Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - Md. Alamgir Hossan

Pages: 1 [2] 3 4 ... 36
16
ক্যারিবীয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) এক ম্যাচ পরই জ্বলে উঠলেন সাকিব আল হাসান। জ্যামাইকা তালাওয়াসের প্রথম ম্যাচে হার এড়াতে কোনো ভূমিকা রাখতে পারেননি সাকিব। তবে বার্বাডোস ট্রাইডেন্টসের বিপক্ষে এবার দ্বিতীয় ম্যাচে দলকে জেতাতে দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের পর বোলিংয়েও উইকেট নিয়েছেন সাকিব।

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে গতকাল রাতে মুখোমুখি হয় জ্যামাইকা ও ট্রাইডেন্টস। ওই ম্যাচে টস জিতে শুরুতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় জ্যামাইকা। আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৫৪ রান করে সাকিব-সাঙ্গাকারা-সিমন্সদের জ্যামাইকা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১৪২ রান তুলতেই অলআউট হয়ে যায় ট্রাইডেন্টস। ফলে ১২ রানে জয় পায় সাকিবের জ্যামাইকা।
জ্যামাইকার হয়ে ব্যাট করতে নেমে দলের ব্যক্তিগত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ইনিংসটা সাকিবের কাছ থেকেই আসে। শেষ পর্যন্ত ৪৪ রানে অপরাজিত ছিলেন বাংলাদেশি এ অলরাউন্ডার। ৩২ বল মোকাবেলায় ৫ চার ১ ছক্কায় এ ইনিংস সাজান সাকিব। জ্যামাইকার হয়ে ব্যক্তিগত ৬০ রানের সর্বোচ্চ ইনিংসটা খেলেন ম্যাককার্থি। তার সঙ্গে পঞ্চম উইকেটে সর্বোচ্চ ৮৪ জুটি গড়েন সাকিব।

জয়ের জন্য ১৫৫ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরু থেকেই ছন্দহীন ছিল ট্রাইডেন্টস। দলীয় ৫১ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর ১০২রানে পৌঁছতেই মোট ৬ উইকেট হারিয়ে বসে দলটি। কাইরন পোলার্ড ৬২ রানের ইনিংস খেললেও জয়ের বন্দরে নোঙর করতে পারেনি দলটি। ১৪২ রানে অলআউট হয়ে যায় ট্রাইডেন্টস।

ব্যাটিংয়ের পর বোলিংয়েও আলো ছড়িয়েছেন সাকিব। বল হাতে ওয়াইন পার্নেলের উইকেটটি পেয়েছেন তিনি। তার সঙ্গে একটি করে উইকেট পাওয়া অন্য বোলাররা হলেন সান্তকি, কেসরিক উইলিয়ামস এবং ইমাদ ওয়াসিম। তবে মোহাম্মদ সামি একাই ৪ উইকেট নিয়ে ট্রাইডেন্টসের ব্যাটিংয়ে বড় বিপর্যয় আনেন।

17
ক্রিকেটের ঐতিহাসিক মাঠগুলোর ক্ষুদ্রতম তালিকাতেও ওভালের নাম থাকবে। এ মাঠেই নিজের শেষ ইনিংসে শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন ডন ব্র্যাডম্যান। কিন্তু একটি দুঃখ জড়িয়ে ছিল এ মাঠের সঙ্গে। বিশ্বের সেরা সেরা বোলারকেই ধোঁকা দিয়েছে এ মাঠ। অসাধারণ সব স্পেল দেখা ওভালে কখনো হ্যাটট্রিক করতে পারেননি কেউ। এ তথ্যটিও আজ থেকে মিথ্যা হয়ে গেল, আজ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে দলকে জয় এনে দিয়েছেন মঈন আলী।

সেটাও কোন ম্যাচে? দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ডের এ ম্যাচটি ছিল ওভালের সেঞ্চুরির দিন। ছেলেদের ক্রিকেটে ওভালের শততম টেস্ট ছিল এ ম্যাচ। এমন উপলক্ষে হতাশ হতে হয়নি ইংল্যান্ডকে। সফরকারীদের ২৩৯ রানে হারিয়েছে জো রুটের দল। সেটাও এল শততম টেস্টে ওভালের প্রথম হ্যাটট্রিকের সুবাদে। মঈনের অফ স্পিনেই শেষ হলো প্রোটিয়াদের সব প্রতিরোধ।
সিরিজের তৃতীয় টেস্ট যে প্রোটিয়ারা হারছে, সেটা গতকালই প্রায় নিশ্চিত বোঝা গেছে। আজও দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিংয়ে কোনো পরিবর্তন আসেনি। এক ডিন এলগার ছাড়া বাদবাকিরা শুধু আসা-যাওয়াতেই ব্যস্ত ছিলেন। একমাত্র কাঁটা হয়ে এলগারই ছিলেন। নিজের অষ্টম সেঞ্চুরিকে টেনে নিয়ে আশা জাগাচ্ছিলেন দলের। মঈনই সেই প্রতিরোধ ভাঙলেন। এলগারকে ম্যাচসেরা স্টোকসের ক্যাচ বানালেন। রাবাদাকেও সরালেন একই ফর্মুলায়। ওভার শেষ হয়ে গেল মঈনের।
পরের ওভারের প্রথম বলে এলবিডব্লিউর জোরালো আবেদন। আম্পায়ার না বলে দিলেও হাল ছাড়লেন না, রিভিউ নিয়ে ফেরালেন মরনে মরকেলকে। ২৫২ রানে অলআউট হলো দক্ষিণ আফ্রিকা। মঈনও সেই সঙ্গে পেয়ে গেলেন নিজের প্রথম হ্যাটট্রিক, ওভালও পেল। সেই সঙ্গে ইংল্যান্ডের আরেকটি হতাশাও ঘুচল। ১৯৩৮ সালে এই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেই হ্যাটট্রিক করেছিলেন টম গডার্ড। এরপর আর কোনো ইংলিশ স্পিনার টেস্টে হ্যাটট্রিক করতে পারেননি!
আর বেছে বেছে আজকের দিনটিতেই হ্যাটট্রিক করলেন মঈন? ১৯৫৬ সালে এ দিনেই তাঁর মতো আরেক অফ স্পিনার ইতিহাস গড়েছিলেন। টেস্টে কোনো বোলারের ১০ উইকেট নেওয়ার প্রথম উদাহরণ জিম লেকার তো আজকের দিনেই করে দেখিয়েছেন!

18
জম জম কুপের পানি আল্লাহর রহমতস্বরুপ। শিশু হজরত ইসমাইল (আঃ) ও তাঁর মা’কে যখন আল্লাহর নির্দেশে হজরত ইব্রাহিম (আঃ ) নির্জন মরুভুমিতে পরিত্যাগ করেন। তখন তার পায়ের আঘাতে জমজম কুপের উৎপত্তি হয়।মা হাজেরা কুপের চারপাশে চারটি পাথর দিয়ে সিমানা দিয়ে দেন তা না হলে সারা পৃথিবীতে জমজম কুপ ছড়িয়ে পড়ত।

জমজম মুসলমানদের জন্য খোদার পক্ষ হতে বিশেষ নেয়ামত। পৃথিবীর আশ্চর্য জিনিসের অন্যতম। জমজম কুপের পানি চৌদ্দশত বছর ধরে প্রবাহমান। বিশ্বের এমন কোন কুপ নেই যেটা ধারাবাহিকভাবে বহু শতাব্দি ধরে পানি সরবরাহ করছে। জমজম কূপের উৎস কী তা আজোও কেউ আবিষ্কার করতে পারেনি। হয়তোবা জান্নাতের কোন উৎস থেকে হবে। কোরআন হাদীসে জমজমের উৎস সর্ম্পকে কোন বর্ণনা নেই।

তবে জমজমের পানি সুপেয়। জমজমের পানি পান করার পূর্বে দোয়া করলে সে দোআ কবুল হওয়ার কথা সহীহ হাদীসে বর্ণিত আছে। জমজমের পানি বরকতময় পানি। বিজ্ঞ ব্যক্তিদের অভিমত হল এ পানির গুনাগুণ নষ্ট হয় না দীর্ঘদিন পর্যন্ত। ধর্র্মপ্রাণ মুসলমানগন হজ্জ্বের সময় সৌদি থেকে নিজেদের সাথে এ বরকতময় পানি সঙ্গে নিয়ে আসেন। পৃথীবিতে এর চেয়ে পবিত্র এবং বিশুদ্ধ পানি আর হতে পারে না। এজন্য হাজী সাহেবানগন হজ্জের সময়গুলোতে জমজমের পানি পান করেন।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জমজমের পানি যে যেই নিয়তে পান করবে, তার সেই নিয়ত পূরণ হবে। যদি তুমি এই পানি রোগমুক্তির জন্য পান কর, তাহলে আল্লাহ তোমাকে আরোগ্য দান করবেন। যদি তুমি পিপাসা মেটানোর জন্য পান কর, তাহলে আল্লাহ তোমার পিপাসা দূর করবেন। যদি তুমি ক্ষুধা দূর করার উদ্দেশ্যে তা পান কর, তাহলে আল্লাহ তোমার ক্ষুধা দূর করে তৃপ্তি দান করবেন। এটি জিবরাইল (আ.)-এর পায়ের গোড়ালির আঘাতে হজরত ইসমাইল (আ.)-এর পানীয় হিসেবে সৃষ্টি হয়েছে।’ (ইবনে মাজাহ ও আল-আজরাকি)

জমজমের পানি পান করার পদ্ধতি: ফুক্বাহায়ে কিরাম জমজমের পানি কিবলা দিকে ফিরে দাঁড়িয়ে পান করা মুস্তাহাব বলেছেন। তবে একদল ফুক্বাহায়ে কিরাম দাঁড়িয়ে পান করাকে মুস্তাহাব বলেন না, বরং জায়েজ বলে থাকেন। {ফাতওয়ায়ে শামী-১/২৫৪-২৫৫)


ফাইল ছবি
হযরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি জমজমের পানি পান করার সময় নিম্নোক্ত দুআটি পড়তেন- اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا وَرِزْقًا

وَاسِعًاوَشِفَاءً مِنْ كُلِّ دَاء

অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি উপকারী ইলম, আর প্রশস্ত রিজিক এবং সর্ব প্রকার রোগ থেকে মুক্তি। {দুরারুল হুক্কাম ফি শরহী গুরারিল আহকাম-১/২৩২}

দুআটির বাংলা উচ্চারণ-আল্লাহুম্মা ইন্নি আস আলুকা ইলমান নাফিআ, ওয়া রিজকান ওয়াসিআ, ওয়া শিফাআন মিন কুল্লি দা’ইন।

বিজ্ঞান প্রমান করে যে,জমজম কুপের পানি সর্ব উত্তম পানি:
(একজন ইঞ্জিনীয়ারের তথ্য থেকে- মাশারো ইমোটো)

এটাকে স্ফটিকায়ন করতে পারি নি, এমনকি পর্যন্ত পানিটি ১০০০ ভাগ পাতলা করার পরেও।
” অন্য কথায় তিনি ১ ঘন সেন্টিমিটিারকে ১ লিটারে রূপান্তর করেন। তিনি বলেন যে তিনি যখন পানিটি ১০০০ ভাগ পাতলা করেন এবং জমাটবদ্ধ করেন তিনি তখন একটি অনবদ্য আকারের স্ফটিক লাভ করেন। দুইটি স্ফটিক গঠিক হয় একটি অপরটির উপরে, কিন্তু এগুলি একটি অনন্য আকার গ্রহন করে। যখন তিনি তার মুসলিম সহকর্মীকে জিজ্ঞাসা করেন কেন দুটো স্ফটিক হলো তিনি তাকে বলেন যে যেহেতু জমজম দুইটি শব্দ দ্বারা গঠিত, “জম এবং জম”।

মাশারো ইমোটো বলেন, “আমার মুসলিম সহকর্মী পানির উপর কোরআনের আয়াত পাঠ করার প্রস্তাব দেয়”।
সে একটি টেপ রেকর্ডার নিয়ে আসে এবং কতগুলি কোরআনের আয়াত বাজায় এবং আমরা সবচাইতে নিখুত আকৃতির স্ফটিক লাভ করি। তার
পরে সে আল্লাহ (সর্বশক্তিমান) এর ৯৯টি নাম বাজায়। প্রতিটি নাম একটি অনবদ্ধ আকারের স্ফটিক তৈরি করে।

যখন ডাক্তার ইমোটো এইসব পরীক্ষা সম্পন্ন করেন যা ১৫ বছর স্থায়ী হয়েছিল তিনি একটি ৫ খন্ডের বই নির্মান করেন যার নাম হচ্ছে “পানির থেকে বার্তা”।

তিনি লেখেন, “আমি প্রমান করেছি যে পানি, ঐ বিশেষ তরলটি চিন্তা করার, মাপার, বোধ করার, উত্তেজিত হওয়ার এবং নিজেকে প্রকাশ করার ক্ষমতা রাখে”। ডাক্তার মাশারো ইমোটো নিম্নোক্তভাবে লিখেছেন, জমজম পানির গুণ/বিশুদ্ধতা এই পৃথিবীর অন্য কোথাও পানিতে এর যে গুণ আছে তা পাওয়া যাবে না।
তিনি নানো নামের প্রযুক্তি ব্যবহার করেন, এবং জমজম পানির উপর প্রচুর গবেষনা করেন এবং দেখতে পান যে যদি জমজম পানির ফোটা নিয়মিত পানির ১০০০ ফোটাতেও মিশ্রিত হয় তবুও নিয়মিত পানি জমজম পানির মত সমান গুণ লাভ করবে। তিনি আরো দেখতে পান যে জমজম পানির এক ফোটাতে একটি খনিজ পদার্থের এর নিজস্ব গুরুত্ব রয়েছে যা এই পৃথিবীর অন্যকোন পানিতে পাওয়া যাবে না। তিনি কিছু পরীক্ষাতে দেখতে পান যে জমজম পানির গুণ বা উপকরণ পরিবর্তন করা যায় না, কেন, বিজ্ঞান এর কারণ জানে না। তিনি এমনকি পর্যন্ত জমজম পানির পুন-প্রক্রিয়াজাত করেন, কিন্তু কোন পরিবর্তন হয় নি, এটা বিশুদ্ধ ছিল।

এই বিজ্ঞানী আবিষ্কার করেন যে মুসলমানেরা খাওয়া বা পান করার আগে বিসমিল্লাহ বলে। তিনি বলেন যে নিয়মিত পানিতে বিসমিল্লাহ বলা হলে এর ফলে নিয়মিত পানির গুণে কতগুলি অদ্ভুত পরিবর্তন ঘটে।
এর ফলে এটা সবোর্ত্তম পানি হয়।

তিনি আরো দেখতে পান যে যদি নিয়মিত পানির উপর কোরআন পাঠ করা হয় তা হলে এটা বিভিন্ন ব্যাধি চিকিৎসার জন্য ক্ষমতা লাভ করে। সুবহানাল্লাহ! নিশ্চয় আল্লাহর এটা একটি কুদরত। জমজম পানি পর্যায় ভূ-পৃষ্ঠের প্রায় ১০.৬ ফুট নিচে এটা আল্লাহর কুদরত যে জমজম ক্রমাগত প্রতি সেকেন্ডে ৮০০০ লিটার হারে ২৪ ঘন্টার বেশি সময় ধরে পাম্প করা হয় তখন পানির পর্যায় ভূ-পৃষ্ঠের প্রায় ৪৪ ফুট নিচে নেমে যায়, কিন্তু যখন পাম্প করা বন্ধ করা হয় তখন পর্যায় দ্রুত ১১ মিনিট পরে আবার ১৩ ফুট উচ্চতায় ফিরে আসে। প্রতি সেকেন্ড ৮০০০ লিটার অর্থ হল ৮০০০ x ৬০ = ৪,৮০,০০০ লিটার প্রতি মিনিটে, প্রতি মিনিটে ৪,৮০,০০০ লিটারের অর্থ হল ৪,৮০,০০০ x ৬০ = ২৮.৮ মিলিয়ন লিটার প্রতি ঘন্টায় এবং প্রতি ঘন্টায় ২৮.৮ মিলিয়ন লিটার মানে হচ্ছে ২৮৮০০০০০ x ২৪ = ৬৯১.২ মিলিয়ন লিটার প্রতি দিনে।

তাই তারা ২৪ ঘন্টায় ৬৯০ মিলিয়ন লিটার জমজম পানি পাম্প করে, কিন্তু এটা কেবলমাত্র ১১ মিনিটে আবার পূর্ণ হয়।
এখানে দুইটা কুদরত আছে:
★প্রথমটি হলো জমজম দ্রুত পুনর্ভর্তি হয় এবং
★দ্বিতীয় হলো আল্লাহ অসামান্য শক্তিশালী একুফার ধারণ করেন যা কুপের বাইরে কোন অতিরিক্ত জমজম পানি নিক্ষেপ করে না। অন্যথায় পৃথিবী ডুবে যেত।
আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন যে, “আমরা তাড়াতাড়ি তাদেরকে বিশ্ব ভ্রমান্ডে আমাদের চিহ্ন দেখাব এবং তাদের নিজস্ব আত্মায় আমাদের চিহ্ন দেখাব, যতক্ষণ না পর্যন্ত এটা তাদের কাছে পরিষ্কার হয় যে এটা হচ্ছে সত্য। এটাকি আপনার প্রভু সম্পর্কে যথেষ্ট না যে তিনি সকল জিনিসের উপরে একজন স্বাক্ষী?

19
Business and Economics / I know what is poversty
« on: July 24, 2017, 12:26:00 PM »
আমার জন্ম জামালপুর জেলার এক অজপাড়াগাঁয়ে। ১৪ কিলোমিটার দূরের শহরে যেতে হতো পায়ে হেঁটে বা সাইকেলে চড়ে। পুরো গ্রামের মধ্যে একমাত্র মেট্রিক পাস ছিলেন আমার চাচা মফিজউদ্দিন। আমার বাবা একজন অতি দরিদ্র ভূমিহীন কৃষক। আমরা পাঁচ ভাই, তিন বোন। কোনরকমে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটতো আমাদের।
আমার দাদার আর্থিক অবস্থা ছিলো মোটামুটি। কিন্তু তিনি আমার বাবাকে তাঁর বাড়িতে ঠাঁই দেননি। দাদার বাড়ি থেকে খানিকটা দূরে একটা ছনের ঘরে আমরা এতগুলো ভাই-বোন আর বাবা-মা থাকতাম। মা তাঁর বাবার বাড়ি থেকে নানার সম্পত্তির সামান্য অংশ পেয়েছিলেন। তাতে তিন বিঘা জমি কেনা হয়। চাষাবাদের জন্য অনুপযুক্ত ওই জমিতে বহু কষ্টে বাবা যা ফলাতেন, তাতে বছরে ৫/৬ মাসের খাবার জুটতো। দারিদ্র্য কী জিনিস, তা আমি মর্মে মর্মে উপলব্ধি করেছি- খাবার নেই, পরনের কাপড় নেই; কী এক অবস্থা !
আমার মা সামান্য লেখাপড়া জানতেন। তাঁর কাছেই আমার পড়াশোনার হাতেখড়ি। তারপর বাড়ির পাশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হই। কিন্তু আমার পরিবারে এতটাই অভাব যে, আমি যখন তৃতীয় শ্রেণিতে উঠলাম, তখন আর পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকলো না। বড় ভাই আরো আগে স্কুল ছেড়ে কাজে ঢুকেছেন। আমাকেও লেখাপড়া ছেড়ে রোজগারের পথে নামতে হলো।
আমাদের একটা গাভী আর কয়েকটা খাসি ছিল। আমি সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ওগুলো মাঠে চরাতাম। বিকেল বেলা গাভীর দুধ নিয়ে বাজারে গিয়ে বিক্রি করতাম। এভাবে দুই ভাই মিলে যা আয় করতাম, তাতে কোনোরকমে দিন কাটছিল। কিছুদিন চলার পর দুধ বিক্রির আয় থেকে সঞ্চিত আট টাকা দিয়ে আমি পান-বিড়ির দোকান দেই। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দোকানে বসতাম। পড়াশোনা তো বন্ধই, আদৌ করবো-সেই স্বপ্নও ছিল না!
এক বিকেলে বড় ভাই বললেন, আজ স্কুল মাঠে নাটক হবে। স্পষ্ট মনে আছে, তখন আমার গায়ে দেওয়ার মতো কোনো জামা নেই। খালি গা আর লুঙ্গি পরে আমি ভাইয়ের সঙ্গে নাটক দেখতে চলেছি। স্কুলে পৌঁছে আমি তো বিস্ময়ে হতবাক! চারদিকে এত আনন্দময় চমৎকার পরিবেশ! আমার মনে হলো, আমিও তো আর সবার মতোই হতে পারতাম। সিদ্ধান্ত নিলাম, আমাকে আবার স্কুলে ফিরে আসতে হবে।
নাটক দেখে বাড়ি ফেরার পথে বড় ভাইকে বললাম, আমি কি আবার স্কুলে ফিরে আসতে পারি না? আমার বলার ভঙ্গি বা করুণ চাহনি দেখেই হোক কিংবা অন্য কোনো কারণেই হোক কথাটা ভাইয়ের মনে ধরলো। তিনি বললেন, ঠিক আছে কাল হেডস্যারের সঙ্গে আলাপ করবো।
পরদিন দুই ভাই আবার স্কুলে গেলাম। বড় ভাই আমাকে হেডস্যারের রুমের বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখে ভিতরে গেলেন। আমি বাইরে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট শুনছি, ভাই বলছেন আমাকে যেন বার্ষিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগটুকু দেওয়া হয়। কিন্তু হেডস্যার অবজ্ঞার ভঙ্গিতে বললেন, সবাইকে দিয়ে কি লেখাপড়া হয়! স্যারের কথা শুনে আমার মাথা নিচু হয়ে গেল। যতখানি আশা নিয়ে স্কুলে গিয়েছিলাম, স্যারের এক কথাতেই সব ধুলিস্মাৎ হয়ে গেল। তবু বড় ভাই অনেক পীড়াপীড়ি করে আমার পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি যোগাড় করলেন। পরীক্ষার তখন আর মাত্র তিন মাস বাকি। বাড়ি ফিরে মাকে বললাম, আমাকে তিন মাসের ছুটি দিতে হবে। আমি আর এখানে থাকবো না। কারণ ঘরে খাবার নেই, পরনে কাপড় নেই-আমার কোনো বইও নেই, কিন্তু আমাকে পরীক্ষায় পাস করতে হবে।
মা বললেন, কোথায় যাবি? বললাম, আমার এককালের সহপাঠী এবং এখন ক্লাসের ফার্স্টবয় মোজাম্মেলের বাড়িতে যাবো। ওর মায়ের সঙ্গে আমার পরিচয় আছে। যে কদিন কথা বলেছি, তাতে করে খুব ভালো মানুষ বলে মনে হয়েছে। আমার বিশ্বাস, আমাকে উনি ফিরিয়ে দিতে পারবেন না।
দুরু দুরু মনে মোজাম্মেলের বাড়ি গেলাম। সবকিছু খুলে বলতেই খালাম্মা সানন্দে রাজি হলেন। আমার খাবার আর আশ্রয় জুটলো; শুরু হলো নতুন জীবন। নতুন করে পড়াশোনা শুরু করলাম। প্রতিক্ষণেই হেডস্যারের সেই অবজ্ঞাসূচক কথা মনে পড়ে যায়, জেদ কাজ করে মনে; আরো ভালো করে পড়াশোনা করি।
যথাসময়ে পরীক্ষা শুরু হলো। আমি এক-একটি পরীক্ষা শেষ করছি আর ক্রমেই যেন উজ্জীবিত হচ্ছি। আমার আত্মবিশ্বাসও বেড়ে যাচ্ছে। ফল প্রকাশের দিন আমি স্কুলে গিয়ে প্রথম সারিতে বসলাম। হেডস্যার ফলাফল নিয়ে এলেন। আমি লক্ষ করলাম, পড়তে গিয়ে তিনি কেমন যেন দ্বিধান্বিত। আড়চোখে আমার দিকে তাকাচ্ছেন। তারপর ফল ঘোষণা করলেন। আমি প্রথম হয়েছি! খবর শুনে বড় ভাই আনন্দে কেঁদে ফেললেন। শুধু আমি নির্বিকার-যেন এটাই হওয়ার কথা ছিল।
বাড়ি ফেরার পথে সে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। আমি আর আমার ভাই গর্বিত ভঙ্গিতে হেঁটে আসছি। আর পিছনে এক দল ছেলেমেয়ে আমাকে নিয়ে হৈ চৈ করছে, স্লোগান দিচ্ছে। সারা গাঁয়ে সাড়া পড়ে গেল! আমার নিরক্ষর বাবা, যাঁর কাছে ফার্স্ট আর লাস্ট একই কথা-তিনিও আনন্দে আত্মহারা; শুধু এইটুকু বুঝলেন যে, ছেলে বিশেষ কিছু একটা করেছে। যখন শুনলেন আমি ওপরের কাসে উঠেছি, নতুন বই লাগবে, পরদিনই ঘরের খাসিটা হাটে নিয়ে গিয়ে ১২ টাকায় বিক্রি করে দিলেন। তারপর আমাকে সঙ্গে নিয়ে জামালপুর গেলেন। সেখানকার নবনূর লাইব্রেরি থেকে নতুন বই কিনলাম।
আমার জীবনযাত্রা এখন সম্পূর্ণ বদলে গেছে। আমি রোজ স্কুলে যাই। অবসরে সংসারের কাজ করি। ইতিমধ্যে স্যারদের সুনজরে পড়ে গেছি। ফয়েজ মৌলভী স্যার আমাকে তাঁর সন্তানের মতো দেখাশুনা করতে লাগলেন। সবার আদর, যত্ন, স্নেহে আমি ফার্স্ট হয়েই পঞ্চম শ্রেণিতে উঠলাম। এতদিনে গ্রামের একমাত্র মেট্রিক পাস মফিজউদ্দিন চাচা আমার খোঁজ নিলেন। তাঁর বাড়িতে আমার আশ্রয় জুটলো।
প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে আমি দিঘপাইত জুনিয়র হাইস্কুলে ভর্তি হই। চাচা ওই স্কুলের শিক্ষক। অন্য শিক্ষকরাও আমার সংগ্রামের কথা জানতেন। তাই সবার বাড়তি আদর-ভালোবাসা পেতাম।
আমি যখন সপ্তম শ্রেণি পেরিয়ে অষ্টম শ্রেণিতে উঠবো, তখন চাচা একদিন কোত্থেকে যেন একটা বিজ্ঞাপন কেটে নিয়ে এসে আমাকে দেখালেন। ওইটা ছিল ক্যাডেট কলেজে ভর্তির বিজ্ঞাপন। যথাসময়ে ফরম পুরণ করে পাঠালাম। এখানে বলা দরকার, আমার নাম ছিল আতাউর রহমান। কিন্তু ক্যাডেট কলেজের ভর্তি ফরমে স্কুলের হেডস্যার আমার নাম আতিউর রহমান লিখে চাচাকে বলেছিলেন, এই ছেলে একদিন অনেক বড় কিছু হবে। দেশে অনেক আতাউর আছে। ওর নামটা একটু আলাদা হওয়া দরকার; তাই আতিউর করে দিলাম।
আমি রাত জেগে পড়াশোনা করে প্রস্তুতি নিলাম। নির্ধারিত দিনে চাচার সঙ্গে পরীক্ষা দিতে রওনা হলাম। ওই আমার জীবনে প্রথম ময়মনসিংহ যাওয়া। গিয়ে সবকিছু দেখে তো চক্ষু চড়কগাছ! এত এত ছেলের মধ্যে আমিই কেবল পায়জামা আর স্পঞ্জ পরে এসেছি! আমার মনে হলো, না আসাটাই ভালো ছিল। অহেতুক কষ্ট করলাম। যাই হোক পরীক্ষা দিলাম; ভাবলাম হবে না। কিন্তু দুই মাস পর চিঠি পেলাম, আমি নির্বাচিত হয়েছি। এখন চূড়ান্ত পরীক্ষার জন্য ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে যেতে হবে।
সবাই খুব খুশি; কেবল আমিই হতাশ। আমার একটা প্যান্ট নেই, যেটা পরে যাবো। শেষে স্কুলের কেরানি কানাই লাল বিশ্বাসের ফুলপ্যান্টটা ধার করলাম। আর একটা শার্ট যোগাড় হলো। আমি আর চাচা অচেনা ঢাকার উদ্দেশে রওনা হলাম। চাচা শিখিয়ে দিলেন, মৌখিক পরীক্ষা দিতে গিয়ে আমি যেন দরজার কাছে দাঁড়িয়ে বলি: ম্যা আই কাম ইন স্যার? ঠিকমতোই বললাম। তবে এত উচ্চস্বরে বললাম যে, উপস্থিত সবাই হো হো করে হেসে উঠলো।
পরীক্ষকদের একজন মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজের অধ্যক্ষ এম. ডাব্লিউ. পিট আমাকে আপাদমস্তক নিরীক্ষণ করে সবকিছু আঁচ করে ফেললেন। পরম স্নেহে তিনি আমাকে বসালেন। মুহূর্তের মধ্যে তিনি আমার খুব আপন হয়ে গেলেন। আমার মনে হলো, তিনি থাকলে আমার কোনো ভয় নেই। পিট স্যার আমার লিখিত পরীক্ষার খাতায় চোখ বুলিয়ে নিলেন। তারপর অন্য পরীক্ষকদের সঙ্গে ইংরেজিতে কী-সব আলাপ করলেন। আমি সবটা না বুঝলেও আঁচ করতে পারলাম যে, আমাকে তাঁদের পছন্দ হয়েছে। তবে তাঁরা কিছুই বললেন না। পরদিন ঢাকা শহর ঘুরে দেখে বাড়ি ফিরে এলাম। যথারীতি পড়াশোনায় মনোনিবেশ করলাম। কারণ আমি ধরেই নিয়েছি, আমার চান্স হবে না।
হঠাৎ তিন মাস পর চিঠি এলো। আমি চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছি। মাসে ১৫০ টাকা বেতন লাগবে। এর মধ্যে ১০০ টাকা বৃত্তি দেওয়া হবে, বাকি ৫০ টাকা আমার পরিবারকে যোগান দিতে হবে। চিঠি পড়ে মন ভেঙে গেল। যেখানে আমার পরিবারের তিনবেলা খাওয়ার নিশ্চয়তা নেই, আমি চাচার বাড়িতে মানুষ হচ্ছি, সেখানে প্রতিমাসে ৫০ টাকা বেতন যোগানোর কথা চিন্তাও করা যায় না!
এই যখন অবস্থা, তখন প্রথমবারের মতো আমার দাদা সরব হলেন। এত বছর পর নাতির (আমার) খোঁজ নিলেন। আমাকে অন্য চাচাদের কাছে নিয়ে গিয়ে বললেন, তোমরা থাকতে নাতি আমার এত ভালো সুযোগ পেয়েও পড়তে পারবে না? কিন্তু তাঁদের অবস্থাও খুব বেশি ভালো ছিল না। তাঁরা বললেন, একবার না হয় ৫০ টাকা যোগাড় করে দেবো, কিন্তু প্রতি মাসে তো সম্ভব নয়। দাদাও বিষয়টা বুঝলেন।
আমি আর কোনো আশার আলো দেখতে না পেয়ে সেই ফয়েজ মৌলভী স্যারের কাছে গেলাম। তিনি বললেন, আমি থাকতে কোনো চিন্তা করবে না। পরদিন আরো দুইজন সহকর্মী আর আমাকে নিয়ে তিনি হাটে গেলেন। সেখানে গামছা পেতে দোকানে দোকানে ঘুরলেন। সবাইকে বিস্তারিত বলে সাহায্য চাইলেন। সবাই সাধ্য মতো আট আনা, চার আনা, এক টাকা, দুই টাকা দিলেন। সব মিলিয়ে ১৫০ টাকা হলো। আর চাচারা দিলেন ৫০ টাকা। এই সামান্য টাকা সম্বল করে আমি মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজে ভর্তি হলাম। যাতায়াত খরচ বাদ দিয়ে আমি ১৫০ টাকায় তিন মাসের বেতন পরিশোধ করলাম। শুরু হলো অন্য এক জীবন।
প্রথম দিনেই এম. ডাব্লিউ. পিট স্যার আমাকে দেখতে এলেন। আমি সবকিছু খুলে বললাম। আরো জানালাম যে, যেহেতু আমার আর বেতন দেওয়ার সামর্থ্য নেই, তাই তিন মাস পর ক্যাডেট কলেজ ছেড়ে চলে যেতে হবে। সব শুনে স্যার আমার বিষয়টা বোর্ড মিটিঙে তুললেন এবং পুরো ১৫০ টাকাই বৃত্তির ব্যবস্থা করে দিলেন। সেই থেকে আমাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এসএসসি পরীক্ষায় ঢাকা বোর্ডে পঞ্চম স্থান অধিকার করলাম এবং আরো অনেক সাফল্যের মুকুট যোগ হলো।
আমার জীবনটা সাধারণ মানুষের অনুদানে ভরপুর। পরবর্তীকালে আমি আমার এলাকায় স্কুল করেছি, কলেজ করেছি। যখন যাকে যতটা পারি, সাধ্যমতো সাহায্য সহযোগিতাও করি। কিন্তু সেই যে হাট থেকে তোলা ১৫০ টাকা; সেই ঋণ আজও শোধ হয়নি। আমার সমগ্র জীবন উৎসর্গ করলেও সেই ঋণ শোধ হবে না!

20
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন নিজামী বলেছেন, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে হলে আগে মৌলিক কিছু বিষয় জানতে হবে। না হলে ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারেন।

আজ শনিবার রাজশাহীতে চলমান বিনিয়োগ শিক্ষা প্রশিক্ষণের উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন। দেশব্যাপী বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে রাজশাহীর সাহেববাজারে মুনলাইট কমিউনিটি সেন্টারে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
বিএসইসির পরিচালক ফারহানা ফারুকের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত আছেন অর্থমন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব নাসির উদ্দিন, বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক মোঃ মাহবুবুল আলম, ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আহমেদ রশিদ লালী, ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেএএম মাজেদুর রহমান ও সিডিবিএলের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক শুভ্র কান্তি চৌধুরী। অনুষ্ঠানে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএসইসির পরিচালক রেজাউল করিম।

হেলাল উদ্দিন নিজামী বলেন, দীর্ঘ মেয়াদে একটি স্থিতিশীল পুঁজিবাজার গঠন করতে কাজ করছে বিএসইসি। স্থিতিশীল পুঁজিবাজার গঠন করার জন্য ভালো বিনিয়োগকারী প্রয়োজন। এই বিনিয়োগকারী তৈরি করার জন্য দেশব্যাপী কার্যক্রম পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

তিনি বলেন, আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে অনেক ভালো অবস্থায় আছে পুঁজিাজার। কারণ ২০১০ সালে পুঁজিবাজারে সমস্যা হওয়ার পর বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সংস্কার হয়েছে আমাদের পুঁজিবাজারে। কোন কোন জায়গায় সমস্যা, সেই বিষয়গুলো আমরা শনাক্ত করেছি। ওই আলোকে কাজ করছে কমিশন। ওই সংস্কারের সুফল পেতে শুরু করেছে বাজার। এখন চাইলেই কেউ আগের মত কারসাজি করতে পারবে না।

শিল্প উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, কোনো ধরণের খরচ ছাড়া আপনারা পুঁজিবাজার থেকে টাকা তুলতে পারেন। ব্যাংক ঋণ থেকে বের হতে হবে উদ্যোক্তাদের। এর জন্য বিপ্লবের প্রয়োজন। তবে দুই নম্বর-ছয় নম্বর কাগজ দিয়ে টাকা তোলার জায়গা পুঁজিবাজার নয়।

তিনি বলেন, পারিবারিক দায়বদ্ধাতা থেকে বের হতে পুঁজিবাজার থেকে টাকা নিয়ে শিল্পায়ন করা যেতে পারে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হলে কোম্পানির মধ্যে স্বচ্ছতা ও জবাবদীহিতা বাড়বে। একই সঙ্গে দীর্ঘ মেয়াদে আপনার কোম্পানি টিকে থাকবে।

পুঁজিবাজারের সম্প্রসারণে বিএসইসি কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা ন্যাশনাল সিকিউরিটিজ অ্যাকাডেমি প্রতিষ্ঠা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এর মাধ্যমে আমরা আগামী দিনের বিনিয়োগকারী ও যারা বাজার পরিচালনা করবেন সেই জনশক্তি তৈরি করতে পারবো। মানুষের ভুল ধারণার অবসান ঘটিয়ে পুঁজিবাজারকে গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

21
বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা কত দিন খেলবেন, ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত আদৌ তিনি খেলতে পারবেন কি না, এ নিয়ে উঠেছে কিছু প্রশ্ন। তবে আজ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পরিষ্কার করে দিয়েছেন সব। মাশরাফি যত দিন ইচ্ছা বাংলাদেশ দলের হয়ে খেলতে পারবেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, বাংলাদেশ দলে এখন পর্যন্ত মাশরাফির বিকল্প তৈরি হয়নি।

নাজমুল বলেছেন, ‘মাশরাফি যত দিন ইচ্ছা তত দিন খেলবে। তাকে ওয়ানডে দলের অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার কোনো চিন্তা বোর্ডের নেই। মাশরাফির বিকল্পও এখনো তৈরি হয়নি।’

কৌতূহলীদের প্রশ্ন মূলত ২০১৯ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে। মাশরাফি কি ওই বিশ্বকাপেও বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবেন? তত দিন খেলা চালিয়ে যেতে পারবেন তো! নাকি বিকল্প কিছু ভাবছে বিসিবি? দু-তিন দিন আগে এক সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান মাশরাফির টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে একটি প্রক্রিয়া শুরুর কথা বলেছিলেন। কিন্তু তিনি একবারও বলেননি, তাঁরা মাশরাফির বিকল্প খুঁজছেন। তবে কিছু প্রশ্ন এর পর থেকে হাওয়ায় ভাসতে থাকে। তবে আজকের সংবাদ সম্মেলনের পর এর সবই অবসান হবে নিশ্চয়ই।

এর আগে মাশরাফি প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ‘পারফরম্যান্স ঠিক থাকলে আমি খেলে যাব। কারণ, খেলাটা এখনো উপভোগ করছি। আমি এখন যেমন খেলছি, তাতে উপভোগ না করার কোনো কারণ দেখছি না। আর আমি তো বিসিবির কাছ থেকে অধিনায়কত্ব চেয়ে নিইনি, বিসিবিই আমাকে দায়িত্ব দিয়েছে। এখন বিসিবি যদি মনে করে দায়িত্বটা অন্য কাউকে দেবে তো দিতেই পারে। আমি অধিনায়কত্বের জন্য খেলি না। আমি খেলোয়াড়, সে জন্যই খেলি। ২০১৯ বিশ্বকাপের কথা বললে এখানে ফিটনেসটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ফর্মও ভালো থাকতে হবে। এ দুটো ঠিক থাকলে ২০১৯ বিশ্বকাপ আমি কেন খেলতে চাইব না! সব ঠিক থাকলে অবশ্যই আমার তত দিন খেলা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা আছে।’

22
চিকুনগুনিয়া ভাইরাসের চেয়েও দ্রুত ছড়াচ্ছে ক্রিকেটজ্বর। টিম মাশরাফি সেমিফাইনালে উঠে ক্রিকেট-দুনিয়ার কল্কে উল্টিয়েই দিয়েছে প্রায়। কিন্তু ওস্তাদ মাশরাফির শেষ রাতের মাইর এখনো বাকি। খেলাটা হওয়ার কথা ১৫ তারিখ সন্ধ্যায়। সে সন্ধ্যায় বাংলাদেশ যদি জিতেই যায়, আক্ষরিকভাবেই সেটা হবে ভারত-পাকিস্তান-ইংল্যান্ডের জন্য কলির সন্ধ্যার অশুভ সূচনা। সাফল্য সাফল্য ডেকে আনে। সেমিফাইনালে উত্তরণের আত্মবিশ্বাস বাংলাদেশ দলকে সাহসী করে তুলছে। সে রকম মুডই দেখা যাচ্ছে। ক্রিকেট দলে যতটা, তার চেয়েও বেশি দর্শক-ভক্তদের মধ্যে।

ক্রিকেটীয় পরাশক্তিদের জন্য কলির সন্ধ্যা আশা করা তাই পাতলা খোয়াব না, তা রীতিমতো সম্ভাবনা। কেননা, ক্রিকেটের নিয়তি এবার র‍্যাঙ্কিংয়ের নিচের দলের পক্ষে। ভাগ্যের সহায়তায় অস্ট্রেলিয়াকে এবং দারুণ নিপুণতায় নিউজিল্যান্ডকে বিদায় করে বাংলাদেশ উঠে এল সেমিফাইনালে। সেখানেই শুরু। এর পর থেকে র‍্যাংকিংয়ের ওপরের দলগুলি নিচের দলকে আর হারাতেই পারছে না। পাকিস্তানও জয়ের শিখর থেকে ফেলে দিল র‍্যাঙ্কিংয়ে ওপরে থাকা শ্রীলঙ্কাকে। অঘটন গোড়া থেকেই হয়ে আসছে। তাই বাংলাদেশের পক্ষে মধুর অঘটনের সম্ভাবনায় বিভোর দেশবাসী। সে উত্তেজনায় ফেসবুক ঘুমাচ্ছে না। রাত জেগে গবেষণা চলছে, কী থেকে কী হবে আর না হবে। আশার পারদ এক লাফে মগডালে উঠে বসে আছে। উঠে দেখে, আরও উঁচা উঁচা ডালে বসে আছে ইংল্যান্ড, ভারত, এমনকি পাকিস্তানও। বসে চোখ টিপছে আমাদের দিকে। আশা-ভরসা তাদের আরো বেশি।

জাতীয় পুরুষ ক্রিকেট দলে জাতির পুরুষ-স্বভাবের প্রতিফলন দারুণভাবেই দেখা যায়। বাঙালি এমনই। আবেগে-উত্তেজনায় কখনো বিরাট কিছু করে বসে। জলোচ্ছ্বাসের মতো আবেগ জাগে, আমরা লার্জার দ্যান লাইফ কিছু করে ফেলি। আবার দেখা যায়, আবেগের বেলুন বুদ্ধির ফেরে পড়ে চুপসে যায়। আমরা হেরে যাই। লক্ষ্যে পৌঁছানোর ‘কিলার ইনস্টিংক্ট’ আমাদের কম। দুর্ধর্ষ শিকারি পুরো পাখিটাও দেখে না, দেখে শুধু তীর বিঁধাবার জায়গাটা। নিশানার দিকে একমনে তাকিয়ে থাকার ধৈর্য আমরা হারিয়ে ফেলি। আমাদের আবেগ যত, ইচ্ছাশক্তি ও সংকল্পের জোর ততটা নয়। কিন্তু মাশরাফি আলাদা হয়ে উঠেছেন। বাঙালিসুলভ ‘আমি’ ভাব তাঁর কম, একটানা লেগে থাকা বেশি। তাঁর গুণটা দলের মধ্যেও সংক্রমিত হচ্ছে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সাকিব-মাহমুদুল্লাহ যে সংকল্প ও দুর্দমনীয় নৈপুণ্য দেখাল, তাও বাঙালি স্বভাবে বিরল। এসব দেখে আশায় বসত করতে কার না ইচ্ছা হবে? জ্বি শেবাগ, এই বাংলাদেশকে গোণায় ধরতে হবেই।

ভারতীয় দলের তারকা খেলোয়াড় শেবাগের মন্তব্য নিয়ে দিকে দিকে শোরগোল। ওদিকে রটানো হলো, ইমরান খানও আমাদের কটু কথা বলেছেন। কে শুনেছে, কে দেখেছে তার বালাই নেই, দম মওলা বলে দল বেঁধে ইমরানের গুষ্টি উদ্ধারের পর দেখা গেল, তিনি আসলে ভারতের কাছে পরাজয়ের জন্য পাকিস্তানকেই গঞ্জনা দিয়েছেন। বাংলাদেশ নিয়ে মুখ খোলার ফুরসত তিনি পাননি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছেলেভুলানো ছড়ার কথা মনে পড়ল,

‘কে মেরেছে, কে ধরেছে, কে দিয়েছে গাল।
তার সঙ্গে গোসা করে ভাত খাও নি কাল॥
কে মেরেছে, কে ধরেছে, কে দিয়েছে গাল।
তার সঙ্গে কোঁদল করে আসব আমি কাল॥’

কাল নয়, কোঁদল ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। আগেকার দিনের মানুষেরা শিকারের আগে দেয়ালে দাগ কেটে তির ছুড়ে ছায়াশিকার করতেন। আর ভাবতেন আসল শিকারও এমন অব্যর্থ হবে। ফেসবুকে-গণমাধ্যমে সেই ছায়াযুদ্ধের উদ্বোধন ঘটে গেছে। একদিকে ব্রিটিশ পরাশক্তি, অন্যদিকে উপমহাদেশের তিন প্রতিদ্বন্দ্বী: ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ। ঔপনিবেশিক আমলেও ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্য ছিল না, আজও নাই। ইংল্যান্ড নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে না ত্রিদেশীয় ভক্তরা। তাদের যাবতীয় গোস্যা উপমহাদেশীয় ভাই-বেরাদরদের বিরুদ্ধে। ‘আমরা সবাই শত্রু আমাদেরই সবার বিরুদ্ধে’—এই নিয়মে ফেসবুকীয় ছায়াযুদ্ধ চলছে। ইন্ধন জোগাচ্ছে কিছু দায়িত্বজ্ঞানহীন অনলাইন পোর্টাল। পেশাদার ধুনকরেরাও নিজ নিজ ধুনে টাইট দেওয়া শুরু করেছেন। প্রতিপক্ষকে কথা দিয়ে তুলাধুনা করায় তাঁরা অনুপম। ব্যাপক আয়োজন, তুমুল মনোভাব। কিসের নির্মল বিনোদন, এ তো পুরোদস্তুর যুদ্ধের ডামাডোল।


ক্রিকেট বাস্তবতা ভোলানোর আফিম না হয়ে, দেশপ্রেমের টনিক হোক

জার্মান সমরবিদ ক্লসেভিৎজ বলেছিলেন, রাজনীতি হলো অন্য উপায়ে চালানো যুদ্ধ। যুদ্ধকে তিনি শিল্পের মর্যাদাও দিতেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যে যুদ্ধের আমেজ, ভক্তদের রেষারেষি, তা বোঝাচ্ছে ক্রিকেট হলো অন্য উপায়ে চালানো যুদ্ধ এবং ইহাও শৈল্পিক। তবে খেলোয়াড়দের প্রতিযোগিতায় যে শিল্প থাকে, ভক্তদের অনেকের ভাষা তার সম্পূর্ণ বিপরীত। গত বিশ্বকাপে ভারতীয় পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে নিয়ে করা অবমাননাকর ‘মওকা মওকা’ বিজ্ঞাপন, ফেসবুক ট্রলে এর ভূরি ভূরি প্রমাণ ছিল। জবাবে আমরাও কম যাইনি। এবারও হিংসার হাওয়া উড়ু উড়ু করছে। জেগে উঠেছে ক্রিকেটীয় জাতীয়তাবাদ। ফরাসি রাষ্ট্রনেতা চার্লস দ্য গ্যল বলেছিলেন, নিজের দেশকে ভালোবাসা দেশপ্রেম, আর অপর জাতিকে ঘৃণা করা হলো জাতীয়তাবাদ। ক্রিকেটের বেলায় এই বক্তব্য ষোলো আনাই ফলেছে। খেলা তাই শুধু খেলা নয়, তা জাতীয়তাবাদের কোমল অস্ত্র এবং অস্ত্রটি অতীব ধারালো। এ এক দুধারী তলোয়ার, যার হাতল নেই। নিজের হাত রক্তাক্ত না করে এ দিয়ে প্রতিপক্ষকে আঘাত করা যায় না।

গত বিশ্বকাপের ঘটনা। ইংল্যান্ডকে দুর্দান্ত দাপটে হারিয়ে লাল-সবুজ পতাকা মাথায় বেঁধে তরুণ অধিনায়ক মিডিয়া-মঞ্চে এলেন। তাঁকে দেখে অনাস্বাদিত সুখে বিহ্বল হয়ে গিয়েছিল বিদেশে জন্মানো ও বড় হওয়া বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তারুণ্য। এ এক অদ্ভুত অনুভূতি, লোকে যাকে দেশপ্রেম বলে। কিন্তু প্রতিপক্ষকে ঘৃণা করে বলা কথায় চাঙ্গা হয় জঙ্গি জাতীয়তাবাদ। আজকের দুনিয়ার অনেক দুর্দশার জন্ম এ রকম ঘৃণা থেকেই।

কিন্তু একজন অন্য রকম। তাঁর নাম মাশরাফি মুর্তজা। তাঁর কথাগুলোই আবার মনে করিয়ে দিই, ‘কিছু হলেই আমরা বলি, এই ১১ জন ১৬ কোটি মানুষের প্রতিনিধি। আন্দাজে! তিন কোটি লোকও হয়তো খেলা দেখেন না। দেখলেও তাঁদের জীবন-মরণ খেলায় না। মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেন রাজনীতিবিদেরা, তাঁদের স্বপ্ন ভবিষ্যৎ অন্য জায়গায়। এই ১১ জন মানুষের ওপর দেশের মানুষের ক্ষুধা, বেঁচে থাকা নির্ভর করে না। ক্রিকেটারদের দিকে নয়, দেশের মানুষকে তাকিয়ে থাকতে হবে একজন বিজ্ঞানী, একজন শিক্ষাবিদের দিকে। ক্রিকেটাররা নন, মুক্তিযোদ্ধারাই হচ্ছেন এ দেশের প্রকৃত বীর। চিকিৎসক, শ্রমিক, কৃষকেরা হচ্ছেন প্রকৃত তারকা। দেশের তুলনায় ক্রিকেট অতি ক্ষুদ্র একটা ব্যাপার।’

বলে যান মাশরাফি, ‘খেলা কখনো একটা দেশের প্রধান আলোচনায় পরিণত হতে পারে না। দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার আছে যার সমাধান বাকি। সেখানে ক্রিকেট নিয়ে পুরো জাতি, রাষ্ট্র এভাবে এনগেজ হতে পারে না। আজকে আমাদের সবচেয়ে বড় তারকা বানানো হচ্ছে, বীর বলা হচ্ছে, মিথ তৈরি হচ্ছে। এগুলো হলো বাস্তবতা থেকে পালানোর ব্যাপার।’

হ্যাঁ, আমাদের পালানোর জায়গা দরকার হয়। কারণ, আমাদের বাস্তবতাটা সুখকর নয়। এই যে অভাবী লোকের না খাওয়ার দিন আবার শুরু হচ্ছে, পাহাড়ধসে ৩৫ জনেরও বেশি মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যু হলো। সবদিকেই আশা মরে যাচ্ছে। বিশালসংখ্যক শিক্ষিত তরুণ বেকার, তারাই আবার মাতিয়ে রাখছে ফেসবুক। ব্যক্তিগত হতাশা থেকে তাদের অনেকে রাগী ভাষায় তর্কে জড়াচ্ছে। খেলায় না জিতলে যে জাতি সম্মিলিত অবসাদে পতিত হয়, তারা আশা করে, ক্রিকেট তাদের সব দুঃখ-দুর্দশা ভুলিয়ে দেবে। বাইপোলার ডিজঅর্ডারে ভুগে আমরা একবার বিরাট আশায় বুক বাঁধি, আবার পরক্ষণেই ব্যর্থতার হতাশার হাত-পা ছড়িয়ে গর্তবাসী হই। অতি আনন্দ আর বিপুল দুঃখের এই চরমভাবাপন্ন জাতিকে সুখী করার দায়িত্ব ক্রিকেটারদের একার নয়। এ দায়িত্ব প্রধানত যাঁরা সংসদে বসে সিদ্ধান্ত নেন, দেশ চালান, তাঁদের। খেলার জয় আমাদের একদিনের সুখ দেয়, কিন্তু সারা বছরের বাঁচা-মরা তো তাঁদের ওপরই নির্ভরশীল। দেশপ্রেমের প্রমাণ শুধু খেলোয়াড়েরাই রাখবেন, আর সবাই নিজেরা কিছু করবেন না, এমনটা অন্তত আমাদের ক্যাপ্টেন মাশরাফি মনে করেন না।

মাশরাফি বলেন, ‘আমি ক্রিকেটার, একটা জীবন কি বাঁচাতে পারি? একজন ডাক্তার পারেন। কই, দেশের সবচেয়ে ভালো ডাক্তারের নামে কেউ তো হাততালি দেয় না! তাঁদের নিয়ে মিথ তৈরি করুন, তাঁরা আরও পাঁচজনের জীবন বাঁচাবেন। তাঁরাই তারকা। তারকা হলেন শ্রমিকেরা, দেশ গড়ে ফেলছেন। ক্রিকেট দিয়ে আমরা কী বানাতে পারছি? একটা ইটও কি ক্রিকেট দিয়ে বানানো যায়? একটা ধান জন্মায় ক্রিকেট মাঠে? যারা ইট দিয়ে দালান বানায়, কারখানায় এটা-ওটা বানায় বা খেতে ধান জন্মায়, তারকা হলেন তাঁরা।’

আমাদের জাতীয় কল্পনার প্রতিচ্ছবি ক্রিকেট হোক, কিন্তু তা যেন অবাস্তব ফ্যান্টাসি হয়ে না ওঠে। আমাদের বনের বাঘ বাঁচানোর খবর নাই, কিন্তু মনের বাঘ খামাখাই হুংকার দেয়। মাশরাফি তাই বলে চলেন, ‘এই যারা ক্রিকেটে দেশপ্রেম দেশপ্রেম বলে চিৎকার করে, এরা সবাই যদি একদিন রাস্তায় কলার খোসা ফেলা বন্ধ করত, একটা দিন রাস্তায় থুতু না ফেলত বা একটা দিন ট্রাফিক আইন মানত, দেশ বদলে যেত। এই প্রবল এনার্জি ক্রিকেটের পেছনে ব্যয় না করে নিজের কাজটা যদি সততার সঙ্গে একটা দিনও সবাই মানে, সেটাই হয় দেশপ্রেম দেখানো। আমি তো এই মানুষদের দেশপ্রেমের সংজ্ঞাটাই বুঝি না!’

আমাদের আজ সর্বাঙ্গে ব্যথা। ব্যথা দূর করবার জন্য বাম (Balm) বা মলম ব্যবহার করা হয়। এই বাম তিন প্রকার, এক প্রকার হলো মিল্লাত বাম। এই বাম অল্প ব্যথায় কার্যকর। আরেক প্রকার হলো বিধিবাম, সবকিছু ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দেনেওয়ালারা এই বাম সেবন করেন। আর কঠিন ব্যথা সারায় টাইগার বাম। সব বামের বড় বাম হলো টাইগার বাম।

মাশরাফির কথাগুলো আমাদের দুঃখ-হতাশা, উগ্রতা, আত্মপ্রেমের অসুখে টাইগার বামের কাজ করুক। ক্রিকেট বাস্তবতা ভোলানোর আফিম না হয়ে, দেশপ্রেমের টনিক হোক। বাংলাদেশ ক্রিকেটকে আর তুচ্ছ করা যাবে না, মাশরাফির হাত ধরে আমাদের ছেলেরা আরও উঠে আসবে। মেয়েরাও পাল্লা দিচ্ছে তো। সঙ্গে সঙ্গে আমরাও যেন মনে, চিন্তায় এবং আচরণের সভ্যতায় ওপরে উঠে আসি। টাইগার মাশরাফি পথ দেখাক।

23
সত্যিই বেড়ে উঠেছে বাংলাদেশ।  চাপের ভেতর থেকে ম্যাচ কীভাবে বের করে আনতে হয়, সেটাও করে দেখিয়েছেন সাকিব-মাহমুদউল্লাহ।  তাদের আলোয় আলোকিত বাংলাদেশের বন্দনায় তাই গোটা ক্রিকেট বিশ্ব।

একদিনেই ৭টি রেকর্ড ভাঙলেন সাকিব-মাহমুদউল্লাহ জুটি, এক পলকে দেখে নিন:

* ওয়ানডে ইতিহাসে বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম ২০০ রানের জুটি।

* কার্ডিফের এ মাঠে যেকোনো দেশের পক্ষে যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ জুটি।  এই রেকর্ডটা পছন্দ করবেন সাকিব-মাহমুদউল্লাহ।  তাঁরা যে ভেঙেছেন দ্রাবিড়-কোহলির ২০১১ সালে করা ১৭০ রানের জুটি।  ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওই জুটিটা হয়েছিল তৃতীয় উইকেটে।

* ৩৮.২ ওভারে সাকিব-মাহমুদউল্লাহ ভেঙেছেন পঞ্চম উইকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ড।  আগে এই রেকর্ডে সাকিবের সঙ্গী ছিলেন মুশফিক।  ২০১৪ সালে চট্টগ্রামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৪৮ রান তুলেছিলেন দুজনে।

* চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে যেকোনো দলের পক্ষে পঞ্চম উইকেটে সর্বোচ্চ জুটি।  আগের রেকর্ডটি ছিল ১১ বছর আগে করা ব্রায়ান লারা-রুনাকো মর্টনের ১৩৭ রানের জুটি।

* চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে যেকোনো উইকেটে ২০০ রানের জুটি এর আগে হয়েছেই মাত্র দুটি।  দুটিই ২০০৯-এর আসরে।  দ্বিতীয় উইকেটে পন্টিং-ওয়াটসনের অবিচ্ছিন্ন ২৫২ (প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড, ভেন্যু সেঞ্চুরিয়ন)।  একই মাঠে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের পক্ষে চতুর্থ উইকেটে মোহাম্মদ ইউসুফ-শোয়েব মালিকের ২০৬ রানের জুটি।

* ইংল্যান্ডের মাঠে যেকোনো দলের হয়ে পঞ্চম উইকেটে এটি সর্বোচ্চ জুটি।  ২০০০ সালে জিম্বাবুয়ের গ্রান্ট ফ্লাওয়ার ও মারে গুডউইন করেছিলেন ১৮৬ রান।

* ওয়ানডেতে রান তাড়া করে জেতার ম্যাচে যেকোনো দলের হয়ে পঞ্চম উইকেটের জুটির রেকর্ডটা ভাঙেনি ২ রানের জন্য।  রবি বোপারা ও এউইন মরগান ২০১৩ সালে ২২৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েছিলেন আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে।

24
কার্ডিফে নিউজিল্যান্ডের দেয়া ২৬৬ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ৩৩ রানেই ৪ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের অবিশ্বাস্য ২২৪ রানের জুটি টাইগারদের ৫ উইকেটের জয় এনে দেয়।

ঐতিহাসিক এই জয়ের ফলে ৩ রেটিং পয়েন্ট বেড়েছে বাংলাদেশের। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এই ম্যাচ শুরুর আগে টাইগারদের রেটিং পয়েন্ট ছিল ৯২, অবস্থান ছিল সাত নম্বরে। অন্যদিকে এর আগে ভারতকে হারিয়ে ৯৪ পয়েন্ট নিয়ে ছয় নম্বর অবস্থানে ছিল শ্রীলংকা।
এক নজরে আইসিসি ওয়ানডে র‍্যাংকিং-

১। দক্ষিণ আফ্রিকা- ১২০ রেটিং পয়েন্ট

২। অস্ট্রেলিয়া- ১১৮ রেটিং পয়েন্ট

৩। ভারত- ১১৬ রেটিং পয়েন্ট

৪। ইংল্যান্ড- ১১৩ রেটিং পয়েন্ট

৫। নিউজিল্যান্ড- ১১১ রেটিং পয়েন্ট

৬। বাংলাদেশ- ৯৫ রেটিং পয়েন্ট

৭। শ্রীলংকা- ৯৪

৮। পাকিস্তান- ৯০

৯। ওয়েস্ট ইন্ডিজ- ৭৯

১০। আফগানিস্তান- ৫২

১১। জিম্বাবুয়ে- ৪৬

১২। আয়ারল্যান্ড- ৪১

25
পরিমিত ঘুম যে আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য কতটা দরকারী তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। ঠিকমত ঘুম না হলে সারাদিন ক্লান্তিভাব, খিটখিটে মেজাজ, অযথা দুশ্চিন্তা এসব লেগেই থাকে। আমাদের নাগরিক জীবনের ব্যস্ততা রোজকার পর্যাপ্ত ঘুমকে অনেকটাই চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। আর সেই সাথে এখন এসেছে রমজান মাস। রোজার পরিবর্তিত লাইফস্টাইলে প্রায় সবাইকেই ঘুম নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়। ইফতারে ভরপেট খেয়ে পরিবার, আত্মীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধবের সাথে একটু সময় কাটিয়ে ঘুমোতে দেরী হয়ে যায়, আবার রাতের টানা ঘুমের বদলে সেহরীতে ওঠা লাগে। সকালের ক্লাস বা অফিসে বা ঘরের কাজে যেন আর শরীর চলে না। ঘুম ঘুম ভাব নিয়ে সারাদিন কাটে, অথচ রাতে ঘুমানোর সময় হলে চোখের পাতা থেকে ঘুম উধাও। এক অদ্ভুত দুষ্টচক্র। কি করা যায় এর সমাধানে?

রোজার সময় দিনের পরিবর্তে আমাদের খাদ্যগ্রহণ হয় রাতের বেলা। ফলে রাতে শরীরে কর্টিসোল ও ইনসুলিনের নিঃসরণ বাড়ে। হরমোনঘটিত এসব পরিবর্তনের কারণে রাতের ঘুম, ক্ষুধাবোধ সবই প্রভাবিত হয়। তা থেকে আসে যে সারাদিনের ক্লান্তি একে কাটিয়ে উঠতে কিছু নিয়ম মেনে চলুন-

সেহরীর আগে তুলনামূলক লম্বা সময় ঘুমানোর চেষ্টা করুন। অন্য সময় যখন ঘুমান তার থেকে একটু আগেই শুয়ে পড়ুন। ৪-৫ ঘন্টার টানা ঘুম আপনাকে অনেকটাই সতেজ রাখবে।

ঘুমানোর জন্য নিজেকে প্রস্তুত করুন। শোবার ঘর অন্ধকার এবং আরামদায়ক রাখুন, আর শুতে যাবার এক ঘন্টা আগে থেকে ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন এসব ইলেকট্রনিক গ্যাজেটকে বিদায় দিন। এগুলো থেকে যে আলো বেরোয় তা আপনার ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাবে।

ভালো ঘুমের জন্য চাই সঠিক খাদ্যাভ্যাস। ইফতারে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া এবং তেলযুক্ত খাবার খেলে তা থেকে এসিডিটি, গ্যাসের সমস্যা, বুক জ্বালা ইত্যাদি হতে পারে, যা ঘুমোতে দেবে না আপনাকে। আর ঝরঝরে দেহমনের জন্য  ঘুমের শুধু দৈর্ঘ্যটুকুই নয়, ঘুম কতটা গভীর হল তাও জরুরী। বেশী ক্যালরিবহুল খাবার শরীর হজম করতে সময় নেয়, ফলে ঘুম ভালো হয় না।

ইফতারের পর ক্যাফেইনযুক্ত খাদ্য-পানীয় ও ধূমপান থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকুন। মনে রাখবেন ক্যাফেইনের প্রভাব শরীরে প্রায় সাত ঘন্টার মত থেকে যায়, সুতরাং যতই আগে খান না কেন ঘুমে ব্যাঘাত ঘটবেই। রাতে শোবার আগে বরং এক গ্লাস কুসুম গরম দুধ খেয়ে নিন, এতে থাকে ট্রিপটোফ্যান যা প্রাকৃতিকভাবে ঘুম আনতে সাহায্য করে।

সেহরীর আগে পরে মিলিয়ে চেষ্টা করুন আপনার স্বাভাবিক ঘুমের সময়টুকু পুরো করতে। তবু যদি দিনের বেলা খুব ক্লান্ত লাগে, দুপুরে ২০ মিনিটের ‘পাওয়ার ন্যাপ’ নিন। ঘড়িতে এলার্ম দিয়ে রাখুন যাতে এর বেশী না ঘুমান। কারণ এসময় গভীর ঘুমে চলে গেলে চাঙা হবার বদলে আরো দুর্বল বোধ করবেন। যারা অফিসে বা এমন অবস্থায় রয়েছেন যে ঘুমানো সম্ভব নয়, তারা অন্তত ১৫ মিনিট সব কাজকর্ম বন্ধ রেখে একটু রিলাক্স করে নিন।

সারাদিনের স্ট্রেস দূর করতে সন্ধ্যার পর হালকা ব্যায়াম বা মেডিটেশন করতে পারেন। পরের দিনের কাজের প্ল্যান আগেই করে ফেলুন, ঘুমোবার আগে শুয়ে শুয়ে এসব নিয়ে ভাববেন না। আর যদি এরপরও ঘুম আসতে না চায়, বারবার ঘড়ি দেখে অস্থির হবেন না। বিছানা থেকে উঠে পড়ুন, কিছু একটা কাজে মন দিন বা বইয়ের পাতা উল্টান। শান্ত হোন, ঘুম আসবে ধীরে ধীরে।

রোজার শুরুতে ঘুম একটু উল্টোপাল্টা হলেও নিয়মমাফিক চললে আমাদের দেহঘড়ি আস্তে আস্তে নতুন রুটিনে নিজেকে অভ্যস্ত করে নেয়। তাই অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস বর্জন করুন, নিজেকে একটি সুন্দর লাইফস্টাইল উপহার দিন।

26
মুসলিমরা রোজা রাখলে তাকে বলা হয় ’সিয়াম’। খ্রিস্টানরা রোজা রাখলে তাকে বলা হয় ’ফাস্টিং’। হিন্দু বা বৌদ্ধরা রোজা রাখলে তাকে বলা হয় ’উপবাস’।

বিপ্লবীরা রোজা রাখলে তাকে বলা হয় ’অনশন’। আর, মেডিক্যাল সাইন্সে রোজা রাখকে বলা হয় ’অটোফেজি’।তবে মুসলিমদের রোজা রাখার ধরনের সাথে অন্যদের কিছু পার্থক্য আছে।

খুব বেশি দিন হয়নি, মেডিক্যাল সাইন্স ’অটোফেজি’র সাথে পরিচিত হয়েছে। ২০১৬ সালে নোবেল কমিটি জাপানের ডাক্তার ’ওশিনরি ওসুমি’-কে অটোফেজি আবিষ্কারের জন্যে পুরষ্কার দেয়। এরপর থেকে আধুনিক মানুষেরা ব্যাপকভাবে রোজা রাখতে শুরু করে।



ইউটিউবে অনেক ভিডিও পাবেন । যেখানে রোজা রাখার জন্যে আধুনিক সচেতন নারী ও পুরুষেরা কেমন ব্যস্ত হয়ে পড়ছে, দেখুন!!! শত হলেও, মেডিক্যাল সাইন্স বলে কথা!!যাই হোক, Autophagy কি? এবার তা বলি।

Autophagy শব্দটি একটি গ্রিক শব্দ। Auto অর্থ নিজে নিজে, এবং Phagy অর্থ খাওয়া। সুতরাং, অটোফেজি মানে নিজে নিজেকে খাওয়া।

না, মেডিক্যাল সাইন্স নিজের গোস্ত নিজেকে খেতে বলে না। শরীরের কোষগুলো বাহির থেকে কোনো খাবার না পেয়ে নিজেই যখন নিজের অসুস্থ কোষগুলো খেতে শুরু করে, তখন মেডিক্যাল সাইন্সের ভাষায় তাকে অটোফেজি বলা হয়। আরেকটু সহজভাবে বলি।

আমাদের ঘরে যেমন ডাস্টবিন থাকে, অথবা আমাদের কম্পিউটারে যেমন রিসাইকেল বিন থাকে, তেমনি আমাদের শরীরের প্রতিটি কোষের মাঝেও একটি করে ডাস্টবিন আছে। সারা বছর শরীরের কোষগুলো খুব ব্যস্ত থাকার কারণে, ডাস্টবিন পরিষ্কার করার সময় পায় না। ফলে কোষগুলোতে অনেক আবর্জনা ও ময়লা জমে যায়।

শরীরের কোষগুলো যদি নিয়মিত তাদের ডাস্টবিন পরিষ্কার করতে না পারে, তাহলে কোষগুলো একসময় নিষ্ক্রিয় হয়ে শরীরে বিভিন্ন প্রকারের রোগের উৎপন্ন করে। ক্যান্সার বা ডায়াবেটিসের মত অনেক বড় বড় রোগের শুরু হয় এখান থেকেই।

মানুষ যখন খালি পেটে থাকে, তখন শরীরের কোষগুলো অনেকটা বেকার হয়ে পড়ে। কিন্তু তারা তো আর আমাদের মত অলস হয়ে বসে থাকে না, তাই প্রতিটি কোষ তার ভিতরের আবর্জনা ও ময়লাগুলো পরিষ্কার করতে শুরু করে।

কোষগুলোর আমাদের মত আবর্জনা ফেলার জায়গা নেই বলে তারা নিজের আবর্জনা নিজেই খেয়ে ফেলে। মেডিক্যাল সাইন্সে এই পদ্ধতিকে বলা হয় অটোফেজি।

জাস্ট এ জিনিসটা আবিষ্কার করেই জাপানের ওশিনরি ওসুমি ২০১৬ সালে নোবেল পুরস্কারটা নিয়ে গেল।

শুনেছি প্রোফেসর ওশিনরি নিজেও সপ্তাহে দুটি করে রোজা রাখেন। আমার আফসোস হলো তাদের জন্যে, যারা স্বাস্থ্যের কথা ভেবে রোজা রাখেন না।

আমরা তো প্রতিবছর একমাস রোজা রেখে শরীরের অটোফেজি করে ফেলি। কিন্তু, আপনারা কিভাবে শরীরের অটোফেজি করবেন?

27
২০০২ সালের ২৪ জানুয়ারি যাত্রা শুরু করেছিল ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ)। প্রথম বছরে অনুষদ ছিল মাত্র দুটি, ছাত্র-ছাত্রী ছিল ৬৮ জন।

এখন ধানমণ্ডি, আশুলিয়া ও উত্তরায় তিনটি ক্যাম্পাস আছে। প্রধান ক্যাম্পাসটি ঢাকার মিরপুর রোডের ধানমণ্ডির শুক্রাবাদে। শিক্ষক আছেন ৬০০ জন। সাভারের আশুলিয়ায় ১৫০ একরেরও বেশি জায়গার ওপর স্থায়ী ক্যাম্পাস আছে। তাতে শিক্ষা, প্রশাসনসহ অনেক ভবন আছে। সব ছাত্র-ছাত্রীর জন্য আবাসিক সুবিধাও আছে। কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দশম সেমিস্টারের ছাত্রী রেহনুমা ইসলাম বললেন, ‘যেন তথ্য-প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠি, সে জন্য দ্বিতীয় সেমিস্টারেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাদের একটি করে ল্যাপটপ ফ্রি দেয়, কম্পিউটারাইজড ক্লাসরুমে ক্লাস হয়। স্যাররা সব সময় লেখাপড়ায় উৎসাহিত করেন। কোনো কিছু না বুঝলে আবার বোঝান। ’
বেশ কয়েক দিন আগে পাস করে গেলেও এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা ভুলতে পারেননি হাসান যোবায়ের। তিনি বললেন, ‘আমাদের সব নোটিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে থাকে। বেতন দেওয়া থেকে শুরু করে অ্যাসাইনমেন্ট জমা, পরীক্ষার ফলাফল প্রদান—সবই অনলাইনে করা যায়। ‘ডিআইইউ স্মার্ট স্টুডেন্ট’ নামের অ্যানড্রয়েট অ্যাপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নোটিশ, ক্লাস রুটিন চেক করতে পারে। পরীক্ষার ফলাফল জানতে পারে, টিউশন ফিও জানা যায়। তবে এই অ্যাপ ব্যবহার করতে হলে অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেওয়া মেইল আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করতে হয়। ভর্তি হলেই সব ছাত্র-ছাত্রীকে একটি মেইল অ্যাড্রেস দেওয়া হয়। ‘স্টুডেন্ট পোর্টাল’ নামের সাইটে গিয়ে লগইন করতে হয়। এরপর ড্যাশবোর্ড থেকে কোর্স রেজিস্ট্রেশন, কোর্স ফি, রেজাল্ট চেক করা, নিজের প্রফাইল আপডেট, শিক্ষকদের ফিডব্যাক দেওয়াসহ লেখাপড়াসংক্রান্ত সব কাজ ঘরে বসেই করা যায়। গুগল ক্লাসরুমে নিয়মিত প্রজেক্ট জমাদানসহ আরো অনেক কাজই করা যায়। এখন শিক্ষার্থীদের স্মার্টকার্ড দেওয়া হচ্ছে। স্মার্টকার্ডের মাধ্যমে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার পার্কিং, জিম, ক্যান্টিন, ফটোকপি, প্রিন্টিং সার্ভিস অনায়াসেই নিতে পারবে। তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া ট্র্যাকিং করা যাবে, লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট করা যাবে, ড্যাফোডিল ‘কিওসক’ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসের টিকিটও কাটা যায়। আছে আরো অনেক সুবিধা। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, বেতন প্রদানসহ সব কাজই কম্পিউটারে করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রভাইডার (আইএসপি) সেটআপ আছে। ফলে সব ছাত্র-ছাত্রী বিনা খরচে ক্যাম্পাসে ‘ওয়াই-ফাই’ ব্যবহার করতে পারে, ইন্টারনেটসেবা পায়। তাদের লেখাপড়ায় উৎসাহিত করতে প্রতি সেমিস্টারে ফলাফলের ওপর ১০ থেকে ৫০ শতাংশ শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হয়। যারা ৩.৮০ সিজিপিএ পায়, তাদের ১০ শতাংশ, যারা ৪-এর ৪ সিজিপিএ পায় তাদের জন্য ৫০ শতাংশ বৃত্তি আছে। মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের শতভাগ বৃত্তি আছে। বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে শিক্ষাবিনিময় কার্যক্রম আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের ঊর্ধ্বতন সহকারী পরিচালক আনোয়ার হাবিব কাজল বললেন, ‘এখানে ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (সিডিসি) আছে। এটি তাদের পেশাগত পরামর্শ দেয়। কোথায় ইন্টার্নি করতে হবে সে পরামর্শ ও সহযোগিতা করে। চাকরির সিভি তৈরি থেকে শুরু করে সব সহযোগিতা করে। ’ স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্সের (এসএ) পরিচালক সৈয়দ মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা ফাউন্ডেশন ডে-তে সমস্যা শুনে গ্রাম-মফস্বল থেকে আসা ছাত্র-ছাত্রীদের পরিবেশগত সমস্যার সমাধান করি, মানসিক সমস্যায় সাহায্য করি। পার্টটাইম চাকরি, টিউশনির ব্যবস্থা করি। তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হলে মিটিয়ে দিই। ’ এইচএসসিতে ‘গোল্ডেন জিপিএ’ পাওয়া ছাত্র-ছাত্রীরা বিনা খরচে পড়তে পারে। একই পরিবারের সদস্যরা ভর্তি হলে মোট খরচের ওপর ৪০ শতাংশ ছাড় পায়। প্রতি সেমিস্টারে গড়ে ৩.৯ বা তার চেয়ে বেশি নম্বর পেলে অ্যাওয়ার্ড আছে।

 

একনজরে ড্যাফোডিল

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ) ছাত্র-ছাত্রীদের আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা দিতে চেষ্টা করে। সে জন্য আছে দুই শর বেশি শ্রেণিকক্ষ। এগুলোর পাঁচটি ডিজিটালাইজড। বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট পাঁচটি অনুষদ আছে। বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি অনুষদে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং, মাল্টিমিডিয়া টেকনোলজি অ্যান্ড ক্রিয়েটিভ আর্টস, পরিবেশবিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পড়ানো হয়। বাণিজ্য ও অর্থনীতি অনুষদে বিবিএ, এন্ট্রারপ্রেনারশিপ, রিয়েল এস্টেট ও এমবিএ পড়ানো হয়। মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে এলএলবি, ইংরেজি, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ আছে। প্রকৌশল অনুষদে ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং, আর্কিটেকচার ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ আছে। অ্যাপ্লাইড হেলথ সায়েন্সেস অনুষদে আছে—ফার্মাসি, নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং ও পাবলিক হেলথ। এই অনুষদের অধীনে লাইফ সায়েন্স, জেনেটিক অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি ও মেডিক্যাল আল্ট্রা সাউন্ড বিভাগ খোলার প্রস্তাবনা ইউজিসিতে জমা দেওয়া আছে। তারা অনুমতি দিলেই বিভাগগুলো চালু হবে। ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য চারটি হল আছে—ছাত্রীদের জন্য বেগম রোকেয়া ছাত্রীনিবাস, উত্তরা ইন্টারন্যাশনাল গার্লস হোস্টেল, ছাত্রদের জন্য প্রফেসর আমিনুল ইসলাম ছাত্রাবাস, ইউনূস খান স্কলারস গার্ডেন আছে। হোস্টেলগুলোতে চার বেডের জন্য ছয় হাজার, দুই বেডের জন্য ছয় হাজার ৫০০ টাকা লাগে। দুই-তিন বছরের পুরনোরা পাঁচ হাজার টাকায় থাকতে পারে। উত্তরা ইন্টারন্যাশনাল হোস্টেলের বাসিন্দা তাহমিনা আক্তার জুঁই বলেন, ‘হোস্টেলে ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তাকর্মী আছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন প্রতিটি ফ্লোর, সিঁড়িতে সিসি ক্যামেরা আছে। সন্ধ্যা ৬টার পর বাইরে বেরোনো যায় না। রাতে ঘুমানোর আগে খাতায় উপস্থিতি স্বাক্ষর দিতে হয়। বাড়ি গেলেও স্বাক্ষর করে যেতে হয়। ’

28
বাংলাদেশের বিপক্ষে ২৪০ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পাওয়ার যেন, বিরাট কোহলির ট্রেডমার্ক হাসিটা আরও চওড়া হল।  জানালেন, বাংলাদেশের বিপক্ষে অনুশীলন ম্যাচে এমন কিছু একটাই চেয়েছিলেন তিনি।

ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘অনুশীলন ম্যাচেই আমরা যা চেয়েছি, সেটা করতে পেরেছি।  ব্যাটসম্যানরা রান পেয়েছে, বোলাররাও অসাধারণ পারফরম্যান্স করেছে।  মাঠের উপরে যখন মেঘ ঢেকে গিয়েছিল, তখন ব্যাট করতে যথেষ্ট কষ্ট হয়েছে।  হার্ডিক এবং কেদার নিজেদের কাজটা যথেষ্ট ভালোভাবে করেছে। ’

অনেকদিন পর জাতীয় দলে ফেরা দিনেশ কার্তিক করেন ৯৪ রান।  তাঁর প্রসঙ্গে কোহলি বলেন, ‘দিনেশ কার্তিক একজন অসম্ভব ভালো খেলোয়াড়।  আমরা ওকে আরও বেশি ম্যাচে খেলাতে চাই।  এই ম্যাচে আমাদের সমস্ত পরিকল্পনাই খেটে গেছে। ’

ম্যাচে লন্ডনের কেনিংটন ওভালে ভারতের ৩২৪ রানের জবাবে বাংলাদেশ ২২ রানের মধ্যে হারায় প্রথম ছয় ব্যাটসম্যানকে।  দুই ভারতীয় পেসার ভূবনেশ্বর কুমার ও উমেশ যাদব তিনটি করে উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং একেবারেই গুড়িয়ে দেন।

মুশফিকুর রহিম (১৩), মেহেদী হাসান মিরাজ (২৪) ও সাঞ্জামুল ইসলাম (১৮) বিপর্যয়ের সময়ে হাল ধরার চেষ্টা করলেও তাতে কাজের কাজ কিছুই হয়নি।  অল আউট হওয়ার আগে বাংলাদেশ করেছে মাত্র ৮৪ রান।

বৃহস্পতিবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিজেদের প্রথম ম্যাচে এই কেনিংটন ওভালেই স্বাগতিক ইংল্যান্ডের মোকাবেলা করবে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল।  আর ভারত আগামী রোববার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বার্মিংহ্যামের এজবাস্টনে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের মোকাবেলা করবে।

29
আইপিএলের কারণে একটু দেরিতে যোগ দিয়েছিলেন ইংল্যান্ড সফরে। কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সেই মিশনে সবচেয়ে খামতি বোধ হয় থেকে গেছে সাকিব আল হাসানকে নিয়েই। দুটি প্রস্তুতি আর চারটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। একটিও ফিফটি নেই, এক ম্যাচেও পাননি ৩ উইকেট। ১ জুন চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগে এক নম্বর অলরাউন্ডারের ব্যাটে-বলের ছন্দহীনতা বাংলাদেশকে চিন্তায় ফেলেছে। আজ ভারতের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে অধিনায়কের দায়িত্ব নিয়েও সাকিব পারলেন না দলকে অনুপ্রাণিত করতে।


নতুন জার্সিতে ফিরে আসুক পুরোনো সাকিব। ছবি: টুইটার
সাকিবকে নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা যেন সব সময়ই হয়। সেটি তিনি এক নম্বর বলেই। ইদানীং আলোচনাটা একটু বেশি হওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছেন সাকিব নিজেই। সর্বশেষ ৮ ওয়ানডে ইনিংসে ৩ ফিফটি। এই সময়ের মধ্যেই টেস্টে একটি ডাবল সেঞ্চুরিসহ দুটি সেঞ্চুরি ও দুটি ফিফটি। ফিফটির একটি আশির ঘরের ইনিংস। সাকিব কি ব্যাট হাতে সত্যিই অনুজ্জ্বল? নাকি নামটা সাকিব বলেই সমালোচনাটা একটু বেশিই হচ্ছে?
বোলিংয়ে অবশ্য সাকিবের পক্ষে বোলার অস্ত্র খুব কমই। সাকিবের বোলিংয়ের ধার যে কমেছে, এটা নিয়ে বিতর্ক করার সুযোগ কম। ওয়ানডেতে গত ১৩ ইনিংসে ৩ উইকেট পেয়েছেন একবার। ২ উইকেট তিনবার। ১ উইকেটও তিনবার। বাকি ছয়বার উইকেটের দেখাই পাননি!
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু মনে করেন, সাকিব যে ক্যারিয়ারের সেরা সময় পেছনে ফেলে এসেছেন, এ বাস্তবতা মেনে নেওয়ার সময় এসে গেছে। চ্যাম্পিয়নস ট্রফি উপলক্ষে প্রথম আলোর বিশেষ ভিডিও আড্ডা ‘ছক্কা’য় এই ক্রিকেট বিশ্লেষক বলেছেন, সাকিব এখনো মাঝেমধ্যে একটি-দুটি দুর্দান্ত ডেলিভারি দিচ্ছে। কিন্তু সাকিব নামটার জন্য তা যথেষ্ট নয়।
সাকিব পুরো ১০ ওভার বোলিং করবেন, এমনটা ভেবে রণকৌশল সাজানো হবে কি না, এখন এ নিয়েও ভাবার সময় এসেছে বলে মনে করেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম অধিনায়ক। লিপু মনে করেন, সাকিব ১০ বছরের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে দিয়ে এসেছেন। স্বাভাবিক নিয়মেই খেলোয়াড়দের ক্যারিয়ারে মধ্যগগন পার হয় এক সময়। লিপুর তাই মন্তব্য, ‌‘সত্যি বলতে কি, সাকিবের বিকল্প ভাবার সময় এসে গেছে।’
এমন নয়, এখনই সাকিবকে সরিয়ে দেওয়ার কথা বলছেন তিনি। তবে তাঁর বিকল্প হিসেবে দলে কে দায়িত্ব নেবেন, সেটি ভাবার সময় অন্তত এসে গেছে বলে মনে করেন লিপু

30
বেশি বেশি আলু, টমেটো বা শসা খেলে বিপদে পড়তে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকেরা তাই অতিরিক্ত আলু, টমেটো ও শসা খেতে নিষেধ করেছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞ স্টিভেন গান্ড্রি বলেছেন, তিনি স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার সঙ্গে লেকটিনস নামের একধরনের প্রোটিনের সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছেন। এই প্রোটিন সাধারণত শসা, টমেটো, দানাদার শস্য, সয়, মরিচ ও দুগ্ধজাত পণ্যে থাকে।

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত আলু, টমেটো ও শসা খেলে যে প্রোটিন শরীরে যুক্ত হয়, তাতে আলঝেইমারের মতো রোগ সৃষ্টি হয়।
গবেষকেরা বলেন, লেকটিনস পেটের জন্য খারাপ। এ ছাড়া অন্যান্য সমস্যা তৈরি করতে পারে। এর মধ্যে ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার মতো সমস্যাও রয়েছে।

যুক্তরাজ্যের গবেষক টম গ্রিনফিল্ডও একই ধরনের কথা বলেছেন। তিনি বিভিন্ন রক্তগ্রুপের মধ্যে লেকটিনসের প্রভাব পরীক্ষা করে দেখেছেন। তিনি বলেছেন, এ প্রোটিনটি মস্তিষ্কে সমস্যা তৈরিতে ভূমিকা রাখে। একেক মানুষের ক্ষেত্রে এ প্রভাব একেক রকম হতে পারে।

গবেষক গ্রিনফিল্ড বলেন, লেকটিনস মানুষের শরীর, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও রক্তের স্তর পরিবর্তন করতে পারে। ইনসুলিন গ্রহণ বন্ধ করে রক্তনালির ওপর প্রভাব ফেলে, এমনকি মস্তিষ্কেও প্রভাব ফেলতে পারে।

ডেভিড জোকারস নামের আরেক গবেষক বলেছেন, শরীরে পুষ্টি গ্রহণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় লেকটিনস। এতে নানা সমস্যা তৈরি হয়।

Pages: 1 [2] 3 4 ... 36