Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Topics - yousuf miah

Pages: 1 ... 6 7 [8] 9 10 11
106
Ramadan and Fasting / Seheri eat circumcision
« on: July 10, 2013, 10:58:37 AM »
রোজার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যতম আমল সেহেরি। রোজার নিয়তে সেহেরি খাওয়া সুন্নত। রাসুল সা. বলেছেন, “সেহেরি খাও, তাতে বরকত আছে।’’ সেহেরি পেট ভরে খাওয়া জরুরি নয়। সামান্য খেলেও সেহেরির সুন্নত আদায় হয়ে যাবে। শেষ সময়ে সেহেরি খাওয়া মুস্তাহাব। তবে লক্ষ রাখতে হবে, সময় যেন পার না হয়ে যায়।
 
ইহুদি-খৃস্টানদের রোজায় সেহেরির বিধান ছিল না। ইসলামের প্রথম যুগেও সেহেরি ছাড়াই রোজা রাখা হতো। পরবর্তী সময়ে রাসুল সা. সেহেরি খাওয়ার বিধান নির্ধারণ করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের রোজা ও আহলে কিতাবদের (ইহুদি-খৃস্টান) রোজার মধ্যে পার্থক্য হলো সেহেরি খাওয়া।’’
 
সেহেরি সুবহে সাদিকের আগেই খেতে হয়। এরপর কিছু খেলে রোজা হবে না। অনেকে মনে করেন, ফজরের আজান পর্যন্ত সেহেরির সময় থাকে। এটা ঠিক নয়। কেউ যদি সেহেরির সময় আছে মনে করে খেয়ে ফেলে আর বাস্তবে সময় না থাকে তাহলে তাকে রোজা কাজা করতে হবে।
 
সেহেরির সময়টি আল্লাহর রহমত ও বরকত লাভের বিশেষ সময়। এ সময়ের ইবাদত-বন্দেগি আল্লাহর কাছে কবুল হয় বেশি। সম্ভব হলে সেহেরির সময় কয়েক রাকাত তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করে নেয়ার কথা হাদিসে আছে। সেহেরি খাওয়ার আগে-পরে সময়টুকু ইবাদতে কাটানো উচিত।





Md.Yousuf Miah
Accounts Officer
Daffodil International University

107
Ramadan and Fasting / Ramadan: Some masayala
« on: July 10, 2013, 10:54:19 AM »
রোজা ইসলামের অন্যতম ফরজ বিধান। এর পালনে কিছু বিধি-বিধান রয়েছে। প্রত্যেক রোজাদারের জন্য এগুলো জানা থাকা অপরিহার্য:

রোজা ভেঙে যায় ও কাজা-কাফফারা ওয়াজিব হয় যে কারণে
১. ইচ্ছাকৃত কিছু খেলে বা পান করলে
২. স্ত্রী সহবাস করলে
৩. কোনো বৈধ কাজ করার পর রোজা ভেঙে গেছে মনে করে ইচ্ছাকৃত খেলে।

রোজা ভেঙে যায় ও কাজা ওয়াজিব হয় যে কারণে
১. কানে বা নাকে ওষুধ ঢুকালে।
২. ইচ্ছা করে মুখ ভরে বমি করলে অথবা অল্প বমি আসার পর তা গিলে ফেললে।
৩. কুলি করার সময় অনিচ্ছাকৃত গলার ভেতরে পানি চলে গেলে।
৪. কামভাবে কাউকে স্পর্শ করার পর বীর্যপাত হলে।
৫. খাদ্য না এমন বস্তু খেলে, যেমন : কাঠ, কয়লা, লোহা ইত্যাদি।
৬. ধূমপান করলে।
৭. আগরবাতি ইত্যাদির ধোঁয়া ইচ্ছা করে নাকে ঢুকালে।
৮. সময় আছে মনে করে সুবহে সাদিকের পর সেহেরি খেলে।
৯. ইফতারের সময় হয়ে গেছে মনে করে সময়ের আগেই ইফতার করে ফেললে।
১০. দাঁত দিয়ে বেশি পরিমাণ রক্ত বেরিয়ে তা ভেতরে চলে গেলে।
১১. জোর করে কেউ রোজাদারের গলার ভেতরে কিছু ঢুকিয়ে দিলে।
১২. হস্তমৈথুন দ্বারা বীর্যপাত ঘটালে।
১৩. মুখে পান রেখে ঘুমালে এবং সে অবস্থায় সেহেরির সময় চলে গেলে।
১৪. রোজার নিয়ত না করলে।
১৫. কানের ভেতরে তেল ঢুকালে।
১৬. এক দেশে রোজা শুরু হওয়ার পর অন্য দেশে চলে গেলে।
 
যেসব কারণে রোজা মাকরুহ হয়
১. বিনা প্রয়োজনে কোনো কিছু চিবালে।
২. তরকারির লবণ টেস্ট করে ফেলে দিলে।
৩. মাজন, কয়লা, গুল বা পেস্ট দিয়ে দাঁত মাজলে। (তবে সামান্য ভেতরে  গেলেও রোজা ভেঙে যাবে)
৪. রাতে ফরজ হওয়া গোসলসহ সারাদিন অতিবাহিত করলে।
৫. রোজা অবস্থায় রক্তদান করলে।
৬. পরনিন্দা, কুৎসা, অনর্থক কথা ও মিথ্যা বললে।
৭. ঝগড়া, ফাসাদ ও গালমন্দ করলে।
৮. ক্ষুধা ও পিপাসার কারণে অস্থিরতা প্রকাশ করলে।
৯.  মুখে থুথু জমা করে গিলে ফেললে।
১০. স্ত্রীকে কামভাবের সঙ্গে স্পর্শ করলে।
১১. মুখে কিছু চিবিয়ে শিশুকে খাওয়ালে।
১২. লিপস্টিক লাগালে (যদি তা ভেতরে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।)
১৩. বুটের কণার চেয়ে ছোট কিছু দাঁতের ফাঁক থেকে বের করে গিলে ফেললে।

যেসব কারণে রোজা ভাঙে না
১. ভুলে কিছু খেলে বা পান করলে।
২. অনিচ্ছাকৃত বমি করলে।
৩. রোজা অবস্থায় স্বপ্নদোষ হলে।
৪. অসুস্থতাজনিত কারণে বীর্যপাত হলে।
৫. স্বামী-স্ত্রী চুম্বন ও আলিঙ্গন করলে।




Md.Yousuf Miah
Accounts Officer
Daffodil International University

108
Fruit / Plum nutrient
« on: July 08, 2013, 12:11:28 PM »
বাংলাদেশে বহুল প্রচলিত এবং জনপ্রিয় একটি ফল হচ্ছে আমড়া। এই ফলটি তার সহজলভ্যতা ও কচমচে স্বাদের জন্য খুব সহজেই সকলের মনে স্থান করে নিতে পেরেছে। বর্ষাকাল হচ্ছে আমড়া ফলের শ্রেষ্ঠ সময়। কারণ এ সময়েই এই ফল বাজারে আসা শুরু করে। সাধারণ ফল বিক্রেতাদের কাছে তো বটেই, ভ্রাম্যমাণ ফল ও আচার বিক্রেতাদের কাছেও মেলে এই ফল।

পরিপক্ব কিন্তু কাঁচা আমড়াই ফল হিসেবে সবাই বেশি ভালোবাসে। কারণ পেকে গেলে এর কচকচে ভাবটা কমে যায়। আমড়া লবণ-মরিচের গুঁড়ো দিয়ে মেখে খেতে খুবই চমত্‍কার লাগে। আমড়া ফল হিসেবে তো বটেই আচার বানিয়েও খাওয়া যায়। এছাড়াও আমড়া দিয়ে চাটনি, ভর্তা, তরকারি ইত্যাদিও তৈরি করা হয়। আসুন জেনে নিই প্রতি ১০০ গ্রাম আমড়ার পুষ্টিগুণ :

খাদ্যশক্তি- ৪৬ কিলোক্যালরি

আমিষ- ০.২ গ্রাম

চর্বি- ০.১ গ্রাম

শর্করা- ১২.৪ গ্রাম

ক্যালসিয়াম- ৫৬ মিলিগ্রাম

ফসফরাস- ৬৭ মিলিগ্রাম

আয়রন- ০.৩ মিলিগ্রাম

ক্যারোটিন- ২০৫ আইইউ

থায়ামিন- ০.০৫ মিলিগ্রাম

রিবোফ্লেভিন- ০.০২ মিলিগ্রাম

ভিটামিন সি- ৩৬ মিলিগ্রাম

উপকারিতা:

প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদানে সমৃদ্ধ আমড়া আমাদের শরীরের বিভিন্ন উপকার সাধন করে। যেমন -



আমড়া রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। স্ট্রোক ও হৃদরোধ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।


আমড়াতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি ও ক্যালসিয়াম। মাঢ়ি ও দাঁতের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে আমড়া সাহায্য করে।


এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আঁশ, যা বদহজম ও কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে সাহায্য করে।


খিঁচুনি, পিত্ত ও কফ নাশক হিসেবে আমড়ার ব্যবহার রয়েছে।


এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে।


অরুচি ও শরীরের অতিরিক্ত উত্তাপকে নিষ্কাশনে সাহায্য করে আমড়া।


ত্বক, নখ ও চুল সুন্দর রাখে আমড়ার গুণাগুণ। ত্বকের নানা রোগও প্রতিরোধ করে।
[


Md.Yousuf Miah
Accounts Officer
Daffodil International University

109
Fruit / The unique taste and quality of guava
« on: July 08, 2013, 12:05:17 PM »
পেয়ারা, আমাদের অতি পরিচিত একটি ফল। গ্রীষ্মের শেষ থেকে শুরু করে পুরো বর্ষাকাল জুড়ে এই ফল দেখা যায় পুরো নগরজুড়ে। ফলের দোকানে দোকানে তো বটেই, রাস্তার ধারে ফুটপাতেও পেয়ারা নিয়ে বসে যান বিক্রেতারা।

আমাদের দেশে পেয়ারার প্রজাতি খুব বেশি না থাকলেও বিশ্বে প্রায় এর ১০০টিরও বেশি প্রজাতি রয়েছে। তাই গুণী ফল হিসেবে পেয়ার স্বীকৃতি রয়েছে বিশ্বজুড়ে। কারণ এতে রয়েছে কমলার চেয়ে চার গুণ বেশি ভিটামিন সি। পেয়ারার খোসায় রয়েছে আরো বেশি ভিটামিন সি, কমলার চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি!

বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রজাতির পেয়ারা চাষ করা হয়। যেমন কাজী পেয়ারা, বাউ পেয়ারা, বারি পেয়ারা, পলি পেয়ারা, আঙুর পেয়ারা ইত্যাদি।

পেয়ারা সহজলভ্য বলে অনেকেই একে পাত্তা দিতে চান না। কিন্তু পেয়ারা মোটেও ফেলনা ফল নয়। পুষ্টিগুণের কথা বিচার করলে পেয়ারা বিশ্বের সেরা ফলগুলোর মধ্যে একটি। পেয়ারার খাদ্যযোগ্য ১০০ প্রতি গ্রাম অংশে রয়েছে -

খাদ্যশক্তি- ৬৮ কিলোক্যালরি

শর্করা- ১৪.৩২ গ্রাম

চিনি- ৮.৯২ গ্রাম

খাদ্যআঁশ- ৫.৪ গ্রাম

চর্বি- ০.৯৫ গ্রাম

আমিষ- ২.৫৫ গ্রাম

ভিটামিন এ- ৩১ আইইউ

বিটা ক্যারোটিন- ৩৭৪ আইইউ

থায়ামিন- ০.০৬৭ মিলিগ্রাম

রিবোফ্লেভিন- ০.০৪ মিলিগ্রাম

প্যানটোথেনিক অ্যাসিড- ০.৪৫১ মিলিগ্রাম

নিয়াসিন- ১.০৮৪ মিলিগ্রাম

ভিটামিন বি৬- ০.১১ মিলিগ্রাম

ফোলেট- ৪৯ আইইউ

ভিটামিন সি- ২২৮.৩ মিলিগ্রাম

ভিটামিন কে- ২.২ মিলিগ্রাম

ক্যালসিয়াম- ১৮ মিলিগ্রাম

আয়রন- ০.২৬ মিলিগ্রাম

ম্যাগনেসিয়াম- ২২ মিলিগ্রাম

ম্যাংগানিজ- ০.১৫ মিলিগ্রাম

ফসফরাস- ৪০ মিলিগ্রাম

পটাশিয়াম- ৪১৭ মিলিগ্রাম

সোডিয়াম- ২ মিলিগ্রাম

জিংক- ০.২৩ মিলিগ্রাম

লাইকোপেন- ৫২০৪ আইইউ

পেয়ারা ফল হিসেবে খাওয়া তো হয়ই, তৈরি করা হয় নানান খাবারও। পেয়ারায় প্রচুর পেকটিন থাকায় পেয়ারা দিয়ে চমত্‍কার জ্যাম, জেলী, চাটনি ইত্যাদি তৈরি করা যায়। পেয়ারার জুস ক্যারিবীয় অঞ্চল ও হাওয়াইতে খুবই জনপ্রিয়।



পেয়ারার পুষ্টিগুণের পাশাপাশি রয়েছে ভেষজগুণও। যেমন শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা, ঠান্ডাজনিত হাঁচি-কাশি প্রতিরোধে পেয়ারা খুবই উপকারী। এছাড়া খিঁচুনি ও এপিলেপসি প্রতিকারে পেয়ারা সহায়তা করে।


কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে ও মুখের রুচি বাড়াতে পেয়ারা খুবই উপকারী।


পেয়ারায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, লাইকোপেন ও খাদ্যআঁশ, যা ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে।


দাঁতের ব্যথায় পেয়ারার পাতা চিবুলে ব্যথা কমে যায়। এছাড়া ক্ষতে পেয়ারা পাতা পিষে প্রলেপ দিলে ক্ষত সেরে যায়।


গাছের বাকল ও শেকড় আমাশয় ও কলেরার ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।


দাঁতের ব্যথা, মুখের ঘা সারাতে পেয়ারা খুবই কার্যকর। স্কার্ভি রোগ প্রতিরোধেও পেয়ারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।




Md.Yousuf Miah
Accounts Officer
Daffodil International University

110
Namaj/Salat / Zooma, the day phayilata
« on: July 06, 2013, 01:15:15 PM »
প্রত্যেক ধর্মেই সপ্তাহে একটি দিনকে পবিত্র দিন ঘোষণা করে সেদিন বিশেষ প্রার্থনার ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে। মুসলমানদের জন্য সপ্তাহের এমন দিনটি হল শুক্রবার বা জুম`আর দিন। হাদীস শরীফে এই দিনের বহু ফযিলত ও মর্তবা বর্ণনা করা হয়েছে।

 

জুম’আর নামাজের ফযীলত ও তা আদায়কারীদের জন্য ঘোষিত পুরষ্কার-

১। কুরবানী করার সমান সওয়াব অর্জিত হয়ঃ

জুমার দিনে আগে ভাগে মসজিদে গেলে দান-খয়রাত বা পশু কুরবানী করার সমতুল্য সওয়াব পাওয়া যায়। আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণিত এক হাদীসে রাসুল (সাঃ) বলেছেন,

“যে ব্যাক্তি জু’আর দিন ফরজ গোসলের মত গোসল করে প্রথম দিকে মসজিদে হাজির হয়, সে যেন একটি উট কুরবানী করল, দ্বিতীয় সময়ে যে ব্যাক্তি মসজিদে প্রবেশ করে সে যেন একটি গরু কুরবানী করল, তৃতীয় সময়ে যে ব্যাক্তি মসজিদে প্রবেশ করল সে যেন একটি ছাগল কুরবানী করল। অতঃপর চতুর্থ সময়ে যে ব্যাক্তি মসজিদে গেল সে যেন একটি মুরগী কুরবানী করল। আর পঞ্চম সময়ে যে ব্যাক্তি মসজিদে প্রবেশ করল সে যেন একটি ডিম কুরবানী করল। অতঃপর ইমাম যখন বেরিয়ে এসে মিম্বরে বসে গেলেন খুৎবার জন্য, তখন ফেরেশতারা লেখা বন্ধ করে খুৎবা শুনতে বসে যায়।” (বুখারীঃ ৮৮১, ইফা ৮৩৭, আধুনিক ৮৩০)

২। মসজিদের দরজায় দাঁড়িয়ে ফেরেশতারা অগ্রগামীদের নাম তালিকাভুক্ত করেনঃ

জুম’আর সালাতে কারা অগ্রগামী, ফেরেশতারা এর তালিকা তৈরি করে থাকেন। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,

“জুম’আর দিন মসজিদের দরজায় ফেরেশতা এসে হাজির হয়। সেখানে দাঁড়িয়ে তারা সর্বাগ্রে আগমনকারীদের নাম লিখতে থাকে। প্রথম ভাগে যারা মসজিদে ঢুকেন তাদের জন্য উট, দ্বিতীয়বারে যারা আসেন তাদের জন্য গরু, তৃতীয়বারে যারা আসেন তাদের জন্য ছাগল, চতুর্থবারে যারা আসেন তাদের জন্য মুরগী, ও সর্বশেষ পঞ্চমবারে যারা আগমন করেন তাদের জন্য ডিম কুরবানী বা দান করার সমান সওাব্ব লিখে থাকেন। আর যখন ইমাম খুৎবা দেওয়ার জন্য মিম্বরে উঠে পড়েন ফেরেশতারা তাদের এ খাতা বন্ধ করে খুৎবা শুনতে বসে যান।” (বুখারী ৯২৯, ইফা ৮৮২, আধুনিক ৮৭৬)

৩। দশ দিনের গুনাহ মাফ হয়ঃ

জুম’আর দিনের আদব যারা রক্ষা করে তাদের দশ দিনের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,

‘যে ব্যাক্তি ভালভাবে পবিত্র হল অতঃপর মসজিদে এলো, মনোযোগ দিয়ে খুৎবা শুনতে চুপচাপ বসে রইল, তার জন্য দুই জুম’আর মধ্যবর্তী এ সাত দিনের সাথে আরও তিনদিন যোগ করে মোট দশ দিনের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। পক্ষান্তরে খুৎবার সময় যে ব্যক্তি পাথর, নুড়িকণা বা অন্য কিছু নাড়াচাড়া করল সে যেন অনর্থক কাজ করল।’ (মুসলিমঃ ৮৫৭)

৪। জুম’আর আদব রক্ষাকারীর দশ দিনের গুনাহ মুছে যায়ঃ

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,

“জুম’আর সালাতে তিন ধরনের লোক হাজির হয়। (ক) এক ধরনের লোক আছে যারা মসজিদে প্রবেশের পর তামাশা করে, তারা বিনিময়ে তামাশা ছাড়া কিছুই পাবে না। (খ) দ্বিতীয় আরেক ধরনের লোক আছে যারা জুম’আয় হাজির হয় সেখানে দু’আ মুনাজাত করে, ফলে আল্লাহ যাকে চান তাকে কিছু দেন আর যাকে ইচ্ছা দেন না। (গ) তৃতীয় প্রকার লোক হল যারা জুম’আয় হাজির হয়, চুপচাপ থাকে, মনোযোগ দিয়ে খুৎবা শোনে, কারও ঘাড় ডিঙ্গিয়ে সামনে আগায় না, কাউকে কষ্ট দেয় না, তার দুই জুম’আর মধ্যবর্তী ৭ দিন সহ আরও তিনদিন যোগ করে মোট দশ দিনের গুনাহ খাতা আল্লাহ তায়ালা মাফ করে দেন।” (আবু দাউদঃ ১১১৩)

৫। প্রতি পদক্ষেপে এক বছরের নফল রোজা ও এক বছরের সারারাত তাহাজ্জুদ পড়ার সওয়াব অর্জিত হয়ঃ

যে ব্যাক্তি আদব রক্ষা করে জুম’আর সালাত আদায় করে তার প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে তার জন্য পুরো এক বছরের রোজা পালন এবং রাত জেগে তাহাজ্জুদ পড়ার সওয়াব লিখা হয়।

আউস বিন আউস আস সাকাফী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,

“জুমা’আর দিন যে ব্যাক্তি গোসল করায় (অর্থাৎ সহবাস করে, ফলে স্ত্রী ফরজ গোসল করে এবং) নিজেও ফরজ গোসল করে, পূর্বাহ্ণে মসজিদে আগমন করে এবং নিজেও প্রথম ভাগে মসজিদে গমন করে, পায়ে হেঁটে মসজিদে যায় (অর্থাৎ কোন কিছুতে আরোহণ করে নয়), ইমামের কাছাকাছি গিয়ে বসে, মনোযোগ দিয়ে খুৎবা শোনে, কোন কিছু নিয়ে খেল তামাশা করে না; সে ব্যাক্তির প্রতিটি পদক্ষেপের জন্য রয়েছে বছরব্যাপী রোজা পালন ও সারা বছর রাত জেগে ইবাদত করার সমতুল্য সওয়াব।” (মুসনাদে আহমাদঃ ৬৯৫৪, ১৬২১৮)

৬। দুই জুম’আর মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহের কাফফারাঃ

জুম’আর সালাত জুম’আ আদায়কারীদের জন্য দুই জুম’আর মধ্যবর্তী গুনাহের কাফফারা স্বরূপ। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,

“পাঁচ বেলা সালাত আদায়, এক জুম’আ থেকে পরবর্তী জুম’আ, এক রমজান থেকে পরবর্তী রমজানের মধ্যবর্তী সময়ে হয়ে যাওয়া সকল (সগীরা) গুনাহের কাফফারা স্বরূপ, এই শর্তে যে, বান্দা কবীরা গুনাহ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখবে।” (মুসলিমঃ ২৩৩)




Md.Yousuf Miah
Accounts Officer
Daffodil International University

111
Ramadan and Fasting / Call of Ummah Ramadan
« on: July 06, 2013, 12:21:25 PM »
চন্দ্রবর্ষের নবম মাস রমজান। এ মাসে পশ্চিম দিগন্তে উদিত এক ফালি চাঁদ মুসলিম উম্মাহর জন্য নিয়ে আসে রহমত, মাগফেরাত ও নাজাতের অমিয় বার্তা। বছরে পশ্চিশ আকাশে এ ধরনের বারোটি উদয় ঘটে। কিন্তু অন্যান্য উদয়ের মধ্যে উম্মাহর জন্য তেমন কোনো বার্তা বহন করে না। থাকে না মুক্তির কোনো পয়গাম। এ জন্য রমজানের বাঁকা চাঁদের উদয় অন্য যে কোনো বারের উদয় থেকে একটু আলাদা। শাবানের অমাবস্যার ঘোর কাটতেই পশ্চিম আকাশে রমজানের বাঁকা চাঁদ উঁকি দেয়। মুসলিম উম্মাহর দুয়ারে দুয়ারে পৌঁছে দেয় তার অঘোষিত আহ্বান।

আল্লাহতায়ালা রমজানের চাঁদ উদয়ের মাধ্যমে মানব জাতির কাছে যে বার্তা পৌঁছে দেন তা হচ্ছে, 'হে কল্যাণের প্রতীক অগ্রসর হও, আর হে অমঙ্গলের হোতা, তুমি তোমার কুকর্মের রাস টেনে ধর।' যারা কল্যাণ চায়, মুক্তির সন্ধান চায়, তাদের জন্য রমজানে রয়েছে অবারিত সুযোগ। রমজান তাদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে সে সুযোগ গ্রহণ করতে। এ মাসে মুমিনের প্রতিটি আমল তাদের কাক্সিক্ষত সফলতার দিকে এক ধাপ এগিয়ে দেয়। সৎ কাজে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তারা ভূষিত হতে পারে মহাপুরস্কারে। সে পুরস্কার হলো অফুরন্ত নেয়ামতের আধার চিরসুখের জান্নাত। যারা পাপাচারের মাধ্যমে জীবনটাকে অতিষ্ঠ করে তুলেছেন, তাদের প্রতি রমজানের আহ্বান হচ্ছে- একটু ক্ষান্ত হওয়ার। নিজের ওপর নিজের জুলুমের মাত্রা না বাড়ানোর। যারা দীর্ঘ এগারো মাস পাপাচারে লিপ্ত থেকে অন্তরটিকে কলুষিত করেছেন তারা এ মাসে স্বচ্ছতার পরশ বুলিয়ে অন্তরা�াকে নিষ্কলুষ করতে পারেন। আ�িক উৎকর্ষ সাধন করে পৌঁছে যেতে পারেন সফলতার শিখরে।

রমজানের বাঁকা চাঁদ আহ্বান জানায় রমজানের দাবি যথার্থভাবে আদায় করতে। শুধু না খেয়ে থাকাই রোজার চাহিদা নয়। এর প্রকৃত চাহিদা হচ্ছে সংযম। প্রতিটি কাজে-কর্মে, আচার-আচরণে সংযমী হতে পারলেই কেবল রমজানের হক আদায় করা সম্ভব। প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে রোজার ছাপ ফুটে উঠতে হবে। কোনো ধরনের অন্যায় তো দূরে থাক, এর কল্পনা করাও পাপ। রাসূল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি রোজা রেখে মিথ্যা কথা, অগোচরে নিন্দা তথা পাপ কাজ থেকে বিরত রইল না, তার রোজা অর্থহীন উপবাস ছাড়া আর কিছুই নয়। আমাদের উপোস যেন অর্থহীন না হয়, নিছক ফ্যাশন ও লোক দেখানো না হয়- সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। রমজানের চাঁদ উদয় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের চিরশত্র� ইবলিশকে শিকলবদ্ধ করে দেওয়া হয়। সে জন্য পাপ কাজ থেকে বেঁচে থাকতে পরিবেশ অনুকূলে থাকে। রমজানে ব্যক্তিত্বের উন্নয়ন ঘটানো যেমন অপরিহার্য, তেমনি মাখলুকের প্রতি সদয় দৃষ্টি দেওয়াও কর্তব্য। বান্দা না খেয়ে থাকলে আল্লাহর বিন্দুমাত্রও স্বার্থ নেই।

এর দ্বারা তিনি তার নির্দেশ পালনে বান্দা কতটুকু আন্তরিক তা যেমন নিরূপণ করেন তেমনি বনী আদমের পারস্পরিক সুখ-দুঃখের অনুভূতি জাগানোও উদ্দেশ্য। যারা প্রাচুর্যের মধ্যে বাস করেন তারা এ মাসে দুর্গতদের দুঃখকষ্টের কথা কিছুটা অনুধাবন করতে পারেন। রমজানের আহ্বান হচ্ছে তাদের প্রতি করুণার হাত প্রসারিত করা। আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি মমতা দেখানো। রমজান মুমিনের আমলের বসন্তকাল। মুমিনের জীবনে গতি আনাই রমজানের অন্যতম লক্ষ্য। দীর্ঘ এগারো মাসে সৃষ্ট মরীচিকা দূর করতেই রমজানের সব প্রয়াস। এ জন্য আমলি পরিবর্তন সাধন না করা গেলে রমজানের দাবি উপেক্ষিত থেকে যায়।





Md.Yousuf Miah
Accounts Officer
Daffodil International University

112
Ramadan and Fasting / Ramadan barakata way to profits
« on: July 06, 2013, 12:14:42 PM »
আসছে সপ্তাহে রোজা শুরু হবে। সর্বত্রই চলছে মাহে রমজানকে বরণ করার প্রস্তুতি। রমজান মাস বছরের বাকি এগারো মাস অপেক্ষা অধিক মর্যাদাশীল ও বরকতপূর্ণ। আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, 'রমজান মাসই হলো সে মাস যাতে নাজিল করা হয়েছে কোরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়াত।' -সূরা বাকারা : ১৮৫
পবিত্র হাদিস শরিফে এসেছে, 'যখন রমজানের আগমন হয় তখন জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। আর শয়তানদের শৃ�খলবদ্ধ করা হয়।' -বুখারি
অন্য হাদিসে এসেছে, 'আল্লাহতায়ালা প্রত্যহ ইফতারের সময় অসংখ্য ব্যক্তিকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন।'- মুসনাদে আহমদ
উপরোল্লিখিত আয়াত ও হাদিস এ কথাই প্রমাণ করে যে, এ মাস হচ্ছে হেদায়েত লাভের মাস, আল্লাহতায়ালার রহমত লাভের মাস এবং জাহান্নাম থেকে নাজাত অর্জনের মাস। সুতরাং বেশি বেশি ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহতায়ালার নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করা এবং তাওবা-ইস্তেগফারের মাধ্যমে মুক্তির সনদ লাভে সচেষ্ট হওয়া কর্তব্য। এ মাসের রোজাকে আল্লাহতায়ালা ফরজ করেছেন। তাই প্রত্যেক সুস্থ ও প্রাপ্ত বয়স্ক মুসলিম নর-নারীর জন্য রোজা রাখা অপরিহার্য। বলাবাহুল্য যে, ফরজ ইবাদতের মাধ্যমেই বান্দা আল্লাহতায়ালার সর্বাধিক নৈকট্য অর্জন করে। রমজানের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ আমল হচ্ছে তারাবির নামাজ। রমজানের বরকতময় রজনীতে বিশ রাকাত তারাবির নামাজ আদায়ে যত�বান হওয়া উচিত। রমজান মাস হচ্ছে কোরআন নাজিলের মাস। তাই কোরআন মজিদ শ্রবণের জন্য এবং এ পুণ্যময় রজনীতে আল্লাহর সান্নিধ্যে দণ্ডায়মান হওয়ার জন্য তারাবি নামাজের প্রতি অত্যধিক গুরুত্ব দেওয়া কর্তব্য। অন্য সময়ও ব্যক্তিগতভাবে অধিক পরিমাণে কোরআন মজিদ তেলাওয়াত করা উচিত। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে- তাহাজ্জুদ নামাজ। এ মাসে যেহেতু সেহরি খাওয়ার সুবাদে সুবহে সাদিকের আগেই সবাইকে উঠতে হয়, তাই এ সুযোগে তাহাজ্জুদের অভ্যাস করে নেওয়া সহজ। হাদিস শরিফে তাহাজ্জুদের অনেক ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। তদ্র�প সাধ্যমতো দান-সদকা করা উচিত। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) এ মাসে অনেক বেশি দান-সদকা করতেন। এসব নেক আমলের পাশাপাশি গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করাও অপরিহার্য। রমজান মাস হচ্ছে তাকওয়া ও পরহেজগারী অর্জনের মাস। আল্লাহতায়ালা রোজাকে ফরজ করেছেন তাকওয়া অর্জনের জন্য। হাদিস শরিফ থেকে জানা যায় যে, গুনাহ থেকে সর্বতোভাবে বেঁচে থাকা ছাড়া রোজা পূর্ণাঙ্গ হয় না। তাই রোজাকে নিখুঁতভাবে আদায়ের উদ্দেশ্যে মুমিন যখন গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করে তখন আল্লাহতায়ালা নিজ অনুগ্রহে তাকে তাকওয়া ও পরহেজগারীর শক্তি দান করেন। এ জন্য সব গুনাহ থেকে, বিশেষ করে গিবত, শেকায়েত, কুদৃষ্টি, কুচিন্তা, হারাম পানাহার ইত্যাদি থেকে বেঁচে থাকা প্রত্যেক মুসলিমের একান্ত কর্তব্য।
আরেকটি কথা মাহে রমজানের আগমনে আল্লাহপাকের পক্ষ থেকে রোজাদারদের ওপর মেঘবর্ষণের মতো রহমত নাজিল হতে থাকে এবং প্রকৃত রোজাদারের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে কয়েকটি পুরস্কার রয়েছে। বেহেশতের আটটি দরজা। এর মধ্যে একটির নাম রাইয়ান (তৃপ্তি)। এ দরজা দিয়ে বেহেশতে প্রবেশ করার সৌভাগ্য লাভ করবেন শুধু রোজাদাররা। প্রত্যেক রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দ রয়েছে- একটি ইফতারের সময় এবং অপরটি হলো আল্লাহপাকের দিদার লাভ। রোজাদারের আগের সব গুনাহ মাফ হয়ে যায়। রোজাদারের নিদ্রাও ইবাদত এবং তার চুপ থাকা তসবিহস্বরূপ গণ্য হবে।
হজরত সালমান ফারসি (রা.) থেকে বর্ণিত যে, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) শাবান মাসের শেষ তারিখে আমাদের নসিহত করেছেন যে, তোমাদের মাঝে মোবারক মাস রমজান ছায়াস্বরূপ আসছে, যার মধ্যে লাইলাতুল কদর নামে একটি রাত আছে যা হাজার মাস থেকে উত্তম। আল্লাহতাআলা তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করেছেন এবং রাত্রি জাগরণ অর্থাৎ তারাবি পড়াকে তোমাদের জন্য পুণ্যের কাজ করে দিয়েছেন। যে ব্যক্তি এ মাসে নফল আদায় করল সে যেন রমজানের বাইরে একটি ফরজ আদায় করল; যে ব্যক্তি এ মাসে একটি ফরজ আদায় করল সে যেন অন্য মাসে সত্তরটি ফরজ আদায় করল। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) আরও বলেন, এটা সবরের মাস এবং সবরের বিনিময়ে আল্লাহপাক জান্নাত রেখেছেন। এ মাসে মুমিন বান্দাদের রিজিক বৃদ্ধি করে দেওয়া হয়।
আমরা প্রতি বছরই অত্যন্ত উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে রোজা পালন করে থাকি। অর্থাৎ যথারীতি পানাহার ও জৈবিক লালসা চরিতার্থ করা থেকে বিরত থাকি। কিন্তু সর্বক্ষণের জন্য যা হারাম ও অবৈধ, যার পঙ্কিলতা থেকে মুক্তিদান করাই রোজার এ মহান প্রশিক্ষণ, তা আমরা মোটেই পরিত্যাগ করতে পারি না। রোজার প্রকৃত উপকারিতা পেতে হলে মিথ্যা বলা, গিবত, কুদৃষ্টি, হারাম উপার্জন, অশ্লীল গানবাজনাসহ যাবতীয় গুনাহ থেকে আমাদের বিরত থাকতে হবে, আর এটাই প্রকৃত রোজা। আল্লাহ আমাদের সবাইকে প্রকৃত রোজা পালানে তাওফিক দান করুন। আমীন।




Md.Yousuf Miah
Accounts Officer
Daffodil International University

113
Ramadan and Fasting / Let us welcome the "Ramadan"
« on: July 04, 2013, 11:41:36 AM »
বাড়িতে বিশেষ কোনো মেহমান আসার তারিখ থাকলে আমরা আগে থেকেই নানা প্রস্তুতি নিই। ঘরদোর পরিষ্কার করি। বিছানাপত্র সাফ-সুতরো করি। পরিপাটি করি বাড়ির পরিবেশ। নিশ্চিত করি মেহমানের যথাযথ সম্মান ও সন্তুষ্টি রক্ষার সার্বিক ব্যবস্থা।

তারপর অপেক্ষা করতে থাকি মেহমানকে সসম্মানে বরণ করে নেয়ার জন্য। আমাদের ঘরেও আজ উপস্থিত এক বিশেষ অতিথি। এমন অতিথি যার আগমনে সাড়া পড়ে যায় জমিনে ও আসমানে! আনন্দের হিল্লোল বয়ে যায় সমগ্র সৃষ্টি জগতে! আল্লাহর হাবিবের মুখেই শুনুন সে কথা—‘যখন রমজানের প্রথম রাত আগমন করে—শয়তান এবং অবাধ্য জিনদের শৃঙ্খলিত করা হয়, জাহান্নামের সব দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়; খোলা রাখা হয় না কোনো দ্বার, জান্নাতের দুয়ারগুলো অর্গলমুক্ত করে দেয়া হয়; বদ্ধ রাখা হয় না কোনো তোরণ।

এদিকে একজন ঘোষক ঘোষণা করেন—‘হে পুণ্যের অনুগামী, অগ্রসর হও। হে মন্দ-পথযাত্রী, থেমে যাও।’ আবার অনেক ব্যক্তিকে আল্লাহ তায়ালা জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন। আর এমনটি করা হয় রমজানের প্রতি রাতেই।’ (তিরমিযি : ৬৮২; ইবনে মাজা : ১৬৪২)

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাই রমজান আসার আগে থেকেই রমজানের জন্য প্রস্তুতি নিতেন। শাবান মাসে অধিক হারে নফল রোজা পালনের মাধ্যমে তিনি রমজানে সিয়াম সাধনার পূর্বানুশীলন করতেন। তদুপরি তিনি সাহাবিদের রমজানের শুভাগমনের সুসংবাদ দিতেন। তাদের শোনাতেন রমজানের ফজিলতের কথা। তারা যেন রমজানে ইবাদত-বন্দেগিতে বেশি করে আত্মনিয়োগ করতে পারেন। নেকি অর্জনে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে প্রত্যয়ী হন। ইমাম আহমদ (রহ.) আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সঙ্গী-সাথীদের এই মর্মে সুসংবাদ শোনাতেন—‘তোমাদের সমীপে রমজান মাস এসেছে। এটি এক মোবারক মাস।

আল্লাহ তায়ালা তোমাদের ওপর এ মাসের রোজা ফরজ করেছেন। এতে জান্নাতের দ্বার খোলা হয়। বন্ধ রাখা হয় জাহান্নামের দরজা। শয়তানকে বাঁধা হয় শেকলে। এ মাসে একটি রজনী রয়েছে যা সহস্র মাস থেকে উত্তম। যে এর কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো সে যেন যাবতীয় কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত হলো।’ (মুসনাদে আহমদ : ২/২৩০)
সুতরাং আমাদের কর্তব্য হলো, এ মহান অতিথির সমাদর করা। এ মাস যেন আমাদের বিপক্ষে দলিল না হয়ে দাঁড়ায় তার প্রস্তুতি সম্পন্ন করা।

কারণ মাসটি পেয়েও যে এর উপযুক্ত মূল্য দিল না, বেশি বেশি পুণ্য আহরণ করতে পারল না এবং জান্নাত লাভ ও জাহান্নাম থেকে পরিত্রাণের পরোয়ানা পেল না, সে বড় হতভাগ্য। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাপার হলো, এমন ব্যক্তি আল্লাহর ফেরেশতা ও খোদ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বদদোয়ার অধিকারী। কারণ এমন ব্যক্তির ওপর জিবরাইল (আ.) লানত করেছেন আর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার সঙ্গে ‘আমিন’ বলেছেন!

রমজানকে সব গোনাহ থেকে বিশেষ করে তওবার সঙ্গে গ্রহণ করা উচিত। কারণ এটা তো তওবারই মৌসুম। এ মাসে তওবা না করলে তওবা করব কবে? অনুরূপভাবে রমজানে ইবাদতে দ্বিগুণ চেষ্টা, দান-সাদাকা, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-ইস্তেগফার এবং অন্যান্য নেক আমল অধিক পরিমাণে করার দৃঢ় সংকল্প রাখতে হবে এবং এ দোয়ার মাধ্যমে—হে আল্লাহ! আমাদের তোমার সন্তুষ্টিমত রোজা রাখার এবং তারাবি আদায় করার তাওফিক দাও।





Md.Yousuf Miah
Accounts Officer
Daffodil International University

114
Allah: My belief / Features full trust in Allah who
« on: July 03, 2013, 01:14:35 PM »
আমাদের জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপেই জয় পরাজয়, অথবা সফলতা ব্যর্থতার হিসেব কষে এগুতে হয়। জীবনের কোনো ক্ষেত্রে সফল্য এলে যেমন আমরা খুশির স্রোতে ভাসি, ঠিক তেমনি কোনো ক্ষেত্রে ব্যর্থ হলে অনেকের জীবনেই নেমে আসে হতাশার অন্ধকার।

কিন্তু আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার ওপর যদি আমাদের পূর্ণ আস্থা এবং বিশ্বাস থাকে তাহলে জীবনের এসব কঠিন মুহূর্তেই নিশ্চিন্ত থাকা সম্ভব। দুনিয়ার জীবনের কোনো ব্যর্থতা তখন আখিরাতের পুরস্কারের তুলনায় বড় হয়ে উঠতে পারে না। জীবনের হিসেব তখন আমাদের ইচ্ছাধীন না রেখে আল্লাহর ওপর  ছেড়ে দিয়ে নিশ্চিন্ত মনে সুখে শান্তিতে থাকা সম্ভব। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা পবিত্র কুরানে সূরা আত্ব-ত্বালাক্ব এ বলেছেন
"যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে তার জন্যে তিনিই যথেষ্ট।" (সূরা আত্ব-ত্বালাক্ব -৩)

আমরা অনেকেই মানুষ হয়ে সীমিত ক্ষমতার অধিকারী অন্য কারো ওপর অনেক বেশি ভরসা করে থাকি, আর ফল স্বরূপ অনেক ক্ষেত্রেই আশাহত হই। কিন্তু আল্লাহ হচ্ছেন অসীম ক্ষমতার অধিকারী, তিনিই পারেন যাকে ইচ্ছা সাহায্য করতে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা এই সম্পর্কে বলেন,
 “আর তুমি ভরসা কর এমন চিরঞ্জীব সত্ত্বার ওপর যিনি মরবেন না।” (সূরা আল ফুরকান: ৫৮)

মানুষ হচ্ছে আল্লাহ তা’আলার সৃষ্ট জীব, তাই তার অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে, আর তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, মানুষ অনেক সময়ই ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় অন্যের সাহায্যে এগিয়ে আসতে পারে না। কিন্তু আল্লাহর ওপর ভরসা করলে আল্লাহ তার প্রতিদান অবশ্যই দেবেন। আর মুমিনদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, তারা আল্লাহর ওপর আস্থা রাখে, এই বিষয়ে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেন,
 “আর আল্লাহর ওপরই মুমিনদের ভরসা করা উচিত।” (সূরা ইবরাহীম : ১১)
তাকদিরে বিশ্বাস স্থাপন করা ইমানের মূল সাতটি বিষয়ের একটি। অর্থাৎ আমাদের জীবনের প্রতিটি ঘটনা, ভালো কিংবা মন্দ যা-ই ঘটুক না কেন তা আল্লাহর পক্ষ থেকেই আমাদের কাছে আসে, এই বিশ্বাস আমাদের রাখতে হবে। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে,
"আল্লাহর নির্দেশ ব্যতিরেকে কোনো বিপদ আসে না এবং যে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করে, তিনি তার অন্তরকে সৎপথ প্রদর্শন করেন। আল্লাহ সর্ব বিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত।"
(সূরা-আত-তাগাবুন-১১)

অর্থাৎ যারা আল্লাহর ওপর আস্থাশীল, তাদের আল্লাহ সঠিক পথে পরিচালনা করেন, আর মুমিনদের কাছে এর থেকে মূল্যবান খবর আর কী হতে পারে?

আসুন, আমরা আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থাশীল থেকে জীবনের সমস্যাগুলোর সমাধান খুঁজি, তাহলে একদিকে যেমন অন্য কোনো সত্ত্বার কাছে নিজেকে সমর্পণ করতে হবে না, আবার আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা আমাদের ওপর খুশি হবেন, সেই সঙ্গে ইহকাল ও পরকালের একটা ভালো বন্দবস্তও হয়ে যাবে।



Md.Yousuf Miah
Accounts Officer
Daffodil International University

115
Public Health / Cancer prevention snake venom
« on: July 03, 2013, 11:48:11 AM »
যে বিষ শরীরে ছড়িয়ে পড়লে মৃত্যু প্রায় নিশ্চিত, সেই বিষের সাহায্যেই এক মারণ রোগকে বধ করার পন্থা আবিষ্কার করেছেন বলে দাবি করলেন কলকাতার বিজ্ঞানীরা।
রোববার ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা এক প্রতিবেদনে জানায়, শুধু তাই নয়, রোগ সারাতে গিয়ে কোনও গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যাতে রোগীকে কাবু করতে না পারে, তারও পথ বাতলে দিলেন তাঁরাই। প্রথম দফায় শুধু রক্তের ক্যানসারের (লিউকেমিয়া) উপরেই এর কার্যকারিতা সামনে এসেছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেউটে, চন্দ্রবোড়া, খরিষের মতো সাপের বিষ থেকে ক্যানসার ঠেকানোর যৌগ আবিষ্কারের এই দাবি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরবিজ্ঞান বিভাগের বিজ্ঞানীদের। শুধু ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করাই নয়, মানুষের দেহে ওই যৌগের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ঠেকানোর পথও আবিষ্কার করেছেন তাঁরা। এ ক্ষেত্রে তাঁদের সহায়ক হয়েছে স্বর্ণচূর্ণের কণা, যা প্রাচীন আয়ুর্বেদের সময় থেকেই নানা রোগ সারাতে ব্যবহার করা হয়।

আনন্দবাজারপত্রিকা বলছে, এই গবেষণাপত্র একটি বিজ্ঞান জার্নাল ‘নেচার ইন্ডিয়া’-য় প্রকাশিত হয়েছে। সাপের বিষ ও সোনার গুঁড়োর যৌথ আক্রমণে ক্যানসারের মতো মারণ রোগকে পিছু হটানো সম্ভব কি না, তা নিয়ে নানা মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। তবে ক্যানসার চিকিৎসকদের বক্তব্য, এটা একেবারেই প্রাথমিক স্তরে রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক অ্যান্টনি গোমস জানান,১৯৯৫ সাল থেকে তাঁদের বিভাগে কাজ শুরু হয়। ২০০৫ সালে চন্দ্রবোড়ার বিষের প্রোটিন যৌগ ক্যানসার আক্রান্ত কোষকে মারছে,তা প্রমাণিত হয়। গবেষণার মাধ্যমে কেউটের বিষেও এই ক্ষমতার কথা তাঁরা সামনে আনেন।

কিন্তু সমস্যা হল, যে কোনও কেমোথেরাপির ওষুধের মতো প্রোটিন যৌগেরও কিছু ক্ষতিকর দিক রয়েছে।

কী সেই ক্ষতিকর দিক? চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন,হৃৎপিণ্ড এবং স্নায়ুর উপরে ওই যৌগের বিরূপ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ঘটতে পারে। সেই কারণেই এই যৌগ থেকে ওষুধ তৈরির বিষয়টি নিয়ে বেশি দূর এগোনো বিপজ্জনক হতে পারে।

এতে বলা হয়েছে, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই বিজ্ঞানীদের দাবি,সোনার গুঁড়ো ব্যবহার করে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমানোর পন্থাও তাঁরা আবিষ্কার করেছেন। ইঁদুরের ওপর তা প্রয়োগও হয়েছে। কীভাবে? অ্যান্টনি গোমস বলেন, “এ ক্ষেত্রে কাজে লাগানো হয়েছে ন্যানো প্রযুক্তি। সোনার ন্যানো পার্টিকল তৈরি করে তা মেশানো হয়েছে সাপের বিষ থেকে আহরিত যৌগের সঙ্গে। তার পরে তা ইঁদুরের উপরে প্রয়োগ করা হয়েছে। তাতে দেখা গিয়েছে, ক্যানসার আক্রান্ত কোষ মরছে, কিন্তু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তুলনায় অনেকটাই কম।”

আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগে কাঁকড়া বিছের বিষ থেকে যৌগ নিয়ে ক্যানসারের ওষুধ আবিষ্কারের কাজ হয়েছে। সাপের বিষ থেকে ক্যানসারের ওষুধ আবিষ্কারের ব্যাপারে কাজ শুরু হয় ১৯৩৩ সাল থেকে। এক ফরাসী বিজ্ঞানী এই কাজ শুরু করেছিলেন। পরে ভারতেও একাধিক গবেষণা শুরু হয়।

কলকাতার বিজ্ঞানীরা রক্তের ক্যানসারের ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা প্রমাণ করতে পারলেও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তাই পরের দফায় কীভাবে এই যৌগের বিষক্রিয়া কমানো যায়, তা নিয়ে কাজ চলছিল। উদ্দেশ্য ছিল মূলত দু’টি- ক্যানসারকে ধ্বংস করার পাশাপাশি বিষক্রিয়া ঠেকানো।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিজ্ঞানীদের দাবি, ‘গোল্ড ন্যানো পার্টিকল’ তৈরি করে ওই যৌগের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ায় সুফল মিলেছে।

বিজ্ঞানী অমিয় কুমার হাটি জানান, সাপের বিষ থেকে শুধু ক্যানসার নয়, হৃৎপিণ্ড, স্নায়ুতন্ত্রের নানা রোগের ওষুধ তৈরি হয়। তাঁর কথায়, “সাপের বিষে অনেক ধরনের প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, এনজাইম রয়েছে। সবটাই যে ক্ষতিকর, তা নয়। ক্ষতিকর বিষয়গুলো বাদ দিয়ে কীভাবে সাপের বিষকে ওষুধ তৈরির কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়ে বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীরা নিরন্তর কাজ করে চলেছেন।”

আনন্দবাজার পত্রিকা বলছে, আয়ুর্বেদের সময় থেকে চিকিৎসার কাজে সোনার ব্যবহারও চালু রয়েছে। প্রাচীনকালে বৈদ্যরা সোনার কণা দিয়ে আর্র্থারাইটিস-সহ নানা রোগের চিকিৎসা করতেন।

তবে সোনাও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মুক্ত নয় বলে জানান আয়ুর্বেদ চিকিৎসকেরা। তাঁদের বক্তব্য, সোনা থেকেও কিছু বিরূপ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। কিন্তু সেই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ক্যানসারের মতো মারণ রোগের কাছে নগণ্য বলে তাঁদের অভিমত।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যানসার চিকিৎসক গৌতম মুখোপাধ্যায় বলেন, “যদি এমন কিছু হয়, তা হলে স্বাগত। কিন্তু চার দফার ট্রায়ালের পরে সাফল্য পেলে তবেই এ নিয়ে আশান্বিত হওয়া যাবে।”

একই কথা জানান ক্যানসার চিকিৎসক সুবীর গঙ্গোপাধ্যায়ও। তার মতে, “এর ডোজ, সহনক্ষমতা সবটাই বিচার্য। রোগীর শরীরে এর সুদূরপ্রসারী ফলাফল কী, সেটাও জানতে হবে। এখন গবেষণাগারে প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু মানুষের দেহে প্রয়োগের পরেই নিশ্চিত হওয়া যাবে।”

ক্যানসার চিকিৎসক আশিস মুখোপাধ্যায় বলেন, “সাপের বিষে এমন এক ধরনের যৌগ রয়েছে যা লিউকেমিয়ার জন্য দায়ী জিনকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়। আমরাও এর ফল দেখার জন্য আশাবাদী।



Md.Yousuf Miah
Accounts Officer
Daffodil International University

116
Blood Pressure / 10 reasons for"High Cholestoral"
« on: July 03, 2013, 10:46:27 AM »
আমাদের সুস্থতার জন্য কলেস্টেরলের মাত্রা একটি কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে রাখা অপরিহার্য।কেননা শরীরের কলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলে হৃদরোগ, উচ্চরক্তচাপসহ বিভিন্ন সমস্যার কারণ হয়ে দাড়ায়।

আজকাল প্রাপ্তবয়স্কদের অনেকেই আমরা উচ্চ কোলেস্টরল সমস্যায় ভুগছি। বিভিন্ন কারণে উচ্চ কলেস্টেরল সমস্যা হতে পারে। তবে সবচেয়ে বেশি দায়ী ১০ কারণ হচ্ছে:

অস্বাস্থ্যকর খাদ্য
প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় অসতর্কভাবে অতিরিক্ত কলেস্টেরল এবং চর্বিযুক্ত খাবার খাচ্ছি। লাল মাংস, মাখন, পনির, ঘি ইত্যাদি খাবার যত কম খাওয়া যায় ততোই ভালো।

বংশগত কারণ
যাদের উচ্চ কলেস্টেরলের পারিবারিক ইতিহাস রয়েছে, তাদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হবে। কারণ এদের উচ্চ কলেস্টেরলের মাত্রার ঝুঁকি অন্যদের চেয়ে বেশি থাকে।

অতিরিক্ত ওজন
স্থূলতা বা মাত্রাতিরিক্ত ওজন উচ্চ কলেস্টেরলের অন্যতম কারণ।এছাড়া, স্থুলতার ফলে  আমাদের ব্যক্তিগত এবং সামাজিক জীবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।তাই, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন আর উচ্চ কলেস্টেরলের ঝুঁকি তাড়ান।

অলসতা
পুরোদিনে শারীরিক শ্রম বলতে কিছুই করা হয় না। শুয়ে বসে কেটে যায় জীবনের বেশিরভাগ দিন। এভাবে চললে শরীরের ওজন বাড়ে আর উচ্চ কলেস্টেরলের ঝুঁকিও থাকে অনেক বেশি।

ধূমপান
ধুমপান কলেস্টেরল স্তর বাড়াতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। এটা কলেস্টেলের মাত্রা বাড়ায় তবে জীবনের আয়ুর মাত্রা কমায়। অতএব, ধূমপান ত্যাগ করুন।আপনার কলেস্টেরলের মাত্রা বজায় রেখে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হোন।

বয়স
২০ বছরের পর থেকে অামাদের শরীরের কলেস্টেরলের মাত্রা স্বাভাবিকভাবেই বাড়তে শুরু করে। সাধারণত ৬০ বছর পর্যন্ত নারী পুরুষ উভয়েরই কলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি অব্যাহত থাকে। তবে মেনোপজের আগে নারীদের কলেস্টেরলের মাত্রা কমে যায়। কিন্তু মেনোপজের পরে, পুরুষদের তুলনায় নারীদের কলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়। তাই এসময়ে নারীদের শারীরিক এবং মানসিক পরিবর্তনের ফলে আচরনেরও পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়।

ওষুধ
কিছু কিছু ওষুধ সেবনে কলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়। এজন্য কোনো ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই আপনার ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

মদ্যপান
নিয়মিত মদ্যপান যকৃত এবং হৃদযন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর। এতে শরীরে উচ্চ রক্তচাপ দেখা দেয় এবং কলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়।

মানসিক চাপ
দীর্ঘদিন ধূমপান, মদ্যপান বা চর্বিযুক্ত খাবার খেয়ে কলেস্টেরলের মাত্রা বেড়েছে এটা নিয়ে অতিরিক্ত মানসিক চাপ কলেস্টেরলের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়।

রোগ
ডায়াবেটিস এবং থাইরয়েডের মত কয়েকটি রোগ শরীরে কলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি করে।

জেনে নিলাম আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর কলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণগুলো। এখন থেকে আসুন সঠিক রোগ নির্ণয়ের মাধ্যমে কলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রেখে সুস্থ থাকি।



Md.Yousuf Miah
Accounts Officer
Daffodil International University

117
মাথা থাকলে মাথাব্যথা হবেই, স্বতঃসিদ্ধ এই কথা আমরা যুগ যুগ ধরে শুনে আসছি। আমাদের সবারই কম বেশি মাথাব্যথা হয়।

অনেকের বেশি দুশ্চিন্তা করলে মাথাব্যথা শুরু হয় আবার কিছুক্ষণ পর এমনিই ভাল হয়ে যায়। এই ধরনের মাথাব্যথাই সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে। তবে আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যাদের দীর্ঘদিন ধরে সময়ে অসময়ে মাথা ব্যথা হয়ে থাকে। আমার দেখা মতে বেশিরভাগ মানুষই তাদের এই ব্যথা কে মাইগ্রেন হিসেবে অবহিত করে থাকেন। মাইগ্রেন অবশ্যই দীর্ঘদিন মাথাব্যথার একটি বড় কারণ।তবে অন্য অনেক কারণও রয়েছে যা বেশিরভাগ সময়ই ঠিক ভাবে খেয়াল করা হয় না।

এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি যে কারণটি দৃষ্টি এড়িয়ে যায় তা হল সারভাইকোজেনিক হেডেক। এই ধরনের মাথাব্যথার উৎস হল ঘাড় থেকে উৎপত্তি হওয়া নার্ভ। সাধারণত ঘাড় থেকে উৎপত্তি হওয়া ৮ টি নার্ভের মধ্যে প্রথম ৩ টি তে যদি কোন রকম চাপের সৃষ্টি হয়, তাহলে সৃষ্ট ব্যথা মাথার দিকে ছড়িয়ে পড়ে। এই ধরনের ব্যথার ক্ষেত্রে ঘাড়ে ও ব্যথা থাকতে পারে। সেই সাথে ঘাড় বিভিন্ন দিকে নাড়ালে মাথা ব্যথার তারতম্য ও ঘটতে পারে।

এখন আমরা আলোচনা করব কেন ঘাড়ের নার্ভে অনেক সময় চাপের সৃষ্টি হয়। আমাদের মেরুদণ্ডের মাঝখান দিয়ে মাথা থেকে কোমর পর্যন্ত স্নায়ু রজ্জু বা স্পাইনাল কর্ড নেমে আসে। এই স্পাইনাল কর্ড মস্তিস্ক থেকে বিভিন্ন নির্দেশনা বিভিন্ন শাখা নার্ভের মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন অংশে পরিবহন করে, আবার শরীরের বিভিন্ন তথ্য ও অসুবিধার কথা মস্তিস্কে পৌঁছে দেয়। স্পাইনাল কর্ড থেকে তৈরি হওয়া এই শাখা নার্ভ গুলোকেই বলা হয় স্পাইনাল নার্ভ। ঘাড় থেকে এই স্পাইনাল নার্ভ যখন বের হয়, তা মেরুদণ্ডের বিভিন্ন জটিল কাঠামো ভেদ করে বাইরে বের হয়ে আসে।

এই বের হয়ে আসার সময় মেরুদণ্ডের বিভিন্ন অংশের (যেমন ডিস্ক, লিগামেন্ট, মাসেল) সাথে চাপের জন্য ব্যথার উৎপত্তি হয়। এখন ঘাড় থেকে উৎপত্তি হওয়া ৮ টি নার্ভের মধ্যে প্রথম ৩ টি তে যদি এই ধরনের চাপের সৃষ্টি হয় আর এই ৩ টি নার্ভ যেহেতু মাথার দিকে যায়, তাই এগুলোতে সৃষ্ট সমস্যার জন্য আমরা মাথায় ব্যথা অনুভব করি।

কেন এই নার্ভগুলোতে চাপের সৃষ্টি হতে পারে? অনেক সময়ই নির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না। তবে অনেক ক্ষেত্রেই বাস, রিকশায় ঝাঁকুনির ফলে ঘাড়ের ডিস্ক সামান্য সরে গিয়ে নার্ভে চাপ দিয়ে থাকে। আবার বয়সের জন্যও অনেকের মেরুদণ্ডের হাড় ক্ষয়ে গিয়ে, অথবা অবাঞ্ছিত ভাবে বৃদ্ধি পেয়ে নার্ভে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

অনেকের কাজের ধরণই এমন যে তাদের দীর্ঘ সময় নিচের দিকে তাকিয়ে কাজ করতে হয়, যেমন দীর্ঘ সময় কম্পিউটার ও ল্যাপটপ ব্যাবহার, ডেস্ক জব ইত্যাদি। এই ধরনের পেশাজীবীদের সারভাইকোজেনিক হেডেক বেশি হয়ে থাকে সচেতনতার অভাবে। 

তাই, আপনার যদি দীর্ঘদিন মাথাব্যথা সেই সাথে ঘাড়ে ব্যথা থাকে এবং অনেক সময় ঘাড়ের নড়াচড়ার সাথে ব্যথার তারতম্য ঘটে, তাহলে প্রাথমিক ভাবে ধরে নেয়া যায় যে আপনার সারভাইকোজেনিক হেডেক রয়েছে। তবে এটা নির্ণয় করার জন্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

চিকিৎসা

অনেক সময় সাধারণ মাসেল রিলাকজেন্ট, এনালজেসিক (ব্যথা নাশক) খেলেই ধীরে ধীরে সেরে যেতে পারে। তবে নার্ভের ওপর চাপ যদি ডিস্ক বা লিগামেন্টের জন্য হয়ে থাকে, তাহলে সেই চাপ সরানোর জন্য আপনাকে কিছু বিশেষ ধরনের ফিজিওথেরাপি (ডিস্ক ম্যানিপুলেশন, মবিলাইজেসন, লেজার থেরাপি), থেরাপিউটিক এক্সারসাইজ ইত্যাদির প্রয়োজন হতে পারে। যদি আপনার সমস্যার কারণ এই ধরনের কনজারভেটিভ ট্রিটমেন্ট এ না যায়, তাহলে সার্জারি করে সেই চাপ সরানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

আশা করি ঘাড়ে ব্যথা সহ দীর্ঘদিনের মাথাব্যথাকে মাইগ্রেন ধরে নিয়ে হতাশায় ভুগবেন না। নিয়মিত চিকিৎসা নিলে সারভাইকোজেনিক হেডেক পুরোপুরি ভাল হয়।



Md.Yousuf Miah
Accounts Officer
Daffodil International University

118
Food / No avoid "Tatul"
« on: July 03, 2013, 10:12:08 AM »
তেঁতুলের নাম শুনলেই জিভে জল আসে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। টক তেঁতুল মুখে দিলে আমাদের যে ভিন্ন এক অনুভূতি হয় তা নিশ্চয়ই বলতে হবে না। আমাদের অনেকেরই ধারণা তেঁতুল খেলে রক্ত পানি হয়ে যায়। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে তেঁতুল কোনোভাবেই আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়। বরং হৃদরোগসহ বিভিন্ন রোগে খুব উপকারী। তেঁতুল বসন্ত-কালের ফল হলেও বছরের সব সময়ই পাওয়া যায়।

তেঁতুলে রয়েছে প্রচুর ভেষজ ও পুষ্টিগুণ:

    তেঁতুল দেহে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে এবং হৃদরোগীদের জন্য খুব উপকারী
    রক্তের কোলেস্টেরল কমায়
    শরীরের মেদ কমাতেও কাজ করে তেঁতুল
    পেটে গ্যাস, হজম সমস্যা, হাত-পা জ্বালায় তেঁতুলের শরবত খুব উপকারী
    খিদে বাড়ায়
    গর্ভাবস্থায় বমি বমি বমি ভাব দূর করে
    মুখের লালা তৈরি হয়
    তেঁতুল পাতার ভেষজ চা ম্যালেরিয়া জ্বর কমানোর জন্য ব্যবহৃত হয়
    শিশুদের পেটের কৃমিনাশক
    তেঁতুল ক্যান্সারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সাহায্য করে
    পাইলস্ চিকিত্সার জন্য ব্যবহার করা হয়
    মুখে ঘাঁ ও ত্বকের প্রদাহ সারাতে সাহায্য করে
    তেঁতুল রক্ত পরিস্কার করে
    বাত বা জয়েন্টগুলোতে ব্যথা কমায়
    ভিটামিন সি-এর বড় উৎস
    পুরনো তেঁতুল খেলে কাশি সারে
    পাকা তেঁতুলে খনিজ পদার্থ অন্য যে কোনো ফলের চেয়ে অনেক বেশি
    খাদ্যশক্তিও রয়েছে প্রচুর পরিমাণে
    ক্যালসিয়ামের পরিমাণ সব ফলের চেয়ে ৫ থেকে ১৭ গুণ বেশি
    আর আয়রনের পরিমাণ নারকেল ছাড়া সব ফলের চেয়ে ৫ থেকে ২০ গুণ বেশি।

প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা তেঁতুলের পুষ্টিমান:

ক্যালরি ২৩৯, আমিষ বা প্রোটিন – ২.৮, শর্করা – ৬২.৫ গ্রাম, ফাইবার – ৫.১ গ্রাম, চর্বি – ০.৬ গ্রাম, ফসফরাস - ১১৩ মিলিগ্রাম, লৌহ – ২.৮২ মিলিগ্রাম,  ক্যালসিয়াম - ৭৪ মিলিগ্রাম,  ভিটামিন সি - ২ মিলিগ্রাম, মিনারেল বা খনিজ পদার্থ ২.৯ গ্রাম, ভিটামিন বি – ০.৩৪ মিলিগ্রাম, পটাসিয়াম - ৬২৮ মি:লি,  ভিটামিন ই – ০.১ মিলিগ্রাম, ক্যারোটিন ৬০ মাইক্রোগ্রাম, সেলেনিয়াম – ১.৩ মিলিগ্রাম, সোডিয়াম - ২৮ মিলিগ্রাম, দস্তা – ০.১২ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম - ৯২ মিলিগ্রাম, এবং তামা – ০,৮৬ মিলিগ্রাম।




Md.Yousuf Miah
Accounts Officer
Daffodil International University

119
Allah: My belief / FUn that destroyes "Iman"
« on: July 02, 2013, 05:01:58 PM »
আমাদের সমাজে কত রকম মানুষ, কত রকম মুসলমান। কেউ নামায পড়ে, কেউ পড়েনা, কেউ ভাল কাজ করে, কেউ খারাপ কাজে লিপ্ত থাকে।

এতসব কাজের মধ্যে যে কাজটি আজকাল অহরহ চোখে পড়ে, তা হচ্ছে হাসির ছলে না বুঝে ইসলাম বা মুসলমানদের কোনো বিষয় নিয়ে হাসি ঠাট্টা করা।

বন্ধুদের আড্ডায় আপনিও হয়তো শুনেছেন, ওই দেখ, হুজুরের কি সুন্দর ছাগলা দাড়ি!! সবার সাথে আপনিও হয়তো হেসে ফেললেন হো হো করে।

কথা কথায় কারো অক্ষমতা বোঝাতে ‘মোল্লার দৌঁড় মসজিদ পর্যন্ত’ কথাটি আমরা প্রায়ই ব্যবহার করে থাকি। কখনো ভেবে দেখেছেন, এ কথায় কাকে ঠাট্টা করা হল- আল্লাহর ঘর মসজিদ নাকি মোল্লা মৌলভীকে?

আমাদের নাটক সিনোমাতেও কখনো কখনো না বুঝে ইমাম বা হুজুর চরিত্র রূপায়ন করা হয় কোনো একটি নেতিবাচক বিষয়ের সাথে সম্পর্ক রেখে, এতে দর্শকদের মনে জন্ম নিতে পারে বিরূপ ধারণা।

প্রিয় পাঠক, আল্লাহ পাকের কাছে যে বিষয়গুলো অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং তিনি যেগুলোর কারণে বান্দার সব আমল বাতিল করে দিতে পারেন, এসবের অন্যতম হচ্ছে- দ্বীন ইসলাম বা ইসলাম সর্ম্পকিত কোনো বিষয় নিয়ে হাসি তামাশা করা।

শুধু কি আমল বাতিল হয়ে যাওয়া, বরং কোনো কোনো কথা ও ঠাট্টা তো আপনাকে ইসলাম থেকে বের করে দেবে আপনার অজান্তেই।

এজন্যই আলেমরা বলেন, নামাজ না পড়া কুফুরী নয়, কিন্তু নামাজ বা নামাজীদের নিয়ে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য কিংবা তামাশা করা কুফুরী। মুনাফেকদের প্রথম পরিচয় ছিল, তারা মুসলমানদের নিয়ে হাসি তামাশা করতো, তাদের বোকা ভাবতো। আল্লাহ পাক তাদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘তারাই বোকা অথচ নিজেরা তা জানে না।’ (সূরা বাকারা-১৩)

ইমাম ইবনে কুদামাহ লিখেছেন, যে আল্লাহকে স্বেচ্ছায় বা অনিচ্ছায় গালি দিল, কিংবা যে আল্লাহ বা তার রাসুল কিংবা দ্বীনের কোনো বিষয় নিয়ে ঠাট্টা করল, সে কাফের হয়ে গেল। (আল মুগনী)

ইমাম নববী বলেন, স্বেচ্ছায় কিংবা কেউ যদি স্পষ্টভাবে এমন কোনো কথা বলে যা আল্লাহ ও তার রাসুলের কোনো বিধানকে তুচ্ছ করে, তা অবশ্যই কুফুরী।

ইমাম কুরতুবী লিখেছেন, মজা করার জন্য হোক বা সত্যি সত্যি হোক, ইসলামের কোনো সাধারণ বিষয় নিয়ে হাসি তামাশা করাও কুফুরী। এতে কারো দ্বিমত নেই।

ইমাম ইবনে তাইমিয়া বলেন, দ্বীনের যে কোনো স্পষ্ট বিষয় নিয়ে ঠাট্টা করা কুফুরী। যে এমন করল তার ঈমান ধ্বংস হয়ে কুফুরীতে পরিণত হল।

আর তাই কোনো একজন সাধারণ মানুষ, যে দাড়ি রেখে দ্বীনের ওপর চলতে সচেষ্ট, যে নারী পর্দা রেখে চলতে চায়, তাকে যদি এ কারণে কেউ তুচ্ছ ভাবে কিংবা তামাশার দৃষ্টিতে দেখে, তবে নিশ্চয়ই বিষয়টি গিয়ে দ্বীনের সীমারেখা পর্যন্ত পৌঁছে, যা অত্যন্ত ভয়ানক বিষয়।

অনেক নামাযী মানুষ কিংবা দাড়িওয়ালা হয়তো অপকর্মে লিপ্ত, তার কর্মের জন্য সে নিজেই দায়ী। ধর্মের লেবাসধারীর অপকর্মের দায়ভার কোনো মতেই ধর্মের নয়। তাই তার ধর্মকে গালমন্দ করা বৈধ নয়, কারণ এটি তার স্বভাবের দোষ, তার নামায কিংবা আমলের এতে কোনো হাত নেই।
 
অহরহ পথে ঘাটে এসব বিষয় নিয়ে ‘মশকরা’ করায় মানুষ নিজের অজান্তেই তার দ্বীন থেকে বহিষ্কৃত হয়ে যেতে পারে, সামান্য ‘বিদ্রুপে’ শেষ হয়ে যেতে পারে এতদিনের সব নেক আমল।

আল্লাহ পাক এমন লোকদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘আপনি যদি তাদের জিজ্ঞেস করেন, তারা বলবে, আমরা একটু হাসি তামাশা করছিলাম। আপনি বলে দিন, তোমরা কি আল্লাহকে নিয়ে এবং তার আয়াতসমূহ ও তার রাসুলকে নিয়ে হাসি ঠাট্টা করছ? তোমরা কারণ দেখিয়ো না, তোমরা তো তোমাদের ঈমানের পরও কুফুরী করে ফেলেছো।’ (সূরা তওবা-৬৫-৬৬)

পবিত্র কুরআনে অভিশপ্ত জাতিদের যেসব ঘটনা বিবৃত রয়েছে, তারা তাদের নবীকে নিয়ে ব্যঙ্গ করতো, নবীর অনুসারীদের নিয়ে পথে ঘাটে বিদ্রুপ করতো, আল্লাহ পাক তাদের সমুচিত জবাব দিয়েছেন, পরকালেও তাদের এর বদলা দিবেন আল্লাহ।

মদীনার মুনাফিকদের অবস্থাও ছিল একই রকম। যা হাদীসের বিভিন্ন কিতাবের বিবরণে সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত।

খুব সংক্ষেপে কিছুটা হলেও আপনি হয়তো এর ভয়াবহতা অনুমান করতে পেরেছেন। আর তাই আজ থেকে সব বিষয় নিয়ে হাসি তামাশা নয়, ইসলাম এবং এর সাথে সম্পর্কিত কোনো বিষয় নিয়ে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য নয়, সামান্য একটু হাসির জন্য নিজের সব ঈমান আমল বিকিয়ে দেওয়া কোনো সচেতন বুদ্ধিমানের কাজ নয়।



Md.Yousuf Miah
Accounts Officer
Daffodil International University

120
Allah: My belief / Day of Resurrection, Allah will shelter those
« on: July 02, 2013, 04:53:40 PM »
কেয়ামতের দিন সাত ধরনের ব্যক্তি আল্লাহর ছায়াতলে আশ্রয় পাবেন। 

আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সা.) বলেন, ‌Ôসাত ধরনের ব্যক্তিকে আল্লাহ তাঁর ছায়াতলে আশ্রয় দেবেন, যেদিন তাঁর ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়াই অবশিষ্ট থাকবে না।’

তারা হলেন-

১) ন্যায়পরায়ণ শাসক।

(২) যে যুবক আল্লাহর ইবাদাতের মধ্যে বড় হয়েছে।

(৩) যে ব্যক্তি মসজিদ থেকে বেরিয়ে গেলেও তার অন্তর এর সাথে সম্পৃক্ত থাকে।

 (৪) এমন দু’জন লোক যারা আল্লাহর জন্য পরস্পরের প্রতি ভালবাসা স্থাপন করেছে, একই কারণে পরস্পর এক সঙ্গে থাকে এবং বিচ্ছিন্ন হয়।
 
(৫) এমন ব্যক্তি যাকে কোনো ধনী পরিবারের সুন্দরী নারী (খারাপ কাজে) আহ্বান করেছে, কিন্তু সে তাকে এই বলে প্রত্যাখ্যান করেছে যে আমি আল্লাহকে ভয় করি।
 
(৬) এমন ব্যক্তি যে এত গোপনে দান-সদকা করেছে যে তার ডান হাত কি দান করেছে তার বাম হাতও তা জানতে পারেনি।
 
 এবং (৭) যে ব্যক্তি নির্জনে আল্লাহকে স্মরণ করেছে এবং তার দু’চোখ বেয়ে পানি পড়েছে।
 
(বুখারী: ৬৬০, মুসলিম: ১০৩১)

তাই, আসুন আমরাও চেষ্টা করি সেই সৌভাগ্যবান সাত ধরনের ব্যক্তিদের অন্তর্ভূক্ত হতে।





Md.Yousuf Miah
Accounts Officer
Daffodil International University

Pages: 1 ... 6 7 [8] 9 10 11