Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - Md. Alamgir Hossan

Pages: [1] 2 3 ... 42
1
দেশের প্রতি চারজন বিবাহিত নারীর একজন স্বামীর হাতে মার খান। এই নারীদের বয়স ১৫ থেকে ৪৯ বছরের মধ্যে। স্বামীর অনুমতি না নিয়ে বাইরে যাওয়া; বাচ্চাদের প্রতি যত্নশীল না হওয়া; স্বামীর সঙ্গে তর্ক করা; যৌন সম্পর্ক করতে অস্বীকৃতি জানানো এবং খাবার পুড়িয়ে ফেলা—এই পাঁচটি কারণের অন্তত একটির জন্য ওই নারীরা মার খান।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে ২০১৯-এ নারীর গৃহ নির্যাতনের চিত্র উঠে এসেছে। সমীক্ষায় অংশ নেওয়া নারীরা এই তথ্য দিয়েছেন। গতকাল সোমবার এই সমীক্ষার প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ৫-৬ বছর পরপর এ ধরনের সমীক্ষা করে থাকে বিবিএস। সমীক্ষার ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে আগারগাঁওয়ের বিবিএস মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে সমীক্ষার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন বিবিএসের পরিচালক মাসুদ আলম।


স্ত্রীর প্রতি স্বামীর সহিংস আচরণ সম্পর্কে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিবিএসের সমীক্ষা অনুযায়ী, যেসব কারণে স্ত্রীকে মারধর করেন স্বামীরা, সেই কারণগুলো গুরুতর অপরাধ নয়। লঘু ভুল করার জন্য এ ধরনের নির্যাতনের শিকার হন বিবাহিত নারীরা। পুরুষতান্ত্রিক আধিপত্যবাদী সমাজের মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে পারছি না।’ তাঁর মতে, নারীরা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী না হওয়ার কারণেই স্বামীরা এই সুযোগ পান। এভাবে নির্যাতন করা একটি সভ্য সমাজে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।


সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী বিবাহিত নারীদের ২৫ দশমিক ৪ শতাংশ ওপরের পাঁচটি কারণের একটির জন্য স্বামীর হাতে মার খান। শিশু নির্যাতনের কথাও উঠে এসেছে ওই সমীক্ষায়। ১ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের প্রায় ৮৯ শতাংশ সমীক্ষা চলাকালীন আগের এক মাসে অন্তত একবার শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। ছয় বছর আগে ৮২ দশমিক ৩ শতাংশ শিশু এই ধরনের নির্যাতনের শিকার হতো। বিবিএস বলছে, আশঙ্কাজনকভাবে শিশুদের প্রতি সহিংস শাসন বেড়েছে।

বিবিএসের মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে ২০১৯ অনুযায়ী প্রতি ১০ জনে ৯ শিশু নির্যাতনের শিকার হয়।

বিবিএসের পরিচালক মাসুদ আলম জানান, শিশুদের পিতামাতা ও লালনপালনকারীদের হাতেই তাঁরা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনে শিকার হন। শিশুদের শৃঙ্খলাজনিত কারণে মারধর, বকাঝকা, ধমক—এসব বিষয় আমলে আনা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, ‘শিশুর ওপর নির্যাতন দিন দিন বাড়ছে। এটি ভয়ানক আকার ধারণ করছে। এটি কোনোভাবেই সভ্য সমাজ বলতে পারি না। এই চিত্র মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার অর্জনকে ধুলোয় মিশিয়ে দেয়।’

সারা দেশের ৬১ হাজার ২৪২টি পরিবারের কাছে ৩৩ ধরনের তথ্য নিয়ে এই জরিপ করা হয়েছে। ২০১৯ সালের ১৯ জানুয়ারি থেকে ১ জুনের মধ্যে এই সমীক্ষা হয়। সমীক্ষায় শিশুমৃত্যু, জন্মহার, শিক্ষার হার, বাল্যবিবাহ, রেডিও-টেলিভিশন-মোবাইল ফোন ব্যবহার, বিবাহ, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে।

৯৬% পরিবারে মোবাইল ফোন
সমীক্ষায় অংশ নেওয়া পরিবারগুলোর মধ্যে ৯৫ দশমিক ৯ শতাংশ পরিবারে অন্তত একটি মোবাইল ফোন বা ল্যান্ড ফোন আছে। ২০১২-১৩ সালের সমীক্ষায় এই হার ছিল ৮৭ দশমিক ২ শতাংশ। ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী ৭১ শতাংশের বেশি নারীর নিজস্ব মোবাইল ফোন আছে। তবে প্রায় ৯৮ শতাংশ নারী গত তিন মাসে একবার অন্তত মোবাইল ফোনে কথা বলেছেন। ৩৭ শতাংশ পরিবারে ইন্টারনেট ব্যবহার করার জন্য ডিভাইস আছে। কম্পিউটার আছে সাড়ে ৫ শতাংশের বেশি পরিবারে।

তবে নারীদের সংবাদপত্র ও সাময়িকী পড়া, রেডিও শোনা ও টেলিভিশন দেখার প্রবণতা কমেছে। ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী আধা শতাংশ নারী সপ্তাহে অন্তত একবার সংবাদপত্র, সাময়িকী পড়েছেন কিংবা রেডিও শুনেছেন বা টেলিভিশন দেখেছেন। ২০১২-১৩ সালে এই হার ছিল ১ দশমিক ৬ শতাংশ। সাত বছর আগে ৩৭ দশমিক ৭ শতাংশ পরিবারে টেলিভিশন ছিল। এখন ৫০ শতাংশের বেশি পরিবারে টেলিভিশন আছে। তবে রেডিওর দিন শেষ হচ্ছে। সাত বছর আগে প্রায় ৪ শতাংশ পরিবারে রেডিও ছিল। এখন দশমিক ৬ শতাংশ পরিবারে রেডিও আছে।

বাল্যবিবাহ পরিস্থিতি
১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী নারীদের এক-তৃতীয়াংশই এখন বিবাহিত। সাত বছর আগে এই হার ছিল ছিল ৩৪ দশমিক ৩ শতাংশ। বর্তমানে যেসব নারীর বয়স ২০ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে, তাঁদের সাড়ে ১৫ শতাংশের বিয়ে হয়েছে বয়স ১৫ বছর হওয়ার আগে। এ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। ২০১২-১৩ সালে ১৮ শতাংশের বেশি ওই বয়সী নারীদের বিয়ে হয়েছিল।

বর্তমানে ২০-২৪ বয়সীদের মধ্যে ১৮ বছর হওয়ার আগে বিয়ে হয়েছে ওই শ্রেণির ৫১ শতাংশের বেশি নারীর। সাত বছর আগে ছিল এই হার ছিল ৫২ শতাংশের বেশি।

তবে ১৮ বছর হওয়ার আগে সন্তান জন্মদান পরিস্থিতির খুব বেশি উন্নতি হয়নি। ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী প্রতি চারজন নারীর একজনই ১৮ বছর হওয়ার আগেই সন্তান জন্ম দিয়েছেন।

শিশুমৃত্যু পরিস্থিতির উন্নতি
সমীক্ষা অনুযায়ী, জন্মের ২৮ দিনের মধ্যে নবজাতক মৃত্যুর হার বাংলাদেশে এখন প্রতি হাজারে ২৬ জন। আর পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর হার প্রতি হাজারে ৪০ শিশু। সাত বছর আগে ছিল প্রতি হাজারে ৫৮ জন। তবে বয়ঃসন্ধিকালে মা হওয়ার পরিস্থিতি অপরিবর্তিত আছে। ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে প্রতি হাজারে ৮৩ জন মা হন।

পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রতি ১০০ শিশুর মধ্যে ২৮ জনের উচ্চতা বয়স অনুযায়ী কম। ২০১২-১৩ সালে এই হার ছিল ৪২ শতাংশ।

শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিস্থিতি
একটি সাধারণ বাক্য পড়তে পারেন কিংবা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশোনা করেছেন—এমন বৈশিষ্ট্য ধরে বিবিএসের সমীক্ষায় শিক্ষার হার ঠিক করা হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে, ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের ৮৮ দশমিক ৭ শতাংশ শিক্ষিত। ৯২ শতাংশের পরিবারে বিদ্যুৎ-সংযোগ আছে। আর ৮৪ শতাংশের বেশি পরিবারে উন্নত স্যানিটেশন সুবিধা আছে।

বিবিএসের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব সৌরেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী বলেন, ‘মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে শিশুদের উন্নতির জন্য যেসব তথ্য-উপাত্ত দরকার, সেই ধরনের তথ্য-উপাত্ত দিচ্ছে বিবিএস, যা নীতি প্রণয়নে সহায়তা করবে।’

ইউনিসেফ বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অ্যালেন ব্যালান্ডি ডোমস্যাম বলেন, জনসংখ্যাতাত্ত্বিক সুবিধা কাজে লাগাতে শিশু ও তরুণদের জন্য বিনিয়োগ বিলম্ব করার সুযোগ নেই। এই সুযোগ শেষ হতে আর মাত্র ১১ বছর বাকি আছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিবিএসের মহাপরিচালক মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

2
চীনের বাইরেও করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে পুঁজিবাজারে বড় ধস হয়েছে। গতকাল সোমবার বিভিন্ন পুঁজিবাজারেই সূচকের বড় পতন দেখা গেছে।


গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারে ডাও জোন্স সূচক দর হারায় ১ হাজার পয়েন্ট। শতাংশের দিক দিয়ে যা ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ দরপতন। অন্য সূচক এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকটির দর কমে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ এবং নাসডাক সূচকের দর কমে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ।

যুক্তরাজ্যের প্রধান পুঁজিবাজার লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জভিত্তিক এফটিএসই ১০০ সূচকটি লেনদেন শেষে কমে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। ২০১৬ সালের পর এত দরপতন দেখেনি এই সূচক। সে সময় যুক্তরাজ্যের ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ছাড়ার সিদ্ধান্তের কারণে পুঁজিবাজারে সূচকের ধস নামে।

ইতালিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এর মধ্যে তিনজন মারা গেছেন। আক্রান্তের সংখ্যাও বেড়েছে। এসব আতঙ্কে মিলান স্টক মার্কেটে সূচকের দর কমেছে ৬ শতাংশ।

একদিকে পুঁজিবাজারে দরপতন, অন্যদিকে স্বর্ণের দাম হু হু করে বাড়ছে বিশ্ববাজারে। ৭ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ দামে আছে স্বর্ণ। সেই সঙ্গে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। গতকাল সোমবার বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে প্রায় ৩ শতাংশ।

গেল বছরের শেষের দিকে চীন থেকে শুরু হয় করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব। দুই মাস পার হতে যাচ্ছে, এখনো এর প্রাদুর্ভাব কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বর্তমানে চীনে প্রায় ৭৭ হাজার মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। মৃত ব্যক্তির সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৬০০। প্রতিদিনই বিভিন্ন দেশে নতুন নতুন মানুষের আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। ৩০টি দেশে প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। দক্ষিণ কোরিয়ায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। ভাইরাসে আক্রান্ত অন্তত ৭০০ মানুষ। ইতালিতে এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা দেড় শ ছাড়িয়েছে। ইরানের কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করছে, এই ভাইরাসে দেশটির ৪৩ জন আক্রান্ত, মারা গেছেন আটজন। সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক, তুরস্ক ও আফগানিস্তান ভ্রমণ ও অভিবাসনে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।

বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, কিছুদিন ধরেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একটা সন্তুষ্টি মনোভাব ছিল। জানুয়ারিতে শেয়ারবাজার বেশ উত্থানে ছিল। তবে হঠাৎ করেই পরিস্থিতি ঘুরে গেল। অর্থাৎ প্রথমে বিনিয়োগকারীরা করোনাভাইরাসের বিষয়ে খুব বেশি উদ্বিগ্ন ছিল না, তবে এখন পরিস্থিতি নিয়ে তারা মূল্যায়ন করছে। করোনাভাইরাসের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে একটা অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিতে পারে—এমন আশঙ্কা করছেন বিনিয়োগকারীরা।

3
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্য কোর্সসহ অনিয়মিত সব কোর্সে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির সব ধরনের কার্যক্রম আগামী পাঁচ সপ্তাহের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। চলমান সান্ধ্য কোর্স থাকবে কি থাকবে না, থাকলে তার ধরন কী হবে—এ নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে প্রায় সাত ঘণ্টা তুমুল বাক্‌যুদ্ধের পর এ সিদ্ধান্ত আসে। এই সময়ের মধ্যে সান্ধ্য কোর্স পরিচালনার একটি সময়োপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক নাসরীন আহমাদকে প্রধান করে ১৮ সদস্যের কমিটি করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা পরিষদের (একাডেমিক কাউন্সিল) সভা শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান। কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যাবে কি না এবং চলমান সান্ধ্য কোর্সের ধরনে পরিবর্তন আসবে কি না, এ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে গতকাল বেলা তিনটা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে এই সভা হয়।


সভায় প্রায় ছয় ঘণ্টা সান্ধ্য কোর্সের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় সান্ধ্য কোর্স পর্যালোচনা ও যৌক্তিকতা যাচাই কমিটির প্রতিবেদন নিয়ে শিক্ষকেরা তর্কে জড়ান। সভায় সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার ছিল না। প্রথম দিকে বাইরের স্পিকারে সভার বক্তব্য শোনা গেলেও পরে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়।


সান্ধ্য কোর্সের যৌক্তিকতা তুলে ধরে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জিয়াউর রহমান বলেন, ‘এ ধরনের প্রোগ্রাম কিন্তু পরোক্ষভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে। কারণ, আমার বিভাগে যখন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান পড়েন, ন্যাশনাল কমিউনিকেশন সেক্টরের ডিরেক্টর পড়েন, সত্তরোর্ধ্ব একজন সিনিয়র ডিস্ট্রিক্ট জজ পড়েন, সত্তরোর্ধ্ব একজন রাজনীতিবিদ যখন পড়েন, তখন নিশ্চয়ই আমি গর্ববোধ করি।’

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক এবং সিনেট সদস্য আবুল মনসুর আহাম্মদ বলেন, ‘মাথায় সমস্যা হলে তার চিকিৎসা হতে পারে, মাথা কেটে ফেলার দরকার নেই।’

স্যার এ এফ রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম খান বলেন, ‘সান্ধ্য কোর্সের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নিয়মিত শিক্ষার্থীদের কান্না আমাদের শুনতে হবে। তাই নীতিমালার আওতায় সান্ধ্য কোর্স পরিচালনা করা উচিত।’

সান্ধ্য কোর্স পর্যালোচনা কমিটির প্রধান তোফায়েল আহমদ চৌধুরী তাঁদের প্রতিবেদন নিয়ে একাধিক শিক্ষকের সমালোচনার জবাব দিতে গেলে শিক্ষকদের একটি অংশ ‘শেইম শেইম’ বলে ওঠেন। পরে তিনি তাঁর ব্যাখ্যা দেন।

4
Compensation Management / Re: Types of Incentives
« on: February 19, 2020, 05:12:19 PM »
OK

5
Compensation Management / Re: Meaning of Reward
« on: February 19, 2020, 05:12:03 PM »
Exactly

6
Compensation Management / Re: Reward Systems
« on: February 19, 2020, 05:11:49 PM »
Yes

7
Human Resource Planning / Re: Meaning of Human Resource Planning
« on: February 19, 2020, 05:11:19 PM »
Yes

8
Nice

9
চট্টগ্রামভিত্তিক শিল্প গ্রুপ এস আলম। দেশের অন্যতম আলোচিত এই ব্যবসায়িক গ্রুপটির চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদ। একই সঙ্গে তিনি ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকেরও চেয়ারম্যান। তার স্ত্রী ফারজানা পারভীন রয়েছেন ব্যাংকটির পরিচালক পদে।

শুধু এই ব্যাংকটিই নয়, আরও অন্তত ছয়টি ব্যাংকে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, পরিচালকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন সাইফুল আলম মাসুদের পরিবারের সদস্যরা। এই ব্যাংকগুলোর মধ্য থেকে এস আলম গ্রুপের নামে বড় আকারের আর্থিক সুবিধা দেওয়াও হচ্ছে।

এস আলম পরিবার ছাড়াও অনেক পরিবারের হাতেই ব্যাংক-বিমা আছে। তবে হাতে একাধিক ব্যাংক-বিমা রয়েছে, এমন অন্তত তিনটি পরিবার রয়েছে। বাকি দুই পরিবার হলো-সিকদার পরিবার ও হাসেম পরিবার।

 

 কোন পরিবারের হাতে কতগুলো ব্যাংক-বিমা রয়েছে, তার চিত্র

সিকদার পরিবার

বেসরকারি ন্যাশনাল ব্যাংক সাফল্যের সাথে কাজ শুরু করলেও সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিষ্ঠানটির নানা অনিয়মের চিত্র সামনে এসেছে। এই ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে রয়েছে জয়নুল হক সিকদার পরিবারের একচ্ছত্র আধিপত্য। ব্যাংকটির চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন জয়নুল হক সিকদার নিজেই।

দেশের আইন অনুযায়ী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে একই পরিবারের দুজন সদস্য থাকতে পারেন। কিন্তু ন্যাশনাল ব্যাংকে জয়নুল ছাড়াও রয়েছেন সিদকার পরিবারের আরও পাঁচ সদস্য। তারা হলেন-জয়নুল হক সিকদারের স্ত্রী মনোয়ারা সিকদার, মেয়ে পারভীন হক সিকদার, দুই ছেলে রিক হক সিকদার ও রণ হক সিকদার, জয়নুল হক সিকদারের নাতি জোনাস সিকদার খান।


মূলত ন্যাশনাল ব্যাংকের সবকিছুই নির্ধারণ করে দেয় সিকদার পরিবার। সিকদার পরিবারের আরেকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান সিকদার ইন্সুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। এই বিমা প্রতিষ্ঠানটিরও পরিচালক পদে রয়েছেন সিকদার পরিবারের একঝাঁক সদস্য। চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন সিকদার পরিবারের নাসিম হক সিকদার, পরিচালক পদে রয়েছেন শহীদুল হক সিকদার। এ ছাড়া স্বতন্ত্র পরিচালক পদে রয়েছেন মনিকা সিকদার, মান্ডি খান সিকদার, জেফেরি খান সিকদার, জোনাস খান সিকদার, জন হক সিকদার ও সিয়ান হক সিকদার।

এস আলম পরিবার

দেশের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী গ্রুপ হিসেবে এস আলম গ্রুপের অবস্থান ওপরের সারিতে। ২০১৭ সালে ইসলামী বাংকের ১২ ভাগেরও বেশি শেয়ার বিভিন্ন কোম্পানির মাধ্যমে কিনে নেয় এস আলম গ্রুপ। এ নিয়ে গণমাধ্যমে বিভিন্ন খবর প্রকাশ পায়। কিন্তু ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কেনার সময় এস আলম গ্রুপ তাদের প্রতিষ্ঠিত কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করেনি। বিভিন্ন সূত্রের খবর অনুযায়ী, নতুন কোম্পানি সৃষ্টি করে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কেনে এস আলম গ্রুপ। এসব কোম্পানির মধ্যে প্যারাডাইস ইন্টারন্যাশনাল ২.০০৯, প্লাটিনাম এনডোর্স ২.০০৫, ব্লু ইন্টারন্যাশনাল ২.০০৯, এবিসি ভেঞ্চার ২.০০৬, গ্রান্ড বিজনেস ২.০২ এবং এক্সেল ডায়িং কেনে ৩.৪০ শতাংশ শেয়ার। এরপর এর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান আরাস্তু খান। এর আগে তিনি এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন।


ইউনিয়ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শহিদুল আলম। তিনি সাইফুল আলম মাসুদের ভাই। এই ব্যাংকের পরিচালক পদে আছেন সাইফুল আলমের ছেলে আহসানুল আলম। এ ছাড়া ব্যাংকের শেয়ার হোল্ডার হিসেবে রয়েছেন সাইফুল আলমের ছেলে আহসানুল আলম ও স্ত্রী ফারজানা পারভীন।

বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকেরও মালিকানা এস আলম গ্রুপের হাতে। ব্যাংকটির ৪০ শতাংশ শেয়ারের মালিক চট্টগ্রামের এই ব্যবসায়ী গ্রুপ। ব্যাংকটির পরিচালক পদে আছেন এ এ এম জাকারিয়া। এর আগে তিনি এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে ৮ বছরের বেশি দায়িত্ব পালন করেন।   

এ ছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের অনেক শেয়ার কিনেছে এস আলম গ্রুপ। সম্প্রতি ব্যাংকটির  ১৪ ভাগের বেশি শেয়ার চলে গেছে এই গ্রুপটির হাতে। এই ব্যাংকে ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সাইফুল আলমের জামাতা বেলাল আহমেদ। ২.০৬ শতাংশ করে এ ব্যাংকে রয়েছে প্যারাডাইস ইন্টারন্যাশনাল এবং প্লাটিনাম এনডোর্সের শেয়ার। ইসলামী ব্যাংকেও রয়েছে এই প্রতিষ্ঠান দুটির শেয়ার। এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন পোর্টম্যান সিমেন্টের শেয়ার ২.৬ শতাংশ, প্রসাদ প্যারাডাইস রিসোর্টের শেয়ার ২.০৬, শাহ আমানত প্রাকৃতিক গ্যাসের ২.০৩, গ্লোবাল ট্রেডিংয়ের ২.৫ এবং লায়ন সিকিউরিটিজের ২.০৬ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

এগুলো ছাড়াও আল আরাফা ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদের ভাই আবদুস সামাদ। সেই সঙ্গে এই ব্যাংকের স্পন্সর শেয়ার হোল্ডার হিসেবে রয়েছেন এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদ।

এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকও রয়েছে এস আলম পরিবারের হাতে। সাইফুল আলমের বড় ভাই মোরশেদুল আলম এই ব্যাংকের পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন।

এম এ হাসেম পরিবার

ব্যাংক খাতে প্রভাব রয়েছে পারটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান শিল্পপতি এম এ হাসেম পরিবারের। তার দুই ছেলে রুবেল আজিজ ও আজিজ আল কায়সার এবং ছেলেদের স্ত্রীরা সিটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য। এম এ হাসেমের আরেক ছেলে আজিজ আল মাহমুদের স্ত্রীও আছেন সিটি ব্যাংকের পরিচালক হিসেবে। আজিজ আল কায়সারের স্ত্রী তাবাসসুম কায়সার এখন সিটি ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান।

রুবেল আজিজের স্ত্রী সৈয়দা শাইরিন আজিজ ব্যাংকটির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আজিজ আল মাহমুদের স্ত্রী সাভেরা এইচ মাহমুদও ব্যাংকটির পরিচালক।


10
বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহ আছে সৌদি আরবের। এ জন্য বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজছে তেলসমৃদ্ধ দেশটি। এই লক্ষ্যে ঢাকায় শুরু হওয়া দুই দেশের যৌথ কমিশনের বৈঠকে সৌদি আরামকোসহ দেশটির শীর্ষস্থানীয় সাতটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।

গতকাল বুধবার দুই দেশের যৌথ কমিশনের বৈঠকের শুরুতে সৌদি প্রতিনিধিদলের নেতা ও সে দেশের শ্রম ও সমাজ উন্নয়নবিষয়ক উপমন্ত্রী মাহির আবদুল রাহমান গাসিম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

দুই দিনের বৈঠকে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মনোয়ার আহমেদ। বৈঠকটি আজ বৃহস্পতিবার সকালে শেষ হচ্ছে।


সৌদি আরামকোর ব্যবসা উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ জুলিও সি হেজেলমেয়ার মোসেস বলেন, ‘আরামকো বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী। বিনিয়োগের সুযোগ কী আছে, তা জানতে এসেছি।’

সৌদি আরবের শ্রম ও সমাজ উন্নয়নবিষয়ক উপমন্ত্রী মাহির আবদুল রাহমান বলেন, ‘বাংলাদেশে আমাদের বিনিয়োগের আগ্রহ রয়েছে। তাই প্রতিনিধিদলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সদস্যদের যুক্ত করা হয়েছে।’ তিনি জানান, সৌদি আরবে প্রবাসী কর্মীদের ১৩ শতাংশ বাংলাদেশের নাগরিক। সৌদি আরবের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশের শ্রমশক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বৈঠকের শুরুতে মনোয়ার আহমেদ বাংলাদেশের দক্ষ অশিক্ষিত শ্রমশক্তি সম্পর্কে সৌদিকে অবহিত করেন।

জানা গেছে, বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত না থাকলেও সৌদি আরবে অবস্থানরত ৪২ হাজার রোহিঙ্গার প্রসঙ্গটি আলোচনায় তুলেছে দেশটি। ওই রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে গেছে বলে সৌদি আরব তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার কথা বলছে।

এদিকে ইআরডি কার্যালয়ে গতকাল অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন সৌদি আরবের সফররত প্রতিনিধিদলটি। এরপর অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, সৌদি আরব বাংলাদেশের পাশে আছে। দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের দিন দিন উন্নতি হচ্ছে এবং আরও উন্নতি হবে।

11
ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক বিধি অনুযায়ী পরিচালিত সঞ্চয় স্কিমের সুদের হার কমিয়েছে সরকার, সঞ্চয়পত্রের নয়। ডাকঘর থেকে যেমন সঞ্চয়পত্র কেনা যায়, তেমনি ডাকঘর সঞ্চয় স্কিমের আওতায়ও টাকা রাখা যায়।

সরকার সঞ্চয় স্কিমের সুদের হার কমিয়ে প্রায় অর্ধেকে নামিয়েছে, যা গত বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে। এতে বলা হয়, তিন বছর মেয়াদি ডাকঘর সঞ্চয় স্কিমের সুদের হার হবে ৬ শতাংশ, যা এত দিন ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ ছিল।


ডাকঘরে চারভাবে টাকা রাখা যায়। ডাকঘর থেকে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরে সঞ্চয়পত্র কেনা যায়, ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকে মেয়াদি হিসাব ও সাধারণ হিসাব খোলা যায়। আবার ডাক জীবন বিমাও করা যায়। এবার সুদের হার কমেছে ডাকঘরের সঞ্চয় স্কিমের মেয়াদি হিসাব ও সাধারণ হিসাবে। সাধারণ হিসাবের ক্ষেত্রে সুদের হার সাড়ে ৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে।

ডাক অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের এই সঞ্চয় স্কিম জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের একটি পণ্য। তবে প্রতিনিধি হিসেবে এটি পরিচালনা করে ডাক অধিদপ্তর। তিনি বলেন, স্কিমটির মেয়াদ আসলে তিন বছর। জমা রাখা যায় সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা। তবে আগে ভাঙিয়ে ফেললেও নির্দিষ্ট হারে সুদ পাওয়া যায়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী মেয়াদ পূর্তির আগে ভাঙানোর ক্ষেত্রে এক বছরের জন্য সুদ মিলবে ৫ শতাংশ, আগে যা ছিল ১০ দশমিক ২০ শতাংশ। দুই বছরের ক্ষেত্রে তা সাড়ে ৫ শতাংশ, আগে যা ছিল ১০ দশমিক ৭০ শতাংশ।

12
করোনাভাইরাসের প্রভাবে বিপর্যস্ত বিশ্বের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিও। মূলত বিলাসবহুল পণ্য বাজার ক্ষতির মুখে পড়েছে। চীনা গ্রাহক কমে যাওয়ায় অন্তত চার মাস এই শিল্পের অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠানের মুনাফা কমে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। খবর বিবিসি অনলাইন।

বিশ্বের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির আকার ২ ট্রিলিয়ন ডলারের। এই শিল্প থেকে প্রতি বছর ৩০ বিলিয়ন ডলার আয় করে যুক্তরাজ্য।


মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক জেফেরিসের তথ্যমতে, চীনা গ্রাহকের ওপর এই শিল্পের ৮০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নির্ভর করে। সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফ্লাভিও সেরেডা বলেন, একটা দুঃস্বপ্নের মতো পরিস্থিতি। গত এক দশকে চীনা ভোক্তারা এই শিল্পে তাদের প্রভাব তৈরি করেছে। বিশ্বব্যাপী ফ্যাশন শিল্পের ৩৮ ভাগ অংশ এখন চীনের। ২০০৩ সালে সার্সের প্রাদুর্ভাবের কারণে এই অবদান ছিল মাত্র ৮ শতাংশ।

আসলে গত ২৩ জানুয়ারির আগ পর্যন্ত সবকিছু চমৎকার চলছিল। এরপর থেকে পাল্টে যেতে থাকে পরিস্থিতি। সবকিছুই যেন করোনাভাইরাসের কবলে পড়ে গেছে। চীনের অনেক শহরে এখন প্রবেশ বন্ধ, কোনো কোনোটি আংশিক বন্ধ। বর্তমানে দেশটির প্রায় ৬৪ হাজার মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে দেড় হাজার। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় মানুষজনের চলাচল সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। অনেক জায়গায় বিপণি বিতান, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে রাখা হয়েছে। যে সব বিপণি বিতান খোলা রয়েছে, সেগুলোও খাঁ খাঁ করছে।

বড় বড় ফ্যাশন হাউসগুলো মুনাফা কমার আশঙ্কা করছে। এগুলোর মধ্যে আছে, বারবেরি, রালফ লরেন, কোচ অ্যান্ড কেট স্পেড, মনক্লেয়ারের মতো ফ্যাশন হাউস। ফ্লাভিও সেরেডা, ‘আমরা এর আগে এমন পরিস্থিতি আর দেখিনি। বিক্রি একদম শূন্য। এটা সবার ওপর প্রভাব ফেলছে। সেটা ছোট বা বড় ব্র্যান্ডই হোক।’ ধারণা করা হচ্ছে আগামী চার মাস আমাদের খুবই অল্প বাণিজ্য হবে। তবে অবশ্যই এই বাজার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। আস্থা ফিরে আসতে আগামী গ্রীষ্ম পর্যন্ত সময় লেগে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

ম্যানচেস্টার মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ফ্যাশন ইনস্টিটিউটের শিক্ষক মারিয়া মারলন বলেন, ‘চীনা গ্রাহকেরা অনেক খরচ করেন। যখনই তারা যুক্তরাজ্য আসেন বিপুল পরিমাণ কেনাকাটা করেন। এমনকি চীনে বসেও যুক্তরাজ্যের ব্র্যান্ডের প্রতি আগ্রহ তাদের। এখন এসবের কিছুই হচ্ছে না। কারণ সেখানে কোনো পণ্য নেই। এমনকি পণ্য সরবরাহ করার মতোও কেউ নেই।’

ইতিমধ্যে লন্ডন ফ্যাশন উইকেও করোনাভাইরাসের প্রভাব পড়েছে। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে বিশ্বের অন্যতম বড় এই বিলাসবহুল ফ্যাশন আসর। সেখানে চীনা ক্রেতা ও মিডিয়ার উপস্থিতি নেই বললেই চলে। ফলে এক-তৃতীয়াংশ বিক্রি কম হওয়ার আশঙ্কা করছেন আয়োজকেরা।

এমনকি ১৮ ফেব্রুয়ারি ইতালিতে শুরু হতে যাওয়া মিলান ফ্যাশন উইকেও চীনা নাগরিকদের উপস্থিতি কম থাকবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

13
ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকে মেয়াদি ও সাধারণ হিসাবে আমানতের সুদের হার কমানোর বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। আজ রোববার বিকেলে এক বিজ্ঞপ্তিতে অর্থ মন্ত্রণালয় বলেছে, সঞ্চয়পত্রের সুদের হার সরকার কমায়নি। কমেছে ডাকঘরে যে সঞ্চয় কর্মসূচি (স্কিম) রয়েছে এবং সেই কর্মসূচির আওতায় মানুষ যে আমানত রাখছে তার সুদের হার।

সরকারি ব্যাংকে সুদের হারের সমপর্যায়ে নিয়ে আসতে ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকে আমানতের সুদের হার কমানো হয়েছে বলে যুক্তি দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। বলেছে, ১৩ ফেব্রুয়ারি অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) সঞ্চয় কর্মসূচির সুদের হার কমানোর বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। সঞ্চয়পত্রের সুদের হার আগে যা ছিল, তা-ই আছে।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আইআরডির প্রজ্ঞাপন জারির পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানো হয়েছে বলে যেসব প্রতিবেদন হয়েছে, তাতে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে এবং বিষয়টি স্পষ্ট করতেই এ বিজ্ঞপ্তি।

ওই বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ডাকঘর থেকে যেমন সঞ্চয়পত্র কেনা যায়, তেমনি ডাকঘর সঞ্চয় স্কিমের আওতায়ও টাকা রাখা যায়। ডাকঘরে চার ভাবে টাকা রাখা যায়। ডাকঘর থেকে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরে সঞ্চয়পত্র কেনা যায়, ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকে মেয়াদি হিসাব ও সাধারণ হিসাব খোলা যায়। আবার ডাক জীবন বিমাও করা যায়। এবার সুদের হার কমেছে ডাকঘরের সঞ্চয় স্কিমের মেয়াদি হিসাব ও সাধারণ হিসাবে।

সাধারণ হিসাবের ক্ষেত্রে সুদের হার ৭ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। আর তিন বছর মেয়াদি ডাকঘর সঞ্চয় স্কিমের সুদের হার হবে ৬ শতাংশ, যা এত দিন ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ ছিল। মেয়াদ পূর্তির আগে ভাঙানোর ক্ষেত্রে এক বছরের জন্য সুদ পাওয়া যাবে ৫ শতাংশ, আগে যা ছিল ১০ দশমিক ২ শতাংশ। এ ছাড়া দুই বছরের ক্ষেত্রে তা হবে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ, আগে যা ছিল ১০ দশমিক ৭ শতাংশ।

14
চীনের স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস। দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন গতকাল শুক্রবার বলেছে, এ পর্যন্ত এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৭১৬ জন স্বাস্থ্যকর্মী। এর মধ্যে ছয়জন মারা গেছেন। এ ছাড়া এই ভাইরাসের সংক্রমণে গত বৃহস্পতিবার চীনে মারা গেছেন ১২১ জন এবং নতুন রোগী চিহ্নিত করা হয়েছে ৫ হাজার ৯০ জন। অন্যদিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে জাপানে মারা গেছেন এক নারী।

উহানে বিভিন্ন হাসপাতালে কাজ করছেন প্রায় ৮০ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী। জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন জানায়, যে স্বাস্থ্যকর্মীরা আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁদের অধিকাংশই উহানের। এদিকে বৃহস্পতিবার ১২১ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৮০। আর মারা যাওয়া ১২১ জনের মধ্যে ১১৬ জনই করোনাভাইরাসের উৎপত্তিস্থল হুবেইয়ের। এ ছাড়া আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে ৬৩ হাজার ৮৫১-তে।


 গতকাল চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন বলেছে, বৃহস্পতিবার ২ হাজার ৪৫০ জন সন্দেহভাজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ওই দিন ২ হাজার ১৭৪ জন গুরুতর অসুস্থ হয়েছেন। দেশটিতে এখন গুরুতর অসুস্থ রোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ১০৯ জন। বৃহস্পতিবার ১ হাজার ৮১ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে গেছেন। এ নিয়ে মোট ৬ হাজার ৭২৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেলেন।


কমিশন বলেছে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন, এমন ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৬৭জনকে চিহ্নিত করা হয়েছিল। এর মধ্যে ২৬ হাজার ৯০৫ জনকে সন্দেহভাজনের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ১ লাখ ৭৭ হাজার ৯৮৪ জন এখনো চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে আছেন। চীনের এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে কাজ করছে দেশটির পিপলস লিবারেশন আর্মি। তারা উড়োজাহাজে করে উহানে মেডিকেল সরঞ্জাম পাঠাচ্ছে। এ ছাড়া উহানের হাসপাতালে স্থান সংকুলান না হওয়ায় সেখান থেকে উড়োজাহাজ করে রোগীদের অন্যত্র নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে চীনের মূল ভূখণ্ডের বাইরে রোগীর সংখ্যা দিনকে দিন বাড়ছে। চীনের আধা স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চল হংকংয়ে এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৫৩-তে গিয়ে ঠেকেছে। ম্যাকাওয়ে আক্রান্ত হয়েছেন ১০ জন। আর তাইওয়ানে আক্রান্ত হয়েছেন ১৮ জন। এই রোগীদের অধিকাংশই চীনের মূল ভূখণ্ড থেকে যাওয়া।

চীনের বাইরে ৩০টি দেশ ও অঞ্চলে এ ভাইরাসে এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ৫৮৫ জন। আক্রান্তের তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে পাকিস্তান। ভিয়েতনামে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে রাজধানী হ্যানয়ের পার্শ্ববর্তী একটি এলাকার প্রায় ১০ হাজার মানুষকে কোয়ারেন্টাইন করা হয়েছে। জাপানে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এক নারী (৮০) মারা গেছেন।

করোনাভাইরাসের প্রভাব প্রসঙ্গে ইন্টারন্যাশনাল সিভিল অ্যাভিয়েশন অর্গানাইজেশন বলেছে, এই সংক্রমণের প্রভাবে ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার মুনাফা কমতে পারে চলতি বছর।

15
অনেকেই আজকাল কিটো ডায়েট ক্রেজে ভুগছেন। কিন্তু এই কিটো ডায়েট ওজন কমালেও শরীরের জন্য ভালো কি মন্দ সেটি হয়তো জানেন না। একজন পুষ্টিবিদ বা ডায়েটেশিয়ান স্বাস্থ্যগত কারণে প্রয়োজন হলে বিচার বিশ্লেষণ করে কাউকে কিটো ডায়েটের পরামর্শ দিতেই পারেন। তবে সেটি গণহারে সবার জন্য মেনে চলার কোন যৌক্তিকতা নেই। কিটো ডায়েট শুরু করার পর পরই অসুস্থতাবোধ এবং ডায়রিয়া ইত্যাদি স্বল্পমেয়াদি সমস্যা থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদে নানা ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি রয়েছে।

*কিটো ডায়েট অনুযায়ী শরীরবৃত্তীয় চাহিদা মেটাতে কার্বোহাইড্রেট বা শর্করার (চাল, ভুট্টা, গম ইত্যাদির তৈরি খাবার) পরিবর্তে ফ্যাট বা চর্বি ব্যবহার করার ফর্মুলা অনুসরণ করা হয়। কার্বোহাইড্রেট কম বা গ্রহণ না করার মাধ্যমে শরীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি হরমোন ইনসুলিনকে কমিয়ে ফেলাই কিটো ডায়েটের মূল উদ্দেশ্য। এই ইনসুলিন একদিকে যেমন শর্করা ভাঙে অন্যদিকে চর্বি ও প্রোটিন জমাতে সাহায্য করে। ইনসুলিনের অভাবে কার্বোহাইড্রেটের পরিবর্তে চর্বি শরীরবৃত্তীয় কাজে ব্যবহার হতে থাকে। কিন্তু শর্করা না থাকলে চর্বি শরীরবৃত্তীয় কাজে ব্যবহার হতে পারে না। ইনসুলিনের অভাবে কার্বোহাইড্রেট মেটাবলিজম বন্ধ হয়ে গেলে চর্বি ভেঙে কিটো এসিড তৈরি করে, যা শরীরের জন্য ভয়াবহ একটি অবস্থা কিটো-এসিডোসিস সৃষ্টি করতে পারে। কিটো এসিডোসিসের কারণে মস্তিষ্ক, লিভার এবং কিডনির অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে।

* মস্তিষ্কের প্রধান খাবার হলো গ্লুকোজ, যা স্বাভাবিক অবস্থায় শর্করা জাতীয় খাবার ভেঙে তৈরি হয়। মস্তিষ্ক কিটোন ব্যবহার করতে পারে না। দীর্ঘদিন ডায়েটিং করলে একসময় মস্তিষ্ক কিটোন ব্যবহার করার সক্ষমতা লাভ করে। কিন্তু কিটোন মস্তিষ্কের জন্য কতোটা স্বাস্থ্যকর সে সমন্ধে প্রয়োজনীয় কোন গবেষণা লব্ধ ফলাফল নেই। দীর্ঘমেয়াদে কিটোডায়েটে স্মৃতি ভ্রষ্ট হওয়ার সম্ভবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না।
*কিটো ডায়েট চলাকালীন চর্বি ভেঙে রক্ত প্রবাহের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। এই চর্বি হৃৎপিণ্ডের রক্তনালীতে জমে তা বন্ধ করে দিতে পারে। যা হার্ট এ্যটাকের কারণ হতে পারে। রক্তে চর্বি বেড়ে গিয়ে ডায়াবেটিস আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়।

* কিটো ডায়েট চলাকালীন শুধু চর্বিই ভাঙে না প্রোটিনও ভাঙ্গে। শরীরের বাহ্যিক গঠন যেমন মাংসপেশী ও বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গ প্রধানত প্রোটিন দিয়েই তৈরি। কিটো ডায়েট চলাকালীন মাংসপেশী এবং হাড়ের গঠনে প্রভাব ফেলে। ক্রীড়াবিদদের হাড়ে ভঙ্গুর অবস্থা সৃষ্টি করতে পারে। প্রোটিন ভেঙ্গে অপুষ্টির মতো অবস্থা তৈরি করতে পারে। সাম্প্রতিক গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, কম শর্করা জাতীয় খাদ্যাভ্যাস ক্যান্সার এবং হৃদরোগের কারণ হতে পারে। কিটো ডায়েট গ্রহণকারীদের মধ্য মৃত্যুর হারও বেশি বলে গবেষণায় পাওয়া গিয়েছে।

মনে রাখবেন সুস্থ স্বাভাবিক, কর্মক্ষম দীর্ঘ জীবনের জন্য প্রয়োজন সুষম খাদ্যাভ্যাস, কায়িক শ্রম বা ব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম, অস্বাভাবিক কিটো ডায়েট নয়। উঠতি বা যুবা বয়সে কিটো ডায়েট ক্রেজে আক্রান্ত না হয়ে বরং সুষম খাবার উপভোগ করে সেটি পরিশ্রম বা ব্যায়ামের মাধ্যমে ঝড়িয়ে ফেলার পর বিশ্রাম নিন, জীবনটাকে উপভোগ করুন।

Pages: [1] 2 3 ... 42