Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - saima rhemu

Pages: 1 [2] 3 4 ... 16
16
আপনার ছোট্ট সোনামণিকে একদিন গোসল করাতে নিয়ে হঠাৎ লক্ষ্য করলেন যে তার পিঠে এবং পেটে লাল লাল র‍্যাশ বা ফুসকুড়ির মত দেখা যাচ্ছে। আপনি উদ্বিগ্ন হবেন এটাই স্বাভাবিক কিন্তু আপনার এটা জানা থাকা উচিত যে ইতোমধ্যেই প্রকৃতিতে গরম আবহাওয়া বিরাজ করা শুরু হয়ে গেছে। আর গরমকাল ছোট বাচ্চাদের জন্য খুবই বিরক্তিকর একটি সময় কারণ এই সময়েই বাচ্চাদের শরীরে বিভিন্ন র‍্যাশ, চুলকানি, ঘামাচি ইত্যাদি দেখা দেয়। আর এই যে লাল লাল র‍্যাশের কথা বললাম, এটা হলো বাচ্চাদের হিট র‍্যাশ বা ফুসকুড়ি যা গরমের কারণে হয়ে থাকে।
হিট র‍্যাশের কারণে বাচ্চাদের প্রচুর অস্বস্তি এবং চুলকানি হয়। আপনার ছোট্ট সোনামণিকে কিভাবে এই হিট র‍্যাশ থেকে দূরে রাখবেন এবং যদি হিট র‍্যাশ হয়েও যায় তাহলে সেটা থেকে কিভাবে নিস্তার পাবেন তার জন্যই আজকের এই লেখা। তাহলে চলুন দেখে নেয়া যাক বাচ্চাদের হিট র‍্যাশ কী এবং এটি থেকে মুক্তি পেতে ৬টি হোম রেমেডি।

বাচ্চাদের হিট র‍্যাশ কি?

হিট র‍্যাশ বা ফুসকুড়ি হলো অন্যান্য র‍্যাশ এবং চুলকানির মতোই কমন এক প্রকার র‍্যাশ। এটি ছোট বাচ্চা থেকে শুরু করে অনেক ক্ষেত্রে বড়দেরও হতে পারে। হিট র‍্যাশ সাধারণত এমন সময়ে হয় যখন আবহাওয়া হঠাৎ করেই ঠাণ্ডা থেকে গরম হতে শুরু করে। ত্বকের পোর গুলো বন্ধ হয়ে যাওয়াই হলো হিট র‍্যাশ বা ফুসকুড়ির প্রধান কারণ। বাচ্চাদের সাধারণত পেট, পিঠ, হাত ও ঘাড়ে হিট র‍্যাশ হতে দেখা যায়।

ইতিমধ্যেই উল্লিখিত যে হিট র‍্যাশ বা তাপ ফুসকুড়ি সাধারণত চামড়ার পোর বন্ধ হয়ে যায় বলে হয় কারণ ত্বক থেকে ঘাম ঠিকমত বের হতে পারে না তাই ত্বকের পোর বন্ধ হয়ে ফুসকুড়ি দেখা দেয়।

বাচ্চাদের হিট র‍্যাশ হওয়ার কারণ ও প্রতিকারের উপায়
বাচ্চাদের হিট র‍্যাশ হওয়ার কমন কিছু কারণ আছে। সেগুলো হলো-


একটি গরম এবং আর্দ্র জলবায়ু।

বাচ্চাদের এমন পোশাক যা থেকে তাপ সহজে বের হতে পারে না।
থিক বা পুরু লোশন এবং ক্রিমের ব্যবহার।
একাধিক কাপড় পরিধান করার কারণে বাচ্চার শরীর অভারহিট হয়ে যাওয়া।
একটু সাবধান হলেই বাচ্চাদের হিট র‍্যাশ বা ফুসকুড়ি হওয়া থেকে রক্ষা করা যায়। তারপরও যদি হিট র‍্যাশ হয়েই যায় তাহলে ৬টি হোমমেইড রেমেডি ইউজ করে দেখতে পারেন। এই রেমেডিগুলো কোন প্রকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই বাচ্চাদের হিট র‍্যাশ থেকে দ্রুত মুক্তি দেবে। চলুন তাহলে রেমেডি-গুলো দেখে নেয়া যাক।

১. একটি ঠান্ডা স্যাঁক বা আইস ব্যাগ

যা লাগবে-

একটি ঠাণ্ডা কমপ্রেস বা বরফের ব্যাগ

যা যা করতে হবে-


একটি বোলে ঠাণ্ডা পানি নিন অথবা একটি আইস ব্যাগ নিন। এবার ঠাণ্ডা পানিতে একটি পরিষ্কার কাপড় চুবিয়ে, সেটা থেকে পানি ঝরিয়ে নিন। এবারে এই ঠাণ্ডা কাপড়টি আপনার বেবির হিট র‍্যাশ আক্রান্ত স্থানে ১/২ মিনিটের জন্য রাখুন তারপর সরিয়ে নিন। এভাবে কয়েকবার করুন। আর যদি আইস ব্যাগ ইউজ করেন তাহলে আইস ব্যাগটি কয়েকবার আক্রান্ত স্থানে প্রয়োগ করুন।

যতদিন ফুসকুড়ি ভালো না হচ্ছে ততদিন এভাবে ঠান্ডা স্যাঁক দিতে পারেন দিনে ২-৩ বার। এই ঠান্ডা কম্প্রেস বেবির র‍্যাশ আক্রান্ত স্থানকে শীতল করে এবং এফেক্টেড এরিয়াকে soothing করে। এভাবে কিছুদিন করলে ফুসকুড়ি থেকে দ্রুত নিস্তার পাওয়া যাবে।

২. অ্যাসেনশিয়াল অয়েল বা প্রয়োজনীয় তেল

যা প্রয়োজন হবে-

টি ট্রি অয়েল – ১/২ ড্রপ
নারকেল তেল ২/৩ চা চামচ

যা যা করতে হবে-

২-৩ চা চামচ নারকেল তেলের সাথে ১ বা ২ ড্রপ টি ট্রি অয়েল যোগ করুন এবং দুটি তেল ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এবার এই তেলের মিশ্রণ আক্রান্ত স্থানে ভালো করে মালিশ করুন এবং ২০-৩০ মিনিটের জন্য অপেক্ষা করুন তারপর ধুয়ে ফেলুন।

যতদিন ফুসকুড়ি ভালো না হচ্ছে ততদিন এই তেলের মিশ্রণ দিনে একবার করে ব্যবহার করতে পারেন। টি ট্রি অয়েলে আছে প্রদাহ বিরোধী আন্টিসেপ্টিক (Antiseptic) গুণ যা হিট র‍্যাশের জ্বালাপোড়া কমায় এবং ফুসকুড়ির অস্বস্তি থেকে মুক্তি দেয়।

সতর্কতা-

৬ মাসের কম বয়সী শিশুদের শরীরে টি ট্রি অয়েল ব্যবহার করবেন না, এতে ক্ষতি হতে পারে। এছাড়াও এই তেল অন্য কোন তেলের সাথে না মিশিয়ে ব্যবহার করবেন না।

৩. শসা

যা প্রয়োজন হবে-

স্লাইস করা তাজা শসা

আপনাকে যা করতে হবে-

প্রথমে একটি কচি শসা নিন এবং এটি স্লাইস করে কাটুন। এবারে কাটা শসাগুলো পেস্ট করে নিন। তারপর এই পেস্ট আক্রান্ত স্থানে প্রয়োগ করুন। ৫- ১০ মিনিটের জন্য শসার পেস্ট লাগিয়ে রাখুন তারপর নরমাল পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

আপনি প্রতিদিনই এই শসা পেস্ট দিনে ২-৩ বার ব্যবহার করতে পারেন যতদিন হিট র‍্যাশ বা ফুসকুড়ি থাকে।

শসা তে রয়েছে ফ্ল্যাভোনয়েড (Flavonoids) এবং ট্যানিন (Tannins) নামক অ্যালার্জি এবং প্রদাহ বিরোধী উপাদান যা হিট র‍্যাশ থেকে খুব সহজে আরাম দেয় এবং চুলকানি কমায়।

৪. ওটমিল

যা প্রয়োজন হবে-

১ কাপ ওটস পাউডার
পানি

যা যা করতে হবে-

একটি বড় বোল বা বালতি পানি দিয়ে পূর্ণ করুন। এবার এতে এক কাপ পরিমাণ ওটস পাউডার ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। তারপর এই পানিতে আপনার বেবিকে গোসল করান প্রায় ১০- ১৫ মিনিট যাবৎ। তারপর বেবির শরীর নরম তোয়ালে দিয়ে আলতোভাবে মুছে দিন।

আপনি প্রতিদিনই একবার করে আপনার বেবিকে ওটস পাউডার দিয়ে গোসল করাতে পারেন যতদিন পর্যন্ত না বেবির হিট র‍্যাশ ভালো হচ্ছে।

ওটমিলে আছে প্রদাহ বিরোধী উপাদান যা চর্মরোগ সারাতে দারুণভাবে কাজ করে। এটি খুব দ্রুত চুলকানি ও র‍্যাশ কমাতে সাহায্য করে এবং শরীর ঠাণ্ডা রাখে।

৫. ফুলার আর্থ বা মুলতানি মাটি

যা প্রয়োজন হবে-

হাফ টেবিল চামচ মুলতানি মাটি
প্রয়োজনমত পানি

যা যা করতে হবে-

হাফ টেবিল চামচ মুলতানি মাটির সাথে প্রয়োজন মত পানি মিশিয়ে একটি মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন। এবার আক্রান্ত স্থানে এই পেস্ট প্রয়োগ করে ১০ মিনিটের জন্য অপেক্ষা করুন তারপর ধুয়ে ফেলুন।

এই পেস্ট আপনি দিনে ২-৩ বার ব্যবহার করতে পারেন।

বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, মুলতানি মাটিতে থাকা নানা উপকারী উপাদান ফুসকুড়ি ও চুলকানি থেকে দ্রুত আরাম দেয়। এটি প্রাপ্তবয়স্করাও ব্যবহার করতে পারেন।

৬. অ্যালোভেরা

যা প্রয়োজন হবে-


ফ্রেশ অ্যালোভেরা জেল

যা যা করতে হবে-

প্রয়োজনমত কিছু ফ্রেশ অ্যালোভেরা জেল নিন। এবার এই জেল শিশুর আক্রান্ত স্থানে প্রয়োগ করে ১০ – ১৫ মিনিটের জন্য অপেক্ষা করুন। তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই জেল আপনি দিনে ২-৩ বার ব্যবহার করতে পারেন।

অ্যালোভেরাতে রয়েছে প্রদাহ বিরোধী উপাদান যা দেহে ঠান্ডা অনুভূতি প্রদান করে এবং তাপ ফুসকুড়ি থেকে দ্রুত আরাম দেয়।

টিপস

উপরের রেমেডি-গুলো ছাড়াও আপনার বেবিকে হিট র‍্যাশ থেকে রক্ষা করতে চাইলে কিছু টিপস অনুসরণ করতে পারেন। যেমন-

১) আপনার ছোট্ট সোনামণিকে প্রখর সূর্যের তাপ থেকে দূরে রাখুন।

২) বাচ্চাকে গরমকালে নরম ও আরামদায়ক পোশাক পরিধান করান।

৩) গরমকালে প্রতিদিন বেবিকে নরমাল টেম্পারেচার-এর পানি দিয়ে গোসল করান।

৪) আপনার বেবির দেহের তাপমাত্রা নিয়মিত পরীক্ষা করুন। তাপ বেশি হয়ে গেলে গোসল করিয়ে দিন।

৫) পুরু লোশন বা ক্রিম ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।

৬) বাচ্চার গোসলের জন্য হালকা সাবান ব্যবহার করুন।

৭) গ্রীষ্মকালে অতিরিক্ত গরম থেকে বাচ্চাকে দূরে রাখতে এয়ার কন্ডিশন রুমে রাখুন বা ঠাণ্ডা রুমে রাখুন।


উপরের টিপস গুলো অনুসরণ করলে আশা করি আপনার ছোট্ট সোনামণিকে হিট র‍্যাশ বা ফুসকুড়ি থেকে রক্ষা করতে পারবেন।

19
পায়ে ব্যথা আমাদের খুবই কমন একটি সমস্যা। পা আমাদের পুরো শরীরটাকে ক্যারি করে সব স্থানে নিয়ে যায় কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত না পায়ে কোন সমস্যা দেখা দিচ্ছে, আমরা আমাদের দু’পায়ের যত্নের ক্ষেত্রে সবসময় উদাসীন। বিভিন্ন কারণে আমাদের পায়ের ব্যথা দেখা দিতে পারে এবং এই ব্যথা মোকাবেলা করার মত অপ্রীতিকর আর কিছুই নেই। আর তাই আজকের লেখায় আপনাদের জন্য রইলো পায়ে ব্যথা হওয়ার বিভিন্ন কারণ, লক্ষণ এবং পায়ের ব্যথা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার ৬ টি দারুণ উপায়।

পায়ে ব্যথার বিভিন্ন কারণ

আপনার পা আঘাতপ্রাপ্ত হতে পারে বিভিন্ন কারণে। পায়ে ব্যথা পাবার কিছু কমন কারণগুলো হলো-

১) সঠিক মাপের জুতা পরিধান না করা।

২) এমন হাই হিল পরিধান করা যাতে পায়ের গোড়ালিতে অনেক চাপ পড়ে।

৩) অতিরিক্ত এক্সারসাইজ অথবা খেলাধুলা।

৪) গর্ভধারণ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা অথবা বিভিন্ন মেডিকেল কন্ডিশন।

৫) পায়ে আঘাত পাওয়া ইত্যাদি কারণে পায়ে ব্যথা হতে পারে।

পায়ে ব্যথার কিছু লক্ষণ

১. যখন তখন পা ব্যথা করা।

২. ফুলে যাওয়া।

৩. লাল হয়ে যাওয়া।

৪. চলাফেরা করার সময় ব্যথা করা বা অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার কারণে ব্যথা করা।

৫. পায়ের চামড়া বিবর্ণ হয়ে যাওয়া পুড়ে যাওয়া বা চুলকানির মত অনুভব করা।

৬. পায়ের হাড় ভেঙে যাচ্ছে এমন অনুভব করা ইত্যাদি।

পায়ে ব্যথা উপশমের কার্যকর ঘরোয়া পদ্ধতি

১. বেকিং সোডা

আপনার প্রয়োজন হবে-

বেকিং সোডা- হাফ কাপ
এক বোল গরম পানি
আপনাকে যা করতে হবে-

১) প্রথমে একটি বড় বোলে গরম পানি নিন এবং এতে হাফ কাপ বেকিং সোডা নিন।

২) বেকিং সোডা সম্পূর্ণ দ্রবীভূত না হওয়া পর্যন্ত ভালোভাবে মিশ্রিত করুন।

৩) ১৫-২০ মিনিটের জন্য আপনার পা সোডা মিশ্রিত পানিতে ডুবিয়ে রাখুন।

৪) আপনার প্রতিদিন অন্তত একবার এটি করা উচিত।

বেকিং সোডা বিভিন্ন চিকিৎসার জন্য ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এতে রয়েছে প্রদাহ বিরোধী বিভিন্ন উপাদান যা পা ব্যথা এবং প্রদাহ উপশম করতে সাহায্য করে।

২. নারকেল তেল

আপনার প্রয়োজন হবে-

নারকেল তেল – ২/৩ চা চামচ

আপনাকে যা করতে হবে-

১) আপনার হাতে দুই থেকে তিন চা চামচ নারকেলের তেল নিন।

২) এবারে ব্যথা আক্রান্ত স্থানে আঙুল দিয়ে আস্তে আস্তে ম্যাসেজ করুন।

৩) আপনি চাইলে কয়েক ড্রপ অ্যাসেনশিয়াল অয়েল যোগ করতে পারেন।

৪) তেল ম্যাসাজ করার পর পায়ে মোজা পরে রাখতে পারেন এতে তেল পায়ে লক হয়ে যাবে।

পায়ে ব্যথা থাকাকালীন প্রতিদিনই আপনার এই কাজটি করা উচিত বিশেষ করে শোবার আগে।

নারকেল তেল পায়ের যে কোন ব্যথা ভালো করার একটি প্রাকৃতিক উপায়। এতে রয়েছে মিডিয়াম-চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড যা প্রদাহ বিরোধী, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল (Antimicrobial) এবং অ্যানালজেসিক (Analgesic)। নারকেল তেল শুধুমাত্র পায়ে ব্যথার চিকিৎসাই করে না, এটি পায়ের জীবাণু দূর করে পাকে ময়শ্চারাইজড করে এবং সংক্রমণ মুক্ত রাখে।

৩. ইপসম সল্ট

আপনার প্রয়োজন হবে-

ইপসম সল্ট- হাফ কাপ
১ বোল গরম পানি
আপনাকে যা করতে হবে-

১) একটি বড় বোলে গরম পানি নিন এবং হাফ কাপ ইপসম সল্ট মেশান।

২) লবণ দ্রবীভূত হওয়া পর্যন্ত ভাল করে মিশ্রিত করুন।

৩) লবণ মিশ্রিত পানিতে আপনার ব্যথাযুক্ত পা ১০-১৫ মিনিটের জন্য ডুবিয়ে রাখুন।

ব্যথা থাকাকালীন আপনার প্রায় প্রতিদিনই এটি অ্যাপ্লাই করা উচিত।

ইপসম লবণ ম্যাগনেসিয়াম সালফেট হিসাবেও পরিচিত। ইপসম লবণে থাকা ম্যাগনেসিয়াম প্রদাহ বিরোধী এবং এটি পেশীর ব্যথার জন্যেও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এটি পায়ের ব্যথা সারাতে খুবই কার্যকরী।

৪.আদা

আপনার প্রয়োজন হবে-

আদা- ১ ইঞ্চি পরিমাণ
গরম পানি- ১ কাপ
মধু
আপনাকে যা করতে হবে-

১) ১ ইঞ্চি পরিমাণ আদা কুচি ১ কাপ ফুটন্ত পানিতে মেশান।

২) এবার এটি ৫-১০ মিনিটের মত ভালো ভাবে ফুটিয়ে নিন।

৩) এবার এই আদা মেশানো পানিতে ১/২ চামচ মধু মিশিয়ে নিন এবং গরম গরম পান করুন।

আপনার প্রতিদিন তিনবার করে এই আদা চা পান করতে হবে।

পা ব্যথা চিকিৎসার জন্য আরেকটি কার্যকর প্রতিকার হলো আদা। এতে জিঙ্গিবেইন (Zingibain) নামে একটি এনজাইম রয়েছে যা চমৎকার অ্যানালজেসিক এবং প্রদাহ বিরোধী। আদা আপনার পায়ের ব্যথা দ্রুত সাড়িয়ে তুলতে একটি উপকারী উপাদান।

৫. গরম বা ঠান্ডা স্যাঁক

আপনার প্রয়োজন হবে-

গরম পানির বোতল
আইস ব্যাগ
আপনাকে যা করতে হবে-

ব্যথাআক্রান্ত স্থানে একটি হট ওয়াটার বোতল রাখুন ৫-১০ মিনিটের জন্য। এবার গরম পানির বোতল সরিয়ে সে স্থানে ঠাণ্ডা আইস ব্যাগ রাখুন। প্রায় ১০ মিনিটের মত ব্যথাযুক্ত স্থানে ধরে রাখুন। এভাবে পুরো প্রক্রিয়াটি ২/৩ বার রিপিট করুন।

আপনার যখন ব্যথা থাকবে তখন নিয়মিত এই পদ্ধতিটি অনুসরণ করা উচিত।

গরম এবং ঠান্ডা কম্প্রেস ব্যথা সারাতে খুব ভালো কাজ করে। গরম কম্প্রেস রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে এবং ঠাণ্ডা আইস ব্যাগ ব্যথা দূর করতে সাহায্য করে।

৬. ভিটামিন

কিছু ভিটামিনের ঘাটতির জন্যেও পায়ে ব্যথা দেখা দিতে পারে। ভিটামিন বি-এর অভাব পায়ে ব্যথার একটি অন্যতম কারণ। এছাড়াও, ভিটামিন ডি এর ঘাটতি হলে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা এবং দুর্বলতা দেখা দেয়। অতএব সুস্থ থাকার জন্য ভিটামিন বি যুক্ত খাবার এবং ভিটামিন ডি যুক্ত মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, পনির, কমলা, সয়াবিন দুধ এবং সিরিয়াল খেতে হবে।

পায়ে ব্যথা প্রতিরোধ করার কিছু বিশেষ টিপস

১) সবসময় আরামদায়ক জুতা পরুন।

২) হাই হিল এবং টাইট জুতা এড়িয়ে চলুন।

৩) স্বাস্থ্যকর খাওয়া-দাওয়া করুন এবং একটি ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

৪) পায়ের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন।

৫) বাইরে যাওয়ার সময় সর্বদা সঠিক সাইজের জুতা পরিধান করুন।

৬) মাঝেমধ্যে পায়ে ম্যাসাজ করুন এতে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়।


আপনার পায়ের স্বাস্থ্য অনেকটাই আপনার উপর নির্ভর করে। তাই সবসময় সঠিক মাপের জুতা পরিধান করুন এবং তার সাথে পায়ের যত্ন নেবার পাশাপাশি সঠিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন।

20
Good to know, thanks for sharing  :)

21
তরমুজের কথা তো সবারই জানা। সুস্বাদু এই ফলটি সবার প্রিয়। আর অসহ্য গরমের মধ্যে কয়েক টুকরো রসালো তরমুজ এনে দেয় অসাধারণ প্রশান্তি। এই মজাদার তরমুজের রয়েছে অনেক উপকারিতা। তরমুজের ১০টি গুণ নিয়ে কথা বলবো। তরমুজে আছে প্রচুর ভিটামিন  এ ও সি এবং সিট্রুলিন (Citrulline) সহ বিভিন্ন  স্বাস্থ্যকর উপাদান। এই সব উপাদান মানুষের শরীরে গুরুত্বপূর্ণ  ভূমিকা পালন করে থাকে। তাহলে চলুন আজ আমরা ত্বক ও স্বাস্থ্য রক্ষার্থে তরমুজের ১০টি গুণ সম্পর্কে জেনে নেই।

ত্বক ও স্বাস্থ্য রক্ষার্থে তরমুজের ১০টি গুণ

১. মেছতা

ত্বকে মেছতা হলে সেটা থেকে রক্ষা পেতে নিয়মিত তরমুজ খাওয়ার অভ্যাস করুন। বিশেষজ্ঞরা বলেন, তরমুজে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন এ যা শরীরের ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। আর তাই গরমে রেগ্যুলার তরমুজ খাওয়া হলে আপনার ত্বক হবে আরো উজ্জ্বল ও  হারানো লাবণ্য ফিরে আসার সম্ভাবনা অনেক।

২. রোদে-পোড়া ভাব

তরমুজ ত্বকের রোদে-পোড়া ও কালচে দাগ দূর করতে সাহায্য করে। কয়েকটি হ্যাক ফলো করলে এটা সম্ভব-

তরমুজের রসকে বরফ করে সেটা স্কিনে আলতো করে ঘষতে পারেন।
তরমুজের রসে কটন প্যাড ভিজিয়ে ত্বকের রোদে পোড়া জায়গায় দিয়ে ১০ মিঃ রাখুন। শুকিয়ে গেলে উঠিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। রেগ্যুলার এটা করতে পারেন।
এছাড়া পাতলা টাওয়েল বা রুমাল তরমুজের রসে ভিজিয়ে মুখের উপর দিয়ে ১৫ মিঃ রেখে তারপর মুখ ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
তরমুজের রসের সাথে শসার রস মিশিয়ে রোদে-পোড়া ত্বকে লাগিয়ে ১৫ মিঃ রেখে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

৩. এক্সফলিয়েশন

সেনসিটিভ স্কিনের এক্সফলিয়েশন-এর জন্যও তরমুজ ব্যবহৃত হয় কিন্তু! এর পিউরিতে নরম ফাইবার থাকে যা ডেড স্কিন দূর করে স্কিন পরিষ্কার করে এবং কালচে ভাব কমিয়ে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়। তবে জেনে নিন দুটো প্যাক-এর কথা-

তরমুজের পিউরি-এর সাথে সামান্য মধু মিশিয়ে মিক্সচারটি স্মুদলি স্কিনে রাব করে ১৫ মিঃ রেখে তারপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
তরমুজের পিউরি নিয়ে তাতে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস ও সামান্য চিনি মিশিয়ে মিশ্রণটিকে স্কিনে আলতো করে রাব করে ১৫ মিঃ রেখে তারপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ভালো করে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

৪. হার্ট-এর যত্নে

বিজ্ঞানীদের জরিপ অনুযায়ী, তরমুজে রয়েছে একটি বিশেষ উপাদান যা হার্টের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। এছাড়াও, তরমুজে ভিটামিন এ-এর পাশাপাশি ভিটামিন সি, পটাশিয়াম ও কেরোটিন আমাদের দেহের কোলেস্টেরল কমিয়ে তুলতে সাহায্য করে, যার কারণে আমাদের হৃদপিন্ড সবসময় যে কোন রকমের বিপদ-আপদ থেকে  সুরক্ষিত থাকে।

৫. চোখের যত্নে

তরমুজে আছে অধিক পরিমাণে ভিটামিন এ এবং বিটা ক্যারোটিন যা আমাদের চোখের রেটিনার সুরক্ষিত রাখতে অধিক কার্যকর এবং এই উপাদানগুলো চোখের ছানি পড়তে বাধা সৃষ্টি করে। তরমুজের ভিটামিন এ আমাদের চোখের জ্যোতি বাড়ায়।

৬. কিডনির যত্নে

তরমুজে আছে অধিক পরিমাণে পানীয় উপাদান যেগুলো কিডনির উপর চাপ কমিয়ে প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া কমায়। তরমুজ  কিডনি ও লিভার সুস্থ রাখতে অনেক উপকারী। যারা পানি কম খান তাদের কিডনিতে পাথর হওয়ার প্রবণতা থাকে। আবার যাদের পাথর হয়ে যায় তারা এর ব্যথায় অনেক কষ্ট পান। তারা যদি খাদ্য তালিকায় তরমুজ রাখেন তাহলে ব্যথা থেকে কিছুটা উপকার পাবেন। তবে শুধু তরমুজ না খেয়ে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

৭. হাড়ের যত্নে

তরমুজে আছে লাইকোপিন নামে এক ধরনের লাল উপাদান যাতে আছে অধিক পরিমাণে ক্যালসিয়াম। আর আমরা সবাই জানি ক্যালসিয়াম হাড়কে মজবুত ও সুস্থ রাখে। মানুষের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাড় দিন দিন দুর্বল হতে থাকে আর তাই তরমুজ নিয়মিত খেলে তা হাড়ের গঠন সুস্থ  ও মজবুত করতে খুবই সহায়ক।

৮. স্বাভাবিক রক্তচাপ

তরমুজে থাকা প্রচুর ক্যালসিয়াম ও পটাসিয়াম আমাদের দেহের ব্লাড প্রেশার নরমাল রাখে। তাই খাদ্যতালিকায় তাদের নিয়মিত তরমুজ রাখা উচিত যারা রক্তচাপের সমস্যায় ভোগেন।

৯. শরীরের ব্যথা

অনেক মানুষ বাত বা মাংসপেশির ব্যথায় ভোগেন অথবা ব্যায়ামের পর শরীরের ব্যথায় কষ্ট পান। এর থেকে বাঁচতে চাইলে প্রতিবার ব্যায়ামের পর অথবা ব্যায়াম করার কমপক্ষে আধা ঘন্টা বা এক ঘন্টা আগে তরমুজ খেলে এই ব্যথা থেকে অনেকাংশে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

১০. হাঁপানি প্রতিকার

যাদের অনেক শ্বাস কষ্ট বা হাঁপানির সমস্যা আছে তারা খাদ্যতালিকায় নিয়মিত তরমুজ রেখে হাঁপানি প্রতিকার করতে পারেন। এছাড়া সাধারণ মানুষ, যাদের প্রচুর ঠাণ্ডা লাগার সমস্যা রয়েছে তারা যদি নিয়মিত তরমুজ খান তাহলে অ্যালার্জি প্রতিরোধ করা সম্ভব। কারণ তরমুজে আছে প্রচুর ভিটামিন সি যা অ্যালার্জি বা হাঁপানি সারিয়ে তুলতে অনেক কার্যকর।

22
শত শত বছর আগে থেকে রান্নার কাজে আমরা হলুদ ব্যবহার করি। যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে এখন মানুষ বাটা হলুদের পরিবর্তে বাজারে পাওয়া যায় এমন প্যাকেট জাত গুঁড়া হলুদ রান্নার কাজে ব্যবহার করছে। এই মশলার উপকরণটি আমাদের দক্ষিন এশিয়ার সংস্কৃতি, ধারা, অনুষ্ঠান-পর্বের সাথে আত্মিক ভাবে জড়িত। আমাদের বিবাহিক অনুষ্ঠান “গায়ে হলুদ “ শুরু হয় বর-কনের গায়ে হলুদ ছোঁয়ানোর মধ্য দিয়ে। হলুদ বলতে গেলে একটি ন্যাচারাল কস্মেটিক্স। এটি গায়ের রঙ যেমন উজ্জ্বল করে, তার সাথে বিভিন্ন চর্ম রোগের সমস্যা যেমন অ্যালার্জি, ব্রণ, র‌্যাশ দূর করে। তাছাড়া বয়সগত রোগ আলজেইমার, ডায়বেটিস, আর্থ্রাইটিস ইত্যাদি রোগ থেকে উপশম পেতে সাহায্য করে। এটি যেহেতু দক্ষিন এশিয়া তে সর্বাধিক পাওয়া যায় তাই একে “ইন্ডিয়ান জাফরান” বলা হয়।

১। ব্রণ দূর করতেঃ

হলুদের মধ্যে এন্টিসেপ্টিক এবং এন্টিব্যাক্টেরিয়াল উপাদান থাকে যেটি ব্রণ দূর করতে সাহায্য করে। এটি শুধু ব্রণই দূর করে না, তার সাথে ব্রণের দাগ এবং লোমকূপ থেকে তেল বের হওয়ার পরিমাণও কমিয়ে দেয়। কাঁচা হলুদ বাটা, চন্দন গুঁড়া, লেবুর রস মিশিয়ে একটি মাস্ক বানিয়ে মুখে লাগিয়ে রাখুন ১৫ মিনিট। শুকিয়ে গেলে কুসুম গরম পানিতে মুখ ধুয়ে ফেলুন। তাছাড়া ব্রণের উপর কাঁচা হলুদ বাটা এবং পানি মিশিয়ে দিয়ে ১৫ মিনিটের জন্য রাখুন। ব্রণ তাড়াতাড়ি চলে যাবে।

২। তৈলাক্ত ত্বকের জন্যঃ

হলুদ তৈলাক্ত ত্বকের জন্য অনেক ভালো। আগেই বলেছি লোমকূপের তেল কমাতে হলুদ অনেক ভালো কাজ করে। তাছাড়া চন্দন গুঁড়া এস্ট্রিঞ্জেন্ট এর কাজ করে এবং কমলার রস ত্বকের দাগ দূর করে, ত্বক কে পরিষ্কার রাখে। ৩/৪ চিমটি হলুদের গুঁড়া, ১ চামচ চন্দন গুঁড়া এবং ৪/৫ চামচ কমলার রস মিশিয়ে মাস্ক তৈরি করে মুখে লাগান। তৈলাক্ত ত্বকের যেকোনো সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন।

৩। শুষ্ক ত্বকের জন্যঃ

যদি আপনার ত্বক শুষ্ক থাকে, ত্বক কে উজ্জ্বল এবং লাবণ্যময়ী করতে চান, তাহলে কাঁচা হলুদ বাটা সামান্য, ১ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল, ২/৩ ফোঁটা লেবুর রস, একটা ডিমের সাদা অংশ, গোলাপ জল মিশিয়ে প্যাক বানিয়ে মুখে লাগান। নিজেই লক্ষ্য করবেন ত্বকের পজিটিভ পরিবর্তন। তাছাড়া শরীরে যেসব জায়গা শুষ্ক সেসব জায়গায়ও লাগাতে পারেন।

৪। বলিরেখা দূর করতেঃ

হলুদ ত্বকের বলিরেখা দূর করতে সাহায্য করে। ২/৩ চিমটি হলুদ গুঁড়া, চালের গুঁড়া, টমেটো রস, কাঁচা দুধের সাথে মিশিয়ে মুখে মাস্ক হিসাবে লাগিয়ে রাখুন ১৫ মিনিট। তারপর কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বকের ফাইন লাইন্স এবং ঝুলে পড়া ত্বক কে স্বাভাবিক করতে, ত্বক কে ফর্সা করতে অত্যন্ত কার্যকরী।

৫। চোখের নীচে কালো দাগ দূর করতেঃ

২/৩ চিমটি হলুদ গুঁড়ার সাথে মাখন মিশিয়ে চোখের নীচে লাগিয়ে রাখুন ২০ মিনিট। পরে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে চোখ ধুয়ে ফেলুন। এটি চোখের নীচে বলিরেখা সহ কালো দাগও দূর করবে।

৬। বয়স ধরে রাখাঃ

১ দিন পর পর বেসন, কাঁচা হলুদ বাটা, টক দই মিশিয়ে মুখ সহ সারা শরীরে লাগিয়ে রাখুন শুকানো না পর্যন্ত। শুকিয়ে গেলে ঘড়ির কাটার উলটো দিকে স্ক্রাব করে মাসাজ করুন। এটি ত্বকের ময়লা পরিষ্কার করার সাথে সাথে ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখে ।

৭। স্ট্রেচ মার্ক দূর করতেঃ

ত্বকের মোটা হয়ে যাওয়ার ফাটা দাগ, প্রেগ্নেন্সির স্ট্রেচ মার্ক দূর করতে বেসন, কাঁচা হলুদ মিশিয়ে ঐ নিদিষ্টও জায়গায় লাগালে ধীরে ধীরে দাগ কমতে শুরু করে।

৮। পোড়া ও কাঁটা জায়গায় হলুদের ব্যবহারঃ

কাঁচা হলুদ একটি এন্টিসেপ্টিক। তাই কাঁটা এবং পোড়া জায়গায় হলুদ বাটার সাথে এলোভেরা মিশিয়ে দিলে অনেক উপকার পাওয়া যায় । তাড়াতাড়ি ব্যথা এবং দাগের উপশম ঘটে।

৯। ত্বকের রোদে পোড়া দূর করতেঃ

সারাদিন বাইরে থাকে যারা, তাদের ত্বকের পোড়া ভাব এবং পিগ্মেন্টেশন কমাতে হলুদ বাটা, শশার রস, মুলতানি মাটি, লেবুর রস মিশিয়ে প্যাক বানিয়ে মুখে মাস্ক হিসাবে লাগিয়ে রাখুন ৩০ মিনিট। ত্বকের পোড়া ভাব কমে যাবে।

১০। ত্বকের অবাঞ্ছিত লোম দূর করতেঃ

প্রতিদিন ময়দা এবং কাঁচা হলুদ বাটা মিশিয়ে স্ক্রাব করলে, ত্বকের অবাঞ্ছিত লোম ধীরে ধীরে কমে আসবে।

১১। পায়ের গোড়ালির ফাটা দাগ দূর করতেঃ

গোসলের যাওয়ার আগে কাঁচা হলুদের সাথে, নারিকেল তেল অথবা ক্যাস্টর অয়েল মিশিয়ে ১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখলে পায়ের ফাটা দাগ কমবে, পায়ের ত্বক সুন্দর এবং নরম থাকবে।

১২। চর্ম রোগ থেকে মুক্তিঃ

যেকোনো চর্ম রোগের জন্য হলুদ অনেক উপকারী। কাঁচা হলুদের সাথে কাঁচা দুধ মিশিয়ে শরীরে মাখলে একজিমা, অ্যালার্জি, র‌্যাশ, চুলকানি ইত্যাদি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

১৩। ত্বকের মরা কোষ দূর করতে হলুদঃ

২/৩ চিমটি হলুদ, চিনি এবং চালের গুঁড়া মিশিয়ে মুখ স্ক্রাব করলে মুখের সব মরা কোষ দূর হবে। তাছাড়া শুষ্ক এবং কালো ঠোঁট এর জন্য হলুদ গুঁড়া এবং কাঁচা দুধ মিশিয়ে স্ক্রাব করলে অনেক ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে। ঠোঁটের মরা কোষ থাকবে না এবং ঠোঁটের কালচে ভাব দূর হবে।

১৪। ত্বক কে ফর্সা করতেঃ

প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে দুধের সাথে কাঁচা হলুদ মিশিয়ে খেলে, ধীরে ধীরে ত্বকের রঙ ফর্সা হয়। তাছাড়া রক্ত পরিষ্কার করে, ত্বককে ভেতর থেকে সুন্দর করে। তাছাড়া সকালে ঘুম থেকে উঠে কাঁচা হলুদের রস খেলেও সমান উপকারিতা পাওয়া যায়। যারা কাঁচা হলুদ শুধু খেতে পারবেন না, তারা চিনি অথবা গুড় মিশিয়ে নিতে পারেন।

(বিঃদ্রঃ ত্বকে কখনও সরাসরি হলুদ দেওয়া যাবে না। কিছুর সাথে যেমন চন্দন গুঁড়া, চালের গুঁড়া, বেসন ইত্যাদির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। প্রত্যেক মানুষের ত্বক ভিন্ন। তাই আগে মুখে না দিয়ে, হাতে অথবা ঘাড়ে অ্যালার্জি টেস্ট করে নিতে পারেন। এতে বুঝতে পারবেন প্যাকটি আপনাকে সুট করছে কিনা )

23
টক  দই শুধুমাত্র খেতে ভালো তাই নয় বরং এটি স্বাস্থ্যকর জীবন যাপনের জন্য অনেক বেশী পুষ্টিকর। আপনি এটাও জানেন যে, টক দই আপনার ত্বকের জন্য একটি মিরাকল উপাদান হিসেবে কাজ করতে পারার ক্ষমতা রাখে। এসব মোটামুটি আমরা সবাই জানি কিন্তু ত্বকের ধরন ভেদে টক দই ব্যবহার বিধি সম্পর্কে সব সময়ই অজানা থেকে যায়। আজকের এই লেখনিতে টক দইয়ের কার্যকারিতা, ত্বকের ধরনভেদে ফেইস প্যাকগুলো সম্পর্কে জানব।

টক দইয়ে কি কি পুষ্টি উপাদান আছে –

কেন টক দই আপনার ত্বক  গ্লো কওরে তোলে? কারণ এতে আছে ত্বক  বান্ধব ও কার্যকরী উপাদান । এর চারটি প্রধান উপাদান হল –

(১) জিঙ্ক

১০০ গ্রাম টক  দইয়ে আছে ১ মিলিগ্রাম জিঙ্ক । এই খনিজটি ত্বকে এন্টি এসটিনজেন্ট  হিসেবে কাজ করে ত্বকে নুতন কোষ জন্মাতে সাহায্য করে এবং ত্বকের একনে ও পিম্পল দূর করতে সাহায্য করে।

(২) ক্যালসিয়াম

টক  দইয়ের ক্যালসিয়াম আপনার ত্বকের শুষ্কতা কমিয়ে ত্বক সজীব রাখে আর ত্বক  থাকে স্বাস্থ্যময়।

(৩) ভিটামিন বি

ভিটামিন বি , বি ৫, বি ১২ ও ভিটামিন বি ২  আছে টক দইয়ে যা  ত্বক সজীব রাখে, ত্বকে স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের জোগান দেয় । এককাপ টক দইয়ে আপনার শরীরের জন্য দরকারী রিভোফ্লাভিন এর দৈনিক চাহিদার  ২০-৩০% চাহিদা পুরন করে।

(৪) ল্যাকটিক এসিড

 টক দইয়ের অন্যতম উপাদান হল ল্যাকটিক এসিড  যা আপনি অনেক স্কিন কেয়ার পণেই উপাদান তালিকায় দেখতে পাবেন । এটি ত্বক  ময়েসচারাইজ করে এবং এটি ত্বক বুড়িয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে । ত্বকের ভাঁজ পড়া বা রিঙ্কেল থেকে রক্ষা করে।

এখন আমারা খুব সহজভাবে বলতে চাই টক দই ত্বকের  জন্য কেন উপকারী-

 ত্বক সজীব রাখে আর ময়েসচারাইজ করে
 ত্বক উজ্জ্বল করে
এক্সফলিয়েট করে কার্যকরীভাবে। 
ত্বক মসৃণ আর ফ্ললেস করে তোলে ।
চোখের নীচের কালো দাগ দূর করে ।
ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখে।
ত্বকের ইনফেকশান দূর করে।
সান বার্ন প্রশমনে সাহায্য করে।
এমন কিছু প্রাকৃতিক উপাদানের আছে যা হাতের কাছেই পাওয়া যায়, সেসব উপাদানগুলো টক দইয়ে ব্যবহার করতে পারেন। এতে করে  আপনার স্কিন কেয়ারকে আরও কার্যকরী হয়ে উঠবে –

 গাজর
 লেবুর রস
 মধু
এবার আসুন জেনে নিই টক দই দিয়ে কিছু ফেইস প্যাক তৈরির উপায়গুলো সম্পর্কে –

(১) শুষ্ক ত্বকের জন্য

যাদের টক শুষ্ক তাদের জন্য ভীষণ দরকারী ফেইস প্যাক যা ত্বক নরম , মসৃণ আর সজীব করবে ।

আপনার যা লাগবে –

২ টেবিল চামচ প্রাকৃতিক টক দই
১ টেবিল চামচ প্রাকৃতিক মধু
১ টেবিল চামচ আভাকাডো পেস্ট
১ টেবিল চামচ রান্না করা ওটমিল
সব উপকরণ একসাথে নিয়ে ব্লেন্ডার এ দিয়ে মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন। এই পেস্ট আপনার মুখে লাগিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রাখুন । ভিজা নরম কাপড় দিয়ে এই পেস্ট আস্তে আস্তে তুলে ফেলুন । দেখুন  ত্বক  কতো নরম আর সজীব।

(২) সংবেদনশীল ত্বকের জন্য

আপনার ত্বকে যদি সানবার্ন হয় বা কোন কারণে ইনফেকশান হয় তাহলে এই নীচের ফেইস প্যাকটি লাগিয়ে দেখুন ।

আপনার যা লাগবে-

 ১/৪ কাপ ফুল ফ্যাট প্লেইন  টক দই
 ১/৪ কাপ টুকরো শশা
 ১ টেবিল চামচ এলোভেরাজেল ( এলোভেরা রসও ব্যবহার করা যেতে পারে)
 কয়েক ফোটা ক্যামোমিল তেল           
১ টেবিল চামচ মধু
সব উপকরণ একসাথে নিয়ে ব্লেন্ডার এ দিয়ে মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন। এই পেস্ট আপনার মুখে লাগিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রাখুন ।ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ব্যস।

(৩) প্রাকৃতিক উপায়ে গ্লোইং ত্বক  পেতে

আপনার যা যা লাগবে

 টক দই
মুসুর ডাল বাটা
কমলার খস
সব উপকরণ একসাথে নিয়ে ব্লেন্ডার এ দিয়ে মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন। ত্বকে দিয়ে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে ধুয়ে ফেলুন। ত্বক শুষ্ক হলে এর সাথে মধু মিশিয়ে নিতে পারেন।

(৪) নিস্প্রান ত্বকের জন্য

দূষণ আর অবেহেলায় ত্বক যদি নিস্প্রান হয়ে ওঠে তখন এই টক দইয়ের প্যাকটি অবশ্যই ট্রাই করবেন ।

আপনার যা লাগবে

৪ টেবিল চামচ টক দই
১ টেবিল চামচ  মধু
১ টেবিল চামচ  নারকেল গুড়া
সব উপকরণ একসাথে নিয়ে ব্লেন্ডার এ দিয়ে মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন। ত্বকে দিয়ে ২০  মিনিট অপেক্ষা করুন। কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে ধুয়ে ফেলুন। ত্বক স্বাস্থ্যময় আর গ্লোয়িং হয়ে উঠবে। 

এবার প্রশ্ন হল, টক দইয়ের ফেইস প্যাক সপ্তাহে কতদিন ব্যবহার করবেন?

আপনার ত্বক  যদি তৈলাক্ত ও একনে প্রন হয় তাহলে আপনি ভালো ফলাফলের জন্য প্রতিদিন ব্যবহার করতে পারবেন । আর আপনার ত্বক  যদি শুষ্ক হয় তাহলে সপ্তাহে ২ থেকে ৩ বার ব্যবহার করুন ত্বক ময়েশ্চারাইজ ও সজীব রাখতে।

26
এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে আমেরিকায় মৃত্যুহার বেড়ে যাওয়ার প্রধান কারণ হচ্ছে হৃদরোগ বা হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে যাওয়া। আমাদের দেশেও এই হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। মূলত দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় মানসিক চাপ বৃদ্ধি পাওয়া এবং অধিক মাত্রায় অস্বাস্থ্যকর খাবার (junk-food) গ্রহণ হার্ট অ্যাটাক এর প্রধান কারণ।
জীবনযাত্রার মান স্বাস্থ্যসম্মত করার মাধ্যমে এর প্রতিকার করা অনেকাংশে সম্ভব। তাছাড়া কিছু লক্ষণ আছে যা দেখে ধারণা করা সম্ভব এক মাসের মধ্যে হার্ট-অ্যাটাক হতে পারে, এই সব লক্ষণগুলোকে অবশ্যই সতর্কতার লাল চিহ্নিত তালিকায় দিতে হবে।

হার্ট অ্যাটাক এর ৬টি লক্ষণ

১. অধিকমাত্রায় অবসাদ

যখন হৃৎপিণ্ডের ধমনীগুলো সরু হয়ে যায় তখন হৃৎপিণ্ড স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম রক্ত পায়, তাই একে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক গুণ বেশি কাজ করতে হয়। আর এই কারণে শরীর অত্যাধিক ক্লান্ত হয়ে পরে।

২. শ্বাসপ্রশ্বাসে বাঁধা

যখন হৃৎপিণ্ড প্রয়োজনের তুলনায় কম রক্ত পায় তখন ফুসফুসও পরিমিত অক্সিজেন পায় না। এই দুই তন্ত্র একে অন্যের উপর ওতপ্রত ভাবে জড়িত। একে ছাড়া অন্যটি একেবাড়েই কাজ করতে পারে না। তাই শ্বাসপ্রশ্বাসে প্রচন্ড রকম বাঁধার সৃষ্টি হয়, এটি হার্ট অ্যাটাক হবার নিকটতম লক্ষন হতে পারে তাই অতি দ্রুত ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে।

৩. দুর্বলতা

যখন শরীর হঠাৎ করে অত্যাধিক দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন এটার কারণ ধমনী অধিক মাত্রায় সরু হয়ে যাওয়ায় রক্ত-সঞ্চালন ঠিকমত হচ্ছে না। তাই  মাংসপেশীতে রক্ত সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। হঠাৎ হওয়া এমন দুর্বলতাকে কখনই তুচ্ছজ্ঞান করা যাবে না, এমতাবস্থায় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

৪. মাথা ঘোরানো ও শরীর ঠান্ডা হয়ে যাওয়া

রক্ত-সঞ্চালন কমে গেলে মাথার স্নায়ুকেন্দ্রেও এর প্রবাহ ব্যহত হয়। মাথা আমাদের পুরো শরীরের নিয়ন্ত্রক তাই এটা খুবই মারাত্মক; এর ফলে মাথা ঘোরায় এবং শরীর ঠান্ডা হয়ে যায়। এটি কখনই অবহেলা করা ঠিক নয়।

৫. বুকে ব্যথা অথবা চাপ অনুভূত হওয়া

অন্যান্য উপসর্গের সাথে যদি বুকে কোন প্রকার অস্বস্তিদায়ক চাপ অথবা ব্যথা অনুভূত হয় এবং যদি এটা কম পরিমাণেও হয় তাতেও এটি সমস্যার কারণ হতে পারে। এই চাপ হার্ট অ্যাটাক হবার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত ক্রমান্বয়ে বাড়তে পারে।

৬. সর্দি উপসর্গ

ঠান্ডা-সর্দি অথবা ভাইরাস জনিত ফ্লু হতে পারে হার্ট অ্যাটাক সমস্যার পূর্ব লক্ষণ, বেশ কিছু ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে হৃদক্রিয়ায় সমস্যা জনিত রোগীরা এতে আক্রান্ত হবার কিছুদিন আগে ঠান্ডা-সর্দিতে আক্রান্ত হয়েছে।

হার্ট অ্যাটাক এর লক্ষনসমূহ থাকলে কী করতে হবে

যদি আপনি অথবা আপনার পরিচিত কেউ হয়ে থাকেন উপরোক্ত লক্ষণ সমূহের ভুক্তভোগী, তাহলে আর দেরি না করে অবিলম্বে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। হার্ট অ্যাটাক অথবা হৃদক্রিয়া বন্ধ হওয়া প্রতিরোধ করার সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে পূর্ব লক্ষণসমূহ পর্যবেক্ষণের পর ডাক্তারের পরামর্শমত চলা। আর সতর্ক হবার সাথে সাথে জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করতে হবে। যেই সব কারণ এত ভয়াভহ পর্যায়ের দিকে নিয়ে যায়, সেইসব কারণ ত্যাগ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে।

27
আমরা বাজার থেকে নানান রকম মুখের মাস্ক অনেক টাকা দিয়ে কিনে এনে ব্যবহার করে থাকি। যার বেশির ভাগ-ই হলো অকার্যকর এবং নকল। কিন্তু আমরা ঘরে বসেই সেই মাস্ক তৈরি করতে পারি যা আমাদের ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। কমলা এমন একটি ফল যা সারা বছর ধরে পাওয়া যায়। আমরা কমলা খেয়ে সেটার খোসাটি খুব সহজেই ছুঁড়ে ফেলে দেই। কিন্তু এই ছুঁড়ে ফেলে দেয়া জিনিসটি যে আমাদের কত উপকারে আসে তা আমরা অনেকেই জানি না। এমনকি এই খোসা দিয়েই অনেক নামী দামী পার্লার আমাদের মুখে মাস্ক হিসেবে ব্যবহার করে। তাহলে আসুন জেনে নেই কিভাবে ঘরে বসেই কমলার খোসা দিয়ে ত্বকের ধরন অনুযায়ী মাস্ক তৈরি করা যায়।

স্বাভাবিক ত্বকের মাস্ক

১) প্রথমে কমলা থেকে খোসা ছাড়িয়ে নিতে হবে। তারপর সেই খোসা গুলোকে ২৪-৪৮ ঘণ্টা শুকাতে হবে। তাড়াতাড়ি শুকানোর জন্য রোদে দেয়া যেতে পারে।

২) পুরোপুরি শুকিয়ে গেলে খোসা গুলোকে চূর্ণ করে পাউডারের মত করতে হবে। এর জন্য আপনি ব্লেন্ডার ব্যবহার করতে পারেন।

৩) ১ বা ২ টেবিল চামচ খোসা থেকে তৈরি পাউডার এর সাথে সম পরিমাণ দুধ বা পানি মিশান। পেস্ট তৈরি না হওয়া পর্যন্ত নাড়তে থাকুন। বাতাস ঢুকতে না পারে এমন একটি পাত্রে করে পেস্ট টি ১ ঘণ্টা ফ্রিজে রেখে দিন ঠাণ্ডা হওয়ার জন্য।


ঠাণ্ডা হয়ে গেলে ঠোঁট আর চোখের অংশ বাদ দিয়ে পুরো মুখে পেস্টটি মাখুন এবং শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। ৩০ মিনিট পর মাক্সটি সাবধানে পানি দিয়ে তুলুন। মাক্স উঠানোর সময় হাত দিয়ে মুখ ঘষবেন না। এতে ত্বক শুষ্ক আর নিস্প্রাণ হয়ে যেতে পারে।

শুষ্ক ত্বকের মাস্ক

উপকরণ

১) আধা কাপ কমলার রস

২) তিন টেবিল চামচ টক দই

৩) দুই টেবিল চামচ মধু

৪) এক চা চামচ কমলার খোসার গুঁড়ো


সকল উপাদান একটি ছোট পাত্রে মিশান। মিশ্রণ টি বেশি পাতলা বা ঘন যেন না হয়। যদি ঘন হয়ে যায় তাহলে কিছু কমলার রস মিশাতে পারেন। ১৫-২০ মিনিট মাস্কটি মুখে রাখুন তারপর গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। নিমিষেই আপনি আপনার ত্বকের অনেক পরিবর্তন দেখতে পাবেন।

তৈলাক্ত ত্বকের মাস্ক

উপকরণ

১) চার ভাগের এক কাপ কমলার রস

২) চার ভাগের তিন কাপ চিনি

৩) এক টেবিল চামচ মধু

৪) এক টেবিল চামচ কর্নমিল


সকল উপকরণ এক সাথে মিশিয়ে নিন। মাস্কটি ব্যবহারের পূর্বে গরম পানি দিয়ে মুখটি পরিষ্কার করে নিন। এতে আপনার ত্বকটি কোমল হবে। তারপর স্ক্রাবটি পুরো মুখে আঙ্গুল দিয়ে গোল গোল আকৃতি করে ঘষুন। এতে করে স্ক্রাবটি অতিরিক্ত তেল শুষে নিবে। এই স্ক্রাবটি সপ্তাহে একবার ব্যবহার করবেন। তাহলেই আপনার মুখের তৈলাক্ত ভাব অনেক কমে যাবে। আপনি পাবেন স্বাস্থ্যজ্জ্বল ত্বক।

28
হিজাব যেমন ইসলামে পর্দার একটা অংশ, তেমনি এটি নারীদের সৌন্দর্যও বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু আমাদের চুলগুলো অধিক সময় ধরে হিজাব/স্কার্ফ এর নিচে থাকার ফলে অনেক সময় চুলে অনেক ধরণের সমস্যা দেখা দেয়। এই সমস্যায় প্রায় সব হিজাব ব্যবহারকারী নারীরাই ভুগে থাকেন।

চুল পড়া, চুল রুক্ষ হয়ে যাওয়া, খুশকি, এবং চুলের গোড়া চটচটে হয়ে যাওয়াসহ নানা সমস্যা দেখা দেয়। তাই বলে তো আর হিজাব ছেড়ে দেওয়া যাবে না।এই জন্যে, আজ আমি শেয়ার করবো হিজাবে অভ্যস্ত নারীদের চুলের যত্ন সম্পর্কে কিছু টিপস।

(১) অনেক সময় ধরে হিজাব পরিধানের ফলে, বিশেষ করে গরমকালে মাথার ত্বক ঘেমে যায়। এছাড়াও আমাদের মাথার ত্বক কিছু ন্যাচারাল অয়েল ছাড়ে। এর ফলে মাথার ত্বক চটচটে হয়ে যায় এবং চুলকানির সৃষ্টি হয়।  এজন্যে মাথার ত্বক সবসময় পরিষ্কার রাখতে হবে। সপ্তাহে ২-৩ দিন কোনো মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে চুল পরিষ্কার করতে হবে। এক্ষেত্রে আপনারা বেবি শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন। কারণ এগুলোতে ক্ষতিকর কেমিক্যালগুলো কম থাকে।

(২) অনেক সময় তাড়াহুড়োতে চুল শ্যাম্পু করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। এক্ষেত্রে চটজলদি সমাধান পেতে ব্যবহার করুন ড্রাই শ্যাম্পু। বাজারে অনেক ব্রান্ডের ড্রাই শ্যাম্পু রয়েছে। এগুলো থেকে যে কোনো একটা বেছে নিন। মাথার ত্বকে সিঁথি কেটে কেটে ড্রাই শ্যাম্পু লাগিয়ে নিন। হেয়ার কম্বের সাহায্যে চুলগুলো আঁচড়ে নিন। ব্যস।

(৩) অনেকেই আছেন, তাড়াহুড়ায় গোসলের পরে চুল পুরোপুরিভাবে না শুকিয়েই হিজাব বেঁধে ফেলেন। আর এর ফলেই দেখা দেয় খুশকি এবং এমন কি উকুনও। তাই এই কাজটি করা কখনোই উচিত নয়। সবসময় চুল বাতাসে পুরোপুরিভাবে শুকিয়ে নিবেন। তবে, হাতে একদম সময় না থাকলে হেয়ার ড্রাইয়ার ব্যবহার করতে পারেন। চুল শুকিয়ে নেওয়ার পর, চুলগুলো ভালোমতো আচড়ে নিবেন।

(৪) হিজাব বাঁধার আগে সবাইই চুল বেঁধে নেন। তবে এক্ষেত্রে চুল খুবই শক্ত করে বাধা যাবে না। এতে চুল গোড়া থেকে উঠে আসে। চেষ্টা করবেন, সবসময় সফট কোনো ব্যান্ড দিয়ে চুল বাঁধতে এবং অতিরিক্ত ববি পিন/ ক্লিপ ব্যবহার না করতে। হার্ড রাবার ব্যান্ড আমাদের চুলকে ড্যামেজ করে দেয়।

(৫) চুলকে হাইড্রেট রাখতে চুলে তেল ম্যাসাজ করা অত্যন্ত জরুরী। চুলে ব্যবহার করুন ভিটামিন ই যুক্ত অয়েল যেমন, আমন্ড অয়েল, আর্গান অয়েল। সপ্তাহে অন্তত ১ দিন হট অয়েল ম্যাসাজ করার অভ্যাস করতে হবে। এক্ষেত্রে বেছে নিন কোকোনাট অয়েল অথবা অলিভ অয়েল। এই তেলগুলো একটা পাত্রে নিয়ে হালকা গরম করে মাথার ত্বকে ম্যাসাজ করুন। হট অয়েল ম্যাসাজের ফলে আমাদের মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পাবে এবং চুলের দ্রুত বৃদ্ধি হবে।

(৬) চুলের স্বাস্থ্য রক্ষার জন্যে সপ্তাহে একদিন চুলে একটা প্রোটিন হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করবেন। এতে চুলের গোড়া শক্ত হবে, চুল সফট, শাইনি এবং ড্যামেজ ফ্রি হবে। একটা বাটিতে একটি পাকা কলা নিয়ে কাটা চামচের সাহায্যে ম্যাশড করে নিন। এর মধ্যে ১ টি ডিম এবং ৩ টেবিল চামচ টক দই যোগ করুন। এই হেয়ার মাস্কটি পুরো চুলে লাগিয়ে নিন। ২ ঘন্টা পর শ্যাম্পু এবং কন্ডিশনার লাগিয়ে নিন।

 (৭) আমাদের চুল এবং মাথার ত্বকে অক্সিজেন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর হিজাব পরিধানের ফলে মাথার ত্বকে অক্সিজেন প্রবেশে বাধা পায়। বিশেষ করে গরমকালে ভারী ধরণের স্কার্ফ ব্যবহারের ফলে মাথার ত্বক পরিপূর্ণ অক্সিজেন পায় না এবং মাথার ত্বক চটচটে হয়ে যায়। তাই এসব স্কার্ফ রেখে দিন শীতকালের জন্য। সামনে গরম আসছে, তাই গরমকালের জন্যে সুতি এবং সফট ধরণের স্কার্ফ বেছে নিন। এ ধরনের স্কার্ফ মাথার অতিরিক্ত ঘাম শুষে নেয় এবং মাথার ত্বক ফ্রেশ রাখতে সাহায্য করে।

(৮) হিজাব ক্যাপ, স্কার্ফ এগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করে ফেলবেন। ব্যাক্টেরিয়া সংক্রান্ত কোনো সমস্যা থেকে বাঁচতে এগুলো পরিষ্কার রাখা খুবই জরুরী। আর একটি কথা, নিজের ব্যবহৃত হিজাব অন্যকে পরতে দিবেন না এবং অন্যের ব্যবহৃত হিজাব নিজে পরিধান করবেন না। এতে খুশকি, উকুন ইত্যাদি হওয়ার সম্ভবনা থাকে।

এই তো ছিলো, হিজাব ব্যবহারকারী নারীদের জন্যে কিছু হেয়ার কেয়ার টিপস।

30
শিশুর পেটে গ্যাস হলে মা-বাবা চিন্তায় পড়ে যান কী করলে ভালো লাগবে, কান্নাকাটি একটু থামবে কিংবা কোন ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবেন ইত্যাদি। কেউ কেউ বলেন, বাচ্চার পেটে বাতাস লেগেছে, দুধে বাতাস লেগেছে, যার কারণে বমি করে দিচ্ছে।আসল কথা হলো, পেটে গ্যাস বাচ্চাদেরও হয় আবার বড়দেরও হয়। বাচ্চারা বলতে পারে না যে তাদের কেমন লাগছে আর তাই আমরা বুঝতেও পারি না।

শিশুর পেটে গ্যাস কেন হয়?

বাচ্চার পেটে গ্যাস হওয়ার বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে। জন্মের তিন মাস পর্যন্ত নবজাতকের গ্যাসের সমস্যা খুবই স্বাভাবিক কারণ এ সময় বাচ্চার পরিপাক্তন্ত্র ধীরে ধীরে সুগঠিত হয়। ৬-১২ মাস পর্যন্তও এটা স্বাভাবিক কারণ এ সময় বাচ্চা বিভিন্ন ধরনের খাবার প্রথম বারের মত খাওয়া শুরু করে।

বাচ্চার পেটে যখন গ্যাস হয় তখন তার পাকস্থলী বাতাসের কারণে ফুলে যায় যা বাচ্চার হজমের প্রক্রিয়ার কারণে হতে পারে বা খাওয়ার সময় বাচ্চার পেটে বাতাস ঢুকে যাওয়ার কারনেও হতে পারে। শিশুর পেটে গ্যাস হওয়ার কিছু সাধারণ কারণ হলো-

খুব দ্রুত খাওয়াঃ

যদি বাচ্চার মায়ের বুকের দুধ বেশী থাকে বা বোতলে খাওয়ানো বাচ্চার বোতলের নিপলের ছিদ্র যদি বড় থাকে তবে বাচ্চা খুব দ্রুত দুধ গিলতে থাকে এবন সেই সাথে বাতাসও বাচ্চার পেটে চলে যায়, যার কারণে গ্যাস হতে পারে।

খুব আস্তে খাওয়াঃ

একইভাবে মায়ের বুকে দুধ কম আসলে বা বোতলের ছিদ্র বেশী ছোট হলে বাচ্চার দুধ খাওয়ার সময় অতিরিক্ত বাতাস বাচ্চার পেটে চলে যায় এবং গ্যাস তৈরি করে।

বোতলের দুধে ফেনা থাকলেঃ

বাচ্চাকে ফর্মুলা খাওয়ানো হলে ফর্মুলা তৈরি করার সময় বোতল যত বেশী ঝাঁকানো হয় তত বেশী তাতে ফেনা হয়। এতে বাচ্চার পেটে গ্যাস হতে পারে। তাই দুধ তৈরি করার পর কিছুক্ষণ রেখে দিন যাতে ফেনা কমে যায়। এরপর বাচ্চাকে খেতে দিন।

দুধের কোন নির্দিষ্ট প্রোটিন এর কারণেঃ

 বাচ্চার যদি বুকের দুধ খায় তবে মায়ের ডায়েটের কোন প্রোটিনের কারণে বাচ্চার পেটে গ্যাস হতে পারে। মা ডেইরি প্রোডাক্ট খেলে এ সমস্যা বেশী দেখা যায়। কিসের কারণে হচ্ছে তা নিশ্চিত করা গেলে তা মায়ের ডায়েট থেকে বাদ দিন। যদি বাচ্চা ফর্মুলা খায় তবে ফরমুলার কোন প্রোটিন হয়ত বাচ্চার সহ্য হচ্ছেনা তাই গ্যাস হচ্ছে। এমন হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ফর্মুলা পরিবর্তন করে দেখতে পারেন। মায়ের ডায়েটের কারণে হচ্ছে মনে হলে মায়ের ডায়েট থেকে একবারে একধরনের খাবার বাদ দিয়ে দেখুন বাচ্চার সমস্যা কম হচ্ছে কিনা।

কিছু কিছু খাবারের কারণেঃ

বড়দের মত বাচ্চাদের কিছু কিছু সবজিতে পেটে গ্যাস হতে পারে। যেমন- ব্রকলি এবং বাঁধাকপি। এগুলো যদি খুবই স্বাস্থ্যকর এবং খাওয়া উচিত তারপরও চেষ্টা করুন যাতে খুব বেশী পরিমাণে খাওয়ানো না হয়। ছয় মাস বয়সের পর বুকের দুধের পাশাপাশি একটু বাড়তি খাবার দেওয়া হয়। এতেও অনেক সময় পেটে গ্যাস হতে পারে। এসব শিশুর বাড়তি খাবারে বিভিন্ন প্রকার ফল বা শাকসবজি দিয়ে খিচুড়ি এবং মাছ-মাংস ও ডিম থাকে।

অনেক সময় খিচুড়িতে শাকের পরিমাণ বেশি হলে গ্যাস হওয়ার ঝুঁকি থাকে আবার ডালেও গ্যাস হতে পারে, এমনকি সিদ্ধ ডিমেও গ্যাস হতে পারে। তাই উচিত বাড়তি খাবার দেওয়ার সময় খাবারের দিকে নজর রাখা। যেমন- খিচুড়িতে শাক ও ডালের পরিমাণ কম দিয়ে কাঁচা কলা বা কাঁচা পেঁপের পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া।

জুস খাওয়ার কারণেঃ

 বাচ্চাদের মায়ের দুধ এবং ফর্মুলা ছাড়া অন্য কোন পানীয় খাওয়া উচিত নয়। যদি ৬ মাস হয় তবে পানি খেতে পারে। জুসে যে ফ্রুক্টোস ও সুক্রোস থাকে তা বাচ্চা ঠিকমত হজম করতে পারেনা। এর ফলে বাচ্চার পেটে গ্যাস এমনকি ডায়রিয়াও হতে পারে।

পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি না খাওয়াঃ

বাচ্চা ৬ মাস হওয়ার পর পর্যাপ্ত পানি খেলে তার কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমতে পারে। কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে অনেক সময় পেটে গ্যাস ও ব্যাথা হয়। ৬ মাস বয়সী বাচ্চাকে দৈনিক বুকের দুধ বা ফর্মুলার পাশাপাশি ২-৪ আউন্স পানি খাওয়াতে হবে। বাচ্চার বয়স ১২ মাস হলে তা বাড়িয়ে ৪-৬ আউন্স করুন।

বাচ্চার অতিরিক্ত কান্নার কারণেঃ  বাচ্চা অনেক্ষন ধরে কান্না করতে থাকলে তার পেটে বাতাস ঢুকে যেতে পারে। তাই বাচ্চার কান্না যত দ্রুত সম্ভব থামানো উচিত।

কিভাবে বুঝবেন বাচ্চার পেটে গ্যাস হয়েছে?

বাচ্চার পেটে গ্যাস হচ্ছে কিনা সেটা বোঝাটা কষ্টকর কারণ বাচ্চা নিজ থেকে তার অসুবিধাগুলো বলতে পারেনা। তবে কিছু কিছু লক্ষন তার মধ্যে দেখা যেতে পারে-

চেহারা লাল হয়ে যাওয়া
কান্নাকাটি করা
খাওয়ার পর মোচড়ানো
হাত মুষ্টিবদ্ধ করে রাখা
পা ভাজ করে পেটের কাছে নিয়ে আসা ইত্যাদি।
তাছারা বাচ্চা যদি ঢেঁকুর তুলে বা বায়ু ত্যাগ করে তাহলে নিশ্চিতভাবে বুঝতে পারবেন যে তার গ্যাসের সমস্যা হচ্ছে।

তবে মাঝে মাঝে গ্যাসের সমস্যার এ লক্ষনগুলো অন্য কোন সমস্যারও ইঙ্গিত করতে পারে। বাচ্চা যদি ঢেঁকুর তোলার পর বা বায়ু ত্যাগ করার পরও কান্নাকাটি করতে থাকে তবে ধরে নিতে পারেন তার অন্য কোন সমস্যা হচ্ছে, যেমন- রিফ্লাক্স, কোষ্ঠকাঠিন্য বা কলিক।

Pages: 1 [2] 3 4 ... 16