Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Topics - tnasrin

Pages: 1 [2]
16
সুস্বাস্থ্যের জন্য পানি পান করা জরুরি। এটি শরীরের কার্যক্রমকে ভালো রাখতে সাহায্য করে। খাবার না খেয়ে হয়তো ৪০ দিন পর্যন্ত থাকা যায়, তবে পানি ছাড়া বাঁচা অসম্ভব!

ঘুমের আগে পানি খেলে শরীর আর্দ্র থাকে। পানি ঘুম ভালো হতে সাহায্য করে, ওজন কমায়। এ ছাড়া ঘুমের আগে পানি পান করার আরো অনেক উপকারিতা রয়েছে। জীবনযাত্রাবিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাইয়ের স্বাস্থ্য বিভাগে প্রকাশিত হয়েছে এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন।

শরীরকে আর্দ্র রাখে

পানি শরীরকে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে। সারাদিন তো পানি খাওয়ার সুযোগ থাকে। তবে ঘুমের সময় তো আর পানি খাওয়া যায় না। তাই ঘুমের আগে পানি খেলে শরীর ভালোভাবে আর্দ্র থাকে। এটি শরীরকে সতেজ রাখতেও সাহায্য করে।

বিষাক্ত পদার্থ দূর করে

শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে পানি পান করা জরুরি। আমাদের শরীর বিভিন্নভাবে বিষাক্ত পদার্থ গ্রহণ করে থাকে। এতে বিভিন্ন রোগ হয়। ঘুমানোর আগে পানি পান করলে শরীর থেকে এসব বিষাক্ত পদার্থ দূর হয়। 

ভালো ঘুমের জন্য

ঘুমের আগে পানি খেলে ঘুম ভালো হয়। পানি শরীরের ভিটামিন, মিনারেল ও পুষ্টির ভারসাম্যকে বজায় রাখতে সাহায্য করে।

ঘুমের সময় যেহেতু কোনো কায়িক পরিশ্রম করতে হয় না, তাই পানি এসব পুষ্টিকে শরীরের সব অংশে পৌঁছে দিতে সাহায্য করে।

পেশির টান কমে

ঘুমের আগে পানি পান করা পেশি এবং গাঁটকে শিথীল রাখতে সাহায্য করে। এতে পেশিতে টান বা ক্রাম্প হওয়ার শঙ্কা কমে যায়। তা ছাড়া পরের দিনের জন্য আপনার পেশি থাকবে পুরোপুরি ফিট।

ওজন কমায়

পানি একটি জিরো ক্যালোরির খাবার। ঘুমের আগে ঠান্ডা পানি পান ওজন কমাতে সাহায্য করে।

আপনি যদি ঠান্ডা পানি পান করেন, তাহলে শরীর এই পানিকে গরম করতে বেশ পরিশ্রম করে, মানে ক্যালোরি বেশি পোড়ে। এটি ওজন কমাতে সাহায্য করে। তবে এই ওজন কমানোর পরিমাণ বেশ নগণ্যই হয়।

17
অস্বাস্থ্যকর খাবার খেলে, আর নিয়মিত ব্যায়াম না করলেই কি শুধু ওজন বাড়ে? মোটেই তা নয়। রান্নার সময়ও আমরা কিছু ভুল করি, যেগুলো আপনার ওজন বাড়িয়ে দিতে পারে। স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথ ডাইজেস্টে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী রান্নার সময় কিছু বিষয়ে লক্ষ রাখলে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন নিজের ওজন।

১. বেশি চিনি 
খাবারের স্বাদ বাড়ানোর জন্য আমরা লবণ ও চিনি যোগ করি। তবে এগুলো বেশি পরিমাণে ব্যবহার করলে খাবারে ক্যালোরির মাত্রা বেড়ে যায়। আর যেহেতু এগুলো দিলে স্বাদ বাড়ে তাই খাওয়াও বেশি হয়। এতে ওজন বাড়ে। তাই রান্নার সময় এগুলো বেশি ব্যবহার না করাই ভালো। 

২. বেশি তেল
অনেকেই খুব বেশি তেল দিয়ে খাবার রান্না করতে ভালোবাসেন। এই অতিরিক্ত তেল শরীরের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। এটি ওজন বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখে। তাই রান্নার সময় অতিরিক্ত তেল এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।

৩. ভুল তেল
অনেকেই এক ধরনের তেল দিয়ে সব রকম রান্না করেন। এটা ঠিক নয়। এতে অপ্রয়োজনে অনেক তেল খাওয়া হয়। এতে ওজন বাড়ে। সালাদ ড্রেসিংয়ে অলিভ ওয়েল এবং ওয়াল নাট তেল ব্যবহার করা যায়। এ ছাড়া গ্রিল করতে সয়াবিন তেল এড়িয়ে সূর্যমুখি তেল বা নারকেল তেল ব্যবহার করা যায়। 

৪. রান্নার সূত্র মেনে চলা
অনেকে রান্নার প্রণালি বা রেসিপি খুব কঠোরভাবে মেনে চলেন। আর এতেই আপনার ওজন বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। ধরুন কোনো খাবারে ক্রিম দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সেখানে যদি ক্রিমের বদলে দই ব্যবহার করেন তাহলেই কিন্তু খাবারটি অনেক স্বাস্থ্যকর হয়, মানে ওজন বাড়া থেকে রেহাই পাবেন। আর এটা তো সবাই জানেন ক্রিম ব্যবহার করলে ওজন বাড়ে। তাই নিজে থেকেই দেখুন তো কী কী বাদ দিলে বা যোগ করলে স্বাস্থ্যকর হয় রান্নাটি?   



18
প্রবাদে রয়েছে ‘নো পেইন, নো গেইন’। অর্থাৎ ব্যথা ছাড়া জেতা যায় না। তবে আমি এই কথাকে তেমন পছন্দ করি না। সে যাই হোক, ব্যথা কিন্তু জীবনেরই অংশ। সেটা শরীর ব্যথা হোক, আর মনের ব্যথা। 

ব্যথা হলে ওষুধ খেতে হবে, ম্যাসাজ করতে হবে এবং চিকিৎসক বললে প্রয়োজনে অস্ত্রোপচার করতে হবে। তবে কিছু ঘরোয়া উপাদান রয়েছে যেগুলো ব্যথাকে দূর করতে বেশ কার্যকর। এগুলো ব্যবহারে ব্যথা একেবারই দূর হয়ে যাবে এমন কোনো নিশ্চয়তা কেউই দিচ্ছে না। তবে হ্যাঁ, উপশম তো একটু হবেই। আর এগুলো আপনি পেয়ে যাবেন হয়তো রান্না ঘরে বা বাগানে।

আর জীবনধারা বিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাই আমাদের দিয়েছে ব্যথা উপশমের এই ঘরোয়া উপাদানগুলোর সন্ধান।

আদা ও হলুদ

এই দুটো জিনিসের মধ্যে রয়েছে প্রদাহরোধী উপাদান। এগুলো আয়ুর্বেদ শাস্ত্রেরও বেশ ভালো ঔষধি উপাদান। হলুদের মধ্যে রয়েছে পেশি ও গাঁট ব্যথা উপশম করার ক্ষমতা। হলুদে থাকা কারকিউমিন প্রদাহ রোধ করে। কখনো কখনো রক্ত জমাট বাঁধাও প্রতিরোধ করে।

রসুন

রসুনে রয়েছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট; এটি প্রদাহরোধী উপাদানও বটে। কাঁচা রসুন খেলে আরথ্রাইটিসের ব্যথা অনেকটা কমে এবং অন্যান্য ব্যথাও উপশম হয়।

লবঙ্গ

দাঁতের ব্যথা উপশমে লবঙ্গ খাওয়া যেতে পারে। লবঙ্গ তেলের মধ্যে তুলা ভেজান। এই তুলাকে দাঁতে লাগান। এ ছাড়া লবঙ্গ চিবাতেও পারেন। এতে ব্যথা অনেকটা কমবে।

পুদিনা পাতা

পুদিনা পাতা ব্যথা উপশমের জন্য একটি চমৎকার ঘরোয়া উপাদান। এটি মাথা ব্যথা, দাঁত ব্যথা, গাঁট ব্যথা কমাতে কাজ করে। সামান্য পুদিনার রস আক্রান্ত স্থানে লাগান। দেখুন জাদু!

19

কোনটা খাবেন?
নুডলস নাকি পাস্তা?
 
.সকাল কি বিকেল, নাশতায় নুডলস কিংবা পাস্তার কদর কিন্তু একই। প্রস্তুত প্রণালিও কাছাকাছি। বারডেম জেনারেল হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ পুষ্টিবিদ শামসুন্নাহার নাহিদ জানালেন, নুডলস ও পাস্তা—দুটিই উচ্চ প্রোটিন এবং খাদ্য আঁশসমৃদ্ধ খাবার। না ভেজে বরং সেদ্ধ করে খেলে পুষ্টিগুণ বেশি পাওয়া যায়। তাৎক্ষণিক নুডলসের চেয়ে তাই সেদ্ধ করা নুডলস খাওয়া বেশি ভালো। আরও ভালো হয় যদি স্যুপ হিসেবে খাওয়া যায়। তবে এ দুটি খাবারের গুণাগুণ সাধারণত রান্নার ওপর নির্ভর করে। যেমন পাস্তা যদি মাখনের সঙ্গে গ্রেভি করে তৈরি করা হয়, তবে তাতে ক্যালরির পরিমাণ দ্বিগুণের বেশি বেড়ে যায়। অন্যদিকে মাংস ও সবজির সঙ্গে তৈরি করলে পুষ্টিগুণ হবে ভিন্ন ধরনের। ছোটদের জন্য তৈরি করা হলে কিংবা যাদের উচ্চ রক্তচাপ এবং কার্ডিয়াক সমস্যা আছে, তাদের সঙ্গে দেওয়া মসলা পরিহার করতে হবে বলে জানালেন শামসুন্নাহার নাহিদ। এখানে প্রতি ১০০ গ্রাম নুডলস ও পাস্তার গুণাগুণের একটা তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো। সিদ্ধান্ত আপনার।
.খাদ্য উপাদান নুডলস পাস্তা
ক্যালরি ১৩৮ ১৩১
চর্বি ২.১ গ্রাম ১.১ গ্রাম
কোলেস্টেরল ২৯ মিলিগ্রাম ৩৩ মিলিগ্রাম
শর্করা ২৫ গ্রাম ২৫ গ্রাম
প্রোটিন ৪.৫ গ্রাম ৫ গ্রাম
সোডিয়াম ৫ মিলিগ্রাম ৬ মিলিগ্রাম
পটাশিয়াম ৩৮ মিলিগ্রাম ২৪ মিলিগ্রাম
গ্রন্থনা: মেহেদী হাসান
সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ওয়েবসাইট

20
বর্তমানে স্থুলতা বিশ্বব্যাপী একটি সমস্যা। স্থূলতার জন্য চারপাশের দূষিত পরিবেশ, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শৃঙ্খলাবিহীন জীবনযাপন দায়ী।

পুষ্টিবিদদের মতে, ওজন কমানোর জন্য যদি নির্দিষ্ট ডায়েট মেনে চলতে না পারেন, তাহলে কিছু পানীয় পান করে দেখতে পারেন। যা আপনার ওজন কমাতে সহায়তা করবে।

পানি:

ওজন কমানোর জন্য পানি সবচেয়ে উৎকৃষ্ট। যত বেশি পরিমাণে পানি পান করবেন, ততই আপনার ওজন কমবে। সাধারণ পানীয়কে স্বাস্থ্যকর করতে লেবুর রস মিশিয়ে নিতে করতে পারেন। ব্যায়াম শুরুর আগে লেবুর শরবত পান করতে পারেন।এটি আপনার চর্বি ঝরাতে সাহায্য করবে।

শাকসবজির স্যুপ:

প্রচুর পুষ্টিগুণ সম্পন্ন তরল খাবার। আপনার বিপাক প্রক্রিয়া বৃদ্ধি করবে। রাতের খাবারের আগে স্যুপ খেলে শরীরে কম পরিমাণে ক্যালোরি গ্রহণে সহায়তা করে। সবুজ চা: সবুজ চা ওজন কমাতে সহায়তা করে এবং শরীরে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে। ভালো ফলাফলের জন্য প্রতিদিন দুই কাপ সবুজ চা খান। তাছাড়া, সবুজ চা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

শাকসবজির জুস:

স্যুপের মতো শাকসবজির জুসও উপকারী। গ্রীষ্মকালে শাকসবজির জুস এবং শীতকালে স্যুপ খেতে পারেন।

কালো কফি:

আপনার বিপাক প্রক্রিয়া বৃদ্ধি করবে কালো কফি। এটি আপনার দ্রুত ওজন কমাবে এবং শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি করবে। কালো কফির ক্যাফেইন আপনি বিশ্রামে থাকলেও ক্যালোরি কমাবে। খালি পেটে কফি পান করলে আপনার বিপাক প্রক্রিয়ার ক্ষতি সাধন করতে পারে।

পাস্তুরিত দুধ:

চর্বিহীন প্রোটিন, ভিটামিন-ডি এবং ক্যালসিয়াম রয়েছে পাস্তুরিত দুধে। ক্যালোরিবিহীন ভিটামিন এবং হাড় শক্ত করতে এই দুধ পান করতে পারেন।

21
সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জিকা ভাইরাস নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে। এ ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং তাতে ৩০ থেকে ৪০ লাখ লোক আক্রান্ত হতে পারে। এ লেখায় রয়েছে জিকা ভাইরাস নিয়ে কয়েকটি তথ্য। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে এনডিটিভি।

১. জিকা ভাইরাস কী? পশ্চিম গোলার্ধের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এলাকায় একটি ভাইরাস জিকা। যা অনেকটা ডেঙ্গুর মতো হলেও তার চেয়ে হালকা প্রভাব ফেলে দেহে। উগান্ডার বনে ১৯৪৭ সালে এটি আবিষ্কৃত হয়। তবে আফ্রিকা ও এশিয়ায় প্রায়ই এ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে।

২. কিভাবে ভাইরাসটি ছড়ায়? এডিস মশার মাধ্যমে দ্রুত এ ভাইরাসটি ছড়ায়। ভাইরাসটির সংক্রমণ ঘটেছে এমন কোনো রোগীকে এডিস মশা কামড়ানোর মধ্য দিয়ে এর স্থানান্তর হয়। পরে ওই মশাটি অন্য ব্যক্তিদের কামড় দিলে তা ছড়াতে থাকে। এরপর ওই ব্যক্তিদের মাধ্যমেই ভাইরাসটির বিস্তার ঘটতে থাকে।

৩. ভাইরাসটি শিশুর মস্তিষ্কের ক্ষতি করে কিভাবে? গর্ভবতী নারীরা এ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে তা শিশুর মারাত্মক ক্ষতি করে এবং শিশু বিকলাঙ্গ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণেই জিকা ভাইরাস বিশ্বের মনোযোগ টেনেছে। এটির মূল কারণ মাইক্রোসেফালি নামে একটি নিউরোলজিক্যাল ডিসঅর্ডার ও ভাইরাসটির মধ্যে যোগসূত্র। এর কারণে সদ্যজাত শিশুদের মস্তিষ্ক স্বাভাবিক আকারের চেয়ে ছোট হয় । এছাড়া এর কারণে শিশুদের মাঝে বিকাশজনিত সমস্যা দেখা দেয় এবং কখনো কখনো মৃত্যুও হতে পারে।

৪. বিশ্বের কোন কোন দেশে গর্ভবতী নারীদের জন্য এটি বিপজ্জনক? বাংলাদেশে এ রোগটি আক্রমণের সম্ভাবনা কতখানি? বিশ্বের প্রায় দুই ডজন দেশে এ ভাইরাসটির আশঙ্কা রয়েছে। এসব দেশের মধ্যে ক্যারিবিয়ান, মধ্র আমেরিকান ও দক্ষিণ আমেরিকান দেশ উল্লেখযোগ্য। এল সালভাদোর, কলম্বিয়া, হন্ডুরাস, ইকুয়েডরের মত দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলি ২০১৮ সাল পর্যন্ত মহিলাদের সন্তানধারণের পরিকল্পনা বাতিল করতে বলেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘হু’। তারা জানিয়েছে জিকা ভাইরাস ‘বিস্ফোরণের মত ছড়িয়ে পড়ছে।’ ভারতেও এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে সতর্কতা জারি করেছে হু। এ কারণে ভারত থেকে বাংলাদেশেও আক্রমণ হতে পারে জিকা ভাইরাসের।

৫. কিভাবে বুঝব জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছি কি না? সংক্রামিত ব্যক্তিদের শরীরে ভাইরাসটির সামান্য উপসর্গ দেখা যায়। যেমন জ্বর, মাথাব্যথা, র‌্যাশ এবং চোখ গোলাপি রঙ ধারণ করা। প্রকৃতপক্ষে শতকরা ৮০ শতাংশ সংক্রামিত ব্যক্তিই আঁচ করতে পারেন না যে তাদের শরীরে ভাইরাসটি রয়েছে। এসব কারণে ভাইরাসটি নির্ণয় করা কঠিন আর এ সুযোগে ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে আপনার রোগটি হয়েছে বলে সন্দেহ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

৬. আমি গর্ভবতী এবং জিকা ভাইরাস আক্রান্ত দেশে ভ্রমণ করেছি। এখন কী করা উচিত? গর্ভবতী নারী এবং জিকা ভাইরাস আক্রান্ত দেশে ভ্রমণ করলে আপনার রক্ত পরীক্ষা করতে হবে। এক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষাও করতে হবে। চিকিৎসক আপনার দেহের লক্ষণ মিলিয়ে জিকা ভাইরাস হয়েছে কি না, তা জানাবেন।

৭. গর্ভাবস্থার কোন পর্যায়ে জিকা ভাইরাস বেশি বিপজ্জনক? চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে যদি জিকা ভাইরাস আক্রমণ করে তাহলে তা বেশি বিপজ্জনক। এ সময় ভাইরাসটি গর্ভস্থ শিশুর দেহে আক্রমণ করে এবং শিশু বিকলাঙ্গ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

৮. জিকা ভাইরাস আক্রান্ত হলে শিশুরও পরীক্ষা করতে হবে কি? জিকা ভাইরাস আক্রান্ত হলে শিশুরও পরীক্ষা করতে হতে পারে। তবে এক্ষেত্রে মায়ের যদি জিকা ভাইরাস আক্রান্ত দেশগুলোতে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা থাকে কিংবা অন্য কোনোভাবে জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তবে শুধু তা হলেই শিশুর পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে।

৯. জিকা ভাইরাসের কোনো চিকিৎসা আছে কি? না। জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে কোনো চিকিৎসা নেই। তবে এ রোগটি সাধারণ মানুষের তেমন ক্ষতি করে না। কয়েক দিন বিশ্রাম করলেই তা সেরে যায়। শুধু গর্ভবতী নারীদের আক্রান্ত হলেই শিশুর মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।

১০. এর কী কোনো টিকা রয়েছে? না। এখনও জিকা ভাইরাসের টিকা আবিষ্কৃত হয়নি। তবে এটি বানানোর চেষ্টা করছেন গবেষকরা। এটি হাতে আসতে এক দশক সময় লাগতে পারে। ১১. আগেই ভাইরাসটি শনাক্ত হলেও কেন তা প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি? অতীতে জিকা ভাইরাস আক্রান্তদের তেমন কোনো ক্ষতিকর প্রভাব পাওয়া যায়নি। তাই ভাইরাসটির প্রতিরোধক ওষুধ তৈরি করা হয়নি। এছাড়া ভাইরাসটিকে তেমন ক্ষতিকর মনে না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে টিকাও আবিষ্কৃত হয়নি। বর্তমানে এ ভাইরাসের ক্ষতিকর দিক জানতে পারার পর এ ভাইরাসটি প্রতিরোধে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

22


চা বলতে সচরাচর সুগন্ধযুক্ত ও স্বাদবিশিষ্ট এক ধরণের ঊষ্ণ পানীয়কে বোঝায়, যা চা পাতা পানিতে ফুটিয়ে বা গরম পানিতে ভিজিয়ে তৈরী করা হয়। দৈনন্দিন জীবনে চা পান করেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। ঘরে বা বাইরে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ কাপ চা তৈরি হয়। ফেলে দেয়া হয় মণ কে মণ চা পাতা।

কিন্তু এই অকাজের চা পাতাও কিন্তু অনেক কাজে ব্যবহার করা যায়। ঘরে যদি টি ব্যাগ ব্যবহার করে থাকেন তাহলে চা বানানোর পর সেই টি ব্যাগ ফেলে না দিয়ে রেখে দিন। আসুন জেনে নিন এই রেখে দেওয়া চা পাতা দিয়ে আপনি কি কি করতে পারেন:

খাবারের স্বাদ বৃদ্ধি করতে:
রান্না খাবারের স্বাদ বৃদ্ধি করতে চা পাতা একটা চমৎকার উপাদান। ওভেনে মুরগী বা গরু রোস্ট করতে চাইলে মেরিনেশনে দিন চমৎকার সুগন্ধ যুক্ত কোনও চায়ের লিকার। আপনার পছন্দ মতন যে কোনও চায়ের ব্যবহার চলতে পারে। এছাড়াও জেসমিন টি আস্তই দিতে পারেন মেরিনেশনে। মাংসের স্বাদ বাড়াতে চা খুব চমৎকার একটা উপাদান।

পরিষ্কারক হিসেবে:
পরিষ্কার করতে চান ঘোলাটে বা ময়লা আয়না? একটা ব্যবহার হয়ে যাওয়া টি ব্যাগ ভালো করে ঘষুন আয়নায়। তারপর ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে নিন। কাঠের আসবাব থেকে ফাঙ্গাসের আক্রমণ কমাতে চায়ের লিকারের সাথে ভিনেগার মিশিয়ে আক্রান্ত স্থান মুছুন।

ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে:
চুলের উজ্জ্বলতা বাড়াতে শ্যাম্পুর মতো করে গ্রিন টি লাগাতে পারেন চুলে। অথবা ব্ল্যাক টি। গ্রিন টি চুলের বৃদ্ধি ঘটাবে আর ব্ল্যাক টি চুল পড়ে যাওয়া ঠেকাবে। চা মাখানোর ১৫ মিনিট পর শ্যাম্পু দিয়ে চুল ভালোমতো ধুয়ে ফেলুন।

পায়ের দুর্গন্ধ দূর করতে:
যাদের পায়ে মোজা পরলে দুর্গন্ধ তৈরি হয় তারা চা পাতার সাহায্য নিতে পারেন। এক হাড়ি পানিতে এক চা চামচ ব্ল্যাক টি দিয়ে ভালো মতো সেদ্ধ করুন। তারপর সেই পানি দিয়ে পা মুছে নিন। দূর্গন্ধ দৌড়ে পালাবে।

গাছপালার পরিচর্যায়:
গাছপালায় অনেক পোকামাকড়ের সমস্যা? ব্যবহৃত চা পাতা ধুয়ে গাছের গোঁড়ায় দিয়ে রাখুন। পোকামাকড় দূরে থাকবে, আবার গাছের সার হিসাবেও কাজ করবে।-সূত্র: লাইফ হ্যাকারি।

23
বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি নিয়ে বানানো হলিউড চলচ্চিত্র দ্য মার্সিয়ান-এ এক নভোচারীকে মঙ্গল গ্রহে আলু চাষ করতে দেখা যায়। বাস্তবে এখনো মঙ্গল গ্রহে সম্ভব না হলেও মহাকাশে গাছ লাগিয়ে ফুল ফুটিয়েছেন নাসার নভোচারীরা। খবর টেলিগ্রাফের।
মহাকাশে স্থাপন করা গবেষণা ও পর্যবেক্ষণ স্থাপনা আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে (আইএসএস) অবস্থানরত নভোচারী স্কট কেলি তাঁর টুইটার অ্যাকাউন্টে রোববার একটি জিনিয়া ফুলের ছবি পোস্ট করেছেন। কেলি বলেছেন, এটিই মহাকাশে প্রথম ফোটা ফুল।
২০১৪ সালে আইএসএসে পরীক্ষামূলকভাবে তৃণলতা লাগানোর প্রকল্প চালু করা হয়। প্রকল্পটির প্রধান গিয়োইয়া মাসা এক বিবৃতিতে বলেছেন, এটি তাঁদের জন্য বড় ধরনের সাফল্য। এর মাধ্যমে পৃথিবী ও মহাশূন্যে তৃণলতার বেড়ে ওঠার মধ্যে কী ধরনের ফারাক তা বোঝা অনেক সহজ হবে। ভবিষ্যৎ গবেষণার জন্য তা আরও সহায়ক হবে। নাসা জানিয়েছে, এই প্রকল্পের আওতায় আইএসএসে লেটুস পাতা, জিনিয়াসহ বেশ কয়েক প্রজাতির গাছ লাগিয়ে পরিচর্যা করা হচ্ছে এবং এগুলোর বেড়ে ওঠা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

24
আমাদের দেহকে পরিচালনার জন্য হৃৎপিণ্ডের সুস্থতার প্রয়োজনীয়তা আমরা সবাই জানি। যত সময় যাচ্ছে, ততই পৃথিবীর আবহাওয়া ও পরিবেশ আমাদের বসবাসের জন্য প্রতিকূল হয়ে উঠছে। এর মধ্যেই আমাদের নিজেদের সুস্থ রাখার জন্য চেষ্টা করে যেতে হবে।

আমাদের প্রত্যেকেরই দরকার আমাদের হৃৎপিণ্ডের সুস্থতায় যতটা নিয়ম মেনে চলা সম্ভব মেনে চলা। আমরা অনেকেই জানি না যে নিয়মিত জীবন যাপনের রুটিনে কিছু কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস যোগ করলেই আমাদের হৃৎপিণ্ডকে সুস্থ ও স্বাভাবিক কর্মক্ষম রাখতে পারি। আসুন দেখে নেই ৭টি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস যার মাধ্যমে আমাদের হৃৎপিণ্ডকে রোগমুক্ত রাখতে পারব।

নিয়মিত হাঁটুন:
আমাদের ব্যস্ত জীবনে আমরা অনেকেই হাঁটার সময় পাই না অথবা আলসেমি করে হাঁটতে যাই না। কিন্তু আমরা জানি না এতে করে আমরা নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি করে চলেছি প্রতিদিন। হাঁটার মাধ্যমে হৃৎপিণ্ডের কর্মক্ষমতা বাড়ে। কারণ হাঁটলে পুরো দেহে রক্ত ও অক্সিজেনের সঞ্চালন ভালো মত হয়। ডাক্তাররা সবাইকে দিনে অন্তত ২০-৩০ মিনিট হাঁটার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

সকালে কিংবা বিকেলে হাঁটতে পারেন। যদি হাঁটার সময় না পান তবে অফিস থেকে বাসায় ফেরার পরে খানিকটা হেঁটে নিন। অথবা ফোনে কথা বলার সময় হাঁটুন। হাঁটাকে অভ্যাসে পরিনত করলে হৃৎপিণ্ড থাকবে রোগমুক্ত।

খাবার তালিকার প্রতি লক্ষ্য রাখুন:
শরীর সুস্থ আছে কিংবা আপনি ক্ষীণ দেহের অধিকারী দেখে ভেবে বসবেন না অস্বাস্থ্যকর তেল, মশলা, ফাস্ট ফুড জাতীয় খাবার আপনি বিনা দ্বিধায় খেতে পারবেন। যদি হৃৎপিণ্ডকে সুস্থ ও সবল রাখতে চান তবে অবশ্যই তেল, মশলা, ফাস্ট ফুড জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলার চেষ্টা করবেন। এতে করে আপনি কার্ডিওভাস্কুলার রোগ সমূহ থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন।

অতিরিক্ত মানসিক চাপ নেয়া থেকে বিরত থাকুন:
ব্যস্ত জীবনে নানান কারনে মানসিক চাপ আসতেই পারে। কিন্তু এই জন্য মাত্রাতিরিক্ত চিন্তা করে নিজেকে অসুস্থ করে ফেললে চলবে না। আপনি মানসিক চাপ নিলে আপনার ব্রেইনের পাশাপাশি হার্টের ওপর চাপ পড়ে।

নার্ভ সিস্টেমে চাপ পড়ে। কর্টিসোল লেভেল বাড়ে ফলে হার্ট অ্যাটাক এর সম্ভাবনা বেড়ে যায়। সমস্যা নিয়ে পড়ে থেকে চিন্তা করলে সমাধান হয় না। মাথা ঠাণ্ডা ও মানসিক চাপ মুক্ত রেখে সমাধানের চিন্তা করুন। সুস্থ থাকবেন।

ধূমপান ও মদ্যপান কে না বলুন:
ধূমপান ও মধ্যপান উভয়েই হার্টের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। হৃৎপিণ্ডকে স্বাভাবিক কার্যক্রমে রাখতে চাইলে ধূমপান ও মদ্যপান এখনই ত্যাগ করুন। ধূমপান ও মদ্যপান উভয়ের মাধ্যমে দেহে কোলেস্টেরল বাড়ে। হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।

বাদাম খান:
বাদামে রয়েছে হাই ডেনসিটি লিপ্রোপ্রোটিন যা হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্ব পূর্ণ। হার্টের রোগীদের ডাক্তাররা নিয়মিত পরিমিত বাদাম খাওয়ার পরামর্শ দেন। হৃৎপিণ্ডকে সুস্থ রাখতে প্রতিদিন বাদাম খান।

পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমান:
ব্যস্ত জীবনে অফিস কিংবা নানা কাজে রাতে ঘুমানো হয় অনেক কম। দিনের বেলা ঘুম আসার তো কোন প্রশ্নই উঠে না। কিন্তু পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম না হলেও যে হৃৎপিণ্ডের ক্ষতি হয় তা আমরা অনেকেই জানি না।

ঘুমের সাথে উচ্চরক্ত চাপের যোগ রয়েছে। পর্যাপ্ত না ঘুমালে উচ্চ রক্তচাপ রোগে পড়তে পারেন সহজেই। একজন পূর্ণ বয়স্ক হিসেবে দিনে ৬/৭ ঘণ্টা অবশ্যই ঘুমাবেন। হার্ট ভালো থাকবে। দেহও নীরোগ রাখতে পারবেন।

নিয়মিত চেকআপ করান:
আমরা অনেক সময়েই নিয়মিত চেকআপ করার প্রয়োজন বোধ করি না। সুস্থ আছি কিংবা সামান্য কারনে ডাক্তারের কাছে যাওয়া লাগবে না এই ভেবে চেকআপ করাই না। কিন্তু এতে কিন্তু সমস্যা বেড়ে যেতে পারে।

হয়তো ছোটোখাটো কিছুর জন্য আমরা ডাক্তারের কাছে গেলাম না যা সামান্য চিকিৎসায় ভালো হতে পারতো। পরবর্তীতে বড় সমস্যা ধরা পড়লে অনেক সম্য ডাক্তারদের কিছুই করার থাকে না। সুতরাং অবহেলা করবেন না। নিয়মিত চেকআপ করবেন সুস্থ থাকতেও।

25

ওজন কমাতে নিয়ম মেনে পরিমাণমতো ভাত খেতে পারেন। মডেল: দয়িতা। ছবি: খালেদ সরকারধোঁয়া ওঠা এক প্লেট ভাত নিমেষেই মন ভালো করে দেয় ভেতো বাঙালির। তিন বেলা খাবারের দুই বেলাতে অনেকে ভাত খেতে পছন্দ করেন। কিন্তু ওজন বেড়ে যাওয়ায় ইদানীং উপেক্ষা করছেন এই খাবারটিকে। কিন্তু ওজন তো কমে না। কী দরকার ভাত খাওয়া বন্ধ করার? ভাত খেয়েও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। এই বিষয়ে পরামর্শ দিলেন ঢাকার বারডেম জেনারেল হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ আখতারুন্নাহার আলো।
আখতারুন্নাহার বলেন, ‘ওজন কমানোর জন্য শুরুতেই আমরা ভাতটাকে বাদ দিয়ে দিই। কিন্তু ভাত খাওয়া তো আমাদের অনেক দিনের অভ্যাস। তার জন্য মন টানবেই। দুপুরে আমরা ভাত না খেয়ে এটা-ওটা নানা জিনিস খেয়ে পেট ভরাই। কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে সেই খাবারগুলোতে অতিরিক্ত তেল থাকে, তাই ওজন কমার বিপরীতে বেড়ে যেতে পারে।’ তাঁর মতে, পরিমাণমতো ভাত দুপুরে ও রাতে খেয়ে নিলে পেটের সঙ্গে সঙ্গে মনও ভরবে। ভাজাপোড়া-জাতীয় খাবারের দিকে আকর্ষণ থাকবে না। থাকবে না ওজন বাড়ার আশঙ্কাও।
সকাল-দুপুর-রাত—তিন বেলা না হোক, দুই বেলা তো ভাত আমরা খেতেই পারি। অবশ্যই তা নিয়ম মেনে। দুই বেলা ভাত খেয়েও কীভাবে আমরা আমাদের ওজনটাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারব, তা নিয়ে নানা পরামর্শ দিয়েছেন আখতারুন্নাহার। প্রথমেই ভাতটাকে একটা মাপের মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। সেটা হতে পারে এক কাপ কিংবা দেড় কাপ। যেটুকু ভাত খাবেন, ঠিক সমপরিমাণ কাঁচা সবজির সালাদ খেতে হবে। এই সালাদে থাকতে পারে শসা, টমেটো, বাঁধাকপি, গাজর ইত্যাদি। খুব সামান্য লবণ। মনে রাখতে হবে, সালাদে তেল দেওয়া যাবে না। আরেকটা কথা মাথায় রাখতে হবে, আমরা ভাত দিয়ে তরকারি খাব না, তরকারি দিয়ে ভাত খাব। সেই হিসাবে খাওয়ার শুরুতে যদি আমরা পাতে ভাত নেওয়ার বদলে তরকারি নিই, সেটা হবে একটা ভালো উদ্যোগ। সালাদ কিংবা সবজির তরকারি বেশি করে নিয়ে পরে ধীরে ধীরে প্লেটে ভাত তুললাম। কিন্তু সেটাও খুব অল্প করে। এতে দেখবেন ভাত খাওয়ার পরিমাণ কমে গেছে অনেকখানি। ভাতের সঙ্গে খেতে হবে ডাল। মাছ বা মাংস—যেকোনো একটা খাওয়া যায়। সালাদ, ডাল ইত্যাদি আপনার ভাত খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে দেবে। খেতে বসে অজান্তে বেশি যেন খেয়ে না ফেলেন, সেটা নিয়ন্ত্রণ করবে।
মনে রাখতে হবে, ভাত যদি খেতেই হয়, তবে রাইস কুকারে রান্না করা ভাত বা বসাভাত খাওয়া যাবে না মোটেও। বাদ দিতে হবে ভাতের সঙ্গে কোনো আলুভর্তা বা আলুর তরকারি। এর বদলে তাজা সবজি ও শাক খেতে হবে বেশি পরিমাণে। একটা কাজ ইচ্ছা করলেই করতে পারেন আপনি, তা হলো ভাতের টেবিলে বসেই পান করে নিন এক গ্লাস পানি। এরপর এক বাটি সালাদ। দেখবেন, ভাতের খিদেটা কমে গেছে।
প্লেটভর্তি ভাতের বদলে এক চামচ ভাতই তখন মনোযোগ পাবে আপনার। আবার নিজেকে দুই কাপ ভাত থেকে দেড় কাপ এবং এরপর এক কাপ, এ রকম গণ্ডির মধ্যে বেঁধে ফেললে দেখবেন, ওজন আর বাড়ছে না। ওজন কমানোর জন্য ‘আমি তো ভাত খাই না’, তারপরও এমন মোটা হচ্ছি কেন? এমন প্রশ্ন যাঁরা করেন, তাঁরা একটু ভেবে দেখুন তো, ভাত বন্ধ করলেও প্রক্রিয়াজাত কিংবা তেলে ভাজা খাবার কি বন্ধ করেছেন আপনি? ডায়েটে ভাত বন্ধ নয়, বন্ধ করলে করতে হবে প্রক্রিয়াজাত-তেলে ভাজা খাবার ও কোমল পানীয়। দেখবেন, শরীরের স্থূলভাব কমে যাবে এমনিতেই।
আর যারা আমরা নিয়মিত পরিমাণমতো ভাত খাচ্ছি, তারা মনে রাখব, খাওয়ার পরপরই বিছানায় যাওয়া যাবে না। হোক সেটা দুপুরের ছোট্ট তন্দ্রা। দুপুর ও রাতে ভাত খাওয়ার আধা ঘণ্টা পর ২০ থেকে ৩০ মিনিট হাঁটাহাঁটি করে নিতে হবে।
খাবারের চেয়ে ব্যায়াম এবং শারীরিক পরিশ্রম দ্রুত ওজন কমাতে সাহায্য করে। তাই সচেতন হওয়া যায় সেদিক থেকেও। আমরা আমাদের পছন্দমতো ভাত খেলাম ঠিকই, কিন্তু যেটুকু জায়গায় রিকশার বদলে হেঁটে যাওয়া যায়, সেখানে হেঁটে গেলে এবং টুকটাক ঘরের কাজ শরীরের বাড়তি মেদ ঝরাতে সাহায্য করবে।

26

এক কম্পিউটার থেকে আরেক কম্পিউটারে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানের একটি মাধ্যম পেনড্রাইভ। অনেক সময় পেনড্রাইভে থাকা জায়গার পরিমাণ সঠিক দেখায় না। অর্থাৎ পেনড্রাইভের ধারণক্ষমতা হয়তো ৮ গিগাবাইট, কিন্তু দেখাচ্ছে ৭.৭৫ বা ৭.৭৯ গিগাবাইট। অপারেটিং সিস্টেম, পেনড্রাইভ কোন ফাইল সিস্টেমে রয়েছে এবং সিস্টেম মেমোরির ওপর নির্ভর করে এমনটা হয়ে থাকে।
তবে বুটিস নামের ছোট্ট একটি প্রোগ্রাম পেনড্রাইভের পার্টিশনগুলোকে এক করে সঠিক আকার নির্ধারণ করতে সহায়তা করে। এটি http://goo.gl/NMbguu ওয়েব ঠিকানা থেকে নামিয়ে নিন।
যেভাবে কাজটি করবেন
প্রোগ্রামটি বহনযোগ্য (পোর্টেবল) হওয়ায় ইনস্টল করার ঝামেলা নেই। তাই নামিয়ে নিয়ে দুই ক্লিকে চালু করুন। কম্পিউটারের ইউএসবি পোর্টে পেনড্রাইভ লাগিয়ে নিন। পেনড্রাইভে দরকারি কোনো ফাইল থাকলে আগেই অন্য কোথাও সরিয়ে নিন। বুটিসের Physical Disk ট্যাবের Destination Disk-এর নিচের তালিকা থেকে আপনার পেনড্রাইভ দেখিয়ে দিন। কাজটি সাবধানে করুন। কারণ, ভুলে হার্ডডিস্ক সিলেক্ট হয়ে গেলে সমস্যা হতে পারে।
এবার নিচের Parts Manage বোতাম চাপুন। এখানে পেনড্রাইভের সব পার্টিশন দেখাবে। এখানে শুরুর পার্টিশন নির্বাচন করে নিচের Re-Partitioning বোতামে আবার ক্লিক করুন। Removable disk repartitioning ডায়ালগ বক্স চালু হলে এখানের Disk Mode এর USB-HDD mode (Single Partition) নির্বাচন করুন। File system এ FAT 32 নির্বাচন করুন। Vol Label এর ঘরে যেকোনো নাম দিন। Start LBA ঘরে 1 লিখে Reserved Secs ঘরে 32 লিখে এবার ওকে করুন।
এবার রি-পার্টিশন এবং সব পার্টিশনের তথ্য (ডেটা মুছে ফেলার আগে একটি সতর্কতামূলক বার্তা আসবে। এখানে OK করুন। কিছুক্ষণ পর Congratulations! Formatting was successful! বার্তা দেখিয়ে কাজটি সম্পন্ন হবে। এখানে OK চেপে কম্পিউটারে গিয়ে পেনড্রাইভের জায়গা দেখুন। পেনড্রাইভের অতিরিক্ত জায়গা মুছে গিয়ে সঠিক আকার পাবেন। জায়গা না বাড়লে বুঝতে হবে এটি সিস্টেম মেমোরিতে রয়ে গেছে বা নির্মাতা এটুকু জায়গাই বরাদ্দ রেখেছে।

27


আমরা অনেক সময়েই খাবার কয়েকদিনের জন্য রান্না করি এবং পরে সেটা গরম করে খাই। আবার অনেক সময় দেখা যায় রান্না করা খাবার খাওয়ার পর যদি থেকে যায় সেটা ফ্রিজে রেখে দেয়া হয় পরে গরম করে খাওয়ার জন্য যেন খাবার অপচয় না হয়। এতে কিছু খাবারের কার্যকারিতা পরিবর্তন হয়ে যায় এবং খাবারের পুষ্টিগুণ হারায় এবং অনেক সময় অনেক খাবার বিষাক্তও হয়ে যায়। যদিও সব ধরনের খাবারে এই ঝুঁকি না থাকে না কিছু খাবারে এমন ঝুঁকি থাকে যে খাবার গুলো পুনরায় গরম করে খেলে পুরো পরিবারই স্বাস্থ্য ঝুঁকির মাঝে পড়তে পারে।
যেসব খাবারগুলো পুনরায় গরম করে খেলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে সেগুলো এখানে উল্লেখ করা হলো-
মুরগি
পুনরায় গরম করে খাওয়া খাবারের মাঝে মুরগি হচ্ছে সবচেয়ে প্রচলিত। কম বেশি আমরা সকলেই এটা করি। তবে জেনে অবাক হবেন যে এটাই সবচেয়ে বিপদজনক। পুনরায় গরম করলে এতে থাকা উচ্চ মাত্রার প্রোটিনের কার্যকারিতার পরিবর্তন হয় এবং তা অনেক সময় হজমের সমস্যা সৃষ্টি করে। তাই মুরগি রান্নার পর কখনো পুনরায় সেটা উচ্চ তাপমাত্রায় গরম করা উচিত নয় কারন এতে অন্য যেকোনো মাংসের চেয়ে বেশি প্রোটিন থাকে। তাই সবচেয়ে ভালো হয় যদি খেতেই হয় গরম না করে খাওয়া, ফ্রিজে থাকলে খাওয়ার বেশ কিছুক্ষণ আগে বের করে রাখলে তা যখন স্বাভাবিক তাপমত্রায় আসবে তখন খেতে পারেন। আর যদি গরম করতেই হয় খুব কম তাপমাত্রায় একটু সময় নিয়ে গরম করুন।
ডিম
ডিম হচ্ছে এমন একটি খাবার যা উচ্চ তাপের সংস্পর্শে এলে বিষাক্ত হয়ে যায়। তাই স্ক্র্যাম্বল এগ বা সেদ্ধ ডিম পুনরায় গরম করা কখনই উচিত নয়। কারন তা খেলে আমাদের হঠাৎ করেই পেট খারাপ হতে পারে।
আলু
উচ্চ পুষ্টিগুণ সম্পন্ন এই সবজিটি আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ভালো। কিন্তু এটি যখন পুনরায় গরম করা হয় তখন আলুর বেশির ভাগ পুষ্টিগুণ হারানোর সাথে সাথে বিষাক্ত হয়ে উঠে।তাই রান্নার সাথে সাথেই আলু খেতে হবে বা পরে খেলে তা ঠাণ্ডা অবস্থায় খেতে হবে তাহলেই এর শর্করা প্রতিরোধক গুনাগুন জন্য দীর্ঘস্থায়ী পরিতৃপ্তি লাভ করা সম্ভব হবে। আলু দিয়ে কোন কিছু যদি কয়েকদিনের জন্য রান্না করা হয় তাহলে চেষ্টা করুন আলু পরে যোগ করার।
মাশরুম
মাশরুম দিয়ে কিছু রান্না করলে সাথে সাথেই খেয়ে শেষ করে ফেলতে হবে আর যদি কিছু থেকেই যায় পরে খেতে হলে ভালো হয় ঠাণ্ডা অবস্থায় খাওয়া। এটিও যদি পুনরায় গরম করা হয় তাহলে মুরগির মতো প্রোটিনের কার্যকারিতার পরিবর্তন হয় এবং অনেক সময় স্বাদেরও পরিবর্তন আসে। তখন এটি বিভিন্ন ধরনের হজমের সমস্যার সৃষ্টি করে সেই সাথে স্বাস্থ্য উপকারিতাও হারায়।
পালং শাক
পালং শাকও পুনরায় গরম করা বিপদজনক। উচ্চ মাত্রার নাইট্রেট সমৃদ্ধ পালং শাক রান্নার পর পুনরায় যখন গরম করা হয় তখন তা পুরোপুরি নাইট্রেটে পরিনত হয় যা খেলে দেহে ক্যান্সার সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে। তাই পালং শাক খেলে তাজা এবং রান্নার সাথে সাথেই খেয়ে ফেলতে হবে।
বিট
এই সবজিটিতেও রয়েছে পালং শাকের মতো নাইট্রেট যা পুনরায় গরম করা অত্যন্ত বিপদজনক। তবে এর মানে এই না যে পরের দিন এটা আর খাওয়া যাবে না শুধু মাত্র গরম না করে খেলেই হবে।
সেলারি/ধনেপাতা
এটিও রান্নার পর পুনরায় আর গরম করা উচিত নয় কারন এতে থাকা নাইট্রেটের শতকরা হারের জন্য। তবে যেহেতু স্যুপ বা এই ধরনের রান্নাতেই সাধারণত সেলারি ব্যবহার করা হয় তাই যদি পরে গরম করতেই হয় তাহলে সেই রান্না করা খাবার গুলো থেকে সেলারি ফেলে দিয়ে পুনরায় গরম করে খেতে পারেন।
শালগম
উচ্চ মাত্রার নাইট্রেট থাকে শালগমেও। তাই এটিও পুনরায় গরম করা উচিত নয়, পরে খেতে হলে ঠাণ্ডা খাওয়াই উত্তম।
তাই এখন থেকে যেকোনো খাবার সংরক্ষনের উদ্দেশে রান্না করে ফ্রিজে রাখার সময় এবং তা পুনরায় গরম করার সময় একবার ভেবে নেবেন। আর যদি এখানে উল্লেখিত খাবার গুলো তার মাঝে রয়েই যায় তাহলে হজমের সমস্যা থেকে মুক্ত থাকতে পুনরায় গরম না করেই খেতে হবে।
লেখিকা
শওকত আরা সাঈদা(লোপা)
জনস্বাস্থ্য পুষ্টিবিদ
এক্স ডায়েটিশিয়ান,পারসোনা হেল্থ
খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান(স্নাতকোত্তর)(এমপিএইচ)
সূত্রঃ প্রিয় লাইফ ও নিউট্রি লাভার

28
“হার্ট নিয়ে ২৫টি ভ্রান্ত-বিশ্বাস”
আসুন আমরা দূর করি হার্টের স্বাস্থ্য নিয়ে কিছু ভুল ধারণা।
1. মিথ্যাঃ হার্টে সমস্যা থাকলে ব্যায়াম করা উচিত নয়।
সত্যিঃ বরং ব্যায়াম দ্বিতীয় অ্যাটাক এর সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়।
2. মিথ্যাঃ ৪০ এর আগে কোলেস্টেরল বেশী হওয়ার কোন সম্ভাবনাই নেই।
সত্যিঃ কোলেস্টেরল বৃদ্ধি খাদ্যাভাস এর সঙ্গে যথেষ্ট সম্পর্ক যুক্ত। খাদ্যাভাস ঠিক না থাকলে কম বয়সেই আপনার কোলেস্টেরল বাড়তে পারে।
3. মিথ্যাঃ চিকন লোকদের কোলেস্টেরল থাকেনা।
সত্যিঃ যদিও কম তেল-চর্বি খেলে মোটা হওয়ার ও কোলেস্টেরল বাড়ার সম্ভাবনা বেশী। কিন্তু বংশগত কারণে চিকন লোকদেরও কোলেস্টেরল থাকতে পারে। সুতরাং বংশে ইতিহাস থাকলে আপনার কোলেস্টেরল টাও নিয়মিত পরীক্ষা করবেন।
4. মিথ্যাঃ যদি আপনি কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধ খান, তাহলে আপনি যা খুশী খেতে পারেন।
সত্যিঃ শরীরে কোলেস্টেরল এর উৎস দুটি-১) আমাদের লিভার যা তৈরী করে ২) আমরা যা খাদ্য হিসেবে খাই। কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধ শুধু লিভার এ কোলেস্টেরল তৈরী হওয়াকে নিয়ন্ত্রন করে। আপনি যদি খাদ্যের সঙ্গে কোলেস্টেরল গ্রহণ করতে থাকেন, ওষুধ ও তখন আর ঠিকভাবে কাজ করবে না।
5. মিথ্যাঃ আমার যদি কোলেস্টেরল বা প্রেশার বেশী থাকতো আমি নিজেই টের পেতাম। তাই শুধু শুধু মাপানোর প্রয়োজন নেই।
সত্যিঃ কোলেস্টেরল বা প্রেশার কে বলা হয় “সাইলেন্ট কিলার” বা নীরব ঘাতক। কারণ এদের কোন বাহ্যিক লক্ষন থাকেনা।
6. মিথ্যাঃ বৃদ্ধ বয়সে প্রেশার একটু বেশী থাকা স্বাভাবিক। এতে হার্ট নিয়ে চিন্তার কিছু নেই।
সত্যিঃ হ্যা, এটা সত্যি যে বৃদ্ধ বয়সে প্রেশার একটু বেশী ই থাকে। বয়সের সাথে সাথে রক্তনালীর দেয়াল গুলো শক্ত হয়ে চাপা হয়ে গেলে, রক্ত তখন রক্ত নালীর দেয়ালে বেশী চাপ প্রয়োগ করে, ফলে প্রেশার বেড়ে যায়। হার্ট কে তখন এই নালীর ভিতর দিয়ে রক্ত পাঠাতে আরো বেশী জোরে পাম্প করতে হয়। ফলে হার্ট দূর্বল হয়ে পরে।
7. মিথ্যাঃ ডায়বেটিস এর সঙ্গে হার্টের রোগের সম্পর্ক নেই।
সত্যিঃ ডায়বেটিস রোগীদের হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুকি সাধারণের থেকে ২-৪ গুন বেশী।
8. মিথ্যাঃ ডায়বেটিস থাকলে, ঠিকমতো ডায়বেটিসের ওষুধ খেলে হার্ট নিয়ে আর চিন্তার কিছু নেই।
সত্যিঃ সুগার বেশী থাকলে তা যদি ওষুধ খেয়ে নিয়ন্ত্রন করা যায় তা তাহলে চিকন রক্ত নালীর গুলোর জন্য ভালো সংবাদ। সুগার নিয়ন্ত্রনে থাকলে তাই হাই সুগার থেকে যেসব কিডনী বা চোখের রোগ হয়, তা নিয়ে ভয়ের কিছু নেই। কিন্তু বড় রক্তনালী গুলোর (যে গুলো হার্টের সঙ্গে যুক্ত) সুগারের চাইতে ব্লাড প্রেশার ও কোলেস্টেরল এর সাথে বেশী সম্পর্কযুক্ত। তাই ব্লাড প্রেশার ও কোলেস্টেরল ঠিক না থাকলে, শুধু সুগার নিয়ন্ত্রন করেই হার্টের রোগের ব্যাপারে নিশ্চিন্ত হওয়া যাবেনা।
9. মিথ্যাঃ ধূমপান করলে ক্যান্সার হয়, হার্টের রোগ নয়।
সত্যিঃ ধূমপায়ীদের হার্ট অ্যাটাক এর লক্ষন অধূমপায়ীদের ত্তুলনায় দ্বিগুন। ধূমপান রক্ত নালী সরুকরণে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখে।
10. মিথ্যাঃ অনেক বছর ধরে ধূমপান করলে ধূমপান ছাড়লে হার্টের আর কোন উন্নতি হবেন, তাই ছেড়ে লাভ নেই।
সত্যিঃ ধূমপান ছাড়ার এক বছরের মধ্যে হার্ট অ্যাটাক এর ঝুকি ৫০% কমে যায়। পনের বছর পরে এই ঝুকি অধূমপায়ীর সমান হয়ে যায়।
11. মিথ্যাঃ হার্টের রোগ শুধু পুরুষদেরই হয়।
সত্যিঃ ৬৫ এর উপর বয়সে হার্ট অ্যাটাক এর ঝুকি নারী ও পুরুষের প্রায় সমান।
12. মিথ্যাঃ কম বয়সী মহিলাদের হার্টের অ্যাটাক হয়না।
সত্যিঃ আপনি যদি স্থুলকায়া হন, ডায়বেটিস বা প্রেশারের রুগী হন, কম বয়সেও আপনার হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।
13. মিথ্যাঃ হার্ট এর রোগের লক্ষন নারী-পুরুষের ক্ষেত্রে একই রকম।
সত্যিঃ হার্টে সমস্যা থাকলে পুরুষেরা সাধারণত বুকে ব্যথা অনুভব করেন আর নারীরা অনুভব করেন ক্লান্তি, দূর্বলতা, ঘুমের সমস্যা ও শ্বাসকষ্ট।
14. মিথ্যাঃ হার্টের রোগ হলে তেল যত কম সম্ভব খাওয়া উচিত, পারলে না খাওয়া উচিত।
সত্যিঃ এটা সত্যি যে হার্টের রোগে স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ট্রান্স ফ্যাট যত কম সম্ভব খাওয়া উচিত। কিন্তু অন্য তেল যেমন ভেজিটেবল ওয়েল বা ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড যুক্ত মাছের তেল বরং উপকারী। গবেষনায় দেখা গিয়েছে যে, সপ্তাহে দুবার স্যামন মাছ খেলে হার্ট অ্যাটাক এর ঝুকি কমে।
15. মিথ্যাঃ মাইল্ড হার্ট অ্যাটাক হলে চিন্তার কিছু নয়। এতে কোন বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজন নেই।
সত্যিঃ এটি আসলে হতে পারে আপনার আসল হার্ট অ্যাটাক এর পূর্বলক্ষন। সুতরাং সতর্ক হন।
16. মিথ্যাঃ এঞ্জিওপ্লাস্ট করালে হার্ট ভালো হয়ে যায়।
সত্যিঃ এটি কোন ধরণের চিকিৎসা নয়, হার্টে ব্লক আছে কিনা তা দেখার একটা পরীক্ষা মাত্র।
17. মিথ্যাঃ রিং পরালে অথবা বাইপাস করালে হার্ট ভালো হয়ে যায়।
সত্যিঃ এসব প্রকৃয়ার হার্টের অপসারন যোগ্য ব্লক গুলো ছুটানো হয়। অনেক সময় ই অনেক ব্লক থাকলে বড় গুলো সারিয়ে ছোট গুলো রেখে দেওয়া হয়। যদি জীবন যাত্রায় পরিবর্তন না আনেন (যেমন, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, ব্যায়াম করা, ধূমপান ত্যাগ করা ইত্যাদি), তাহলে আবার ব্লক হতে পারে।
18. মিথ্যাঃ ব্লকের ফলে প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়া নালীগুলো পুরোপুরি ব্লক হয়ে গেলেই হার্ট অ্যাটাক হয়।
সত্যিঃ সাম্প্রতিক গবেষনায় দেখা গিয়েছে যে অন্তত ৩০% ক্ষেত্রে, ছোট ছোট ব্লক গুলোর হঠাত ভেঙ্গে যাওয়ার মাধ্যমে হার্ট অ্যাটাক হয়। হঠাত ভেঙ্গে যাওয়ার ফলে রক্ত জমাট বেধে নালী পুরো বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে হার্ট অ্যাটাক হয়।
19. মিথ্যাঃ আমার হার্টের সমস্যা থাকলে ডাক্তার আমাকে টেস্ট করতে বলতো।
সত্যিঃ অন্য কোন রোগ নিয়ে ডাক্তার এর কাছে গেলে সে আপনার হার্ট নিয়ে চিন্তিত নাও হতে পারেন, অথবা আপনি আপনার মাঝে মাঝে বুকে মৃদু ব্যথার কথা বলতে ভুলে যেতেই পারেন। ভালো হলো, একটা বয়সের পর এমনিতেই একজন হার্টের ডাক্তার এর পরামর্শ নিয়ে টেস্ট করিয়ে ফেলতে।
20. মিথ্যাঃ হার্টের রোগ আমার বংশে আছে, তাই কোন ভাবেই তা ঠেকানো সম্ভব নয়।
সত্যিঃ ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাবার ও ধূমপান ত্যাগের মাধ্যমে হার্টের রোগের ঝুকি অনেক কমানো যায়।
21. মিথ্যাঃ একবার হার্টের রোগ হয়ে গেলো, কোনভাবেই আর হার্টের স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়।
সত্যিঃ ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাবার ও ধূমপান ত্যাগের মাধ্যমে হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নয়ন সম্ভব।
22. মিথ্যাঃ হার্ট অ্যাটাক হতে পারে এমন রোগীর এর লক্ষন হলো বুকে ব্যথা যা অ্যাটাক এর মাত্র এক সপ্তাহ আগে দেখা দেয়। অর্থাৎ যখন আমার সময় আসবে, হার্ট অ্যাটাক হবে, এক্ষেত্রে আমার কিছু করার নেই।
সত্যিঃ হার্ট এর রোগীর দীর্ঘমেয়াদি বুকে ব্যথা থাকতে পারে অথবা কোন পূর্ব ব্যথা ছাড়াই হঠাত অ্যাটাক হতে পারে। হার্ট অ্যাটাক আসলে দীর্ঘদিন ধরে হার্টে জমে ওঠা ব্লকের ফলাফল। তাই সবসময় ই নিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন করুন, আপনার হার্ট অ্যাটাক হওয়ার সময় হয়তো কখনোই আসবে না।
23. মিথ্যাঃ তীব্র বুকে ব্যথা না হলে এটি হার্ট অ্যাটাক না।
সত্যিঃ হালকা ব্যথার সঙ্গে দম বন্ধ ভাব, শ্বাসকষ্ট, ঘাম, বমি, মাথাব্যথা থাকতে পারে। বর্তমান যুগে হার্ট অ্যাটাক বুঝতে পেরে সঠিক সময়ে ডাক্তারের কাছে যেতে পারলে ৯৫% ক্ষেত্রেই রোগীকে বাচানো যায়।
24. মিথ্যাঃ আমার খুব দ্রুত হার্ট বিট হচ্ছে। আমার নিশ্চই হার্ট অ্যাটাক হতে যাচ্ছে।
সত্যিঃ বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই দ্রুত হার্ট বিট নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। কারো কারো ক্ষেত্রে এটি স্বাভাবিক ভাবেই বেশী থাকে, কেউ আবার উত্তেজিত হলে বেড়ে যায়, এর সঙ্গে হার্টের আটাকের সম্পর্ক নেই।
25. মিথ্যাঃ হার্ট অ্যাটাক হওয়া আর হার্ট ফেইল করা একই জিনিস।
সত্যিঃ হার্ট অ্যাটাক হলে হার্ট বিট বন্ধে হয়ে যায়, কিন্তু হার্ট ফেইল করলে হার্ট কাজ করা বন্ধ করেনা, এটা শুধু ঠিকমত রক্ত পাম্প করতে পারেনা। হার্ট অ্যাটাক ও ফেইলিওর এর চিকিৎসা ভিন্ন ও লক্ষন ও ভিন্ন। তাই লক্ষন জানা জরুরী। হার্ট ফেইল এর লক্ষন হলো, শ্বাস-কষ্ট, হাতে পায়ে পানি আসা এবং কাশি ও কফ।


29
Public Health / Negative effect of sugar
« on: February 09, 2014, 12:02:07 PM »
Negative effect of sugar   
 Sugar is derived from sucrose. Our country consumes about 2-3 pounds of sugar each week!
Our body becomes addicted to the sweetness so much that it can become a danger to our bodies!
    Sugar can “attack” our white blood cells which are our bodies defense system against diseases.The white blood cells are formally known as phagocytes.
    Two teaspoons of sugar can take away our phagocytes strength by 25%!
    Eating larger portions of sugar can make our immune system 100% helpless, the effect lastingfor about 4-5 hours. We call that a “sugar rush.”
            This type of eating is a trap for a cold, sometimes even cancer.

Pages: 1 [2]