Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Topics - Md. Neamat Ullah

Pages: [1] 2 3 ... 8
1
উচ্চ রক্তচাপ কমায় তেঁতুল


তেঁতুল মূলত দক্ষিন এশিয়াতেই পাওয়া যায়।টক স্বাদের এ ফলটি বিভিন্ন খাবার ও পানীয় তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এতে শরীরের প্রয়োজনীয় ফাইবার, খনিজ ও ভিটামিন রয়েছে। এ কারণে এটি স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ উপকারী। তেঁতুলে যেসব উপকারিতা পাওয়া যায়-

১. প্রাচীনকালে বিভিন্ন চিকিৎসায় তেঁতুল ব্যবহার করা হত। যেসব শিশুরা পেটের সমস্যায় ভূগছে তাদের জন্য এটি বেশ উপকারী। এটি অ্যাসিডিটি দূর করতেও সাহায্য করে। তেঁতুলে থাকা ফাইবার কোষ্টকাঠিন্য দূর করে। তেঁতুলের বীজ ডায়রিয়া ও আমাশয়ের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়।

২. তেঁতুলে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ফ্রি রেডিকেলের বিরুদ্ধে কাজ করে। এতে থাকা ফাইবার কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে।

৩. তেঁতুলে পটাশিয়াম থাকায় এটি উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে হৃৎপিণ্ডকেও ভাল রাখে। এতে থাকা আয়রন শরীরে লোহিত রক্তকণিকা তৈরি করে।

৪. প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ থাকায় তেঁতুল চোখের জন্যও উপকারী। এতে থাকা এক ধরনের রাসায়নিক চোখের শুষ্কতা দূর করে।


৫. তেঁতুল শক্তিশালী প্রতিরোধক। এটি স্কার্ভি জাতীয় চর্মরোগ এবং যেকোন ধরনের সংক্রমণ সারায়। জ্বর নিরাময়েও এটি কার্যকরী।

৬. তেঁতুলে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় এটি ত্বককে ফ্রি রেডিকেল থেকে রক্ষা করে। ত্বক হালকা পুড়ে গেলে তা সারাতেও তেঁতুল ভুমিকা রাখে।

2
Fruit / চুইঝাল কেন খাবেন?
« on: March 30, 2019, 04:17:28 PM »
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা বাগেরহাট, খুলনা, নড়াইল, যশোর, সাতক্ষীরা এলাকায় জনপ্রিয় একটি ঝাল হলো চুইঝাল। বর্তমানে দেশের অন্যান্য জেলাতেও ঝাল হিসেবে এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে। চুই ঝালের উপকারিতা সম্বন্ধে সম্যক ধারণা দিতেই আমার এই লেখা। চুই লতা জাতীয় গাছ। এর কাণ্ড ধূসর এবং পাতা পান পাতার মতো, দেখতে সবুজ রংয়ের। চুইঝাল খেতে ঝাল হলেও এর রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ঔষধি গুণ।


চুইলতার শিকড়, কাণ্ড, পাতা, ফুল- ফল সবই ভেষজ গুণসম্পন্ন। এছাড়াও মসলা হিসেবেও এটি ব্যবহৃত হয়। তবে ঝাল হিসেবে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় হাঁসের মাংস ও গরুর মাংস রান্না করতে।

মূলত,রান্নার জন্যে চুইঝালের কাণ্ড ব্যবহার করা হয়। চুইঝালে দশমিক ৭ শতাংশ সুগন্ধি তেল থাকে। এছাড়াও এতে রয়েছে আইসোফ্লাভোন, অ্যালকালয়েড, পিপালারিটিন, পোপিরন, পোলার্টিন,

গ্লাইকোসাইডস,মিউসিলেজ, গ্লুকোজ, ফ্রুকটোজ, সিজামিন, পিপলাস্টেরল থাকে। চুই এর শিকড়ে রয়েছে ১৩.১৫ শতাংশ পিপারিন।

আসুন এবার জেনে নিই চুইঝালের উপকারিতা:-

সমূহরুচি বাড়াতে: সমূহরুচি বাড়াতে খাবারের রুচি বাড়াতে ও ক্ষুধামন্দা দূর করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

ক্যানসার প্রতিরোধে: এতে প্রচুর পরিমাণে আইসোফ্লাভোন ও অ্যালকালয়েড নামক ফাইটোক্যামিকাল রয়েছে যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং ক্যানসার প্রতিরোধে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।
হৃদরোগ প্রতিরোধে: দেহে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে এটি হৃদরোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

পাকস্থলীর সমস্যা দূরীকরণে: পাকস্থলী ও অন্ত্রের প্রদাহ দূর করে। তাছাড়া গ্যাস্ট্রিক ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

মানসিক প্রশান্তিতে: স্নায়ুবিক উত্তেজনা ও মানসিক অস্থিরতা প্রশমন করে।

ব্যথা দূর করতে: আমাদের শরীরের বিভিন্ন ধরনের ব্যথা দূর করে শরীর সতেজ রাখতে সহায়তা করে।

ঘুমের ওষুধ হিসেবে: এটি ঘুমের ওষুধ হিসেবে কাজ করে এবং শারীরিক দুর্বলতা কাটাতে সাহায্য করে।

প্রসূতি ব্যথা: প্রসূতি মায়ের প্রসব-পরবর্তী ব্যথা প্রশমনে ভালো কাজ করে চুইঝাল। সদ্যপ্রসূতি মায়েদের শরীরের ব্যথা কমাতে চুইঝাল ম্যাজিকের মতো কাজ করে।

অ্যাজমা ও ব্রংকাইটিস রোগের ওষুধ হিসেবে: অ্যাজমা ও ব্রংকাইটিস রোগের ওষুধ হিসেবে কাজ করে।ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকজনিত রোগপ্রতিরোধে চুইঝাল বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকজনিত রোগপ্রতিরোধে সাহায্য করে।

সুতরাং, নিঃসন্দেহে বলা যায় যে মরিচের বিকল্প হিসেবে চুইঝালের জনপ্রিয়তা বাড়লে দেশের হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। একই সঙ্গে ভেষজ গুণ থাকার কারণে অনেক রোগব্যাধির আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।

শিক্ষার্থী ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগ, জীববিজ্ঞান অনুষদ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।

3
Human Nutrition / আতা ফলের ১০ গুণ
« on: March 30, 2019, 04:03:32 PM »
আতা ফল আমরা সবাই চিনি। অনেকের প্রিয় ফলের মধ্যে হয়তো আতাও আছে। এটি শরীফা, সিতাফল এবং নোনা নামেও পরিচিত। এই ফলের ভিতরে থাকে ছোট ছোট কোষ। প্রতিটি কোষের ভেতরে থাকে একটি করে বীজ, বীজকে ঘিরে থাকা নরম ও রসালো অংশই খেতে হয়।


পাকা ফলের বীজ কালো এবং কাচা ফলের বীজ সাদা। বীজ বিষাক্ত। এটি গুচ্ছিত ফল অর্থাৎ একটি মাত্র পুষ্পের মুক্ত গর্ভাশয়গুলো হতে একগুচ্ছ ফল উৎপন্ন হয় ৷

আতা ফলের বেশ কয়েকটি প্রজাতি ও প্রকরণ আছে। সবগুলোকেই ইংরেজিতে ‘কাস্টার্ড অ্যাপল’, ‘সুগার অ্যাপল’, ‘সুগার পাইন এপল’ বা ‘সুইটসপ’ বলা হয়। অঞ্চলভেদে নামের কিছু পার্থক্য রয়েছে আতা ফলে। এতে রয়েছে প্রচুর পুষ্টি উপাদান। যা আপনার শরীরের বিভিন্ন রোগের প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে থাকে।

আপনি হয়ত জানেন না, আতা দুগ্ধজাত পণ্যের বিকল্প হিসেবে অনেক দেশে এটি পছন্দ করে। চলুন জেনে নেয়া যাক আতার স্বাস্থ্য উপকারিতা-

(১) ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ: আপনি যদি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন, তাহলে রক্তের গ্লুকোজ মাত্রা কমাতে আতা ফল খাওয়া শুরু করুন। এছাড়াও, কাস্টার্ড আপেলের ডায়াবেটিস ফাইবারের উপস্থিতিতে চিনির শোষণ কমানো যায়।

(২) হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধ: আতা ফলে থাকা ম্যাগনেসিয়াম আপনার কার্ডিয়াক সমস্যা প্রতিরোধে সাহায্য করে। সেইসঙ্গে এতে থাকা ভিটামিন বি-৬ হোমোকিসস্টাইন নিয়ন্ত্রণ করে। এবং এই ফলে আছে অ্যামিনো অ্যাসিড যা হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।

(৩) ক্ষত শুকায়: গবেষকদের মতে, আতা ফলের বীজগুলো ক্ষত শুকাতে সাহায্য করে। এই বীজ ব্যবহারের মাধ্যমে ত্বকের গভীরে থাকা কোষের পুনঃবৃদ্ধি পায় এবং ক্ষত স্থানের ব্যথা তাৎক্ষণিকভাবে পালায়। এই বীজে এন্টি-ব্যাকটেরিয়াল প্রোপার্টি রয়েছে।

(৪) বদহজম প্রতিরোধক: তামা ও ডায়াটেরি ফাইবার সমৃদ্ধ এই ফলটি খুব সহজেই হজম হয়। এবং শরীর এর গুণাগুণ তাৎক্ষণিক পেতে থাকে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, আতা ফলের গুড়া এক গ্লাস পানিতে মিশিয়ে খেলে আপনার ডায়রিয়ার সমস্যাও মুহূর্তেই গায়েব হবে।

(৫) ক্যান্সার প্রতিরোধ: এক গবেষণায় দেখা গেছে, আতা গাছের পাতার নির্যাস স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। স্তনের কোষে থাকা বিষাক্ত টক্সিন দূর করে। এছাড়া অ্যান্টি-অক্সিডেন্টপূর্ণ আতা ফল আপনার শরীরের কোষগুলোকে বিভিন্ন ড্যামেজ থেকে রক্ষা করে।

(৬) ত্বক এবং চুলের যত্নে: আতা ফল ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ। যা আপনার ত্বক ও চুলের জন্য জাদুকরী ভূমিকা পালন করে। এটি যখন ত্বক ও চুলে ব্যবহার করা হয় তখন এটি ময়শ্চারাইজিং এজেন্ট হিসাবে কাজ করে। এমনকি এটি আপনার চেহারায় বয়স্কের ছাপ প্রতিরোধ করে। আতা ফলেরর ছোট ছোট কোষগুলো আলসারের বিরুদ্ধে কার্যকরী।

(৭) দাঁত ও মাড়ি মজবুত করে: বিশেষজ্ঞরা সপ্তাহে অন্তত একবার দাঁত পরিষ্কার করার জন্য আতা ফলের চামড়া ব্যবহার করে সুপারিশ করেন। এটি ব্যবহারের ফলে দাঁত ক্ষয় রোধ হয় এবং মাড়িকে আরো মজবুত করে।

(৮) হাঁপানি প্রতিরোধক: হাঁপানি রোগী হিসাবে যদি আপনি মূলার রস খেয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই আতা ফলের রস খাবেন। এটি ভিটামিন বি-৬ সমৃদ্ধ যা আপনার হাঁপানি (অ্যাস্থমা) প্রতিরোধে সাহায্য করবে।

(৯) ওজন বাড়ায়: আপনি কি ওজন বাড়াতে চান? আপনাকে যা করতে হবে তা হল- একটি বাটি নিন, কিছু মধু এবং আতা ফলের ছোট ছোট বীজগুলো মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরী করুন। প্রতিদিন এই মিশ্রণটি খান। দেখবেন কয়েক মাসের মধ্যে আপনার ওজন বাড়ছে।
(১০) গর্ভাবস্থায় সহায়ক: গাইনোকোলজির মতে, গর্ভাবস্থায় আতা ফল খাওয়া গর্ভপাতের ঝুঁকি হ্রাস করে। সকালের দূর্বলতা নিয়ন্ত্রণ করে এবং শারীরক ব্যাথার উপশম ঘটায়। গর্ভাবস্থার পরে আতা ফল খাওয়ার ফলে স্তনে দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।

4
বাংলাদেশের অন্যতম বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স সিলেটবাসীর জন্য প্রতিদিন তিনটি ফ্লাইট চালু করছে। আগামী ৩১ মার্চ থেকে চালু হবে এ যাত্রীসেবা।


বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইউএস-বাংলা।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঢাকা-সিলেট-ঢাকা রুটে প্রতিদিন সকাল-দুপুর-সন্ধ্যাবেলায় মোট তিনটি ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউএস-বাংলা।

সিলেটবাসীর প্রত্যাশা অনুযায়ী গত বছর ১২ সেপ্টেম্বর থেকে দুপুরের ফ্লাইটের সঙ্গে একটি সান্ধ্যকালীন ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করেছে ইউএস-বাংলা। আগামী ৩১ মার্চ থেকে দুপুর ও সন্ধ্যার ফ্লাইটের অতিরিক্ত সকালবেলা একটি ফ্লাইট পরিচালিত হবে।

ঢাকা-সিলেট রুটে প্রতিদিন সকাল ৭টা, দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিট ও সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে ঢাকা থেকে দুটি পাতা একটি কুঁড়ির শহর সিলেটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে এবং সিলেট থেকে সকাল ৮টা ১০ মিনিট, দুপুর ১টা ৪৫ মিনিট ও রাত ৮টা ৪০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসবে।

প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে ঢাকা-সিলেট রুটে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স যাত্রীসাধারণের সুবিধার্থে সকালে ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্তে ট্রাভেল এজেন্টসহ সিলেটবাসী উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।

এখন থেকে ৭২ আসনের ব্র্যান্ড নিউ এটিআর ৭২-৬০০ ও ৭৬ আসনের ড্যাশ৮-কিউ৪০০ সিরিজের এয়ারক্রাফট দিয়ে ঢাকা-সিলেট রুটে ফ্লাইট পরিচালিত হবে। বর্তমানে ঢাকা-সিলেট রুট ছাড়াও বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সব রুটে ইউএস-বাংলা ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে।

অভ্যন্তরীণ রুট ছাড়াও কলকাতা, সিঙ্গাপুর, কুয়ালালামপুর, ব্যাংকক, গুয়াংজু, মাস্কাট, দোহা রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে ইউএস-বাংলা।

5
এই ফলটি চিনেন? ফলের নামটা জানা, তবে খুব একটা পরিচিত না। বর্ষার এই ফল তেমন জনপ্রিয় না হলেও অসাধারণ ভেষজ পুষ্টিগুণ সম্পন্ন। ভাবছেন কোন ফল? ডেউয়া বা ডেউফল। টক মিষ্টি স্বাদের ডেউয়া ফল কাঁঠালের মতো ছোট ছোট কোষে বিভক্ত। বৃষ্টির মৌসুমে ভর্তা করে খেতে খুবই সুস্বাদু এই ফল।

বিশাল আকৃতির ডেউয়া গাছ চিরসবুজ বৃক্ষ। পাতাগুলো বড় এবং খসখসে, অনেকটা ডুমুরের পাতার মতো। এক একটি গাছ ২০-২৫ ফুট উঁচু হয়। এর কাঠ বেশ উন্নত মানের, বড় বড় জিনিসের কাঠামো তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। গাছে ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ফুল আসে এবং জুন মাসের দিকে ফল পাকতে শুরু করে।

ডেউয়া ফলটি গোলাকৃতির, ২-৫ ইঞ্চি চওড়া হয়, পাকলে হলুদ রং ধারণ করে। প্রতিটি ফলের মধ্যে ২০-৩০টি বীজ থাকে। বীজের গায়ের মাংসল অংশটাই খাওয়া হয়। প্রতিটি ফল ২০০-৩৫০ গ্রাম হতে পারে।

ডেউয়া গাছ ১০-১৫ মিটার লম্বা হয়। ফল সুস্বাদু এবং উপকারী। ফল কাঁঠালের ন্যায় যৌগিক বা গুচ্ছফল। বহিরাবরণ অসমান। কাঁচা ফল সবুজ, পাকলে বহিরাবরণ হলুদ। ভেতরের শাঁস লালচে হলুদ। ফলের ভেতরে থাকে কাঁঠালের ছোট কোয়ার (কোষের) মতো কোয়া এবং তার প্রতিটির মধ্যে একটি করে বীজ থাকে।

গ্রামাঞ্চলে অত্যন্ত পরিচিত একটি ফল। তবে শহরে তেমন চাহিদা না থাকায় বর্তমানে এর চাষ অনেকটা কমে এসেছে। ফলে না জেনেই আমরা মিস করে যাচ্ছি পুষ্টির এক বড় উৎস।ভিটামিন সি ও ক্যালসিয়ামের আধার বলা হয় ডেউয়া ফলকে। এগুলো ছাড়াও ডেউয়া ফলে রয়েছে অন্যান্য পুষ্টি উপাদান। ডেউয়া ফলের খাদ্যযোগ্য প্রতি ১০০ গ্রাম অংশে রয়েছে –

খনিজ- ০.৮ গ্রাম, খাদ্যশক্তি- ৬৬ কিলোক্যালরি, আমিষ- ০.৭ গ্রাম, শর্করা- ১৩.৩ গ্রাম, ক্যালসিয়াম- ৫০ মিলিগ্রাম, লৌহ- ০.৫ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি১- ০.০২ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি২- ০.১৫ মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি- ১৩৫ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম- ৩৪৮.৩৩ মিলিগ্রাম।

তাই আজ জানবো ডেউয়া ফলের অজানা কিছু উপকারিতা নিয়ে।

১. অনিয়ন্ত্রিত ওজন এ সময়ের একটা বড় সমস্যা। অথচ ঠাণ্ডা পানিতে ডেউয়া ফলের রস মিশিয়ে নিয়মিত পান করলেই আমরা আমাদের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারি। এমনকি ডেউয়া ফল রোদে শুকিয়ে নিয়ে অফ সিজনেও খেতে পারি।


২. মুখের রুচি ফিরে পেতে খেতে পারেন এই ফল। ডেউয়া ফলের রসের সঙ্গে সামান্য লবণ ও গোলমরিচের গুঁড়া মিশিয়ে খাওয়ার আগে খেতে হবে। দেখবেন সপ্তাহ না পেরুতেই রুচি ফিরে এসেছে।

৩. পেট পরিষ্কার না থাকলে সারাদিন কাটে অস্বস্তিতে। তাই বলা যেতেই পারে ‘পেট শান্তি তো সব শান্তি’। পেটের গণ্ডগোল থেকে রেহাই পেতে সকালে খালি পেটে খান কাঁচা ডেউয়া। এজন্য গরম পানির সঙ্গে কাঁচা ডেউয়া বাটা মিশিয়ে নিবেন।

৪. এই বিদ্যমান ভিটামিন সি ত্বক, চুল ও দাঁতের নানা রোগ প্রতিরোধ করবে। আর ক্যালসিয়াম দাঁত ও হাড়ের ক্ষয় প্রতিরোধ করে। আর পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়।

6
গর্ভাবস্থায় পড়া ত্বকের দাগ দূর করার জন্য রয়েছে প্রাকৃতিক উপাদান।

গর্ভাবস্থায় শারীরিক পরিবর্তনের কারণে পেটে, উরুতে, শরীরের বিভিন্ন ভাঁজে এমনকি হাতেও দাগ হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে এই ধরনের দাগ শল্যচিকিৎসার মাধ্যমে পুরোপুরি নিরাময় করা যায়। এছাড়া লেজার চিকিৎসার মাধ্যমেও দাগ দূর করা সম্ভব।

তবে এসব চিকিৎসার খরচের ব্যাপার। তাই বাজারে পাওয়া যায় এরকম দাগ ওঠানোর ক্রিমের যথেষ্ট কদর রয়েছে।

ক্রিম ছাড়াও প্রাকৃতিক উপাদান দিয়েও গর্ভকালীন ত্বকের দাগ ওঠানো না গেলও বেশ হালকা করা সম্ভব।

আর সেসব প্রচলিত তবে প্রতিষ্ঠিত ঘরোয়া পদ্ধতি নিয়ে ত্বকবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে কয়েকটি পন্থা এখানে দেওয়া হল।

অ্যাপ্রিকট স্ক্রাব: উন্নত অ্যাপ্রিকট স্ক্রাব মৃত ও ক্ষতিগ্রস্ত কোষ সরিয়ে ত্বকের দাগ দূর করে। এটা চামড়া সুন্দর ও মসৃণ করতে সাহায্য করে ফলে দাগ দূর হয়।

অ্যালো ভেরা: দাগের ওপর অ্যালো ভেরার শাঁস মালিশ করুন। এটা ত্বক টানটান করতে সাহায্য করে। এর রস ত্বকের ক্ষতিগ্রস্ত কোষ সারায় এবং আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে।

ল্যাভেন্ডার তেল: দাগ সারাতে ল্যাভেন্ডার তেল খুব ভালো কাজ করে। দিনে তিনবার আক্রান্ত স্থানে এটা ব্যবহার করলে নতুন কোষ জন্মায় এবং আস্তে আস্তে দাগ দূর হয়।

অ্যারোমেটিক বা সুগন্ধি তেল: সুগন্ধি তেল যেমন- কেমোমাইল, অ্যাভোকাডো, কাঠবাদাম এবং জোজোবা তেল দাগ দূর করতে সাহায্য করে।

এই তেলগুলোর সঙ্গে ল্যাভেন্ডার তেল মেশালে দাগ ওঠানোর জন্য খুব ভালো কাজ করে এবং আবার দাগ ফিরে আসা এড়াতে সাহায্য করে।

ভিটামিন ই ক্যাপ্সুল: আক্রান্ত স্থানে ভিটামিন ই ক্যাপ্সুল দিনে দুবার মালিশ করুন। এটা ত্বক খুব ভালোভাবে আর্দ্র রাখে এবং দ্রুত দাগ সারাতে সাহায্য করে।

লেবুর রস: আক্রান্ত স্থানে লেবুর রস মালিশ করে ১০ মিনিট অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলুন।

ডিমের সাদা অংশ: ডিম ভেঙে ভেতরের সাদা অংশ আলাদা করে নিন। আক্রান্ত স্থানে সাদা অংশ মালিশ করুন। এটা দাগ সারাতে সাহায্য করবে।

আলুর রস: একটা আলু রস করে নিন। দাগাক্রান্ত স্থানে আলুর রস মালিশ করুন। শুকিয়ে যাওয়ার পর কুসুম গরম পানি দিয়ে তা ধুয়ে নিন।

7
মার্চ মাস জুড়ে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স সিঙ্গাপুর ভ্রমণকারীদের দিচ্ছে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা।


এই সুবিধাগুলো উপভোগ করতে ২৮ মার্চের মধ্যেই টিকিট বুকিং দিতে হবে এবং সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সুবিধাগুলোর মেয়াদ থাকবে।

সর্বনিম্ন ফিরতি টিকেটের মুল্য; সিঙ্গাপুরের টিকিটের জন্য গুনতে হবে ২৩,১০০ টাকা, চীনের গুয়াংযোও যেতে লাগবে ৩২,১০০ টাকা, লস অ্যাঞ্জেলসের জন্য ৬৮,৪০০ টাকা, সিডনির জন্য ৬২,৬০০ টাকা আর লন্ডনের খরচ ৬১,৩৫০ টাকা। বিস্তারিত জানতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন http://bit.ly/2SXt4Yt

এদের সঙ্গে থাকা সুবিধাগুলোর মধ্যে অন্যতম হল তাদের ‘বোর্ডিং পাস প্রিভিলেজ’ ও ‘চাঙ্গি ট্রাঞ্জিট প্রোগ্রাম’।

বোর্ডিং পাস প্রিভিলেজ

সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে গিয়েও খরচ বাঁচানো যাবে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের বোর্ডিং পাস দিয়ে।

সিঙ্গাপুরের ‘গার্ডেনস বাই দা বে’, ‘জুরং বার্ড পার্ক’, ‘নাইট সাফারি’, ‘সিটি ট্যুর’, ‘সিঙ্গাপুর ফ্লায়ার’, ‘সেন্তোসা’, ‘ইউনিভার্সাল স্টুডিও’-সহ আরও অনেক দর্শনীয় স্থানে ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্য ছাড় রয়েছে।

এছাড়াও সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন অভিজাত রেস্তোরাঁয় খাওয়ার ক্ষেত্রে পাওয়া যাবে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত মূল্য ছাড়। এদের মধ্যে কয়েকটি রেস্তোরাঁ হল ‘বিস্ট অ্যান্ড বাটারফ্লাই’, ‘ফেয়ারমন্ট সিঙ্গাপুর’, ‘জাম্বো সিফুড, ‘ওরিয়েন্ট প্যালেস’, ‘দ্য ওয়াইনারি’ ইত্যাদি।

এছাড়াও সিঙ্গাপুরের ছয়টি আবাসিক হোটেলে কক্ষ ভাড়া নেওয়ার ক্ষেত্রে মূল্য হ্রাস উপভোগ করা যাবে। ‘নেচারল্যান্ড’ এবং ‘সেরেনা স্পা বাই হো ওয়েলনেস’ থেকে সেবা নেওয়ার ক্ষেত্রে পাওয়া যাবে আকর্ষণীয় সুবিধা ও মূল্য ছাড়।

বিমানবন্দরে ‘ট্রানজিট’য়ে থাকাকালীন অলস সময় কাটাতে সেখানের রেস্তোরাঁগুলোতে পাওয়া যাবে ১০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত মূল্য ছাড়। এছাড়াও সিঙ্গাপুরের বাইরের বিভিন্ন রেস্তোরাঁতেও সুবিধা উপভোগ করার সুযোগ দেবে ‘বোর্ডিং পাস প্রিভিলেজ’।

এই সুবিধাগুলো পেতে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সে ভ্রমণ করার এক মাসের মধ্যে বোর্ডিং পাসটি উপস্থাপন করতে হবে। বিস্তারিত জানতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন http://bit.ly/2TgOlfZ

চাঙ্গি ট্রাঞ্জিট প্রোগ্রাম

ঢাকা থেকে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের যে কোনো গন্তব্যে যাওয়ার সময় যদি ট্রানজিটের সময় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে থাকে তাহলে চাঙ্গি এয়ারপোর্ট টার্মিনাল-২ অথবা ৩ থেকে ২০ সিঙ্গাপুর ডলারের একটি ভাউচার সংগ্রহ করা যাবে। যা দিয়ে ট্রানজিট এলাকায় কেনাকাটা করা যাবে অথবা ‘অ্যাম্বাসেডর ট্রানজিট লাউঞ্জ’ ব্যবহার করা যাবে। বিস্তারিত জানতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুণ http://bit.ly/2Tco8z7

সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের সুযোগ সুবিধাগুলো আপনার জন্য কতটুকু প্রযোজ্য বা লাভজনক তা যাচাই করতে ঘুরে আসতে পারেন তাদের ওয়েবসাইটে http://singaporeair.com

সুবিধাগুলো পছন্দ হলে ব্যাগ গুছিয়ে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের হাত ধরে পরিবার কিংবা বন্ধুবান্ধব মিলে বেড়িয়ে আসুন সিঙ্গাপুর থেকে।

- বিজ্ঞপ্তি।

8
রোজার মাসে সবাই যেন খাবারের প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ে। সারা দিন না খাওয়ার অভাবটুকু ইফতারে পুষিয়ে নেওয়ার জন্য কি এই প্রতিযোগিতা? কে কত খেতে বা রান্না করতে পারে। কিন্তু এসব ভাজাপোড়া, গুরুপাক খাবার খেয়ে কী হতে পারে, তাও জেনে রাখা জরুরি। সারা দিন রোজা রেখে পাকস্থলী খুব ক্ষুধার্ত ও দুর্বল থাকে। তারপর যদি এত রকম গুরুপাক খাবার একসঙ্গে খেলে পেটের সমস্যা, মাথাব্যথা, দুর্বলতা, অবসাদ, আলসার, অ্যাসিডিটি, হজমের সমস্যা ইত্যাদি দেখা দেবে। ওজনও বাড়তে থাকে।
পুষ্টিবিদ আখতারুন নাহার বলেন, রোজায় দামি খাবার খেতে হবে এমন নয়; বরং সুষম, সহজপাচ্য ও পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। গুরুপাক খাবার, পোড়া তেল, বাইরে ভাজা চপ, পেঁয়াজি, বেগুনি, কাবাব, হালিম, মাংসজাতীয় খাবার না খাওয়া ভালো। এতে হজমে নানাবিধ সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ইফতারে যা খাবেন

দিনের বেলায় দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কারণে রোজার শেষে শরীর, মস্তিষ্ক ও স্নায়ুকোষ খাবারের মাধ্যমে তাত্ক্ষণিক শক্তির জোগান চায়। তাই দীর্ঘ সময় পর ইফতারে খাবারটাও তেমন সহজ ও সুপাচ্য হওয়া চাই। চাই স্বাস্থ্যকর, পুষ্টিকর ও সুষম খাবার। দামি খাবার খেতে হবে এমন ধারণা সঠিক নয়।
নিজেকে ইফতারির সামনে সংযত করুন। আস্তে আস্তে খাওয়া শুরু করুন। খেজুর খেয়ে ইফতার শুরু করতে পারেন। এরপর সাধারণ পানি এক থেকে দুই ঢোক পান করুন। তারপর এক গ্লাস বানানো ফলের শরবত হলে ভালো হয়। এভাবে আস্তে আস্তে বাকি খাবার খান। পুরো পেট ভরে খাবেন না, বরং পেট খালি রাখবেন। তারপর প্রয়োজন মতো কিছুক্ষণ পরপর পানি খাবেন।
চিড়া, চালের জাউ ইত্যাদি খাওয়া যেতে পারে। ইফতারের পর রাতের খাবারটাও কিছুটা হালকা ও সহজে হজম হয় এমন হওয়া উচিত। ভাতের সঙ্গে সবজি বেশি থাকা চাই। তা না হলে এই সময়ে কোষ্ঠকাঠিন্য হবে নিত্যসঙ্গী।
লাউ, লাউশাক, মিষ্টি কুমড়া, শসা, পটোল, ঝিঙে, কচুশাক, কচু ইত্যাদি ঝোলের তরকারি হিসেবে খেতে পারেন। এক টুকরা মাছ অথবা এক টুকরা মাংস খেতে পারেন।
বেশি বেশি চিনিযুক্ত খাবার বাদ দিলে ভালো হয়। বাদ না দিতে পারলে অল্প পরিমাণে খেতে পারেন। এটা খুব তাড়াতাড়ি রক্তে চিনির মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, ওজন বাড়ায়। তাই যতটা সম্ভব চিনি ও চিনিযুক্ত খাবার কম খান।
মাঝে মাঝে গরম পড়ছে, তাই ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি না খেলে হজমের সমস্যা হবে। ইফতারের পর থেকে ঘুমাতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত একটু পরপর পানি খেতে হবে।

সাহ্‌রিতে যা খাবেন

খুব বেশি পরিমাণে খাবার না খেয়ে রুচি অনুসারে স্বাভাবিক খাবার খাবেন। পেটের এক-চতুর্থাংশ খালি রাখবেন। আর মনে রাখবেন, একজন মানুষের সারা দিন যে পরিমাণ পানি ক্ষরিত হয়, সেই পরিমাণ রাতে পান করা উচিত।

রোজায় অ্যাসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হলে কী করবেন?
প্রথম ও প্রধান করণীয় হলো যেসব খাবারে অ্যাসিডিটি হয় বা হচ্ছে যেমন: ভাজাপোড়া, চর্বিজাতীয় খাবার ইত্যাদি বেশি গ্রহণ করা যাবে না। খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিতে পারলে বেশি ভালো। সহজপাচ্য খাবার গ্রহণ করা উচিত। একেবারে পেট ভরে খাবার গ্রহণ করা যাবে না। খাবার গ্রহণের পর হাঁটাহাঁটি করা উচিত। বিশেষ করে নামাজের আগে পেট পুরে না খেয়ে বা খেলে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করার পর নামাজ পড়া উচিত। শোবার সময় মাথা উঁচু করে শুতে হবে। অ্যাসিডিটির কারণে পেটে ব্যথা হলে অ্যাসিডিটি কমানোর ওষুধ দেওয়া যেতে পারে। অনেক সময় দেখা যায়, ইফতারের পর হঠাৎ পেটে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভূত হয়। যা মারাত্মক হতে পারে, তখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

মনে রাখবেন
খাদ্যতালিকায় সব ধরনের খাবার অর্থাৎ সুষম খাবার খাচ্ছেন কি না। যেমন: আমিষ, শর্করা, ফ্যাট, ভিটামিন, দুধ, দই, মিনারেল, আঁশ ইত্যাদি। ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার পর্যাপ্ত খাচ্ছেন তো? যেমন: লাল আটা, বাদাম, বিচি, শস্য, ছোলা, ডাল ইত্যাদি খেতে হবে। এগুলো হজম হয় আস্তে আস্তে, তাই অনেক সময় পর ক্ষুধা লাগে। রক্তে চিনির পরিমাণ তাড়াতাড়ি বাড়ে না।
চা, কফি খাওয়ার মাত্রা কমাতে হবে। তা না হলে পানিশূন্যতা, কোষ্ঠকাঠিন্য, ঘুমের সমস্যা হতে পারে। বাদ দিতে হবে মশলায় ছোলা ভুনা, পেঁয়াজি, বেগুনি, চপ, হালিম, বিরিয়ানি ইত্যাদি।
ঠান্ডা খাবার খেতে পারেন। তাহলে সারা দিন রোজা রাখা নাজুক পাকস্থলী ঠিকমতো খাবার হজম করতে পারবে।
কোষ্ঠকাঠিন্য হলে ইসবগুল খেতে পারেন। বেশি দুর্বল লাগলে ডাবের পানি বা স্যালাইন খান ইফতারের পর। কোমল পানীয় খেলে ঘুমের সমস্যা, অ্যাসিডিটি, আলসার বাড়তে পারে। তাই কোমল পানীয়কে সারা জীবনের জন্য পারলে বাদ দিন। বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীরাও রোজা পালন করতে পারবেন, তবে সংশ্লিষ্ট বিভাগের চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধের ডোজ, খাবারদাবার ও নিয়মকানুন জেনে নেওয়াই ভালো।

লেখক: চিকিৎসক

9
পেট খালি থাকলে দেহ-মনে নানা প্রভাব পড়ে। তাই কিছু কাজ আছে, যা খালি পেটে করা মোটেও ঠিক নয়। বিশেষ করে পেট খালি থাকলে কারও সঙ্গে তর্কে জড়ানো ঠিক নয়। কারণ, এ সময় মনমেজাজ ভালো না থাকায় বেফাঁস কিছু বলে বসতে পারেন। পেট খালি থাকলে আরও কিছু বিষয় মনে রাখা জরুরি। জেনে নিন কয়েকটি বিষয় সম্পর্কে:

ব্যথানাশক ওষুধ খাবেন না: খালি পেটে ওষুধ খাওয়া ঠিক না। বিশেষ করে প্রদাহনাশক কোনো ওষুধ খাওয়া মোটেও ঠিক না। ওষুধ খাওয়ার আগে তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

খালি পেটে ঘুমানো ঠিক না: ঘুমানোর দুই-তিন ঘণ্টা আগে খাবার খেয়ে ফেলার নিয়ম হলেও একেবারে খালি পেটে ঘুমানো ঠিক না। ঘুমানোর আগে অন্তত এক গ্লাস দুধ বা একটি আপেল খেয়ে ঘুমানো উচিত।

খালি পেটে কফি ঠিক না:
কফিও খেতে নেই খালি পেটে। এতে অ্যাসিড তৈরি হয়ে বুক জ্বালাপোড়া করতে পারে। চেষ্টা করবেন ভরা পেটে বা হালকা কোনো স্ন্যাকস খেয়ে কফি খাওয়ার জন্য।

অ্যালকোহলকে ‘না’: খালি পেটে অ্যালকোহল গ্রহণ করতে নেই। খালি পেটে মদ্যপান করলে কিডনি, লিভার আর হার্ট অনেক দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। নিত্যদিনের সমস্যা হিসেবে ভুগতে পারেন অ্যাসিডিটিতেও।

খালি পেটে সিদ্ধান্ত নেবেন না: খালি পেটে কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তার প্রভাব কাজের ওপর পড়তে পারে। এর ফল ভালো হয় না। অনেক সময় খালি পেটে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর জন্য পরে পস্তাতে হতে পারে। তাই পেটে কিছু থাকার সময় সিদ্ধান্ত নেওয়া ভালো।

ব্যায়াম থেকে বিরত থাকুন: ব্যায়াম করবেন না খালি পেটে। অনেকে মনে করেন, খালি পেটে ব্যায়াম করলে বেশি ক্যালরি পোড়ে। আসলে তা সত্যি নয়। বরং এতে শরীরের শক্তি কমে যাওয়ায় আপনি ঠিকঠাকভাবে ব্যায়ামও করতে পারেন না।

তর্ক করবেন না: পেট খালি থাকলে কারও সঙ্গে তর্কে জড়াবেন না। কারণ, পেট খালি থাকলে মন সঠিক কাঠামোতে থাকে না। এতে মনের ওপর প্রভাব পড়ে বলে অনেক সময় পরিস্থিতি বাজে পর্যায়ে চলে যেতে পারে।

সমঝোতা করবেন না
: যদি পেটে কিছু না থাকে, তবে কিছুতেই কোনো বিষয়ে সমঝোতার দিকে যাবেন না। কারণ, পেট খালি মানেই ঠিকভাবে যুক্তিগুলো মূল্যায়ন করতে পারবেন না বলে সঠিক সমঝোতা না হতে পারে।

বাজারসদাই করবেন না:
পেট খালি থাকলে বাজারসদাই করার সময় সতর্ক থাকতে হবে। কারণ, অনেক সময় চাহিদার অতিরিক্ত কিনে ফেলতে পারেন। এ ছাড়া অস্বাস্থ্যকর অনেক খাবার ভুলবশত কেনার সময় মাথা কাজ নাও করতে পারে। পেট খালি থাকা অবস্থায় বেশি পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট ও চিনিজাতীয় খাবার কেনার সম্ভাবনা থাকে।

চুইংগাম খাবেন না:
খালি পেটে চুইংগাম খাওয়া ঠিক নয়। খালি পেটে এটি খেলে বেড়ে যায় পেট ব্যথা। ১০ থেকে ১৫ মিনিটের বেশি চুইংগাম চিবোবেন না।

10

গরমে দিনভর রোজা রাখার পর ক্লান্তি কাটাতে ইফতারে চাই এমন কিছু, যা ঝটপট শরীর ঠান্ডা করতে পারে। রোজার পর তৃষ্ণা মেটাতে শরবত খাওয়ার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদেরা। বেলের শরবত দারুণ কাজে আসতে পারে। বাজারে এখন বেল পাবেন। বেল ‘উড অ্যাপল’ নামেও পরিচিত।

পুষ্টিবিদেরা বলেন, শরীরের পানিস্বল্পতা দূর করতে বেলের শরবতের তুলনা হয় না। আবার পুষ্টিগুণের দিক থেকেও এটি অনন্য। এক গ্লাস ঠান্ডা শরবত সারা দিনের ক্লান্তি মুছে শরীরকে চাঙা করে তুলতে ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে অবসাদ ঘুচিয়ে দিতেও কিন্তু বেশ কার্যকর।

বেল আমাদের দেশের দারুণ জনপ্রিয় একটি ফল। বাংলাদেশ ছাড়াও এশিয়ার কয়েকটি দেশে বেল পাওয়া যায়। বেশি বেল পাওয়া যায় শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, নেপাল, মিয়ানমার, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া ও লাওসে। আয়ুর্বেদশাস্ত্রেও বেলের নানা গুণের কথা বলা হয়।

বেলের শক্ত খোলসের ভেতর থাকা নরম মজ্জা বা শাঁস সরাসরি খাওয়া যায় বা তা দিয়ে শরবত তৈরি করা যায়। বেলের শরবত খুব পুষ্টিকর। এটি নানা রোগের বিরুদ্ধে লড়ার পাশাপাশি ত্বক ভালো রাখে এবং চুল পড়া ঠেকায়। বেল পেটের নানা রোগ সারাতে জাদুর মতো কাজ করে, কাঁচা বেল ডায়রিয়া ও আমাশায় রোগের ওষুধ হিসেবও বিবেচিত। বেলে আছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও পটাশিয়াম।

বেলের গুণাগুণ
* যাঁদের হজমে সমস্যা আছে, বেল তাঁদের জন্য বেশ উপকারী।
* কাঁচা বেল ডায়রিয়ার রোগীদের জন্য ভালো। এ জন্য ফালি ফালি করে কেটে রোদে শুকিয়ে গুঁড়া করে নিতে হবে। উষ্ণ গরম পানির সঙ্গে মিশিয়ে রোগীকে অল্প অল্প করে খাওয়াতে হবে।
* জন্ডিস, যক্ষ্মা, উচ্চ রক্তচাপের জন্যও বেল খুব উপকারী।

বাড়িতে কীভাবে বেলের শরবত তৈরি করবেন
* পাকা বেল নিয়ে পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন।
* চামচ বা ছুরি ব্যবহার করে বেলের শক্ত খোসা ছাড়িয়ে এর শাঁস আলাদা করুন।
* এতে পরিমাণমতো পানি দিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিন।
* এরপর পানিতে ওই শাঁস গুলিয়ে নিন, যতক্ষণ না পরিপূর্ণ পানির সঙ্গে মেশে ততক্ষণ নাড়ুন।
* বেলের বীজগুলো আলাদা করে সরিয়ে ফেলুন।
* ছেঁকে নিয়ে বেলের শরবত আলাদা করে ফেলুন।
* এতে প্রয়োজনে কিছুটা চিনি ও লেবুর রস দিয়ে গুলিয়ে নিন।
* প্রয়োজন হলে বরফের টুকরো যুক্ত করে ঠান্ডা করে নিন, এরপর পরিবেশন করুন।

11
আমেরিকায় চাকরি বাজারে এখন বেশ চাঙাভাব। নিকট অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে এখন জনশক্তির বেশ চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু ছোট বড় কোম্পানি কাজের জন্য জনশক্তি পাচ্ছে না। দক্ষ-অদক্ষ সব ক্ষেত্রেই কর্মীর অভাব। হোটেল-রেস্তোরাঁ, ট্যাক্সিক্যাবের চালক থেকে শুরু করে উচ্চ বেতনের চাকরিতে লোকবল সংকট দেখা দিয়েছে। কর্মী সংকটকে অর্থনৈতিক চাঞ্চল্যে বেশ বড় ধরনের সমস্যা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির কারণে কম বেতনের কাজে যেমন কর্মী সংকট দেখা দিয়েছে, তেমনি দক্ষ কর্মীরও সংকট দেখা দিয়েছে। ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী নীতির কারণে এইচ-ওয়ান ভিসার মাধ্যমে প্রযুক্তি খাতে বিভিন্ন দেশ থেকে আমেরিকায় আসা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠেছে। চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো শিগগিরই এই কর্মী সংকট মোকাবিলার তাগিদ অনুভব করছে।
এ মুহূর্তে আমেরিকায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ৬৬ লাখের বেশি খালি পদ পড়ে আছে। নিউইয়র্ক নগরে ট্যাক্সিক্যাব চালানোর লোক পাওয়া যাচ্ছে না। পেশাদার চালকের অভাবে হাজার হাজার বাণিজ্যিক ট্যাক্সি খালি পড়ে আছে। খুচরা বিক্রেতাসহ নির্মাণকাজ, পরিচ্ছন্ন কর্মীর সংকট দেখা দিয়েছে। লোকবলের অভিযোগ, চাকরিদাতারা মজুরি বৃদ্ধি করছে না। তাই চাকরি বাড়লেও মানুষের আয় বাড়ছে না।
আমেরিকায় বেকারত্বের সংখ্যা গত ১৮ বছরের মধ্যে এখন সর্বনিম্ন। সর্বশেষ ২০০০ সালে কর্মসংস্থান লোকের পরিমাণ যতটা ছিল, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে কর্মবাজারে সেই রেকর্ডে ফিরে এসেছে। বেকারত্বের সংখ্যা এখন প্রতি ১০০ জনে মাত্র ৩ দশমিক ৯ জন। বিগত এপ্রিলে ১৬ হাজার ৪০০ নতুন চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

দুই লাখ মানুষ, চাকরির বাজার ছেড়েছে, বিপরীতে ঢুকেছে ১ লাখ ৬৪ হাজার। সে হিসেবে নতুন কাজের বাজারে ঢোকা মানুষের সংখ্যাই বেশি। এই হিসেবে টানা আট বছর ধরে আমেরিকার অর্থনীতি চাঙাভাব ধরে রেখেছে, যেটা আরও বেড়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে। এসব তথ্য দিয়েছে সিবিএস নিউজ।
এই পরিসংখ্যান দেখেও যাঁরা সন্তুষ্ট হতে পারছেন না, তারা একদিক দিয়ে ঠিকই আছেন। কেননা চাকরির সংখ্যা বাড়লেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিশ্রুত ধনীদের ট্যাক্স কর্তনের ফলে বলা চলে সার্বিক বেতন কারওর-ই বাড়েনি। বাজেটে আয়কর কর্তনের বিপরীতে বলা হয়েছিল, জনপ্রতি বার্ষিক আয় বাড়বে প্রায় ৪ হাজার ডলার। সেখানে, সর্ব সাকল্যে বছরে বেতন বেড়েছে ২৩১ ডলার। আর অর্থনীতির সাধারণ তত্ত্ব অনুযায়ী যখন অধিক মানুষ কর্মবাজারে প্রবেশ করে, তখন শ্রমিকের শ্রমের মূল্য স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে। তবে আমেরিকায় চিত্রটি উল্টো। বছরে ২ দশমিক ৬ ভাগ হারে বেতন বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিপরীতে সন্তোষজনক নয় বলে বলছেন অর্থনীতির বিশ্লেষকেরা।
তাহলে ফারাকটি কোথায়? ফারাক হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রে সার্বিক চাকরি বাড়লেও, উচ্চ বেতনের চাকরি বাড়েনি। বুশের আমলে অর্থনৈতিক যে মন্দা শুরু হয়েছিল, সেটা কাটিয়ে উঠতে শুরু করে ২০১২ সাল থেকে। তখন, হাসপাতাল, কমিউনিটি সার্ভিসসহ অনন্য খাতে সরকারি নানা প্রণোদনায় স্বল্প বেতনে প্রচুর চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করা হয়। সে ধরনের স্বল্প বেতনের চাকরির বাজার এখনো সম্প্রসারিত হচ্ছে। যেমন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান আমাজনের গড় বেতন এখনো বার্ষিক ২৮ হাজার ডলার, যার অর্থ কোনো রকমে খেয়ে-পরে জীবন ধারণ করছে মানুষ। আর চাকরির বাজার বেড়েছে বলা হলেও, আরেকটি হিসাব আছে। একেবারে চাকরির বাজারে নেই, আবার চাকরি খোঁজ করছেন না—এমন মানুষের সংখ্যা এখন ১৯৮০ সালের পর সর্বোচ্চ। তার অর্থ, ওই বিশাল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী মনে করছে, তাদের কাজের মূল্যায়ন হওয়ার মতো যোগ্য চাকরির বাজার এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।
জোসেফ লা ভরগানা নামের একজন ব্যাংকার অর্থনীতিবিদ অবশ্য মনে করেন, শ্রম বাজারে দক্ষ মানুষের ঘাটতি আছে বলেই তাদের মজুরি বাড়ছে না। ‘প্রতিটি কোম্পানি বছরের চার ভাগের এক ভাগ সময়কে একেকটি উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। সেই লক্ষ্যমাত্রার সাফল্যের ওপর নির্ভর করে তার বাকি বছরের পরিকল্পনা। সেখানে যদি কোনো উদ্যোক্তা দেখেন, কাজের পরিধি বাড়ছে, মান সম্মত উৎপাদন বা সেবা বিস্তার করা যাচ্ছে—তার ওপর নির্ভর করেই তিনি পরবর্তী ঝুঁকি নেন। সেখানে দক্ষ শ্রমিকেরাই বেশি বেতনের সুযোগ নিতে পারে। তিনি বলেন, ‘এই চিত্র নির্মাণ, উৎপাদন ও অ্যাভিয়েশন শিল্পে বেশি প্রযোজ্য। আশার কথা হলো, আমাদের উৎপাদন শিল্পে কাজের পরিমাণ কমছে না।’
অবশ্য বিশ্লেষকেরা এই শ্রমবাজার তত্ত্বের সরলীকরণ টানতে আরও সময় দরকার বলে মনে করেন। সেই সঙ্গে ট্রাম্পের ট্যাক্স কাটছাঁটের সুবিধা শ্রমিক পর্যন্ত যেতে আরও অন্তত ছয় মাস সময় দরকার বলেই মনে করেন তাঁরা। কেননা, অনেক প্রতিষ্ঠান আছে যারা পরবর্তী ছয় মাসের খরচ ও শ্রম মজুরি বিষয়ে নীতিমালা আগেই নির্ধারণ করে রাখেন। সে হিসেবে বাজেটের সুবিধা বাজারে আসতে আরও সময় লাগতে পারে। দেখা যাক, কাজ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শ্রমমূল্য বৃদ্ধির গতি আসতে কত সময় লাগে।

Source: www.prothomalo.com/northamerica/article/

12
পুষ্টিগুণে ভরপুর লিচু।

এখন লিচুর সময়। যাঁরা ওজন কমানোর মিশনে নামতে চান, তাঁদের জন্য লিচু একটি দারুণ কার্যকর ফল। প্রতিদিন শরীরের জন্য যে পরিমাণ ভিটামিন ‘সি’ প্রয়োজন, এক কাপের (২৪০ গ্রাম) সমপরিমাণ লিচু খেলে তার চেয়েও বেশি পরিমাণ ভিটামিন ‘সি’ পাওয়া যায়। ক্ষত নিরাময় এবং রক্তক্ষরণ প্রতিরোধের পাশাপাশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবেও কাজ করে এই ভিটামিন।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, লিচু থেকে মিলবে প্রচুর শক্তি। ক্যালরি মান ভালো থাকলেও ফ্যাট আর সোডিয়াম কম থাকায় লিচু বেশ স্বাস্থ্যকর। তাই মৌসুমের রসাল, সুস্বাদু ও পুষ্টিকর এই ফল আপনার খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন।

১০০ গ্রাম লিচু বলতে মাঝারি আকারের প্রায় ১০টি লিচুকে বোঝায়। মার্কিন ওষুধ প্রশাসন বিভাগ বলছে, প্রতি ১০০ গ্রাম লিচুতে ৬৬ কিলোক্যালরি শক্তি ও ১৬ গ্রাম শর্করা রয়েছে। চর্বি একেবারেই নেই। আরও আছে ৭১ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘সি’, ১৭০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম, ১৪ মাইক্রোগ্রাম ফলেট এবং সামান্য পরিমাণ (১ মিলিগ্রাম) সোডিয়াম।

লিচুতে আরও আছে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন ‘বি’, যা প্রতিদিনের খাবার থেকে শরীরে শক্তি জোগাতে সহায়তা করে। এগুলোর মধ্যে ফোলেট নামের উপাদানটি শরীরে নতুন কোষ এবং লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে। ১৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী নারীর প্রতিদিন ৪০০ মাইক্রোগ্রাম ফোলেট প্রয়োজন, যার ২৭ মাইক্রোগ্রাম পরিমাণ পাওয়া যায় এক কাপ লিচু থেকে।

এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, লিচুতে আছে পটাশিয়ামও, যা আমাদের শরীরে পানির সমতা রক্ষা, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও মাংসপেশির সংকোচনে সহায়ক। এ ছাড়া ডায়াবেটিস, হৃদ্‌রোগ ও ক্যানসারের ঝুঁকি কমায় লিচু।

ওজন কমাতে লিচু খাওয়ার কৌশল: গ্রীষ্মে নানা রঙিন ফল পাওয়া যায়। আম, পেঁপে, তরমুজ, তাল, এমনকি লিচু। এ সময় গরমে ঘাম হয় প্রচুর। এ ছাড়া গরমের সময় সকালে ওঠা সহজ। যাঁরা ওজন কমাতে চান, তাঁরা এ সময়টাকে কাজে লাগাতে পারেন। তাঁদের জন্য তাই সকালের নাশতা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা সকালের নাশতায় ভাজাপোড়ার বদলে ফল খাওয়ার পরামর্শ দেন। কারণ, এতে শরীরে অনেক পুষ্টি মেলে। নাশতার সময় তাই লিচু রাখতে পারেন। এ ছাড়া ডেজার্ট হিসেবে লিচু খাওয়া যেতে পারে। এর ভিটামিন, খনিজ, ফাইবার দারুণ কাজে দেবে। তবে লিচুর জুস করে বা অন্য কোনো উপায়ে খাওয়ার চেয়ে খোসা ছিলে খাওয়ায়ই ভালো।


লিচুর বিশেষ ৪ গুণ
১.
লিচু খেল ওজন কমে, সে তথ্য তো আপনার জানা। ওজন কমানোর কথা যাঁরা চিন্তা করছেন, তাঁদের মনে রাখতে হবে, শরীর থেকে যাতে বিষাক্ত উপাদান দূর হতে পারে, সে জন্য খাবার ও ফলের সমন্বয় রাখতে হবে। লিচু এ জন্য উপকারী। এ ছাড়া লিচুতে ক্যালরি খুব কম।

২.
লিচুর গুণ হিসেবে বলা যায় এর হজম সহায়ক উপাদানের কথা। এতে যে ফাইবার থাকে, তাতে সহজে হজম হয়। ওজন কমাতে গেলে অনেকেই কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগেন। এ সমস্যা কাটাতে তাই এ সময় খাবারে ফাইবার খুব গুরুত্বপূর্ণ। ফাইবারযুক্ত খাবার না খেলে হজমে সমস্যা হবে এবং সব সময় অস্বাভাবিক বোধ হবে। তাই ওজন কমানোর প্রক্রিয়াটি স্বাস্থ্যসম্মত হতে হবে।

৩.
লিচুতে পটাশিয়াম থাকায় তা রক্তচাপে ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের অনেক সময় ওজন বেশি থাকে। তাদের শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকে। লিচু খেলে সমস্যা দূর হতে পারে।

৪.
যাঁদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাঁরা দ্রুত মুটিয়ে যেতে পারেন। দুর্বল বোধ করলে অনেক সময় ওষুধ বা বেশি ক্যালরির খাবার খাওয়ার ফলে ওজন বাড়তে থাকে। লিচুর প্রয়োজনীয় ভিটামিন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারে।

সতর্কতা: যাঁদের ডায়াবেটিসের সমস্যা আছে, তাঁরা লিচু খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন। মনে রাখতে হবে, অতিরিক্ত কোনো কিছু খাওয়া শরীরের জন্য ভালো নয়। তাই লিচুও পরিমিত খেতে হবে। যাঁরা নিয়ম মেনে খাবার খান এবং ব্যায়াম করার অভ্যাস আছে, তাঁরা দিনে ১০-১২টি লিচু খেলে সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

13

গ্যাস্ট্রোএনটেরাইটিসের কারণে বছরে প্রায় ১৩ লাখ ৪০ হাজার শিশুর মৃত্যু হয়। গ্যাস্ট্রোএনটেরাইটিস হলো পাকস্থলী ও অন্ত্রের একধরনের প্রদাহ, যা ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের সংক্রমণে হয়। ইতালির একদল বিজ্ঞানী দাবি করেছেন, আদা এ ক্ষেত্রে বিশেষ উপকারী ভূমিকা পালন করতে পারে। এমনকি তা জীবনও বাঁচাতে পারে।

ইতালির নাপোলি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশুরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রবার্তো বারনি কানানির নেতৃত্বে গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে। এতে প্রাপ্ত ফলাফল ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব পেডিয়াট্রিক গ্যাস্ট্রোএনটেরোলজি, হেপাটোলজি অ্যান্ড নিউট্রিশনে (ইএসপিজিএইচএএন) উপস্থাপন করা হয়েছে। শিগগির এটি প্রকাশও হবে কোনো সাময়িকীতে।

গ্যাস্ট্রোএনটেরাইটিসের জন্য স্যালমোনেলা ও রোটাভাইরাসের মতো ব্যাকটেরিয়া এবং নরোভাইরাসের মতো ভাইরাস দায়ী। এ ছাড়া অন্য কোনো পরজীবী প্রজাতির সংক্রমণেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। সাধারণত খাবার ও পানি থেকে গ্যাস্ট্রোএনটেরাইটিসের জীবাণু পেটে ঢোকে। এগুলোর সংক্রমণে বমি ও ডায়রিয়াও হয়, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে। শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের জন্য এই সমস্যা অনেক সময়ই প্রাণসংহারী হয়ে ওঠে।

বিজ্ঞানীরা বলেছেন, গ্যাস্ট্রোএনটেরাইটিসের কারণে প্রতিবছর যে সংখ্যক শিশুর মৃত্যু হয়, তা মোট শিশুমৃত্যুর ১৫ শতাংশ। অধ্যাপক রবার্তো বারনি কানানি বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে শিশুমৃত্যুর অন্যতম বড় কারণ তীব্র গ্যাস্ট্রোএনটেরাইটিস। এ ক্ষেত্রে আদা যথেষ্ট উপকারী। গবেষণায় দেখা গেছে, আদা বমির পরিমাণ কমিয়ে আনে। ১ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে আদা এতটাই উপকারী যে, গুরুতর গ্যাস্ট্রোএনটেরাইটিসের সমস্যায় বমির পরিমাণ ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনে এটি।

অধ্যাপক রবার্তো বারনি কানানি জানান, গবেষণায় তাঁরা দেখেছেন, আদায় প্রদাহ প্রতিরোধী উপাদান রয়েছে। একই সঙ্গে এটি বমিও প্রতিরোধ করতে পারে। তিনি জানান, নেপলসে একটি হাসপাতালে ১৪০টি শিশুর ওপর তাঁরা গবেষণা করেছেন। এ ক্ষেত্রে রোগী ও চিকিৎসক-উভয় পক্ষকেই অন্ধকারে রাখা হয়েছে। কোন শিশুকে ওষুধ, আর কোন শিশুকে আদার রস খাওয়ানো হচ্ছে, তা কেবল গবেষকেরাই জানতেন। ওই গবেষণা থেকে প্রাপ্ত ফলের পরই তাঁরা নিশ্চিত হতে পেরেছেন, গ্যাস্ট্রোএনটেরাইটিসের চিকিৎসায় আদার ব্যবহার বিশেষ সুফল আনতে পারে।

এর আগেও একটি গবেষণায় দেখা গেছে, গর্ভবতী নারী বা কেমোথেরাপি নেওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে আদা বমির পরিমাণ কমাতে বিশেষভাবে সহায়ক।

14
 
তরমুজ থেকে একটু সাবধান

বাজারে এখন প্রচুর তরমুজ পাবেন। লাল টুকটুকে ফালি করা তরমুজ জিবে জল এনে দেবে। কেউ কেউ গরমে তৃষ্ণা মেটাতেও প্রচুর তরমুজ খেয়ে ফেলেন। কিন্তু তরমুজ বেশি খাওয়া কি ঠিক?

তরমুজকে ফল ও সবজি উভয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এতে পানির পরিমাণ ৯২ শতাংশ। তরমুজ কেবল খেতেই সুস্বাদু নয়, শরীর-স্বাস্থ্যের জন্যও ভালো। এতে চর্বি নেই। প্রচুর ভিটামিন এ, বি৬, সি, পটাশিয়াম, লাইকোপেন ও সিট্রুলিনের মতো উপাদান থাকে।
যাঁরা ওজন কমাতে চান, তাঁদের জন্য তরমুজ আদর্শ খাবার হিসেবে বিবেচিত হয়। তরমুজের এত গুণ থাকা সত্ত্বেও একবারে খুব বেশি তরমুজ খাওয়া ঠিক নয়। একবারে বেশি তরমুজ খেলে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। কয়েকটি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা জেনে নিন:

হজমে গন্ডগোল
তরমুজে প্রচুর পানি ও ডায়েটারি ফাইবার থাকে। বেশি পরিমাণে তরমুজ খেলে হজমে গোলযোগ দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে ডায়রিয়া, খাবার হজম না হওয়া, গ্যাসের মতো নানা সমস্যা দেখা দেয়। এতে চিনির যৌগ হিসেবে পরিচিত সরবিটল থাকে, যাতে গ্যাসের সমস্যা ও পাতলা পায়খানা তৈরি করে।

গ্লুকোজের স্তর বাড়ায়
যাঁদের ডায়াবেটিসের সমস্যা আছে, তাঁদের বেশি তরমুজ খাওয়া ঠিক নয়। তাঁদের রক্তে চিনির মাত্রা বাড়িয়ে দেয় তরমুজ। এটিকে স্বাস্থ্যকর ফল হিসেবে বিবেচনা করা হলেও এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ৭২। কোন খাবারে রক্তে শর্করা কতটা বাড়ে, তা নির্ভর করে তার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স এবং গ্লাইসেমিক লোডের ওপর। গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ৭০-এর বেশি হলে তা উচ্চ মাত্রা, ৫৫-এর নিচে হলে কম মাত্রার। গ্লাইসেমিক ইনডেক্স যত উচ্চ, তা রক্তে শর্করা তত বেশি বাড়ায়। আবার গ্লাইসেমিক লোড ২০-এর বেশি হলে তা উচ্চ, ১১-এর নিচে কম। নিয়মিত তরমুজ খাওয়ার আগে তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

যকৃতে প্রদাহ
যাঁরা অ্যালকোহল পান করেন, তাঁদের তরমুজ খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। বেশি পরিমাণে তরমুজ খেলে তাঁদের যকৃতে প্রদাহ হতে পটারে। এতে প্রচুর লাইকোপেন থাকায় অ্যালকোহলের সঙ্গে বিক্রিয়া করে প্রদাহ তৈরি করে। যকৃতে এ ধরনের প্রদাহ যথেষ্ট ক্ষতিকর।

শরীরে অতিরিক্ত পানি
বেশি তরমুজ খেলে শরীরে পানির পরিমাণ বেড়ে যায়। এতে শরীর থেকে সোডিয়ামের পরিমাণ কমে যায়। শরীর থেকে যদি এ পানি বেরোতে না পারে, তখন নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে পা ফুলে যাওয়া, ক্লান্ত বোধ করা বা কিডনি দুর্বল হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটে।

হৃদ্‌রোগ
তরমুজে প্রচুর পটাশিয়াম থাকে, যা শরীর ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তরমুজ খেলে হৃদ্‌যন্ত্র সুস্থ থাকে। এ ছাড়া হাড় ও মাংসপেশি শক্তিশালী হয়। তবে অতিরিক্ত মাত্রায় পটাশিয়াম শরীরে গেলে হৃদ্‌যন্ত্রে নানা সমস্যা, যেমন: অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, নাড়ির গতি কমে যাওয়ার মতো নানা ঘটনা ঘটে।

গবেষক ও পুষ্টিবিদেরা বলেন, ১০০ গ্রাম তরমুজে ৩০ ক্যালরি থাকে। এ ছাড়া প্রতি ১০০ গ্রামে ৬ গ্রাম চিনি থাকে। তরমুজে যেহেতু পানির পরিমাণ বেশি, তাই ৫০০ গ্রাম পর্যন্ত তরমুজ খাওয়া অনেকের কাছে সহজ মনে হতে পারে। তথ্যসূত্র: এনডিটিভি।

15


ওজন কমাতে বা শরীরকে বিষমুক্ত করতে অনেকেই নানা পদ্ধতি অবলম্বন করেন। এর মধ্যে ‘ডেটক্স’ পদ্ধতি বেশ জনপ্রিয়। কোনো রকম ওষুধ না খেয়ে প্রাকৃতিক উপায়ে শরীরকে বিষমুক্ত করা যায় এ পদ্ধতিতে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, ফিট থাকতে বা স্বাস্থ্য ভালো রাখতে চান সবাই। এ জন্য সবার ডায়েট বা খাদ্যাভ্যাসে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি। প্রতিদিন যেমন স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে, তেমনি শরীরকে বিষমুক্ত রাখার চেষ্টা করতে হবে। এতে নানা রকম রোগবালাই থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব। শরীরকে বিষমুক্ত রাখতে নিয়মিত প্রচুর পানি পান করতে হবে। জি নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। শরীরকে বিষমুক্ত করার সুফলগুলো জেনে নিন:

শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা
শরীর থেকে বিষাক্ত উপাদান দূর হলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যায়। শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পরিষ্কার থাকায় সেগুলো ঠিকমতো কাজ করতে পারে।

ওজন কমায়
শরীর বিষমুক্ত হলে দ্রুত ওজন কমে। অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া বাদ দিয়ে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলাকে বিষমুক্ত খাবার পদ্ধতি বলা যেতে পারে।

ত্বকের জন্য ভালো
শরীর বিষমুক্ত মানে ত্বকের চেহারা বদলে যাওয়া। ত্বক আরও বেশি সতেজ হয়ে উঠবে। শরীরের ব্রণ বা খোসপাঁচড়া দূর হবে।

চুল
শরীর থেকে বিষ দূর হলে চুলের জন্য বিশেষ উপকার পাওয়া যায়। যাদের চুল ঝরে, তাদের খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের দিকে নজর দিতে হবে। বিষমুক্ত খাবার খেতে হবে।

শক্তি বাড়ে
শরীরকে বিষমুক্ত করা মানেই হচ্ছে আরও বেশি শক্তিশালী ও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠা। এ উপকারগুলো পেতে ডেটক্স পানীয় জরুরি।

এবার কয়েকটি ডেটক্স ড্রিংক বা বিষমুক্ত করার উপায় সম্পর্কে জেনে নিন:

মধু-লেবুর মিশ্রণ: মধু, লেবু ও আদা একসঙ্গে করে জুস তৈরি করতে পারেন, যা ডেটক্স বা শরীরকে বিষমুক্ত করতে পারে। এটি ওজন কমাতেও সাহায্য করে।

কমলার জুস: যাঁরা শরীর ঝরঝরে করতে চান, তাঁরা কমলালেবুর রসের মধ্যে সাধারণ লেবুর রস মিশিয়ে খেতে পারেন। এটি শরীরের জন্য দারুণ উপকারী। বিশেষ করে যকৃতের জন্য এ জুস কাজে দেবে। এমনকি ওজন কমাতে সাহায্য করবে।

লেবুযুক্ত গ্রিন টি: গ্রিন টির গুণাগুণ সবার জানা। গ্রিন টি আমাদের শরীরকে সতেজ ও উৎফুল্ল রাখতে সাহায্য করে। এটি হৃদ্‌রোগ ও ক্যানসারের ঝুঁকিও কমায়। নিয়মিত গ্রিন টি পান করলে শরীরের মেদ কোষে বেশি শর্করা ঢুকতে পারে না। ফলে এই চা আমাদের শরীরের ওজন ও রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

ফল ও সবজির জুস: সুস্থ থাকতে, ওজন কমাতে অনেকেই ফল ও সবজির রস খান। এতে প্রচুর ভিটামিন, খনিজ, ফাইবার ও প্রোটিন থাকে। জুস পুষ্টিগুণের কারণে ত্বকে ঔজ্জ্বল্য আনতে সাহায্য করে। এ ছাড়া রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ও হজমে সহায়ক হয় ফল ও সবজিমিশ্রিত জুস।
http://www.prothomalo.com/life-style/article/1485126/

Pages: [1] 2 3 ... 8