহার করছি। কার্ডে যে অফার দেওয়া হয়, তা-ও মাঝেমধ্যে গ্রহণ করছি।’ এমন অনেক চাহিদা ও প্রয়োজনের কারণে ক্রেডিট কার্ড এখন দেশের প্রায় ১২ লাখ মানুষের জীবনসঙ্গী। ধীরে ধীরে এ সংখ্যা বাড়ছেই। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে, গত মে মাসে দেশে ক্রেডিট কার্ডের সংখ্যা ছিল ১১ লাখ ৮৯ হাজার ৭৯। ২০১৪ সালেও দেশের ক্রেডিট কার্ডে ছিল প্রায় ৬ লাখ। এখন ক্রেডিট কার্ডে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ ৪ হাজার ৮৮৯ কোটি টাকা। শুধু গত মে মাসেই কার্ডের মাধ্যমে প্রায় ১৬ লাখ লেনদেন হয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ৯০০ কোটি টাকা। সূত্র জানায়, ক্রেডিট কার্ড গ্রাহকদের মধ্যে ৮৪ শতাংশ পুরুষ ও ১৬ শতাংশ নারী।

বাংলাদেশে ১৯৯৭ সালে তৎকালীন এএনজেড গ্রিন্ডলেজ (বর্তমানে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড) ব্যাংক প্রথম ক্রেডিট কার্ড সেবা নিয়ে আসে। কাছাকাছি সময়ে তৎকালীন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ভানিক বাংলাদেশ (বর্তমানে লংকাবাংলা ফাইন্যান্স) ও ন্যাশনাল ব্যাংক এ সেবা চালু করে। এরপর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেশের অন্য ব্যাংকগুলোও এ সেবায় মনোযোগী হয়। বর্তমানে দেশে ৪০টির মতো ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড সেবা দিচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় সবাই দিচ্ছে ভিসা ও মাস্টারকার্ড ব্র্যান্ডের কার্ড। তবে এর বাইরে কয়েকটি ব্যাংক কার্ড সেবাকে অভিনবত্ব দিতে অন্য ব্র্যান্ডের কার্ডও এনেছে। সিটি ব্যাংক অ্যামেক্স কার্ড, প্রাইম ব্যাংক জেবিসি কার্ড, ইস্টার্ণ ব্যাংক ডিনার্স ক্লাব কার্ড, ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংক নেক্সাস পে কার্ড ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ইউনিয়ন পে ইন্টারন্যাশনালের সেবা দিচ্ছে। ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে গ্রাহকেরা নির্দিষ্ট পরিমাণ কেনাকাটা ও ঋণ নিতে পারেন। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে এ দেশের কার্ডের ব্যবহার বেড়েছে বিদেশেও। তাই টাকার পাশাপাশি ডলারেও ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার বেড়েছে। দেশে-বিদেশে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে হোটেল বুকিং, বিমানভাড়া, রেস্টুরেন্ট ও কেনাকাটায় মিলে নানা ছাড় ও পয়েন্ট জেতার সুযোগ। এ ছাড়া এসব কার্ড দিয়ে দেশে-বিদেশে কেনাকাটা, খাওয়া, থাকা, ভ্রমণে মিলছে বিশেষ সুবিধা, যা অন্যদের থেকে কিছুটা এগিয়ে রাখছে কার্ড গ্রাহকদের। সময়মতো কার্ডের টাকা পরিশোধ করলে কোনো সুদও দিতে হয় না। বর্তমানে বাংলাদেশে ক্রেডিট কার্ড ব্যবসায় নেতৃত্ব দিচ্ছে দেশীয় মালিকানার দি সিটি ব্যাংক। ব্যাংকটির মাধ্যমে বাংলাদেশের বাজারে আসে আমেরিকান এক্সপ্রেস বা অ্যামেক্স কার্ড। এ কারণেই ক্রেডিট কার্ড সেবায় ব্যাংকটি এগিয়ে। বাজারে ব্যাংকটির রয়েছে ২৪ হাজার পয়েন্ট অব সেলস বা পিওএস মেশিন। আর চার লাখের বেশি কার্ড। ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘ক্রেডিট কার্ড এখন আর ধনীদের সেবা পণ্য নয়। নির্দিষ্ট আয়ের মানুষেরাও এখন ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করছেন। আমরা চেষ্টা করছি প্রত্যন্ত অঞ্চলে এ কার্ডের ব্যবহার ছড়িয়ে দেওয়ার। এ জন্য বাইরের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সিটি ব্যাংক কাজ করছে।’ সিটি ব্যাংকের পাশাপাশি এ সেবায় শীর্ষ পর্যায়ে রয়েছে ইস্টার্ণ, ব্র্যাক, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, প্রাইম, যমুনা, প্রিমিয়ার, ঢাকাসহ আরও কয়েকটি ব্যাংক। এখন ১৬ বছরের ঊর্ধ্বের যেকোনো নাগরিক এ কার্ড সেবা নিতে পারেন। তবে তাঁর নির্দিষ্ট আয়ের ব্যবস্থা থাকতে হয়। আর এ কার্ডের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা ঋণ নেওয়া যায়। অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহবুবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, বর্তমান সময়ে সবাই চান একটু স্বাচ্ছন্দ্য। এ জন্য কার্ড ব্যবহার করেন। সময়ের সঙ্গে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার বাড়বে, ছড়িয়ে পড়বে দেশজুড়ে।

17
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরিচয় নতুন করে দেওয়ার কিছু নেই। তিনিই একমাত্র কবি যিনি একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও ভারতের মতো দুটি স্বাধীন দেশের জাতীয় সংগীত রচয়িতা। পৃথিবীতে এটি অপূর্ব এবং বিরল দৃষ্টান্ত। তৎকালীন পূর্ববাংলায় তথা বাংলাদেশে বিশ্বকবির পদচারণা ছিল। তিনি জমিদারি তদারকির জন্য বাংলাদেশের নওগাঁর পতিসর, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর ও কুষ্টিয়ার শিলাইদহে অবস্থান করেছেন। তাঁর শ্বশুরবাড়ির খুলনা জেলার ফুলতলা উপজেলার দক্ষিণডিহি গ্রামে। কাজেই বাংলাদেশ ভূখণ্ডের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের যোগাযোগ ছিল ঘনিষ্ঠ।

এ বছর বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭৮তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যে নোবেল প্রাপ্তিতে তাঁকে বিশ্বকবির মর্যাদা এনে দেয়। তাঁর পরিচিতি বিশ্বব্যাপী। বিশ্বে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এত জনপ্রিয়তা যে ৩৫টি দেশ থেকে তাঁর ওপর স্মারক ডাকটিকিট, স্যুভেনির শিট, উদ্বোধনী খাম, বিশেষ খাম, পোস্টকার্ড, অ্যারো গ্রাম, বিশেষ সিলমোহর, মিটার ফ্রাংকিং ইত্যাদি প্রকাশিত হয়েছে। রবীন্দ্রনাথের ওপর অধিকাংশ ডাকটিকিট জন্মবার্ষিকী ও নোবেল বিজয়ী হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। তাঁকে নিয়ে প্রথম ডাকটিকিট প্রকাশিত হয় ভারত থেকে, ১৯৫২ সালের ১ অক্টোবর—যার মূল্যমান ছিল ১২ আনা। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রথম ডাকটিকিট প্রকাশ করে বাংলাদেশ। ১৯৯১ সালের ৭ আগস্ট বিশ্বকবির ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ ৪ টাকা মূল্যমানের ১টি স্মারক ডাকটিকিট, ১টি উদ্বোধনী খাম ও ১টি ডেটা কার্ড প্রকাশ করে। বাংলাদেশ থেকে রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এটি প্রথম প্রকাশিত ডাকটিকিট। এর ডিজাইনার ছিলেন আহমেদ ফজলুল করিম। ডাকটিকিটে রবীন্দ্রনাথ ও তাঁর স্মৃতিবিজড়িত কুষ্টিয়ার শিলাইদহ কুঠিবাড়ির ছবি স্থান পায়। কুঠিবাড়িটি শিলাইদহ গ্রামের উত্তরে ১৩ বিঘা জমির ওপর ১৮৯২ সালের শেষ দিকে নির্মিত হয়। জমিদারি তদারকির জন্য রবীন্দ্রনাথ শিলাইদহে বেশ কয়েকবার অবস্থান করেছেন।

এরপর ২০১১ সালের ১৪ আগস্ট মাসে আফ্রিকা মহাদেশের ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলোর একটি গিনি বিসাউ বিশ্বকবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ৪টি ডাকটিকিটের সিটলেট ও ১টি স্যুভেনির সিট প্রকাশ করে। রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ২০১৬ সালের ১৫ আগস্ট পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজার একটি স্যুভেনির সিট প্রকাশ করে। এ ছাড়া ২০১৭ সালের ১০ আগস্ট ফিলাটেলিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (পিএবি) আয়োজিত ডাকটিকিট প্রদর্শনী ‘পাবেক্স -২০১৭’-এর উদ্বোধনী দিনে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ একটি বিশেষ খাম প্রকাশ করে। সেই বিশেষ খামে রবীন্দ্রনাথের ছবি স্থান পায়। রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুবার্ষিকী থাকায় বিশেষ খামে তাঁর ছবি ব্যবহার করা হয়।

জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রকাশিত ডাকটিকিট, স্যুভেনির শিট ইত্যাদির চেয়ে রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুবার্ষিকীতে প্রকাশিত ডাকটিকিট, স্যুভেনির শিটের পরিমাণ কম। ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশগুলো এই বিশ্ববরেণ্য বাঙালির নামে আরও ডাকটিকিট, স্যুভেনির শিট ইত্যাদি প্রকাশ করবে বলেই আশা করি আমরা।

18
দেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে তাপদাহ। আর মৌসুমী বায়ু প্রবলভাবে সক্রিয় থাকায় সাগর উত্তাল। এই অবস্থায় সমুদ্র ও নদীবন্দরগুলোক সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় এলাকায় একটি লঘুচাপের সৃষ্টি হওয়ায় এই অবস্থা বিরাজ করছে। মৌসুমী বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল হয়ে উত্তর-পূর্বদিকে অগ্রসর হয়ে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল ধরে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে তা মাঝারি থেকে প্রবল অবস্থায় বিরাজ করছে।

আবহাওয়াবিদ আবদুর রহমান খান জানিয়েছেন, মৌসুমী বায়ু প্রবল থাকায় সাগরে গভীর সঞ্চারণশীল মেঘমালার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। তাই কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কতার সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলগুলোর ওপর দিয়ে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠে যেতে পারে। তাই এসব এলকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (০৬ আগস্ট) পর্যন্ত এক পূর্বভাসে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সাতক্ষীরা, যশোর, কুষ্টিয়া, রংপুর, দিনাজপুর, সৈয়দপুর, রাজশাহী, ভোলা, কুমিল্লা, নোয়াখালী, সীতাকুন্ডু, ময়মনসিংহ, ঢাকা, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, রাজশাহী ও সিলেটের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। কিছু কিছু জায়গায় এটা অব্যাহত থাকতে পারে। আবার ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহসহ কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।

বৃহস্পতিবার (০৮ আগস্ট) বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়বে। সোমবার (০৫ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা থেকে আগের ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ফেনীতে; ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে রাঙামাটিতে; ৬ মিলিমিটার।

19
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে প্রবাসীরা তাদের স্বজনদের কাছে বিনা খরচে দেশে টাকা পাঠাতে পারবেন। আজ থেকে এ সুবিধা চালু করেছে আমিরাতে জনতা ব্যাংক লিমিটেড। আগামী ৯ আগস্ট পর্যন্ত এ সুযোগ গ্রহণ করতে পারবেন তারা। এই সময়ের মধ্যে দেশে টাকা পাঠাতে গেলে তাদের অতিরিক্ত ফি দিতে হবে না। আবুধাবি জনতা ব্যাংকের নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ আমিরুল হাসান ও আবুধাবি শাখার ম্যানেজার আবদুল হাই এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নির্বাহী কর্মকর্তা আমিরুল হাসান বলেন, ‘বাংলাদেশ জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) নির্দেশে পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এতে আমিরাতের প্রবাসীরা লাভবান হবেন।’ আবুধাবি শাখার ম্যানেজার আবদুল হাই জনতা ব্যাংকের এই সুবর্ণ সুযোগ গ্রহণ করতে প্রবাসীদের আহ্বান জানান। প্রবাসীদের সুবিধার্থে প্রয়োজনে তারা অতিরিক্ত সেবা দেওয়ার কথাও জানান। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি, আল আইন, দুবাই ও শারজা জনতা ব্যাংকের এই চারটি শাখার মাধ্যমে প্রবাসীরা সুযোগটি গ্রহণ করতে পারবেন। হুন্ডি লেনদেন বর্জন করে জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন করার আহ্বান জানান ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, দেশে রেমিটেন্স পাঠাতে প্রবাসীদের উৎসাহিত করতে চলতি বছর বেশ কয়েক দফায় বিনা খরচে টাকা পাঠানোর সুযোগ দিয়েছে জনতা ব্যাংক। ভবিষ্যতেও এ রকম সুযোগ অব্যাহত থাকবে বলে জানান ব্যাংকের নির্বাহী কর্মকর্তা আমিরুল হাসান।

20
ফের একবার‌ বিশ্বজুড়ে ব্যাহত হল ফেসবুক পরিষেবা। গতকাল রবিবার সন্ধ্যা থেকে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং ইউরোপের বিস্তীর্ণ অংশে বেশ কিছুক্ষণ বন্ধ রইল ফেসবুক। ব্যবহারকারীরা ফেসবুক খুলতে চেষ্টা করেও সফল হননি।

মূলত গতকাল রবিবার সন্ধ্যা সাতটা থেকে এই সমস্যা দেখা দেয়। ৫৯ শতাংশ মানুষ নিউজফিড নিয়ে অভিযোগ তোলেন। আবার ২৪ শতাংশের অভিযোগ ছিল ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লগ ইন করা যাচ্ছে না। আবার ১৬ শতাংশ ব্যবহারকারীর দাবি, ফেসবুক পুরোপুরি কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। অনেকে আবার এই সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে ছবি পোস্ট বা শেয়ার না করতে পারারও অভিযোগ করেন।

শুধু ফেসবুক নয়, তাদের বাকি দু’‌টি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ এবং ইনস্টাগ্রাম নিয়েও অনেকেই অভিযোগ তুলেছেন। তবে এই প্রথম নয়, এর আগেও একাধিকবার এভাবেই ব্যাহত হয়েছে ফেসবুকের পরিষেবা।

21
সম্প্রতি মালবাহী জাহাজ স্টেনা ইমপেরো আটক করেছে ইরান, যেটি চলছিল ব্রিটিশ পতাকা নিয়ে। কিন্তু আসলে এই জাহাজটির মালিক একটি সুইডিশ কোম্পানি এবং পুরো জাহাজে কোনো ব্রিটিশ নাগরিক ছিলেন না।কিন্তু এটা অস্বাভাবিক নয়। বরং অনেক সময়েই দেখা যায় যে, জাহাজটি এমন একটি দেশের পতাকা নিয়ে চলাচল করছে, যার মালিক একেবারেই ভিন্ন দেশের লোক।কিন্তু কেন এটা করা হয়? তাতে কি সুবিধা? কেন লাইবেরিয়া, পানামা আর মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী জাহাজ বেশি দেখা যায়?

সাগরে চলাচলকারী প্রতিটি বাণিজ্যিক জাহাজকে কোনো না কোনো দেশে নিবন্ধন করতে হয় এবং সেই দেশের পতাকা ওই জাহাজটি বহন করে। দেশটিকে বলা হয় ফ্ল্যাগড স্টেট। ওপেন রেজিস্ট্রি পদ্ধতিতে, যাকে অনেক সময় ‘সুবিধা অনুযায়ী পতাকা’ বলেও বর্ণনা করা হয়, জাহাজ যেকোনো দেশে তালিকাভুক্ত হতে পারে, জাহাজের মালিক অন্য দেশের হলেও তাতে কোন সমস্যা নেই। তবে অন্য পদ্ধতিগুলোয় পতাকার বিষয়ে বেশ কড়াকড়ি রয়েছে, এসব জাহাজের মালিক কে হতে পারবে এবং কিভাবে জাহাজ পরিচালনা করা হবে। যে দেশে নিবন্ধন করা হয়, সে দেশের আইনকানুন জাহাজটিকে মেনে চলতে হয়।

পানামা, মার্শাল আইল্যান্ড আর লাইবেরিয়া হচ্ছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ফ্ল্যাগ স্টেট বা পছন্দের পতাকার দেশ। যুক্তরাজ্যের বাণিজ্যিক জাহাজের তালিকায় প্রায় তেরশো জাহাজ তালিকাভুক্ত রয়েছে।এই লাল পতাকার ব্যানারের দলে যুক্তরাজ্য, ক্রাউন ডিপেন্ডেনসিস (আইল অফ ম্যান, গার্নসে, এবং জার্সি) এবং যুক্তরাজ্যের ওভারসিজ টেরিটরি (অ্যানগুলিয়া,বারমুডা, দ্যা ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড, দ্যা কেইম্যান আইল্যান্ড, দ্যা ফকল্যান্ড আইল্যান্ড, জিব্রাল্টার, মন্টসেরাত, সেন্ট হেলেনা এবং দ্যা টার্ক ও কাইকোস আইল্যান্ড) মিলে বিশ্বের নবম বৃহত্তম জাহাজ বহরে পরিণত হয়েছে।

ম্যারিটাইম নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ আয়োনিস চাপসোস জানান, ‘অনেকগুলো বাণিজ্যিক কারণ বিবেচনায় রেখে জাহাজ মালিকরা নিবন্ধন করার দেশটিকে বাছাই করেন। এসবের মধ্যে রয়েছে সেখানকার আইনকানুন, করের হার, সেবার মান। গ্রীস হচ্ছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় জাহাজ মালিকের দেশ। কিন্তু সেখানকার বেশিরভাগ জাহাজই গ্রীসের পতাকা বহন করে না। এর একটি বড় কারণ, সেখানে অনেক বেশি অংকের ট্যাক্স দিতে হয়। বরং ফ্ল্যাগ স্টেট, অনেক সময় দেখা যায় যেগুলো একটু গরীব দেশ, তারা জাহাজ নিবন্ধন করে অর্থ আয় করার সুযোগ পায়। যেমন জাহাজ নিবন্ধন খাত থেকে পানামার অর্থনীতিতে প্রতিবছর কোটি কোটি ডলার যোগ হয়। এখানকার নিবন্ধন পদ্ধতির কারণে বিশ্বের যেকোনো স্থান থেকে জাহাজের কর্মীদের নিয়োগ দেয়া যায়, যা কোম্পানির খরচও অনেক কমিয়ে আনে।

এই ‘সুবিধা অনুযায়ী পতাকা’ পদ্ধতির অনেক সমালোচনা রয়েছে, বিশেষ করে এর দুর্বল নিয়মাবলী আর তদারকির অভাব, যা এমনকি অনেক সময় আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের নিয়মের বিরুদ্ধে চলে যায়। যদিও গত তিন দশক ধরে জাহাজ চলাচলের রীতিনীতির বিশেষ উন্নতি ঘটতে দেখা গেছে। তবে এখনো এই ব্যবস্থার অনেক সমালোচনা করা হয়। ভিন্ন দেশের পতাকাবাহী হওয়ার কারণে অনেক সময় মজুরি বৈষম্য বা খারাপ কাজের পরিবেশর জন্য মালিকের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে, বলছে আন্তর্জাতিক ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কাস ফেডারেশন।

কোন দেশে নিবন্ধন করার পর পতাকা বহনের পাশাপাশি ওই জাহাজের ওপর ওই দেশের আইন কার্যকর হবে। পতাকাবাহী জাহাজের কোনো অপরাধের জন্য দায়দায়িত্ব বহন করবে যে দেশে তালিকাভুক্ত হয়েছে, সেই দেশটি। যার মানে হলো নিবন্ধন দেয়ার সময় প্রতিটা জাহাজকে জরিপ এবং যাচাই বাছাইয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নিশ্চিত করতে হবে, বলছে আইএমও।

যেসব দেশে জাহাজ তালিকাভুক্ত হয়, প্রতিটা দেশই আন্তর্জাতিক ম্যারিটাইম চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে এবং চুক্তির শর্তগুলো বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিয়েছে। যেসব বিধিবিধানের মধ্যে রয়েছে জাহাজ কিভাবে তৈরি হবে, নকশা, সরঞ্জাম এবং কিভাবে জাহাজটি পরিচালিত হবে ইত্যাদি। জাতিসংঘের কনভেনশন ফর দি ল অফ দি সী অনুযায়ী, সমুদ্রে চলাচলের সময় জাহাজে যেন সবরকম নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকে, সেটা নিশ্চিত করবে নিবন্ধন করা দেশটি, যাদের পতাকা ওই জাহাজে রয়েছে।

এটা খুব অস্বাভাবিক ব্যাপার নয় যে, কোনো একটা দেশে জাহাজ নিবন্ধন এবং ওই দেশের পতাকা জাহাজটি বহন করলেও, এই নিবন্ধনের পুরো কাজটি হয়ত করা হচ্ছে আরেকটি দেশে। লাইবেরিয়ার উদাহরণ দেখা যাক, যেখানে জাহাজ নিবন্ধনের কাজটি করে একটি আমেরিকান কোম্পানি, যাদের সদর দপ্তর ওয়াশিংটন ডিসিতে। ভূমিবেষ্টিত মঙ্গোলিয়ার নিবন্ধন দপ্তর সিঙ্গাপুরে অবস্থিত। কোমোরোসের নিবন্ধন হয় বুলগেরিয়া থেকে। ভানুয়াতুর জাহাজ নিবন্ধন অফিস রয়েছে নিউইয়র্কে। জাহাজ নিবন্ধনের এই অস্বাভাবিক পদ্ধতি অনেক সময় নিরাপত্তা ঝুঁকিরও তৈরি করে। চাপসোস বলেন, ‘নিবন্ধনকারী কোনো দেশের পক্ষে তালিকাভুক্ত হওয়া সব জাহাজকে নিরাপত্তা দেয়া সম্ভব নয়, যদিও ওই জাহাজটি হয়ত ওই দেশেরই একটি বর্ধিত অংশ। আর এটা সেসব দেশের জন্য আরো কঠিন যাদের হয়তো ছোট আকারের নৌবাহিনী রয়েছে।

22
খোঁয়াড় জমির ফসল অথবা বসতবাড়ির বাগান বিনষ্টকারী গবাদিপশু আটক রাখার গারদ বিশেষ। ফসল বিনাশ করার আশঙ্কা রয়েছে এমন অবাধ বিচরণকারী গবাদিপশুও খোঁয়াড়ে আটক রাখা হতো। গ্রামীণ প্রতিষ্ঠান ‘খোঁয়াড়’ ফার্সি শব্দ। এর অর্থ ইতস্তত বিচরণশীল উচ্ছৃঙ্খল গবাদি পশু। বিশ শতকের চল্লিশের দশক অবধি সাধারণত গ্রামবাংলায় গ্রামীণ সমাজ কর্তৃক এই প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হতো। মুগল আমলে যখন সরকারি আয়ের প্রধান উৎস ছিল কৃষি, তখন জমির ফসল রক্ষার ক্ষেত্রে এই প্রতিষ্ঠানটি বিশেষ গুরুত্ব পায়। এ সময়ের অর্থনীতিতে গবাদিপশুর ভূমিকাও ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

সরকার এবং জমিদারদের অনুমতি নিয়ে প্রায় প্রত্যেক গ্রামেই খোঁয়াড় ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। এর উদ্দেশ্য ছিল গবাদিপশুর কবল থেকে জমির ফসল ও বসতবাড়ির বাগান রক্ষা করা। খোঁয়াড় ব্যবস্থায় গবাদিপশু কর্তৃক ফসল হানিতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট গবাদিপশু খোঁয়াড়ে আটক রাখতে পারতেন। এক্ষেত্রে যতদিন গবাদিপশুর মালিক ফসলের ক্ষতিপূরণ না দিতেন ততদিন ওই গবাদিপশু খোঁয়াড়ে আটক রাখা হতো। খোঁয়াড়ের ব্যবস্থাপক খোঁয়াড়ে আটক গবাদিপশু ফিরিয়ে নেয়ার জন্য পশুর মালিককে খবর পাঠাতেন। গ্রামের মাতাব্বর শ্রেণির প্রবীণ ব্যক্তিদের দ্বারা ধার্যকৃত জরিমানা প্রদান করে মালিক তার গবাদিপশু ছাড়িয়ে নিতে পারতেন।

গবাদিপশু কর্তৃক শস্যক্ষেত্র এবং বসতবাড়ির বাগান বিনাশ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে খোঁয়াড় পদ্ধতি ছিল একটি মোক্ষম প্রতিরোধ ব্যবস্থা। গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে একটি খোঁয়াড় ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠিত হতো। জরিমানার অর্থে খোঁয়াড়ের ব্যয় নির্বাহ করা হতো। এছাড়াও যে কৃষক তার গবাদিপশুকে আর্থিক বা অন্য কোনো কারণে খাবার দিতে সক্ষম ছিল না, সেক্ষেত্রে খোঁয়াড়ে সেসব পশুর খাবারের ব্যবস্থা করা হতো। অন্যদিকে পশুর মালিক গ্রাম থেকে দূরে কোথাও গেলে তাদের গবাদিপশু খোঁয়াড় কমিটির তত্ত্বাবধানে রেখে যেতে পারতেন। গ্রামে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে খোঁয়াড়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গবাদিপশু চুরি বা ফসল নষ্টের মতো কিছু অপরাধকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়। গ্রামের চৌকিদার খোঁয়াড় কমিটির সদস্য থাকত। তবে কৃষি ও উৎপাদন ব্যবস্থার ব্যাপক পরিবর্তনের ফলে বর্তমানে এ ব্যবস্থা অনেকটা বিলুপ্তির পথে।

23
ক্রিকেট ক্যারিয়ারের শেষ বেলায় বড় ধাক্কা খেলেন টাইগার কাপ্তান মাশরাফি বিন মর্তুজা। হঠাৎ করে সব কিছুতেই ধ্বস নেমেছে তার। বিশ্বকাপে বাজে পারফরমেন্সের কারণে আকাশ প্রিয় জনপ্রিয়তা কমেছে। এদিকে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান ঢাকা ডায়নামাইটস থেকে রংপুর রাইডার্সে নাম লেখায় বড় বিপাকে পড়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের মীমাংসিত সেরা অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা।

সদ্য সমাপ্ত ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে মাশরাফি বিন মর্তুজার উল্টো ছিলেন সাকিব আল হাসান। বিশ্বকাপের আট ইনিংসে দুই সেঞ্চুরি আর পাঁচ ফিফটিতে ৬০০ এর উপরে রান। বল হাতে তার উইকেট সংখ্যা দুই ডিজিটের। উল্টো দিকে মাশরাফি উইকেট পেয়েছেন মাত্র একটি। তার চেয়ে বড় কথা ৮ ম্যাচে নির্ধারিত দশম ওভারের কোটাও পূরণ করেনি তিনি।

তাই স্বাবাভিকভাবে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা সাকিবকে সবাই দলে ভিড়াতে চাইবে। আর সেই সাকিবকেই ঢাকার ঘর থেকে ছুটিয়ে নিয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপের ফ্রাঞ্চাইজিং রংপুর রাইডার্স। তার কারণেই কিছুটা সংকট দেখা দিয়েছে মাশরাফি বিন মর্তুজার বিপিএল সপ্তম আসরের ভবিষ্যৎ নিয়ে।

সাকিব যদি রংপুর রাইডার্সে খেলেন তাহলে মাশরাফি যাবেন কোথায় কিন্তু বিপিএলে মাশরাফির সাফল্য সোনায় মুড়িয়ে রাখার মত। গত ছয় আসরের চারটিতে ট্রফি উঠেছে তার হাতে। প্রথম দুইবার ঢাকা গ্লায়াডিয়েটরসের ক্যাপ্টেন তিনি। জিতেছেও শিরোপা। তৃতীয় সংস্করণে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের ক্যাপ্টেন হয় অসাধ্য সাধন করে জিতেছে শিরোপা। আর পঞ্চম সংস্করণে বসুন্ধরা মালিকাধীন রংপুর রাইডার্সের শিরোপা সাফল্যে নেপথ্য মাশরাফির ক্যাপ্টেন্সি। রাইডার্সকে টানা দুই মৌসুম দিয়েছেন সার্ভিস। দলের সাফল্যের সঙ্গে নিজের পারফরম্যান্সও কম নয়। এই দুই মৌসুমে মাশরাফি নিয়েছেন ৩৭ উইকেট। তখনকার সময়ে গেইল-ভিলিয়ার্সরা বিপিএলে প্রশংসা করেছিলেন মাশরাফির ক্যাপটেন্সি নিয়ে।

রাজধানী ঢাকায় ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে বিপিএলের পঞ্চম সংস্করণে ফাইনালে উপস্থিত দর্শকের অধিকাংশ সমর্থন পেয়েছে রংপুর রাইডার্স কারণ অবশ্য এই মাশরাফি। মাশরাফিকে ঘরের ছেলে হিসেবে সপ্তম আসরেও দেখা যাবে রংপুর রাইডার্সে এমনটাই মিডিয়াকে জানানো হয়েছিল ফ্রাঞ্চাইজিং রংপুর রাইডার্স এর পক্ষ থেকে। আর তারই ধারাবাহিকতায় মাশরাফির সাথে আগে ভাগেই চুক্তি হয়েছিল তাদের। অথচ বিশ্বকাপে মাশরাফির বাজে পারফরমেন্স ও ইনজুরির সুযোগ নিয়েছে রংপুর রাইডার্স। মাশরাফিকে না জানিয়েই আইকন হিসেবে সাকিবকে দলে নিয়েছে তারা।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) সপ্তম আসরে থাকছে না চিটাগং ভাইকিংস তা জেনে নিজের ভবিষ্যৎ গড়তে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সে যোগ দিয়েছে মুশফিক। আর কুমিল্লা ছেড়ে খুলনায় যোগ দিয়েছে তামিম ইকবাল। তাহলে আইকন মাশরাফি ও মাহমুদুল্লাহর নতুন ঠিকানা এখন কোথায়? ইনজুরির কারণে দুজন পড়েছেন শঙ্কায়। এ অবস্থায় তাদের সামনে দুটি পথ খোলা। রাজশাহী কিংস অথবা সম্ভাব্য নতুন দল বরিশাল বুলস। তবে ক্যারিয়ারের শেষ সময় এসে বড় ধাক্কা খেতে হল ক্যাপ্টেন রাজা মাশরাফিকে।

24
টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি ছক্কা হাঁকানোর রেকর্ডটা এতদিন দখলে ছিল ক্রিস গেইলের। এবার ক্যারিবীয় এই ব্যাটিং দানবকে পেছনে ফেলে সর্বাধিক ছক্কার রেকর্ডে সবার শীর্ষে পৌঁছেছেন রোহিত শর্মা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টির পর রোহিতের মোট ছক্কা ১০৭টি!

ফ্লোরিডায় দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ৫১ বলে ৬৭ রান করেন রোহিত। তাতে ছিল ৬টি চার ও ৩টি ছক্কার মার। সুনীল নারিনকে মিড উইকেটে ছয় মেরে গেইলকে টপকে যান তিনি।

রোহিত ৯৬টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে সবার উপরে রয়েছেন। তার আগে শীর্ষে থাকা গেইল ৫৮টি ম্যাচ খেলে ১০৫ টি ছয় নিয়ে রোহিতের পরেই রয়েছেন। এই তালিকায় ১০৩ ছয় নিয়ে তৃতীয় মার্টিন গাপটিল।

সর্বাধিক ছক্কা হাঁকানো রোহিতের ইনিংসের সমাপ্তি ঘটান ওশানে থমাস। ৬৭ রানে তাকে বিদায় দেন ক্যারিবীয় পেসার।

সর্বাধিক ছক্কা হাঁকানো রোহিত সংক্ষিপ্ত এই ফর‌ম্যাটে আগে থেকেই আরেকটি রেকর্ডের মালিক। টি-টোয়েন্টির সর্বাধিক রান সংগ্রহটা ভারতীয় ওপেনারেরই। একই সঙ্গে এই ফরম্যাটে সর্বাধিক সেঞ্চুরির রেকর্ডটিও তার। রয়েছে চারটি সেঞ্চুরি।

25
অনেক কারণেই রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। দেহে সুগারের মাত্রা বেড়ে গেলে নানা ধরণের লক্ষণে তা প্রকাশ পায়। অনেকে হয়তো এইসকল ব্যাপার জানেন না বা জানলেও লক্ষ্য করেন না। কিন্তু সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে দেহে কখন সুগার বেড়ে যাচ্ছে তা লক্ষ্য করা অনেক জরুরী।

রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে গেলে শরীরে কী ধরণের সমস্যা হয়, সে সম্পর্কে আমরা কম-বেশি সকলেই জানি। ডায়াবেটিস এমন একটি রোগ, যা ক্রমশ মানুষের অসুস্থতা বাড়িয়ে তোলে। এই অসুখের ক্ষেত্রে সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক ব্যপার হল, ওষুধ, নিয়ম মেনে খাওয়া-দাওয়া আর শরীরচর্চা করলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে ঠিকই, কিন্তু তা কোনও ভাবেই পুরোপুরি নিরাময় করা যায় না। সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে শরীরে সুগার বেড়ে যাওয়ার প্রধান লক্ষণগুলি আগে চেনা প্রয়োজন। এই লক্ষণগুলি চিনতে পারলেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগেভাগেই সতর্ক হওয়া সম্ভব। আসুন জেনে নেওয়া যাক, শরীরে সুগারের মাত্রা বেড়ে গেলে ঠিক কী কী লক্ষণ প্রকাশ পায়...

১) খুব অল্পতেই হাঁপিয়ে ওঠা রক্তে সুগারের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার একটি অন্যতম লক্ষণ। রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে গেলে শরীরে পর্যাপ্ত পানির অভাব হয়। আর ডিহাইড্রেশনের ফলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে।

২) চিকিৎসকদের মতে, রক্তে শরীরে সুগারের মাত্রা বেড়ে গেলে তা কিডনির উপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করতে থাকে শরীর থেকে সুগার বের করে দেওয়ার জন্য। সে জন্যই ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ অনুভূত হয়।

৩) ডায়েট বা ব্যায়াম না করেই হুট করে অনেক বেশি ওজন কমতে থাকা শরীরে সুগারের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।

৪) হাত ও পায়ের আঙুল বা পুরো হাত অবশ বোধ করা রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার অন্যতম একটি লক্ষণ। পরিস্থিতি মারাত্মক পর্যায়ের পৌঁছে গেলে তখন এই লক্ষণ প্রকাশ পায়।

৫) যখন শরীর থেকে অতিরিক্ত সুগার বাইরে বের করে দেয়ার জন্য কিডনিতে চাপ পড়ে, তখনই ঘন ঘন প্রস্রাব পায়। এই সময় কিডনি শরীরের কোষ থেকে ফ্লুইড নিতে থাকে। এর ফলে শরীরে জলের ঘাটতি হতে থাকে, তাই ঘন ঘন জল তেষ্টা পায়।

৬) শরীরে সুগারের মাত্রা বেড়ে গেলে তার আমাদের দৃষ্টিশক্তির উপরেও কুপ্রভাব পড়ে। এর ফলে দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা তৈরি হয়।

৭) শরীরের কোনও অংশে কেটে বা ছড়ে গেলে তা না শুকানো এবং শুকাতে অনেক বেশি সময় লাগার বিষয়টিও শরীরে সুগারের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। এই সব লক্ষণ দেখা গেলে অবহেলা না করে যত দ্রুত সম্ভব চিকিত্সকের পরামর্শ মেনে রক্ত পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া উচিত।

26
কোমল পানীয় সববয়সী মানুষই পান করে থাকেন। এমনকি খাওয়া-দাওয়ার পরে কোমল পানীয় এক ধরনের ঐতিহ্যে রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে তরুণরা একে ফ্যাশন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। কিন্তু আমরা জানি না যে, নিজের অজান্তেই শরীরের কত বড় ক্ষতি করছি। তাই জেনে নিন কোমল পানীয়ের ক্ষতিকর দিকসমূহ। বিস্তারিত জানাচ্ছেন মো. বিল্লাল হোসেন-

ক্যান্সার: কোমল পানীয়তে ক্যারামেল কালার ব্যবহার করা হয়, যা কারসিনোজেন (ক্যান্সার সৃষ্টিকারী পদার্থ) হিসেবে কাজ করে। এটি সাধারণত টিনের ক্যানে সংরক্ষণ করা হয়। এ ক্যান বিসফেনল নামক কারসিনোজেনের উৎস। অর্থাৎ কোমল পানীয় ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।

স্থূলতা: কোমল পানীয়তে রয়েছে প্রক্রিয়াজাত চিনি, যা শরীরের স্থূলতা বাড়াতে সহায়তা করে। অনেকে স্থূলতা বাড়ানোর জন্যই কোমল পানীয় গ্রহণ করে থাকেন।

দাঁতের ক্ষয়:
অতিরিক্ত চিনি মুখের ব্যাকটেরিয়া দ্বারা ভেঙে অ্যাসিড তৈরি করে। এই অ্যাসিড দাঁত ক্ষয়ের মূল কারণ।

ডায়বেটিস: কোমল পানীয়ের চিনি হঠাৎ করেই রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ফলে টাইপ-টু ডায়বেটিসের ঝুঁকি বেড়ে যায়। আমেরিকান ডায়েট অ্যাসোসিয়েশনের গবেষণা অনুযায়ী, নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস মেনে চলার মাধ্যমে এ ঝুঁকি কমানো সম্ভব। তবে পুরোপুরি নাকচ করা সম্ভব হয় না।

হৃদরোগ: গবেষণা বলছে, কোমল পানীয় ‘মেটাবলিক সিন্ড্রোম’ বা বিপাকীয় প্রক্রিয়ার বিভিন্ন সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়। যা ক্রমেই ঠেলে দেয় হৃদরোগের দিকে। কারণ এতে যে চিনি রয়েছে, তা আপনার ক্ষুধা কমিয়ে দেবে। এমনকি ফল-মূল ও শাক-সবজি খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে দেবে। যারা নিয়মিত কোমল পানীয় নেন, তাদের হৃদরোগের ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় ২০ শতাংশ বেশি।

হাড় ক্ষয়: কোমল পানীয়তে রয়েছে ফসফরিক অ্যাসিড, যা ক্যালসিয়াম মেটাবলিজমে বাধা দেয় এবং হাড় ক্ষয় তরান্বিত করে।

কিডনি রোগ: ফসফরিক অ্যাসিড মূত্রনালীর বিভিন্ন সমস্যা তৈরি করে এবং কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

আসুন কোমল পানীয় পরিহার করি। ফল-মূল দিয়ে তৈরি জুস পান করি। পরিমিত পানি পান করি। সুস্থ-সুন্দর জীবনযাপন করি।

27
ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৬৮৭ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ৯৯২ জনই রাজধানীতে। সব মিলিয়ে চলতি বছর এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ২৩৫ জন। সরকারি হিসাবে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ১৪ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হলেও বেসরকারি হিসাবে এ সংখ্যা অর্ধশত ছাড়িয়ে গেছে। প্রকোপ বাড়ার পাশাপাশি পরিবর্তন হয়েছে ডেঙ্গুর ধরন ও লক্ষণের। আগে ডেঙ্গু হলে জ্বর অনেক বেশি জ্বর হতো। তবে এখন তেমনটি হচ্ছে না। এছাড়া কিছু নতুন লক্ষণ দেখা দিয়েছে।

ডেঙ্গুর বিষয়টি মানুষ জানলেও এর যে গতি-প্রকৃতিতে পরিবর্তন হচ্ছে, সে সম্পর্কে সচেতনতা নেই অনেকের। কাজেই সবাইকে এ ব্যাপারে সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে। এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ডা. মতলেবুর রহমান।

ডা. মতলেবুর রহমান বলেন, ডেঙ্গুজ্বরের লক্ষণে অনেক পরিবর্তন এসেছে। যে কারণে অনেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার পরেও বুঝতে পারে না। তিনি বলেন, আমাদের দেশে ২০০০ সাল থেকে বেশি দেখা গেছে। টাইপ ওয়ান সেরোটাইপ দিয়ে তখন ডেঙ্গুটা হতো। ডেঙ্গু জ্বরের আসলে চারটি সেরোটাইপ রয়েছে। টাইপ ওয়ান, টাইপ টু, টাইপ থ্রি, টাইপ ফোর। এবার যেটি হচ্ছে ডেঙ্গু টাইপ থ্রি দিয়ে জ্বরটা বেশি হচ্ছে। এ বছর জ্বর অন্য বছরের চেয়ে কিছু পার্থক্য রয়েছে। আসুন জেনে নেই ডেঙ্গুজ্বরের নতুন লক্ষণ।

১. আগে প্রচণ্ড শরীর ব্যথা, র‍্যাশ, চোখে ব্যথা হলে আমি ডেঙ্গু জ্বর হয়েছে বলে ধারণা করতে পারি।

২. তবে এখন খুব একটা জ্বর নাই।

৩. জ্বর খুব বেশি না হলেও শুধু জ্বর জ্বর ভাব।

৪. শরীরে হালকা একটু দুর্বলতা।

৫. বমি হচ্ছে বা কারো হয়তো শুধু মাথাব্যথা।

৬. মানুষের মধ্যে একটি আতঙ্ক ছিল ডেঙ্গু হলে রক্ত দিতে হয়। প্লাটিলেট দিতে হয়। এ বছর বিষয়টি সম্পূর্ণ পরিবর্তন হয়ে গেছে।

৭. এ বছর দেখা গেছে, যারা মারা গেছেন বা ডেঙ্গুতে জটিলতায় ভুগছেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তারা পানি স্বল্পতায় ভুগছেন। এ কারণে ডেঙ্গুর শক সিনড্রোম হচ্ছে।

৮. এখন ডেঙ্গুতে শরীর থেকে প্রচুর তরল বের হয়ে শরীরের ভেতরেই রয়ে যাচ্ছে। এটি রক্তনালি থেকে বাইরের দিকে চলে যাচ্ছে তরলটা। তখন প্রেশার কমে যাচ্ছে। এর ফলে হালকা দুর্বলতা লাগে। দুর্বলতা হওয়ার কারণে তিনি হয়তো চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছেন না। তার প্রেশার কমে যাওয়ার কারণে শরীরে বিভিন্ন অঙ্গ- প্রত্যঙ্গে সঞ্চালন কম হচ্ছে।

উপরের লক্ষণগুলো দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

28
বিরাট কোহলিদের হেড কোচ রবি শাস্ত্রীই আবার ভারতের কোচ হতে পারেন। চলতি মাসের শেষ দিকে তাঁর চুক্তির মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানো হতে পারে, এমনটাই জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম। কোচ নির্বাচক কমিটির তিন সদস্যের একজন অংশুমান গায়কোয়াড়ও এর আগে শাস্ত্রীর টিকে যাওয়ার ইঙ্গিত-ই দিয়েছেন।

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড এরই মধ্যে কোচ চেয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজ্ঞাপন দিয়েছে। বিরাট কোহলিদের কোচ হওয়ার জন্য আবেদন পড়েছে ২ হাজার। বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই। এমন একটি দলের কোচ হতে কে না চাইবেন! লোভনীয় পদটির জন্য ক্রিকেট বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আবেদন করেছেন ২ হাজার কোচ। গতকালই শেষ হয়েছে আবেদন করার শেষ সময়।

ভারতের জাতীয় ক্রিকেট দলের কোচ হতে আবেদন করেছেন টম মুডি, নিউজিল্যান্ডের সাবেক কোচ মাইক হেসন ও শ্রীলঙ্কার সাবেক অধিনায়ক মাহেলা জয়াবর্ধনে। আর ভারতীয়দের মধ্যে বি শাস্ত্রী ছাড়া উল্লেখ করার মতো নাম আছে দুটি—রবিন সিং ও লালচাঁদ রাজপুত। ভারতের কোচ হিসেবে বিসিসিআই যে ধরনের যোগ্যতা চেয়েছে, আবেদনকারীদের মধ্যে শাস্ত্রী ছাড়া শুধু একজনেরই সে ধরনের যোগ্যতা রয়েছে—টম মুডি। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক এ ক্রিকেটার এখন ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) ক্রিকেট পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। আইপিএলে ফ্র্যাঞ্চাইজি দলেও কোচের দায়িত্বে ছিলেন। মুডি জাতীয় দলে সবশেষ কোচের দায়িত্বে ছিলেন ২০০৭ সালে (শ্রীলঙ্কা)।

শুধু প্রধান কোচই নয়, বিসিসিআই বিভিন্ন বিভাগের জন্য বিশেষজ্ঞ কোচও নেবে। ভারতের ফিল্ডিং কোচ হতে আবেদন করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক তারকা ফিল্ডার জন্টি রোডস। ভারতীয় দল এই মুহূর্তে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে। তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ দিয়ে শুরু হবে সফর। এরপর খেলবে তিন ওয়ানডের সিরিজ। কোহলিদের লম্বা সফরটি শেষ হবে দুই টেস্টের সিরিজ দিয়ে। এই সফরের জন্যই রবি শাস্ত্রীসহ ভারতের কোচিং স্টাফদের সবার মেয়াদ ৪৫ দিন বাড়ানো হয়েছে।

29
সবচেয়ে সহজলভ্য হলো কলা। রাস্তার আশপাশের চা এর দোকানে তাকালেই দেখা মিলে কলার। রাস্তায় হাঁটছেন, কলা দেখেই খেয়ে নিচ্ছেন দুটি। অফিস থেকে ফেরার পথে এক কাঁদি কলা হাতে ঢুকছেন বাসায়। এ দৃশ্য সচরাচর সর্বত্রই দেখা যায়।  সকালের নাস্তার টেবিলে অনেকেই  রাখছেন কলা। বাচ্চাদেরকেও কলা খাবার তাগিদ দিচ্ছেন। আমরা প্রতিনিয়ত যে এতো কলা খাচ্ছি, আসলে কি আছে কলায়? চিন্তা করেছেন কখনও? জেনেছেন কখনও কলার গুণাগুণ। আসুন জেনে নেই কলার গুণাগুণ।গুণে সমৃদ্ধ ফল হলো কলা। এর পুষ্টিগুণ অধিক। এতে রয়েছে দৃঢ় টিস্যু গঠনকারী উপদান যথা আমিষ, ভিটামিন এবং খনিজ। কলা ক্যালরির একটি ভাল উৎস। এতে কঠিন খাদ্য উপাদান এবং সেই সঙ্গে পানি জাতীয় উপাদান সমন্বয় যে কোনো তাজা ফলের তুলনায় বেশি।

প্রতি ১০০ গ্রাম পরিমাণ কলার খাদ্যগুণ
পানি ৭০.১%, আমিষ  ১.২%, ফ্যাট (চর্বি) ০.৩%, খনিজ লবণ ০.৮%, আঁশ  ০.৪%, শর্করা ৭.২%, ক্যালসিয়াম ৮৫ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ৫০ মিলিগ্রাম, আয়রন ০.৬ মিলিগ্রাম, ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স ৮ মিলিগ্রাম এবং ভিটামিন-সিও রয়েছে কলায়। কলা যখন অতিরিক্ত পেকে যায় এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে যায়। শরীরের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কলা শরীরে শক্তি যোগায় এবং বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে। এবার জানা যাক কলার বিস্তারিত গুণাগুণ :

কর্মশক্তি যোগায়
কলার মধ্যে থাকা তিন ধরনের প্রাকৃতিক চিনির শক্তিশালী মিশ্রণ (ফ্রুক্টোজ, গ্লুকোজ এবং সুক্রোজ) আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা বজায় রাখে এবং আপনাকে যোগান দেয় দিনের প্রয়োজনীয় কর্মশক্তি। প্রতিদিনের খাবারে রাখুন কলা এবং যখন অতিরিক্ত ঘর্মাক্ত হয়ে দুর্বল অনুভূব করেন তখনই কলা খাবেন। শরীরে বল আসবে।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে
কলার মধ্যে থাকা ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়তা করে। এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে আঁশ থাকায় পেট পরিষ্কার করতে সহায়তা করে। প্রতিদিন ২টি করে কলা খেলে আপনার কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর হবে। এ ছাড়া হজম শক্তিও বাড়ায় কলা।

শরীরে প্রোবায়টিকের যোগান দেয়
প্রোবায়টিকের একটি অন্যতম প্রাকৃতিক উৎস হলো কলা। এতে রয়েছে ফ্রুক্টোওলিগোস্যাকারাইড (FOS) যা দেহে উপকারী ব্যাক্টেরিয়া বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। আমাদের দেহের অন্ত্রে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রোবায়টিক গ্রহণ করা প্রয়োজন।

উচ্চ রক্তচাপ কমায়
কলায় থাকা উচ্চমাত্রার পটাসিয়াম ও নিম্নমাত্রার সোডিয়াম শরীরের রক্ত চাপ কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া হৃদরোগের জন্য কলা অত্যন্ত সহায়ক। স্ট্রোক প্রতিরোধের জন্যেও কলা উপকারী। উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকলে প্রতিদিন ২টি কলা খেতে পারেন।

রক্তস্বল্পতা দূর করে
কলায় থাকা আয়রন রক্ত কোষকে উজ্জীবিত করে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বৃদ্ধি করে থাকে। যা রক্তস্বল্পতা দূর করে। এর ফলে অ্যানিমিয়ার সম্ভাবনা কমে। এমনকি অ্যানিমিয়া সারাতেও সাহায্য করে কলা।

স্নায়ুকে শান্ত করে
কার্বোহাইড্রেটে পরিপূর্ণ হওয়ায় কলা রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রেখে স্নায়ুবিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। কলায় থাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-বি যা স্নায়ুকে শান্ত করে।

দুশ্চিন্তা দূর করে
মানসিক চাপ কমায় এবং একইসঙ্গে মানসিক কর্মদক্ষতাও বৃদ্ধি করে কলা। তাই যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ বা স্ট্রেসফুল কাজ শুরু করার পুর্বে একটি কলা খেয়ে নিতে পারেন, অনেক উপকার পাবেন।

পরিশ্রম ও ব্যায়ামে শক্তি যোগায়
বড় ধরনের শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়ামে শক্তি যোগায় কলা। এটি শরীরের পেশি, লিগামেন্ট ও রগ শক্তিশালী করে তোলে। যেহেতু এটি শারীরিক পরিশ্রমে প্রচুর সহায়তা করে, তাই ব্যায়াম করার পূর্বে কলা খাওয়া অত্যন্ত উপকারী।

ঘুমের জন্য সহায়ক
কলায় ট্রিপটোফেন নামক এক প্রকার অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে যা সেরোটিন নামক হরমোন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই হরমোন ঘুমের জন্য সহায়ক।

ওজন কমাতে সাহায্য করে
অধিক ক্যালরি সম্পন্ন খাবারের বিকল্প হিসেবে কলা খাওয়া হলে তা দ্রুত ওজন কমাতে সাহায্য করে। মাঝারি আকৃতির একটি কলায় মাত্র ১০৫ ক্যালরি থাকে। এছাড়াও কলাতে রয়েছে ক্রোমিয়াম নামক খনিজ পদার্থ, যা বিপাক ক্রিয়ায় সহায়তা করে।

ধূমপান ছাড়তে সহায়তা করে
ধূমপান ছাড়তে চাইলে বেশি করে কলা খান। কারণ কলায় উপস্থিত ভিটামিন বি৬, বি১২, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম শরীর থেকে নিকোটিনের প্রভাব দূর করতে সাহায্য করে। তাছাড়াও কলাতে প্রচুর পরিমাণ ক্যালিশিয়াম থাকে যা শরীরের হাড়ের ঘনত্ব বৃদ্ধির জন্য যথেষ্ট। এছাড়া যারা হাড়ের বা বাতের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের খাদ্যাভাসে কলা রাখতে পারেন। কলায় প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম থাকায় এটি মাথাব্যাথার প্রাকৃতিক নিরাময় হিসেবে কাজ করে।

30
পাটশাক যুগ যুগ ধরে পরিচিত। গ্রাম থেকে শুরু করে শহরের বাজার সর্বত্রই এই শাক পাওয়া যায়। দামও বেশি নয়। পাটশাক দুই নামে পরিচিত। একটি তীতা পাটশাক অন্যটি মিষ্টি পাটশাক। অনেকের কাছেই প্রিয়। পাটশাকের রয়েছে প্রচুর পুষ্টিগুণ। এগুলো মানব দেহের বিভিন্ন রোগের ক্ষেত্রে অত্যন্ত উপকারী। পাটশাকে প্রচুর পরিমাণ পটাশিয়াম, আয়রন, ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস, সেলেনিয়াম এবং ভিটামিন সি, ই, কে, বি- ৬ এবং নিয়াসিন রয়েছে। এছাড়া পাটশাকে রয়েছে উচ্চমাত্রায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ক্যারোটিন এবং খাদ্যআঁশ।

প্রতি ১০০ গ্রাম পাটশাকে রয়েছে খাদ্যশক্তি  ৭৩ কিলোক্যালরি, আমিষ ৩.৬ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ২৯৮ মিলিগ্রাম, লোহা ১১ মিলিগ্রাম ও ক্যারোটিন ৬৪০০ (আইইউ)।এসব পুষ্টি উপাদান রোগবালাই থেকে দূরে রাখে। এবার জেনে নেই পাটশাক আমাদের কি কি উপকার করে :

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
পাটশাকের ভিটামিন এ, ই এবং সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এতে থাকা ভিটামিন সি ও ক্যারোটিন মুখের ঘা দূর করতে সাহায্য করে। তাছাড়া ভিটামিন-সি রক্তের শ্বেত কনিকা বৃদ্ধি করে এবং ভিটামিন-এ, ভিটামিন ই চোখ, হৃদপিণ্ডসহ অন্যান্য অঙ্গের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

হাড়ের ক্ষয় রোধ করে
পাটশাকে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম আছে, যা হাড় ভালো রাখতে সাহায্য করে এবং হাড়ের ক্ষয় রোধ করে। এতে থাকা আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম, সোডিয়াম এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান হাড় গঠন ও ক্ষয়পূরণ করে এবং হাড় ভঙ্গুরতা রোধ করে।

উচ্চ রক্তচাপ দূর করে
পাটশাকে বিদ্যমান উচ্চমাত্রার পটাশিয়াম রক্তসঞ্চালন ও রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। যার ফলে উচ্চ রক্তচাপ জনিত সমস্যা দূর হয়। এছাড়া পাটশাক রক্তের কোলেস্টেরল কমাতে সহায়তা করে। নিয়মিত খেলে হার্ট অ্যাটাক এবং ষ্ট্রোকের ঝুঁকি কমে যায়।

মুখের রুচি বাড়ায়
এই শাক খাওয়ার রুচি বাড়ায়। মুখের স্বাদ ফিরিয়ে আনে ও মেদ বৃদ্ধির আশঙ্কা কমায়। পাটশাকের তেতো স্বাদ মুখে লালা ক্ষরণ করে শ্বেতসারকে ভাঙতে সাহায্য করে। এতে হজমের সুবিধা হয় ফলে খাবারের রুচি বাড়ে।

নিদ্রাহীনতা দূর করে
পাটশাকে থাকা ম্যাগনেশিয়াম উপাদান শরীরে প্রয়োজনীয় হরমোন উৎপাদন করে যা স্নায়ুতন্ত্র শান্ত রাখে এবং নিরবচ্ছিন্ন নিদ্রা নিশ্চিত করে। তাই ভাল ঘুমের জন্য পাটশাক খেতে পারেন।

হিমোগ্লোবিন উৎপাদনে সহায়ক

এই শাকে প্রচুর পরিমাণ আয়রন থাকে যা রক্তে হিমোগ্লোবিন উৎপাদনে সহায়তা করে। পাটশাকে থাকা আয়রন দেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা এবং কর্মদক্ষতাও বৃদ্ধি করে।

হজম শক্তি বড়ায়
পাটশাকে থাকা খাদ্যআঁশ হজম প্রক্রিয়াকে দারুণভাবে ত্বরান্বিত করে আমাদের হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। 

বাতের ব্যথা দূর করে
পাটশাকে প্রচুর ভিটামিন-ই রয়েছে। ভিটামিন-ই গেঁটেবাত, আর্থরাইটস এবং প্রদাহ জনিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই এসব রোগের জন্য পাটশাক একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ্য। পাটশাকে থাকা উচ্চমাত্রার অ্যান্টি অক্সিডেন্ট শরীরে যেকোনো ধরনের ক্যানসার রোধে সহায়তা করে। এতে বিদ্যমান ফলিক অ্যাসিড ত্বক ও চুল ভালো রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া এটি ডায়াবেটিক ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও মানসিক চাপ দূর করে শরীর সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।

Pages: 1 [2] 3 4 ... 45