Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - Mrs.Anjuara Khanom

Pages: [1] 2 3 ... 14
1
অনেকেই ফ্যাটি লিভারের সমস্যাকে অত্যন্ত সাধারণ একটি সমস্যা বলে মনে করেন। কিন্তু এ ধারণা একদম সঠিক নয়। কারণ ফ্যাটি লিভারের জন্য শরীরে বিভিন্ন রকম সমস্যা দেখা দিতে পারে। ফ্যাটি লিভারের সমস্যায় সময় মতো সতর্ক না হলে লিভার সিরোসিসের মতো মারাত্মক অসুখের আশঙ্কা অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে। আর সময় মতো লিভার সিরোসিসের চিকিৎসা না করাতে পারলে এর জন্য মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

তাই ফ্যাটি লিভারের সমস্যাকে অবহেলা না করে সময় মতো গুরুত্ব দিয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। আর এর জন্য ফ্যাটি লিভারের আগাম লক্ষণগুলি চেনা প্রয়োজন। আসুন চিনে নেওয়া যাক ফ্যাটি লিভারের প্রথমিক উপসর্গগুলি-
১) যদি দেখেন প্রস্রাবের রং অতিরিক্ত মাত্রায় গাঢ় হলুদ, তাহলে তা ফ্যাটি লিভারের সমস্যার প্রথমিক উপসর্গ হতে পারে।

২) যদি অল্প পরিশ্রমেই হাঁপিয়ে ওঠেন, অতিরিক্ত ক্লান্ত লাগে বা সারাদিন খুব ক্লান্ত লাগে,  তাহলে তা ফ্যাটি লিভারের সমস্যার প্রথমিক লক্ষণ হতে পারে।

৩) ফ্যাটি লিভারের সমস্যায় ত্বক অস্বাভাবিক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। এ ছাড়াও ত্বকে ছোপ ধরা বা গলার কাছের ত্বকের স্বাভাবিক রং পরিবর্তিত হয়ে যেতে পারে।

৪) পেট খারাপ না হওয়া সত্ত্বেও অকারণে মাঝে মধ্যেই পেটে ব্যথা হলে তা ফ্যাটি লিভারের সমস্যার প্রথমিক উপসর্গ হতে পারে।

৫) ফ্যাটি লিভারের সমস্যায় শরীরের পেশী ক্ষয় হতে থাকে। এর সঙ্গেই হাতের শিরা জেগে ওঠা বা বেরিয়ে আসা, চেহারায় বয়স্ক ভাব লক্ষ্য করলে লিভার পরীক্ষা করিয়ে নিন।

৬) পেটের মেদ বা ভুঁড়ি যদি ক্রমাগত বাড়তে থাকে তাহলে অবশ্যই ফ্যাটি লিভার হয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করিয়ে নিন। ফ্যাটি লিভারের সমস্যা ধরা পড়লে চিকিত্সকের পরামর্শ মেনে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনুন।

 

বিডি প্রতিদিন/

2
একজন মুসলিমের পার্থিব কাজ-কর্মও ইবাদত হিসেবে গণ্য। তবে প্রতিটি কাজে থাকতে হবে আল্লাহর আনুগত্য ও রাসুল (সা.)-এর পদ্ধতি। তাই মুসলমানের স্বাভাবিক কর্ম-পদ্ধতি ও জীবনযাপনের সামগ্রিক উপকরণ ইবাদত-বন্দেগির সঙ্গে সামঞ্জস্য ও সঙ্গতিপূর্ণ।

সারা বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলিম প্রতিবছর এক মাস রমজানের রোজাব্রত পালন করেন। এরপর শাওয়াল ও জিলকদ—দুই মাস পেরিয়ে আসে পবিত্র হজের মাস জিলহজ। জিলহজের প্রথম দশ দিন অত্যন্ত তাৎপর্যবহ ও পুণ্যময়। হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনা মতে, এ দশ দিন পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠতম দিন। এ দিনগুলোতে ইবাদত ও আমলের প্রতি সবিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

কোরআনে জিলহজের আলোচনা
জিলহজ মাসের প্রথম দশদিনের মর্যাদা, মাহাত্ম্য ও শ্রেষ্ঠত্ব বোঝাতে গিয়ে আল্লাহ তাআলা এ দিনগুলোর কসম করেছেন। তিনি বলেন, ‘শপথ প্রভাতের। শপথ ১০ রাতের।’ (সুরা ফাজর, আয়াত: ১-২)

তাফসিরবিদরা বলেন, এখানে যে ১০ রাতের কথা বলা হয়েছে, এর মাধ্যমে জিলহজের প্রথম দশ দিনকেই বোঝানো হয়েছে। (তাফসিরে ইবনে কাসির, চতুর্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৫৩৫)

হজের দিন আরাফাতের ময়দানে ও মসজিদে নামিরার আশপাশে সম্মানিত হাজিদের অবস্থান। ছবি: বাংলানিউজমোট চারটি মাসকে আল্লাহ তাআলা পবিত্র ও সম্মানিত করেছেন। তন্মধ্যে জিলহজ অন্যতম। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর বিধান ও গণনায় মাস ১২টি, আসমানগুলো ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকে। তন্মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত।’ (সুরা তাওবা, আয়াত: ৩৬) এ আয়াতের ব্যাখ্যায় হাদিস শরিফে এসেছে, ওই চারটি সম্মানিত মাস হলো—জিলকদ, জিলহজ, মহররম ও রজব।

হাদিসে জিলহজের ফজিলত
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহর কাছে জিলহজের প্রথম দশকের নেক আমলের চেয়ে অন্য কোনো দিনের আমলই উত্তম নয়।’ সাহাবারা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আল্লাহর রাস্তায় সংগ্রামও এই দশকের আমলের চেয়ে উত্তম নয়? রাসুল (সা.) বললেন, ‘আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ-সংগ্রামও এর চেয়ে উত্তম নয়; তবে ওই ব্যক্তি ছাড়া, যে তার সর্বস্ব নিয়ে জিহাদে অংশগ্রহণ করল এবং কিছুই নিয়ে ফিরে এলো না।’ (আবু দাউদ, হাদিস নং: ২৪৩৮; বুখারি, হাদিস নং: ৯৬৯)

অন্য হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘আল্লাহর কাছে জিলহজের প্রথম দশকের নেক আমলের চেয়ে বেশি প্রিয় অন্য কোনো দিনের আমল নেই। এ দিনগুলোর এক দিনের রোজা এক বছরের রোজার সমতুল্য এবং এক রাতের ইবাদত শবেকদরের ইবাদততুল্য।’ (তিরমিজি, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ১৫৮)

জিলহজের প্রথম দশকের আমল
এ মাসের প্রথম দশ দিন রোজা রাখা অন্যতম নেক আমল হিসেবে গণ্য। তাই এ দিনগুলোতে নফল রোজা রাখা খুবই পুণ্যময়। হুনাইদা বিন খালেদ তার স্ত্রী থেকে এবং তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জনৈক স্ত্রী থেকে বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) জিলহজ মাসের ৯ তারিখ, আশুরার দিন ও প্রত্যেক মাসের তিন দিন রোজা পালন করতেন।’ (সুনানে নাসায়ি, হাদিস নং: ২৩৭২)

আরাফার দিনে রোজা
আরাফার দিন রোজা রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে প্রমাণিত, তিনি আরাফার দিনের রোজার ব্যাপারে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আরাফার দিনের রোজা সম্পর্কে আল্লাহর কাছে আশা করি যে তা বিগত এক বছর ও আগামী এক বছরের পাপের কাফফারা হিসেবে গ্রহণ করা হবে।’ (মুসলিম, হাদিস : ১১৬২)

পবিত্র হজের দিন মসজিদে নামিরার আশপাশে ও আরাফাতের ময়দানে হাজিদের অবস্থান। ছবি: সংগৃহীততবে হজপালনে গিয়ে আরাফায় অবস্থানকারী হাজিদের জন্য রোজা রাখা মুস্তাহাব নয়। কেননা মহানবী (সা.) রোজাবিহীন অবস্থায় আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করেছিলেন।

হজ-ওমরাহ সম্পাদন করা
জিলহজের প্রথম দশকের সর্বশ্রেষ্ঠ আমল হলো—হজ ও ওমরাহ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘এক ওমরাহ থেকে আরেক ওমরাহ—এতদুভয়ের মাঝের গুনাহগুলোর কাফফারা। আর মাবরুর হজের প্রতিদান শুধুই জান্নাত।’ (বুখারি, হাদিস নং: ১৭৭৩; মুসলিম, হাদিস নং: ৩৩৫৫)

তাকবির ও তাসবিহ পড়া
এই দিনগুলোতে তাকবির (আল্লাহু আকবার), তাহমিদ (আলহামদু লিল্লাহ), তাহলিল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) ও তাসবিহ (সুবহানাল্লাহ) পড়া সুন্নাত। হাদিসে এ দিনগুলোয় জিকির-আজকারের ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘এ ১০ দিন নেক আমল করার চেয়ে আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয় ও মহান কোনো আমল নেই। তাই তোমরা এ সময় তাহলিল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ), তাকবির (আল্লাহু আকবার) ও তাহমিদ (আল হামদুলিল্লাহ) বেশি বেশি করে পাঠ করো।’ (বায়হাকি, শুআবুল ঈমান, হাদিস নং: ৩৪৭৪)

জিলহজের চাঁদ উঠলে করণীয়
জিলহজ মাসের চাঁদ উঠার পর থেকে চুল, গোঁফ, নখ, বগল ও অন্যান্য স্থানের লোম বা পশম না কাটা মুস্তাহাব। এ সম্পর্কে উম্মে সালমা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে নবী করিম (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জিলহজের চাঁদ দেখে এবং কোরবানির ইচ্ছা করে, সে যতক্ষণ কোরবানি না করে, ততক্ষণ পর্যন্ত যেন চুল বা নখ না কাটে।’ (মুসলিম, হাদিস নং: ৩৬৫৬)

চুল, গোঁফ, নখ ও অন্যান্য পশম না কাটার আমলটি ওয়াজিব নয়; মুস্তাহাব। ফিকাহবিদরা বলেছেন, এগুলো না কাটার হিকমত হলো- হজযাত্রীদের সঙ্গে সাদৃশ্য ধারণ করা।

আল্লামা ইবনু কায়্যিমিল জাওজিয়্যাহ (রহ.) বলেন, পশু কোরবানির সঙ্গে সঙ্গে নিজের কিছু অংশ আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য কোরবানি (ত্যাগ) করায় যেন অভ্যস্ত হতে পারেন, এ জন্য এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তাকবিরে তাশরিক পাঠ করা
জিলহজ মাসের ৯ তারিখ ফজরের নামাজ থেকে ১৩ তারিখের আসরের নামাজ পর্যন্ত মোট ২৩ ওয়াক্ত নামাজের পর তাকবিরে তাশরিক পড়া ওয়াজিব।

ফরজ নামাজের পর প্রত্যেক বালেগ পুরুষ, মহিলা, মুকিম, মুসাফির, গ্রামবাসী, শহরবাসী এবং যে কেউ জামাতের সঙ্গে নামাজ পড়ুক বা একাকী পড়ুক—প্রত্যেকের ওপর একবার করে তাকবিরে তাশরিক পাঠ করা কর্তব্য। (ফাতাওয়ায়ে শামি, বাহরুর রায়েক)

তাকবিরে তাশরিক একবারের অধিক না বলা বাঞ্ছনীয়। কারণ একের অধিক বলার কথা ইসলামে নেই। (তাহতাবি, পৃ. ২৯৪) তাকবিরে তাশরিক হলো—‘আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়ালিল্লাহিল হামদ।’

সবশেষে পশু কোরবানি করা
এ দিনগুলোর শেষ দিন সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য কোরবানি করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার নবী (সা.)-কে কোরবানি করতে নির্দেশ দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘আপনি আপনার প্রতিপালকের উদ্দেশে সালাত আদায় করুন ও কোরবানি করুন।’ (সুরা আল-কাউসার, আয়াত: ০২)

লেখক: ইসলামবিষয়ক গবেষক ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, হাটহাজারী, চট্টগ্রাম।

3
ব্রংকিয়েকটেসিস শব্দটি দ্বারা বায়ুনালীর অস্বাভাবিক স্ফীতি বোঝায়। এ ধরনের বিস্তৃতি সাধারণত স্থায়ীভাবে হয়ে থাকে এবং তা আর পূর্বাবস্থায় ফিরে আসে না। এটি একটি যন্ত্রণাদায়ক অসুখ এবং কখনো একদম ভালো হয় না। এটি সাধারণত শৈশবের মারাত্মক শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণজনিত কারণে হয়। যেমন হুপিং কাশি বা হামের জটিলতা হিসেবে। আবার কোনো ব্রংকাস বা শ্বাসনালী আটকে থাকলে যেমনটি হতে পারে টিবি লিম্ফনোড, ক্যান্সার বা বাহ্যিক বস্তু দ্বারা তাহলে তার পরবর্তী অংশে পুঁজ জমতে পারে তাতেও ব্রংকিয়েকটেসিস হয়। লিখেছেন অধ্যাপক ডা: মো: আতিকুর রহমান

নিউমোনিয়া সঠিক চিকিৎসা না হওয়া, সেরে যাওয়া যক্ষ্মা অথবা টিউমারের কারণে- এ ধরনের অসুখ হতে পারে। স্থায়ীভাবে প্রসারিত হওয়া শ্বাসতন্ত্রের স্থানে কফ জমতে থাকে এবং বারবার সেখানে ইনফেকশন দেখা দিতে পারে। এ রোগের উপসর্গ প্রধানত তিনটি- কফ, কাশির সাথে রক্ত যাওয়া এবং বারবার জ্বর হওয়া। কফ কখনো কখনো প্রচুর, পাকা ও অত্যন্ত দুর্গন্ধযুক্ত হয়। কখনো কখনো অবস্থার পরিবর্তনের সাথে সাথে কফ বেড়ে যায়। সকালের দিকে অত্যন্ত বেশি কাশি হয়। কাশির সাথে মাঝে মধ্যেই রক্ত ঝরে।

কখনো কখনো প্রচুর রক্তক্ষরণ নিয়ে রোগী আসে। এক ধরনের ব্রংকিয়েকটেসিস আছে যাতে কফ হয় না, শুধু বারবার রক্তপাত হয়। একে বলা হয় ড্রাই ব্রংকিয়েকটেসিস। বুকের এক্স-রে করলে অনেক সময় ব্রংকিয়েকটেসিস ধরা পড়ে। তবে অনেক সময় স্বাভাবিক থাকতে পারে। ব্রংকিয়েকটেসিস সাধারণত দুই ফুসফুসেই হয় এবং ফুসফুসের নিচের অংশ সাধারণত বেশি আক্রান্ত হয়। রোগীর যদি ব্রংকিয়েকটেসিসের মতো উপসর্গ থাকে তবে বুকের এক্স-রে স্বাভাবিক থাকলেও সিটি স্ক্যান করে দেখা উচিত সত্যিই এ রোগ আছে কি না। অনেক সময় বুকের এক্স-রে দেখে রোগটি যক্ষ্মা না ব্রংকিয়েকটেসিস তা নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দেয়। তবে সাধারণত যক্ষ্মা হয় ফুসফুসের উপরের অংশে আর ব্রংকিয়েকটেসিস হয় ফুসফুসের নিচের অংশে।

ব্রংকিয়েকটেসিসের চিকিৎসা পদ্ধতি তিনটি- পসচারাল ড্রেনেজ, অ্যান্টিবায়োটিক এবং অপারেশন। ব্রংকিয়েকটেসিসের প্রধান চিকিৎসা পসচারাল ড্রেনেজ। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে- স্ফীত ব্রংকাস থেকে পুঁজ বের করে ফেলা। রোগীকে নিজেই কাশি দিয়ে কফ বের করে ফেলতে হবে। সাধারণভাবে এতে এমন একটা অবস্থায় দেহকে রাখতে হবে যাতে ফুসফুসের যে অংশের পুঁজ বের করতে হবে সে অংশ সবচেয়ে উপরে থাকে। ফলে কফ, পুঁজ নিচের দিকে অর্থাৎ ট্রাকিয়া হয়ে লারিংসে চলে আসবে যেখান থেকে অতি সহজেই কাশি দিয়ে তা বের করে ফেলা যাবে। চৌকি বা খাটের ওপর পা রেখে মেঝেতে দুই হাতের তালুর ওপর ভর দিয়ে জোরে জোরে কেশে কফ বের করতে হবে। এভাবে প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা দুইবার ১০ মিনিট করে ড্রেনেজ করলে রোগীর উপসর্গের লাঘব হয়। রোগীর যদি জ্বর আসে অথবা কফের রঙ হলুদাভ হয় তবে অ্যান্টিবায়োটিক দরকার হয়।

এ ধরনের রোগীদের বারবার অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন পড়ে। সাধারণত কোট্রাইমক্সাজল অথবা এমক্সিসিলিনেই রোগী ভালো হয়ে যায়। তবে অনেক সময় সিপ্রোফ্লোক্সাসিন বা ইরাইথ্রোমাইসিন জাতীয় ওষুধ ন্যূনতম দুই-সপ্তাহ বা তার চেয়ে বেশি দিনের জন্য খেতে দিতে হয়। যদি সিটিস্ক্যানে দেখা যায় রোগটি স্থানীয়ভাবে ফুসফুসের কোনো অংশকে আক্রান্ত করেছে তবে অপারেশন করে ঐ অংশটুকু বাদ দিলেই রোগী স্থায়ীভাবে আরোগ্য লাভ করে। ফুসফুসের একটি অংশ বা প্রকোষ্ট বাদ দিলে রোগীর কোনো অসুবিধা হয় না।

তবে রোগীর বয়স কম হওয়া এবং ফুসফুসের অন্যান্য স্থান ভালো থাকা এ ধরনের অপারেশনের পূর্বশর্ত। যেহেতু রোগী দীর্ঘদিন ধরে ভোগার পর ডাক্তারের শরণাপন্ন হয় তাই বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দুটি ফুসফুসই সমানভাবে আক্রান্ত থাকে। ফলে অপারেশনের সুযোগ খুব একটা থাকে না। এসব ক্ষেত্রে রোগীকে পরবর্তী জীবনের সুস্থতার জন্য নিয়মিত অ্যান্টিবায়োটিক এবং ডাক্তারের নির্দেশ মেনে চলতে হয়।
শ্বাসনালীর স্থায়ী প্রসারতা একবার সৃষ্টি হলে, তা থেকেই যায়। শ্বাসনালীতে এ ধরনের গঠনতান্ত্রিক পরিবর্তন থাকার দরুন বারবার জীবাণু আক্রমণ হতে থাকে। ফলে জ্বর, কফ, কাশি, ঘুরে ফিরে বারবার হতে থাকে।

কফের সাথে ফুসফুস থেকে প্রায়ই রক্তক্ষরণ হতে থাকে এবং এটা কখনো কখনো মারাত্মক আকার ধারণ করে। প্রদাহ থাকার দরুন ফুসফুস কলাতে ঋরনৎড়ংরং হয়। ব্রংকিয়েকটেসিসের বিস্তৃতি লাভ করে। ফুসফুসে অধিক ঋরনৎড়ংরং হলে ফুসফুসের রক্ত চলাচলের জালকগুলো নষ্ট হয় এবং অবশেষে ফুসফুস ধমনির রক্তচাপ বাড়ে। ফলে হৃদযন্ত্রের অসুখ দেখা দেয়। ক্রমাগত জীবাণু আক্রমণের জন্য লোহিত রক্তকণিকার উৎপাদন ব্যাহত হয় এবং রক্তহীনতা দেখা দেয়।

তাই শৈশবে হাম, হুপিং কাশি, প্রাথমিক যক্ষ্মারোগের আক্রমণ হলে তার যথাযথ চিকিৎসা করাতে হবে। কোনো কারণেই শ্বাসনালীতে সঙ্কীর্ণতা সৃষ্টির সুযোগ যাতে না হয় সে দিকে নজর রাখতে হবে এবং উপযুক্ত চিকিৎসা করতে হবে।
লেখক : অধ্যাপক ও বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ, রাফা মেডিক্যাল সার্ভিস, ৫৩, মহাখালী টিবি গেইট, ঢাকা।
ফোন : ০১৯১১৩৫৫৭৫৬

4
হজ মুসলিম উম্মাহর ঐক্য-সংহতি ও সাম্যের সসুজ্জ্বল নিদর্শন। ইসলামের অন্যতম স্তম্ভও বটে।  হজে আর্থিক ও কায়িক শ্রমের সমন্বয় রয়েছে, অন্য কোনো ইবাদতে যা একসঙ্গে পাওয়া না। প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৩০ থেকে ৪০ লাখ মানুষ পবিত্র হজ পালনে সৌদি গমন করেন। সেখানে তারা আল্লাহপ্রেমের পাঠ চুকিয়ে রাসুলপ্রেমের ষোলকলা পূর্ণ করেন।

হজের সওয়াব সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হজ করে এবং অশ্লীল ও গুনাহর কাজ থেকে বেঁচে থাকে, সে নবজাতক শিশুর মতো নিষ্পাপ হয়ে যায়। আর মকবুল হজের পুরস্কার জান্নাত ছাড়া অন্য কিছুই নয়।’ (বুখারি, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ২০৬)

মূলত যাদের হজে অথবা ওমরায় যাওয়ার সামর্থ্য ও সক্ষমতা নেই, তাদের জন্য মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে হজ-ওমরাহর সওয়াব অর্জনের চমৎকার সুযোগ রয়েছে। প্রিয়নবী মুহাম্মাদ (সা.) বিভিন্ন হাদিসে সেসব আমল বাতলে দিয়েছেন।

এক. সকাল-সন্ধ্যার জিকির
আবুদ্দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, আমরা একবার রাসুল (সা.)-কে বলি, হে আল্লাহর রাসুল! ধনী ব্যক্তিরা সওয়াবের ক্ষেত্রে আমাদের ছাড়িয়ে যাচ্ছে। তারা হজ করেন, আমরা হজ করি না। তারা সংগ্রাম-যুদ্ধে শরিক হন, আমরা শরিক হতে পারি না। আরো আরো...। তখন রাসুল (সা.) বলেন, ‘আমি কি তোমাদের এমন আমালের কথা বলবো যেটা তোমরা করলে তোমরা তারা যে আমল করে তারচেয়ে বেশি সওয়াব পাবে? আর সেটা হলো- প্রতি নামাজের পর তোমরা ৩৪ বার আল্লাহু আকবার, ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ ও ৩৩ আলহামদুল্লিাহ পড়ো।’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং: ১১১৫৪)

দুই. জামাতে নামাজ আদায়
আবু উমামা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মসজিদে গিয়ে জামাতের সঙ্গে ফরজ নামাজ আদায় করলো, সে যেন হজ করে আসলো। আর যে ব্যক্তি নফল নামাজ আদায় করতে মসজিদে গেলো, সে যেন ওমরাহ করে আসলো।’ (তাবারানি, হাদিস নং: ৭৫৭৮)

তিন. ইশরাকের নামাজ পড়া
ফজরের নামাজ আদায়ের পর মসজিদে সূর্যোদয় পর্যন্ত অবস্থান করা। আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জামাতের সঙ্গে ফজরের নামাজ আদায় করে সূর্যোদয় পর্যন্ত মসজিদে বসে আল্লাহর জিকির করলো, এরপর দুই রাকাত নামাজ আদায় করলো, সে ব্যক্তি হজ ও ওমরাহর সওয়াব নিয়ে ফিরলো।’ (তিরমিজি, হাদিস নং: ৫৮৬)

পবিত্র মসজিদুল হারামের নান্দনিক ও আধ্যাত্মিক আবহপুর্ণ দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

চার. ফরজ নামাজ পড়ার জন্য মসজিদে যাওয়া
আবু উমামা (রা.) কর্তৃক বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো ফরজ নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে নিজের ঘর থেকে ওজু করে (মসজিদের দিকে) বের হয়, সেই ব্যক্তির সওয়াব ইহরাম বাঁধা হাজির মতো হয়।’ (আহমাদ, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ২১২; আবু দাউদ, হাদিস নং: ৫৫৮; তারগিব, হাদিস নং: ৩২০)

পাঁচ. দ্বীন শেখা বা শেখানোর উদ্দেশ্যে মসজিদে যাওয়া
আবু উমামা রা. থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো ভালো কথা শিখা বা শিখানোর উদ্দেশ্যে মসজিদে গেল, সে পরিপূর্ণরূপে হজ আদায়কারী ব্যক্তির মতো সওয়াব লাভ করবে।’ (তাবারানি, হাদিস নং: ৭৪৭৩)

ছয়. রমজানে ওমরাহ পালন করা
সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, রমজানে ওমরাহ আদায় করলে আমার সঙ্গে হজ্জ আদায়ের সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করবে।’ (বুখারি, হাদিস নং: ১৭৮২; মুসলিম, হাদিস নং: ২২২)

সাত. মসজিদে কুবায় নামাজ আদায়
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি নিজ ঘরে পবিত্রতা অর্জন করল, তারপর মসজিদে কুবায় এসে কোনো নামাজ আদায় করল, সে ওমরাহর সওয়াব হাসিল করল। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং: ১৪১২)

পবিত্র মসজিদুল হারামের নান্দনিক ও আধ্যাত্মিক আবহপুর্ণ দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

আট. জুমার নামাজ
আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি নিজের ঘর থেকে উত্তমরূপে অজু করে ফরজ নামাজের উদ্দেশ্যে বের হয়, সে ইহরাম বেঁধে হজে গমনকারীর মতো সওয়াব লাভ করে। আর যে ব্যক্তি শুধু সালাতুদ্দুহা (পূর্বাহ্নের নামাজ) আদায়ের উদ্দেশ্যে কষ্ট করে বের হয়, সে ওমরাহ আদায়কারীর মতো সওয়াব লাভ করবে।’ (আবু দাউদ, হাদিস নং:৫৫৮)

নয়. পিতা-মাতার সেবা ও তাদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার
আনাস ইবনে মালিক (রা.) বর্ণনা করেন, জনৈক ব্যক্তি রাসুল (সা.) এর নিকট এসে বললো, আমি জিহাদে-সংগ্রামে অংশ নিতে চাই, কিন্তু আমার সেই সামর্থ্য ও সক্ষমতা নেই। তখন রাসুল (সা.) তাকে জিজ্ঞেস করেন, ‘তোমার মাতা-পিতার কেউ কি জীবিত আছেন?’ লোকটি বলল, আমার মা জীবিত। তখন রাসুল (সা.) বললেন, ‘তাহলে মায়ের সেবা করে আল্লাহর নিকট যুদ্ধ-সংগ্রামে যেতে না পারার অপারগতা পেশ কর। এভাবে যদি করতে পার এবং তোমার মা সন্তুষ্ট থাকেন তবে তুমি হজ, ওমরাহ এবং যুদ্ধ-সংগ্রামের সওয়াব পেয়ে যাবে। সুতরাং আল্লাহকে ভয় করো এবং মায়ের সেবা করো।’ (মাজমাউজ জাওয়াইদ, হাদিস নং: ১৩৩৯৯)

দশ. ঈদের নামাজ
বিভিন্ন বর্ণনায় সাহাবায়ে কিরাম বলেছেন, ‘ঈদুল ফিতরের নামাজ ওমরার সমতুল্য এবং ঈদুল আজহার নামাজ হজের সমতুল্য।’

এগারো. মুসলমানের প্রয়োজন মেটানো
হাসান আল-বসরি (রহ.) বলেন, ‘তোমার ভাইয়ের প্রয়োজন মেটানো তোমার বারবার হজ করার থেকে উত্তম।’

আল্লাহ তাআলা এই কাজগুলোর মাধ্যমে হজের সমপরিমাণ নেকি অর্জনের পাশাপাশি আমাদের সবাইকে হজ আদায়ের যাওয়ার তাওফিক দান করুন।

Source:https://www.banglanews24.com/islam/news/bd/723230.details

5
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। সুন্দর অবয়বে সৃষ্টি করে মানুষকে দিয়েছেন শ্রেষ্ঠ সৃষ্টির মর্যাদা। দিয়েছেন মহামূল্যবান বিবেক। আসমান জমিনের সমস্ত মাখলুকাতের ওপর দিয়েছেন শ্রেষ্ঠত্ব।

যদিও ফেরেশতারা সর্বদা আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন রয়েছেন। তাদের যাকে যে কাজের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে তারা প্রতিনিয়ত সে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। ফেরেশতাদের আল্লাহ তায়ালা অবাধ্য হওয়ার ক্ষমতাই দেননি।

আর আল্লাহ মানুষকে বিবেক দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। নবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন। তাদের প্রতি ওহী নাজিল করে সঠিক পথের দিশা দিয়েছেন। ভালো-মন্দ দুটি পথের মধ্যে যেকোনো একটি পথ বেছে নেয়ার এখতিয়ার দিয়েছেন। এখানেই ফেরেশতাসহ সকল মাখলুকাতের ওপর মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব।

দুনিয়াতে প্রেরণের অনেক পূর্বেই আল্লাহ আমাদের রূহ তৈরি করেছেন। আলমে আরওয়াহ বা রূহের জগতে আমাদের সবার রুহকে উদ্দেশ করে আল্লাহ বলেছিলেন, ‘আমি কি তোমাদের রব নই? আমরা সকলে বলেছিলাম, হ্যাঁ। আমরা আল্লাহর দুনিয়াতেও কালিমার অঙ্গীকার করেছি।

জান্নাতের বিনিময়ে আল্লাহ মুমিনদের জানমাল ক্রয় করে নিয়েছেন। কিন্তু কখনো কখনো আমরা হেদায়াতের আলোর পথ থেকে দূরে সরে গিয়ে পাপাচারের অন্ধকারে নিজেদের নিমজ্জিত করি। কোনো কোনো পাপে সাময়িক সুখ অনুভূত হলেও পাপের পীড়া কামড় দেয় বারবার। ফলে মানসিক বিষাদ অনুভব হতে থাকে।

পক্ষান্তরে তওবা করলে, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলে জীবন নতুনভাবে নবায়িত হয়। তওবা শব্দটিই যেন একটি মহান শব্দ। যার অর্থ ফিরে আসা। তওবার দহনেই পাপে কলুষিত আত্মা মনিবের সঙ্গে নবরূপে মিলিত হয়। মহান আল্লাহ চান তার বান্দারাও যেন গুনাহ করার সঙ্গে সঙ্গে তওবা করে নেয়।

পবিত্র কোরআন ও হাদিসে তওবার ব্যাপারে জোর তাগিদ দেয়া হয়েছে। বান্দার তওবায় আল্লাহ অত্যন্ত খুশি হন।

তওবার ফলে তিনি এত খুশি হন যে, তার উদাহরণ দিতে গিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এক মুসাফির তার উটসহ সফরে এক মারাত্মক মরুভূমিতে বিশ্রামের জন্য এক গাছের ছায়ায় মাথা রেখে শোয়ামাত্রই ঘুমিয়ে পড়ল। এর মধ্যেই তার উট গায়েব হয়ে যায়। সে এদিক-সেদিক খোঁজাখুঁজি শুরু করল; কিন্তু সে বৃথায় হয়রান হল। ক্ষুধা ও পিপাসায় বেশি কাতর হয়ে পড়ল।

তারপর ফিরে সে গাছের নিকট এসে শোয়ামাত্র চোখ লেগে গেল। কিছু পরে চোখ খুলতেই দেখতে পেল তার সেই উট খাদ্য ও পানিসহ দাঁড়িয়ে আছে। তা দেখে সে এত খুশি হল যে, উটের লাগাম ধরে খুশির উচ্ছ্বাসে বলে উঠল, ‘আল্লাহ তুমি আমার বান্দা আমি তোমার রব।’

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তওবা করলে আল্লাহ হারিয়ে যাওয়া উটওয়ালা অপেক্ষা অধিক খুশি হন। (বুখারি ও মুসলিম)

আল্লাহ তার বান্দাদের প্রতি বড়ই ক্ষমাশীল ও দয়ালু। তিনি চান বান্দা তওবা করুক। এজন্যই দিনে রাতে হাত বাড়িয়ে দেন। তিনি সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো পাপ ছিল না। তবুও তিনি প্রত্যাহ ১০০ বার আল্লাহর নিকট তওবা করতেন। উম্মতকে বেশি বেশি তওবা করতে উৎসাহিত করতেন।

আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর নিকট তওবা কর, আন্তরিক তওবা।’ (সূরা তাহরিম, আয়াত : ৮)।

তওবা হল অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর নিকট প্রত্যাবর্তন করা, যে গুপ্ত অথবা প্রকাশ্য জিনিস আল্লাহ ঘৃণা করেন সে জিনিস হতে, যা তিনি পছন্দ করেন তার কাছে ফিরে আসার নাম তওবা।

ওলামায়ে কেরাম তওবার কয়েকটি শর্ত নির্ধারণ করে দিয়েছেন। যে শর্তগুলো পূরণ না হলে তওবা কবুল হয় না :

(১) তওবা হবে আন্তরিকভাবে একান্ত আল্লাহর জন্য।

(২) পাপে লিপ্ত থাকা অবস্থায় তওবা গ্রাহ্য নয়। সঙ্গে সঙ্গে পাপ বর্জন করতে হবে।

(৩) বিগত পাপের ওপর অনুশোচনা প্রকাশ করতে হবে।

(৪) পুনরায় মরণ পর্যন্ত গুনাহর প্রতি না ফেরার দৃঢ় সংকল্প করতে হবে।

(৫) কোনো মানুষের অধিকার হরণ করলে তার অধিকার আদায়করে নিতে হবে কিংবা তার নিকট হতে মাফ চেয়ে নিতে হবে।
(৬) কবুল হওয়ার নির্ধারিত সময় তথা মরণ নিকটবর্তী হওয়ার আগে ও পশ্চিমকাশে সূর্য উদিত হওয়ার পূর্বে তওবা করতে হবে।

কোরআনে আল্লাহ নুহ (আ.)কে উল্লেখ করে বলেন, ‘(নূহ বলল,) আমি তাদেরকে বললাম, তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর। তিনি তো মহাক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের জন্য প্রচুর পরিমানে বৃষ্টিপাত করবেন। তিনি তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তানসন্ততি দ্বারা সমৃদ্ধ করবেন। আর তোমাদের জন্য বাগান তৈরি করে দেবেন এবং প্রবাহিত করে দেবেন নদীনালা।’ (সূরা নূহ, আয়াত : ১০-১২)।

গুনাহ হতে ফিরে এসে খালেসভাবে আল্লাহর কাছে তওবা করা ধনসম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে বরকত লাভ এবং পরকালে পরম সুখের আকর জান্নাত লাভের একটি কারণ।

পাপ করার পর ক্ষমা প্রার্থনাকারী বান্দাকে আল্লাহ কতটা ভালোবাসেন তার বর্ণনা করতে গিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন –সেইমহান সত্তার কসম যার হাতে আমার জীবন! যদি তোমরা পাপ না কর, আল্লাহ তোমাদের নিশ্চন্ত করে দিয়ে (তোমাদের পরিবর্তে) এমন এক জাতি আনয়ন করবেন, যারা পাপ করবে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনাও করবে। আর আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করে দেবেন। (মুসলিম)।

Source:https://www.jugantor.com/islam-life/191984/%E0

6
অসুখ হলেই অনেকে ওষুধ খান। তবে অসুখ হলেই ওষুধ খেতে হবে এমন নয়। প্রাকৃতিক উপায়ে রোগ নিরাময়ের চেষ্ঠা শরীরের জন্য খুবই ভালো। কিছু সবজি, ফল, মসলা, ভেষজ রয়েছে যা খেলে সুস্থ থাকা যায়। তেমনি একটি উপাদান হচ্ছে মেথি। মেথি প্রাকৃতিক উপাদান যা শরীর সুস্থ রাখে।


আয়ুর্বেদ চিকিৎসা বলছে, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে মেথি চা খুবই কার্যকরী। এছাড়া বিভিন্ন রোগ নিয়ন্ত্রণে কাজ করে মেথি চা।

আসুন জেনে নেই যেসব রোগ নিয়ন্ত্রণ করে মেথি চা।

ইনসুলিনের কার্য ক্ষমতা

ইনসুলিনের কার্য ক্ষমতা ও পরিমাণ বাড়িয়ে দেয় মেথি চা। তাই প্রতিদিন এক কাপ মেথি চা খেলে রক্তে সুগারের পরিমাণ কমে যায়।

হজম ক্ষমতা

হজম ক্ষমতা বাড়ায় মেথি চা। সকালে খালি পেটে এক কাপ মেথি চা খেলে শরীরের বাড়তি মেদও ঝরে।

কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমে যায়

প্রতিদিন মেথি চা খেলে কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমে ও রক্ত চলাচল ভালো হয়। সেই সঙ্গে হৃৎপিণ্ডও সুস্থ থাকে।

কিডনি পরিষ্কার

মেথি চা পান করলে কিডনি পরিষ্কার থাকে ও মূত্রথলি সুস্থ থাকে। সেই সঙ্গে পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনাও কমে যায়।

যেভাবে বানাবেন মেথি চা

এক চা-চামচ মেথি গুঁড়ো করে নিন। এক কাপ ফুটন্ত গরম জলে ওই গুঁড়ো মিশিয়ে দিন। এক চা-চামচ মধু মেশাতে পারেন। চাইলে রোজের চা পাতা বা তুলসী পাতাও মেশানো যেতে পারে এতে। সমস্ত উপকরণ দিয়ে মিনিট তিনেক ভিজিয়ে রাখুন। ছেঁকে নিয়ে গরমাগরম চুমুক দিন।

সূত্র-এনডিটিভি

7
দ্বিতীয় দশক শেষ হতে আর একদিন বাকি। রমজান রাব্বুল আলামিনের ক্ষমা লাভের সর্বোত্তম সময়। দয়াময় আল্লাহকে ডাকলে তিনি সাড়া দেন। ক্ষমা চাইলে ক্ষমা করে দেন। ক্ষমার দুয়ার সব সময় খোলা থাকে। তা সত্ত্বেও রমজানের মধ্যম দশক বিশেষ ক্ষমার সুযোগ এনে দেয়। এ সময়ে প্রতিটি মুমিন যারা সামান্যতম ইমান রাখেন আল্লাহ তাদের নিজের দয়া ও করুণা গুণে ক্ষমা করে দেবেন।

ক্ষমা একটি মহৎ গুণ। আল্লাহ যেমন ক্ষমাশীল, মানুষকেও ক্ষমাগুণে গুণান্বিত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি ক্ষমাশীল ব্যক্তিকে ভালোবাসেন। তাই মাহে রমজানে আল্লাহ পাকের ক্ষমা লাভ করতে হলে বান্দাকে ক্ষমা গুণেরও অধিকারী হতে হবে। কেননা ক্ষমার মাধ্যমে জান্নাত নিকটবর্তী হয়।

পবিত্র কুরআনে এরশাদ হয়েছে- তোমরা তোমাদের রবের ক্ষমা লাভের জন্য প্রতিযোগিতা কর, আর প্রতিযোগিতা কর সেই জান্নাতের জন্য যার বিশালতা আসমান-জমিনের বিশালতার সমান, যা প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে মুত্তাকিদের জন্য। যারা সচ্ছল কি অসচ্ছল সর্বাবস্থায় নিজেদের সম্পদ আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করেন আর যারা নিজেদের ক্রোধ সংবরণ করেন এবং মানুষের অপরাধগুলো ক্ষমা করে দেন। আর সৎ মানুষকে সবসময় আল্লাহ ভালোবাসেন। (সূরা-আল-ইমরান, আয়াত-১৩৩-১৩৪)।

রাসুল (সা.) বলেছেন, আল্লাহর রাস্তায় দান করলে সম্পদ বাড়ে আর ক্ষমার মাধ্যমে আল্লাহ বান্দার মর্যাদা বৃদ্ধি করেন। যে আল্লাহর উদ্দেশে বিনয় অবলম্বন করে আল্লাহ তাকে সম্মানিত করেন। (মুসলিম শরিফ)।

হজরত আলী (রা.) এর জীবনে ক্ষমার উৎকৃষ্ট নিদর্শন দেখতে পাই। ইসলামের চরম শত্রুর বুকে চেপে ছুরিকাঘাত করার সময় শত্রু তার মুখে থুথু দেয়ায় তিনি প্রচণ্ডভাবে ক্ষুব্ধ হন, কিন্তু শত্রুকে ছেড়ে দেন। তিনি বললেন, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যুদ্ধ করি, ব্যক্তিগত প্রতিহিংসায় শত্রুকে আঘাত করার বিধান নেই। রমজানের ১৯ তারিখে হজরত আলী (রা.) কুফার মসজিদে নামাজ পড়া অবস্থায় ইবনে মুলজামের তরবারির আঘাতে মারাত্মকভাবে আহত হন এবং ২১ রমজান ইন্তেকাল করেন।

তিনি যখন মৃত্যুশয্যায় তখন বন্দি আততায়ীকে তার সামনে হাজির করা হয়। বন্দিকে শক্ত করে রশি দিয়ে বাঁধা হয়েছিল। তিনি নির্দেশ দেন, বন্ধন যেন হালকা করে দেয়া হয়। যাতে বন্দি কষ্ট না পায়। এটিই হল নবীর শিক্ষা, সাহাবাগণের শিক্ষা, ইসলামের শিক্ষা, রমজানের শিক্ষা।

এসব গুণাবলি প্রশিক্ষণের নিয়মতান্ত্রিক সুযোগ হচ্ছে রমজান, যা থেকে পরিপূর্ণ ফায়দা হাসিল করার দায়িত্ব আমাদের। এ মাসে আমরা যতটুকু অর্জন করতে সমর্থ হব, তা নিজ গুণে আল্লাহপাক বাড়িয়ে দেবেন।

তাকওয়া বা আত্মশুদ্ধি অর্জনই রমজানের মূল লক্ষ্য। এক মাসের যতটুকু অর্জন, তা জীবনভর রক্ষা করতে হবে। জীবন ধারণে তাকওয়ার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। ভোগবিলাস ত্যাগ করা, সৎ পথে চলা, হালাল খাওয়া, পরোপকার করা, দান করা ও আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে জীবন কাটাতে ১ মাসের সেহরি খাওয়া, ইফতার করা, তারাবি পড়া সবই তখন কবুল হবে। হজরত আলী (রা.) বলেছেন, তাকওয়া থাকলে কোনো আমলই কম হয় না।

লেখক : ইসলামী চিন্তাবিদ

8
কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে না থাকলে শরীরে দেখা দিতে পারে নানা সমস্যা। পাশাপাশি হৃদরোগ ও হার্ট অ্যাটাকের মতো কার্ডিওভাস্কুলার রোগ হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। তবে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমতে সাহায্য করে কিছু খাবার।

১. কমলার জুস
টকমিষ্টি স্বাদের কমলার রস কোলেস্টেরল কমানোর অত্যন্ত উপকারী। গবেষকেরা জানিয়েছেন, কমলার রস হাইপারকোলেস্টেরোলেমিয়া রক্তের লিপিড প্রোফাইলের উন্নতি ঘটায়। এর কারণ হচ্ছে কমলার রসে ভিটামিন সি, ফোলেট এবং হেসপিরিডিন এর মত ফ্লেভনয়েড থাকে।
২. গ্রিনটি
প্রতিদিন কয়েক কাপ গ্রিনটি পান করা সার্বিক কোলেস্টেরল এবং এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা কমানোর একটি সহজ উপায়। গ্রিনটি এর বিভিন্ন উপাদান পরিপাক নালীতে কোলেস্টেরলের শোষণ প্রতিহত করে এবং রেচনে সাহায্য করে। এছাড়াও গ্রিনটি ধমনীতে প্লাক জমা প্রতিহত করে এবং হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়।

৩. ওটমিল
সকালের নাস্তায় ওটমিল খাওয়া কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। ওটমিলের দ্রবণীয় ফাইবার কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। এটি রক্তস্রোতে কোলেস্টেরলের শোষণ কমায়। এছাড়াও নিয়মিত ওটমিল খেলে কার্ডিওভাস্কুলার ডিজিজ এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে। 

৪. কাঠবাদাম
হৃদস্বাস্থ্যের জন্য উপকারী মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট, পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং ফাইবার থাকে কাঠবাদামে, যা ভালো কোলেস্টেরল এইচ ডি এল এর মাত্রা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়।

২০১১ সালে নিউট্রিশন রিভিউতে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে বলা  হয় যে, কাঠবাদামের মত গাছের বাদাম খাওয়া এল ডি এল কোলেস্টেরলের মাত্রা কমতে সাহায্য করে। এর ফলে করোনারী ডিজিজ হওয়ার ঝুঁকি ৩ থেকে ৯ শতাংশ কমে।

সূত্র: টপ টেন হোম রেমেডিস


9

আমাদের স্বরযন্ত্রের দুই পাশে থাকা গ্রন্থির নাম থাইরয়েড। থাইরয়েড হরমোনের উৎপাদন করাই হল এর কাজ। থাইরয়েড হরমোন আমাদের শরীরের পক্ষে অত্যাবশ্যকীয় হরমোন। আমাদের শরীরের জন্য এই হরমোনের একটি নির্দিষ্ট মাত্রা আছে। ওই নির্দিষ্ট মাত্রার থেকে কম বা বেশি থাইরয়েড হরমোন উৎপাদিত হলেই শরীরে নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়।

সাধারণত মেয়েদের মধ্যে এই সমস্যা একটু বেশিই লক্ষ করা যায়। তবে কয়েকটি নিয়ম মানতে পারলে থাইরয়েডের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। আসুন সেগুলি সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক-
১) থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য খুব জরুরি একটি উপাদান হল প্রোটিন। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় অবশ্যই প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার-দাবার রাখা জরুরি। পনির, চিজ, ডিম, মুরগির মাংস ইত্যাদি প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার পরিমিত পরিমাণে খেতে পারলে থাইরয়েড গ্ল্যান্ড ঠিক মতো কাজ করতে পারবে।

২) আয়োডিন যুক্ত খাবার থাইরয়েডের সমস্যা কমাতে অত্যন্ত কার্যকরী। আয়োডিন যুক্ত লবণ ব্যবহার করে রান্না করা যেতে পারে। এছাড়া গাজর, কলা, দুধ, সামুদ্রিক মাছ, স্ট্রবেরি, শাকপাতা আর মৌসুমি সবজিতে প্রচুর পরিমাণে আয়োডিন রয়েছে। তাই পাতে রাখুন এই খাবারগুলি।

৩) থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে সঠিক ডায়েটের সঙ্গেই নিয়মিত শরীরচর্চার প্রয়োজন। সাঁতার বা সাইকেল চালানো থাইরয়েডের সমস্যা কমাতে অত্যন্ত কার্যকরী হতে পারে।

৪) থাইরয়েড গ্রন্থির ভাল ভাবে কাজ করার জন্য রাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম অত্যন্ত জরুরি। অনেকেই কাজের চাপে রাতে জেগে থেকে দিনে বা ভোরের দিকে ঘুমোতে যান। যদি দিনের বেলাতেও পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম হয়, সে ক্ষেত্রে কোনো ক্ষতি নেই। তবে থাইরয়েডের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পর্যাপ্ত ঘুম দরকার।


বিডি-প্রতিদিন/

10
দাঁত ব্যাথা এবং মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া এ ব্যাপারগুলো অনেক অসহ্যকর। আর এ সমস্যা সমাধানে আমরা কত কিছুইনা করি কিন্তু কোন লাভ হয়না, স্বল্প সময়ের জন্য তা কমলেও আবার তা শুরু হয়ে যায়।

এছাড়াও দাঁত ব্রাশ করার সময় মাড়ি থেকে অল্প অল্প রক্ত পড়ে আর তাতেই আমাদের অনেক অসহ্য লাগে, এই ব্যাপারটা যখন মারাত্মক পর্যায়ে চলে যায় তখন শক্ত খাবার খাওয়ার সময়ও মাড়ি থেকে রক্ত পড়ে
আর এরকম অবস্থা হলেই ডেন্টিস্টের পরামর্শ নেয়া উচিত। কিন্তু ঘরোয়া কিছু সহজ উপায় আছে যার মাধ্যমে সাময়িকভাবে দাঁতের মাড়ি থেকে রক্ত পড়া রোধ করা সম্ভব। চলুন জেনে নেওয়া যাক মাড়ি থেকে রক্ত পড়া রোধ করার কিছু প্রাকৃতিক উপায়-
১। লবণ পানি:
মাড়ি থেকে রক্ত পড়া বন্ধের জন্য ঘরোয়া পদ্ধতি হিসেবে প্রথমত কিছু গরম পানি নিন, এর সঙ্গে অল্প কিছু লবণ মিশান। এবার এই লবণ পানি দিয়ে দিনে তিনবার কুলি করুন। পদ্ধতিটি খুব সহজ এবং কার্যকরী এতে সাময়িক ভাবে অনেকটা স্বস্তি পাবেন।

২। অ্যালোভেরা জেল:
মাড়ি থেকে রক্ত পড়ার ক্ষেত্রে অ্যালোভেরা জেল অনেক উপকারী একটি পন্থা। মাড়িতে প্রতিরাতে অ্যালোভেরা জেল ম্যাসাজ করে লাগান। এতে মাড়ির রক্ত পড়া বন্ধ করতে সাহায্য করবে।

৩। গ্রিন টি:
মাড়ির রক্ত পড়া বন্ধ করতে গ্রিণ টি বেশ কার্যকর। গ্রিন টি দিয়ে কিছুক্ষণ কুলি করুন। এটি মাড়ির জীবাণু ধ্বংস করে এবং দ্রুত রক্ত পড়া বন্ধ করে দেয়।

৪। লবঙ্গের তেল:
লবঙ্গের তেল এর অনেক উপকারিতা রয়েছে যা আমাদের অজানা। লবঙ্গের তেল মাড়ির ইনফ্লামেশন রোধ করে মাড়ি থেকে রক্ত পড়া বন্ধ করতে সাহায্য করে। একটুখানি লবঙ্গের তেল নিয়ে মাড়িতে ঘষুন। অথবা এক বা দুটি লবঙ্গ চিবাতে পারেন। এটি আপনার মাড়ির রক্ত পড়া বন্ধ করে দিবে।

৫। শাক-সবজি ও ভিটামিন:
এছাড়াও এক্ষেত্রে সবচেয়ে উপকারী হলো আপনাকে নিয়মিত কাঁচা সবজি খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। কারন ফল এবং শাকসবজিতে থাকে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন, মিনারেল এবং ক্যালোরি থাকে কম। এটা রক্ত চলাচল সচল রেখে মাড়ির রক্ত পড়া বন্ধ করে দেয়।

বিডি প্রতিদিন/

11

বাজারে গেলে নানা ধরণেন শাক সবজি কেনার তালিকার সঙ্গে থাকে ধনেপাতা। আর এখন তো প্রায় ১২ মাসই বাজারে ধনেপাতা পাওয়া যায়। ধনেপাতায় আছে ১৫টির অধিক অত্যাবশ্যকীয় ভিটামিন ও খনিজ লবণ। তাই নিত্য খাদ্যতালিকায় এই ধনেপাতা রাখার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।

আমাদের আজকের এই প্রতিবেদন থেকে তাহলে জেনে নেওয়া যাক ধনে পাতার কার্যকারিতা-
১) ধনে পাতা শরীরের ক্ষতিকারক কোলেস্টেরলকে কমিয়ে উপকারী কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি করে।

২) ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের জন্য ধনে পাতা অত্যন্ত উপকারী। ইনসুলিনের ভারসাম্য বজায় রাখে, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ করে ধনেপাতা।

৩) দাঁত মজবুত করতে ও মাড়ির সুস্থতাতেও কাজে আসে এই পাতা।

৪) ধনে পাতার মধ্যে আয়রন থাকে। তাই রক্তস্বল্পতা রোধে সাহায্য করে।

৫) ধনে পাতায় রয়েছে অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান, যা বাত ব্যথাসহ হাড় ও জয়েন্টের ব্যথা উপশমে কাজ করে। এতে প্রচুর ক্যালসিয়াম আছে, যা হাড় মজবুত করে ও সুস্থ রাখে।

৬) স্মৃতিশক্তি প্রখর এবং মস্তিষ্কের নার্ভ সচল রাখতে সাহায্য করে ধনে পাতা।

 

বিডি-প্রতিদিন/

12
Fruit / বেগুনের অনন্য ৩ গুণ
« on: May 26, 2019, 12:57:35 PM »
এশিয়া মহাদেশ জুড়েই সারা বছর বেগুন পাওয়া যায়। বেগুনের প্রচুর পুষ্টিমূল্য রয়েছে। আমাদের আজকের এই প্রতিবেদনে বেগুনের অনন্য ৩ উপকারের কথা তুলে ধরা হলো-

১। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে-
 
আমাদের চারপাশে অনেকেরই ডায়াবেটিস আছে। নানা কারণেই তখন রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে যায়। তখন যদি প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় বেগুন রাখা যায় তাহলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
২। হজমে সাহায্য করে-
 
এই সময় অনেকেই কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগেন। এছাড়াও হজম ঠিক করে হয় না। বেগুনের মধ্যে ডায়েটারি ফাইবার থাকে। যা হজমে সাহায্য করে ও সেই সঙ্গে পুষ্টি দেয়।

৩। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়-
 
কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে ও নানা রকম রোগ জীবানুর প্রকোপ থেকে রক্ষা করে। এছাড়াও ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখে, হার্টের যে কোনও রকম রোগ থেকে দূরে রাখে।


বিডি-প্রতিদিন/

13
ঘরে ও বাইরে এখন প্রচণ্ড গরম। বৈশাখ মাস হলেও খুব একটা বৃষ্টির দেখা নেই। গরম থেকে বাঁচতে রাত-দিন ফ্যান চালাচ্ছেন, একটু সামর্থ্যবান হলে কিনে নিচ্ছেন এসি। তবে সমস্যা হচ্ছে বিদ্যুৎ বিল প্রতি মাসে বেড়েই চলেছে।।

এছাড়া বাতি, ফ্রিজ, কম্পিউটার, ওয়াশিং মেশিন, ওভেন, ব্লেন্ডার, আয়রন মেশিনসহ আরো অনেক কাজে বিদ্যুৎ খরচ তো হয়ই।

তবে এখন প্রশ্ন হলো এই গরমে বিদ্যুৎ বিল তো প্রতিমাসেই বাড়ছে। তবে আপনি জানেন কি? কিছু কৌশল মেনে চললে বিদ্যুৎ বিল কমে যাবে বা অতিরিক্ত বিল আপনাকে দিতে হবে না।

আসুন জেনে নেই গরমে বিদ্যুৎ বিল কমানোর ৯ কৌশল।

১. অহেতুক অপচয় করার মানসিকতা বাদ দিতে হবে। বাড়িতে অনেকগুলো ঘর থাকলে যে ঘরে কেউ থাকছে না সে ঘরের বাতি ও ফ্যান বন্ধ রাখুন।

২. ঘর থেকে বাইরে গেলে বাতি, ফ্যান ও অন্যান্য বৈদ্যুতিন যন্ত্রের সুইচ বন্ধ করে বের হন।

৩. কিছুদিনের জন্য কোথাও বেড়াতে গেলে মেইন সুইচ বন্ধ করতে ভুলবেন না।

৪. প্রাকৃতিক আলো-হাওয়ায় ভরসা রাখতে হবে। ঘরের দেয়াল, ছাদ, পর্দা ও আসবাবপত্র সমূহে সাদা রঙের ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ খরচ কম হয়। ঘর ঠাণ্ডা থাকে।

৫. ফ্রিজে গরম খাবার রাখবেন না। গরম খাবার রাখলে মাসে এক দিন ফ্রিজ খালি করুন। ফ্রিজ পরিষ্কার করুন ও অপ্রয়োজনে ফ্রিজ চালাবেন না।

৬. এসি চালানোর ব্যাপারে সতর্ক হন। সারারাত এসি চালাবেন না। তিন ঘন্টা এসি চালানোর পর ফ্যান চালিয়ে দিন।

৭. একবারে অনেকগুলো কাপড় একসঙ্গে ইস্ত্রি করুন। ততে বিদ্যুৎ খরচ বাঁচবে।

৮. এলইডি আলো প্রচুর বিদ্যুৎ বাঁচায়। বাড়িতে এলইডি লাইট ব্যবহার করুন।

৯. ল্যাপটপ, মোবাইল এবং ডিজিটাল ক্যামেরাসহ অন্যান্য বৈদ্যুতিক সরজ্ঞাম চার্জ দেওয়ার পর চার্জার খুলে রাখুন।

সূত্র : জি নিউজ

14
 উত্তর : কবুল রোজা একমাত্র আল্লাহর জন্য, এর বদলা আল্লাহ নিজ হাতে দেবেন। এ ছাড়াও পরকালীন ফল সম্পর্কে রাসূল সা. বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজান মাসের রোজা ঈমান ও সওয়াব লাভের চেতনা সহকারে আদায় করবে, তার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী গোনাফ মাফ হয়ে যাবে।’ মোটকথা, রোজা রাখতে হবে ঈমান সহকারে যে, তা আল্লাহপাক ফরজ করেছন। তা অবশ্যই পালন করতে হবে। রোজা রাখার ফলেই আল্লাহর সন্তুষ্টি ও রেজামন্দি অর্জন করা সহজতর হয়। তা ছাড়া রোজা রাখতে হবে এহতেছাব বা দৃঢ়সঙ্কল্প সহকারে। কেননা, মাকবুল রোজার বিনিময় আল্লাহপাক কতখানি প্রদান করবেন, তা কেবল তিনিই জানেন। তাই রোজা পালনের অফুরন্ত বিনিময় লাভের প্রত্যাশাকে দৃঢ় হতে দৃঢ়তর করে তুলতে হবে।


Source:https://www.dailyinqilab.com/article/204811/

15
উত্তর : এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমাদের নিকট রমজান মাস সমুপস্থিত। তা অত্যন্ত বরকতময় মাস। আল্লাহ তায়ালা এই মাসের রোজা তোমাদের প্রতি ফরজ করেছেন। এই মাসে আকাশের দুয়ারসমূহ উন্মুক্ত হয়ে যায়। এই মাসে জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয় এবং এই মাসে বড় বড় ও সেরা শয়তানগুলো আটক করে রাখা হয়। আল্লাহরই জন্য এই মাসে একটি রাত আছে, যা হাজার মাস অপেক্ষাও অনেক উত্তম। যে লোক এই রাত্রির মহাকল্যাণ লাভ হতে বঞ্চিত থাকল সে প্রকৃতই বঞ্চিত ব্যক্তি।


Source:https://www.dailyinqilab.com/article/203150/

Pages: [1] 2 3 ... 14