Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Topics - saima rhemu

Pages: [1] 2 3 ... 8
1
আপনার ছোট্ট সোনামণিকে একদিন গোসল করাতে নিয়ে হঠাৎ লক্ষ্য করলেন যে তার পিঠে এবং পেটে লাল লাল র‍্যাশ বা ফুসকুড়ির মত দেখা যাচ্ছে। আপনি উদ্বিগ্ন হবেন এটাই স্বাভাবিক কিন্তু আপনার এটা জানা থাকা উচিত যে ইতোমধ্যেই প্রকৃতিতে গরম আবহাওয়া বিরাজ করা শুরু হয়ে গেছে। আর গরমকাল ছোট বাচ্চাদের জন্য খুবই বিরক্তিকর একটি সময় কারণ এই সময়েই বাচ্চাদের শরীরে বিভিন্ন র‍্যাশ, চুলকানি, ঘামাচি ইত্যাদি দেখা দেয়। আর এই যে লাল লাল র‍্যাশের কথা বললাম, এটা হলো বাচ্চাদের হিট র‍্যাশ বা ফুসকুড়ি যা গরমের কারণে হয়ে থাকে।

হিট র‍্যাশের কারণে বাচ্চাদের প্রচুর অস্বস্তি এবং চুলকানি হয়। আপনার ছোট্ট সোনামণিকে কিভাবে এই হিট র‍্যাশ থেকে দূরে রাখবেন এবং যদি হিট র‍্যাশ হয়েও যায় তাহলে সেটা থেকে কিভাবে নিস্তার পাবেন তার জন্যই আজকের এই লেখা। তাহলে চলুন দেখে নেয়া যাক বাচ্চাদের হিট র‍্যাশ কী এবং এটি থেকে মুক্তি পেতে ৬টি হোম রেমেডি।

বাচ্চাদের হিট র‍্যাশ কি?

হিট র‍্যাশ বা ফুসকুড়ি হলো অন্যান্য র‍্যাশ এবং চুলকানির মতোই কমন এক প্রকার র‍্যাশ। এটি ছোট বাচ্চা থেকে শুরু করে অনেক ক্ষেত্রে বড়দেরও হতে পারে। হিট র‍্যাশ সাধারণত এমন সময়ে হয় যখন আবহাওয়া হঠাৎ করেই ঠাণ্ডা থেকে গরম হতে শুরু করে। ত্বকের পোর গুলো বন্ধ হয়ে যাওয়াই হলো হিট র‍্যাশ বা ফুসকুড়ির প্রধান কারণ। বাচ্চাদের সাধারণত পেট, পিঠ, হাত ও ঘাড়ে হিট র‍্যাশ হতে দেখা যায়।

ইতিমধ্যেই উল্লিখিত যে হিট র‍্যাশ বা তাপ ফুসকুড়ি সাধারণত চামড়ার পোর বন্ধ হয়ে যায় বলে হয় কারণ ত্বক থেকে ঘাম ঠিকমত বের হতে পারে না তাই ত্বকের পোর বন্ধ হয়ে ফুসকুড়ি দেখা দেয়।

বাচ্চাদের হিট র‍্যাশ হওয়ার কারণ ও প্রতিকারের উপায়

বাচ্চাদের হিট র‍্যাশ হওয়ার কমন কিছু কারণ আছে। সেগুলো হলো-


একটি গরম এবং আর্দ্র জলবায়ু।
বাচ্চাদের এমন পোশাক যা থেকে তাপ সহজে বের হতে পারে না।
থিক বা পুরু লোশন এবং ক্রিমের ব্যবহার।
একাধিক কাপড় পরিধান করার কারণে বাচ্চার শরীর অভারহিট হয়ে যাওয়া।
একটু সাবধান হলেই বাচ্চাদের হিট র‍্যাশ বা ফুসকুড়ি হওয়া থেকে রক্ষা করা যায়। তারপরও যদি হিট র‍্যাশ হয়েই যায় তাহলে ৬টি হোমমেইড রেমেডি ইউজ করে দেখতে পারেন। এই রেমেডিগুলো কোন প্রকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই বাচ্চাদের হিট র‍্যাশ থেকে দ্রুত মুক্তি দেবে। চলুন তাহলে রেমেডি-গুলো দেখে নেয়া যাক।

১. একটি ঠান্ডা স্যাঁক বা আইস ব্যাগ

যা লাগবে-

একটি ঠাণ্ডা কমপ্রেস বা বরফের ব্যাগ

যা যা করতে হবে-

একটি বোলে ঠাণ্ডা পানি নিন অথবা একটি আইস ব্যাগ নিন। এবার ঠাণ্ডা পানিতে একটি পরিষ্কার কাপড় চুবিয়ে, সেটা থেকে পানি ঝরিয়ে নিন। এবারে এই ঠাণ্ডা কাপড়টি আপনার বেবির হিট র‍্যাশ আক্রান্ত স্থানে ১/২ মিনিটের জন্য রাখুন তারপর সরিয়ে নিন। এভাবে কয়েকবার করুন। আর যদি আইস ব্যাগ ইউজ করেন তাহলে আইস ব্যাগটি কয়েকবার আক্রান্ত স্থানে প্রয়োগ করুন।

যতদিন ফুসকুড়ি ভালো না হচ্ছে ততদিন এভাবে ঠান্ডা স্যাঁক দিতে পারেন দিনে ২-৩ বার। এই ঠান্ডা কম্প্রেস বেবির র‍্যাশ আক্রান্ত স্থানকে শীতল করে এবং এফেক্টেড এরিয়াকে soothing করে। এভাবে কিছুদিন করলে ফুসকুড়ি থেকে দ্রুত নিস্তার পাওয়া যাবে।

২. অ্যাসেনশিয়াল অয়েল বা প্রয়োজনীয় তেল

যা প্রয়োজন হবে-

টি ট্রি অয়েল – ১/২ ড্রপ

নারকেল তেল ২/৩ চা চামচ

যা যা করতে হবে-

২-৩ চা চামচ নারকেল তেলের সাথে ১ বা ২ ড্রপ টি ট্রি অয়েল যোগ করুন এবং দুটি তেল ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এবার এই তেলের মিশ্রণ আক্রান্ত স্থানে ভালো করে মালিশ করুন এবং ২০-৩০ মিনিটের জন্য অপেক্ষা করুন তারপর ধুয়ে ফেলুন।

যতদিন ফুসকুড়ি ভালো না হচ্ছে ততদিন এই তেলের মিশ্রণ দিনে একবার করে ব্যবহার করতে পারেন। টি ট্রি অয়েলে আছে প্রদাহ বিরোধী আন্টিসেপ্টিক (Antiseptic) গুণ যা হিট র‍্যাশের জ্বালাপোড়া কমায় এবং ফুসকুড়ির অস্বস্তি থেকে মুক্তি দেয়।

সতর্কতা-

৬ মাসের কম বয়সী শিশুদের শরীরে টি ট্রি অয়েল ব্যবহার করবেন না, এতে ক্ষতি হতে পারে। এছাড়াও এই তেল অন্য কোন তেলের সাথে না মিশিয়ে ব্যবহার করবেন না।

৩. শসা

যা প্রয়োজন হবে-

স্লাইস করা তাজা শসা

আপনাকে যা করতে হবে-

প্রথমে একটি কচি শসা নিন এবং এটি স্লাইস করে কাটুন। এবারে কাটা শসাগুলো পেস্ট করে নিন। তারপর এই পেস্ট আক্রান্ত স্থানে প্রয়োগ করুন। ৫- ১০ মিনিটের জন্য শসার পেস্ট লাগিয়ে রাখুন তারপর নরমাল পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

আপনি প্রতিদিনই এই শসা পেস্ট দিনে ২-৩ বার ব্যবহার করতে পারেন যতদিন হিট র‍্যাশ বা ফুসকুড়ি থাকে।

শসা তে রয়েছে ফ্ল্যাভোনয়েড (Flavonoids) এবং ট্যানিন (Tannins) নামক অ্যালার্জি এবং প্রদাহ বিরোধী উপাদান যা হিট র‍্যাশ থেকে খুব সহজে আরাম দেয় এবং চুলকানি কমায়।

৪. ওটমিল

যা প্রয়োজন হবে-

১ কাপ ওটস পাউডার

পানি

যা যা করতে হবে-

একটি বড় বোল বা বালতি পানি দিয়ে পূর্ণ করুন। এবার এতে এক কাপ পরিমাণ ওটস পাউডার ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। তারপর এই পানিতে আপনার বেবিকে গোসল করান প্রায় ১০- ১৫ মিনিট যাবৎ। তারপর বেবির শরীর নরম তোয়ালে দিয়ে আলতোভাবে মুছে দিন।

আপনি প্রতিদিনই একবার করে আপনার বেবিকে ওটস পাউডার দিয়ে গোসল করাতে পারেন যতদিন পর্যন্ত না বেবির হিট র‍্যাশ ভালো হচ্ছে।

ওটমিলে আছে প্রদাহ বিরোধী উপাদান যা চর্মরোগ সারাতে দারুণভাবে কাজ করে। এটি খুব দ্রুত চুলকানি ও র‍্যাশ কমাতে সাহায্য করে এবং শরীর ঠাণ্ডা রাখে।

৫. ফুলার আর্থ বা মুলতানি মাটি

যা প্রয়োজন হবে-

হাফ টেবিল চামচ মুলতানি মাটি
প্রয়োজনমত পানি

যা যা করতে হবে-

হাফ টেবিল চামচ মুলতানি মাটির সাথে প্রয়োজন মত পানি মিশিয়ে একটি মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন। এবার আক্রান্ত স্থানে এই পেস্ট প্রয়োগ করে ১০ মিনিটের জন্য অপেক্ষা করুন তারপর ধুয়ে ফেলুন।

এই পেস্ট আপনি দিনে ২-৩ বার ব্যবহার করতে পারেন।

বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, মুলতানি মাটিতে থাকা নানা উপকারী উপাদান ফুসকুড়ি ও চুলকানি থেকে দ্রুত আরাম দেয়। এটি প্রাপ্তবয়স্করাও ব্যবহার করতে পারেন।

৬. অ্যালোভেরা

যা প্রয়োজন হবে-

ফ্রেশ অ্যালোভেরা জেল

যা যা করতে হবে-

প্রয়োজনমত কিছু ফ্রেশ অ্যালোভেরা জেল নিন। এবার এই জেল শিশুর আক্রান্ত স্থানে প্রয়োগ করে ১০ – ১৫ মিনিটের জন্য অপেক্ষা করুন। তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই জেল আপনি দিনে ২-৩ বার ব্যবহার করতে পারেন।

অ্যালোভেরাতে রয়েছে প্রদাহ বিরোধী উপাদান যা দেহে ঠান্ডা অনুভূতি প্রদান করে এবং তাপ ফুসকুড়ি থেকে দ্রুত আরাম দেয়।

টিপস

উপরের রেমেডি-গুলো ছাড়াও আপনার বেবিকে হিট র‍্যাশ থেকে রক্ষা করতে চাইলে কিছু টিপস অনুসরণ করতে পারেন। যেমন-

১) আপনার ছোট্ট সোনামণিকে প্রখর সূর্যের তাপ থেকে দূরে রাখুন।

২) বাচ্চাকে গরমকালে নরম ও আরামদায়ক পোশাক পরিধান করান।

৩) গরমকালে প্রতিদিন বেবিকে নরমাল টেম্পারেচার-এর পানি দিয়ে গোসল করান।

৪) আপনার বেবির দেহের তাপমাত্রা নিয়মিত পরীক্ষা করুন। তাপ বেশি হয়ে গেলে গোসল করিয়ে দিন।

৫) পুরু লোশন বা ক্রিম ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।

৬) বাচ্চার গোসলের জন্য হালকা সাবান ব্যবহার করুন।

৭) গ্রীষ্মকালে অতিরিক্ত গরম থেকে বাচ্চাকে দূরে রাখতে এয়ার কন্ডিশন রুমে রাখুন বা ঠাণ্ডা রুমে রাখুন।


উপরের টিপস গুলো অনুসরণ করলে আশা করি আপনার ছোট্ট সোনামণিকে হিট র‍্যাশ বা ফুসকুড়ি থেকে রক্ষা করতে পারবেন।

2
অনেক মায়েদের প্রশ্ন থাকে যে গর্ভবতী অবস্থায় রোজা রাখা যাবে কিনা কিংবা রাখলে করণীয় কী হবে। প্রকৃতপক্ষে গর্ভবতী মায়েরা রোজা রাখতে পারবেন কিনা তা নির্ভর করবে তার এবং তার গর্ভস্থ সন্তানের সুস্থতার উপরে। ইসলামে সিয়াম সাধনার ক্ষেত্রে কিছু শিথিলতা রয়েছে, যেমন ভ্রমণকারী, অসুস্থ ব্যক্তি, গর্ভবতী মা, সন্তানকে দুগ্ধ পান করা অবস্থা ইত্যাদি। হাদীসে বর্ণিত রয়েছে-“যদি কোন গর্ভবতী মায়ের গর্ভবতী অবস্থায় রোজা রাখা গর্ভস্থ সন্তানের ক্ষতি হবার আশঙ্কা তৈরি করে, তবে সে রোজা থেকে বিরত থাকতে পারবে এবং পরবর্তীতে তার সুবিধাজনক সময়ে সে ওই রোজাগুলো কাজা আদায় করে নেবেন।” এখন যদি কোন মা মনে করেন তিনি রোজা রাখবেন, তবে তাকে প্রথমে একজন গাইনি বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে হবে। জেনে নিতে হবে গর্ভবতী অবস্থায় রোজা রাখা তার এবং গর্ভস্থ সন্তানের কোন ক্ষতির আশঙ্কা সৃষ্টি করছে কিনা।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে ৪-৭ মাস প্রেগনেন্সি পিরিয়ড রোজা রাখার জন্য বেশি নিরাপদ, কারণ প্রথম ৩ মাসে পর্যাপ্ত পুষ্টির অভাব হলে  কম ওজনের শিশুর জন্ম হতে পারে এবং প্রেগনেন্সির শেষের দিকে পানি এবং খাদ্যের চাহিদা বেড়ে যায়। এছাড়া প্রেগনেন্সি পিরিয়ডে যদি অন্যান্য সমস্যা থেকে থাকে, যেমন ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন/উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি ডিজিজ, ঘন ঘন প্রস্রাবের ইনফেকশন ইত্যাদি থাকলে রোজা থেকে বিরত থাকাই উত্তম।

গর্ভবতী অবস্থায় রোজা রাখা ও করণীয়

১) সেহরি এবং ইফতারে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানীয় ও পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। বিভিন্ন ধরনের তাজা ফলের রস, ডাবের পানি শরীরে পানির চাহিদা দূর করবে।

২) ফলের মধ্যে খেজুর এবং কলায় প্রচুর পরিমাণ পটাশিয়াম থাকে, যা দুর্বলতা দূর করতে সাহায্য করে।

৩) প্রয়োজনীয় ওষুধগুলো সেহরি এবং ইফতারের সময় খেতে হবে।

৪) বেশিক্ষণ রোদে ঘোরাঘুরি করা উচিত হবে না।

৫) দুশ্চিন্তামুক্ত থাকতে হবে।

রোজাদার মায়েদের যে সমস্যাগুলো দেখা দিলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে

১. বমি হলে।

২. অজ্ঞান হয়ে গেলে।

৩. বাচ্চার নড়াচড়া কম অনুভূত হলে, সাধারণত বলা হয় গর্ভের বাচ্চা ১২ ঘন্টায় ১০-১২ বার মুভমেন্ট করবে। এর থেকে কমে গেলে অবশ্যই ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে।

৪. লেবার পেইন বা পেটে ব্যথা অনুভূত হলে, কারণ ডিহাইড্রেশন-এর কারণে অনেক সময় ইউটেরাস-এর কনস্ট্রাকশন শুরু হতে পারে।

৫. প্রস্রাবের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে কমে গেলে ইত্যাদি।

এই ছিল গর্ভবতী অবস্থায় রোজা রাখা ও করনীয় সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্যাদি। সবাই সুস্থ থাকুন।

3
গরমে ঘামাচি হওয়ার কারণ ও নিরাময়ে ১৬টি ঘরোয়া উপায়

ঘামাচি কী?

ঘামাচি এক ধরনের চর্মরোগ। নাম শুনেই বুঝতে পারছেন এর নামকরণ হয়েছে ঘাম শব্দটি থেকে। গরমের সময় আমাদের ত্বকে লাল বর্ণ ধারণ করে ফুসকুড়ির ন্যায় যা প্রকাশ পায় সেটিই হলো ঘামাচি বা হিট র‍্যাশ (Heat rash) । আমরা সাধারণত ফুসকুড়ি চুলকালেই তখন ঘামাচির আক্রমণ ভেবে থাকি। উল্লেখ্য যে ঘামাচি হলে আমাদের ত্বক জ্বালা করতেও পারে।

গরমে ঘামাচি কেন হয়?

আমাদের ত্বকের ঘর্মগ্রন্থির সাথে এক ধরনের জীবাণু মিশে থাকে। এই জীবাণুর নাম স্টেফ এপিডারমাইডিস। গ্রীষ্মকালে স্বাভাবিকভাবেই ঘর্মগ্রন্থি থেকে ঘাম বেশি নিঃসৃত হয়। তাই ধূলোবালিও জমে বেশি পরিমাণে। ত্বকের মৃত কোষে ধূলোবালি জমে যখন ঘর্মগ্রন্থি থেকে স্বাভাবিকভাবে ঘাম নিঃসরণ হতে পারে না তখন স্টেফ এপিডারমাইডিস-এর সংস্পর্শে এসে ঘামাচির উৎপত্তি হয়।

ঘামাচির প্রকারভেদ

এটি সাধারনত ৩ ধরনের হয়। সেগুলো হলো-


১) মিলিয়ারিয়া ক্রিস্টালিনা (Miliaria Cristalina)

এই ধরনের ঘামাচি প্রায় স্বাভাবিক হয়ে থাকে। এর তেমন কোন উপসর্গ দেখা যায় না। ত্বকের এপিডারমিস থেকে এই ঘামাচি হয়ে থাকে।

২) মিলিয়ারিয়া প্রফান্ডা (Miliaria Profunda)

এই ধরনের ঘামাচি অনেকটা মিলিয়ারিয়া ঘামাচির মতই। এটিরও তেমন কোন উপসর্গ থাকে না অর্থাৎ মিলিয়ারিয়া প্রফান্ডাও স্বাভাবিক প্রকৃতির ঘামাচি। মিলিয়ারিয়া প্রফান্ডা ত্বকের এপিডারমিস থেকে হয়।

৩) মিলিয়ারিয়া রুব্রা (Miliaria Rubra)

মিলিয়ারিয়া রুব্রা হলেই মূলত আমরা ঘামাচির যন্ত্রণা ভোগ করি। যখন অতিরিক্ত ধূলো-ময়লা জমে ঘর্মগ্রন্থি বন্ধ হয়ে ঘর্মনালীও আবদ্ধ হয়ে যায়, তখন ঘামাচিকে মিলিয়ারিয়া রুব্রার হিসেবে ধরা হয়। ত্বকে লাল লাল ফুসকুড়ি বা পানি ফোটা থাকলে বুঝতে হবে তা মিলিয়ারিয়া রুব্রার টাইপ ঘামাচি। এই ঘামাচি হলে ত্বক চুলকানো বা জ্বালা হবার সমস্যা হয়। ত্বকের গভীর থেকে অর্থাৎ ডারমিস থেকে এই ঘামাচি হয়।

ঘামাচিতে আক্রান্তের স্থান ও ক্ষতির প্রকৃতি

সাধারণত বুকে, পিঠে ফুসকুড়ি দেখা দিলেই আমরা ভাবি যে ঘামাচি হয়েছে। কিন্তু বুকে, পিঠে ছাড়াও শরীরের যেসব অংশে ভাজ পরে যেমন- কনুই, ঘাড়,কাঁধ, কুঁচকি ইত্যাদি অংশেও ঘামাচি হয়। আমরা অনেকেই মনে করি ঘামাচি হলে কোন প্রকার ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয় না। কিন্তু ঘামাচির সংক্রমণের ফলে চুলকানি ও প্রদাহের সাথে সাথে শরীর প্রচুর ক্লান্ত হয়ে যায়। কখনো কখনো বমি বমি ভাব, নিম্ন রক্তচাপ, মাথা ব্যথা, অবসাদ এমনকি হিট স্ট্রোকও হতে পারে।

ঘামাচিতে উপকারি কয়েকটি ঘরোয়া টিপস

আমাদের হাতের কাছেই রয়েছে এমন কিছু উপাদান,যা এনে দিতে পারে ঘামাচির যন্ত্রণা থেকে মুক্তি! এমন যাদুকরী কিছু টিপস জেনে নেই আসুন।

১) বরফ

ঘামাচিতে উপকার পেতে সবচেয়ে সহজ উপায় হলো যে সব স্থানে ঘামাচি আছে, সেখানে বরফ ঘষা। ঠাণ্ডা পানিও ভালো আরাম দেয় ঘামাচিতে।

২) মুলতানি মাটি

মুলতানি মাটির পেস্ট ঘামাচিতে বেশ উপকারি। এই পেস্ট তৈরি করতে লাগবে ৪/৫ টেবিল চামচ মুলতানি মাটি,  গোলাপ জল ২/৩ টেবিল চামচ ও পানি পরিমাণ মত। ঘামাচির জায়গায় এই পেস্ট ২/৩ ঘন্টা রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেললে কয়েক দিনের মধ্যে ঘামচি ভালো হয়ে যাবে।

৩) বেকিং সোডা

ভাবছেন বেকিং সোডা কিভাবে ঘামাচিতে ব্যবহার করবেন? বলছি! ১ কাপ ঠাণ্ডা পানিতে ১ টেবিল চামচ বেকিং সোডা গুলিয়ে একটি পরিষ্কার কাপড় বেকিং সোডার পানিতে ভিজিয়ে তা ভালো করে নিংড়ে ঘামাচির স্থানে লাগালে বেশ উপকার পাওয়া যায়।

৪) নিমপাতা

ত্বকের যে কোনো সমস্যার সমাধান যেন নিমপাতা ছাড়া হয়ই না। ঘামাচির ক্ষেত্রেও তাই! কারণ, নিমপাতায় আছে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল (Anti-bacterial) উপাদান যা ঘামাচি নিরাময়ে সাহায্য করে। তাই, নিমপাতার পেস্ট শরীরে লাগিয়ে তা সম্পূর্ণ শুকাতে হবে। এভাবে ৪-৫ বার দিনে ব্যবহার করতে পারলেই ঘামাচিকে বলা যাবে টা টা বাই বাই!

এছাড়াও নিমপাতার আরোও একটি চমৎকার রেমেডি বলি। ১ মুঠ নিমপাতা নিয়ে ২ কাপ পানিতে ২০ মিনিট ধরে সিদ্ধ করতে হবে। এরপর সেই পানি ঠাণ্ডা করে একটি পরিষ্কার কাপড় দিয়ে ঘামাচির জায়গায় ৫-১০ মিনিট ধরে লাগাতে হবে। এভাবে দিনে ৪/৫ বার করতে পারলে ভালো।

৫) লেবুর রস

লেবুর রসে রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান, যা ঘামাচি দূর করতে বেশ কার্যকরী। ঘামাচিতে উপকার পেতে দিনে ৩/৪ গ্লাস লেবুর রস মিশ্রিত পানি পান করুন।

৬) অ্যালোভেরা জেল

অ্যালোভেরা জেল ঘামাচিতে অনেক আরাম দেয়। কয়েক দিন শরীরে নিয়মিত অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করলে ঘামাচি ভালো হয়ে যায়। সেজন্য অ্যালোভেরা পাতা থেকে অ্যালোভেরা জেল বের করে তা শরীরে প্রলেপ মেখে নিতে হবে। জেল আপনা-আপনি  শুকিয়ে গেলে পরে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

৭) চন্দন

চন্দন বাটা বা চন্দন গুঁড়া গোলাপজলের সাথে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে ঘামাচির স্থানে কয়েকবার লাগালে কিছুদিনের মধ্যেই ঘামাচি ভালো হয়ে যাবে।

চন্দনের ম্যাজিকেল রেমেডি রয়েছে। এটি বানাতে লাগবে চন্দন বাটা/ গুড়া আর লাগবে ধনেপাতা বাটা । চন্দন ও ধনেপাতা বাটা মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে ঘামাচিতে লাগালে অনেক উপকার পাওয়া যায়। উল্লেখ্য যে, ধনেপাতায় আছে অ্যান্টিসেপ্টিক গুণ! আর চন্দন ঘামাচির জ্বালা ও চুলকানি দুই-ই কমায়।

৮) ফিটকিরি

পানি পরিশোধনে  বা সেভিং লোশন-এর বিকল্প হিসেবে ফিটকিরি ব্যবহৃত হয় তা আমরা সবাই জানি। কিন্তু ঘামাচিতে ফিটকিরি! একথা কি সবার জানা আছে? হ্যাঁ ঘামচিতে ফিটকিরি মিশ্রিত পানি পরিষ্কার কাপড় দিয়ে লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে গোসল করলে বেশ উপকার পাওয়া যায়।

৯) লাউ

আমরা জানি লাউ এমনিতেই ঠাণ্ডা একটি সবজি। ঘামাচির জন্য লাউ আগুনে ঝলসে নিয়ে তা থেকে রস বের করে কিছুদিন খেলে অনেক উপকার পাওয়া যায়।

১০) বেসন

রান্নাঘরে একটু খুঁজলেই হাতের কাছে পাবেন বেসন।  বেসনের সাথে পানি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে ঘামাচিতে প্রলেপ দিলে  উপকার পাবেন। হ্যাঁ, অবশ্যই কিন্তু ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুবেন!

১১) আলু

গরমে ঘামাচি হয়েছে? কাঁচা আলুর পেস্ট লাগান! আরে, আলু শুধু রূপচর্চায়ই ব্যবহার করা হয় না! একবার ঘামচিতে লাগিয়েই দেখুন, উপকার পাবেন।

১২) ওটমিল বাথ

ঘামাচির জন্য ওটমিল বাথ নিতে পারেন। বাথটাবে আধকাপ ওটমিল ভিজিয়ে এরপর ডুবে থেকে অপেক্ষা করুন ১৫-২০ মিনিট! ভাবছেন সবার কি বাথটাব থাকে! হ্যাঁ! তাদের বলছি, নো টেনশন! ওটমিল ভেজানো পানি ঘামাচির উপর লাগালেও হবে। এতে অসহ্যকর চুলকানি থেকে আরাম পাবেন।

১৩) তরমুজ

রসালো লাল টকটকে তরমুজ দেখলেই তৃষ্ণা বেড়ে যায় তাই না? তরমুজ তো খাবেনই, ঘামাচি থাকলে একটুখানি খাবার সময় পাল্প বের করে আলাদা করে রেখে দিন। তরমুজের পাল্প ঘামাচিতে লাগালে বেশ উপকার পাওয়া যায়।

১৪) আদা

আদার পানি ঘামাচির জন্য অনেক উপকারী। তাই, আদা গ্রেট করে পানিতে ফুটিয়ে নিতে হবে। সাবধান! গরম পানি লাগাতে যাবেন না যেন! পানি ঠাণ্ডা হলে পরেই নরম সুতি কাপড় ব্যবহার করে ঘামাচির জায়গায় লাগান।

১৫) শসা

শসা শুধু দেহকে হাইড্রেটেডই করে না, শসা ঘামাচিতেও আরামদায়ক। ঘামাচির চুলকানি দূর করতে শসা বেশ কার্যকরী। শসা পাতলা পাতলা করে কেটে তা ৩০ মিনিট সময় নিয়ে ঘামাচির স্থানে রাখুন। শীতল ভাব পাবার সাথে সাথে চুলকানি কমবে। ৩০ মিনিট পরে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

এছাড়াও শসা রস করে খানিক লেবুর রসের সাথে মিশিয়ে পাতলা পরিষ্কার কাপড় দিয়ে ঘামচিতে লাগাতে পারেন। এতে আরাম পাবার সাথে  সাথে ঘামাচির নিরাময়ও হবে।

১৬) কাঁচা আম

গ্রীষ্মের সময় আমাদের সবার ঘরে ঘরে কাঁচা আম থাকে। ঘামাচি নিরাময়ে সবচেয়ে মজাদার পানীয় বোধ হয় এটি। এই পানীয় তৈরি করতে লাগবে ২টি কাঁচা আম, পানি, লবণ ও চিনি। প্রথমেই ২টি আম গরম পানিতে সিদ্ধ করে নিতে হবে। এরপর তা থেকে রস বের করে ঠাণ্ডা পানিতে পরিমাণমতো লবণ ও চিনি মিশিয়ে মজা করে খেতে থাকুন এই সুস্বাদু পানীয়! প্রতিদিন ১-২ বার করে এক সপ্তাহ পর্যন্ত পান করলে ঘামাচির জ্বালা ও চুলকানি থেকে দূরে থাকতে পারবেন খুব সহজেই!

গরমে ঘামাচি মোকাবেলায় কার্যকরী ফেইস প্যাক

অনেকেরই দেখা যায় মুখে ঘামাচি উঠে। সেক্ষেত্রে একটি ফেইস প্যাক ইউজ করতে পারেন। শুধু লাগবে ৩টি মাত্র উপাদান! তুলসি পাতা পেস্ট, কচি লাউ পেস্ট ও আতপ চাল গুঁড়া। এই ৩টি উপাদান একসাথে মিশিয়ে ব্যবহার করলে মুখের ঘামাচি কমাতে পারবেন।

গরমে ঘামাচি দূর করার প্রোডাক্টের নাম

ব্যস্ত জীবনে সময়ের অভাবে অনেকেই ঘরোয়া টিপসগুলো ব্যবহার করতে পারেন না। তাই বাধ্য হয়েই তারা পাউডারকেই তাদের সহজ সমাধান হিসেবে বেছে নেন। তাদের বলছি, হাতের কাছে রাখতে পারেন – বোরো প্লাস (Boro Plus Ice Cool), গোল্ড বন্ড পাউডার ও লোশন ( Gold Bond), ওয়াইল্ড স্টোন কুল ট্যাল্ক ( Wild Stone Cool Talk), ডুড বডি পাউডার ( Dude Body Powder) ইত্যাদি পণ্যসমূহ!

শেষ সময়ে বলে যাই ঘামাচি হলে ভুলেও যা করবেন না

ভুল করেও নখ দিয়ে ঘামাচি চুলকাবেন না।

অতিরিক্ত খারাপ অবস্থা হলে কোন রকম প্রসাধনী ব্যবহার করা যাবে না। তবে স্টেরয়েড মলম বা ক্যালামাইন লোশন ব্যবহার করতে পারেন।
ঘামচি হলে নাইলনের কোনো কাপড় পরা থেকে বিরত থাকুন।
ঘর কখনো স্যাঁতস্যাঁতে রাখবেন না। সব সময় ঘর রাখুন আলো বাতাসসমৃদ্ধ!

আর হ্যাঁ, গরমে ঘামাচি হলে ও এ থেকে পুঁজ নিঃসৃত হলে দেরি না করে শীঘ্রই ডাক্তারের পরামর্শ নিন! সুস্থ থাকুন।

4
বৈশাখকে বলা হয় মধু মাস। চারিদিক বিভিন্ন রসালো ফলের ছড়াছড়ি। কিন্তু এই মধু মাসে মধুর ফলের স্বাদ যেমন আমাদের আকর্ষণ করে ঠিক তেমনি এই মাসের অসহ্য গরম আমাদের কষ্ট দেয়। নানা ধরনের রোগে ভোগে বাচ্চা বৃদ্ধ সবাই। ডায়রিয়া, ডিহাইড্রেশন, জ্বর, ঠান্ডা, হিট স্ট্রোক এমন নানা রোগে কষ্ট পাই আমরা। রোগে ভুগে কষ্ট পাওয়ার দিন শেষ! সবাই এখন অনেক স্বাস্থ্য সচেতন। ভালো থাকতে হবে নিজেকে আর ভালো রাখতে হবে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের। তাই জানতে  এবং মানতে হবে ছোট ছোট কিছু কৌশল। ব্যস, তাহলেই সুস্থ থাকা অনেক সহজ হয়ে যাবে। আমরা সবাই কমবেশি জানি, তারপরও চলুন এই প্রচন্ড গরমে সুস্থতা বজায় রাখতে জেনে নেই ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ টিপস!

প্রচন্ড গরমে সুস্থতা বজায় রাখতে টিপস

১. প্রচুর পানি পান করুন


এই গরমে সুস্থ থাকতে হলে প্রচুর পরিমাণের পানি পান করুন। পানির কোন বিকল্প নেই। প্রতিদিন ঘামের সাথে প্রচুর পানি ও লবণ আমাদের শরীর থেকে বের হয়ে যায়। আর তাই প্রতিদিন ৬ লিটার পানি অবশ্যই পান করুন।

২. রসালো ফল খান

প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করুন প্রচুর রসালো ফল। রসালো ফল আপনার শরীরের পানির ঘাটতি পূরণে সাহায্য করার পাশাপাশি বিভিন্ন ভিটামিন, মিনারেল ও খনিজের অভাব দূর করবে। এবং এই গরমে আমাদের শরীরের ক্লান্তি দূর করে কাজের শক্তি যোগান দেবে।

৩. প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখুন সবজি

প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় অবশ্যই প্রচুর পরিমাণে সবজি রাখুন এবং তরকারিতে ঝোল রাখুন। এসময় যতটা সম্ভব কষা রান্না পরিহার করুন। শরীর থেকে প্রচুর পানি বের হয় বলে ঝোল জাতীয় খাবার থাকা খুবই দরকার।

৪. মাংস খাওয়া পরিহার করতে হবে

অতিরিক্ত মাংস খাওয়া শরীরের জন্য এমনিতেই ক্ষতিকর। প্রতিদিন মাংস গ্রহণ শরীরে জন্ম দেয় নানা রোগের। আমাদের শরীরের বেশিরভাগ রোগের অন্যতম কারণ প্রতিদিন মাংস খাওয়া। তাই প্রচন্ড গরমে সুস্থতা বজায় রাখতে নিজের এবং পরিবারের মাংস খাওয়া পরিহার করুন।

৫. কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার কম গ্রহণ করুন

কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার আমাদের শরীরকে স্থূলকায় করে তোলে। জানলে অবাক হবেন ডায়াবেটিস-এর মতো ভয়াবহ রোগের অন্যতম কারণ এই অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার গ্রহণ। তাই কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবারকে না বলুন। না, একেবারে না নয় কিন্তু! পরিমাণ মতো খান ও  সুস্থ থাকুন অনেক দিন।

৬. চা, কফি পরিহার করুন

চা, কফিতে থাকে প্রচুর পরিমাণে নিকোটিন। যা শরীরকে করে তোলে শুষ্ক। যেহেতু গ্রীষ্মকালে আমরা প্রচুর ঘামি, সেহেতু শরীরের থেকে বেরিয়ে যায় প্রচুর পানি। তাই চা, কফি পান যথা সম্ভব কমিয়ে দিন।  আর  হলে গরমের সময় পান করা থেকে বিরত থাকুন।

৭. লেবু, বেলের শরবত ও ডাবের পানি করুন

গরমে নিয়মিত পান করুন লেবুর শরবত কিংবা বেলের শরবত। সম্ভব হলে ডাবের পানি পান করুন। লেবুতে আছে ভিটামিন সি।বেলে আছে ভিটামিন, মিনারেল, শর্করা। ডাবের পানিতে আছে আয়োডিন, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, আয়রণ ইত্যাদি। এ জাতীয় পানীয় শরীরকে করবে সতেজ ও ঠান্ডা এবং শরীরে ভিটামিন, আয়োডিন-এর অভাব দূর করে শরীরের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

৮. ট্যাং ও এই জাতীয় পানীয় একদম না

ট্যাং এবং এই জাতীয় কোমল পানীয় স্বাস্থ্যের জন্য অন্যন্ত ক্ষতিকর। বিক্রি বৃদ্ধির জন্য বিজ্ঞাপনে নানা ধরনের পুষ্টি উপাদান দেখালেও আসলে এর কিছুই এর মধ্যে উপস্থিত থাকে না। যে সকল উপাদান দিয়ে এসকল পণ্য উৎপাদন করা হয় তার সবই মানুষের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

৯. ছাতা ব্যবহার করুন

বাহিরে বেড়োবার সময় অবশ্যই ছাতা ব্যবহার করুন। সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি আমাদের ত্বকের জন্য খুবই ক্ষতিকর। স্কিন ক্যান্সার-এর অন্যতম কারণ এই অতি বেগুনি রশ্মি। এছাড়াও অতিরিক্ত তাপমাত্রার জন্য অজ্ঞান হয়ে যাওয়া এমনকি হিট স্ট্রোকও হয়ে থাকে। তাই ব্যবহার করুন ছাতা।

১০. সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন

প্রতিদিন ও নিয়মিত ব্যবহার করুন সানস্ক্রিন এবং অবশ্যই তা হতে হবে ভালো কোন ব্যান্ড-এর। কমদামি, সস্তা সানস্ক্রিন লাভের বদলে মারাত্মক ক্ষতি করবে আপনার ত্বকের। যে ক্ষতি অনেক সময় পূরণ করা প্রায় অসম্ভব।

১১. হালকা ব্যায়াম করুন

প্রতিদিন সকালে হালকা ব্যায়াম করুন। ব্যায়াম দেহ ও মনের উৎকর্ষতা সাধন করে। দেহ ও মনকে সতেজ রাখে, কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে,  শরীরে শক্তি বৃদ্ধি করে,  হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি করে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

১২. ব্যাগে রাখুন পানির বোতল

বাহিরে যাবার সময় অবশ্যই ব্যাগে রাখুন পানির বোতল। অনেক সময় অনেক জায়গায় বিশুদ্ধ পানির অভাব দেখা দেয়। তাই সব সময় নিজের সাথে রাখুন নিরাপদ পানি।

১৩. রোদ চশমা ব্যবহার করুন

ধূলাবালি ও রোদ থেকে বাঁচতে বাহিরে  যাওয়ার সময় ব্যবহার করুন রোদ চশমা বা সানগ্লাস।

১৪. হালকা রঙের সুতি ও ঢিলেঢালা পোশাক পরিধান করুন

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে আরামদায়ক পোশাক পরিধান করা। এই গরমে পরিধান করুন সুতি জাতীয় কাপড়ের পোশাক এবং পোশাকটি ঢিলেঢালা পরিধান করার চেষ্টা করুন, কেননা আঁটসাঁট বা গাঁয়ের সাথে লেগে থাকা পোশাকে গরম বেশি অনুভূত হয়।গাঢ় রঙ সূর্যের তাপ বেশি শোষণ করে বিধায় গাঢ় রঙের পোশাকে গরম বেশি লাগে এবং বেশি ঘাম হয়। ফলে শরীর থেকে বেশি পানি বের হয়ে যায়। তাই এই প্রচন্ড গরমে সুস্থতা বজায় রাখতে ব্যবহার করুন হালকা রঙের পোশাক।

সামান্য কিছু নিয়ম মেনে চললে নিজে যেমন সুস্থ থাকা যায় ঠিক তেমনি পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও সুস্থ্য রাখা সম্ভব। তাই এই প্রচন্ড গরমে সুস্থতা বজায় রাখতে কিছু নিয়ম মেনে চলুন। স্বাস্থ্যসম্মত, সুস্থ, সুন্দর ও সুখী জীবন আমাদের সকলের একান্ত কাম্য। নিজে ভালো থাকুন এবং নিজের পরিবারকে ভালো রাখুন।

5
ওজন বেড়ে যাওয়া বা ওয়েট গেইন আমাদের বেশিরভাগ মানুষেরই চিন্তার একটি মূল কারণ। যে কোন কারণে ওজন বেড়ে যাওয়াটাই যেন আজকাল খুব স্বাভাবিক একটি ব্যপার। ওজন কমে যাওয়ার চাইতে ওজন বেড়ে যাওয়ার হার বেশি পরিলক্ষিত। কারণ ওজন বাড়ার জন্য তেমন কোন কষ্টই করতে হয় না বরং এটি না চাইতেও যেন হুরহুর করে বেড়ে যায়, অন্যদিকে ওজন কমানোর জন্য প্রচুর ডায়েট এবং কসরত করেও লাভ কিন্তু খুব কমই হয়, ওজন যেন কমতেই চায় না। যাই হোক, সার্জারির পেশেন্টদের ক্ষেত্রে ওজন বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা খুব বেশি লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে যারা সম্প্রতি কোন ধরনের অস্ত্রোপচার করেছেন তাদের ক্ষেত্রে ওজন বেড়ে যাওয়ার অর্থাৎ সার্জারির পর ওজন বাড়া ও এর হার তুলনামূলকভাবে বেশি।

সার্জারির পরে অবিলম্বে ওজন বৃদ্ধি পেতে দেখা যায়। আসলে, এই ওজন প্রায়ই ফলোআপ-এর মধ্যে ঘটে। সার্জারির পর ওজন বৃদ্ধির খুব কমন একটি উদাহরণ হলো, প্রেগন্যান্সি-এর পর ওজন বৃদ্ধি। এক্ষেত্রে তাদের ডেলিভারি সি-সেকশন সাহায্যে ঘটে। এই ক্ষেত্রে, প্রায় ৮০% নারীর সার্জারির পর উল্লেখযোগ্য ওজন বৃদ্ধি ঘটে। অন্যান্য ক্ষেত্রে, যেমন জটিল সার্জারি এমনকি ছোটখাটো টনসিলেক্টোমি-এর মত সার্জারিও ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।

চলুন তাহলে সার্জারির পর ওজন বাড়া যে ৫ টি প্রধান কারণে হয়ে থাকে সেগুলো দেখে নেয়া যাক।

সার্জারির পর ওজন বাড়া যে কারণে ঘটে

১. ফ্লুইড রিটেনশন বা তরল ধারণ

সার্জারির পর ওজন বাড়া ও এর একটি প্রধান কারণ হলো সার্জারির পর শরীরে তরল ধারণ করা। একে মেডিকেলের ভাষায় এডিমা (Edema) বলা হয়। পানি জমে যায় আপনার শরীরের অন্তর্বর্তী স্থানগুলোতে- অর্গান-গুলোর মধ্যবর্তী স্পেইস-এ। এই কারণে ওজন বেড়ে যায়। এটি স্থায়ীভাবে থেকে যেতে পারে।

উদাহরণস্বরূপ, দেখা গেল কোন সার্জারির রোগীর হাত এবং পা ফুলে গেছে এটা সাধারণ মনে হলেও এটা তরল স্থানীয়করণের জন্য হয়ে থাকে।

২. ট্রমা (Trauma)

অস্ত্রোপচারের সময়, শরীরের টিস্যুগুলো অনেক মানসিক আঘাত ভোগ করে। এর কারণে ইনফ্লামেশন হয় এবং এটিও তরল ধারণের একটি কারণ। যদি সার্জারি কোন দুর্ঘটনা ঘটার কারণে হয়ে থাকে, তাহলে তা তরল ধারণের ক্ষেত্রে আরো বেশি সম্ভাবনাময় হয়ে থাকে। তাই কোন দুর্ঘটনাব্যতীত সার্জারি হলে তাতে ট্রমা-এর প্রভাব পড়ে এবং ওজন বৃদ্ধি পায়।

৩. চাপ (Stress)

স্ট্রেস হলো হরমোনাল ভারসাম্যহীনতার একটি প্রধান কারণ যা শরীরকে অত্যধিক তরল ধারণ করার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। সার্জারি সম্পর্কিত চাপের ফলে অ্যান্টি-ডায়োরেটিক হরমোন (Anti-diuretic hormone- ADH) হাই লেভেলে পৌছে যায় যা কিডনিকে শরীরের অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করার জন্য তৈরি করে। এই কারণে অযৌক্তিকভাবে শরীরে ওজন লাভ হয়। এছাড়াও অস্ত্রোপচারের পর, রোগী সার্জারির আগের সমস্যা দূর করার জন্য সার্জারির পর অনেক সময় তাদের ঔষুধ মিশ্রণের ফলে শরীরে অনেক পরিবর্তন দেখা দেয় যা তরল ধারণের জন্য অনেকাংশে দায়ী। এটি ওজন বেড়ে যাওয়ার একটি অন্যতম কারণ।

৪. স্থিরতা

অস্ত্রোপচারের পর, সাধারণত রোগীদের জন্য খুব বেশি কাজ করা বা শারীরিক কসরত করা নিষেধ থাকে। তাদের খুব কম নড়াচড়া করতে বলা হয়ে থাকে। এই কারণে রোগীদের স্বাস্থ্য বেড়ে গিয়ে খুব দ্রুত ওজন বৃদ্ধি ঘটে থাকে। তাই এক্ষেত্রে ডাক্তারদের পরামর্শ থাকে, রিকোভারি পিরিয়ড শেষ হয়ে গেলে রোগী যেন হালকা ব্যায়াম করে এতে তার পোস্ট-সার্জারি ডিপ্রেশন কাটিয়ে ওঠা সহজ হয়ে উঠে।

৫. কমফোর্ট ফুড

এটি ওজন বেড়ে যাওয়ার আরেকটি মেজর ফ্যাক্টর। এক্ষেত্রে দেখা যায়, রোগী ভাবেন যে সার্জারির পর তার বেশি বেশি খেতে হবে শরীর দ্রুত সুস্থ হওয়ার জন্য। এছাড়াও এমনও দেখা যায় যে রোগীর আত্মীয়স্বজন রোগীকে দেখতে আসেন বিভিন্ন ধরনের খাবার-দাবার নিয়ে। এতে রোগী প্রচুর পরিমাণে রিচ ফুড বা ওয়েট গেইন হওয়ার মত ক্যালরি খেয়ে ফেলেন নিজের অজান্তেই। এতেও দ্রুত ওজন বেড়ে যেতে দেখা যায়।

কিভাবে এই ওজন কমানো যেতে পারে?
অস্ত্রোপচারের পরে ওজন বেড়ে যাওয়া কিছুটা স্বাভাবিক। কিন্তু সেটা ১ সপ্তাহে ৫-৬ পাউন্ডের বেশি নয়।

১) যদি রোগীর ওজন আরো দ্রুত বৃদ্ধি পায়, তাদের ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত। সাধারণত, একটি রোগীর সার্জারির পর বেশি বেশি ক্ষুধা পায় এবং শরীর দুর্বল মনে হয়। এটি স্বাভাবিক হতে এক সপ্তাহ বা এর বেশি সময় ও লাগতে পারে। তাই এই সময় বেশি বেশি খেতে চাওয়াটাও অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে, এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে অস্বাস্থ্যকর খাবার এড়িয়ে চলা উচিত এবং উচ্চ ক্যালোরি সম্পন্ন খাবার সঠিক মাত্রায় গ্রহণ করা উচিত।

২) এছাড়াও পরিমিত ক্যালোরি এবং সুষম খাবারের পাশাপাশি ডাক্তারগণ হালকা ব্যায়াম করার পরামর্শ ও দিয়ে থাকেন। এমনকি যাদের তলপেটে সার্জারি হয়েছে, তাদেরকেও নির্দিষ্ট সময়ের পর সম্পূর্ণ বসে থাকতে বারন করেন। এমনকি যাদের তলপেটে অপারেশন হয়েছে তাদেরকেও পেটে হালকা চাপ দিয়ে ব্যায়াম করতে বলেন যাতে শরীর ফিট থাকে।

৩) সর্বোপরি, প্রচুর পরিমাণে পানির পানি পান করা অবশ্যই কর্তব্য। কারণ ওজন কমানোর জন্য পানির কোন বিকল্প নেই। তাছাড়াও সঠিক পরিমাণে পানি পান করলে এটি ফ্লুয়িড রিটেনশান হতে বাঁধা প্রদান করে তাই অতিরিক্ত ওজন বেড়ে যেতে পারেনা। এর কারন হলো, শরীর পর্যাপ্ত পরিমানে পানি পেলে কিডনিতে সংকেত পাঠায় এবং কিডনি অতিরিক্ত পানি কনসার্ভ করা থেকে বিরত থাকে।

সার্জারির পর ওজন বাড়া অনেক কারণে হতে পারে তবে উপরিউক্ত ৫টি কারণই হলো সার্জারির পর ওজন বৃদ্ধি পাওয়ার প্রধাণ কারণ। তাই সার্জারির পরে আপনার ডাক্তারের পরামর্শমত জীবনযাপন করুন এবং পরামর্শব্যতীত কোন কাজ করবেন না কারণ এই সময়টিতে শরীর খুব দুর্বল থাকে। এছাড়াও পুষ্টিকর খাদ্যগ্রহণ করুন এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন। খুব সাধারণ কিছু নিয়ম মেনে চললেই আপনার শরীর থাকবে ফিট এবং আপনি থাকবেন সুস্থ।

6
ঘুমের মধ্যে নাক ডাকেন অনেকেই। যিনি নাক ডাকেন, তাঁর জন্য এটি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে আর অবধারিতভাবেই পাশের মানুষটির জন্য হয়ে ওঠে চরম বিরক্তিকর। মধ্যবয়স্ক ৪০ ভাগ পুরুষ ও ২০ ভাগ নারী ঘুমের মধ্যে নাক ডাকেন। সাধারণ কতগুলো নিয়ম মেনে চললে নাক ডাকার এই সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া যেতে পারে। চলুন জেনে নিই ঘুমের মধ্যে নাক ডাকা সমস্যাটির কিছু কারণ ও প্রতিকারে কিছু উপায়।

ঘুমের মধ্যে নাক ডাকা

কিছু কারণ আছে যেগুলোর কারণে মানুষ ঘুমের মধ্যে নাক ডাকে। চলুন জেনে নিই সেই কারণগুলো –

১. ঘুমের মধ্যে শ্বাস-প্রশ্বাসের গতিপথে কোনো বাঁধা পেলে বাতাস শ্বাসযন্ত্রে কাঁপুনির সৃষ্টি করে। এরই ফলে নাক ডাকার শব্দ হয়।

২. ওজন বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে গলার চারপাশের চর্বি জমা হয়।

৩. গলার পেশির নমনীয়তা কমে গেলে।

৪. জন্মগত কারণে শ্বাসযন্ত্র সরু হলে বা চোয়ালে কোনো সমস্যা থাকলে।

৫. ধূমপান, অতিরিক্ত অ্যালকোহল ও ঘুমের ওষুধ এই সমস্যা বাড়ায়।

৬. থাইরয়েডের সমস্যা ও গ্রোথ হরমোনের আধিক্যজনিত রোগে।

৭. অনেক সময় চিত হয়ে ঘুমালে জিব পেছনে চলে গিয়ে শ্বাসনালি বন্ধ করে দেয়।

ঘুমের মধ্যে নাক ডাকা কমাতে কিছু টিপস

ঘুমের মধ্যে নাক ডাকা কমাতে টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে কিছু পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে। দেখুন এই পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করে আপনি নাক ডাকা থেকে মুক্তি পান কি না –

১. কাত হয়ে ঘুমানো

যারা নাক ডাকেন, তারা চিত হয়ে না ঘুমিয়ে কাত হয়ে ঘুমাতে পারেন। চিত হয়ে ঘুমালে গলার পেশি শিথিল থাকে। ফলে নাক বেশি ডাকার আশঙ্কা থাকে।

২. ওজন কমানো

স্থূলতার কারণেও অনেকে নাক ডাকতে পারেন। বেশি ওজনের কারণে গলার পথ সরু হয়ে যায়। এর ফলে শ্বাস নেওয়ার সময় টিস্যু গুলোতে ঘষা লাগে। এতে করে শ্বাস নেওয়ার সময় শব্দ হয়।

৩. নেশাজাতীয় দ্রব্য ও ঘুমের ওষুধ পরিহার
 
অ্যালকোহল বা নেশাজাতীয় দ্রব্য নেওয়ার পরে অনেকে নাক ডাকেন। বিশেষ করে ঘুমাতে যাওয়ার সময় যারা অ্যালকোহল পান করেন, তাঁরা বেশি নাক ডাকেন।

৪. অতিরিক্ত বালিশ নেওয়া

মাথার নিচে কয়েকটি বালিশ দিয়েও নাক ডাকা কমানো যেতে পারে। মাথার নিচে বালিশ দিলে বুকের চেয়ে মাথা বেশি উঁচুতে থাকে। এতে করে নাক ডাকার আশঙ্কা কিছুটা কমে যায়।

৫. ধূমপান ছেড়ে দেওয়া

ধূমপান করলে শরীরের অক্সিজেন ব্যবহারের ক্ষমতা কমে যায়। এর ফলে বাতাস বের হওয়ার পথ সংকুচিত হয়ে পড়ে। এ কারণেও নাক বেশি ডাকতে পারেন অনেকে। তাই ধূমপানের অভ্যাস ত্যাগ করাই ভালো।

৬. নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম

প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করা উচিত। এতে করে ঘুমের সঙ্গে শরীরের এক ধরনের সামঞ্জস্য তৈরি হয়। ফলে অভ্যাসেরও পরিবর্তন হয়।

৭. শরীরচর্চা

ব্যায়াম করলে পেশি, রক্তের চলাচল ও হৃদপিণ্ডের স্পন্দন বাড়ে। ফলে ঘুমও ভালো হয়। এ কারণে নাক ডাকা কমাতে হলে প্রতিদিন ৩০ মিনিট শরীরচর্চার  অভ্যাস করা জরুরী।

৮. প্রচুর পানি পান করা

চুর পরিমাণে পানি পান করা উচিত। এতে করে নাকের রন্ধ্রে লেগে থাকা আঠার মতো দ্রব্য গুলো দূর হবে। নাক ডাকাও কমবে।

৯. নাসারন্ধ্রের পথ পরিষ্কার রাখা

নাক পরিষ্কার রাখাটা খুবই জরুরী। কারণ, এতে করে একজন ব্যক্তি সহজ ভাবে নিঃশ্বাস নিতে পারেন। এ কারণে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ভালো ভাবে নাক পরিষ্কার করতে হবে। এমনকি এ ক্ষেত্রে ইনহেলার ব্যবহার করা যেতে পারে।

১০. ঘরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ

শোবার ঘরের তাপমাত্রা আর্দ্র রাখুন। শুষ্ক আবহাওয়ায় নাকের ঝিল্লিতে সমস্যা হতে পারে।

১১. দুই ঘণ্টা আগে রাতের খাবার খাওয়া

ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত দুই ঘণ্টা আগে রাতের খাবার খাওয়া উচিত। এতে করে জেগে থাকা অবস্থায়ই খাবার হজম হয়ে যাবে। এর ফলে রাতে ভালো ঘুম হবে। নাক ডাকাও কমবে।

তবে এসব উপায় অবলম্বন করার পরও যদি নাক ডাকা বন্ধ না হয়, তাহলে অবশ্যই একজন চিকিসৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

7
হাইপোথাইরয়েডিজম সমস্যা কি ও এর উপসর্গ নিয়ে অনেকেই জানতে চায়। হাইপোথাইরয়েডিজম বর্তমানে অতি দ্রুতহারে বৃদ্ধি পাওয়া একটি রোগ। পুরুষের তুলনায় নারীদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৬ গুণ বেশি। কিন্তু দেখা যায় এখনও আমাদের মধ্যে অধিকাংশ নারীরই এ রোগ সম্পর্কে ধারণা কম। অনেকেই জানেন না ওষুধ ছাড়াও প্রাকৃতিক উপায়ে এই রোগ মোকাবেলা করা যায়।

থাইরয়েড কি?

থাইরয়েড দেখতে একটি প্রজাপতির মত গ্রন্থি যা আমাদের গলায় থাকে। এই গ্রন্থি হতে থাইরক্সিন নামক হরমোন নিসৃত হয়। থাইরক্সিন হরমোন আমাদের দেহের বিভিন্ন বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি হৃদপিন্ডের গতি নিয়ন্ত্রণে, শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে, শরীরে কতটুকু প্রোটিন উৎপাদন হবে ইত্যাদি গুরুপুর্ণ কাজে থাইরয়েড হরমোনের প্রভাব রয়েছে। তাই এর গুরুত্ব অনেক।

হাইপোথাইরয়েডিজম কি?

‘হাইপো’ শব্দের অর্থ কম। যখন কোন কারণে থাইরয়েড গ্রন্থি প্রয়োজনের তুলনায় কম হরমোন তৈরি করে তখন তাকে হাইপোথাইরয়েডিজম বলে।

কীভাবে বুঝবেন আপনি হাইপোথাইরয়েডিজম এ ভুগছেন?

এই রোগ অনেক ক্ষেত্রেই সঠিক সময়ে ধরা পড়ে না। থাইরয়েড হরমোনজনিত রোগের লক্ষণগুলো এতটাই বৈচিত্র্যময় হয় যে খুব সহজেই তা চিকিৎসকদের সন্দেহকেও এড়িয়ে যায়। তাই কিছু উপসর্গ আছে যা দেখে আপনি নিজেই সন্দেহ করতে পারবেন হয়তো আপনি হাইপোথাইরয়েডিজম এ ভুগছেন এবং চিকিৎসকের শরনাপন্ন হতে পারবেন।

হাইপোথাইরয়েডিজম সমস্যা বুঝবার কিছু লক্ষণ

থাইরয়েড হরমোন কমে গেলে বিপাক ক্রিয়া দেরিতে হয় তাই এই রোগের প্রথম লক্ষণ ওজন বেড়ে যাওয়া।
অবসাদগ্রস্ততা,ঘুম ঘুম ভাব।
ঠাণ্ডা একদমই সহ্য করতে না পারা।
হৃদস্পন্দন কমে যাওয়া।
উচ্চ রক্তচাপ হওয়া।
বুকে ব্যথা অনুভূত হওয়া।
গলগ দেখা যাওয়া।
চামড়া ও চুল শুষ্ক ও খসখসে হয়ে যাওয়া।
কানে কম শোনা বা একদমই না শোনা।
স্নায়ু ও মাংসপেশী নির্ভর রিফ্লেক্স কমে যাওয়া।
মাংসপেশীতে প্রচন্ডচাপ ও ব্যথা অনুভব করা।
অনিয়মিত মাসিক ও মাসিকের সময় অতিরিক্ত রক্তপাত।
মুখ ও পা ফুলে যাওয়া।
কোষ্ঠকাঠিন্য।
বন্ধ্যাত্বতা।
যৌন ক্ষমতা কমে যাওয়া।
স্বরের কোমলতা কমে যাওয়া, কন্ঠ ভারী ও কর্কশ শোনানো।
পেটে পানি জমা।
উপরের কয়েকটি লক্ষণ একসাথে দেখা দিলেই ডাক্তারের শরণাপন্ন হন এবং কিছু পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হোন আপনি হাইপোথাইরয়েডিজম এ ভুগছেন কি না।

হাইপোথাইরয়েডিজম সমস্যা মোকাবেলায় কিছু সুপারফুড
এই রোগের চিকিৎসায় সাধারণত বিভিন্ন রকমের সিনথেটিক হরমোন পিল দেওয়া হয় যার কিছু ক্ষতিকর পার্শবপ্রতিক্রিয়া থেকেই যায়। কিন্তু দুশ্চিন্তার কোন কারণ নেই,আজকে এমন কিছু খাবারের নাম শেয়ার করবো যা আপনাকে থাইরয়েড হরমোনের চাহিদা মেটাতে সাহায্য করবে।

(১) আয়োডিনযুক্ত খাবার

আয়োডিনের ঘাটতি মেটাতে আমরা আয়োডিনযুক্ত লবন খেয়ে থাকি। কিন্তু অতিরিক্ত লবন উচ্চ রক্তচাপের কারণ হওয়ায় চিকিৎসকরা লবন পরিহার করতে বলে থাকেন। তাই লবনের পরিবর্তে সামুদ্রিক মাছ যেমন – লইট্টা, কোরাল প্রভৃতি খেতে পরামর্শ দেওয়া হয়। এছাড়া চিংড়ি, টুনা মাছেও প্রচুর পরিমাণে আয়োডিন থাকে। সেদ্ধ ডিম, কলা, দানা জাতীয় শস্য, শাকপাতাতেও প্রচুর আয়োডিন। তাই এসব ও খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দেয়া যাবে না।

(২) নারিকেল তেল

নারিকেল তেলের মধ্যে রয়েছে মিডিয়াম চেইন ফ্যাটি-এসিড। এটি থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতি পূরণ করে। নারিকেল তেল থাইরয়েড হরমোন বৃদ্ধি করে, খাবার দ্রুত পরিপাকে সাহায্য করে এবং এতে বিপাক ক্রিয়া বৃদ্ধি পায়। তাছাড়া মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে অবসাদগ্রস্ততা দূর করে। নারিকেল তেলকে রান্নায় ব্যবহার করতে পারেন। তবে প্রতিদিন ৩ চামচের বেশি নারিকেল খাওয়া যাবে না।

(৩) সামুদ্রিক শৈবাল

নামটি অপরিচিত শোনালেও এখন আমাদের দেশে সামুদ্রিক শৈবালের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। অধিকাংশ শৈবালেই সামুদ্রের পানির চেয়েও বেশি আয়োডিন রয়েছে যা ওষুধ বা লবনের বড় বিকল্প হতে পারে।

(৪) উচ্চমানের টাইরোসিন আমিষযুক্ত খাবার

টাইরোসিন দরকার হয় থাইরয়েড হরমোন তৈরিতে। উচ্চমানের টাইরোসিন প্রোটিন পেতে হলে খেতে হবে মাংস, মুরগির মাংস, ডিম, মাছ, কলা ও মিষ্টি কুমড়ার বিচি।

(৫) গরু অথবা মুরগির স্টক

আমরা রান্নাতে বিফ ও চিকেনের যে স্টকটি ব্যবহার করি তাতে প্রচুর পরিমাণে অ্যামাইনো এসিড এল-প্রোলিন ও এল-গ্লাইসিন থাকে যা থাইরয়েড হরমোন তৈরিতে সাহায্য করে। তাছাড়া শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং মাংসপেশীর ব্যথা দূর করে।

(৬) ফলমূল ও শাকসবজি

ফলমূল ও শাকসবজিতে থাকে ভিটামিন, মিনারেলস ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা প্রদাহ কমায়। তাছাড়া ফলমুল ও শাকসবজি পুষ্টিকর হওয়ায় আমাদের শরীরের হরমোন ব্যালেন্স করে, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে, এমনকি হার্টের সুরক্ষায় ও এর গুরুত্ব অপরিসীম।

(৭) বিশুদ্ধ পানি

পানি শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে এবং পরিপাক ক্রিয়া সচল রাখে। কোষ্ঠকাঠিন্য, শরীরের দুর্বলভাব দূর করতে এমন কি সুগারের প্রতি আসক্তি কমাতে প্রতি ২ ঘন্টা অন্তর কমপক্ষে একগ্লাস বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে।

হাইপোথাইরয়েডিজম সমস্যা মোকাবেলায় কোন খাবারগুলো এড়িয়ে যাবেন?

(১) গয়ট্রোজেনাস জাতীয় খাবার


গয়ট্রোজেনাস খাবার যেমন বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকলি, সয়াসস, চিনাবাদাম, শিম, পালংক শাক ইত্যাদি অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া যাবে না। খেলে রান্না করে খেতে হবে, কাঁচা খাওয়া যাবে না। থাইরয়েড সমস্যা থাকলে এসব খাবার না খাওয়াই ভালো।

(২) কলের পানি

অবিশুদ্ধ কলের পানিতে অনেক সময় ফ্লোরিন ও ক্লোরিন থাকে যা আমাদের শরীরের আয়োডিন পরিশোষণে বাধা দেয়। তাই অবশ্যি পানি ফুটিয়ে খেতে হবে।

(৩) কফি

অবসাদ দূর করতে আমরা অনেকেই কফি খেয়ে থাকি। এতে থাকে ক্যাফেইন যা থাইরয়েড হরমোনকে ব্লক করে। তাই আপনি যদি হাইপোথাইরয়েডিজম এ ভুগে থাকেন তাহলে কফির অভ্যাস ত্যাগ করে ফলের জুস খাওয়ার চেষ্টা করুন।

(৪) পাস্তুরিত দুধ ও দুধজাতীয় খাবার

থাইরয়েড সমস্যা থাকলে পাস্তুরিত দুধ খাওয়া উচিত নয়। এমনকি দুধজাতীয় খাবার যেমন পনির, দই ইত্যাদি খাবার এড়িয়ে যেতে হবে।

(৫) চিনিযুক্ত খাবার

চিনি ওজন বৃদ্ধির জন্য দায়ী, তাছাড়া মেটাবলিজমের জন্য শরীরে হরমোনের যে সামাঞ্জস্য দরকার তাতে চিনি বাধা সৃষ্টি করে। তাই চিনিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।

(৬) রিফাইন্ড ময়দা

রিফাইন্ড বা মিহি করা ময়দা ও ময়দাজাতীয় খাবার শরীরে হরমোন লেভেলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং ওজন বাড়ায়।

(৭) তাছাড়া হাইপোথাইরয়েডিজম রোগীদের তিসির তেল এবং ফলের মধ্যে পীচ ও স্ট্রবেরি এড়িয়ে যাওয়া উচিত।

নিজের স্বাস্থ্যের ব্যাপারে সচেতন হোন। হাইপোথাইরয়েডিজম সমস্যা থেকে শুরু করে শরীরের সকল সমস্যা বুঝতে চেষ্টা করুন আজই, প্রতিকার ও প্রতিরোধে নিন ব্যবস্থা। দেখবেন সতেজ এবং সুস্থ থাকছেন সব সময়।

8
ডিহাইড্রেশন অর্থ হচ্ছে পানিশূন্যতা। আমাদের শরীরে প্রয়োজনের তুলনায় পানির ঘাটতি হলে সেটাকে ডিহাইড্রেশন বলে। এই পানিশূন্যতা ছোট বা বড় যেকোন মানুষের হতে পারে। তবে বাচ্চাদের মধ্যে ডিহাইড্রেশন বড়দের চেয়ে বেশি দেখা যায়। আর যদি সঠিক সময়ে এটি ধরা না পড়ে এবং ঠিকঠাক ব্যবস্থা না নেয়া হয় তবে এর ফলাফল মারাত্নক হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে সময় থাকতে ব্যবস্থা না নেয়ার কারণে শিশুমৃত্যুর ঘটনাও ঘটতে পারে। বাচ্চাদের মধ্যে নানা কারণে ডিহাইড্রেশন দেখা যায় যেগুলোর মধ্যে অতিরিক্ত ঘাম, বমি, ডায়রিয়া অন্যতম। এছাড়া কিছু কিছু বাচ্চা একদমই পানি খেতে চায় না। তাদের ক্ষেত্রেও ডিহাইড্রেশন হবার প্রবণতা দেখা যায়।

ডিহাইড্রেশনের লক্ষণ


বাচ্চাদের মধ্যে ডিহাইড্রেশনের নানারকম লক্ষণ দেখা যায়। তবে নিচে উল্লেখিত লক্ষণগুলোই বেশি দেখা যায়।

(১) বাচ্চা খুব ক্লান্তবোধ করে।

(২) ছয় ঘন্টা বা তার বেশি সময় ধরে প্রসাব না করা।

(৩) প্রসাবের রঙ গাঢ় হলুদ হয় এবং প্রসাবের গন্ধও স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি তীব্র হয়।

(৪) ঠোঁট ও মুখের ভিতর বারবার শুকিয়ে যায়।

(৫) এছাড়া বাচ্চার ডিহাইড্রেশন যদি মাত্রা ছাড়িয়ে যায় তবে তার মধ্যে উপরের লক্ষণগুলোর সাথে সাথে নিচের আর কিছু লক্ষণ দেখা যায়।

যেমন-

– চোখের নিচে কালি পড়ে যায় এবং চোখ গর্তে বসে যায়।

– হাত পা ঠান্ডা হয়ে যায়।

– মাথার নরম গর্তমতো অংশটি আরও ভিতরে ঢুকে যায়।

– এছাড়া বাচ্চারা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি ঘুমায় এবং অন্য সময়ের তুলনায় বেশি বিরক্ত করে।

বাচ্চার ডিহাইড্রেশন হলে কী করবেন?

ডিহাইড্রেশন দূর করার একমাত্র উপায় হচ্ছে শরীরকে রিহাইড্রেট করা। এর মানে শরীর থেকে যতটা পানি বেরিয়ে যাচ্ছে তার থেকে বেশি পানি যাতে আপনার বাচ্চা গ্রহণ করে যত দ্রুত সম্ভব সেই ব্যবস্থা করতে হবে। আপনার সন্তানের বয়স যদি ছয় মাসের কম হয় তাহলে তাকে বুকের দুধ দেয়ার পরিমাণ বাড়িয়ে দিন। যদি আপনার সন্তান ফর্মুলা দুধ খায় তবে ঘন ঘন তা খেতে দিন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় ডিহাইড্রেটেড বাচ্চা বমি করছে। সেক্ষেত্রে দুধের পরিমাণ এবং সময়ের ফারাক কমিয়ে দিন। যেমন বাচ্চা যদি চার ঘন্টা অন্তর ৬ আউন্স দুধ খায় তাহলে তাকে দুই ঘন্টা অন্তর তিন আউন্স দুধ দেয়া শুরু করুন।

বাচ্চার বয়স যদি ছয় মাসের বেশি হয় তবে তাকে বেশি বেশি তরল খাবার দিন। নিয়মিত স্বাভাবিক খাবারের সাথে স্যুপ এবং ফলের রস খাওয়ান। যদিও বাচ্চারা স্যালাইন খেতে চায় না, তারপরও চেষ্টা করুন বাচ্চাকে স্যালাইন খাওয়ানোর। এছাড়া ডাবের পানি, বেদানার রস, তালমিশরি মেশানো পানি ডিহাইড্রেশনের জন্য খুব উপকারী। এছাড়া বাচ্চাকে এসময় বেশি তেল মশলা জাতীয় খাবার দেবেন না।

বাচ্চার যদি অল্প মাত্রার ডিহাইড্রেশন হয় তবে উপরের নিয়মগুলো মানলেই তা কমে যাবে। কিন্তু যদি ডিহাইড্রেশন বেশি মাত্রায় হয় এবং ডিহাইড্রেশনের কারণ ডায়রিয়া, বমি বা জ্বর হয় তবে দেরি না করে যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তারের সাথে কথা বলতে হবে।

9
সবসময় আমরা জেনে এসেছি শিশুকে কি খাবার দেওয়া যেতে পারে বা কোন খাবার তার জন্য ভাল। কিন্তু আজকে জানবো ১ বছরের কম বয়সী শিশুদেরকে কোন কোন খাবারগুলো না দেওয়া ভালো। এরকম অনেক খাবার আছে যে খাবারগুলো বাচ্চারা সহজে হজম করতে পারে না কিন্তু আমাদের অজ্ঞতার কারণে সে খাবারগুলোই আমরা খাওয়াতে পছন্দ করি। চলুন জেনে নিই  ১ বছরের কম বয়সী শিশুদেরকে কোন কোন খাবারগুলো না দেওয়া ভালো তা নিয়ে বিস্তারিত।

১ বছরের কম বয়সী শিশুর জন্য ৮টি ক্ষতিকর খাবার

১. মধু

বাচ্চার ১ বছর হওয়ার আগে দেয়া উচিত না। অনেক মা-দাদীরা বাচ্চার জন্মের পরই মুখে মধু দিয়ে দেন। ৬ মাস পর্যন্ত মধু তো দূরের কথা মায়ের দুধ ছাড়া কোন খাবার শিশুর মুখে দেওয়া যাবে না। উপরন্তু মধু ১ বছর পর্যন্ত দেওয়া যাবে না। কারণ ১ বছর পর্যন্ত শিশুর বটুলিজম হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। মধু এই ব্যাক্টেরিয়া বহন করে।  ১ বছর পর হজম শক্তি বাড়ে এবং সে অনেক খাবার সহন করতে পারে।

২. লবন

ছোট বাচ্চাদের কিডনী লবন ও সোডিয়াম সহ্য করতে পারে না। তাই শিশুর খাবারে বাইরের লবন না মেশানোই ভাল। লক্ষ্য রাখতে হবে, এমন অনেক খাবার আছে যাতে প্রচুর পরিমান সোডিয়াম থাকে। সেই খাবারগুলো বাচ্চাকে দেওয়া যাবে না। ১ বছর পরে তার খাবারে অল্প অল্প লবন মেশাতে পারেন।

৩. চিনি

শিশুর খাদ্যে চিনি মেশানোর দরকার নেই। শিশুকে মিষ্টি স্বাদ অনুভবের জন্য মিষ্টি জাতীয় ফল খেতে দিন। কারণ অতিরিক্ত চিনি দাঁতে ক্ষয় এর পরিমান বাড়াতে থাকে।

৪. টক ফল

১ বছর পর্যন্ত বাচ্চাকে টক ফল দেওয়া উচিত না। কারণ টক জাতীয় ফল এ বিভিন্ন রকম এসিড থাকে যা বাচ্চারা হজম করতে পারে না। তাই বাচ্চাদেরকে মিঠা ফল দেয়া উচিত। যেমন কলা, মিষ্টি আম, আলুবোখারা ইত্যাদি। টক ফল যেমন- কমলা, আঙ্গুর ১ বছরের মধ্যে দেয়া উচিত হবে না।

৫. গরুর দুধ

১ বছর বয়স পর্যন্ত বাচ্চার জন্য গরুর দুধ দেয়া যাবে না। কারণ গরুর দুধে যে আমিষ এর অনুপাত রয়েছে তা মায়ের দুধ থেকে ভিন্ন এবং তা বাচ্চার হজম হয় না। শুধু তাই না, গরুর দুধে যে মিনারেলস আছে তা থেকে বাচ্চার কিডনীতে সমস্যা হতে পারে। পেট খারাপ হতে পারে।

৬. পিনাট বাটার

পিনাট বাটার যে বাদাম থেকে বানানো হয় তা থেকে অনেক বাচ্চার মারাত্মক অ্যালার্জি হতে পারে। বিভিন্ন রকম বাদাম এবং বীজ জাতীয় খাবারগুলোও এ সময় না খাওয়ানো উচিত।

৭. চকোলেটস

বাচ্চারা খেতে খুব পছন্দ করলেও এতে ব্যবহার করা কোকো বাচ্চাদের হজম শক্তি নষ্ট করে। সাথে এ থেকে অনেক শিশুর অ্যালার্জি দেখা দিতে পারে। আর সাথে দাঁত এর অনেক সমস্যার জন্য এই চকলেট দায়ী।

৮. গম

যদি বাচ্চার পরিবারে কারো গ্লুটেনে অ্যালার্জি থাকে তবে সেই শিশুকে গমের তৈরি কোন খাবার দেয়া যাবে না। কারণ এই গমের গ্লুটেন থেকে বাচ্চার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

তাই বাচ্চাকে খাবার দেবার সময় একটু লক্ষ্য করে খাবার দেয়া উচিত। কারণ একটি ভুল আপনার শিশুর মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

10
কথা বলবো আগুন লাগলে করনীয় সম্পর্কে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ঘটনাগুলোর কারণে এখন আগুন শব্দটা শুনলেও যেন ভয়ে, আতঙ্কে বুক কেঁপে উঠে। নিমতলী ট্র্যাজেডি, চকবাজার অগ্নিকাণ্ড আর খুব সম্প্রতি বনানীর এই বিভীষিকাময় ঘটনা যেন বাংলাদেশের সব মানুষকেই দগ্ধ করে দিয়েছে।
যারা সরাসরি এই ঘটনাগুলোর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত তাদের এই ক্ষত প্রতিদিন প্রতিটা মুহূর্তে বয়ে বেড়াতে হলেও আমরা যারা কোনোভাবে ভাগ্যের জোরে বেঁচে গেছি তাদের মনেও কম দাগ কেটে যায় নি। এতগুলো নিরীহ প্রাণের একসাথে এই চলে যাওয়াটা  কোন মানুষই স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারবে না। হঠাৎ আগুন লাগলে আমরা অনেকেই জানি না ঠিক কী করা উচিত। আবার অনেকেই আগুন লাগলে করনীয় কাজগুলো জানলেও ঘাবড়ে যাওয়ার কারণে কিংবা ভয় পেয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। হঠাৎ আগুন লাগলে কিছু কৌশল অবলম্বন করে আমরা হয়ত বেঁচেও যেতে পারি বা ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা কমাতে পারি। আর তাই আমি আজকে আগুন লাগলে করনীয় নিয়ে এমন কিছু কথা আপনাদের সাথে শেয়ার করবো যে কাজগুলো মাথা ঠাণ্ডা রেখে করলে আগুনের ভয়াবহতা থেকে বাঁচা গেলেও যেতে পারে।

আগুনের ধরন ও নির্বাপণের উপায়

আগুন নিভাতে হলে আগে আগুনের ধরন জানতে হবে। কেননা গ্যাসের আগুন আপনি পানি দিয়ে নিভাতে পারবেন না। আগুনের উৎপত্তি, জ্বলার উপাদান… এগুলোর ভিত্তিতে আগুন সাধারনত ৪ ধরনের হয়ে থাকে-

১. সলিড ফায়ার (কাঠ, বাঁশ ইত্যাদির আগুন)

২. লিকুইড ফায়ার (তেল, পেট্রোল, ডিজেল ইত্যাদির আগুন)

৩. গ্যাস ফায়ার (গ্যাস লাইন, গ্যাসের চুলা ইত্যাদির আগুন)

৪. মেটাল ফায়ার (সোডিয়াম, পটাশিয়াম ইত্যাদির আগুন)

আগুনের ধরন বুঝে তা নেভানোর ব্যবস্থা নেয়াই হল অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা। কোথাও হঠাৎ আগুন লাগলে প্রথমেই ফায়ার সার্ভিসকে জানাতে হবে। তারপর নিরাপদ স্থানে সরে গিয়ে ফায়ার সার্ভিস আসার আগে আগুনের ধরন বুঝে তা নেভানোর চেষ্টা করতে হবে।

১. সলিড ফায়ার নির্বাপণ

পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি ছিটিয়ে এ ধরনের আগুন নিয়ন্ত্রণ করা যায়।   

২. লিকুইড ফায়ার নির্বাপণ

পানি দ্বারা এ ধরনের আগুন নেভানো যায় না। বরং পানি ব্যবহার করলে এ আগুন আরো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তাই এ ধরনের আগুনে কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাস, ফোম, ড্রাই পাউডার… এগুলো বেশি কার্যকরী। তবে এগুলো কিছুই যদি না থাকে হাতের কাছে বালি থাকলে তা ছিটিয়ে দিয়েও এ ধরনের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।

৩. গ্যাস ফায়ার নির্বাপণ

এ ধরনের আগুনে পানি একেবারেই অকার্যকর। কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাস, ফোম, ড্রাই পাউডার ইত্যাদির সাহায্যেই এই আগুন নির্বাপণ করতে হয়।

৪. মেটাল ফায়ার নির্বাপণ

মেটাল ফায়ারও পানির সাহায্যে নেভানো যায় না। উপরোক্ত উপায়ে কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাস, ড্রাই পাউডার, ফোম, বালি ইত্যাদির মাধ্যমেই এ ধরনের আগুন নেভানো যায়। তবে হাতের কাছে যদি কম্বল, ছালার বস্তা, ভারী কাঁথা বা তোষক জাতীয় কিছু থাকে, তবে এগুলো দিয়ে চাপ দিয়েও এই আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। আর চেষ্টা করবেন এগুলো আগুনে দেয়ার আগে ভিজিয়ে নিতে। তাহলে দ্রুত কাজ হবে।

আগুন লাগলে করনীয়

এবার আসি বাসায়, অফিসে কিংবা বাইরে কোথাও হঠাৎ আগুন লাগলে একজন সচেতন মানুষ হিসেবে আমাদের করনীয় কাজগুলো কী কী।

১) মাথা ঠাণ্ডা রেখে প্রথমেই বিদ্যুতের সুইচ এবং গ্যাসের চুলা বন্ধ করার চেষ্টা করুন।

২) কাছাকাছি ফায়ার সার্ভিসের অফিসে যোগাযোগ করুন। এক্ষেত্রে উল্লেখ্য- আপনার ফোনে বা হাতের কাছে সবসময় জরুরী ফোন নম্বরগুলো যেমন- নিকটস্থ পুলিশ অফিস, ফায়ার সার্ভিস, হাসপাতাল… এগুলোর নম্বর রাখুন যাতে জরুরী পরিস্থিতে সাহায্য চাইতে পারেন। অথবা ৯৯৯ এই নাম্বারে ফোন দিয়েও সাহায্য চাইতে পারেন।

৩) বাসায় আগুন লাগলে আগুনের ধরন বুঝে তা নির্বাপণের চেষ্টা করুন।  গ্যাসের চুলায় বা শর্ট সার্কিট থেকে আগুন ধরলে ভেজা কাঁথা, কম্বল বা বস্তা ইত্যাদি দিয়ে ঢেকে দিলে আগুন নিভে যাবে।

৪) বাহিরে কোথাও হলে ফায়ার এক্সটিংগুইশার খুঁজে আগুনের উৎপত্তিস্থলে ব্যবহার করুন।

৫) আগুন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে আসুন এবং অন্যদেরকেও সাহায্য করুন বের হয়ে আসতে।

৬) বাসা, অফিস, মার্কেট কিংবা যেকোনো জায়গাই হোক না কেন ভুলেও লিফট ব্যবহার করা যাবে না।

৭) যদি বের হয়ে আসার আগেই ধোঁয়ায় ঢেকে যায় তাহলে রুমাল কিংবা অন্য যেকোনো কাপড় দিয়ে নাক ঢেকে ফেলুন এবং সম্ভব হলে কাপড়টি অবশ্যই পানিতে ভিজিয়ে নিন। আগুনে যত মানুষ পুড়ে মারা যায় তার চেয়ে বেশি মানুষ মরে ফুসফুসে আগুন ঢোকার কারণে। ভিজা কাপড় দিয়ে নাক মুখ ভাল করে ঢেকে ফেললে বাইরের গরম বাতাস এবং ধোঁয়া শ্বাস প্রশ্বাসের সাথে  ফুসফুসে খুব সহজে ঢুকতে পারে না। এতে আপনার আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়।

৮) গায়ের পোশাকে আগুন লেগে গেলে ভুলেও দৌড়াদৌড়ি করবেন না। এতে আরো বেশি অক্সিজেনের কারণে আগুন বেড়ে যাবে। বসে এবং মাটিতে গড়াগড়ি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করুন অথবা ভেজা কম্বল বা কাঁথা দিয়ে চেপে ধরুন।

৯) কোন ব্যক্তি আগুনে পুড়ে গেলে তাকে এমনভাবে শুইয়ে দিতে হবে যাতে তার পুড়ে যাওয়া অংশ খোলা থাকে এবং পুড়ে যাওয়া অংশ থেকে কাপড় সরিয়ে দিতে হবে খুব সাবধানে। পুড়ে যাওয়া অংশে যদি কাপড় আটকে যায় তবে সেটা টানাটানি না করে শরীরের অন্য কাপড় কেটে ফেলতে হবে। তারপর ঠান্ডা পানি বা বরফ পানি (না থাকলে এমনি পানি) পোড়া জায়গায় ঢালতে হবে, যতক্ষণ না পর্যন্ত চিকিৎসকের কাছে বা হাসপাতালে না নেয়া হয়। ক্ষতস্থানে কোনোভাবেই হাত দেয়া যাবে না কিংবা হাত দিয়ে ঘষা যাবে না। 

১০) বৈশিষ্ট্যগত কারণে আগুন উপরের দিকে উঠে। তাই বহুতল বিল্ডিং-এর নিচের দিকের কোন ফ্লোরে আগুন লাগলে সিঁড়ির জায়গা দিয়েই আগুন উপরের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। এরকম ক্ষেত্রে নিচে নামার সময় সতর্ক থাকুন। নিচে নামা না গেলে বিল্ডিং-এর খোলা ছাদে উঠে যাওয়া যেতে পারে। এতে ঝুঁকি কম থাকবে এবং উদ্ধার করাও সহজ হবে।

যেকোনো খারাপ পরিস্থিতিতে ঘাবড়ে যাওয়া, ভয় পাওয়া, অস্থির হয়ে যাওয়া- এগুলো আরও বেশী ক্ষতির কারণ হয়। তাই ঝুঁকি/ক্ষতি কমাতে আগুন লাগলে প্রথম ও সবচেয়ে কার্যকরী করনীয় হল- মাথা ঠাণ্ডা রেখে পরিস্থিতি বুঝে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া ও সেভাবে কাজ করা। স্বাভাবিক এবং নিরাপদ একটি জীবন আমাদের সবারই কাম্য। সবাই ভাল থাকুন, নিরাপদ থাকুন। এরকম অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে যার যার জায়গা থেকে সচেতন থাকুন।

11
আপনার ছোট্ট সোনামণিকে একদিন গোসল করাতে নিয়ে হঠাৎ লক্ষ্য করলেন যে তার পিঠে এবং পেটে লাল লাল র‍্যাশ বা ফুসকুড়ির মত দেখা যাচ্ছে। আপনি উদ্বিগ্ন হবেন এটাই স্বাভাবিক কিন্তু আপনার এটা জানা থাকা উচিত যে ইতোমধ্যেই প্রকৃতিতে গরম আবহাওয়া বিরাজ করা শুরু হয়ে গেছে। আর গরমকাল ছোট বাচ্চাদের জন্য খুবই বিরক্তিকর একটি সময় কারণ এই সময়েই বাচ্চাদের শরীরে বিভিন্ন র‍্যাশ, চুলকানি, ঘামাচি ইত্যাদি দেখা দেয়। আর এই যে লাল লাল র‍্যাশের কথা বললাম, এটা হলো বাচ্চাদের হিট র‍্যাশ বা ফুসকুড়ি যা গরমের কারণে হয়ে থাকে।
হিট র‍্যাশের কারণে বাচ্চাদের প্রচুর অস্বস্তি এবং চুলকানি হয়। আপনার ছোট্ট সোনামণিকে কিভাবে এই হিট র‍্যাশ থেকে দূরে রাখবেন এবং যদি হিট র‍্যাশ হয়েও যায় তাহলে সেটা থেকে কিভাবে নিস্তার পাবেন তার জন্যই আজকের এই লেখা। তাহলে চলুন দেখে নেয়া যাক বাচ্চাদের হিট র‍্যাশ কী এবং এটি থেকে মুক্তি পেতে ৬টি হোম রেমেডি।

বাচ্চাদের হিট র‍্যাশ কি?

হিট র‍্যাশ বা ফুসকুড়ি হলো অন্যান্য র‍্যাশ এবং চুলকানির মতোই কমন এক প্রকার র‍্যাশ। এটি ছোট বাচ্চা থেকে শুরু করে অনেক ক্ষেত্রে বড়দেরও হতে পারে। হিট র‍্যাশ সাধারণত এমন সময়ে হয় যখন আবহাওয়া হঠাৎ করেই ঠাণ্ডা থেকে গরম হতে শুরু করে। ত্বকের পোর গুলো বন্ধ হয়ে যাওয়াই হলো হিট র‍্যাশ বা ফুসকুড়ির প্রধান কারণ। বাচ্চাদের সাধারণত পেট, পিঠ, হাত ও ঘাড়ে হিট র‍্যাশ হতে দেখা যায়।

ইতিমধ্যেই উল্লিখিত যে হিট র‍্যাশ বা তাপ ফুসকুড়ি সাধারণত চামড়ার পোর বন্ধ হয়ে যায় বলে হয় কারণ ত্বক থেকে ঘাম ঠিকমত বের হতে পারে না তাই ত্বকের পোর বন্ধ হয়ে ফুসকুড়ি দেখা দেয়।

বাচ্চাদের হিট র‍্যাশ হওয়ার কারণ ও প্রতিকারের উপায়
বাচ্চাদের হিট র‍্যাশ হওয়ার কমন কিছু কারণ আছে। সেগুলো হলো-


একটি গরম এবং আর্দ্র জলবায়ু।

বাচ্চাদের এমন পোশাক যা থেকে তাপ সহজে বের হতে পারে না।
থিক বা পুরু লোশন এবং ক্রিমের ব্যবহার।
একাধিক কাপড় পরিধান করার কারণে বাচ্চার শরীর অভারহিট হয়ে যাওয়া।
একটু সাবধান হলেই বাচ্চাদের হিট র‍্যাশ বা ফুসকুড়ি হওয়া থেকে রক্ষা করা যায়। তারপরও যদি হিট র‍্যাশ হয়েই যায় তাহলে ৬টি হোমমেইড রেমেডি ইউজ করে দেখতে পারেন। এই রেমেডিগুলো কোন প্রকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই বাচ্চাদের হিট র‍্যাশ থেকে দ্রুত মুক্তি দেবে। চলুন তাহলে রেমেডি-গুলো দেখে নেয়া যাক।

১. একটি ঠান্ডা স্যাঁক বা আইস ব্যাগ

যা লাগবে-

একটি ঠাণ্ডা কমপ্রেস বা বরফের ব্যাগ

যা যা করতে হবে-


একটি বোলে ঠাণ্ডা পানি নিন অথবা একটি আইস ব্যাগ নিন। এবার ঠাণ্ডা পানিতে একটি পরিষ্কার কাপড় চুবিয়ে, সেটা থেকে পানি ঝরিয়ে নিন। এবারে এই ঠাণ্ডা কাপড়টি আপনার বেবির হিট র‍্যাশ আক্রান্ত স্থানে ১/২ মিনিটের জন্য রাখুন তারপর সরিয়ে নিন। এভাবে কয়েকবার করুন। আর যদি আইস ব্যাগ ইউজ করেন তাহলে আইস ব্যাগটি কয়েকবার আক্রান্ত স্থানে প্রয়োগ করুন।

যতদিন ফুসকুড়ি ভালো না হচ্ছে ততদিন এভাবে ঠান্ডা স্যাঁক দিতে পারেন দিনে ২-৩ বার। এই ঠান্ডা কম্প্রেস বেবির র‍্যাশ আক্রান্ত স্থানকে শীতল করে এবং এফেক্টেড এরিয়াকে soothing করে। এভাবে কিছুদিন করলে ফুসকুড়ি থেকে দ্রুত নিস্তার পাওয়া যাবে।

২. অ্যাসেনশিয়াল অয়েল বা প্রয়োজনীয় তেল

যা প্রয়োজন হবে-

টি ট্রি অয়েল – ১/২ ড্রপ
নারকেল তেল ২/৩ চা চামচ

যা যা করতে হবে-

২-৩ চা চামচ নারকেল তেলের সাথে ১ বা ২ ড্রপ টি ট্রি অয়েল যোগ করুন এবং দুটি তেল ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এবার এই তেলের মিশ্রণ আক্রান্ত স্থানে ভালো করে মালিশ করুন এবং ২০-৩০ মিনিটের জন্য অপেক্ষা করুন তারপর ধুয়ে ফেলুন।

যতদিন ফুসকুড়ি ভালো না হচ্ছে ততদিন এই তেলের মিশ্রণ দিনে একবার করে ব্যবহার করতে পারেন। টি ট্রি অয়েলে আছে প্রদাহ বিরোধী আন্টিসেপ্টিক (Antiseptic) গুণ যা হিট র‍্যাশের জ্বালাপোড়া কমায় এবং ফুসকুড়ির অস্বস্তি থেকে মুক্তি দেয়।

সতর্কতা-

৬ মাসের কম বয়সী শিশুদের শরীরে টি ট্রি অয়েল ব্যবহার করবেন না, এতে ক্ষতি হতে পারে। এছাড়াও এই তেল অন্য কোন তেলের সাথে না মিশিয়ে ব্যবহার করবেন না।

৩. শসা

যা প্রয়োজন হবে-

স্লাইস করা তাজা শসা

আপনাকে যা করতে হবে-

প্রথমে একটি কচি শসা নিন এবং এটি স্লাইস করে কাটুন। এবারে কাটা শসাগুলো পেস্ট করে নিন। তারপর এই পেস্ট আক্রান্ত স্থানে প্রয়োগ করুন। ৫- ১০ মিনিটের জন্য শসার পেস্ট লাগিয়ে রাখুন তারপর নরমাল পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

আপনি প্রতিদিনই এই শসা পেস্ট দিনে ২-৩ বার ব্যবহার করতে পারেন যতদিন হিট র‍্যাশ বা ফুসকুড়ি থাকে।

শসা তে রয়েছে ফ্ল্যাভোনয়েড (Flavonoids) এবং ট্যানিন (Tannins) নামক অ্যালার্জি এবং প্রদাহ বিরোধী উপাদান যা হিট র‍্যাশ থেকে খুব সহজে আরাম দেয় এবং চুলকানি কমায়।

৪. ওটমিল

যা প্রয়োজন হবে-

১ কাপ ওটস পাউডার
পানি

যা যা করতে হবে-

একটি বড় বোল বা বালতি পানি দিয়ে পূর্ণ করুন। এবার এতে এক কাপ পরিমাণ ওটস পাউডার ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। তারপর এই পানিতে আপনার বেবিকে গোসল করান প্রায় ১০- ১৫ মিনিট যাবৎ। তারপর বেবির শরীর নরম তোয়ালে দিয়ে আলতোভাবে মুছে দিন।

আপনি প্রতিদিনই একবার করে আপনার বেবিকে ওটস পাউডার দিয়ে গোসল করাতে পারেন যতদিন পর্যন্ত না বেবির হিট র‍্যাশ ভালো হচ্ছে।

ওটমিলে আছে প্রদাহ বিরোধী উপাদান যা চর্মরোগ সারাতে দারুণভাবে কাজ করে। এটি খুব দ্রুত চুলকানি ও র‍্যাশ কমাতে সাহায্য করে এবং শরীর ঠাণ্ডা রাখে।

৫. ফুলার আর্থ বা মুলতানি মাটি

যা প্রয়োজন হবে-

হাফ টেবিল চামচ মুলতানি মাটি
প্রয়োজনমত পানি

যা যা করতে হবে-

হাফ টেবিল চামচ মুলতানি মাটির সাথে প্রয়োজন মত পানি মিশিয়ে একটি মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন। এবার আক্রান্ত স্থানে এই পেস্ট প্রয়োগ করে ১০ মিনিটের জন্য অপেক্ষা করুন তারপর ধুয়ে ফেলুন।

এই পেস্ট আপনি দিনে ২-৩ বার ব্যবহার করতে পারেন।

বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, মুলতানি মাটিতে থাকা নানা উপকারী উপাদান ফুসকুড়ি ও চুলকানি থেকে দ্রুত আরাম দেয়। এটি প্রাপ্তবয়স্করাও ব্যবহার করতে পারেন।

৬. অ্যালোভেরা

যা প্রয়োজন হবে-


ফ্রেশ অ্যালোভেরা জেল

যা যা করতে হবে-

প্রয়োজনমত কিছু ফ্রেশ অ্যালোভেরা জেল নিন। এবার এই জেল শিশুর আক্রান্ত স্থানে প্রয়োগ করে ১০ – ১৫ মিনিটের জন্য অপেক্ষা করুন। তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই জেল আপনি দিনে ২-৩ বার ব্যবহার করতে পারেন।

অ্যালোভেরাতে রয়েছে প্রদাহ বিরোধী উপাদান যা দেহে ঠান্ডা অনুভূতি প্রদান করে এবং তাপ ফুসকুড়ি থেকে দ্রুত আরাম দেয়।

টিপস

উপরের রেমেডি-গুলো ছাড়াও আপনার বেবিকে হিট র‍্যাশ থেকে রক্ষা করতে চাইলে কিছু টিপস অনুসরণ করতে পারেন। যেমন-

১) আপনার ছোট্ট সোনামণিকে প্রখর সূর্যের তাপ থেকে দূরে রাখুন।

২) বাচ্চাকে গরমকালে নরম ও আরামদায়ক পোশাক পরিধান করান।

৩) গরমকালে প্রতিদিন বেবিকে নরমাল টেম্পারেচার-এর পানি দিয়ে গোসল করান।

৪) আপনার বেবির দেহের তাপমাত্রা নিয়মিত পরীক্ষা করুন। তাপ বেশি হয়ে গেলে গোসল করিয়ে দিন।

৫) পুরু লোশন বা ক্রিম ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।

৬) বাচ্চার গোসলের জন্য হালকা সাবান ব্যবহার করুন।

৭) গ্রীষ্মকালে অতিরিক্ত গরম থেকে বাচ্চাকে দূরে রাখতে এয়ার কন্ডিশন রুমে রাখুন বা ঠাণ্ডা রুমে রাখুন।


উপরের টিপস গুলো অনুসরণ করলে আশা করি আপনার ছোট্ট সোনামণিকে হিট র‍্যাশ বা ফুসকুড়ি থেকে রক্ষা করতে পারবেন।

12
পায়ে ব্যথা আমাদের খুবই কমন একটি সমস্যা। পা আমাদের পুরো শরীরটাকে ক্যারি করে সব স্থানে নিয়ে যায় কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত না পায়ে কোন সমস্যা দেখা দিচ্ছে, আমরা আমাদের দু’পায়ের যত্নের ক্ষেত্রে সবসময় উদাসীন। বিভিন্ন কারণে আমাদের পায়ের ব্যথা দেখা দিতে পারে এবং এই ব্যথা মোকাবেলা করার মত অপ্রীতিকর আর কিছুই নেই। আর তাই আজকের লেখায় আপনাদের জন্য রইলো পায়ে ব্যথা হওয়ার বিভিন্ন কারণ, লক্ষণ এবং পায়ের ব্যথা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার ৬ টি দারুণ উপায়।

পায়ে ব্যথার বিভিন্ন কারণ

আপনার পা আঘাতপ্রাপ্ত হতে পারে বিভিন্ন কারণে। পায়ে ব্যথা পাবার কিছু কমন কারণগুলো হলো-

১) সঠিক মাপের জুতা পরিধান না করা।

২) এমন হাই হিল পরিধান করা যাতে পায়ের গোড়ালিতে অনেক চাপ পড়ে।

৩) অতিরিক্ত এক্সারসাইজ অথবা খেলাধুলা।

৪) গর্ভধারণ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা অথবা বিভিন্ন মেডিকেল কন্ডিশন।

৫) পায়ে আঘাত পাওয়া ইত্যাদি কারণে পায়ে ব্যথা হতে পারে।

পায়ে ব্যথার কিছু লক্ষণ

১. যখন তখন পা ব্যথা করা।

২. ফুলে যাওয়া।

৩. লাল হয়ে যাওয়া।

৪. চলাফেরা করার সময় ব্যথা করা বা অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার কারণে ব্যথা করা।

৫. পায়ের চামড়া বিবর্ণ হয়ে যাওয়া পুড়ে যাওয়া বা চুলকানির মত অনুভব করা।

৬. পায়ের হাড় ভেঙে যাচ্ছে এমন অনুভব করা ইত্যাদি।

পায়ে ব্যথা উপশমের কার্যকর ঘরোয়া পদ্ধতি

১. বেকিং সোডা

আপনার প্রয়োজন হবে-

বেকিং সোডা- হাফ কাপ
এক বোল গরম পানি
আপনাকে যা করতে হবে-

১) প্রথমে একটি বড় বোলে গরম পানি নিন এবং এতে হাফ কাপ বেকিং সোডা নিন।

২) বেকিং সোডা সম্পূর্ণ দ্রবীভূত না হওয়া পর্যন্ত ভালোভাবে মিশ্রিত করুন।

৩) ১৫-২০ মিনিটের জন্য আপনার পা সোডা মিশ্রিত পানিতে ডুবিয়ে রাখুন।

৪) আপনার প্রতিদিন অন্তত একবার এটি করা উচিত।

বেকিং সোডা বিভিন্ন চিকিৎসার জন্য ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এতে রয়েছে প্রদাহ বিরোধী বিভিন্ন উপাদান যা পা ব্যথা এবং প্রদাহ উপশম করতে সাহায্য করে।

২. নারকেল তেল

আপনার প্রয়োজন হবে-

নারকেল তেল – ২/৩ চা চামচ

আপনাকে যা করতে হবে-

১) আপনার হাতে দুই থেকে তিন চা চামচ নারকেলের তেল নিন।

২) এবারে ব্যথা আক্রান্ত স্থানে আঙুল দিয়ে আস্তে আস্তে ম্যাসেজ করুন।

৩) আপনি চাইলে কয়েক ড্রপ অ্যাসেনশিয়াল অয়েল যোগ করতে পারেন।

৪) তেল ম্যাসাজ করার পর পায়ে মোজা পরে রাখতে পারেন এতে তেল পায়ে লক হয়ে যাবে।

পায়ে ব্যথা থাকাকালীন প্রতিদিনই আপনার এই কাজটি করা উচিত বিশেষ করে শোবার আগে।

নারকেল তেল পায়ের যে কোন ব্যথা ভালো করার একটি প্রাকৃতিক উপায়। এতে রয়েছে মিডিয়াম-চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড যা প্রদাহ বিরোধী, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল (Antimicrobial) এবং অ্যানালজেসিক (Analgesic)। নারকেল তেল শুধুমাত্র পায়ে ব্যথার চিকিৎসাই করে না, এটি পায়ের জীবাণু দূর করে পাকে ময়শ্চারাইজড করে এবং সংক্রমণ মুক্ত রাখে।

৩. ইপসম সল্ট

আপনার প্রয়োজন হবে-

ইপসম সল্ট- হাফ কাপ
১ বোল গরম পানি
আপনাকে যা করতে হবে-

১) একটি বড় বোলে গরম পানি নিন এবং হাফ কাপ ইপসম সল্ট মেশান।

২) লবণ দ্রবীভূত হওয়া পর্যন্ত ভাল করে মিশ্রিত করুন।

৩) লবণ মিশ্রিত পানিতে আপনার ব্যথাযুক্ত পা ১০-১৫ মিনিটের জন্য ডুবিয়ে রাখুন।

ব্যথা থাকাকালীন আপনার প্রায় প্রতিদিনই এটি অ্যাপ্লাই করা উচিত।

ইপসম লবণ ম্যাগনেসিয়াম সালফেট হিসাবেও পরিচিত। ইপসম লবণে থাকা ম্যাগনেসিয়াম প্রদাহ বিরোধী এবং এটি পেশীর ব্যথার জন্যেও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এটি পায়ের ব্যথা সারাতে খুবই কার্যকরী।

৪.আদা

আপনার প্রয়োজন হবে-

আদা- ১ ইঞ্চি পরিমাণ
গরম পানি- ১ কাপ
মধু
আপনাকে যা করতে হবে-

১) ১ ইঞ্চি পরিমাণ আদা কুচি ১ কাপ ফুটন্ত পানিতে মেশান।

২) এবার এটি ৫-১০ মিনিটের মত ভালো ভাবে ফুটিয়ে নিন।

৩) এবার এই আদা মেশানো পানিতে ১/২ চামচ মধু মিশিয়ে নিন এবং গরম গরম পান করুন।

আপনার প্রতিদিন তিনবার করে এই আদা চা পান করতে হবে।

পা ব্যথা চিকিৎসার জন্য আরেকটি কার্যকর প্রতিকার হলো আদা। এতে জিঙ্গিবেইন (Zingibain) নামে একটি এনজাইম রয়েছে যা চমৎকার অ্যানালজেসিক এবং প্রদাহ বিরোধী। আদা আপনার পায়ের ব্যথা দ্রুত সাড়িয়ে তুলতে একটি উপকারী উপাদান।

৫. গরম বা ঠান্ডা স্যাঁক

আপনার প্রয়োজন হবে-

গরম পানির বোতল
আইস ব্যাগ
আপনাকে যা করতে হবে-

ব্যথাআক্রান্ত স্থানে একটি হট ওয়াটার বোতল রাখুন ৫-১০ মিনিটের জন্য। এবার গরম পানির বোতল সরিয়ে সে স্থানে ঠাণ্ডা আইস ব্যাগ রাখুন। প্রায় ১০ মিনিটের মত ব্যথাযুক্ত স্থানে ধরে রাখুন। এভাবে পুরো প্রক্রিয়াটি ২/৩ বার রিপিট করুন।

আপনার যখন ব্যথা থাকবে তখন নিয়মিত এই পদ্ধতিটি অনুসরণ করা উচিত।

গরম এবং ঠান্ডা কম্প্রেস ব্যথা সারাতে খুব ভালো কাজ করে। গরম কম্প্রেস রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে এবং ঠাণ্ডা আইস ব্যাগ ব্যথা দূর করতে সাহায্য করে।

৬. ভিটামিন

কিছু ভিটামিনের ঘাটতির জন্যেও পায়ে ব্যথা দেখা দিতে পারে। ভিটামিন বি-এর অভাব পায়ে ব্যথার একটি অন্যতম কারণ। এছাড়াও, ভিটামিন ডি এর ঘাটতি হলে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা এবং দুর্বলতা দেখা দেয়। অতএব সুস্থ থাকার জন্য ভিটামিন বি যুক্ত খাবার এবং ভিটামিন ডি যুক্ত মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, পনির, কমলা, সয়াবিন দুধ এবং সিরিয়াল খেতে হবে।

পায়ে ব্যথা প্রতিরোধ করার কিছু বিশেষ টিপস

১) সবসময় আরামদায়ক জুতা পরুন।

২) হাই হিল এবং টাইট জুতা এড়িয়ে চলুন।

৩) স্বাস্থ্যকর খাওয়া-দাওয়া করুন এবং একটি ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

৪) পায়ের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন।

৫) বাইরে যাওয়ার সময় সর্বদা সঠিক সাইজের জুতা পরিধান করুন।

৬) মাঝেমধ্যে পায়ে ম্যাসাজ করুন এতে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়।


আপনার পায়ের স্বাস্থ্য অনেকটাই আপনার উপর নির্ভর করে। তাই সবসময় সঠিক মাপের জুতা পরিধান করুন এবং তার সাথে পায়ের যত্ন নেবার পাশাপাশি সঠিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন।

13
তরমুজের কথা তো সবারই জানা। সুস্বাদু এই ফলটি সবার প্রিয়। আর অসহ্য গরমের মধ্যে কয়েক টুকরো রসালো তরমুজ এনে দেয় অসাধারণ প্রশান্তি। এই মজাদার তরমুজের রয়েছে অনেক উপকারিতা। তরমুজের ১০টি গুণ নিয়ে কথা বলবো। তরমুজে আছে প্রচুর ভিটামিন  এ ও সি এবং সিট্রুলিন (Citrulline) সহ বিভিন্ন  স্বাস্থ্যকর উপাদান। এই সব উপাদান মানুষের শরীরে গুরুত্বপূর্ণ  ভূমিকা পালন করে থাকে। তাহলে চলুন আজ আমরা ত্বক ও স্বাস্থ্য রক্ষার্থে তরমুজের ১০টি গুণ সম্পর্কে জেনে নেই।

ত্বক ও স্বাস্থ্য রক্ষার্থে তরমুজের ১০টি গুণ

১. মেছতা

ত্বকে মেছতা হলে সেটা থেকে রক্ষা পেতে নিয়মিত তরমুজ খাওয়ার অভ্যাস করুন। বিশেষজ্ঞরা বলেন, তরমুজে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন এ যা শরীরের ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। আর তাই গরমে রেগ্যুলার তরমুজ খাওয়া হলে আপনার ত্বক হবে আরো উজ্জ্বল ও  হারানো লাবণ্য ফিরে আসার সম্ভাবনা অনেক।

২. রোদে-পোড়া ভাব

তরমুজ ত্বকের রোদে-পোড়া ও কালচে দাগ দূর করতে সাহায্য করে। কয়েকটি হ্যাক ফলো করলে এটা সম্ভব-

তরমুজের রসকে বরফ করে সেটা স্কিনে আলতো করে ঘষতে পারেন।
তরমুজের রসে কটন প্যাড ভিজিয়ে ত্বকের রোদে পোড়া জায়গায় দিয়ে ১০ মিঃ রাখুন। শুকিয়ে গেলে উঠিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। রেগ্যুলার এটা করতে পারেন।
এছাড়া পাতলা টাওয়েল বা রুমাল তরমুজের রসে ভিজিয়ে মুখের উপর দিয়ে ১৫ মিঃ রেখে তারপর মুখ ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
তরমুজের রসের সাথে শসার রস মিশিয়ে রোদে-পোড়া ত্বকে লাগিয়ে ১৫ মিঃ রেখে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

৩. এক্সফলিয়েশন

সেনসিটিভ স্কিনের এক্সফলিয়েশন-এর জন্যও তরমুজ ব্যবহৃত হয় কিন্তু! এর পিউরিতে নরম ফাইবার থাকে যা ডেড স্কিন দূর করে স্কিন পরিষ্কার করে এবং কালচে ভাব কমিয়ে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়। তবে জেনে নিন দুটো প্যাক-এর কথা-

তরমুজের পিউরি-এর সাথে সামান্য মধু মিশিয়ে মিক্সচারটি স্মুদলি স্কিনে রাব করে ১৫ মিঃ রেখে তারপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
তরমুজের পিউরি নিয়ে তাতে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস ও সামান্য চিনি মিশিয়ে মিশ্রণটিকে স্কিনে আলতো করে রাব করে ১৫ মিঃ রেখে তারপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ভালো করে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

৪. হার্ট-এর যত্নে

বিজ্ঞানীদের জরিপ অনুযায়ী, তরমুজে রয়েছে একটি বিশেষ উপাদান যা হার্টের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। এছাড়াও, তরমুজে ভিটামিন এ-এর পাশাপাশি ভিটামিন সি, পটাশিয়াম ও কেরোটিন আমাদের দেহের কোলেস্টেরল কমিয়ে তুলতে সাহায্য করে, যার কারণে আমাদের হৃদপিন্ড সবসময় যে কোন রকমের বিপদ-আপদ থেকে  সুরক্ষিত থাকে।

৫. চোখের যত্নে

তরমুজে আছে অধিক পরিমাণে ভিটামিন এ এবং বিটা ক্যারোটিন যা আমাদের চোখের রেটিনার সুরক্ষিত রাখতে অধিক কার্যকর এবং এই উপাদানগুলো চোখের ছানি পড়তে বাধা সৃষ্টি করে। তরমুজের ভিটামিন এ আমাদের চোখের জ্যোতি বাড়ায়।

৬. কিডনির যত্নে

তরমুজে আছে অধিক পরিমাণে পানীয় উপাদান যেগুলো কিডনির উপর চাপ কমিয়ে প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া কমায়। তরমুজ  কিডনি ও লিভার সুস্থ রাখতে অনেক উপকারী। যারা পানি কম খান তাদের কিডনিতে পাথর হওয়ার প্রবণতা থাকে। আবার যাদের পাথর হয়ে যায় তারা এর ব্যথায় অনেক কষ্ট পান। তারা যদি খাদ্য তালিকায় তরমুজ রাখেন তাহলে ব্যথা থেকে কিছুটা উপকার পাবেন। তবে শুধু তরমুজ না খেয়ে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

৭. হাড়ের যত্নে

তরমুজে আছে লাইকোপিন নামে এক ধরনের লাল উপাদান যাতে আছে অধিক পরিমাণে ক্যালসিয়াম। আর আমরা সবাই জানি ক্যালসিয়াম হাড়কে মজবুত ও সুস্থ রাখে। মানুষের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাড় দিন দিন দুর্বল হতে থাকে আর তাই তরমুজ নিয়মিত খেলে তা হাড়ের গঠন সুস্থ  ও মজবুত করতে খুবই সহায়ক।

৮. স্বাভাবিক রক্তচাপ

তরমুজে থাকা প্রচুর ক্যালসিয়াম ও পটাসিয়াম আমাদের দেহের ব্লাড প্রেশার নরমাল রাখে। তাই খাদ্যতালিকায় তাদের নিয়মিত তরমুজ রাখা উচিত যারা রক্তচাপের সমস্যায় ভোগেন।

৯. শরীরের ব্যথা

অনেক মানুষ বাত বা মাংসপেশির ব্যথায় ভোগেন অথবা ব্যায়ামের পর শরীরের ব্যথায় কষ্ট পান। এর থেকে বাঁচতে চাইলে প্রতিবার ব্যায়ামের পর অথবা ব্যায়াম করার কমপক্ষে আধা ঘন্টা বা এক ঘন্টা আগে তরমুজ খেলে এই ব্যথা থেকে অনেকাংশে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

১০. হাঁপানি প্রতিকার

যাদের অনেক শ্বাস কষ্ট বা হাঁপানির সমস্যা আছে তারা খাদ্যতালিকায় নিয়মিত তরমুজ রেখে হাঁপানি প্রতিকার করতে পারেন। এছাড়া সাধারণ মানুষ, যাদের প্রচুর ঠাণ্ডা লাগার সমস্যা রয়েছে তারা যদি নিয়মিত তরমুজ খান তাহলে অ্যালার্জি প্রতিরোধ করা সম্ভব। কারণ তরমুজে আছে প্রচুর ভিটামিন সি যা অ্যালার্জি বা হাঁপানি সারিয়ে তুলতে অনেক কার্যকর।

14
শত শত বছর আগে থেকে রান্নার কাজে আমরা হলুদ ব্যবহার করি। যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে এখন মানুষ বাটা হলুদের পরিবর্তে বাজারে পাওয়া যায় এমন প্যাকেট জাত গুঁড়া হলুদ রান্নার কাজে ব্যবহার করছে। এই মশলার উপকরণটি আমাদের দক্ষিন এশিয়ার সংস্কৃতি, ধারা, অনুষ্ঠান-পর্বের সাথে আত্মিক ভাবে জড়িত। আমাদের বিবাহিক অনুষ্ঠান “গায়ে হলুদ “ শুরু হয় বর-কনের গায়ে হলুদ ছোঁয়ানোর মধ্য দিয়ে। হলুদ বলতে গেলে একটি ন্যাচারাল কস্মেটিক্স। এটি গায়ের রঙ যেমন উজ্জ্বল করে, তার সাথে বিভিন্ন চর্ম রোগের সমস্যা যেমন অ্যালার্জি, ব্রণ, র‌্যাশ দূর করে। তাছাড়া বয়সগত রোগ আলজেইমার, ডায়বেটিস, আর্থ্রাইটিস ইত্যাদি রোগ থেকে উপশম পেতে সাহায্য করে। এটি যেহেতু দক্ষিন এশিয়া তে সর্বাধিক পাওয়া যায় তাই একে “ইন্ডিয়ান জাফরান” বলা হয়।

১। ব্রণ দূর করতেঃ

হলুদের মধ্যে এন্টিসেপ্টিক এবং এন্টিব্যাক্টেরিয়াল উপাদান থাকে যেটি ব্রণ দূর করতে সাহায্য করে। এটি শুধু ব্রণই দূর করে না, তার সাথে ব্রণের দাগ এবং লোমকূপ থেকে তেল বের হওয়ার পরিমাণও কমিয়ে দেয়। কাঁচা হলুদ বাটা, চন্দন গুঁড়া, লেবুর রস মিশিয়ে একটি মাস্ক বানিয়ে মুখে লাগিয়ে রাখুন ১৫ মিনিট। শুকিয়ে গেলে কুসুম গরম পানিতে মুখ ধুয়ে ফেলুন। তাছাড়া ব্রণের উপর কাঁচা হলুদ বাটা এবং পানি মিশিয়ে দিয়ে ১৫ মিনিটের জন্য রাখুন। ব্রণ তাড়াতাড়ি চলে যাবে।

২। তৈলাক্ত ত্বকের জন্যঃ

হলুদ তৈলাক্ত ত্বকের জন্য অনেক ভালো। আগেই বলেছি লোমকূপের তেল কমাতে হলুদ অনেক ভালো কাজ করে। তাছাড়া চন্দন গুঁড়া এস্ট্রিঞ্জেন্ট এর কাজ করে এবং কমলার রস ত্বকের দাগ দূর করে, ত্বক কে পরিষ্কার রাখে। ৩/৪ চিমটি হলুদের গুঁড়া, ১ চামচ চন্দন গুঁড়া এবং ৪/৫ চামচ কমলার রস মিশিয়ে মাস্ক তৈরি করে মুখে লাগান। তৈলাক্ত ত্বকের যেকোনো সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন।

৩। শুষ্ক ত্বকের জন্যঃ

যদি আপনার ত্বক শুষ্ক থাকে, ত্বক কে উজ্জ্বল এবং লাবণ্যময়ী করতে চান, তাহলে কাঁচা হলুদ বাটা সামান্য, ১ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল, ২/৩ ফোঁটা লেবুর রস, একটা ডিমের সাদা অংশ, গোলাপ জল মিশিয়ে প্যাক বানিয়ে মুখে লাগান। নিজেই লক্ষ্য করবেন ত্বকের পজিটিভ পরিবর্তন। তাছাড়া শরীরে যেসব জায়গা শুষ্ক সেসব জায়গায়ও লাগাতে পারেন।

৪। বলিরেখা দূর করতেঃ

হলুদ ত্বকের বলিরেখা দূর করতে সাহায্য করে। ২/৩ চিমটি হলুদ গুঁড়া, চালের গুঁড়া, টমেটো রস, কাঁচা দুধের সাথে মিশিয়ে মুখে মাস্ক হিসাবে লাগিয়ে রাখুন ১৫ মিনিট। তারপর কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বকের ফাইন লাইন্স এবং ঝুলে পড়া ত্বক কে স্বাভাবিক করতে, ত্বক কে ফর্সা করতে অত্যন্ত কার্যকরী।

৫। চোখের নীচে কালো দাগ দূর করতেঃ

২/৩ চিমটি হলুদ গুঁড়ার সাথে মাখন মিশিয়ে চোখের নীচে লাগিয়ে রাখুন ২০ মিনিট। পরে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে চোখ ধুয়ে ফেলুন। এটি চোখের নীচে বলিরেখা সহ কালো দাগও দূর করবে।

৬। বয়স ধরে রাখাঃ

১ দিন পর পর বেসন, কাঁচা হলুদ বাটা, টক দই মিশিয়ে মুখ সহ সারা শরীরে লাগিয়ে রাখুন শুকানো না পর্যন্ত। শুকিয়ে গেলে ঘড়ির কাটার উলটো দিকে স্ক্রাব করে মাসাজ করুন। এটি ত্বকের ময়লা পরিষ্কার করার সাথে সাথে ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখে ।

৭। স্ট্রেচ মার্ক দূর করতেঃ

ত্বকের মোটা হয়ে যাওয়ার ফাটা দাগ, প্রেগ্নেন্সির স্ট্রেচ মার্ক দূর করতে বেসন, কাঁচা হলুদ মিশিয়ে ঐ নিদিষ্টও জায়গায় লাগালে ধীরে ধীরে দাগ কমতে শুরু করে।

৮। পোড়া ও কাঁটা জায়গায় হলুদের ব্যবহারঃ

কাঁচা হলুদ একটি এন্টিসেপ্টিক। তাই কাঁটা এবং পোড়া জায়গায় হলুদ বাটার সাথে এলোভেরা মিশিয়ে দিলে অনেক উপকার পাওয়া যায় । তাড়াতাড়ি ব্যথা এবং দাগের উপশম ঘটে।

৯। ত্বকের রোদে পোড়া দূর করতেঃ

সারাদিন বাইরে থাকে যারা, তাদের ত্বকের পোড়া ভাব এবং পিগ্মেন্টেশন কমাতে হলুদ বাটা, শশার রস, মুলতানি মাটি, লেবুর রস মিশিয়ে প্যাক বানিয়ে মুখে মাস্ক হিসাবে লাগিয়ে রাখুন ৩০ মিনিট। ত্বকের পোড়া ভাব কমে যাবে।

১০। ত্বকের অবাঞ্ছিত লোম দূর করতেঃ

প্রতিদিন ময়দা এবং কাঁচা হলুদ বাটা মিশিয়ে স্ক্রাব করলে, ত্বকের অবাঞ্ছিত লোম ধীরে ধীরে কমে আসবে।

১১। পায়ের গোড়ালির ফাটা দাগ দূর করতেঃ

গোসলের যাওয়ার আগে কাঁচা হলুদের সাথে, নারিকেল তেল অথবা ক্যাস্টর অয়েল মিশিয়ে ১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখলে পায়ের ফাটা দাগ কমবে, পায়ের ত্বক সুন্দর এবং নরম থাকবে।

১২। চর্ম রোগ থেকে মুক্তিঃ

যেকোনো চর্ম রোগের জন্য হলুদ অনেক উপকারী। কাঁচা হলুদের সাথে কাঁচা দুধ মিশিয়ে শরীরে মাখলে একজিমা, অ্যালার্জি, র‌্যাশ, চুলকানি ইত্যাদি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

১৩। ত্বকের মরা কোষ দূর করতে হলুদঃ

২/৩ চিমটি হলুদ, চিনি এবং চালের গুঁড়া মিশিয়ে মুখ স্ক্রাব করলে মুখের সব মরা কোষ দূর হবে। তাছাড়া শুষ্ক এবং কালো ঠোঁট এর জন্য হলুদ গুঁড়া এবং কাঁচা দুধ মিশিয়ে স্ক্রাব করলে অনেক ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে। ঠোঁটের মরা কোষ থাকবে না এবং ঠোঁটের কালচে ভাব দূর হবে।

১৪। ত্বক কে ফর্সা করতেঃ

প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে দুধের সাথে কাঁচা হলুদ মিশিয়ে খেলে, ধীরে ধীরে ত্বকের রঙ ফর্সা হয়। তাছাড়া রক্ত পরিষ্কার করে, ত্বককে ভেতর থেকে সুন্দর করে। তাছাড়া সকালে ঘুম থেকে উঠে কাঁচা হলুদের রস খেলেও সমান উপকারিতা পাওয়া যায়। যারা কাঁচা হলুদ শুধু খেতে পারবেন না, তারা চিনি অথবা গুড় মিশিয়ে নিতে পারেন।

(বিঃদ্রঃ ত্বকে কখনও সরাসরি হলুদ দেওয়া যাবে না। কিছুর সাথে যেমন চন্দন গুঁড়া, চালের গুঁড়া, বেসন ইত্যাদির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। প্রত্যেক মানুষের ত্বক ভিন্ন। তাই আগে মুখে না দিয়ে, হাতে অথবা ঘাড়ে অ্যালার্জি টেস্ট করে নিতে পারেন। এতে বুঝতে পারবেন প্যাকটি আপনাকে সুট করছে কিনা )

15
টক  দই শুধুমাত্র খেতে ভালো তাই নয় বরং এটি স্বাস্থ্যকর জীবন যাপনের জন্য অনেক বেশী পুষ্টিকর। আপনি এটাও জানেন যে, টক দই আপনার ত্বকের জন্য একটি মিরাকল উপাদান হিসেবে কাজ করতে পারার ক্ষমতা রাখে। এসব মোটামুটি আমরা সবাই জানি কিন্তু ত্বকের ধরন ভেদে টক দই ব্যবহার বিধি সম্পর্কে সব সময়ই অজানা থেকে যায়। আজকের এই লেখনিতে টক দইয়ের কার্যকারিতা, ত্বকের ধরনভেদে ফেইস প্যাকগুলো সম্পর্কে জানব।

টক দইয়ে কি কি পুষ্টি উপাদান আছে –

কেন টক দই আপনার ত্বক  গ্লো কওরে তোলে? কারণ এতে আছে ত্বক  বান্ধব ও কার্যকরী উপাদান । এর চারটি প্রধান উপাদান হল –

(১) জিঙ্ক

১০০ গ্রাম টক  দইয়ে আছে ১ মিলিগ্রাম জিঙ্ক । এই খনিজটি ত্বকে এন্টি এসটিনজেন্ট  হিসেবে কাজ করে ত্বকে নুতন কোষ জন্মাতে সাহায্য করে এবং ত্বকের একনে ও পিম্পল দূর করতে সাহায্য করে।

(২) ক্যালসিয়াম

টক  দইয়ের ক্যালসিয়াম আপনার ত্বকের শুষ্কতা কমিয়ে ত্বক সজীব রাখে আর ত্বক  থাকে স্বাস্থ্যময়।

(৩) ভিটামিন বি

ভিটামিন বি , বি ৫, বি ১২ ও ভিটামিন বি ২  আছে টক দইয়ে যা  ত্বক সজীব রাখে, ত্বকে স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের জোগান দেয় । এককাপ টক দইয়ে আপনার শরীরের জন্য দরকারী রিভোফ্লাভিন এর দৈনিক চাহিদার  ২০-৩০% চাহিদা পুরন করে।

(৪) ল্যাকটিক এসিড

 টক দইয়ের অন্যতম উপাদান হল ল্যাকটিক এসিড  যা আপনি অনেক স্কিন কেয়ার পণেই উপাদান তালিকায় দেখতে পাবেন । এটি ত্বক  ময়েসচারাইজ করে এবং এটি ত্বক বুড়িয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে । ত্বকের ভাঁজ পড়া বা রিঙ্কেল থেকে রক্ষা করে।

এখন আমারা খুব সহজভাবে বলতে চাই টক দই ত্বকের  জন্য কেন উপকারী-

 ত্বক সজীব রাখে আর ময়েসচারাইজ করে
 ত্বক উজ্জ্বল করে
এক্সফলিয়েট করে কার্যকরীভাবে। 
ত্বক মসৃণ আর ফ্ললেস করে তোলে ।
চোখের নীচের কালো দাগ দূর করে ।
ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখে।
ত্বকের ইনফেকশান দূর করে।
সান বার্ন প্রশমনে সাহায্য করে।
এমন কিছু প্রাকৃতিক উপাদানের আছে যা হাতের কাছেই পাওয়া যায়, সেসব উপাদানগুলো টক দইয়ে ব্যবহার করতে পারেন। এতে করে  আপনার স্কিন কেয়ারকে আরও কার্যকরী হয়ে উঠবে –

 গাজর
 লেবুর রস
 মধু
এবার আসুন জেনে নিই টক দই দিয়ে কিছু ফেইস প্যাক তৈরির উপায়গুলো সম্পর্কে –

(১) শুষ্ক ত্বকের জন্য

যাদের টক শুষ্ক তাদের জন্য ভীষণ দরকারী ফেইস প্যাক যা ত্বক নরম , মসৃণ আর সজীব করবে ।

আপনার যা লাগবে –

২ টেবিল চামচ প্রাকৃতিক টক দই
১ টেবিল চামচ প্রাকৃতিক মধু
১ টেবিল চামচ আভাকাডো পেস্ট
১ টেবিল চামচ রান্না করা ওটমিল
সব উপকরণ একসাথে নিয়ে ব্লেন্ডার এ দিয়ে মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন। এই পেস্ট আপনার মুখে লাগিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রাখুন । ভিজা নরম কাপড় দিয়ে এই পেস্ট আস্তে আস্তে তুলে ফেলুন । দেখুন  ত্বক  কতো নরম আর সজীব।

(২) সংবেদনশীল ত্বকের জন্য

আপনার ত্বকে যদি সানবার্ন হয় বা কোন কারণে ইনফেকশান হয় তাহলে এই নীচের ফেইস প্যাকটি লাগিয়ে দেখুন ।

আপনার যা লাগবে-

 ১/৪ কাপ ফুল ফ্যাট প্লেইন  টক দই
 ১/৪ কাপ টুকরো শশা
 ১ টেবিল চামচ এলোভেরাজেল ( এলোভেরা রসও ব্যবহার করা যেতে পারে)
 কয়েক ফোটা ক্যামোমিল তেল           
১ টেবিল চামচ মধু
সব উপকরণ একসাথে নিয়ে ব্লেন্ডার এ দিয়ে মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন। এই পেস্ট আপনার মুখে লাগিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রাখুন ।ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ব্যস।

(৩) প্রাকৃতিক উপায়ে গ্লোইং ত্বক  পেতে

আপনার যা যা লাগবে

 টক দই
মুসুর ডাল বাটা
কমলার খস
সব উপকরণ একসাথে নিয়ে ব্লেন্ডার এ দিয়ে মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন। ত্বকে দিয়ে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে ধুয়ে ফেলুন। ত্বক শুষ্ক হলে এর সাথে মধু মিশিয়ে নিতে পারেন।

(৪) নিস্প্রান ত্বকের জন্য

দূষণ আর অবেহেলায় ত্বক যদি নিস্প্রান হয়ে ওঠে তখন এই টক দইয়ের প্যাকটি অবশ্যই ট্রাই করবেন ।

আপনার যা লাগবে

৪ টেবিল চামচ টক দই
১ টেবিল চামচ  মধু
১ টেবিল চামচ  নারকেল গুড়া
সব উপকরণ একসাথে নিয়ে ব্লেন্ডার এ দিয়ে মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন। ত্বকে দিয়ে ২০  মিনিট অপেক্ষা করুন। কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে ধুয়ে ফেলুন। ত্বক স্বাস্থ্যময় আর গ্লোয়িং হয়ে উঠবে। 

এবার প্রশ্ন হল, টক দইয়ের ফেইস প্যাক সপ্তাহে কতদিন ব্যবহার করবেন?

আপনার ত্বক  যদি তৈলাক্ত ও একনে প্রন হয় তাহলে আপনি ভালো ফলাফলের জন্য প্রতিদিন ব্যবহার করতে পারবেন । আর আপনার ত্বক  যদি শুষ্ক হয় তাহলে সপ্তাহে ২ থেকে ৩ বার ব্যবহার করুন ত্বক ময়েশ্চারাইজ ও সজীব রাখতে।

Pages: [1] 2 3 ... 8