Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Topics - Raihana Zannat

Pages: [1] 2 3 4
1
মাংসের লিভার (যকৃৎ) বা মেটে আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী, এ কথা আমরা সকলেই জানি। কিন্তু মুরগির মাংসের মেটেও কি ততটাই উপকারী? জেনে নেওয়া যাক এ বিষয়ে পুষ্টিবিদদের মতামত।

১) মুরগির লিভারে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, ক্যালশিয়াম, আয়রন, ফাইবার ছাড়াও আরও অনেক স্বাস্থ্যগুণে ভরপুর উপাদান।

২) মুরগির লিভার বা মেটেতে রয়েছে দস্তা বা জিঙ্ক যা জ্বর, সর্দি-কাশি, টনসিলাইটিস সৃষ্টিকারী জীবাণুর বিরুদ্ধে শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
৩) মুরগির লিভারে রয়েছে ভিটামিন-এ এবং বি যা আমাদের দৃষ্টিশক্তি ও মস্তিষ্কের বিকাশে সহায়ক।

৪) মুরগির লিভারে রয়েছে কোলাজেন ওইলাস্টিন নামের একটি উপাদান যা আমাদের শরীরের শিরা-উপশিরায় রক্ত প্রবাহ সহজ ও স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।

৫) মুরগির লিভারে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন আর ফাইবার যা শরীর ও হৃদযন্ত্রের পক্ষে খুবই উপকারী।
৬) মুরগির লিভার বা মেটেতে রয়েছে সেলেনিয়াম নামের একটি জরুরি উপাদান যা কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। এই সেলেনিয়াম শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, ছোট-বড় সংক্রমণ, শরীরের গাঁটে গাঁটে ব্যথা, কৃমির সমস্যাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম।

৭) শরীরের বিভিন্ন অপুষ্টিজনিত সমস্যা দূর করতে এবং দ্রুত ওজন বাড়াতে মুরগির লিভার বা মেটে অত্যন্ত কার্যকর!
এ ছাড়াও, ডায়বেটিসের মতো অসুখে আক্রান্তদের জন্য মুরগির লিভার বা মেটে খুবই উপকারী। পুষ্টিবিদদের মতে, মুরগির মাংসের তুলনায় মুরগির লিভারের পুষ্টিগুণ কোনও অংশে কম নয়। তবে একটা বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখবেন, যাঁদের উচ্চ রক্তচাপ বা হার্টের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের মুরগির মেটে না খাওয়াই ভাল। কারণ, মুরগির মেটে খেলে শরীরে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। ফলে বাড়বে উচ্চ রক্তচাপ বা হার্টের সমস্যা।

তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।

2
প্রায় সবার বাড়িতেই টিকটিকির ‘অনুপ্রবেশ’ ঘটে। ঘরের আনাচে কানাচে, প্রায় সর্বত্র এদের অবাধ বিচরণ! আপাত দৃষ্টিতে এটিকে নিরীহ গোছের মনে হলেও টিকটিকি মারাত্মক বিষাক্ত। বাড়িকে টিকটিকি-মুক্ত করতে অনেকেই বাজারে উপলব্ধ একাধিক রাসায়নিক যুক্ত দামি স্প্রে ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও বাড়ি থেকে টিকটিকির উপদ্রব চিরতরে বন্ধ করা যায় না। তাহলে কী করে টিকটিকি-মুক্ত করবেন আপনার বাড়ি? আসুন জেনে নেওয়া যাক বাড়ি টিকটিকি-মুক্ত করার অব্যর্থ কয়েকটি উপায়...

১) জানালার কোনায় কোনায় বা ঘরের ভেণ্টিলেটরে কয়েক কোয়া রসুন রেখে দিন। রসুনের গন্ধে টিকটিকি ধারে কাছেও ঘেঁষবে না।

২) গোলমরিচ বা শুকনো লঙ্কার গুঁড়ো ৩-৪ কাপ জলে ঘণ্টাখানেক ভিজিয়ে রাখুন। এর পর ওই গোলমরিচ বা শুকনো লঙ্কার গুঁড়ো মেশানো জল ঘরের কোনায় কোনায় স্প্রে করে দিন। টিকটিকি ওই এলাকা ছেড়ে পালাবে!

৩) ঘরের যেখানে টিকটিকির উপদ্রব বেশি, সেখানে ন্যাপথালিনের বল বা ন্যাপথালিন গুঁড়ো করে ছড়িয়ে দিন। ন্যাপথালিনের গন্ধে টিকটিকি পালাবে।

৪) ঘরের যে সমস্ত জায়গায় টিকটিকির উপদ্রব বেশি, সেখানে ডিমের খোসা রেখে দিন। ওই সমস্ত জায়গায় আর টিকটিকির দেখা মিলবে না।

৫) ঘরের যে সমস্ত জায়গায় টিকটিকির উপদ্রব বেশি, সেখানে ময়ূরের পালক রেখে দিলে টিকটিকি ধারে কাছেও ঘেঁষবে না।

৬) পেঁয়াজের গন্ধ টিকটিকি মোটেই সহ্য করতে পারে না। তাই কয়েক টুকরো পেঁয়াজ ঘরের যে সমস্ত জায়গায় টিকটিকির উপদ্রব বেশি, সেখানে রেখে দিন। টিকটিকি পালাবে।
৭) খানিকটা তামাকের সঙ্গে সামান্য কফি মিশিয়ে ছোটো ছোট গুলি বা বলের মতো তৈরি করে নিন। তারপর সেগুলিকে ঘরের আনাচে কানাচে রেখে দিন। দেখবেন টিকটিকির উপদ্রব কমে যাবে।

3
বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুদ্র কম্পিউটার তৈরির দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকেরা। ‘মিশিগান মাইক্রো মোট’ নামের এ ডিভাইসটির আকার মাত্র দশমিক তিন মিলিমিটার। এটি ক্যানসার পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার পথ খুলে দেবে বলে মনে করছেন গবেষকেরা।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক খবরে বলা হয়, এর আগে গবেষকেরা ২ বাই ২ বাই ৪ মিলিমিটার আকারের একটি ডিভাইস তৈরি করেছিলেন। তাতে বাইরে থেকে শক্তি জোগানো বন্ধ হলেও তা তথ্য ধরে রাখতে পারত। কিন্তু ক্ষুদ্রতম কম্পিউটারটির ক্ষেত্রে একবার চার্জ শেষ হলে তার আগের সব তথ্য মুছে যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডেভিড ব্লাউ বলেন, একে কম্পিউটার বলা যাবে কি না তা আমরা নিশ্চিত নই। এটি মতামতের ওপর নির্ভর করে। কম্পিউটার হতে গেলে যে ফাংশন থাকার কথা, তা আছে কি না, সে বিষয়টি মতামতসাপেক্ষ। র‍্যাম ও ফটোভল্টাইকসসহ এ কম্পিউটিং ডিভাইসে প্রসেসর, তারহীন ট্রান্সমিটার ও রিসিভার রয়েছে। যেহেতু এতে প্রচলিত রেডিও অ্যানটেনা নেই এটি দৃশ্যমান আলোর সাহায্যে তথ্য আদান-প্রদান করে। একটি বেজ স্টেশন শক্তি ও প্রোগ্রামের জন্য আলো সরবরাহ করে এবং তথ্য গ্রহণ করে।
(collected)


ডেভিড ব্লাউ বলেন, সিস্টেম প্যাকেজিং স্বচ্ছ তৈরি করতে হয় বলে ‘মিশিগান মাইক্রো মোট’ তৈরির চ্যালেঞ্জ হলো এটি কীভাবে কম শক্তিতে চালানো যায়। এ সমস্যা দূর করতে নতুনভাবে সার্কিটের নকশা করতে হয়েছে।

নিখুঁত তাপমাত্রা পরিমাপক সেনসর হিসেবে এটি তৈরি করা হয়। নতুন এ ডিভাইসিট তাপমাত্রাকে ইলেকট্রনিক স্পন্দনে রূপান্তর করতে পারে। এ প্রক্রিয়ায় কোষের মধ্যে তাপমাত্রার ওঠানামা নিখুঁতভাবে নির্ণয় করতে পারে এ যন্ত্র।

ক্ষুদ্র এই মাইক্রো কম্পিউটার অন্যান্য কাজে লাগানোর কথা ভাবছেন গবেষকেরা।

4
Departments / Concerns over Google's Stadia
« on: March 31, 2019, 10:49:17 AM »
When it was announced that one would need a 25 Megabit connection to achieve lag-free 4K 60Fps gaming with the Stadia, the rest of the world (including Bangladesh) breathe a sigh of sadness. This led people to ask more questions further compounding on the initial concerns over Google's future cloud gaming service. And, so the concept which could ultimately change the landscape of gaming, has also left a lot of important things unanswered.

Firstly, this isn't the first time a major company's taken a crack at cloud gaming because that title goes to Nvidia's GeForce Now and PlayStation TV. But there were three big drawbacks – the necessity of a fast internet connection, the lack of games and the need for proprietary hardware.  Google, in their press briefing, touted the Stadia's server capabilities, showcasing how gamers wouldn't need any extra hardware and that they could stream their games from any device. And so the question then becomes whether or not publishers and developers are willing to back this idea.

We know for sure that Google has Ubisoft's blessing, seeing how they showcased the Stadia with Assassin's Creed Odyssey. Id Software are also on board since Doom Eternal is slated to launch on the platform. But the list runs pretty dry after that. No major developer has commented about the prospects of the Stadia yet and with a TBA 2019 launch date, Google needs to make their argument compelling.

Google's main focus is to take away the hassle of hardware, for both developers and manufacturers – take gaming to the clouds supposedly. The key goal being the urgency to become a singular platform. The problem is that this has been tried before, and it didn't work out then either. The Panasonic 3DO wanted to achieve something similar, but in 1994 no major game developer or publisher except for EA was on board with the idea. The idea was to make one single hardware and that game-makers would make games for that one piece of hardware; Panasonic would keep the profits from hardware, developers would keep software sales and publishers would collect their profits from distribution. But at the time, Sega and Nintendo had their own hardware, their own exclusives and there was a console war they were tending to, till Sony showed up and changed the status quo entirely.

And the situation is somewhat similar still, with Xbox and Sony competing with each other on a hardware level, buying out small studios, having different studios make exclusive games for them. And while Google will eventually make some leeway and get a couple of developers on board, they need to make a compelling case for the Stadia and those would be exclusives.

And so, despite the number of games the Stadia brings onto their supercomputer server, people will just prefer the reliability of owning the game and loading it from their console, as opposed to relying on Google's server. Lag, latency and performance aside; Google has to work out how to convince developers first only then will customers follow.
(copied)

5
Departments / IoT on the rise in local market
« on: March 31, 2019, 10:48:37 AM »
IoT or Internet of Things is the application of the internet and software technology in more traditional sects of our lives, such as, door locks, security cameras, LED lights, etc. And while, Google Home and Amazon Echo are the most famous IoT devices in the world, there are others being manufactured as well with some big local players involved in distributing and creating devices which can significantly change how we use the internet in our day to day lives.
We are seeing an increasing shift in terms of adoption of IoT devices. DataSoft, Grameenphone, and many other IT firms have stepped into the IoT production and development sector. And BTRC too have officially backed the usage of IoT devices, issuing a directive on April 24, 2018. The instructions published by BTRC states that it would be legal to import IoT devices and that they are all for the manufacturing, research and development of devices which can be used to build a smart city. This is why more and more institutions and businesses have been adopting smart-lock systems, Face ID and fingerprint scanners in their compounds. And this has also allowed for a lot more consumers to know about Google Home devices, such as, the Google Home Mini and other smart speakers, like the, Amazon Echo and Echo Dot. But more than anything, the implementation of these devices have helped to motivate companies like DataSoft which are not only making products for the local market but extending their influence in foreign territories as well. In late 2017, DataSoft signed an agreement with Japanese company Smart Life to develop and implement smart-home technology in 10,000 homes in Tokyo. The company are also installing IoT-based toll management systems for the Democratic Republic of Congo (DRC) and its Matadi Bridge. And to mitigate the water supply shortage facing the people of Mecca, Saudi Arabia, DataSoft have developed an IoT device with the device shipping from July 31, 2018. All of this has made DataSoft a well-known name in the rest of the world and with a production plant located in Gazipur, the company aims to make IoT devices for both local and foreign consumers. DataSoft stated that they are currently working on four IoT devices which would send alerts to the user's smartphone in the case of a gas and water leakages, smoke and intrusion in the house. These devices will be available from next month and users will have to pay Tk. 7,999/- for the first year and Tk. 2,999/- onwards from the next year.

Grameenphone are another major player in terms of the development of IoT services. The telco provides its own Smart Home, Smart Security and Smart Attendance services alongside the Vehicle Tracking Service. Grameenphone also introduced the country's first IoT-based digital livestock management solution Digi Cow for livestock farmers on December 7, 2018. And it's not just with their own products, Grameenphone also works in conjunction with other IoT development companies. BanglaTrac are currently developing IoT solutions for vehicles and Grameenphone is marketing the device. Chinese company Hexing are also working with Grameenphone in demonstrating its own NB-IoT enabled Gas meter and NB-IoT enabled Smart Prepayment Energy Meter. Hexing are well-known in China for their work with electricity meters. On October 21, 2018, they signed a joint-venture deal with the state-owned West Zone Power Distribution Company (WZPDCL) to create the company "Bangladesh Smart Electrical Company Limited".

There are also many up and coming companies working with developing IoT devices, with one such company being Inovace Technologies. The company has developed a device which will send automated alerts to guardians regarding their children's attendance in school. The company also helped Grameenphone in developing its Smart Attendance device and its own fingerprint attendance service called “TipSoi 21”.

And Grameenphone aren't the only telco to take part in IoT initiatives. Robi launched their own Smart Homeand Smart Attendance systems. They also launched Industrial IoT services which focuses on modernizing construction. In August 2017, Robi signed an agreement with Sri Lankan start-up nCinga to create an IoT solution focused on helping the RMG industries of Bangladesh. Banglalink have their own Vehicle Tracking Service and the Watchmaniss Security Service, a security service for corporates.
Alongside these developments, there are also retail stores which are importing smart locks and security cameras from China. But there's still a lot of confusion amongst consumers as to how these IoT devices operate, a lot of them finding the prices of these products off-putting. And so the key ingredient for long-lasting development and growth of the IoT development sector is to make sure consumers understand these devices. And a lot of corporations, with its implementation of smart-locks in the office are bringing the use-case of these devices to an employee level.

There are also ongoing attempts to train employees for the IoT sector and institutions like BRAC University, Grameenphone in collaboration with IEEE, Datasoft, Bangladesh Skill Development Institute, Global Skills Development Agency are already providing such training and solving the issues with existing knowledge gaps regarding this newly emergent sector.
(copied)

6
Departments / Adolescent pregnancy: Effects and remedies
« on: March 31, 2019, 10:47:18 AM »
When a carefree toddler reaches adolescence, she puts her footsteps to a completely new world. Though the usual age is 10-14 years, it varies from country to country, race and geographical distributions. But, there is no doubt that her known world suddenly changes — a drastic change occurs in her physical, mental and social aspect.

She becomes excited with sudden growth spurt (suddenly becoming taller than her counterparts) as well as emotionally unstable or frightened with menarche (the first menstrual bleeding) and thelarche (onset of breast development).

By the time, all these unusual changes may lead these adolescents to miss their classes — they become either euphoric, depressed or may experience other mood swings.

Different studies show that both in developing and developed countries, adolescents get involved in sexual activities which they are not able to distinguish between the acceptance or deviance in the society as their body and mind is still young, soft and tender.

So, willingly or unwillingly they become victims of sexual harassment, get involved in sexual relationships or become victims of women trafficking. As a consequence, they become high risk pregnant before the age of 18 which exposes them to the greatest threat to their life as well as to their families. The risks of adolescence pregnancy are:
Miscarriage, as their whole body, including the reproductive system, is not fully developed. They are not capable enough to carry on with pregnancy. Also chances of having normal vaginal delivery is less.

•             Susceptibility to various types of sexually transmitted diseases (STDs) like syphilis, gonorrhoea and HIV etc. can cripple their and the newborn babys’ lives.

• They might suffer from anaemia (deficiency of haemoglobin in blood), pre-eclampsia and eclampsia (high blood pressure with oedema and convulsions), preterm births, low birth weight babies, obstructed labour, intrauterine or infant death etc. Eventually, maternal mortality increases to a greater extent.

•             After delivery, they may suffer from mental imbalance, get addicted to drugs and sex stimulating pills. Chances of developing various psychological problems ranging from postpartum blue, neurosis, psychosis and suicidal tendency increases exponentially.

•             Long term complications of early sexual activity before cervical (mouth of uterus) maturation is the precursor of cervical cancer, worst candidate of Pelvic Inflammatory Disease (PID), repeated miscarriage, ectopic pregnancy, infertility and lastly pelvic organ prolapse/descent.

Some youngsters, especially workers in factories, restaurants and even high school students think that they are mature enough to have sexual relations or marriage without permission of parents/guardians.

In Bangladesh, an estimated 2.5 million births (17% of total births) were attributed to adolescents between the age 15 and 19 years between 2005 and 2010. The adolescent fertility rate is 118 births per 1,000 women younger than 20 years.

Although the adolescent pregnancy rate is declining, the reduction is only 18% during a period of 12 years. To reduce infant and teen mortality, wedding before the age of 20 should never be considered.

The social elites (school teachers, social consultants, religious leaders etc.) can play an effective determining role in preventing this dangerous situation. The parents/guardians should prioritise not to put obstacles on the growing girl’s mind and body. Also, parents should be open with their young children especially when they are facing a crisis.

(copied)
The writer is a Gynaecologist and Obstetrician working at Widad University College, Malaysia.
Prof Dr Hamida Begum

7
পা জ্বালাপোড়া করা বা বার্নিং ফিট সিন্ড্রোম অপরিচিত কোনো রোগ নয়। আমাদের মধ্যে অনেকেই এ সমস্যায় ভুগছেন। তবে ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সে এবং ৫০ বছরের ঊর্ধ্বের যে কেউ এ রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। পুরুষের তুলনায় মেয়েরা এ রোগের শিকার হন বেশি। পায়ের তলা ছাড়াও গোড়ালি, পায়ের উপরিভাগ এবং লেগে জ্বালাপোড়া ও ব্যথা হতে পারে। অনেক সময় পায়ের রঙ পরিবর্তন হয়, অতিরিক্ত ঘাম হয় এবং পা ফুলে যায়। চাপ প্রয়োগ করলে কোনো ব্যথা অনুভূত হয় না। মাঝেমধ্যে অস্বাভাবিক অনুভূতি ও অবশভাব হয় । জ্বালা ও ব্যথা রাতে বেড়ে যায় এবং প্রায়ই ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর এ ধরনের উপসর্গ থাকে না।

পা জ্বালাপোড়া করার কারণ:

>> ভিটামিন বি-এর উপাদান যেমন- থায়ামিন (বি-১), পাইরোডোক্রিন (বি-৬), সায়ানোকোবালামিন (বি-১২), নিকোটানিক এসিড ও রাউবোফ্ল্যাভিনের অভাবে পা জ্বালা এবং ব্যথা করে।

>> পরিবর্তিত বিপাকীয় ও হরমোনের সমস্যা (ডায়াবেটিস, হাইপোথাইরোডিসম)।

>> কিডনি ফেইলুর (হিমোডায়ালাইসিস রোগী)।

>> যকৃৎ (লিভার) ফাংশন খারাপ।

>> কেমোথেরাপি।

>> দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত মদপান।

>> ইলফিটিং বা ডিফেক্টিভ জুতা পরিধান।

>> অ্যালার্জিজনিত কাপড় ও মোজা ব্যবহার করা।

>> বংশানুক্রমিক অসঙ্গত স্নায়ু পদ্ধতি।

>> স্নায়ু ইনজুরি, অবরুদ্ধ (ইনট্রাপমেন্ট) ও সংকোচন (কমপ্রেশন)।

>> মানসিক পীড়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিও এ ধরনের পরিস্থিতির শিকার হন।

করণীয়: চিকিৎসার শুরুতেই রোগের ইতিহাস, রোগীর শারীরিক ও ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় রোগীকে আশ্বস্ত করতে হবে যে, প্রতিকার ও চিকিৎসার মাধ্যমে এ রোগ থেকে মুক্ত হওয়া যায়। সুপরিমাপের খোলা ও আরামদায়ক জুতা পরিধান করতে হবে। আরামদায়ক সুতার মোজা ব্যবহার করা উত্তম। পায়ের আর্চ সাপোর্ট, ইনসোল ও হিল প্যাড ব্যবহারে উপসর্গ লাঘব হবে। পায়ের পেশির ব্যায়াম ও ঠাণ্ডা পানির (বরফ না) সেঁক উপসর্গ নিরাময়ে অনেক উপকারী। রোগ প্রতিরোধে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন সেবন করতে হবে এবং চিকিৎসায় ভিটামিন ইনজেকশন পুশ করতে হবে। মদপান ও ধূমপান থেকে বিরত থাকতে হবে এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রিত রাখতে হবে। স্নায়ু ইনজুরি, অবরুদ্ধ (ইনট্রাপমেন্ট) ও সংকোচন (কমপ্রেশন) হলে যথোপযুক্ত চিকিৎসা গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়। বার্নিং ফুট সিনড্রোম থেকে সুস্থ থাকতে হলে সবাইকে চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধে সচেষ্ট থাকতে হবে।

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, বারডেম

8
Faculty Sections / গুণে ভরা কালো জাম
« on: July 05, 2018, 10:13:34 AM »
ফলের দোকানে রসাল আঙুরের দিকে চোখ গেলেও, কালো জামে খুব একটা চোখ যায় না কারও। তবে এই ফলের খাদ্যগুণ কিন্তু অনেক দামী ফলকেও হার মানায়। জুন-জুলাই-অগস্ট, এই তিন মাস চুটিয়ে খেতে পারবেন কালো জাম। এক ঝলকে দেখে নিন কী কী উপকারিতা রয়েছে এই ফলের।

-কালো জামে রয়েছে ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস, সোডিয়াম, ভিটামিন সি এবং প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি। ক্যালোরিও অত্যন্ত কম।

-জামে গ্লুকোজ, ডেক্সট্রোজ ও ফ্রুকটোজ রয়েছে, যা মানুষকে যোগায় কাজ করার শক্তি।

-যারা রক্তাল্পতায় ভোগেন, তাদের জন্য এটি অত্যন্ত উপকারী। ইমিউনিটি বৃদ্ধি এবং অ্যান্টি এজিংয়ের কাছে লাগে এই ফল।

-এই ফলে জলের পরিমাণও অনেক। হজমশক্তি বৃদ্ধি ও পেটে ব্যথার উপশম হিসেবে দারুণ কাজে আসে এই ফল।

-ডায়াবেটিস রোগীরাও এই ফল খেতে পারেন। ব্লাড সুগার লেভেল কম রাখতেও সাহায্য করে কালো জাম।

-জাম রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে হৃদপিণ্ড ভালো রাখে। এছাড়া শরীরের দূষিত কার্বন-ডাই-অক্সাইডের মাত্রা কমিয়ে দেহের প্রতিটি প্রান্তে অক্সিজেন পৌঁছে দেয়।

-পুষ্টিবিদদের মতে, জামে সেই সব উপাদান আছে যা উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে।

-মানুষের মুখের লালার মধ্যে এক ধরনের রঞ্জক পদার্থ উৎপাদিত হয়, যা হতে ব্যাকটেরিয়ার জন্ম নেয়। এ ধরনের ব্যাকটেরিয়া হতে মুখে ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর জাম মুখের ভেতর উৎপাদিত ক্যান্সারের সহায়ক ব্যাকটেরিয়ার প্রভাব থেকে দেহকে রক্ষা করে মুখের ক্যান্সার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

-টপাটপ মুখে দিয়ে খেতে ভালো না লাগলে, একটু অন্য ভাবেও ট্রাই করতে পারেন কালো জাম। স্বাদ বদলাতে খেতে পারেন কালো জামের চাট।

9
গর্ভাবস্থা নারী জীবনের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং সময়। এ সময় নারীদের অনেক ধরনের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। খাবারের ব্যাপারেও এই সময় গর্ভবতী নারীদের অনেক সচেতন থাকা প্রয়োজন।

চিকিৎসকদের মতে, ফল পুষ্টিকর খাবার হলেও গর্ভাবস্থায় কিছু কিছু ফল এড়িয়ে চলা উচিত। তা না হলে গর্ভপাত ঘটার ঝুঁকি বাড়ে।

আনারস : আনারস দারুন পুষ্টিকর ফল হলেও গর্ভবতী নারীদের এটা থেকে দূরে থাকা উচিত। এতে থাকা ব্রমেলাইন উপাদান জরায়ু নরম করে দেয়, এতে গর্ভপাত ঘটতে পারে। আবার অতিরিক্ত আনারস খেলে পাকস্থলীর সমস্যা যেমন- ডায়রিয়া হতে পারে। এতে শরীরে পানিশূণ্যতা দেখা দিতে পারে।

 আঙুর : এতে শরীরে তাপামাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়ে। যা মা ও গর্ভস্থ শিশুর ক্ষতি করতে পারে।এছাড়া এতে থাকা রেসভারেস্ট্রল উপাদান গর্ভাবস্থায় হরমানের সমস্যা তৈরি করে।

পেঁপে : গর্ভাবস্থায় পেঁপে পুরোপুরি এড়িয়ে চলা উচিত। এটা যেকোন সময় গর্ভাপাত  ঘটাতে পারে। কাঁচা ও আধা পাকা পেঁপেতে লেটেক্স নামের একটি উপাদান থাকে এসময় মূত্রথলির সংক্রমণ বাড়িয়ে দেয়।

করলা : এটিও জরায়ুর জন্য অস্বস্তিকর। করলা খেলে সময়ের আগে সন্তান প্রসব বা গর্ভপাত ঘটতে পারে।

এসব ফল গর্ভাবস্থায় চিকিৎসকরা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিলেও  কিছু কিছু ফল এই সময় খুবই উপকারী। যার মধ্যে স্ট্রবেরী, পেয়ারা, চেরী, আম, নাশপাতি , আম, তরমুজ, কমলা, আপেল, অ্যাভোকাডো ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

সূত্র : এনডিটিভি

10
মসলা হিসেবে হলুদ পরিচিত হলেও এর রয়েছে নানা গুণ। এতে থাকা কারকুমিন স্বাস্থ্যের জন্য দারুন উপকারী। হলুদের গুড়া রান্নার কাজ ব্যবহৃত হলেও কাঁচা হলুদ ব্যবহার করা হয় সৌন্দর্যচর্চায়। তবে অনেকেরই হয়তো জানা নেই, হলুদ ওজন কমাতেও দারুন কার্যকরী।

হলুদে কারকুমিন ছাড়াও রয়েছে উপকারী তেল, পটাশিয়াম , ফ্যাটি এসিড, ওমেকা থ্রি,প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট,ফাইবার ইত্যাদি। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট , অ্যান্টিইনফ্লামাটরি  শরীরের যেকোন ধরনের প্রদাহ সারাতে কাজ করে।প্রাকৃতিক উপায়ে ওজন কমাতে হলুদ মেশানো চা দারুন কার্যকরী।

এই চা তৈরি করতে প্রথমে পানি ফুটিয়ে নিন। তারপর তাতে এক চিমটে আদা ও এক চিমটে কাঁচা হলুদ বা বাটা হলুদ দিন। পানি ফুটে এলে চুলা বন্ধ করে ঠাণ্ডা হতে দিন। স্বাভাবিক তাপমাত্রায় এলে ছাকনি দিয়ে কাপে ছেঁকে নিন। এতেই তৈরি হয়ে যাবে আপনার হলুদ দেয়া চা।

এভাবে তৈরি হলুদ মেশানো চা ওজন কমাতে সাহায্য করে। কারণ হলুদে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টিইনফ্লামাটরি ওজন কমাতে ভূমিকা রাখে। এই চা ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণেও কাজ করে। শরীরে মেদ জমতে দেয় না। খাবার হজম করতে সাহায্য করে।   ‌

সূত্র : এনডিটিভি

11
রান্নার অন্যতম প্রধান উপকরন হচ্ছে পেঁয়াজ। এটা শুধু রান্নার স্বাদই বাড়ায় না খাবারের পুষ্টি মানও বাড়ায়। অনকেরই হয়তো জানা নেই কাঁচা পেঁয়াজেরও জাদুকরী কিছু স্বাস্থ্য গুণ রয়েছে।

এ কাপ কাটা পেঁয়াজে ৬৪ ক্যালরি,১৫ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ৩ গ্রাম ফাইবার, ২ গ্রাম কোলেস্টেরল,৭ গ্রাম শর্করা, দিনের চাহিদার প্রায় ১০ ভাগ বা তারও বেশি ভিটামিন সি,বি, বি৬ এবং ম্যাগাঙ্গিজ রয়েছে। এছাড়া এতে অল্প পরিমাণে ক্যালসিয়াম,আয়রন,ম্যাগনেশিয়াম,ফসফরাস,পটাশিয়াম, সালফার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে।

১.কাঁচা পেঁয়াজ শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায় এবং শরীর সুস্থ রাখে।

২.এতে থাকা ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

৩.পাকস্থলী এবং কলোরেক্টাল কান্সার প্রতিরোধে কাঁচা পেঁয়াজের জুড়ি নেই।

৪. শাকসবজির মতো এতেও ক্রমিয়াম উপাদান আছে যা রক্তচাপ স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে।

৫.পেঁয়াজের রস এবং মধু একসঙ্গে খেলে তা জ্বর, ঠান্ডা এবং অ্যালার্জি সারাতে সাহায্য করে।

৬. পেঁয়াজে থাকা ভিটামিন সি ত্বক ও চুলের জন্য উপকারী।

৭. কাঁচা পেঁয়াজে থাকা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি উপাদান শরীরের যেকোন ধরনের প্রদাহ সারাতে ভূমিকা রাখে।

৮. প্রতিদিন কাঁচা পেঁয়াজ চিবিয়ে খেলে তা শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

সূত্র : এনডিটিভি

12
‘রিকশা কিছুদূর যাওয়ার পর দেখি, একটি মোটরসাইকেল দ্রুত আমার পাশ দিয়ে গেল। মোটরসাইকেলে সেই ছেলেটি বসা। যাওয়ার সময় ছেলেটি আমার হাঁটুতে স্পর্শ করে যায়। পর মুহূর্তেই আমি বুঝতে পারি, ওই ছেলেটি আমার হাঁটুতে ব্লেড দিয়ে পোঁচ দিয়ে গেছে।’ কয়েক দিন আগে এমন ভয়াবহ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হওয়ার কথা জানিয়েছেন এক নারী।

বাসে করে বাসায় ফিরছিলেন আরেক নারী। হঠাৎ খেয়াল করেন, পেছনের আসনের এক লোক বারবার তাঁর কাছাকাছি আসছেন। তিনি বিরক্তি নিয়ে কিছুটা সরে যান। বাসে নিয়মিত যাতায়াত করার কারণে এমন তিক্ত অভিজ্ঞতার শিকার প্রায়ই হতে হয়। তবে সেদিনের ঘটনায় তিনি হতভম্ব হয়ে পড়েন। বাস থেকে নামার পর তিনি টের পান, ব্লেড দিয়ে তাঁর সালোয়ার–কামিজ কেটে দেওয়া হয়েছে। ওই অবস্থায় কোনো রকমে তিনি বাড়ি ফিরে আসেন।

এর আগে এক সাংবাদিক অফিস থেকে রাতে বাসায় ফেরার সময় পথে নিগ্রহের শিকার হন। এক যুবক যখন তাঁকে হয়রানি করছিলেন, তখন আশপাশে অনেক লোক দাঁড়িয়ে থাকলেও কেউ সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেননি। প্রতিবাদও করেননি। একপর্যায়ে অপমানে তিনি রাস্তায় দাঁড়িয়ে কাঁদতে থাকেন।

এই তিনজনই তাঁদের এমন ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে। তাঁরা বলেছেন, চলার পথে এমন নিপীড়ন, নিগ্রহ থেকে অন্য নারীদের সতর্ক করতেই তাঁরা জনসমক্ষে তা তুলে ধরেছেন। পোস্টগুলোও ‘পাবলিক’ রেখেছেন যাতে সবাই তা জানতে পারে। ‘কমেন্ট ও শেয়ার’ অপশনও খোলা রেখেছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, নারীকে আক্রমণের ধরনগুলো হিংস্র হয়ে উঠেছে। ব্লেড দিয়ে পোশাক কেটে দেওয়া ও শরীরে ক্ষত সৃষ্টি করা, গায়ে জ্বলন্ত সিগারেট ফেলা, পানি ঢেলে দেওয়া, হাঁটার সময় শরীর স্পর্শ করার ঘটনাগুলোর মধ্য দিয়ে হিংস্র ও বিকৃত আনন্দ প্রকাশের ঘটনা ঘটছে। আর ফেসবুকে এসব অভিজ্ঞতা জানানোর ফলও যে ইতিবাচক হচ্ছে তা নয়। অনেক নারী এরপর সাইবার বুলিংয়ের (সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানাভাবে হেনস্তা করা, আপত্তিকর ছবি ও পোস্ট কোনো নারীর পেজে পোস্ট করা) শিকার হচ্ছেন।
নারীর ওপর আক্রমণের ধরন হিংস্র হয়ে উঠছে মন্তব্য করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. গীতি আরা নাসরীন প্রথম আলোকে বলেন, জনপরিসরে নারী নির্যাতনের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, এর সংখ্যাগত ও মাত্রাগত পরিবর্তন হয়েছে। নারীকে আক্রমণের ধরন হিংস্র হয়ে উঠেছে। ব্লেড দিয়ে পোশাক কেটে দেওয়া বা গায়ে জ্বলন্ত সিগারেট ফেলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে তা প্রকাশ পাচ্ছে।

ড. গীতি আরা নাসরীন বলেন, জনপরিসরে নারী নির্যাতনের ক্ষেত্রে আগে সাধারণ ধারণা ছিল যে শুধু বিশেষ প্রকৃতির, বিকৃতির বা বিশেষ মতাদর্শের মানুষই নারীকে নির্যাতন করে। নারীকে নির্যাতন করা যদি সহজ হয়, তবে নির্যাতনের মাধ্যমে ক্ষমতা প্রকাশ বা বিকৃত আনন্দ লাভের সুযোগ অনেকেই নিতে পারে। এটা বন্ধ না করলে এই নির্যাতনের সংস্কৃতি গেড়ে বসবে। নারী নির্যাতন করে পার পাওয়া বন্ধ করতে হবে। রাষ্ট্রের ক্ষমতায় যাঁরা আছেন, এটি তাঁদের অবশ্যকর্তব্য। অপরাধীকে দ্রুত শনাক্ত করা, দ্রুত বিচার ও শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। নারী নির্যাতনকারীকে চিহ্নিত করে ঘৃণার পাত্র করে তুলতে হবে। নির্যাতনের শিকার নারীদের ওপর দোষ চাপিয়ে যৌন নিপীড়কের আচরণকে বৈধতা দেওয়া নিপীড়ক মনোবৃত্তিরই নামান্তর।
ফেসবুকের পাতায় নিপীড়ন–কথন
গত ১১ মার্চ ফেসবুকে এক নারী লিখেছেন, ‘আজ আমার জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছি। গুলশানের কাছাকাছি বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। এমন সময় এক ছেলে এসে আমার সঙ্গে কথা বলা শুরু করেন। জানতে চান, “আপু কই যাবেন?”, “কিসে পড়েন?” বিনীতভাবে প্রথম দুটি প্রশ্নের জবাব দেওয়ার পর ওই ছেলে ফালতু প্রশ্ন করা শুরু করেন। এক মিনিটের ব্যবধানে আপনি থেকে তুমিতে নেমে এসে বলা শুরু করেন, “তোমাকে তো আশপাশে প্রায়ই দেখি”, “তুমি খুব কিউট”। এমন পরিস্থিতি এড়াতে সামনে যেই রিকশা পেয়েছি তাতেই উঠে পারি এবং হঠাৎ বুঝতে পারি কেউ একজন পেছন থেকে আমার ওড়না টানছে। তাকিয়ে দেখি আর কেউ নয়, সেই ছেলেই। আমি শুধু বলি, “এই সব বেয়াদবি ক্যান করতেছেন, ছাড়েন!” রিকশা কিছুদূর যাওয়ার পর একটি মোটরসাইকেলকে দ্রুত আমার পাশ দিয়ে চলে যেতে দেখি। মোটরসাইকেলে সেই ছেলেটি বসা। যাওয়ার সময় ছেলেটি আমার হাঁটুতে স্পর্শ করে যায়। পর মুহূর্তেই আমি বুঝতে পারি ওই ছেলেটি আমার হাঁটুতে ব্লেড দিয়ে পোঁচ দিয়ে গেছে। আমার কামিজের ও লেগিংসের অংশ এতে ছিঁড়ে যায়। ব্লেডের আঘাত চামড়া ভেদ করে যায়। বাসায় পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত বুঝতে পারিনি ক্ষত কতটা গভীর। সবচেয়ে খারাপ লেগেছিল ঘটনা দেখেও আশপাশের কেউ টুঁ শব্দটিও করল না। জীবনে এত অসহায় আর কখনো লাগেনি...।’

হাজারের ওপর শেয়ার হওয়া ওই পোস্টে সমবেদনা জানিয়ে এবং প্রায় একই রকম অভিজ্ঞতার শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন আরও কয়েক জন নারী। তাঁরা বলেছেন, ‘সব সময় শুনি, মেয়েদের চুপ থাকতে হয়। এই চুপ থেকে থেকেই আমরা এদের সাহস বাড়াচ্ছি।’ আরেকজন লিখেছেন ‘ঘরে বসা লাগবে। আল্লাহর ওয়াস্তে আর কোনো উপায় নেই।’ আরেক নারী লিখেছেন, ‘এক বছর আগে আমার সঙ্গেও এমন একটি ঘটনা ঘটেছিল। আমাকেও এগুলোই বলেছে। আমার চিৎকারে লোকজন জড়ো হয়ে যায়। পরে আম্মু আমাকে নিয়ে চলে আসে সেখান থেকে।’ এ ধরনের ঘটনার মুখে পড়লে আত্মরক্ষার জন্য ধারালো কিছু সঙ্গে রাখা ও হামলাকারীকে পাল্টা আঘাতের পরামর্শ দিয়েছেন কেউ কেউ।

ফেসবুকে নারীদের একটি গ্রুপে পথে চলতে গিয়ে নিপীড়নের শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন এক নারী। তিনি জানান, একটি বেসরকারি সংস্থার বাইক ভাড়া করে গন্তব্যে যাচ্ছিলেন। কারওয়ান বাজারে ট্রাফিক সিগন্যালে অপেক্ষায় থাকার সময় টের পান একটি হাত তাঁর পিঠ ছুঁয়ে চলে গেল। তিনি লেখেন, ‘আমি সঙ্গে সঙ্গে পেছনে ঘুরে দেখি লোকজন রাস্তা পার হচ্ছে। বুঝতে পারলাম রাস্তা পার হওয়ার সময় কেউ হাত দিয়ে আমার শরীর স্পর্শ করেছে। আমি সালোয়ার-কামিজ পরা ছিলাম। আর বাইকে ওড়না দিয়ে সব সময় ঢেকেঢুকে প্যাকেট করে রাখতে হয়। তাও কেন?...একটা অবাঞ্ছিত হাতের স্পর্শ যে কতটা ভয়ংকর। সেই মুহূর্তটায় মরে যেতে ইচ্ছা করে। এই অনুভূতি বলে বোঝানোর মতো নয়। যত দিন যাচ্ছে, আমরা মেয়েরা ততটাই শিখছি, জানছি। অন্ধকার পেরিয়ে আলোর পথে পা রাখছি। ঠিক সমান্তরালে আমাদের ছেলেরা অন্ধকার থেকে আরও অন্ধকারে নিমজ্জিত হচ্ছে।’

তবে ফেসবুকে নিপীড়নের কথা জানিয়ে সমবেদনার পাশাপাশি প্রতিক্রিয়াশীলদের অকথ্য গালিগালাজ শুনতে হয়েছিল বলে জানান বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল সময়ের প্রতিবেদক বীথি সপ্তর্ষি। অফিস শেষে রাতে বাসায় ফেরার জন্য বাসের অপেক্ষায় তিনি দাঁড়িয়েছিলেন। সেখানে শুরু থেকেই এক যুবক তাঁকে হয়রানি শুরু করে। একপর্যায়ে প্রতিবাদ করবেন সিদ্ধান্ত নিয়ে মুঠোফোনের ভিডিও অন করে ছেলেটির কাছে জানতে চান, কেন তাঁকে হয়রানি করা হচ্ছে। ফেসবুকে বীথির পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা যায়, ওই যুবকটির মধ্যে কোনো অনুশোচনা তো নেই-ই, উল্টো দাপট দেখানো শুরু করে। তাঁদের দুজনের কথা-কাটাকাটি আশপাশের অনেকে দাঁড়িয়ে দেখলেও কেউ কোনো প্রতিবাদ করেননি। একপর্যায়ে অপমানে বীথি রাস্তায় দাঁড়িয়ে কাঁদতে শুরু করেন।


‘রিকশা কিছুদূর যাওয়ার পর দেখি, একটি মোটরসাইকেল দ্রুত আমার পাশ দিয়ে গেল। মোটরসাইকেলে সেই ছেলেটি বসা। যাওয়ার সময় ছেলেটি আমার হাঁটুতে স্পর্শ করে যায়। পর মুহূর্তেই আমি বুঝতে পারি, ওই ছেলেটি আমার হাঁটুতে ব্লেড দিয়ে পোঁচ দিয়ে গেছে।’ কয়েক দিন আগে এমন ভয়াবহ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হওয়ার কথা প্রথম আলোকে জানিয়েছেন এক নারী।

বাসে করে বাসায় ফিরছিলেন আরেক নারী। হঠাৎ খেয়াল করেন, পেছনের আসনের এক লোক বারবার তাঁর কাছাকাছি আসছেন। তিনি বিরক্তি নিয়ে কিছুটা সরে যান। বাসে নিয়মিত যাতায়াত করার কারণে এমন তিক্ত অভিজ্ঞতার শিকার প্রায়ই হতে হয়। তবে সেদিনের ঘটনায় তিনি হতভম্ব হয়ে পড়েন। বাস থেকে নামার পর তিনি টের পান, ব্লেড দিয়ে তাঁর সালোয়ার–কামিজ কেটে দেওয়া হয়েছে। ওই অবস্থায় কোনো রকমে তিনি বাড়ি ফিরে আসেন।

এর আগে এক সাংবাদিক অফিস থেকে রাতে বাসায় ফেরার সময় পথে নিগ্রহের শিকার হন। এক যুবক যখন তাঁকে হয়রানি করছিলেন, তখন আশপাশে অনেক লোক দাঁড়িয়ে থাকলেও কেউ সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেননি। প্রতিবাদও করেননি। একপর্যায়ে অপমানে তিনি রাস্তায় দাঁড়িয়ে কাঁদতে থাকেন।

এই তিনজনই তাঁদের এমন ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে। তাঁরা বলেছেন, চলার পথে এমন নিপীড়ন, নিগ্রহ থেকে অন্য নারীদের সতর্ক করতেই তাঁরা জনসমক্ষে তা তুলে ধরেছেন। পোস্টগুলোও ‘পাবলিক’ রেখেছেন যাতে সবাই তা জানতে পারে। ‘কমেন্ট ও শেয়ার’ অপশনও খোলা রেখেছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, নারীকে আক্রমণের ধরনগুলো হিংস্র হয়ে উঠেছে। ব্লেড দিয়ে পোশাক কেটে দেওয়া ও শরীরে ক্ষত সৃষ্টি করা, গায়ে জ্বলন্ত সিগারেট ফেলা, পানি ঢেলে দেওয়া, হাঁটার সময় শরীর স্পর্শ করার ঘটনাগুলোর মধ্য দিয়ে হিংস্র ও বিকৃত আনন্দ প্রকাশের ঘটনা ঘটছে। আর ফেসবুকে এসব অভিজ্ঞতা জানানোর ফলও যে ইতিবাচক হচ্ছে তা নয়। অনেক নারী এরপর সাইবার বুলিংয়ের (সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানাভাবে হেনস্তা করা, আপত্তিকর ছবি ও পোস্ট কোনো নারীর পেজে পোস্ট করা) শিকার হচ্ছেন। গত ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের দিনটিকে উদ্‌যাপন করতে রাজধানী ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বড় সমাবেশের আয়োজন করে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। ওই সমাবেশে যোগ দেওয়া তরুণদের হাতে জায়গায় জায়গায় ছাত্রীসহ কয়েক তরুণীকে নিগ্রহের ঘটনার কথা উঠে আসে ফেসবুকে। নিপীড়নের কথা জানিয়ে এরপর সাইবার বুলিংয়ের শিকার হন তাঁরা। যে কয়জন ওই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছিলেন, তাঁদের প্রত্যেকেই ফেসবুক থেকে পোস্ট সরিয়ে নিতে বাধ্য হন।

নারীর ওপর আক্রমণের ধরন হিংস্র হয়ে উঠছে মন্তব্য করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. গীতি আরা নাসরীন প্রথম আলোকে বলেন, জনপরিসরে নারী নির্যাতনের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, এর সংখ্যাগত ও মাত্রাগত পরিবর্তন হয়েছে। নারীকে আক্রমণের ধরন হিংস্র হয়ে উঠেছে। ব্লেড দিয়ে পোশাক কেটে দেওয়া বা গায়ে জ্বলন্ত সিগারেট ফেলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে তা প্রকাশ পাচ্ছে।

ড. গীতি আরা নাসরীন বলেন, জনপরিসরে নারী নির্যাতনের ক্ষেত্রে আগে সাধারণ ধারণা ছিল যে শুধু বিশেষ প্রকৃতির, বিকৃতির বা বিশেষ মতাদর্শের মানুষই নারীকে নির্যাতন করে। নারীকে নির্যাতন করা যদি সহজ হয়, তবে নির্যাতনের মাধ্যমে ক্ষমতা প্রকাশ বা বিকৃত আনন্দ লাভের সুযোগ অনেকেই নিতে পারে। এটা বন্ধ না করলে এই নির্যাতনের সংস্কৃতি গেড়ে বসবে। নারী নির্যাতন করে পার পাওয়া বন্ধ করতে হবে। রাষ্ট্রের ক্ষমতায় যাঁরা আছেন, এটি তাঁদের অবশ্যকর্তব্য। অপরাধীকে দ্রুত শনাক্ত করা, দ্রুত বিচার ও শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। নারী নির্যাতনকারীকে চিহ্নিত করে ঘৃণার পাত্র করে তুলতে হবে। নির্যাতনের শিকার নারীদের ওপর দোষ চাপিয়ে যৌন নিপীড়কের আচরণকে বৈধতা দেওয়া নিপীড়ক মনোবৃত্তিরই নামান্তর।

ফেসবুকের পাতায় নিপীড়ন–কথন
গত ১১ মার্চ ফেসবুকে এক নারী লিখেছেন, ‘আজ আমার জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছি। গুলশানের কাছাকাছি বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। এমন সময় এক ছেলে এসে আমার সঙ্গে কথা বলা শুরু করেন। জানতে চান, “আপু কই যাবেন?”, “কিসে পড়েন?” বিনীতভাবে প্রথম দুটি প্রশ্নের জবাব দেওয়ার পর ওই ছেলে ফালতু প্রশ্ন করা শুরু করেন। এক মিনিটের ব্যবধানে আপনি থেকে তুমিতে নেমে এসে বলা শুরু করেন, “তোমাকে তো আশপাশে প্রায়ই দেখি”, “তুমি খুব কিউট”। এমন পরিস্থিতি এড়াতে সামনে যেই রিকশা পেয়েছি তাতেই উঠে পারি এবং হঠাৎ বুঝতে পারি কেউ একজন পেছন থেকে আমার ওড়না টানছে। তাকিয়ে দেখি আর কেউ নয়, সেই ছেলেই। আমি শুধু বলি, “এই সব বেয়াদবি ক্যান করতেছেন, ছাড়েন!” রিকশা কিছুদূর যাওয়ার পর একটি মোটরসাইকেলকে দ্রুত আমার পাশ দিয়ে চলে যেতে দেখি। মোটরসাইকেলে সেই ছেলেটি বসা। যাওয়ার সময় ছেলেটি আমার হাঁটুতে স্পর্শ করে যায়। পর মুহূর্তেই আমি বুঝতে পারি ওই ছেলেটি আমার হাঁটুতে ব্লেড দিয়ে পোঁচ দিয়ে গেছে। আমার কামিজের ও লেগিংসের অংশ এতে ছিঁড়ে যায়। ব্লেডের আঘাত চামড়া ভেদ করে যায়। বাসায় পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত বুঝতে পারিনি ক্ষত কতটা গভীর। সবচেয়ে খারাপ লেগেছিল ঘটনা দেখেও আশপাশের কেউ টুঁ শব্দটিও করল না। জীবনে এত অসহায় আর কখনো লাগেনি...।’

হাজারের ওপর শেয়ার হওয়া ওই পোস্টে সমবেদনা জানিয়ে এবং প্রায় একই রকম অভিজ্ঞতার শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন আরও কয়েক জন নারী। তাঁরা বলেছেন, ‘সব সময় শুনি, মেয়েদের চুপ থাকতে হয়। এই চুপ থেকে থেকেই আমরা এদের সাহস বাড়াচ্ছি।’ আরেকজন লিখেছেন ‘ঘরে বসা লাগবে। আল্লাহর ওয়াস্তে আর কোনো উপায় নেই।’ আরেক নারী লিখেছেন, ‘এক বছর আগে আমার সঙ্গেও এমন একটি ঘটনা ঘটেছিল। আমাকেও এগুলোই বলেছে। আমার চিৎকারে লোকজন জড়ো হয়ে যায়। পরে আম্মু আমাকে নিয়ে চলে আসে সেখান থেকে।’ এ ধরনের ঘটনার মুখে পড়লে আত্মরক্ষার জন্য ধারালো কিছু সঙ্গে রাখা ও হামলাকারীকে পাল্টা আঘাতের পরামর্শ দিয়েছেন কেউ কেউ।

ফেসবুকে নারীদের একটি গ্রুপে পথে চলতে গিয়ে নিপীড়নের শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন এক নারী। তিনি জানান, একটি বেসরকারি সংস্থার বাইক ভাড়া করে গন্তব্যে যাচ্ছিলেন। কারওয়ান বাজারে ট্রাফিক সিগন্যালে অপেক্ষায় থাকার সময় টের পান একটি হাত তাঁর পিঠ ছুঁয়ে চলে গেল। তিনি লেখেন, ‘আমি সঙ্গে সঙ্গে পেছনে ঘুরে দেখি লোকজন রাস্তা পার হচ্ছে। বুঝতে পারলাম রাস্তা পার হওয়ার সময় কেউ হাত দিয়ে আমার শরীর স্পর্শ করেছে। আমি সালোয়ার-কামিজ পরা ছিলাম। আর বাইকে ওড়না দিয়ে সব সময় ঢেকেঢুকে প্যাকেট করে রাখতে হয়। তাও কেন?...একটা অবাঞ্ছিত হাতের স্পর্শ যে কতটা ভয়ংকর। সেই মুহূর্তটায় মরে যেতে ইচ্ছা করে। এই অনুভূতি বলে বোঝানোর মতো নয়। যত দিন যাচ্ছে, আমরা মেয়েরা ততটাই শিখছি, জানছি। অন্ধকার পেরিয়ে আলোর পথে পা রাখছি। ঠিক সমান্তরালে আমাদের ছেলেরা অন্ধকার থেকে আরও অন্ধকারে নিমজ্জিত হচ্ছে।’

তবে ফেসবুকে নিপীড়নের কথা জানিয়ে সমবেদনার পাশাপাশি প্রতিক্রিয়াশীলদের অকথ্য গালিগালাজ শুনতে হয়েছিল বলে জানান বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল সময়ের প্রতিবেদক বীথি সপ্তর্ষি। অফিস শেষে রাতে বাসায় ফেরার জন্য বাসের অপেক্ষায় তিনি দাঁড়িয়েছিলেন। সেখানে শুরু থেকেই এক যুবক তাঁকে হয়রানি শুরু করে। একপর্যায়ে প্রতিবাদ করবেন সিদ্ধান্ত নিয়ে মুঠোফোনের ভিডিও অন করে ছেলেটির কাছে জানতে চান, কেন তাঁকে হয়রানি করা হচ্ছে। ফেসবুকে বীথির পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা যায়, ওই যুবকটির মধ্যে কোনো অনুশোচনা তো নেই-ই, উল্টো দাপট দেখানো শুরু করে। তাঁদের দুজনের কথা-কাটাকাটি আশপাশের অনেকে দাঁড়িয়ে দেখলেও কেউ কোনো প্রতিবাদ করেননি। একপর্যায়ে অপমানে বীথি রাস্তায় দাঁড়িয়ে কাঁদতে শুরু করেন।

পরে আরেক পোস্টে বীথি সপ্তর্ষি লেখেন, ‘...লোলুপ দৃষ্টিতে তাকাচ্ছিল বলে এক “পটেনশিয়াল রেপিস্ট”–এর সঙ্গে বচসার একপর্যায়ের তা ভিডিও করে রাখি এবং পরে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করি। সেই ভিডিও ভাইরাল হলে সহানুভূতি যেমন যেমন পাচ্ছিলাম, তার চেয়ে বেশি পাচ্ছিলাম আমার চারিত্রিক ব্যবচ্ছেদ। বলা হচ্ছিল, আমার পোশাক পরিচ্ছদ কেমন ছিল যে কারণে ছেলেরা তাকায়, আর পাচ্ছিলাম আমাকে আরও কারা কারা সামনে পেলে পীড়ন করতে ইচ্ছুক তার তালিকা। কমেন্টগুলো দেখে বারবার ভেবেছিলাম ভিডিওটা মুছে ফেলি। আমি যদি নোংরামির কাছে মাথা নত করি, ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস অনেকের হারিয়ে যাবে। দাঁতে দাঁত চেপে মানুষের বিষোদ্গার দেখেছি বাধ্য হয়ে।’

এ নিয়ে বীথি সপ্তর্ষি  বলেন, ‘প্রতিবাদ করার পর একজন নারীকে যদি এভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়, তাহলে আর কেউ মুখ খুলতে সাহস পাবেন না। যে পুরুষেরা এ ধরনের হয়রানি করেন, তাঁদের প্রতি অনুরোধ, আপনারা সেই জায়গায় আপনার মা-বোনকে একবার ভাবুন। নিজেদের মা-বোনকে যেভাবে নিরাপদ দেখতে চান, তেমনভাবে অন্যদেরও দেখুন।’
(COLLECTED)

13
কে কোন পরিবেশে বেড়ে উঠছে, তার ওপরেই নির্ভর করে ব্যক্তির মানসিকতা। আর মনস্তত্ত্ববিদদের মতে, নারী-পুরুষের ব্রেইনের কাজের ওপরেই মানসিক বিভেদ ঘটে। তবে 'সাইকোলজি টুডে' নামে একটি মেডিকেল ওয়েবসাইটের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, নারী-পুরুষের মধ্যে ১০টি মানসিক পার্থক্য রয়েছে। সেগুলো হলো-

১. পুরুষদের ব্রেইন স্বাভাবিকভাবেই অঙ্ক কষতে পছন্দ করে আর নারীরা পছন্দ করেন ভাষা।

২. নারীরা ঝগড়া করলেও, সচরাচর মারামারি করে না। কিন্তু পুরুষদের ক্ষেত্রে মারামারি পর্যন্ত গড়ায় অনেক সময়ই।

৩. কোনো সিদ্ধান্ত নিতে গেলে, পুরুষরা আবেগকে প্রাধান্য দেয় না। কিন্তু, নারীরা আনুষঙ্গিক অনেক কিছু ভেবে সিদ্ধান্ত নেয়।

৪. মজার কিছু হলে পুরুষরা হাসেন, কিন্তু নারীরা হাসেন যখন তারা মনে করেন হাসবেন।

৫. পুরুষদের কাছে তাদের গাড়ি অত্যন্ত প্রিয় বস্তু হয়, তাই তা পরিষ্কার রাখতে পছন্দ করে। কিন্তু, নারীরা মনে করেন, গাড়ি পরিষ্কার করা আর জুতোর তলা পরিষ্কার একই ব্যাপার।

৬. আবেগজনিত ঘটনা পুরুষদের তুলনায় বেশি মনে করেন নারীরা।

৭. জীবনে স্ট্রেস বাড়লে, পুরুষদের শারীরিক চাহিদা বাড়ে, নারীর ক্ষেত্রে যা একেবারেই উল্টো।

৮. মানুষ বিচার করার ক্ষমতা পুরুষদের তুলনায় নারীর অনেক বেশি।

৯. একজন নারীর প্রতি পুরুষের আকৃষ্ট হওয়ার প্রথম কারণ তার সৌন্দর্য। অন্যদিকে, বাহ্যিক সৌন্দর্য খুব বেশি আকর্ষণ করে না নারীকে।

১০. পুরুষরা সাধারণত সমস্যার কথা কারোর সঙ্গে আলোচনা না করেই মেটানোর চেষ্টা করে। কিন্তু নারীরা তা আলোচনা না করতে পারলে বেশি সমস্যায় পড়েন।

নারী-পুরুষ নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষই পরস্পরের থেকে আলাদা। একজন ব্যক্তি কোন পরিবেশে বেড়ে উঠছে, তার পারিপার্শ্বিকতা কেমন- এসব কারণের ওপর নির্ভর করে তার মানসিক গঠন। উপরের বিষয়গুলোই একেবারেই সমীক্ষাভিত্তিক। সূত্র: জিনিউজ।

14
কারও হার্ট অ্যাটাক হলে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যেতে হবে। কারণ, হার্ট অ্যাটাকের পর প্রথম এক ঘণ্টা হলো গোল্ডেন আওয়ার, অর্থাৎ এই সময়ের মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসকের জরুরি চিকিৎসা নিতে পারলে রোগীর প্রাণ রক্ষা প্রায় নিশ্চিত করা সম্ভব।

প্রশ্ন হলো আমরা কীভাবে বুঝব হার্ট অ্যাটাক, না গ্যাসের কারণে বুকব্যথা। এই দ্বিধাদ্বন্দ্বে অনেক সময় চলে যায়। বুকব্যথা চরমে উঠলে রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়। রোগীর জীবন সংশয় দেখা দেয়। তারপরও চিকিৎসকেরা চেষ্টা করেন। যদি হার্ট অ্যাটাকের তীব্রতা কম হয়ে থাকে, তাহলে হয়তো প্রাণ রক্ষা পায়। কিন্তু বাকি জীবন কষ্ট করে চলতে হয়। কারণ, হার্ট অ্যাটাকের ফলে হৃৎপিণ্ডের কিছু অংশ অকেজো হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত হয়তো চরম ঝুঁকিতে পড়তে হয়।

এই গোল্ডেন আওয়ারের কথাটা সেদিন স্মরণ করিয়ে দিলেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন ও ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসের সহযোগিতায় প্রথম আলো গোলটেবিল বৈঠকে বাংলাদেশে হার্ট অ্যাটাক পরিস্থিতি ও করণীয় বিষয়ে আলোচনা হচ্ছিল। সেখানে জাতীয় অধ্যাপক আবদুল মালিকসহ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা ছিলেন, ছিলেন পিকেএসএফের চেয়ারম্যান কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ। গ্রামের অসচ্ছল মানুষের জন্য চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া এবং হার্ট অ্যাটাকের মতো ভয়াবহ রোগ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির বিষয়ে আলোচনা হয়, কিছু পরামর্শও দেওয়া হয়।

গোল্ডেন আওয়ারের প্রসঙ্গ আসে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার পর। কিন্তু তার চেয়ে সতর্কতা বেশি দরকার। একটু সচেতন থাকলে হয়তো এমন ভয়াবহ অসুখ হবেই না। বিড়ি-সিগারেট, তামাক সেবন, অতিরিক্ত চর্বি, পোড়া তেলের রান্না খাবার, বিশৃঙ্খল জীবনযাপন এড়িয়ে চললে ঝুঁকি কমে যায়। বেশি রাত না জাগা, সকালে ঘুম থেকে উঠে একটু হাঁটা বা হালকা দৌড়, পরিমিত খাবার; শাকসবজি, ফলমূল বেশি খাওয়া। প্রসেসড ফুড বা প্রক্রিয়াজাত খাবার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এগুলো নিয়মিত খাওয়া চলবে না। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

চিনি পুরোপুরি বাদ দিতে হবে। আজকাল চিনিকে বলা হয় ‘সাদা বিষ’! কারণ, আমরা যে ভাত বা মিষ্টি ফল খাই, সেখান থেকেই বিপাক প্রক্রিয়ায় শরীর চিনি পায়। সেই সঙ্গে পায় প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান, ভিটামিন প্রভৃতি। কিন্তু চিনি খেলে শরীরের বিপাক প্রক্রিয়ার কিছুই করার থাকে না, সেটা সরাসরি রক্তে চলে যায়। শরীর অন্য উপাদান থেকে বঞ্চিত হয়, ওজন বাড়ে। আমেরিকার ড. রবার্ট লাস্টিং চিনির বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। সবাই তাঁকে ‘অ্যান্টিসুগার গাই’ নামে চেনেন। তবে তিনি নিজে ‘অ্যান্টিপ্রসেসড ফুড গাই’ নামে পরিচিত হতেই ভালোবাসেন। কারণ, বিশ্বব্যাপী যে ওজন বৃদ্ধির বিপদ সৃষ্টি হয়েছে, সেটা চিনি এবং ‘প্রসেসড ফুড’ বা প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের জন্য। তিনি এর ঘোর বিরোধী। এটা যে শুধু হৃদরোগের বিপদ ডেকে আনে তা-ই নয়, হাজার রকম রোগব্যাধির জন্য এ দুটি উপাদান সবচেয়ে বেশি দায়ী। এর সঙ্গে রয়েছে সিগারেট, তামাক। এগুলো একেবারে বাদ দিতে হবে। দৈনন্দিন জীবনে নানা ঘটনার চাপে দুশ্চিন্তা হয়, ফলে রক্তচাপ বাড়ে। এটা হার্ট অ্যাটাকের একটা বড় কারণ। এর একটা মহৌষধ নিয়মিত ব্যায়াম।

আমরা যদি মনে করি, একটি দিন ২৪ ঘণ্টায় নয়, ২৩ ঘণ্টায়, তাহলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়। কারণ, বাকি এক ঘণ্টা ব্যায়ামের জন্য রাখতে পারি। এই ব্যায়াম খুব সাধারণ। সবাইকে যে জিমে বা সুইমিংপুলে যেতে হবে তা নয়। যাঁর সাধ্য আছে, যাবেন। কিন্তু সকালে রাস্তায় ২০ মিনিট জোরে হাঁটা আর সেই সঙ্গে ৫ মিনিটের দৌড়ে বেশ কাজ হয়। সকালে ব্যায়ামের সুবিধা হলো এ সময় শহরের বাতাসে ধুলাবালু কম থাকে। তবে চিকিৎসকদের অনেকে বলেন, সকালে নয়, বিকেলে হাঁটা হার্টের জন্য ভালো। কারণ, সারারাত ঘুমের পর শরীরের সব যন্ত্রপাতি পরিপূর্ণভাবে প্রস্তুত হতে কিছু সময় লাগে। তবে অনেক চিকিৎসক মনে করেন, যাঁর যা অভ্যাস। যিনি সকালে হেঁটে অভ্যস্ত তিনি সকালে, আর না হলে বিকেলে হাঁটবেন।

প্রতিদিন মোট ২৫ মিনিট হাঁটা ও হালকা দৌড় খুব দরকার। এটা শরীর ফিট রাখার অন্যতম কৌশল। আর শরীর ঠিক তো হার্টও ঠিক। বিশেষভাবে যাঁদের বয়স ৪০-৫০-এর বেশি, তাঁদের জন্য এই ব্যায়াম দরকার। বাকি ৩৫ মিনিট কী ব্যায়াম করব? কোনো সমস্যা নেই। পাঁচ-দশ মিনিট ব্রিদিং এক্সারসাইজ। বুক ভরে শ্বাস নিয়ে ধীরে ধীরে শ্বাস ফেলা। হার্ট ঠিক রাখার জন্য এর চেয়ে ভালো ব্যায়াম আর হতে পারে না। সারা দিন কাজের ফাঁকে ফাঁকে পাঁচ-সাত মিনিট করে হাঁটা, চলাফেরা। এটাই যথেষ্ট। এখানে বলা দরকার, এই সব ঘড়ি ধরে ব্যায়াম কিন্তু দেশের ব্যাপক শ্রমজীবী মানুষের জন্য নয়। তাঁরা তো সারা দিন হাড়ভাঙা খাটুনি খাটছেন। বাড়তি ব্যায়ামের তেমন দরকার নেই।

প্রতিদিন কিছুক্ষণ জোরে হাঁটার অভ্যাস থাকলে সহজেই হৃদ্রোগে মৃত্যুঝুঁকি এড়ানো যায়। কীভাবে? হার্টে কোনো গন্ডগোল থাকলে এই হাঁটার মধ্যে টের পাওয়া যাবে। যেমন কারও হার্টে ব্লক সৃষ্টি হলে ১০-১২ মিনিট একটানা মধ্যম গতিতে হাঁটলেও হাতের তালু বা আঙুল, ঘাড়, কাঁধ, বুকের বাঁ দিকে হালকা ব্যথা হবেই। এটাই হার্টের অসুখের প্রাথমিক লক্ষণ। তার মানে, ১০-১২ মিনিটের বেশি একটানা জোরে হাঁটার জন্য যে অতিরিক্ত শক্তি দরকার এবং তার জন্য যে অতিরিক্ত রক্ত সঞ্চালন দরকার, সেটা হার্ট দিতে পারছে না। বুঝতে হবে হার্টে ব্লক থাকতে পারে। তখনই চিকিৎসকের কাছে যাওয়া দরকার। সমস্যা থাকলে হার্ট অ্যাটাকের আগেই ব্লক সরিয়ে নেওয়া যায়। সেটা এনজিওপ্লাস্টি বা বাইপাস, যার মাধ্যমেই হোক, চিকিৎসা সম্ভব এবং আমাদের দেশেই এখন খুব কম খরচে হার্টের এসব চিকিৎসা পাওয়া যায়। বিদেশে যাওয়ার দরকার নেই।

হার্ট অ্যাটাকের আগেই ব্লক সরিয়ে ফেললে পরবর্তী ১৫-২০ বছরের জন্য নিরাপদ থাকা যায়। তাই হার্ট অ্যাটাক থেকে রক্ষা পাওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো নিয়মিত ব্যায়াম। এর চেয়ে বড় ওষুধ আর নেই। একে বলা যায় হার্ট অ্যাটাকের আগে প্রতিদিনের ‘গোল্ডেন আওয়ার’।
(collected)

15
সুস্থ থাকতে কে না চায়। শরীরে বিভিন্ন রোগবালাই বাসা তো বাঁধেই। আর অসুস্থ হলে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী আমাদের ওষুধ খেতে হয়। নানা কাজের ব্যস্ততায় অনেক সময় ওষুধ খেতে ভুলেও যাই। ওষুধ খেতে ভুলে যাওয়াটা খুবই সাধারণ ব্যাপার। কিন্তু এতে শরীরের যে ক্ষতি হতে পারে, সেটা সাধারণ ব্যাপার বলা যায় না। তাই এ সমস্যার সমাধান নিয়ে এসেছে ওষুধ কোম্পানি রেনাটা লিমিটেড। ‘APPothecary’ নামের একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন আপনাকে সময়মতো ওষুধ খেতে মনে করিয়ে দেবে।

অ্যাপে পাওয়া যাবে বাংলাদেশের প্রচলিত যাবতীয় ওষুধের তালিকা ও প্রয়োজনীয় তথ্য। অ্যাপে সংরক্ষণ করা যাবে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র। চিকিৎসকের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের সময়, কখন কোন ওষুধ খেতে হবে, সেটাও মনে করিয়ে দেবে অ্যাপ।

অ্যাপে সুবিধা ও ফিচারগুলো হলো
পিল রিমাইন্ডার: কখন কোন ওষুধ খেতে হবে, তা মনে করিয়ে দেবে অ্যাপের এই অপশন। এখানে ওষুধের নাম, ওষুধ খাওয়া শুরুর তারিখ, ওষুধের পরিমাণ, মাত্রা, কতবার খেতে হবে—সেটা ইনপুট দিলেই সঠিক সময়ে ওষুধ খাওয়ার কথা মনে করিয়ে দেবে।
মাই অ্যাপয়েন্টমেন্ট: এ ফিচারে কবে, কখন ও কোথায় চিকিৎসকের সঙ্গে অ্যাপয়েন্টমেন্ট, তা-ও সংরক্ষণ করা যাবে। ঠিক সময়ে অ্যাপ আপনাকে মনে করিয়ে দেবে।
মেডিসিন লাইব্রেরি: যাবতীয় ওষুধের প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যাবে মেডিসিন লাইব্রেরিতে। মেডিসিন লাইব্রেরি থেকে ওষুধটি পিল রিমাইন্ডার অপশনে সেট করা যাবে।
স্বাস্থ্যতথ্য: প্রয়োজনীয় এ ফিচারের অপশনে শরীরের বর্তমান অবস্থার তথ্য যেমন রক্তচাপ, রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ, শরীরের তাপমাত্রা, ওজন সংরক্ষণ করে রাখা যাবে। নির্দিষ্ট সময় পর পরিমাপ করা যাবে রক্তচাপ বা ওজন কতটা বাড়ল বা কমল। চিকিৎসকের যাবতীয় ব্যবস্থাপত্র সংরক্ষণ করে রাখা যাবে এবং তা অ্যাপ থেকে ই-মেইলও করা যাবে।
চিকিৎসক: চিকিৎসকের নাম, ফোন নম্বর, কোন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ, ই-মেইল আইডি ইত্যাদি সংরক্ষণ করে রাখা যাবে এ অপশনে।
জরুরি যোগাযোগ: জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত আপনজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে এ অপশন থেকে।
আমার ডায়েরি: অ্যাপসের এ অপশনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, মন্তব্য ইত্যাদি সংরক্ষণ করে রাখা যাবে এবং প্রয়োজনীয় মুহূর্তে তথ্য পাওয়া যাবে।
এই অ্যাপে রেনাটা লিমিটেডকে প্রশ্নও করা যাবে ই-মেইলের মাধ্যমে। রেনাটাও সে প্রশ্নের উত্তর দিয়ে সাহায্য করবে। এ ছাড়া বিএমআই ক্যালকুলেটরের সাহায্যে বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী ওজন ঠিক আছে কি না, তা বের করা যাবে এ অ্যাপে। সাধারণ জিজ্ঞাসা অপশনে গিয়ে এ অ্যাপ ব্যবহারের নিয়মাবলি ও প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যাবে।
‘APPothecary’ অ্যাপটি Google Play Store Download Link-<<https://goo.gl/44im45>>/Appstore Download Link-<<https://goo.gl/P7X3PN>> থেকে পাওয়া যাবে।

Pages: [1] 2 3 4