Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Topics - mdashraful.eee

Pages: 1 2 [3]
31
খুব ছোট্ট এক ছেলে প্রচন্ড রাগী ছিলো।
সে খুব সামান্য কারণেই রেগে যেত ।
তার বাবা তাকে একটা পেরেক ভর্তি ব্যাগ দিল
এবং বললো যে, যতবার তুমি রেগে
যাবে ততবার একটা করে পেরেক আমাদের
বাগানের কাঠের বেড়াতে লাগিয়ে আসবে ।
প্রথমদিনেই ছেলেটিকে বাগানে
গিয়ে ৩৭ টি পেরেক মারতে হলো ।
পরের কয়েক সপ্তাহে ছেলেটি তার রাগকে
কিছুটা নিয়ন্ত্রনে আনতে পারলো
তাই প্রতিদিন কাঠে নতুন পেরেকের
সংখ্যাও ধীরে ধীরে কমে এলো।
সে বুঝতে পারলো হাতুড়ী দিয়ে কাঠের বেড়ায়
পেরেক বসানোর চেয়ে তার রাগকে
নিয়ন্ত্রন করা অনেক বেশি সহজ।
শেষ পর্যন্ত সেই দিনটি এলো যেদিন তাকে একটি
পেরেকও মারতে হলো না।
সে তার বাবাকে এই কথা জানালো।
তারা বাবা তাকে বললো ,
এখন তুমি যেসব দিনে তোমার রাগকে পুরোপুরি
নিয়ন্ত্রন করতে পারবে সেসব দিনে একটি
একটি করে পেরেক খুলে ফেলো।
অনেক দিন চলে গেল এবং ছেলেটি একদিন তার
বাবাকে জানালো যে সব পেরেকই
সে খুলে ফেলতে সক্ষম হয়েছে।
তার বাবা এবার তাকে নিয়ে বাগানে গেল এবং
কাঠের বেড়াটি দেখিয়ে বললো,
'তুমি খুব ভালভাবে তোমার কাজ সম্পন্ন করেছো
, এখন তুমি তোমার রাগকে নিয়ন্ত্রন করতে পারো
কিন্তু দেখো, প্রতিটা কাঠে পেরেকের গর্তগুলো
এখনো রয়ে গিয়েছে। কাঠের বেড়াটি কখনো
আগের অবস্থায় ফিরে যাবে না।
যখন তুমি কাউকে রেগে গিয়ে কিছু বলো
তখন তার মনে তুমি যেন একটি পেরেক ঠুকলে
পরবর্তিতে যদি তুমি তোমার কথা ফিরিয়েও নাও
তখনও তার মনে ঠিক এমন একটা আচড় থেকে
যায়। তাই নিজের রাগতে নিয়ন্ত্রন করতে শেখো।
মানসিক ক্ষত অনেক সময় শারীরিক ক্ষতের
চেয়েও অনেক বেশি ভয়ংকর।

32
ঈমানদার অন্যের সাথেও প্রতারণা করে না, নিজেও প্রতারিত হয় না। অন্যের সাথে প্রতারণা না করা সাধুতা ও দিয়ানতদারির পরিচয় আর প্রতারিত না হওয়া সচেতনতা ও দূরদর্শিতার পরিচয়। মুমিনকে যেমন দিয়ানতদার হতে হয় তেমনি বুদ্ধিমান ও দূরদর্শীও হতে হয়। চারপাশের ঘটনাবলীর যথার্থ বিশ্লেষণে ও সঠিক করণীয় নির্ধারণে বুদ্ধিমত্তা ও দূরদর্শিতার বিকল্প নেই। শিরোনাম থেকেই আজকের আলোচনা শুরু করছি। সাম্প্রতিক কয়েকটি বিষয় নিয়ে পাঠকের সাথে একটু আলোচনা করতে চাই। মনে হচ্ছে সবগুলো বিষয়েই কথাটি প্রযোজ্য। প্রথমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বায়তুল মুকাদ্দাস (জেরুজালেম)-কে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা করা নিয়েই একটু বলি। মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল রাষ্ট্রটি যে একটি অবৈধ ও চাপিয়ে দেয়া রাষ্ট্র এটা একটা স্বীকৃত বিষয়। যুগযুগ ধরে যারা এই ভূখণ্ডের অধিবাসী তাদেরকে চরম জুলুম-অত্যাচারের মাধ্যমে বাস্তুচ্যুত করে সেই জায়গায় ইসরাইল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস আমাদের অনেকেরই জানা আছে। সেই দিকে যাব না। শুধু এইটুকু বলি, ১০৯৯ সালে ক্রুসেডারদের ফিলিস্তীন অঞ্চল জবরদখল করে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে হাজার হাজার মুসলমানকে কতল করার পর মাত্র ৮৮ বছরের মাথায় ১১৮৭ সালে হিততীন যুদ্ধের পরপরই সুলতান সালাহুদ্দীন আইয়ূবী এই ভূখণ্ডকে পুনরুদ্ধার করেছিলেন। এরপর ১৯১৭ সালের ইঙ্গ-মার্কিন শক্তির ছত্রছায়ায় পুনরায় এই অঞ্চল অধিকৃত হওয়ার পর ১০০ বছরেরও বেশি সময় অতিবাহিত হয়েছে মুসলিমবিশে^ আরেকজন সালাহুদ্দীন আইয়ূবীর আবির্ভাব এখনো ঘটেনি। আর একারণেই ট্রাম্পের মত লোকেরা তাদের কাজগুলো নির্বিঘ্নে করে যেতে সক্ষম হচ্ছেন। খোলা চোখে দেখা যাচ্ছে, ট্রাম্প এই কাজটি সম্পন্ন করেছে; কিন্তু সচেতন লোকেরা জানেন যে, এটা ১৯৯৬ সালেই পাশ হওয়া বিল। তবে এইটুকু কথা ঐ বিলে ছিল যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট চাইলে তা অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতবি রাখতে পারবেন। এই বিল পাশ হওয়ার পর থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্টরা তা ছ’মাস ছ’মাস করে মুলতবি করে আসছিলেন আর নির্বাচনের সময় ঘোষিত কথা অনুযায়ী ট্রাম্প তা কার্যকর করলেন। প্রশ্ন হচ্ছে, ট্রাম্প তা কার্যকর করার জন্য বর্তমান সময়টিকে উপযুক্ত সময় কেন মনে করলেন? এই প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে আমাদেরকে মুসলিম বিশে^র নেতৃবৃন্দের অবস্থা একটু দেখতে হবে। সৌদি আরব, আমিরাত, মিসর প্রভৃতি আরব দেশগুলোর অবস্থা লক্ষ্য করলেই উত্তর বের হয়ে আসবে। বিশেষত সৌদি আরবের অবস্থা থেকে স্পষ্ট যে, সৌদি এখন আঞ্চলিক পরাশক্তি হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। এতে দোষের কিছু ছিল না, যদি আমেরিকার হাতিয়ার হিসেবে না হয়ে স্বতন্ত্র পরাশক্তি হিসেবে গড়ে উঠত। বিশ্ব শান্তির নামে আমেরিকার সাথে সখ্য, প্রথম দিন থেকেই প্রকাশ্যে মুসলিম-বিদ্বেষী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সবার আগে সংবর্ধনা প্রদান এবং তাকে পাশে নিয়ে সৌদি বাদশাহর তলোয়ার হাতে নাচগান- সবই গোটা মুসলিম বিশ্বকে লজ্জায় ফেলেছে। এরই সাথে বাতাসে ভাসছে ট্রাম্পের জামাতা কুশনারের সাথে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স বিন সালমানের সখ্যের সংবাদও। মূলত এই সব বিষয়ই ট্রাম্পকে সুযোগ করে দিয়েছে- আলকুদসকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা দেওয়ার। শাহ ফয়সাল থাকলে কি এমনটা সম্ভব হত! আরো লজ্জার ব্যাপার হচ্ছে, এ সম্পর্কে ওআইসির বৈঠক হয়েছে ইস্তাম্বুলে। বৈঠকটি জেদ্দায় হতে পারল না কেন? খাদিমে হারামাইন কি তৃতীয় হারামের খাদিম ও মুহাফিয নন? ওআইসির ঐ বৈঠকে দূরের দেশের রাষ্ট্রপতি- প্রধানমন্ত্রীরা যেতে পারলেন, কিন্তু সৌদি, আরব আমিরাত ও মিসর থেকে গেলেন সাধারণ মন্ত্রীগণ। কাজেই আমাদের অবশ্যই সচেতন হতে হবে; অন্যদের আগ্রাসনের সাথে খবরদার হতে হবে মুসলমানদের বর্তমান নেতৃত্বের ব্যাপারেও। কারণ মুমিন যেমন অন্যের সাথে প্রতারণা করে না, তেমনি প্রতারিতও হয় না। । দুই। সম্প্রতি ৬ ডিসেম্বর আইসিটি বিষয়ক মেলা ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০১৭-এর উদ্বোধন হয়। এতে অন্যতম ‘প্রধান আকর্ষণ’ বানানো হয়েছিল সোফিয়া নামক একটি রোবটকে। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের হল অব ফেমে ‘টেক টক উইথ সোফিয়া’ নামে অনুষ্ঠিত একটি সেমিনারে তাকে ভাড়া করে আনা হয়েছিল। সাংবাদিকদের তথ্য অনুযায়ী এর জন্য রাষ্ট্রকে ব্যয় করতে হয়েছে ১২ কোটি টাকা। এই রোবটের তথ্য অনলাইনে দেখার পর যে অনুভূতি জেগেছে, দরসে ছেলেদের সাথে সেগুলো আলোচনা করেছি। সে কথাগুলোই পাঠকের সাথেও ভাগাভাগি করছি। সংবাদে দেখা যাচ্ছে, হল ভর্তি অতিথি-দর্শক একটি রোবটের কিছু যান্ত্রিক কথাবার্তা নিয়ে ব্যাপক মাতামাতি করেছেন। মিডিয়াতেও দেখা গেছে, ব্যাপারটিকে ব্যাপকভাবে আকর্ষণীয় করে তোলার প্রচেষ্টা। ফলে মানুষকেও উল্লসিত দেখা গেল। একটি রোবট নানা প্রশ্নের জবাব দিচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলছে, প্রধানমন্ত্রীর নাতনীর নামে তার নাম- সে কথাও বলেছে। সবাই খুব উল্লসিত। একই রোবট সৌদি আরবও ঘুরে এসেছে। পাঠক জেনেছেন, সৌদি আরব প্রথমবারের মতো এই রোবটকে নাগরিকত্বও দিয়েছে। তা নিয়ে অনেকে হাসাহাসিও করেছেন। এদিকে যুবরাজ বিন সালমানের ঘোষিত ভিশন ২০৩০-এ যে সিটির কথা বলা হয়েছে তাতেও নাকি থাকবে হাজার হাজার রোবট। সেটি হবে একটি রোবট-সিটি! এই যে রোবট নিয়ে মাতামাতি, এ নিয়ে যে কথাগুলো বলতে চাই তার আগে বলে নিচ্ছি, মানব-উন্নয়ন ও মানুষের সেবায় প্রযুক্তির যথার্থ ব্যবহারের আমরা বিরোধী নই। প্রযুক্তি আল্লাহ তাআলার নিআমত। মানুষ আল্লাহ-প্রদত্ত বিদ্যা-বুদ্ধি ব্যবহার করে কিছু নতুন উপায় উদ্ভাবন করবে- এ তো আল্লাহর অসংখ্য দানেরই এক ক্ষুদ্র অংশ। আল্লাহ তাআলা তো এই গোটা বিশ^ জগৎকে মানুষের জন্যই সৃষ্টি করেছেন- خَلَقَ لَكُمْ مَّا فِی الْاَرْضِ جَمِیْعًا পৃথিবীর সবকিছু তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন। মানুষ যদি নিজের দিকে তাকায় এবং তার চারপাশের প্রকৃতি, উদ্ভিদজগৎ, প্রাণীজগৎ ও আল্লাহর বিচিত্র সৃষ্টির দিকে তাকায় তাহলে যেমন নিজের ক্ষুদ্রতা বুঝতে পারবে তেমনি বুঝতে পারবে যাকে সে নিজের কর্ম মনে করছে তারও ক্ষুদ্রতা। অন্যদিকে মুসলমান যদি নিজের সমৃদ্ধ অতীতের দিকে তাকায় তাহলেও দেখতে পাবে আবিষ্কারে ও উদ্ভাবনে তারাই ছিল বিশ্বের পথিকৃত। কাজেই নিত্য-নতুন আবিষ্কার এবং এর যথার্থ ব্যবহার কখনোই মুসলমানের কাছে অনভিপ্রেত নয়। এই ভূমিকাটুকুর পর আলোচ্য বিষয়ে যে কথা বলতে চাই তা হচ্ছে : এক. এটি কি এত মাতামাতির মতো ব্যাপার? রোবট তো অনেক আগে থেকেই আছে এবং বিশে^র বিভিন্ন দেশে রোবট অনেক কাজেই ব্যবহৃত হচ্ছে। কে না জানে এখনকার পুঁজিবাদী বিশ্বে প্রত্যেক পণ্য-নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নানাভাবে তার পণ্যের প্রচার করে থাকে। পুঁজিবাদী স্বার্থেই তারা সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা মাতামাতির পরিবেশ তৈরি করে। হংকংয়ের যে কোম্পানিটি এই রোবট উৎপাদন করছে তারা আকর্ষণ বৃদ্ধির জন্য এর নাম দিচ্ছে ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’। এটাও তো নতুন কিছু নয়। প্রশ্ন হচ্ছে সফটওয়্যারগুলো আসলে কী? কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাই তো। তো বিশেষভাবে এটাকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বলে প্রচার-প্রচারণার উদ্দেশ্য যে কী তা বোধ হয় এতক্ষণে পাঠকের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে। দুই. দ্বিতীয় প্রশ্ন হচ্ছে, রোবটটি মেয়ের সাজে কেন? তাহলে এখানে উদ্দেশ্য কি প্রযুক্তি, না মানুষকে আকর্ষণ করা। শুধু প্রযুক্তির দিক থেকে দেখলে এটি কি খুব আকর্ষণীয়? নেতা, সাংবাদিকদের সাথে মাপা মাপা কথা- এতে আশ্চর্যের কী আছে? সম্ভবত ৭১ টেলিভিশনের এক সাংবাদিক বেখেয়ালে পূর্ব নির্ধারিত প্রশ্নের বাইরে কিছু প্রশ্ন করতেই রোবটের ‘বুদ্ধিমত্তা’র পরিচয় প্রকাশিত হয়ে গেল। দেখা গেল সে আর উত্তর দিতে পারছে না। কাজেই হুজুগে না মেতে ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করা উচিত। মানুষ তো প্রাচীন কাল থেকেই মূর্তি বানিয়ে আসছে। আর এখন ইমেজ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে যে কোনো নেতা-নেত্রীরও অবয়ব তৈরি করা সম্ভব। আর রোবটের কথা বলা, তো কাকতালীয় ব্যাপার হচ্ছে, যখন ... প্রযুক্তির এইসব আয়োজন-অনুষ্ঠান চলছে তখন রাজধানীতে আরেকটি মেলা চলছিল, পাখি মেলা। একেক পাখির একেক বুলি- ‘অতিথি এসেছে, পিড়ি দাও’ এমন কত বুলি! পয়সাওয়ালারা অনেক দাম দিয়ে কথা বলা পাখি কিনে বাড়ি ফিরেছে। যাইহোক, রেডিও, টেপরেকর্ডারের পর সিডি, ভিসিডি, অডিও, ভিডিওর এত সহজলভ্য প্রযুক্তি-উপকরণের যুগে এই রোবট নিয়ে এত মাতামাতি, রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা খরচের কী অর্থ থাকতে পারে? ওই যে বহু বছর আগে থেকে কল সেন্টারের যন্ত্রগুলো শুধু একটি নম্বর পেয়েই গ্রাহকের একাউন্টের হরেকরকম তথ্য শুনিয়ে আসছে- তা কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নয়? মুসলিম দেশগুলোর বাস্তব সমস্যা ও প্রয়োজনকে উপেক্ষা করে দেশে দেশে বিন সালমানেরা হুজুগ সৃষ্টির জন্য এবং ক্ষমতার মসনদকে নির্বিঘ্ন রাখতে যা কিছুই করুক এতে প্রতারিত হওয়া মোটেই উচিত নয়। উম্মাহর যুবসমাজের কর্তব্য নিজেদের পরিচয় ও উম্মাহর বাস্তব সমস্যার দিকে দৃষ্টিপাত করা। তিন. তৃতীয় প্রশ্ন হচ্ছে, আমাদের দেশটি একটি শ্রমঘন দেশ। এদেশে শ্রমিক সহজলভ্য বলেই শিল্পপতিরা সাশ্রয়ী মূল্যে শ্রম কিনতে পারছেন। ভবিষ্যতে যদি শ্রমের বাজার রোবট দখল করে তাহলে লক্ষ লক্ষ শ্রমিকের জীবন-জীবিকার কী উপায় হবে? আর যদি বলেন, শিক্ষিত লোকদের কাজগুলোও রোবট করবে তবে ভবিষ্যত-শিক্ষিত সমাজ এবং বর্তমানে লক্ষ শিক্ষিত বেকারদের কী হবে? একশ্রেণির প্রযুক্তি ব্যবসায়ী মানব জাতিকে কোন্ পথে নিয়ে চলছে? আরেকটি আশঙ্কাও কেউ কেউ ব্যক্ত করেছেন। আর তা হচ্ছে মানবহত্যাকারী রোবট! আমরা এ নিয়ে বিশদে যেতে চাই না। প্রযুক্তিবিদেরাই বিষয়টি সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে পারবেন। ক্ষমতাবানেরা নিজেদের স্বার্থ-হাসিলের জন্য প্রযুক্তির এই অপব্যবহারের পথে অগ্রসর হলে মানবজীবনের শান্তি-স্বস্তি-নিরাপত্তার কী হাশর হবে তা কি কেউ বলতে পারে? আর প্রযুক্তি কি সবসময় নিয়ন্ত্রণে থাকে? ব্যাপকভাবে বিশ্ব জুড়ে হ্যাকিংয়ের ব্যাপারটি শোনা যায়। কাজেই আমাদের কর্তব্য, প্রতারিত না হওয়া। । তিন। ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস এদেশে আসার আগে থেকেই মিডিয়া ও পত্রপত্রিকায় প্রচার-প্রচারণা আরম্ভ হয়েছিল। প্রথমে আবহটা ছিল, রোহিঙ্গা মুসলমানদের প্রতি সহানুভূতি জানাতে পোপ ফ্রান্সিসের আগমন; কিন্তু পরে বাস্তবে যা দেখা গেল তা হচ্ছে, তিনি টেকনাফের রোহিঙ্গা শিবিরে গেলেনই না; ঢাকায় কিছু রোহিঙ্গাকে নিয়ে আসা হল ‘সমবেদনা গ্রহণ’-এর জন্য। বাংলাদেশে এসে তাকে দেখা গেল প্রধানত খ্রিস্টধর্মীয় যাজকের অভিষেক-অনুষ্ঠানে যোগ দিতে। বাংলাদেশে যেহেতু আইনগতভাবে যে কোনো ধর্মের লোকেরাই বসবাস করতে পারেন তাই কোনো ধর্মের প্রধান ব্যক্তি অতিথি হয়ে আসতেই পারেন, কিন্তু বিষয়টি গণমাধ্যমে যেভাবে প্রচারিত ও উপস্থাপিত হয়েছে, বিশেষত সরকারি টেলিভিশন যেভাবে লাইভ প্রচার করেছে তাকে বাড়াবাড়ি ছাড়া আর কী বলা যায়? নিজস্ব ধর্মীয় কাজে যিনি এসেছেন তাকে উপস্থাপন করা হয়েছে ‘মানবদরদী’ হিসেবে! এইসব প্রচার-প্রচারণায় মেতে ব্যাপকভাবে মুসলিমেরাও খ্রিস্টধর্মের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন। এটা যে ধর্মীয় ও সাধারণ বোধ-বুদ্ধি- কোনো বিচারেই বৈধ ও সমীচীন হয়নি তা কি দলীল-প্রমাণ দিয়ে বলার প্রয়োজন আছে? যারা অন্যান্য ধর্মের ক্ষেত্রে অতি উৎসাহের সাথে সব ধর্মের লোকদের অংশগ্রহণের কথা বলেন তারা কি মসজিদে হারামের ইমামদের আগমনে, মুসলমানদের ঈদ, কুরবানী ও অন্যান্য ধর্মীয় বিষয়ে সম্পূর্ণ নিষ্প্রভ থাকেন না? আচ্ছা, ওইসব অনুষ্ঠানে কি কোনো ভিনধর্মীকে মুসলমানদের ইবাদতে যোগ দিতে দেখা যায়? আমরা অন্যান্য ধর্মের লোকদের সাথে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বিরোধী নই, তবে একেতো সেটাও হতে হবে ইসলামের বিধি বিধান অনুসারে, দ্বিতীয়ত শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নামে অন্য ধর্মের ধর্মীয় পর্ব-উৎসবে অংশগ্রহণের সুযোগ মুসলমানের নেই। একজন ঈমানদার মুসলমান কীভাবে কুফর ও শিরক সম্পর্কে উদাসীন হতে পারে? কুফর-শিরক এবং এর সকল লক্ষণ ও নিদর্শনের প্রতি অবশ্যই ঈমানদারের অন্তরে ঘৃণা থাকতে হবে। শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নামে কুফর-শিরক সম্পর্কেও উদাসীনতা ও নিজ আদর্শ বিসর্জনের কোনো সুযোগ নেই। হযরত ওমর রা.-এর ঐ হাদীস তো আমাদের অনেকেরই জানা আছে। তিনি তাওরাতের একটি কপি পেয়ে তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে নিয়ে এসেছিলেন এবং পড়তে আরম্ভ করেছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেহারা মোবারকে চরম অসন্তুষ্টির ছাপ ফুটে উঠল। হঠাৎ তা লক্ষ করে ওমর রা. সঙ্গে সঙ্গে তা পড়া বন্ধ করে দিলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেন- أَمُتَهَوِّكُونَ فِيهَا يَا ابْنَ الْخَطّابِ، وَالّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَقَدْ جِئْتُكُمْ بِهَا بَيْضَاءَ نَقِيّةً، لَا تَسْأَلُوهُمْ عَنْ شَيْءٍ فَيُخْبِرُوكُمْ بِحَقٍّ فَتُكَذِّبُوا بِهِ،أَوْ بِبَاطِلٍ فَتُصَدِّقُوا بِهِ، وَالّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْ أَنّ مُوسَى كَانَ حَيّا، مَا وَسِعَهُ إِلّا أَنْ يَتّبِعَنِي. হে খাত্তাবের বেটা! তোমরা কি এ বিষয়ে সংশয়ী?! ঐ সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ! আমি তো তোমাদের কাছে আল্লাহর দ্বীন নিয়ে এসেছি শুভ্র-সমুজ্জ্বলরূপে। ওদেরকে কোনো বিষয় জিজ্ঞেস করো না। হতে পারে ওরা কোনো হক কথা বলবে কিন্তু তোমরা তা অস্বীকার করবে অথবা কোনো নাহক কথা বলবে আর তোমরা তা কবুল করবে। ঐ সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ! মূসা যদি জীবিত হতেন তাহলে তাঁরও আমার অনুসরণ ছাড়া অন্য কোনো অবকাশ থাকত না। -মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১৫১৫৬ মুসলমানকে নিজের দ্বীন ও ঈমান সম্পর্কে পূর্ণ সচেতন ও সংবেদনশীল থাকতে হবে। ‘ধর্ম যার যার উৎসব সবার’ জাতীয় কথায় বিভ্রান্ত ও প্রতারিত হওয়া মুমিনের শান নয়। এজাতীয় দর্শনে সাধারণ মুসলমানদের বিভ্রান্ত করার নানা নজির আমাদের সামনে আছে। মনে পড়ছে আজানগাছি নামক পশ্চিমবঙ্গের এক ভদ্রলোকের কথা। তার ভক্তরা বছরে একবার প্রেসক্লাবে জমা হয়ে আন্তধর্মীয় অনুষ্ঠান করত। ওখানে সাধারণত দেখা যেত বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকে। বিভিন্ন ধর্মের লোকেরাও হয়ত কিছু থাকত। অতি সম্প্রতি ভারতেও তোলপাড় হয়ে গেল তথাকথিত সর্বধর্মীয় চেতনাবাদী গুরমিত সিংয়ের নানা কর্মকা- নিয়ে। একই কা- এবার দেখা গেল ক্যাথলিক খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় নেতা পোপের আগমনকে কেন্দ্র করে। শুধু খ্রিস্টানের একান্ত ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে সাধারণ অবুঝ মুসলমানদের সে মুখীই করা হয়নি বরং একটি তথাকথিত সর্বধর্মীয় প্রার্থনা-সভাও করে ফেলা হয়েছে, যাতে অংশগ্রহণ করেছেন কোনো কোনো মুসলিম ধর্মীয় ব্যক্তিরাও। আমাদের মনে হয় না এটা পোপের কাজ; বরং এ দেশীয় কিছু অতি উৎসাহী লোক, যারা নিজেদেরকে ‘অতি উদার’ ‘অতি অসাম্প্রদায়িক’ বলে দেশে-বিদেশে যাহির করতে ইচ্ছুক, সম্ভবত তথাকথিত আন্তধর্মীয় প্রার্থনার পেছনে কলকাঠি নেড়েছেন। যার যা উদ্দেশ্যই থাকুক, মুসলমানদের অবশ্যই সচেতন থাকতে হবে। মিডিয়ার কল্যাণে এহেন ঈমান পরিপন্থী ঘটনা গোটা বিশ্বে প্রচারিত হয়েছে, যার দ্বারা দেশে-বিদেশে সরল ও স্বল্পশিক্ষিত মুসলিমদের বিভ্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ অবৈধ এই কর্মটিকে আদর্শ ও অনুসরণীয় মনে করে নিজের দ্বীন-ঈমানকে হুমকির মুখেও ফেলতে পারে। কাজেই এখানেও সেই কথা বলেই শেষ করছি, যা শিরোনামে বলেছি; মুমিন যেমন অন্যের সাথে প্রতারণা করতে পারে না, তেমনি প্রতারিতও হতে পারে না। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে দ্বীন ও ঈমান রক্ষা করে চলার তাওফীক দান করুন- আমীন।

33
বছর ঘুরে আমাদের মাঝে আসছে শা‘বান ও রমযান। বর্তমান সংখ্যাটি শা‘বান-রমযান যৌথ সংখ্যা। রমাযানুল মুবারকের নাম আমাদের মন-মানসে এক নতুন অনুভূতি জাগ্রত করে। স্নিগ্ধতা ও পবিত্রতার অনুভূতি। এই মাসটি একটি মহিমান্বিত মাস, যার ফযীলত ও মর্যাদা কুরআন মাজীদে উল্লেখিত হয়েছে। এই মাস মুমিনের নব চেতনায় উজ্জীবিত হওয়ার মাস। আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি ও নৈকট্য অন্বেষণে অগ্রণী হওয়ার মাস। স্বয়ং আল্লাহ্র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই মাসে অন্যান্য সময়ের চেয়ে বেশি ইবাদত-বন্দেগীতে মশগুল হতেন। তাঁর সাহাবীগণকেও ইবাদত-বন্দেগীতে অগ্রসর হতে উদ্বুদ্ধ করতেন। তাই মুমিনের কাছে এই মাস আলাদা মহিমা ও তাৎপর্য নিয়ে আগমন করে। মুমিনের কর্তব্য, ইবাদত-বন্দেগীতে অগ্রসর হওয়ার পাশাপাশি চাল-চলন, আচার-আচরণ, ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি-বাকরি সবক্ষেত্রে একটি আদর্শিক ছাপ রাখার চেষ্টা করা।

প্রতি রমযানেই নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধির একটি প্রবণতা লক্ষ করা যায়। এটি আমাদের জন্য লজ্জার। যদিও অনেক বিত্তশালী মুসলিম এ মাসে প্রচুর দান করে থাকেন, অনেকে যাকাত দিয়ে থাকেন, দুস্থ-অসহায়ের খোঁজ-খবর নিয়ে থাকেন, রোযাদারদের ইফতার করিয়ে থাকেন, কিন্তু এইসব নেক আমল ও জনকল্যাণমূলক কাজ চাপা পড়ে যায় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কাছে। একারণে মুসলিম ব্যবসায়ীদের কর্তব্য, কিছুটা ক্ষতি স্বীকার করে হলেও রমাযানুল মুবারকে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করা। এতে যেমন মুসলমানদের ভাবমর্যাদা উজ্জ্বল হবে তেমনি মানবসেবারও ছওয়াব পাওয়া যাবে।

রমাযানুল মুবারককে উপলক্ষ করে আমাদের সমাজে যদি একটি ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটে সেটি হবে অতি সুখের ব্যাপার। ইসলামে নিষিদ্ধ বিষয়াদি- সুদ, ঘুষ, অশ্লীলতা, বেহায়াপনা, ইভটিজিং, মাদকের ব্যবহার ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাওয়া উচিত। রমাযানুল মুবারকের ভাবমর্যাদাকে কাজে লাগিয়ে আমাদের প্রচারমাধ্যমগুলো যদি এইসব অনাচার নির্মূলে সংকল্পবদ্ধ হয় তাহলে সুফল আসতে পারে। এই ইতিবাচক ও জাতিগঠনমূলক কর্মকা-ের পরিবর্তে গোটা রমযান মাস জুড়েই অব্যাহত থাকে অশ্লীল বিনোদনমূলক প্রচার ও সম্প্রচার । বিশেষত ঈদ-বিনোদনের নামে নাটক-সিনেমার যে সয়লাব এদেশের মিডিয়াগুলোতে বয়ে যায় তাতে যেকোনো সচেতন মুসলিমেরই মাথা হেঁট হয়ে যাওয়ার কথা। সস্তা বিনোদনের স্থলে মিডিয়াকে জাতি ও চরিত্রগঠনে কাজে লাগানো আমাদের কর্তব্য। মাহে রমযানের ভাবমর্যাদা ও মুসলিমমানসে এর প্রভাবকে সফলভাবে কাজে লাগানো গেলে এপথে অনেকদূর অগ্রসর হওয়া সম্ভব।

এই পবিত্র মাসের বিশেষ ফরয ইবাদত হচ্ছে সওম। ঈমানের পর যে চারটি বিষয়কে ইসলামের রোকন বলা হয়েছে সওম তার অন্যতম। কাজেই যার উপর সওম ফরয এমন প্রত্যেকের কর্তব্য, যতেœর সাথে এই ফরয ইবাদতটি আদায় করা। ইসলামে ফরয ইবাদত-আমলের গুরুত্বই সবচেয়ে বেশি, এর মাধ্যমেই অর্জিত হয় আল্লাহ্র সবচেয়ে বেশি নৈকট্য। কাজেই নফল ইবাদত-আমলে কিছু ত্রুটি হলেও ফরয-ওয়াজিবে ত্রুটি হওয়া উচিত নয়; বরং গুরুত্বের সাথে তা পালন করা উচিত। একইসাথে কর্তা ব্যক্তিদের দায়িত্ব রোযাদার কর্মীর কাজের ভার কিছুটা লাঘব করার চেষ্টা করা। এটি যেমন এক রোযাদার বান্দার উপর অনুগ্রহ তেমনি একটি ফরয ইবাদত আদায়ের ক্ষেত্রে সহযোগিতা। পাশাপাশি তা ফরয আদায়ে উৎসাহিত করারও একটি উপায়।

যারা রোযা রাখেন তাদের জন্যেও রয়েছে উন্নতির সুযোগ। কারণ পানাহার ও স্ত্রী-মিলন থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি রোযাদারের কর্তব্য, সব রকমের অন্যায়-অনাচার থেকেও বেঁচে থাকা। কটূক্তি-ঝগড়া-বিবাদ ও অশোভন উচ্চারণ থেকেও বেঁচে থাকা। হাদীস শরীফে আছে, ‘যখন তোমাদের রোযার দিন আসে তখন তোমরা অশ্লীল কথা ও কাজ থেকে বিরত থাকবে এবং চিৎকার-চেঁচামেচি থেকে বিরত থাকবে। কেউ যদি ঝগড়া-বিবাদে প্রবৃত্ত হয় তাহলে বলবে, আমি রোযাদার।’ কাজেই রোযাদারের রোযার পূর্ণতা সাধনের জন্য সবরকমের অন্যায়-অশোভন কাজ থেকে বিরত থাকাও কর্তব্য। বলা বাহুল্য, মুমিন যদি একমাস এভাবে নিজেকে নিয়ন্ত্রিত রাখার চেষ্টা করে, ইনশাআল্লাহ তার স্বভাব-চরিত্রে, কথা ও কাজে পরিবর্তন সাধিত হবে। এভাবেই রোযা মানবজীবনে শুদ্ধি ও পরিশুদ্ধির বার্তা নিয়ে আসে।

মাহে রমযানের আরেক বিশেষ ইবাদত তারাবী। গোটা মুসলিম জাহানে তারাবীর নামায অত্যন্ত আগ্রহ-উদ্দীপনার সাথে আদায় হয়ে থাকে। তারাবী অতি বরকতময় সুন্নত। আল্লাহ্র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুবারক যামানা থেকেই তারাবী মাহে রমযানের অতি ফযীলতপূর্ণ ইবাদত। ঐকান্তিকতা ও একনিষ্ঠতার সাথে এই  ইবাদতে মশগুল থাকা কাম্য। কোনো কোনো জায়গায় তারাবীর রাকাত সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক হতে  শোনা যায়। কোনো কোনো মহল থেকে নানা প্রকারের লিফলেট ইত্যাদিও বিতরণ হয়। এই সকল কর্মকা- খুবই অশোভন ও অনুচিত। এ সংক্রান্ত বিচ্ছিন্ন মতামতের অসারতা প্রমাণ করে গবেষক আলেমগণ দলীলভিত্তিক পর্যাপ্ত আলোচনা করেছেন। কাজেই সাধারণ মুসলমানের কর্তব্য, কল্যাণ-অন্বেষার এই মাসে অর্থহীন বিবাদ-বিতর্কে না জড়ানো। আলিমগণের নির্দেশনা অনুসারে ইবাদত-বন্দেগীতে মশগুল থাকা। কেউ বিতর্ক করতে এলে তাকে বলে দেওয়া যে, বিষয়টি আলিমদের সাথে আলোচনা করুন।

তারাবীর নামাযের ক্ষেত্রে আরেকটি বিষয়ের রেওয়াজও ক্রমবর্ধমান। আর তা হচ্ছে মেয়েদের মসজিদের জামাতে শামিল হওয়া। এই প্রবণতাকে উৎসাহিত করার উপায় নেই। কারণ একে তো মেয়েদের জন্য নিজ ঘরে নামায পড়াই কাম্য, যা সহীহ হাদীস-আছার দ্বারা প্রমাণিত, তাছাড়া নারী-পুরুষ উভয় শ্রেণির মাঝেই প্রকৃত দ্বীনদারীর ক্রমাবনতি বিষয়টিকে আরো নাযুক করে দিয়েছে। একারণে উম্মাহ্র ফকীহ-মুজতাহিদগণের কুরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক সিদ্ধান্ত অনুসারে মেয়েরা যদি নিজ গৃহে নামায আদায়ে সম্মত হন তাহলে সেটিই তাদের জন্য অধিকতর পুণ্য ও কল্যাণের বিষয় হতে পারে।

মাহে রমযান ঈমান ও ইহতিসাবের ক্ষেত্রে অগ্রসরতার মাস। ঈমান মানে বিশ্বাস, আর ইহতিসাবের মর্মার্থ প্রত্যাশা। এই মাসের সকল ইবাদত-আমলে ঈমান ও ইহতিসাব তথা আল্লাহ্র প্রতি বিশ্বাস ও প্রত্যাশার প্রেরণা জাগরূক রাখা কর্তব্য। হাদীস শরীফে এ মাসের সিয়াম-কিয়ামে ঈমান ও ইহতিসাবের চেতনা জাগ্রত রাখার উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। যে ব্যক্তি বিশ্বাস ও প্রত্যাশা নিয়ে রমযানের রোযা রাখে তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। যে ব্যক্তি বিশ্বাস ও প্রত্যাশা নিয়ে রমযানের রাতে আল্লাহ্র ইবাদতে দাঁড়ায় তারও পেছনের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। তাই রমযান মাস ঈমানী চেতনায় অগ্রগামী হওয়ার মাস। আল্লাহ তাআলা যা যা সংবাদ দিয়েছেন সকল সংবাদে দৃঢ় বিশ্বাস, যা যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তার গভীর প্রত্যাশা মুমিনের বৈশিষ্ট্য। এই বিশ্বাস ও প্রত্যাশাই আল্লাহ্র ইচ্ছায় মুমিনকে পরিচালিত করে আল্লাহ্র সন্তুষ্টির পথে। আমল ও ইবাদতকে করে তোলে সার্থক ও প্রাণবন্ত। অধিকারী করে দুনিয়া-আখেরাতের সৌভাগ্য  ও প্রাপ্তির। এই একমাসের অনুশীলনের মাধ্যমে মুমিনের  গোটা জীবনটি হয়ে উঠতে পারে ঈমান ও ইহতিসাবের জীবন; বিশ্বাস ও প্রত্যাশায় আলোকিত জীবন।

রমাযানুল মুবারকের শেষ দশ দিন আরও বরকতময়। এই দশকের যে কোনো বেজোড় রাতে লাইলাতুল কদর হওয়ার অধিক সম্ভাবনা। তাই এসময়টা সর্বোচ্চ আগ্রহ নিয়ে ইবাদতে মশগুল থাকা কাম্য ছিল। অথচ এখন আমাদের সমাজে চালু হয়েছে ঈদশপিংয়ের সংস্কৃতি, যার চক্করে পড়ে অনেক দ্বীনদার মানুষেরও দশকের পবিত্রতা নষ্ট হয়ে যায়। অন্তত দ্বীনদার মানুষের এই ক্ষতিকর রেওয়াজ  থেকে বেরিয়ে আসা কর্তব্য।

এই মহিমাপূর্ণ মাসের জন্য আমাদের আরো কর্তব্য একটু আগে থেকেই প্রস্তুতি নেয়া। এই প্রস্তুতি চেতনাগত, বিশ্বাসগত ও ব্যবস্থাপনাগত। মুমিন যখন ভালো কাজের সংকল্প করে এবং আল্লাহ্র উপর ভরসা করে অগ্রসর হয় আল্লাহ তাআলা তার জন্য পথ খুলে দেন। শা‘বান থেকেই ধীরে ধীরে প্রস্তুতি নিতে থাকা যায়। আর ‘লাইলাতুন নিসফি মিন শা‘বান’ অর্থাৎ চৌদ্দ শা‘বান দিবাগত রাতে  (শবে বরাতে) সুন্নাহসম্মত পন্থায় ইবাদত-বন্দেগীও আল্লাহ্র নৈকট্য ও ক্ষমার এক বড় উপায়। এ রাতে আল্লাহ তাআলা তাঁর সৃষ্টির প্রতি বিশেষ রহমতের দৃষ্টি দান করেন এবং মুশরিক ও শত্রুতা পোষণকারী ছাড়া সকলকে ক্ষমা করে দেন। কাজেই এ রাতের কদরদানী কর্তব্য।

এ রাতকে ঘিরেও আমাদের সমাজে রয়েছে নানা প্রান্তিকতা। কেউ এ রাতকে শবে কদরের চেয়েও বেশি ফযীলতের মনে করে। এটা ভুল। কেউ নানা রকমের রসম-রেওয়াজে লিপ্ত হয়। এটাও বর্জনীয়। অন্যদিকে কেউ কেউ এ রাতের আলাদা গুরুত্বকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে। এটাও প্রান্তিকতা। এই সকল প্রকারের প্রান্তিকতা থেকে বেঁচে এই রাতে সাধ্যমত ইবাদত-বন্দেগীতে মশগুল থাকা ভালো ও কাম্য।

মাহে রমযান আমাদের সবার জীবনে মোবারক হোক। ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসুক। আমাদের ব্যক্তিজীবন ও সমাজজীবন থেকে সকল আবিলতা দূর হয়ে যাক। আমাদের চিন্তা-ভাবনা মন-মানস, কর্ম ও আচরণ উজ্জ্বল হয়ে উঠুক মাহে রমযানের শিক্ষায়। আল্লাহ তাআলা আমাদের ক্ষমা করুন ও কবুল করুন- আমীন।

34
The students of Permanent Campus of the Department of Electrical & Electronic Engineering (EEE) of Daffodil International University (DIU) undertook an industrial tour on November 3, 2017 to Ashulia 44.75MW Power Station of Summit Power Ltd(SPL), the first independent power producer (IPP) in Bangladesh. The tour was organized for the students of Power System Protection course and arranged by the course teacher Mr. Md. Ashraful Haque, Senior Lecturer, Department of EEE in order to introduce the students with the power station operation and maintenance concepts.


35
রিয়েক্টর শীতলীকরণঃ
১। রিয়েক্টর শীতলীকরণের জন্য প্রয়োজনীয় পানি শুষ্ক মৌসূমে নেই। সরকার যে লেইক করার কথা বলছে সেটা স্রেফ মিথ্যা আর টেকনিক্যালিও প্রায় অসম্ভব। পদ্মা বছরে ১ থেকে ১,৫ লাখ মেট্রিকটন বালি পরিবহণ করে আনে, ফলে মূল রিভার বেডে বা তার পাশে রিয়েক্টর শীতলীকরণের মত লেইক করা প্রায় অসম্ভব। মনে রাখতে হবে শুষ্ক মৌসুমে বন্ধু রাষ্ট্র পদ্মায় সর্বচ্চ ৫৫০০ কিউসেক (মাত্র) পানি দিয়েছে বিগত ২ বছর! এমতাবস্থায় স্বাভাবিক সময়ে রয়েক্টর শীতলীকরণে কিভাবে প্রতি মিনিটে ৬৩০০০ গ্যালন পানি শুষ্ক মৌসুমে সরবারহ করা হবে এই প্রশ্নের কোন সুস্পষ্ট উত্তর নেই! তবে ইমার্জেন্সিতে প্রতি মিনিটে ১ লাখ গ্যালনের বেশি পরিমাণ পানির প্রয়োজন হবে।


রিয়েক্টরের মানঃ
২। ভিভিইয়ার-১২০০ রিয়েক্টর রাশিয়ার হিসেবে লেটেস্ট, কিন্তু আন্তর্জাতিক হিসেবে এটা তৃতীয় প্রজন্মের, ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্র ৫ম প্রজন্মের রিয়েক্টর নিয়ে হাজির। রাশার টেকনোলজির অবস্থা নাজুক, সেখানে রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট কার্ভ খুবই স্লো। ভারতে এই রিয়েক্টর নিয়ে সমালোচনা হয়েছে এবং পরিবর্তে নতুন রিয়েক্টর বসানোর কথা হয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তারা এরকম কিছু করবে কিনা, এই দাবী সরকার বা আণবিক শক্তি কমিশন করেছে? নাকি তারা রাশান ঋণে পুরানো রাশান প্রযুক্তি প্রকল্প করে কিছু মারতে পারলেই সন্তুষ্ট? যেহেতু আনুমানিক ২০১৯-২০২০ এর দিকে রিয়েক্টর বসানো হবে, তাই ২০১৩ বা এর পূর্বের তৃতীয় প্রজন্মের রিয়েক্টর অগ্রহণযোগ্য।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনাঃ
৩। আন্তর্জাতিক আণবিক সংস্থা বর্জ্য নিয়ে কাজ করে না। বর্জ্য ম্যানেজমেন্ট তাদের সদস্য দেশের রিস্পন্সিবিলিটি। রাশিয়া পরিষ্কার বলেছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা তাদের দায়িত্ব নয়, যদিও সরকার এটা নিয়ে মিথ্যা বলেছিল প্রথম দিকে। বাংলাদেশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোন যায়গা নেই।

বিএইসির সাবেক চেয়ারম্যান এম এ কাইউম বলেন, দেশের সবাই একটি নিরাপদ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চায়। এ জন্য তেজস্ক্রিয় বর্জ্য রাশিয়ার ফেরত নেওয়ার বিষয়টির সুরাহা হওয়া দরকার। বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে সই হওয়া চুক্তিতে এ বিষয়ে প্রকৃতপক্ষে কী আছে, তা দেশের মানুষ এখন পর্যন্ত জানে না। তিনি বলেন, কোনো দেশে পারমাণবিক কর্মসূচি শুরু করার জন্য যে রকম জনবল থাকা প্রয়োজন, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের তা নেই। রূপপুর প্রকল্পকে সামনে রেখে জনবল তৈরির যে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে, তা-ও সন্তোষজনক নয়। এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে ভাবা দরকার।

যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রায় ৩০ বছর কাজ করে অবসর নেওয়া বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম আলোচনায় অংশ নেন। তিনি বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্জ্য-ব্যবস্থাপনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশ হিমশিম খাচ্ছে। তাই বর্জ্য ফিরিয়ে নিতে রাজি না হলে কোনো দেশের সঙ্গেই বাংলাদেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের চুক্তি করা উচিত নয়।

একটি গোল্টেবিল আলোচনায় পারমাণবিক দুর্ঘটনার দায় নেওয়া সম্পর্কে ড আবদুল মতিন বলেন, রূপপুরে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আশপাশের ৩০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের বৃত্তাকার এলাকা থেকে সব মানুষকে সরিয়ে নিতে হবে। তাঁদের দীর্ঘ সময়ের জন্য অন্যত্র পুনর্বাসন করতে হবে। কোনো বিবেচনায়ই বলা যায় না যে বাংলাদেশের এই সামর্থ্য আছে। তিনি বলেন, পারমাণবিক দুর্ঘটনার জন্য নির্মাণকারীদেরও দায়িত্ব নিতে হবে—এমন একটি আইন ভারত করেছে। এ রকম একটি সুরক্ষা আইন বাংলাদেশেরও করা উচিত।

কষ্ট মডেলঃ
৪। কষ্ট মডেল ভারতের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ খরুচে, এটা আরেকটা খুললাম খুল্লা দুর্নীতির যোগ করছে দেশের লুটেরা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন মডেলে।

উল্লেখ্য, ভারতের তামিলনাড়ুর কুদনকুলম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নতুন দুটি ইউনিট (তৃতীয় ও চতুর্থ) স্থাপনের জন্য রাশিয়ার সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছে, তাতে প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ পড়বে তিন হাজার মার্কিন ডলার। রূপপুর প্রকল্পে এই খরচ পড়ছে সাড়ে পাঁচ হাজার ডলার।

মোট ২৪০০ মেগাওয়াটের দুই ইউনিটের জন্য সই করা চুক্তিতে আমাদের ব্যয় নির্ধারিত হয়েছে ১ হাজার ২৬৫ কোটি মার্কিন ডলার। এর বাইরে আমরা ইতিমধ্যে ৫৫০ মিলিয়ন (৫৫ কোটি) ডলার ব্যয় করে ফেলেছি। এটা যুক্ত করলে হবে ১ হাজার ৩২০ কোটি ডলার। এ থেকে যদি আমরা প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুতের জন্য ব্যয় হিসাব করি, তাহলে রূপপুর কেন্দ্রের জন্য তা দাঁড়ায় সাড়ে পাঁচ হাজার ডলার। [রূপপুর প্রকল্পের কাজ শুরুর প্রাক্কলিত নির্মাণ ব্যয় ৩২ হাজার কোটি টাকা ছিল, যা বেড়ে ১ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছে গেছে (ডব্লিউএনআইএসআর, ২০১৭)]। লাগামছাড়া খরচ আর নির্মাণের দীর্ঘসূত্রতায় শেষ পর্যন্ত এই প্রকল্পের মোট ব্যয় কোথায় গিয়ে ঠেকবে, তা কেউ জানে না। বলা প্রয়োজন, শত কোটি করে উপর্যুপরি ব্যয় বৃদ্ধি বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের একটি খুব চেনা ও রাজনৈতিক ভাবে মোটিভেটেড দুর্বিত্তপনা, এখানে হাজার কোটি করেও একাধিক প্রকল্পে শুধু ব্যয় বাড়ার নজির স্থাপিত হয়েছে সাম্প্রতিক বছরে। সুতরাং রুপপুরেও খরচ প্রাক্কলন থেকে বাড়বে।

অফনোট,
পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের অফিসের নিন্ম মান স্টীল স্ট্রাকচার ঝড়ে উপড়ে গেছে! যারা একটা ভবন করার হেডোম দেখাতে পারে নাই চুরি ছাড়া, তারা দুর্ঘটনা ছাড়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র করবে এবং সেটা নিরাপদে মেইন্টেইন করবে, এইটা বড়ই ভারী আশা!

পুনশ্চ, একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের উৎপাদন মডেল নিয়ে কোন প্রশ্ন নেই। প্রশ্ন হচ্ছে, এটার জন্য বাংলাদেশের স্থান, পানি, জনমিতিক পরিবেশ উপযুক্ত কিনা! আমাদের সেই কারিগরি সক্ষমতা আছে কিনা! নির্মাণ উত্তর প্রাক সক্ষমতা তৈরি হয়েছে কিনা! সবগুলো উত্তরে "হ্যাঁ" বলার যেখানে অবকাশ নেই, সেখানে একটি পারমাণবিক প্রকল্প হতে পারে না!

Pages: 1 2 [3]