Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - ishaquemijee

Pages: [1] 2 3 ... 18
1

মানুষ সৃষ্টির একমাত্র উদ্দেশ্য হলো স্রষ্টার দাসত্ব করা। জীবন পরিচালনার জন্য মানুষ যাই করুক না কেনো তা যদি আল্লাহ ও রসূলের নির্দেশিত পদ্ধতি অনুযায়ী হয় তবে তা ইবাদত বলে গণ্য হবে। ফলে পৃথিবীতে তারা সুখে শান্তিতে বাস করবে। কিন্তু মানুষ আজ আল্লাহ ও তার রাসূলের পথ মত ছেড়ে মনগড়া জীবনযাপন করছে। এমনকি আমরা যারা স্রষ্টাতে বিশ্বাস করি তারাও আজ নাফরমানিতে লিপ্ত। যার কারণে আমাদের ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে আপতিত হচ্ছে অসংখ্য বিপদ। আমরা দেখতে পাই, আমাদের দেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতিনিয়ত ঘটছে নানা দুর্ঘটনা। সম্প্রতি ঢাকার ব্যস্ততম এলাকা চকবাজারে ঘটে গেল ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ অগ্নিকান্ড। এরপরে বনানী, গুলশানসহ দেশের বিভিন্ন জায়গার ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। মূলত জলে স্থলে তথা সারা বিশে^ যে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়ছে তা মানুষের কুকর্মের কারণেই। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন,
“জলে ও স্থলে মানুষের কৃতকর্মের দরুণ বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে। আল্লাহ তাআলা তাদের কর্মের শাস্তি আস্বাদন করাতে চান, যাতে তারা ফিরে আসে।” (সুরা রূম : ৪১)
এ আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসীরে রূহুল মাআনীতে বলা হয়েছে, “‘বিপর্যয়’ বলে দুর্ভিক্ষ, মহামারি, অগ্নিকান্ড, পানিতে নিমজ্জিত হওয়ার ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়া, সব কিছু থেকে বরকত উঠে যাওয়া, উপকারী বস্তুর উপকার কম হওয়া এবং ক্ষতি বেশি হওয়া ইত্যাদি বিপদাপদ বুঝানো হয়েছে।” (আল্লামা আলুসী, রূহুল মাআনী, খ.-২১, পৃ.-৬৩) আর বর্তমানে ঘটছেও তাই। সুতরাং আয়াত থেকে জানা যায়, এসব পার্থিব বিপদাপদের কারণ হচ্ছে মানুষের গোনাহ ও কুকর্ম। তন্মধ্যে শিরক ও কুফর মারাত্মক। এরপর অন্যান্য গোনাহ।
উপরোক্ত আয়াতের আলোকে নিম্নের বিষয়গুলো সম্পর্কে আমরা আলোচনা করতে প্রয়াস পাই-
১। সব গুনাহে কি শাস্তি হয়
২। সব বিপদ কি গুনাহর কারণে হয়
৩। সবার বিপদ কি গুনাহের শাস্তি
৪। শুধু গুনাহকারীকেই কি শাস্তি দেয়া হয়
৫। গুনাহের সব শাস্তি কি দুনিয়ায় দেয়া হয়
সব গুনাহের কি শাস্তি হয় :
আমাদের বিপদাপদ যদিও পাপের কারণে হয়, কিন্তু দয়াময় আল্লাহ তাআলা আমাদের সব গুনাহের পরিণামে শাস্তি দেননা। পদেপদে আমরা যেভাবে গুনাহ করছি, আল্লাহ তাআলা যদি আমাদের সব গুনাহের শাস্তি দিতেন তবে তো আমরা সুন্দরভাবে বাঁচতেই পারতাম না। আল্লাহ তাআলা আমাদের অনেক গুনাহ ক্ষমা করে দেন এবং শাস্তি বাতিল করেন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন,
“তোমাদেরকে যেসব বিপদাপদ স্পর্শ করে, সেগুলো তোমাদেরই কৃতকর্মের কারণে। আর অনেক গুনাহ তিনি (আল্লাহ) ক্ষমা করে দেন।” (সুরা শুরা : ৩০) সুতরাং বুঝা গেল আমরা যে পরিমাণ গুনাহ করি আল্লাহ সে অনুযায়ী শাস্তি দেন না; বরং অনেক গুনাহ ক্ষমা করে দেন। আল্লাহু রহমান।
সব বিপদ কি গুনাহর কারণে হয় :
উদ্দিষ্ট আয়াত থেকে এ বিষয়টি আপত্তি হতে পারে- তাহলে কি সব বিপদ গুনাহের কারণে হয়? যদিও বিভিন্ন আয়াত দ্বারা বুঝা যায় বান্দার গুনাহের কারণেই বিপদ হয় তথাপিও আল্লাহ তাআলার ইচ্ছা বা অনুমতি ব্যতীত কিছুই হয় না। বান্দার কিছু বিপদ পূর্বে থেকেই নির্ধারিত যা আল্লাহ তাআলা বান্দার পরীক্ষার জন্য দিয়ে থাকেন। কখন, কিভাবে, কোথায় ও কী পরিমাণ শাস্তি হবে তা আগে থেকেই লিপিবদ্ধ। এরূপ বিশ্বাসের ফলে বিপদের কারণে বান্দার দুঃখবোধ হয়না। পক্ষান্তরে বিপদ থেকে মুক্তি পেলে অহংকার প্রকাশের কোনো অবকাশ থাকেনা। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন,
“পৃথিবীতে এবং তোমাদের ব্যক্তিগতভাবে যে বিপদ আসে তা আমার জগত সৃষ্টির পূর্বেই কিতাবে লিপিবদ্ধ। নিশ্চয় এটা আল্লাহর পক্ষে সহজ। আর এটা এজন্য যে, যাতে তোমরা যা হারাও তার জন্য দুঃখিত না হও এবং তিনি তোমাদের যা দেন তার জন্য উল্লসিত না হও। আর আল্লাহ তাআলা কোনো উদ্ধত অহংকারীকে পছন্দ করেন না।” (সুরা হাদীদ : ২২,২৩)
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন,
“আল্লাহ তাআলার নির্দেশ ব্যতীত কেনো বিপদ আসেনা, আর যে আল্লাহ তাআলার প্রতি বিশ্বাস করে, তিনি তার অন্তরকে সৎপথ প্রদর্শন করেন। আর আল্লাহ তাআলা সব বিষয়ে জানেন।” (সুরা তাগাবুন : ১১)
আলোচ্য আয়াত দ্বারা এটাই প্রতীয়মান হয় যে, তাকদীরে বিশ্বাসী মুমিন যখন বিপদে পতিত হয়, তখন তার অন্তরকে আল্লাহ তাআলা এ বিষয়ে স্থির বিশ্বাস স্থাপন করে দেন যে, যা কিছু হয়েছে, আল্লাহ তাআলার অনুমতি ও ইচ্ছায় হয়েছে। যে বিপদ তাকে স্পর্শ করেছে, তা অবধারিত ছিলো। কেউ একে ফেরাতে পারত না। আর যে বিপদ থেকে সে মুক্ত রয়েছে, তা থেকে মুক্ত থাকাই তার জন্য অবধারিত ছিলো। (তাফসীরে মাআরেফুল কুরআন, সংক্ষেপিত, পৃ.-১৩৭৮)

2

প্রযুক্তির উৎকর্ষে নগদ টাকায় কেনাকাটার ধারা পরিবর্তন হচ্ছে। জনপ্রিয় হচ্ছে ডিজিটাল লেনদেন। বড়সড় দোকানে কেনাকাটা, এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় মুহূর্তেই টাকা পাঠানো, অনলাইন দোকান থেকে পণ্য কিনে দাম পরিশোধ করা, স্কুল-কলেজের ফিসহ গ্যাস–বিদ্যুৎ–পানির বিল, মোবাইল ফোনে টাকা ভরা, অ্যাপভিত্তিক যানবাহনের ভাড়া, বাস–ট্রেনের টিকিট কেনাসহ নিত্যদিনের নানা কাজে ডিজিটাল লেনদেনেই করা যায়। ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড এবং মোবাইল ফোনে লেনদেন হয়ে উঠছে জীবনযাপনের অংশ।


চপল চৌধুরী। চাকরিজীবী। প্রতি মাসের বেতনের টাকা তুলতে চেকের পাতা নিয়ে ব্যাংকে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। যেকোনো অঙ্কের খরচ করেন ডেবিট কিংবা ক্রেডিট কার্ডে। দৈনন্দিন বাজার কিংবা অন্য কোনো কেনাকাটায় ওয়ালেট ভর্তি টাকা নিয়ে বাজারে যেতে হয় না। বাসায় ফেরার পথে সুপারশপে ঢুকে ব্যাগভর্তি বাজার করেন। আর বিল পরিশোধ করে ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডে। শুধু তা–ই নয়, ছেলেমেয়েদের স্কুলের বেতনও পরিশোধ করেন কার্ডের মাধ্যমে। হাসপাতালের নিজের চিকিৎসার ব্যয়ের বিলও পরিশোধ করেন কার্ড দিয়ে। তিনি বললেন, ‘ডিজিটাল লেনদেন এখন জীবনযাপনের অংশ হয়ে গেছে। তাই এখন ওয়ালেটে প্লাস্টিকের কার্ড রাখি। এর ফলে অনেক ঝামেলা থেকে মুক্ত থাকা যায়।’

কার্ডের ব্যবহার বাড়ছে

বর্তমানে ৫৯টি বাণিজ্যিক ব্যাংক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ ছাড়া সম্প্রতি তিন ব্যাংকের অনুমোদন নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আরও কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বেশি ভাগের ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ড সেবা রয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার সুপারশপগুলোতে ঘুরে দেখা গেছে, নগদ টাকার চেয়ে ক্রেতারা ক্রেডিট–ডেবিট কার্ডেই বেশি কেনাকাটা করছেন।

রাজধানীর রামপুরার মহানগর প্রজেক্টে অবস্থিত স্বপ্ন সুপারশপের চেক আউট অ্যাসিস্ট্যান্ট গোলাম কিবরিয়া জানান, ক্রেতারা কার্ডে কিনে বেশি সুবিধা পান। কার্ডে কেনাকাটা করলে ক্রেতাদের ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন সুবিধা দিয়ে থাকে। মূল্যছাড়, ক্যাশব্যাক, নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকার কেনাকাটায় বিশেষ সুবিধা, কিস্তি সুবিধাসহ সুবিধা ক্রেতাদের প্রতিষ্ঠানগুলো দিয়ে থাকে। তাই কার্ডে কেনাকাটাতেই ক্রেতারা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।’ শতকরা হিসাবে নগদ টাকা ও কার্ডে কেনাকাটার অনুপাত কেমন, জানতে চাইলে গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘বেশির ভাগ দিন কার্ডে ৬০ আর নগদে ৪০ শতাংশ কেনাকাটা ক্রেতারা করেন। ক্ষেত্রবিশেষ এই অনুপাত ৭০ ও ৩০ শতাংশ হয়ে থাকে।’

নগদ টাকাহীন

দেশের অর্থনৈতিক বাজার ক্যাশলেস অর্থাৎ নগদহীন অর্থনীতিতে প্রবেশ করছে। দেশের আনাচকানাচে চলে গেছে এই ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা। এতে অধিক মানুষ যেমন ব্যাংকিং সুবিধার আওতায় এসেছে, তেমনি টাকা স্থানান্তর এখন মানুষের হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। দেশের উচ্চবিত্ত ও উচ্চমধ্যবিত্তের মধ্যে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই ক্যাশলেস লেনদেন ব্যবস্থা, তথা ক্রেডিট কার্ড বা ডেবিট কার্ডের ব্যবহার। সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী, ব্যাংকার এমনকি ব্যবসায়ীদের মধ্যেও এখন নগদ টাকার ব্যবহার হয় না আগের মতো। এমন অবস্থা শুধু রাজধানী ঢাকাতেই নয়, বরং বিভাগীয় এবং জেলা শহরেও ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক থানা ও উপজেলায়ও শুরু হয়েছে এমন টাকাহীন বা ক্যাশলেস লেনদেন। এতে বাড়ছে কার্ডের ব্যবহার।

কার্ডে কেনাকাটা করলে নানা সুবিধাও পাওয়া যায়। মডেল: অহনা ও লাবণ্যকার্ডে কেনাকাটা করলে নানা সুবিধাও পাওয়া যায়। মডেল: অহনা ও লাবণ্য
অনলাইনে কেনাকাটা বাড়ছে

বর্তমানে অনলাইনে কেনাকাটা বাড়ছে। বাড়িতে বা অফিসে বসে কেনাকাটা, টিকিট বুকিং, বিল পরিশোধ করা যাচ্ছে। এতে বেশি লাভবান হচ্ছে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো। ডিজিটাল লেনদেনে ক্রেতার পরিবহনে ব্যয়ের ক্ষমতা অনেকটা কমে যাচ্ছে। লেনদেন প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা আসছে।

ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুল হক বলেন, সারা দেশের প্রায় সাড়ে নয় হাজার পোস্ট অফিসের মাধ্যমে ই-কমার্স সেবা চালু করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই সেবা চালু হয়ে সারা দেশের ই-কমার্সের বিপ্লব হবে এবং কাগুজে টাকাহীন বাণিজ্য সারা দেশে ছড়িয়ে যাবে।

মোবাইল ব্যাংকিং

ছোট পেমেন্ট বড় ঝামেলা—এমন অসংখ্য অর্থনৈতিক লেনদেন জড়িয়ে আছে আমাদের প্রতিদিনের জীবনে। বিদুৎ, পানি বা অন্য কোনো সেবার বিল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেতন, টিকিট কাটা, চালানের অর্থ, হাসপাতালের বিল, এমন আরও উদাহরণ দেওয়া যাবে, যেখানে সময় নিয়ে লাইনে দাঁড়াতে হয়। তবে এই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। এখন বাস্তবিক অর্থেই এসব সেবা মুঠোবন্দী। মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস বা এমএফএসের মাধ্যমে লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা এড়িয়ে যেকোনো সময় যেকোনো স্থান থেকে এমন অসংখ্য বিল পরিশোধ করা যাচ্ছে।

বিকাশে পল্লী বিদ্যুতের বিল পরিশোধ করেন সৌমেন সাহা। কর্মসূত্রে তিনি ঢাকার নাগরিক। তবে তাঁর পরিবার বসবাস করে রংপুরের একটি গ্রামে। বিকাশে বিল পরিশোধের আগে তাঁর পরিবারের সদস্যরা প্রতি মাসেই বিল পরিশোধ নিয়ে ঝামেলায় পড়তেন। এখন তিনি নিজেই ঢাকা থেকেই পল্লী বিদ্যুতের বিল পরিশোধ করছেন। আর পরিবারের প্রয়োজনে বিকাশে টাকা পাঠানো তো তাঁর নৈমিত্তিক ঘটনা।

হোস্টেলে থেকে পড়ালেখা করেন যেসব শিক্ষার্থী, তাঁদের জন্য এমএফএসের ব্যবহার আশীর্বাদ। আবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও এমএফএসের মাধ্যমে ফি সংগ্রহ করায় তাদের সময় এবং খরচ বাঁচে। বিশেষ করে ভর্তি পরীক্ষার ক্ষেত্রে। সমাবর্তন বা পুনর্মিলনীর মতো আয়োজনগুলোর ফি এমএফএসে পরিশোধের সুযোগও সহজ করেছে জীবন।

একবারে সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি ব্যাংক থেকে বিকাশ অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠানোর সেবা চালু হয়েছে। অর্থাৎ গ্রাহক নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে বিকাশ অ্যাকাউন্টে নিজেই টাকা পাঠাতে পারবেন। বর্তমানে বিকাশ থেকে ইনস্যুরেন্সের প্রিমিয়াম জমা দেওয়ার সেবাও চালু আছে। অসংখ্য গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠান/তৈরি পোশাক প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মীদের বেতন দেয় বিকাশে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে গার্মেন্টস কর্মীরা ঢাকার বাইরে পরিবারকে টাকা পাঠান। বেতন পেয়ে নিজের মোবাইল থেকেই টাকা পাঠানো এখন তাঁদের সময় আর খরচ বাঁচায়। কেবল গামেন্টস নয়, যেসব প্রতিষ্ঠানের দেশব্যাপী বিক্রয়/বিতরণ নেটওয়ার্ক আছে এবং তাদের নিয়মিত কমিশন, বেতন বা অন্য কোনো খরচ পাঠাতে তারাও বিকাশের সেবা ব্যবহার করে। বিকাশ, রকেট, নগদ, আইপের সেবাগুলো এরই মধ্যে পরিচিত আমাদের কাছে। আর এগুলো জীবনযাপনের অংশ হয়ে উঠেছে।

মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান বিকাশের হেড অব করপোরেট কমিউনিকেশন্স শামসুদ্দিন হায়দার বলেন, অর্থনৈতিক লেনদেনে আমাদের জীবনের অসংখ্য জটিলতাকে একেবারে সহজ করেছে বিকাশের মতো সেবা। যেকোনো স্থান থেকে যেকোনো সময় সেবা নেওয়ার সুযোগ থাকায় জীবনে স্বাচ্ছন্দ্য এসেছে, নিরাপত্তা বেড়েছে। আমাদের পেমেন্ট পোর্টফলিও প্রতিনিয়ত আরও সমৃদ্ধ হচ্ছে। এমন দিন আসবে, যখন একটি মোবাইল দিয়ে একজন ব্যবহারকারী তাঁর সব পেমেন্ট করতে পারবেন অনায়াসে।

মোবাইল প্রতিষ্ঠানের স্মার্ট সুবিধা

জীবনকে আরও সহজ করতে, আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে এবং দেশের সব প্রান্তের মানুষের হাতে ডিজিটাল সুবিধা পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করছে মোবাইল সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত একটি মোবাইল ফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক, এয়ারটেল ও টেলিটক ব্যবহারকারীদের জীবন আরও সহজ করতে বিভিন্ন সুবিধা চালু করেছে।

রবির প্রধান ডিজিটাল সার্ভিস কর্মকর্তা শিহাব আহমেদ বলেন, ‘বিদ্যুৎ ও পানির বিল পরিশোধের ভোগান্তি দূর করতে চালু করেছি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিল পরিশোধের সুবিধা। বাস, লঞ্চ, সিনেমা বা বড় কোনো অনুষ্ঠানের টিকিট কাটতে মানুষকে আর লম্বা লাইনে দাঁড়ানোর বিড়ম্বনা সহ্য করতে হচ্ছে না, রয়েছে আমাদের বিডিটিকিটস।’ এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকের যানবাহনের নিরাপত্তায় রয়েছে রবি ট্র্যাকার।
Collected:

Prothom Alo
তারিকুর রহমান খান

3

বাংলা অভিধানে আরবি ‘বরকত’ শব্দের কয়েকটি অর্থ দেয়া আছে। যেমন- প্রতুলতা, প্রাচুর্য, শ্রীবৃদ্ধি ইত্যাদি। আরবিবিদ ও ইসলাম বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলায় বরকত শব্দটির যথোপযুক্ত প্রতিশব্দ নেই। তবে ‘প্রবৃদ্ধি’ হতে পারে এর সবচেয়ে কাছাকাছি প্রতিশব্দ। প্রবৃদ্ধি অর্থ, অতিশয় বৃদ্ধি। বরকত বলতে সেই অবস্থাকে বুঝায়, যেখানে কোনো কিছুর স্বাভাবিক প্রাপ্তি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়।

প্রকৃতপক্ষে বরকত দানের মালিক মহান আল্লাহপাক। তিনি পবিত্র কোরআনে বলেছেন, তোমরা বরকত লাভের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা জানাও। রাসূল সা. বলেছেন, আল্লাহ এভাবে প্রার্থনা করতে বলেছেন : হে আল্লাহ, আমাদের কাজকর্মে বরকত দান করুন এবং আমাদের জীবনকর্মের সব ক্ষেত্রে বরকত দানে সুশোভিত করুন।
আমরা সবাই জানি, মাহে রমজান রহমত, বরকত, মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে আসে। রোজা এই মাসের ইবাদত। হযরত আবু হোরায়রা রা. বর্ণিত একটি হাদিসে রাসূল সা. বলেন, পরাক্রমশালী মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, আদম সন্তানের প্রতিটি আমল তার নিজের জন্য, রোজা ছাড়া।
কারণ, তা আমার জন্য এবং আমিই তার প্রতিদান দেবো। ইমাম বোখারির অন্য এক রেওয়ায়েতে বলা হয়েছে : রোজাদার আমারই কারণে তার আহার, পানীয় ও যৌন কামনা ত্যাগ করেছে। রোজা আমার জন্য এবং আমিই তার প্রতিদান দেবো। আর অন্য নেকিগুলোর সওয়াব হবে ১০ গুণ।
ইমাম মুসলিম এক রেওয়ায়েতে বলেছেন, বনী আদমের প্রতি আমলের সওয়াব বাড়ানো হয়। এক নেকির সওয়াব হয় ১০ গুণ থেকে ৭০০ গুণ পর্যন্ত। বলা বাহুল্য, এক নেকির জন্য ১০ থেকে ৭০০ গুণ সওয়াব, এটাই বরকত, যা আল্লাহরই অনুগ্রহে বান্দা লাভ করে।
মহান আল্লাহপাকের কাছ থেকে আমরা বহুভাবে বরকত লাভ করে থাকি। যেমনÑ স্বল্প ও নির্দিষ্ট আয়েও অনেক মানুষ সহজভাবে স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে জীবন যাপন করতে পারে। অনেকে এর চারগুণ আয়েও সেটা পারে না। যারা অল্পে তুষ্ট ও আল্লাহর দেয়া রিজিকে সন্তুষ্ট, আল্লাহ তাদের ওপর রহমত বর্ষণ করেন এবং রিজিকে বরকত দান করেন।
অতিথি আপ্যায়নে অনেক সময় সামান্য বা স্বল্প পরিমাণ আহার্যবস্তু দিয়েও বহুসংখ্যক মানুষ তৃপ্তি সহকারে আহার করতে পারে। আহার্যবস্তুতে আল্লাহর বরকত ছাড়া এটা সম্ভব হতে পারে না। একবার রাসূল সা. ও সাহাবিসহ অন্যান্যের পানির প্রকট সঙ্কট দেখা দেয়। রাসূল সা. সাহাবিদের নির্দেশ দিলেন যার কাছে যে টুকু পানি আছে, তা তার কাছে নিয়ে আসতে।
সাহাবারা পানি আনলে রাসূল সা. পানিতে ফুঁক দিলেন এবং বললেন, বড় একটি পাত্রে পানিটুকু রাখো এবং তোমাদের প্রয়োজনে লাগাও। সাহাবারা তাই করলেন। দেখা গেল সবার প্রয়োজন পূরণের পরও পাত্রভর্তি পানি অবশিষ্ট আছে। স্বল্প পরিমাণ পানির মধ্য আল্লাহপাক প্রকৃত বরকত দান করার ফলেই এটা সম্ভব হয়।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা তার বরকত দানের বিষয়ে উল্লেখ করেছেন। একটি আয়াতে বলা হয়েছে, নিষ্ঠাবান বিশ্বাসী বান্দাদের কর্মপন্থা হলো এই যে, তারা মানুষের জন্য আহার্যবস্তু পর্যাপ্ত পরিমাণে ব্যয় করে এবং গরিব-দুস্থ ও অধীনস্থদের মাঝে বণ্টন করে। কিন্তু এর জন্য কোনো মূল্য বা বিনিময় লাভের ইচ্ছা প্রকাশ করে না, তাদের এই কর্মে আল্লাহ বরকত দান করেন।
অনেকে আল্লাহর কাছে দোয়া করেন হায়াত বাড়ানোর জন্য। বলেন, আল্লাহ তোমার হায়াত বাড়িয়ে দিন। আসলে হায়াত নির্দিষ্ট। আল্লাহই হায়াত নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। এর ব্যতিক্রম হওয়ার নয়। এর ব্যাখ্যায় ইসলামবিশেষজ্ঞরা বলেন, আসলে দোয়ায় হায়াত বাড়ে না। বাড়ে তাতে বরকত। একজন মানুষ তার নির্দিষ্ট হায়াতে স্বাভাবিকভাবে যে পুণ্যকর্ম করতে পারে, এই হায়াতেই তার চেয়ে বেশি পুণ্যকর্ম করতে পারবে, যদি আল্লাহ তাতে বরকত দান করেন।
বরকত দানের মালিক যেহেতু আল্লাহ, তাই তার কাছেই সব সৎকাজে বরকত প্রার্থনা করা উচিত। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তার বরকত লাভের অধিকারী করুন, এই একান্ত প্রার্থনা।

5

ইসলামী মূল্যবোধের শিক্ষার অভাব থেকে আত্মহত্যার দিকে মানুষ চলে যায়। সমাজের সহায়তা না পাওয়া এবং অভিভাবকদের মনে ধৈর্য সবর ও আল্লাহ নির্ভরতা না থাকা অনেক মানুষকে আত্মহত্যার পথে ঠেলে দেয়। পরীক্ষায় কাক্সিক্ষত নাম্বার না পেয়ে যেসব ছাত্রছাত্রী আত্মহত্যা করে, তাদের ওপর পরিবার ও সমাজের অন্যায় চাপও তাদের আত্মহত্যার জন্য কম দায়ী নয়। যদি তারা তকদিরে বিশ্বাসী হতো, তাহলে চরম মুসিবতে ধৈর্যধারণ তাদের পক্ষে সহজ হতো। পরকাল ও হিসাব কিতাব বিশ্বাস করলে আত্মহত্যার মতো মহাপাপ মানুষ করত না। বিশ্বের সব ঈমানহীন মানুষই সাধারণত আত্মহত্যা করে। প্রকৃত ঈমানদার আত্মহত্যা করতে পারে না। দ্বীনি শিক্ষার অভাবেই মানুষ এত বড় ভুল সিদ্ধান্ত নেয়। বাংলাদেশে সারা জীবনই মানুষ প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবেলা করে বেঁচে আছে। অনেক সময় বছরের পুরো ফসলই নষ্ট হয়ে যায়। কৃষক দুঃখ ও হতাশার সমুদ্রে পড়ে যান। কিন্তু আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস তাকে বাঁচতে সাহায্য করে। কেননা, রিজিক তিনিই দান করেন। ব্যবসা, কৃষি, চাকরি ইত্যাদি মাধ্যম ছাড়া আর কিছু নয়।
আল্লাহপাক চাইলে এসব মাধ্যম ছাড়াও মানুষকে রিজিক দিতে পারেন। যে জন্য আমরা দেখি সংবাদপত্রে আসে ভারতে প্রতিদিন গড়ে পাঁচজন কৃষক আত্মহত্যা করে। আর বাংলাদেশে এ সংখ্যা শূন্যের কোঠায়। এদেশে দু’চারটে ঘটনা যা ঘটে তার পেছনে এনজিওদের ক্ষুদ্র ঋণের কড়া তাগাদা, অসম্মান ও সীমাহীন চাপই দায়ী। সাধারণ অভাব বা ফসলহানী নয়। তা ছাড়া সুদি ঋণগ্রহিতা ঈমান থেকেও দূরে সরে যায়। তার ওপর আল্লাহর রহমত-বরকত বিপন্ন কৃষকের মতো বর্ষিত হয় না। যে মা তার দুইটি শিশুকন্যাসহ সম্প্রতি আত্মহত্যা করল, তার মানসিক অবস্থা কিছুতেই স্বাভাবিক হতে পারে না। কারণ, সে নিজে আত্মহত্যা করা ছিল বড় একটি অপরাধ, কিন্তু নিজের শিশুর কন্যা দু’টিকে মেরে ফেলা কোনো সাধারণ অপরাধ নয়। এর কোনো অধিকার মা’কে দেয়া হয়নি। এখানে মা দু’টি মানুষ খুন ও নিজেকে খুন, এমন তিনটি অপরাধ সংঘটিত করেছে। অথচ এদেশে কোটি কোটি মা এমন আছে যারা শিশু সন্তানদের নিয়ে তার চেয়েও খারাপ অবস্থায় দিনাতিপাত করছে। এখানে এই মা নিজে চাকরিজীবী ছিল। তার স্বামীও সরকারি চাকরি করত। কী অসুবিধা এমন হতে পারে যার জন্য মা তার দুই নিষ্পাপ শিশুকন্যাসহ জীবন দিলো। এখানে দ্বীনি শিক্ষার অভাব যেমন কার্যকর, তেমনি কোনো প্রকৃত ওলামা-মাশায়েখ বা ধর্মীয় জ্ঞানী মুরব্বির তত্ত্বাবধানের ছায়া মাথার ওপর না থাকাও এমন ভয়ঙ্কর সিদ্ধান্ত নেয়ার পেছনে দায়ী। সুস্থ ধর্মীয় ও সামাজিক জীবন হতাশ মানুষকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনে। বড় বড় গোনাহ ও মারাত্মক ভুল সিদ্ধান্ত থেকে রক্ষা করে।
Collected.

6
শূকরের মাংস ইউরোপ জুড়ে তাদের প্রোটিন বা আমিষ সরবরাহের অন্যতম একটা মাধ্যম। এক হিসেবে দেখা গেছে যে, একমাত্র ফ্রান্সেই প্রায় বিয়াল্লিশ হাজারেরও বেশী শূকরের খামার রয়েছে। ইংল্যন্ডরও আনাচে কানাচে রয়েছে শূকরের খামার।

বাণিজ্যিকভাবে এইসব খামারগুলো পুরো ইংল্যন্ড জুড়েই শূকরের মাংস সরবরাহ করে আসছে। আর ইংল্যন্ডে বসবাস করার কারণে নিত্যদিন চোখের সামনেই দেখতে পাচ্ছি ইংরেজদের খাদ্য তালিকায় শূকরের মাংস একটি অতি আবশ্যকীয় ও উপাদেয় তালিকা। কেবল ইংল্যন্ডই নয় বরং পুরো ইউরোপ, আমেরিকা আর প্রাচ্য, অর্থাৎ পুরো খৃষ্ট বিশ্বেই প্রকৃত অবস্থাটি এমনই। এমনকি মুসলিম বিশ্বের কোথাও কোথাও, বিশেষ করে, মুসলিম দেশসমুহে বসবাসকারী অমুসলিম ধর্মালম্বীদের কাছে শূকরের মাংস অতি কাংক্ষিত একটি খাদ্য মাধ্যম।

এই মাধ্যমটি যে আজ নতুন সৃষ্টি হয়েছে তা নয় বরং সেই মধ্যযুগের কিংবা তারও আগে থেকেই এটি বিদ্যমান। শূকরের দেহে সবচেয়ে বেশী চর্বি থাকে এবং সেই চর্বির মধ্যে মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্বক ক্ষতিকর চর্বিও রয়েছে। বস্তুুতান্ত্রিক চিন্তা চেতনায় উজ্জীবিত ইউরোপ জ্ঞান বিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে এইসব চর্বিকে বিভিন্নভাবে প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে এ থেকে ব্যবহার্য বা খাদ্য জাতিয় বিভিন্ন প্রকার উপকরণ যেমন উদ্ভাবন করেছে তেমনি তা সারা বিশ্ব জুড়েই বাজারজাতও করেছে।

আজকাল পুরো ইউরোপ, আমেরিকা আর পশ্চিমা বিশ্ব, এমনকি সমগ্র বিশ্বব্যাপি স্বাস্থ সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে মানুষ খাদ্যে অতিরিক্ত ফ্যাট নিয়ে বড় বেশী চিন্তিত এবং সজাগ। খাদ্যে চর্বির আধিক্যই হৃদরোগের প্রধান কারণ, সেটা বিশ্ববাসী খুব ভালো করেই জেনে গেছে বিজ্ঞানের সুবাদে।

শূকরের দেহে সবচেয়ে বেশী চর্বিই কেবল থাকে না বরং সেই চর্বির মধ্যে ক্ষতিকারক উপাদানটির আধিক্যও সবচেয়ে বেশী। ফলে ইউরোপের সচেতন মানুষ শূকরের মাংস খেলেও এর চর্বিকে সব সময় যথাসম্ভব এড়িয়ে চলে বা চলার চেষ্টা করে। এর ফলে শূকর ব্যবসায়ী ও তার মাংস সরবরাহকারীদের একটা বড় অংশই অপচয় হবার সম্ভাবনা দেখা দেয়।

এইসব অপচয় থেকে বাঁচার জন্যই ইউরোপ শূকরের চর্বির বিকল্প ব্যবহার উদ্ভাবন করেছে। শূকরের চর্বিকে তারা বিভিন্নভাবে বাজারজাত করেছে। এর বহুবিধ ব্যবহারকে নিশ্চিত করেছে প্রসাধনী সামগ্রীর কাঁচামাল, ঔষধের মাধ্যম বা ঔষধ হিসেবে ব্যবহার, শল্য চিকিৎসায় ব্যবহার্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি নির্মাণ এবং সবচেয়ে বড় কথা হলো মনুষ্য ও পশু খাদ্য সামগ্রির বিভিন্ন উপাদান হিসেবে এই ক্ষতিকারক বস্তুটিকে ব্যবহার করছে। প্রথমে শূকরের চর্বি দিয়ে সাবান বানানো হয় এবং তা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এর পরে একইভাবে ঐ চর্বিকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন রকম তরল প্রসাধনী, ক্রিম ইত্যাদি উৎপাদন এবং বাজারজাত করা হয়, এটাও ব্যবসায়িক সফলতা পায়। বন্দুকের কার্তুজে এই শূকরের চর্বি ব্যবহার শুরু হয় সর্বপ্রথমে, উনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি কিংবা তারও আগে।

যা হোক, ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানীগুলোও তাদের উৎপাদিত ঔষধ ও চিকিৎসা সামগ্রীতে এর ব্যবহার শুরু করে। সর্বপ্রথমে শরীরের অভ্যন্তরে সেলাই করার জন্য এমন এক ধরনের সুতোর দরকার পড়ে, যা ক্ষত শুকোনোর পরে খূলে ফেলার প্রয়োজন পড়বে না, এবং শরীরের ভেতরে হবার কারণে তা সম্ভবও নয়, বরং সেলাই কাজে ব্যবহৃত এই সুতো আপনা আপনিই মানুষের মাংসের সাথে মিশে যাবে। এ চিন্তা থেকেই চিকিৎসকরা বেড়ালের অন্ত্রের চর্বি দিয়ে তৈরী করেন এক বিশেষ ধরনের সুতো, যা দিয়ে মানুষের দেশে অস্ত্রোপচারের সময় আভ্যন্তরীণ ক্ষত জোড়া দিতে ব্যবহার করা যাবে। শল্য চিকিৎসক বা সার্জনরা মানুষের শরীরে এরকম যে সুতোর ব্যবহার করেন তাকে ‘ক্যটগাট’ বলা হয়।

বেড়ালের চেয়ে শূকরের প্রচলন বেশী এবং শূকরের মাংস ও চর্বি সহজ লভ্য হবার সুবাদে ইউরোপের শূকর খামার ব্যবসায়ী ও চিকিৎসকরা এগিয়ে আসেন এই সুতো নির্মাণে বেড়ালের পরিবর্তে শূকরের চর্বি ব্যবহারে। এবং তারা তা শুরুও করেন।

কিন্তু কিছু সচেতন মুসলমান ইউরোপীয় পণ্যসামগ্রীর গা’এ লিপিবব্ধ উপাদানের তালিকায় pig fat শব্দটি দেখে আঁতকে উঠেন। কারণ যে কোন মুসলমানের কাছে এই pig fat বা শূকরের চর্বি, তার মাংস বা রক্ত সকল কিছুই হারাম, এর যে কোন ধরনের পরোক্ষ ব্যবহারও হারাম। তারা তাদের ভাষণে-বিবৃতিতে, লেখা-লেখনীতে এ ব্যপারে জনগণকে যেমন সতর্ক করেন, তেমনি সরকারের কাছেও দাবী জানাতে থাকেন এইসব ইউরোপীয় পণ্য দেশে আমদানী করারা অনুমতি না দেবার। এর ফলে ইউরোপীয়রা তাদের পণ্যতে pig fat শব্দটির পরিবর্তে ‘animal fat’ শব্দটি ব্যবহার শুরু করে।

ফলে ইউরোপীয়ান বাবস্যায়ীরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের বাজার হারাতে বসে। ব্যবসা টিকিয়ে রাখতেই তারা বিকল্প পন্থা উদ্ভাবন করে। আর এই বিকল্প পন্থাটইি হলো উৎপাদিত কোন বস্তু, তা খাদ্য সামগ্রী হোক বা ঔষধ পথ্য কিংবা প্রসাধনী কিংবা অন্য কিছু, তার গা’এ ইউরোপীয়ান আঈন অনুযায়ী উপাদান সমুহের নাম লেখা হবে বটে তবে সেই সব নামগুলো লেখা থাকবে বৈজ্ঞানিক কোন টার্ম কিংবা সাংকেতিক নাম ব্যবহার করে যেন সাধারণ জনগণ সেই সব নাম, সেইসব টার্ম পড়ে বুঝে উঠতে না পারে, আসলে এই জিনিসগুলো কী?

করপোরেট বাণিজ্যের এই বিশ্বে ব্যবসাীয় মহলের চাপে নতী স্বীকার করে সরকার উৎপাদকদের সাথে আপোষ করে এবং উৎপাদিত পণ্যের গা’এ সাংকেতিক ভাষায় উপাদানসমুহের নাম লিপিবদ্ধ করার অনুমিত দেয়। সেই থেকে শিল্পকারখানায় উৎপাদিত পণ্য, বিশেষ করে, খাদ্য সামগ্রী কিংবা তা প্রস্তুতে ব্যবহৃত উপাদানসমুহে, প্রসাধনী, ঔষধ কিংবা পথ্যের উৎপাদনে সাংকেতিক ভাষায় বিশেষ নাম বা E-Codes ব্যবহার করা হয়, যা আমাদের মত সাধারণ মানুষের কাছে দুর্বোধ্য একটি বিষয়।

এরকমই একজন মুসলিম টেকনিশিয়ান কাজ করতেন ফ্রান্সের Pegal শহরে অবস্থিত Departments of Food Administration এর মান নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে বা ল্যবরেটরিতে। তিনি অনূসন্ধিৎষূ মন নিয়ে দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় বের করেছেন বেশ ক’টি E-Codes যার প্রত্যেকটিই শূকরের চর্বিকে ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে। একটি ওয়েব সাইটে Are we eating Pork? শিরোণামে মুসলমানদের উদ্দেশ্যে এক পাকিস্থানী বিজ্ঞানী ড: এম আমজাদ খান কর্তৃক প্রচারিত উক্ত তালিকায় শুকরের চর্বি থেকে প্রস্তুত E-Codes এর তালিকা নিম্নরুপ:
E100, E110, E120, E 140, E141, E153, E210, E213, E214, E216, E234, E252, E270, E280, E325, E326, E327, E334, E335, E336, E337, E422, E430, E431, E432, E433, E434, E435, E436, E440, E470, E471, E472, E473, E474, E475, E476, E477, E478, E481, E482, E483, E491, E492, E493, E494, E495, E542, E570, E572, E631, E635, E904. I

উক্ত তালিকায় উল্লেখিত E-Codes গুলোর বেশ ক’টি আমাদের দেশে প্রাত্যহিক ও দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত জনপ্রিয় খাদ্যতালিকায় উপস্থিত দেখতে পাওয়া যায়। তার দু‘একটা নমুণা দেখুন, যেমন; নিচে উল্লেখিত তালিকায় খাদ্য দ্রব্যের নামের পাশে তাতে ব্যবহৃত E-Codes ও তুলে দেয়া হলো:
1 Cadburrys chocolate – E476
2 Igloo Ice Cream -E471,E433
3 Baskin Robbins Ice Cream E471
4 Foster Clarks Custard Powder-E110
5 Fadeco Ice Cream-E471
6 Nova Chewing Gum -E422
7 Demah Fresh -E422
8 Big Babool Chewing Gum
বলা বাহুল্য, উপরের তালিকায় উল্লেখিত প্রায় সবকটিই আমাদের দেশসহ প্রায় সকল মুসলিম দেশে ছেলে বুড়ো’সহ সকলের কাছেই খুবই প্রিয়।

আল কুরআনে অন্তত চারটি জায়গায় মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন শূকরের মাংস এবং মৃত জন্তু জানোয়ার আর সেইসব জানোয়ার যা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নাম নিয়ে জবাই করা হয়েছে, মুসলমানদের জন্য হারাম করেছেন। তারই একটি আয়াত দেখুন:
তিনি তোমাদের উপরে হারাম করেছেন, মৃত জীব, রক্ত শূকর মাংশ এবং সেসব জীব জন্তু যা আল্লাহ ব্যতিত অপর কারো নামে উৎসর্গ করা হয়। অবশ্য যে লোক অনন্যোপায় হয়ে পড়ে এবং না-ফরমানী ও সীমালংঘনকারী না হয়, তার জন্য কোন পাপ নেই। নি:সন্দেহে আল্লাহ মহান ক্ষমাশীল, অত্যন্ত দয়ালু (সুরা আল বাক্বারা- ১৭৩)

এটা মোটমুটি অমুসলিম ব্যবসায়ীরা জানে, অন্তত তাদের সরকার ও জনগোষ্ঠির সচেতন অংশটি খুব ভালো করেই জানে, কিন্তু তারপরেও তারা ভিন্ন কৌশলে মুসলমানদেরকে আকর্ষণীয় উপস্থাপনায় সেই হারাম বস্তু খাওয়াতে মনে হয় উঠে পড়ে লেগেছে। এর পেছনে কেবল যে তাদের আর্থিক ও ব্যবসায়িক স্বার্থই আছে তাই নয় বরং এর পেছনে রয়েছে ধর্মীয় বিদ্বেষজনিত এক আগ্রাসী মনোভাব, যার মিল রয়েছে একমাত্র ক্রসেডের সাথেই।

লেখক: Prof. Dr Mohammad Nurul Huq

7

সত্যবাদিতা ঈমানের প্রথম ও প্রধান শর্ত। যেখানে সত্যবাদিতা নেই, সেখানে ঈমান নেই, ইসলামও নেই। আমরা নিজেদেরকে মুসলমান বলে দাবি করছি কিন্তু কয়জন সত্যবাদিতাকে জীবনের আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেছি ? যদি না করে থাকি তবে কি করে প্রকৃত মুসলামান হতে পেরেছি ? দুনিয়ার যত পাপ মিথ্যা থেকেই উদ্ভুত হয়। মিথ্যা মানুষকে মোহমুগ্ধ করে সত্যের আওতা থেকে দূরে নিয়ে যায়। আর সত্য তখন মিথ্যার আড়ালে ঢাকা পড়ে যায়। আল কুরআন দৃপ্ত ভাষায় ঘোষণা করেছেঃ তোমরা সত্যের সাথে মিথ্যার মিশ্রণ করো না এবং যেনে বুঝে তোমরা সত্য গোপন করো না। (সূরা বাকারা, আয়াত নং - ৪২) সত্য এবং সত্যের প্রকাশই মানব ধর্ম। তাই কুরআন মাজীদে আল্লাহ তাআলা হুকুম করেছেন ঃ হে মুমিনগণ ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের অন্তর্ভূক্ত হও। (সূরা তাওবা, আয়াত নং - ১১৯) সত্যই জীবন , মিথ্যাই ধ্বংস। মিথ্যা কথা বলা, মিথ্যার আশ্রয় গ্রহণ করা ও মিথ্যা প্রচার করা সকল ধর্মের সকল মানুষের নিকটই অন্যায় ও ঘৃণিত। মিথ্যাবাদী ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে পদে পদে অপমানিত হয়। মানব সমাজে সে বাসের অনুপযোগ্য। মানুষ তার মাধ্যমে হয় প্রতারিত ও বঞ্চিত। তাই আল কুরআনের ঘোষণা ঃ মিথ্যাবাদীদের উপর আল্লাহর অভিশাপ। (সুরা আলে ইমরান, আয়াত নং - ৬১) মিথ্যাবাদী আল্লাহর দুশমন, রাসুলের দুশমন, সমগ্র মানবতার দুশমন। যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা বা কাজের মাধ্যমে আজ কোন স্বার্থ উদ্ধার করছে অথবা কোন ক্ষতি থেকে বাঁচতে চাইছে, অচিরেই সে মিথ্যা প্রকাশ পাওয়ার মাধ্যমে আরো বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হবে, বন্ধু হারিয়ে ফেলবে বা চাকুরি চলে যাবে। অতএব বলতে হবে, সত্য অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও শান্তিময়। অপরদিকে মিথ্যা বড্ড ঘোলাটে এবং অশান্তিময়। মিথ্যাবাদী মানুষের মাঝে অপমানিত হওয়ার পূর্বে নিজে নিজেই অপমানবোধ করে। কারণ মিথ্যার অপর নাম অপমান। নি¤œ রুচির লোকেরাই কেবল মিথ্যা বলতে পারে, মিথ্যার আশ্রয় নিতে পারে। মুমিন ব্যক্তির চরিত্র হবে স্বচ্ছ। সে কখনও মিথ্যা বলবে না। মিথ্যার আশ্রয়ও নেবে না। হাদীসে রাসুল (সাঃ) সত্যবাদিতার ফযীলত এভাবে বর্ননা করেছেন ঃ সত্যবাদিতা পরিচালিত করে সৎ কর্মের দিকে। আর সৎ কর্ম জান্নাতের দিকে। পক্ষান্তরে মিথ্যাবাদিতা পরিচালিত করে মন্দ কর্মের দিকে, আর মন্দ কর্ম জাহান্নামের দিকে। (সহীহ বুখারী, হাদীস নং - ৬০৯৪) তাহলে পথ দুইটি: জান্নাতের পথ আর জাহান্নামের পথ। জান্নাতের পথের সূচনা হচ্ছে সত্যবাদিতা। আর জাহান্নামের পথের সূচনা হচ্ছে মিথ্যাবাদিতা। তাই সত্যবাদিতা ধর্ম, বর্ণ ও ভাষা নির্বিশেষে সকল মানুষের নিকট প্রিয়। পক্ষান্তরে মিথ্যাবাদিতা সবার নিকট ঘৃণিত। সে কারণেই মিথ্যাবাদিদের কেউ বিশ্বাস করে না এবং বিপদের সময় তারা কারো সাহায্যও পায় না। এখন আমাদের ভেবে দেখা উচিত আমরা কোন পথ অবলম্বন করব এবং কোন পথে চলব। বস্তুত সত্যবাদিতা মানবিক গুণাবলীর মধ্যে অন্যতম একটি গুণ। যার মধ্যে এ গুণের সমাহার থাকবে, পৃথিবীর সব ধরনের লোক তাঁকে ভক্তি-শ্রদ্ধা করবে, আল্লাহ ও রাসুলের নিকট সে প্রিয় হবে এবং আখেরাতে সত্যবাদিতার কারণে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

 মুফতী মনির হোসাইন সুজাতপুরী

8
একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী তার ব্যক্তিগত তথ্য নিরাপদ রাখতে কী করতে পারেন?

ফেসবুকে লগ ইন করুন। তারপর অ্যাপ সেটিং পেজে যান। অ্যাপসে ক্লিক করুন, তারপর অ্যাপস, ওয়েবসাইটস এন্ড প্লাগিন্স-এর এডিট বাটনে ক্লিক করুন এবং প্ল্যাটফর্মটিকে ডিজেবল করে দিন

এটা করার অর্থ হচ্ছে, আপনি ফেসবুক থেকে তৃতীয় কোন পার্টির সাইট ব্যবহার করতে পারবেন না। কিন্তু আপনি যদি মনে করেন যে এটা খুব বেশি হয়ে যাচ্ছে তখন আপনি অন্য কোন পক্ষ যাতে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য সীমিত পরিসরে ব্যবহার করতে পারে এবং আপনিও তৃতীয় পার্টির সাইট ব্যবহার করতে পারেন, তারও উপায় আছে।

ফেসবুকে লগ ইন করুন। তারপর অ্যাপ সেটিং পেজে যান। অ্যাপসে ক্লিক করুন

তারপর 'অ্যাপস আদার্স হউজে' গিয়ে আপনার যেসব তথ্য অন্য কোন অ্যাপস দেখুক সেটা না চান তাহলে সেগুলো আনক্লিক করুন। এর মধ্যে যেমন আছে জন্মতারিখ, পরিবার, ধর্মীয় পরিচয়, আপনি অনলাইন কিনা, আপনার টাইমলাইনের পোস্ট, আপনার আগ্রহ ইত্যাদি বিষয়।

ব্যক্তিগত এসব তথ্যকে বলা হচ্ছে ডিজিটাল ফিঙ্গারপ্রিন্ট, যা ক্রমশ বড় হচ্ছে

ব্যক্তিগত তথ্য নিরাপদ রাখতে হলে আরো কিছু বিষয় বিবেচনা করতে হবে:

"আপনি যদি কোন খেলা খেলতে চান বা কোন কুইজে অংশ নিতে চান তাহলে সেটা ফেসবুকের মাধ্যমে না করে সরাসরি ওই ওয়েবসাইটে গিয়ে করবেন," বলেছেন ইস্ট এংলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য প্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষক পল বের্নাল।

"ফেসবুক লগ ইনের মাধ্যমে এসব করা খুব সহজ কিন্তু এটা করার অর্থ হলো যারা এসব অ্যাপ তৈরি করেছে তারা তখন আপনার প্রোফাইল থেকে ব্যক্তিগত তথ্য পেয়ে যাবেন।

আর কীভাবে আপনি ফেসবুকের তথ্য রক্ষা করতে পারেন?

আপনি যদি চান আপনার এসব ব্যক্তিগত তথ্য পুরোটাই গোপন থাকুক, তাহলে এর জন্যে একটাই উপায় আর সেটা হলো ড. বের্নালের মতে "ফেসবুক ছেড়ে চলে যাওয়া।"

লোকজন যদি সেটা করতে শুরু করে তখনই ফেসবুক এব্যাপারে আরো বেশি সচেতন ও সক্রিয় হতে বাধ্য হবে।

ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা কেলেঙ্কারির পর অনেকেই টুইটারে প্রচারণা চালাচ্ছেন হ্যাশট্যাগ দিয়ে। তারা বলছেন ডিলিট ফেসবুক কিম্বা বয়কট ফেসবুক।

কিন্তু ড. বের্নাল মনে করেন বহু মানুষ যে ফেসবুক ছেড়ে চলে যাবে সেরকমটা হওয়ার সম্ভাবনা কম। "বিশেষ করে যারা মনে করেন ফেসবুক তাদের জীবনেরই অংশ, তারা ফেসবুকে থেকেই যাবেন," বলেন তিনি।

এসব তথ্য কতোদিন রাখা হয়?

 আপনি আপনার প্রোফাইল মুছে ফেলতে পারবেন?

ইউরোপে তথ্য সুরক্ষা আইন অনুসারে প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহারকারীর তথ্য 'যতো দিন দরকার তারা ততোদিনই' সংরক্ষণে রাখতে পারবে। কিন্তু এই 'রাখতে পারবে' কথাটির অর্থ নানা রকম হতে পারে।

ফেসবুকের ক্ষেত্রে এটা এরকম- যতোক্ষণ পর্যন্ত আপনি সেটা ডিলিট না করবেন ততক্ষণ সেটা ফেসবুকে থাকবে। এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য।

ব্যবহাকারী চাইলে তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ডিলিট করে দিতে পারেন। যার অর্থ 'কিল' করা। কিন্তু ফেসবুক সবসময় চায় আপনি অ্যাকাউন্ট একেবারে বন্ধ না করে দিয়ে যেনো কিছু সময়ের জন্যে সোশাল নেটওয়ার্ক থেকে ব্রেক বা বিরতি নেন। তারা আপনাকে ফেসবুক ডিঅ্যাক্টিভেট করার পরামর্শ দেন যাতে আপনি আবার চাইলে ফেসবুকে ফিরে আসতে পারেন। সূত্র: বিবিসি।

9

কমনসেন্স, যা বাংলায় কাণ্ডজ্ঞান নামেই পরিচিত। হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউতে ২০০০ সালে প্রকাশিত এক নিবন্ধনে কাণ্ডজ্ঞান বিষয়টিকে ব্যক্তিত্ব-সংশ্লিষ্ট সক্ষমতা হিসেবে বলা হয়েছে। অন্যের কাণ্ডজ্ঞান কিংবা কমনসেন্স নিয়ে আমরা প্রায়ই বিপত্তিতে পড়ি। মানুষভেদে কাণ্ডজ্ঞানের মাত্রা কিন্তু ভিন্ন হয়ে থাকে। কর্মক্ষেত্র, পরিবার কিংবা ব্যক্তিজীবন-সব ক্ষেত্রেই আপনি কতটা ইতিবাচক ব্যক্তিত্বের অধিকারী, তার পরিচয় কিন্তু প্রকাশ পায় কাণ্ডজ্ঞানের মাত্রা অনুসারে। বাজফিডে এমনই কিছু অলিখিত সামাজিক কমনসেন্সের কথা প্রকাশ করা হয়েছে।

* প্রত্যেক মানুষেরই একটি ব্যক্তিত্বের বলয় থাকে, তার প্রতি সম্মান দিন।
* অফিসে আপনার কাছে অতিথি কিংবা কেউ এলে তাঁর সঙ্গে হাসাহাসি কিংবা জোরে চিৎকার করে কথা বলবেন না।
* কাউকে বয়স, বিয়ে করেছেন কি না ও বেতন কত, এমন প্রশ্ন জিজ্ঞেস করে বিব্রত করবেন না।
* কখনোই শব্দ করে খাবেন না। আপনার হাড় চিবানোর কড়কড়ে শব্দ অন্যের জন্য বিপত্তিকর কিন্তু। মুখ বন্ধ করে ধীরস্থিরভাবে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
* খাবারের টেবিলে জোর করে কাউকে খাবার প্লেটে তুলে দেবেন না।
* অন্য কেউ যখন কথা বলবেন, তখন তাঁর কথার মধ্যে তাঁকে থামিয়ে দেবেন না। অন্যের কথা শেষ হলে তারপর কথা বলুন। চোখে চোখ রেখে কথা বলুন।
* কারও বাড়িতে বেড়াতে গেলে তাঁর ব্যক্তিগত ল্যাপটপ কিংবা কম্পিউটার, মুঠোফোন ধরবেন না। এমনকি বেড়াতে গেলে অন্যের বেডরুমে উঁকি দেবেন না। অন্যের ব্যক্তিগত ডায়েরি কখনোই পড়বেন না।
* অন্যের বাড়িতে বেড়াতে গেলে বাথরুম ব্যবহারের প্রয়োজন হলে পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি খেয়াল রাখুন।
* রেস্টুরেন্টের ওয়েটার, লিফটম্যান কিংবা শপিং মলের সেলসম্যান বা গাড়ির চালক, যাঁরা আপনাকে সেবা দিচ্ছেন, তাঁদের সঙ্গে মার্জিত আচরণে কথা বলুন।
* চুইংগাম খাওয়া শেষে তা যেখানে-সেখানে ফেলবেন না। কাগজে বা টিস্যুতে মুড়িয়ে ডাস্টবিনে ফেলুন।
* সাইকেল পার্কিংয়ে কখনোই অন্যের সাইকেলের সঙ্গে নিজের সাইকেলের তালা বা লক আটকাবেন না।
* শপিং মলে এসকেলেটর সিঁড়িতে পাশাপাশি দুজন দাঁড়াবেন না। এসকেলেটর সিঁড়িতে স্থিরভাবে দাঁড়িয়ে ডান পাশের চলাচলের পথ খালি রাখুন, যেন কেউ হেঁটে উঠতে চাইলে যেতে পারে।
* প্রকাশ্যে মুঠোফোনের লাউডস্পিকারে কথা বলা কিংবা গান শুনবেন না।
* ছোট শিশুদের আদর করার ক্ষেত্রে বাবা-মা কিংবা অভিভাবকের অনুমতি চেয়ে নিন। নবজাতককে স্পর্শ করতে চাইলে হাত জীবাণুমুক্ত করে নিন।
* অন্যের জন্য দরজা খুলে ধরে রাখা কিংবা চেয়ার টেনে দেওয়ার সৌজন্য চর্চা করুন।
* ব্যাংকে কিংবা অন্য যেকোনো ক্ষেত্রে কখনোই কোনো ধরনের লাইন অমান্য করবেন না। আপনার আগে যিনি এসেছেন, তাঁকে সেবা নেওয়ার সুযোগ দিন।
* কেউ আপনাকে কোনো সহযোগিতা করলে ধন্যবাদ বলুন। ধন্যবাদ ও দুঃখিত বলার চর্চা করুন।

সূত্র: বাজফিড

10
দুই ধরনের খাবার গ্রহণকারী রোগীদেরই দৈনিক ৫০০ মিলি দুধ (ননিবিহীন) ও ৩০ গ্রাম চর্বি গ্রহণ করতে হবে। গোশত সপ্তাহে বা মাসে একবার গ্রহণ করবেন অথবা সম্পূর্ণ পরিহার করবেন। চর্বিবিহীন গোশত দৈনিক ৬০-৯০ গ্রাম খাওয়া যেতে পারে। দৈনিক সম্পূর্ণ ডিম খাওয়া যাবে না, তবে ডিমের সাদা অংশ দৈনিক দুইবার খাওয়া যেতে পারে। দুধ বা পানীয়র সাথে একটি ট্যাবলেট বা একফোঁটা নন কার্বোহাইড্রেট সুইটেনার্স যেমন- স্যাকারিন, সরবিটল ও অ্যাসপারমেট দেয়া যেতে পারো অথবা ডায়াবেটিক মিষ্টি ও ডিজার্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত মোটা ডায়াবেটিস রোগীদের নন-কার্বোহাইড্রেট সুইটেনার্স বাদ দিতে হবে কারণ এগুলোয় ক্যালরির পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট সুইটেনার্সের মতো প্রায় সমপরিমাণ থাকে।
একটা কথা মনে রাখবেন, ডায়াবেটিস রোগীর খাবার যতটা সম্ভব পরিবারের অন্য সদস্যদের খাবারের কাছাকাছি হতে হবে।
সীমিত ডায়াবেটিক খাবার গ্রহণকারী রোগীর জন্য দৈনন্দিন খাদ্য তালিকা
দৈনিক বরাদ্দ: ৫০০ মি.লি. দুধ এবং ৩০ গ্রাম চর্বি (ঘি-বাটার, তেল, মারজারিন অথবা পনির)।
সকাল ৬টা: ১ কাপ (১২০ মি.লি.) দুধ-চা-কফি (চিনি ও দুধ ছাড়া)।
সকাল ৮টা (নাশতা) : ১ কাপ খিচুড়ি, ২ দোসা, ২ টুকরো পাউরুটি (বরাদ্দকৃত চর্বি থেকে বাটার বা পনির)। ১টি স্যান্ডেউইচ, ১টি ডিম (সেদ্ধ বা পোচ করা বা ফোটানো)। অথবা নাশতার তালিকা থেকে অন্য যেকোনো খাবার। ২০ গ্রাম মিষ্টিবিহীন সিরিয়াল কফি অথবা চা (চিনি ছাড়া) দৈনিক বরাদ্দ থেকে দুধসহ)।
সকাল ১০টা : ১ কাপ (১২০ মিলি) স্যুপ, ফলের রস, বাটারমিল্ক, ফল- আপেল, কমলা ইত্যাদি।
চা অথবা কফি- দুধসহ, ৩টি মিষ্টিবিহীন বিস্কুট, ২ টুকরো মচমচে পাউরুটি।
দুপুর ১২টা (দুপুরের প্রধান খাবার) : কুচি কুচি করে কাটা সবজিসহ ১ কাপ স্বচ্ছ স্যুপ, বাটার বা পনিরসহ ২ টুকরো সম্পূর্ণ পাউরুটি, ৬০-৯০ গ্রাম চর্বিবিহীন গোশত (মুরগি, মাছ) অথবা ১টি ডিম, ১টি ফল (আপেল বা কমলা), ১ কাপ দই, ১ কাপ ভাত ও ২টি চাপাতি পাউরুটি অথবা ৩টি চাপাতি ও হাফ কাপ ভাত অথবা ২ কাপ ভাত বা ৪টি চাপাতি, ৬০-৯০ গ্রাম চর্বিবিহীন গোশত, এক কাপ ডাল, সবজি সালাদ এবং ১ কাপ দই।
১ কাপ ভাত ও ২টি চাপাতি অথবা ৩টি চাপাতি ও হাফ কাপ ভাত অথবা ২ কাপ ভাত অথবা ৪টি চাপাতি, ১ কাপ সাদামাটা ডাল, ১ কাপ কারি ও ১ কাপ দই। দুধসহ চা বা কফি।
বিকেল ৪টা : দৈনন্দিন বরাদ্দ থেকে দুধসহ ১ কাপ চা বা কফি। ১টি ফল, ৩টি চিনিবিহীন বিস্কুট, ২ টুুকরো মচমচে পাউরুটি বা হালকা নাশতা (সকালের নাশতার তালিকা থেকে)।
সন্ধ্যা ৬টা : ১ গ্লাস বা কাপ (১২০ মিলি) স্যুপ, ফলের রস, বাটার মিল্ক, সালাদ ও দুধসহ চা কিংবা কফি।
রাত ৮টা (রাতের প্রধান খাবার) : দুপুরের প্রধান খাবারের মতো একই।
রাত ১০টা: দৈনন্দিন বরাদ্দ থেকে অবশিষ্ট দুধসহ ১৫ গ্রাম ওভালটিন কিংবা যেকোনো পানীয়। পনির বা বাটারসহ ১ বা ২ টুকরো পাউরুটি।
অবাধ ডায়াবেটিক খাবার
অবাধ ডায়াবেটিক খাবার সেসব রোগীর জন্য যারা অতিরিক্ত মোটা নন। এদের খাবার নিচের তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়-
এক. যেসব খাবার পরিহার করতে হবে
কন্দ জাতীয় সবজি এবং কাঁচা কলা
টাটকা ফলমূল যেমন কলা, আম, সফেদা, আতা, আনারস, পেয়ারা।
শুকনো ফল যেমন খেজুর, ডুমুর, খুবানি, কিশমিশ, চিনি, গুড়, মিছরি
গ্লুকোজ, জ্যাম, মধু, মারমালেড
খেজুর, তাল বা আখের রস, ফলের রস, চিনির রস মেশানো ফল, মিষ্টি, কার্বন-ডাই-অক্সাইড যুক্ত পানীয়, কোমল পানীয়, চকোলেট, কেক, পেস্ট্রি, পিঠা, পুডিং, জেলি, আইসক্রিম, ক্রিম বিস্কুট, মিষ্টি ঘনীভূত দুধ বা যেকোনো মিষ্টি দুধ, ঘন সস ও ক্রিম, অ্যালকোহলজাতীয় পানীয় যেমন ওয়াইন, শেরি, বিয়ার, হুইস্কি ইত্যাদি। সালাদ ড্রেসিং, অতিরিক্ত পানীয় মিশ্রণ যেমন ওভালটিন, হরলিক্স ইত্যাদি। সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড যেমন ঘি, ডালডা ইত্যাদি। শূকর, গরু ও খাসির গোশত, সসেজ। শুকনো খাবার।
দুই. পরিমাণে কম খাওয়া যাবে
দুধ, ঘন স্যুপ, সব টাটকা ও শুকনো ফলমূল, আলু, মটরশুটি ও সেকা শিম। সব ধরনের রুটি, বিস্কুট ও মচমচে রুটি, সিরিয়াল এবং পরিজ, ম্যাকারনি, স্ক্যাগেটি, কাস্টার্ড ও প্রচুর ময়দার খাবার। গোশত, ডিম, অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড যেমন পরিশোধিত বাদাম তেল, সূর্যমুখী তেল, স্যানফ্লাওয়ার তেল ইত্যাদি।
বাটার, মার্জারিন, পনির, ক্রিম, চর্বিবিহীন গোশত, ডায়াবেটিক খাবার, সব সিরিয়াল এবং ডাল, ফল যেমন- আপেল, পেঁপে, তরমুজ ও কমলা
তিন. ইচ্ছেমতো খাওয়া যাবে
পানি এবং সোডা পানি, দুধসহ চা ও কফি (চিনি ছাড়া), ডায়াবেটিক ফ্রুট ড্রিংকস, স্বচ্ছ স্যুপ কিংবা গোশতের নির্যাস, ভেষজ, সিজোনিংস ও মসলা
স্যাকারিন এবং এসপারমেট প্রিপারেশন
নিচের ফলমূল এবং শাকসবজিতে খুব সামান্য পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট থাকে এবং এ কারণে ইচ্ছেমতো খেতে কোনো বাধা নেই।
ক. সব ধরনের সবুজ শাক যেমন পালংশাক, পুঁইশাক, কলমিশাক, ডাঁটাশাক, কচুশাক ইত্যাদি।
সবজি যেমন- বেগুন, অ্যাসপারাগাস, ফুলকপি, বাঁধাকপি, গাজর, শসা, খিরা, মুলা, ওলকপি, করলা, উচ্ছে, শালগম, কাঁচা টমেটো, পেঁয়াজ, মাশরুম, কাঁচা পেঁপে, ঝিঙে, চিচিঙা, ধুন্দল, পটোল, চালকুমড়া, ডাঁটা, লাউ, ফ্রেঞ্চ বিন, কলার থোড় এবং মোচা, সামান্য পরিমাণ টাটকা বা হিমায়িত মটর।
ফল যেমন- কালোজাম, বৈচি জাতীয় ফল, লেবু, আমড়া, জাম্বুরা, কামরাঙা, বাঙ্গি, জামরুল, আমলকী ইত্যাদি।
এই খাবারগুলো কেবল সামান্য ডায়াবেটিকস রয়েছে এমন রোগী যারা অতিরিক্ত মোটা নন তাদের জন্য। যা হোক, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকলে এবং আদর্শ শারীরিক ওজন থাকলে সুষম ও উচ্চ আঁশসমৃদ্ধ খাবারের সাথে সীমিত পরিমাণ চিনি গ্রহণ করা যেতে পারে।
-ডা. ওয়াইনাইজা রহমান
সহযোগী অধ্যাপিকা, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ।

11

বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি উন্নয়নশীল দেশ। অনেক সময় স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখার মেধা থাকা সত্তে ও অর্থের অভাবে অনেক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে। বাংলাদেশে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অনলাইনে কিভাবে আয় করা যায় সেগুলো প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব হলে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার কমানো সম্ভব। দেখা যাবে একজন শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণের পর দক্ষ হয়ে উঠলে সে আয় করতে পারবে এবং শুধু যে পড়ালেখার খরচ চালাতে পারবে তা নয় পরিবারের ভরণপোষণও সম্ভব হবে তার পক্ষে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কম্পিউটার ল্যাবগুলোকে শিক্ষার্থীদের আউটসোর্সিং-এর কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। এরকম উদ্যোগের ফলে অনেকাংশেই কমে যাবে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার।
বাংলাদেশে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে ১২৯টি। এর মধ্যে বেসরকারি ৯২টি। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধু ধনীদের সন্তানরাই পড়ে না, মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেমেয়েরাও পড়ে। পড়ালেখার খরচ বেশি হওয়ার কারণে অনেক সময় তারা পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারে না। যদি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সফটওয়্যার বিজনেসের জন্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান চালু করে এবং সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে কাজের ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে দেখা যাবে শিক্ষার্থী তার পড়ালেখার খরচ সেখান থেকেই চালাতে পারছে। সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ সফটওয়্যার বিজনেসে পাবে ৯২টি প্রতিষ্ঠান এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে এই প্রতিষ্ঠানগুলো রাখবে বড় রকমের ভূমিকা।
Ref: D.I. 14.2.2018

12
“ইস, যদি অমন সুন্দর হতাম” , “আর একটু যদি লম্বা হতাম” ,
“অমন সুন্দর দেহ যদি আমার থাকতো” , “হায়! আমারও যদি
অমন একটা কিছু থাকতো”– মুলত এমন সব আকাঙ্ক্ষার
নামই মনস্তাত্ত্বিক হতাশা।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মানুষের জীবনটাই কেটে যায় এমন
সব হতাশামুলক আচরণ আর চিন্তাধারায়।
আসলে মানুষের শ্রেষ্ঠ হবার আকাঙ্ক্ষাটা চিরন্তন।
বরাবরই মানুষ চেয়েছে অন্যের থেকে নিজেকে শ্রেষ্ঠতম
স্থানে নিয়ে যেতে। অথচ মানুষ জানেই না, অন্যকে
পিছনে ফেলে নিজেকে এগিয়ে যাবার বাসনা বস্তূত
নিজেকেই ছোট করে।
সম্পূর্ণ নিশ্চিত থাকতে পারেন, আরেকজনকে হারিয়ে
আপনি কোনওদিন সফল হতে পারবেন না। বরং আপনি
আপনার মতো থেকে আপনার জায়গাতেই কেমন করে
উন্নতি করবেন, সে চেষ্টাই যদি করেন; দেখবেন আপনার
সাফল্য দিন দিন বেড়েই চলেছে।
সফল ব্যক্তিদের কাহিনী পড়বেন, দেখবেন তারা কেউই
অন্যকে হারাতে চাননি, বরং তারা নিজেদের জায়গায়
জিততে চেয়েছেন।
হতে পারে আপনার মুখাবয়ব একটু খারাপ, কিন্তু তাতে
কি! আপনি তো আপনার বৈশিষ্ট্যে বৈশিষ্ট্যামণ্ডিত।
আপনার ভেতরেই এমন সব গুণ রয়েছে যা অন্য যে কোনো
মানুষের ভেতরে নেই।
একটু খাটো হয়েছেন বলে যে আর হতাশার সীমা থাকবে
না এমনটি নয়। আপনার শারীরিক দৈর্ঘ্য আপনাকে সফল
করবে না, বরং আপনার মস্তিষ্কের প্রখরতার দৈর্ঘ্য
আপনাকে সাফল্যমণ্ডিত করে তুলবে।
এখানে আবার মনে রাখা প্রয়োজন, মস্তিষ্ক আর মেধা
দুটো আলাদা জিনিস। মস্তিষ্ক আপনাকে সঠিক সময়ে
সঠিক কাজ করার পথ দেখাবে আর মেধা আপনার কাজের
ক্ষেত্রে সহায়ক ভুমিকা পালন করবে। সফল ব্যক্তিদের খুব
কমই মেধাসম্পন্ন ছিলেন, বরং তারা ছিলেন উর্বর
মস্তিষ্কের অধিকারী পরিশ্রমী ব্যক্তি, যার কারণে
সঠিক সময়ে সঠিক কাজটি করে তারা আজ সফল হয়েছেন।
আপনার যা কিছু নেই তা নিয়ে আপনি হতাশাই ভুগবেন না
বরং যা আছে তাই নিয়েই উন্নতি করার চেষ্টা করুন। মনে
রাখবেন-একই সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি আমরা।তিনি নিজেই
আমাদেরকে এক এক রকমের অনুদান দিয়ে আমাদেরকে
দুনিয়াই পাঠিয়েছেন। সৃষ্টিকর্তা আপনার পাশের
মানুষটিকে সুন্দর স্বাস্থ্যের অধিকারী করেছেন, তিনি
পারলে আপনাকেও সমপরিমাণ স্বাস্থ্য বা ঐশ্বর্যের
মালিক করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি, কারণ
সৃষ্টিকর্তা ভালো করেই জানেন কার কিসে মঙ্গল।
কেননা মঙ্গলটা তো তারই সৃষ্টি।
কারও হয়তো অঢেল সম্পত্তি আছে, মনে হতে পারে অমন
সম্পদ আপনার থাকলে আপনিও কিছু করে দেখাতে
পারতেন। কিন্তু সত্যিই যদি ব্যাপারটা তাই হতো, তাহলে
যিনি সম্পত্তিটির মালিক তিনি নিজেও অনেক আগেই
সফল ব্যাক্তিত্ব হতে পারতেন। একটু খেয়াল করে
দেখবেন, অঢেল সম্পদ থাকলেও সেই মানুষটি মানুষের
শ্রদ্ধা অর্জন করতে পারেননি।
ঠিক এমনি ভাবেই একই কথা সকল ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
সুতরাং নিজের মনের এমন দুশ্চিন্তা দূর করে ফেলুন।
অহেতুক হতাশা আপনাকে শুধু অন্যের ব্যাপারে ভাবিয়ে
নিজের ব্যাপারে উদাসীন করে দিবে। এর থেকে বরং
নিজের ব্যাপারে ভেবে, নিজের সম্পদ আর সম্বলটুকুকে
ভেবেই সে অনুপাতে কাজ করে যান।
মনে রাখবেন, অন্যের যা কিছু আছে তা নিয়ে ভেবে শুধু
শুধু নিজে কষ্ট পাবেন কিন্তু তাতে কোনওদিনও ভাগ
পাবেন না। তাই অন্যের ব্যাপারে পার্থক্য করে নিজে
নিজে কষ্ট না পেয়ে আপনি আপনার জায়গায় থেকে
সফল হবার চেষ্টা করুন। দেখবেন, যাদের সুযোগ ছিল
ভালো কিছু করার-যাদেরকে দেখে আপনি আফসোস
করেছেন, একদিন তারাই আপনার সফলতার ভারে নুয়ে
পড়বে।

13
আজ আমি মারা গেলে হয়তো খুব কাঁদবে সবাই.... যে আমার শত্রু ছিলো, সেও আমাকে দেখতে আসবে বাড়ি ভরা কত মানুষ, কত হৈ চৈ থাকবে কিন্তু আমি আর বলবো না মা এত হৈ চৈ ভালো লাগছে না, বাড়ি থেকে চলে গেলাম, একটু পর ফিরে আসব।
কিছু মানুষ পানি গরম দিচ্ছে আর কিছু মানুষ খাটিয়া আনতে গেল। একদল গেল কবর খুড়তে। তখন হয়তো আর বলবো না, মা, অমুক মারা গেছে, কবর খুড়তে গেলাম।
এক সময় বাঁশ ও কাটা হলো। বাড়ির অাঙিনায় এনে বাঁশগুলো টুকরা টুকরা করে কাটছে। পানিও গরম হলো গোসল দেওয়ার জন্য এমন কি কবরও খোড়া হয়ে গেলো....
কিছু মানুষ আমাকে এক কোনে নিয়ে একটা মশারী টাঙিয়ে গোসল দিবে, তখন উঠে আর বলবো না পানিটা বেশ গরম হয়েছে, আর একটু ঠাণ্ডা করে নাও....
গোসল করানোর পর আমাকে কিছু কাপড় দিয়ে মুড়িয়ে ফেলা হবে, তখন আর বলবো না মুখের কাপড়টা একটু সরিয়ে দাও, নিশ্বাস নিতে খুব কষ্ট হচ্ছে...
একসময় কান্নাকাটি বেশ বেড়ে গেলো কারণ এখন আমাকে মাটি দেবার জন্য নিয়ে যাবে। এমন কি কাধে উঠিয়েও ফেললো। তারপর সেই ঘরটার সমনে দিয়ে নিয়ে যাবে যে ঘরে আমি নাকি সারাটা জীবন কাটিয়েছি......
একসময় রাস্তায় আনা হবে। মা জননী পিছে পিছে এসে খুব কাঁদবে কিন্তু আর বলতে পারবো না! মা, অমুক জায়গায় যাচ্ছি, চিন্তা করো না একটু পরই ফিরে আসছি....
অতঃপর সবাইকে বিদায় দিয়ে আমাকে নিয়ে হাটা দিবে কবরস্থান এর দিকে, পাশে শত শত মানুষও হাটবে, কেমন হবে সেই কষ্টের মুহূর্তগুলি.... এমন করে তো আমিও অনেক বার আসছিলাম অন্য একজন এর লাশ নিয়ে আজ সবাই আমাকে নিয়ে যাচ্ছে চিরবিদায় এর দেশে রেখে আসতে.... কত মানুষকে মৃত বলে ডাকতাম, আজ সবাই আমাকেই মৃত বলে ডাকছে...
এইভাবে কিছুক্ষণ হাটার পর আমাকে কবরস্থানের এক পাশে নামাবে কারণ আমার জন্য সবাই নামাজ পরবে মানে জানাজার নামাজ এইভাবে আমিও কতজনের নামাজ পরছিলাম আজ সবাই আমার জন্য পরবে....
একসময় নামাজ পড়া শেষ হবে আমাকে আবার কাধে করে কবরের পাশে আনা হবে.... তারপর কিছু মানুষ হাতে হাতে ধরে আমাকে কবরে নামিয়ে দিবে যা আমিও কিছু মানুষকে এইভাবে নামাতে দেখেছি, আজ সবাই আমাকে নামাচ্ছে... একসময় সবাই হাতে হাতে ধরে আমাকে কবরে নামিয়ে ফেললো, ঠিক ঠাক মত শরীরটা ভাজ করে শুইয়ে দিলো। আহ এইতো আমার পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়া।
চোখ জোড়া খুলে পৃথিবীটাকে শেষবারের মত দেখতেও পারছি না....
দেখতেও পারলাম না কে কে এসেছে আমাকে মাটি দিতে। অবশেষে আমাকে বাঁশ আর পাটি দিয়ে মাটি দিয়ে দিলো...
কি অন্ধকার কবরের ভিতর, না পারবো মাকে ডাক দিতে, না পারবো কবর ভেঙ্গে বেরিয়ে আসতে...... আহ এইতো আমাদের জীবন.... জন্মের সময় কত আদর নিয়ে দুনিয়াতে এসেছিলাম, আবার মরার সময়ও কত আদর নিয়ে বিদায় নিলাম..... অতঃপর আমাকে দাফন করে সবাই বাড়ির দিকে রওনা দিবে। সবাই চলে যাবে, শুধু ফিরবো না আমি...
বাসায় গিয়ে আর মাকে বলবো না, মা আজ ওটা রান্না করো, ওটা খেতে ইচ্ছে করছে... বাবাকে বলবো না, বাবা কিছু টাকা দাও, কলেজে যাবো....
বড় বোনটার সাথে আর মারামারি করা হবে না, কারণ আমি চলে এসেছি না ফেরার দেশে... হয়তো আর বন্ধুদের বলবো না, দোস্ত, অমুক মেয়েটাকে আমি পটিয়ে ফেলেছি। কেননা সেদিন থেকে আমি পোকা মাকড় আরি মাটির খাবার হয়ে গেছি....
হয়তো আর অভিমান করা হবে না সেই মেয়েটার সাথে, যে নাকি আমাকে নিজের জীবনের চাইতে বেশি ভালোবাসতো....
কারণ আজ আমি ভিন্ন জগতের লোক। আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন, আমার জায়গাটা একদিন আপানারও হবে? সেদিনের জন্য আপনি কতটা প্রস্তুত?

14
মৃত্যু এক চিরন্তন সত্য। মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই তো জীবন শেষ। মৃত্যু নিয়ে মানুষের মধ্যে অনেক শঙ্কা কাজ করে স্বাভাবিকভাবেই; কিন্তু মৃত্যু ঘটবেই, একে এড়িয়ে যাওয়ার কোনো উপায়ও নেই। মৃত্যুর পর নশ্বর দেহতে কিছু পরিবর্তন ঘটে প্রকৃতির সঙ্গে সঙ্গেই।

জানলে অবাক হবেন, মানুষ মারা যাওয়ার পরও তার কিছুদিন পর্যন্ত হাতের নখ ও চুল বৃদ্ধি পায় বলে মনে হয়! এ তো গেল অন্য কথা, তবে আজীবন বয়ে বেড়ানো শরীর মৃত্যুর পর প্রকৃতির সঙ্গেই মিশে যায় ধীরে ধীরে। মেন্টাল ফ্লস নামের একটি ওয়েবসাইটে মৃত্যুর পর নশ্বর মানবদেহের পর্যায়ভিত্তিক পরিণতির বিবরণ দেওয়া হয়েছে:

১. মৃত্যুর পর মস্তিষ্কের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এটি ঘটবে সেকেন্ডের ব্যবধানে।

২. শরীরের তাপমাত্রা শীতল হয়ে যাবে।

৩. অক্সিজেনের অভাবে কোষগুলোর মৃত্যু ঘটতে আরম্ভ করবে। সে সঙ্গে কোষগুলোয় ভাঙন ধরবে, যা পচন প্রক্রিয়ার আগ পর্যন্ত চলবে। এটি ঘটবে মিনিটের ব্যবধানে।

৪. শরীর প্রসারিত হওয়ার কারণে পেশির মধ্যে ক্যালসিয়াম তৈরি হতে থাকে। এটি ৩৬ ঘণ্টা পর্যন্ত হয়। এটি ঘটবে ঘণ্টার ব্যবধানে।

৫. পেশিগুলো শিথিল হয়ে যায়।

৬. ত্বক শুষ্ক, সংকুচিত দেখায়। এর কারণে চুল ও নখ বড় হয়ে যাবে বলে মনে হবে।

৭. মাধ্যাকর্ষণ শক্তির কারণে রক্তে টান পড়বে। এতে করে শরীরের চামড়ায় কালশিটে পড়া বা অনেকটা দাগের মতো দেখা যাবে।

৮. শরীরের এনজাইমগুলো নিজেদের ভেতরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো হজম করতে শুরু করে, প্রক্রিয়াটি ত্বরান্বিত করে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি। এটি ঘটবে দিনের ব্যবধানে।

৯. পচনশীল দেহের থেকে পিউট্রিসিন বা ক্যাডাভেরিন নামের রাসায়নিক উপাদান নির্গত হওয়ার কারণে দুর্গন্ধ তৈরি হবে।

১০. এক সপ্তাহের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের কীটপতঙ্গ শরীর খেয়ে ফেলতে থাকবে। সপ্তাহের ব্যবধানে এটি ঘটতে শুরু করবে।

১১. শরীর বেগুনি থেকে কালো হয়ে যাবে, কারণ ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে শরীরের বিয়োজন অব্যাহত থাকবে।

১২. চুল ঝরতে শুরু করে।

১৩. চার মাসের মধ্যে বাকি রইবে শুধু কঙ্কাল, বাকি সবটাই মিশে যাবে মাটির সাথে ।

সংগৃহীত: Minni Chowdhury-র ওয়াল থেকে নেওয়া।

15
মাসজিদুল হারামের ইমাম শাইখ মাহির রমাদানের শেষ দশ দিনের জন্য এক চমৎকার আমলের ফর্মুলা দিয়েছেন:

 ১) প্রতিদিন এক দিরহাম (এক টাকা) দান করুন, যদি দিনটি লাইলাতুল ক্বদরের মাঝে পড়ে, তবে আপনি ৮৪ বছর (১০০০ মাস) পর্যন্ত প্রতিদিন এক টাকা দান করার সাওয়াব পাবেন। .
 ২) প্রতিদিন দু' রাকা'আত নফল সালাত আদায় করুন, যদি দিনটি লাইলাতুল ক্বদরের মাঝে পড়ে তবে আপনি ৮৪ বছর পর্যন্ত প্রতিদিন দু' রাকা'আত সালাতের সাওয়াব পাবেন। .
৩) প্রতিদিন তিন বার সূরা ইখলাস পাঠ করুন, যদি দিনটি লাইলাতুল ক্বদরের মাঝে পড়ে, তবে আপনি ৮৪ বছর পর্যন্ত প্রতিদিন এক খতম ক্বর'আন পাঠের সাওয়াব পাবেন । .
তিনি আরও বলেন, উপরের কথাগুলো মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিন, যারা আপনার কথা শুনে এ আমল করবে, আপনিও তাদের আমলের সমান সাওয়াব পাবেন ইনশাআল্লাহ্। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "ভালো কাজের পথ প্রদর্শনকারী আমলকারীর সমপরিমাণ সাওয়াব পাবে, কিন্তু আমলকারীর সাওয়াবে কোনো ঘাটতি হবে না।..." [মুসলিম ২৬৭৪] আল্লাহ আমাদের কে আমল করার তাওফিক দিন।আমীন। কপিরাইট....!

Pages: [1] 2 3 ... 18