Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - nafees_research

Pages: 1 ... 15 16 [17] 18 19 ... 21
241
CeBIT is the largest and most internationally representative computer expo. The trade fair is held each year on the Hanover fairground, the world's largest fairground, in Hanover, Germany.

CeBIT is a German language acronym for Centrum für Büroautomation, Informationstechnologie und Telekommunikation, which translates as "Center for Office Automation, Information Technology and Telecommunication".

For more information: https://www.cebit.de/en/about-cebit/

242
The Creative Classroom Project of Harvard Graduate School of Education (Project Zero)

The Creative Classroom Project was a collaboration between Project Zero and Disney Worldwide Outreach to produce materials that help teachers explore and understand:

The role of creativity and innovation in teaching and learning.
The importance of developing classroom and school environments that can bring out the best in teachers and students.
Methods for making classrooms more engaging places.
In the development of the materials, we drew on the expertise and experience of past American Teacher Award (ATA) Honorees to better understand their teaching practices and their own professional development as creative and innovative professionals. The Creative Classroom materials are not focused on the development of students' creativity per se, but on the development of environments in which students' and teachers' creativity, understanding, and thinking can flourish. Similarly, the focus is not on the fun and novelty of individual lessons but on nurturing a deep engagement in the learning process that requires students to invest and extend themselves.

In the project, we take the stance that creative teaching must build on a foundation of solid pedagogy. However, creative teaching is not merely a higher plateau of practice. Creative teaching requires a fundamental move out of a safe zone for the teacher. Therefore, creative teaching is not necessarily the next logical step beyond good teaching practices. We see creative teaching as more generative and responsive teaching rather than just more effective teaching. In the current climate of high-stakes testing and mandated curriculum, creative and innovating teaching is perhaps more important than ever as it keeps classrooms energetic places of learning.

The Creative Classroom Videotapes and Guides are frequently used in pre-service teacher training, graduate schools, and onsite professional development. These materials provide rich examples of what creative and innovative teaching can look like across subjects, grade, and school settings. These materials were distributed by Disney Worldwide Outreach and are in the public domain, with permission to copy and use the materials with appropriate attribution fully granted. Please contact Disney Worldwide Outreach directly at learning@disneyhand.com or via their websitehttp://disney.go.com/disneyhand/learning to inquire about these materials or to share with them how you have used them.

The Creative Classroom Project (1999-2004) was a collaboration between Project Zero and the Disney Worldwide Outreach to produce tools and knowledge that will inform and support creativity in teaching.

For more information, you may visit the website as: http://www.pz.harvard.edu/projects/the-creative-classroom-project

243
Thanks for sharing.

244
ফেসবুক ছোট উদ্যোগগুলোকে আটকে দিচ্ছে
আরেকটা ফেসবুক বা এর প্রতিদ্বন্দ্বী তৈরির কথা ভাবছেন? ফেসবুক কখনোই তা হতে দেবে না। ছলে-বলে-কৌশলে আপনাকে আটকে দেবেই। টাকার জোরে কিনে নেবে, না হয় নকল করবে। কী করতে পারবেন আপনি?

হোয়াটসঅ্যাপের কথাই ধরুন। হোয়াটসঅ্যাপ সবচেয়ে জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ্লিকেশন। ২০০৯ সালে জ্যান কউম ও ব্রায়ান অ্যাক্টনের হাত ধরে যাত্রা শুরু করেছিল হোয়াটসঅ্যাপ। বার্তা আদান–প্রদানের ক্ষেত্রে ফেসবুকের চেয়ে এগিয়ে যাওয়ার সব সুযোগ ছিল। কিন্তু ২০১৪ সালে ১ হাজার ৯০০ কোটি মার্কিন ডলারে হোয়াটসঅ্যাপকে অধিগ্রহণ করে নেয় ফেসবুক। মাত্র চার বছরের মধ্যেই হোয়াটসঅ্যাপের সঙ্গে ফেসবুকের ঝামেলার সুর শোনা যাচ্ছে। বিবিসি বলছে, নিজের প্রতিষ্ঠা করা হোয়াটসঅ্যাপ থেকে সরে যেতে হচ্ছে এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জ্যান কউমকে। তিনি ফেসবুকে সে ঘোষণা দিয়েছেন। ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ সেখানে এক মন্তব্যে কউমের প্রশংসা করেছেন। ব্যস, এখানেই একজন উদ্যোক্তার বিদায়! অবশ্য এর আগেই ফেসবুকের অধীনে থাকা হোয়াটসঅ্যাপ ছেড়েছেন আরেক সহপ্রতিষ্ঠাতা অ্যাক্টন। এখন তাঁরা ফেসবুকবিরোধী প্রচার চালাচ্ছেন।

এ তো গেল ফেসবুকের অধীনে যাওয়া কোম্পানির চিত্র; কিন্তু এর বাইরে থাকা উদ্যোগগুলোর হাল কী? মোবাইল লোকেশনভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট ফোরস্কয়ারের সহপ্রতিষ্ঠাতা নাভিন সালভাদুরি মনে করেন, ২০১০ সালে তাঁর কোম্পানিসহ সামাজিক যোগাযোগের কয়েকটি উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান, যেমন: টুইটার, টাম্বলার, পাথের পক্ষে ফেসবুকের সমকক্ষ হয়ে ওঠা সম্ভব ছিল। কিন্তু ফেসবুকের পরিকল্পনা ছিল ভিন্ন। ওই বছরেই ফেসবুক ‘চেক ইন’ নামের একটি ফিচার আনল, যাতে কোনো স্থানে গেলে তা চিহ্নিত করা যায়। এটি ছিল ফোরস্কয়ার অ্যাপের প্রধান ফিচার, যা সরাসরি নকল করে বসল ফেসবুক।

কী করার ছিল এই উদ্যোক্তাদের? এর জবাবে সালভাদুরি ফেসবুকবিরোধী একটি জোটে নাম লেখালেন। তিনি পাথ, ইনস্টাগ্রাম, টুইটারে থাকা বন্ধুদের সঙ্গে টিকে থাকার কৌশল নিয়ে আলোচনা করলেন। এই উদ্যোগগুলো সরাসরি ফেসবুকের হুমকির মুখে ছিল। এসব উদ্যোগের সব মূল ফিচারই নকল করে ফেসবুকে আসার হুমকি ছিল।

সালভাদুরি বলেন, ‘এটা খুব সাধারণ জ্ঞান। ফেসবুক তখন কোনো প্রতিষ্ঠানকে বলত যে আমাদের সঙ্গে যোগ দাও, তা না হলে আমরা তোমার নকল করে ছেড়ে দেব।’

সালভাদুরির মতে, উন্মুক্ত ইন্টারনেটের বদলে দেয়ালঘেরা বাগান গড়ে তুলেছিল ফেসবুক। যাকে তারা পছন্দ করত না, তার ক্ষতি করত। যা লাখো মানুষের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম—এমন বিষয়গুলোকে তারা নিজেদের করে নিত। এর বিপক্ষে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিলেন সালভাদুরি ও ফেসবুকবিরোধী জোটের উদ্যোক্তারা।

সাম্প্রতিক কালে ফেসবুকের নকলের সবচেয়ে বেশি শিকার হয়েছে স্ন্যাপচ্যাট। স্ন্যাপচ্যাটের স্টোরিজ ফিচারটি এর উদাহরণ হতে পারে। অনেক দিন ধরেই স্ন্যাপচ্যাটকে বাগে আনার চেষ্টা করেছেন জাকারবার্গ। ২০১৩ সালে প্রায় ৩০০ কোটি ডলার দিয়ে স্ন্যাপচ্যাট কিনতে চেয়েছিল ফেসবুক। কিন্তু মার্ক জাকারবার্গের কাছে নিজেদের বিক্রি করতে রাজি হননি স্ন্যাপচ্যাটের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ইভান স্পিগেল। বরং আকর্ষণীয় সব ফিচারে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ফেলেন ফেসবুককে। এরপরই শুরু হয় স্ন্যাপচ্যাটের নানা বিষয় নকল করার কাজ।

উইয়ার্ড ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ফেসবুকবিরোধী জোট গড়েও খুব বেশি দূর এগোনো যায়নি। ২০১২ সালেই মাত্র ১০০ কোটি মার্কিন ডলারে ইনস্টাগ্রামকে কিনে নেয় ফেসবুক। পরেই বছরেই ১১০ কোটি মার্কিন ডলারে টাম্বলারকে কিনে নেয় ইয়াহু। পাথের জনপ্রিয়তায় ধস নামে এবং পরে বিক্রি হয়ে যায়। ফোরস্কয়ার স্বাধীন থাকলেও এর অ্যাপটি দুভাগ করে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে কোনোরকমভাবে এগিয়ে চলেছে।

২০১২ সালে সালভাদুরি ফোরস্কয়ার ছেড়ে দেন। তাঁর প্রতিষ্ঠানের খুঁড়িয়ে চলার পেছনে কতগুলো কারণের কথা বলেন তিনি। তাঁর মতে, আগে মানুষ নিজের অবস্থানের কথা জানাতে কুণ্ঠিত ছিল না। বিভিন্ন ইন্টারনেট পণ্য তৈরির বিষয়টি উপভোগ্য ছিল। কিন্তু এখন তা কঠিন হয়ে গেছে। কারণ, এখন বড় খেলোয়াড়েরা এখন আরও বড় হয়ে উঠেছে।

অবশ্য, ফেসবুককে এখন বেশ ঝড়ঝাপটা সামলাতে হচ্ছে। বিশেষ করে কেমব্রিজ অ্যানালাইটিকা কেলেঙ্কারির পর। সারা পৃথিবীতে ফেসবুকের যে বাড়বাড়ন্ত হয়েছে, সে ব্যাপারে সামাজিক মাধ্যমটির সহপ্রতিষ্ঠাতা ঠিক স্বস্তিতে নেই। কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা কর্তৃক ফেসবুকের তথ্য ব্যবহার নিয়ে যে কেলেঙ্কারি ঘটেছে, তার ব্যাপারে মার্ক জাকারবার্গ দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শিবিরের পক্ষে কাজ করা কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা ফেসবুক ব্যবহারকারী ও তাঁদের বন্ধুদের তথ্যভান্ডারে ঢোকার সুযোগ পেয়েছিল। ফেসবুক কর্তৃপক্ষ বলছে, তাদের ভুল বুঝিয়ে গবেষণার নামে তারা এসব তথ্যের নাগাল পায়। তারা দাবি করেছিল, এসব তথ্য শুধু গবেষণার কাজে লাগানো হবে। এতে মানুষের নাম, অবস্থান, লিঙ্গ, তাদের পছন্দ-অপছন্দের তথ্য ছিল। এ ঘটনা কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা কেলেঙ্কারি হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে।

এ ঘটনার পর প্রাইভেসি বিষয়ে ফেসবুকের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানগুলো মনে করছে, ফেসবুক অনেক বিশাল ও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে ‘আস্থার সংকট’ তৈরি হয়েছে ব্যবহারকারীদের মনে। বিভিন্ন মিডিয়া ফেসবুকে তাদের কনটেন্ট ঠিকমতো দেখানো হচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলছেন। তবে সবচেয়ে বড় অভিযোগ করছেন সিলিকন ভ্যালির উদ্যোক্তারা। তাঁরা অভিযোগ করছেন, ফেসবুকের আগ্রাসী পরিকল্পনা উদ্ভাবনকে বাধাগ্রস্ত করছে।

২০১২ সাল থেকে যেসব সামাজিক যোগাযোগের অ্যাপ জনপ্রিয় হওয়া শুরু করছিল, তা থেকেই নকল করার অভিযোগ রয়েছে ফেসবুকের বিরুদ্ধে। এরপর তো ইনস্টাগ্রাম কিনে নেওয়া বা হোয়াটসঅ্যাপকে অধিগ্রহণ করার বিষয়টি সামনে এল। ৩০০ কোটি মার্কিন ডলারে স্ন্যাপকে কিনতে চাইলেও তা সম্ভব হয়নি। কিন্তু কমপক্ষে ১০ বার এর মূল ফিচারগুলো নকল করেছে ফেসবুক। এমনকি কিশোরদের উপযোগী অ্যাপ টিবিএইচকেও ছাড় দেয়নি।

ফেসবুক তার সম্ভাব্য শত্রুর খোঁজ ঠিকই রাখে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কোন অ্যাপ ফেসবুকের প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারে বা কোন অ্যাপকে কিনে নিতে হবে, তা ঠিক করার একটি উপায় ফেসবুকের হাতেই আছে। ২০১৩ সালে ফেসবুক অনাভো নামের একটি ইসরায়েলের উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান কিনেছিল। ওই উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানটি এমন একটি অ্যাপ তৈরি করেছে, যা মোবাইল তথ্য ব্যবহার পরিমাপের সুযোগ দেয়। ফেসবুক অনাভোকে কেনার পর ওই লাখো ব্যবহারকারীর তথ্য বিশ্লেষণ করে কোন অ্যাপ জনপ্রিয় হচ্ছে, শুরুতেই তার একটি ধারণা পায় ফেসবুক। অনাভোর তথ্য-উপাত্ত দেখেই ফেসবুক কর্তৃপক্ষ হোয়াটসঅ্যাপসহ লাইভ ভিডিও স্ট্রিমিং সেবা পেরিস্কোপ ও মিরাক্যাট কেনার সিদ্ধান্ত নেয়।

অবশ্য, ফেসবুককে একাধারে দোষারোপ করা ঠিক নয়। সিলিকন ভ্যালির সব বড় প্রতিষ্ঠান ছোট ছোট উদ্যোগকে গেলার জন্য বসে আছে। আমাজন আর গুগলের কথা না বললেই নয়। তবে লক্ষ্য নির্ধারণের গতিতে ফেসবুকের ধারেকাছে নেই তারা। ফেসবুকের অর্থ খরচের ইচ্ছা ও প্রকাশ্যে নকলের ক্ষেত্রে অন্যরা পিছিয়েই বলা চলে।

প্রযুক্তি খাতের পর্যবেক্ষকেরা মনে করেন, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো মনে করছে তাদের কেউ না কেউ কিনে নেবে। এ ছাড়া ব্যক্তিগত পর্যায়ে বিনিয়োগকারীরা আর সামাজিক যোগাযোগের খাতের কোনো উদ্যোগে বিনিয়োগ করতে উৎসাহী নন। কারণ, আর কোনো হোয়াটসঅ্যাপ তৈরির সম্ভাবনা কম। আর কেউ মাথা তুলে দাঁড়ালেই ফেসবুক হয় তাকে কিনে নেবে বা তাকে টিকতে দেবে না।

বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিবি ইনসাইটসের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সাল থেকেই ধীরে ধীরে ইন্টারনেট ও মোবাইল খাতের সামাজিক যোগাযোগের উদ্যোগগুলোতে বিনিয়োগ কমছে। কিছু কিছু উদ্যোক্তা মনে করেন, ফেসবুকের কাছে বিক্রি হওয়া তাদের অবশ্যম্ভাবী।

ফেসবুকের সাবেক কর্মী জোশ লি এ বিষয়ে টুইটে কৌতুক করে বলেছেন, কারও দাতব্য তহবিল করা উচিত যাতে উদ্যোক্তারা ফেসবুকের অফার ফিরিয়ে দেন।

লির মতে, বিভিন্ন উদ্যোক্তা নতুন নতুন উদ্যোগ তৈরি করলে মানুষ বিভিন্ন ধরনের সেবা পাবে যা প্রযুক্তি খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে। তা না হলে উদ্ভাবনের পথ রুদ্ধ হয়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে স্ন্যাপ দারুণ উদাহরণ হতে পারে। এতে ভুয়া খবরের প্রাধান্য নেই কিংবা লাইক দিয়ে কনটেন্টের স্থান নির্ধারণ হয় না। নতুন চিন্তার মূল্য বোঝাতে পারে এটা।

ফেসবুকের বেড়ে চলার যে প্রত্যাশা তাতে এ ধরনের বৈচিত্র্য কি আশা করা যায়? ফেসবুক এখন খবর, ভিডিও, ভারচুয়াল রিয়্যালিটি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, পেমেন্ট, গ্রাহক সেবা, ই-কমার্স, ড্রোন, ইন্টারনেট সেবার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে শাখা–প্রশাখা বাড়িয়ে চলেছে। ফেসবুক এসব খাতে আধিপত্য বিস্তার করতে একই কৌশল নিতে পারে বলেই অনুমান করা যায়। উদ্যোক্তাদের সাবধান হওয়ার সময় এসেছে। তা না হলে ফেসবুকের আড়ালেই হারিয়ে যাবে সবকিছু।

Source: http://www.prothomalo.com/technology/article/1480836/%E0%A6%AB%E0%A7%87%E0%A6%B8%E0%A6%AC%E0%A7%81%E0%A6%95-%E0%A6%9B%E0%A7%8B%E0%A6%9F-%E0%A6%89%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%8B%E0%A6%97%E0%A6%97%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A7%8B%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%86%E0%A6%9F%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%9A%E0%A7%8D%E0%A6%9B%E0%A7%87

245
বাংলাদেশে বজ্রপাত কখন কোথায় বেশি হচ্ছে?

বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় বজ্রপাতে রবিবার অন্তত প্রায় ১৬ জন মারা যাবার খবর পাওয়া গেছে।

চলতি মাসে এনিয়ে বজ্রপাতে মৃত্যু প্রায় ৫০ ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশে গত কয়েক বছর ধরেই দেখা যাচ্ছে বজ্রপাতে বহু মানুষ মারা যাচ্ছে। বছরের এ সময়টিতে বৃষ্টি হওয়ার সাথে সাথে বজ্রপাতও হচ্ছে ব্যাপকভাবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তাওহিদা রশিদ বলছেন বজ্রপাত বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে তাপমাত্রা বৃদ্ধির একটি সম্পর্ক আছে।

অধ্যাপক তাওহিদা রশিদ বলছেন বিজ্ঞানীরা অনেকে মনে করেন বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য এটা বেশি হচ্ছে তবে অনেক বিজ্ঞানীই আবার এ মতের সাথে একমত নন।

"তবে বাংলাদেশে আমরাও ভাবছি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই তাপমাত্রা বেড়েছে এবং এর কিছুটা হলেও প্রভাব পড়েছে। বাংলাদেশে দশমিক ৭৪ শতাংশ তাপমাত্রা বেড়েছে"।

বজ্রপাত বিকেলে বেশি হয় কেনো?

তাওহিদা রশিদের মতে বজ্রপাতের ধরণই এমন। সকালের দিকে প্রচণ্ড তাপমাত্রা হয়। আর তখন এটি অনেক জলীয় বাষ্প তৈরি করে। এ জলীয় বাষ্পই বজ্র ঝড় ও বজ্রপাতের প্রধান শক্তি। তাপমাত্রা যত বাড়বে তখন জলীয় বাষ্প বা এ ধরণের শক্তিও তত বাড়বে।

তিনি বলেন, "জলীয় বাষ্প বেড়ে যাওয়া মানেই হলো ঝড়ের ঘনত্ব বেড়ে যাওয়া। বছরে এক ডিগ্রি তাপমাত্রা বাড়ার কারণে ১২শতাংশ বজ্র ঝড় বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, এটি কোন কোন বিজ্ঞানী প্রমাণ করেছেন"।

প্রাণহানি এড়ানোর উপায় কী?

তাওহিদা রশিদ বলেন বজ্রপাত প্রকৃতির একটি বিষয় এবং এটি হবেই। তবে এতে প্রাণহানি কমানোর সুযোগ আছে।

"বজ্র ঝড় যখন শুরু হয় এর তিনটি ধাপ আছে। প্রথম থাপে বিদ্যুৎ চমকানি বা বজ্রপাত শুরু হয়না। প্রথমে মেঘটা তৈরি হতে থাকে এবং সে সময় আকাশের অবস্থা খুব ঘন কালো হয়না। একটু কালো মেঘের মতো তৈরি হয় । সামান্য বৃষ্টি ও হালকা বিদ্যুৎ চমকায়। আর তখনি মানুষকে সচেতন হওয়া উচিত"।

তিনি বলেন প্রতিটি দুর্যোগে একটি নির্দিষ্ট সময় আছে এবং সে সম্পর্কে প্রতিটি মানুষকে সচেতন করা উচিত।

"বাইরে থাকলে যখন দেখা যাবে আকাশ কালো হয়ে আসছে তখনি নিরাপদ জায়গায় যেতে হবে। এ সময়টিতে অন্তত আধঘণ্টা সময় পাওয়া যায়"?

কোন নির্দিষ্ট এলাকায় বর্জপাত বেশি হয়?

তাওহিদা রশিদ বলেন অঞ্চল ভেদে এটি কম বেশি হচ্ছে। বজ্রঝড় ও বজ্রপাত এপ্রিল ও মে মাসের কিছু সময় ধরে প্রতি বছরই হয়। এ বছর কিছুটা বেশি মনে হচ্ছে।

তার মতে বাংলাদেশের হাওড় অঞ্চলে বজ্রপাতের সংখ্যা বেশি।

"কারণ ওখানে হাওড়ের জন্য জলীয় বাষ্প বেশি হয়। সে কারণেই সিলেটের ওই অঞ্চলটিতে বর্জপাতের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি"।

বজ্রপাত ঠেকাতে গাছ লাগানো উচিত কোথায়?

অধ্যাপক তাওহিদা রশিদ বলেন তালগাছের মতো গাছগুলো রোপণ করা উচিত খোলা মাঠে, তাহলেই এটি বেশি কাজে দেবে।

"কিন্তু কিছু প্রকল্পের অধীনে সেগুলো লাগানো হচ্ছে রাস্তার পার্শ্বে। এর ফলে বর্জপাত মানুষ বা গাড়ির ওপরই পড়বে"।

তিনি বলেন ঘন বনও বর্জপাতের জন্য ভালো, কারণ এটি তাপমাত্রাও কমায়। গ্রামে ছোট ছোট গাছের ঝোপ থাকলে লোকজন সেখানেও আশ্রয় নিতে পারে।

Source: https://bbc.in/2rd5MCe

246
কিভাবে অজান্তেই এতোদিন ধরে পোকা খেয়ে আসছেন অনেকে
আপনি হয়তো ভাবতে পারেন যে, পোকামাকড় কিভাবে খাওয়া সম্ভব? কিন্তু দুঃসংবাদ হলো, আপনি হয়তো অনেক দিন ধরেই অজান্তে সেগুলো খেয়ে আসছেন।

কারণ বিশ্বে খাবারে লাল রঙ করার জন্য কারমাইন নামের যে পদার্থ সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়, তা তৈরি হয় পোকামাকড় চূর্ণ করেই।

দক্ষিণ আমেরিকায় ক্যাকটাসে কোকোহিনেল নামের এক ধরণের পোকা থাকে। আর সেই পোকা চূর্ণ করেই তৈরি করা হয় কারমাইন।

এখন পেরুতে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এই পোকার চাষাবাদ করা হয়। খাবারে রঙ করার জন্য প্রতিবছর ক্ষুদ্রাকৃতির এরকম কোটি কোটির পোকার চাষ করা হচ্ছে। আর সেই পোকার চূর্ণ কারমাইন ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে বিশ্বের খাদ্য শিল্পে। দধি থেকে শুরু করে আইসক্রিম. ফলের পাই থেকে শুরু করে কোমল পানীয়ে ব্যবহৃত হচ্ছে কারমাইন।

তবে কারমাইনের এই ব্যাপক ব্যবহারের কারণ হচ্ছে, এটি নিরাপদ আর দীর্ঘস্থায়ী, যা তাপ বা আলোর কারণে নষ্ট হয়না।

সমর্থকরা দাবি করেন, পাঁচশো বছরেরও আগে থেকে দক্ষিণ আমেরিকান মায়া নৃগোষ্ঠী, এরপরে অ্যাজটেক মানুষরা এই পোকার চূর্ণ ব্যবহার করতো। কৃত্রিমভাবে তৈরি খাবারের রঙের তুলনায় এটি মানুষের স্বাস্থ্যের চেয়ে অনেক ভালো বলে তারা মনে করেন।

তবে তারাও স্বীকার করেন, খাদ্য পণ্যের গায়ে এই পণ্যটির ব্যবহারের কথা পরিষ্কারভাবে উল্লেখ থাকা উচিত। পাশাপাশি এখন প্রাকৃতিক অন্য অনেক কিছু থেকে লাল রঙ তৈরি হচ্ছে, যেখানে কোন পোকামাকড় নেই।

হয়তো আপনি লাল রঙের কোন খাবারের উপাদান তালিকায় চোখ বোলালে, সেখানে কারমাইন নামটি দেখতে পাবেন না। বরং হয়তো লেখা রয়েছে, প্রাকৃতিক লাল রঙ অথবা ক্রিমসন লেক অথবা ই১২০ নম্বরটি, ইউরোপীয় ইউনিয়ন কারমাইনকে যে নম্বরটি দিয়েছে।

কারমাইন নিয়ে গবেষণা করেছেন অ্যামি বাটলার গ্রিনফিল্ড। তিনি বলছেন, খুব কম মানুষেরই এই খাদ্য উপাদানে সমস্যা হয়। সবমিলিয়ে খাবারের উপাদান হিসাবে এর অতীত খুবই ভালো।

বিশ্বে কারমাইনের ৯৫ শতাংশই উৎপাদন করে পেরু। স্ত্রীলিঙ্গের পোকাগুলোই চাষ করা হয়, কারণ এগুলোর ডানা থাকে না, ফলে উড়তেও পারে না।

বছরে বছরে বিশ্বে কারমাইনের চাহিদাও বাড়ছে, ফলে এর দামও চড়া হচ্ছে। গত চার বছরে কারমাইনের দাম বেড়েছে ৭৩ শতাংশ।

তবে কোন কোন কোম্পানি কারমাইন থেকে নিজেদের সরিয়েও নিচ্ছে। এরকম একটি বড় কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রের কফি চেইন স্টারবাকস।

যদিও টমেটো, বেরি আর বেটরুট থেকেও রঙ তৈরি করা হয়, কিন্তু সেগুলোর কোনটাই কারমাইনের মতো স্থায়ী নয়।

মিজ বাটলার বলছেন, পাশাপাশি এটাও মনে রাখতে হবে যে, কারমাইন এমন একটি প্রাকৃতিক উপাদান, যার ওপর পেরুর অসংখ্য কৃষকের আয়ের উৎস।

''পেরুর মানুষজন বেশিরভাগই গরীব, বেঁচে থাকার জন্য কারমাইনের ওপর তারা নির্ভর করে আছে।''

Source: https://www.bbc.com/bengali/news-43945075

247
[/b]

1. This bin collects garbage from the sea. Seabin has a pump that creates a flow of water.  The garbage is caught in a bag, allowing water to flow out back to sea.

2. This machine crushes beer bottles into usable sand. 200 grams of powder form each bottle is recycled to preserve beaches.

3. SaltWater Brewery created edible packaging to save sea life. The six-pack rings are made of barley and wheat. Sea life can eat the rings safely.

4. AIR-INK can turn air pollution into ink. it collects carbon soot from a car's exhaust. Then it is processed into a high-quality black ink.

5. These edible water blobs are biodegradable. The capsule is made from a seaweed extract. A greener solution to creating waste-free packaging.

6. This "Ocean Cleanup" machine has a giant floating pipe to capture plastic. The pipe moves with the waves and has floating anchors. The plastic is a; gathered in the center for a boat to remove.

7. Avani's biodegradable bags are saving sea life and reducing ocean pollution. They are made from cassava root and natural starches. Making them harmless for animal consumption.

8. This machine recycles tires. They are turned into rubber crumb for artificial grass.

9. Aquaponics combines fish farming and hydroponics. As the fish eat and grow they produce waste. The wastewater is given to plants as a fertilizer. The plants absorb the nutrients in the water and they are returned to the fish tanks. A natural process to growing food.

10. HomeBiogas 2.0 turns food scraps into cooking gas. The gas flows from the system directly to the kitchen stove.
It can be fed up to six liters of waste and digest almost anything. HomeBiogas can also create fertilizer that goes back into soil.

Read more: http://www.businessinsider.com/sai

248
May be....

But, CRICKET game is losing its fascinating magnetic pull due to introduction new formats....

 :(

249
কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ে হুমকির মুখে ইন্টারনেট নিরাপত্তা

প্রযুক্তি এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে যে, এর উন্নতি স্বয়ং প্রযুক্তিবিদদেরই মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে! প্রযুক্তিগত এমন এক উন্নয়নের নাম কোয়ান্টাম কম্পিউটিং। বহু বছর ধরে যে ধরনের গণিত আর অ্যালগরিদম ইন্টারনেট ভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত করে রেখেছিল, কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের ক্রমশ উন্নতি সেসবের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যেসব সমস্যা প্রচলিত সর্বাধুনিক কম্পিউটার দিয়ে সমাধান করতেও বছরের পর বছর লাগতো, কোয়ান্টাম কম্পিউটার দিয়ে সেসব কয়েক ঘন্টার মধ্যেই সমাধান করা সম্ভব। ফলে কোয়ান্টাম কম্পিউটার যখন মানুষের হাতের নাগালে আসবে, তখন প্রচলিত পদ্ধতিতে ইন্টারনেটে তথ্য আদান-প্রদান ব্যবস্থা আর নিরাপদ থাকবে না। যদি না সম্পূর্ণ নতুন কোনো অ্যালগরিদম আবিষ্কৃত হয়। চলুন জেনে নিই কীভাবে এই কোয়ান্টাম কম্পিউটিং প্রচলিত ইন্টারনেট নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রায় অচল করে দিতে পারে।

শুরুতে কিছু শব্দের সাথে পরিচিত হওয়া দরকার। অনুরোধ থাকবে একটু মনযোগ দিয়ে পড়ার জন্য। এনক্রিপশন (Encryption), এটি হলো একটি বিশেষ প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট তথ্যকে এমন কিছু সাংকেতিক ভাষায় রূপান্তরিত করা হয়, যে সংকেত থেকে মূল তথ্যটি বোঝা প্রায় অসম্ভব। ডিক্রিপশন (Decryption), এটি হলো এনক্রিপশনের ঠিক উল্টো। দুর্বোধ্য সাংকেতিক ভাষা থেকে আসল তথ্যটি বের করে আনার প্রক্রিয়াকে ডিক্রিপ্ট করা বলে। ইন্টারনেটের তথ্য সুরক্ষিত রাখার জন্য বর্তমানে প্রধানত দুই ধরনের এনক্রিপশন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়-

সিমেট্রিক কী ক্রিপটোগ্রাফি (Symmetric-key Cryptography)
পাবলিক কী ক্রিপটোগ্রাফি (Public-key Cryptography) বা এসিমিট্রিক কী ক্রিপটোগ্রাফি (Asymmetric-key Cryptography)
সিমেট্রিক কী ক্রিপটোগ্রাফি অপেক্ষাকৃত পুরাতন। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, এ পদ্ধতিতে কোনো তথ্য আদান-প্রদানের জন্য প্রেরক এবং প্রাপকের কাছে একই ধরনের কী বা চাবি লাগবে। অর্থাৎ যে তথ্য পাঠাবে, সে যে চাবি দিয়ে তার তথ্যকে এনক্রিপ্ট করবে; যার কাছে পাঠাবে, তাকে সেই এনক্রিপ্টেড (Encrypted) তথ্য থেকে মূল তথ্য বের করে আনার (Decrypted) জন্য একই ধরনের চাবি ব্যবহার করতে হবে। এজন্য প্রেরক এবং প্রাপককে আগে থেকেই তাদের চাবি ঠিক করে রাখতে হবে। ফোনে অথবা সরাসরি সাক্ষাৎ করে, অথবা অন্য কোনো উপায়ে তাদের চাবির বর্ণনা একে অপরকে জানাতে হবে। এভাবে প্রত্যেকবার তথ্য আদান প্রদানের আগে চাবির বর্ণনা জানানো এতটা সহজ নয়। আবার অনেক ক্ষেত্রে চাবির সহজ বর্ণনা চোরের জন্য সহজ হয়ে যায়। আর চাবি পেয়ে গেলে অনায়াসে এনক্রিপ্টেড তথ্য ডিক্রিপ্ট করা যাবে।

এসব সমস্যা দূর করার জন্য সত্তরের দশকে আসে পাবলিক-কী-ক্রিপ্টোগ্রাফি বা এসিমিট্রিক কী ক্রিপটোগ্রাফি। ধরা যাক, মীনা তার ভাই রাজুর কাছে একটি তথ্য পাঠাবে। এজন্য মীনার কাছে দুই ধরনের চাবি থাকতে হবে। একটি হলো পাবলিক কী। আরেকটি হলো প্রাইভেট কী। রাজুর কাছেও এই দুই ধরনের চাবি থাকতে হবে। কিন্তু উভয়ের পাবলিক কী এবং প্রাইভেট কী-গুলো সম্পূর্ণ আলাদা। এখন রাজু তার পাবলিক কী মীনার কাছে পাঠাবে। মীনা রাজুর পাবলিক কী দ্বারা তার তথ্যটি এনক্রিপ্ট করে রাজুর কাছে পাঠাবে।

রাজু তার নিজের প্রাইভেট কী দ্বারা এনক্রিপ্টেড তথ্যটি ডিক্রিপ্ট করবে। এ পদ্ধতিতে কারো প্রাইভেট কী আদান প্রদান করতে হচ্ছে না। যার যার প্রাইভেট কী তার তার কাছে থাকছে। কেউ যদি পাবলিক কী পেয়েও যায়, কোনো লাভ নেই; কারণ তথ্য ডিক্রিপ্ট করার জন্য প্রাইভেট কী লাগবে, যেটা কখনো আদান প্রদান করার প্রয়োজন হবে না। এই পাবলিক কী এবং প্রাইভেট কী কিন্তু সত্যিকারের কোনো চাবি নয়! এগুলো হলো অনেক বড় বড় মৌলিক সংখ্যা (Large Prime Numbers)।

পাবলিক কী ক্রিপ্টোগ্রাফি বুঝতে হলে আগে কিছু বিষয় জানতে হবে। শুরু করা যাক ট্র্যাপডোর ফাংশন দিয়ে। ট্র্যাপডোর ফাংশন হলো এমন একধরনের ফাংশন, যা দিয়ে একদিকে খুব সহজেই হিসাব করা যায়, কিন্তু বিপরীত দিকে হিসাব করা (Inverse function) খুবই কঠিন, যদি না বিশেষ কোনো তথ্য জানা থাকে।

প্রাইম ফ্যাক্টরাইজেশন হলো কোনো সংখ্যাকে তার মৌলিক উৎপাদকগুলোতে বিশ্লেষণ করা। যেমন ৩৫ এর প্রাইম ফ্যাক্টরাইজেশন করলে ৫ এবং ৭ পাওয়া  যাবে, তেমনই ৩০ এর প্রাইম ফ্যাক্টরাইজেশন ৩, ৫ ও ২।

কম্পিউটার খুব সহজেই সংখ্যা গুণ করতে পারে, কিন্তু কোনো সংখ্যাকে এর উৎপাদকে বিশ্লেষণ করতে এর কিছুটা সময় লাগে। অনেকটা ট্র্যাপডোর ফাংশনের মতো। কোনো বড় সংখ্যার প্রাইম ফ্যাক্টরাইজেশন করতে সাধারণ কম্পিউটারের বছরের পর বছরও লাগতে পারে। বিজ্ঞানীদের ২৩২ অঙ্কের একটি সংখ্যার উৎপাদকে বিশ্লেষণ করতে প্রায় দুই বছর লেগেছিল। এর জন্য তারা শত শত কম্পিউটার একইসাথে সমান্তরালে ব্যবহার করেছিল।

গাণিতিক ব্যাখায় না গিয়ে সহজ ভাষায় বলতে গেলে, পাবলিক কী ক্রিপ্টোগ্রাফিতে পাবলিক কী এবং প্রাইভেট কী এর গুণফল আর সেই গুণফলের প্রাইম-ফ্যাক্টরাইজেশন, এই দুই জিনিসের উপর ইন্টারনেটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নির্ভর করে। বিষয়গুলো কিছুটা জটিল, তবে আগ্রহী পাঠকগণ এখান থেকে পাবলিক-কী-এনক্রিপশন সম্পর্কে আরো জানতে পারবেন।

এবার কোয়ান্টাম কম্পিউটারের বিষয়ে আসা যাক। প্রচলিত কম্পিউটার গণনা করে বিট (Bit) দিয়ে, যা ০ বা ১-এই দুই অবস্থার যেকোনো একটি অবস্থায় থাকতে পারে। আর কোয়ান্টাম কম্পিউটারের গণনার মূল একক হলো কিউবিট (Qubit = Quantum Bit)। কিউবিট ব্যবহারের ফলে এর গণন ক্ষমতা প্রচলিত কম্পিউটারের তুলনায় বহু গুণ বেড়ে যায়। যেখানে প্রচলিত কম্পিউটার দিয়ে বড় কোনো সংখ্যার উৎপাদকে বিশ্লেষণ করতে বছরের পর বছর লাগতে পারে, সেখানে কোয়ান্টাম কম্পিউটার তা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই করতে পারবে।

১৯৯৪ সালে এমাআইটি (MIT)-র অধ্যাপক পিটার শোর এক ধরনের কোয়ান্টাম অ্যালগরিদমের ধারণা দেন, যা দ্বারা খুব সহজেই বড় বড় সংখ্যাকে উৎপাদকে বিশ্লেষণ করা সম্ভব। এর ফলে হ্যাকারদের আর প্রাইভেট-কী এর প্রয়োজন হবে না, তারা ইন্টারনেটে বিদ্যমান যেকোনো এনক্রিপটেড তথ্য কোয়ান্টাম কম্পিউটার দিয়ে সহজেই ডিক্রিপ্ট করতে পারবে।

তবে আশার কথা হলো, পিটার শোরের অ্যালগরিদম বাস্তবায়ন করার জন্য অনেক বড় সংখ্যার কিউবিটের কোয়ান্টাম কম্পিউটার লাগবে, যা এখনো তৈরি করা সম্ভব হয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে ২০২৫ সালের মধ্যে কোয়ান্টাম কম্পিউটার ব্যবহার উপযোগী হবে। তখন প্রকৃতপক্ষেই প্রচলিত ইন্টারনেট নিরাপত্তা ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়বে।

আমেরিকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব স্ট্যান্ডার্ড এন্ড টেকনোলোজিতে সমস্যা মোকাবেলা করার জন্য পোস্ট-কোয়ান্টাম ক্রিপ্টোগ্রাফি নামে একটি প্রোগ্রাম চালু করেছে। বিশ্বের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এর সাথে যুক্ত আছে। এর কাজ হচ্ছে এমন এনক্রিপশন অ্যালগরিদম তৈরি করা, যা কোয়ান্টাম-রেজিস্ট্যান্ট হবে। অর্থাৎ একে কোয়ান্টাম কম্পিউটার দিয়েও সহজে ভাঙ্গা যাবে না।


Source: https://roar.media/bangla/main/tech/the-threat-of-quantum-computing/

250
কার্বন নিজেই যখন দূষণ রোধের সমাধান এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের কারিগর

কার্বন মজুদকরণ নিয়ে আগের একটি লেখায় বলা হয়েছিলো যে কার্বন ডাই অক্সাইড তরল করে মাটির নিচে মজুদ করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। মাটির নিচে কার্বন গ্যাসকে মজুদ করে রাখা হবে এবং এর ফলে গ্যাসটি আর পরিবেশে বের হতে পারবে না। পরে গিয়ে এই মজুদকৃত গ্যাসকে মানব সমাজের জন্য বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হবে। এই গ্যাসকে কীভাবে পরিবেশবান্ধব উপায়ে ব্যবহার করা যায় সেটা নিয়েও এখন গবেষণা চলছে।

গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, আমরা যদি একবার নিঃশ্বাস নেই তাহলে ০.৬ গ্রাম বাতাস আমাদের শরীরের ভিতর যায়। বাতাসের একটি উপাদান হিসেবে ০.৪ মিলিগ্রাম কার্বন-ডাই-অক্সাইডও কিন্তু আমরা নিঃশ্বাস নেই। ষোড়শ শতকে এর পরিমাণ ছিল ০.৩ মিলিগ্রাম। প্রথম দেখায় এই সংখ্যাটির সাথে আগের সংখ্যার খুব বেশী পার্থক্য না দেখা গেলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে পরিবেশে এই ০.১ মিলিগ্রাম কার্বন বেড়ে যাওয়ার কারণেই বিশ্ব উষ্ণায়ন এখন সবার জন্য একটি মাথাব্যথার কারণ। প্রতি বছর যে পরিমাণে গরম বেড়ে যাচ্ছে এবং যেভাবে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে পৃথিবীতে মানব সমাজের টিকে থাকা নিয়েও এখন প্রশ্ন উঠছে।

কার্বন মজুদ করার প্রক্রিয়া এবং প্রকল্প- দুটিই অত্যন্ত জনকল্যাণকর। এটি মানব সমাজের জন্য একটি সুফল বয়ে নিয়ে আসতে বাধ্য। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, অর্থনৈতিক দিক দিয়ে এরকম প্রকল্প কিন্তু অনেক খরচ সাপেক্ষ। বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করতে হয় শুধু একটিমাত্র প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে। তাই উন্নয়নশীল কিংবা নিম্ন আয়ের দেশগুলোর জন্য এরকম প্রকল্প হাতে নেয়াটা বোকামি ছাড়া কিছু নয়। কিন্তু উন্নত বিশ্বের শিল্প কারখানার বিকশিত হওয়ার কারণে যে কার্বন তৈরি হচ্ছে তার মূল্য দিতে হচ্ছে অনুন্নত দেশগুলোকে। এখান থেকে বের হওয়ার উপায় কি? কার্বনকে কীভাবে অর্থনীতির কারিগর হিসেবে ব্যবহার করা যায় সেটাই আজকে আলোচনা করা হবে।

কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান কিন্তু কার্বন মজুদকরণ শুরু করে দিয়েছে এবং তারা সুফলও পাচ্ছে। যেমন, কানাডাতে Boundary Dam Coal-fired Power Plant নামের একটি প্রতিষ্ঠান ২০১৪ সাল থেকেই কার্বন ডাই অক্সাইড মাটির নিচে মজুদ করা শুরু করে দিয়েছে। যদিও ১৯৭০ সাল থেকেই এই কার্বন মজুদকরণের জন্য ছোট ছোট উদ্যোগ নেয়া হয়েছিলো। কিন্তু এটা এখনকার পরিপ্রেক্ষিতে অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ সমাধান হিসেবে মর্যাদা পেয়েছে।

কিন্তু বিলিয়ন বিলিয়ন অর্থ খরচ করে শুধু কার্বনকে মাটিতে পুঁতে দেয়াই হচ্ছে। এর ফলে কিন্তু কোনো অর্থনৈতিক লাভ পাওয়া যাচ্ছে না। পরিবেশের লাভ হচ্ছে। কিন্তু একটি দেশ কেন কোনো প্রকার লাভ ছাড়াই এত অর্থ খরচ করবে? এর থেকে কিছু লাভ কি করা যায় না? তখন এটা নিয়ে গবেষণা শুরু হলো যেটা অনুন্নত দেশগুলো নিজেদের দেশে কার্বন কমানোর উপায় হিসেবে অবলম্বন করতে পারে। এই কার্বনকে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যায়। এই ধারণার পরিপ্রেক্ষিতে কার্বনকে একটি উপকারী পণ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায় কিনা তা নিয়ে গবেষণা শুরু করা হয় এবং কিছু গবেষণা করার পর দেখা যায় যে কার্বন ব্যবহার করে প্লাস্টিক, তেল এবং দালানকোঠা বানানোর উপাদান কংক্রিট বানানো যায়।


শিল্পকারখানা থেকে বেরিয়ে আসা দূষক এবং দূষিত মাটির সাথে কার্বন-ডাই-অক্সাইড মিশিয়ে বিভিন্ন দালানকোঠা নির্মাণের জন্য কংক্রিট তৈরি করা হচ্ছে; Source: The green optimistic

বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে বের করলেন যে কার্বন শুধু একটি পরিবেশ দূষক নয়, এর থেকে অনেক উপকারও পাওয়া যেতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে কার্বন মজুদকরণের মাধ্যমে এবং শুধু কার্বন দিয়ে কোটি কোটি অর্থ উপার্জনও সম্ভব। কার্বন মজুদ করার সময় মাটির নিচে একে ঠেলে পাঠাতে হয়। এই ঠেলে পাঠানোর জন্য যে চাপ পড়ে, সেই চাপ ব্যবহার করে মাটির নিচ থেকে তেল তুলে আনা হয় এবং সেই জায়গা কার্বন দিয়ে ভরাট করা হয়। কার্বন মজুদ করার জন্য যে প্রযুক্তি তৈরি করা হয়েছে সেই প্রযুক্তি ব্যবহার করার ফলে এখন মাটি থেকে তেল উত্তোলন অনেকটা সহজ হয়ে গিয়েছে। খুব দ্রুত এখন তেল উত্তোলন করা সম্ভব। আবার বিভিন্ন কোমল পানীয় এবং তেলের খনিগুলোতে বুদ বুদ তৈরি করার জন্য এই কার্বন ডাই অক্সাইড ব্যবহার করা হচ্ছে।

বিজ্ঞানীরা চেষ্টা করেছেন কার্বনকে অন্য কোনো উপকারী কিছুতে পরিণত করতে। যেমন, ইউরিয়া তৈরিতে কার্বন ব্যবহার করা হচ্ছে, যা চাষাবাদে কৃষকদের কাজে লাগে। উনিশ এবং বিশ শতকে রসায়নবিদরা মিলে একটি ওষুধ তৈরি করেন যেটা কম-বেশী এখন আমরা সবাই সেবন করি, যার নাম এসপিরিন বা এসিটাইল সেলিসিলিক এসিড। ১৮৫৯ সালে হারমান কোলবে সোডিয়াম ফেনলেটের সাথে কার্বন ডাই অক্সাইডের বিক্রিয়া ঘটিয়ে এই এসিটাইল সেলিসিলিক এসিড তৈরি করেন, যেখান থেকে এসপিরিন তৈরি করা হয়।

কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান কলকারখানাগুলো থেকে কার্বনের যে ধোঁয়া বের হয় সেটা বাতাসের সংস্পর্শে আসার আগেই সেখান থেকে সংগ্রহ করে নিচ্ছে এবং সেই কার্বন দিয়ে অন্যান্য পণ্য তৈরি করার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কার্বনকে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের দ্রব্য তৈরি করছে উন্নত দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। যেমন-

১) Carbon8Aggregates (UK) শিল্পকারখানা থেকে বেরিয়ে আসা দূষক এবং দূষিত মাটির সাথে কার্বন ডাইঅক্সাইড মিশিয়ে বিভিন্ন দালানকোঠা নির্মাণ সামগ্রি তৈরি করছে।

২) CCm Research (UK) ভালো ফসল উৎপাদনের জন্য উন্নত মানের সার তৈরি করছে এই কার্বন দিয়ে এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড দিয়ে কোট করা ফাইবার তৈরি করা হচ্ছে, যেটা প্লাস্টিক তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।

৩) Convestro (Germany) পলিইউরিথিন নামক প্লাস্টিক তৈরি করছে এই কার্বন ব্যবহার করে, যা ফোমে ব্যবহার করা হয়।

8) Sunfire (Germany) একধরনের সিনথেটিক ফুয়েল তৈরি করছে, যা মজুদকৃত কার্বনের সাহায্যেও তৈরি করার প্রস্তুতি চলছে। এই প্রজেক্টটি অডি (Audi) প্রতিষ্ঠানের সাথে অংশিদারিত্বে করা হচ্ছে।

৫) Oberon Fuels (California) সিনথেটিক ডিজেল তৈরি করছে যেটা থেকে কোনো সালফার নিঃসরণ হবে না এবং খুব কম দূষিত পদার্থ বের হবে। এই প্রজেক্টটির সাথে ভলভো, ফোর্ড এবং ম্যাক নামের একটি আমেরিকান ট্রাক নির্মাণ প্রতিষ্ঠান যুক্ত আছে।

৬) CarbonCure (Canada) এমন একটি প্রতিষ্ঠান যারা কংক্রিটের ভিতর কীভাবে কার্বন ডাইঅক্সাইড ঢেলে মিশিয়ে দেয়া যায় সেই ধরনের প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করে।

৭) Soldia Technologies (New Jersey) কংক্রিট তৈরি করে যারা দাবি করছে যে তাদের নির্মাণাধীন কংক্রিট কার্বনকে কংক্রিটের ভিতর বন্দি করে ফেলতে পারে।

এছাড়া কার্বন থেকে কৃত্রিম পেট্রোল তৈরির দিকে বিজ্ঞানীরা এখন ঝুঁকেছে। কারণ, প্রথমত ফসিল থেকে প্রাপ্ত শক্তি একদিন না একদিন শেষ হয়ে আসবেই। তাই ফসিলের উপর চাপ কমাতে কার্বনকে ব্যবহার করে পেট্রোল তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাছাড়া কার্বন থেকে প্রাপ্ত তেলগুলোতে কার্বন নিরপেক্ষ ভাব বজায় রাখবে, তাই এর থেকে গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ হওয়ার পরিমাণ প্রায় শূন্যের কাছাকছি হবে। বিজ্ঞানীদের চেষ্টা হচ্ছে এমনভাবে এই ধরনের তেল তৈরি করা হবে যাতে তেলগুলো পুড়ে যখন এর গ্যাস নিঃসরিত হবে তখন যেন সেটাকে মজুদ করে পুনরায় ব্যবহার উপযোগী করে তোলা যায়।

উপরের আলোচনা থেকে বোঝা যাচ্ছে যে পরিবেশে কার্বনের নিঃসরণ কমাতে কার্বন মজুদকরণের পাশাপাশি বিভিন্নভাবে একে ব্যবহার করার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। এতে কার্বন নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা এবং কিছু প্রতিষ্ঠান লাভজনক ব্যবসাও করতে পারছে। এরকম হওয়ার আরও একটি ভালো দিক হচ্ছে কার্বনকে পরিবেশবান্ধব এবং মানব কল্যাণে ব্যবহার করার জন্য যে দ্রব্যাদি তৈরি করা হচ্ছে তার জন্য নতুন নতুন আরও শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে, যে কারণে কর্মসংস্থানের যোগানও বেড়ে যাচ্ছে।

তবে কার্বন নিয়ে আরও কিছু কাজ করার প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। বিশেষ করে কার্বন মজুদ করার জন্য এবং এই প্রক্রিয়াকে আরও নিখুঁত করার জন্য কার্বন নিয়ে মৌলিক কিছু গবেষণা করার প্রয়োজন। যেমন, কার্বন এবং অক্সিজেনের মধ্যেকার বন্ধন ভেঙ্গে ফেলা নিয়ে আরও অনেক গবেষণা প্রয়োজন। কার্বন কিন্তু মোটামুটি বিক্রিয়া স্বাধীন একটি পদার্থ আবার পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় কিন্তু নয়। বিক্রিয়া করার জন্য এর প্রভাবকের প্রয়োজন পড়ে। এই প্রভাবক বিক্রিয়ার জন্য যে পরিমাণ শক্তির দরকার হয় সেটা কমিয়ে দেয়। তাই কার্বন মজুদকরণের জন্য ঠিক কোন প্রভাবক ঠিক ঠিকভাবে কাজ করবে এবং তা খরচ সাপেক্ষ কিনা সেই দিকগুলো নিয়ে এখনও গবেষণা করার প্রয়োজন আছে।

Source: https://roar.media/bangla/main/tech/when-carbon-itself-is-the-solution-of-decreasing-polluition-and-enhancing-economy/

251
Real Estate / Re: Became Editorial Board Member
« on: April 29, 2018, 09:28:09 PM »
Congratulations!!!

252
তরঙ্গ থেকে তথ্য: ওয়াই-ফাই বৃত্তান্ত

কেমন হত যদি আপনার সকল তারবিহীন সংযোগ তারের মাধ্যমে পরিবর্তন করে দেয়া হত। আপনাদের বাসার টেলিভিশন, ল্যাপটপ প্রতিটির সাথে তার লাগানো থাকত যার দৈর্ঘ্য হত শত শত মাইল। আর ফোন করার জন্য আপনার রাস্তার পিলারের সাথে সংযুক্ত করতে হত। এমনকি আপনি উড়োজাহাজ চালাতে সক্ষম হতেন না, কেননা পাইলটদের দিকনির্দেশনা দেয়ার জন্য সংকেত পাঠানো সম্ভব হত না। জানালা দিয়ে দেখলে খালি চারদিকে তার আর তার দেখতে পেতেন। এর মধ্যেই তারবিহীন সংযোগের সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে। তারবিহীন সংযোগের যে মাধ্যমটি আপনি প্রতিনিয়ত ব্যবহার করে চলেছেন তা হল ওয়াই-ফাই। ঘরে এবং বাইরে আমাদের ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত থাকার জন্য ওয়াই-ফাই অবিচ্ছেদ্য ভূমিকা পালন করছে বা করে এসেছে।

ওয়াই-ফাই কী সেটা সহজভাবে ব্যাখ্যা করতে চাইলে বলা যায় তা একধরনের তরঙ্গ। রেডিও তরঙ্গ তথ্য এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বাতাসের মাধ্যমে বহন করে নিয়ে যায়। তবে বিভিন্ন বাধা ওয়াই-ফাই এর পরিসর এবং কার্যক্ষমতার উপরে প্রভাব ফেলতে পারে। তাছাড়া রেডিও তরঙ্গ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরকারি বিভিন্ন নিয়ম নীতি মেনে চলতে হয়। এখন শুরু করার আগে রেডিও তরঙ্গের কিছু পরিভাষা নিয়ে হালকা আলোচনা করা যাক।

রেডিও তরঙ্গ একধরনের তড়িৎচুম্বকীয় সংকেত যা বাতাসের মধ্য দিয়ে লম্বা দূরত্বে তথ্য বহন করে নিয়ে যায়। এই তরঙ্গকে অনেক সময় রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি সিগন্যাল বলেও আখ্যায়িত করা হয়। এই সংকেতগুলো খুব উচ্চ কম্পাংকে কম্পনশীল হয়, যার কারণে তরঙ্গগুলোকে সমুদ্রের ঢেউয়ের সাথে তুলনা করা যায়। রেডিও তরঙ্গগুলো বাতাসের মধ্য দিয়ে ভ্রমণ করতে থাকে। আমরা এই তরঙ্গ অনেক বছর ধরেই ব্যবহার করে এসেছি। আমাদের এফএম রেডিওতে গান এবং টেলিভিশনে ভিডিও বহন করার জন্য এই রেডিও তরঙ্গই দায়ী। তথ্য সরবরাহ করার ক্ষেত্রে এর বৈশিষ্ট্যের মধ্যে ভিন্নতা দেখা দেয় সময়ের সাথে সাথে।

বিস্তার(Amplitude): রেডিও তরঙ্গের বিস্তারের মাধ্যমে তার শক্তি বিবেচনা করা হয় সাধারণত। এ কারণেই হয়ত বিস্তার মাপা হয় শক্তির এককের মাধ্যমে। তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গের শক্তি বিবেচনা করা যায় একটি তরঙ্গকে একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব অতিক্রম করতে যে পরিমাণ শক্তির প্রয়োজন হবে তার দ্বারা। শক্তি বৃদ্ধির সাথে সাথে পরিসরও বৃদ্ধি পায়।

কম্পাংক(Frequency): তরঙ্গের কম্পাংক বোঝানো হয় কোনো সংকেত প্রতি সেকেন্ডে কী পরিমাণে পুনরাবৃত্তি হয়েছে তার মাধ্যমে। ওয়াই-ফাই এর জন্য যে তরঙ্গ ব্যবহার করা হয় তা সাধারণত ২.৪ গিগাহার্জ (সেকেন্ডে দুই হাজার চার শত কোটি বার স্পন্দিত) এবং ৫ গিগাহার্জের (সেকেন্ডে পাঁচ হাজার কোটি বার স্পন্দিত) হয়ে থাকে। এত উঁচু কম্পাংকের শব্দ বা আলো কোনোটিই মানুষ শুনতে বা দেখতে পারে না। এই কারণে রেডিও তরঙ্গ মানুষ লক্ষ্য করে না।

ওয়াই-ফাই যেকোনো স্থানে খুব দ্রুত ডেটা এনকোডেড স্পন্দন বা তরঙ্গ হিসেবে সঞ্চালিত হয়। এই স্পন্দনগুলোর একটি ছবি ফ্রেমবন্দী করা গেলে দেখা যাবে যে, স্পন্দনগুলোর মধ্যে প্রায় ৬ ইঞ্চি ব্যবধান রয়েছে (নিচের এই ছবিতে তা হালকা রঙিন ব্যান্ড দ্বারা দেখানো হয়েছে)। ওয়াইফাই রাউটার মূলত একটি অ্যান্টেনা, যা একই সময়ে একাধিক ফ্রিকোয়েন্সি উপর তথ্য পাঠাতে পারে। এই বহুবিধ ফ্রিকোয়েন্সিগুলোকে নীল, সবুজ, হলুদ এবং লাল রং হিসাবে দেখানো হয়, যা ছবিটির চারপাশের স্থানটি ছড়িয়ে অবস্থান করছে। এখানে দেখানো হয়েছে যে, একাধিক কম্পাংকের তথ্য হিসাবে একটি স্থানে ঘূর্ণিপাক খাচ্ছে, কিন্তু যেকোনো বেতার যন্ত্র দ্বারা এই তথ্য বুঝে অনুবাদ করা সম্ভব একটি সাধারণ ট্যাগ সিস্টেম ব্যবহার করার মাধ্যমে।

ওয়াই-ফাই মূলত নির্ভর করে একধরনের রেডিও তরঙ্গের আদান প্রদানের উপর। এই তরঙ্গের নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তরঙ্গগুলোর একটির সাথে আরেকটির দূরত্ব রেডিও তরঙ্গ হতে কম, তবে মাইক্রোওয়েভ থেকে বেশি। কিছুক্ষণ আগে আপনাদের ওয়াই-ফাই তরঙ্গের দুই ধরনের কম্পাংকের কথা বলেছিলাম। এমনটা নিয়ন্ত্রণ করা হয় যাতে অন্যান্য তরঙ্গের সংঘর্ষ না হয়। ওয়াই-ফাই তরঙ্গের দুটি শীর্ষের মধ্যবর্তী দূরত্ব ৩ থেকে ৫ ইঞ্চির মতো হয়ে থাকে।

কম্পিউটার সাধারণত বাইনারি সংখ্যা (০ এবং১)  দ্বারা সবকিছু বিবেচনা করে। তরঙ্গের শীর্ষকে একটি কম্পিউটার ১ হিসেবে এবং পাদকে ০ হিসেবে বিবেচনা করে। ০ এবং ১ এর মাধ্যমে বিট গঠিত হয় যা কম্পিউটারের জগতে নেটওয়ার্কের গতির নির্ণায়ক হিসেবে কাজ করে। ০ এবং ১ এর একটি শিকল অক্ষর, সংখ্যা এবং কোডে পরিণত হয় যা আমাদের স্ক্রিনে আসা ওয়েবপেইজ, ইমেইল এবং অন্যান্য উপাদান গঠন করে। আপনার এই তথ্য আপনার সেবা প্রদানকারী ইন্টারনেট সেবার সার্ভার হয়ে আবার চলে যাচ্ছে ইন্টারনেটের বিশাল জালে।

সাধারণত ওয়াই-ফাই তরঙ্গের বিস্তার হ্রাস পায় তা তার উৎস থেকে যত দূরে যায় সেই হারে। এই কারণে উপরের ছবিতে ডান পাশে বিস্তার বেশি হলেও বাম দিকে তা ধীরে ধীরে হ্রাস পেয়েছে।

তাহলে এখন আসা যাক এই ব্যবস্থা কীভাবে কাজ করে সেই কথায়। ওয়াই-ফাই এর মাধ্যমে তথ্য আদান প্রদান করতে হলে সে সিস্টেমে অন্তত ট্রান্সিভার, এন্টেনা এবং একটি সম্প্রচার মাধ্যম থাকে। ট্রান্সিভার এবং এন্টেনা সাধারণত আপনার ঘরের ওয়াই-ফাই রাউটারে একসাথে থাকে। আর সম্প্রচার মাধ্যমে বাতাস তো আছেই।

ট্রানসিভার একটি প্রেরক যন্ত্র (Transmitter) এবং গ্রাহক যন্ত্রের (Receiver) সমন্বয়ে গঠিত। প্রেরক যন্ত্র একপ্রান্ত থেকে (উৎস) রেডিও তরঙ্গ প্রেরণ করে এবং গ্রাহক যন্ত্র অন্য প্রান্তে (গন্তব্য) সেই তরঙ্গ গ্রহণ করে। প্রেরক যন্ত্র আপনার কম্পিউটারের ডিজিটাল সংকেত (০ এবং ১ এর সমন্বয়ে গঠিত বিট) রেডিও কম্পাংকে পরিবর্তন করে এবং তা পরবর্তীতে বাতাসের মাধ্যমে আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। তবে এর আগে এমপ্লিফায়ারের মধ্য দিয়ে তরঙ্গের বিস্তারের মাত্রা বৃদ্ধি করা হয়, যাতে সংকেতের সঞ্চারণ ঠিকমত হয়।

গ্রাহক যন্ত্রের গঠনও প্রেরক যন্ত্রের ন্যায়, তবে কাজ হয় এর ঠিক উল্টো। নিচের ছবি দেখলেই আপনি বুঝতে পারবেন।

আপনার ঘরে বেতার ইন্টারনেট সংযোগ থাকলে আপনি নিশ্চয়ই রাউটার নামে একটা ছোট বক্স রয়েছে। এই রাউটার আপনার অজান্তে ঘরে ট্রান্সিভার এবং গ্রাহক যন্ত্রের কাজ করে যাচ্ছে। এই ছোট যন্ত্রটি ইন্টারনেটের সাথে আপনার সংযোগ আদান প্রদান করেই যাচ্ছে।

একটি বেতার রাউটার কেবল একটি রাউটার, যা আপনার কম্পিউটারের (বা কম্পিউটারগুলিকে) সাথে সংযোগ স্থাপন করে তারের পরিবর্তে রেডিও তরঙ্গের মাধ্যমে। রাউটারে একটি খুব কম শক্তিসম্পন্ন রেডিও প্রেরক যন্ত্র এবং গ্রাহক যন্ত্র রয়েছে, যার পরিসর সর্বোচ্চ ৯০ মিটার বা ৩০০ ফুট পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। তবে এর বেশিরভাগ নির্ভর করে আপনার দেওয়ালগুলো কী তৈরি করা এবং বাসার অন্যান্য ইলেকট্রিক্যাল সরঞ্জামের উপরে। রাউটার আপনার কম্পিউটারে যেকোনো কম্পিউটারে ইন্টারনেটের তথ্য পাঠাতে ও গ্রহণ করতে পারে (তবে বেতার নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত হতে কম্পিউটারে একটি রেডিও প্রেরক যন্ত্র এবং গ্রাহক যন্ত্র থাকতে হবে)। অধিকাংশ নতুন ল্যাপটপের মধ্যে নির্মিত ওয়্যারলেস কার্ড লাগানো থাকে।

ওয়াই-ফাই বলতে গিয়ে আপনি মাঝেমধ্যে হয়ত ওয়াই-ফাই হটস্পটকেই বুঝিয়ে থাকেন। একটি ওয়াই-ফাই হটস্পট হলো একটি সার্বজনীন স্থান, যেখানে আপনি আপনার কম্পিউটারকে ইন্টারনেটের সাথে সহজেই সংযুক্ত করতে পারেন। বিমানবন্দর, কফি বার, বুকশপ এবং ক্যাম্পাসগুলোতে আপনি যে হটস্পটগুলো খুঁজে পান সেগুলো এক বা একাধিক ওয়্যারলেস রাউটার ব্যবহার করে তৈরি করা, যাতে বৃহৎ এলাকার উপর বেতার নেট অ্যাক্সেস তৈরি করা যায়। নেদারল্যান্ডের টুইটে বিশ্ববিদ্যালয়টি বিশ্বের বৃহত্তম হটস্পটগুলোর একটি। ৬৫০টি আলাদা অ্যাক্সেস পয়েন্ট ব্যবহার করে, এটি সম্পূর্ণ ১৪০ হেক্টর (৩৫০ একর) ক্যাম্পাস জুড়ে একটি ওয়াই-ফাই হটস্পট তৈরি করেছে।

Source: https://roar.media/bangla/main/tech/how-wifi-works/

253
এবারে অ্যাপল এর নজর পরবর্তী প্রজন্মের মাইক্রোএলইডি স্ক্রিনের দিকে
  • টেক জায়ান্ট অ্যাপল এবার নিজেদের ডিভাইসের জন্য তৈরি করবে মাইক্রোএলডি (MicroLED) ডিসপ্লে।
    অ্যাপল পরবর্তী প্রজন্মের এই ডিসপ্লে প্রযুক্তি তৈরির কাজ শুরু করেছে ক্যালিফোর্নিয়ার ৬২,০০০ বর্গ ফুটের এক গোপন কারখানায়।
    ইতোমধ্যেই বেশ কিছু পরীক্ষাধীন স্ক্রিন তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে বাজারে এই প্রযুক্তির ডিভাইস আসতে সময় লাগবে বেশ কয়েক বছর।
    এই খাতে বেশ বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করেছে অ্যাপল।

গত রবিবার ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন খবর। তবে আইফোন নির্মাতা এই টেক জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা এখন পর্যন্ত এই সম্পর্কে কোনো মন্তব্য জানাননি।

অ্যাপল ওয়াচ এবং আইফোনের প্রযুক্তির দায়িত্বে থাকা লিন ইয়াংস গোপন এই প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে প্রাথমিকভাবে। প্রকল্পটির কোড নেম দেওয়া হয়েছে টি১৫৯। শোনা যাচ্ছে, বাজারে স্মার্টওয়াচের মাধ্যমে এই প্রযুক্তি সূচনা করবে অ্যাপল। তবে এখন পর্যন্ত নির্মিত ডিসপ্লেটি একটি অ্যাপল ওয়াচে ব্যবহার করা হলেও তা পুরোপুরি পরিধানযোগ্য নয় বলে জানা গেছে।

মাইক্রোএলইডি প্রযুক্তি বর্তমানের জনপ্রিয় ওলেড ডিসপ্লের তুলনায় হবে আরো আকর্ষণীয় আর বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী। ফ্ল্যাট প্যানেলের এই ডিসপ্লে ডিভাইসকে আরো চিকন আর উজ্জ্বল করে তুলবে।

কিন্তু এই প্রযুক্তি নির্মাণ এখন পর্যন্ত নির্মিত সব ডিসপ্লে প্রযুক্তির তুলনায় বেশ কঠিন। অনেক সময়সাপেক্ষ আর জটিল সব প্রযুক্তির সমন্বয়ে নির্মিত এই প্রযুক্তিতে ব্যবহার করা হবে অনেক ক্ষুদ্রাকৃতির পিক্সেল। ২০১৪ সালে অ্যাপল এই প্রকল্প নিয়ে কাজ শুরু করলেও এতদিন পর্যন্ত বড় কোনো পদক্ষেপ নেয়নি প্রতিষ্ঠানটি।

ব্লুমবার্গে প্রতিবেদনটি প্রকাশের পরপরই ডিসপ্লে প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারের দাম কমতে থাকে বাজারে। এই খবর প্রকাশ পাবার পর শার্প, জাপান ডিসপ্লে এবং এলজির ডিসপ্লে নির্মাণকারী বিভাগের শেয়ারের দাম কমেছে বলে জানা গেছে।

বর্তমানে অ্যাপল তাদের স্মার্ট ডিভাইসের জন্য চিপসেট নির্মাণ করলেও ডিসপ্লে প্রযুক্তি নির্মাণে অ্যাপলের অংশগ্রহণ প্রযুক্তি বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে। ধারণা করা হচ্ছে, এই প্রযুক্তি বাজারে আসলে তা স্যামসাং এবং এলজির মতো নামীদামী সব প্রতিষ্ঠানকে অনায়াসেই পেছনে ফেলতে পারবে। সাথে সাথে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্যের অংশ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর উপরেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

তবে এই প্রযুক্তি গ্রাহকের হাতে পৌঁছাতে অপেক্ষা করতে হতে পারে আরো কয়েকটি বছর। যদিও এই ব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি অ্যাপল।

Source: https://roar.media/bangla/news/tech/apple-is-developing-own-microled-screens/

254
এথলেটিক বিলবাও: নিজ জাতিসত্ত্বার বাইরের কোনো খেলোয়াড়কে খেলায় না যে ক্লাবটি
স্পেনের সফল দলগুলোর নাম বলতে বললে কোন কোন দলের নাম বলবেন? নিশ্চয়ই একবাক্যে রিয়াল মাদ্রিদ আর বার্সেলোনার কথা বলবেন। এরপরই আসবে হালের এটলেটিকো মাদ্রিদ, সেভিয়ার নাম। কিন্তু তাদের সমস্ত সাফল্য কি কেবল নিজেদেরই অবদান? না।

ধরুন, রিয়ালের কান্ডারী এক পর্তুগিজ রোনালদো, বার্সার কান্ডারী আর্জেন্টাইন মেসি, এটলেটিকো মাদ্রিদের আছে ফরাসি গ্রিজম্যান। আবার দলবদলের বাজারেও এদের কর্মকান্ড বেশ চোখে পড়ার মতো। কিছুদিন আগ অবধিও দলবদলের বাজারে রিয়ালের চমক থাকতোই। ইদানীং বার্সেলোনাও কম যাচ্ছে না। বর্তমানে রিয়াল, বার্সা, পিএসজি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, সিটি, চেলসিরা যখন দলবদলের বাজারে কাঁড়িকাঁড়ি টাকা ঢালছে তখন স্পেনেরই একটি বড় দল আছে যারা কেবল নিজের প্রদেশ তথা জাতিসত্ত্বার বাইরের কোনো খেলোয়াড়কে দলে ভেড়ায় না। দলটির নাম এথলেটিক বিলবাও।

সূত্রপাত
স্পেনে মূলত যে দুটি স্বাধীনতাকামী অঞ্চল আছে তাদের একটি হলো বাস্ক। বাস্ক অঞ্চলের বড় দুটি ক্লাবের একটি হলো এথলেটিক বিলবাও ও অপরটি রিয়াল সোসিয়েদাদ। ১৮৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এথলেটিক বিলবাও ১৯১২ সালে প্রথম এই নীতি গ্রহণ করে যে, তাদের ক্লাবে যেসব খেলোয়াড় খেলবেন তারা হয় জন্মসূত্রে বাস্কের স্থায়ী নাগরিক অথবা বংশসূত্রে ‘বাস্ক’ হতে হবে। বাস্কের জনসংখ্যা কাতালোনিয়ার প্রায় সমান। ফ্রান্সের স্পেন সংলগ্ন অঞ্চলেও কিছু ‘বাস্ক’ থাকেন যারা এই ক্লাবে খেলার যোগ্য বলে বিবেচিত হন। উদ্দেশ্য ছিল নিজেদের চরম জাত্যাভিমানকে সমগ্র স্পেন তথা বিশ্বের কাছে তুলে ধরা। কিঞ্চিৎ বা অধিক যা-ই হোক, সাফল্যের সবটা আনন্দ তীব্র জাতীয়তাবোধের মিশেলে উপভোগ করা। তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল সোসিয়েদাদও একই নীতিতে চলছিল কিন্তু বিংশ শতাব্দীর শুরুতে তা ত্যাগ করে। ফলে বর্তমানে ইউরোপে বড় দলগুলোর মধ্যে কেবল এথলেটিক বিলবাওই এই সংস্কৃতি বহন করে চলেছে।

প্রকৃতপক্ষে স্পেনের তৃতীয় বৃহৎ ক্লাব এথলেটিকো মাদ্রিদ বা সোসিয়েদাদ নয়, এই এথলেটিকো বিলবাওই। ৮টি লিগ ও ২৪টি স্প্যানিশ কাপ নিয়ে ট্রফি সংখ্যায় তারা ঠিক রিয়াল ও বার্সার পিছনেই। স্পেনের যে ৩টি দলের কখনো অবনমন হয়নি তার মধ্যে রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সার সাথেই উচ্চারিত হয় এই ক্লাবের নাম। রয়েছে দারুণ এক সমর্থকগোষ্ঠী যারা বছরের পর বছর শিরোপাহীন থাকতে রাজি, কিন্তু প্রিয় ক্লাবের এই নীতিকে বিসর্জন দিতে রাজি নয়। অথচ জেনে অবাক হবেন, এই নীতি ক্লাবের কোনো নিয়মের খাতায় লিখা নেই। কোনো ক্লাব প্রেসিডেন্ট চাইলে আজই প্রথা ভেঙে নন-বাস্ক কাউকে খেলাতে পারবেন। কিন্তু বিলবাও সমর্থকদের একটি দারুণ সন্তুষ্টি যে, কোনো প্রেসিডেন্ট বা প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীই এই প্রথার বাইরে যাননি বা এ নিয়ে ভাবেনওনি।

যেভাবে উঠে আসে প্রতিভা
এটা আসলেই একটি জিজ্ঞাসার বিষয় যে, কিভাবে তারা এত খেলোয়াড় নিয়ে আসে? পুরো বাস্ক প্রদেশের আয়তন আমাদের রাজশাহী বিভাগের চেয়ে (আলোচনার সুবিধার্থে একটি বিভাগকে ধরে নেওয়া হলো) খানিকটা বেশি আর বিদ্যমান বাস্ক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা রাজশাহীর জনসংখ্যার তিনভাগের একভাগ! এখনই চোখ কপালে তুলবেন না। এই বাস্ক জনগোষ্ঠী আবার দুই ক্লাবে বিভক্ত। তাহলে একবার ভাবুন তো, এত কম সংখ্যক জনগোষ্ঠী থেকে খেলোয়াড় বের করে করে বিলবাও আজ স্পেনের তৃতীয় বৃহৎ ফুটবল ক্লাব!

খেলোয়াড় তুলে আনার শুরুটা হয় বাস্কোনিয়া নামের একটি স্থানীয় ক্লাব থেকে। এই ক্লাবটি স্পেনের চতুর্থ বিভাগে খেলে। বাস্কোনিয়া সম্ভাব্য সকল তরুণ আগ্রহীদেরকে খেলার সুযোগ দেয়। এদের মধ্যে যারা সম্ভাবনাময় তাদের পরবর্তী ধাপের জন্য পাঠানো হয়। পরবর্তী ধাপ হলো বিলবাও বি দলে। সেখান থেকে আরো এক দফা বাছাই করে মূল দলে খেলার জন্য পাঠানো হয়। এই পুরো প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত থাকে প্রাক্তন খেলোয়াড়রা। অর্থাৎ সেই প্রদেশে কোনো তরুণের মধ্যে বিন্দুমাত্র সম্ভাবনা থাকলেও তাকে ক্লাব ঠিকই নিজেদের রাডারে ধরে ফেলবে।

প্রচন্ড আগ্রহী ও ব্যতিক্রমধর্মী সমর্থকগোষ্ঠীর জন্য বিলবাও এর স্পেন জুড়েই রয়েছে অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী। মাঠের মধ্যে তারা এখনো কোরাস তুলে গান গায়, “আমাদের একাডেমি থাকতে টাকার কী দরকার!” ক্লাবটি তুলে এনেছে সাম্প্রতিক সময়ে আদুরিজ, লরেন্তে, জাভি মার্তিনেজ, হেরেরা, মুনিয়াইন, উইলিয়ামসদের মতো খেলোয়াড়। কিন্তু শ্যেন নজর তো থাকেই বড় ক্লাবগুলোর। যেহেতু বিলবাও পুরোটাই একাডেমিভিত্তিক, তাই বড় ক্লাবগুলো তক্কে তক্কে থাকে তরুণ খেলোয়াড়দের নিয়ে নেওয়ার জন্য।

খেলোয়াড় বিক্রির নীতি কিছুটা বদলেছে ক্লাবটি। যেহেতু ভালো খেলোয়াড় বের করে আনা তাদের জন্য বেশি কষ্টের, তাই আগে সাধারণত খেলোয়াড় বিক্রি করতো না তারা। চুক্তি শেষ হলে তবেই তাদের ছাড়তো। বলে রাখা ভালো, চুক্তি শেষ হয়ে গেলে সেই খেলোয়াড় যদি দলবদল করে তবে আগের ক্লাব কোনো টাকা পায় না। দেখা গেল, কোনো এক খেলোয়াড়ের চুক্তির দুই বছর বাকি। বড় কোনো ক্লাব তাকে ভালো অঙ্কের টাকা দিয়ে নিতে চাচ্ছে, তা-ও বিলবাও সেই খেলোয়াড় বিক্রি করতো না।

একবছর পর ফ্রিতে ছেড়ে দিতো, কিন্তু চুক্তি শেষ হওয়ার আগে তাদের ছাড়তে দিত না। এর কারণও পরিস্কার, এত দ্রুত তাদের পক্ষে একজন খেলোয়াড়ের বদলি আরেকজন জোগাড় করা ছিল কষ্টসাধ্য। কিন্তু সাম্প্রতিককালে ক্লাব তার নীতি বদলেছে। মার্তিনেজ, হেরেরা বা লাপোর্তেদের বিক্রি করেছে চড়া দামে। উদাহরণস্বরুপ বলা যায়, হেরেরাকে কিনেছিল মাত্র ৫ মিলিয়ন ইউরো দিয়ে আর বিক্রি করেছিল ৪০ মিলিয়ন ইউরোতে। এই অর্থের বেশিরভাগই তারা ব্যবহার করে একাডেমিতে। তাই স্টেডিয়াম নির্মাণের সময় দাতার অভাব হয়নি তাদের।

মুদ্রার ওপিঠ
এথলেটিক বিলবাও এর এই নীতি নিয়ে বেশ সমালোচনাও আছে। অনেকের কাছেই এই নীতি প্রচন্ড বৈষম্যমূলক। অনেকে তাদের এই নীতিকে বর্ণবাদী হিসেবেও আখ্যা দিত। ২০১১ সালের আগে বিলবাও ক্লাবে কোন কৃষ্ণাঙ্গ খেলোয়াড় ছিল না। সেই ২০১১ সালেই এই সমালোচনার সমাপ্তি ঘটে। বর্তমানে ক্লাবের সবচেয়ে প্রতিভাবান ও উপভোগ্য আক্রমণভাগের খেলোয়াড় ইনাকি উইলিয়ামস কৃষ্ণাঙ্গ। এখনো কিছু সমর্থক চান যে, তাদের ক্লাবে কোনো কৃষ্ণাঙ্গ যেন না খেলেন।

খেলোয়াড়ের বেলায় ‘কেবলমাত্র বাস্ক’ নীতি থাকলেও কোচের বেলায় এই নীতি নেই। বস্তুত বিলবাও এর মূল সাফল্যই এসেছে দুই ব্রিটিশ কোচের হাত ধরে। তবে এটাও বলতে হবে যে, বিলবাও এর কোচ বাছাই দারুণ মানের। পেপ গার্দিওলার গুরু বিয়েলসা, বর্তমান বায়ার্ন কোচ হেইঙ্কেস বা হালের বার্সা কোচ ভালভার্দেরা একসময় এই ক্লাবেই কোচিং করিয়েছেন।

সমালোচনার বাইরে গিয়ে একবার ভাবুন, একটি ক্লাব নিজেদের প্রদেশকে দেশ জ্ঞান করে নিজেদের সেই দেশের প্রতিনিধি ভেবে কেবলমাত্র নিজেদের জাতিসত্ত্বার খেলোয়াড় তুলে এনেই ক্লাব চালাচ্ছে এমন এক যুগে যে যুগে টাকাই সব। বানিয়েছে বিশাল এক স্টেডিয়াম যে স্টেডিয়াম যেকোনো ক্লাবের জন্যই দুর্গ। এমন একটা সময় এমন একটা লিগে তারা তরুণ খেলোয়াড়দের সুযোগ দিচ্ছে যখন বড় দলগুলো পরীক্ষিত প্রতিভা ছাড়া দলে কাউকে জায়গা দিতে চায় না।

দুই ম্যাচ খারাপ খেললে অনেক ক্লাবে তরুণ খেলোয়াড়দের বিদায় ঘন্টা বেজে যায় যেখানে বিলবাও ম্যাচের পর ম্যাচ তরুণদের সুযোগ দেয় পরিণত হওয়ার। সেই সময়টাতে তাদেরই ভুলে ম্যাচ হারে কিন্তু সমর্থকরা তাতে নির্লিপ্ত। কী তীব্র জাতীয়তাবোধ! পকেটের টাকা খরচ করে টিকিট কেটে গিয়ে আনকোরা ভুল দেখতে কষ্ট হয় না এই সমর্থকগোষ্ঠীর, তারা এতেই সন্তুষ্ট যে, মাঠে যারা খেলছেন তারা আর গ্যালারিতে যারা বসে আছে তারা একই সত্ত্বার। ৩১ বছর আগে সর্বশেষ বড় কোনো শিরোপা জিতেছিল দলটি।

সেই সময়ে হাঁটি হাঁটি পা পা করা শিশুটিও আজ পরিণত। তারই সমবয়সী কোনো বার্সা বা রিয়াল সমর্থক যখন এক মৌসুম শিরোপা না জিতলেই গেল গেল রবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় তোলে তখন সেই লাল-সাদা জার্সিতে কেবল একটি দলকে ‘দল’ হিসেবে দেখে না, দেখে নিজের জাতিসত্ত্বা হিসেবে। ২০১২ সালে বিলবাও ইউরোপা লিগের ফাইনালে এটলেটিকো মাদ্রিদের কাছে হেরে যায়, প্রথমবারের মতো হারায় ইউরোপিয়ান শিরোপা জেতার সুযোগ। মাঠে কিংবা বাস্কের কোনো পানশালায় বিলবাও সমর্থকরা অনেক কেঁদেছিলেন। ধাতব শিরোপা তাদের ভাগ্যে জোটেনি ঠিকই, কিন্তু স্বজাত্যবোধের যে উদাহরণ হয়ে আছে এতদিন তার মূল্যই বা কম কিসে?

Source: https://roar.media/bangla/main/sports/athletic-bilbao-which-only-plays-basque-players/

255
ডিজিটাল যুগের কালো জাল: ডার্ক প্যাটার্ন

হঠাৎ করে বেজে উঠল মেইলের নটিফিকেশনের ঘন্টা। মেইল খুলে দেখলেন সেখানে বিশাল অক্ষরে লেখা, আপনার জন্য শুধুমাত্র আজকের জন্য একটি বিশেষ অফার দিয়ে সেই মেইলটি। অনেকের মনে হয়ত এই প্রশ্নটি আসবে না, তা-ও একটা বিষয়ে একটু খেয়াল করুন নাহয়। কেন এই মেইলটি আপনাকে পাঠানো হল বা ওই কোম্পানির কাছে আপনার মেইল আইডি থাকবে, কী করেছেন আপনি? কি, উত্তর খুঁজে পেলেন না? আপনার অজান্তেই আপনি কোনো এক ওয়েবসাইটে প্রবেশের সময় আপনার তথ্য প্রদান করে বসছেন, অনেক সময় তা খেয়ালই করেন না। এসব সাধারণত হয়ে থাকে ওয়েবসাইট বা এপ্লিকেশন ব্যবহারের সময় আপনার বেখেয়ালিপনা এবং ডিজাইনারদের চাতুর্যপূর্ণ নকশার কারণে। এভাবে সুকৌশলে মানুষকে তাদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও এরকম ফাঁদে ফেলে তাদের তথ্য নিয়ে নেয়াটাই হল ডার্ক প্যাটার্ন।

ডার্ক প্যাটার্ন
জাদুকরের অভিনয়ের সময় যেমন আপনি তার ছল ধরতে পারেন না, ঠিক তেমনি বিভিন্ন ইন্টারফেস নকশা করার সময় অনেক ডিজাইনার অ্যাপ বা ওয়েবসাইট এমনভাবে তৈরি করেন যেন তারা আপনাকে এমন কিছু করতে বাধ্য করে যা সাধারণত আপনি করতে চাইবেন না। এরকম নকশাকেই বলা হয় ডার্ক প্যাটার্ন। ইন্টারনেট ব্যবহারের সময় আপনি একটি পেইজে আসা প্রতিটি শব্দ ভাল করে পড়ে দেখেন না। একনজর দেখেন, আন্দাজ করে নেন অনেকটুকুই। প্রতিষ্ঠানগুলো আপনার এই বেখেয়ালিপনার উপরে ভর করে আপনার এবং কিছু ক্ষেত্রে আপনার আশপাশের মানুষজনের মূল্যবান তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে। তারা এমনভাবে নকশা করে যাতে একটি জিনিস মনে হলেও আপনার কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে নেয় অন্য কিছুর।

আপনি আপনার পিসিতে সফটওয়ার ইন্সটল করার সময় অনুমতি চেয়ে এরকম একটি স্ক্রিন প্রায়শ দেখা যায়। একবার একটু খেয়াল করে শেষের লাইনটা একটু দেখুন তো। কি, অবাক হচ্ছেন? মেসেঞ্জার আপনাকে এই পেইজের মাধ্যমে অন্য একটি সফটওয়ার ইন্সটল করার অনুমতি চেয়ে নিচ্ছে। শেষে আবার এই ধাপ এড়ানোর ব্যবস্থাও করে রেখেছে, তবে অনেকেই না দেখেই ‘Accept’ বাটনের দিকে মাউস বাড়াতেই পারেন।

বিভিন্ন ধরনের ডার্ক প্যাটার্ন
হ্যারি ব্রিগনাল নামক একজন গবেষক প্রায় ছয় বছর তথ্য সংগ্রহ করেন এবং এসব ফাঁকিকে বেশ কিছু ভাগে বিভক্ত করেন। এই লেখনীতে অল্প কিছু তুলে ধরা হল

Bait and Switch (টোপ ফেলে বেশ পালটে ফেলা)

এক্ষেত্রে একজন ব্যবহারকারী একটি কাজের উদ্দেশ্যে তার যাত্রা শুরু করেন, কিন্তু নিজের অজান্তে কখন যে ভিন্ন পথে এগিয়ে বসেন বুঝতেও পারেন না। এই পদ্ধতির সবচেয়ে প্রচলিত উদাহরণ ছিল মাইক্রোসফট যখন তাদের উইন্ডোজ ব্যবহারকারীদের উইন্ডোজ ১০ এ আপগ্রেড করার বিজ্ঞপ্তি দিচ্ছিল।

২০১৬ সালের দিকে অনেক উইন্ডোজ ব্যবহারকারীর কাছে উপরের এই বিজ্ঞপ্তি তুলে ধরে। একসময় তারা তাদের ‘x’ বাটনের অর্থ পালটে দিল। সাধারণত এই বাটন দিয়ে বন্ধ করুন বা পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নিব এরকম বুঝানো হলেও মাইক্রোসফট এই বিজ্ঞপ্তিতে তার অর্থ পালটে করে দেয়, ‘হ্যাঁ, আমি আপগ্রেড করতে রাজি আছি’। বলা চলে অনেকটা জোর করে ব্যবহারকারীদের উইন্ডোজ ১০ এ আপগ্রেড করতে বাধ্য করতে চায় মাইক্রোসফট।

লজ্জায় ফেলে কাজ আদায়

কিছু কিছু জায়গায় বিজ্ঞাপন এমনভাবে সাজানো হয় যেন আপনি সেটিতে রাজি না হয়ে কত বড় ভুল কাজই না করছেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এমনটা করা হয় কোনো নিউজলেটারে সাইনআপ করার জন্য নয়ত এডব্লকার ব্যবহার না করার জন্য।

ছদ্মবেশী বিজ্ঞাপন

কিছু বিজ্ঞাপন এমনভাবে সাজানো হয় যে দেখে মনে হয় তা সে ওয়েবসাইটেরই অংশ। ভুলে সে বিজ্ঞাপনে ক্লিক করে বসলেই নিয়ে যাবে অন্য একটি ওয়েবসাইটে। ধরে নেয়া যাক, আপনি একটি গান ডাউনলোড করবেন, সে হিসেবে খুঁজে আপনি নিচের এই ওয়েবসাইটে এসে পৌঁছালেন। বড় বড় করে দুটি বিজ্ঞাপন দিয়ে রাখা হয়েছে এবং নিচে আসল লিংক।

বন্ধু স্প্যাম

এই ব্যবস্থায় আপনার কাছ থেকে এই বলে অনুমতি নেয়া হয় যে আপনার তথ্য আপনার উপকারে ব্যবহার করা হবে। কিন্তু তারা আপনার পক্ষ থেকে আপনার পরিচিত মানুষজনকে মেইল পাঠিয়ে এক বিরক্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করে।

এর সবচেয়ে প্রচলিত উদাহরণ ছিল লিংকডিনের সাইন-আপ এর সময়। তারা আপনার কাছ থেকে আপনার অনুমতি চায় যাতে আপনার ক্যারিয়ারের জন্য শক্তিশালি নেটওয়ার্ক তৈরি করতে পারে। কিন্তু তারা আপনার পরিচিত মানুষজনকে আপনার নাম করে মেইল পাঠিয়ে দেয়। ২০১৫ সালে লিংকডিনের এরকম কাজে বিরক্ত হয়ে ক্যালিফোর্নিয়া শহরে একটি মামলা করা হয়েছিল, যার ফলশ্রুতিতে লিংকডিন কোম্পানিকে দিতে হয়েছিল প্রায় ১৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ক্ষতিপূরণ।

লুকানো খরচ

কিছু কিছু ওয়েবসাইটে আপনাকে প্রথমদিকে খরচ দেখানো হয় একরকম, কিন্তু শেষে গিয়ে দেখা যায় ডেলিভারি চার্জ, শুল্ক ইত্যাদির নাম করে অতিরিক্ত কিছু টাকা দাবি করে বসে।

প্রোফ্লাওয়ার যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফুল বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান। প্রথমে আপনি যখন ফুলের অর্ডার করতে যাবেন তখন শুধুমাত্র ফুলের দাম দেখাবে আপনাকে।

কিন্তু কয়েকটি ধাপ পার করে অর্ডার করতে যাবেন দেখা যাবে আপনার খরচের পরিমাণ বেড়ে গিয়েছে। খেয়াল করলে দেখা যাবে তারা কিছু চার্জ যুক্ত করেছে। ৫-৬ ধাপ পার করে অনেকে নতুন কোনো ওয়েবসাইট খোঁজার থেকে এই অতিরিক্ত টাকা দেয়া উত্তম বলে মনে করেন এবং টাকা দিয়ে দেন।

ভ্রান্ত পথ

এরকম ডিজাইনে আপনার মনোযোগ বিভ্রান্ত করে এমন কিছু করিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হয় যেটিতে সাধারণত আপনি রাজি হবেন না। কোনো সফটওয়্যার ইন্সটল করার সময় অন্য কিছু ইন্সটল করিয়ে নেয়া হয়। একটি স্ক্রিন আসে যেখানে আপনার কাছে অনুমতি চাওয়া হয়। খেয়াল না করলে ইন্সটল হয়ে পড়ে বিজ্ঞাপনের সেই সফটওয়্যার বা অনেক সময় ম্যালওয়্যার।

মূল্যের তুলনায় বাধা

একই রকমের অনেক পণ্য থাকলে আপনি সাধারণত তার দাম যাচাই করে আপনার জন্য দাম এবং মানে ভাল হবে সেটা ক্রয় করবেন। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে বিক্রেতারা আপনার এই কাজ করে তুলে তুলনামূলক কঠিন। তারা তাদের মূল্য তালিকা এমনভাবে আপনার সামনে তুলে ধরে যাতে আপনি সহজে সিদ্ধান্তে উপনীত হতে না পারেন।

এখানে আপনি কেজি হিসেবে খরচ কম হবে নাকি খুচরা হিসেবে সেটা বুঝে উঠা কঠিন একটা সিদ্ধান্ত।

Privacy Zuckering (প্রাইভেসি জাকারিং)

আপনার তথ্য সুকৌশলে উন্মুক্ত করে দেয়া হয় এই পদ্ধতিতে। নামকরণ করা হয়েছে ফেসবুকের সিইও মার্ক জাকারবার্গের নামে।

কিছু বছর আগে WhatsApp এর এক আপডেটে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে তারা ব্যবহারকারীদের কিছু তথ্য (মূলত ফোন নাম্বার) ফেসবুককে প্রদান করবে। এর জন্য আপনার কাছ থেকে অনুমতিও চাওয়া হয়। নিচের ছবি দ্রষ্টব্য। প্রথম দেখায় মনে হবে রাজি না হয়ে উপায় নেই।

নিচের দিকের তীরে চাপ দিলে আরেকটি অপশন আসবে যেখানে আপনি চাইলে আপনি আপনার তথ্য ফেসবুকে পাঠানো থেকে বিরত থাকতে পারেন। কিন্তু অধিকাংশ মানুষই জিনিসটি খেয়াল করেননি।

Roach Motel (রোচ মোটেল)

এই মডেলে ব্যবহারকারী খুব সহজে কোনো একটি পরিস্থিতিতে সহজে উপনীত হতে পারে, তবে সেখান থেকে বের হয়ে আসতে প্রচুর কষ্ট করতে হয়। যেমন ধরুন, আপনি নিউ ইয়র্ক টাইমসে যদি সাবস্ক্রিপশন বন্ধ করতে চান তাহলে আপনাকে তাদের কাজের সময়ে ফোন দিতে হবে।

বিভ্রান্তিকর প্রশ্ন

অনেক সময় তাড়াহুড়ার মধ্যে দেখা হয় না আপনি কোথায় নিজের তথ্য দিয়ে বসছেন। এমনই একটি নকশার নমুনা হলো এই পদ্ধতি। আপনাকে একটি প্রশ্ন জিজ্ঞেস করবে এবং সাথে সাথে অন্য একটি জিনিসের অনুমতি নিয়ে বসবে। কোন একটি জায়গায় আপনি সাইন-আপ করার সময় বেশ কিছু অনুমতি দেয়া প্রয়োজন পড়ে। এরকম একটি উদাহরণ দেখা যায় currys.co.uk এর ওয়েবসাইটে।

প্রথম চেকবক্সে মেইল না পাঠানোর কথা বলা হলেও অন্যদিক থেকে তথ্য পাঠানোর ব্যাপারে রাজি করানো হয় ব্যবহারকারীর কাছ থেকে।

এসব নকশা ভুল করে বানানো বা ব্যবহারকারীদের বাজে অভিজ্ঞতা প্রদানের উদ্দেশ্য নিয়ে করা হয়নি। করা হয়েছে ব্যবহারকারীদের তথ্য অসাধু উপায়ে ব্যবহারের জন্য, যা এককথায় প্রতারণামূলক এবং অনৈতিক। ব্যবহারকারীরা এসব ওয়েবসাইটে ভুল করে একবার যেতে পারেন, কিন্তু সতর্ক হয়ে গেলে তারা অন্য উপায় অবশ্যই খুঁজবেন। যেমন ধরুন, ফেসবুক কেলেঙ্কারির পরে অনেক মানুষই ফেসবুক ত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছেন।

Source: https://roar.media/bangla/main/tech/dark-pattern/

Pages: 1 ... 15 16 [17] 18 19 ... 21