Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - saima rhemu

Pages: 1 2 [3] 4 5 ... 16
31
শিশুর পেটে গ্যাস হলে মা-বাবা চিন্তায় পড়ে যান কী করলে ভালো লাগবে, কান্নাকাটি একটু থামবে কিংবা কোন ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবেন ইত্যাদি। কেউ কেউ বলেন, বাচ্চার পেটে বাতাস লেগেছে, দুধে বাতাস লেগেছে, যার কারণে বমি করে দিচ্ছে।আসল কথা হলো, পেটে গ্যাস বাচ্চাদেরও হয় আবার বড়দেরও হয়। বাচ্চারা বলতে পারে না যে তাদের কেমন লাগছে আর তাই আমরা বুঝতেও পারি না।

শিশুর পেটে গ্যাস কেন হয়?

বাচ্চার পেটে গ্যাস হওয়ার বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে। জন্মের তিন মাস পর্যন্ত নবজাতকের গ্যাসের সমস্যা খুবই স্বাভাবিক কারণ এ সময় বাচ্চার পরিপাক্তন্ত্র ধীরে ধীরে সুগঠিত হয়। ৬-১২ মাস পর্যন্তও এটা স্বাভাবিক কারণ এ সময় বাচ্চা বিভিন্ন ধরনের খাবার প্রথম বারের মত খাওয়া শুরু করে।

বাচ্চার পেটে যখন গ্যাস হয় তখন তার পাকস্থলী বাতাসের কারণে ফুলে যায় যা বাচ্চার হজমের প্রক্রিয়ার কারণে হতে পারে বা খাওয়ার সময় বাচ্চার পেটে বাতাস ঢুকে যাওয়ার কারনেও হতে পারে। শিশুর পেটে গ্যাস হওয়ার কিছু সাধারণ কারণ হলো-

খুব দ্রুত খাওয়াঃ

যদি বাচ্চার মায়ের বুকের দুধ বেশী থাকে বা বোতলে খাওয়ানো বাচ্চার বোতলের নিপলের ছিদ্র যদি বড় থাকে তবে বাচ্চা খুব দ্রুত দুধ গিলতে থাকে এবন সেই সাথে বাতাসও বাচ্চার পেটে চলে যায়, যার কারণে গ্যাস হতে পারে।

খুব আস্তে খাওয়াঃ

একইভাবে মায়ের বুকে দুধ কম আসলে বা বোতলের ছিদ্র বেশী ছোট হলে বাচ্চার দুধ খাওয়ার সময় অতিরিক্ত বাতাস বাচ্চার পেটে চলে যায় এবং গ্যাস তৈরি করে।

বোতলের দুধে ফেনা থাকলেঃ

বাচ্চাকে ফর্মুলা খাওয়ানো হলে ফর্মুলা তৈরি করার সময় বোতল যত বেশী ঝাঁকানো হয় তত বেশী তাতে ফেনা হয়। এতে বাচ্চার পেটে গ্যাস হতে পারে। তাই দুধ তৈরি করার পর কিছুক্ষণ রেখে দিন যাতে ফেনা কমে যায়। এরপর বাচ্চাকে খেতে দিন।

দুধের কোন নির্দিষ্ট প্রোটিন এর কারণেঃ

 বাচ্চার যদি বুকের দুধ খায় তবে মায়ের ডায়েটের কোন প্রোটিনের কারণে বাচ্চার পেটে গ্যাস হতে পারে। মা ডেইরি প্রোডাক্ট খেলে এ সমস্যা বেশী দেখা যায়। কিসের কারণে হচ্ছে তা নিশ্চিত করা গেলে তা মায়ের ডায়েট থেকে বাদ দিন। যদি বাচ্চা ফর্মুলা খায় তবে ফরমুলার কোন প্রোটিন হয়ত বাচ্চার সহ্য হচ্ছেনা তাই গ্যাস হচ্ছে। এমন হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ফর্মুলা পরিবর্তন করে দেখতে পারেন। মায়ের ডায়েটের কারণে হচ্ছে মনে হলে মায়ের ডায়েট থেকে একবারে একধরনের খাবার বাদ দিয়ে দেখুন বাচ্চার সমস্যা কম হচ্ছে কিনা।

কিছু কিছু খাবারের কারণেঃ

বড়দের মত বাচ্চাদের কিছু কিছু সবজিতে পেটে গ্যাস হতে পারে। যেমন- ব্রকলি এবং বাঁধাকপি। এগুলো যদি খুবই স্বাস্থ্যকর এবং খাওয়া উচিত তারপরও চেষ্টা করুন যাতে খুব বেশী পরিমাণে খাওয়ানো না হয়। ছয় মাস বয়সের পর বুকের দুধের পাশাপাশি একটু বাড়তি খাবার দেওয়া হয়। এতেও অনেক সময় পেটে গ্যাস হতে পারে। এসব শিশুর বাড়তি খাবারে বিভিন্ন প্রকার ফল বা শাকসবজি দিয়ে খিচুড়ি এবং মাছ-মাংস ও ডিম থাকে।

অনেক সময় খিচুড়িতে শাকের পরিমাণ বেশি হলে গ্যাস হওয়ার ঝুঁকি থাকে আবার ডালেও গ্যাস হতে পারে, এমনকি সিদ্ধ ডিমেও গ্যাস হতে পারে। তাই উচিত বাড়তি খাবার দেওয়ার সময় খাবারের দিকে নজর রাখা। যেমন- খিচুড়িতে শাক ও ডালের পরিমাণ কম দিয়ে কাঁচা কলা বা কাঁচা পেঁপের পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া।

জুস খাওয়ার কারণেঃ

 বাচ্চাদের মায়ের দুধ এবং ফর্মুলা ছাড়া অন্য কোন পানীয় খাওয়া উচিত নয়। যদি ৬ মাস হয় তবে পানি খেতে পারে। জুসে যে ফ্রুক্টোস ও সুক্রোস থাকে তা বাচ্চা ঠিকমত হজম করতে পারেনা। এর ফলে বাচ্চার পেটে গ্যাস এমনকি ডায়রিয়াও হতে পারে।

পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি না খাওয়াঃ

বাচ্চা ৬ মাস হওয়ার পর পর্যাপ্ত পানি খেলে তার কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমতে পারে। কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে অনেক সময় পেটে গ্যাস ও ব্যাথা হয়। ৬ মাস বয়সী বাচ্চাকে দৈনিক বুকের দুধ বা ফর্মুলার পাশাপাশি ২-৪ আউন্স পানি খাওয়াতে হবে। বাচ্চার বয়স ১২ মাস হলে তা বাড়িয়ে ৪-৬ আউন্স করুন।

বাচ্চার অতিরিক্ত কান্নার কারণেঃ  বাচ্চা অনেক্ষন ধরে কান্না করতে থাকলে তার পেটে বাতাস ঢুকে যেতে পারে। তাই বাচ্চার কান্না যত দ্রুত সম্ভব থামানো উচিত।

কিভাবে বুঝবেন বাচ্চার পেটে গ্যাস হয়েছে?

বাচ্চার পেটে গ্যাস হচ্ছে কিনা সেটা বোঝাটা কষ্টকর কারণ বাচ্চা নিজ থেকে তার অসুবিধাগুলো বলতে পারেনা। তবে কিছু কিছু লক্ষন তার মধ্যে দেখা যেতে পারে-

চেহারা লাল হয়ে যাওয়া
কান্নাকাটি করা
খাওয়ার পর মোচড়ানো
হাত মুষ্টিবদ্ধ করে রাখা
পা ভাজ করে পেটের কাছে নিয়ে আসা ইত্যাদি।
তাছারা বাচ্চা যদি ঢেঁকুর তুলে বা বায়ু ত্যাগ করে তাহলে নিশ্চিতভাবে বুঝতে পারবেন যে তার গ্যাসের সমস্যা হচ্ছে।

তবে মাঝে মাঝে গ্যাসের সমস্যার এ লক্ষনগুলো অন্য কোন সমস্যারও ইঙ্গিত করতে পারে। বাচ্চা যদি ঢেঁকুর তোলার পর বা বায়ু ত্যাগ করার পরও কান্নাকাটি করতে থাকে তবে ধরে নিতে পারেন তার অন্য কোন সমস্যা হচ্ছে, যেমন- রিফ্লাক্স, কোষ্ঠকাঠিন্য বা কলিক।

32
কফ কি এবং কেন হয়?

কফ হলো গলার অস্বস্তিকর পিচ্ছিল পদার্থ। এটা শ্বাস নালীতে তৈরি এবং সেখান থেকে নিঃসৃত রস যা কাশির মাধ্যমে শ্বাসনালী থেকে বের হয়ে আসে তাকেই কফ বলা হয়। বাইরের জিনিস শ্বাসনালীতে প্রবেশ করলে শরীরের Protective mechanism এর ফলে শ্বাসনালী তা কফের মাধ্যমে শরীর থেকে বের করে দেয়- এই প্রক্রিয়াকে কাশি বলা হয়। গলার গ্ল্যান্ডগুলো দিনে প্রায় এক থেকে দুই লিটার কফ তৈরি করে।

কফ হলো আমাদের শ্বাসনালীর রস। শ্বাসনালীকে ভিজিয়ে রাখা কফের কাজ। শ্বাসনালী কোনো কারণে প্রয়োজনের অতিরিক্ত কফ তৈরী করলে আমরা গলায় অস্বস্তিকর কফের অনুভুতি পাই। কফ হল কাশি সৃষ্টির জন্য অন্যতম একটি কারণ। যে কোনো কারণে শ্বাসনালীতে ইনফেকশন বা Stimulation হলে কফের সৃষ্টি হয়। যেমন- Viral Infection, Bacterial infection ইত্যাদি।

মনে রাখবেন কফ কোন অসুখ নয়, অন্য রোগের উপসর্গ – কফ হল শ্লেষ্মা যুক্ত মিউকাস ।

শীতকালে সর্দি কাশিতে আক্রান্ত হয় শিশুরা। বুকে জমে থাকা কফ ও কাশির কারণে ঘুমাতে পারে না। সর্দিতে নাক বন্ধ হয়ে যায়, নিঃশ্বাস নিতে ছটফট করতে থাকে, পরে কান্না জুরে দেয়। এসময় শিশুর সঙ্গে মা-বাবাকেও নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়।বাচ্চার কফ জমা সাধারন সর্দি কাশি থেকে শুরু করে বিভিন্ন ইনফেকশনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। বাচ্চাদের নাসারন্ধ্র ছোট বলে কফ একটু বেড়ে গেলেই তাদের কষ্ট হয়।

অনেকেই বাচ্চার কফ বা কাশি হলেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই পাড়ার দোকান থেকে কিনে নেন কাশির ওষুধ। আর দিনে দু-একবার দু-তিন চামচ করে খাওয়াতে থাকেন। কিন্তু আমেরিকান অ্যাকাডেমী অব পেডিয়াট্রিকস এর মতে এ ধরনের কাশির ওষুধ ৬ মাসের নিচের বাচ্চাদের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। আর এসব ওষুধ বাচ্চাদের ক্ষেত্রে কার্যকরীও নয়।

এর মানে অবশ্য এই নয় যে বাচ্চাকে কষ্ট পেতেই হবে। কিছু কিছু ঘরোয়া পদ্ধিতিতে আপনি বাচ্চার সাধারন সর্দি কাশি বা কফের সমস্যায় বাচ্চাকে আরাম দিতে পারেন। যদিও এ পদ্ধতিগুলোর কোনটাই বাচ্চার অসুস্থতা তাড়াতাড়ি সাড়িয়ে তুলবেনা কিন্তু এগুলো তাকে সুস্থবোধ করতে সাহায্য করবে। তবে কফ যদি খুব বেশীদিন থাকে এবং বাচ্চার শ্বাসপ্রশ্বাসে যদি খুব বেশী সমস্যা হয় তাহলে অবশ্যয় বাচ্চাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে।

আসুন এবার জেনে নেয়া যাক কিভাবে ঘরোয়া উপায়ে কফ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

বাচ্চার নাক ও গলার কফ কমাতে কিছু ঘরোয়া উপায়

বিশ্রাম

সর্দি কাশি বা কফ মানেই হলো ইনফেকশন। আর এর বিরুদ্ধে লড়তে হলে চাই শক্তি। এই কারনেই যে কোন বয়সের মানুষেরই এ সময় প্রচুর বিশ্রাম দরকার। শিশুরা যখন বিশ্রাম নেয় তখন তারা আরোগ্য লাভ করতে থাকে। তাই এসময় শিশুর যথেষ্ট বিস্রামের ব্যাবস্থা করুন।

বিশ্রাম মানে আবার এটা নয় যে বাচ্চাকে বিছানায় শুয়ে থাকতে হবে বা ঘুমাতে হবে। বাচ্চার রিলাক্স করার ব্যাবস্থা করুন। তার জন্য এমন কোন খেলার ব্যাবস্থা করুন যেটাতে তার দৌড়ঝাপ করতে হবেনা। বাচ্চাকে হয়ত টিভি থেকে দূরে রাখতে চাইছেন। কিন্তু এ সময় তার প্রিয় কোন চ্যানেল বা কার্টুন বা মুভি দেখতে দিন। বাচ্চাকে কোলে নিয়ে তাকে বই পড়েও শোনাতে পারেন।

বাষ্প

নিঃশ্বাসের সাথে বাষ্প নিলে তা নাসারন্ধ্রের কফ পাতলা করতে সাহায্য করে। যদি বাসায় হিউমিডিফায়ার থাকে তবে বাচ্চার রুম আদ্র রাখার চেষ্টা করুন। আর তা হলে বাচ্চাকে বাথরুমে নিয়ে বাথরুমের দরজা জানালা বন্ধ করুন, গীজার থাকলে গরম পানি ছেড়ে দিন বা তাও যদি না থাকে তবে কয়েকটি বালতিতে গরম পানি ঢেলে দিন যাতে পানির বাষ্প বাথ্বরুমের বাইরে যেতে না পারে। বাষ্প ভর্তি বাথরুমে ১৫ মিনিটের মত বসে থাকুন। গরম পানিতে গোসলও এসময় অনেক আরাম দেয়। তবে এ সময় প্রতিটি মুহূর্তে বাচ্চাকে আগলে রাখুন যাতে সে গরম পানির সংস্পর্শে যেতে না পারে।

একটি পাত্রে গরম পানি নিয়ে সেটি দিয়ে শিশুটিকে ভাপ দিন। এভাবে শিশুটিকে কিছুক্ষণ রাখুন।গরম বাষ্প শিশুর বুকে জমে থাকা সর্দি, কফ বের করে দিতে সাহায্য করে। নবজাতক শিশুদের ক্ষেত্রে নেবুলাইজার ব্যবহার করা হয়। ঘরে নেবুলাইজার  না থাকলে শিশুকে কুসুম গরম পানিতে গোসল করাতে পারেন। কিংবা একটি কাপড় কুসুম গরম পানিতে ভিজিয়ে তা দিয়ে শিশুর শরীর মুছে দিতে পারেন। এইরকম কয়েকবার করুন।

স্যালাইন ড্রপ ও বাল্ব সিরিঞ্জ

বাচ্চার যদি কফের কারনে নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয় তাহলে এ পদ্ধতিতে তার নাক পরিষ্কার করে তাকে আরাম দিতে পারেন। বাচ্চারা সাধারন ৪ বছরের আগে ঠিকভাবে নাক ঝারতে পারেনা। কিছু কিছু শিশু হয়ত এর আগেই তা শিখে যায়। বাচ্চা যদি নাক ঝারতে পারে তবে তার প্রতি নাকে দু এক ফোঁটা স্যালাইন পানি দিয়ে তার নাকের কফ পাতলা করে দিন। এবং এর পর পরিষ্কার টিস্যু বা কাপড় দিয়ে নাক ঝেরে নিন।

বাচ্চা যদি ছোট হয় এবং নাক ঝারতে না পারে তবে বাচ্চার মাথা সামান্য পেছনের দিকে ঝুঁকিয়ে বাচ্চার দু নাকে কয়েক ফোঁটা নরসল বা স্যালাইন পানি দিন। ৩০ সেকেন্ড বাচ্চার মাথা এভাবে রাখুন। এতে নাকের মিউকাস পাতলা হবে। এর পর ন্যাসাল অ্যাসপিরেটরের সাহায্যে বাচ্চার নাকের মিউকাস সাকশন করে বের করে আনতে পারেন। ন্যাসাল অ্যাসপিরেটর আজকাল সব বেবি শপেই কিনতে পাওয়া যায়।

বাচ্চা যদি এ পদ্ধতি পছন্দ না করে তবে বাচ্চাকে চিৎ করে শুয়ে দু নাকে কয়েক ফোঁটা করে স্যালাইন ড্রপ দিন। এর পর ৩০ সেকেন্ড অপেক্ষা করুন। তারপর বাচ্চাকে উপুড় করে পেটের উপর ভর দিয়ে শুইয়ে দিন। এতে স্যালাইন পানির সাথে কফ আপনা আপনি নাক থেকে গড়িয়ে পড়বে। পাতলা কাপড় দিয়ে তা মুছে নিন। বাচ্চা এ সময় হাঁচি বা কাশির মাধ্যমেও কফ বের করে দিতে পারে। কাপড় দিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে বাচ্চার নাকের সামনের অংশ থেকে পানিগুলো মুছে দিন। নাকে তুলা বা কটন বাড ব্যবহার করা উচিত নয়।

বাচ্চাকে যদি সর্দিতে দুধ খাওয়াতে সমস্যা হয় তবে দুধ খাওয়ানোর ১৫ মিনিট আগে এটা করতে পারেন। এতে বাচ্চার জন্য দুধ খাওয়ার সময় নিঃশ্বাস নিতে সুবিধা হবে। তবে দিনে তিন চার বারের বেশী এটা করা উচিত নয়। এতে বাচ্চার নাক আর বেশী শুকিয়ে যেতে পারে।

পর্যাপ্ত তরল

শিশুর বয়স ছয় মাসের কম হলে, তাকে বারবার বুকের দুধ খাওয়ান। আর যদি বয়স হয় ছয় মাসের বেশি, তাহলে অল্প অল্প করে পানি, তরল ও নরম খাবার বারবার খাওয়ানো যেতে পারে।শিশুর বয়স ছয় মাসের বেশি হলে শিশুকে গরম স্যুপ দিতে পারেন। হজম করতে পারে এমন সবজি যেমন আলু, গাজর, পেঁয়াজ, আদা দিয়ে তৈরি করে নিতে পারেন স্যুপ। এটি শিশুর অভ্যন্তরীণ ইনফেকশন দূর করার সাথে সাথে শিশুর পেট ভরিয়ে দেবে। ২ বছরের বেশী বয়সী শিশুদের তুলসী চা, আদা চা ইত্যাদিও দেয়া যেতে পারে। এরসাথে দুই ফোঁটা বিশুদ্ধ মধু মেশাতে ভুলবেন না। এটি প্রাকৃতিক অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল হিসেবে কাজ করবে।

বাচ্চার মাথা সামান্য উঁচু রাখুন

বাচ্চা ঘুমানোর সময় তার মাথার নিচে বালিস বা কিছু দিয়ে সামান্য উঁচু করে দিন। এতে করে তার শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়া অনেকটা সহজ হবে। তবে বাচ্চা যদি বেশী ছোট হয় এবং ঘুমের ভেতর নড়াচড়া করে তবে তার মাথার নিচে বালিশ না দিয়ে সরাসরি ম্যাট্রেসের নিচে বালিশ দিয়ে সামান্য উঁচু করে দেয়া নিরাপদ। এতে সিডস (সাডেন ইনফ্যান্ট ডেথ সিনড্রোমের) ঝুঁকি কমানো যায়।

মধু

সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণা বলছে, দুই বছরের বেশি বয়সী শিশুদের প্রতিদিন রাতে দুই চামচ মধু খাওয়ানোর পর রাতের বেলা তাদের কাশি অনেকটাই কমে গেছে। তবে এক বছরের নিচে শিশুদের মধু না দেওয়াই ভালো। কাশি উপশমে এক কাপ হালকা গরম পানিতে বা এক কাপ গরম চায়ের সঙ্গে ১ চামচ মধু মিশিয়ে পান করাটা সবচেয়ে ভালো। মধু বন্ধ শ্বাসনালী খুলে দেয় ও প্রদাহ কমায়। এছাড়া মধুতে বেশ খানিকটা ক্যালোরি মেলে, যা শিশুদের বাড়তি শক্তি যোগায়। ২ বছরের বেশী বয়সী শিশুদের তুলসী চা, আদা চা ইত্যাদিও দেয়া যেতে পারে।

কখন ডাক্তারের কাছে যেতে হবে?

যদি বাচ্চার কফের সাথে নিচের লক্ষনগুলো দেখা যায় তবে অবশ্যয় তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে-

জর থাকলে
গায়ে র‍্যাশ হলে।
নাকে বন্ধের সাথে সাথে কপাল, চোখ,নাক ও গাল ফুলে গেলে।
দু সপ্তাহের বেশী নাক বন্ধ থাকলে।
বাচ্চার শ্বাসকষ্ট হলে বা দ্রুত শ্বাস নিলে।
বাচ্চা কিছুই না খেলে বা খেতে না চাইলে।
যদি বাচ্চা বেশী খিটখিটে হয়ে যায় এবং বাচ্চাকে অসুস্থ মনে হয়।
সবার জন্য শুভকামনা

34
মায়েরা স্বাভাবিকভাবেই চান সুস্থ স্বাভাবিক অবস্থায় সন্তান জন্ম দিতে। কিন্তু বিভিন্ন কারণে এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় জটিলতা দেখা দিতে পারে যা মা ও গর্ভস্ত শিশুর জন্য বিপদের কারণ হয়। তাই মায়েদের উচিত গর্ভাবস্থায় এই সব বিপদ চিহ্নগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকা। চলুন তবে গর্ভাবস্থায় মায়ের ৮টি বিপদ চিহ্ন নিয়ে জেনে নেই বিস্তারিত।

গর্ভাবস্থায় মায়ের ৮টি বিপদ চিহ্ন:

১) অধিক মাত্রায় বমি হওয়া

গর্ভের প্রথম তিন মাসে সব মায়েদেরই কম বেশি বমি হয়ে থাকে। কিন্তু অতিরিক্ত বমি মায়ের জন্য ক্ষতিকর, কারণ এটি মায়ের দেহে পানি শূন্যতা, শরীরে সোডিয়াম-পটাসিয়ামের ভারসম্যহীনতা, কিডনি ফেইলর, জন্ডিস, খিচুনিসহ অনেক জটিলতার কারণ হতে পারে।

২) রক্ত স্রাব

গর্ভধারণের পর বিভিন্ন কারণে রক্তস্রাব হতে পারে। গর্ভের প্রথম তিন মাসে এটি  সাধারণত গর্ভপাতের লক্ষণ নির্দেশ করে। এছাড়া একটোপিক প্রেগনেন্সি-তেও (জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণ) রক্তস্রাব হতে পারে, যা গর্ভাবস্থায় একটি জরুরী অবস্থা।  রক্তপাতের সাথে তীব্র পেটে ব্যথা ও রোগীর অচেতন হয়ে যাওয়া একটোপিক প্রেগনেন্সি-এর লক্ষণ প্রেগনেন্সি-এর শেষ দিকে  প্লাসেন্টা নিচে থাকলে (প্লাসেন্টা প্রিভিয়া) বা প্লাসেন্টা সেপারেশন হয়ে রক্তপাতের কারণ ঘটায়।

৩) উচ্চ রক্তচাপ

গর্ভবতী মায়ের উচ্চ রক্তচাপ মা ও গর্ভস্থ শিশুর জন্য একটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা। কম ওজনের শিশু জন্মদান, অপরিণত অবস্থায় শিশুর জন্ম, সিজার-এর সম্ভাবনা বেড়ে যাওয়াসহ নানা ধরনের জটিলতা হতে পারে। গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপের সাথে ইউরিন-এ প্রোটিন/এলবুমিন পাওয়া গেলে বুঝতে হবে তিনি প্রি-এক্লাম্পসিয়া-তে ভুগছেন। এর জটিলতা থেকে খিচুনি বা এক্লাম্পসিয়া হতে পারে যা মা ও শিশু মৃত্যুর একটি বড় কারণ।

৪) তীব্র মাথাব্যথা ও চোখে ঝাপসা দেখা

গর্ভাবস্থায়  যারা প্রি-এক্লাম্পসিয়া ভুগছেন তাদের ক্ষেত্রে এই ধরনের জটিলতা এক্লাম্পসিয়া হবার পূর্বলক্ষণ  নির্দেশ করে। কাজেই এই লক্ষণ দেখা দিলে  অতিসত্বর নিকটস্থ হাসপাতালে যেতে হবে।

৫) পেটে ব্যথা

গর্ভাবস্থায় পেটে ব্যথার নানাবিধ কারণ রয়েছে,তবে ব্যথা তীব্র হলে তা মায়ের জন্য একটি বিপদ সংকেত। গর্ভের প্রথম দিকে গর্ভপাত বা একটোপিক প্রেগনেন্সি-এর কারণে ব্যথা হয়। গর্ভের শেষের দিকে প্রি-মেচিওর লেবার পেইন পেটে ব্যথার একটি বড় কারণ,যা থেকে অপরিনত অবস্থায় শিশুর জন্ম হতে পারে।

৬) পেটের আকার স্বাভাবিকের চেয়ে বড় বা ছোট হলে

পেটের আকার স্বাভাবিকের চেয়ে বড় হবার কারণগুলো হল একের অধিক বাচ্চা গর্ভধারণ, পলি-হাইড্রামনিওস (অ্যামনিওটিক ফ্লুইড স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হওয়া)। তেমনি ওলিগোহাইড্রামনিওস(অ্যামনিওটিক ফ্লুইড স্বাভাবিকের চেয়ে কম হওয়া), গর্ভে বাচ্চার সঠিক গ্রোথ না হলে (Intra uterine growth retardation) পেটের আকার স্বাভাবিকের চেয়ে ছোট হবে।

৭) দীর্ঘ সময় লেবার পেইন থাকলে

লেবার পেইন ১৮ ঘন্টার বেশি থাকলে তাকে প্রলং লেবার বলে। লেবার প্রক্রিয়া স্বাভাবিক না হলেই লেবার প্রলং বা দীর্ঘ হয়। কাজেই ১২ ঘণ্টার মধ্যে বাচ্চা প্রসব না হলে অভিজ্ঞ গাইনী চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

৮) বাচ্চার নড়া চড়া কম মনে হলে

গর্ভের শেষ দিকে একটি সুস্থ স্বাভাবিক বাচ্চা দিনে কমপক্ষে দশ বা এর অধিক বার নড়া চড়া করবে। বাচ্চার নড়া চড়া এর কম মনে হলে তা চিকিৎসককে জানানো উচিত।

গর্ভাবস্থায় মায়ের ৮টি বিপদ চিহ্ন নিয়ে তো জেনে নিলেন। এখন গর্ভাবস্থায় যদি এমন কোন বিপদ চিহ্ন দেখে থাকেন তবে উদ্বিগ্ন না হয়ে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

36
গর্ভবতী মহিলাদের অন্যতম বড় সমস্যা হল ঘুমাতে এসে বিছানায় আরাম না পাওয়া। এর কারণ হিসেবে আপনার শরীরের পরিবর্তন, স্তনের পরিবর্তন, মানসিকভাবে অস্থির থাকা ইত্যাদিকে দায়ী করা যায়। বিশেষ করে আপনার যদি উপুড় হয়ে ঘুমানোর অভ্যাস থাকে তাহলে এ সময় এভাবে ঘুমানো আপনার জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে ।

আপনি স্বাভাবিক অবস্থায় কিভাবে ঘুমাতেন তার উপর নির্ভর করে গর্ভাবস্থায় আমার ঘুমের অবস্থান পরিবর্তন করতে হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে বাম পাশ ফিরে শোওয়া গর্ভাবস্থায় সবচাইতে ভালো কারণ এতে মায়ের শরীর থেকে গর্ভের বাচ্চার শরীরে রক্ত প্রবাহ বাঁধা গ্রস্থ হয়না। এভাবে শোওয়া যদি আপনার অভ্যাস না থাকে তবে এখনই ঘাবড়ে যাওয়ার কিছু নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে গর্ভাবস্থার ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত আপনি আপনার পছন্দ অনুযায়ী শুতে পারেন। এতে বাচ্চার তেমন কোন সমস্যা হয়না।

কিছু কিছু মায়েদের স্তন গর্ভাবস্থার শুরুর দিকে সংবেদনশীল হয়ে ওঠে বলে গর্ভাবস্থার শুরুর দিকে উপুড় হয়ে শুতে সমস্যা হয়। কিন্ত এতে বাচ্চার কোন ক্ষতি হয়না। তবে গর্ভধারণের সময় যত বাড়তে থাকবে ততই উপুড় হয়ে বা চিৎ হয়ে শোওয়াটা মায়েদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়ায় এবং এসব পজিশনে শোওয়াটা নিরাপদ ও নয়।

নিচে গর্ভাবস্থায় বিভিন্ন ভঙ্গিতে শোওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

চিৎ হয়ে বা পিঠে ভর দিয়ে শোওয়া

গর্ভাবস্থার ১৫ থেকে ২০ সপ্তাহের মধ্যে মায়ের জরায়ু অনেক বড় হয়ে যায়। এর ফলে মা যদি চিৎ হয়ে শোয় তবে তা রক্ত প্রবাহে বাঁধা সৃষ্টি করে। এভাবে শোয়ার ফলে জরায়ুর চাপে ইনফেরিয়র ভেনা কাভা সংকুচিত হয়ে যেতে পারে। এই শিরাটি শরীরের মধ্যভাগ ও নিম্নভাগ থেকে রক্ত হৃদপিণ্ডে প্রবাহিত করে।

চিৎ হয়ে শোয়ার ফলে অ্যাওরটাতেও চাপ পড়তে পারে যার ফলে মায়ের শরীরে এবং প্লাসেন্টাতে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্থ হতে পারে। এর কারণে মায়ের হৃদপিণ্ডে রক্ত চলাচল কমে যেতে পারে, দম বন্ধ অনুভুতি হয়ে মায়ের ঘুম ভেঙ্গে যেতে পারে এবং হৃদপিণ্ডের গতি বেড়ে যেতে পারে।

গর্ভাবস্থার ১৬ সপ্তাহ পার হয়ে যাবার পর অনেকক্ষণ চিত হয়ে শুয়ে থাকলে আপনার জ্ঞান হারানোর মতো অনুভূতি হতে পারে, কারণ গর্ভস্থ শিশুটির সকল চাপ তখন রক্তনালীগুলোর ওপর পড়ে। এ সময় আপনার নাসারন্দ্রহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে যার কারণে নাক ডাকার সমস্যা দেখা দেয়।

উপুড় হয়ে বা পেটের উপর ভর দিয়ে শোওয়া

পেটের উপর ভর দিয়ে শোয়া গর্ভাবস্থার শুরু দিকে তেমন কোন সমস্যা করেনা। মায়ের পেটে বড় না হওয়া পর্যন্ত এভাবে শুতে কোন বাঁধা নেই। তবে ১৬-১৮ সপ্তাহের মধ্যে মায়ের পেট বেড়ে যাওয়ার কারণে এভাবে শোওয়াটা কঠিন এবং কষ্টকর হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকের এর আগেও পেট বড় হয়ে যেতে পারে। তবে এ সময় থেকে এভাবে শোওয়াটা, চিৎ হয়ে শোওয়ার মতই ক্ষতির কারণ হতে পারে কারণ এর ফলে জরায়ুতে চাপ পড়ে এবং তা পেছনের দিকে অ্যাওরটা ও ভেনা কাভাতে চাপ সৃষ্টি করে।

উপুড় হয়ে যদি শুতেই হয় তবে ডোনাট আকৃতির বালিশ বানিয়ে নিতে পারেন যাতে মাঝামাঝি গোলাকৃতির গর্ত থাকবে। এই গর্তে পেট রেখে এমনভাবে শুতে পারেন যাতে পেটের উপর চাপ না পড়ে।

পাশ ফিরে শোওয়া

গর্ভাবস্থায় পাশ ফিরে শোওয়া বিশেষ করে বাম পাশ ফিরে শোওয়াটা সবচাইতে নিরাপদ।বাম কাত হয়ে শোয়াটা আপনার বাচ্চার জন্যও ভালো কারণ এতে করে পুষ্টি ও রক্ত প্ল্যাসেন্টা দিয়ে সহজেই বাচ্চার কাছে পৌঁছাতে পারে। আপনার কিডনিও বর্জ্য ও অতিরিক্ত ফ্লুইড আপনার শরীর থেকে বের করে দেয়ার জন্য কাজ করতে পারে। এর ফলে আপনার হাত-পা-গোড়ালি ফুলে যাবার (oedema) সম্ভাবনাও কম থাকে।

গবেষণায় দেখা গেছে যেসব নারীরা গর্ভাবস্থায় বাম কাতে শোয়, তাদের মৃত সন্তান প্রসবের সম্ভাবনা কম থাকে; অন্তত যারা অন্য পজিশনে শোয় তাদের চাইতে। তবে প্রকৃতপক্ষে মৃত সন্তান প্রসবের নির্দিষ্ট কোনো কারণ এখনো আমরা বুঝে উঠতে পারিনি এবং এর সাথে অনেক বিষয় জড়িত। এই গবেষণায় কেবল ঘুম-সংক্রান্ত প্রভাবগুলো, যেমন নাক ডাকা, বার বার বাথরুমে যাওয়া, এবং ঘুমানোর পজিশন ইত্যাদি বিষয়ই দেখা হয়েছে। তবে স্লিপিং প্যাটার্নই দায়ী কি না সেটা বোঝার জন্যও আরো অনেক গবেষণার প্রয়োজন আছে।

ডান পাশ ফিরে শোওয়াটা বাম পাশ ফিরে শোওয়ার মত ততটা নিরাপদ নয় কারণ এতে করেও ভেনা কাভাতে চাপ পড়তে পারে। তবে ডান পাশ ফিরে শুতে চাইলে পেটের নিচ বালিশ দিতে পারেন যাতে জরায়ুর চাপ সরাসরি নিচের দিকে না পড়ে।

গর্ভাবস্থায় শোওয়া আরামদায়ক করার কিছু পরামর্শ

ঘুমানোর ক্ষেত্রে মায়ের আরাম সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন। তাই, আপনার যত খুশি বালিশ ব্যবহার করুন। পায়ের নিচে, পিঠে বালিশ আপনার গর্ভকালীন ব্যথা থেকে দিতে পারে কিছুটা স্বস্তি ও আরামের ঘুম। বালিশের অবস্থান এমনভাবে রাখতে হবে যেন তা শুধু মাথা নয়, মায়ের পেট ও পা কেও সমানভাবে আরাম দিতে পারে। এ সময়ের জন্য উপযুক্ত বালিশ কিনতে পাওয়া যায় বা বানিয়ে নেওয়া যায়। তা সম্ভব না হলে পর্যাপ্ত বালিশের সাপোর্ট থাকা জরুরী।

হাঁটু ভাজ করে বাম কাতে শুয়ে পড়ুন এবং দুই হাঁটুর মাঝখানে নরম বালিশ রাখুন। এতে করে আপনার হিপ ও পেলভিস-এর পেশীর ওপর চাপ কম পড়বে।  পেটের নিচে লম্বা বালিশ দিতে পারলে পিঠের দিকে টান কমায়। রাতে ঘুম ভেঙ্গে গেলে যদি খেয়াল করেন যে আপনি চিত হয়ে ঘুমাচ্ছেন, তাহলে সাথে সাথেই বাম কাতে ফিরে যেতে পারেন।

ঘুমানোর সময় পাশে আরেকটা বালিশ দিয়ে নিতে পারেন যার কারণে আপনি ঘুমের মধ্যে খুব বেশি নড়তে পারবেন না।যদি বাম কাতে লম্বা সময় শুয়ে থাকার কারণে আপনার হিপে চাপ পড়ে, তাহলে আপনার ম্যাট্রেসের ওপর দেয়ার জন্য একটা নরম ফোম কিনে নিতে পারেন। এতে আপনি আরাম পাবেন আর বাতাস সঞ্চালনও সহায়ক হবে। ডিপার্টমেন্টাল স্টোর বা অনলাইনেও আপনি মাপ মত ফোম ম্যাট্রেস পাবেন।

শ্বাসকষ্ট থেকে রেহাই পেতে আপনার বুকের পাশেও একটি বালিশ আলতো করে ধরে রাখতে পারেন।বই জাতীয় কিছু দিয়ে অথবা আপনার সুবিধামতো উপায়ে বিছানার মাথার দিকের অংশ কয়েক ইঞ্চি উঁচু করে দিন, এতে আপনার পাকস্থলী এসিডিটি থেকে মুক্ত থাকবে আর আপনার হার্ট এ জ্বালাপোড়াও কম অনুভব হবে।

ঘুমানোর জন্য কেবল বিছানায় শেষ আশ্রয় এমন ধরা বাধা নিয়মে নিজেকে বেধে না ফেলে আপনার যেখানে শুয়ে আরাম অনুভূত আপনি সেখানেই শোবেন। সোফায় আরাম পেলে সোফাতেই আবার যদি মেঝেতে ম্যাট্রেস ফেলে ঘুম ভালো হয় তাই করুন।গর্ভাবস্থার শেষ দিকে যদি বিছানায় শুয়ে আরাম নাই পান, তাহলে আরামদায়ক আর্মচেয়ারে কিংবা সোফায় এক কাতে শুয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করতে পারেন। সমাধান হিসেবে এটা যে সবসময় কার্যকরী হয় তা নয়, তবে ডাক্তার আপনাকে চেষ্টা করে দেখতে বলতে পারেন।

পরিশিষ্ট

ঘুমের মধ্যে পাশ ফেরা নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত হবেন না। ঘুমন্ত অবস্থায় আপনার শরীর আপনাআপনিই  আরামদায়ক পজিশনে থাকবে নতুবা আপনাকে জাগিয়ে দেবে। ঘুম থেকে জেগে যদি দেখেন আপনি ঠিক ভাবে শুয়ে নেই তাতে ঘাবড়ে যাবেন না। এতে কোন ক্ষতি হয়ে যায়নি। আপনার ঘুম ভেঙ্গেছে আপনাকে ঠিকভাবে শোওয়ার কথা মনে করিয়ে দিতেই। মনে রাখতে হবে পর্যাপ্ত পরিমান ঘুমোনোটা  আপনার জন্য এখন খুব জরুরি, বিশেষ করে মাঝরাতে(রাট ১টা থেকে ২টা) অর্থাৎ আপনার গর্ভের বাচ্চা যখন পেটের ভেতরে বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে।

সবার জন্য শুভকামনা।

38
গর্ভাবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। তবে সেই খাবার নির্ধারণেও আপনাকে কিছু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। আপনার এবং আপনার গর্ভের শিশুটির সুস্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে এমন অনেক খাবার আপনাকে ত্যাগ করতে হবে যা আপনি আগে গ্রহণ করলে সমস্যা হতো না।

গর্ভাবস্থায় খাবার গ্রহণে কিছু বিধি নিষেধ মেনে চলে আপনি নিজেই সুস্থ শিশু ও নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত করতে পারেন। গর্ভকালীন কিছু কিছু খাদ্য খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। এইসব খাদ্য যেমন মায়ের শরীরের ক্ষতি করে তেমনি গর্ভের শিশুটিরও ক্ষতি হয়। আসুন,জেনে নেয়া যাক কি ধরনের খাদ্য গ্রহন করা থেকে গর্ভবতী মাকে বিরত থাকতে হবে।

গর্ভাবস্থায় যেসব খাবার এড়িয়ে চলা উচিত

কাঁচা ডিম ও দুধ
কাঁচা বা কম সিদ্ধ করা ডিম ও ফুটানো ছাড়া দুধ খাওয়া ঠিক না। এইগুলো থেকে জীবাণু সংক্রমণ হওয়ার আশংকা থাকে। ডিম প্রোটিনের প্রধান উৎস। গর্ভবতী মহিলাদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় একটি ডিম রাখা বাধ্যতামূলক। কিন্তু কাঁচা ডিম খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কাঁচা ডিমে আছে সালমোনেলা নামক একটি ব্যাকটেরিয়ার যা জ্বর,বমি বমি ভাব,ডায়রিয়া্র মত রোগের কারণ হতে পারে। ডিম ভালভাবে রান্না করে খেতে হবে যাতে ব্যাকটেরিয়ার ধবংস হয়ে যায়।

অপাস্তুরিত দুধ বা কাঁচা দুধে লিস্টেরিয়া নামক ব্যাকটেরিয়া থাকে, যা মা এবং শিশুর  স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক।। তাই ভালো করে না ফুটিয়ে দুধ পান করা যাবেনা। অপাস্তুরিত দুধ দিয়ে তৈরি খাবার যেমন- নরম পনির খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ অপাস্তুরিত এই সকল পনির মা এবং গর্ভের বাচ্চা উভয়ের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে। অপাস্তুরিত বলতে আমরা বুঝি পুরোপুরি কাচা দুধ থেকে যে পনির টি তৈরি করা হয়।

কাঁচা বা আধা সিদ্ধ মাংস 
কাঁচা বা আধা সিদ্ধ মাংস খাওয়া যাবে না।এমন কি প্রসেসড খাবার যেমন সসেজ,সালামি,পেপারনি ইত্যাদি খাওয়া থেকে বিরত থাকত হবে। অর্ধসিদ্ধ মাংসে ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে।কাঁচা মাংসের মধ্যে থাকে স্যালমোনেলা, কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়া এবং টক্সোপ্লাজমোসিস যা গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।  ১৪৫ ডিগ্রী তাপমাত্রায় মাছ, মাংস রান্না করতে হবে।

কলিজা
কলিজা বা কলিজা দিয়ে তৈরি খাবারে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন এ থাকে। অতিরিক্ত ভিটামিন এ বিশেষ করে গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে খুব ই বিপদজনক। এই সময়ে আপনার জন্য কত টুকু ভিটামিন গ্রহণ যোগ্য সেটা একজন অভিজ্ঞ ডক্টরের সাথে কথা বলে জেনে নিন।

অনেকে এই সময় অতিরিক্ত ভিটামিন খাওয়া শুরু করে কারন তাদের ধারনা বেশি ভিটামিন যুক্ত খাবার খেলে গর্ভের বাচ্চার জন্য খুব ভালো। এটা খুব ই ভুল একটি সিদ্ধান্ত। মনে রাখবেন আপনার খাবারের প্রত্যেক টা ব্যাপার আপনার সন্তানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তাই না বুঝে না জেনে বা ডক্টরের সাথে কথা না বলে অতিরিক্ত কিছুই খাবেন না।

কিছু গভীর সমুদ্রের মাছ
গর্ভাবস্থায় খাবার তালিকায় মাছ না থাকলে চলে? কিন্তু এই মাছ নির্ধারণেও চোখ কান খোলা রাখতে হবে। সামুদ্রিক মাছ স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। কিন্তু অধিক পরিমাণে খেলে গর্ভের শিশুর স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি হয়। কারণ সামুদ্রিক মাছে পারদ জাতীয় পদার্থ থাকে।যা শিশুর স্নায়ুবিক প্রক্রিয়ায় ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। এর পরিমাণ বেশি হলে শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে ক্ষতি সাধন হতে পারে। টুনা ফিশ, শার্ক সহ অনেক নোনা পানির মাছে মাত্রাতিরিক্ত পারদ জাতীয় রাসায়নিক পদার্থ বিদ্যমান থাকে যার বিষক্রিয়ায় গর্ভস্থ ভ্রুন নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

অনেকে কাঁকড়া খেতে পছন্দ করেন। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চ পরিমাণ ক্যালসিয়াম। তবে গর্ভাবস্থায় বেশি কাঁকড়া খাওয়া এড়িয়ে যাওয়া উচিত। এটি জরায়ুকে সংকুচিত করে অভ্যন্তরীণ রক্তপাত ঘটায়। এ ছাড়া এতে উচ্চমাত্রায় কোলেস্টেরল রয়েছে। এটিও গর্ভবতী নারীর জন্য ক্ষতিকর।

ক্যাফেইন
কফি ক্লান্তি দূর করার জন্য কার্যকর হলেও গর্ভাবস্থায় এর পরিমাণ কম করতে হবে। চা, কফি ইত্যাদিতে ক্যাফেইন থাকে। । দৈনিক ২০০ মিলিগ্রামের বেশি ক্যাফেইন গ্রহন করা ঠিক না। অতিরিক্ত ক্যাফেইন এর কারনে কম ওজনের শিশুর জন্ম হয়, এছাড়া অকাল গর্ভপাতেরও ঝুঁকি থাকে। এছাড়া মাকে ধূমপান ও অ্যালকোহল গ্রহন থেকেও বিরত থাকতে হবে। এইগুলো মা ও বাচ্চা উভয়য়ের শরীরেরই ভয়ংকর ক্ষতি সাধন করে। সুতরাং ক্যাফেইন যুক্ত চা,কফি পান করা থেকে বিরত থাকুন।

কাঁচা বা আধা পাকা পেঁপে
কাঁচা বা আধা পাকা পেঁপে গর্ভবতী মহিলাদের জন্য অনেক ক্ষতি কারক। কাঁচা পেঁপেতে ল্যাটেক্স নামক একটি উপাদান আছে যা গর্ভপাতের মত ঘটনা ঘটাতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, পেঁপে পাকলে খাওয়া যাবে। তবে সেটিও গাছপাকা হতে হবে। বর্তমানে বেশির ভাগ সময় পেঁপে রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে পাকানো হয়। এসব পাকা পেঁপেও ক্ষতিকর।

অনেকেই বলেন গর্ভাবস্থায় তিনি কাঁচা পেঁপে খেয়েছেন কিন্তু সমস্যা হয়নি। এমনটা হতেই পারে। কাঁচা পেঁপে খেলে সমস্যা হবেই তা নয়। কিন্তু এর ফলে ঝুঁকি রয়ে যায়। তাই গর্ভের সন্তানের কথা চিন্তা করে এ ঝুঁকি না নেয়াই উচিত। তাই গর্ভাবস্থায় সবধরনের পেঁপে খাওয়া থেকেই বিরত থাকুন এমনকি রান্না করেও না।

অপাস্তুরিত ফলের রস
ফ্রেস জুস বা অপ্রাস্তুরিত ফলের রসে ই কোলাই, সালমোনেলা নামক কিছু ব্যাকটেরিয়ার থাকে যা গর্ভবতী নারীদের স্বাস্থ্য এর জন্য ক্ষতিকারক। গর্ভাবস্থায় ফলের জুস খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী কিন্তু সেটা অবশ্যই পাস্তুরিত হওয়া উচিত।

সুশী
জাপানিজ এই খাবারটি অনেকের কাছে খুব প্রিয়। তাদের এই প্রিয় খাবারটিকে ও খাদ্যের তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে। এতে ব্যবহৃত আধা সিদ্ধ মাংস বা সামুদ্রিক মাছে আছে যা ব্যাকটেরিয়ার আছে তা অনেক রোগের কারণ হতে পারে।

এলকোহল সমৃদ্ধ খাবার
এটি আপনার আনাগত সন্তানের বিভিন্ন অঙ্গ যেমন ব্রেইন,নার্ভ ইত্যাদি তৈরিতে বাধাঁ সৃষ্টি করে। শুধু মদ নয়, যে সকল খাবারে এলকোহল থাকে তা খাওয়া থেকে ও বিরত থাকতে হবে।

আনারস
গর্ভবতী মায়েদের তাদের গর্ভধারণের প্রথম তিন মাসে আনারস খাওয়া উচিত নয়। আনারসে ‘ব্রোমেলাইন’ নামের এক ধরণের উপাদান থাকে। এটি মায়ের ডায়েরিয়া, এলার্জি থেকে শুরু করে গর্ভপাতের কারণও হতে পারে। তাই গর্ভকালীন সময়ে এই ফল খাদ্য তালিকা থেকে বাদ দেয়া উচিত।

শাকসবজি এবং ফল ধুয়ে খান।
শাকসবজি এবং ফল খাবার আগে অবশ্যই ভাল করে ধুয়ে খাবেন। শাকসবজি বা ফলের গায়ে বিভিন্ন পরজীবী (টক্সোপ্লাজমা) থাকে যা মায়ের এবং গর্ভের শিশুর  ক্ষতিকর।

সতর্কতা
গর্ভাবস্থায় খাবার তালিকায় তাজা খাদ্য রাখতে চেষ্টা করুন। রেফ্রিজারেটরে সংরক্ষিত বা অতিরিক্ত গরম খাবার না খাওয়াই ভাল। গর্ভাবস্থায় খাদ্যাভাসে যেকোনো খাবার গ্রহণ বা বর্জনের পূর্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভাল।

অপ্রয়োজনীয় ঔষুধ
গর্ভকালীন সময়ে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোন ঔষধ খাওয়া উচিৎ না। অপ্রয়োজনীয় কোন ঔষুধ একদম খাওয়া ঠিক না।

একজন গর্ভবতী মায়ের সচেতনতায় পারে একটি  সুস্থ-সবল শিশুর জন্ম দিতে। আশাকরি গর্ভবতী মায়েরা খাবারের ব্যাপারে সচেতন থাকবেন,বুঝে-শুনে অথবা পরামর্শ নিয়ে খাদ্য তালিকায় খাবার সংযুক্ত করবেন।

সবাই ভালো থাকবেন,সুস্থ থাকবেন। সবার জন্য শুভকামনা।

39
স্যুপ! অনেকেরই খুব প্রিয় খাবার। সকাল, বিকেল কিংবা দুপুরের লাঞ্চেও অনেকে স্যুপ খান। কিন্তু যদি এই স্যুপ সুস্বাদু ও একই সাথে স্বাস্থ্যকর হয় যা, আপনার মেদ কমাবে তাহলে? সচেতনভাবে কিছু নিয়ম মেনে যদি স্যুপ রান্না করেন তবে তা আপনার পেটের, কোমরের ও দেহের সার্বিক ওজন কমাতেই ভূমিকা রাখে। সেই সাথে আরো ভালো ব্যাপার হলো, শরীরের মেদের সাথে যে রোগগুলো সরাসরি যুক্ত যেমন, হার্টের সমস্যা, ডায়াবেটিস ও অন্যান্য সেগুলো থেকেও স্যুপ আপনাকে মুক্ত রাখবে।

আসুন জেনে নেই স্যুপের কিছু গুণাবলী যা আপনাকে মেদমুক্ত হতে সহায়তা করবে –

১। চর্বি পোড়ায় স্যুপের মসলা

স্যুপ বানাতে যে সকল মসলা ব্যবহৃত হয় তা দেহের চর্বি পোড়াতে দারুণ কার্যকরী। যেমন, গোলমরিচে থাকা প্রচুর ক্যাপসাইসিন কেবল স্যুপের স্বাদ আর সুগন্ধই বাড়ায় না বরং দেহে জমে থাকা মেদকে পোড়াতে সাহায্য করে।

২। দেহের হজমক্ষমতা বাড়ায় স্যুপ

স্যুপে থাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন। এই প্রচুর পরিমাণের ভিটামিন দেহে দরকারী খাদ্যগুণ সরবরাহ করে এর হজমক্ষমতা বাড়ায়। ফলে অতিরিক্ত চর্বি জমার সুযোগ থাকে না। এবং মেদও বাড়ে না।

৩। খিদে কমায় স্যুপ

এক বাটি স্যুপ খেয়ে দেখুন পরবর্তী অনেকটা সময় ধরে আর ক্ষিদে পাবে না। কেননা খানিকটা স্যুপ পেট ভরা বোধ করতে সাহায্য করে। ফলে ক্যালোরিযুক্ত বা অতিরিক্ত খাবারের জন্যে ক্ষিদে বোধ হয় না। ফলে ওজন কমিয়ে দিয়ে স্বার্থক।

৪। স্বল্প পরিমাণে ক্যালরি

ভেজিটেবল স্যুপ একেবারেই লো ক্যালোরিযুক্ত। ফলে এটি খেলে দেহে ফ্যাট জমাট বাঁধাতে পারে না। লো ক্যালোরি অথচ দারুণ পুষ্টিকর খাবার স্যুপ দেহে পুষ্টি যোগায় প্রয়োজনমত কিন্তু একটুও মেদ বাড়ায় না এতটুকু পরিমাণও।

৫। দেহে সবজির ঘাটতি পূরণ

সাধারণত সবজি কেবল মাত্র সালাদের সাথে খাওয়া হয় যা বেশ একঘেয়েমী হয়ে ওঠে। তাছাড়া সালাদে আর কতই বা সবজি খাওয়া যায়। সেক্ষেত্রে ভেজিটেবল স্যুপে অনেক সবজি থাকে। এই সবজিগুলো স্যুপের সাথে মেশালে হয়ে ওঠে দারুণ উপাদেয় ও সুস্বাদু। আমরা সবাই ই জানি ওজন কমাতে সবজির কোন জুড়ি নেই। তাই সবথেকে কার্যকরি খাবার হলো সবজির স্যুপ।

৬। দেহে পানির চাহিদা পূরণ

স্যুপ সম্পূর্ণই একটি তরল পানি জাতীয় খাবার। স্যুপে থাকা এই প্রচুর পরিমাণ পানি দেহের পানির চাহিদা মেটায় আর সেই সাথে উষ্ণ পানি মেটাবলিজম বাড়ায়। ফলে তা ওজন কমাতে ব্যাপক সহায়তা করে।
লেখাটি পছন্দ হইলে শেয়ার করতে ভুলবেন না।
নিয়মিত সুন্দর সুন্দর টিপস পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ এ অ্যাক্টিভ থাকুন।

45
হঠাৎ করেই ওজনটা কি খুব বেড়ে যাচ্ছে? শরীর ফুলে যাচ্ছে? ডায়েট কন্ট্রোল করছেন নিয়ম মেনে, কিন্তু তাও মোটা হয়ে যাচ্ছেন? নাহলে হয়তো ঠিক মতই খাওয়া-দাওয়া করছেন, কিন্তু তাও রোগা হয়ে যাচ্ছেন? আবার হয়ত দেখা যাচ্ছে ছোটখাট বিষয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগ বা সবসময়ই বিষণ্ণতা কাজ করছে মনের ভেতর। কিংবা হয়ত ঋতু পরিবর্তন ছাড়াই শরীরে তাপমাত্রার তারতম্য হয়ে যাচ্ছে। এই শীত লাগছে তো আবার এই গরমে ঘেমে চুপচুপে। তাহলে আর দেরি না করে এক্ষুণি একবার আপনার থাইরয়েড টেস্ট করিয়ে ফেলুন। কেন করাবেন থাইরয়েড টেস্ট? আসুন জেনে নেই এ বিষয়ে বিস্তারিত।

থাইরয়েড কী

থাইরয়েড গ্ল্যান্ড হল একটি অন্তক্ষরা গ্রন্থি। যেটা থেকেই নিঃসৃত হয় থাইরয়েড হরমোন। এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা হরমোন। কারণ এটি থেকে শরীরের অন্যান্য প্রয়োজনীয় হরমোন উৎপাদন হয়। এই গ্ল্যান্ড দেখতে অনেকটা প্রজাপতির মত। যেটি গলার একটি অংশে অবস্থিত।
এই থাইরয়েডের ক্ষরণ কিন্তু একটা সঠিক পরিমাণে হয়। মানে শরীরের যতটুকু দরকার তততুকু। কিন্তু শরীরের এই প্রয়োজনের থেকে যখন বেশী বা কম ক্ষরণ হয়, তখনই সমস্যা হয়। এটি একদিনেই হয় না। ধীরে ধীরে হয়। তাই সমস্যাও ধীরে ধীরে দেখা যায়। এটি যেহেতু শরীরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ন্ত্রণ করে, তাই শরীরের ভেতরে ক্ষতিও ধীরে ধীরে হয়। যেহেতু এটা খুব ধীরে হয়, তাই বেশীরভাগ ক্ষেত্রে ভুক্তভোগি বুঝতেই পারেন না তাঁদের এই সমস্যার কথা। শরীরে থাইরয়েড হরমোনের তারতম্য দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে, কমে গেলে তাকে বলা হয় হাইপোথাইরয়েডিজম এবং বেড়ে গেলে তাকে বলা হয় হাইপারথাইরয়েডিজম। এই দুই ধরনের সমস্যা নিয়েই আজকে আলোচনা করবো।

হাইপোথাইরয়েডিজম

যখন শরীরের প্রয়োজনের চেয়ে কম থাইরয়েড হরমোন নিঃসৃত হয়, তখন কিছু কিছু উপসর্গ আছে যা দেখে আপনি সন্দেহ করতে পারবেন যে, আপনি হয়ত হাইপোথাইরয়েডিজম-এ ভুগছেন। তবে উপসর্গের আগে এর কারণ সম্পর্কে আমাদের জানতে হবে। হাসিমটো ডিজিজ, থাইরয়েডাইটিস বা থাইরয়েড গ্ল্যান্ড-এর প্রদাহ, জন্মগত হাইপোথাইরয়েডিজম কিংবা কোন কারণে অপারেশন করে থাইরয়েড গ্ল্যান্ড অপসারণ করলে হাইপোথাইরয়েডিজম দেখা দেয়। পুরুষের চেয়ে ৫০% ক্ষেত্রে নারীরা এই সমস্যায় বেশি ভোগেন। ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে বলে-এর লক্ষণ অনেকক্ষেত্রে নজরে আসে না। কিছু সাধারণ লক্ষণ হচ্ছে-ক্লান্তি, ওজন বৃদ্ধি, মুখ ফুলে যাওয়া, ঠাণ্ডা সহ্য করতে না পারা, পেশি ব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য, ত্বকের শুষ্কতা, চুল ভেঙে যাওয়া ও পড়ে যাওয়া, অতিরিক্ত  ঘাম, ভারী বা অনিয়মিত ঋতুস্রাব, বিষণ্ণতা  ও হৃৎস্পন্দন কমে যাওয়া।

চিকিৎসা

হাইপোথাইরয়েডিজম-এর রুগীদের চিকিৎসকগণ লেভোথাইরক্সিন সোডিয়াম বা থাইরক্সিন সোডিয়াম ঔষধ হিসেবে খেতে বলেন, যা আজীবন খেতে হয়। এছাড়াও এইসব রুগীদের বিভিন্ন খাবার যেমন- ব্রেড, পাস্তা, সিরিয়াল জাতীয় খাবার, ব্রকলি, পালং শাক, বাঁধাকপি, ফুলকপি, সয়াসস, সিম, কফি, দুধ ও চিনিযুক্ত খাবার ইত্যাদি এড়িয়ে যেতে চিকিৎসকগণ উপদেশ দিয়ে থাকেন।

হাইপারথাইরয়েডিজম

হাইপারথাইরয়েডিজম (অত্যধিক থাইরয়েড) এমন একটি রোগ যেখানে আপনার থাইরয়েড গ্রন্থিটি হতে থাইরক্সিন হরমোন অনেক বেশি উৎপাদন করে। সাধারণত গ্রেভস ডিজিজ (এক ধরনের ইমিউন সিস্টেম ডিজঅর্ডার), অতিরিক্ত থাইরয়েড হরমোন সেবন, অতিরিক্ত আয়োডিন সেবন, থাইরয়েডাইটিস ইত্যাদি কারণে থাইরয়েড হরমোন বেশি উৎপাদন হয়। যাদের হাইপার থাইরয়েডের সমস্যা হয়, তাদের ওজন কমে যায়, বিরক্তবোধ থাকে, ডায়রিয়ার প্রবণতা থাকে, রাগ থাকে, মেজাজ খারাপ থাকে। তারা অনেক খায়, তবে ওজন বাড়ে না, গরম সহ্য করতে না পারা, ঘাম হয় অতিরিক্ত, বুক ধরফর করা ইত্যাদি লক্ষণ দেখা যায়।

চিকিৎসা

হাইপারথাইরয়েডিজম-এর চিকিৎসা হচ্ছে অ্যান্টিথাইরয়েড ওষুধ, যেটি থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতাকে কমিয়ে দেবে। ওষুধের পাশাপাশি সার্জারি করা যেতে পারে। যেহেতু গ্রন্থিটি বেশি কাজ করছে, তাই কিছু অংশ কেটে কার্যকারিতা কমিয়ে দেওয়া যেতে পারে।

গর্ভাবস্থায় থাইরয়েড

গর্ভধারণের প্রথম ১২ সপ্তাহে ভ্রুণের বৃদ্ধি নির্ভর করে মায়ের থাইরয়েড হরমোনের উপর। তাই মায়ের পর্যাপ্ত পরিমাণে থাইরয়েড হরমোন নিঃসরণ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এ হরমোন গর্ভের শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে খুবই গুরুত্বপূর্ণ, হাইপোথাইরয়েডিজম-এর কারণে বাচ্চার ক্ষতি হতে পারে। এ সমস্যার ফলে গর্ভের বাচ্চার শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্থ হয় যার ফলে বাচ্চা কম আইকিউ (IQ- Intelligence Quotient) নিয়ে জন্মাতে পারে। হাইপোথাইরয়েডিজম-এর সঠিক প্রতিকার না হলে  আরও কিছু সমস্যা, যেমন- গর্ভপাত, সময়ের আগেই প্রসব, গর্ভকালীন উচ্চ রক্তচাপ, মৃত সন্তান প্রসব ইত্যাদি হতে পারে। এছাড়াও আয়োডিনের অভাবেও এ সমস্যা হতে পারে। বংশগত কারণেও গর্ভাবস্থায় হাইপোথাইরয়েডিজম-এর  ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। তবে এ সমস্যাগুলো উপযুক্ত চিকিৎসার মাধ্যমে রোধ করা যেতে পারে।

এতো গেলো কমে যাওয়ার প্রভাব, এবার আসি বেড়ে গেলে কী হয় সে দিকে। গর্ভাবস্থায় মায়েদের শরীরে থাইরয়েড হরমোনের চাহিদা বেড়ে যায়। গরভকালীন এইচসিজি (Human Chorionic Gonadotropin) নামক হরমোন এবং ইস্ট্রোজেন থাইরয়েড গ্রন্থিকে উদ্দীপিত করে যাতে থাইরয়েড গ্রন্থি অতিরিক্ত থাইরয়েড হরমোন উৎপন্ন করে। এই সমস্যা সাধারণত গর্ভাবস্থার প্রথম ট্রাইমেস্টার বা প্রথম তিন মাসে দেখা যায়, দ্বিতীয় ট্রাইমেস্টার এর দিকে এটি আবার নিজে নিজেই ঠিক হয়ে যেতে পারে। এ সমস্ত সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে যেসব গর্ভবতী মায়েদের নিকট আত্মীয় কারও থাইরয়েডের সমস্যা আছে (মা বা বোন) তাদের গর্ভধারণের আগেই বা গর্ভধারণের পরপরই থাইরয়েড-এর পরীক্ষা করে দেখা উচিত।

থাইরয়েড গ্ল্যান্ড সুস্থ রাখার কয়েকটি টিপস

১) উচ্চ মানের টাইরোসিন আমিষযুক্ত খাবার খান। টাইরোসিন দরকার হয় থাইরয়েড হরমোন তৈরিতে। এটি পেতে খেতে হবে লাল মাংস, মাছ, মুরগির ডিম ও মাংস, কলা ও মিষ্টি কুমড়ার বিচি।

২) গয়ট্রোজেনাস খাবার যেমন বাঁধাকপি, ফুলকপি, শিম, চিনাবাদাম, সয়াসস, ইত্যাদি অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া যাবে না। রান্না করে খাবেন, কাঁচা খাবেন না। থাইরয়েড-এ সমস্যা থাকলে এসব খাবার খাওয়া উচিত নয়।

৩) গ্লুটেন প্রোটিনযুক্ত খাবার খাবেন, যা রোগ প্রতিরোধক্ষমতাকে ঠিক রাখে। এ জন্য গম, শস্যদানা, যব, বার্লি খেতে হবে।

৪) থাইরয়েড ঠিক রাখার জন্য লিভারের সুস্থতা দরকার। লিভারের সুস্থতার জন্য ফ্যাটি অ্যাসিডযুক্ত খাবার খেতে হবে। বিভিন্ন তেলযুক্ত মাছ, কাঁচা বাদাম, অলিভ অয়েল-এ এটা পাওয়া যাবে।

]৫) আয়োডিনযুক্ত লবণ খাবেন।

৬) কীটনাশক ও হেভিমেটাল যেমন মারকারি, ক্যাডমিয়াম, দস্তা ব্যবহারে সতর্ক হবেন।

আমেরিকান থাইরয়েড অ্যাসোসিয়েশন-এর মতে, বয়স ৩৫ হলে, প্রতি পাঁচ বছর পর পর প্রত্যেকের থাইরয়েড পরীক্ষা করানো উচিত। যাদের উপসর্গ বা ঝুঁকি রয়েছে, এদের বারবার পরীক্ষা করানো উচিত। ৬০ উর্দ্ধ মহিলাদের বেশি হয় হাইপোথাইরয়েডিজম। হাইপারথাইরয়েডিজম-ও ৬০ উর্দ্ধ পুরুষ ও মহিলাদের হতে পারে। পারিবারিক ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি বাড়ে। তাই এ সম্পর্কে সবার সচেতন থাকতে হবে।

লিখেছেন- ডাঃ মারুফা আক্তার

Pages: 1 2 [3] 4 5 ... 16