Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - habib

Pages: 1 2 [3] 4 5 ... 8
31
আমার কাছে দুই জীবনই উপভোগ্য !!

     
কাটার মুস্তাফিজুর রহমান

১ কোটি ৪০ লাখ রুপিতে মুস্তাফিজুর রহমানকে নিয়েছে আইপিএলের দল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। কাল দুপুরে বিসিবি একাডেমি ভবনে বাংলাদেশ দলের এই বাঁহাতি পেসারের সঙ্গে কথা হলো আইপিএল, তাঁর চোট ও ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে-

* পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) খেলতে পারলেন না চোটের কারণে। এবার আরও বড় সুযোগ, খেলতে যাবেন আইপিএলে। আইপিএলে দামটা কি আরও বেশি পেতে পারতেন?
মুস্তাফিজুর রহমান: আমি আসলে এসব ভালো বুঝি না।

* আইপিএলে দল পাওয়ার ব্যাপারে কতটা আত্মবিশ্বাসী ছিলেন?
মুস্তাফিজ: আত্মবিশ্বাসী বলতে...জুনে ভারত সিরিজে ভালো করায় ওদের নজরে এসেছিলাম। সে কারণেই হয়তো ভেবেছিলাম...

* ওই সিরিজের পর থেকেই ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আপনাকে ভীষণ গুরুত্ব দিচ্ছে।
মুস্তাফিজ: ওদের মিডিয়া আমাকে কেন গুরুত্ব দিচ্ছে, তা তো বলতে পারব না।

* কেন, ভারত সিরিজে দুর্দান্ত বোলিংয়ের জন্য!
মুস্তাফিজ: (হাসি) হবে হয়তো!

* শুনেছেন নিশ্চয়ই, অস্ট্রেলিয়া সিরিজে অভিষিক্ত ভারতীয় বাঁহাতি পেসার বারিন্দর স্রানকে দেশটির সংবাদমাধ্যম বলছে ভারতের ‘মুস্তাফিজ’!
মুস্তাফিজ: আইপিএলে স্রান আর আমি তো একই দলে।

* তাঁর সঙ্গে একই দলে খেলতে কেমন লাগবে?
মুস্তাফিজ: সময় হোক, তার পর বলা যাবে। কিছু হওয়ার আগে তো ভেবে লাভ নেই।

* সম্প্রতি কাঁধের চোটে পড়েছেন। চোট নিয়ে মনে হচ্ছে চিন্তিত...
মুস্তাফিজ: এখন বেশ ভালো আছি। জোরে বোলিং করলে ব্যথা লাগে না। তবে আমার বলগুলো (বিশেষ করে কাটার) করলে ব্যথা অনুভব হয়। আর বোলিং করলাম মাত্র কয়দিন। এখন বুঝতে পারছি না সামনে কী হবে। তবে আত্মবিশ্বাস আছে যে চোট কাটিয়ে উঠতে পারব। কিন্তু পুরোপুরি ফিট থাকা আর চোটের চিন্তা নিয়ে খেলার মধ্যে পার্থক্য তো থাকেই। এতটুকু বলতে পারি, এখন অবস্থা ভালো। দোয়া করবেন ওপরওয়ালা যেন এশিয়া কাপ-বিশ্বকাপের আগে আরও ভালো করে দেন।

* আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখার পর এই প্রথম এমন অভিজ্ঞতা হলো।
মুস্তাফিজ: প্রথম ব্যথা অনুভূত হয়েছিল জিম্বাবুয়ে সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে। এর পর বিপিএল খেললাম। তবে বেশি সমস্যা হলো জিম্বাবুয়ের সঙ্গে টি-টোয়েন্টি সিরিজে। ওই সময় খুব একটা বোলিং করিনি। কোচকে বলার পর একপর্যায়ে তিনি আমাকে বিশ্রাম দিলেন।

* আপনার বেশির ভাগ সাফল্য পুরোনো বলে। নতুন বলে ভালো করার জন্য কী করছেন?
মুস্তাফিজ: চেষ্টা করছি নতুন বলে ভালো করার। ধরুন, নতুন বলে ভালো কিছু করতে গতি বাড়ানোর চেষ্টা করলাম। কিন্তু সেটা করতে গিয়ে ওভারপ্রতি ১০-এর ওপরে রান দিলাম, তাতে লাভ হলো কী!

* আপনি তো উইকেটশিকারি বোলার। টি-টোয়েন্টিতে কি উইকেট শিকারের দিকে বেশি নজর থাকে?
মুস্তাফিজ: না। টি-টোয়েন্টিতে উইকেট পাওয়ার চেয়ে রান চেক দেওয়াটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমার লক্ষ্য থাকে যত সম্ভব রান কম দেওয়া।

* অল্প সময়ে অনেক অর্জন আপনার। কোন জীবনটা বেশি উপভোগ্য মনে হয়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আসার আগে নাকি পরের?
মুস্তাফিজ: একেক জীবন একেক রকম। আমার কাছে দুই জীবনই উপভোগ্য। বাড়িতে গেলে আগের জীবনে ফিরে যাই। আর ঢাকায় ফিরলে ফিরে আসি বর্তমান জীবনে।

* এখন তো টিভি পর্দায় সরব উপস্থিতি আপনার! এরই মধ্যে বিজ্ঞাপন করেছেন বেশ কয়েকটি। ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে কতটা স্বচ্ছন্দ বোধ করেন?
মুস্তাফিজ: আসলে সবচেয়ে স্বচ্ছন্দ বোধ করি খেলায়। তবে বিজ্ঞাপন করলে সেখানে তো কিছু করতেই হয়। স্বচ্ছন্দ বোধ না করলেও কিছু না-কিছু করতে হয়। বিজ্ঞাপন হোক আর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি, যেকোনো ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতেই অস্বস্তি বোধ করি। তবে দুটির পার্থক্য হচ্ছে, বিজ্ঞাপনের ক্যামেরার সামনে মজা-টজা করা যায়। সাংবাদিকদের সামনে সেটা করা যায় না। কেমন যেন ভয় লাগে! এটা শুধু আমার নয়, সব খেলোয়াড়ের লাগে।

* অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ প্রসঙ্গে আসা যাক। গত যুব বিশ্বকাপ খেলেছিলেন। ওই বিশ্বকাপে খেলা আপনার পাঁচ সতীর্থ বর্তমান দলটিতে খেলছেন। সেই দলটির কথা নিশ্চয়ই মনে পড়ে?
মুস্তাফিজ: সেই সময়টা আর ওদের কথা তো মনে পড়েই। ওরা যখন এখানে (একাডেমি ভবনে) থাকে, ওদের সঙ্গই আমি বেশি পাই। জাতীয় দলের সতীর্থদের চেয়ে ওদের সঙ্গে বেশি সময় কাটে।

* বাংলাদেশ দলে মাশরাফি বিন মুর্তজার অধীনে খেলছেন আর অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলেছেন মেহেদী হাসান মিরাজের অধীনে। দুই অধিনায়কের মধ্যে কী পার্থক্য দেখেন?
মুস্তাফিজ: দুজন যার যার জায়গায় সফল। মাশরাফি ভাই জাতীয় দলে আর মিরাজ বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে। দুজন যার যার দায়িত্ব ভালোভাবে পালন করে যাচ্ছে। তবে মিরাজ আমার ভালো বন্ধু। ও জাতীয় দলে এলে অনেক ভালো লাগবে।

* এবার যুব বিশ্বকাপে বাংলাদেশের শিরোপা জেতার ব্যাপারে কতটা আশাবাদী?
মুস্তাফিজ: এখনই বলতে পারছি না। আগে থেকে কিছু বলাও ঠিক নয়। তবে বাংলাদেশ যেভাবে খেলছে, খেলতে থাকুক। দেখা যাক কী হয়।

* ব্যক্তিগত বিষয়ে কিছু জানতে চাই। খেলা না থাকলে সাধারণত কী করেন?
মুস্তাফিজ: ঢাকায় যেখানে থাকি (বিসিবির একাডেমি ভবন), সেখানেই সময় কাটে। যাওয়ার তো খুব একটা জায়গা নেই এখানে। আর বাড়িতে গেলে নানা জায়গায় ঘুরি। ভাই-বন্ধুদের নিয়ে সময় দারুণ কেটে যায়।

* সবচেয়ে ভালো লাগে কোন সময়?
মুস্তাফিজ: উইকেট পাওয়ার পর আর বাড়িতে যাওয়ার সময়। দুটি দুই রকম ভালো লাগা।

* সম্প্রতি আইসিসি বর্ষসেরা ওয়ানডে একাদশে জায়গা পেয়েছেন, এর পর পিএসএলে ও আইপিএলে দল পেয়েছেন। এর মধ্যে কোন খবরটা বেশি আনন্দ দিয়েছে?
মুস্তাফিজ: সবগুলোই সমান আনন্দ দিয়েছে। কোনোটাই ছোট করে দেখতে চাই না।

Source: http://www.prothom-alo.com/sports/article/763333/

32
পূর্বসূরিদের ভার নামালেন মেহেদীরা !!

আত্মবিশ্বাসী মিরাজরা ম্যাচ শেষে সেলফি তুলেই করে নিলেন সেমিফাইনালে ওঠার উদ্‌যাপন

সাকিব আল হাসান-মুশফিকুর রহিম-তামিম ইকবাল এই মুহূর্তে রয়েছেন দুবাইয়ে, খেলছেন পাকিস্তান সুপার লিগে। খবরটা তাঁরা নিশ্চয়ই পেয়ে থাকবেন। যুব বিশ্বকাপে তো বটেই, ক্রিকেটের কোনো বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এই প্রথম সেমিফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। এমন সুখবরে তারকা-ত্রয়ী নিজেদের একটু হালকা বোধ করতেই পারেন। তাঁদের বুকের ওপর থেকে কি নেমে গেল না একটা পাথর ভার!
শুধু সাকিব-তামিম-মুশফিক কেন; দেশের কত ক্রিকেটার দীর্ঘশ্বাসটা বয়ে বেড়াচ্ছিলেন বছরের পর বছর। এমনিতে দ্বিপক্ষীয় সিরিজে দারুণ খেলে, কিন্তু বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের সর্বোচ্চ টুর্নামেন্টে গিয়ে কেন যেন বাংলাদেশ পথ হারিয়ে ফেলে! এর আগে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বাংলাদেশ ফিরেছে তিনবার। পূর্বসূরিরা যা পারেননি, মেহেদী-নাজমুল-জাকিররা তা-ই করে দেখিয়েছেন। কাল মিরপুরে কোয়ার্টার ফাইনালে নেপালকে হারিয়ে পূর্বসূরিদের ভারটা নামিয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল।

যুবাদের এমন অর্জনে সাবেক অনূর্ধ্ব-১৯ অধিনায়কেরাও ভীষণ তৃপ্ত। নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ২০০২ যুব বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়া নাফিস ইকবাল তো মেহেদীদের সাফল্যে অভিভূত, ‘অভিনন্দন! নিঃসন্দেহে বিরাট অর্জন। মিরাজ ও তাঁর দলকে কৃতিত্ব দিতেই হবে। আশা করি, এই দল অনেক দূরে যাবে।’

কাল মেহেদী-জাকির হাসানের অসাধারণ ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ পেয়েছে কাঙ্ক্ষিত জয়। এই দুজনের ব্যাটিং মুগ্ধতার আবেশ ছড়িয়ে দিয়েছে নাফিসের মনে, ‘আজ (কাল) খানিকটা চাপে ছিল ওরা। তবে জাকির-মিরাজ যেভাবে ব্যাটিং করল, দুর্দান্ত! এই বয়সে ওরা যে পরিপক্বতার পরিচয় দিয়েছে, এক কথায় অসাধারণ!’

বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে মেহেদী যেমন নিজেকে চিনিয়েছেন আলাদাভাবে, এর আগে সেভাবে চিনিয়েছিলেন মাহমুদুল হাসানও। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে ৫৭ ম্যাচে করেছিলেন ১১৬৮ রান, নিয়েছিলেন ৬৬ উইকেট। খেলেছিলেন ২০০৮ যুব বিশ্বকাপ। দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ২০১০ যুব বিশ্বকাপে। শিরোপা দূরে থাক, মাহমুদুলরা সেমিফাইনালেও উঠতে পারেননি। মিরাজদের সাফল্যে সেই আক্ষেপ কি দূর হলো? স্পষ্ট কিছু না বললেও মেহেদীদের সাফল্য ছুঁয়ে যাচ্ছে মাহমুদুলকেও, ‘আক্ষেপ বলতে...আসলে এই দলকে নিয়ে অনেক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এই প্রত্যাশা ওরা নিজেরাই তৈরি করেছে। দলটা অনেক দিন ধরে শুধু একসঙ্গে খেলছে না, দারুণ করছেও।’

যুব বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৫১৯ রান করা এনামুল হক খেলেছেন ২০১০ বিশ্বকাপে। দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ায় হওয়া ২০১২ যুব বিশ্বকাপে। উত্তরসূরিরা পেছনের সব সাফল্য ছাড়িয়ে যাওয়ায় আপ্লুত এনামুলও। এই ‘ছাড়িয়ে’ যাওয়াকে দেশের ক্রিকেটের উন্নতির সূচক মনে করছেন তিনি, ‘সবাই তো চায়, আগের অর্জনকে ছাড়িয়ে যেতে। ধাপে ধাপে এগিয়ে যেতে। নইলে উন্নতি হবে কী করে? আমাদের ক্রিকেট যে এগোচ্ছে, এটা তারই প্রমাণ। আশা করি, ভবিষ্যতে যেকোনো পর্যায়ের ক্রিকেটে বাংলাদেশ আরও ভালো করবে।’

এনামুলের কাছে সেমিফাইনাল এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শেষ চারে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হতে পারে পাকিস্তান-ওয়েস্ট ইন্ডিজের যেকোনো এক দল। এনামুল মনে করেন, এই কঠিন ধাপটা পেরোলেই ইতিহাস গড়া কঠিন হবে না মেহেদীদের, ‘মনে হয় সেমিফাইনাল পেরোতে পারলে চ্যাম্পিয়ন হওয়াটা কঠিন কিছু হবে না, সে প্রতিপক্ষ যে-ই হোক। সেমিফাইনালটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।’

মাহমুদুলও একমত এনামুলের সঙ্গে। মেহেদীরা এত দূরে এসেছেন ধাপে ধাপে এগিয়ে। বাকি পথটাও তাঁরা পেরিয়ে যান একইভাবে!

33
'মুস্তাফিজ আমাদের দারুণ আবিষ্কার’

     
মুস্তাফিজুর রহমান

আপাতত সিরিজের চাপ নেই। সামনের মাসে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, এখন চলছে সেটিরই নিবিড় অনুশীলন। খুলনা-পর্ব শেষে কালই শুরু হবে ঢাকা পর্বের প্রস্তুতি। এদিকে ঘরের মাঠেই চলছে অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ। গতকাল সকালে বাংলাদেশ কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে এসেছিলেন মিরপুর স্টেডিয়ামে। সেখানেই চলছিল নেপালের সঙ্গে বাংলাদেশের কোয়ার্টার ফাইনাল। এই বাংলাদেশের অনেকেই হয়তো সামনে জাতীয় দলে খেলবেন। সেই ভবিষ্যতে তিনি থাকবেন কি না সময়ই জানে। তবে আগামীর সাকিব-মুশফিকদের একটু কাছে থেকেই যেন দেখতে চাইলেন বাংলাদেশ কোচ!

এক ফাঁকে হাথুরুসিংহে গেলেন ধারাভাষ্য কক্ষেও। সেখানকার আলাপচারিতায় স্বাভাবিকভাবেই অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ প্রসঙ্গ এল। উঠে এল, যুব বিশ্বকাপে খেলে আসা অনেকেই এখন জাতীয় দলের বড় তারকা। দুই বছর আগের যুব বিশ্বকাপে খেলা পেসারটি তো এখন পুরো বিশ্বেরই বিস্ময়! তাঁর নাম এখন পুরো ক্রিকেট বিশ্বই চেনে—মুস্তাফিজুর রহমান। হাথুরুও বললেন, ‘ও আমাদের জন্য দারুণ এক আবিষ্কার। এই বয়সেই ও স্লোয়ার, কাটারসহ বেশ কিছু ডেলিভারি দেওয়া শিখে ফেলেছে। দলে বড় অবদান রাখছে।’

বাংলাদেশ দলে অবশ্য মুস্তাফিজ একা নন, এবার আরেকজন বাঁহাতি পেসারও উঠে আসছেন। আবু হায়দার বিপিএলে আলো ছড়ানোর পর এবার জায়গা করে নিয়েছেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দলেও। কিন্তু জাতীয় দলে হায়দার কি একটু বেশি তাড়াতাড়ি নিয়ে নেওয়া হলো না? হাথুরুসিংহে কারণটা ব্যাখ্যা করলেন, ‘টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বৈচিত্র্য দরকার। আবু হায়দার রনিকে আমরা এই জন্যই নিয়েছি। আর বাঁহাতি হওয়ায় ও বাড়তি একটু সুবিধাও পায়।’

কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সম্ভাবনা আসলে কতটুকু? এখনো যেন এই ফরম্যাটে বাংলাদেশ ঠিক ধাঁধা মেলাতে পারে না। হাথুরু স্বীকার করলেন, ওয়ানডের তুলনায় এই সংস্করণে বাংলাদেশ স্বচ্ছন্দ নয়। তবে মনে করিয়ে দিয়েছেন, ‘আমরা আরও টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে চাই। অন্য দেশগুলোর মতো সংক্ষিপ্ত সংস্করণে আমাদের খুব বেশি খেলা হয়নি।’

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও বাংলাদেশের খুব একটা সুখস্মৃতি নেই, ১৮টি ম্যাচ খেলে জিতেছে মাত্র তিনটিতে। সেটা মেনে নিয়েও হাথুরু কিন্তু আশাবাদী, বাংলাদেশ যাবে শেষ আটে, ‘হ্যাঁ, এখানে হয়তো আমাদের খুব একটা সাফল্য নেই। তবে আমার মনে হয়, দল হিসেবে আমরা এখন অনেক উন্নতি করেছি। নক আউট পর্যায়ে যাওয়াটাই প্রাথমিক লক্ষ্য। ওখানে গেলে যেকোনো কিছু হতে পারে।’

সে জন্য গত এক বছরে বাংলাদেশ ক্রিকেটের বদলে যাওয়াটাই হাথুরুকে অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে, ‘আমার মনে হয় বাংলাদেশের ক্রিকেটে এটাই (মানসিকতা) সবচেয়ে বড় পরিবর্তন। ওরা বিশ্বাস করে, তারা এখন যে কারও সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে।’

34
সাকিবকে আবার অধিনায়ক দেখতে চান মাশরাফি

     
খুলনায় হোটেলের সামনে সাকিব আল হাসান ও মাশরাফি বিন মুর্তজা l ছবি: প্রথম আলো

বাংলাদেশের ক্রিকেটে সবচেয়ে বড় তারকা বোধ হয় তাঁরা দুজনই। গত রোববার খুলনায় মাশরাফি বিন মুর্তজা ও সাকিব আল হাসানকে একসঙ্গে বসিয়ে সাক্ষাৎকার নিলেন উৎপল শুভ্র

উৎপল শুভ্র: প্রথম প্রশ্ন যদি এটা হয়, একে অন্যের কোন পারফরম্যান্সটা প্রথমেই মনে পড়ে?

সাকিব আল হাসান:
জাতীয় দলে খেলার আগে আমি খুব কমই বাংলাদেশের খেলা দেখতাম। জাতীয় দলে ঢোকার পর ২০০৭ বিশ্বকাপে ইন্ডিয়ার সাথে উনি ৪ উইকেট পেলেন, ওটা খুব ভালোভাবে মনে আছে। সবচেয়ে বেশি যদি কিছু মনে থাকে, তাহলে এখনো ওটাই সবার আগে মনে পড়ে।

মাশরাফি বিন মুর্তজা: সাকিবের সবকিছু আমি প্রথম দিন থেকেই বলে দিতে পারি। তবে আমার কাছে ওর সেরা ইনিংস শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৯২ (২০০৯ সালে মিরপুরে ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টে)। এর পর ও ওয়ানডেতে এক শ করেছে, টেস্টেও করেছে। তার পরও ওই ইনিংসটাকে আমার আলাদা মনে হয়। কারণ এর পর থেকেই সাকিব নিজেকে অন্য লেভেলে নিয়ে গেছে। অন্য খেলোয়াড় হয়ে গেছে।

শুভ্র: আমি কিন্তু সাকিবের সেরা ইনিংসের কথা জানতে চাইনি। জানতে চেয়েছি, সাকিবের কোন পারফরম্যান্সটা দেখে আপনার প্রথম মনে হলো, ও বিশেষ কিছু?

মাশরাফি: আমি ওই ইনিংসটার কথাই বলব। সাকিবকে আজ এখানে নিয়ে এসেছে ওই ইনিংসটা। ওটাই ওর ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট।

শুভ্র: ক্রিকেটার হিসেবে একে অন্যের সবচেয়ে বড় গুণের কথা যদি বলতে বলি...

সাকিব: সবার সঙ্গে সহজে মিশতে পারা। মাশরাফি ভাই খুবই ইজি গোয়িং। এই গুণটা সবার মধ্যে থাকে না। আমার মনে হয় না, আমাদের টিমে আর কারও মধ্যে এই গুণটা আছে। দেশের ১৬ কোটি মানুষকে প্রতিনিধিত্ব করি আমরা ১৬ জন, তাঁদের মধ্যে একজনেরই এটি আছে। তার মানে উনি স্পেশাল।

মাশরাফি: সাকিবের সবচেয়ে বড় গুণ টিমের মধ্যে থাকলেই শুধু বোঝা যায়। বাইরের অনেকে ওকে ভুল বোঝে। সাকিব আমার সম্পর্কে যেমন সহজেই কথাটা বলল, আমি বললে অনেকে ভাবতে পারে, মিথ্যা কথা বলছে কি না। কিন্তু সত্যি বলছি, ও দলের অন্যদের অনেক সাহায্য করে। ও তো এখন দলের বড় ভাই-ই হয়ে গেছে। ওর কাছে দলের তরুণ কেউ কোনো সমস্যা নিয়ে গেলে ও যথাসাধ্য সাহায্য করে। আমি কখনো শুনিনি যে, ও বলেছে, ‘এখন না, পরে আয়।’ এভাবে নীরবে সবাইকে সাহায্য করে যাওয়াটা দারুণ ব্যাপার।

শুভ্র: সাকিব, আপনি মাশরাফির অধিনায়কত্বে খেলছেন। মাশরাফি, আপনিও সাকিবের অধিনায়কত্বে খেলেছেন। অধিনায়ক হিসেবে একে অন্যকে কীভাবে বিচার করবেন?

সাকিব: মাশরাফি ভাইয়ের গেম সেন্স খুবই ভালো। অধিনায়কের জন্য যা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এর সঙ্গে উনি যেহেতু সবার সঙ্গেই খুব ভালোভাবে মিশতে পারেন, মাঠের বাইরে ড্রেসিংরুমে দলকে উদ্বুদ্ধ করার কাজটাও ওনার জন্য খুব সহজ হয়।

মাশরাফি: আশরাফুলের পর আমি আবার যখন ক্যাপ্টেন হলাম, চোট পেয়ে মাঠের বাইরে চলে যাওয়ার পর সাকিব ক্যাপ্টেনসি পেল। আমি তখনই ওকে বলেছি, ‘বাংলাদেশ টিমের ক্যাপ্টেনসি কিন্তু তোকেই করতে হবে।’ আমি চাইতাম, ও-ই যেন সব সময় ক্যাপ্টেনসি করে। কারণ ওর যে সামর্থ্য, তাতে ও ক্যাপ্টেনসি না করলে বাংলাদেশ টিমের বড় ক্ষতি। এখন হয়তো আমি করছি, তবে আমি দেখতে চাই ও-ই বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দিক। এটা কিন্তু ও দলের সেরা পারফরমার বলে নয়। অভিজ্ঞতা বলেন, ওর প্রতি দলের অন্যদের সম্মান বলেন, সব দিক বিচার করে ভবিষ্যতে ওকেই ক্যাপ্টেনসি করতে হবে। সেটা আমি চলে গেলেই হবে কি না জানি না। ওর মনে কী আছে, তা-ও জানি না। তবে আমি মনে করি, ওর আবার ক্যাপ্টেনসি করা উচিত।

শুভ্র:
কেন উচিত?

মাশরাফি: দেখেন, ও যতটুকু ক্যাপ্টেনসি করেছে, কঠিন পরিস্থিতিতে করেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আমি চোট পাওয়ার পর ও ক্যাপ্টেনসি পেয়েছে। ক্যাপ্টেনসি করতে একটা মানসিক প্রস্তুতি লাগে। কিন্তু দুবারই ও মাঠ থেকে হঠাৎ ক্যাপ্টেনসি পেয়েছে। সুইচড অফ একটা মানুষের হঠাৎ করে সুইচড অন হয়ে ক্যাপ্টেনসি করা অনেক কঠিন, সঙ্গে আবার নিজে পারফর্ম করা। ও সেখানে দারুণভাবে কিছু ম্যাচ জিতিয়েছে। বাংলাদেশ টিমের ক্যাপ্টেনসি করা কিন্তু অনেক কঠিন। এখানে অনেক কিছু খেয়াল রাখতে হয়। ওই সময়ই আমার মনে হয়েছে, ও যদি লম্বা সময়ের জন্য বাংলাদেশ টিমের ক্যাপ্টেনসি না করে, বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য সেটি বড় ক্ষতি হবে। ক্রিকেট বোর্ড যদি ওকে দিতে চায়, ওর চিন্তা করা উচিত।

শুভ্র: সাকিব কী বলেন, আবার ক্যাপ্টেনসি করতে চান?

সাকিব: (হাসি) এ নিয়ে আমি কিছু বলতে চাই না।

শুভ্র: আচ্ছা, ক্যাপ্টেনসি নিয়ে মাঝখানে কিছুদিন যে আপনাদের মধ্যে মিউজিক্যাল চেয়ার খেলা হলো, সেটি আপনাদের সম্পর্কে প্রভাব ফেলেনি?

সাকিব: মানুষ তো এটাই ভুল বোঝে। আমি যখন প্রথম ক্রিকেট বল ধরেছি, তখন থেকে আমি ওনাকে চিনি। কাজেই ওনার সঙ্গে আমার ক্রিকেট নিয়ে সম্পর্কটাই কম। ক্রিকেটের বাইরের সম্পর্কটাই বেশি। উনি তো এখনই আমাকে বলবে, আমাকে প্রথম দেখার সময় আমার পরনে ছিল হাফপ্যান্ট আর মাফলার (হাসি)...

মাশরাফি: সাদা ডোরাকাটা মাফলার...আর এখন তো গুচ্চির মাফলার পরে (হাসি)।

সাকিব: অনেকে অনেক রকম বলতে পারে, তবে আমরা জানি আমাদের সম্পর্ক কী। একবার হলো না যে, আমাদের নিয়ে অনেক কথাবার্তা...তো পরদিন পত্রিকায় আমাদের একসঙ্গে ছবি দিয়ে লিখল, একসঙ্গে বসে থাকলেও আমাদের মধ্যে নাকি মিল নাই। আমি এমন একজন মানুষ না যে, যার সঙ্গে মিল নাই, তার পাশে গিয়ে বসতে পারব।

মাশরাফি:
আরেকটা বিষয়ও এই সুযোগে পরিষ্কার করে দিই। অনেকের ভুল ধারণা আছে যে, সাকিবের ক্যাপ্টেনসির সময় আমি রাগ করে হোটেল ছেড়ে চলে গিয়েছিলাম। হোটেল ছেড়ে চলে গিয়েছিলাম সত্যি, তবে আমি সাকিবের কারণে যাইনি। আমার আম্মা অসুস্থ ছিলেন। আর আমি সব নিয়ম মেনেই হোটেল থেকে বেরিয়েছি। প্রধান নির্বাচক, সিইও, ক্রিকেট অপারেশন্সকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছি। ২০১১ বিশ্বকাপের সময় যেমন অনেক কথা হলো, সাকিব আমাকে দলে চায়নি। ও বলেছে, কথাটা সত্যি না। আমিও ওর কথাই বিশ্বাস করি। তবে আমার কথা হলো, ও যদি ওই মুহূর্তে আমাকে না চায়, না-ই চাইতে পারে। ক্যাপ্টেন হিসেবে ওর মনে হতেই পারে, ওই সময় আমাকে দলে দরকার নাই। এটা নিয়ে সাকিবের সঙ্গে আমার সমস্যা হবে কেন? আমার কাছে সাকিব ছোট ভাই ছিল, এখনো ছোট ভাই-ই আছে। আমার একটা ছোট ভাই আছে, ওর চেয়ে তিন-চার বছরের ছোট। ওকে, দলের বাকি সবাইকেও আমি ছোট ভাইয়ের মতোই দেখি। ওরা ভুল করলেও আমি ক্ষমা করে দিই। আর আমি ভুল করলেও ওদের সামনে ছোট হতে আমার কোনো সমস্যা নেই। আমার বিশ্বাস, আমার সঙ্গে সাকিবের কোনো সমস্যা হলে ও সেটা সবার আগে আমাকেই বলবে।

শুভ্র: বিশ্বের সব দলেই তো নানা কোন্দলের কথা শোনা যায়। আপনাদের কথা শুনে মনে হচ্ছে, তাতে বাংলাদেশ দলে অমন কিছু নেই। বাংলাদেশ দলটা কি আসলেই এমন সুখী পরিবার?

সাকিব: আসলেই এ রকম। বাইরে থেকে কারও যা-ই মনে হোক, কখনো কখনো আপনারাও নানা রকম নিউজ করেন। তবে এসব সত্যি তো না-ই, সত্যির ধারেকাছেও না। এটা শুধু আমার আর ওনার ব্যাপার নয়, আমাদের সবার ক্ষেত্রেই সত্যি। আমাদের টিম ম্যানেজমেন্ট, কোচিং স্টাফ, ড্রেসিংরুমে যারা থাকে, কেউ-ই অন্য কিছু বলবে না।

শুভ্র: বাংলাদেশ দলে এখন অনেক তারকা আর তারকা মানেই ইগো। খেলার বাইরেও কত কিছু আছে...বিজ্ঞাপন জগতে কারও বেশি চাহিদা, কারও একটু কম, এসব নিয়ে ঈর্ষা-টির্ষা হয় না? আপনাদের কথা অনুযায়ী সত্যিই যদি তা না হয়, তাহলে তো বাংলাদেশ দল বিশ্ব ক্রিকেটেই বড় একটা উদাহরণ...

মাশরাফি: আসলেই আমরা একটা উদাহরণ। সমস্যা কী জানেন, এখনো আমরা মাঠে গিয়ে আমাদের প্ল্যানগুলো ঠিকমতো কাজে লাগাতে পারি না। যেদিন পারব, যেদিন আমরা ভারত-অস্ট্রেলিয়ার মতো দলকে বলেকয়ে হারাতে শুরু করব, সেদিন আমরাই বিশ্ব ক্রিকেটে উদাহরণ হব। এটাই সত্যি, আর সেটা বেশি দিন দূরেও নেই। আমাদের মধ্যে সত্যি কোনো বিভেদ নেই। একটা সুবিধা কী জানেন, আমরা সবাই প্রায় একই ধরনের পরিবার থেকে এসেছি। সাকিব কিন্তু বিল ক্লিনটনের ফ্যামিলি থেকে আসেনি, আমিও ওবামার মতো ফ্যামিলি থেকে না। আমরা আমাদের ভিতটা খুব ভালো বুঝি, তা ধরে রাখি। আমাদের ড্রেসিংরুমে একটা কালচার তৈরি হয়ে গেছে। যাঁরা এর বাইরে কিছু ভাবে বা করতে যায়, তারা ঝরে যায়।

শুভ্র: আপনাদের চোখে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে সবচেয়ে প্রতিভাবান ক্রিকেটার কে?

সাকিব: মুস্তাফিজ।

মাশরাফি: আমিও একমত, মুস্তাফিজ।

শুভ্র: একটু ব্যাখ্যা করবেন?

মাশরাফি: দেখেন, প্রতিভা কিন্তু অন্য ব্যাপার। এটা গড গিফটেড হয়। সাকিব যেটা হয়েছে, সেটা তিলে তিলে হয়েছে। এমন হয়নি যে, সাকিব প্রথম দিন থেকেই সেঞ্চুরি করছে, ৫ উইকেট নিয়ে ফাটিয়ে দিচ্ছে। সাকিব ধীরে ধীরে নিজেকে তৈরি করেছে। যেখানে মুস্তাফিজের একটা বল আছে, যেটি ধরার ক্ষমতা বিশ্বের কোনো ব্যাটসম্যানের নাই। এখন এটাকে ঘষেমেজে ও কোথায় নিয়ে যায়, সেটি ওর ওপর। তবে প্রতিভার কথা বললে এমন একটা জিনিস ওর আছে, যেটি দিয়ে ও দুনিয়া কাঁপিয়ে বেড়ায়।

সাকিব: মুস্তাফিজ আসলেই অন্য রকম। এ মুহূর্তে বিশ্ব ক্রিকেটে ফাস্ট বোলারদের মধ্যে মালিঙ্গা আর মুস্তাফিজ ছাড়া আমি তো ব্যতিক্রমী কাউকে দেখি না। বাকি সবার অ্যাকশন তো প্রায় একই রকম।

শুভ্র: সাকিব, নেটে মুস্তাফিজকে খেলতে আপনার সমস্যা হয়?

সাকিব: খুব একটা না...তবে হ্যাঁ, মারতে গেলে সমস্যা, ১ রান নিতে চাইলে সমস্যা না।

মাশরাফি: এই যে একটু আগে আপনি আমাদের দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ঈর্ষা-টির্ষার ব্যাপারে কথা বলছিলেন না, মুস্তাফিজের উদাহরণটাই দিই। মুস্তাফিজ এসেছে সেদিন, আর দুনিয়া-মুনিয়া সব মুস্তাফিজ-মুস্তাফিজ...আর আমি পনেরো বছর ধরে কিছু করতে পারলাম না! তাহলে কি আমার হিংসা হবে? দেখেন, আমি বিশ্বাস করি, আমার মধ্যে এই হিংসা-বিদ্বেষ ছিল না বলেই আল্লাহ আমাকে এত কঠিন সময় পার করে নিয়ে এসেছে। আরেকটা জিনিসও আমি বিশ্বাস করি, মানুষের মধ্যে যে ক্ষমতা, তা ওপরওয়ালাই দিয়ে দেয়। কেউ তা বিকশিত করতে পারে, কেউ পারে না। গুণীজনের কাছেও শুনে এসেছি, হিংসা মানুষকে ধ্বংস করে। আমি তাই কখনোই কাউকে হিংসা করি না। একেকজনের একেকটা স্কিল আছে, আর যে যা করছে, তা তো বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্যই। এভাবে ভাবলেই হয়।

শুভ্র: সাকিব, মাঠে নামার আগে বা মাঠে মাশরাফি এমন কিছু বলেছেন যা আপনাকে খুব উদ্দীপ্ত করেছে, এমন একটা-দুটি উদাহরণ দেবেন?

সাকিব: একটা-দুইটা বলা কঠিন। এমন তো না যে, উনি একদিন অমন বলেছেন। ওনার সবচেয়ে ভালো দিক হলো, উনি সব সময়ই বিশ্বাস করেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে টিম জিততে পারে। এটা খুব জরুরি। অধিনায়কেরই যদি জিততে পারি বিশ্বাস না থাকে, অন্য খেলোয়াড়দের তা মনে হওয়ার কোনো কারণ নেই। আর এটা উনি হঠাৎ একদিন না, সব সময়ই করেন।

শুভ্র: আপনারা দুজনই তো বড় তারকা। তারকাখ্যাতিকে কীভাবে দেখেন বা কতটা উপভোগ করেন?

মাশরাফি: আমি তারকাখ্যাতি বলতে কিছুই বুঝি না। আমি তারকা বলতে পৃথিবীতে একজনকেই বুঝি—ডিয়েগো ম্যারাডোনা। আমি ওর সমস্ত অন্যায় মেনে নিই। ও যদি আমাকে বলে, তুই এটা কর, আমি তা-ই করব। সারা জীবন গোলামি করব। এর বাইরে আমি মনে করি না যে, তারকাখ্যাতির জন্য বিশেষ কিছু করতে হবে। আমাদের সামাজিকতায় তো নাই-ই। তবে তারকাখ্যাতি কে না এনজয় করে? আপনার নাম যেদিন প্রথম পেপারে এসেছে, সবাই আপনাকে চিনেছে, নিশ্চয়ই আপনার ভালো লেগেছে। কিন্তু পাঁচ দিন আসা আর পাঁচ বছর ধরে আসা ভিন্ন কথা। তার মানে আপনি দেশকে কিছু দিতে পারছেন। আমি বলব, তারকাখ্যাতি পাওয়ার চাইতে ধরে রাখাটাই আসল।

সাকিব: আমি আসলে এগুলো নিয়ে চিন্তাই করি না। কেউ যদি বলে, আপনি তো সেভাবে বাইরে যান না, মানুষের সঙ্গে মেশেন না। তাহলে আপনি কি সবার সঙ্গে একটা দূরত্ব রাখার চেষ্টা করেন? এটা কিন্তু নিজেকে তারকা ভাবি বলে করি না। আমি বিকেএসপিতে পড়েছি, একটা জিনিস শিখে এসেছি। আমি ওভাবেই চলি। যদি বিকেএসপিতে না পড়তাম, তাহলে হয়তো এমন হতাম না। আপনি খেয়াল করলে দেখবেন, আমরা যারা বিকেএসপি শেষ করে বেরিয়েছি, প্রায় সবাই একই রকম।

শুভ্র: খেলার বাইরে আপনাদের দুজনের সবচেয়ে বড় বিনোদন কী?

মাশরাফি: আমার কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বিনোদন আড্ডা। এই ইন্টারভিউটা যেহেতু ক্রিকেটকেন্দ্রিক, আমি বলব আমরা দলের সবাই যখন একসঙ্গে থাকি। আমার কাছে মনে হয়, এর চেয়ে আনন্দের কোনো সময় নেই। সেটা আমরা একসঙ্গে বসে থাকি, একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করি, যা-ই করি। আমাদের মধ্যে যা হয়, সেসব আমার সারা জীবনের পুঁজি হয়ে থাকবে। আমার জীবনে আড্ডা অনেক বড় ব্যাপার। এটা আমার যেমন অনেক ক্ষতি করেছে, আবার আমাকে এখানে নিয়েও এসেছে। আড্ডা তাই আমার জীবনের খুব গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সাকিব: আমি অবদান রাখার পর টিম জিতলে এর চেয়ে মজা আমার আর কিছুতেই লাগে না।

শুভ্র: এটা তো পেশাগত জীবনেরই কথা হয়ে গেল। ক্রিকেটের বাইরে বিনোদন কী?

সাকিব: ফ্রেন্ডদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া, ফ্যামিলির সঙ্গে সময় কাটানো। আলাদা কিছু নয়।

শুভ্র: আমি তো অনেক প্রশ্ন করলাম। এবার আপনারা একে অন্যকে একটা করে প্রশ্ন করবেন। সাকিব মাশরাফিকে প্রশ্ন করুন, প্লিজ।

সাকিব: (কিছুক্ষণ ভেবে) কী প্রশ্ন করব, আমাদের সবই তো আমরা জানি...ঠিক আছে, এই প্রশ্নটা করি, প্রতি ম্যাচে নামার সময় কী চিন্তা করেন?

মাশরাফি: আমি ২০০৩ সালে যখন আবার চোট পেলাম, তত দিনে আমার তিনটা অপারেশন হয়ে গেছে। এর পর ২০০৮ পর্যন্ত যখন টানা খেলি, তখনো আমার অনেক স্বপ্ন ছিল। দুই শ-আড়াই শ টেস্ট উইকেট পাব। আট বছর টানা খেলতে পারলে তা সম্ভবও ছিল। কিন্তু ২০০৯ সালে আবার অপারেশন করে ফেরার পর আমি প্রতিটি ম্যাচে এই ভেবে নামি, এটা আমার লাস্ট ম্যাচ। যতটুকু পারি, উপভোগ করব। কারণ এখন ইনজুরি হলেই আমি শেষ। মাঠে নেমে কী হবে, আমি জানি না। তাই মনকে বলি, এটাই হয়তো আমার শেষ ম্যাচ, আমি আমার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব।

শুভ্র: মাশরাফি, এবার আপনি সাকিবকে প্রশ্ন করেন?

মাশরাফি: আমার দুইটা বাচ্চা আছে। তাই আমেরিকায় বাচ্চা রেখে এসে তোর অবস্থাটা আমি বুঝতে পারি। আমার প্রশ্ন হলো, তোর বাচ্চাকে আমরা কবে দেখব?

সাকিব: (হাসি) আগামী মাসের শুরুতেই আসার কথা আছে। যদি দুবাই হয়ে আসে, তাহলে হয়তো তিন-চার দিন দেরি হবে। যেটাই হোক, এশিয়া কাপের সময়ই দেখতে পারবেন ইনশা আল্লাহ।

Source: http://www.prothom-alo.com/sports/article/752860/

35
Cricket / রান মানে দৌড় নয়!
« on: January 12, 2016, 11:07:47 AM »
রান মানে দৌড় নয়!

     
এ রকম উদ্ভাবনী সব শট খেলতেই আগ্রহ বেশি ম্যাককালামের, দৌড়াদৌড়ি করে রান নেওয়াতে নয়।

দুই ব্যাটসম্যান দৌড়ে ২২ গজের পিচ পার করলেই ১ রান। এভাবে দৌড়ে যতবার প্রান্ত বদল হবে, রান হবে ততটি। ক্রিকেটের সূচনা লগ্নে এই নিয়মটি করা হয়েছিল দলের স্কোরে হিসাব রাখার জন্য। যেহেতু দৌড় দিয়েই স্কোরের হিসাব নিকাশ, তাই ব্যাপারটার নাম হয়ে গেল রান। পড়ে চার-ছক্কা যুক্ত হলেও ক্রিকেটের আদি ও অকৃত্রিম রানের হিসাবটি কিন্তু রয়েই গেছে। জয়-পরাজয়ের শেষ সিদ্ধান্ত কিন্তু সেই কে কত বেশি ‘দৌড়াল’, তার ওপরই নির্ভর করে।

কিন্তু এ কথা ব্রেন্ডন ম্যাককালাম কিংবা শহীদ আফ্রিদিরা শুনলে তো! মাঠে নামলেই তাঁদের মাথায় বোধ হয় একটা কথাই ঘুরতে থাকে, ‘হাত থাকতে পায়ে কী?’ ভারি ব্যাট, ছোট মাঠ, ফিল্ডিং বাধ্যবাধকতা মিলিয়ে ইদানিং ব্যাটসম্যানরা ক্রিকেট মাঠে নামেনই ঝড় তুলতে। দৌড়াদৌড়ি করে রান তোলায় তাঁদের বড় আলসেমি লাগে। এই তো সেদিন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে মাত্র ১৪ বলে ফিফটি করেছেন কলিন মানরো। টি-টোয়েন্টির দ্বিতীয় দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড গড়তে ৭টি ছক্কা ও ১টি চার মেরেছেন মানরো। ৫০ রানের মাঝে ৪৬ রানই চার-ছক্কায়। অমন অবলীলায় গ্যালারিতে বল পাঠাতে পারলে আসলেই দৌড়ানোর দরকার কী?

তবে চার-ছক্কার দৌড়ে মানরোর এই ইনিংস খানিকটা পিছিয়েই আছে। কমপক্ষে পঞ্চাশ ছুঁয়েছে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এমন ইনিংসগুলো বিবেচনায় নিলে চার-ছক্কায় রান তোলার হারে শীর্ষ পাঁচেও জায়গা হয়নি মানরোর। অর্থাৎ দৌড়ে রান নিতে অনীহা দেখানো আরও বেশ কিছু ইনিংস রয়েছে, যেগুলো পেছনে ফেলে দিচ্ছে মানরোর ইনিংসটিকেও।

শীর্ষে আছেন নিউজিল্যান্ডের দলেরই ম্যাককালাম। গত বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে কচুকাটা করা সেই ইনিংসটির কথা মনে আছে? সেদিন ২৫ বলে ৭৭ রানের ওই ইনিংসে ৮টি চার ও ৭টি ছক্কা মেরেছিলেন ম্যাককালাম। মাত্র ৩টি রান নিয়েছিলেন দৌড়ে। অর্থাৎ সেদিন ৯৬.১০ শতাংশ রানই বাউন্ডারিতে পেয়েছিলেন ম্যাককালাম!

দ্বিতীয় স্থানেও ম্যাককালাম এবং সেই কীর্তিও বিশ্বকাপেই। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সেমিফাইনালে ৪৩ ওভারে ২৯৮ রানের লক্ষ্য পেয়ে ব্যাটকে তলোয়ার বানিয়ে নেমেছিলেন কিউই অধিনায়ক। ২৬ বলে ৫৯ রান নেওয়ার পথে সেদিন ৮ চার ও ৪ ছক্কাতেই তুলেছিলেন ৫৬! অর্থাৎ প্রায় ৯৫ ভাগ রানই কোনোরকম দৌড়াদৌড়ি না করে।



তিনে আছে আফ্রিদির একটি ইনিংস। ২০০২ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে হল্যান্ডের বিপক্ষে ১৮ বলে ৫৫ রান করেছিলেন আফ্রিদি। ৪টি চার ও ৬টি ছক্কার ওই ইনিংসে আফ্রিদি বাউন্ডারি মেরেই নিয়েছিলেন ৫২ রান। শতকরা হিসেবে যা ৯৪.৫০ ভাগ। হল্যান্ডের কপালটা ভালো, সেদিন প্রথমে ব্যাট করতে পেরেছিল। পাকিস্তান প্রথম ব্যাটিং করলে কে জানে, ওয়ানডেতে দ্রুততম সেঞ্চুরির নিজের রেকর্ডটা ভেঙে দিতেন কি না আফ্রিদি!

চার-ছক্কাপ্রীতিতে এর পরই আছেন কুশল পেরেরা। গত বছর পাকিস্তানের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কান ওপেনারের ২৫ বলে ৬৮ রানের ইনিংসের ৬৪ রানই ছিল ১৩টি চার ও দুটি ছক্কায়। শতকরা হিসেবে যা ৯৪.১১ শতাংশ।
চার-ছক্কার এই মহোৎসবে এতক্ষণ জায়গাই মেলেনি চার-ছক্কার ক্রিকেট নামে পরিচিতি পাওয়া টি-টোয়েন্টির। পাঁচ নম্বরে এসে দেখা মিলছে টি-টোয়েন্টির সবচেয়ে বিখ্যাত ইনিংসটি। ২০০৭ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১২ বলে ফিফটি করেছিলেন যুবরাজ সিং। আউট হয়েছিলেন ১৬ বলে ৫৮ রান করে। স্টুয়ার্ট ব্রডের এক ওভারের ছয় বলেই ছক্কা মেরেছিলেন। ছক্কা ছিল আরেকটি। ৭টি ছক্কা ও ৩টি চারে বাউন্ডারি থেকেই এসেছিল ইনিংসের ৯৩.১০ শতাংশ রান।

যুবরাজের ইনিংসটি তো তবুও শীর্ষ পাঁচে জায়গা করে নিতে পেড়েছে। ওয়ানডের দ্রুততম ফিফটি ও সেঞ্চুরির ইনিংস খেলেও কিন্তু শীর্ষ দশে আসতে পারেননি এবি ডি ভিলিয়ার্স। অথচ ৪৪ বলে ১৪৯ রানের সেই ইনিংসে কিন্তু বাউন্ডারি থেকেই ১৩২ রান নিয়েছিলেন এবি। কিন্তু ১৭টি রান নিতে পায়ের ব্যবহার করতে গিয়েই ঝামেলাটা পাকিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকান অধিনায়ক!

36
Football / সিংহাসনে ফিরলেন মেসি !!!
« on: January 12, 2016, 10:39:25 AM »
সিংহাসনে ফিরলেন মেসি !!

পঞ্চমবারের মতো ব্যালন ডি’অর জিতলেন লিওনেল মেসি।

কাল জুরিখে ২০১৫ বর্ষসেরার ট্রফি হাতে l এএফপিমুখবন্ধ সোনালি খামটা গত বছর ছিল থিয়েরি অঁরির হাতে। পাশে ছিলেন তখনকার ফিফা সভাপতি সেপ ব্ল্যাটার। জুরিখে কাল রাতে অঁরি ছিলেন না মঞ্চে, ব্ল্যাটারের তো ফিফা সদর দপ্তরের আশপাশে যেতেও নিষেধাজ্ঞা! এবার সোনালি খাম হাতে এমন একজন, লিওনেল মেসি আর ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর আগে যিনি সর্বশেষ ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন—কাকা। পাশে ফিফার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইসা হায়াতু।

সামনের সারিতে তিনটি উৎকণ্ঠিত মুখ—মেসি, রোনালদো, সঙ্গে নেইমার। কাকার হাতের মুখবন্ধ খামে আছে তাঁদের যেকোনো একজনের নাম। মেসির স্ত্রী আন্তোনেল্লা রোকুজ্জোকে একবার ক্যামেরায় দেখাল। নার্ভাস মুখে বসে আছেন ছেলে থিয়াগোকে কোলে নিয়ে। কাকার মুখে মুচকি হাসি। উপস্থাপক আইরিশ অভিনেতা জেমস নেসবিট রসিকতা করে বললেন, ‘সময় হয়ে গেছে। খাম খুলে ফেলো, কাকা।’ মুখের হাসিটা রেখেই ব্রাজিল তারকা সোনালি খাম খুললেন। তারপর একটুও নাটকীয়তা না করে ঘোষণা করলেন নামটা। লিওনেল মেসি!

নেইমার হাসলেন, হাসলেন রোনালদোও। খুব ক্ষীণ হাসি যদিও। স্ত্রীকে চুম্বন, ছেলের মাথায় হাত রাখার পর মেসি নেইমারের সঙ্গে গাল মেলালেন প্রথমে, তারপর রোনালদোর সঙ্গে হাত। মঞ্চে উঠতে উঠতেই তাঁর মুখের হাসিটা একেবারে চওড়া হয়ে গেছে। কাকার হাত থেকে ট্রফিটা নেওয়ার পর পুরো মুখ ঝলমল করছিল। করারই কথা। টানা চারবার জিতে যে ব্যালন ডি’অর ট্রফিটা প্রায় নিজের সম্পত্তি বানিয়ে ফেলেছিলেন, সেটাই গত দুই বছর অধরা রয়ে গিয়েছিল।

জুরিখে কাল মেসি আবার সেই ট্রফি ফিরে পেলেন, ফিরে পেলেন সিংহাসন। এ নিয়ে পঞ্চমবার। চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়া তিনজনের মধ্যে ৪১ দশমিক ৩৩ শতাংশ ভোট পেয়েছেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। ২৭ ভাগ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন রোনালদো, তৃতীয় নেইমার পেয়েছেন ৭ শতাংশ ভোট। ইতিহাসের প্রথম ও একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে পাঁচবার ব্যালন ডি’অর জিতলেন মেসি।

কিছুটা অনুমিতই ছিল হয়তো। বার্সেলোনার হয়ে গত বছর পাঁচটি শিরোপা জিতেছেন মেসি। ৪৩ গোলে গত মৌসুমের লা লিগা শেষ করেছেন, চ্যাম্পিয়নস লিগেও ১০ গোল করে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা। সব মিলিয়ে ৬১ ম্যাচে ৫২ গোল। তবে এর মধ্যে বার্সেলোনা গত বছর যে পাঁচটি ফাইনালে খেলেছে, তাতেই ৬ গোল মেসির। মূল অনুষ্ঠান শুরুর আগেও সংবাদ সম্মেলনে এমনকি রোনালদোও বলে দিয়েছিলেন, ‘এবার আমার চেয়ে লিওর সুযোগ বেশি, এটা আমার কাছে আশ্চর্যজনক নয়। নেইমার বা লিও পুরস্কারটা পেলে আমি খুব একটা বিস্মিত হব না।’ গালা অনুষ্ঠান শুরুর আগে আর্সেনাল কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গারও বলেছেন, ‘বার্সেলোনার কোনো খেলোয়াড়েরই এবার ব্যালন ডি’অর জেতা উচিত। আর বার্সেলোনার কোনো খেলোয়াড় হলে, সেটা মেসিই হওয়া উচিত।’

প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে মেসি অবশ্য খুব উচ্ছ্বাস দেখালেন না। তবে আগের দুই বছর এ অনুষ্ঠানে দর্শক হয়ে থাকতে যে খুব একটা ভালো লাগেনি সেটা বললেন হাসিমুখেই, ‘দুই বছর দর্শক হয়ে ক্রিস্টিয়ানোকে জিততে দেখার পর এই মঞ্চে আবার ফিরতে পেরে আমি দারুণ আনন্দিত। এ নিয়ে পাঁচবার হলো। ছোটবেলায় আমি যে স্বপ্ন দেখেছিলাম, এটা তার চেয়েও বেশি কিছু।’

এক নজরে

ফিফা ব্যালন ডি’অর
লিওনেল মেসি


বর্ষসেরা নারী ফুটবলার
কার্লি লয়েড

বর্ষসেরা কোচ
লুইস এনরিকে

নারী দলের বর্ষসেরা কোচ
জিল এলিস

পুসকাস পুরস্কার (বর্ষসেরা গোল)
ওয়েন্ডেল লিরা

ফেয়ার প্লে পুরস্কার
শরণার্থীদের সহায়তাকারী সব ফুটবল সংগঠন

ফিফপ্রো বিশ্ব একাদশ
গোলরক্ষক—ম্যানুয়েল নয়্যার, ডিফেন্ডার—দানি আলভেজ, সার্জিও রামোস, থিয়াগো সিলভা, মার্সেলো, মিডফিল্ডার—পল পগবা, লুকা মডরিচ, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, ফরোয়ার্ড—ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, লিওনেল মেসি, নেইমার।

37
মেসির স্যুট, নট দ্যাট গুড!

এ বছর নাকি এ রকমই একটা স্যুট পরে ব্যালন ডি’অরে আসবেন মেসি!

২০০৭ সাল থেকেই ব্যালন ডি’অরের মঞ্চে দাঁড়ানো অভ্যাসে পরিণত করেছেন লিওনেল মেসি। এবারেরটিসহ নয়বার ব্যালন ডি’অরের সেরা তিনে নাম লিখিয়েছেন। এর আগে চারবার বর্ষসেরা হয়েছেন, অন্য চারবার পাশ থেকে দাঁড়িয়ে দেখেছেন অন্যদের এই শিরোপা জিততে। বিজয়ীর নামে পরিবর্তন এলেও একটি ব্যাপার মোটামুটি ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত’এ পরিণত করেছেন মেসি—বর্ষসেরার অনুষ্ঠানে নিজের পরা স্যুট দিয়ে সবাইকে চমকে দেওয়া।

২০১০ সালের ব্যালন ডি’অরের স্যুট আলাদা করে নজর কাড়েনি।

ইদানীংকালের ব্যালন ডি’ অর পুরস্কার মানেই দুটি বিষয় নিয়ে নিশ্চিন্তে থাকে—প্রথমত সেরা তিনে থাকবেন মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। দ্বিতীয়ত, মেসির পরনের স্যুট অনেকের চোখ তুলে দেবে কপালে!

২০১১ সালে প্রথম ভ্রুকুটি

স্বাভাবিকভাবেই অনেকের কৌতূহল, এবার কী পরে আসছেন মেসি? কাতালান সংবাদমাধ্যমের কল্যাণে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে মেসির পরনের সম্ভাব্য যে স্যুটটির ছবি বানের জলের মতো ভাসছে, সেটি সত্যি সত্যি পরলে অতীতের সব ​‘রেকর্ড’ এবার ভাঙতে চলেছেন মেসি!


স্যুটের ডিজাইনের ব্যাপারে সাহসী হয়ে উঠতে শুরু করলেন মেসি

গত বছরের কথাটিই মনে করে দেখুন না। কালচে লাল বর্ণের ওই চকচকে স্যুট থেকে ঠিকরে আসা আলোতে চোখ সামলানোই দায়! তবু সেটি ছিল গত কয়েক বছরের পোশাকগুলোর তুলনায় অনেকটাই স্বাভাবিক!

এমন নয় যে মেসি তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রোনালদোর তুলনায় ফ্যাশনে কম সচেতন। রোনালদোর মতো অতটা গ্ল্যামার নিয়ে মাথা না-ঘামালেও বিশ্ব বিখ্যাত ইতালিয়ান ফ্যাশন হাউস ডলচে ও গ্যাব্বানা কিন্তু তাদের ‘ফ্ল্যাগ শিপ’ স্যুটটি


সবার চোখ কপালে।

বানায় মেসিকে মাথায় রেখেই। প্রথম কয়েক বছর ক্লাসিক্যাল কালো স্যুটেই দেখা গিয়েছিল মেসিকে। ক্লাসিক্যাল সেসব স্যুটে কেতাদুরস্ত মেসির দেখাও মিলেছে। কিন্তু এরপরই একটু ‘সাহসী’ সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করে সংক্ষেপে ‘ডিএন্ডজি’ নামে বিখ্যাত ফ্যাশন হাউসটি। ২০১২ সালে মেসির পরা মেরুন স্যুটটিতে প্রথম ভ্রুকুটি। কিন্তু ডিএন্ডজি এবং মেসি এরপর থেকেই চমকে দিচ্ছেন সবাইকে।



২০১৪ ব্যালন ডি’অরের অনুষ্ঠানেও দেখা মিলল সাহসী মেসির।

২০১৩ সালে মেসির পরা সেই কালো সাদা ফুটকির স্যুট মনে করে নিশ্চয় এখনো গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে সবার। এরপর তো পরে এলেন টকটকে লাল রঙের এক স্যুট!

সূত্র জানাচ্ছে, আজও নাকি ওই ধরনেরই কিছু একটা পরে আসবেন মেসি। এখনো পর্যন্ত সূত্র জানাচ্ছে মুকুটের ছাপযুক্ত এক স্যুটের কথা। দেখা যাক...

38
৬০ বছরের ইতিহাস বলেই এত গর্বের...

২০১২ সালের ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন মেসি। এরপর আজ আবার?

ট্রফিটি দেখতে সাদামাটাই। কিন্তু এই ট্রফিটি হাতে নিয়েই জানান দেওয়া হয় ফুটবলারদের ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের। এই একটি ট্রফিই সারা বছর ধরে আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকে সারা বিশ্বের ফুটবল-প্রেমীদের। এই ট্রফিটি নিয়েই কত জল্পনা-কল্পনা, কত ঝগড়া-বিবাদ, কতই না মনোমালিন্য! আবার এই ট্রফিকে ঘিরেই আনন্দ-উচ্ছ্বাস কিংবা রোমান্টিকতার বাড়াবাড়ি। ট্রফিটির নাম ব্যালন ডি’অর। ফুটবলারদের ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট।

এই ব্যালন ডি’অর পুরস্কারকে ঘিরে আজ রাতে জুরিখে সমবেত হবেন বিশ্ব ফুটবলের প্রায় সবাই, কেউ সশরীরে, কেউ টিভি কিংবা মনিটরে চোখ রেখে। তীব্র আগ্রহ নিয়ে তারা তাকিয়ে থাকবেন মঞ্চের দিকে। যেখান থেকে ঘোষণা দেওয়া হবে সেই নামটি। যাঁর হাতে উঠবে সেই শ্রেষ্ঠত্বের ট্রফি।

যে ট্রফি নিয়ে এত উত্তেজনা, এত আগ্রহ, তাঁর আদ্যোপান্ত ইতিহাসটা কী আমরা জানি? আমরা কী জানি ফুটবলের এই একটি পুরস্কারই গত অর্ধ-শতাব্দীরও বেশি সময় জুড়ে বুঁদ করে রেখেছে ফুটবল দুনিয়াকে!

আজ থেকে ৬০ বছর আগে ফ্রান্সের ফুটবল সাময়িকী ফ্রান্স ফুটবল পুরস্কারটি প্রচলন করেছিল। কেবল সেরা ইউরোপীয় ফুটবলারকে পুরস্কৃত করার সেই উদ্যোগটিই কালের বিবর্তনে এসে দাঁড়িয়েছে আজকের এই অবস্থানে। ফ্রান্স ফুটবল-এর মতোই ১৯৯১ সালে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফা চালু করে বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার ফিফা বর্ষসেরা। ফ্রান্স ফুটবল-এর ব্যালন ডি’অর আর ফিফার বর্ষসেরা—দুটি ভিন্ন উদ্যোগ এক হয়েই ২০১০ সাল থেকে পরিচিত হয় ফিফা ব্যালন ডি’অর নামে।

১৯৫৬ সালে ফ্রান্স ফুটবল সাময়িকীর সম্পাদক গ্যাব্রিয়েল হান্তেরই মস্তিষ্কপ্রসূত ছিল এই পুরস্কার। তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সকল ক্রীড়া সাংবাদিকদের ভোটে নির্বাচিত হবেন ইউরোপের সেরা ফুটবলার। খুব ঘরোয়াভাবে ভোটাভুটি করে প্রথমবার সেই পুরস্কারটি তুলে দেওয়া হয়েছিল স্ট্যানলি ম্যাথুসের হাতে।

এই পুরস্কারটি দীর্ঘ দিন ধরে বিভিন্ন জনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে একটা নির্দিষ্ট বিবেচনাকে কেন্দ্র করে। পুরস্কারটি পেতে একজন খেলোয়াড়কে অবশ্যই ইউরোপীয় হতে হবে, একই সঙ্গে খেলতে হবে ইউরোপের কোনো লিগে। এই নিয়মের কারণেই ফুটবলের ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের এই পুরস্কারটি যেমন কখনোই হাতে নিতে পারেননি ফুটবলের দুই জীবন্ত কিংবদন্তি পেলে আর ম্যারাডোনা। পেলে তো ইউরোপেই খেলতে আসেননি। ম্যারাডোনা ইউরোপের ক্লাব ফুটবল মাতিয়ে গেলেও দক্ষিণ আমেরিকান হওয়ায় এই পুরস্কারের জন্য ​​বিবেচিত হন।

ফ্রান্স ফুটবলের উদ্যোগের বহু বছর পর ফিফা উদ্যোগ নেয় বছরের সেরা ফুটবলারকে সম্মানিত করার। ১৯৯১ সালে ফিফার উদ্যোগে চালু হয় ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার। নিয়ম করা হয় কয়েকজন সেরা ফুটবলারকে নিয়ে একটি নির্দিষ্ট কমিটির তৈরি করা তালিকা থেকে ভোটাভুটির মাধ্যমে বেছে নেওয়া হবে ফিফার বর্ষসেরা ফুটবলারকে। ভোট দেবেন প্রত্যেক জাতীয় দলের অধিনায়ক, কোচ ও একজন নির্বাচিত সাংবাদিক। প্রথমবার ফিফার বর্ষসেরা ফুটবলার হন ৯০ বিশ্বকাপজয়ী জার্মান ফুটবল দলের অধিনায়ক লোথার ম্যাথাউস।

ফিফার বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার চালুর চার বছর পর ১৯৯৫ সালে ফ্রান্স ফুটবল তাদের পুরস্কার-পদ্ধতিতে একটু পরিবর্তন আনে। তারা সিদ্ধান্ত নেয়, পুরস্কারটি অ-ইউরোপীয় খেলোয়াড়দের জন্যও উন্মুক্ত করে দেওয়ার। তবে শর্ত রাখা হয়, তাদের খেলতে হবে ইউরোপের লিগে। এই শর্তে প্রথম অ-ইউরোপীয় ফুটবলার হিসেবে ব্যালন ডি’অর জেতেন লাইবেরিয়ার জর্জ উইয়াহ।

সমস্যাটা বাঁধে এরপর। কোন বিশ্ব ফুটবলের সেরা বর্ষসেরার পুরস্কার? ব্যালন ডি’অরের এত দীর্ঘ ইতিহাস, কিংবদন্তি সব খেলোয়াড়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা নাম; অন্য দিকে ফিফা বর্ষসেরা অত পুরোনো না হলেও উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। বিশ্বজুড়ে ২০০টির মতো জাতীয় দলের কোচ-অধিনায়ক-সাংবাদিক ভোট দিচ্ছেন। এ পুরস্কার জেতা মানে তো এক অর্থে সারা বিশ্বকেই জেতা।
এর মধ্যে ২০০৭ সালে ফ্রান্স ফুটবল এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেয়। ব্যালন ডি অ’র উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় সবার জন্যই। ইউরোপ-ইউরোপের বাইরে যেকোনো ফুটবলারই মনোনীত হবেন এই পুরস্কারের জন্য—ফ্রান্স ফুটবলের এমন ঘোষণায় বড় ধরনের সমস্যায় পড়ে যায় ফিফা। তখন থেকেই তারা ফ্রান্স ফুটবলের সঙ্গে একটা সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকে।

আরও একটি সমস্যা দেখা গেল। দেখা গেল, ব্যালন ডি’র যে খেলোয়াড়টি জিতছে, তার হাতেই উঠছে ফিফা বর্ষসেরার পুরস্কার। পরপর পাঁচবার এ ঘটনা ঘটার পর একটি নিয়ে যেন কৌতূহল অনেকটাই কমে গেল। এ তো জানা কথাই-জিতবে কে! সমস্যা মিটিয়ে ফেলা হলো দুটো পুরস্কার ‘এক’ করে ফেলায়।

অনেক আলোচনার পর অবশেষে ২০১০ সালে একীভূত হয় দুটো পুরস্কার। ফ্রান্স ফুটবলের ব্যালন ডি’অর আর ফিফার বর্ষসেরা পুরস্কার এক হয়ে নাম ধারণ করে ‘ফিফা ব্যালন ডি’অর।’

ভোট-ব্যবস্থায়ও আসে বড় পরিবর্তন। সিদ্ধান্ত হয় এই পুরস্কারের জন্য প্রথমে ফিফার টেকনিক্যাল কমিটি এবং ফ্রান্স ফুটবলের বিশেষজ্ঞরা ২৩ ফুটবলারের একটি প্রাথমিক তালিকা তৈরি করে। এই ​২৩ জনকেই ভোট দেয় ভোটাররা। প্রত্যেক ভোটারই প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পছন্দের তিনজনকে বেছে নেয়। সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট পাওয়া ফুটবলারই হয় বর্ষসেরা। ‘সাসপেন্স’ তৈরির জন্য মূল পুরস্কার ঘোষণার আগে সবচেয়ে বেশি ভোট পাওয়া সংক্ষিপ্ত তিনের নাম ঘোষণা করা হয়। তবে বলা হয় না, এই তিনজনের মধ্যে সেরা কে।

এই সাসপেন্সটা তৈরি হয় বলেই এ নিয়ে এত কৌতূহল থাকে। এবারও যেমন লিওনেল মেসি জিততে চলেছেন বলে বেশির ভাগই মোটামুটি নিশ্চিত। কিন্তু ​দলীয়ভাবে ব্যর্থ হলেও ব্যক্তিগতভাবে নিজের সেরা মৌসুম কাটানো রোনালদোর কি আসলেই কোনো আশা নেই?

উত্তর জানতে আপনাকেও আজ বাংলাদেশ সময় রাত দশটা থেকে চোখ রাখতে হবে। টিভি, নয়তো মনিটরের পর্দায়!

39
ফিরে দেখা ২০১৫
বাংলাদেশের সেঞ্চুরির ‘বন্যা’

   
বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাহমুদউল্লাহর সেই সেঞ্চুরি। ছবি: শামসুল হক

শুরুটা করেছিলেন মাহমুদউল্লাহ। মার্চে বিশ্বকাপে অ্যাডিলেডে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পেলেন সেঞ্চুরি। সেটি ছিল অনেক ‘প্রথমে’র এক সেঞ্চুরি। মাহমুদউল্লাহর নিজের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি, বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম, এ বছরও বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে প্রথম। মাহমুদউল্লাহ সেঞ্চুরি পেলেন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পরের ম্যাচেও।

এপ্রিলে ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে পর পর দুই সেঞ্চুরি পেলেন তামিম ইকবাল।

একই সিরিজে সেঞ্চুরি করলেন মুশফিকুর রহিম। সিরিজের শেষ ম্যাচে সেঞ্চুরি পেলেন সৌম্য সরকারও। নভেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আবারও তিন অঙ্ক ছুঁলেন মুশফিক। সব মিলিয়ে এ বছরে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সেঞ্চুরি ৭টি। এক বছরে এত সেঞ্চুরির দেখা আগে কখনো পাননি বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা।
এর আগে ২০০৬, ২০০৮, ২০০৯, ২০১০ ও ২০১৪-এ সেঞ্চুরি ছিল ৪টি করে। ১৯৯৯-এর মার্চে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মেহেরাব হোসেনের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরির পরের ছয় বছর তিন অঙ্কের দেখা পাননি বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যান। সময়ের পরিক্রমায় চিত্র বদলেছে। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের কাছে এখন সেঞ্চুরি করা, বড় ইনিংস খেলা নিয়মিত ঘটনাই।

তবে এ বছর ৭ সেঞ্চুরিতে তৃপ্ত হওয়ার সুযোগ নেই। ৭টির ছয়টিই এসেছে মার্চ-এপ্রিল। বিশ্বকাপে দুটি, বাকি চারটি পাকিস্তান সিরিজে। সেঞ্চুরির দেখা মেলেনি ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে। অপেক্ষাকৃত দুর্বল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সেঞ্চুরি মাত্র একটি। অবশ্য দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ১৬৩ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে সৌম্য অপরাজিত ছিলেন ৮৮ রানে। লক্ষ্যটা আরও বড় হলে সেঞ্চুরি পেলেও পেতে পারতেন। প্রোটিয়াদের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে সৌম্য ফিরেছিলেন ৯০ করে। বিশ্বকাপে তামিম স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে আউট হয়েছিলেন সেঞ্চুরি থেকে পাঁচ রান দূরে থেকে।
তবুও যা হয়েছে, মন্দ নয়। অধিকাংশ ব্যাটসম্যানই ছিলেন ছন্দে। নিয়মিত রান পেয়েছেন, দলের জয়ে ভূমিকা রেখেছেন। নতুন বছরে সেঞ্চুরি সংখ্যা নিশ্চয় আরও বাড়িয়ে নিতে চাইবেন তামিম-মুশফিকরা।


পাকিস্তানের বিপক্ষে তামিমের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি। ছবি: শামসুল হক


২০১৫-এ বাংলাদেশের ৭ সেঞ্চুরি

ব্যাটসম্যান    রান    প্রতিপক্ষ
তামিম ইকবাল   ১৩২    পাকিস্তান
মাহমুদউল্লাহ    ১২৮*    নিউজিল্যান্ড
সৌম্য সরকার    ১২৭*    পাকিস্তান
তামিম ইকবাল    ১১৬*    পাকিস্তান
মুশফিকুর রহিম    ১০৭     জিম্বাবুয়ে
মুশফিকুর রহিম    ১০৬     পাকিস্তান
মাহমুদউল্লাহ    ১০৩     ইংল্যান্ড
 

কোন বছর কত সেঞ্চুরি

 বছর    সেঞ্চুরি সংখ্যা
 ২০১৫    ৭
 ২০০৬    ৪
 ২০০৮    ৪
 ২০০৯    ৪
 ২০১০    ৪
 ২০১৪    ৪
 ২০০৭    ২
 ২০১১    ২
 ১৯৯৯    ১
 ২০০৫    ১
 ২০১২    ১
 ২০১৩    ১

40
টাইমস অব ইন্ডিয়ার বর্ষসেরাতে রুবেল-মুস্তাফিজ ও সাব্বির


অ্যাডিলেডে রুবেলের স্পেল ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে থাকবে বহুদিন। ছবি: প্রথম আলো

২০১৫ সালটা মুস্তাফিজুর রহমানের কাছে সোনার অক্ষরে লিখে রাখার মতোই। বাঁ হাতি পেসারের কত অর্জন এই একটি বছরে! চোটের কারণে বেশির ভাগ সময় দলের বাইরে থাকলেও রুবেল হোসেনের পাওয়াও নেহাত কম নয়। এ বছর ওয়ানডেতে সেরা দশ বোলিং স্পেলের একটি তালিকা করেছে ভারতের সবচেয়ে প্রচারিত পত্রিকা ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’। সে তালিকায় আছেন বাংলাদেশের দুই পেসার রুবেল ও মুস্তাফিজ।

রুবেলকে নেওয়া হয়েছে বিশ্বকাপে অ্যাডিলেডে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের সেই ঐতিহাসিক ম্যাচের কারণে। বাংলাদেশের জয়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল রুবেলের দুটো স্পেল। রুবেল প্রথম আঘাত হেনেছিলেন নিজের দ্বিতীয় স্পেলে। ২৭তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ফিরিয়েছিলেন সেট ব্যাটসম্যান ইয়ান বেলকে (৬৩)। চতুর্থ বলে শূন্য রানে আউট করলেন অধিনায়ক এউইন মরগ্যানকেও। ২ উইকেটে ১২১ থেকে ইংল্যান্ডের হয়ে গেল ৪ উইকেটে ১২১!

চমক বাকি ছিল আরও। ৪৯ ওভারে স্নায়ুক্ষয়ী মুহূর্তে রুবেল হয়ে উঠলেন দুরন্ত ‘ইগল’। ভয়ংকর ইয়র্কারে নাস্তানাবুদ করলেন শেষ দুই ব্যাটসম্যানকে। স্টুয়ার্ট ব্রড ও জেমস অ্যান্ডারসনকে ফিরিয়ে নিশ্চিত করলেন দলের বিজয়। অবিশ্বাস্য এক জয়ে বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের নিশ্চিত হলো কোয়ার্টার ফাইনাল।


ভারতের বিপক্ষে দুর্দান্ত বোলিংয়ে মুস্তাফিজ আছেন ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’র তালিকায়। ছবি: প্রথম আলো

মুস্তাফিজকে নিয়ে নতুন কী বলার আছে! ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেকেই নিলেন ৫০ রানে ৫ উইকেট। তবে সিরিজে দ্বিতীয় ওয়ানডে ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ওই ম্যাচ বাংলাদেশের কাছে ছিল সিরিজ জেতার আর ভারতের কাছে তা বাঁচানোর।

টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামল ভারত। মুস্তাফিজের করা প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলেই ফিরলেন রোহিত শর্মা। প্রথম স্পেলে আর সাফল্য নেই মুস্তাফিজের। বাঁহাতি পেসার ভয়ংকর হয়ে উঠলেন দ্বিতীয় স্পেলে। ৩৬ থেকে ৪৪ ওভার—এ সময়ে মুস্তাফিজের ৫ ওভারেই কবর রচিত হলো ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপের। মুস্তাফিজ একে একে তুলে নিলেন সুরেশ রায়না, মহেন্দ্র সিং ধোনি, অক্ষর প্যাটেল, রবীচন্দ্রন অশ্বিন ও রবীন্দ্র জাদেজাকে। তাসের ঘরের মতো ধসে পড়ল ভারতীয় ব্যাটিংয়ের মিডল ও লোয়ার অর্ডার। ভারত অলআউট ২০০ রান। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ২০১ রানের লক্ষ্য অনায়াসেই টপকে গেল বাংলাদেশ। এক ম্যাচ বাকি থাকতেই নিশ্চিত হলো সিরিজ।

ওয়ানডে ক্রিকেট এমনই, একটি বা দুটি স্পেলই বদলে দিতে পারে ম্যাচের চেহারা। ম্যাচ বদলে দেওয়া স্পেলে টাইমস অব ইন্ডিয়ার তালিকায় আছেন টিম সাউদি, ট্রেন্ট বোল্ট, মিচেল স্টার্ক, ইমরান তাহির, কাগিসো রাবাদা, মিচেল ম্যাকক্লেনাহান, মরনে মরকেল ও মিচেল মার্শ


পাকিস্তানের বিপক্ষে সাব্বিরের এই ইনিংস বর্ষসেরা পাঁচ ইনিংসের একটি। ছবি: প্রথম আলো।

পাওয়ার হিটে বেশ পারঙ্গম। টাইমিং ঠিকঠাক হলে বল পাঠিয়ে দেন সোজা গ্যালারিতে! তবে ব্যাটিংয়ের যে অর্ডার, সময়-বল থাকে না পর্যাপ্ত। কিন্তু তাতেও নিজেকে চেনাতে সমস্যা হয়নি সাব্বির রহমানের। পরিস্থিতির দাবি মেনে খেলতে পারেন কার্যকরী ইনিংস। এরই মধ্যে গায়ে সেঁটে গেছে ‘টি-টোয়েন্টি বিশেষজ্ঞ’ তকমা। এবার ভারতের সবচেয়ে প্রচারিত পত্রিকা ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’-এর সেরা পাঁচ টি-টোয়েন্টি ইনিংসের তালিকায়ও উঠে এসেছে সাব্বিরের নাম।

এ বছর টি-টোয়েন্টিতে সেরা পাঁচ ইনিংসের তালিকা করেছে ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’। সে তালিকায় ক্রিস গেইল, মরনে ফন উইক, গুলাবদিন নাইব ও জর্জ ওয়ার্কারের সঙ্গে আছেন বাংলাদেশের সাব্বির।
স্বপ্নের মতো এক বিশ্বকাপ কাটিয়ে আসা বাংলাদেশ ছন্দ ধরে রেখেছিল এপ্রিলে ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজেও। ধবলধোলাই করেছিল পাকিস্তানকে। হারের পর ‘পাকিস্তান ওয়ানডে দল পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে’ এমন অজুহাত দিয়েছিলেন পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি। কিন্তু টি-টোয়েন্টিতেও বাংলাদেশের কাছে পাত্তা পায়নি পাকিস্তান।

সে জয়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল সাব্বিরের। ১৪২ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ষষ্ঠ ওভারেই ৩৮ রানে ৩ উইকেট হারিয়েছিল বাংলাদেশ। এরপরই সাকিব আল হাসানের সঙ্গে জুটি বাঁধেন সাব্বির। দুজনে মিলে মাত্র ১০.৪ ওভারেই তুলে ফেলেন ১০৫ রান। অভিজ্ঞ সাকিবকে পার্শ্ব চরিত্র বানিয়ে পুরো আলোটা নিজের দিকে নিয়ে নিয়েছেন সাব্বির। মাত্র ৩২ বলে ৭ টি চার ও ১ টি ছক্কায় ৫১ রান তুলে অপরাজিত থেকেই মাঠ ছেড়েছিলেন।

ক্যারিয়ারের একমাত্র টি-টোয়েন্টি ফিফটিতে সেদিন শুধু ম্যাচ সেরা হননি, বছরের সেরা টি-টোয়েন্টি ইনিংসেও নাম উঠে গেছে সাব্বিরের।

41
এক ট্রাক থেকে ১২শ’ বাস একজন উদ্যোক্তার গল্প


এক সময় মাত্র একটি ট্রাক ছিল তার। এখন তিনি একে একে ১২শ’ বাসের মালিক। দেশের বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে সেতুবন্ধন তৈরি করে চলেছে তার বাসগুলো। এলাকায় তিনি ‘ফাদার অব ট্রান্সপোর্টেশন’ হিসেবেই পরিচিত।

সংগ্রামী ও সফল এই মানুষটির নাম জয়নাল আবেদীন। হানিফ এন্টারপ্রাইজের স্বপ্নদ্রষ্টা তিনি। জীবনের শুরুটা বেশ বন্ধুর ছিল তার। তবে তা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হন নিরলস শ্রম আর কঠোর অধ্যাবসায়ে।

তার হাত ধরেই বিকশিত হয়েছে দেশের পরিবহন খাত। গণপরিবহনে তার ভূমিকা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে সবাই। এলাকার মানুষ তাকে ডাকেন জয়না মহাজন নামে।

জয়নাল আবেদীনের জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকার সাভারে। মাত্র একটি ট্রাক নিয়ে পথ চলা শুরু। পরবর্তীতে শুরু কোচ ব্যবসা। গড়ে তোলেন পরিবহন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ‌‘হানিফ এন্টারপ্রাইজ’। ছোট ছেলে হানিফের নামেই গড়ে তুলেছিলেন হানিফ এন্টারপ্রাইজ। তারপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি।

পেট্রোল পাম্প, সিএনজি স্টেশন, ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারিং, কোল্ডস্টোরেজ, পানীয় ও প্রকাশনা ব্যবসাও গড়ে তুলেছেন এ স্বপ্নবাজ মানুষ। পরবর্তীতে যেখানেই হাত দিয়েছেন সোনা ফলিয়েছেন সেখানেই।

বড় ছেলে আলহাজ্ব কফিল উদ্দিন রাজনীতিবিদ। সাভার উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমান সরকারের আমলে নানা প্রতিবন্ধকতার বেড়াজাল ডিঙ্গিয়ে বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হয়েছেন সাভার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান।

তবে রাজনীতি সম্পর্কে তীব্র অনীহা জয়নাল আবেদীনের। বাবা হাজী মো. আজিম উদ্দিন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টানা দুই যুগ আমিনবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। কিন্তু রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে উঠলেও প্রথম থেকেই রাজনীতিকে পাশ কাটিয়ে চলেছেন জয়নাল আবেদীন। মিডিয়া তাকে আকর্ষণ করে না।

সবাই দুই ছেলেকে চিনলেও হানিফ এন্টারপ্রাইজের আসল কারিগর জয়নাল আবেদীন সবসময়ই গণমাধ্যমকে এড়িয়ে চলেছেন। তাই তাকে নিয়ে কৌতুহলের শেষ নেই সাধারণ মানুষের।

সম্প্রতি একটি নিউজ পোর্টালের পক্ষ থেকে জয়নাল আবেদীনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বিনীতভাবে জানিয়ে দেন, কোন সাক্ষা‍ৎকার ও ছবি নেওয়া যাবে না। কিন্তু পাঠকদের আগ্রহের কথা স্মরণ করিয়ে দিতেই কিছুটা নমনীয় হন তিনি। বলতে থাকেন তার সাফল্যের সেই দিনগুলোর অজানা গল্প।

জয়নাল আবেদীন বলেন, আমার জন্ম সাভারের আমিনবাজারের হিজলা গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম ব্যবসায়ী পরিবারে। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে আমি ছিলাম পঞ্চম। বাবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থাকার সময় আমদানি রফতানির ব্যবসা করতেন। বিশেষ করে তিনি ধান-চাল ও চামড়ার সফল ব্যবসায়ী ছিলেন।

আমার বাবাই ছিলেন প্রথম ব্যবসায়ী যিনি সে সময় প্রথম করাচী, বোম্বে (বর্তমান মুম্বাই) ও বার্মার (বর্তমানে মায়ানমার) সঙ্গে জলপথে আমদানি-রপ্তানির ব্যবসা শুরু করেন। সে সুবাদে সমাজের অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তি ও রাজনীতিবিদ আসতেন আমাদের বাড়িতে। সে সময় আমার বড় ভাই সালাউদ্দিন ডাক্তারি পড়ছিলেন।

আমি তখন ভর্তি হই আমিনবাজার মিরপুর মফিদ-ই-আম জুনিয়র মাদ্রাসায়। সেখান থেকে বাবা আমাকে ভর্তি করেন মিরপুর সিদ্ধান্ত উচ্চ বিদ্যালয়ে। সে সময় আমি অত্যন্ত দূরন্ত ছিলাম। লেখাপড়ায় মন ছিল না। সারাদিন এখানে ওখানে ঘুরতাম।

এরই মধ্যে বাবা বড় ভাইয়কে বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। মিরপুরের হাজী নুরুল ইসলামের মেয়ে মমতাজ বেগমের সঙ্গে তার বিয়ে ঠিক করলেন। কিন্তু বড় ভাই তখন বিয়েতে রাজি ছিলেন না। তাই আমাকেই বসানো হলো সেই বিয়ের পিঁড়িতে। তখন আমার বয়স মাত্র ১৪ বছর। আর মমতাজ বেগমের বয়স ছিল মাত্র ১২ বছর।

পড়াশোনায় মনোযোগী না হওয়ায় ব্যবসা শুরু করলাম। বাবার টাকায় শুরু করলাম ধান-চালের ব্যবসা। সে সময় এতো পরিবহন তো ছিলই না, এমনকি দূরপাল্লার রাস্তাও ছিল কম। যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম ছিল ট্রেন, না হয় নৌপথ।

ধান-চালের ব্যবসায় কমলাপুর থেকে ট্রেনে সান্তাহার-সেখান থেকে বাসে চেপে নওগাঁ-তারপর টমটম ধরে মহাদেবপুর-সেখান থেকে পায়ে হেটেঁ চলে যেতাম মহিষবাথান নামের জায়গায়। সেখানের মানুষ আমার কাছে তিন হাজার টাকা দেখে অবাক! তারা ভাবছিল এত কম বয়সী ছেলের হাতে এত টাকা! এমনকি আমাকে চাল ব্যবসায়ী মনে করাটাও বোকামি মনে করছিল অনেকে।

হঠাৎ পূর্ব পাকিস্তানে চালে আকাল। চালের সরবরাহ কম, মূল্য বেশী। তাই চাল কিনতে প্লেনে চেপে যশোর গেলাম। ভাড়া ছিলো মাত্র ২৭ টাকা। সাথে ছিল আমার গোমস্তা। সে সময়ই আমি একাই আড়াইশ মণ চাল কিনলাম। এবার ফেরার পালা।

নানা ঘাট হয়ে আমাদের চাল বোঝাই নৌকা যখন মুন্সীগঞ্জের কাছে পদ্মায় ভাসছিল তখন প্রচণ্ড ঝড়ে নৌকা ডুবে গেল। সে যাত্রায় মাঝিদের সহায়তায় প্রাণে রক্ষা পাই। যতদূর মনে পড়ে, ওই দুর্ঘটনায় হাতের মুঠোয় আকঁড়ে রাখা ৫০ টাকা ছিল বাড়ি ফেরার শেষ সম্বল। বাড়ি ফিরে ধান-চালের ব্যবসা বাদ দিলাম।

এরপর পরিবারের ৫ ভাই একসঙ্গে হজ্ব করতে সৌদি আরবে গেলাম। এ ঘটনা এলাকায় তো বটেই, ভরতবর্ষেও তোলপাড় তুলে দিলো। তৎকালীন লর্ড এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে আমাদের পরিবারকে ঐতিহ্যবাহী পরিবার অ‍াখ্যা দেন। এলাকায় আমাদের বাড়ির নাম হলো হাজী বাড়ি। আমরা কলকাতা বন্দর থেকে জলপথে জাহাজে চেপে সৌদি বন্দরে পৌঁছালাম। সেখান থেকে উটের পিঠে চড়ে গেলাম মক্কা-মদিনায়।

স্বাধীন হওয়ার পর দেশ পুনর্গঠনে ডাক পড়লো। মানিক মিয়া এভিনিউ, সংসদ ভবন এলাকায় তখন বোরো ক্ষেত। ওই ক্ষেতে সাব কন্ট্রাক্টে শুরু করলাম মাটি ফেলার কাজ। মাত্র ১৪ হাজার টাকায় তিন টনি একটি পেট্রোল ট্রাক কিনলাম। সেখান থেকেই শুরু। সঙ্গে কয়েকটি ট্রাক ভাড়াও নিলাম। পরে ট্রাকটি বিক্রি করে বেডফোর্ডের পাঁচ টনি ডিজেল ট্রাক কিনলাম।

একই সময় কাজ পেলাম ফেনীর মাতা ম‍ুহুরী নদীর বাঁধ নির্মাণে। সেখানেও সাব কন্ট্রাক্ট। মাটি ফেলার জন্যে ঠিকাদার আমাকে অগ্রীম ১০ লাখ টাকা দিলেন। তা দিয়ে কিনলাম দুটি হিনো কোচ। ছোট ছেলে হানিফের নামে যাত্রা শুরু করলো ‘হানিফ এন্টাপ্রাইজ’। প্রথমে ঢাকা-বগুড়া রুটে। পরবর্তীতে একটির সাফল্য ধরে আরো একটি একটি করে রুট বাড়তে থাকলো। এভাবেই গত চার দশকে বহরে যুক্ত হয়েছে ১২শ’ বাস।

রাজনীতিতে না আসার কারণ জানতে চাইলে জয়নাল আবেদীন বলেন, হয়তো আরও বহুদূর যেতাম! তারপর নিজের আবেগ থামিয়ে সতর্ক হয়ে কথায় ফিরিয়ে আনেন নিজেকে।
বর্তমানে হানিফ এন্টারপ্রাইজে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে। সততা, বিশ্বস্ততা আর নির্ভরতার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন জয়নাল আবেদীন। আজ অনেকেই তার দুই ছেলেকে চেনেন। আর এখানেই তার আনন্দ।


সূত্রঃ https://www.facebook.com/groups/bekarthekeuddokta/

42
ফেব্রুয়ারিতে ঘরের মাঠে সিরিজ খেলে অবসর
‘বিশ্বকাপ’ও আটকাতে পারল না ম্যাককালামকে'

     
ব্রেন্ডন ম্যাককালাম‘এর মধ্যেও একধরনের রোমান্টিকতা আছে!’ ক্রাইস্টচার্চে কাল ঘোষণাটা দিয়ে মুচকি হেসে বললেন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। কেমন রোমান্টিকতা, সেই প্রশ্ন ওঠার আগেই ব্যাখ্যাও দিলেন কিউই অধিনায়ক, ‘নিউজিল্যান্ডের দর্শকদের সামনে খেলে বিদায় বলতে পারা। এই ক্রাইস্টচার্চে খেলেই শেষ করা, যেটা আমার নিজের মাঠের মতোই হয়ে গেছে, আমি এ রকমই কিছু একটা চেয়েছিলাম।’
আর সেই চাওয়া পূরণ করতে গিয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায়ের আগাম ঘোষণা দিয়েছেন ম্যাককালাম। আগামী ফেব্রুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই টেস্ট সিরিজের পরপরই অবসরে যাবেন বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের এই কিউই ব্যাটসম্যান। দেশের মাটিতে শেষ করার সেই রোমান্সের টানেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওই সিরিজের কয়েক দিন পরেই হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলার ইচ্ছেটাও দূরে ঠেলে দিয়েছেন! বলেছেন, ‘ক্রিকেট খেলতে আমার ভালো লাগে, কিন্তু সব ভালোরই তো একটা শেষ আছে।’



এ সময়ের টি-টোয়েন্টির সেরা তারকাদের একজন। সেই তাঁকেও আটকাতে পারল না টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলার আগ্রহ!

বয়স ৩৪ পেরিয়েছে গত সেপ্টেম্বরে। কিন্তু এখনো বোলারদের জন্য মূর্তিমান আতঙ্কের নাম। কদিন আগে হ্যামিল্টনে ৯৯তম টেস্ট খেলতে নেমে ভেঙেছেন অভিষেকের পর টানা টেস্ট খেলা এবি ডি ভিলিয়ার্সের রেকর্ডটি। টেস্টে এক শ ছক্কা মেরে বসেছেন অ্যাডাম গিলক্রিস্টের পাশে। নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক হিসেবে পেয়েছেন একাদশ টেস্ট জয়। ক্যারিয়ারের এই ‘বসন্তকাল’টা কোথায় উপভোগ করবেন, ম্যাককালাম কিনা দিলেন বিদায়ের ঘোষণা!

আগামী বছর ১২ ফেব্রুয়ারি ওয়েলিংটনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টটা হবে ম্যাককালামের ১০০তম টেস্ট। ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে অভিষেকের পর টানা ১০০ টেস্ট খেলার প্রথম কীর্তি হবে। এরপর ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট ক্রাইস্টচার্চে। ওটাই হয়ে যাবে ম্যাককালামের ক্যারিয়ারের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ।

ঘোষণাটা অবশ্য নিজের শেষ ম্যাচের পরই দেওয়ার সুযোগ ছিল। সেটি না করে একটু আগেই জানিয়ে দেওয়ার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন ম্যাককালাম, ‘ক্রাইস্টচার্চের টেস্টের শেষে সবাইকে এই খবর দিতে পারলে আদর্শ হতো। কিন্তু এর আগেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করা হবে। সেখানে আমার নাম না দেখে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হতে পারে। আমি সেই বিভ্রান্তি এড়াতে চেয়েছি।’

বিতর্কিতভাবে রস টেলরের অধিনায়কত্ব শেষ হওয়ার পর ২০১২ সালে দলের নেতৃত্ব পান ম্যাককালাম। শুরুটা ভালো হয়নি, ২০১৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে কেপটাউনে ৪৫ রানে অলআউট হয়ে যায় তাঁর দল। ওই সিরিজে দুটি টেস্টই হারে নিউজিল্যান্ড। কিন্তু সেই নিউজিল্যান্ডকেই গত কয়েক বছরে দারুণ আক্রমণাত্মক এবং বিশ্বের অন্যতম সেরা দলে পরিণত করেন ম্যাককালাম। সম্প্রতি শ্রীলঙ্কাকে সিরিজ হারিয়ে দেশের মাটিতে সর্বোচ্চ ১৩ টেস্ট অপরাজিত থাকার রেকর্ড স্পর্শ করেছে ম্যাককালামের নিউজিল্যান্ড। ২৯ ম্যাচে দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে ১১টিতে জয় পাওয়া ম্যাককালাম নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসের অন্যতম সফল টেস্ট অধিনায়কও। তাঁর নেতৃত্বেই প্রথমবারের মতো এ বছর বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলে নিউজিল্যান্ড।



এমন একজনের বিদায় ঘোষণাটা স্বাভাবিকভাবেই নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের জন্য বড় ধাক্কা। তবে কে তাঁর জায়গা নেবেন, সেই জল্পনা-কল্পনা শুরুর আগেই নিউজিল্যান্ড কোচ মাইক হেসন খোলাসা করে দিয়েছেন সবকিছু, ‘ব্রেন্ডন না থাকলে কেন (উইলিয়ামসন) আমাদের অধিনায়ক হবে, এটা ঠিক করাই আছে।’

তবে অবসরের আগ পর্যন্ত বাকি ম্যাচগুলোতে যে নেতৃত্বটা ম্যাককালামের কাঁধেই থাকছে, সেটিও নিশ্চিত করেছেন হেসন, ‘ব্রেন্ডন এখনো আমাদের সেরা অধিনায়ক। সব পরিসংখ্যানই তাঁর পক্ষে কথা বলছে। তাই যত দিন সুযোগ আছে, আমরা তাঁকে কাজে লাগাতে চাই।’ ক্রিকইনফো, নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড।

43
নোয়াপাড়া'র সেই দুরন্ত রনি

আবু হায়দার রনি

তার উঠে আসার গল্পটা রুপালি পর্দার সিনেমাকেও যেন হার মানাবে। জন্ম একেবারেই প্রান্তিক এক জনপদে। নেত্রকোনার বাহাট্টা থানার রায়পুর ইউনিয়নের নোয়াপাড়া গ্রাম। বাবা জালালউদ্দিন। গ্রামের হাটে তিনি ধান-চালের ব্যবসা করতেন। সংগ্রাম করতে করতেই যার কেটে যায় পুরোটা দিন। ছেলের মাঝের সুপ্ত প্রতিভার দিকে কতটাইবা নজর দিতে পারতেন তিনি।

দুরন্ত আবু হায়দার রনি। জীবনযুদ্ধের সেই সংগ্রামী বাবারই আদরের ছেলে। পড়াশোনা করেছেন নেত্রকোনার আঞ্জুমান সরকারি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে। সেখান থেকে আবু আব্বাস ডিগ্রী কলেজে ভর্তি হওয়ার আগেই অবশ্য এলাকায় নাম ডাক ছড়িয়ে পড়েছিল। এমন জোরে বল ছোড়া ছেলে তো আর দশ গ্রামে ছিল না! ডাক পড়লেই খ্যাপ খেলতে যেতেন। কিন্তু তার স্বপ্নটা তো আরো বড়। লাল-সবুজের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করা চাই। তাইতো গ্রামের মায়া ছেড়ে এক সময় পা বাড়ালেন শহরের পথে। এলেন রাজধানীতে। তারপর অচেনা অলি-গলি চিনতেই কেটে গেল খানিকটা সময়। তবে হাল ছাড়লেন না। লক্ষ্যে এগোতে থাকলেন ধীরে ধীরে। একদিন সুযোগটা যখন মিলেই গেল, তখন আর হাতছাড়া করা কেন? প্রথম সুযোগেই নিজের জাতটা চেনালেন। স্বপ্ন পূরণের পথটাও আরো প্রশস্ত হল!

বয়স ২০-এর ঘর পেরোয়নি রনির। এমন এক তরুণকে পরিসংখ্যান দিয়ে বিচার করাটা রীতিমতো অন্যায়ই। তার ওপর এখনো জাতীয় দলের দরজা খোলেনি ছেলেটির। তবে ব্যাটসম্যানদের ডাক করতে বাধ্য করানোর পর যে শারীরিক ভাষার বহিঃপ্রকাশ, সেটি ক্ষিপ্র এক পেসারের আবির্ভাবের সম্ভাবনার কথাই জানিয়ে দেয়। সঙ্গে বয়সভিত্তিক দলে টানা কয়েক বছর প্রতিভার বিচ্ছুরণ, সামর্থ্যকে পারফরমেন্সে রূপান্তরের দক্ষতা ও টেম্পারামেন্টের দিকে খেয়াল রাখলে অনায়াসেই বলে দেওয়া যায়- বাংলাদেশ ক্রিকেট আরেকজন তেজিবাঘের সার্ভিস পেতে যাচ্ছে। বাঁহাতি পেসার রনির জাতীয় দলে জায়গা করে নেওয়াটা এখন যেন কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র!

রনির বয়স সবে ১৯। মাস দেড়েক পেরিয়ে গেলে বিশের ঘরে পা রাখবেন। সদ্যগত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) সবচেয়ে আলোচিত-নজরকাড়া খেলোয়াড়দের একজন হয়েছেন। যাকে টুর্নামেন্টের ভাষায় বলে "মোস্ট ভ্যালুয়েবল বাংলাদেশি প্লেয়ার"।



মাত্র এক উইকেটের জন্য টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী হতে পারেননি। তবে যে সম্ভাবনার কথা জানান দিয়েছেন, সেটি উজ্জ্বল এক ভবিষ্যতের বার্তাই দিয়েছে। ১২ ম্যাচে ৪৫.৪ ওভার বোলিং করে নিয়েছেন ২১ উইকেট। সেরা ১৯ রানে ৪টি। যদিও ১৫.০৪ গড়ের সাথে ৬.৯১ ইকোনমির দিকে তাকালে পুরোটা বোঝা যাবে না, ঠিক কতটা ধারাবাহিক ছিলেন এই তরুণ। প্রতি ১৩ বলে একটি করে উইকেটের পরিসংখ্যানও রনির মাঠের দাপটের কথা পুরোটা বলবে না।

বলের গতিটা সময়ের সাথে আরো খানিকটা বাড়বে নিশ্চিত! তবে লাইন-লেংথ সহজাত। একই লেংথে, একই জায়গায় টানা বল ফেলে যেতে পারেন। আছে সুইং করানোর স্বকীয় সামর্থ্যও। ইয়র্কার দিতে পারঙ্গম। সাথে উইকেট প্রাপ্তির বুনো উদযাপনের ধরন বলে দেয়- পেস বোলারসুলভ আগ্রাসী মনোভাবটাও আছে। সব মিলিয়ে ফলাফলটা কোথায় দাঁড়াতে পারে সেটি সদ্যগত বিপিএলের সিলেট সুপার স্টার্সের এটি ম্যাচের দিকে তাকালেই বোঝা যাবে।



ম্যাচের শেষ ওভারে ৬ উইকেট হাতে রেখে সিলেট সুপার স্টার্সের প্রয়োজন ছিল মাত্র ৪ রান। উইকেটে থিতু হয়ে যাওয়া রবি বোপারা। সিলেটের একটি সহজ জয়কে সেদিন প্রায় ছিনিয়েই নিয়েছিলেন রনি। পারেননি। তবে, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের এ তরুণ পেসার টানা দুই বলে বোপারা ও লঙ্কান শেহান জয়াসুরিয়াকে ফিরিয়ে জানান দিয়েছেন, ভরসাটা রাখলে প্রতিদান মিলবে! সেই ম্যাচের ঐ ওভারটির জন্য টাইগার ক্রিকেটের 'জিওন কাঠি' মাশরাফি বিন মুর্তজাও ধন্যবাদ পেতে পারেন। কুমিল্লার অধিনায়ক যদি তরুণ রনির হাতে সেদিন বল তুলে না দিতেন, তবে 'বাজির ঘোড়া' সন্ধান যে অজানাই থেকে যেত!

অথচ বিপিএল শুরুর আগে সামান্যই আলোচনায় ছিলেন ১৯-বর্ষী এ তরুণ পেসার। আবার এমনো নয়, টাইগার ক্রিকেটে নেত্রকোনার রনি একেবারেই অচেনা কেউ। বাংলাদেশের বয়সভিত্তিক দলগুলোতে নিয়মিতই খেলেছেন। অনূর্ধ্ব-১৭, অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে বেশ উজ্জ্বল পারফরমেন্স তার। তবে সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন ২০১২ সালে জুনে, মালয়েশিয়ায় এসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ টুর্নামেন্টের একটি ম্যাচ দিয়ে।


রনির বয়স তখন ১৬। সেদিন ম্যাচে কাতারের ব্যাটসম্যানরা রনির রুদ্রমূর্তি দেখেছিল। মাত্র ৫.৪ ওভারে ১০ রানে ৯ উইকেট নিয়েছিলেন। আর বাংলাদেশের বেধে দেওয়া ৩৬৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৩৫ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল কাতার। যুবা টাইগারদের বিশাল এ সংগ্রহের দিনে আরেকজনের ব্যাটিং তাণ্ডবের মুখেও পড়েছিল কাতার। সেদিন ১৩৫ বলে ২০৯ রানের একটি ইনিংস খেলেছিলেন জাতীয় দল তারকা সৌম্য সরকার।

পরের বছর এসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ টুর্নামেন্টেই আবারো নিজের জাত চিনিয়েছিলেন রনি। আবুধাবিতে মালয়েশিয়াকে ৫০ রানে গুটিয়ে দেওয়ার দিনে ৮ ওভারে ৮ রানে নিয়েছিলেন ৫ উইকেট। ২০১২ ও ২০১৪ যুব টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলেছেন। ঘরোয়া ক্রিকেটেও সবার নজরেই ছিলেন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত ১১ ম্যাচে ১৮ উইকেট তার। লিস্ট ‘এ’ ম্যাচে সেখানে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ভিক্টোরিয়ার হয়ে ১৭ উইকেট। আর বিপিএল-২০১৫ তো তার জীবনটাই বদলে দিয়েছে। যেখান থেকে আর কখনো হয়তো পিছু ফিরে তাকাতে হবে না তাকে।

টাইগারদের রঙিন পোশাকের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা আবু হায়দার রনি সম্পর্কে  নিজের মুগ্ধতার কথা আগেই জানিয়ে রেখেছেন। ম্যাশের মতে, ঠিকঠাক পরিচর্যা করলে আগামী দুই-আড়াই বছরে সেরা একজন পেসারের সার্ভিসই আশা করতে পারে বাংলাদেশ ক্রিকেট। তবে, কেউ কেউ তো রনিকে জাতীয় দলের দোরগোড়াতেই দেখছেন।

২০১৫ সালে টাইগার ক্রিকেটের ঊর্ধ্বগামী পারফরমেন্সের সাথে উঠতি খেলোয়াড়দের নিজেকে মেলে ধরা যে প্রবণতা, তাতে মুস্তাফিজুর রহমানের মত রনিকে জাতীয় দলের জার্সিতে নামিয়ে দিয়ে নির্বাচকরা আরেকটি জুয়া খেলতেই পারেন। তেমন হলে, ঘরের মাঠে আসছে বছরের শুরু দিকে এশিয়া কাপে রনিকে লাল-সবুজের জার্সিতে দেখা গেলেও অবাক হওয়ার থাকবে না। দাবিটা যে তিনি জানিয়েই রেখেছেন।



Attention Link: http://khelabd.com/index.php/2015-08-08-13-46-37/2015-12-20-09-25-03

44
জাদুকর মাশরাফির সোনারঙা বছর !!!
   
মাশরাফির সাফল্যযাত্রার শুরু। গত বছর অক্টোবরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ জেতালেন ৫-০তে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জয়ের ট্রফি হাতে টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকও

২০১৪ আর ২০১৫-এর মধ্যে কত পার্থক্য? বলতে পারেন, মাত্র এক বছর। কিন্তু বাংলাদেশের ক্রিকেটে এই দুটো বছর একই মুদ্রার দুই পিঠ যেন। পাশাপাশি, কিন্তু একেবারে ভিন্ন দুই ছবি।

২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২৫ ম্যাচ খেলে ২২টিতেই হেরেছিল বাংলাদেশ! একটি টেস্ট ড্র, চট্টগ্রামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। দুটো ওয়ানডে জয়, সেটিও আফগানিস্তান ও নেপালের মতো দলের বিপক্ষে। সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড একটি সিদ্ধান্ত নিল। টেস্টের দায়িত্ব মুশফিকুর রহিমের কাছে রেখে রঙিন পোশাকের দায়িত্ব তুলে দিল মাশরাফি বিন মুর্তজার কাঁধে। যাঁর নিজেরই অধিনায়কের অভিজ্ঞতা সুখকর ছিল না। দুই দফায় সেই চেনা শত্রু চোট জাতীয় দলের পাশাপাশি ছিটকে দিয়েছিল অধিনায়কের দায়িত্ব থেকেও।

এবার মুদ্রার ওপিঠ দেখলেন মাশরাফি। সুখের, জয়ের, গর্বের, আনন্দের। গত বছর অক্টোবরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত একটিও ওয়ানডে সিরিজে হারেননি। জিম্বাবুয়ে, পাকিস্তান, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকার পর আবারও জিম্বাবুয়ে-ঘরের মাটিতে টানা পাঁচ সিরিজ জয়। মাঝখানে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল। মাশরাফির ২০১৫ শেষ হলো সাদামাটা একটি দলকে বিপিএলে চ্যাম্পিয়ন করে।

বিপিএলে এর আগেও দুবার ট্রফি হাতে তুলেছিলেন ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের অধিনায়ক হিসেবে। পরশু ট্রফির হ্যাটট্রিক হয়ে গেল। কী জাদু জানেন মাশরাফি? কী সেই রসায়ন? সরল মাশরাফির সরল উত্তর, ‘রসায়নটা আমি জানি না। সৌভাগ্যবান ছিলাম। তিনবারই বিপিএলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আগপর্যন্ত বলছি, তিনটা ফাইনাল খেলেছি। এখন বলতে পারছি তিনবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। সত্যিই আমি খুব লাকি।


’বিশ্বকাপ, পাকিস্তান, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে-সাফল্যের পর বিপিএলে কুমিল্লার ট্রফি হাতে বছরটা শেষ করলেন মাশরাফি। ছবি: প্রথম আলো

শুধু কি ভাগ্য? ভাগ্য তো সাহসীদেরই পাশে এসে দাঁড়ায়। সাহসী মাশরাফি একের পর এক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সবগুলো বাজির দানেই জিতেছেন জ্যাকপট। এর কৃতিত্ব মাশরাফি যেন নিতেই চান না। পুরো কৃতিত্ব দিয়ে দিতে চান কোচ আর খেলোয়াড়দের। কুমিল্লার জয়ের প্রসঙ্গে বললেন, ‘কোচ সালাউদ্দিনকে কৃতিত্ব দিতেই হবে। কোচ আড়ালে থাকেন। দূর থেকে কোচের কাজটা দেখা যায় না। যে দলটা পেয়েছিলাম, সেটিকে চ্যাম্পিয়ন বানানোয় কোচের অনেক অনেক অবদান আছে। শুরু থেকে অনেক কাজ করেছেন। কোন খেলোয়াড়কে কোন ভূমিকায় খেলাতে হবে, কী কাজ করতে সেটার পরিকল্পনা করেছেন। পুরো দলও তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছে।’

বিপিএল নিয়ে বলতে গিয়েও কুমিল্লার বিজয়ী অধিনায়ক নয়, জাতীয় দলের অধিনায়ক মাশরাফিরই দেখা মিলল, ‘স্থানীয় খেলোয়াড়েরা পারফর্ম করেছে। এটা খুবই স্বস্তিদায়ক। জাতীয় দলের ব্যাটসম্যান-বোলার পারফর্ম করেছে নিয়মিত। নতুনরাও উঠে আসছে। এর পাশাপাশি দলের বাইরে থাকা অলক-শাহরিয়ার নাফীসের মতো অভিজ্ঞরাও ভালো খেলেছে। একাদশে থাকার জন্য সুস্থ প্রতিযোগিতা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সবাই রান করছে। শুধু আমরা চ্যাম্পিয়ন হয়েছি জন্য নয়। সাব্বির, রিয়াদ, নাফীসরা রান করেছে; ইমরুল শেষ চারটি ম্যাচে দারুণ খেলেছে। এটা ইতিবাচক দিক।’

তবে বাংলাদেশের ক্রিকেটের কঠিনতম দিনগুলোর সাক্ষী বলেই হয়তো এও যোগ করছেন, ‘অধিনায়ক হওয়ার পরও এখনো আমার কঠিন সময়ও যায়নি। তাই সবাই অধিনায়কত্ব নিয়ে এত কথা বলছে। এটার পেছনে পুরো কৃতিত্ব খেলোয়াড়দের। খেলোয়াড়েরা ভূমিকা পালন না করলে, পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে না পারলে কোনো অধিনায়কের পক্ষেই ভালো দল গড়ে তোলা সম্ভব না। একটা পরিকল্পনাও লাগে। বাংলাদেশ দলে যে কাজটি করেন হাথুরু। কুমিল্লা দলে করেছেন সালাউদ্দিন।’

শুরু হতে না হতেই বিতর্ক। ‘হঠাৎ ছাড়পত্র পাওয়া’ দুই বিদেশিকে খেলানো নিয়ে সিলেট সুপারস্টার্সের মালিকের সঙ্গে বিবাদ তামিম ইকবালের।  দ্বিতীয় বলে রবি বোপারা, তৃতীয় বলে নুরুল হাসান, পরের বলেই মুশফিক! হ্যাটট্রিক করলেন আল-আমিন। বিশ্বকাপ-বিতর্ক, এরপর ক্যারিয়ার নিয়ে শঙ্কা মুছে দিয়েছেন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। এবার জ্বলে উঠলেন আরও।

আবার বিতর্ক! এবার সাকিব আল হাসান। আউটের আবেদনে আম্পায়ার তানভীর আহমেদ সাড়া না-দেওয়ায় এই অখেলোয়াড়সুলভ আচরণ করে এক ম্যাচ নিষিদ্ধ।

গেইল কবে আসবেন, মাঠে ঝড় তুলবেন—অত অপেক্ষা করতে রাজি ছিলেন না এভিন লুইস। চট্টগ্রামের উপকূলে দেখালেন ক্যারিবীয় ‘ঝড়ে’র প্রদর্শনী। এবারের বিপিএলের একমাত্র সেঞ্চুরি। বরিশালের সঙ্গে সিলেটের ম্যাচ। দুই ভায়রা ভাই মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহর টস করতে নামার কথা। কিন্তু এ কী! মাহমুদউল্লাহর টস-সঙ্গী শহীদ আফ্রিদি! হঠাৎই ‘চাপ’ কমাতে মুশফিককে সরিয়ে আফ্রিদিকে সিলেটের অধিনায়ক করাটা বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ঝড়ই তুলছিলেন গেইল। ১২ বলেই চারটি চার আর দুটি ছক্কা। কিন্তু মুস্তাফিজ আছেন না! মায়াবী অফ-কাটারটা গেইলকে বিভ্রান্ত করে ঢুকে গেল স্টাম্পে। গেইলও চিনলেন ‘মায়াবী’ মুস্তাফিজকে।


আবু হায়দার রনির দুর্দান্ত ইন সুইং ইয়র্কার। ব্যল পড়ে গেল। ভূপাতিত ব্যাটসম্যান সিমন্স—এবারের বিপিএলের অসহ্য সুন্দর  দৃশ্যগুলোর একটি। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জার্সিতেও নিয়মিত এমন দৃশ্যের জন্ম দেবেন রনি - এমন আশা জাগিয়ে গেল বিপিএল। ছবি: শামসুল হক

ম্যাচের আগে হঠাৎ ঘোষণা - গেইল খেলছেন না। তবে সাব্বির যেদিন এমন ‘অ্যাটাক মুড অন’ করে রাখেন, সেদিন গেইলের দরকারই বা কী! ৪৯ বলে ৭৯ রানের ঝড়ে বরিশালকে নিয়ে গেলেন ফাইনালে।

ভুলে যাওয়া অলক কাপালি আবারও আলোকিত মঞ্চে। ধৈর্য্য, টেম্পারামেন্ট, ক্লাস, সঙ্গে স্ট্রোকের দ্যুতি—   পুরোনো অলকের ঝলকে শিরোপা কুমিল্লার ঘরে।

মাশরাফি নামের এই  পরশপাথরের ছোঁয়ায়ই তো কাগজে-কলমে সবচেয়ে দুর্বল দল নিয়েও শিরোপা জিতে গেল কুমিল্লা।

এ বছর আর কোনো খেলা নেই। টানা ক্রিকেট সূচির পর লম্বা বিরতি পাচ্ছেন মাশরাফি। বর্তমান সূচি অনুযায়ী ফেব্রুয়ারিতে এশিয়া কাপে আবার নেতৃত্ব দেবেন দলকে। কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন বাংলাদেশের ক্রিকেটের সোনারঙা ২০১৫ সালটিকে? মাশরাফি এখানে নিজের কথা বললেন না, ‘অনেক ভালো একটা বছর গেছে। তবে শুধু আমার না, পুরো বাংলাদেশ দলের। যতটুকু কঠোর পরিশ্রম করেছি, সে অনুযায়ী ফল পেয়েছি। সামনের দিনগুলোতে এর থেকে খুব ভালো চাই না। এভাবে চললেই আমি খুশি।’

কেবল মাশরাফির অধিনায়ত্বের জন্য কুমিল্লার সমর্থক বনে গিয়েছিল বাংলাদেশের বড় একটা অংশ। যে কুমিল্লা প্রথমে তাঁকে পেয়ে কিংবা সাকিবকে না পেয়ে হতাশ হয়েছিল; সেই তারাই পরে শুধু অধিনায়কের ভূমিকায় মাশরাফিকে খেলিয়েছে। ব্যাটিং-বোলিং কোনোটাই মাশরাফি করেননি। সেই অধিনায়ক মাশরাফিকে তিনি নিজে কত নম্বর দেবেন? মাশরাফির উত্তর, ‘শূন্য!’

45
Cricket / Easy qualifying group Bangladesh
« on: December 12, 2015, 09:09:53 AM »
বাছাইপর্বে সহজ গ্রুপেই বাংলাদেশ


মার্চে এই ট্রফিটার জন্যই ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম সংস্করণে লড়বে পরাশক্তিরা। কাল মুম্বাইয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সূচি ঘোষণার অনুষ্ঠানে ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি l এএফপিভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হচ্ছে আগামী ১৫ মার্চ। সেদিনই মাঠে নামবে কদিন আগে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বাছাইপর্ব উতরে আসা বাংলাদেশের মেয়েদের দল।

কিন্তু বাংলাদেশ পুরুষ দলকে মাঠে নামতে হবে আরও আগেই। তাদের যে পেরোতে বাছাইপর্ব। মূল বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে বাছাইপর্বে মাশরাফি-সাকিবদের ৫ দিনে খেলতে হবে তিনটি ম্যাচ। বাছাইপর্বটা বাংলাদেশের জন্য সহজই হয়েছে। ‘এ’ গ্রুপে আইসিসি টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ের দশে থাকা বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী ১৩ নম্বর হল্যান্ড, ১৫ নম্বর আয়ারল্যান্ড ও এখনো র্যাঙ্কিংয়ে নাম ওঠাতে না-পারা ওমান। বাছাইপর্বের ‘বি’ গ্রুপে পড়েছে র্যাঙ্কিংয়ের নয়ে থাকা আফগানিস্তান, ১১ নম্বর হংকং, ১২ নম্বর স্কটল্যান্ড ও ১৪ নম্বর জিম্বাবুয়ে।

৯ মার্চ হল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ। দুই দিন পরে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ম্যাচের প্রতিপক্ষ আয়ারল্যান্ড আর ১৩ মার্চ শেষ ম্যাচের প্রতিপক্ষ ওমান। গ্রুপ থেকে শুধু একটি দলের ভাগ্যেই জুটবে মূল পর্বের টিকিট। বাংলাদেশের বাছাইপর্বের সবগুলো ম্যাচই ধর্মশালায়।

‘এ’ গ্রুপ থেকে মূল পর্বে উঠলেও বাংলাদেশের ভাগ্য সুপ্রসন্ন তা বলা যাচ্ছে না। কারণ বাছাইপর্বে ‘এ’ গ্রুপ পেরোনো দল হিসেবে বাংলাদেশ তখন জায়গা পাবে মূল পর্বের গ্রুপ-২ এ। আর সেই গ্রুপে আছে ভারত, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। সে ক্ষেত্রে সুপার টেনে বাংলাদেশকে প্রথম ম্যাচটি খেলতে হবে পাকিস্তানের বিপক্ষে, ১৬ মার্চ, কলকাতার ইডেন গার্ডেনে।

ভারতে একই সঙ্গে অনুষ্ঠেয় মেয়েদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভারত-পাকিস্তান। ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশের অন্য দুই প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১৫ মার্চ বেঙ্গালুরুতে স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু করবেন জাহানারারা। সূত্র: আইসিসি বিজ্ঞপ্তি।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপিং
ছেলেদের
‘এ’ গ্রুপ: বাংলাদেশ, আয়ারল্যান্ড, ওমান, হল্যান্ড।
‘বি’ গ্রুপ: জিম্বাবুয়ে, আফগানিস্তান, হংকং, স্কটল্যান্ড।

সুপার টেন
গ্রুপ ১: দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ‘বি’ গ্রুপের শীর্ষ দল।
গ্রুপ ২: ভারত, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ‘এ’ গ্রুপের শীর্ষ দল।

মেয়েদের
গ্রুপ ‘এ’
অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, আয়ারল্যান্ড |
গ্রুপ ‘বি’
ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ |

Pages: 1 2 [3] 4 5 ... 8