Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Topics - Anuz

Pages: 1 2 [3] 4 5 ... 44
31
নতুন বাজেট প্রতি পদে পদে উচ্চ হারে কর নিয়ে হাজির হয়েছে মুঠোফোন ব্যবহারকারীদের সামনে। সিম কেনা, কথা বলা, ইন্টারনেট ব্যবহার, সিম হারিয়ে গেলে পরিবর্তন, অপারেটর বদলানো—সব ক্ষেত্রেই উচ্চ হারে কর দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। কিন্তু সেবার মান উন্নত হচ্ছে না, বরং অবনতির অভিযোগ প্রবল।

নতুন করকাঠামোয় মুঠোফোনে কথা বলার জন্য ১০০ টাকা রিচার্জ করলে ২২ টাকার মতো যাবে সরকারের ঘরে। ইন্টারনেটের ক্ষেত্রে ১০০ টাকার মধ্যে মোট কর সাড়ে ১৬ টাকা। সিম কেনায় কর ২০০ টাকা। হারিয়ে গেলে সেটা পরিবর্তনেও কর ২০০ টাকা। নতুন করে বাড়ল মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটির (এমএনপি) মাধ্যমে অপারেটর বদলের ব্যয়। অপারেটররা বলছে, ৫৮ টাকা থেকে বেড়ে এ ব্যয় ২৫৮ টাকা হয়েছে।অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ১৩ জুন ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করেন। ওই দিন থেকেই মুঠোফোন ব্যবহারে ব্যয় বেড়ে যায় সাধারণ মানুষের। জানতে চাইলে টেলিযোগাযোগ গবেষণা প্রতিষ্ঠান লার্ন এশিয়ার জ্যেষ্ঠ পলিসি ফেলো আবু সাঈদ খান বলেন, টেলিযোগাযোগ খাতের ওপর সহজে কর আরোপ ও আদায় করা যায়। এ কারণে এ খাতে কর বাড়ানো হচ্ছে। কিন্তু আনুপাতিক হারে সেবার মান বাড়ছে না। অবকাঠামোতে বিনিয়োগ কম হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘উচ্চ হারে কর দিয়ে আমরা নিম্নমানের সেবা পাচ্ছি। এ ধরনের কর আরোপের ফলে বেশি চাপে পড়ে নিম্ন আয়ের মানুষ। এ নিয়ে লার্ন এশিয়ার গবেষণাও আছে।’

বাজেটে কত বাড়ল
নতুন বাজেটে কর বেড়েছে সব ক্ষেত্রেই। সিম কেনায় ১০০ টাকার কর বেড়ে ২০০ টাকা হয়েছে। এনবিআর যেহেতু পুরোনো সিম বদলানোর ক্ষেত্রেও কর নেয়, সেহেতু ২০০ টাকা আরোপ হবে সেখানেও। মুঠোফোন সেবার ওপর সম্পূরক শুল্ক ৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। ফলে কথা বলার ক্ষেত্রে মোট কর দাঁড়াল ২৭ শতাংশ। ইন্টারনেট ব্যবহারে ভ্যাট কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছিল। তাতে সুফল তেমন একটা পাননি গ্রাহকেরা। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী আহমেদ ফয়সাল প্রথম আলোকে বলেন, বাজেটের পরই ৪৮ টাকায় তিন দিন মেয়াদে দুই গিগাবাইটের একটি প্যাকেজের দাম ৫৪ টাকা করেছে গ্রামীণফোন। ফলে ইন্টারনেট ব্যবহারে মাসে ৬০ টাকা ব্যয় বেড়ে গেল। এমএনপি সেবা চালু হয় গত বছরের অক্টোবরে। তখন অপারেটর বদলে মোট ব্যয় ছিল ১৫৮ টাকা, যার ১০৮ টাকা ছিল কর। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) চেষ্টা করে এটি কমিয়ে ৫৮ টাকায় নামিয়ে আনে। অপারেটররা জানিয়েছে, নতুন বাজেটের পর তা বেড়ে ২৫৮ টাকা হয়েছে। এর মধ্যে সিম কর দাঁড়িয়েছে ২০০ টাকা এবং মূল্য সংযোজন কর (মূসক বা ভ্যাট) সাড়ে ৭ টাকা। এ ছাড়া বাজেটে মোবাইল অপারেটরগুলোর মোট আয়ের ওপর ন্যূনতম কর শূন্য দশমিক ৬০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২ শতাংশ করা হয়েছে।

বাজেটে স্মার্টফোন আমদানিতে শুল্ক ১০ শতাংশ বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়। ফলে এ ক্ষেত্রে মোট শুল্ককর দাঁড়ায় ৫৭ শতাংশ। এতে বিদেশি মুঠোফোন আরও খরুচে হলো। অবশ্য এ ক্ষেত্রে দেশীয় শিল্প সুরক্ষার যুক্তি তুলে ধরে এনবিআর। এদিকে অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশের (অ্যামটব) মহাসচিব এস এম ফরহাদ বলেন, ‘যত সময় যাচ্ছে, ততই গ্রাহক ও অপারেটরের ওপর কর বাড়ছে। এটা ডিজিটাল বাংলাদেশ তৈরির পথে বাধা।’

32
রাগ, বিষাদ ও প্রেম সব কিছুই এখন খুব সহজে জানা যায় সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে। তবে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় মধ্যে ফেসবুক এখন খুবই জনপ্রিয়।ফেসবুকে অনেকে সেলফি দিয়ে স্ট্যাটাস দিতে দেখা যায়। পছন্দমত ছবি তোলা ও পোস্ট করা এখন রীতিমত নেশা রোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে।এই সেলফি তুলেতে গিয়ে অনেকের অকাল মৃত্যু হচ্ছে। যত্রতত্র সেলফি তোলার কারণে সারা বিশ্বের মারা যাচ্ছে অনেক মানুষ্।

২০১১ অক্টোবর থেকে ২০১৭ সালের নভেম্বর পর্যন্ত শুধুমাত্র সেলফি তুলতে গিয়ে বিশ্বে মৃত্যু হয়ছে ২৫৯ জনের। ভারতের ‘জার্নাল অব ফ্যামিলি মেডিসিন অ্যান্ড প্রাইমারি কেয়ার’-এর সমীক্ষা ও তার ফল অনুযায়ী, ওই সময়ে পৃথিবীতে হাঙরের কামড়ে মৃত্যু হয়েছে ৫০ জনের। তবে সেলফি তুলতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে তার চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি মানুষের।
গত ১০ বছরে এই ‘অসুখ’ আরও বেড়েছে বলেই মত মনোবিদদের। তবে নারীদের এই রোগের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। সমীক্ষায় দেখা গেছে, পুরুষদের মধ্যেও এই আসক্তি রয়েছে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নারীদের ছবি তুলতে গিয়ে তাদের মৃত্যু হচ্ছে।

সেলফি রোগ থেকে বাঁচতে কী করবেন?

সেলফি তুলতে গিয়ে অনেকে মৃত্যু হচ্ছে। তাই এ বিষয়ে কিছু সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে।

১. কীভাবে ভালো সেলফি তো যায় তার জন্য আপনি বিভিন্ন ওয়েবসাইট সাহায্যে নিতে পারেন।

2. সেলফি তোলার জন্য শুধু স্টিক’ নয়,নিজস্বী তোলার জন্য বিশেষ জুতোও পাওয়া যাচ্ছে বাজারে। সেলফি-ফ্রেন্ডলি হওয়ার উপরেই স্মার্টফোনের বিক্রি বাড়ছে। ইতিমধ্যে ইউরোপে ‘সেলফি স্টিক’ কে ‘নার্সিসাস স্টিক’ বলেও ডাকা হচ্ছে।

3. ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় দাড়িয়ে সেলফি তোলা থেকে বিরত থাকুন।

4. গাড়ি চালানোর সময় সেলফি তুলবেন না।

তবে সেলফি তুলতে গিয়ে যে মৃত্যু হচ্ছে তা ঠেকাতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সচেতনতা।

33
ডিপ্রেশন নামক শব্দটির সঙ্গে ক্রমেই আমাদের পরিচিতি বাড়ছে। কিছু বছর আগেও এটি তেমন পরিচিত ছিল না। কিন্তু আধুনিক জীবনযাপনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে ডিপ্রেশনে ভুগতে থাকা মানুষের সংখ্যাও। আগে এই ব্যাপারটিকে তেমন গুরুত্ব না দিলেও বর্তমানে মানুষেরা কিছুটা সচেতন হয়েছেন। তারা প্রয়োজনে কাউন্সেলরের দ্বারস্থ হচ্ছেন। মনে রাখতে হবে, বেশিরভাগ চিকিৎসকের ধারণা, আমরা যে গতিতে ছুটছি আজকাল, জীবনে যা যা অর্জন করতে চাইছি, তার মূলেই লুকিয়ে আছে মনোরোগের বীজ।

এখন প্রশ্ন হলো, আপনার খুব কাছের কেউ যদি ডিপ্রেশনে ভোগেন, আপনি তখন কী করবেন? ডিপ্রেশনের শিকার হলে সেই মানুষটি নিজে থেকে সুস্থ হতে পারে না। তার প্রয়োজন পড়ে কারও না কারও সাহায্য। একটু মানসিক সমর্থন। তার কাঁধে নির্ভরতার হাত রাখা, তার পাশে থাকা। কিছুই হয়নি, তুমি ফের ঘুরে দাঁড়াতে পারবে- আপনজনের দুঃসময়ে অন্তত এটুকু বলাটা আমাদের দায়িত্ব। স্ট্রেস, কাজের চাপ, পারিবারিক সমস্যা কম-বেশি সবারই থাকে। কোনো কারণে প্রত্যাশা পূরণ না হলে ভেঙে পড়া বা কিছুদিনের জন্য মন খারাপের মতো সমস্যাও হয়। কিন্তু সেটা আবার কেটেও যায়। ডিপ্রেশন থাবা গেড়ে বসলে কিন্তু মন খারাপের মেঘটা ক্রমশ চেপে বসে। সেইসঙ্গে হারাতে বসে যুক্তিবোধ, রোগী ক্রমশ নিজেকে একটা গণ্ডির মধ্যে আটকে ফেলেন। কমতে আরম্ভ করে শারীরিক শ্রমের পরিমাণও।

ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষার ফল খারাপ হতে আরম্ভ করে, অযথা ঝুঁকিপূর্ণ কাজের সঙ্গে যুক্ত হয় তারা, নেশার খপ্পরেও পড়ে কেউ কেউ। বেড়ে যায় রাগ, মাথাব্যথা, গা-হাত পায়ে অসহ্য যন্ত্রণা। ইনসমনিয়া, শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যাও থাকে কারও কারও ক্ষেত্রে। এই পরিস্থিতিতে নিকটজন ও পরিবারের সকলকে রোগীর পাশে দাঁড়াতেই হবে। প্রথমেই ভালো কোনো কাউন্সেলরের খোঁজ করুন, দরকারে বার বার কাউন্সেলর বদলাতে হতে পারে, তাতে নিরাশ হয়ে পড়ার কিছু নেই।

ডিপ্রেশনের মাত্রা বাড়লে ডাক্তারের পরামর্শমতো ওষুধপত্রও খেতে হবে হয়তো। কখনোই রোগীকে একা ছাড়বেন না, তার পাশে কেউ না কেউ থাকুন, আশ্বাস দিন যে সব ঠিক হয়ে যাবে। রোগীকে উত্তেজিত করবেন না, তার কথা শুনুন মন দিয়ে। কাউন্সেলিংয়ে যেন কোনো ফাঁকফোকর থেকে না যায়, তা নিশ্চিত করুন। রুটিন মেনে এই সহায়তাটুকু জোগালেই দেখবেন, পরিস্থিতি বদলাচ্ছে ধীরে ধীরে। তবে কোনো কিছুই তাড়াতাড়ি হবে না, ধৈর্য ধরতে হবে।

34
এমন ফাইনালের অপেক্ষাতেই তো ছিল বিশ্ব। শেষ ওভারের আগেও বোঝা যাচ্ছে না কে জিতবে। সেই কবে, ১৯৯২ সালে বিশ্বকাপ ফাইনালে শেষ দিকেও একটু উত্তেজনা ছিল। এরপর বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ফাইনাল মানেই একপেশে লড়াই। ম্যাচ শেষ হওয়ার বহু আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল সব উত্তেজনা। সব ম্যাচ রূপ পেয়েছিল ম্যাড়ম্যাড়ে এক ওয়ানডেতে। কিন্তু আজ ইংল্যান্ড যখন সুপার ওভারে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জিতল, সে ফাইনালের গায়ে অন্তত কেউ অপবাদ দিতে পারবেন না।

শেষ ওভারে দরকার ১৫ রান। স্ট্রাইকিং প্রান্তে বেন স্টোকস। ২০১৬ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ফাইনালে শেষ ওভারে ৪ ছক্কা খেয়ে এক বিশাল দায় বইছেন যিনি। প্রথম দুই বলে কোনো রান এল না। তৃতীয় বলেই ছক্কা। নড়েচড়ে বসলেন সবাই। পরের বল কাউ কর্নারে পাঠিয়ে দৌড় দিলেন স্টোকস। মার্টিন গাপটিল যে দুর্দান্ত থ্রো করলেন, সেটা গিয়ে লাগল স্টোকসের ব্যাটে। সে বল সেই ছুট লাগাল, সীমানা পেরোনোর আগে আর থামল না! দুই রানের বদলে এল ৬ রান! ২ বলে মাত্র ৩ রান দরকার ইংল্যান্ডের!পঞ্চম বল লং অফে পাঠিয়ে ২ রান নেওয়ার চেষ্টা করলেন স্টোকস। কিন্তু ননস্ট্রাইকিং প্রান্তে রানআউট হলেন আদিল রশিদ। ১ বলে দরকার ২ রান। এবার লং অনে বল ঠেলে দিয়েই আবার ২ রানের চেষ্টা, এবারও রানআউট। দ্বিতীয় রানের চেষ্টা করতে গিয়ে রানআউট মার্ক উড। ৮৪ রানে অপরাজিত স্টোকস, কিন্তু ওতেও লাভ নেই। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনাল টাই হলো! যে বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ফাইনাল ও সেমিফাইনাল টাই হলে সুপার ওভার হওয়ার নিয়ম করা হলো, সেবারই ফাইনাল গড়াল সুপার ওভারে।

সুপার ওভারেও বল হাতে তুলে দেওয়া হলো ট্রেন্ট বোল্টের হাতে। ইংল্যান্ডের পক্ষে নামলেন বাটলার ও স্টোকস। সে ওভারে ২ চার ও ১ তিনে এল ১৫ রান। ১৬ রানের লক্ষ্য পেল পুরো বিশ্বকাপে বাজে ব্যাটিং করা নিউজিল্যান্ড। স্ট্রাইকিং প্রান্তে গেলেন জিমি নিশাম। প্রথম বলটাই হলো ওয়াইড! পরের বলেই ২ রান, পরের বলেই ছক্কা। ৪ বলে মাত্র ৭ রান দরকার। এমন অবস্থায় পরের ২ বলে এল ৪ রান। ২ বলে দরকার ৩ রান। পরের বলে এল ১ রান। শেষ বলে দুই রান দরকার। স্ট্রাইকে ভয়ংকর এক বিশ্বকাপ কাটানো গাপটিল। গাপটিল কোনো রূপকথা লেখার সুযোগ পেলেন না। ডিপ মিড উইকেটে বল পাঠিয়ে ২ রান নেওয়ার চেষ্টা করলেন, কিন্তু জেসন রয়ের থ্রো বাটলারের কাছে এসে পৌঁছাল একটু আগে। রানআউট হয়ে গেলেন গাপটিল। সুপার ওভারও টাই হলো!

কিন্তু তবু বাটলার কেন অত আনন্দে ছুটে বেড়াতে লাগলেন, কেন পুরো ইংল্যান্ড দল ওভাবে পাগলের মতো ছুটতে লাগল? কারণ, সুপার ওভারের নিয়মেই যে লেখা, যদি দুই দল সমান রান করে, তখন বাউন্ডারির হিসাব চলে আসে। মূল ম্যাচ ও সুপার ওভার মিলিয়ে যে দল সবচেয়ে বেশি বাউন্ডারি মারবে, তারাই জিতবে সুপার ওভার। সেখানে যদি দুই দলে সমতা থাকে, তখন দেখা হবে সুপার ওভারে কারা বাউন্ডারি বেশি মেরেছে। নিউজিল্যান্ড মূল ইনিংসে ১৬টি বাউন্ডারি মেরেছিল। আর ইংল্যান্ড মেরেছিল ২৪টি। ফলে সুপার ওভারে নিউজিল্যান্ড যত বাউন্ডারিই মারুক না কেন, ইংল্যান্ডকে টপকাতে পারত না তারা। আর তাতেই মহানাটকীয় এক ম্যাচ শেষে ইংল্যান্ড অবশেষে দেখা পেল সেই বহু আকাঙ্ক্ষিত বিশ্বকাপ ট্রফির। তিনটি ফাইনাল হারার দুঃখ সেই লর্ডসেই ভুলল ইংল্যান্ড।

35
মার্টিন গাপটিল ঝাঁপ দিলেন। ওদিকে জস বাটলারও ঝাঁপ দিলেন বল ধরে স্টাম্প ভাঙার জন্য। অনেক পিছিয়ে থাকা গাপটিলের পক্ষে সম্ভব হলো না বাটলারকে পেছনে ফেলা। ভাঙল স্টাম্প, সুপার ওভারেও হলো টাই। ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড দুই দলই ১৫ রান নিয়েছে। বিশ্বকাপ ক্রিকেটের প্রথম সুপার ওভারও শেষ হলো টাইয়ে!

টাই হলেও বাটলার কেন অত আনন্দ নিয়ে ছুটতে লাগলেন? জো রুট কেন বেয়ারস্টোকে জড়িয়ে ধরে ওভাবে চিৎকার করতে লাগলেন? বোলার জফরা আর্চারই–বা কেন ওভাবে কী করবেন বুঝতে না পেরে একা একাই উদ্‌যাপন করতে লেগে গেলেন! লর্ডসের বিখ্যাত গ্যালারিও কেন নিজেদের সেই ঐতিহ্যের গাম্ভীর্য ভুলে ওভাবে আনন্দের আতিশয্যে ভাসতে লাগল?কারণ, সুপার ওভারের নিয়ম।

সুপার ওভারে যদি দুই দল সমান রান করে তখন বাউন্ডারির হিসাব চলে আসে। মূল ম্যাচ ও সুপার ওভার মিলিয়ে যে দল সবচেয়ে বেশি বাউন্ডারি মারবে, তারাই জিতবে সুপার ওভার। সেখানে যদি দুই দলে সমতা থাকে, তখন দেখা হবে সুপার ওভারে কারা বাউন্ডারি বেশি মেরেছে তার। সুপার ওভারে জিমি নিশাম নিউজিল্যান্ডের পক্ষে একটি ছক্কা মেরেছেন, ওদিকে বাটলার ও স্টোকস মেরেছেন দুটি চার।

কিন্তু সমতা হলে ইংল্যান্ড জিতবে সেটা আগেই জানা ছিল। নিউজিল্যান্ড মূল ইনিংসে ১৬টি বাউন্ডারি মেরেছিল। আর ইংল্যান্ড মেরেছিল ২৪টি। ফলে সুপার ওভারে নিউজিল্যান্ড যত বাউন্ডারিই মারুক না কেন ইংল্যান্ডকে টপকাতে পারত না তারা। আর এ কারণেই সুপার ওভারে টাই হওয়ার পরও কোনো চিন্তা ছাড়া পাগলাটে আনন্দে মাতল ইংল্যান্ড। তিনটি ফাইনাল হারার দুঃখ ভুলে লর্ডসেই ট্রফি নিয়ে উদ্‌যাপন করল ইংল্যান্ড।

36
পাওলো রসিকে মনে করিয়ে দিলেন বেন স্টোকস। ১৯৮২ বিশ্বকাপের আগে ম্যাচ পাতানো কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে দীর্ঘ নির্বাসনেই চলে গিয়েছিলেন রসি। সেখান থেকে ফিরে এসে ইতালিকে কী দারুণভাবেই না জেতালেন বিশ্বকাপ!

স্টোকসের কলঙ্কটা রসির মতো গুরুতর নয়। নির্বাসনে তিনিও গিয়েছিলেন, তবে রসির মতো অতটা দীর্ঘ নয়। তবে কলঙ্ক তো কলঙ্কই। নাইট ক্লাবে মারপিট করে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন। ইংলিশদের ভদ্রতার অহংয়ে এত জোরে ঘুঁষি মেরেছিল সেটি, স্টোকসকে জাতীয় দলের জন্য চিরনির্বাসনে পাঠানোর প্রস্তাবও উঠেছিল। খুব বেশি দিন হয়নি স্টোকস জাতীয় দলে ফিরেছেন। আজ তাঁর লড়াইটা না হলে ইংল্যান্ড তো ম্যাচ হেরে গিয়েছিল সেই কখন! ৮৪ রানের অপরাজিত ইনিংস দিয়েও কাজটা শেষ হয়ে যায়নি। এরপর সুপার ওভারেও ব্যাট হাতে নেমেছেন। শেষ পর্যন্ত তাঁর বীরত্বের কারণেই ম্যান অব দ্য ফাইনাল। সেই পুরস্কার যখন নিতে এলেন, তখনো তাঁর গলা কাঁপছে, ‘কী বলব, ভাষাই খুঁজে পাচ্ছি না। চার বছর ধরে আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছি শুধু এই মুহূর্তটার জন্ম দিতে পারব বলে। সেটি আবার এমনভাবে হলো, আমার মনে হয় না ক্রিকেট ইতিহাসে এমন ম্যাচ আবার কখনো হবে।’

নিউজিল্যান্ড পুরো বিশ্বকাপে ব্যাট হাতে সীমিত পুঁজি নিয়েও লড়ে গেছে ঠিক। আজকের ফাইনালেও লড়ে যাচ্ছিল একইভাবে। ২৪১ রানের পুঁজি নিয়েও ভালোই ধাক্কা দিয়েছিল ইংল্যান্ডকে। ৮৬ রানে ইংল্যান্ডের ৪ ব্যাটসম্যান নেই। সেখান থেকে জস বাটলারকে নিয়ে স্টোকসের ১১০ রানের জুটি।

স্টোকস বললেন, ‘জস আর আমি দুজনই জানতাম, যতটা পারি শেষ পর্যন্ত যদি ব্যাট করে যেতে পারিম নিউজিল্যান্ড চাপে পড়ে যাবে।’ চাপে নিউজিল্যান্ড পড়েও গিয়েছিল। কিন্তু ফিরে এসেছিল দারুণভাবে। বাটলার ও ক্রিস ওকসকে দ্রুত ফিরিয়ে দিয়ে। নিঃসঙ্গ লড়াইয়ে যখন সমীকরণ ক্রমেই অসম্ভব হয়ে উঠছে, সে সময় দুই রান নিতে গিয়ে স্টোকসের ব্যাটে লাগে সীমানা থেকে উড়ে আসা থ্রো। ব্যাটে লাগার পর বল ছিটকে চলে যায় বাউন্ডারির দিকে। দৌড়ে দুই রান, সঙ্গে বাই হিসেবে অতিরিক্ত চার রান! কী ভাগ্য! স্টোকস ইচ্ছেকৃতভাবে বলটা ব্যাটে লাগাননি। লাগালে তো অবস্ট্রাকটিং দ্য ফিল্ড নিয়মে আউটই হয়ে যেতেন। সেই চার রানটাই তো পরে ম্যাচের ভাগ্যনির্ধারক হয়ে গেল। এর জন্য মাঠে তো বটেই, মাঠের বাইরেও স্টোকস ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন, ‘এভাবে আমি তা করতে চাইনি। বল ওভাবে আমার ব্যাটে লেগে ছিটকে যাবে! আমি কেনের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছি।’

37
দাঁত ঝকঝকে রাখতে টুথপেস্ট দিয়ে ব্রাশ তো করবেনই। মুখের গন্ধ দূর করতেও রোজ সকালে চাই টুথপেস্ট। কেননা দাঁত ও মুখ পরিষ্কার রাখার অন্যতম স্বাস্থ্যকর উপায় টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করা। কিন্তু কখনো কি টুথপেস্ট টিউবের নিচের অংশে কিউব আকৃতির রঙিন ট্যাবের উপস্থিতি টের পেয়েছেন?

হয়তো দেখেছেন, কিন্তু পেস্টভেদে সবুজ, নীল, লাল, কালো রঙের এই ছোট্ট বাক্সটিকে নিয়ে ভাবেননি।

কিন্তু এই রঙগুলোর আছে আলাদা এক অর্থ। পেস্টভেদে থাকা এই রঙগুলো ওই পেস্টটি কি উপাদান দিয়ে তৈরি তা ইঙ্গিত করে।

সবুজ : সব উপাদান প্রাকৃতিক (এই টুথপেস্ট তৈরি করতে সব প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে)

নীল : কিছু উপাদান প্রাকৃতিক ও কিছু মেডিসিন (এই টুথপেস্ট তৈরি করতে কিছু প্রাকৃতিক উপাদান ও কিছু মেডিসিন ব্যবহার করা হয়েছে)

লাল : কিছু উপাদান প্রাকৃতিক ও কিছু রাসায়নিক দ্রব্য (এই টুথপেস্ট তৈরি করতে কিছু প্রাকৃতিক উপাদান ও কিছু রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করা হয়েছে)।

কালো : সব উপাদান রাসায়নিক দ্রব্য (এই টুথপেস্ট তৈরি করতে সব রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করা হয়েছে)।

মূলত এই রং পণ্যটিকে প্যাকেটজাত করার সময় কাজে লাগে। কারণ স্ক্যানারের মাধ্যমে রং দেখে সেই অনুযায়ী ভাগ করে প্যাকেটে ভরা হয়। তবে এই রং দেখে উপকৃত হতে পারেন ক্রেতারাও। এবার আপনিই সিদ্ধান্ত নিন এখন থেকে কোন রঙের টুথপেস্ট আপনি বেছে নেবেন।

38
আপনার ফোনে কি গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট স্মার্টফোন অ্যাপ ইনস্টল করা আছে? কিংবা আপনি পশ্চিমা কোন দেশে আছেন এবং গুগলের হোম স্মার্ট স্পিকার ব্যবহার করছেন? তাহলে নিশ্চিতভাবে জেনে নিন, গুগল কর্মীরা প্রতিষ্ঠানটির হোম স্মার্ট স্পিকার এবং গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট স্মার্টফোন অ্যাপের মাধ্যমে আপনার সব কথাই রেকর্ড করেছে, কিছু কিছু রেকর্ড তারা শুনেছেও। অবিশ্বাস্য হলেও তা সত্যি এবং গুগল তা স্বীকারও করে নিয়েছে যে, তারা আপনার ব্যক্তিগত কথাবার্তা শোনে!

ভয়ঙ্কর এই খবরটি প্রথম প্রথম বেলজিয়ামের পাবলিক ব্রডকাস্টার ভিআরটি প্রকাশ করে। তারা ডাচ ভাষায় রেকর্ড হওয়া কিছু অডিও প্রকাশ করে। তারপরেই গুগল স্বীকার করে নেয় যে, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স-অ্যাসিস্ট্যান্সে রেকর্ড হওয়া কণ্ঠস্বর তারা শোনে থাকে। ভিআরটি তাদের রিপোর্টে উল্লেখ করেছে যে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সচেতন ভাবে রেকর্ড করা কণ্ঠস্বর শোনে গুগল। কিন্তু তারা এমনও কথাবার্তা শোনে যা কখনও রেকর্ডই করা হয়নি। কিছু ক্ষেত্রে এই সব কথাবার্তার মধ্যে খুব সংবেদনশীল তথ্যও থাকে। গুগলের প্রোডাক্ট ম্যানেজার অফ সার্চ ডেভিড মনসেস, কোম্পানির একটি ব্লগে স্বীকার করে নিয়েছেন, তাদের ভাষা বিশেষজ্ঞরা সারা বিশ্বে রেকর্ড করা এই সব কথা শোনেন। ভাষা প্রযুক্তি উন্নয়নের জন্য এটা করা হয় বলে দাবি করেন ডেভিড। গুগলের দাবি, যে সমস্ত অডিও রেকর্ড হয় তার মাত্র ০.২ শতাংশই শোনা হয়। এই অডিও ক্লিপিংগুলি নাকি তারা রেকর্ড করে বক্তার পরিচয় ধরে না রেখে। ব্যবহারকারিদের অ্যাকাউন্টের সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই বলে দাবি করে গুগল বলছে,  ফোন ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য গোপনই থাকছে সেই সঙ্গে আরও দাবি করা হয়েছে, যে সামনের কথাই শুধু রেকর্ড হয়, পিছনের কথা বা শব্দ তাদের ভাষা বিশেষজ্ঞরা শোনেন না।

ভিআরটি বলছে, ফোন ব্যবহারকারিদের নাম, বাড়ির ঠিকানা, পরিবারে অন্যান্য সদস্যদের নামের মতো ব্যক্তিগত তথ্যও থাকে গুগলের কাছে। ফলে কোন কথাটি কে বলছে  সে তথ্য গুগলের কাছে থাকছেই। গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট চালু করতে গেলে বলতে হয় 'ওকে গুগল', অথবা বোতাম টিপতে হয়। যদিও সংখ্যায় খুব কম, তাও গুগল স্বীকার করেছে অনেক ক্ষেত্রে 'ওকে গুগল' না বলা সত্বেও শব্দ রেকর্ড শুরু হয়ে যায়। গুগলের দাবি হচ্ছে, অনেক সময় প্রচুর নয়েজ বা কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে অটো রেকর্ড চালু হয়ে যায়। চলতি বছরের শুরুর দিকে অ্যামাজন স্বীকার করে ‘খুব কম পরিমান নমুনা’ তারা শোনে। অ্যামাজনের অ্যালেক্সা সিস্টেম ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট পরিসেবা দেয়। অ্যামাজন স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছিল কারণ মার্কিন সংস্থা ব্লুমবার্গ জানায়, বিশ্ব জুড়ে হাজার হাজার অ্যামাজনের কর্মী অ্যালেক্সা ব্যবহারকারিদের বাড়ির ও অফিসের কথাবার্তা শোনে। তারপরেই অ্যামাজনকে এই স্বীকারোক্তি দিতে হয়।

39
বিভিন্ন মিউজিক অ্যাপে গান চালিয়ে ফোনের স্ক্রিন অফ করা যায়। অ্যান্ড্রয়েড ফোনের মিউজিক প্লেয়ার অ্যাপেও এভাবে গান শোনা যায়। অথবা অ্যাপটি মিনিমাইজ করেও অন্য অ্যাপ খোলা যায়। কিন্তু ইউটিউবে ভিডিও চলাকালীন গান শোনা গেলেও ফোনের স্ক্রিন অফ করলে বন্ধ হয়ে যায় গান। তাছাড়াও অন্য অ্যাপ খোলার জন্য ইউটিউব থেকে বের হলেও বন্ধ হয়ে যায় গান।
ইউটিউব মিউজিকে ব্যাকগ্রাউন্ডে গান শোনা গেলেও কেবল ট্রায়াল পিরিয়ডেই পাওয়া যায় এই সুবিধা। এরপর গুনতে হয় বাড়তি টাকা। তবে আজ আপনাকে জানাবো এমন এক পদ্ধতি যাতে বিনামূল্যেই স্ক্রিন অফ করেও ইউটিউবে গান শোনা যাবে।

১) প্রথমে আপনার ফোনের Google Chrome ব্রাউজার থেকে ইউটিউবে আপনার পছন্দের গানের ভিডিও খুলুন।

২) এবার ব্রাউজারের ডান দিকের কোণে সেটিংস অপশানে যান।

৩) সেখানে Desktop Mode অপশান চালু করুন।

৪) এরপর নতুন করে লোড হবে ইউটিউবের পেজটি। নতুন করে লোড হওয়ার পরে আপনার ফোনে ডেস্কটপের মতো করে দেখাবে ইউটিউবের পেজটি।

৫) এবার আপনার পছন্দের ভিডিওটি প্লে করুন। ভিডিওটি চলতে শুরু করার পর ফোনের হোম বাটনে টাচ করুন।

৬) হোম টাচ করার সঙ্গে সঙ্গে গান বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু তাতে কোনও অসুবিধা নেই। ফোনের নোটিফিকেশন বারটি নামান। সেখানে দেখবেন পজ হয়ে আছে গানটি। এ বার সেখান থেকে প্লে করুন। একই অপশান পেয়ে যাবেন আপনার ফোনের লক স্ক্রিনেও।

৭) এর পরে স্ক্রিন অফ করলেও চলতে থাকবে গান। ফোন পকেটে রেখেই হেডফোনে গান শুনতে পারবেন ইউটিউবে। ডেটা খরচের পরিমাণও হবে কম। এভাবে ইউটিউবে গান শোনাকালীনই ব্যবহার করতে পারবেন ফেসবুক-হোয়াটস্যাপের মতো অ্যাপও।

40
বিশ্বব্যাপী আড়াই কোটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন ‘এজেন্ট স্মিথ’ নামক নতুন এক ম্যালওয়্যারে আক্রান্ত হয়েছে। শুধু ভারতে এ ম্যালওয়্যার দেড় কোটি অ্যান্ড্রয়েড ফোনে পৌঁছেছে। এছাড়া বাংলাদেশ ও পাকিস্তানেও এ ম্যালওয়্যার ছড়িয়ে পড়েছে। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান চেক পয়েন্ট রিসার্চের এক প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করা হয়েছে। খবর এনডিটিভি। চেক পয়েন্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুরুতে গুগল অ্যাপ হিসেবে এ ম্যালওয়্যার অ্যান্ড্রয়েড ফোনে প্রবেশ করে। পরবর্তীতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গুগল অ্যাপের পরিবর্তে এ ম্যালওয়্যার নিজের অ্যাপ্লিকেশন ইনস্টল করে নেয়। ডিভাইস ব্যবহারকারীদের অজান্তেই এ ঘটনা ঘটছে। এছাড়া সুরক্ষা সম্পর্কিত ‘লটুর’ নামের একটি ম্যালওয়্যারের উপস্থিতির কথা জানিয়েছেন গবেষকরা।

চেক পয়েন্টের দাবি, অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস ব্যবহারকারীদের ভুয়া অ্যাপ ইনস্টলের সুবিধা দিয়ে ফোনে বিজ্ঞাপন দেখিয়ে বিপুল অংকের অর্থ উপার্জন করছে এজেন্ট স্মিথ ম্যালওয়্যার। তবে শক্তিশালী এ ম্যালওয়্যার খুব সহজেই অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিতে সক্ষম। আপাতত বিজ্ঞাপন প্রদর্শন ছাড়া এজেন্ট স্মিথ আর কী ধরনের কাজ করছে, তা বোঝা যায়নি। ডিভাইস ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য বেহাত হওয়ার মতো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। সাইবার নিরাপত্তা গবেষকরা সম্প্রতি ‘হামিংবার্ড কপিক্যাট’ নামে নতুন এক ম্যালওয়্যারের উপস্থিতি শনাক্ত করেন, যা অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল। এজেন্ট স্মিথ হামিংবার্ড কপিক্যাটের মতোই দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানানো হয়। এ ধরনের ম্যালওয়্যার ডিভাইস ব্যবহারকারীদের বিজ্ঞাপন দেখিয়ে কয়েক কোটি ডলার হাতিয়ে নিয়েছে বলে দাবি করা হয়। জানা যায়, তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ স্টোর ‘৯অ্যাপস’ থেকে এজেন্ট স্মিথ ছড়িয়ে পড়েছে। তবে আরবি, হিন্দি, ইন্দোনেশিয়ান ও রুশ ভাষায় চলা ফোনে এ ম্যালওয়্যার বেশি দেখা গেছে। ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে এ ম্যালওয়্যার সবচেয়ে বেশি ছড়িয়ে পড়েছে।

41
নিজেদের ট্রান্সলেট অ্যাপের ক্যামেরা ফিচারের জন্য বেশ বড়সড় আপডেট নিয়ে এসেছে গুগল। নতুন ওই আপডেটের ফলে ক্যামেরা ফিচারে আরও ৬০টি ভাষায় সেবা দিতে পারবে ট্রান্সলেটর অ্যাপ। নতুন এই ৬০টি ভাষার মধ্যে রয়েছে বাংলা। এছাড়া ৮৫ শতাংশ উন্নত অনুবাদ সেবা এবং ক্যামেরা দিয়ে কোনও লেখার ছবি ধারণ করার সময় তা যেন আরও স্থির থাকে এমন সুযোগ-সুবিধা নিয়ে এসেছে নতুন আপডেটটি। প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট দ্য ভার্জ নিজেদের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে সংবাদটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছে। নিজেদের প্রতিবেদনে ভার্জ লিখেছে, ট্রান্সলেটর অ্যাপের ক্যামেরা ফিচারে নতুন যোগ হতে যাওয়া ভাষাগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলা, আফ্রিকান, অ্যারাবিক, এস্টোনিয়ান, গ্রিক, হিন্দি, ইগবো, জাভানিজ, কুর্দিশ, লাটিন, লাটভিয়ান, মালয়, মঙ্গোলিয়ান, নেপালি, পশতু, পার্সিয়ান, সামোয়ান, সেসথো, স্লোভেনিয়ান, সোহাইলি, থাই, ভিয়েতনামিজ, ওয়েলশ ইত্যাদি।

গুগলের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, অ্যাপটির আপডেটেড সংস্করণ নিজে থেকেই ভাষা চিহ্নিত করতে পারবে, ভাষা চিনিয়ে দেওয়া বা ভাষা নির্বাচন করে দেওয়ার প্রয়োজন পড়বে না। নতুন এই আপডেটের বিষয়টি নিঃসন্দেহে গুগল ট্রান্সলেট ব্যবহারকারীদের জন্য সুসংবাদ। কারণ এতোদিন মেনু বা খাবারের নির্দেশনা বুঝতে ট্রান্সলেট অ্যাপের ক্যামেরা ফিচার ব্যবহার করা হলেও ভাষার সীমাবদ্ধতা ও উন্নত অনুবাদ সেবার অভাবের বিষয়টি চোখে পড়তো। ভার্জের বরাতে জানা গেছে, ১০ জুলাই বিশ্বের ১ শতাংশ ট্রান্সলেট ব্যবহারকারীর জন্য আপডেটটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে অন্যান্য ব্যবহারকারীরাও এই আপডেটের সুবিধা পাবেন।

42
ইউরোপিয়ান ফুটবলে আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের দাপট চলছে। লা লিগায় গোল করে ও করিয়ে মেসি এবারও বার্সেলোনাকে লিগ জিতিয়েছেন। রিয়াল বেতিসের হয়ে লো চেলসোও কম যাননি। ইংলিশ ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে সার্জিও আগুয়েরো-ওটামেন্ডিও চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য। ইন্টার মিলানের লওতারো মার্টিনেজও ছিলেন দুর্দান্ত।
ক্লাবের জার্সি খুলে আর্জেন্টিনার জার্সি পরলেই এদের আর চেনা যাচ্ছে না। তাই আর্জেন্টিনার বাজে অবস্থাও কাটছেই না। ম্যাচ কীভাবে জিততে হয়, ভুলে গেছেন যেন লিওনেল মেসিরা। কোপা আমেরিকায় গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে কলম্বিয়ার সঙ্গে ২-০ গোলে হারা আর্জেন্টিনা গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে প্যারাগুয়ের সঙ্গে ড্র করেছে ১-১ গোলে। কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার জন্য অনেক হিসাব-নিকাশ তাই মাথায় রাখতে হচ্ছে মেসিদের। গ্রুপ থেকে দুই ম্যাচ জিতে কলম্বিয়া এর মধ্যেই পরের রাউন্ডে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করে ফেলেছে। গ্রুপের দ্বিতীয় স্থান দখলের জন্য লড়াই চলছে আর্জেন্টিনা, প্যারাগুয়ে ও কাতারের মধ্যে। শেষ ম্যাচে যদি আর্জেন্টিনা কাতারের কাছে হেরে যায়, তবে কোয়ার্টার ফাইনালের আশা বাদ দিয়ে দেশে যাওয়ার প্লেন ধরতে হবে মেসিদের।

এবার কোপা আমেরিকায় তিন গ্রুপের ১২ দলের মধ্যে ৮ দল পরের রাউন্ডে যেতে পারবে। প্রতিটি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ তো যাবেই, সঙ্গে তিন গ্রুপের তিন তৃতীয় স্থান দখলকারী দলের মধ্যে যে দুই দলের অবস্থা ভালো থাকবে, সে দুই দলও উঠবে পরবর্তী রাউন্ডে। এ জন্যই আর্জেন্টিনার আশা বেঁচে আছে এখনো। তাই কাতারকে হারাতেই হবে এবং একই সঙ্গে আশা করতে হবে ফালকাও-হামেসদের কলম্বিয়া যেন প্যারাগুয়েকে হারিয়ে দেয়। তাহলেই গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে পরের রাউন্ডে যেতে পারবেন মেসিরা। সে ক্ষেত্রে কলম্বিয়ার পয়েন্ট হয়ে যাবে ৯, আর্জেন্টিনার ৪ ও প্যারাগুয়ের ২। আর্জেন্টিনা-কাতার ম্যাচে আর্জেন্টিনা জিতলে ও কলম্বিয়া-প্যারাগুয়ে ম্যাচ যদি ড্র হয়, সে ক্ষেত্রে আর্জেন্টিনার পয়েন্ট হবে ৪, কলম্বিয়ার ৭ ও প্যারাগুয়ের ৩। তখনো গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে পরের রাউন্ডে যেতে পারবেন মেসিরা।

আর্জেন্টিনা-কাতার ম্যাচে আর্জেন্টিনা জিতলে ও কলম্বিয়া-প্যারাগুয়ে ম্যাচে প্যারাগুয়ে জিতলেও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যাবে আর্জেন্টিনা। সে ক্ষেত্রে চার পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের তিন নম্বর স্থানে থাকবে তারা। আর আশা করতে হবে গ্রুপ ‘সি’র তৃতীয় স্থান দখলকারী কোনো দলের পয়েন্ট যেন চার না হয়। পয়েন্ট চার হলেও গোল ব্যবধান যেন আর্জেন্টিনার চেয়ে কম থাকে। এরই মধ্যে গ্রুপ ‘এ’ থেকে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের তৃতীয় স্থানে রয়েছে পেরু (গোল ব্যবধান -৩)। আর গ্রুপ ‘সি’র একটি ম্যাচ ডে এখনো বাকি। তবে বর্তমান অবস্থায় জাপান ১ পয়েন্ট নিয়ে সেই গ্রুপের তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। জাপানের গোল ব্যবধান ঋণাত্মক ৪। আর্জেন্টিনার যেহেতু ঋণাত্মক ২, সে ক্ষেত্রে অন্তত পেরুর চেয়ে এগিয়ে থাকবে তারা। তার মানে কি আর্জেন্টিনা আজ না জিতলে কোনো আশা নেই? যদি কাতারের বিপক্ষে ড্র করে বসে, তখন? সে ক্ষেত্রে আশা করতে হবে প্যারাগুয়ে যেন কলম্বিয়ার বিপক্ষে অন্তত দুই গোলের ব্যবধানে হারে। এবং প্যারাগুয়ে যত গোল করবে, আর্জেন্টিনা যেন তার চেয়ে দুটি গোল বেশি করে। অর্থাৎ প্যারাগুয়ে যদি ৩-১ গোলে হারে সে ক্ষেত্রে আর্জেন্টিনা ড্র করলেও যেন সেটা ৩-৩ হয়। সে ক্ষেত্রে আর্জেন্টিনা, প্যারাগুয়ে ও কাতার তিন দলের পয়েন্ট হবে ২।

এতে গোল ব্যবধানে কাতার দ্বিতীয় স্থান নিয়ে নেবে। টুর্নামেন্টের শুরুতে শীর্ষ দল হিসেবে পটে থাকায় আর্জেন্টিনা প্যারাগুয়েকে টপকে তৃতীয় হবে। এর পর আশায় থাকতে হবে, যেন গ্রুপ ‘সি’ তে জাপান-ইকুয়েডর ম্যাচটা যেকোনো ব্যবধানেই হোক সমতায় শেষ হোক। সে ক্ষেত্রে জাপানের পয়েন্ট দুই হলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকবে তারা। আর দ্বিতীয় সেরা তৃতীয় দল হিসেবে আর্জেন্টিনা চলে যাবে। আপাতত নিজেরা যেন কাতারকে হারাতে পারে , এই আশাই করতে হবে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের। তাহলেই গ্রুপের দ্বিতীয় বা সেরা তিনের একটি হয়ে চলে যাবে আর্জেন্টিনা। এত কঠিন হিসাব-নিকাশের মধ্য দিয়ে যেতে হবে না তাদের।

43
এ বিশ্বকাপে নিজেদের নামের পাশ থেকে ‘চোকার’ ট্যাগ সরানোর ইচ্ছা জানিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। বিশ্বকাপে বারবার নক আউট পর্ব থেকে বাদ পড়ার কারণে লেগে যাওয়া ট্যাগ সরাতে অবশ্য ভিন্ন পন্থাই নিয়েছে দলটি। এবার আর নক আউটে ওঠার ঝামেলাতেই যায়নি। বিশ্বকাপে এখনো পর্যন্ত একমাত্র আফগানিস্তানকে হারিয়েছে তারা। আফগানিস্তানের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়েছে তারা। ৯ উইকেটে ২৪৯ রানে থেমে পাকিস্তানের কাছে ৪৯ রানে হেরে গেছে দক্ষিণ আফ্রিকা।

পরাজয়ের ব্যবধানটা দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ জুড়ে দেখানো অসহায়ত্ব বোঝাতে পারছে না। ৩০৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে কখনোই স্বস্তিতে ছিল না তারা। শেষ ১০ ওভারে ৫ উইকেটে ১২০ রান করার লক্ষ্য পেয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। উইকেটে ডেভিড মিলার (৩১) ও আন্দিলে ফিকোয়াও (৪৬*) ছিলেন। এর পরে নামবেন ক্রিস মরিস। বিশ্বজুড়ে টি-টোয়েন্টিতে ত্রাস সৃষ্টি করা এ নামগুলোর কারণেই ধারাভাষ্যকক্ষে থাকা সাবেক ক্রিকেটার দক্ষিণ আফ্রিকাকে উড়িয়ে দিতে চাইলেন না। কিন্তু ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের ‘রথি-মহারথী’রা যে বিশ্বকাপ এলেই কাবু হয়ে পড়েন। ৪১তম ওভারের চতুর্থ বলেই বিদায় নিলেন মিলার। তাঁকে অনুসরণ করতে মরিসও খুব বেশি সময় নেননি।
পাকিস্তানের গল্পটা উল্টো। বিশ্বকাপ দলে প্রথমে সুযোগ পাননি ওয়াহাব রিয়াজ ও মোহাম্মদ আমির। বিশ্বকাপের আগে গত দুই বছরে যে ভয়ংকর বাজে খেলছিলেন তারা। কিন্তু বিশ্বকাপে ঠিকই তাদের নিয়ে এল পাকিস্তান। এ দুই বাঁহাতি পেসার কী দুর্দান্তভাবেই না তার প্রতিদান দিচ্ছেন। প্রতি ম্যাচেই প্রথম স্পেলে মোহাম্মদ আমির উইকেট তুলে নিচ্ছেন। আজ তো নিয়েছেন প্রথম বলেই, দুর্দান্ত সুইংয়ে হাশিম আমলাকে কোনঠাসা করে। পরের স্পেলে ভয়ংকর হয়ে ওঠার হুমকি দেওয়া ফাফ ডু প্লেসিকেও (৬৩) ফিরিয়েছেন বাড়তি বাউন্সে।

ওয়াহাব রিয়াজকে স্লগ ওভারের জন্য নেওয়া হয়েছে সেটা প্রধান নির্বাচকই বলেছেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই সেটা দেখিয়েছেন। আজও দেখালেন। ৯০ মাইল ছোঁয়া গতিতে রিভার্স সুইং দক্ষিণ আফ্রিকার টেল এন্ডারদের জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে দেখা দিয়েছিল। এর মাঝে ক্রিস মরিসকে আউট করার বলটি নিয়ে তো রীতিমতো উচ্ছ্বাস দেখিয়েছেন ধারাভাষ্যে দায়িত্বের থাকা ওয়াসিম আকরাম।

শুধু ওয়াহাব-আমিরই নয়। আজ পাকিস্তানের সব বোলারই নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছেন। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তিন উইকেট নিয়েছেন শাদাব খান। ইমাদ ওয়াসিমের নিয়ন্ত্রিত বোলিং চাপে রেখেছে প্রোটিয়াদের। সাবেক খেলোয়াড়দের প্রশ্নের মুখে পড়া শাহিন আফ্রিদিও মিলারের উইকেট নিয়েছেন স্লগ ওভারের শুরুতে। এ ম্যাচে হেরে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার গাণিতিক সম্ভাবনাও শেষ প্রোটিয়াদের। আর ৬ ম্যাচে ৫ পয়েন্ট পেয়ে বাংলাদেশের পরেই আছে পাকিস্তান।

44
গত দুই দশকের হিসেবে দেখা যায় হিমালয়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টে আরোহণ করতে গিয়ে প্রতি বছর গড়ে ছয়জন আরোহী মারা যায়। কিন্তু এ বছর, শুধু এই বসন্ত মওসুমে, ইতোমধ্যেই এভারেস্টে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে, কিংবা নিখোঁজ হয়ে গেছেন। এবার রেকর্ড সংখ্যক আরোহীকে এভারেস্টে উঠার অনুমতি দিয়েছে নেপাল সরকার। তাদের সংখ্যা ৩৮১। তার অর্থ এই মৌসুমে প্রায় ৬০০ মানুষ এভারেস্টের চূড়ায় আরোহণ করবে। কারণ আরোহীদের সাথে গাইড ছাড়া আরও কিছু কর্মকর্তাও রয়েছেন।

এসব মৃত্যুর জন্য এভারেস্টে আরোহীদের ভিড় লেগে যাওয়াকে দায়ী করা হলেও আরো চারটি কারণ থাকতে পারে:

১. খারাপ আবহাওয়া

আরোহীদের অনেকেই মে মাসের শুরু থেকে এভারেস্টের বেইস ক্যাম্পে জড়ো হতে শুরু করে। এই সময়ে ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবের কারণেও কর্তৃপক্ষের মধ্যে এভারেস্টে আরোহণের বিষয়ে কিছু শঙ্কা ছিল। ঘূর্ণিঝড়ের পরের কয়েকদিন নেপালের হিমালয়ে আবহাওয়া খারাপ হয়ে যায়। ফলে নেপাল সরকারকে অন্তত দু'দিনের জন্যে এভারেস্টে আরোহণের সব কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দিতে হয়। ঝড়ো বাতাসে কমপক্ষে ২০টি তাবু উড়ে যায়। এছাড়াও খারাপ আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাওয়ার পর বেশ কয়েকজন আরোহী, যারা ইতোমধ্যেই অনেক উপরের দিকে উঠে গিয়েছিলেন, তারা বেইস ক্যাম্পে নেমে আসেন। এই খারাপ আবহাওয়ার কারণে আরোহীরা যেসব দড়ি ধরে উপরের দিকে উঠেন সেগুলো স্থাপন করতেও দেরি হয়ে হয়ে যায়। কিন্তু এর মধ্যে বেইস ক্যাম্পে আরোহীদের ভিড় বাড়তে থাকে। নেপাল ও চীনের সীমান্তের মাঝখানে এই এভারেস্ট। চীনা দিক থেকেও এই পর্বতশৃঙ্গে আরোহণ করা যায়। চীন সরকারের পক্ষ থেকে এবার খুব কম সংখ্যক আরোহীকে পর্বতারোহণের অনুমতি দেওয়া হয়। মে মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে দড়ি বসানোর কাজ শেষ হয়। তারপর আরোহণের উপযোগী আবহাওয়া ছিল ১৯ এবং ২০শে মে। কিন্তু পর্বতারোহীদের খুব কম সংখ্যক দলই সে সময় উপরে উঠার সিদ্ধান্ত নেয়। বেশিরভাগ আরোহীই ২২ থেকে ২৪শে মে পর্যন্ত দিনগুলোকে বেছে নেয় আরোহণের জন্যে। এই সময়েও আবহাওয়া ভালো থাকার পূর্বাভাস ছিল।

২. ভিড় সামলানোর অব্যবস্থাপনা
এবারের এতো প্রাণহানির জন্য পর্বতারোহণ বিশেষজ্ঞরা অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করছেন। তারা বলছেন, আরোহীরা যখন পরের সময়টিকে বেছে নেয় তখনই সেখানে ঝামেলা তৈরি হয়। দিনটি ছিল ২৩শে মে। এই একদিনেই সর্বোচ্চ সংখ্যক আরোহী ২৫০ জনেরও বেশি, সেদিন চূড়ার অভিমুখে যাত্রা করতে শুরু করে। তখন এতোই ভিড় লেগে যায় যে উঠা ও নামার পথে আরোহীদেরকে চূড়ার নিচের ক্যাম্পে কয়েক ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করতে হয়। তাদের অনেকেই ততোক্ষণে ক্লান্ত হয়ে পড়েন এবং তাদের সিলিন্ডারের অক্সিজেনও ফুরিয়ে যেতে শুরু করে। নেপালের পর্বতারোহণ আইন অনুসারে অভিযানকারী দলগুলোর সাথে লিয়াঁজো অফিসারকেও থাকতে হয়। এ জন্য এবার নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল ৫৯ জনকে। কিন্তু তাদের মাত্র পাঁচজন শেষ পর্যন্ত আরোহণের চূড়ান্ত পর্বে আরোহীদের সাথে ছিলেন।শুধু তাই নয়, তাদের কয়েকজন বেইস ক্যাম্পে অবস্থানের পর বাড়িতেও ফিরে গেছেন। এই লিয়াঁজো অফিসাররা হলেন সরকারি কর্মকর্তা যাদের পর্বতারোহণের কোনও অভিজ্ঞতা নেই। ফলে এভারেস্টের উচ্চতায় অবস্থান করতে তাদের অসুবিধা হচ্ছিল। এভারেস্ট বেইস ক্যাম্পের একজন কর্মকর্তা বলেন, এই লিয়াঁজো অফিসাররা যদি আরোহীদের সাথে থাকতেন, ভিড় সামাল দিতেন, তাহলে এরকম পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। আমরা আরোহীদেরকে বিভিন্ন সময়ে আরোহণের জন্যে ভাগ করে দিতে পারতাম। ফলে প্রথম দফায়, ১৯ ও ২০শে মে, আরও বেশি আরোহীকে আরোহণ করতে দেখা যেত এবং দ্বিতীয় দফার উপরেও এতো চাপ তৈরি হতো না। তারা বলছেন, এই লিয়াঁজো অফিসারদের উপস্থিত না থাকাও নেপালের পর্বতারোহণ কর্তৃপক্ষের জন্যে গত কয়েক বছর ধরেই বড় রকমের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পর্যটন মন্ত্রণালয়ের পর্বতারোহণ শাখার প্রধান মীরা আচার্য বলেন, যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল তাদের ৮০ শতাংশ এবার বেইস ক্যাম্পে গিয়েছিলেন। আমি স্বীকার করছি তাদের বেশিরভাগই খুব বেশি সময় সেখানে ছিলেন না। এ বিষয়ে আমরা অবহিত আছি এবং এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা তো মাউন্ট কিলিমাঞ্জারোতেও আরোহীদের মৃত্যুর কথা শুনি। শুধু এভারেস্টের কথা আলাদা করে বলা হচ্ছে কেন?

৩. অনভিজ্ঞ আরোহী
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একই সাথে অনভিজ্ঞ আরোহীর সংখ্যাও ক্রমশ বাড়ছে। এবার কোন কোন দলের সাথে ছিল একজন মাত্র শেরপা গাইড। তিনি বলেন, যখন কোন আরোহী এ রকম বিপজ্জনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হবেন তখন একজন শেরপা তাকে খুব বেশি সাহায্য করতে পারবে না। কারণ নিজেকেও তো বাঁচতে হবে। অনেক পর্বতারোহী যারা সফলভাবে এভারেস্ট থেকে নেমে এসেছেন তারা বলছেন, অক্সিজেনের অভাবে অনেক আরোহীর কষ্ট হচ্ছিল। লম্বা সময় ধরে অপেক্ষা করার জন্য তাদের অক্সিজেন শেষ হয়ে আসছিল। অ্যালান আর্নেট, যিনি একজন অভিজ্ঞ আরোহী। তিনি বলেন, এরা নতুন আরোহী। তারা খুব দ্রুত উপরে উঠেই নেমে যেতে চায়। অন্যান্য শিখরে উঠার সাথে যে এভারেস্টে আরোহণের একটা তফাৎ আছে সেটা তারা জানে না। অভিজ্ঞ আরোহীরা বলছেন, আরোহণের ব্যাপারে এখন কিছু শর্ত আরোপ করার সময় এসেছে। যেমন যাদের ৬,০০০ মিটার উপরে উঠার অভিজ্ঞতা আছে শুধু তাদেরকেই এভারেস্টে আরোহণের অনুমতি দিতে হবে।

৪. অপারেটরদের প্রতিযোগিতা
এভারেস্টে আরোহণের ব্যাপারে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। গড়ে উঠেছে নতুন নতুন কিছু অপারেটরও। তাদের মধ্যে শুরু হয়েছে প্রতিযোগিতা। নতুন অপারেটররা আরোহীদের কাছ থেকে কম অর্থ নিচ্ছেন। এই প্রতিযোগিতার কারণে পুরোনো অনেক প্রতিষ্ঠানও তাদের ফি কমিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছেন। ন্যাশনাল মাউন্টেন গাইডস এসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট টিশেরিং পাণ্ডে ভোট বলেন, এর ফলে এসব সংস্থা অনভিজ্ঞ লোকজনকে নিয়োগ দিচ্ছে গাইড হিসেবে। ফলে খারাপ পরিস্থিতিতে তারা আসলে তাদের মক্কেলকে খুব একটা সহযোগিতা করতে পারে না। প্রতিযোগিতাটা গুণগত মান বাড়ানোর জন্যে নয়, প্রতিযোগিতা হচ্ছে সংখ্যায়। অপারেটররাও এই সমস্যার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তারা বলছেন, তাদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে দর্শনার্থীর সংখ্যাও বাড়ানো দরকার। অপারেটর সমিতির প্রধান ডাম্বার পারাজুলি বলেন, আরোহীসহ আমাদের আরও দর্শনার্থী প্রয়োজন। আমরা যেভাবে ট্রাফিক জ্যাম নিয়ন্ত্রণ করে থাকি ঠিক সেভাবেই এই আরোহীদেরকেও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এটাই আমাদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

45
ক্রিকেট বিশ্বকাপকে ‘বিশ্বকাপ’ হিসেইে স্বীকার করতে চাইতেন না সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। প্রয়াত এই সাহিত্যিক বলতেন, ১২-১৪ দলের একটা খেলা কী করে বিশ্বকাপ হয়! ভাগ্যিস সুনীল বেঁচে নেই! এবার সেই ক্রিকেট বিশ্বকাপ ছোট হয়ে ১০ দলের খেলা হয়ে গেছে। এই ঘটনা শুনলে তো ক্রিকেট বিশ্বকাপকে টুর্নামেন্ট বলেই মানতে চাইতেন না সুনীল। তবে এই ১০ দলের খেলা বলেই এবার অনন্য এক বিশ্বকাপ দেখতে চলেছি আমরা। গত কয়েক আসর ধরে বিশ্বকাপের যে অনিশ্চয়তা দেখে আমরা অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিলাম, সেটা শেষ হতে চলল। লিগভিত্তিক এই টুর্নামেন্ট এবার সত্যিই খুজে বের করবে ‘সেরা’ দলকে। আর এ জন্যই মানতে হবে যে, এই ২০১৯ সালে ইংল্যান্ডে হতে চলেছে স্মরণকালের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী ক্রিকেট বিশ্বকাপ।

১৯৭৫ সালে ৮টি দলকে নিয়ে শুরু হয়েছিল ওয়ানডে বিশ্বকাপ। এর মধ্যে ৬টি ছিল আইসিসির পূর্ন সদস্য এবং বাকি দুটি সহযোগী সদস্য দেশ। তখন ক্রিকেট খেলুড়ে দেশ এত কম ছিল যে, এটাই বেশ বড় আকারের টুর্নামেন্ট বলে বিবেচিত হয়েছিল। তাও কিন্তু সব দল সবার সাথে খেলেনি। ৮ দলকে দুই গ্রুপে ভাগ করে হয়েছিল আয়োজন। ১৯৭৯ সালে ঠিক একই ফরম্যাটে আয়োজিত হয় দ্বিতীয় আসর। সবার সাথে সবার দেখা হলো না। ১৯৮৩ সালের তৃতীয় আসরেও ৮টি দল দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলল। ১৯৮৭ সালের চতুর্থ আসরেও দেখা গেল একই ঘটনা। ১৯৯২ সালে এসে প্রথম বিশ্বকাপের ফরম্যাট বদলায়।

১৯৯২ বিশ্বকাপকে বলা যায় এবারের বিশ্বকাপের প্রকৃত পূর্বসুরী। সেবার বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল ৯টি দল। সবার সাথে সবার খেলা হলো। এরপর সেরা চারটি দল সরাসরি খেলল সেমিফাইনাল। সেই সময়ই একটা প্রস্তাবনা ছিল যে, ক্রিকেট যেহেতু কম দেশের খেলা, এই ফরম্যাটটাই ধরে রাখা হোক। কিন্তু ১৯৯৬ সালে আবার ফরম্যাটে পরিবর্তন এলো।

ততদিনে জগমোহন ডালমিয়াদের কল্যাণে ক্রিকেটের গায়ে বিশ্বায়নের বাতাস লেগেছে। ফলে ক্রিকেটকে ছড়িয়ে দেওয়ার একটা মন্ত্র নিয়ে ১৯৯৬ সালে বিশ্বকাপের আসর বসলো দক্ষিণ এশিয়ার তিন টেস্ট খেলুড়ে দেশে। অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা এক লাফে বেড়ে হলো ১২। দুই গ্রুপে ৬টি করে দল খেললো। ফলে সবার সাথে সবার খেলার যে ধারা ১৯৯২ সালে দেখা গিয়েছিল, সেখান থেকে আবার সরে এলো বিশ্বকাপ। ১৯৯৬ ও ১৯৯৯ সালে ১২ দলকে নিয়ে দুই গ্রুপের খেলা হলো। এরপর ২০০৩ সালের বিশ্বকাপে দল বাড়লো আরেও দুটো। ১৪ দল এবার দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে খেললো।

২০০৭ সালে একেবারে আনকোরা, মোড়কভাঙা এক পদ্ধতির বিশ্বকাপ দেখলো ক্রিকেটবিশ্ব। ১৬ দলের টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হলো ওয়েস্ট ইন্ডিজে। এবার ৪টি গ্রুপে অনুষ্ঠিত হলো খেলা। প্রত্যেক গ্রুপের সেরা দুই দল গেল পরের রাউন্ডে; নাম দেওয়া হলো-সুপার এইট। এই ‘সুপার এইট’-এর সব দল সবার সাথে খেললো। এখান থেকে সেরা ৪ দল গেল সেমিফাইনালে। সেটা ছিল ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ। বিশ্বায়নের পর্বে যারা ছিলেন, তারা বললেন, এটাই বিশ্বকাপের সেরা মডেল। কিন্তু এই মডেল থেকে সরে এলো আইসিসি।

২০১১ সালে আবারও সেই ২০০৩ সালের ফরম্যাটে ফিরে গেল উপমহাদেশের বিশ্বকাপ। ১৪ দল দুই গ্রুপে অংশ নিলো। তবে এবার বাড়তি হিসেবে যোগ হলো কোয়ার্টার ফাইনাল। ২০১৫ সালে, মানে সর্বশেষ আসরটিতেও হলো এই একই ধরনের বিশ্বকাপ। কিন্তু ২০১৯ সালের জন্য আইসিসি হঠাৎ করে দলসংখ্যা কমিয়ে একেবারে নব্বই দশকের শুরুতে চলে গেল। আর ফরম্যাটও করা হলো রবিন লিগ পদ্ধতির।

এখন ক্রিকেট বিশ্ব এই বিশ্বকাপ নিয়ে দুই ভাগে বিভক্ত। এক দল মনে করেন, ক্রিকেটের মতো স্বল্প বিস্তৃত খেলার জন্য এটাই আদর্শ ফরম্যাট। কারণ, এখানে সবার সাথে সবার খেলা বলে অঘটন ঘটার সম্ভাবনা কম। ফলে সত্যিকারের সেরা চারটি দলই সেমিফাইনালে যাবে।

আবার ক্রিকেট ছড়িয়ে দেওয়ার পক্ষে যারা কথা বলেন, তারা বলেন, ক্রিকেটের সৌন্দর্যটাই এই ফরম্যাটের কারণে নষ্ট হয়ে গেছে। অঘটন ঘটার সম্ভাবনা শেষ করে দেওয়াতে একটা আয়ারল্যান্ড বা জিম্বাবুয়ের উত্থান দেখা কঠিন হয়ে গেছে বিশ্বকাপে। ২০০৭ বা ২০১১ বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ড যেভাবে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল পাকিস্তান বা ইংল্যান্ডকে হারিয়ে, সেটা এবার আর দেখা যাবে না। শুধু আয়ারল্যান্ড কেন, জিম্বাবুয়ের মতো ক্রিকেটের পুরোনো দলও এবার রয়ে গেল বিশ্বকাপের বাইরে।

শচীন টেন্ডুলকার থেকে শুরু করে বিভিন্ন সাবেক-বর্তমান ক্রিকেটার তাই এই ফরম্যাটের সমালোচনা করেছেন। তবে সমালোচনা থাক আর প্রশংসা থাক; এটা মানতেই হবে যে, এই বিশ্বকাপ অন্য যে কোনো আসরের চেয়ে আলাদা হতে চলেছে। সেটা শুধু ফরম্যাটের জন্য, তা নয়। আরেও কিছু বিচারের জায়গা আছে। এবার বিশ্বকাপ ইংল্যান্ডে অন্যরকম রান উত্সবের একটা বিশ্বকাপ হওয়ার কথা।

ইংল্যান্ডে এই নিয়ে পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপ হচ্ছে। প্রথম তিন বার বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল ইংলিশরা। তখন ইংল্যান্ড থেকে বিশ্বকাপকে বের করার জন্য এশিয়াভিত্তিক একটা রাজনৈতিক সক্রিয়তাও হয়েছিল, যার অংশ হিসেবেই জন্ম নিয়েছিল এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল। এরপর আবর্তন নীতিতে বিশ্বকাপ আয়োজিত হতে থাকে। সেই নীতিতে ১৯৯৯ সালে আবারও বিশ্বকাপ হয়েছিল যুক্তরাজ্যে। কিন্তু এই ক্রিকেটের ‘মাতৃভূমিতে’ কখনোই বিশ্বকাপ ঠিক রান উত্সবের আসর হয়ে ওঠেনি। এবার সেটা হওয়ার খুব সম্ভাবনা আছে।

ইতিমধ্যে বিশ্বকাপের আগে যুক্তরাজ্যে যেসব ওয়ানডে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হচ্ছে, সেখানে পাকিস্তান, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, আয়ারল্যান্ড, বাংলাদেশ রান উত্সব করছে। ফলে বিশ্বকাপেও যে সেটা হবে, তাতে খুব একটা সন্দেহ নেই। ইংল্যান্ড বলতে এক সময় মনে করা হতো বোলারদের খেলা। বিশেষ করে গ্রীষ্মের এই সময়ে সেখানে বল নড়াচড়া করবে, দারুণ সুইং থাকবে; এগুলোই সত্যি ছিল। কিন্তু ইংল্যান্ডে টি-টোয়েন্টি আসার পর থেকে সেখানে উইকেটের সেই মজাটা চলে গেছে। এখন ইংল্যান্ডে টেস্টেও ব্যাটসম্যানদের খেলা হয়। ফলে ওয়ানডে এখন সেখানে রীতিমতো বোলারদের বধ্যভূমি।

বিশ্বকাপে ৩০০ রানটাই বিরাট ব্যাপার। কিন্তু এবার বিশ্বকাপে সাড়ে তিনশো নিয়মিত স্কোর হয়ে উঠলেও তাই অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। তবে মজাটা হলো, সবটাই তো আর কিউরেটরের হাতে নেই। কিছুটা প্রকৃতির হাতেও আছে। এই সময়ে মাঝে মাঝেই ইংল্যান্ডের আকাশ ভারী হয়ে উঠবে। মেঘে ঢাকা আকাশে যতই বোলারদের বিরোধী উইকেট হোক, কিছুটা সুইং তো দেখা যাবেই। তাই ব্যাটসম্যানদের পরীক্ষার জন্যই অপেক্ষা করা যাক। অপেক্ষা করা যাক সত্যিই অনন্য এক বিশ্বকাপের জন্য।

Pages: 1 2 [3] 4 5 ... 44