Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - monirulenam

Pages: [1] 2 3 ... 19
1
স্বাধীনতার ৪৭ বছর বিগত হলেও বাংলাদেশে ব্রিটিশ আমলের লর্ড ক্যানিংয়ের শিক্ষানীতি এখনো চলমান। বাংলাদেশে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক এমনকি কখনো কখনো স্নাতক কিংবা স্নাতকোত্তর পরীক্ষাতেও কৃতকার্য হওয়ার বা পাসের সর্বনিম্ন নম্বর ৩৩। কিন্তু কেন? কেন ৪০ বা ৫০ কিংবা অন্য কোনো সংখ্যা হলো না? এর পেছনে কি কোনো ইতিহাস আছে?

hsc exam bd

এর পেছনে মজার একটি গল্প আছে। যে দেশে শত শত শিক্ষার্থী প্রায় শতভাগ নম্বর পায়, হাজার হাজার শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ গ্রেড তুলে নেয় সেখানে ৩৩ নম্বর পাসের শর্ত। বুয়েট, মেডিকেলের মেধাবীদের কথা না হয় নাই বললাম।

১৭৫৭ সালে নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে পরাজিত করে বিট্রিশরা উপমহাদেশের শাসনক্ষমতা দখল করে। এর ১০০ বছর পর বিট্রিশ ভারতের জনগণ স্বাধীনতা ফিরে পেতে প্রথমবারের মতো সফল আন্দোলন করে ১৮৫৭ সালে, যা সিপাহী বিদ্রোহ নামে পরিচিত। ইংরেজরা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মাধ্যমে ১০০ বছর সফল শাসন চালালেও সিপাহী বিদ্রোহের ফলে কোম্পানি শাসনের অবসান ঘটে। ফলে শাসনক্ষমতা রানীর হাতে চলে যায়। রাজত্বকাল ও শাসনব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে বিট্রিশ সরকার উপমহাদেশের সমাজ ব্যবস্থার নানা সংস্কারের পরিকল্পনা করেন।

১৮৫৮ সালে উপমহাদেশে প্রথমবারের মতো মেট্রিকুলেশন পরীক্ষা চালু হয়। কিন্তু পাস নম্বর কত হবে তা নির্ধারণ নিয়ে বোর্ড কর্তৃপক্ষ দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে যায় এবং ব্রিটেনে কনসালটেশনের জন্য চিঠি লেখেন।

তখন ব্রিটেনে স্থানীয় ছাত্রদের জন্য পাসের নম্বর ছিল ৬৫। সে সময় ইংরেজ সমাজে একটা প্রচলিত ধারণা ছিল 'The people of subcontinent are half as intellectual and efficient as compared to the British' অর্থাৎ বুদ্ধি ও দক্ষতায় উপমহাদেশের মানুষকে ইংরেজদের তুলনায় অর্ধেক মনে করা হতো।

একই ধারাবাহিকতায় মেট্রিকুলেশনের পাস নম্বর ৬৫ এর অর্ধেক ৩২.৫ নির্ধারণ করা হয়। ১৮৫৮ সাল থেকে ১৮৬১ সাল পর্যন্ত পাস নম্বর ৩২.৫ ই ছিল। ১৮৬২ সালে তা গণনার সুবিধার্থে বৃদ্ধি করে ৩৩ করা হয়। সেই থেকে এই ৩৩ নম্বরই চলছে। ফেডারেল পাকিস্তানেও ছিল। বাংলাদেশেও আছে। যেখানে পাসের দেশ ভারতে IIT বিষয়ভেদে পাস নম্বর ৪১ থেকে শুরু করে ৯০ পর্যন্তও হয়ে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রে MIT -তে বিষয় ভেদে ৩৬ থেকে ৪৫ এমনকি বাংলাদেশেও CA কিংবা CMA -তে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পাস নম্বর নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।

লক্ষ্যণীয় এবং আজব ব্যাপার হচ্ছে প্রায় দুই শতাব্দী পরেও আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় ৩৩ নম্বরে উত্তীর্ণ হওয়ার ধারাবাহিক ইতিহাস বদলায়নি। এজন্য শিক্ষার মান স্বভাবতই নিন্ম।

বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার গণ্ডিতে লাখ লাখ বেকার তৈরি না করে উচ্চশিক্ষার হার কমিয়ে শিক্ষার মান নিশ্চিত করা অপরিহার্য। এতে যেমন বেকারত্ব দূর হবে তেমনি উচ্চশিক্ষা দেশের কল্যাণ বয়ে আনবে।
Collected from online

3
চকবাজার ও বনানীর ভয়াবহ অগ্নিদুর্ঘটনা, রানা প্লাজার ভবনধস, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য জেলাগুলোতে ভূমিধসসহ সিডরের মতো ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে প্রচুর প্রাণহানি ও অপূরণীয় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অথচ অধিকাংশ মানুষ জানে না আগুন লাগলে কী করণীয়, ধোঁয়ায় আটকা পড়লে কী করতে হয়, বন্যায় কিংবা ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে কী করা উচিত। এসব দুর্যোগের শিকার যাঁরা হয়েছেন এবং স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যাঁরা কাজ করেছেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা–বিষয়ক প্রশিক্ষণ যদি তাঁদের থাকত তাহলে প্রাণহানি–দুর্ঘটনা অনেক কম হতো।

এমন ভাবনা থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা–বিষয়ক সংগঠন ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ সংসদ’–এর জন্ম। সংগঠনটি ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশগত নিরাপত্তা’ শিরোনামে তিন মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু করে ২০১১ সালে। এ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ১০০ জনকে এই কর্মশালার মাধ্যমে হাতে–কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

যেভাবে শুরু
ঘূর্ণিঝড় সিডর আঘাত হানার পর আক্রান্ত এলাকায় গিয়ে ত্রাণ ও প্রয়োজনীয় সেবাদান কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন শাহীন রেজা। তখনই বিষয়টি নিয়ে ভাবতে শুরু করেন তিনি। বাংলাদেশে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়টিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আলাদা বিভাগ হিসেবে পড়ানো হলেও খুব সীমিত শিক্ষার্থী এসব জায়গায় পড়ার সুযোগ পান। তাহলে দেশের বিশাল একটি অংশ কি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে জানার বা প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ পাবে না? এমন ভাবনা থেকেই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। বর্তমানে তিনি এই সংগঠনের নির্বাহী উপদেষ্টা।

 ‘পত্রিকা পড়ে জেনেছিলাম, এ দেশে মাত্র ৮ মাত্রার ভূমিকম্প হলেই ৭০ হাজার ভবন ধসে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। এত বড় দুর্যোগে কে কার পাশে এসে দাঁড়াবে? কীভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে? এই ভাবনা থেকে আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার কার্যক্রম শুরু করি।’ বলছিলেন শাহীন রেজা। ২০১০ সালের ৭ নভেম্বর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে মাত্র এক দিনের জন্য তাঁদের প্রথম কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছিল। ৬০ আসনক্ষমতার মিলনায়তনে ৭৫ আগ্রহী ব্যক্তি অংশ নেন। সংগঠনটিকে এগিয়ে নেওয়ার উৎসাহ পান কর্মীরা।

Eprothom Alo২০১১ সালের ৫ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে সংগঠনটি। প্রথম দফায় কর্মী হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী। কর্মশালার মেয়াদ তিন মাস। তিন ঘণ্টা করে মোট ১২টি ক্লাস। ফেসবুকের নিজেদের পেজের মাধ্যমে, রাস্তায় পোস্টার লাগিয়ে, লিফলেট বিতরণ করে দিনক্ষণ জানানো হয়। নিবন্ধনের সুযোগ থাকে কর্মশালার আগের দিন পর্যন্ত। প্রশিক্ষণ শেষে মূল্যায়ন পরীক্ষা নেওয়া হয় এবং সনদ প্রদান করা হয়। মিলনায়তন ভাড়া ও প্রশিক্ষকদের সম্মানী দেওয়ার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং অন্য যেকোনো ব্যক্তির কাছ থেকে নেওয়া হয় ২ হাজার টাকা।

যে প্রশিক্ষণ সবার জন্য

ক্লাসের মধ্য দিয়ে কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ রক্ষা বিষয়ে মৌলিক ও প্রায়োগিক ধারণা দেওয়া হয়। বিভিন্ন কৌশল শেখানো হয়। যেমন দুর্যোগে কীভাবে আত্মরক্ষা করতে হয়, অন্যদের সহযোগিতা বা উদ্ধার করতে হয়, দুর্যোগ–পরবর্তী কাজ কীভাবে পরিচালনা করতে হয়, প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা কীভাবে দিতে হয় ইত্যাদি। কর্মশালায় অংশ নিতে পারেন যেকোনো পেশার, যেকোনো প্রতিষ্ঠানের মানুষ। কোর্সে অংশ নেওয়ার প্রাথমিক যোগ্যতা—লিখতে ও পড়তে জানতে হবে।

শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১০টি কর্মশালা সংগঠনটি পরিচালনা করেছে। এর মধ্যে যেমন বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, তৈরি পোশাক ব্যবসায়ী, এনজিওকর্মী, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা আছেন, তেমনি আছেন বিভিন্ন সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকসহ নানা ধরনের মানুষ। প্রশিক্ষক হিসেবে এখানে আমন্ত্রণ জানানো হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষক, ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশিক্ষক, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির বিশেষজ্ঞ, আন্তর্জাতিক নানা সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশিক্ষকসহ বিশেষজ্ঞদের। এ ছাড়া ‘এনভায়রনমেন্টাল ডিজাস্টার অ্যান্ড পসিবল মিটিগেশন অ্যান্ড অ্যাডাপটেশন মেজারস’ শিরোনামে বেশ কিছু এক দিনের কর্মশালা আয়োজন করেছে এই সংগঠন। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১ হাজার ২০০ ছাত্রছাত্রীকে ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষকেরা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। প্রশিক্ষিত কর্মীরা তাঁদের নিজ নিজ জায়গায় থেকে সচেতনতা তৈরির কাজ করছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক মো. হুমায়ুন কবির শুরু থেকে ৯টি কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন। তিনি বলেন, ‘প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া বিভিন্ন বয়সের শিক্ষার্থী সমাজের বিপদগ্রস্ত মানুষের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য নিজেদের প্রশিক্ষিত করতে চান, এটা একটা দারুণ ব্যাপার। এই কর্মশালা সত্যিই কাজের। সমাজের সব মানুষের এই হাতে–কলমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে এমন কাজে অংশ নেওয়া উচিত।’

বিজিএমইএর (বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং ও এক্সপোর্টিং অ্যাসোসিয়েশন) সহকারী সচিব শেখ মোহাম্মদ সাঈদ এবং তাঁর ছেলে একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে কর্মরত শেখ মো. সাদিকুল ইসলাম—দুজনই ছিলেন এই কর্মশালার শিক্ষার্থী। বাবা বলেন, ‘আশুলিয়ার বয়লার বিস্ফোরণের সময় ও কাফরুলের গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে আগুন লাগলে সাহায্যের জন্য ছুটে গেছি। এই কর্মশালা থেকে পাওয়া অনেক কৌশল প্রয়োগ করতে পেরেছি। প্রত্যেক শিক্ষার্থী এই কর্মশালা থেকে উপকৃত হয়েছেন, তাই সবার এই প্রশিক্ষণ নেওয়া জরুরি।’ ছেলে সাদিকুল ইসলাম বলেন, ‘সরাসরি উদ্ধারকাজে অংশ নিতে না পারলেও আমি সবাইকে সচেতন করতে চেষ্টা করি।’

               


সংগৃহীত

4
গাজীপুরে অপহরণে জড়িত পুলিশের দুই কর্মকর্তা গ্রেফতারের ঘটনায় কড়া বার্তা পেলেন জেলা পুলিশের কর্মকর্তা এবং সদস্যরা। অপরাধ করলে কেউ পাড় পাবো না এমন ধারণা এখন অনেক পুলিশ সদস্যরই।

গতকাল শুক্রবার (৮ফেব্রুয়ারী) অপহরণের সাথে জড়িত দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিষয়ে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সন্মেলনের পর থেকেই বিষয়টি আলোচিত হচ্ছে প্রশাসনসহ জেলার সর্বস্তরের মানুষের মাঝে। ঘটনার পর থেকে জেলার সর্বত্র আলোচনার মূল বিষয় ছিল অপরাধে জড়িত দুই পুলিশ কর্মকর্তার গ্রেফতারের বিষয়টি।

বিগত কয়েকবছরে জেলার সাধারণ মানুষের কাছে পুলিশের ভাবমূর্তি যেভাবে ক্ষুন্ন হয়েছে তাতে সমাজের ভাল মানুষের কাছেও পুলিশ ছিল আতংকের নাম। তবে পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার গাজীপুরে যোগদানের পর থেকেই সে জায়গা থেকে কিছুটা স্বস্তিতে জেলার সাধারণ মানুষ। বৃস্পতিবারের ঘটনায় গাজীপুরে সাধারণ মানুষের আস্তার জায়গাটি আরো শক্ত হয়েছে বলে মনে করছেন সাধারণরা।

জেলার বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষের সাথে আলাপ কালে তারা সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, পুলিশের এ দুই কর্মকর্তাকে গ্রেফতারের ফলে তাদের মাঝে একটা বিশ্বাস জন্ম নিয়েছে যে অপরাধ করলে যেখানে পুলিশ সদস্য ছাড়া পাচ্ছে না সেখানে সাধারণ অপরাধীরাতো কোন ভাবেই পাড় পাবার সুযোগ নেই। তাদের মতে এর প্রভাব পড়বে জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর। যে ধরণের পরিবেশ জেলার মানুষের কাছে এখন প্রথম দাবি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিকক্ষ সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, যেকোন পেশায় কোন কর্মকর্তা অপরাধ করলে ঊর্দ্ধতন কতৃপক্ষ যদি তা চেপে যান অথবা শাস্তি বিহীন আর্থিক সুবিধা নিয়ে ছাড় দিয়ে দেন তাহলে পরবর্তীতে তা অন্যান্য কর্মকর্তার উপর প্রভাব বিস্তার করে। এবং অপরাধে জড়িত হতে উৎসাহ যোগায়। তার মতে, পুলিশের কোন সদস্য অপরাধে জড়িত হয়ে পাড় পেয়ে গেলে তা সৎ এবং নিষ্ঠাবান অফিসারদের কাজের আগ্রহ নষ্ট করে দেয়। যা আইনশৃঙ্খলাসহ সার্বিক পরিস্থিততে প্রভাব সৃষ্টি করে।  তার মতে অপরাধে জড়িত এ দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে আইনের আওতায় নিয়ে এসে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার তা জেলার পুলিশ প্রশাসনে থাকা দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের লাগাম টেনে ধরতে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে বলে তার বিশ্বাস।

বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের এ শিক্ষকের মতে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে জেলা পুলিশের পাশাপাশী জেলা গণমাধ্যমের কর্মীদের আরো বেশ দায়িত্ব নিয়ে কাজ করা দরকার। কারণ সঠিক এবং অনুসন্ধানী সংবাদ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সমাজে গঠনে বিশেষ ভুমিকা পালন করে।

গত বছরের ২৮ অগাস্ট একই স্থানে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে পুলিশ সুপার বলেছিলেন, পুলিশের কোনো সদস্য অন্যায় করলে বা জনগণকে হয়রানি করলে বিন্দু পরিমাণ ছাড় দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে ওই পুলিশের পোশাক খুলে নেওয়া হবে। তার হুশিয়ারী যে কোন সাধারণ বার্তা ছিল না তা প্রমাণ পেলেন জেলার প্রশাসনসহ সর্বস্তরের মানুষ।

১৬৫দিন আগে গা  থেকে  পোশাক  খুলে  নেয়ার বিষয়ে সংবাদ সন্মেলনে যে বার্তা দিয়েছিলেন পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার তার বাস্তব প্রয়োগ লক্ষ্য করা গেল গতকালের ঘটনায়।

পুলিশ সুপার দায়িত্ব নিয়ে কাজ না করলে হয়তো অপহরণের সাথে জড়িত পুলিশের এ ঘটনাটি কোনভাবেই আলোচনায় আসতো না। হয়তো অন্যভাবে বিষয়টি নিস্পত্তি হয়ে যেত। যা হয়তো ভোরের আলো ছড়িয়ে পড়ার আগেই অন্ধকারে বন্ধী হয়ে যেত। গাজীপুরে বিগতদিনে এ ধরণের ঘটনার শিকার অনেকেই এমনটা ভাবছেন। তাদের মতে, বর্তমানে পুলিশ সুপার অপরাধে জড়িতদের বিষয়ে জিরো ট্রলারেন্স নীতি গ্রহন করেছেন তা এখন স্পষ্ট।

গতকাল সাংবাদিক সন্মেলনে শামসুন্নাহার সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে বলেন, সব ঘটনা হয়তো আমার কাছে জানা না হতে পারে। আপনারা আমাকে তথ্য দিন ব্যবস্থা গ্রহণ না করতে পারলে বলবেন। মহান আল্লাহকে স্বাক্ষী মেনে তিনি অপরাধের বিষয়ে তার অবস্থান নিশ্চিত করেন।

উল্লেখ্য, বুধবার বিকেল ৫টা ২০মিনিটে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিয়াকৈর উপজেলার সূত্রাপুর এলাকায় শিলা-বৃষ্টি ফিলিং স্টেশনে গাড়িতে গ্যাস নেয়ার সময় সেখানে দুটি গাড়ি নিয়ে সেখানে হাজির হন এএসআই মামুন ও মুসরাফিকুর। সেসময় ভুক্তভোগীদের অভিযুক্তরা জোড় করে তাদের গাড়িতে তুলে নেন। বিষয়টি ভোক্তভোগীদের স্বজনরা পুলিশ সুপারকে জানালে অপহরণের শিকার যুবকদের উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে দ্রুত কাজ শুরু করে জেলা পুলিশ। এবং তাদের উদ্ধারে সক্ষম হন।  সেইসাথে অভিযুক্ত দুই এএসআই কে গ্রেফতারের পর আদালতে হাজির করা হচ্ছে।


পলাশ মল্লিক, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, সময়ের কণ্ঠস্বর

6
Islam / আখেরি চাহর সোম্বা
« on: November 07, 2018, 04:56:26 PM »
 
 

হিজরি সনের সফর মাসের শেষ বুধবারকে ‘আখেরি চাহর সোম্বা’ বলা হয়। সে হিসেবে আজ সফর মাসের শেষ বুধবার দেশব্যাপী ‘আখেরি চাহর সোম্বা পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষ্যে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে।


 ৬৩২ হিজরি বর্ষের সফর মাসের শেষ বুধবার মোতাবেক ২৭ সফর প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কঠিন অসুস্থতা থেকে সুস্থতা লাভ করেছিলেন। প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুস্থতা লাভের দিন হিসেবে মুসলিম উম্মাহর কাছে এ দিনটি বিশেষভাবে স্মরণীয়।

আখেরি চাহর সোম্বা কী?
সফর মাসের শেষ বুধবারকে আখেরি চাহর সোম্বা বলা হয়। মুসলিম উম্মাহ এ দিনটিকে খুশির দিন হিসেবে উদযাপন করে। কিন্তু অনেকেই জানে না যে, আখেরি চাহর সোম্বা কী? আখেরি চাহর সোম্বা সম্পর্কে ইসলামের দিক-নির্দেশনাই বা কী?

আখেরি চাহর সোম্বা হলো- রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সফর মাসে গুরুতর অসুস্থ হয়ে যান। সফর মাসের শেষ বুধবার তিনি অনেকটাই সুস্থতা লাভ করেন। এ খুশিতে অনেক সাহাবি বিভিন্নভাবে দান-সাদকা করেছেন। এ দান-সাদকা নিঃসন্দেহে উত্তম কাজ।

পরবর্তীতে সাহাবায়ে কেরাম এ দিনটি খুশির দিন হিসেবে উদযাপন করেছেন বা প্রতি বছর এ দিনে দান-সাদকা করেছেন এ সম্পর্কে কোনো হাদিসের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

যেহেতু সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ী ও তাবে-তাবেয়ীদের যুগে আনুষ্ঠানিক কোনো উদযাপন ছিল না, তাই আখেরি চাহর সোম্বা নিয়ে ‘রুসুম-রেওয়াজ বা ঘটা করে তা পালনে বিশেষ কোনো ফজিলত বা যৌক্তিকতা নেই।


 

সফর মাস সম্পর্কে হাদিসের একটি বর্ণনা পাওয়া যায়। কেউ এটিকে জাল বলেছেন। আবার কেউ কেউ এটিকে সহিহ হাদিস বলেছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমাকে সফর মাস শেষ হওয়ার সুসংবাদ দেবে, আমি তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দেব।’

উল্লেখিত হাদিসটি সম্পর্কে ইসলামি চিন্তাবিদদের দু’টি মতামত পাওয়া যায়। আর তাহলো-

প্রথম মত
হাদিস বিশারদের মতে, এটি সম্পূর্ণ জাল, মিথ্যা। যা আসলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিস নয়, রবং যারা এ হাদিসটি বর্ণনা করেছেন তাদের কেউই হাদিস সংরক্ষণকারীদের অন্তর্ভূক্ত নয়।

দ্বিতীয় মত
হাদিসটি সহিহ, তবে এ হাদিসের পেছনে প্রেক্ষাপট কী তা জানতে হবে। মূলত হাদিসটি একটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামে এ সংবাদ দেয়ার কথা বলেছেন। ঘটনাটি হলো-

একবার হজরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু ইসলামের দাওয়াত নিয়ে দূরের এক জনপদে যান। সেখান দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়। তাঁর কোনো খবর না পাওয়ায় প্রিয়নবি চিন্তিত হয়ে পড়েন।

হজরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু কাছ থেকে একদিন একটি চিঠি এলো, তাতে লেখা ছিল- ‘হে আল্লাহর রাসুল! সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমি সফর মাস শেষে মদিনায় ফিরব। কিন্তু তখনো সফর মাস অনেক দূরে।

সে সময়টিতে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হজরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর ফিরে আসার অপেক্ষায় থাকাকালীন সময়ে দ্রুত সফর মাস শেষ হওয়ার কথাগুলো বলেছিলেন। আর এ হাদিসটি সে সময়ের।

প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিয়মিত আমল ছিল প্রত্যেক আরবি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে নফল রোজা রাখা। যাকে আইয়ামে বিজের রোজা বলা হয়ে থাকে।

সুতরাং আইয়ামে বিজের রোজা রাখলে অনেক সওয়াব পাওয়া যায়। সুতরাং বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিয়মিত আমল আইয়ামে বিজের রোজা রাখা অনেক সাওয়াবের কাজ এবং গুরুত্বপূর্ণ আমল।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সুন্নাতের নেক আমলগুলো যথাযথ পালন করার তাওফিক দান করুন। কুরআন-সুন্নাহ মোতাবেক জীবন-যাপন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Collected from online news page

7
প্রথমেই বলি, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এসি ছাড়া জীবন অচল। এটা লাগবেই। বরং দিন দিন আরও বেশি দরকার হবে। আমাদের মতো গরমের দেশে তো বটেই, এখন শীতের দেশেও গরম বাড়ছে। আর সেই সঙ্গে বাড়ছে এসির প্রয়োজন।

আমাদের দেশের কাছাকাছি দেশ সিঙ্গাপুর। কোনো উদাহরণ দিতে হলে আমরা সিঙ্গাপুরের কথা গর্বের সঙ্গে বলি। সেই সিঙ্গাপুরের দ্রুত উন্নয়নের পেছনে অন্য অনেক কিছুর মধ্যে কিন্তু এসির বিরাট ভূমিকা ছিল। সে দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী লি কুয়ান এসিকে ইতিহাসের যুগান্তকারী আবিষ্কার বলে অভিহিত করে গেছেন। এসি কাজের কক্ষে গরম কমায়, উৎপাদনশীলতা বাড়ায়। কিন্তু সমস্যা অন্যখানে। এসি চালাতে বিদ্যুৎ লাগে। আর বিদ্যুৎ উৎপাদনে লাগে জ্বালানি। এটা পুড়ে বাতাসে কার্বন ডাই-অক্সাইড ছড়ায়। এসির ভেতরে ব্যবহৃত কুলিং এজেন্টও (শীতলীকরণ তরল) বাতাসে কার্বন ছড়ায়। ফলে বিশ্ব উষ্ণায়ন বাড়ে।

এ জন্যই পরিবেশবিদেরা অন্য অনেক কিছুর পাশাপাশি এসিকে বিশ্ব উষ্ণায়নের একটি বড় কারণ বলে চিহ্নিত করেন। তাঁরা এসির ঘোর বিরোধী। কিন্তু কঠিন সত্যটা হলো ১৯০২ সালে এসি আবিষ্কারের পর থেকে প্রায় ১০০ বছরে বিশ্বে যত এসি বসানো হয়েছে, তার সমান সংখ্যার এসি আগামী ১০ বছরে যোগ হবে। তার মানে আমরা একটা গোলকধাঁধায় পড়ে গেছি। যত দিন যাবে, গরম তত বাড়বে, তত বেশি এসি লাগবে। তখন বাতাসে আরও বেশি হারে কার্বন ছড়াবে। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন আরও বাড়বে। আরও বেশি এসি বাজারে আসতে থাকবে। এর শেষ কোথায়? তাহলে তো পৃথিবী অচিরেই ধ্বংস হয়ে যাবে। কী করা যায়? এক হিসাবে জানা গেছে, এসির আবহাওয়া দূষণকারী রেফ্রিজারেন্ট বদলিয়ে দূষণমুক্ত রেফ্রিজারেন্টের নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে ২০৫০ সালের মধ্যে বাতাসে মোট ৯ হাজার কোটি টন কার্বন ডাই-অক্সাইড কমানো যাবে। আর যন্ত্রের দক্ষতা বাড়িয়ে আরও ৯ হাজার কোটি টন কমানো যাবে। বর্তমানে বায়ুমণ্ডলে বছরে কার্বন ছড়ায় প্রায় ৪ হাজার কোটি টন। এসিতে হাইড্রোফ্লুওরোকার্বন নামের একধরনের যে রেফ্রিজারেন্ট ব্যবহার করা হয়, সেটা বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের চেয়ে এক হাজার গুণের চেয়ে বেশি ক্ষতি করে।

সম্প্রতি দ্য ইকোনমিস্ট পত্রিকায় (আগস্ট ২৫, ২০১৮) এ বিষয়ে বিস্তৃত লেখা বেরিয়েছে। সেখানে অন্য ধরনের দূষণের সঙ্গে তুলনা করে দেখানো হয়েছে এসির দূষণ কত ভয়াবহ। যেমন, বিশ্বের অর্ধেক মানুষ যদি মাংস খাওয়া বাদ দেয় তাহলে ৬ হাজার ৬০০ কোটি টন কার্বন বায়ুমণ্ডলে কম ছড়াবে। গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের উজাড় করা বনভূমির দুই-তৃতীয়াংশ পুনরুদ্ধার করতে পারলে ৬ হাজার ১০০ কোটি টন কার্বন নিঃসরণ কমবে। বিশ্বব্যাপী সাইকেলে চলাচল এক-তৃতীয়াংশ বাড়াতে পারলে ২৩০ কোটি টন কার্বন কমবে। আর সে তুলনায় শুধু এসিতেই কমানো যেতে পারে ১৮ হাজার কোটি টন কার্বন নিঃসরণ!

তাহলে বুঝুন, এসির দূষণ কমাতে না পারলে কি ভয়ংকর পরিণতি হবে।

তার মানে এই না যে এসির ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। তাহলে তো উন্নয়নের ক্ষতি। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো থেকে শুরু করে বনায়ন—এগুলোই আসল লক্ষ্য। কিন্তু সেই সঙ্গে শুধু এসির কাজের দক্ষতা বাড়ানো, নষ্ট এসিগুলো বাদ দেওয়া, পরিবেশসম্মত কুলিং রেফ্রিজারেন্ট ব্যবহার করা এবং বাসা-অফিসের ডিজাইন এমনভাবে করা যেন কম বিদ্যুৎ-বাতি ব্যবহার করতে হয়, প্রচুর আলো-বাতাস খেলে, যেন এসির ব্যবহার খুব কম লাগে। তাহলে অনেক কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব।

মস্কোর আন্তর্জাতিক মার্ক্সিস্ট লেনিনিস্ট ইনস্টিটিউটে ১৯৮৩ সালে অর্থনীতি-দর্শনে এক বছরের একটি কোর্স করেছিলাম। তখন অধ্যাপক সভেৎলানা একদিন বললেন, পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা মাত্র ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে বা কমলে সব প্রাণী ধ্বংস হয়ে যাবে। তখন এর তাৎপর্য বুঝিনি। আমরা বুঝতে পারিনি যে মাত্র ৫ ডিগ্রি তাপমাত্রার হেরফেরে এমন কী ভয়ংকর পরিণতি হতে পারে। এখন আমরা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি। আমেরিকার দক্ষিণ-পূর্ব উপকূল টাইফুন-টর্নেডোয় প্রায়ই বিধ্বস্ত হচ্ছে, ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাস হচ্ছে। গরমকালে প্রচণ্ড গরম আর শীতে হাড় কাঁপানো শীত। মেরু অঞ্চলের বরফ গলে সাফ এমনকি এভারেস্টচূড়ার বরফও গলতে শুরু করেছে। সবার টনক নড়ছে।

১৮৬০ সালে শিল্পবিপ্লবের সময় থেকে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করে। তখন ভূপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা ছিল প্রায় ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এখন গড় তাপমাত্রা বেড়েছে ১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আইপিসিসি (ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ) গত ৮ অক্টোবর ২০১৮ এই তথ্য জানিয়েছে।

জলবায়ুবিজ্ঞানীরা বলছেন, শিল্পবিপ্লবের সময়ের তুলনায় ২০৫০ সালে ২ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রা বাড়তে দেওয়া যাবে না। যদি আমরা এটা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারি, তাহলে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন প্রক্রিয়া রোধ করে গড় তাপমাত্রা নামিয়ে আনা অসম্ভব হয়ে উঠবে (ইররিভার্সেবল)। পৃথিবী ধ্বংসের দিকে চলে যাবে। কিন্তু অতি সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা এই সিদ্ধান্তে এসেছেন যে ২ ডিগ্রিতে কাজ হবে না। দেড় ডিগ্রির মধ্যে গড় উষ্ণায়ন বৃদ্ধি সীমিত রাখতে হবে। আমরা পারব কি?

এর উত্তর একটাই। পারব এবং পারতে হবেই। তবে কাজটা কঠিন। যদি আমরা সব দেশে বিশ্বের সেরা জলবায়ু-সুরক্ষা পদ্ধতি অনুশীলন করি, তেল-কয়লা পোড়ানো সীমিত করি, পরিবেশসম্মত বিকল্প শক্তির ব্যবহার বাড়াই, তাহলে হয়তো আমাদের এই পৃথিবী বসবাসযোগ্য করে রাখতে পারব। অবশ্য কাজটি করতে হলে আগামী ২৫ বছরে তেল-কয়লাওয়ালারা ৩৩ ট্রিলিয়ন ডলার ক্ষতির মুখে পড়বে। কারণ মাটির নিচে এখনো যেটুকু তেল-কয়লা রয়েছে, সেগুলো মাটির নিচেই রেখে দিতে হবে।

এরপরও যে বিপর্যয় একেবারে থাকবে না, তা বলা যাবে না। কারণ ইতিমধ্যে মানুষের নির্বিচার কাজের জন্য বায়ুমণ্ডলে যে পরিমাণ ক্লোরোফ্লোরো-কার্বন গ্যাস জমেছে, তার পরিণতি আরও কয়েক দশক আমাদের ভোগ করতে হবে। কিন্তু একটা সান্ত্বনা থাকবে। হয়তো পৃথিবী ধ্বংসের হুমকি কমে যাবে।

আজকের বিশ্বে, সব দেশে, সব মানুষের এক নম্বর দায়িত্ব হলো বায়ুমণ্ডলে কার্বন নিঃসরণ কমানো। এর চেয়ে বড় কাজ আর নেই।

আব্দুল কাইয়ুম প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক

8
প্রাকৃতিক মিষ্টি বা ন্যাচারাল সুইটেনার হিসেবে আলোড়ন সৃষ্টিকারী স্টেভিয়া গাছের বাণিজ্যিক চাষ সম্প্রসারণের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে দেশে। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে আসা চিনির চেয়ে কয়েকগুণ বেশি মিস্টি’র আধার এই গাছটির রয়েছে বহুবিধ গুণ।

এদেশে এই গাছের অপার সম্ভাবনার কথা জানিয়ে কৃষিবিদ ডা. মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্যারাগুয়ের আদী বাসিন্দা চিকন পাতার হালকা কচি ডালে সজ্জিত স্টেভিয়ায় রয়েছে স্টিভিডিন নামের এক ধরণের অ্যালকোহল। যা থেকে স্টেভিয়া সুগার বা চিনি তৈরি করা হয়। এর মিষ্টতা অন্যান্য চিনির চেয়ে ৩০০ গুণ বেশি। স্টেভিয়া সুগারের সুক্ষ্ন অংশ ব্যবহারে তৈরি হতে পারে যে কোনো ধরনের মিষ্টান্ন। মিষ্টি বা মিষ্টি জাতীয় খাবার তৈরিতে যেখানে অন্য চিনি ১ কেজি লাগে সেখানে ৩.৩ গ্রাম স্টেভিয়া সুগার ব্যবহারই যথেষ্ট। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় যে একজন আইসক্রিম উৎপাদনকারির ১০ কেজি চিনি’র স্থলে লাগবে মাত্র ১০ গ্রাম স্টেভিয়ার শুকনো প্রক্রিয়াজাত করা সাদা পাতা। আইসক্রিম তৈরি করতে যেখানে ৬৫০ টাকার চিনি লাগতো সেখানে এই পাতা ব্যবহারে লাগবে মাত্র ০৬ টাকা। বর্তমানে এই দেশে আমদানীকরা স্টেভিয়ার পাতা ৫৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।
প্যারাগুয়েতে জন্ম নেয়া এই গাছ দক্ষিণ আমেরিকার সব দেশেই পাওয়া যায়। তবে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, চিলি, ভেনেজুয়েলায় এর ব্যাপক চাষ করা হয়। এশিয়ার জাপান ও চীনে হচ্ছে স্টেভিয়া উদ্ভিদের বাণিজ্যিক চাষাবাদ। ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউটের তৎকালীন পরিচালক মফিজুর রহমান ব্রাজিল থেকে এনে এদেশে স্টেভিয়ার বাণিজ্যিক চাষের চেষ্টা চালান। ১৯৯৮ সালে গবেষণার জন্য নিয়ে আসেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সেসময়ের সভাপতি প্রফেসর একেএম রফিউল ইসলাম। সেখানকার বোটানিক্যাল গার্ডেনে স্টেভিয়া গাছের পরীক্ষামূলক চাষাবাদ করা হয়। এরপর বেসরকারী সংস্থা ব্র্যাক, কৃষিবিদগ্রুপসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও অসাধারণ এই গাছের ব্যাপক গবেষণা চালাচ্ছে। এরই মধ্যে ব্র্যাক এ গাছ থেকে চিনি তৈরী করে বাজারজাত করেছে। ইতোমধ্যে অনেকে শখের বশে বাড়ির টবে ও ছাদে এর চাষাবাদ করছেন। এছাড়া বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এ গাছের চারা কেনার আগ্রহ দেখিয়েছে। পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াহীন এবং গুণমান ভাল হওয়ায় আমাদের দেশ ছাড়াও বিশ্ব বাজারে রয়েছে এ চিনির ব্যাপক চাহিদা। চীন বিশ্ববাজারের জন্য স্টেভিয়া চিনির রপ্তানী মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে প্রতি কেজি ১৫০ ডলার অর্থাৎ ১২০০০ টাকা। জাপানীরা স্টেভিয়ার সবুজ পাউডার, স্টেভিয়া থেকে আহোরিত স্টেভিসাইড এর সাদা পাউডার এবং সিরাপ আকারে ব্যবহার করে আসছে। স্টেভিয়ার পাতা চিনির চেয়ে ৩০ থেকে ৪০ গুণ এবং পাতার স্টেভিয়াসাইড চিনির চেয়ে ৩০০ গুণ বেশি মিষ্টি। চিনির খরচ কমানো ছাড়াও এই গাছ অগ্নাশয়ে ইসুলিনের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা, শরীরের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, দাঁতের ক্ষয় রোধ, ত্বকের কোমলতা ও লাবন্য বাড়ানোসহ নানাভাবে উপকার করে।
Collected from Face book page   

9
Common Forum / Re: আদালতে যাওয়ার আগে
« on: October 31, 2018, 06:28:14 PM »
Nice post

10
Common Forum / Re: কখনোই তাড়াহুড়ো নয়
« on: October 31, 2018, 06:18:04 PM »
good

11
Good post . Thank you for the post.

12
History / Re: History of Muslim'S
« on: October 31, 2018, 06:00:22 PM »
Thanks for the post

14
 Very good topic

Pages: [1] 2 3 ... 19