Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - nafees_research

Pages: 1 [2] 3 4 ... 19
16
ভেবে দেখুন কোন ব্যবসায় নামবেন

দেশে ভালো চাকরি যেমন অধরা সোনার হরিণ হয়ে উঠেছে, তেমনি অনেকেই আবার চাকরি করতে এতটুকু আগ্রহী নন। এ ধরনের স্বাধীনচেতা, সাহসী ও সৃজনশীল তারুণ্য বা যুব সম্প্রদায় নিজেরাই কিছু একটা করতে, মানে ব্যবসায়িক উদ্যোগ নিয়ে নামতে চান। কিন্তু ‘ধর মুরগি, কর জবাই’ মানসিকতায় হুটহাট করে নেমে পড়লেই এখন আর সফল হওয়া যায় না, বরং ব্যর্থ হওয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে। কারণ, সময় বদলেছে। আজকাল খুঁটিনাটি সব জেনে–বুঝে, সমস্যা ও সম্ভাবনা বিচার-বিশ্লেষণ করে তবেই মাঠে নামতে হয়।

নিজের বা পরিবারের কষ্টার্জিত অর্থ, আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে পাওয়া ধারদেনা কিংবা ব্যাংকের দেওয়া ঋণ নিয়ে স্টার্টআপ বা নতুন উদ্যোক্তা হতে চান, ভালো কথা। কিন্তু যাত্রা শুরু করার আগে ব্যবসা বা শিল্পটির অ আ ক খ থেকে শুরু করে দশ দিগন্তের খোঁজখবর আপনার জানা থাকতে হবে। ব্যবসায়িক ঝুঁকি এড়াতে হলে আপনি প্রথমেই শিল্প-ব্যবসায়ের সংজ্ঞাসহ প্রচলিত নীতিমালা জেনে নিন। এরপর কোমর বেঁধে নেমে পড়ুন।


নিশ্চয়ই মনে প্রশ্ন জাগছে, কেন এসব জানতে হবে? জবাব খুবই সহজ, প্রচলিত বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগিয়ে আপনার নিজের ব্যবসায় রক্ষা ও তা টেকসই করার স্বার্থে। খুলেই বলা যাক, সরকার এখন বিভিন্ন সুবিধাসহ প্রণোদনা দিয়ে থাকে। বাংলাদেশ ব্যাংকও তার পুনঃ অর্থায়ন কর্মসূচির আওতায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে স্বল্প সুদে এসএমই ঋণ দেয়। দেশে-বিদেশে বিভিন্ন মেলায় অংশ নেওয়ার সুযোগও পাওয়া যায়। এসএমইর সংজ্ঞা ও নীতিসংক্রান্ত বিষয়গুলো জেনে নিলে আপনি বুঝতে পারবেন কোন ব্যবসা বা উদ্যোগে কী ধরনের সুযোগ-সুবিধা মিলবে। এতে কোন ব্যবসাটি করবেন বা কোন উদ্যোগ নিয়ে মাঠে নামলে বেশি ভালো করতে পারবেন, এমন একটা ধারণা তৈরি হবে আপনার মনে। ফলে জুতসই ব্যবসা করা বা শিল্প গড়ে তোলা এবং সেটির সীমারেখা মানে পরিধিও নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়াটা আপনার জন্য সহজ হবে।

বাংলাদেশের জাতীয় শিল্পনীতি ২০১৬-তে শিল্প-সেবা ও ট্রেডিং বা বাণিজ্য খাতের বিভিন্ন ব্যবসায়িক উদ্যোগের সংজ্ঞা ও ঋণসীমা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। সে অনুযায়ী শিল্প ও সেবা খাতের কটেজ বা কুটিরশিল্প, মাইক্রো শিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) এবং বাণিজ্য বা ট্রেডিং খাতে মাইক্রো ও ক্ষুদ্র উদ্যোগের কথা বলা আছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের (এসএমই) সঙ্গে এখন নতুন করে যোগ করা হয়েছে কটেজ (কুটির) ও মাইক্রো খাত। সব মিলিয়ে খাতটির নাম দেওয়া হয়েছে কুটির (কটেজ), মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই)। আমাদের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২৫ শতাংশই এখন আসছে এই খাত থেকে। আর মোট কর্মসংস্থানের ৪০ শতাংশ এই খাতে নিয়োজিত রয়েছে।

সিএমএসএমইর যত খাত

কুটিরশিল্প: ১০ লাখ টাকার কম বিনিয়োগ হলে সেটি হবে কটেজ ইন্ডাস্ট্রি বা কুটিরশিল্প। উৎপাদন খাত হিসেবে বিবেচিত। এই শিল্পে মোট জনবল হবে সর্বোচ্চ ১৫ জন।

মাইক্রো শিল্প: বিনিয়োগের পরিমাণ ১০ লাখ থেকে ৭৫ লাখ টাকা হলে তা হবে মাইক্রো ইন্ডাস্ট্রি। এই শিল্পে নিয়োজিত কর্মীর সংখ্যা হবে ১৬ থেকে ৩০ জনের মধ্যে। এটিও উৎপাদন খাত হিসেবে বিবেচিত।

ক্ষুদ্র শিল্প: উৎপাদন ও সেবা—দুই ধরনেরই প্রতিষ্ঠানই ক্ষুদ্রশিল্প শ্রেণিতে রয়েছে। এর মধ্যে উৎপাদন খাত হলে বিনিয়োগের পরিমাণ হবে ৭৫ লাখ থেকে ১৫ কোটি টাকা এবং জনবল হতে হবে ৩১ থেকে ১২০ জন। আর সেবা খাতের ক্ষেত্রে বিনিয়োগ থাকতে হবে ১০ লাখ থেকে ২ কোটি টাকা পর্যন্ত, আর কর্মীসংখ্যা হবে ১৬ থেকে ৫০ জন।

মাঝারি শিল্প: উৎপাদন খাত হলে বিনিয়োগ হতে হবে ১৫ কোটি ৫০ কোটি টাকা। জনবল থাকবে ১২১ থেকে ৩০০ জন। আর সেবা প্রতিষ্ঠান হলে বিনিয়োগ থাকতে হবে ২ কোটি থেকে ৩০ কোটি টাকার মধ্যে এবং জনবল হবে ৫১ থেকে ১২০ জন।

প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখা, বিনিয়োগ ৫০ কোটি টাকার ওপরে হলে তা বৃহৎ বা বৃহদায়তনের উৎপাদনমুখী শিল্প হিসেবে বিবেচিত হবে। এ ক্ষেত্রে কর্মীসংখ্যা হবে ৩০০ জনের বেশি। এ ছাড়া বৃহৎ সেবা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বিনিয়োগ ৩০ কোটি টাকার বেশি এবং কর্মীর সংখ্যা ১২০ জনের বেশি হবে।
তথ্যসূত্র: জাতীয় শিল্পনীতি ২০১৬

Source: https://www.prothomalo.com/economy/article/1620296/%E0%A6%AD%E0%A7%87%E0%A6%AC%E0%A7%87-%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%96%E0%A7%81%E0%A6%A8-%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%A8-%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A7%9F-%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%A8

17
চতুর্থ শিল্পবিপ্লব: বাংলাদেশ কতখানি প্রস্তুত

১৫ বছর আগের কথাই ভাবুন। মোড়ে মোড়ে ছিল দোকান থেকে মোবাইল ফোন করার ব্যবস্থা। সঙ্গে সাইবার ক্যাফে, ডিভিডি, মুভি রেন্ট, এমপিথ্রি-পেনড্রাইভের দোকান। এখন শহরে আর এসব দেখতে পাওয়া যায় না হরহামেশা।

আবার ভাবুন, আপনি নিয়মিত কোনো সুপারশপে যান। এর পরেরবার সেখানে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই আপনাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বলে দেওয়া হচ্ছে আপনি সাধারণত কত টাকার শপিং করেন এখান থেকে, আর নিয়মিত কোন কোন সামগ্রী কেনেন, আর সেসবে সেদিন বিশেষ ছাড় চলছে কি না! অথবা ডাক্তারের কাছে গেলে আপনাকে সব মেডিকেল হিস্ট্রি গড়গড় করে বলতে হচ্ছে না, আপনার পরিচয়পত্রের সঙ্গেই যুক্ত ডেটাবেইসে রাখা আছে সেসব। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই যুগে এসব কিন্তু অসম্ভব কোনো কল্পনা নেই আর।

বাষ্প ইঞ্জিনের আবিষ্কারে শুরু হয়েছিল প্রথম শিল্পবিপ্লব, বিদ্যুতের উদ্ভাবনে হয়েছিল দ্বিতীয়টি আর কম্পিউটার-ইন্টারনেটের প্রচলনে চলছিল তৃতীয় শিল্পবিপ্লব। একবিংশ শতাব্দীর এই সময়ে এসে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিকস, মেশিন লার্নিং, ইন্টারনেট অব থিংস, বায়োটেকনোলজির সঙ্গে অটোমেশন প্রযুক্তির মিশেলে শুরু হয়েছে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব। এই বিপ্লব মোকাবিলায় বাংলাদেশের সামগ্রিক ব্যবস্থা কতটুকু প্রস্তুত?



কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে আইবিএম ওয়াটসন যেখানে ডকুমেন্ট রিভিউ প্রসেস বিশ্লেষণ করার মাধ্যমে ৮৫ ভাগ নিখুঁত আইনি সহায়তা দিচ্ছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে, সেখানে আমাদের আদালতে এখনো ভিডিও ফুটেজ প্রমাণ হিসেবে দেখানোর কারিগরি প্রযুক্তিটুকু নেই।

অতি অল্পেই তৃপ্তির ঢেকুর তুলে ফেলার অভ্যাস আমাদের। দেশের সব প্রান্তে এখনো থ্রি-জি নেটওয়ার্কই পাওয়া যায় না, অথচ ফোর-জি নিয়েই তুমুল প্রচারণা চালানো হয়। সোফিয়ার মতো ‘চ্যাটবট’ রোবট দেখেই সরকারি মহলে সে কী উচ্ছ্বাস! অথচ এর চেয়ে ভালো রোবট আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়ারাই বানান নিয়মিত। জেপি মর্গানের ‘কইন’ যেখানে ডকুমেন্ট প্রসেসিংয়ের মাধ্যমে সার্ভিস অটোমাইজেশন করে ফেলছে, আমাদের ফিন্যান্সিয়াল প্রতিষ্ঠানগুলো সেখানে ‘ফেসবুক মেসেঞ্জার চ্যাটবট’ নিয়েই উল্লসিত। বাংলাদেশ ব্যাংকের দুর্বল ডিজিটাল নিরাপত্তাব্যবস্থাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রায় হাজার কোটি টাকার রিজার্ভ চুরির কলঙ্কের কথা তো বলাই বাহুল্য।

এখানে বলে রাখা ভালো, এই মেসেঞ্জার চ্যাটবট কেবল কিছু নির্ধারিত প্রশ্নের নির্ধারিত উত্তর দিতেই সক্ষম। আর অন্যদিকে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স দিয়ে সফটওয়্যার প্রোগ্রাম তাকে জোগান দেওয়া বিপুল ডেটা আর অ্যালগরিদম অ্যানালাইসিস করে মেশিন লার্নিংয়ের মাধ্যমে আনকোরা সব প্রশ্ন বা সমস্যার পরিপ্রেক্ষিতে নিজস্ব সিদ্ধান্ত দিতে পারে এখন।

তাই আরেকটা বিষয় পরিষ্কার করে রাখা উচিত অবশ্যই। ইন্টারনেট ব্যবহার আর সফটওয়্যার অটোমেশন করে হওয়া ‘ডিজিটালাইজেশন’ কিন্তু তৃতীয় শিল্পবিপ্লবের অংশ, যা নিয়ে এখন অনেক হইচই বাংলাদেশে। এর সঙ্গে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রধান নিয়ামক মেশিনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বিভিন্ন সার্ভিস অটোমাইজেশনের মধ্যে কিন্তু বিস্তর ফারাক।

ওয়ালটনের কারখানায় ‘কম্প্রেসর অ্যাসেম্বলি’ করতে ব্যবহার করা হচ্ছে বেশ কিছু রোবটিক প্রযুক্তি। স্মার্ট ফ্রিজ আর স্মার্ট টিভি বানানোর কাজও দেশেই করছে ওয়ালটন। এসিআই ‘রুপালি’ প্রযুক্তির মাধ্যমে ‘প্যাটার্ন অ্যানালাইসিস’ আর ‘আইওটি’ ব্যবহার করে মৎস্যচাষিদের দিচ্ছে অটোমাইজড পরামর্শসেবা। ‘ফসলি’ নামেও ডিজিটাল কৃষিসেবা দিচ্ছে এসিআই। এপেক্স গ্রুপ বিনিয়োগ করছে ‘গ্রে ডেটা সায়েন্স’ কোম্পানিতে। আমাদের টেক্সটাইল কারখানায় লেজার কাটিং প্রযুক্তিতেও এখন চলে এসেছে অটোমাইজেশন।

‘বিকাশ’-এর মাধ্যমে অনেকখানি বদলে গেছে এ দেশের মোবাইল-ব্যাংকিং সিস্টেম। প্রান্তিক লোকজন কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা ছাড়াই সহজে অর্থ লেনদেন করতে পারছেন। বিকাশে প্রতিদিন এখন লেনদেন হচ্ছে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা। রকেট, নগদ, আইপে-ও কাজ করছে এখন এই সেক্টরে।

আইসিডিডিআরবিতে ‘কারা’ নামের টেলি-অফথালমোলজি প্রযুক্তি দিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি শনাক্তের একটি অত্যাধুনিক পদ্ধতি চালু করা হয়েছে সম্প্রতি। ‘বন্ডস্টাইন’ টানা চার বছরের মতো সফলভাবে মেডিকেলের প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকানোর জন্য আইওটি ডিভাইসের মাধ্যমে স্মার্ট ট্র্যাকিং ব্যবহার করে আসছে। অলীক, ইন্টেলিজেন্ট মেশিনস, দেশ এআই, ব্রেইনস্টেশন ২৩ সহ আরও কিছু উদ্যোগ স্বল্প পরিসরে কাজ করছে আইওটি, ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটি আর আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে।

তবে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কিংবা আইওটি সেক্টরে বিনিয়োগবান্ধব মানসিকতা এখনো গড়ে ওঠেনি। দেশের নীতিনির্ধারকেরা সত্যি বলতে এখনো অনেকটা সেকেলে। সরকারি হস্তক্ষেপে মাঝেমধ্যেই ব্যাহত হয় গুগল-ফেসবুক-ইউটিউবসহ বিভিন্ন ওয়েবসাইটের সেবা।

এর চেয়ে ভালো রোবট এখন আমাদের শিক্ষার্থীরাই বানাচ্ছে
এর চেয়ে ভালো রোবট এখন আমাদের শিক্ষার্থীরাই বানাচ্ছে
এ দেশের প্রাচীন আইন এখনো লিখে রেখেছে রীতিমতো চুক্তি করে ‘বর্গফুটের’ অফিস না নিলে ব্যবসা করা যাবে না। অথচ জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে অনলাইনে ব্যবসা নিবন্ধন আর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে ঘরে বসেই ইন্টারনেট-সংযোগ দিয়ে তৈরি করা যায় বৈশ্বিক ব্যবসা। এসব আইনেও আনা দরকার পরিবর্তন।

শিল্পকারখানায় কী ধরনের জ্ঞান ও দক্ষতা লাগবে, সে বিষয়ে আমাদের শিক্ষাক্রমের তেমন সমন্বয় নেই। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব মোকাবিলায় শিক্ষাব্যবস্থাকেও ঢেলে সাজাতে হবে। প্রাথমিক পাঠ্যক্রম থেকেই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। সারা দেশে সাশ্রয়ী মূল্যে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারি অফিসের ফাইল-নথিপত্র ডিজিটাল ডকুমেন্টে রূপান্তরিত করতে হবে। আর নতুন ডকুমেন্টও ডিজিটাল পদ্ধতিতে তৈরি করে সংরক্ষণ ও বিতরণ করতে হবে।

চতুর্থ শিল্পবিপ্লব নিয়ে দেশে প্রচুর সেমিনার আর গোলটেবিল বৈঠক হচ্ছে। সবারই একই মত, এই বিপ্লব মোকাবিলায় অনেক কাজ করতে হবে। এআই, আইওটি, বিগ ডেটা, ব্লকচেইনের মতো জনপ্রিয় শব্দ নিয়ে কথা বলা হচ্ছে সেখানে। কিন্তু সুনির্দিষ্ট কোনো পদক্ষেপ নেই। আর কেবল পরিকল্পনা করলেই তো হবে না, অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি আমাদের মানবসম্পদকেও যথাযথভাবে প্রস্তুত করতে হবে এই পরিবর্তনের জন্য। তবে আশার কথা, সম্প্রতি ‘ন্যাশনাল আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স স্ট্র্যাটেজি’ নিয়ে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে।

প্রযুক্তিগত এই পরিবর্তনের কারণে আগামী ১০ বছরে অনেক পেশা হারিয়ে যেতে পারে, সঙ্গে অবশ্য যোগ হবে নতুন নতুন কর্মক্ষেত্র। পিডব্লিউসি জানাচ্ছে, স্বয়ংক্রিয়করণ প্রযুক্তির জন্য ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্বের ৮০ কোটি বর্তমান চাকরি হারিয়ে যাবে। স্বভাবতই আমাদের মতো শ্রমনির্ভর অর্থনীতির দেশগুলো বিপদে পড়বে। তাই আমাদের এখন থেকেই জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির দিকে মনোনিবেশ করতে হবে।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, আইওটি, ব্লকচেইন এসব প্রযুক্তিতে বাংলাদেশ এখনো শিশু পর্যায়ে। এসব প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, পণ্য সরবরাহ, চিকিৎসা, শিল্পকারখানা, ব্যাংকিং, কৃষি, শিক্ষাসহ নানা ক্ষেত্রে কাজ করার পরিধি এখনো তাই ব্যাপকভাবে উন্মুক্ত।

সত্যিকার অর্থে যেহেতু তৃতীয় শিল্পবিপ্লবের সুফলই আমরা সবার কাছে পৌঁছাতে পারিনি, চতুর্থ বিপ্লব মোকাবিলার জন্য আমাদের প্রস্তুতি ক্লাসের পিছিয়ে পড়া ছাত্রের মতোই।


১৭৮৪ সাল

শিল্পবিপ্লব ১.০

বাষ্পীয় ইঞ্জিন মানুষের হাতে তুলে দিয়েছিল গতিকে। যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে যাত্রা শুরু আধুনিক শিল্পায়নের দিকে। বাড়ে কয়লার খনি ও ইস্পাতের ব্যবহার।


১৮৭০ সাল

শিল্পবিপ্লব ২.০

উৎপাদনে নতুন অধ্যায় শুরু। বৈদ্যুতিক বাতি মানুষকে দেয় এক নতুন আলোকিত বিশ্ব। উদ্ভব ঘটে প্রোডাকশন লাইন ধারণার। উৎপাদন বাড়ে বহুগুণ।


১৯৬৯ সাল

শিল্পবিপ্লব ৩.০

কম্পিউটারের ব্যবহার ও স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতির শুরু। আবিষ্কৃত ইন্টারনেট জগৎকে এনে দেয় মানুষের হাতের মুঠোয়। উদ্ভব ঘটে প্রোগ্রামেবল লজিক কনট্রোলার (পিএলসি) ব্যবস্থার।


এখন

শিল্পবিপ্লব ৪.০

ডিজিটাল বিপ্লব। স্মার্টফোনের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের পরিবর্তন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ, রোবটিকস, জৈবপ্রযুক্তি, কোয়ান্টাম কম্পিউটিংসহ নানা কিছু

সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্যাভিলিয়ন

Source: https://www.prothomalo.com/economy/article/1620316/%E0%A6%9A%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A5-%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A6%AC-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6-%E0%A6%95%E0%A6%A4%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%BF-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%A4

18
খুব কষ্ট করে আমাকে এ পর্যায়ে আসতে হয়েছে

নেসলে বাংলাদেশ লিমিটেডে মেডিকেল প্রতিনিধি পদ দিয়ে পেশাজীবন শুরু, জি এম কামরুল হাসান এখন আবদুল মোনেম লিমিটেডের ইগলু আইসক্রিম, ডেইরি ও ফুডের গ্রুপ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)। দেশি-বিদেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সিইওদের মধ্যে তিনি সুপরিচিত নাম।

এই উঠে আসাটা সহজ ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে টাকার অভাবে কখনো কখনো না খেয়ে দিন কাটিয়েছেন, স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন বাদ দিয়েছেন, পেশাজীবনে বড় পদ ছেড়ে ছোট পদে যোগ দিয়েছেন, বিদেশি বহুজাতিক কোম্পানিতে নিশ্চিন্ত জীবন ছেড়ে দেশি প্রতিষ্ঠানে মামলার মুখে পড়েছেন—সব মিলিয়ে কামরুল হাসানের পেশাজীবন বৈচিত্র্যময়।

কামরুল হাসান যে প্রতিষ্ঠানের সিইও, সেই ইগলুর কথা আগে জানিয়ে নিই। এটি দেশের আইসক্রিমের বাজারের অপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান। বাজারে তাদের হিস্যা ৪০ শতাংশের মতো। চার বছরে ইগলুর ব্যবসা প্রায় দ্বিগুণ করেছেন কামরুল হাসান।



দেশি-বিদেশি বড় প্রতিষ্ঠানের সিইও পদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) শিক্ষার্থীদের আধিপত্য। অন্তত ব্যবসায় বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি না থাকলে পাত্তা পাওয়া কঠিন। সেখানে জি এম কামরুল হাসান পড়েছেন প্রাণরসায়ন বা বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

সালেহা আক্তার ও আবদুল হামিদ দম্পতির আট সন্তানের মধ্যে কামরুল হাসান সবার ছোট। যে বছর তাঁর জন্ম, সেই বছর (১৯৭০) পিতা খাদ্য বিভাগের চাকরি থেকে অবসর নেন। ফলে সবচেয়ে ছোট সন্তানের পড়াশোনা চালানোর জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক সংগতি তাঁর ছিল না। কামরুল হাসান বলেন, ‘ভালো ছাত্র ছিলাম। সব সময় প্রথম হতাম। তাই স্কুল ও কলেজে বেতন লাগত না। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর এক ভাই ও এক বোন মাসে মাসে কিছু টাকা দিত। তাই দিয়েই চলত।’

তবে সে টাকা নিতে তাঁর আত্মসম্মানে লাগত। নিজের খরচ নিজেই জোগাতে কখনো টিউশনি করেছেন। একসময় গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজে রসায়নের একটি কোর্সের ৬০ জন শিক্ষার্থীর একটি ব্যাচকেও পড়িয়েছেন। কিছুদিন একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় (এনজিও) খণ্ডকালীন চাকরি করেছেন।

কামরুল হাসান বলেন, ‘আমার বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে আড্ডাময় বিকেল বলতে কিছু ছিল না। সহপাঠীরা যখন বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিত, আমি তখন রোজগারের পেছনে ছুটতাম। এমনও দিন গেছে, টাকার অভাবে না খেয়ে থেকেছি। ঈদের দিন না খেয়ে হলে শুয়ে থেকেছি।’ তিনি বলেন, ‘সেদিন আমার মেয়ে একটি বার্গার কিনতে এক হাজার টাকা চাইল। সে বলল, এক হাজার টাকার নিচে কি ভালো বার্গার হয়? আমি ভাবলাম, তাদের বাবা একসময় বানরুটি খেয়ে দিন কাটিয়েছে, এগুলো বাচ্চারা কি বিশ্বাস করবে?’

কামরুল হাসানের দুই সন্তান। মেয়ে পঞ্চম শ্রেণি ও ছেলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। স্ত্রী একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। অন্যদিকে তিনি এখন সর্বোচ্চ বেতনধারী সিইওদের একজন।

আয় করতেই হবে

কামরুল হাসানের স্বপ্ন ছিল শিক্ষক হওয়ার। স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় তিনি প্রথম শ্রেণিতে দ্বিতীয় হয়েছিলেন। ইচ্ছা ছিল পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের। কিন্তু নিজের খরচ নিজেই চালাতে হবে। পড়াশোনা শেষ করেই চাকরিতে যোগ দিতে হবে। এই তাগিদ থেকে আবেদন করলেন নেসলে বাংলাদেশের মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভ পদে। ১৬২ জনের মধ্য থেকে ২ জন চাকরি পেলেন, যার একজন কামরুল হাসান (১৯৯৫ সালে)। ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা যেমন চিকিৎসকের কাছে গিয়ে ওষুধ সম্পর্কে পরিচিতি তৈরির কাজ করেন, কামরুল হাসানের কাজ ছিল শিশুখাদ্যের বাজার তৈরি।

ব্র্যান্ডে টিটকারির মুখে

কামরুল হাসান বলেন, ‘নেসলেতে শুধু পরিশ্রম করেছি। স্টেশনে, ছারপোকা ভরা হোটেলে রাত কাটিয়েছি। সফলতাও এসেছে। একসময় আমি নেসলের ব্র্যান্ড বিভাগে যুক্ত হলাম। প্রাণরসায়নের ছাত্র হয়ে ব্র্যান্ডিংয়ে গিয়ে শুরুতে টিটকারি শুনতে হতো। সহকর্মীরা আমাকে এড়িয়ে নিজেরা আড্ডা দিতেন।’

অবশ্য সময় বেশি লাগেনি, দুই বছরের মধ্যে কামরুল হাসান সেরা ব্র্যান্ড ম্যানেজার হলেন। অবশ্য ব্র্যান্ডে যোগ দিতে শর্ত হিসেবে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করতে হলো তাঁকে। ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি থেকে ৩ দশমিক ৯৬ সিজিপিএ (চারের মধ্যে) নিয়ে নিয়মিত বা রেগুলার এমবিএ করলেন কামরুল হাসান। বিজ্ঞানের ছাত্র হওয়ায় শুরুতে তাঁকে ব্র্যান্ডে দিতে রাজি হয়নি নেসলের ব্যবস্থাপনা। তিনি বলেছিলেন, ‘না পারলে আমাকে বাদ দিয়ে দিয়েন।’

১২ বছর চাকরি করার পর ২০০৭ সালে নেসলে ছেড়ে দেন কামরুল হাসান। যোগ দেন রহিমআফরোজে। সেখান থেকে ইগলু, নিউজিল্যান্ড ডেইরি, নিউজিল্যান্ডের দুধ বিপণনকারী ফন্টেরা (সিঙ্গাপুরে) ও প্রাণ হয়ে আবার ইগলুতে।

কামরুল হাসান বলেন, ‘নিউজিল্যান্ড ডেইরিতে আমি এক পদ নিচে যোগ দিই। এর কারণ ছিল, আমি ভালো একটি জায়গা খুঁজছিলাম। নিউজিল্যান্ড ডেইরিতে তিন মাসের মধ্যে ব্র্যান্ড ম্যানেজার থেকে আমাকে মার্কেটিং ম্যানেজার, এক বছর পরে হেড অব মার্কেটিং করা হয়।’ তিনি বলেন, ‘ফুটবলে আক্রমণ করার জন্য অনেক সময় বল মাঝমাঠ থেকে রক্ষণভাগে পাঠানো হয়। আমিও চাইছিলাম আমার ক্যারিয়ারকে পুনর্গঠন করতে। এ কারণেই ছোট পদে যোগ দেওয়া।’

‘এ লোক নাছোড়বান্দা’

ফন্টেরায় পদ ছিল কান্ট্রি ম্যানেজার, অফিস সিঙ্গাপুরে। একদিন বিমানবন্দরে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরীর সঙ্গে পরিচয় হওয়ার পর তাঁর পরামর্শ ও পরিবারের কাছে থাকার তাগিদে কামরুল হাসান যোগ দেন প্রাণে। পদ ছিল প্রাণের মার্কেটিং প্রধান (২০১৫ সালে)।

অবশ্য প্রাণে বেশি দিন থাকেননি কামরুল হাসান। হঠাৎ প্রাণ ছেড়ে চাকরি খুঁজছিলেন। গেলেন এসিআই কনজ্যুমার ব্র্যান্ডসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আলমগীরের কাছে। তিনি বললেন, সেখানে যোগ দিতে। কিন্তু বেতন ততটা দেওয়া যাবে না।

অফার লেটার নিলেন। এর মধ্যে কামরুল হাসানকে ফোন করলেন আবদুল মোনেম লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা আবদুল মোনেম নিজে। দেখা করতে গেলে তিনি বললেন, ইগলুর দায়িত্ব নিতে। কামরুল হাসান বলেন, ‘আমি নানা কারণ দেখিয়ে যোগ দেব না বলে বেরিয়ে গেলাম। আবদুল মোনেম সাহেব আবার ফোন করলেন। বললেন, তুমি মুখের ওপর না বলতে পেরেছ। তুমিই পারবে। ইগলুর দায়িত্ব নাও। আমি তোমাকে কাজের পূর্ণ স্বাধীনতা দেব।’

২০১৫ সালের ৮ অক্টোবর কামরুল হাসান ইগলুতে যোগ দেন। চলতি বছর চার বছর হয়েছে। এক দফা পদোন্নতি হয়েছে। ডেইরি ও ফুডসের দায়িত্ব যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে অসাধু বেশ কিছু কর্মী ও পরিবেশক বাদ দিয়েছেন। পরিবেশকেরা হুমকি দিয়েছে, মামলা করেছে, সবকিছু সামলে ইগলুর ব্যবসাকে সামনে এগিয়ে নিয়েছেন কামরুল হাসান।

‘শুরুর দিকে অফিসের ভেতর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার কেউ কেউ বলত, এ লোক তিন মাসও টিকবে না। এখন সবাই বলে, এ লোক নাছোড়বান্দা’—যোগ করেন কামরুল হাসান। তিনি বলেন, এখনকার তরুণেরা পেশাজীবনে টি-২০ ঢংয়ে উন্নতি চায়। দরকার আসলে টেস্ট খেলা। ক্রিজে পড়ে থাকলে রান আসবেই, সেঞ্চুরিও হবে। ২০১৭ সালে সাউথ এশিয়া পার্টনারশিপ সামিটে এফএমসিজি শ্রেণিতে সেরা সিইওর সম্মাননা পান কামরুল হাসান।

পেশাজীবনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে এসেও দিনভর কাজ করাই কামরুল হাসানের কাজ। তিনি মনে করেন, সফলতার জন্য কঠোর পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই। আর দরকার সততা।

একনজরে

শিক্ষা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর। পরে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ।

পেশা শুরু
১৯৯৫ সালে নেসলে বাংলাদেশ লিমিডেটের মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভ হিসেবে।

চাকরি
নেসলে ছাড়াও রহিমআফরোজে, নিউজিল্যান্ড ডেইরি, ফন্টেরা ও প্রাণ গ্রুপের বিভিন্ন পদে।

এখনকার পদ
আবদুল মোনেম লিমিটেডের ইগলু আইসক্রিম, ডেইরি ও ফুডের গ্রুপ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)।

তরুণদের প্রতি পাঁচ পরামর্শ

১.   তরুণেরা যা কিছুই করবে, তাতে প্যাশন বা তীব্র অনুরাগ থাকতে হবে। সবাই তাড়াতাড়ি বড় হতে চায়, যা সবচেয়ে বড় ভুল।

২.   বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি কিছু একটা করা উচিত। এমনকি হতে পারে টিউশনি অথবা সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকা। এতে যোগাযোগদক্ষতা ও নেতৃত্বগুণ তৈরি হবে।

৩.   উপস্থাপনায় দক্ষ হতে হবে। ভারতীয়রা বাংলাদেশিদের চেয়ে বেশি মেধাবী নয়। কিন্তু তাদের উপস্থাপনার দক্ষতা অনেক ভালো।

৪.   নিজেকে অন্যদের থেকে কোনো না কোনো ক্ষেত্রে আলাদাভাবে যোগ্য করে তুলতে হবে।

৫.       কঠোর পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই। পরিশ্রমের সুফল একসময় না একসময় পাওয়া যাবেই।

Source: https://www.prothomalo.com/economy/article/1620303/%E0%A6%96%E0%A7%81%E0%A6%AC-%E0%A6%95%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%8F-%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A7%9F%E0%A7%87-%E0%A6%86%E0%A6%B8%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%B9%E0%A7%9F%E0%A7%87%E0%A6%9B%E0%A7%87

19
শেয়ারবাজার নিয়ে ১১টি গল্প

পতনে দিশেহারা দেশের সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। হাসিঠাট্টার ছলে শেয়ারবাজারের আসল গল্পগুলো জানা থাকলে খানিকটা মনের শান্তি হয়তো মিলতে পারে।



শেয়ারবাজারে টাকা নেই, তারল্য সংকট আছে, কথাটা কিন্তু ঠিক না। এখানে টাকা সব সময়ই থাকে, কেবল পকেট বদলে যায়।

২ শেয়ারবাজারের বিশ্লেষক কেন সৃষ্টি হয়েছিল জানেন তো? যাতে আবহাওয়া বিশ্লেষকদের প্রতি সামান্য হলেও মানুষের বিশ্বাস থাকে।

৩ ব্রোকার শেয়ারবাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। ব্রোকার হচ্ছেন সেই ব্যক্তি, যাঁর বিনিয়োগ সিদ্ধান্তের ওপর আপনি বিশ্বাস রাখবেন এবং সেই বিশ্বাস তিনি ভাঙবেন না। এবার ইংরেজিতে ব্রোকার শব্দটি লিখুন, তারপর শেষ ‘আর’ অক্ষরটি বাদ দিয়ে পড়ুন।

৪ ব্রোকার আপনার পক্ষে বিনিয়োগ সিদ্ধান্তটি নেবেন, বিনিয়োগ করবেন এবং তার বিনিময়ে আপনি তাঁকে কমিশন দেবেন। মনে রাখবেন, এই কমিশনই হচ্ছে শেয়ারবাজারের একমাত্র নির্ভরযোগ্য আয়ের পথ।

৫ ও! প্রাথমিক শিক্ষাটাই তো হলো না। শেয়ারবাজারে শেয়ার বা স্টক হচ্ছে আসলে একটি জাদুর কাগজ। যেমন, ধরেন আপনি কিনলেন ১০ টাকায়, কিনেই দেখলেন সেটি আসলে ৪ টাকা। বিশেষ করে দেশের বর্তমান সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) আইপিওর মাধ্যমে যেসব কোম্পানির শেয়ারবাজারে এনেছে, সেগুলোর বেশির ভাগই তো আসলে জাদুর কাগজ।

৬ বিশ্বমন্দায় সময়ের গল্প। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নাকি নতুন এক মারণাস্ত্র আবিষ্কার করেছে। তাতে ভবন, রাস্তাঘাট ঠিক থাকে, খালি মানুষগুলোই উধাও হয়ে যায়। আর সেই মারণাস্ত্রের নাম শেয়ারবাজার।

৭ শেয়ারবাজার হলো এমন এক বাজার, যেখানে প্রতিদিন সকালে দুই দল মানুষ মিলিত হয়। এর মধ্যে এক দলের থাকে অর্থ, আরেক দলের অভিজ্ঞতা। দিন শেষে তারা কেবল নিজেদের সম্পদ হাতবদল করে। যাদের অর্থ ছিল তারা অভিজ্ঞতা নিয়ে বাড়ি ফেরে আর অভিজ্ঞরা ফেরে অর্থ নিয়ে।

৮ শেয়ারবাজারে তিন ধরনের বিনিয়োগকারী থাকেন। এর মধ্যে ১০ শতাংশ বাজারের কিছুই জানেন না। ১০ শতাংশ আছেন, যাঁরা কিছুটা জানেন। আর ৮০ শতাংশ জানেনই না যে তাঁরা আসলে কিছুই জানেন না। সুতরাং আপনাকে কিছু জানার দলে থাকতে হবে।

৯ এক নব্য বিনিয়োগকারী ভাবলেন, তাঁকে কিছু জানতে হবে। চলে গেলেন এক ব্রোকারের বাসায়। ড্রয়িংরুমে বসে আছেন ব্রোকার ভদ্রলোকের অপেক্ষায়, রুমে ঢুকল ছয় বছরের এক ছেলে। তিনি কথা বলতে লাগলেন ছেলেটার সঙ্গে।

‘তোমার বাবা কই? কী করেন তিনি?’

‘আমার বাবা মাছ ধরে।’

একটু খাবি খেলেন তিনি। অবাক হয়ে বললেন, ‘মাছ ধরে?’

ছেলেটা মাথা দুলিয়ে বলল, ‘মাছই তো ধরে। বাবার কাছে আপনার মতো লোকজন আসে, চলে যাওয়ার পর আমার বাবা মাকে বলে, আরও একটা বড় মাছ ধরলাম। ভালোই লাভ হবে।’

১০ নিউইয়র্ক শহরে একবার চরম ঠান্ডা পড়েছিল। ওয়াল স্ট্রিটের এক নামকরা ব্রোকারকে সে সময়ে নিজের প্যান্টের পকেটে হাত ঢুকিয়ে একবার হাঁটতে দেখা যায়। ওই একবারই নাকি ব্রোকাররা নিজের পকেটে হাত দিয়েছিলেন আর বাকি সময় তাঁদের হাত থাকে অন্যের পকেটে।

১১ বড় সাহেব অফিসে গিয়েই খবর দিলেন ক্যাশিয়ারকে, কিন্তু ক্যাশিয়ার সাহেব আর আসেন না। বারবার খবর দিয়েও পাওয়া গেল না। শেষে হাত কচলাতে কচলাতে অফিসের ম্যানেজার এসে জানালেন, ক্যাশিয়ার অফিসে নেই, স্টক মার্কেটের দিকে গেছেন।

‘স্টক মার্কেটে কেন?’

‘স্যার, তিনি তো তিন দিন ধরেই যাচ্ছেন, কিন্তু তাঁকে বলে দেওয়া হয়েছে যে আজই শেষ দিন।’

‘শেষ দিন কেন?’

‘না, মানে, হিসাব মিলছে না তো, তাই শেষ চেষ্টা হিসেবে শেয়ারবাজারে গেছেন। আজও যদি টাকা নিয়ে এসে হিসাব মেলাতে না পারেন, তাহলে তো পুলিশকে খবর দিতেই হবে।’

Source: https://www.prothomalo.com/economy/article/1620300/%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A7%87-%E0%A7%A7%E0%A7%A7%E0%A6%9F%E0%A6%BF-%E0%A6%97%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AA

20

শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ: মো. মনিরুজ্জামানের ৫ পরামর্শ

১. ঋণমুক্ত থাকুন

শেয়ারবাজার থেকে লাভের আশা যদি আপনার থাকে, তাহলে ঋণ করে বিনিয়োগ করবেন না। যদি এরই মধ্যে আপনার বিনিয়োগের বিপরীতে ঋণ নিয়ে থাকেন, তবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নিজের বিনিয়োগকে ঋণমুক্ত করুন। কারণ, শেয়ারবাজারে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো যে ঋণ দিয়ে থাকে, তার সুদহার ১৪ থেকে ১৬ শতাংশ। এখন বাজারে মন্দাভাব চলছে। মন্দা বাজারে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ মুনাফা করা বেশ কষ্টসাধ্য। পেশাদার তহবিল ব্যবস্থাপকদের পক্ষেও বাজার থেকে বছর শেষে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ মুনাফা করা বেশ কঠিন। সেখানে আপনি ঋণ করে বিনিয়োগের মাধ্যমে লাভ করতে চাইলে আপনাকে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ মুনাফা করতে হবে। যেটি বর্তমান বাজার বাস্তবতায় প্রায় অসম্ভব। যেসব বিনিয়োগকারী শেয়ার কিনে কিছু সময়ের জন্য হলেও তা ধারণ করেন, তাঁদের মোটেই শেয়ারের বিপরীতে ঋণ করা উচিত নয়। কারণ, এ ক্ষেত্রে প্রতিদিন সুদ বাড়ে আর দাম কমতে থাকলে তখন দ্রুত নিজের বিনিয়োগ করা অর্থ হারাতে হয়।

২. এক কোম্পানিতে বিনিয়োগ নয়

কখনো একজন বিনিয়োগকারীর একক কোনো শেয়ারে সব অর্থ বিনিয়োগ করা উচিত নয়। আমরা আমাদের অনেক গ্রাহককে দেখেছি তাঁরা ভালো অঙ্কের অর্থ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেছেন। কিন্তু তা করেছেন একটি মাত্র কোম্পানিতে। হতে পারে কোম্পানিটি খুবই ভালো মানের কোম্পানি। তারপরও একক কোম্পানিতে কখনোই সব অর্থ বিনিয়োগ করা উচিত নয়। কারণ, যেকোনো কারণে ওই কোম্পানির শেয়ারের মূল্যপতন ঘটতে পারে। তখন ওই বিনিয়োগকারীদের সবচেয়ে বেশি লোকসান গুনতে হয়।

৩. শেয়ার নয়, ব্যবসা কিনুন

আপনি যখন শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করছেন, তখন ধরে নিন আসলে শেয়ার নয়, আপনি কোনো কোম্পানির ব্যবসায় বিনিয়োগ করছেন। সেটি করতে হলে আপনাকে সবার আগে খোঁজ নিতে হবে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো ব্যবসা কারা করছে। তারপর সেই কোম্পানির ব্যবসায় বিনিয়োগ করুন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বিনিয়োগকারীরা ভালো ব্যবসা করে, এমন কোম্পানি বাছাই করতে পারেন না। এ ক্ষেত্রে সহজ উপায় হচ্ছে, আপনার পছন্দের যে ব্যবসায় আপনি বিনিয়োগ করতে চান, সেই খাতের বাজারের সেরা কোম্পানিটিই বেছে নিন। ধরা যাক, আপনি ওষুধ খাতের ব্যবসায় বিনিয়োগ করতে চান। তাহলে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ খাতের কোম্পানিগুলোর মধ্যে যার ব্যবসা সবচেয়ে ভালো, সেখানেই বিনিয়োগ করুন। যে কোম্পানির ব্যবসায় বিনিয়োগ করবেন, বিনিয়োগের আগে দেখতে হবে ওই কোম্পানির ব্যবসা বা মুনাফায় প্রবৃদ্ধি কেমন। মুনাফায় ন্যূনতম ১০ থেকে ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি আছে—এমন কোম্পানিকেই বেছে নিন। কোম্পানির কয়েক বছরের বিক্রয় ও নিট মুনাফার চিত্র দেখলে আপনি ওই কোম্পানির মুনাফার প্রবৃদ্ধি সম্পর্কে ধারণা পাবেন। যেসব কোম্পানির মুনাফার প্রবৃদ্ধি ভালো, সেসব কোম্পানির শেয়ার একটু বেশি দামে কিনলেও তাতে ক্ষতির আশঙ্কা কম থাকে। কারণ, যে হারে মুনাফা বা ব্যবসার প্রবৃদ্ধি ঘটে, শেয়ারের দামও সাধারণত সে হারে বৃদ্ধি পায়।

৪. বিনিয়োগের ভালো সময় এখনই

আপনি যদি শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে আগ্রহী হন, তাহলে এখনই বিনিয়োগের সেরা সময়। কারণ, ক্রমাগত দরপতনে বেশির ভাগ শেয়ারের দাম গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। সার্বিকভাবে বাজারের মূল্য আয় অনুপাত বা পিই রেশিও অনেক নিচে রয়েছে। তাই হাতে টাকা থাকলে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এখনই। তবে বিনিয়োগযোগ্য অর্থের সবটুকু শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করবেন না। বেশির ভাগ টাকা নির্দিষ্ট ও নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ব্যাংক ও সঞ্চয়পত্রে খাটান। বাকি অর্থ নিয়ে শেয়ারবাজারে আসতে পারেন। তবে সতর্ক থাকুন শেয়ার কেনায়। দাম কম দেখে লাফ দিয়ে কোনো শেয়ার কিনবেন না। বাজারে কম দামে এমন অনেক শেয়ার আছে, যেসব কোম্পানির কোনো অস্তিত্ব নেই। তাই দাম কম মানেই বিনিয়োগযোগ্য শেয়ার, তা ভাবার সুযোগ নেই।

৫. দৈনন্দিন লেনদেনের মানসিকতা পরিহার করুন

আমাদের বাজারের বেশির ভাগ বিনিয়োগকারী শেয়ার কেনার পরদিন থেকেই লাভের আশায় থাকেন। দ্রুত মুনাফা করতে চান। এ ধরনের মানসিকতা নিয়ে বাজারে বিনিয়োগ করে শেষ বিচারে লাভবান হওয়া যায় না। হয়তো সাময়িকভাবে কেউ কেউ কোনো কোনো শেয়ারে অল্প সময়ে ভালো মুনাফা করেন ঠিকই, কিন্তু তার চেয়ে বেশি লোকসান করেন শেষ হিসাবে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, সাধারণ বিনিয়োগকারীরা যে শেয়ারের দাম দ্রুত বাড়তে থাকে, সেই শেয়ার কেনায় আগ্রহী হন। দ্রুততম সময়ে এক শেয়ার ছেড়ে অন্য শেয়ারে ঝোঁকেন। এতে মাস শেষে হিসাব করলে দেখা যাবে, এই ছোটাছুটি করে বেশির ভাগ বিনিয়োগকারী লোকসান করেছেন। সবশেষে নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য পরামর্শ, যদি আপনি এককভাবে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে না পারেন, তবে ভালো একজন তহবিল ব্যবস্থাপক বেছে নিন। যিনি আপনার হয়ে শেয়ার কেনাবেচার কাজটি করে দেবেন।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক, আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড

Source: https://www.prothomalo.com/economy/article/1620301/%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A7%8B%E0%A6%97-%E0%A6%AE%E0%A7%8B.-%E0%A6%AE%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A7%AB-%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%B6

21
চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে স্বাগতম

কে জানত আমাদের ছোটবেলার প্রিয় স্মৃতির সঙ্গে জড়িত কোডাক কিংবা ফুজি ফটোফিল্ম দিয়ে কেউ একদিন আর ছবি তুলবে না? একসময়ের দেড় লাখ কর্মীর প্রতিষ্ঠান কোডাক এখন দেউলিয়া। যে ডিজিটাল ক্যামেরার উত্থানের জন্য ফিল্ম ক্যামেরার এই দুর্গতি, তার ভবিষ্যৎই এখন অনিশ্চিত মোবাইল ক্যামেরার জন্য। ফ্লপিডিস্ক এখন জাদুঘরে। পেনড্রাইভের ব্যবহারও এখন খুবই কম। জাতিসংঘের হিসাবে, বিশ্ব যত লোক স্যানিটারি সুবিধা পায়, তার বেশি এখন মোবাইল ফোন আছে মানুষের হাতে। আজকের প্রযুক্তি কদিন পরেই সেকেলে হয়ে যাচ্ছে। অনেক প্রথাগত ব্যবসাই আমূল পাল্টে যাচ্ছে দ্রুতগতিতে। কী হবে তাহলে বছর কুড়ি পরে?

তখন রাজত্ব করবে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ভার্চ্যুয়াল আর অগমেন্টেড রিয়েলিটি, রোবটিকস, ড্রোন, ব্লক চেইন, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, থ্রি-ডি প্রিন্টিং, ন্যানোটেকনোলজি কিংবা কম্পিউটারাইজড স্বাস্থ্যসেবা। আমরাও তাই প্রবেশ করে ফেলেছি চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে।



বাষ্প ইঞ্জিনের আবিষ্কারে শুরু হয়েছিল প্রথম শিল্পবিপ্লব, বিদ্যুতের উদ্ভাবনে হয়েছিল দ্বিতীয়টি আর কম্পিউটার-ইন্টারনেটের প্রচলনে চলছিল তৃতীয় শিল্পবিপ্লব। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিকস, মেশিন লার্নিং, ইন্টারনেট অব থিংস, বায়োটেকনোলজির সঙ্গে অটোমেশন প্রযুক্তির মিশেলে একবিংশ শতাব্দীর এই সময়ে এসে শুরু হয়েছে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব। এই বিপ্লবের কী কী প্রভাব পড়তে যাচ্ছে আমাদের জীবনযাত্রায়?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সই সবচেয়ে বড় প্রভাব বিস্তার করবে সামনের বছরগুলোতে। হয়তো সায়েন্স ফিকশনগুলো সত্যি হয়ে সুপার কম্পিউটারের মতন কোনো যন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করবে মানুষকে। ইতিমধ্যেই গুগলের ‘আলফা-গো’ হারিয়েছে জটিল বোর্ড গেম ‘গো’-র সেরা খেলোয়াড়কে। আইবিএম ওয়াটসন এখন ৯০ শতাংশ নিখুঁতভাবে আইনি সেবা দিতে পারছে, যেখানে মানুষ সঠিকভাবে পারে ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে। ফেসবুকের ‘প্যাটার্ন রিকগনিশন সফটওয়্যার’ মানুষের চেয়ে ভালোভাবে চেহারা চিনতে পারে।

আইবিএম ওয়াটসন গত এক শ বছরের রোগীদের সব মেডিকেল হিস্ট্রি রেখে দিচ্ছে নিজের ডেটাবেইসে। কিছুদিন পর উপসর্গ বলে দিলে কম্পিউটারই ‘প্রিসিশন মেডিসিন’-এর মাধ্যমে সঠিকভাবে বলে দিতে পারবে আপনাকে কী কী স্বাস্থ্যসেবা নিতে হবে। ওয়াটসন এর মধ্যেই মানুষের চেয়ে ৪ গুণ নিখুঁতভাবে ক্যানসার নিরূপণ করতে পারে। কয়েক বছর পরেই কেবল মোবাইল ফোন দিয়ে রেটিনা স্ক্যান, ব্লাড স্যাম্পল কিংবা শ্বাসের মাধ্যমে ৫৪টি বায়োমার্কার বলে দেবে কোনো অসুস্থতায় ভুগছেন কি না আপনি। প্রতিবছর তাই মানুষের গড় আয়ুষ্কাল বেড়ে যাচ্ছে প্রায় ৩ মাস করে।

১০০ ডলারের কৃষক রোবট বানানো হচ্ছে, যারা মাঠের কাজ সারবে। মানুষ কৃষকেরা কেবল ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করবেন। কৃত্রিম আর্দ্র আবহাওয়ায় মাটির ব্যবহার ছাড়াই ‘অ্যারোপোনিক্স’ কৌশল দিয়ে ফলানো হচ্ছে নতুন ফসল। পানির ব্যবহার কমে যাবে এতে। পোকমাকড় দমন কিংবা আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিয়ে স্বয়ংক্রিয় পরামর্শ দিচ্ছে বিভিন্ন স্মার্টফোন অ্যাপ। এই অ্যাপ দিয়ে গরু-মুরগি পর্যাপ্ত পরিমাণে খাচ্ছে কি না বা কোনো অসুখ হয়েছে কি না, তা সেন্সর দিয়ে জেনে আপনাকে জানানোর ব্যবস্থা আছে এখন।

‘ক্যাশলেস সোসাইটি’ বানানোর জন্য তোড়জোড় চলছে উন্নত বিশ্বে। পেপ্যাল, স্ট্রাইপ, গুগল ওয়ালেটের মাধ্যমে বিল-টিকিটসহ যেকোনো লেনদেন এখন করা যায় ব্যাংক বা কাউন্টারে না গিয়েই। অনুন্নত আর উন্নয়নশীল দেশগুলোতে মোবাইল ব্যাংকিং ঘটিয়েছে আরেক বিপ্লব। বিটকয়েন কিংবা লিবরা দাঁড়িয়ে যাচ্ছে প্রথাগত কাগুজে নোটের বিকল্প রিজার্ভ হিসেবে। ব্লকচেইন প্রযুক্তির মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন হচ্ছে আরও সহজ ও স্বচ্ছ। ফিন্যান্সিয়াল রোবো-অ্যাডভাইজর দিচ্ছে সঞ্চয়-বিনিয়োগের সঠিক পরামর্শ।

গুগল হোম, আমাজন অ্যালেক্সা দিয়ে একেকটি বাসা হয়ে যাচ্ছে ‘স্মার্ট হোম’। কেবল মুখের আওয়াজ দিয়ে বাসার বাইরে থাকলেও দরজার লক, লাইট-ফ্যান-টিভি, ঘরের তাপমাত্রা সবই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে। ফ্রিজে পর্যাপ্ত বাজার না থাকলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনলাইনে অর্ডার চলে যাচ্ছে। ‘আমাজন গো’ নিয়ে এসেছে স্মার্ট সুপারশপ। কোনো বিক্রয়কর্মী থাকছেন না এতে, দাম পরিশোধের জন্য কোনো লাইনেও দাঁড়াতে হবে না আপনাকে। দোকানে গিয়ে কেবল প্রয়োজনীয় জিনিস তুলে প্যাকেটে নিয়ে আসতে পারবেন বাসায়।

চালকবিহীন গাড়ির জন্য বিপুল বিনিয়োগ করে যাচ্ছে গুগল, অডি, টয়োটা, মার্সিডিজ বেঞ্জ, নিশান, জেনারেল মোটরসের মতো বড় কোম্পানিগুলো। টেসলা নিয়ে আসছে ইলেকট্রিক গাড়ি। নিজস্ব গাড়ি না কিনেও উবার-লিফট-গ্র্যাবের বদৌলতে নিয়মিত গাড়িতে যাতায়াত করতে পারছেন আপনি। পার্কিং, আবর্জনা সংগ্রহ কিংবা ট্রাফিক ম্যানেজমেন্টের জন্যও ব্যবহৃত হচ্ছে প্রযুক্তি। যাতায়াতের সুবিধা বেড়ে যাওয়ায় রিয়েল এস্টেট ব্যবসা সামনে থেকে আর শহরকেন্দ্রিক না–ও হতে পারে। শিল্পকারখানায় রোবটের ব্যবহারে উৎপাদন বাড়ছে কয়েক গুণ। ড্রোন দিয়ে ই-কমার্সে পণ্য ডেলিভারি শুরু করেছে আমাজন।

মাত্র ১০ বছরের মধ্যে থ্রি-ডি প্রিন্টারের দাম ১৮ হাজার ডলার থেকে নেমে ৪০০ ডলারে নেমে এসেছে। সব বড় জুতা কোম্পানি ‘থ্রি-ডি প্রিন্টেড শু’ বের করেছে। চীনের সাংহাইয়ে এর মধ্যেই রিসাইকেলড কংক্রিট ম্যাটেরিয়াল দিয়ে ছয়তলা থ্রি-ডি প্রিন্টেড অফিস বিল্ডিং বানানো হয়েছে। ২০২৫ সাল নাগাদ, যা কিছু বানানো হবে, তার ৫ শতাংশই থ্রি-ডি প্রিন্টেড হবে। সার্জারির আগে ডাক্তাররা অঙ্গপ্রত্যঙ্গের থ্রি-ডি মডেলের ওপর পরীক্ষা করে নিতে পারবেন। ইঞ্জিনিয়ার বা ডিজাইনাররা যেকোনো স্থানে বসেই কোনো পণ্যের থ্রি-ডি মডেল ফাইল পাঠাতে পারবেন অন্য কোনো অফিসে, যা সেখানে আসল পণ্য হয়ে বের হয়ে আসবে।

অফিসের জন্য এত দিন ব্যবহার করে আসা মাইক্রোসফট ওয়ার্ড, এক্সেল, পাওয়ার পয়েন্টের কাজ চলে আসছে ক্লাউড কম্পিউটিং ভিত্তিক ওয়েব সার্ভিস প্ল্যাটফর্মে। সহজে যেকোনো কারও সঙ্গে শেয়ার করার পাশাপাশি অফিসের বাইরেও যেকোনো জায়গা থেকেই একসেস করা যাচ্ছে এসব ভার্চ্যুয়াল ফাইল। পিসির হার্ডডিস্কের ওপরও চাপ কমে যাচ্ছে তাই।

ইউটিউব, স্পটিফাই, সাউন্ড ক্লাউডের এই যুগে শেষ কবে ডেস্কটপ-ল্যাপটপে রাখা গান শুনেছেন আপনি? টিভি-রেডিও চলে আসছে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে। নেটফ্লিক্সের জয়জয়কার এখন। ডিজনি, হুলু, আমাজন প্রাইম, অ্যাপল টিভি সবাই এখন অনলাইনে মুভি-সিরিজ-গান স্ট্রিমিং করার সুযোগ করে দিচ্ছে। প্রিন্ট পত্রিকার জায়গা করে নিচ্ছে অনলাইন পত্রিকা। প্রিন্ট বিজ্ঞাপনের বদলে নিউইয়র্ক টাইমস-এর সবচেয়ে বড় আয় আসে এখন অনলাইন সাবস্ক্রিপশন থেকে।

নিজস্ব কোনো কনটেন্ট না থাকার পরেও ফেসবুক এখন সবচেয়ে বড় মিডিয়া কোম্পানি। এ বছর বাংলাদেশে কোনো টিভি চ্যানেল লা লিগার ম্যাচ দেখাচ্ছে না; মেসি-হ্যাজার্ডদের দেখতে হবে ফেসবুকে স্ট্রিমিং করে। অনলাইনের জন্য আলাদা সম্প্রচার স্বত্ব বানাতে হচ্ছে প্রযোজক আর আয়োজকদের। ১০ কোটি লোকের কাছে টেলিফোন ব্যবস্থা যেতে সময় লেগেছিল ৭৫ বছর, পোকেমন গো এক মাসেই সমান লোকের কাছে পৌঁছে গিয়েছে ২০১৬ সালে। অচিরেই ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটি নিয়ন্ত্রণ করতে যাচ্ছে অ্যাডভারটাইজিং আর এন্টারটেইনমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিকে।

সামনে অসাধারণ এক ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য। অভাবনীয় গতিতে প্রথাগত অনেক ব্যবস্থা ভাঙচুর করে নিজস্ব পথ করে নিচ্ছে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব। ডেল জানাচ্ছে, ২০৩০ সালে এমন সব চাকরি থাকবে, যার ৮৫ ভাগেরই অস্তিত্ব নেই এখন। অনেকে চাকরি হারাবেন অটোমেশনের কারণে, আবার নতুন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রও প্রস্তুত হবে। ২০৪০ সালে পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথমবারের মতন পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়সী একদল প্রজন্ম থাকবে, যারা ‘টেকনোলজিক্যাল সাউন্ড’। এদের জন্য হয়তো গড়ে উঠবে নতুন কোনো সার্ভিস, এখন যা কল্পনাতেও আনতে পারছি না আমরা।

আপনি বা আপনার প্রতিষ্ঠান তৈরি তো?

প্রিয়ম মজুমদার: সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্যাভিলিয়ন

Source: https://www.prothomalo.com/economy/article/1619126/%E0%A6%9A%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A5-%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AF%E0%A7%81%E0%A6%97%E0%A7%87-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A6%A4%E0%A6%AE

22
IQAC, DIU has conducted a workshop on “Class Monitoring Mechanism”

A workshop on “Class Monitoring Mechanism” was held on October 14, 2019 at 03:30 p.m. of the Room No. 308, Main Campus of Daffodil International University (DIU).  It was organized by the Institutional Quality Assurance Cell (IQAC) of DIU.

Professor Dr. A. K. M. Fazlul Haque, Director of IQAC has facilitated the workshop. Professor Dr. Yousuf Mahbubul Islam, Honorable Vice Chancellor & Professor Dr. S.M. Mahbub Ul Haque Majumder, Honorable Pro-Vice Chancellor of DIU were also present in the workshop as a Chief Guest and Special Guest, respectively. Designated faculty members of class monitoring committee have participated in the workshop. The workshop has depicted several vital issues on the modality of class monitoring mechanism. The Director, IQAC, in his presentation analyzed how to conduct the monitoring of classroom and has delivered detail discussion on those parameters, to be used for class monitoring of different departments. The initiative will be now piloting from this semester; later the initiative will continue with broader aspect.  The ten parameters of class monitoring mechanism, developed by IQAC, DIU are as: attitude and ethics, appearance, effective communicator, lesson plan, teaching methodology, innovation and in-depth knowledge, develop critical thinking, innovative questions, research on students’ learning process, hard skills and soft skills. In the workshop, coordinators were also selected from the members of the said committee. Honorable Vice Chancellor and Pro-Vice Chancellor, DIU, have shared their view and prudent directions to the committee members as well. Professor Dr. Yousuf Mahbubul Islam, Honorable Vice Chancellor, DIU has wrapped-up the programme by extending his thanks to the august for attending the event.

23
চার দশক আগেই মঙ্গলে প্রাণের অস্তিত্ব পায় নাসা

সৌরজগতের লোহিত গ্রহ মঙ্গল নিয়ে গবেষণা চলছে যুগ যুগ ধরে। সেখানে প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে কি না, গ্রহটি মানুষের দ্বিতীয় আবাস হতে পারবে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর বিজ্ঞানীরা খুঁজে চলেছেন প্রতিনিয়ত। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (নাসা) সাবেক এক বিজ্ঞানী দাবি করেছেন, চার দশক আগেই মঙ্গলে প্রাণের অস্তিত্ব পেয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু নাসা সে সময় তা আমলে নেয়নি।

নাসা ১৯৭৬ সালে মঙ্গলে প্রাণের অস্তিত্ব অনুসন্ধানে ভাইকিং অভিযান পরিচালনা করে। মহাকাশযানটির একটি অংশ কক্ষপথ থেকে মঙ্গলপৃষ্ঠের ছবি তুলেছে। অপর অংশটি মঙ্গলপৃষ্ঠে অবতরণ করে প্রাণের অস্তিত্ব অনুসন্ধান করেছে। অংশটির নাম ছিল ভাইকিং ল্যান্ডার। আর অনুসন্ধান অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছিল লেবেলড রিলিজ, সংক্ষেপে এলআর। নিয়ন্ত্রণকক্ষে এলআরের নেতৃত্বে ছিলেন নাসার প্রকৌশলী ও উদ্ভাবক গিলবার্ট ভি লেভিন। তিনিই গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় বিজ্ঞান সাময়িকী সায়েন্টিফিক আমেরিকান–এ ওই অভিযানের পাওয়া ফলাফল নিয়ে একটি দীর্ঘ নিবন্ধ লিখেছেন।




নিবন্ধে গিলবার্ট লেখেন, ‘১৯৭৬ সালের ৩০ জুলাই মঙ্গলপৃষ্ঠ থেকে এলআর তার প্রাথমিক অনুসন্ধানের তথ্য পাঠায়। ফলাফল ছিল আশ্চর্যকরভাবে ইতিবাচক। আমরা ইঙ্গিত পেয়েছিলাম, লোহিত গ্রহটিতে আণুবীক্ষণিক জীব রয়েছে। ওই সব জীবের শ্বাসপ্রশ্বাসের আভাস পেয়েছিলাম আমরা। পৃথিবীর মাটিতে প্রাণের অস্তিত্ব অনুসন্ধানের পরীক্ষায় এলআর থেকে যে ধরনের তথ্য আমরা পেয়েছিলাম, মঙ্গলপৃষ্ঠ থেকে পাঠানো তথ্যের সঙ্গে তা অনেকাংশেই মিলে যায়। এর অর্থ হলো, আমরা চূড়ান্ত জবাব পেয়ে গিয়েছিলাম।’

কিন্তু নাসা উপসংহারে পৌঁছায়, মঙ্গলে এলআর যা পেয়েছে, তা প্রাণের অস্তিত্বের মতো হলেও সরাসরি প্রাণ নয়। গিলবার্টের ভাষায়, নাসা ওই ফলাফল আমলেই নেয়নি। অথচ ভাইকিং অভিযানে মঙ্গলে প্রকৃত অর্থেই প্রাণের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছিল।

এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে নাসার প্রশাসক জিম ব্রাইডেনস্টাইন বলেন, মঙ্গলে আণুবীক্ষণিক জীবের অস্তিত্ব থাকলেও থাকতে পারে। লোহিত গ্রহটিতে মহাকাশচারী পাঠাতে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তথ্যসূত্র: ইনডিপেনডেন্ট

Web source: https://www.prothomalo.com/technology/article/1619518/%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%A6%E0%A6%B6%E0%A6%95-%E0%A6%86%E0%A6%97%E0%A7%87%E0%A6%87-%E0%A6%AE%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A6%B2%E0%A7%87-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%A3%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%85%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AC-%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A7%9F-%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%BE?fbclid=IwAR137ZI9EeZazErbJD6spOzvpAYAXMtcGBVT4gSH7aktYVM9Td9iIPHycYE


24
Emerging Technologies / Most Popular Programming Languages 1965 - 2019
« on: October 18, 2019, 01:11:00 AM »
Most Popular Programming Languages 1965 - 2019

Source: https://www.youtube.com/watch?v=Og847HVwRSI

25
News & Events / IQAC Newsletter: Volume 2: Issue 1
« on: October 17, 2019, 04:14:06 PM »

26
Higher Education and Emerging Technologies / WHAT IS UNIVERSITY 20.35
« on: October 17, 2019, 01:08:37 PM »
WHAT IS UNIVERSITY 20.35

University 20.35 is the first university in Russia providing opportunities for professional development by creating individual educational trajectories and tracking digital skill profiles.
It is aimed at training business leaders, participants of the National Technology Initiative and professionals entering new global markets.University 20.35 pioneers a new network-based learning principle, where educational trajectories for each  student are selected in a personalized manner. Different universities, online education platforms and other organizations are providing this customized content. Students are trained both offline and online through the digital platform of the University.
University 20.35 was established by the Agency for Strategic Initiatives (ASI) to promote new projects. Partners: Skoltech, Innopolis, ITMO, SPbPU, MIPT, Novosibirsk State University, Tomsk State University, Far Eastern Federal University.

UNIQUE FEATURES OF UNIVERSITY 20.35

01 Recommendations for personal education trajectories based on the results of the students’ current skill diagnostics, educational background and individual needs.
02 Combination of online and offline learning from world-class teachers with top level skills.
03 Community of the National Technology Initiative leaders and the possibility to study together.
04 Digital skills profile.
05 Recommendations on team development (considering each participant’s profile) for technological projects.

RESEARCH
University 20.35 pioneers a new university model, where each student at any given moment makes a decision on his/her further educational steps based on recommendations that take into account the student's digital footprint, digital footprints of other students, and the educational content and activities available.

The recommendations include:
the choice of professional activity;
a list of the skills and knowledge that are necessary for this professional activity;
a selection of events, courses, educational methods, scholarly endeavors and professional activities that will ensure the student's development.

University 20.35 joins efforts with leading academia institutions to facilitate transition towards network-based education.

University holds pilot programs at selected Russian universities offering students an opportunity to develop a set of competencies required for digital economy via personalized blended learning curves. Educational content providers, proffering unique learning experiences related to digital economy are encouraged to share their content at University 20.35's platform.

Therefore, new students get a unique opportunity to build personal educational paths from the variety of available modules.


Source: https://2035.university/en/

27
Is Artificial Intelligence the Ultimate University Stimulus?

What does it take to make the university the best learning experience in the lifecycle of one’s education? Higher education is all about developing skills, exploring new theories, and applying them to the actualities of real life. Throughout this journey, students are encouraged to stay on top of their workload, study, and complete assessments all while simultaneously leading a healthy, active, and balanced social life.

Existing Fractures in the University Structure

The essential materials relied on at university include books, books, and more books. As we move into an age of digitalization of practically everything, there is a reason to believe that the existing higher education model should too be digitalized to allow for an enhanced university experience.

The existing model of higher education looks something along the following lines.
Based on a one-module-fits-all curriculum, where students are all expected to learn the same thing in the confines of a classroom, they will then be assessed by examinations based on rigid criteria to determine a pass or fail. These intrinsic features of the education system do little to contribute to an enhanced learning experience. Instead, prospects for development under the current model seems to have come to a halt.

The world around us moves closer to an entirely digitalized world.

Having the entire world become digitalized is essential as little else could be more detrimental to the future than our young minds being taught in obsolete ways. Artificial intelligence has disrupted almost every industry. The AI market is expected to generate $3 trillion in revenue by 2024.



Based on a 2018 report assessing the expected impact of AI and machine learning on a selection of domains worldwide, only 3% of respondents believed that AI would not affect society in general within two years (Statista).

The ability of intelligent machines to perform highly sophisticated and specific tasks without explicit human input should not be overlooked in the higher education sector.

Artificial Intelligence Technological Solutions

AI’s ability to make recommendations and produce answers based on patterns and inferences is precisely what humans cannot do on a mass scale – and precisely what our existing university structure demands.

University 20.35, (https://2035.university/en/), introduces the first university model that provides opportunities for professional development by creating individual educational trajectories and tracking digital skill profiles using artificial intelligence.

The use of digital footprints, which the platform collects during educational processes measures and analyses the students’ skills. Then, it confirms or refutes whether a trajectory module teacher can efficiently transfer skills to the students.

University Model

The network of organizations and digital platforms.
The use of AI here is of great revelation. It’s currently being implemented in personal educational trajectories development. In other words, the collection of Big Data on a student’s educational and professional background, combined with his/her digital footprint allows the intelligent machine to suggest the best development path.

A large part of university learning takes place within labs and lecture theatres.
If there’s one thing that makes studying at university better, it has everything you need to learn, study, and research wherever the student may be. Whether studying, learning or research takes place on the go or from home can be the students’ choice.  Through a combination of online and offline education, artificial intelligence allows students to study where and when they want.

Using whichever platform they prefer or need, makes learning more accessible to everyone. The learning, in turn, lends to the prospects of AI for future students. It may mean that the use of mobile devices and online data collection increases.

This shift way from popular book learning towards smart devices contributes to the mass data we collect as a population. More data essentially means more information and better AI developed models.

We think of the most enhanced environments for learning.
We might conjure up images in our heads of groups of students studying together, in an attempt to improve their existing skills and fill in the gaps in their knowledge. Before the introduction of AI, this image of students was the only one conceivable, but it’s not the most effective.

AI, through the collection and analysis of digital footprints, allows for the creation of each students’ digital twin. Digital twins are essentially the digital replica of physical assets, i.e., the physical twin or the replica is of the student.

This accurate and near to real-time data based on digital footprint as well as some biological data can help to establish better solutions for students. This includes the biological of the surroundings as well as personal biolgical data. The application of the digital twin in higher education has the potential to shed light on gaps in the student’s knowledge, their forgetfulness, and hone in on their strengths.

Through AI, digital twins can materialize into a functional and personal study buddy.
Twinning is effectively a solid starting point for the development of a proactive educational study plan. From here, as the data reflects the student’s actual profile, the near to real-time data of the students’ progress will represent the students’ knowledge and skills.

Twinning can also be modeled to take into account what the student forgets and the skills they are practicing. The digital economy awaits, and as things stand, the next generation of our workforce have been and continue to be, educated and trained in an educational model that is incompatible with the digital future.

The university project, Island 10-22, is an incentive for education leaders aimed at intensive skills development specifically for the digital economy.
Participants of this project receive skills development in the field of digital and cross-cutting technologies. They are therefore anticipated to be the most sought after members of the labor market and will lead in the transition into a digital global economy.

“We aim to create a flexible digital education system, not even of tomorrow, but for the day after, based on the unique Russian educational AI.”The Russian education AI will enable quick training of these specialists and teams to solve complex problems,” said Dmitry Peskov, head of University 20.35.

On many occasions, students at university will be expected to work in groups on team projects.
Artificial intelligence technologies can make intelligent recommendations on team development for technical projects. And nothing enhances learning quite like team development. Collaboration drives innovation. Artificial intelligence, by considering each participant’s profile, we can assemble the most efficient teams and distribute work according to skill and proficiency.

AI poses some strategic and educational revolutionary technical solutions.
Each of these can help the current educational model reach the next milestone in maximizing both its standards and the level of expertise in students it produces. Total digital footprint recording allows AI to analyze the interaction of the participants in social networks.

The results of completed tasks, geolocation, as well as uploads of videos and photos, make possible a personalized program based on the needs of the student. Subsequently, individual development pathways with AI assistants can be created for each student.

When looking ahead at development records and tracing the students’ progress, AI, through semantic speech analysis allows the tracking of changes in the participants’ mindsets. Biometric data gathering can identify stress and fatigue levels to analyze different stages of the program. This data can then be used to modify the program accordingly.

AI puts students on a personal development pathway based on their digital footprints.
AI can do much more than condense a lecture into flashcards and smart online study guides. It has thus far, automated administrative tasks, introduced personalized learning to the extraordinarily generic syllabus that exists today.

AI’s application is still in its early stages; its continued development will soon see it working as a full-fledged AI-based university model. The model will be immersed entirely on the premise of machine learning and artificial intelligence. Simultaneously, its development will generate a higher caliber of students.

Source: https://readwrite.com/2019/10/10/is-artificial-intelligence-the-ultimate-university-stimulus/

28
Emerging Technologies / Web link of IFZ-FinTech study 2019
« on: October 16, 2019, 02:26:31 PM »
Web link of IFZ-FinTech study 2019

IFZ FinTech Study 2019 analyses both global FinTech companies and the Swiss FinTech sector. The fourth edition of the IFZ-FinTech study aims to show the developments in the FinTech in 2018 and to re-evaluate the trends observed in previous studies. FinTech companies are increasingly becoming an integral part of the financial services industry. By the end of 2018, there were 356 Swiss FinTech companies, representing an increase of 62% from 220 companies one year earlier. The study shows that 122 companies are active in the field of Distributed Ledger Technology, 66 – in Investment Management, 56 – in Banking Infrastructure, 42 – in Deposit & Lending, 36 – in Payment, and 34 – in Analytics.



To study more on the report (IFZ-FinTech study 2019), you may kindly download from the below web link:

https://blog.hslu.ch/retailbanking/files/2019/03/IFZ-FinTech-Study-2019_Switzerland.pdf

29
Economics and Business Studies / Web link of IFZ-FinTech study 2019
« on: October 16, 2019, 02:20:47 PM »
Web link of IFZ-FinTech study 2019

IFZ FinTech Study 2019 analyses both global FinTech companies and the Swiss FinTech sector. The fourth edition of the IFZ-FinTech study aims to show the developments in the FinTech in 2018 and to re-evaluate the trends observed in previous studies. FinTech companies are increasingly becoming an integral part of the financial services industry. By the end of 2018, there were 356 Swiss FinTech companies, representing an increase of 62% from 220 companies one year earlier. The study shows that 122 companies are active in the field of Distributed Ledger Technology, 66 – in Investment Management, 56 – in Banking Infrastructure, 42 – in Deposit & Lending, 36 – in Payment, and 34 – in Analytics.



To study more on the report (IFZ-FinTech study 2019), you may kindly download from the below web link:

https://blog.hslu.ch/retailbanking/files/2019/03/IFZ-FinTech-Study-2019_Switzerland.pdf


30
Workshop on 'Class Monitoring Mechanism', organized by IQAC, DIU

To discuss the details of ToR of Classroom Monitoring Mechanism, IQAC, DIU is going to arrange a workshop (on 14 October, 2019) where Director, IQAC, DIU will brief you on how to use the ToR for monitoring classroom. Honorable Vice Chancellor, DIU will grace the occasion as Chief Guest' and he will give you proper directions on this issue.

The programme matrix is as follows:

Date: 14 October, 2019
Day: Monday
Time: 3:30 p.m. to 5:00 p.m.
Venue: Room 308, Main Campus of DIU, 102, Shukrabad, Dhanmondi, Mirpur Road, Dhaka

Pages: 1 [2] 3 4 ... 19