Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Topics - Md. Neamat Ullah

Pages: 1 2 [3] 4 5 ... 8
31

কিবোর্ড থেকে সিম্বল লিখবেন কিভাবে



এমএসওয়ার্ড, এক্সেল, পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন, নোট প্যাড কিংবা ফেসবুকে প্রতিদিন কিছু না সিম্বল লিখতে হয়। ড্রাফটে এসব সিম্বল আনতে ঝক্কি কম নয়। অফিসের ইনসার্ট সিম্বল থেকে আনতে হয় এগুলো। কিন্তু সেখানেও সব সিম্বল মেলে না। ফলে ইন্টারনেট ঘেঁটে নিয়ে আসতে হয় কাঙ্খিত সিম্বল। এই ঝামেলা এড়িয়ে কতগুলো শর্টকার্ট মনে রাখলেই কিবোর্ড চেপেই পেতে পারেন আপনার পছন্দসই সিম্বল। আসুন জেনে নেই শর্টকার্ট গুলো।

Alt+0153…TM…trademark symbol

Alt+0169…©…copyright symbol

Alt+0174…®…registered trademark symbol

Alt+0176…°…degree symbol

Alt+0177…±…plus or minus symbol

Alt+0182…¶…paragraph mark

Alt+0190…¾…fraction, three-fourth

Alt+0215…×…multipliction sign

Alt+0162…¢…the cent sign

Alt+0161…¡…upside down excalmation point

Alt+0191…¿…upside down question mark

Alt+1…☺…smile face

Alt+2…☻…black smile face

Alt+15…☼…sun

Alt+12…♀…female sign

Alt+11…♂…male sign

Alt+6…♠…spade

Alt+5…♣…club

Alt+3…♥…heart

Alt+4…♦…diamond

Alt+13…♪…eighth nite

Alt+14…♫…beamed eighth note

Alt+8721…∑…nary summation (auto sum)

Alt+251…√…square root check mark

Alt+24…↑…up arrow

Alt+25…↓…down arrow

Alt+26…→…right arrow

Alt+27…←…left arrow

Alt+18…↕…up down arrow

Alt+29…↔…left right arrow

32
রোজ ১টি আমলকীর সৌন্দর্য ও স্বাস্থ্য সম্পর্কিত ২০টি উপকারিতা




আমলকী হল আমাদের দেহের জন্য সবচাইতে উপকারি ভেষজের মাঝে একটি। এটি আপনি প্রতিদিনই খেতে পারেন এবং এর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। বরং আছে দারুণ সব উপকার। প্রতিদিন এক গাদা ভিটামিন ট্যাবলেট না খেয়ে খান একটি করে আমলকী। কিংবা আমলকীর আচার। খেতে পারেন আমলকীর মোরব্বা কিংবা আমলকীর পাউডার ব্যবহার করতে পারেন রান্নায়। এই সামান্য আমলকী আপনার দেহের করবে বিস্ময়কর সব উপহার। কীভাবে জানতে চান?


 
আসুন জানি প্রতিদিন একটি আমলকী খাওয়ার ২০টি উপকারিতা সম্পর্কে।

১) আমলকী চুলের টনিক হিসেবে কাজ করে এবং চুলের পরিচর্যার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এটি কেবল চুলের গোড়া মজবুত করে তা নয়, এটি চুলের বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে।

২) এটি চুলের খুসকির সমস্যা দূর করে ও পাকা চুল প্রতিরোধ করে।

৩) আমলকীর রস কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলসের সমস্যা দূর করতে পারে। এছাড়াও এটি পেটের গোলযোগ ও বদহজম রুখতে সাহায্য করে।

৪)এক গ্লাস দুধ বা পানির মধ্যে আমলকী গুঁড়ো ও সামান্য চিনি মিশিয়ে দিনে দু’বার খেতে পারেন। এ্যাসিডেটের সমস্যা কম রাখতে সাহায্য করবে।

৫) আধা চূর্ণ শুষ্ক ফল এক গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে খেলে হজম সমস্যা কেটে যাবে। খাবারের সঙ্গে আমলকীর আচার হজমে সাহায্য করে।

৬) প্রতিদিন সকালে আমলকীর রসের সঙ্গে মধু মিশে খাওয়া যেতে পারে। এতে ত্বকের কালো দাগ দূর হবে ও ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়বে।

৭) আমলকীর রস দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। এছড়াও চোখের বিভিন্ন সমস্যা যেমন চোখের প্রদাহ। চোখ চুলকানি বা পানি পড়ার সমস্যা থেকে রেহাই দেয়।

৮) আমলকী চোখ ভাল রাখার জন্য উপকারী। এতে রয়েছে ফাইটো-কেমিক্যাল যা চোখের সঙ্গে জড়িও ডিজেনারেশন প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

৯) এছাড়াও প্রতিদিন আমলকির রস খেলে নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ দূর হয় এবং দাঁত শক্ত থাকে।

১০) আমলকীর টক ও তেতো মুখে রুচি ও স্বাদ বাড়ায়। রুচি বৃদ্ধি ও খিদে বাড়ানোর জন্য আমলকী গুঁড়োর সঙ্গে সামান্য মধু ও মাখন মিশিয়ে খাওয়ার আগে খেতে পারেন।

১১) রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং মানসিক চাপ কমায়।

১২) কফ, বমি, অনিদ্রা, ব্যথা-বেদনায় আমলকী অনেক উপকারী।

১৩) ব্রঙ্কাইটিস ও এ্যাজমার জন্য আমলকীর জুস উপকারী।

১৪) শরীর ঠাণ্ডা রাখে, শরীরের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে, পেশী মজবুত করে।

১৫) এটি হৃদযন্ত্র, ফুসফুসকে শক্তিশালী করে ও মস্তিষ্কের শক্তিবর্ধন করে। আমলকীর আচার বা মোরব্বা মস্তিষ্ক ও হৃদযন্ত্রের দুর্বলতা দূর করে।

১৬) শরীরের অপ্রয়োজনীয় ফ্যাট ঝরাতে সাহায্য করে।

১৭) লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যা বাড়িয়ে তুলে দাঁত ও নখ ভাল রাখে।

১৮) এর এ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান ফ্রি র‌্যাডিকালস প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। বুড়িয়ে যাওয়া ও সেল ডিজেনারেশনের অন্যতম কারণ এই ফ্রি র‌্যাডিকালস।

১৯) সর্দি-কাশি, পেটের পীড়া ও রক্তশূন্যতা দূরীকরণে বেশ ভালো কাজ করে।

২০) ব্লাড সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে রেখে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। কোলেস্টেরল লেভেলেও কম রাখাতে যথেষ্ট সাহায্য করে।

33
রমজানে মাত্র ৩ টি কাজ করলে কখনোই গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হবে না আপনার

মনিতেই আমাদের দেশে গ্যাস্টিক জনিত সমস্যার মানুষ বেশি। রোজাদার ব্যক্তির মূলত সারাদিন পেট খালি থাকে, অন্যদিকে ইফতারে ভাজা পোড়া খাওয়া সবমিলিয়ে সমস্যাটি বেশি হয় এই পবিত্র মাসেই প্রকট আকার ধারণ করে। তাই চলুন এখনই জেনে নিই পবিত্র রমজান মাসে কোন তিনটি কাজ করলে আর কখনো আপনার গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থাকবে না।

১। আধা ইঞ্চি পরিমাণ কাঁচা আদা নিন। তারপর অল্প একটু লবন মাখিয়ে খেয়ে ফেলুন। আদা খাওয়ার কিছুক্ষণ পর এক কাপ কুসুম গরম পানি খান। গভীর রাতে আর গ্যস্ট্রিকের সমস্যা হবে না।
অথবা
২। এক গ্লাস পানি একটি হাড়িতে নিয়ে চুলায় বসান। এর আগে এক ইঞ্চি পরিমাণ কাঁচা হলুদ পানিতে দিয়ে দিন। পানি অন্তত পাঁচ মিনিট ফুটতে দিন। তারপর নামিয়ে আনুন। পানি ঠাণ্ডা হলে হলুদসহ খেয়ে ফেলুন। গ্যাস্ট্রিক দৌঁড়ে পালাবে।
অথবা
৩। ওপরের সমস্ত পদ্ধতি ঝামেলার মনে হলে শুধুমাত্র এক গ্লাস পানিতে এক চা চামচ মধু মিশিয়ে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে পান করুন। কখনোই রাতে পেট বা বুক ব্যথা করবে না।

34
শুরু হল জান্নাত লাভের মাস
[/b]



শুরু হল জান্নাত লাভের মাস
খোশ আমদেদ মাহে রমজানুল মোবারক। শাবান মাস বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে আকাশে এক ফালি চাঁদ ওঠার মাধ্যমে রহমত, বরকত আর নাজাতের সওগাত নিয়ে ধনী-গরিব, ছোট-বড়, আরব-অনারব- সবার কাছে ফিরে এসেছে মহিমান্বিত তাকওয়ার মাস রামাদান। এ মাসে সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মুমিন মুসলমান তাদের ঈমানী চেতনা জাগ্রত করে নেবে। আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে অর্জন করে নেবে মহান আল্লাহর ক্ষমা আর মেহেরবানি।
‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রমজানের রোজা ফরজ করা হয়েছে। যেভাবে ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর। যেন তোমরা পরহেজগারি অর্জন করতে পার।’ (সূরা বাকারা, আয়াত ১৮৩)।
পবিত্র কোরআনের এ আয়াতে রমজান মাসে রোজা ফরজ করার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বর্ণনা করা হয়েছে। কোরআনে ব্যবহৃত ‘সওম’-এর শাব্দিক অর্থ হচ্ছে বিরত থাকা। শরিয়তের পরিভাষায় সুবেহ সাদেক হওয়ার আগ থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজার নিয়তে পানাহার ও যৌনকর্ম থেকে বিরত থাকার নাম ‘সওম’ বা রোজা।
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাজিয়াল্লাহু আনহু বলেন, মদিনা মুনাওয়ারায় হিজরতে এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দেখতে পেলেন, ইহুদিরা আশুরার দিন রোজা পালন করে। আল্লাহর রাসূল (সা.) তাদের জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা আজকের দিনে রোজা পালন করছ কেন? ইহুদিরা বলল, আল্লাহপাক বনি ইসরাইলকে তাদের দুশমনদের কবল থেকে এমন দিনে নাজাত দান করেছিলেন। যার কারণে নবী মূসা (আ.) আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে এই দিনে রোজা পালন করেছিলেন। এ জন্য আমরাও মূসা (আ.)-এর অনুসরণ করে এদিন রোজা পালন করে থাকি। তখন প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমরা তোমাদের চেয়ে মূসা (আ.)-এর অধিক নিকটবর্তী। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই দিনে নিজেও রোজা পালন করলেন এবং সাহাবাদেরও রোজা রাখতে নির্দেশ দিলেন। ইসলামের সেই যুগে আশুরার এ রোজাটি মুসলমানদের ওপর ফরজ ছিল। তবে ইহুদিদের সঙ্গে যাতে মিল না থাকে এজন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আশুরার এ রোজার সঙ্গে আগের দিন বা পরের দিন আরেকটি রোজা রাখার নির্দেশ যুক্ত করে দিলেন।
হিজরতের ২য় বছর ৬২৪ খ্রি. শাবান মাসে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মুসলমানদের এক মাস রোজা রাখার হুকুম দিয়ে আয়াত নাজিল করেন এবং মাহে রমজানকে সিয়াম পালনের মাস হিসেবে নির্ধারণ করে দেন। তখন থেকেই রমজানের এক মাস রোজা রাখা মুসলমানদের ওপর ফরজ হয়ে গেল। আর রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার পর আশুরার রোজার ফরজিয়ত রহিত হয়ে গেল। অর্থাৎ আশুরার রোজা নফল রোজা হিসেবে প্রচলিত হল। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেন- ‘রমজান মাসই হল সেই মাস, যে মাসে নাজিল করা হয়েছে সত্যের দিশারী, সুস্পষ্ট নিদর্শন এবং হক-বাতিলের পার্থক্যকারী আল কোরআন। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে এ মাসটি পাবে সে এ মাসে রোজা রাখবে। আর যে লোক অসুস্থ কিংবা মুসাফির অবস্থায় থাকবে, সে অন্য দিন গণনা পূরণ করবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান; তোমাদের জন্য জটিলতা চান না- যাতে তোমরা গণনা পূরণ করো এবং হেদায়েত লাভ করে আল্লাহর মহত্ত্ব বর্ণনা করতে পার, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞ হও।’ (সূরা বাকারা, আয়াত ১৮৫)।
যেসব ব্যক্তি অসুস্থ অবস্থায় কিংবা সফরে যে ক’টি রোজা রাখতে পারবে না সেসব রোজা অন্য সময় হিসাব করে আদায় করা ওয়াজিব। উপরোক্ত আয়াতে এ ইঙ্গিতও করা হয়েছে যে, রুগ্ন ও মুসাফিরদের অপরিহার্য রোজার মধ্যে শুধু সে পরিমাণ কাজা আদায় করাই ওয়াজিব রোগী সুস্থ হওয়ার পর এবং মুসাফির বাড়ি ফেরার পর যে ক’দিন সুযোগ পাবে। কিন্তু সে ব্যক্তি যদি এতটুকু সময় না পেয়ে এর আগেই মৃত্যুবরণ করে তার ওপর ফিদইয়ার জন্য ওসিয়ত করা জরুরি নয়।
আলহামদুলিল্লাহ, বছর ঘুরে আবার উপস্থিত হয়েছে পবিত্র বরকতময় রমজান মাস। রাব্বুল আলামিন যেন আমাদের রমজানের পুরো হক আদায় করার তৌফিক দান করেন। আমরা যেন রমজানজুড়ে কামিয়ে নিতে পারি খোদার মেহেরবানি। এ রমজানে খোদা যেন গোটা দুনিয়ায় তার রহমতের চাদর বিছিয়ে দেন। তাবৎ মুসলমান যেন সেই চাদরের ছায়ায় দাঁড়িয়ে রোনাজারি করতে পারে- হে আল্লাহ আমাদের খাঁটি মুমিন মুসলমান বানিয়ে মুসলমান হিসেবেই জান্নাতুল ফেরদাউসে জায়গা করে দিয়েন। এ রহমতের মাস যে জান্নাত কামানোর মাস।


- See more at: http://www.deshebideshe.com/news/details/52958#sthash.T6uhzlA4.dpuf

35
ইফতারের দোয়া ও তাৎপর্য

রোজাদারের জন্য ইফতার এক অন্যরকম আনন্দের মুহূর্ত। সারাদিনের অনাহারি আর কর্মব্যস্ত শরীর এ সময় ফুরফুরে হয়ে ওঠে। প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে দেহ-মন। সামনে নানা রকম খাবারের আইটেম। মুড়ি, বুট, পেঁয়াজু, বেগুনি আর নানা স্বাদের ফলের শরবত যেন বেহেশতি আবহ তৈরি করে। গৃহিণীরা বাসায় তৈরি করে ইফতারের হরেকরকম পদ। গৃহকর্তা বাইরে থেকে আসার সময় এটা-সেটা আনতেও ভুল করেন না। সবকিছু সামনে নিয়ে চলতে থাকে মুয়াজ্জিনের আজানের প্রতীক্ষা। কখন মিনারে ধ্বনিত হবে আল্লাহু আকবর। ফাঁকে ফাঁকে ঘড়ি দেখা আর মুখে মুখে দোয়া-দুরুদ পড়া।

হাদিসে পাকে ইফতারের এই আনন্দ আর প্রতীক্ষার কথাই গুরুত্ব দিয়ে বলা হয়েছে। নবীজী (সা.) বলেছেন, ‘ইফতারের সময় কোনো দোয়া বাতিল করা হয় না। ইফতারের সময় দোয়া খুব তাড়াতাড়ি কবুল হয়।’ -বায়হাকি

এ হাদিসটি এ কথাই প্রমাণ করে, ইফতারের সময় বাজে কাজকর্মে লিপ্ত না হয়ে ইফতার সাজিয়ে বসে থাকা এবং দোয়া-দুরুদ পড়তে থাকা রোজাদারের জন্য অবশ্য কর্তব্য। তিরমিজি শরিফের একটি হাদিসে বলা হয়েছে, রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘রমজানের প্রত্যেক রাতে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা বহু জাহান্নামিকে মুক্তি দেন।’

অন্যকে ইফতার করানো ব্যাপারেও হাদিসে পাকে এসেছে সওয়াবের কথা। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে যে কেউ কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে সে তার পূর্ণ সওয়াব পাবে। যদিও ইফতারটি হয় একটি খেজুর কিংবা একগ্লাস পানির দ্বারা।’

হাদিসের এই বাণী সব মুসলমানের কাছেই অত্যধিক গুরুত্ববহ। তাই সবাই চেষ্টা করে সাধ্যমত অন্যকে ইফতার করানোর। আত্মীয়কে দাওয়াত করে ‘একবার হলেও যেন আমার বাসায় ইফতার করা হয়।’ এছাড়াও কাজের খাতিরে কর্মজীবীকে অনেক সময় বাইরে ইফতার করতে হয়। এ সময় রাস্তা কিংবা দোকানের আশপাশে প্রতিটি ইফতার আসনেই দেখা যায় ভ্রাতৃত্বের এক বিশাল বন্ধন। কেউ দৌড়ে এসে খালি হাতেই শরিক হচ্ছেন এসবে। কেউবা সামান্য মুড়ি বা পেঁয়াজু নিয়ে। আশ্চর্য হলেও সত্য! এসময় কেউ কাউকে নিজের সঙ্গে বসতে নিষেধ করেন না। সাদরে টেনে নেন কাছে। বসিয়ে দেন ভালো আসনে।

রমজানে মসজিদ-মাদ্রাসা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলোতেও চলে ইফতার খাওয়ানোর আয়োজন। এসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক আয়োজিত হয়ে থাকে ইফতার। আইটেমও থাকে বহুবিধ। খেজুর, মুড়ি, বুট, জিলাপি থেকে শুরু করে নানা পদের শরবত এবং খিচুরি-পায়েশ উল্লেখযোগ্য। মসজিদ-মাদ্রাসা ও এতিমখানার ইফতারগুলোতে দেখা যায় বিরল এক পরিবেশ। ধনী-গরিব, ফকির-মিসকিন সবাই এক কাতারে একই প্লেটে ইফতার খাচ্ছেন। একই গ্লাসে পানি পান করছেন। মজার ব্যাপার হলো- এতে কেউ বিরক্ত নন। বরং মহাখুশি। মুখে মুখে ক্লান্তি নয়, থাকে আনন্দের ঝলকানি। বিশ্বের সব রোজাদারের মুখেই থাকে এ আনন্দের আবেশ। শিশু-কিশোরদেরও সারা দিনের কষ্ট-শিষ্টে রোজা রাখার ক্লান্তি দূর হয়ে যায় একগ্লাস শরবত পানে। এ আনন্দ, বেহেশতি আবহ কেবলই রোজাদারের।

ইফতারের দোয়া
হাদিসে ইফতারের সময় পাঠ করার বেশ কয়েকটি দোয়া বর্ণিত হয়েছে। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি দোয়া হলো-

ক. হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, নবী করিম (সা.) যখন ইফতার করতেন তখন বলতেন-

اللَّهُمَّ لَكَ صُمْنَا وَعَلَى رِزْقِكَ أَفْطَرْنَا فَتَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা লাকা সুমনা ওয়া আলা রিজকিকা আফতারনা। ফাতাকাব্বাল মিন্না। ইন্নাকা আনতাস্ সামিউল আলিম। -দারা কুতনি : ২৩০৩

অর্থ : হে আল্লাহ! তোমাকে সন্তুষ্ট করার জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমার দেয়া রিজিক দিয়ে ইফতার করেছি। অতএব, এ রোজা ও ইফতার তুমি কবুল করো। নিশ্চয়ই তুমি সব কিছু শোন ও জান।

খ. ইবনে উমর (রা.) বলেন, নবী (সা.) যখন ইফতার করতেন তখন বলতেন-

ذَهَبَ الظَّمَأُ وَابْتَلَّتِ الْعُرُوقُ وَثَبَتَ الأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ

উচ্চারণ : যাহাবায যমা-উ ওয়াবতাল্লাতিল উরূকু ওয়া সাবাতাল আজরু ইনশাআল্লাহ। -আবু দাউদ : ২৩৫৯

অর্থ : পিপাসা মিটেছে, শিরাগুলো সতেজ হয়েছে। আল্লাহ চাহে তো সওয়াবও লেখা হয়েছে।

ইফতারের সবচেয়ে বেশি প্রচলিত দোয়া হলো-

اللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَعَلى رِزْقِكَ أفْطَرْتُ

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়া আলা রিজকিকা আফতারতু।

অর্থ : হে আল্লাহ! একমাত্র তোমার জন্যই রোজা রেখেছে এবং তোমার দেওয়া রিজিক দিয়েই ইফতার করছি।

- See more at: http://www.deshebideshe.com/news/details/52991#sthash.OObNlR2R.dpuf

36
বাংলায় প্রথম কোরআন শরিফ


বিশ্বের মুসলমান সম্প্রদায়ের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআন শরিফ-এর বাংলায় প্রথম অনুবাদের সোয়া শ বছর পেরিয়ে গেছে আজ থেকে এক বছর আগে। একেবারে নীরবে। কাউকে কিছু জানান না দিয়ে। অথচ গিরিশচন্দ্র সেন (১৮৩৫-১৯১০) ছয় বছর দীর্ঘ (১৮৮১-১৮৮৬) কঠোর ও একাগ্র শ্রমে যখন কোরআন শরিফ-এর অনুবাদের কাজ শেষ করেছিলেন, তখন সেটা গোটা বাংলা ভাষাভাষী সমাজে একটা চাঞ্চল্য সৃষ্টিকারী ঘটনা হয়ে উঠেছিল। ঐতিহাসিক ঘটনা তো বটেই। কোরআন শরিফ-এর সঠিক অনুবাদ সেই প্রথম। অমন পরিশ্রমসাধ্য কাজের দৃষ্টান্ত সত্যিই এক বিরল ঘটনা। অবশ্য মাওলানা মহিউদ্দিন খান নামের একজন বিশিষ্ট আলেম পবিত্র কোরআন শরিফ-এর প্রথম বাংলা অনুবাদ করেছিলেন বলে যে দাবি করা হয়, তার অনুকূলে তেমন জোরালো কোনো সমর্থন বা তথ্য পাওয়া যায় না। যদি যেত, তাহলে ১৯৩৬ সালে মওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ (১৮৬৮-১৯৬৮) কেন এ কথা বলতে যাবেন, ‘তিন কোটি মোছলমানের মাতৃভাষা যে বাংলা তাহাতে কোরআনের অনুবাদ প্রকাশের কল্পনা ১৮৭৬ খ্রি. পর্যন্ত এ দেশের কোনো মনীষীর দৃষ্টি আকর্ষণ করিতে পারে নাই। তখন আরবি-পারসি ভাষায় সুপণ্ডিত মোছলমানের অভাব ছিল না।...কিন্তু এদিকে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ তাঁহাদের একজনেরও ঘটিয়া উঠে নাই। এই গুরুদায়িত্বভার বহন করিবার জন্য সুদৃঢ় সংকল্প নিয়া, সর্বপ্রথমে প্রস্তুত হইলেন বাংলার একজন হিন্দু সন্তান, ভাই গিরিশচন্দ্র সেন—বিধান-আচার্য কেশবচন্দ্রের নির্দেশ অনুসারে।’ এই ঘটনার উল্লেখ শেষে মাওলানা আকরম খাঁর মন্তব্য, ‘গিরিশচন্দ্রের এই অসাধারণ সাধনা ও অনুপম সিদ্ধিকে জগতের অষ্টম আশ্চর্য বলিয়া উল্লেখ করা যাইতে পারে।’


গিরিশচন্দ্রের জন্ম তখনকার ঢাকা জেলা, বর্তমান নারায়ণগঞ্জ জেলার মহেশ্বরদি পরগনার পাঁচদোনা গ্রামে। নবাব আলিবর্দী খাঁর দেওয়ান দর্পনারায়ণ রায়ের বংশে তাঁর জন্ম। ফারসি ভাষা চর্চার জন্য এই বংশের সুনাম ছিল। পাঁচ বছর বয়সেই তাঁর হাতেখড়ি হয়েছিল। সাত বছর বয়সেই ফারসি ভাষা শিক্ষা আরম্ভ করেন। ইংরেজি শিক্ষার ব্যাপারে তাঁর অনীহা ছিল। ফলে ১৩-১৪ বছর বয়সে তাঁকে মুন্সি কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের কাছে ফারসি শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। ১৮-১৯ বছর বয়সে তাঁকে তাঁর এক ভাই ময়মনসিংহে নিয়ে যান এবং ফারসি সাহিত্যে যাতে বুৎপত্তি লাভ করতে পারেন, সে জন্য একজন ভালো মওলানার হাতে তাঁকে তিনি তুলে দেন। সংসদ চরিতাভিধান-এর মতে, এরপর তিনি ময়মনসিংহ ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছারিতে নকলনবিশের কাজ করতেন। কিন্তু সে কাজ তাঁর ভালো লাগত না। ১৮৭১ খ্রিষ্টাব্দে তিনি কেশবচন্দ্র সেন ও বিজয়কৃষ্ণের প্রভাবে ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষা নেন এবং গ্রহণ করেন এই ধর্মের প্রচারকের ব্রত। সর্বধর্মসমন্বয়ে উৎসাহী ভাই গিরিশচন্দ্র কেশবচন্দ্রের আদেশে ইসলাম ধর্ম অনুশীলনে গভীরভাবে মনোনিবেশ করেন। আরবি ভাষা ও ইসলাম ধর্মশাস্ত্র অধ্যয়নের জন্য ১৮৭৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি লক্ষ্নৌ যান। এ সম্পর্কে তিনি তাঁর আত্মজীবনী আত্ম-জীবন-এ লেখেন, ‘মোসলমান জাতির মূল ধর্মশাস্ত্র কোরআন শরীফ পাঠ করিয়া এসলাম ধর্মের গূঢ়তত্ত্ব অবগত হইবার জন্য আমি ১৮৭৬ খৃঃ লক্ষ্নৌ নগরে আরব্যভাষা চর্চা করিতে গিয়াছিলাম।’ তখন তাঁর বয়স ছিল ৪২ বছর। তাঁর শিক্ষক ছিলেন ‘সুবিজ্ঞ’ বৃদ্ধ মৌলবি এহসান আলী। ‘আরব্য ব্যাকরণ এবং পারস্য দেওয়ান হাফেজের’ চর্চা করতেন তাঁর কাছে। মৌলবি এহসান আলী সাহেব গিরিশচন্দ্রকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন। এরপর লক্ষ্নৌ থেকে আরবি ব্যাকরণের চর্চা শেষে কলকাতায় ফিরে আসেন। সেখানেও তিনি একজন মৌলবির কাছে আরবির পাঠ নিতেন নিয়মিত। পরে ঢাকায় এসে মৌলবি আলিমুদ্দিন সাহেবের কাছ থেকে আরবের ইতিহাস ও সাহিত্যের পাঠ নেন। এ সময়ই গিরিশচন্দ্রের কোরআন শরিফ পাঠের আকাঙ্ক্ষার প্রকাশ ঘটে। কিন্তু অন্য ধর্মে বিশ্বাসী বলে এই পবিত্র ধর্মগ্রন্থ তাঁর পক্ষে সরাসরি সংগ্রহ করা সম্ভব ছিল না। ফলে তিনি ‘ঢাকা নগরস্থ সমবিশ্বাসী বন্ধু’ মিঞা জালালউদ্দিনের মাধ্যমে একখানা কোরআন সংগ্রহ করতে সক্ষম হন। তাঁর আত্ম-জীবন-এ তিনি এ সম্পর্কে লিখেছেন, ‘এরপর আমি তফসির ও অনুবাদের সাহায্যে পড়িতে আরম্ভ করি। যখন আমি তফসিরাদির সাহায্যে আয়াত সকলের প্রকৃত অর্থ কিছু কিছু বুঝিতে পারিলাম, তখন তাহা অনুবাদ করিতে প্রবৃত্ত হইলাম।’
কোরআন শরিফ-এর বাংলায় অনুবাদের কাজটা মূলত শুরু হয় ১৮৮১ সালের শেষভাগ থেকে। গিরিশচন্দ্র তখন ময়মনসিংহ শহরে বসবাস করতেন। অল্প অল্প করে অনুবাদ করে তা খণ্ডে খণ্ডে প্রকাশ করতে থাকেন। আত্ম-জীবন-এ এর বিবরণ দিয়ে তিনি আরও জানাচ্ছেন, ‘শেরপুরস্থ চারুযন্ত্রে প্রথম খণ্ড মুদ্রিত হয়, পরে কলকাতায় আসিয়া খণ্ডশঃ আকারে প্রতিমাসে বিধানযন্ত্রে মুদ্রিত করা যায়। প্রায় দুই বছরে কোরআন সম্পূর্ণ অনুবাদিত ও মুদ্রিত হয়। পরিশেষে সমুদয় এক খণ্ডে বাঁধিয়া লওয়া যায়। প্রথমবারে সহস্র পুস্তক মুদ্রিত হইয়াছিল, তাহা নিঃশেষিত হইলে পরে ১৮৯৮ সালে কলকাতা দেবযন্ত্রে তাহার দ্বিতীয় সংস্করণ হয়। দ্বিতীয়বারের সহস্র পুস্তকও নিঃশেষিত প্রায়। এখন (১৯০৬ খ্রি.) সংশোধিত আকারে তাহার তৃতীয় সংস্করণের উদ্যোগ হইতেছে।’
অবশ্য একজন ভিন্ন ধর্মমতের ব্যক্তিপুরুষ পবিত্র কোরআন শরিফ অনুবাদ করায় তখনকার মুসলমান সমাজের একটি ক্ষুদ্র অংশ যে ক্ষুব্ধ ও ক্রোধান্বিত হয়নি, তা নয়। হয়েছিল। কেশবচন্দ্র তাদের সেই ক্রোধের বহিঃপ্রকাশে দুঃখ পেয়েছিলেন এবং মুসলমান সমাজের প্রতি তাঁর সর্বধর্মসমন্বয়বাদের মন্ত্র ও আদর্শের পক্ষে সুদৃঢ় অভিমত তুলে ধরেছিলেন। বাংলায় পবিত্র কোরআন শরিফ-এর অনুবাদের ঘটনায় তিনি অপরিসীম আনন্দ পেয়েছিলেন।
তবে শিক্ষিত ও উদার স্বাধীনচেতা মুসলমানদের বৃহত্তর অংশ গিরিশচন্দ্র সেনের বাংলা অনুবাদে পবিত্র কোরআন শরিফ পেয়ে যে প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছিল, এক অর্থে তা অভাবিত ও অভূতপূর্ব। তখনকার কলকাতা মাদ্রাসার ভূতপূর্ব আরবি শিক্ষক আহমদউল্লা এবং আরও কিছু আলেম-উলেমা অনুবাদকের উদ্দেশে ইংরেজিতে যে চিঠি লিখেছিলেন, বাংলায় তার কিছু অংশ উদ্ধৃত করা হলো। তাঁরা বলেছিলেন, ‘আমরা বিশ্বাসে ও জাতিতে মোসলমান। আপনি নিঃস্বার্থভাবে জনহিত সাধনের জন্য যে এতাদৃশ চেষ্টা ও কষ্টসহকারে আমাদিগের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআনের গভীর অর্থ প্রচারে সাধারণের উপকার সাধনে নিযুক্ত হইয়াছেন, এজন্য আমাদিগের অত্যুত্তম ও আন্তরিক বহু কৃতজ্ঞতা আপনার প্রতি দেয়।
‘কোরআনের উপরিউক্ত অংশের অনুবাদ এতদূর উৎকৃষ্ট ও বিস্ময়কর হইয়াছে যে, আমাদিগের ইচ্ছা, অনুবাদক সাধারণসমীপে স্বীয় নাম প্রকাশ করেন। যখন তিনি লোকমণ্ডলীর এতাদৃশ উৎকৃষ্ট সেবা করিতে সক্ষম হইলেন, তখন সেই সকল লোকের নিকটে আত্মপরিচয় দিয়া তাহার উপযুক্ত সম্ভ্রমলাভ করা উচিত।’
উল্লেখ করা যেতে পারে, পবিত্র কোরআন শরিফ ভাই গিরিশচন্দ্র অনুবাদ করেছিলেন নিজের নামস্বাক্ষরহীনভাবে। যখন তিনি তাঁর কাজের স্বীকৃতি পেলেন, প্রশংসা পেলেন এবং সেটা স্বয়ং মুসলমান সমাজের কাছ থেকে, তখন তিনি স্বনামে তা প্রকাশ করলেন। এবং এ সম্পর্কে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে ‘অনুবাদকের বক্তব্যে’ বললেন, ‘আজ কোরআনের অনুবাদ সমাপ্ত দেখিয়া আমার মনে যুগপৎ হর্ষ-বিষাদ উপস্থিত। হর্ষ এই যে, এতকালের পরিশ্রম সার্থক হইল। বিষাদ এই যে, ইহার প্রথমাংশ শ্রীমদাচার্য কেশবচন্দ্র সেনের করকমলে অর্পণ করিয়াছিলাম; তিনি তাহা পাইয়া পরমাহ্লাদিত হইয়াছিলেন ও তাহার সমাপ্তি প্রতীক্ষা করিতেছিলেন; শেষাংশ আর তাহার চক্ষুর গোচর করিতে পারিলাম না। ঈশ্বর তাহাকে আমাদের চক্ষুর অগোচর করিলেন। তিনি এই অনুবাদের এরূপ পক্ষপাতী ছিলেন যে, তাহার নিন্দা কেহ করিলে সহ্য করিতে পারিতেন না। আজ অনুবাদ সমাপ্ত দেখিলে তাহার কত না আহ্লাদ হইত, দাসও তাহার কত আশীর্বাদ লাভ করিত।’
এর পর থেকে তিনি মুসলমান ধর্ম বিষয়ে তাঁর অধ্যয়ন ও অনুবাদের পরিধি ক্রমাগত বাড়িয়ে চললেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি আরবি ও ফারসি থেকে হাদিসসহ মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.), খলিফাবৃন্দ, মুসলমান মনীষীবর্গের জীবনীসহ অন্য বহু বিষয়ে মোট ৪২টি গ্রন্থ বাংলায় রচনা ও প্রকাশ করেন।
এর পর থেকে বাংলার মুসলমান সমাজে যাতে গিরিশচন্দ্রের বাংলায় অনূদিত কোরআন শরিফ বহুল পরিমাণে বিক্রি, প্রচার ও আদৃত হয়, তার জন্যও চেষ্টা করেছিলেন তাঁর অনেক মুসলমান বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ী। বাংলা ১২৮৮ সনের ৬ ফাল্গুন আবুয়ল্ মজফ্র আবদুল্লাহ নামের একজন ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি পত্র মারফত অনুবাদককে জানান, ‘মহাশয়ের বাংলা ভাষায় অনুবাদিত কোরআন শরিফ দুই খণ্ড উপহার প্রাপ্ত হইয়া অতি আহ্লাদের সহিত পাঠ করিলাম। এই অনুবাদ আমার বিচেনায় অতি উত্তম ও শুদ্ধরূপে টীকাসহ হইয়াছে। আপনি তফসীর হোসেনী ও শাহ আবদুল কাদেরের তফসীর অবলম্বন করিয়া যে সমস্ত টীকা লিখিয়াছেন এজনের ক্ষুদ্র বিদ্যাবুদ্ধিতে পর্যন্ত বুঝিতে পারিয়াছি, তাহাতে বোধ করি যে, এ পর্যন্ত কোরআন শরীফের অবিকল অনুবাদ অন্য কোনোও ভাষাতেই করা হয় নাই, এবং আমি মনের আহ্লাদের সহিত ব্যক্ত করিতেছি যে, আপনি যে ধর্ম্ম উদ্দেশ্যে যার পর নাই পরিশ্রম স্বীকার করিয়া এই অনুবাদ করিয়াছেন, ইহার ফল ঈশ্বর আপনাকে ইহ ও পরকালে প্রদান করুন।’
এবং ১৯৩৬ সালে যখন ভাই গিরিশচন্দ্রের কোরআন শরিফ-এর চতুর্থ সংস্করণ কলকাতা থেকে বের হচ্ছে, তার ভূমিকায় মাওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ অকপটে লিখেছেন, ‘...তখন আরবি-পারসি ভাষায় সুপণ্ডিত মোছলমানের অভাব বাংলাদেশে ছিল না। তাঁহাদের মধ্যকার কাহারও কাহারও যে বাংলা সাহিত্যের উপরও যথেষ্ট অধিকার ছিল তাঁহাদের রচিত বা অনুবাদিত বিভিন্ন পুস্তক হইতে তাহার অনেক প্রমাণ পাওয়া যায়। কিন্তু এদিকে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ তাহাদের একজনেরও ঘটিয়া উঠে নাই।’ পরিশেষে অনূদিত এই কোরআন শরিফ সম্পর্কে তাঁর সেই অবিস্মরণীয় মন্তব্য, ‘গিরিশচন্দ্রের এই অসাধারণ সাধনা ও অনুপম সিদ্ধিকে জগতের অষ্টম আশ্চর্য বলিয়া উল্লেখ করা যাইতে পারে।’
মহীয়সী বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনও (১৮৮০-১৯৩২) যারপরনাই খুশি হন বাংলায় পবিত্র কোরআন শরিফ-এর অনুবাদে। গিরিশচন্দ্রকে তিনি ‘মোসলমান ব্রাহ্ম’ বলে উল্লেখ করেছেন নিঃসংকোচে। গিরিশচন্দ্র তাঁর আত্মজীবনীতে তাঁদের দুজনের সম্পর্ক বিষয়ে লিখতে গিয়ে বলেছেন, ‘তাঁহার (রোকেয়ার) সঙ্গে আমার মাতৃপুত্র সম্বন্ধ স্থাপিত। সেই মনস্বিনী মহিলা উক্ত ঘনিষ্ঠতার পরিচয় নিজেই প্রদান করিয়া থাকেন। তিনি আমাকে পত্রাদি লিখিতে পত্রে নিজের নাম না লিখিয়া নামের পরিবর্তে “মা”, “আপনার স্নেহের মা” বলিয়া স্বাক্ষর করিয়া থাকেন।’
বাংলায় প্রথম কোরআন শরিফ এবং মুসলমান মনীষী ও তাঁদের অন্যান্য সাহিত্যকর্ম অনুবাদের কল্যাণে তিনি বাংলার মুসলমান সমাজে এতদূর জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন যে, তাঁকে ‘মৌলবি’ ও ‘ভাই’ গিরিশচন্দ্র অভিধায় অভিহিত করা হতো। সে সময়কার মুসলমান সমাজের পত্রপত্রিকা ও সাময়িকীতে তাঁর জীবনীও ছাপা হয়েছে সবিস্তারে। এমন কী তাঁর মৃত্যুর পর শবানুগমন করেছিলেন ব্রাহ্ম ও মুসলমান সমাজের লোকজন সমভাবে।
গিরিশচন্দ্র সেনকে আমরা ‘মৌলবি’ কিংবা ‘ভাই’, যে বিশেষণেই বিশেষায়িত করি না কেন, বাংলার ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসে হিন্দু ও মুসলমান—এই দুই বৃহৎ ধর্মসম্প্রদায়ের মধ্যে সমন্বয়গত সেতুবন্ধনে যে সবিশেষ ভূমিকা রেখেছিল তাঁর বাংলায় অনূদিত পবিত্র কোরআন শরিফ, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, কোরআন শরিফ-এর সেই অনুবাদ-কর্মের কাল সোয়া শ বছর পেরিয়ে গেছে খুবই নীরবে। কেউ কিছু লেখেননি। আমরা কি জাতি হিসেবে এতই কৃপণ, অনুদার এতটাই


 - See more at: http://www.deshebideshe.com/news/details/4778#sthash.Fazdwxer.dpuf

37
রোজার প্রধান লক্ষ্য তাকওয়া অর্জন

আরবি বছরের নবম মাস রমজান। আরবি ১২ মাসের মধ্যে রমজান মাসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম।

আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর ওপর ইমান আনার পর ধনী-গরিব নির্বিশেষে প্রত্যেক ইমানদার বান্দার ওপর দুটি কাজ ফরজ। প্রথমটি হলো নামাজ আর দ্বিতীয়টি রোজা। জাকাত ও হজ করা দরিদ্র বা গরিবদের ওপর ফরজ নয়, ধনীদের জন্য নির্ধারিত। প্রত্যেক বালেগ মুসলিম নর-নারীর ওপর রমজানের রোজা রাখা ফরজ। রোজা ফরজ হওয়ার বিধানকে অস্বীকার করলে কেউ মুসলমান থাকে না।

ব্যক্তিজীবন, সমাজ উন্নয়ন ও মানবতার সেবায় রোজার বহু উপকারিতা রয়েছে। তবে রোজার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো তাকওয়া অর্জন। ইরশাদ হয়েছে, 'হে ইমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের ওপর, যেন তোমরা তাকওয়া বা পরহেজগারি অর্জন করতে পারো।' (সুরা বাকারাহ : ১৮৩)

তাকওয়া অর্থ বাঁচা, আত্মরক্ষা করা, নিষ্কৃতি লাভ করা, ভয় করা। অর্থাৎ আল্লাহকে ভয় ও তাঁর সন্তুষ্টি লাভের আশায় অপরাধ, অন্যায় ও আল্লাহর অপছন্দনীয় কথা, কাজ ও চিন্তা থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার নাম তাকওয়া।

একদা হজরত উবাই ইবনে কাব (রা.)-কে হজরত ওমর (রা.) তাকওয়ার স্বরূপ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেন, 'হে ওমর (রা.)! পাহাড়ের দুই ধারে কাঁটাবন, মাঝখানে সরু পথ। এমতাবস্থায় কিভাবে চলতে হবে?' হজরত ওমর (রা.) বললেন, 'গায়ে যেন কাঁটা না লাগে, সাবধানে পথ চলতে হবে।'

হজরত কাব (রা.) বললেন, 'এটাই তাকওয়া।' কেউ কেউ বলেন, তাকওয়া হলো অন্তরের জ্যোতি বা উজ্জ্বলতার নাম। যার মাধ্যমে বান্দা সঠিক পথ ও কর্মপন্থা বেছে নিতে পারে।

তাকওয়ার গুরুত্ব বোঝাতে পবিত্র কোরআনে আড়াই শর বেশি আয়াত আনা হয়েছে। কেবল সুরা বাকারাতেই প্রায় ৩০ বার তাকওয়া শব্দের ব্যবহার করা হয়েছে। মূলত তাকওয়াই হলো ইবাদতের প্রাণশক্তি।

এ জন্য পবিত্র কোরআনে প্রায় প্রতিটি বিধিবিধানের পরই তাকওয়ার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এমনকি তাকওয়াবিবর্জিত ইবাদত আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, 'নিঃসন্দেহে আল্লাহ কেবল মুত্তাকিদের আমলই কবুল করেন।' (সুরা মায়েদা : ২৭)

অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, 'আল্লাহর কাছে (তোমাদের কোরবানির) গোশত বা রক্ত কোনোটিই পৌঁছে না; কিন্তু তাঁর কাছে তোমাদের মনের তাকওয়া পৌঁছে।' (সুরা হজ : ৩৭)

আল্লাহর কাছে সাদা-কালো, ধনী-দরিদ্র, আরব-অনারব, প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের ভিত্তিতে কারো মূল্যায়ন হয় না; বরং মূল্যায়নের ভিত্তি হলো তাকওয়া। আল্লাহ তাআলা বলেন, 'নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে সে-ই সর্বাধিক সম্মানিত, যে সর্বাধিক তাকওয়া অর্জনকারী।' (সুরা হুজরাত : ১৩)

আর তাকওয়ার অর্থ দিয়েই বোঝা যায়, এখানে বেঁচে থাকার কথা বলা হয়েছে। আমরা জানি, বেঁচে থাকতে হয় বিপজ্জনক, প্রতিকূল ও বেগতিক অবস্থা থেকে।

সুতরাং আজকের এই পাপ-পঙ্কিলতাপূর্ণ পৃথিবী, যার রন্ধ্রে রন্ধ্রে অশ্লীলতা, পাপাচার, অনাচার, শিরক, কুফর ও বিদআত অক্টোপাসের মতো লেগে আছে; দুর্নীতি, সুদ আর ঘুষের যেখানে মহোৎসব চলছে, সেখানে একজন মুমিনকে জীবনপথ পাড়ি দিতে হবে খুবই সাবধানে, অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে। জীবন-সফরের এ বিভীষিকাময় পথ পাড়ি দিতে হবে অত্যন্ত সজাগ দৃষ্টি রেখে, মধ্যপন্থা অবলম্বন করে।


- See more at: http://www.deshebideshe.com/news/details/53032#sthash.7dEXM7pe.dpuf

38
কোরআন হাদিসের দৃষ্টিতে চেয়ারে বসে নামাজ

অনেকেই মামুলি সমস্যার কারণে চেয়ারে বসে নামাজ আদায় করেন। অথচ চেয়ারে বসে তাদের নামাজ সহি হয় না। ফলে এই নামাজ না পড়ারই শামিল। ওজর বা সমস্যা হলে নামাজ কীভাবে আদায় করতে হবে তার মৌলিক নির্দেশনা পবিত্র কোরআনে দেওয়া হয়েছে।

ইরশাদ হচ্ছে, যারা দাঁড়িয়ে, বসে এবং শুয়ে আল্লাহর স্মরণ করে। আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি সম্বন্ধে চিন্তা করে বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি ইহা অনর্থক সৃষ্টি করনি।... (আল ইমরান : ১৯১) তাফসির ও ফিকহের কিতাবাদীতে উল্লেখ করা হয়েছে, এ আয়াতে অসুস্থ ও মাজুরের (সমস্যাগ্রস্ত) নামাজের পদ্ধতি উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ নামাজ তো দাঁড়িয়েই আদায় করতে হয়। যদি কেউ দাঁড়াতে সক্ষম না হয় তাহলে সে বসে নামাজ আদায় করবে। বসতে সক্ষম না হলে শুয়ে নামাজ আদায় করতে হবে। বসে নামাজ আদায় করা মানেই জমিনে, ফ্লোরে বসে আদায় করা।

বুখারি শরিফসহ হাদিসের বিভিন্ন কিতাবে রয়েছে, সওয়ারি থেকে পড়ে হজরত মুহাম্মদ (সা.) আহত হয়েছিলেন, তখন তিনি জমিনে বসে নামাজ আদায় করেছেন। নবীর যুগেও কিন্তু চেয়ার বা চেয়ার সদৃশ বস্তু ছিল। নবী করিম (সা.) মাজুর অবস্থায় চেয়ারে বসে নামাজ আদায় করেননি। হজরত ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) বলেন, আমি হজরত মুহাম্মদ (সা.)কে অসুস্থ ব্যক্তির নামাজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করবে। তা সম্ভব না হলে বসে। তাও সম্ভব না হলে শুয়ে নামাজ আদায় করবে। (বুখারি ১/১৫০ তিরমিজি ১/৮৫) এ হাদিস দ্বারাও বোঝা যায়, দাঁড়াতে সক্ষম না হলে (জমিনে) বসে তাও সম্ভব না হলে শুয়ে নামাজ আদায় করতে হবে। সুতরাং হাদিস থেকে স্পষ্ট হয়ে উঠে, চেয়ারে বসে নামাজ কোনো অবস্থাতেই সহি নয়।

সুতরাং যিনি দাঁড়াতে সক্ষম কিন্তু নিয়ম মতো, রুকু সিজদা করতে অক্ষম তিনি দাঁড়িয়ে-ইশারা করে নামাজ আদায় করবেন। চেয়ারে বসে নামাজ আদায় করলে সহি হবে না। (বাদায়ে ১/২৮৬)

যারা দাঁড়াতে ও রুকু সিজদা করতে অক্ষম তারা জমিনে বসে ইশারায় নামাজ আদায় করবেন। তাশাহুদের নিয়মে বসতে না পারলে যেভাবে বসতে পারেন সেভাবেই বসবেন। চেয়ারে বসে নামাজ আদায় করলে নামাজ সহি হবে না।

কোনোভাবে বসতে না পারলে শুয়ে নামাজ আদায় করতে হবে। চেয়ারে বসে নয়।


লেখক : মুফতি মুতীউর রাহমান, খতিব, মুহাম্মাদিয়া দারুল উলুম জামে মসজিদ পশ্চিম রামপুরা, ঢাকা।

- See more at: http://www.deshebideshe.com/news/details/53058#sthash.HfPMhl0Y.dpuf

39
রমজান : কৃচ্ছতা ও শুদ্ধতার সওগাত




রমজানে ইবাদত, জিকির, তেলাওয়াত, কৃচ্ছতা সাধন ও আল্লাহর একনিষ্ঠ আনুগত্যের স্বর্গীয় পরিবেশ সৃষ্টি হয়। কেবলমাত্র পানাহার ও পাপাচার ত্যাগ করলেই রোজা পালন হয় না। সেই সঙ্গে ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে সর্বপ্রকার অন্যায় ও পাপ কাজ হতে বিরত থাকতে হবে এবং অন্তরকে করতে হয় পরিচ্ছন্ন, তবেই রোজা মুমিনের জীবনে নিয়ে আসবে অফুরন্ত রহমত ও বরকত।

এ প্রসঙ্গে মহানবী (সা.) বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি রোজা রাখে সে যেন কোনো রকম অশ্লীলতা ও হৈ-হুল্লোড় না করে। সমাজের কোনো সদস্য যদি তাকে গালাগাল করে বা তার সঙ্গে ঝগড়া করে সে যেন বলে- আমি রোজাদার।’ - বোখারি ও মুসলিম

রোজা ধৈর্য, সংযম, নৈতিক উৎকর্ষ ও মানবীয় মূল্যবোধের জন্ম দেয়। শিষ্টাচারের মাধ্যমে নৈতিক চরিত্র গঠন রমজানের সিয়াম সাধনার একটি মৌলিক শিক্ষা। রমজান মাস আসলে মহানবী (সা.) সমাজের অভাবগ্রস্থ ও বঞ্চিত মানুষের কল্যাণে নিজকে উজাড় করে দিতেন। অন্য মাসের তুলনায় রমজান মাসে তিনি দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে অর্থ ও খাবার সরবরাহ করতেন অধিকমাত্রায়। এক মাস সিয়াম সাধনার ফলে সমাজের সদস্যদের উপকার ও কল্যাণের যে প্রশিক্ষণ রোজাদার পায়, তা বাকী ১১ মাস তার জীবনকে প্রণোদিত ও প্রভাবিত করে।

মহানবী (সা.) বলেন, জমিনের অধিবাসীদের প্রতি দয়া কর; সহমর্মিতা প্রদর্শন কর, আসমানের মালিক তোমার প্রতি দয়া পরবশ হবেন। এখানে জাতি, ধর্র্ম, বর্ণ ও গোত্র নির্বিশেষে সকল মানুষের প্রতি দয়া ও ভালোবাসার কথা বলা হয়েছে।

সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মানুষ আত্মশুদ্ধি ও আধ্যাত্মিক পবিত্রতা অর্জন করে থাকে। আল্লামা ইবনুল কায়্যিম আল জাওযি (রহ.) বলেন, ‘মানুষের আত্মিক ও দৈহিক শক্তি সংরক্ষণে রোজা অত্যন্ত কার্যকর। এক দিকে তা মানুষের পাশবিক চাহিদার প্রাবল্য থেকে মুক্ত করে তার দৈহিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার নিশ্চয়তা বিধান করে; অপরদিকে তা নৈতিক উৎকর্ষ সাধনের মাধ্যমে আত্মিক সুস্থতা সাধন করে।’

মাসব্যাপী রোজার মাধ্যমে মানুষের জৈবিক চাহিদা ও পাশব প্রবৃত্তি দুর্বল হয়ে যায়, মনুষ্যত্ব ও রূহানিয়াত সজীব ও জাগ্রত হয়। রিপুর তাড়নামুক্ত হয়ে মানুষ আল্লাহ প্রদত্ত বিবেক ও প্রজ্ঞার সদ্ব্যবহার করে সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী হতে পারে। সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মানুষ সৎকর্মের প্রতি ধাবিত হওয়ার প্রণোদনা লাভ করে এবং অসদুপায়ে সম্পদ পুঞ্জিভূত করার মানসিকতা লোভ পায়।

শুদ্ধতার এ অমোঘ মাসটিতে সাধনায় সিদ্ধি লাভ করার সুযোগ অবারিত হয়। সিয়ামের অর্থ হচ্ছে তাকওয়ার অনুশীলন আর তাকওয়ার অনুশীলনই অপরাধমুক্ত ও কণ্যাণধর্মী সমাজ তৈরির অন্যতম হাতিয়ার। রমজান মানুষের মধ্যে মানবিকতাবোধের উন্মেষ ঘটায়। মহানবী (সা.)-এর ভাষায় ‘সহমর্মিতা ও সৌহার্দ্যরে মাস মাহে রমজান।’ -বায়হাকি

কেননা ধনী ও বিত্তশালীরা সারাদিন রোজা রেখে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জঠর জ্বালার দহন-বেদনা বুঝতে সক্ষম হন, ফলে তাদের মাঝে সমাজের বঞ্চিত ও অবহেলিত মানুষের প্রতি সহমর্মিতার অনুভূতি জাগ্রত হয়। রমজান মাসে দরিদ্র ও অভাবগ্রস্থ মানুষের কল্যাণের অর্থ ব্যয় করা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। মহানবী (সা.) বলেন, ‘হে আয়েশা! অভাবগ্রস্থ মানুষতে ফেরত দিও না। একটি খেজুরকে টুকরো টুকরো করে হলেও দান কর। দরিদ্র মানুষকে ভালোবাস এবং কাছে টান। কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ তোমাকে কাছে টানবেন।’ সমাজের প্রতিটি সদস্য সিয়াম সাধনার ফলে অর্জিত সহমর্মিতা ও মানব কল্যাণের শিক্ষা বাকী জীবন যদি অনুশীলন করতে পারে তাহলে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত পৃথিবী গড়া সম্ভব।

রমজান মাস আসলে কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী নিত্য ব্যবহার্য দ্রব্যসামগ্রী মজুদ করে বাজারে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে অত্যধিক মুনাফা লাভের আশায়। ফলে অনেক রোজাদার ক্ষতি ও বিড়ম্বনার সম্মুখীন হন। মহানবী (সা.) বলেন, মজুদদার অভিশপ্ত; আমদানী রপ্তানী করে যারা নিত্যব্যবহার্য দ্রব্য সামগ্রী ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পোঁছায়, আল্লাহতায়ালা তাদের পর্যাপ্ত রিজিক প্রদান করেন। এছাড়া এক শ্রেণীর ব্যবসায়ী রমজান মাসে খাদ্যদ্রব্যে ব্যাপকভাবে ভেজাল মেশায়। ক্যামিক্যালযুক্ত খাবার গ্রহণ করে রোজাদাররা নানাবিধ দুরারোগ্য শারীরিক জটিলতার শিকার হন। এগুলো অত্যন্ত গর্হিত ও অন্যায় কাজ আইন ও ধর্মের দৃষ্টিতে। এগুলো থেকে বিরত থাকা দরকার।

ইসলাম মানব কল্যাণের ধর্ম, শান্তি, সহিষ্ণুতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ধর্ম। পশুসত্তাকে অবদমিত করে মানবসত্তাকে জাগ্রত করার জন্য ইসলামের নির্দেশ রয়েছে। খোদাভীতি, সৎ ও ন্যায়কাজে একে অপরের সহযোগিতার ফলে সমাজে মানবতা ব্যাপ্তি লাভ করে। মহান আল্লাহ এ সম্পর্কে বলেন, ‘সৎকর্ম ও খোদাভীতিতে একে অন্যের সাহায্য কর। পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যের সহায়তা কর না। আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহতায়ালা কঠোর শাস্তিদাতা।’ -সূরা আল মায়েদা : ০২

এ প্রসঙ্গে মহানবী (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি দয়া-অনুগ্রহ দেখায় না, আল্লাহ তার প্রতি দয়া-অনুগ্রহ দেখান না।’ -মিশকাত, হাদিস নং ৪৯৪৭

মানুষ সমাজবদ্ধ জীব। একে অপরের সাহায্য ও নির্ভরশীলতা ছাড়া জীবন পূর্ণ হয়ে উঠতে পারে না। মানুষের জীবনের সঙ্গে হাসি-কান্না, দুঃখ-বেদনা, আনন্দ-বিষাদ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দুর্বল ও অসহায় মানুষের প্রতি ক্ষমতাশালী ও বিত্তবানদের সহানুভূতির হাত সম্প্রসারণ হচ্ছে মানবতা। পরের কল্যাণ ও সুখের জন্য নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থকে বিসর্জন যারা দিতে পারেন তারা মানবতাবাদী, মানবহিতৈষি। সমাজের সর্বস্তরের মানুষের ন্যায়-সঙ্গত অধিকার রয়েছে। সেই অধিকার রক্ষার নামই মানবতা। ইসলামি বিধান মতে মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ নেই। মুসলিম-অমুসলিম, সাদা-কালো, ধনী-নির্ধন, উঁচু-নিচু সকল ধরণের মানুষ আল্লাহর বান্দা। সমগ্র মানব জাতি একই পরিবারভুক্ত। মহানবী (সা.) আরো বলেন, ‘গোটা সৃষ্টি (মাখলুক) আল্লাহতায়ালার পরিবারভূক্ত। সুতরাং সৃষ্টিকুলের মধ্যে আল্লাহতায়ালার নিকট সর্বাপেক্ষা প্রিয়, যে আল্লাহর পরিবারের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করে।’ -মিশকাত, হাদিস নং ৪৯৯৯

রমজানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হলো সদকাতুল ফিতর। প্রতিটি রোজাদারের জন্য নির্ধারিত পরিমাণে গম অথবা কিশমিশ অথবা খেজুর অথবা পনির অথবা এর বিনিময়ে নগদ অর্থ গরীব, দুঃখী ও অভাবক্লিষ্ট মানুষকে দান করা ওয়াজিব তথা বাধ্যতামূলক। এতে করে রোজার ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলো আল্লাহ মার্জনা করেন, অন্যদিকে সমাজের অসহায় মানুষ আর্থিকভাবে লাভবান হয়ে দারিদ্রতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পায়।

সম্পদশালী ও বিত্তবান যে কোনো মানুষের ওপর জাকাত বাধ্যতামূলক (ফরজ)। জাকাত বছরের যে কোনো সময় প্রদান করলে আদায় হয়ে যায় তবে রমজান মাসে দান করলে তার সওয়াব বহুগুণ বেশি। জাকাতের অর্থ দিয়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠী অপেক্ষাকৃত উন্নত খাবার গ্রহণ ও নতুন জামা-কাপড় ক্রয় করে ঈদের আনন্দে শরিক হওয়ার সুযোগ লাভ করেন।

অতিভোজন বা ভোজন বিলাসিতা স্নায়ুকোষে বিষক্রিয়ার সৃষ্টি করে এবং দেহযন্ত্রকে আলস করে দেয়। রোজা দেহের জন্য প্রতিষেধকের কাজ করে থাকে। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের গবেষণায় দেখা গেছে রোজা তথা উপবাসব্রতের কারণে দেহভ্যন্তরে এন্টি বায়োটিক এক বিরাট শক্তি সৃষ্টি হয় যার মাধ্যমে বহু ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও জীবাণু মারা পড়ে। এক মাসের সিয়াম সাধনার উদ্দেশ্যে দিনের বেলা যখন পানাহার বন্ধ থাকে, তখন পাকস্থলী ও অন্ত্রের ঝিল্লি দেহযন্ত্র থেকে জীর্ণ পদার্থগুলোকে বের করে দেয়। সারা বছর জৈব রসজাত যে বিষ দেহে জমা হয়, সিয়ামের আগুনে তা পুড়ে নিঃশেষে রক্ত বিশুদ্ধ হয়, বিষমুক্ত হয়। একজন রোজাদার রমজান মাসে তার প্রতিটি অঙ্গ বিশেষত হাত, পা, চোখ, মুখ, উদরকে অবৈধ, গর্হিত কাজ ও আল্লাহর নাফরমানী হতে বিরত রেখে সংযমী হয়। দেহের ওপর রোজার প্রভাব সুদুরপ্রসারী। ইচ্ছাশক্তিকে নিয়ন্ত্রণে রেখে দৈহিক অঙ্গ প্রত্যঙ্গকে আল্লাহর নির্দেশিত পথে পরিচালিত করার শিক্ষা দেয় মাহে রমজান।

রমজানে সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মানুষ হিংসা-বিদ্বেষ, লোভ-লালসা, কামনা-বাসনা প্রভৃতি অন্যায় আচরণ পরিহার করে অতি মানবীয় জীবনের দীক্ষা গ্রহণের সুযোগ লাভ করে থাকে। রোজাদারের অন্তরে মানবকল্যাণের চেতনা জাগ্রত হয়। অতএব মাহে রমজানের সিয়াম সাধনা আল্লাহপাকের এক অপূর্ব নিয়ামত, যা অফুরন্ত কল্যাণের পথ উন্মোচিত করে। মহান আল্লাহ সংযমের সঙ্গে মমত্ববোধে উজ্জীবিত হয়ে সমাজের কল্যাণে অবদান রাখার তওফিক দান করুন।

লেখক : ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন, খতিব, হজরত উসমান জামে মসজিদ, বাসস্ট্যান্ড, হালিশহর, এ ব্লক, চট্টগ্রাম

- See more at: http://www.deshebideshe.com/news/details/53075#sthash.lQzHfRRF.dpuf

40
রাসুল [সা.] যেভাবে রমজানের রোজা পালন করতেন!


এবাদতের বিবিধ উপকরণ দ্বারা রাসুল সা. রোজার দিবসগুলোকে শোভিত করতেন—অত্যন্ত আগ্রহ ও ব্যাকুলতার সাথে তিনি সেহরি ও ইফতার গ্রহণ করতেন। রোজা ভাঙার সময় হলে দ্রুত ইফতার করে নিতেন, পক্ষান্তরে সেহরি করতেন অনেক দেরিতে, সুবহে সাদিকের কিছু পূর্বে সেহরি সমাপ্ত করতেন। ইফতার করতেন ভেজা বা শুকনো খেজুর, অথবা পানি দিয়ে। ভেজা খেজুর দিয়ে সেহরি করাকে পছন্দ করতেন তিনি। জাঁকজমকহীন স্বাভাবিক সেহরি ও ইফতার গ্রহণ করতেন সর্বদা।

রমজানে রাসুলের এ আচরণ বিষয়ে বিভিন্ন হাদিসে উল্লেখ পাওয়া যায়—আনাস রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন :—
كان النبي صلي الله عليه و سلم يفطر قبل أن يصلي على رطبات، فإن لم تكن رطبات فتميرات، فإن لم تكن تميرات حسا حسوات من ماء
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায়ের পূর্বে কয়েকটি ভেজা খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন, যদি ভেজা খেজুর না থাকত, তবে সাধারণ শুকনো খেজুরই গ্রহণ করতেন। যদি তাও না থাকত, তবে কয়েক ঢোক পানিই হত তার ইফতার। [তিরমিজি : ৬৯৬, হাদিসটি সহি। উপরোক্ত কিছুই যদি না থাকে, তবে রোজাদার যে কোন হালাল খাদ্য দিয়ে ইফতার করে নিবে। তবে, খাদ্যই যদি না থাকে, তাহলে ইফতারের নিয়ত করবে। ইফতারের নিয়তই হবে তার জন্য ইফতার।]

আবু আতিয়া হতে বর্ণিত, তিনি বলেন : আমি এবং মাসরুক আয়েশা রা.-এর নিকট উপস্থিত হলাম। মাসরুক তাকে উদ্দেশ্য করে বলল : মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দু’ সাহাবি উপস্থিত হয়েছে, যাদের কেউ কল্যাণে পশ্চাৎবর্তী হতে আগ্রহী নয় ; তাদের একজন মাগরিব ও ইফতার উভয়টিকেই বিলম্ব করে, অপরজন দ্রুত করে মাগরিব ও ইফতার। আয়েশা বললেন : কে মাগরিব ও ইফতার দ্রুত করে ? বললেন : আব্দুল্লাহ। আয়েশা উত্তর দিলেন : রাসুল সা. এভাবেই রোজা পালন করতেন। [মুসলিম : ১০৯৯।]

আব্দুল্লাহ বিন আবি আউফা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন :—
كنا مع رسول الله صلى الله عليه و سلم في سفر في شهر رمضان، فلما غابت الشمس قال: يا فلان انزل فاجدح لنا! قال: يا رسول الله إن عليك نهاراً!، قال: انزل فاجدح لنا!، قال: فنزل فجدح، فأتاه به فشرب النبي صلى الله عليه و سلم ثم قال بيده: إذا غابت الشمس من ها هنا وجاء الليل من ها هنا فقد أفطر الصائم
একবার, রমজান মাসে আমরা রাসুলের সাথে সফরে ছিলাম। সূর্য অস্তমিত হলে তিনি বললেন, হে অমুক ! নেমে এসে আমাদের জন্য ছাতু ও পানি মিশ্রিত ইফতার পরিবেশন কর। লোকটি বলল : হে আল্লাহর রাসুল ! এখনও তো দিবসের কিছু বাকি আছে। রাসুল পুনরায় বললেন : নেমে এসে আমাদের জন্য ছাতু ও পানি মিশ্রিত ইফতার পরিবেশন কর। বর্ণনাকারী বলেন : সে নেমে এসে ছাতু ও পানির ইফতার প্রস্ত্তত করে রাসুলের সামনে উপস্থিত করলে তিনি তা গ্রহণ করলেন। অত:পর তিনি হাতের ইশারা দিয়ে বললেন : সূর্য যখন এখান থেকে এখানে অস্ত যাবে এবং রাত্রি আগত হবে এতটুকু অবধি, তখন রোজাদার রোজা ভাঙবে। [বোখারি : ১৯৪১, মুসলিম : ১১০১।]

জনৈক সাহাবির সূত্র ধরে আব্দুল্লাহ বিন হারেস বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসুলের নিকট হাজির হলাম, তিনি সেহরি খাচ্ছিলেন। রাসুল বললেন : নিশ্চয় তা বরকত স্বরূপ, আল্লাহ পাক বিশেষভাবে তা তোমাদেরকে দান করেছেন, সুতরাং তোমরা তা ত্যাগ কর না। [নাসায়ি : ২১৬২, হাদিসটি সহি।]

যায়েদ বিন সাবেত হতে বর্ণিত, তিনি বলেন : আমারা রাসুলের সাথে সেহরি খেলাম, অত:পর তিনি সালাতে দন্ডায়মান হলেন। আমি বললাম : সেহরি ও আজানের মধ্যবর্তী সময়ের স্থায়িত্ব কতটা ? তিনি বললেন : পঞ্চাশ আয়াত তেলাওয়াত পরিমাণ দৈর্ঘ্য। [বোখারি : ১৯২১।] বিলম্বে সেহরি গ্রহণ রোজার জন্য সহজ, রোজাদারের জন্য প্রশান্তিকর ; এবং বিলম্বে সেহরি গ্রহণের কারণে ফজরের সালাত ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে না।

আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন : মোমিনের উত্তম সেহরি শুকনো খেজুর। [আবু দাউদ : ২৩৪৫, হাদিসটি সহি।]

আনাস রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন :—
قال رسول الله صلي الله عليه و سلم -وذلك عند السحور-: يا أنس إني أريد الصيام، أطعمني شيئاً، فأتيته بتمر وإناء فيه ماء، وذلك بعد ما أذن بلال
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেহরিকালিন আমাকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন—হে আনাস, আমি রোজা রাখতে আগ্রহী। আমাকে কিছু আহার করাও। আমি তার সামনে শুকনো খেজুর এ একটি পাত্রে পানি উপস্থিত করলাম। বেলালের (প্রথম) আজানের পর তিনি সেহরি গ্রহণ করেছিলেন। [নাসায়ি : ২১৬৭, হাদিসটি সহি।]
উপরোক্ত হাদিসগুলো সামনে রেখে আমরা এ সিদ্ধান্তে উপনীত হই যে, রাসুল ইফতার করতেন দ্রুত—আনাস রা.-এর স্পষ্ট হাদিস এ বিষয়ের উৎকৃষ্ট প্রমাণ, তিনি বলেন : আমরা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে, এমনকি এক ঢোক পানি দিয়ে হলেও, ইফতার করা ব্যতীত মাগরিবের সালাত আদায় করতে দেখিনি। [ইবনে হিববান : ৩৫০৪, শাইখাইনের শর্ত অনুসারে হাদিসটির সূত্র বর্ণিত।]

আব্দুল্লাহ বিন উমর রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন : রাসুল বলেছেন—
تسحروا ولو بجرعة من ماء
এক ঢোক পানি দ্বারা হলেও, তোমরা সেহরি গ্রহণ কর।[ইবনে হিববান : ৩৪৭৬, হাদিসটি হাসান।]
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উবুদিয়ত ও দাসত্বের সর্বোচ্চ পরাকাষ্ঠা পেরুনের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন, সাধ্যানুসারে যাবতীয় উপকরণ ব্যবহার করে কর্মের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার নৈকট্য অর্জন করতে প্রয়াসী হয়েছেন।

কীভাবে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজান যাপন করেছেন, সানুপুঙ্খ দৃষ্টিতে আমরা যদি তা বিবেচনা করি, তবে দেখতে পাব, রোজাদারদের যারা সেহরি গ্রহণ করেন না, বা করলেও, সম্পন্ন করেন অনেক দ্রুত—মধ্যরাতে, তারা অবশ্যই সুন্নতের সঠিক পথ-বিচ্যুত। দ্রুত সেহরি গ্রহণের কারণে নফ্সকে অযথা ভোগানো হয়। মূলত: রাসুল আমাদের জন্য হেদায়েতের যে আদর্শ রেখে গিয়েছেন, তার পুণ্যবান সহচরগণ সমুন্নত করেছেন যে আদর্শ ও কর্মনীতির মৌল-পন্থা, তার অনুসরণ ও অনুবর্তনেই সাফল্য ও কল্যাণ। আমর বিন মায়মুন রা. বলেন : মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবিগণ ছিলেন সকলের চেয়ে সর্বাধিক দ্রুত ইফতারকারী, এবং বিলম্বে সেহরি গ্রহণকারী। [আব্দুর রাজ্জাক : ৭৫৯১]
বর্তমান সময়ে ইফতার ও সেহরিকে কেন্দ্র আমরা যে জাঁকজমক ও আচার-অনুষ্ঠান দেখতে পাই, রাসুল কোনভাবেই এর বৈধতা প্রদান করেননি। অতিরিক্ত ভোজন ও বিলাসী আহারের ফলে নফ্স অলসতায় আক্রান্ত হয়, এবাদতের ক্ষেত্রে তার মাঝে সীমাহীন শৈথিল্য ছড়িয়ে পড়ে। সে তাই, বঞ্চিত হয় এ মহান মৌসুমের প্রকৃত ফললাভে। দু:খজনক বিষয় এই যে, কোথাও কোথাও দেখা যায়, মানুষ হারাম ও অবৈধ খাদ্য দিয়ে ইফতার ও সেহরি গ্রহণ করছে, সেহরি ও ইফতারের পিছনে ব্যায় করছে অবৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পদ। মানুষ কতটা নির্বিকার হয়ে পড়েছে, এগুলো তার জ্বলন্ত প্রমাণ। আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন।

মানুষ সতত ধোঁকায় আক্রান্ত নিজেকে নিয়ে ; নিজেকে সে বঞ্চিত করছে এমন সৌভাগ্য ও অবশ্যম্ভাবী ফলশ্রুতি থেকে, যা হতে পারত তার নাজাতের উপকরণ, পরকালিন দরজা বুলন্দীর কারণ। যেদিন কাজে আসবে না পাহাড়সম সম্পদ, একপাল সন্তান-সন্ততি, আল্লাহ যাকে বিশুদ্ধ অন্তরে শোভিত করেছেন, কেবল তার ললাটেই শোভা পাবে মুক্তির সৌভাগ্য। ইহকালিন নশ্বর কিছু বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রেখে মানুষ ত্যাগ করছে-হেলায় হারাচ্ছে পরকালিন অবিনশ্বর প্রাপ্তিকে, এবং রমজান মাসে রাসুল নির্দেশিত কর্মপন্থা ও আহার-ভোজনের নীতিমালা অনুসরণ না করে—আল্লাহর সাথে এবাদতের ক্ষেত্রে দূরত্ব সৃষ্টি, পাপাচার-অনাচারে আক্রান্ত হওয়া ছাড়াও—আক্রান্ত হয় নানারকম দৈহিক অসুস্থতা, স্বাস্থ্যহানিতে, যার জের টানতে হয় দীর্ঘ সময়।

আত্মার প্রবঞ্চনা ও মোহ হতে যে সতর্ক সতত, নিজেকে তার রক্ষা করাই কাম্য। সময় বয়ে যাচ্ছে নিরবধি, সুযোগ হাতছাড়া হচ্ছে ক্রমাগত, যে কর্ম পরকালে কাজে আসবে, বয়ে আনবে মহান ফলাফল, তা ক্রমে নি:শেষ তলানিতে এসে ঠেকছে। রাসুলের পুণ্যময় আচরণ ও জীবনাচারের যে আলো আমাদের স্পর্শ করেছে, তা নিয়েই যে ব্যক্তি বেঁচে থাকতে প্রয়াসী, রাসুলের পূর্ণাঙ্গ অনুবর্তনই যার ইহকালীন একমাত্র অবলম্বন, পার্থিব আস্বাদকে ছুঁড়ে মারা তার দায়িত্ব; আলস্য পরিহার করে ধর্মের মৌলিক এবাদতে নিজেকে নিয়োগ করা, সৌভাগ্যের অনুষঙ্গের মাধ্যমে আত্মায় ও মননে শোভিত হওয়া, এবং অধিক-হারে কল্যাণ-কর্মে ব্রতী হওয়া তার একমাত্রিক কর্তব্য।


মূল : ফায়সাল বিন আলী আল বাদানী
অনুবাদ : কাউসার বিন খালেদ
সম্পাদনা : ড. মাওলানা মুহাম্মাদ শামসুল হক সিদ্দিক

- See more at: http://www.deshebideshe.com/news/details/53113#sthash.EgjLrsV1.dpuf

41
ইসলামে বাবার মর্যাদা


একজন বাবার মাধ্যমে সন্তানের জীবনের শুরু। সন্তানের জীবনে বাবার অবদান অনস্বীকার্য। কোনো সন্তান বাবার ঋণ কখনো পরিশোধ করতে পারে না। কঠোর শাসন, কোমল ভালোবাসা আর ত্যাগে অগ্রগামী যিনি, তিনিই তো বাবা। বাবারা যে কোনো ধরনের দুঃখ-কষ্ট অকাতরে সহ্য করেন। সবসময় চেষ্টা করেন সামান্য কষ্ট যেন সন্তানকে স্পর্শ না করে। সন্তানের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের কথা ভেবে সারাজীবন অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। তারপরও বাবাদের সঙ্গে আমাদের সমাজের অনেকেই খারাপ আচরণ করে থাকেন। এটা ইসলাম বিরুদ্ধ কাজ; হাদিস বিরুদ্ধ কাজ; কোরআন বিরুদ্ধ কাজ। এ কাজের প্রতি স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা এসেছে শরিয়তে ইসলামে।

সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, ‘আমি নবী করিম (সা.) কে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় কাজ কোনটি? তিনি বললেন সময়মতো নামাজ পড়া। আমি বললাম তারপর কোনটি? তিনি বললেন পিতা-মাতার সঙ্গে উত্তম আচরণ করা। আমি জিজ্ঞেস করলাম তারপর কোনটি? তিনি বললেন আল্লাহর পথে জিহাদ করা। -সহিহ বোখরি ও মুসলিম

এই হাদিস থেকে আমরা জানতে পারি যে, আল্লাহর তিনটি অতি প্রিয় কাজের মধ্যে একটি হলো বাবা-মা’র সঙ্গে সদ্ব্যবহার করা। অন্য আরেক হাদিসে বলা হয়েছে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মানুষ যখন মারা যায়, তখন তার আমল বন্ধ হয়ে যায়। তবে তিনটি আমল যোগ হতে থাকে- ১. সদকায়ে জারিয়া, ২. কল্যাণময় শিক্ষা ও ৩. এমন সৎ সন্তান যে মৃত পিতা-মাতার জন্য দোয়া করে।’ -সহিহ মুসলিম

এই হাদিসে ‘সদকায়ে জারিয়া’ বলতে বোঝানো হয়েছে এমন জনসেবার কাজ, যা দ্বারা বছরের পর বছর মানুষ উপকৃত হয়। তা দ্বারা যতদিন মানুষ উপকৃত হবে, ততদিন এই সেবাদানকারীর আমলনামায় নেক আমল বা সওয়াব যোগ হবে। আর ‘কল্যাণময় শিক্ষা’ বলতে এমন জ্ঞান ও শিক্ষার কথা বলা হয়েছে, যার ফলে মানুষ প্রজন্মের পর প্রজন্ম আল্লাহর পথে চলতে থাকে। আর সৎ সন্তানের বিষয়টি সবার কাছে স্পষ্ট। হাদিসে আছে, মৃত ব্যক্তির জন্য সৎ সন্তানের দোয়া অনেক উপকারী।

জন্মদাতা পিতাকে আমরা বাবা বা আব্বা বলে ডাকি। সম্বোধন হিসেবে এটা নতুন নয়। পিতা কিংবা বাবার সমার্থবোধক অনেক শব্দ সমাজে প্রচলিত। তবে অঞ্চল ও ভাষাভেদে এর হেরফের অস্বাভাবিক কিছু নয়। ইসলাম জন্ম পরিচয়ের সূত্র প্রকাশের সময় আপন পিতা ছাড়া অন্যের দিকে নিজের পরিচয়কে সম্পর্কযুক্ত করতে কঠিনভাবে নিষেধ করেছে।

এমনকি ইচ্ছায়-অনিচ্ছায়, ভক্তি-শ্রদ্ধা, সম্মান প্রদর্শনসহ অন্য যে কোনো কারণ দেখিয়েই হোক না কেন, জন্মদাতা ছাড়া অন্যকে পিতা বলে ডাকতে বা পরিচয় দিতে নিষেধ করা হয়েছে। ইসলামের এই অব্স্থান থেকেই বুঝে আছে, বাবার প্রতি ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি।

এভাবেই ইসলাম পিতৃত্বের পরিচয়কে সুসংহত করে পিতার মর্যাদাকে উচ্চাসনে বসিয়েছে। বাবা দিবস উপলক্ষে পৃথিবীর সব বাবার প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা। আর যেসব বাবা দুনিয়া থেকে বিদায় হয়েছেন, তাদের জন্য রইল অনেক দোয়া।

- See more at: http://www.deshebideshe.com/news/details/53141#sthash.ZvNTOunx.dpuf

42
এ বছর জনপ্রতি ফিতরা ৬০ টাকা

ঢাকা, ২৪ জুন- এ বছর গম বা আটার বাজারমূল্য হিসাব করে এবার সর্বনিম্ন ফিতরা নির্ধারণ করা হয়েছে জনপ্রতি ৬০ টাকা।

বুধবার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে ফিতরা নির্ধারণী সভায় এ সিদ্ধান্ত হয় বলে ফাউন্ডেশনের পরিচালক এ এন এম সিরাজুল ইসলাম জানান।

১ কেজি ৬৫০ গ্রাম গম বা আটা অথবা খেঁজুর, কিসমিস, পনির বা যবের মধ্যে যে কোনো একটি পণ্যের ৩ কেজি ৩০০ গ্রামের বাজার মূল্য ফিতরা হিসেবে গরিবদের মধ্যে বিতরণ করা যায়।

এই হিসেবে এবার সর্বনিম্ন ৬০ টাকা থেকে ১ হাজার ৬৫০ টাকা ফিতরা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে সিরাজুল ইসলাম জানান।

তিনি বলেন, “নিজ নিজ সামর্থ্য অনুসারে এসব পণ্যের যে কোনো একটি দিয়ে অথবা সমপরিমাণ দাম দিয়ে ফিতরা আদায় করা যাবে। তবে খুচরা বাজারে এসব পণ্যের দামে তারতম্য থাকতে পারে।”

ইসলাম ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব। নাবালক ছেলেমেয়ের পক্ষ থেকে বাবাকে এই ফিতরা দিতে হয়। আর তা দিতে হয় ঈদুল ফিতরের নামাজের আগেই।

গত বছর সর্বনিম্ন ফিতরা ধরা হয়েছিল জনপ্রতি ৬৫ টাকা; তার আগের বছর ছিল ৬৬ টাকা।

সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে এই সভায় ফিতর নির্ধারণী কমিটির সদস্য ও বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

- See more at: http://www.deshebideshe.com/news/details/53168#sthash.fU9mocJc.dpuf

43
যেসব কারণে রোজা ভাঙবে না

যাবতীয় পানাহার, পাপাচার থেকে বিরত থাকায় হলো রোয়ার প্রথম উদ্দেশ্য। এ সময়ের মধ্যেও অনেকে মনের ভুলে অনেক কিছু করে ফেলে যা আপনার কাছে মনে হতে পারে আপনার রোজা ভেঙে গেছে। ফলে তখন আপনি ইচ্ছাকৃত রোজাটা ভেঙে ফেলেন। অথচ আপনি নিজেই জানেন না ওই সময় ইচ্ছাকৃত পানাহার না করলে আপনার রোজাটা কবুল হতো। সুতরাং এসব বিষয়ে রোজাদারদের অবগত হওয়া জরুরি।

যেসব বিষয় রোজা ভঙ্গের কারণ নয়:

০১. অনিচ্ছাকৃত গলার ভেতর ধুলা-বালি, ধোঁয়া অথবা মশা-মাছি প্রবেশ করা।

০২. অনিচ্ছাকৃত কানে পানি প্রবেশ করা।

০৩. অনিচ্ছাকৃত বমি আসা অথবা ইচ্ছাকৃত অল্প পরিমাণ বমি করা (মুখ ভরে নয়)।

০৪. বমি আসার পর নিজে নিজেই ফিরে যাওয়া।

০৫. ভুলক্রমে পানাহার করা।

০৬. সুগন্ধি ব্যবহার করা বা অন্য কিছুর ঘ্রাণ নেয়া।

০৭. নিজ মুখের থুথু, কফ ইত্যাদি গলাধঃকরণ করা।

০৮. শরীর ও মাথায় তেল ব্যবহার করা।

০৯. ঠাণ্ডার জন্য গোসল করা।

১০..মিসওয়াক করা। যদিও মিসওয়াক করার দরুন দাঁত থেকে রক্ত বের হয়। তবে শর্ত হলো গলার ভেতর না পৌঁছানো।

১১. ঘুমের মাঝে স্বপ্নদোষ হলে।

১২. স্ত্রীলোকের দিকে তাকানোর কারণে কোনো কসরত ছাড়া বীর্যপাত হলে।


- See more at: http://www.deshebideshe.com/news/details/53334#sthash.qlGkgVxz.dpuf

44
যাদের জন্য রমজানের রোজা না রাখার অনুমতি রয়েছে!

মুসাফিরের জন্য সফর অবস্থায় রোজা না রাখারও সুযোগ রয়েছে। তবে বেশি কষ্ট না হলে রোজা রাখাই উত্তম। আর অস্বাভাবিক কষ্ট হলে রোজা রাখা মাকরুহ। এ অবস্থায় রোজা না রেখে পরে কাজা করা যায়।

১. মুসাফির : ক. মুসাফিরের জন্য সফর অবস্থায় রোজা না রাখারও সুযোগ রয়েছে। তবে বেশি কষ্ট না হলে রোজা রাখাই উত্তম। আর অস্বাভাবিক কষ্ট হলে রোজা রাখা মাকরুহ। এ অবস্থায় রোজা না রেখে পরে কাজা করে নেবে। (রদ্দুল মুহতার ২/৪২১; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৪০৩)
খ. সফর অবস্থায় নিয়ত করে রোজা রাখা শুরু করলে তা ভাঙা জায়েজ নয়। কেউ ভেঙে ফেললে গোনাহগার হবে। তবে কাফফারা দিতে হবে না। শুধু কাজা করবে। (রদ্দুল মুহতার ২/৪৩১)
গ. যে ব্যক্তি মুকিম অবস্থায় সাহরি খেয়ে সফর শুরু করেছে তার জন্য সফরের অজুহাতে রোজা ভাঙা জায়েজ নয়। ভাঙলে গোনাহগার হবে এবং শুধু কাজা ওয়াজিব হবে। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০৬)
ঘ. মুসাফির সফরের কারণে রোজা রাখেনি, কিন্তু দিন শেষ হওয়ার আগেই মুকিম হয়ে গেছে। সেদিনের অবশিষ্ট সময় রমজানের মর্যাদা রক্ষার্থে পানাহার থেকে বিরত থাকবে। আর পরে এ রোজার কাজা করে নেবে। (মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা ৬/২২১, হাদিস : ৯৪৩৬-৯৪৩৮)
ঙ. রমজানের দিনে হায়েয-নেফাস থেকে পবিত্র হলে অবশিষ্ট দিন রমজানের মর্যাদা রক্ষার্থে পানাহার থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। তবে ওই ওজরে ছুটে যাওয়া রোজাগুলোর সঙ্গে এ দিনের রোজারও কাজা করবে। (মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা ৬/২২১, হাদিস : ৯৪৩২; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৪২৮)

২. অসুস্থ ব্যক্তি : রোজার কারণে যে রোগ বৃদ্ধি পায় কিংবা আরোগ্য লাভে বিলম্ব হওয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে, সে রোগে রোজা ভঙ্গ করা জায়েজ। উল্লেখ্য যে, ওই আশঙ্কা বাস্তবসম্মত হওয়া যদি একেবারেই সুস্পষ্ট হয় তবে তো কথা নেই, নতুবা একজন অভিজ্ঞ দ্বীনদার চিকিত্সকের মতামতের প্রয়োজন হবে। (আলমুহিতুল বুরহানি ৩/৩৫৯; আদদুররুল মুখতার ২/৪২২)

৩. গর্ভবতী : রোজা রাখার কারণে গর্ভবতী মহিলার নিজের কিংবা সন্তানের প্রাণহানি বা মারাত্মক স্বাস্থ্যহানির প্রবল আশঙ্কা হলে তার জন্য রোজা ভঙ্গ করা জায়েজ। পরে এ রোজা কাজা করে নেবে। (আলমুহিতুল বুরহানি ৩/৩৫৯)

৪. দুগ্ধ দানকারিনী : দুগ্ধ দানকারিনী মা রোজা রাখলে যদি সন্তান দুধ না পায় আর ওই সন্তান অন্য কোনো খাবারেও অভ্যস্ত না হয়; ফলে দুধ না পাওয়ার কারণে সন্তানের মৃত্যুর বা মারাত্মক স্বাস্থ্যহানির আশঙ্কা হয় তাহলে তিনি রোজা ভাঙতে পারবেন এবং পরে কাজা করে নেবেন। (রদ্দুল মুহতার ২/৪২২)
হাদিস শরীফে ইরশাদ হয়েছে— ‘আল্লাহ তায়ালা মুসাফিরের জন্য রোজার হুকুম শিথিল করেছেন এবং আংশিক নামাজ কমিয়ে দিয়েছেন। আর গর্ভবতী ও দুগ্ধ দানকারিনীর জন্যও রোজার হুকুম শিথিল করেছেন। (জামে তিরমিযি ১/১৫২, হাদিস : ৭১৫)

৫. দুর্বল বৃদ্ধ ব্যক্তি : বার্ধক্যের কারণে রোজা রাখতে সক্ষম না হলে রোজা রাখবে না। এরূপ ব্যক্তির জন্য রোজার পরিবর্তে ফিদয়া দেয়ার নির্দেশ এসেছে। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০৭)

- See more at: http://www.deshebideshe.com/news/details/53371#sthash.qtwMoai7.dpuf

45
[রমজানে অবশ্য পালনীয় গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি ১০টি আমল!





রমজানে রোজা রাখা ফরজ। সেজন্য রমজানের প্রধান আমল- সুন্নাহ মোতাবেক রোজা পালন করা। মহান আল্লাহ বলেন, ‘সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে এ মাসটিতে উপস্থিত হবে, সে যেন তাতে রোজা রাখে।

১. রোজা রাখা : রমজানে রোজা রাখা ফরজ। সেজন্য রমজানের প্রধান আমল- সুন্নাহ মোতাবেক রোজা পালন করা। মহান আল্লাহ বলেন, ‘সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে এ মাসটিতে উপস্থিত হবে, সে যেন তাতে রোজা রাখে।’ (সূরা বাকারা : ১৮৫)।

২. সাহরি খাওয়া : রোজা পালনে সাহরি খাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সাহরি খাওয়ার মধ্যে বরকত রয়েছে। অনেকে সাহরি খান না, অনেকে আগ রাতে খেয়েই শুয়ে পড়েন। এটি সুন্নাহ পরিপন্থী। কারণ ইহুদি ও খ্রিস্টানরা সাহরি খায় না। হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আমাদের ও আহলে কিতাবদের রোজার মধ্যে পার্থক্য হলো সাহরি গ্রহণ।’ (মুসলিম : ২৬০৪)।

৩. ইফতার করা এবং অন্যকে করানো : সিয়ামের পূর্ণ সওয়াব পাওয়ার জন্য দ্রুত ইফতার করতে হবে। সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করা বিরাট ফজিলত। অন্যদিকে হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, সে তার সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করবে, তাদের উভয়ের সওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র হ্রাস করা হবে না।’ (ইবনে মাজাহ : ১৭৪৬)।

৪. জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায় : রমজানে ফরজ নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আমল। অনেকে ফরজ নামাজ আদায়ে উদাসীন থাকেন, যা গ্রহণযোগ্য নয়। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘অতএব সেই নামাজ আদায়কারীদের জন্য দুর্ভোগ, যারা নিজদের নামাজে অমনোযোগী।’ (সূরা আল মাউন : ৪-৫)।

৫. তারাবির নামাজ পড়া : তারাবির নামাজ আদায় রমজানের অন্যতম আমল। হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াব হাসিলের আশায় রমজানে কিয়ামু রমজান (সালাতুত তারাবি) আদায় করবে, তার অতীতের সব গোনাহ মাফ করে দেয়া হবে।’ (বোখারি : ২০০৯)।

৬. বেশি বেশি দান-সদকাহ করা : রোজা-নামাজ ইত্যাদির পাশাপাশি দান-সদকার মাধ্যমেও ফজিলত অর্জন করতে হবে। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুল (সা.) ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দানশীল আর রমজানে তাঁর এ দানশীলতা আরও বেড়ে যেত।’ (বোখারি : ১৯০২)

৭. বেশি বেশি দোয়া-এস্তেগফার করা : এ মাসে বেশি বেশি দোয়া-এস্তেগফার করা উচিত। হাদিসে এসেছে, ‘ইফতারের মুহূর্তে আল্লাহ তায়ালা বহু লোককে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন। মুক্তির এ প্রক্রিয়াটি রমজানের প্রতি রাতেই চলতে থাকে।’ (আল জামিউস সাগির : ৩৯৩৩)।

৮. ইতিকাফ করা : ইতিকাফ অর্থ অবস্থান করা। অর্থাৎ মানুষ থেকে পৃথক হয়ে সালাত, সিয়াম, কোরআন তেলাওয়াত, দোয়া, ইসতিগফার ও অন্যান্য ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার সান্নিধ্যে একাকী কিছু সময় যাপন করা। এ ইবাদতের এত মর্যাদা যে, প্রত্যেক রমজানে রাসুল (সা.) শেষ ১০ দিন নিজে এবং তাঁর সাহাবিরা ইতিকাফ করতেন।

৯. লাইলাতুল কদর তালাশ করা : পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘কদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।’ (সূরা কদর : ৪)। রাসুল (সা.) আমাদের শেষ ১০ দিন লাইলাতুল কদর তালাশ করার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, ‘তোমরা রমজানের শেষ ১০ দিনের বেজোড় রাতগুলোতে কদরের রাত খোঁজ।’ (বোখারি : ২০২০)।

১০. তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া : রমজানে নিয়মিত তাহাজ্জুদ পড়া অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। রমজানের কারণে এ ফজিলত বহুগুণে বেড়ে যায়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘ফরজ নামাজের পর সর্বোত্তম নামাজ হলো রাতের নামাজ অর্থাৎ তাহাজ্জুদের নামাজ।’ (মুসলিম : ২৮১২)।

- See more at: http://www.deshebideshe.com/news/details/53390#sthash.YGYmyoSp.dpuf

Pages: 1 2 [3] 4 5 ... 8