Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Topics - Anuz

Pages: 1 2 3 [4] 5 6 ... 45
46
বিশ্বব্যাপী আড়াই কোটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন ‘এজেন্ট স্মিথ’ নামক নতুন এক ম্যালওয়্যারে আক্রান্ত হয়েছে। শুধু ভারতে এ ম্যালওয়্যার দেড় কোটি অ্যান্ড্রয়েড ফোনে পৌঁছেছে। এছাড়া বাংলাদেশ ও পাকিস্তানেও এ ম্যালওয়্যার ছড়িয়ে পড়েছে। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান চেক পয়েন্ট রিসার্চের এক প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করা হয়েছে। খবর এনডিটিভি। চেক পয়েন্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুরুতে গুগল অ্যাপ হিসেবে এ ম্যালওয়্যার অ্যান্ড্রয়েড ফোনে প্রবেশ করে। পরবর্তীতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গুগল অ্যাপের পরিবর্তে এ ম্যালওয়্যার নিজের অ্যাপ্লিকেশন ইনস্টল করে নেয়। ডিভাইস ব্যবহারকারীদের অজান্তেই এ ঘটনা ঘটছে। এছাড়া সুরক্ষা সম্পর্কিত ‘লটুর’ নামের একটি ম্যালওয়্যারের উপস্থিতির কথা জানিয়েছেন গবেষকরা।

চেক পয়েন্টের দাবি, অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস ব্যবহারকারীদের ভুয়া অ্যাপ ইনস্টলের সুবিধা দিয়ে ফোনে বিজ্ঞাপন দেখিয়ে বিপুল অংকের অর্থ উপার্জন করছে এজেন্ট স্মিথ ম্যালওয়্যার। তবে শক্তিশালী এ ম্যালওয়্যার খুব সহজেই অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিতে সক্ষম। আপাতত বিজ্ঞাপন প্রদর্শন ছাড়া এজেন্ট স্মিথ আর কী ধরনের কাজ করছে, তা বোঝা যায়নি। ডিভাইস ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য বেহাত হওয়ার মতো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। সাইবার নিরাপত্তা গবেষকরা সম্প্রতি ‘হামিংবার্ড কপিক্যাট’ নামে নতুন এক ম্যালওয়্যারের উপস্থিতি শনাক্ত করেন, যা অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল। এজেন্ট স্মিথ হামিংবার্ড কপিক্যাটের মতোই দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানানো হয়। এ ধরনের ম্যালওয়্যার ডিভাইস ব্যবহারকারীদের বিজ্ঞাপন দেখিয়ে কয়েক কোটি ডলার হাতিয়ে নিয়েছে বলে দাবি করা হয়। জানা যায়, তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ স্টোর ‘৯অ্যাপস’ থেকে এজেন্ট স্মিথ ছড়িয়ে পড়েছে। তবে আরবি, হিন্দি, ইন্দোনেশিয়ান ও রুশ ভাষায় চলা ফোনে এ ম্যালওয়্যার বেশি দেখা গেছে। ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে এ ম্যালওয়্যার সবচেয়ে বেশি ছড়িয়ে পড়েছে।

47
নিজেদের ট্রান্সলেট অ্যাপের ক্যামেরা ফিচারের জন্য বেশ বড়সড় আপডেট নিয়ে এসেছে গুগল। নতুন ওই আপডেটের ফলে ক্যামেরা ফিচারে আরও ৬০টি ভাষায় সেবা দিতে পারবে ট্রান্সলেটর অ্যাপ। নতুন এই ৬০টি ভাষার মধ্যে রয়েছে বাংলা। এছাড়া ৮৫ শতাংশ উন্নত অনুবাদ সেবা এবং ক্যামেরা দিয়ে কোনও লেখার ছবি ধারণ করার সময় তা যেন আরও স্থির থাকে এমন সুযোগ-সুবিধা নিয়ে এসেছে নতুন আপডেটটি। প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট দ্য ভার্জ নিজেদের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে সংবাদটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছে। নিজেদের প্রতিবেদনে ভার্জ লিখেছে, ট্রান্সলেটর অ্যাপের ক্যামেরা ফিচারে নতুন যোগ হতে যাওয়া ভাষাগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলা, আফ্রিকান, অ্যারাবিক, এস্টোনিয়ান, গ্রিক, হিন্দি, ইগবো, জাভানিজ, কুর্দিশ, লাটিন, লাটভিয়ান, মালয়, মঙ্গোলিয়ান, নেপালি, পশতু, পার্সিয়ান, সামোয়ান, সেসথো, স্লোভেনিয়ান, সোহাইলি, থাই, ভিয়েতনামিজ, ওয়েলশ ইত্যাদি।

গুগলের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, অ্যাপটির আপডেটেড সংস্করণ নিজে থেকেই ভাষা চিহ্নিত করতে পারবে, ভাষা চিনিয়ে দেওয়া বা ভাষা নির্বাচন করে দেওয়ার প্রয়োজন পড়বে না। নতুন এই আপডেটের বিষয়টি নিঃসন্দেহে গুগল ট্রান্সলেট ব্যবহারকারীদের জন্য সুসংবাদ। কারণ এতোদিন মেনু বা খাবারের নির্দেশনা বুঝতে ট্রান্সলেট অ্যাপের ক্যামেরা ফিচার ব্যবহার করা হলেও ভাষার সীমাবদ্ধতা ও উন্নত অনুবাদ সেবার অভাবের বিষয়টি চোখে পড়তো। ভার্জের বরাতে জানা গেছে, ১০ জুলাই বিশ্বের ১ শতাংশ ট্রান্সলেট ব্যবহারকারীর জন্য আপডেটটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে অন্যান্য ব্যবহারকারীরাও এই আপডেটের সুবিধা পাবেন।

48
ইউরোপিয়ান ফুটবলে আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের দাপট চলছে। লা লিগায় গোল করে ও করিয়ে মেসি এবারও বার্সেলোনাকে লিগ জিতিয়েছেন। রিয়াল বেতিসের হয়ে লো চেলসোও কম যাননি। ইংলিশ ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে সার্জিও আগুয়েরো-ওটামেন্ডিও চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য। ইন্টার মিলানের লওতারো মার্টিনেজও ছিলেন দুর্দান্ত।
ক্লাবের জার্সি খুলে আর্জেন্টিনার জার্সি পরলেই এদের আর চেনা যাচ্ছে না। তাই আর্জেন্টিনার বাজে অবস্থাও কাটছেই না। ম্যাচ কীভাবে জিততে হয়, ভুলে গেছেন যেন লিওনেল মেসিরা। কোপা আমেরিকায় গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে কলম্বিয়ার সঙ্গে ২-০ গোলে হারা আর্জেন্টিনা গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে প্যারাগুয়ের সঙ্গে ড্র করেছে ১-১ গোলে। কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার জন্য অনেক হিসাব-নিকাশ তাই মাথায় রাখতে হচ্ছে মেসিদের। গ্রুপ থেকে দুই ম্যাচ জিতে কলম্বিয়া এর মধ্যেই পরের রাউন্ডে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করে ফেলেছে। গ্রুপের দ্বিতীয় স্থান দখলের জন্য লড়াই চলছে আর্জেন্টিনা, প্যারাগুয়ে ও কাতারের মধ্যে। শেষ ম্যাচে যদি আর্জেন্টিনা কাতারের কাছে হেরে যায়, তবে কোয়ার্টার ফাইনালের আশা বাদ দিয়ে দেশে যাওয়ার প্লেন ধরতে হবে মেসিদের।

এবার কোপা আমেরিকায় তিন গ্রুপের ১২ দলের মধ্যে ৮ দল পরের রাউন্ডে যেতে পারবে। প্রতিটি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ তো যাবেই, সঙ্গে তিন গ্রুপের তিন তৃতীয় স্থান দখলকারী দলের মধ্যে যে দুই দলের অবস্থা ভালো থাকবে, সে দুই দলও উঠবে পরবর্তী রাউন্ডে। এ জন্যই আর্জেন্টিনার আশা বেঁচে আছে এখনো। তাই কাতারকে হারাতেই হবে এবং একই সঙ্গে আশা করতে হবে ফালকাও-হামেসদের কলম্বিয়া যেন প্যারাগুয়েকে হারিয়ে দেয়। তাহলেই গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে পরের রাউন্ডে যেতে পারবেন মেসিরা। সে ক্ষেত্রে কলম্বিয়ার পয়েন্ট হয়ে যাবে ৯, আর্জেন্টিনার ৪ ও প্যারাগুয়ের ২। আর্জেন্টিনা-কাতার ম্যাচে আর্জেন্টিনা জিতলে ও কলম্বিয়া-প্যারাগুয়ে ম্যাচ যদি ড্র হয়, সে ক্ষেত্রে আর্জেন্টিনার পয়েন্ট হবে ৪, কলম্বিয়ার ৭ ও প্যারাগুয়ের ৩। তখনো গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে পরের রাউন্ডে যেতে পারবেন মেসিরা।

আর্জেন্টিনা-কাতার ম্যাচে আর্জেন্টিনা জিতলে ও কলম্বিয়া-প্যারাগুয়ে ম্যাচে প্যারাগুয়ে জিতলেও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যাবে আর্জেন্টিনা। সে ক্ষেত্রে চার পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের তিন নম্বর স্থানে থাকবে তারা। আর আশা করতে হবে গ্রুপ ‘সি’র তৃতীয় স্থান দখলকারী কোনো দলের পয়েন্ট যেন চার না হয়। পয়েন্ট চার হলেও গোল ব্যবধান যেন আর্জেন্টিনার চেয়ে কম থাকে। এরই মধ্যে গ্রুপ ‘এ’ থেকে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের তৃতীয় স্থানে রয়েছে পেরু (গোল ব্যবধান -৩)। আর গ্রুপ ‘সি’র একটি ম্যাচ ডে এখনো বাকি। তবে বর্তমান অবস্থায় জাপান ১ পয়েন্ট নিয়ে সেই গ্রুপের তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। জাপানের গোল ব্যবধান ঋণাত্মক ৪। আর্জেন্টিনার যেহেতু ঋণাত্মক ২, সে ক্ষেত্রে অন্তত পেরুর চেয়ে এগিয়ে থাকবে তারা। তার মানে কি আর্জেন্টিনা আজ না জিতলে কোনো আশা নেই? যদি কাতারের বিপক্ষে ড্র করে বসে, তখন? সে ক্ষেত্রে আশা করতে হবে প্যারাগুয়ে যেন কলম্বিয়ার বিপক্ষে অন্তত দুই গোলের ব্যবধানে হারে। এবং প্যারাগুয়ে যত গোল করবে, আর্জেন্টিনা যেন তার চেয়ে দুটি গোল বেশি করে। অর্থাৎ প্যারাগুয়ে যদি ৩-১ গোলে হারে সে ক্ষেত্রে আর্জেন্টিনা ড্র করলেও যেন সেটা ৩-৩ হয়। সে ক্ষেত্রে আর্জেন্টিনা, প্যারাগুয়ে ও কাতার তিন দলের পয়েন্ট হবে ২।

এতে গোল ব্যবধানে কাতার দ্বিতীয় স্থান নিয়ে নেবে। টুর্নামেন্টের শুরুতে শীর্ষ দল হিসেবে পটে থাকায় আর্জেন্টিনা প্যারাগুয়েকে টপকে তৃতীয় হবে। এর পর আশায় থাকতে হবে, যেন গ্রুপ ‘সি’ তে জাপান-ইকুয়েডর ম্যাচটা যেকোনো ব্যবধানেই হোক সমতায় শেষ হোক। সে ক্ষেত্রে জাপানের পয়েন্ট দুই হলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকবে তারা। আর দ্বিতীয় সেরা তৃতীয় দল হিসেবে আর্জেন্টিনা চলে যাবে। আপাতত নিজেরা যেন কাতারকে হারাতে পারে , এই আশাই করতে হবে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের। তাহলেই গ্রুপের দ্বিতীয় বা সেরা তিনের একটি হয়ে চলে যাবে আর্জেন্টিনা। এত কঠিন হিসাব-নিকাশের মধ্য দিয়ে যেতে হবে না তাদের।

49
এ বিশ্বকাপে নিজেদের নামের পাশ থেকে ‘চোকার’ ট্যাগ সরানোর ইচ্ছা জানিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। বিশ্বকাপে বারবার নক আউট পর্ব থেকে বাদ পড়ার কারণে লেগে যাওয়া ট্যাগ সরাতে অবশ্য ভিন্ন পন্থাই নিয়েছে দলটি। এবার আর নক আউটে ওঠার ঝামেলাতেই যায়নি। বিশ্বকাপে এখনো পর্যন্ত একমাত্র আফগানিস্তানকে হারিয়েছে তারা। আফগানিস্তানের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়েছে তারা। ৯ উইকেটে ২৪৯ রানে থেমে পাকিস্তানের কাছে ৪৯ রানে হেরে গেছে দক্ষিণ আফ্রিকা।

পরাজয়ের ব্যবধানটা দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ জুড়ে দেখানো অসহায়ত্ব বোঝাতে পারছে না। ৩০৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে কখনোই স্বস্তিতে ছিল না তারা। শেষ ১০ ওভারে ৫ উইকেটে ১২০ রান করার লক্ষ্য পেয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। উইকেটে ডেভিড মিলার (৩১) ও আন্দিলে ফিকোয়াও (৪৬*) ছিলেন। এর পরে নামবেন ক্রিস মরিস। বিশ্বজুড়ে টি-টোয়েন্টিতে ত্রাস সৃষ্টি করা এ নামগুলোর কারণেই ধারাভাষ্যকক্ষে থাকা সাবেক ক্রিকেটার দক্ষিণ আফ্রিকাকে উড়িয়ে দিতে চাইলেন না। কিন্তু ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের ‘রথি-মহারথী’রা যে বিশ্বকাপ এলেই কাবু হয়ে পড়েন। ৪১তম ওভারের চতুর্থ বলেই বিদায় নিলেন মিলার। তাঁকে অনুসরণ করতে মরিসও খুব বেশি সময় নেননি।
পাকিস্তানের গল্পটা উল্টো। বিশ্বকাপ দলে প্রথমে সুযোগ পাননি ওয়াহাব রিয়াজ ও মোহাম্মদ আমির। বিশ্বকাপের আগে গত দুই বছরে যে ভয়ংকর বাজে খেলছিলেন তারা। কিন্তু বিশ্বকাপে ঠিকই তাদের নিয়ে এল পাকিস্তান। এ দুই বাঁহাতি পেসার কী দুর্দান্তভাবেই না তার প্রতিদান দিচ্ছেন। প্রতি ম্যাচেই প্রথম স্পেলে মোহাম্মদ আমির উইকেট তুলে নিচ্ছেন। আজ তো নিয়েছেন প্রথম বলেই, দুর্দান্ত সুইংয়ে হাশিম আমলাকে কোনঠাসা করে। পরের স্পেলে ভয়ংকর হয়ে ওঠার হুমকি দেওয়া ফাফ ডু প্লেসিকেও (৬৩) ফিরিয়েছেন বাড়তি বাউন্সে।

ওয়াহাব রিয়াজকে স্লগ ওভারের জন্য নেওয়া হয়েছে সেটা প্রধান নির্বাচকই বলেছেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই সেটা দেখিয়েছেন। আজও দেখালেন। ৯০ মাইল ছোঁয়া গতিতে রিভার্স সুইং দক্ষিণ আফ্রিকার টেল এন্ডারদের জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে দেখা দিয়েছিল। এর মাঝে ক্রিস মরিসকে আউট করার বলটি নিয়ে তো রীতিমতো উচ্ছ্বাস দেখিয়েছেন ধারাভাষ্যে দায়িত্বের থাকা ওয়াসিম আকরাম।

শুধু ওয়াহাব-আমিরই নয়। আজ পাকিস্তানের সব বোলারই নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছেন। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তিন উইকেট নিয়েছেন শাদাব খান। ইমাদ ওয়াসিমের নিয়ন্ত্রিত বোলিং চাপে রেখেছে প্রোটিয়াদের। সাবেক খেলোয়াড়দের প্রশ্নের মুখে পড়া শাহিন আফ্রিদিও মিলারের উইকেট নিয়েছেন স্লগ ওভারের শুরুতে। এ ম্যাচে হেরে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার গাণিতিক সম্ভাবনাও শেষ প্রোটিয়াদের। আর ৬ ম্যাচে ৫ পয়েন্ট পেয়ে বাংলাদেশের পরেই আছে পাকিস্তান।

50
গত দুই দশকের হিসেবে দেখা যায় হিমালয়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টে আরোহণ করতে গিয়ে প্রতি বছর গড়ে ছয়জন আরোহী মারা যায়। কিন্তু এ বছর, শুধু এই বসন্ত মওসুমে, ইতোমধ্যেই এভারেস্টে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে, কিংবা নিখোঁজ হয়ে গেছেন। এবার রেকর্ড সংখ্যক আরোহীকে এভারেস্টে উঠার অনুমতি দিয়েছে নেপাল সরকার। তাদের সংখ্যা ৩৮১। তার অর্থ এই মৌসুমে প্রায় ৬০০ মানুষ এভারেস্টের চূড়ায় আরোহণ করবে। কারণ আরোহীদের সাথে গাইড ছাড়া আরও কিছু কর্মকর্তাও রয়েছেন।

এসব মৃত্যুর জন্য এভারেস্টে আরোহীদের ভিড় লেগে যাওয়াকে দায়ী করা হলেও আরো চারটি কারণ থাকতে পারে:

১. খারাপ আবহাওয়া

আরোহীদের অনেকেই মে মাসের শুরু থেকে এভারেস্টের বেইস ক্যাম্পে জড়ো হতে শুরু করে। এই সময়ে ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবের কারণেও কর্তৃপক্ষের মধ্যে এভারেস্টে আরোহণের বিষয়ে কিছু শঙ্কা ছিল। ঘূর্ণিঝড়ের পরের কয়েকদিন নেপালের হিমালয়ে আবহাওয়া খারাপ হয়ে যায়। ফলে নেপাল সরকারকে অন্তত দু'দিনের জন্যে এভারেস্টে আরোহণের সব কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দিতে হয়। ঝড়ো বাতাসে কমপক্ষে ২০টি তাবু উড়ে যায়। এছাড়াও খারাপ আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাওয়ার পর বেশ কয়েকজন আরোহী, যারা ইতোমধ্যেই অনেক উপরের দিকে উঠে গিয়েছিলেন, তারা বেইস ক্যাম্পে নেমে আসেন। এই খারাপ আবহাওয়ার কারণে আরোহীরা যেসব দড়ি ধরে উপরের দিকে উঠেন সেগুলো স্থাপন করতেও দেরি হয়ে হয়ে যায়। কিন্তু এর মধ্যে বেইস ক্যাম্পে আরোহীদের ভিড় বাড়তে থাকে। নেপাল ও চীনের সীমান্তের মাঝখানে এই এভারেস্ট। চীনা দিক থেকেও এই পর্বতশৃঙ্গে আরোহণ করা যায়। চীন সরকারের পক্ষ থেকে এবার খুব কম সংখ্যক আরোহীকে পর্বতারোহণের অনুমতি দেওয়া হয়। মে মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে দড়ি বসানোর কাজ শেষ হয়। তারপর আরোহণের উপযোগী আবহাওয়া ছিল ১৯ এবং ২০শে মে। কিন্তু পর্বতারোহীদের খুব কম সংখ্যক দলই সে সময় উপরে উঠার সিদ্ধান্ত নেয়। বেশিরভাগ আরোহীই ২২ থেকে ২৪শে মে পর্যন্ত দিনগুলোকে বেছে নেয় আরোহণের জন্যে। এই সময়েও আবহাওয়া ভালো থাকার পূর্বাভাস ছিল।

২. ভিড় সামলানোর অব্যবস্থাপনা
এবারের এতো প্রাণহানির জন্য পর্বতারোহণ বিশেষজ্ঞরা অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করছেন। তারা বলছেন, আরোহীরা যখন পরের সময়টিকে বেছে নেয় তখনই সেখানে ঝামেলা তৈরি হয়। দিনটি ছিল ২৩শে মে। এই একদিনেই সর্বোচ্চ সংখ্যক আরোহী ২৫০ জনেরও বেশি, সেদিন চূড়ার অভিমুখে যাত্রা করতে শুরু করে। তখন এতোই ভিড় লেগে যায় যে উঠা ও নামার পথে আরোহীদেরকে চূড়ার নিচের ক্যাম্পে কয়েক ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করতে হয়। তাদের অনেকেই ততোক্ষণে ক্লান্ত হয়ে পড়েন এবং তাদের সিলিন্ডারের অক্সিজেনও ফুরিয়ে যেতে শুরু করে। নেপালের পর্বতারোহণ আইন অনুসারে অভিযানকারী দলগুলোর সাথে লিয়াঁজো অফিসারকেও থাকতে হয়। এ জন্য এবার নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল ৫৯ জনকে। কিন্তু তাদের মাত্র পাঁচজন শেষ পর্যন্ত আরোহণের চূড়ান্ত পর্বে আরোহীদের সাথে ছিলেন।শুধু তাই নয়, তাদের কয়েকজন বেইস ক্যাম্পে অবস্থানের পর বাড়িতেও ফিরে গেছেন। এই লিয়াঁজো অফিসাররা হলেন সরকারি কর্মকর্তা যাদের পর্বতারোহণের কোনও অভিজ্ঞতা নেই। ফলে এভারেস্টের উচ্চতায় অবস্থান করতে তাদের অসুবিধা হচ্ছিল। এভারেস্ট বেইস ক্যাম্পের একজন কর্মকর্তা বলেন, এই লিয়াঁজো অফিসাররা যদি আরোহীদের সাথে থাকতেন, ভিড় সামাল দিতেন, তাহলে এরকম পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। আমরা আরোহীদেরকে বিভিন্ন সময়ে আরোহণের জন্যে ভাগ করে দিতে পারতাম। ফলে প্রথম দফায়, ১৯ ও ২০শে মে, আরও বেশি আরোহীকে আরোহণ করতে দেখা যেত এবং দ্বিতীয় দফার উপরেও এতো চাপ তৈরি হতো না। তারা বলছেন, এই লিয়াঁজো অফিসারদের উপস্থিত না থাকাও নেপালের পর্বতারোহণ কর্তৃপক্ষের জন্যে গত কয়েক বছর ধরেই বড় রকমের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পর্যটন মন্ত্রণালয়ের পর্বতারোহণ শাখার প্রধান মীরা আচার্য বলেন, যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল তাদের ৮০ শতাংশ এবার বেইস ক্যাম্পে গিয়েছিলেন। আমি স্বীকার করছি তাদের বেশিরভাগই খুব বেশি সময় সেখানে ছিলেন না। এ বিষয়ে আমরা অবহিত আছি এবং এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা তো মাউন্ট কিলিমাঞ্জারোতেও আরোহীদের মৃত্যুর কথা শুনি। শুধু এভারেস্টের কথা আলাদা করে বলা হচ্ছে কেন?

৩. অনভিজ্ঞ আরোহী
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একই সাথে অনভিজ্ঞ আরোহীর সংখ্যাও ক্রমশ বাড়ছে। এবার কোন কোন দলের সাথে ছিল একজন মাত্র শেরপা গাইড। তিনি বলেন, যখন কোন আরোহী এ রকম বিপজ্জনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হবেন তখন একজন শেরপা তাকে খুব বেশি সাহায্য করতে পারবে না। কারণ নিজেকেও তো বাঁচতে হবে। অনেক পর্বতারোহী যারা সফলভাবে এভারেস্ট থেকে নেমে এসেছেন তারা বলছেন, অক্সিজেনের অভাবে অনেক আরোহীর কষ্ট হচ্ছিল। লম্বা সময় ধরে অপেক্ষা করার জন্য তাদের অক্সিজেন শেষ হয়ে আসছিল। অ্যালান আর্নেট, যিনি একজন অভিজ্ঞ আরোহী। তিনি বলেন, এরা নতুন আরোহী। তারা খুব দ্রুত উপরে উঠেই নেমে যেতে চায়। অন্যান্য শিখরে উঠার সাথে যে এভারেস্টে আরোহণের একটা তফাৎ আছে সেটা তারা জানে না। অভিজ্ঞ আরোহীরা বলছেন, আরোহণের ব্যাপারে এখন কিছু শর্ত আরোপ করার সময় এসেছে। যেমন যাদের ৬,০০০ মিটার উপরে উঠার অভিজ্ঞতা আছে শুধু তাদেরকেই এভারেস্টে আরোহণের অনুমতি দিতে হবে।

৪. অপারেটরদের প্রতিযোগিতা
এভারেস্টে আরোহণের ব্যাপারে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। গড়ে উঠেছে নতুন নতুন কিছু অপারেটরও। তাদের মধ্যে শুরু হয়েছে প্রতিযোগিতা। নতুন অপারেটররা আরোহীদের কাছ থেকে কম অর্থ নিচ্ছেন। এই প্রতিযোগিতার কারণে পুরোনো অনেক প্রতিষ্ঠানও তাদের ফি কমিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছেন। ন্যাশনাল মাউন্টেন গাইডস এসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট টিশেরিং পাণ্ডে ভোট বলেন, এর ফলে এসব সংস্থা অনভিজ্ঞ লোকজনকে নিয়োগ দিচ্ছে গাইড হিসেবে। ফলে খারাপ পরিস্থিতিতে তারা আসলে তাদের মক্কেলকে খুব একটা সহযোগিতা করতে পারে না। প্রতিযোগিতাটা গুণগত মান বাড়ানোর জন্যে নয়, প্রতিযোগিতা হচ্ছে সংখ্যায়। অপারেটররাও এই সমস্যার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তারা বলছেন, তাদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে দর্শনার্থীর সংখ্যাও বাড়ানো দরকার। অপারেটর সমিতির প্রধান ডাম্বার পারাজুলি বলেন, আরোহীসহ আমাদের আরও দর্শনার্থী প্রয়োজন। আমরা যেভাবে ট্রাফিক জ্যাম নিয়ন্ত্রণ করে থাকি ঠিক সেভাবেই এই আরোহীদেরকেও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এটাই আমাদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

51
ক্রিকেট বিশ্বকাপকে ‘বিশ্বকাপ’ হিসেইে স্বীকার করতে চাইতেন না সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। প্রয়াত এই সাহিত্যিক বলতেন, ১২-১৪ দলের একটা খেলা কী করে বিশ্বকাপ হয়! ভাগ্যিস সুনীল বেঁচে নেই! এবার সেই ক্রিকেট বিশ্বকাপ ছোট হয়ে ১০ দলের খেলা হয়ে গেছে। এই ঘটনা শুনলে তো ক্রিকেট বিশ্বকাপকে টুর্নামেন্ট বলেই মানতে চাইতেন না সুনীল। তবে এই ১০ দলের খেলা বলেই এবার অনন্য এক বিশ্বকাপ দেখতে চলেছি আমরা। গত কয়েক আসর ধরে বিশ্বকাপের যে অনিশ্চয়তা দেখে আমরা অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিলাম, সেটা শেষ হতে চলল। লিগভিত্তিক এই টুর্নামেন্ট এবার সত্যিই খুজে বের করবে ‘সেরা’ দলকে। আর এ জন্যই মানতে হবে যে, এই ২০১৯ সালে ইংল্যান্ডে হতে চলেছে স্মরণকালের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী ক্রিকেট বিশ্বকাপ।

১৯৭৫ সালে ৮টি দলকে নিয়ে শুরু হয়েছিল ওয়ানডে বিশ্বকাপ। এর মধ্যে ৬টি ছিল আইসিসির পূর্ন সদস্য এবং বাকি দুটি সহযোগী সদস্য দেশ। তখন ক্রিকেট খেলুড়ে দেশ এত কম ছিল যে, এটাই বেশ বড় আকারের টুর্নামেন্ট বলে বিবেচিত হয়েছিল। তাও কিন্তু সব দল সবার সাথে খেলেনি। ৮ দলকে দুই গ্রুপে ভাগ করে হয়েছিল আয়োজন। ১৯৭৯ সালে ঠিক একই ফরম্যাটে আয়োজিত হয় দ্বিতীয় আসর। সবার সাথে সবার দেখা হলো না। ১৯৮৩ সালের তৃতীয় আসরেও ৮টি দল দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলল। ১৯৮৭ সালের চতুর্থ আসরেও দেখা গেল একই ঘটনা। ১৯৯২ সালে এসে প্রথম বিশ্বকাপের ফরম্যাট বদলায়।

১৯৯২ বিশ্বকাপকে বলা যায় এবারের বিশ্বকাপের প্রকৃত পূর্বসুরী। সেবার বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল ৯টি দল। সবার সাথে সবার খেলা হলো। এরপর সেরা চারটি দল সরাসরি খেলল সেমিফাইনাল। সেই সময়ই একটা প্রস্তাবনা ছিল যে, ক্রিকেট যেহেতু কম দেশের খেলা, এই ফরম্যাটটাই ধরে রাখা হোক। কিন্তু ১৯৯৬ সালে আবার ফরম্যাটে পরিবর্তন এলো।

ততদিনে জগমোহন ডালমিয়াদের কল্যাণে ক্রিকেটের গায়ে বিশ্বায়নের বাতাস লেগেছে। ফলে ক্রিকেটকে ছড়িয়ে দেওয়ার একটা মন্ত্র নিয়ে ১৯৯৬ সালে বিশ্বকাপের আসর বসলো দক্ষিণ এশিয়ার তিন টেস্ট খেলুড়ে দেশে। অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা এক লাফে বেড়ে হলো ১২। দুই গ্রুপে ৬টি করে দল খেললো। ফলে সবার সাথে সবার খেলার যে ধারা ১৯৯২ সালে দেখা গিয়েছিল, সেখান থেকে আবার সরে এলো বিশ্বকাপ। ১৯৯৬ ও ১৯৯৯ সালে ১২ দলকে নিয়ে দুই গ্রুপের খেলা হলো। এরপর ২০০৩ সালের বিশ্বকাপে দল বাড়লো আরেও দুটো। ১৪ দল এবার দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে খেললো।

২০০৭ সালে একেবারে আনকোরা, মোড়কভাঙা এক পদ্ধতির বিশ্বকাপ দেখলো ক্রিকেটবিশ্ব। ১৬ দলের টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হলো ওয়েস্ট ইন্ডিজে। এবার ৪টি গ্রুপে অনুষ্ঠিত হলো খেলা। প্রত্যেক গ্রুপের সেরা দুই দল গেল পরের রাউন্ডে; নাম দেওয়া হলো-সুপার এইট। এই ‘সুপার এইট’-এর সব দল সবার সাথে খেললো। এখান থেকে সেরা ৪ দল গেল সেমিফাইনালে। সেটা ছিল ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ। বিশ্বায়নের পর্বে যারা ছিলেন, তারা বললেন, এটাই বিশ্বকাপের সেরা মডেল। কিন্তু এই মডেল থেকে সরে এলো আইসিসি।

২০১১ সালে আবারও সেই ২০০৩ সালের ফরম্যাটে ফিরে গেল উপমহাদেশের বিশ্বকাপ। ১৪ দল দুই গ্রুপে অংশ নিলো। তবে এবার বাড়তি হিসেবে যোগ হলো কোয়ার্টার ফাইনাল। ২০১৫ সালে, মানে সর্বশেষ আসরটিতেও হলো এই একই ধরনের বিশ্বকাপ। কিন্তু ২০১৯ সালের জন্য আইসিসি হঠাৎ করে দলসংখ্যা কমিয়ে একেবারে নব্বই দশকের শুরুতে চলে গেল। আর ফরম্যাটও করা হলো রবিন লিগ পদ্ধতির।

এখন ক্রিকেট বিশ্ব এই বিশ্বকাপ নিয়ে দুই ভাগে বিভক্ত। এক দল মনে করেন, ক্রিকেটের মতো স্বল্প বিস্তৃত খেলার জন্য এটাই আদর্শ ফরম্যাট। কারণ, এখানে সবার সাথে সবার খেলা বলে অঘটন ঘটার সম্ভাবনা কম। ফলে সত্যিকারের সেরা চারটি দলই সেমিফাইনালে যাবে।

আবার ক্রিকেট ছড়িয়ে দেওয়ার পক্ষে যারা কথা বলেন, তারা বলেন, ক্রিকেটের সৌন্দর্যটাই এই ফরম্যাটের কারণে নষ্ট হয়ে গেছে। অঘটন ঘটার সম্ভাবনা শেষ করে দেওয়াতে একটা আয়ারল্যান্ড বা জিম্বাবুয়ের উত্থান দেখা কঠিন হয়ে গেছে বিশ্বকাপে। ২০০৭ বা ২০১১ বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ড যেভাবে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল পাকিস্তান বা ইংল্যান্ডকে হারিয়ে, সেটা এবার আর দেখা যাবে না। শুধু আয়ারল্যান্ড কেন, জিম্বাবুয়ের মতো ক্রিকেটের পুরোনো দলও এবার রয়ে গেল বিশ্বকাপের বাইরে।

শচীন টেন্ডুলকার থেকে শুরু করে বিভিন্ন সাবেক-বর্তমান ক্রিকেটার তাই এই ফরম্যাটের সমালোচনা করেছেন। তবে সমালোচনা থাক আর প্রশংসা থাক; এটা মানতেই হবে যে, এই বিশ্বকাপ অন্য যে কোনো আসরের চেয়ে আলাদা হতে চলেছে। সেটা শুধু ফরম্যাটের জন্য, তা নয়। আরেও কিছু বিচারের জায়গা আছে। এবার বিশ্বকাপ ইংল্যান্ডে অন্যরকম রান উত্সবের একটা বিশ্বকাপ হওয়ার কথা।

ইংল্যান্ডে এই নিয়ে পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপ হচ্ছে। প্রথম তিন বার বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল ইংলিশরা। তখন ইংল্যান্ড থেকে বিশ্বকাপকে বের করার জন্য এশিয়াভিত্তিক একটা রাজনৈতিক সক্রিয়তাও হয়েছিল, যার অংশ হিসেবেই জন্ম নিয়েছিল এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল। এরপর আবর্তন নীতিতে বিশ্বকাপ আয়োজিত হতে থাকে। সেই নীতিতে ১৯৯৯ সালে আবারও বিশ্বকাপ হয়েছিল যুক্তরাজ্যে। কিন্তু এই ক্রিকেটের ‘মাতৃভূমিতে’ কখনোই বিশ্বকাপ ঠিক রান উত্সবের আসর হয়ে ওঠেনি। এবার সেটা হওয়ার খুব সম্ভাবনা আছে।

ইতিমধ্যে বিশ্বকাপের আগে যুক্তরাজ্যে যেসব ওয়ানডে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হচ্ছে, সেখানে পাকিস্তান, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, আয়ারল্যান্ড, বাংলাদেশ রান উত্সব করছে। ফলে বিশ্বকাপেও যে সেটা হবে, তাতে খুব একটা সন্দেহ নেই। ইংল্যান্ড বলতে এক সময় মনে করা হতো বোলারদের খেলা। বিশেষ করে গ্রীষ্মের এই সময়ে সেখানে বল নড়াচড়া করবে, দারুণ সুইং থাকবে; এগুলোই সত্যি ছিল। কিন্তু ইংল্যান্ডে টি-টোয়েন্টি আসার পর থেকে সেখানে উইকেটের সেই মজাটা চলে গেছে। এখন ইংল্যান্ডে টেস্টেও ব্যাটসম্যানদের খেলা হয়। ফলে ওয়ানডে এখন সেখানে রীতিমতো বোলারদের বধ্যভূমি।

বিশ্বকাপে ৩০০ রানটাই বিরাট ব্যাপার। কিন্তু এবার বিশ্বকাপে সাড়ে তিনশো নিয়মিত স্কোর হয়ে উঠলেও তাই অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। তবে মজাটা হলো, সবটাই তো আর কিউরেটরের হাতে নেই। কিছুটা প্রকৃতির হাতেও আছে। এই সময়ে মাঝে মাঝেই ইংল্যান্ডের আকাশ ভারী হয়ে উঠবে। মেঘে ঢাকা আকাশে যতই বোলারদের বিরোধী উইকেট হোক, কিছুটা সুইং তো দেখা যাবেই। তাই ব্যাটসম্যানদের পরীক্ষার জন্যই অপেক্ষা করা যাক। অপেক্ষা করা যাক সত্যিই অনন্য এক বিশ্বকাপের জন্য।

52
২০২০ সালের আইফোনে ফেরানো হতে পারে টাচ আইডি। কিন্তু এই প্রযুক্তি থাকছে না আর আগের মতো। আঙ্গুলের ছাপ শনাক্তকারী ফিচারের নাম টাচ আইডি রাখে অ্যাপল। এর মাধ্যমে হোম বাটনে আঙ্গুল রেখে ডিভাইস আনলক, লেনদেন এবং অন্যান্য সংবেদনশীল ডেটা অ্যাকসেস করতে পারেন গ্রাহক।

২০১৭ সালে টাচ আইডি’র বদলে আইফোনে মুখ শনাক্তকারী ফিচার ফেইস আইডি যোগ করে আইফোনের নির্মাতা অ্যাপল। বর্তমানে আইফোন X, Xএস, Xআর এবং তৃতীয় প্রজন্মের আইপ্যাড প্রো’র মূল যাচাই ব্যবস্থা ফেইসআইডি। এবারে অ্যাপলের সাপ্লাই চেইনের কিছু এশিয়ান সরবরাহকারীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর বার্কলেইস বিশ্লেষক ব্লেইন কার্টিস দাবি করেছেন নতুন আইফোনে ফেরানো হতে পারে টাচ আইডি-- খবর ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড মিররের। কার্টিস এবং তার সহকর্মীদের ধারণা, ২০২০ সালের আইফোনে থাকতে পারে “অ্যাকুয়িস্টিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তি যা পুরো পর্দাজুড়ে টাচ আইডির সুবিধা দেবে।” এই প্রযক্তির ফলে পর্দার যেকোনো জায়গায় টাচ করে ডিভাইস আনলক করতে পারবেন ফোনের মালিক।

২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে এ পর্যন্ত প্রায় পাঁচটি ইন-ডিসপ্লে টাচ আইডি পেটেন্ট আবেদন করেছে অ্যাপল। কিন্তু এখনপর্যন্ত কোনো ডিভাইসে এর ব্যবহার দেখা যায়নি। ২০২০ সালের আইফোনে টাচ আইডি ফেরানোর পাশাপাশি এতে যোগ করা হতে পারে ৫জি নেটওয়ার্ক। এ ছাড়া এতে রাখা হতে পারে ৩ডি সেন্সিং ক্যামেরা। চলতি বছরের আইফোন মডেলেও ৩ডি সেন্সিং ক্যামেরা যোগ করা হতে পারে বলে বাজারে গুজব রয়েছে।

53
টোকিও অলিম্পিককে সামনে রেখে গতির রেকর্ড গড়েছে জাপানের নতুন বুলেট ট্রেন। জেআর সেন্ট্রাল পরিচালিত ট্রেনটি পরীক্ষার সময় গতি তুলেছে ঘন্টায় ৩৬০ কিলোমিটার। নতুন এই ট্রেনের নাম বলা হচ্ছে এন৭০০এস। এখানে ‘এস’ বলতে বোঝানো হচ্ছে ‘সুপার’। প্রায় এক দশকে এবারই প্রথম বুলেট ট্রেনের নতুন মডেলে আনা হলো জাপানের ব্যস্ততম লাইনটিতে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আইএএনএস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, বুলেট ট্রেনের বর্তমান নকশার চেয়ে নতুন মডেলটি হালকা এবং কম শক্তি খরচ করে। এছাড়া ভূমিকম্পের আঘাত থেকে বাঁচতে এতে রাখা হয়েছে বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা। জেআর সেন্ট্রালের পক্ষ থেকে বলা হয়, শুক্রবার মাইবারা এবং কিয়োটোর রাস্তায় এই রেকর্ড গড়ে নতুন ট্রেনটি।

বলা হচ্ছে, কোনো বাণিজ্যিক ট্রেনের ক্ষেত্রে এটি সর্বোচ্চ গতির রেকর্ড। যদিও নতুন ট্রেনটি যাত্রা শুরু করলে ওই পথের বর্তমান সর্বোচ্চ অনুমোদিত গতি ২৮৫ কিলোমিটারেই চালানো হবে এটি। ১৯৬৪ টোকিও অলিম্পিকের সময়ই জাপানে প্রথম চালু হয় বুলেট ট্রেন। এরপর থেকেই নির্ভরতা এবং সুরক্ষার জন্য খ্যাতি নিয়ে সেবা দিয়ে যাচ্ছে ট্রেনগুলো।

54
বিশ্বের সেরা প্রযুক্তির স্মার্টফোন ‘অ্যাপল’ ব্যবহারকারীদের জন্য সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। অত্যাধুনিক সিকিউরিটি সিস্টেমের এই ফোন থেকেও এখন তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে অ্যাপস ট্র্যাকাররা। জনপ্রিয় ‘আইএসও’ অ্যাপসের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য তাদের অজান্তেই ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আইফোন নিরীক্ষণের সফটওয়্যার পর্যবেক্ষণের পর মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট এ তথ্য জানিয়েছে। সংবাদমাধ্যমটি ৫ হাজার ৪০০’র বেশি অ্যাপ ট্র্যাকারস ডিভাইস থেকে ব্যবহারকারীদের তথ্য তৃতীয় পক্ষের কাছে পাঠানোর খবর জানতে পেরেছে।

এই অ্যাপসের মাধ্যমে একটি বিস্তৃত গন্তব্যের মধ্য থেকে ব্যবহারকারীদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তৃতীয় পক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যেমন- আইফোন ব্যবহারকারীর ই-মেইল, ফোন নাম্বার, আইপি অ্যাড্রেস এবং ব্যবহারকারীর সুনির্দিষ্ট ঠিকানা ইত্যাদি। অ্যাপ ট্র্যাকাররা রাতে এসব কাজ করে থাকেন। যখন এসব ডিভাইস ব্যবহারকারীরা ঘুমিয়ে থাকেন, বা স্মার্টফোনে কোনো কাজ করছেন না এরকম সময়।

এক্ষেত্রে তারা বিশেষ সুবিধা পায় অ্যাপলের ‘ব্যাকরাউন্ড অ্যাপ রিফ্রেশ’ ফিচারে। যে অ্যাপসটি ব্যবহার করলে তথ্য বিনিময় করার অনুমতি দেয় ফিচারটি, প্রাথমিকভাবে এটি নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে যে তারা অ্যাপে পুনরায় ফিরে যেতে চাইলে ‘আপ টু ডেট’ তথ্য ফিরে পাবেন। যদিও আইফোন ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতাকে উন্নত করতে সাধারণত এটি ব্যবহার করার কথা জানানো হয়েছে। তবে, অ্যাপসের এই প্রক্রিয়াটিতে ব্যবহারকারীরা পুরোপুরিভাবে সক্রিয় হওয়ার পর তারা সেটি বন্ধ করে দেয়। এবং অ্যাপে সংযুক্ত তথ্য ব্যবহার করে ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিয়ে তৃতীয় পক্ষের ট্র্যাকিং কোম্পানিগুলোর কাছে হস্তান্তর করে ট্র্যাকাররা। যেমন অ্যাম্পলিউড, অ্যাপবয় এবং ডেমডেক্স এ ধরনের কাজগুলো করে থাকে। এ পর্যন্ত তৃতীয় পক্ষের এসব কোম্পানির কাছে ১.৫ গিগাবাইট ডাটা সংরক্ষিত এবং শেয়ার করা হয়েছে।

55
হিয়ারিং এইড থেকে দূরে থাকতে চকোলেট খান। শ্রবণশক্তি অটুট থাকবে দীর্ঘদিন। অবাক হচ্ছেন! এমনটাই দাবি দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলের একদল চিকিৎসক, গবেষকের। জেনে নিন কী বলছেন গবেষকরা। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে শ্রবণশক্তি ক্ষীণ হয়ে আসা একটা স্বাভাবিক ঘটনা। তবে ইদানীং নানা কারণে অকালেই অনেকের শ্রবণশক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে অনেকেই অকালে হিয়ারিং এইডের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। তবে মাঝ বয়সেই হিয়ারিং এইডের এর উপর নির্ভরশীলতা বাড়াতে না চাইলে চকোলেট খান। জি ২৪ ঘন্টা

৩৫৭৫ জন মাঝবয়সী মহিলা এবং পুরুষকে নিয়ে দীর্ঘ গবেষণার পর দেখা গিয়েছে, ৪০ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের মধ্যে যাঁরা চকোলেট খান তাঁদের শ্রবণশক্তি বাকিদের তুলনায় প্রখর। চকোলেটে থাকা মূল উপাদান কোকো। আর এই কোকোয় রয়েছে ‘পলিফেনলস’ নামের এক বিশেষ ধরনের রাসায়নিক। এই গবেষকদের দাবি, ‘পলিফেনলস’-এ রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান যা শ্রবণশক্তি দীর্ঘদিন অটুট রাখতে সাহায্য করে।

শ্রবণশক্তি দীর্ঘদিন অটুট রাখার ক্ষেত্রে ‘পলিফেনলস’-এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা বলা হয়েছে। তাই হিয়ারিং এড থেকে দূরে থাকতে চকোলেট খান, শ্রবণশক্তি অটুট থাকবে দীর্ঘদিন। সম্পাদনায়: কায়কোবাদ মিলন

56
বাতের ব্যথা, প্রচুর চুল ঝরে যাওয়া বা ওজন কিছুতেই কমছে না। এমন সমস্যায় হাতের কাছে দারচিনি থাকলে চিন্তার কিছুই নেই শুধু বাতের ব্যথা বা ওজন ঝরাতেই নয়, দারচিনির সঙ্গে মধু মিশিয়ে নিয়ে এমন একাধিক স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধান করা যায় অবিশ্বাস্য কম সময়ে! তাই মুঠো মুঠো ওষুধ খাওয়ার আগে একবার দেখে নিন দারচিনির ছয়টি আশ্চর্য স্বাস্থ্যগুণ।

১. একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় প্রমাণ মিলেছে, মধু দারচিনির জল খেতে পারলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বাতের ব্যথা কমে যায়। এর জন্য ১ গ্লাস গরম জলের সঙ্গে ২ চামচ মধু আর ১ চামচ দারচিনির গুঁড়ো মিশিয়ে নিয়ে খেয়ে নিন। এই দ্রবন সকালে ঘুম থেকে উঠে আর রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে নিয়মিত খেতে পারলে দেখবেন কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বাতের ব্যথা অনেকটাই কমে গিয়েছে।

২. এক গ্লাস উষ্ণ জলের সঙ্গে ২ চামচ মধু আর ১ চামচ দারচিনির গুঁড়ো মিশিয়ে রোজ সকালে খেয়ে নিন। এই দ্রবন মুখের দুর্গন্ধ কাটাতে অত্যন্ত কার্যকর!

৩. অনেক চেষ্টার পরও ওজন কিছুতেই কমছে না? শরীরের বাড়তি ওজন কমাতেও মধু-দারচিনির মিশ্রণ অত্যন্ত কার্যকর! একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় প্রমাণ মিলেছে, দারচিনি আর মধু দ্রুত চর্বি কমাতে সাহায্য করে। রোজ ১ চামচ দারচিনির গুঁড়ো আর ২ চামচ মধু মধু দিয়ে ফোটানো এক গ্লাস জল খালিপেটে খেয়ে নিন। এটি দ্রুত ওজন কমাতে অত্যন্ত কার্যকর!

৪. প্রচুর চুল ঝরে যাচ্ছে? তাহলে অলিভ অয়েলের সঙ্গে ১ চামচ মধু আর ১ চামচ দারচিনির গুঁড়ো মিশিয়ে ঘন পেষ্ট তৈরি করে নিন। এই পেস্ট চুলের ফাঁকা জায়গায় লাগান (যেখান থেকে চুল পড়ে গিয়েছে সেখানে)। এই পেস্ট দিয়ে চুলের গোড়ায় অন্তত ১৫ মিনিট মালিশ করুন। তার পর উষ্ণ জল দিয়ে চুল শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। এই পদ্ধতিতে সপ্তাহে অন্তত ৩ দিন চুলের যত্ন নিতে পারলে চুল ঝরার সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে, একই সঙ্গে গজাবে নতুন চুলও।

৫. উর্দ্ধমুখী কোলেস্টরল নিয়ে চিন্তিত? এক কাপ চায়ের (দুধ, চিনি ছাড়া) সঙ্গে ২ চামচ মধু আর ৩ চামচ দারচিনির গুঁড়ো মিশিয়ে খেয়ে দেখুন। এই চা রক্তে কোলেস্টরলের মাত্রা ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমেয়ে দিতে পারে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই মিশ্রণ অত্যন্ত কার্যকর!

৬. আমাদের হৃদযন্ত্র সুস্থ্য রাখতে দারচিনি আর মধুর জলের কোনও বিকল্প নেই! রোজ সকালে এক গ্লাস জলের সঙ্গে ২ চামচ মধু আর ১ চামচ দারচিনির গুঁড়ো মিশিয়ে ওই জল খেতে পারলে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।

57
রমজান মাসে রোজা রাখতে গিয়ে আমাদের সাধারণত প্রায় ১৫ ঘণ্টা পানাহার থেকে বিরত থাকতে হয়। আর এই সময় পানির চাহিদা প্রধান হয়ে ওঠে। তবে কিছু খাবার আছে যা খেলে পানির চাহিদা অনেকটা পূরণ হয়ে যায়। আমরা যদি ইফতারের পর এসব খাবার খাই তা হলে সারাদিন পানির পিপাসা তুলনামূলক কম লাগবে। এসব খাবারের মধ্যে রয়েছে-

তরমুজ
তরমুজে রয়েছে ৯৩ শতাংশ পানি। রমজান মাসে ইফতারের সময় তরমুজ খাওয়া যেতে পারে। এতে মিনারেল, লবণ ও প্রাকৃতিক চিনি রয়েছে। শুধু তাই নয়, তরমুজ ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়ামসহ আরও অনেক ভিটামিনের চাহিদা পূরণ করে থাকে।

শসা
শসাতে রয়েছে ৯৬.৭ শতাংশ পানি। তাই সালাদ, শসার জুস অথবা খাবারের সঙ্গে শসা খেতে পারেন। এক কাপ শসা এক গ্লাস পানির সমান।
শসা শরীরে পুষ্টির চাহিদাও পূরণ করে থাকে। কারণ শসাতে রয়েছে ভিটামিন সি, ভিটামিন কে ও পটাশিয়াম।

মুলা
মুলা অনেকেই অপছন্দ করে থাকেন। কিন্তু মুলায় রয়েছে ৯৫ শতাংশ পানি। মুলায় রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্যাটেচিন ও রিবোফ্লাভিন, যা প্রোটিন, চর্বি ও কার্বোহাইড্রেটকে ভাঙতে এবং দেহে শক্তি জোগাতে সাহায্য করে।

টমেটো

টমেটোয় রয়েছে ৯৪.৫ শতাংশ পানি। এতে আছে ভিটামিন, মিনারেল, কারোটিনসাইড, আলফা ও বিটা ক্যারোটিন। টমেটো সালাদ, স্যান্ডউইচে খেতে পারেন।

ধুন্দুল
ধুন্দুলে রয়েছে ৯৫ শতাংশ পানি। আর এই সময় বাজারে এই সবজিটি বেশি দেখা যায়। ধুন্দুল শরীর হাইড্রেটেড করে। এটি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়।

58
অতিরিক্ত ওজন ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন রোগের কারণ। তাই সুস্থ থাকতে হলে অবশ্যই ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। গরমে শরীর থেকে প্রচুর ঘাম ঝরে। তাই এ সময় বেশি বেশি পানি পান করা জরুরি। গরমে ঘাম হয় বেশি, শরীর ক্লান্ত ও পানি শূন্য হয়ে যায় সহজেই। তাই সুস্থ থাকতে হলে পানি পান করতে হবে।

তবে আপনি জানেন কি কিছু পানি রয়েছে যা আপনার ওজন কমাবে। তাই গরমে সুস্থ থাকতে ও ওজন কমাতে এসব পানীয় খেতে পারেন। ওজন কমানোর জন্য সেই পানীয়টি হচ্ছে জিরাপানি। এই জিরাপানি শুধু ওজন কমায় না, এটি অনেক রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।

আসুন জেনে নিই এই পানীয় থেকে আরও যে উপকার পেতে পারি।

১. গরমে প্রায়ই হজমের সমস্যা দেখা দেয়। জিরাপানি তৈরি করতে যেসব উপকরণ ব্যবহার করা হয়, তা হজমের সমস্যা দূর করবে।

২. বুক জ্বালা, অম্বল, গা গোলানো, বমি বমি ভাব দূর হয় এই এক গ্লাস জিরাপানিতে।

৪. ক্যানসার আক্রান্তরা রেডিয়েশন থেরাপি নিয়ে থাকেন। এসব রোগীর জন্য খুবই উপকারি হচ্ছে এই পানীয়।

৫. কনস্টিপেশনের সমস্যায় যারা ভুগছেন তারা প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস জিরাপানি পান করলে উপকার পাবেন।

৬. ওজন কমাতে চাইলে খেতে পারেন জিরাপানি।

আসুন জেনে নেই কীভাবে বানাবেন জিরাপানি

শুকনো কড়াইয়ে জিরে ভেজে নিন। মিহি করে গুঁড়ো করে নিন ভাজা জিরে। ব্লেন্ডারে ঠাণ্ডা পানি, জিরে গুঁড়ো, পুদিনা পাতা, ধনে পাতা, আদা গুঁড়ো, বিটনুন, তেঁতুলের ক্বাত্থ, লেবুর রস, সামান্য চিনি ও বরফ দিয়ে ভালো করে ব্লেন্ড করে নিন। কিছুক্ষণ ফ্রিজে রেখে পরিবেশন করুন।

59
থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে সাধারণত দুই ধরনের সমস্যা দেখা যায়– গঠনগত ও কার্যগত। গঠনগত সমস্যায় থাইরয়েড গ্রন্থি ফুলে যায় যেটাকে গয়টার বলা হয়। কার্যগত সমস্যা দুই রকমের, যথা হাইপারথাইরয়ডিজম ও হাইপোথাইরয়ডিজম। হাইপারথাইরয়ডিজমে থাইরয়েড গ্ল্যান্ড বেশি মাত্রায় সক্রিয় হয়ে পড়ে ও হাইপোথাইরয়ডিজমে থাইরয়েড গ্ল্যান্ড কাজ করে না। হাইপোথাইরয়ডিজমের কারণে অবসাদগ্রস্ত, অলসতা, ঘুম ঘুম ভাব, ত্বক খসখসে হয়ে যাওয়া, পা অল্প ফুলে যায়, ক্ষুধামান্দ্য শুরু হয়, চুলপড়া শুরু করে, ওজন বেড়ে যায়, স্মৃতিশক্তি হ্রাস পায়, কোষ্ঠকাঠিন্য হয়, রক্তচাপসহ বিভিন্ন সমস্য দেখা দেয়। হাইপারথাইরয়ডিজম সমস্যা হলে  ক্ষুধা বেড়ে গেলেও ওজন কমতে থাকে, প্রচণ্ড গরম লাগে, বুক ধড়ফড় করে, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়, পিরিয়ডের সমস্যা দেখা দেয়, ত্বক কালো হয়ে যায়, হার্টের সমস্যা হতে পারে, হাড়ের ক্ষয় শুরু হয়, চোখ কোটর থেকে বেরিয়ে আসে, বন্ধ্যত্ব হতে পারে।

থাইরয়েডের সমস্যা হলে রক্ত পরীক্ষা করিয়ে নিশ্চিত হোন। প্রথমে ওষুধ সেবন করুন। ওষুধে সুস্থ না হলে অস্ত্রোপচার করতে হবে। সমস্যার শুরুতেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন, চিকিৎসা নিন, ভালো থাকুন।

60
যেকোন ধরণের হেপাটাইটিস ভাইরাসের প্রকোপই অত্যন্ত বিপজ্জনক ও প্রাণঘাতী । মোট পাঁচ ধরণের হেপাটাইসিস ভাইরাস আছে। হেপাটাইটিস এ, বি, সি, ডি এবং ই। অনেকের হয়তো জানা নেই, গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই হেপাটাইটিসের প্রকোপ বাড়ে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ‘হু’-এর তথ্য অনুযায়ী, বিগত ২৩ বছরে হেপাটাইটিস ভাইরাসের প্রকোপে মৃত্যুর ঘটনা ৬৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পৃথিবীর প্রায় ৩ কোটি মানুষ প্রতি বছর হেপাটাইটিস বি-তে আক্রান্ত হচ্ছেন। হু-এর মতে, সারা বিশ্বে ২০০ কোটির বেশি মানুষ হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত এবং ৪০ কোটির বেশি মানুষ এই রোগের জীবাণু অজান্তেই বহন করে চলেছেন।

হেপাটাইটিস ভাইরাসের সংক্রমণে লিভার মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। সময়মতো চিকিৎসা না করলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। এ কারণে হেপাটাইসিসের ব্যাপারে সতর্ক হওয়া উচিত। হেপাটাইসিস প্রতিরোধে যেসব বিষয় অনুসরণ করা জরুরি-

১. কখনও কাটা ফল খাওয়া ঠিক নয়।খেতে ইচ্ছে করলে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে ফল কাটিয়ে তবেই খান।

২. রাস্তার খাবার-দাবার সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলুন। রাস্তার পাশের মশলাদার, তেলেভাজা জাতীয় অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া একেবারেই ঠিক নয়।

৩. রাস্তা ঘাটে বেরিয়ে পানি খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন। প্রয়োজনে সঙ্গে পানি নিয়ে বের হওয়া ভাল। পানি শেষ হয়ে বোতলজাত পানি পান করুন। 

৪. অন্যের ব্যবহার করা চিরুনি, দাড়ি কাটার সরঞ্জাম, আইলাইনার, লিপস্টিক, কানের দুল বা ওই জাতীয় কিছু ব্যবহার করা ঠিক নয়।

৫. দাড়ি কাটার সরঞ্জাম নিরাপদে পরিচ্ছন্ন জায়গায় সরিয়ে রাখুন।

৬. বাড়িতে পানি ফুটিয়ে খান।

৭. এক বছর বয়স থেকেই শিশুদের হেপাটাইটিসের প্রতিষেধক বা টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করুন।

Pages: 1 2 3 [4] 5 6 ... 45