Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - Md. Alamgir Hossan

Pages: 1 ... 34 35 [36] 37 38 ... 40
526
ছোট গল্পের মতোই। শেষ হয়েও শেষ নয়। বরং যেন আবারও নতুন এক শুরু। ‘প্রথম পর্ব’ নামে এক অর্থে বাছাই পর্বই খেলতে হয়েছে বাংলাদেশকে। সেই পর্ব পেরিয়ে আসল রাউন্ড এবার। যার নাম সুপার টেন। কিন্তু বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ যেন শেষ হলো না। নতুন করে শুরু হলো। বাংলাদেশ যে পড়েছে কঠিন এক গ্রুপে। যে গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভারত, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড।

প্রত্যেক গ্রুপ থেকে সেরা দুটি দল যাবে সেমিফাইনালে। বাংলাদেশ কি পারবে সেরা দুইয়ে থাকতে? এক মাস আগে হলেও হয়তো উত্তরটা দিতে দ্বিধান্বিত হতে হতো। কিন্তু এশিয়া কাপের ফাইনালে যেন নতুন এক বাংলাদেশকে চিনেছে সবাই। যে বাংলাদেশ শুধু ওয়ানডে নয়, টি-টোয়েন্টিতেও বড় দল হয়ে উঠতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। যে বাংলাদেশ এরই মধ্যে টি-টোয়েন্টির ধাঁধার জট যেন খুলতে শুরু করেছে একে একে।

এই পর্বে বাংলাদেশের প্রথম দুটি ম্যাচই পাকিস্তান ও ভারতের বিপক্ষে। পরীক্ষা কঠিন, কিন্তু বাংলাদেশ এখন ভীষণ আত্মবিশ্বাসী এক ছাত্র। যে একটুও নার্ভাস নয়। তামিমও জানালেন, বাংলাদেশ প্রস্তুত, ‘আমাদের পরের পর্বটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তানের ম্যাচটি বিশেষ করে। আশা করি আমি এই ফর্ম সেখানে টেনে নিয়ে যেতে পারব। আমরা আমাদের সম্ভাবনা ও সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারলে, যেকোনো কিছুই সম্ভব।’

তামিমের এই ‘যেকোনো কিছু’তেই যেন লুকিয়ে সেই প্রত্যয়, সেই স্বপ্ন। সেই আত্মবিশ্বাসও। অধিনায়ক মাশরাফি তামিমকে প্রাপ্য ধন্যবাদ জানিয়ে প্রস্তুত হতে বললেন এই পর্বের জন্য, ‘পরের চারটি বড় ম্যাচের ​দিকে তাকিয়ে আছি। তামিমকে ধন্যবাদ, টানা তিন ম্যাচেও ও রান করে দিয়েছে। ছোটখাটো কিছু ভুল হয়েছে। কিন্তু মূল পর্বে এই ভুলগুলো করার সুযোগ নেই। কিন্তু আমরাও ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলছি। পারফর্ম করতে চাইলে আপনাকে ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলতে হবে।’তামিম আর মাশরাফির কথা কী সুন্দর একই সুরে বাঁধা। ‘ভয়ডরহীন’ ক্রিকেট খেলতে পারলে তো অবশ্যই ‘যেকোনো কিছু’ই সম্ভব!

527
Cricket / ব্রেট লি হতে চান ইবাদত
« on: March 14, 2016, 10:16:08 AM »
ইবাদত হোসেন চৌধুরী যখন ট্রফিটা নিলেন, মঞ্চে তখন দাঁড়িয়ে রুবেল হোসেনও। বাংলাদেশ দলের পেসার পিঠ চাপড়ে দিলেন ইবাদতকে। যার অর্থ, ‘এগিয়ে যাও সামনে’। ইবাদতের মুখে তখন চওড়া হাসি। রবি ফাস্ট বোলার অন্বেষণ কর্মসূচিতে তিনি হয়েছেন সবচেয়ে দ্রুততম বোলার।
১১ বছর আগে পেসার হান্ট থেকে উঠে আসা রুবেলের কাছে থেকে অনুপ্রাণিত হতেই পারেন ইবাদত। তবে দেশের বোলারদের মধ্যে ইবাদতের প্রিয় মাশরাফি বিন মুর্তজা। মাশরাফিকে তাঁর ভালো লাগে মূলত অসাধারণ অধিনায়কত্ব ও উজ্জ্বল ব্যক্তিত্বের কারণে। ইবাদত আসলে হতে চার ব্রেট লির মতো গতিময় বোলার হতে।
চার মাস ধরে চলা মোবাইল সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান রবির এই পেসার অন্বেষণ কর্মসূচির পর্দা নেমেছে গতকাল রোববার। বিসিবির একাডেমি মাঠে কাল নির্বাচন করা হয় ১০ জন ছেলে একজন মেয়ে ও দুইজন শারীরিকভাবে অসমর্থ সেরা ফাস্ট বোলার। সবাইকে পুরস্কৃত করা হয় অর্থ, ট্রফি, ক্রেস্ট দিয়ে।
সবচেয়ে দ্রুত গতির বলের জন্য ‘স্পিড স্টার’ পুরস্কার পেয়েছেন ইবাদত। ধারাবাহিকভাবে লাইন-লেংথ ঠিক রাখার জন্য ‘মোস্ট কন্সিস্ট্যান্ট ফাস্ট বোলার’ হয়েছেন মুজিবর রহমান। বলের ধরন ও বৈচিত্র্যের জন্য ‘বেস্ট ভ্যারিয়েশন ফাস্ট বোলার’ হয়েছেন সুলতান হোসেন।
যেহেতু এটি ছিল দ্রুতগতির বোলার অন্বেষণ কর্মসূচি, ফলে ইবাদতকে রাখতে হবে সবচেয়ে এগিয়ে। মৌলভীবাজার থেকে উঠে আসা এই পেসারের জীবনবৃত্তান্তও বেশ বৈচিত্র্যপূর্ণ। বাড়ি মৌলভীবাজার হলেও তিনি নিবন্ধন করেছিলেন ফরিদপুর থেকে। চাকরি করেন বিমানবাহিনীতে। সাধারণত প্রতিরক্ষাবাহিনী থেকে ক্রিকেটার উঠে আসার দৃষ্টান্ত নেই বললেই চলে। নিঃসন্দেহে ইবাদত সে ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম।
বিমানবাহিনীতে তিনি যোগ দিয়েছিলেন ভলিবল খেলোয়াড় হিসেবে। কিন্তু মন তাঁর সব সময়ই পড়ে থাকত ক্রিকেটে। কথা হচ্ছে, বিমানবাহিনী চাকরি করেও ক্রিকেটে সময় দিতে পারবেন তো? ইবাদত আশাবাদী, ‘সুযোগ করে দেওয়ার জন্য বিমানবাহিনীর প্রতি আমি ভীষণ কৃতজ্ঞ। ইমরান স্যার (সরওয়ার ইমরান) আছেন, এখন থেকে এইচপিতে (বিসিবির হাইপারফরম্যান্স কর্মসূচি) কাজ করার সুযোগ থাকবে। আমার মূল লক্ষ্য জাতীয় দলে খেলা।’
এই কর্মসূচিতে ইবাদতের বলের সর্বোচ্চ গতি ছিল ঘণ্টায় ১৩৯ কিলোমিটার। আজ চূড়ান্ত পর্বে অবশ্য গতি কিছুটা কম ছিল, ঘণ্টায় ১৩৫ কিলোমিটার। কিন্তু তাতে প্রথম হতে অবশ্য তাঁর কোনো অসুবিধা হয়নি।

528
Business Administration / Homogeneous Production Function
« on: March 14, 2016, 09:24:57 AM »
The Linear Homogeneous Production Function implies that fall the factors of’production are increased in slime proportion. the output also increases in the same proportion. That is. the doubling of all inputs will double the output and trebling them will result in the trebling of the output, aim so on. This represents a case of constant returns to scale. This type of production function is called by the economists as a well behaved production function because it can be easily handled and used in empirical studies. It can he used by computers in calculations. That is why it is widely used in linear programming and input-output analysis . It is  extensively used in model analysis of production. distribution and economic growth. This is a production function which is homogeneous of the first degree. That is, it shows that the increase in output in the same proportion follows a given change in the factors of production. This has been put mathematically as.

This fun is homogeneous of Kth degree. If K is equal to one then this homogeneous fun  is homogeneous  the first degree and if l( is equal to two it is homogeneous of the second degree, and so on. If (( is greater than one the production function gives increasing returns to scale and if it is less than one it gives decreasing returns to scale. In the case of homo- -igneous production function, the expansion path is always a straight line through the means that in the case of homogeneous production function of the first degree. given constant relative factor prices. the proportions between the factors used will always be the Whatever the level of output. This makes the task of the entrepreneur easy . Having hit on an optimum factor proportions, he need not change the decision so long as the relative prices  the factors remain unchanged.

529
Business Administration / Linear Homogeneous Production Function:
« on: March 14, 2016, 09:23:36 AM »
We describe the production function as
Q = f (L, K)

Now if we increase the inputs L and k by n times, and the output also increase by n times then
 mQ = f (nL, nK)

if m = n, then this means that increase in output is proportion to the increase in the inputs. This indicates the law of constant returns. Such a production function is called linear homogeneous production function. Since, the power or degree of n in this case is 1, it is called linear production function of first degree.
If however m > n, then output increases more than proportionately to increase in input. This is called increasing returns. But when m < n, then increase in inputs leads to a less than proportional increase in output. This shows the law of Diminishing Returns.

530
 
least-cost combination of resources: the quantity of each resource a firm must employ to produce a particular output at the lowest total cost the combination at which the ratio of the marginal product of a resource to its marginal resource cost (to its price if the resource is employed in a competitive market) is the same for the last dollar spent on each of the resources employed.

531
Business Administration / ECONOMIES OF SCALE
« on: March 14, 2016, 09:14:04 AM »
Economies of scale is a concept that arises in the context of production of a good or service, and other similar activities undertaken by a business or nonbusiness organization. "Economies of scale" refers to economic efficiency that results from carrying out a process (such as production or sales) on a larger and larger scale. The resulting economic efficiencies are usually measured in terms of the costs incurred as the scale of the relevant operation increases. Partly based on Edwin Mansfield's Principles of Microeconomics, important elements of economies of scale, necessary to gain a basic understanding of the concept, are briefly discussed in what follows.
 PRODUCTION, INPUTS, COSTS, AND
ECONOMIES OF SCALE

In order to gain a reasonable understanding of economies of scale, one needs to understand a few concepts, related to the production process. These are: the production function, fixed and variable inputs, and average costs.
PRODUCTION FUNCTION AND INPUTS.

Production of a product (or a set of products) is generally based on a technological relationship—amounts of certain factors of production (inputs) are converted into a product based on some technological constraints. The technological relationship is termed by economists as the "production function." In more technical terms, the production function can be defined as the function that shows the most output that existing technology permits the manufacturing firm to extract from each quantity of inputs. The production function thus summarizes the characteristics of existing technology at a given time. This concept can be illustrated with the help of an example. Suppose Better Steel Corporation decides to produce a certain quantity of steel. It can do so in many different ways. It can choose from among available technological choices: it can use open-hearth furnaces, basic oxygen furnaces, or electric furnaces. Similarly, Better Steel Corporation can choose from various types of iron ore and coal. Given that Better Steel has decided to produce a certain quantity of steel, which production technique will it use; that is, what particular combination of inputs will it decide on? An economist's answer to this question is: the one that minimizes the firm's costs and maximizes its profits.

Given that a technology has been chosen, in general, as inputs used in the production of a commodity increase the total output increases as well. It is useful to understand different kinds of inputs.
FIXED AND VARIABLE INPUTS.

Primarily, there are two kinds of inputs—fixed and variable. A plant and a factory shed are examples of fixed inputs (or factors) of production. These inputs are called "fixed" inputs as the quantities needed of these inputs remain fixed, up to point, as the quantity produced of the product (the output) increases. Using the steel industry as an example, a blast furnace used in producing steel is considered a fixed input—Better Steel Corporation can produce more steel by using more raw materials, and get more production out of the existing blast furnace. It should be noted that fixed input does remain fixed for all levels of output produced. As the scale of production increases, the existing plant may no longer suffice. Suppose that the blast furnace chosen by the steel firm can, at the very maximum, produce 100,000 tons of steel per day. If Better Steel Corporation needs to supply 150,000 tons of steel per day (on average), it has to add to capacity—that is, it has to install a new blast furnace. Thus, even a "fixed input" does not remain fixed forever. The period over which a fixed input remains fixed is called the "short run." Over the "long run," even a fixed input varies.

Inputs that vary even in the short run are called "variable" inputs. In the above example of steel manufacturing, iron ore serves as a variable input. Given the fixed input (the blast furnace in this case), increasing the quantity of the variable input (iron ore) leads to higher levels of output (steel).

For a manufacturing firm, it is not important what combination of fixed and variable inputs are used. As a firm is interested in maximizing profits, it would like to minimize costs for any given level of output produced. Thus, costs associated with inputs (both fixed and variable) are the main concern of the firm engaged in the production of a particular commodity.
TOTAL AND AVERAGE COSTS.

A manufacturing firm, motivated by profit maximization, calculates the total cost of producing any given output level. The total cost is made up of total fixed cost (due to the expenditure on fixed inputs) and total variable cost (due to the expenditure on variable inputs). Of course, the total fixed cost does not vary over the short run—only the total variable cost does. It is important for the firm also to calculate the cost per unit of output, called the "average cost." The average cost also is made up of two components—the average fixed cost (the total fixed cost divided by the number of units of the output) and the average variable cost (the total variable cost divided by the number of units of the output). As the fixed costs remain fixed over the short run, the average fixed cost declines as the level of production increases. The average variable cost, on the other hand, first decreases and then increases—economists refer to this as the U-shaped nature of the average variable cost.

The U-shape of the average variable cost (curve) occurs because, given the fixed inputs, output of the relevant product increases more than proportionately as the levels of variable inputs used increase—this is caused by increased efficiency due to specialization and other reasons. As more and more variable inputs are used in conjunction with the given fixed inputs, however, efficiency gains reach a maximum—the decline in the average variable cost eventually comes to a halt. After this point, the average variable cost starts increasing as the level of production continues to increase, given the fixed inputs. First decreasing and then increasing average variable cost leads to the U-shape for the average variable cost (curve). The combination of the declining average fixed cost (true for the entire range of production) and the U-shaped average variable cost results in the U-shaped behavior of the average total cost (curve), often simply called the average costs.
AVERAGE COST AND ECONOMIES OF SCALE.

Economies of scale are defined in terms of the average cost per unit of output produced. When the average cost is declining, the producer of the product under consideration is reaping efficiency gains due to economies of scale. So long as the average cost of production is declining the firm has an obvious advantage in increasing the output level (provided, there is demand for the product). Ideally, the firm would like to be at the minimum average cost point. However, in the short run, the firm may have to produce at an output level that is higher than the one that yields the minimum average total cost.

When a firm has to add to production capacity in the long run, this may be done by either duplicating an existing fixed input (for instance, a plant) or increasing the size of the plant. Usually, as the plant size increases, a firm is able to achieve a new minimum average cost point (lower than the minimum average cost achieved with the previous smaller capacity) plant. For example, in the case of Better Steel Corporation, the average cost per ton of steel at the minimum average cost point with the larger blast furnace may be 20 percent less than the average cost at the minimum average cost point with smaller blast furnace. Thus, in the long run, a firm may keep switching to larger and larger plants, successively reducing the average cost. One should, however, be warned that due to technological constraints the average cost is assumed to start rising at some output level even in the long run—that is, the average cost curve is U-shaped even in the long run.

Therefore, while looking at the average cost per unit of output is the key to understanding economies of scale, it is useful to remember that the average cost declines up to a point in the short run, and it may decline even more in the long run (also up to a point), as higher and higher levels of output are produced.



532
The phrase "economies of scale" refers to the benefits experienced by many large firms because of their size. The unit costs incurred by the firms tend to fall as they expand. In some cases, they can experience lower borrowing costs or other incentives compared to competitors of a smaller size. Many small businesses strive to grow their operation to reap similar benefits. Yet, the extent to which they can grow is a decision managers have to wrestle with, including how big their plants should be.
Output Applied to Cost
One decision that many companies have to make at the start is whether to own or rent their space. For smaller firms, renting usually is a more affordable option. But larger firms can afford to own their space and even get a lower mortgage rate if they decide to. This is another example of economies of scale from which large firms benefit. For smaller firms with high rental cost, the only alternative may be to produce more output to cover the cost.
Profit-Maximizing Output
Every business wants to produce as much output as possible, since that can translate into more sales. Yet, no matter how much the owner may want to expand, he may have to limit production to a level that will maximize the business's profit at the current stage of its business. Managers can only operate at an output level where the extra revenue gained from one more unit of production matches or exceeds the extra cost involved in making that product.
Labor-Land Ratio
Another facet to company analysis is understanding the size of labor to the size of plant. Businesses that are labor-intensive have to watch how much labor they have per square feet to prevent overcrowding. Overcrowding may lead to poor quality of products, because labor roles may not be clearly defined. Also, it can lead to missing products or breakages all of which can cause the firm’s unit cost to rise. .
Technology
Technology is often a friend of business expansion. Over the long run, it can serve to reduce the unit cost of production for firms. Businesses that are capital-intensive and technologically inclined can afford to expand their output and benefit from economies of scale. They may even be able do away with any extra labor costs that may have been previously needed to produce the same amount of goods.

533


ওমানকে হারিয়ে ‘আসল’ বিশ্বকাপ অর্থাৎ সুপার টেনে পৌঁছানোর পর সংবাদ সম্মেলনে মজা করেই মাশরাফিকে বলা হয়, আপনার টস অনুশীলনও দরকার কী না? টানা পাঁচ ম্যাচে যে হারলেন..

মাশরাফির ছোট্ট উত্তর, “টসে অন্য কাউকে পাঠাতে পারলে ভালো হত।”

এশিয়া কাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে টস হেরেছিলেন মাশরাফি। বৃষ্টি বিঘ্নিত ফাইনালেও ভারতের বিপক্ষে ছিল সেই একই চিত্র।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও হেরেই চলেছেন অধিনায়ক মাশরাফি! নেদারল্যান্ডসের কাছে টস হার দিয়ে শুরু। বৃষ্টির বাধায় পড়া পরের দুই ম্যাচে আয়ারল্যান্ড ও ওমানের বিপক্ষেও টস জেতা হয়নি বাংলাদেশের অধিনায়কের।

মাশরাফি অবশ্য টস বিশ্বকাপের তিন ম্যাচেই পরে ব্যাট করতে চেয়েছিলেন। তবে টস হেরে আগে ব্যাট করায় কোনো ক্ষতি হয়নি। বরং ‘আসল’ বিশ্বকাপের আগে ব্যাটিংয়ের সুযোগ মিলেছে ব্যাটসম্যানদের।

নিজেদের গ্রুপে চার দলের বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি ৪৮ ওভার খেলার সুযোগ হয়। কারণটা অবশ্যই মাশরাফির টসে হারা।

বিশ্বকাপে টস যতটা গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে ভাবা হয়েছিল ততটা হতে দেননি মাশরাফির সতীর্থরা। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে স্নায়ু চাপ ধরে রেখে ৮ রানের জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৮ ওভারের বেশি খেলা হয়নি। সে সময়ে যে ব্যাটিং করেন তামিম তাতে ম্যাচ অনেকটা মাশরাফিদের পক্ষেই ছিল।

একই চিত্র ছিল ওমান ম্যাচেও। টস জিতলে ব্যাটিং নিতে চেয়েছিলেন তিনি, হারায় সম্ভব হয়নি। কিন্তু তার কোনো প্রভাব পড়তে দেননি তামিম ইকবাল। তার দারুণ এক শতকে বড় লক্ষ্য গড়া বাংলাদেশ ওমানের সঙ্গে বৃষ্টিকেও হারিয়ে পৌঁছায় সুপার টেনে। 

টি-টোয়েন্টিতে টস রেকর্ড মাশরাফির বিপক্ষে। ১৯ ম্যাচের ১২টিতেই টসে হেরেছেন তিনি। ওয়ানডেতেও চিত্রটা খুব একটা বদলায়নি। সেটাও মাশরাফির বিপক্ষে ১৭-১১। তবে একমাত্র টেস্টে টস জিতেছিলেন মাশরাফি, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেই ম্যাচও জিতেছিল বাংলাদেশ।

534


রোববার হিমাচল প্রদেশ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে ওমানের বিপক্ষে ডাকওয়ার্থ ও লুইস পদ্ধতিতে বাংলাদেশের ৫৪ রানের জয়ে বড় অবদান রাখেন সাব্বির। তামিমের সঙ্গে ৯.১ ওভার স্থায়ী দ্বিতীয় উইকেটে ৯৭ রানের জুটিতে লড়াইয়ের পুঁজি পায় বাংলাদেশ।

ম্যাচ শেষে অধিনায়ক মাশরাফি জানান, যে পরিকল্পনা থেকে সাব্বিরকে টপ অর্ডারে উঠিয়ে আনা হয়েছিল তা সফল।

“সাব্বির নিজের ভূমিকা ভালোভাবে জানে। কেবল সাব্বির নয় দলের সবাই নিজের ভূমিকা জানে। আর নিজের ভূমিকা পালন করতে প্রত্যেকে নিজের সেরা চেষ্টা করে।”         

পাওয়ার প্লের মন্থর ব্যাটিংয়ে চাপে পড়েছিল বাংলাদেশ। প্রথম ৬ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ২৯ রান করে দলটি। সপ্তম ওভারের শেষ বলটি খেলতে যখন সাব্বির ক্রিজে আসেন তখন বাংলাদেশের সংগ্রহ ১ উইকেটে ৪২ রান।

উইকেট ধরে রাখার সঙ্গে রানের গতি বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিতে হয় তামিম-সাব্বিরকে। ম্যাচ শেষে তামিম জানান, ক্রিজে এসেই সাব্বিরের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং তার ওপর থেকে চাপটা সরিয়ে নেয়।

“শুরুতে রান না হওয়ায় আমরা কিছুটা চাপে ছিলাম। কিন্তু উইকেটে এসে সাব্বির দারুণ একটা ইনিংস খেলেছে। সেটা আমাকে আরও নির্ভার ব্যাটিংয়ে সহায়তা করেছে।”

ষোড়শ ওভারে ফিরে যাওয়ার আগে ৪৪ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন সাব্বির। তার ২৬ বলের ইনিংসটি ৫টি চার ও ৯৬ মিটার দূরত্বের বিশাল এক ছক্কা সমৃদ্ধ।

535


গত এশিয়া কাপ থেকেই ব্যাটে-বলে ঠিক নিজের পরিচিত চেহারায় ছিলেন না সাকিব আল হাসান। বিশেষ করে ব্যাটিংয়ে বলতে গেলে ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে। তবে নিজেকে কিছুটা ফিরে পেয়েছেন ওমানের বিপক্ষে ম্যাচে।

এমন বড় কিছু অবশ্য করেননি ব্যাট হাতে। তবে ৯ বলে ১৭ রানের ছোট্ট অপরাজিত ইনিংসটিতে ছিল আপন চেহারায় ফেরার ইঙ্গিত। দারুণ চাতুর্যতায় দুটি চার মেরেছেন সাকিব, প্রিয় স্লগ শটে মেরেছেন দারুণ একটি ছক্কা।

পরে বল হাতো তো ছিলেন দুর্দান্ত। ক্যারিয়ার-সেরা বোলিংয়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন ১৫ রানে।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফি বললেন, ওমান ম্যাচের পারফরম্যান্স হতে পারে সামনের ম্যাচগুলির জন্য সাকিবের আত্মবিশ্বাসের জ্বালানী।

“সাকিবকে নিয়ে এখনও বলছি যে আমার সংশয় ছিল না ওকে নিয়ে। জানতম যে পারফর্ম করবেই। তবে যেটা হয়, ও যে লেভেলের পারফরর্মার, হয়ত নিজেই খুশি হতে পারছিল না নিজেকে নিয়ে। আজকে কিছু রান পেয়েছে। ৪টি উইকেট পেয়েছে। প্রতিপক্ষ যেই হোক, ওর অবশ্যই ভালো লাগছে।”

536
টেস্ট, ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি তিন সংস্করণেই দেশের হয়ে সর্বোচ্চ রান তামিমের। তিন ধরনের ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ডও তারই। বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যানই তিন ধরনের ক্রিকেটে শতক করা বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার।

রোববার ওমানের বিপক্ষে শতক করে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের তিন অঙ্কের ইনিংস না থাকার আক্ষেপ দূর করেন তামিম।

ওমানকে ডাকওয়ার্থ ও লুইস পদ্ধতিতে ৫৪ রানে হারিয়ে বিশ্বকাপের সুপার টেনে পৌঁছায় বাংলাদেশ। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তামিম জানান, দেশের হয়ে রেকর্ড গড়ে যেতে চান তিনি।

“আমি দেশের হয়ে যত দিনই খেলি, ৫-৬ বা ৮ বছর, নিজের রেকর্ড এমন উচ্চতায় নিয়ে যেতে হয় যেন কেউ সহজে ভাঙতে না পারে। স্বাভাবিকভাবেই রেকর্ড ভাঙবেই। সব রেকর্ডই একদিন না একদিন ভাঙে। আমি এমন রেকর্ড গড়ে যেতে চাই যেন একজনের এই রেকর্ড ভাঙতে অনেক কষ্ট করা লাগে।

537
টুর্নামেন্ট শুরুর আগে প্রধান কোচ চন্দিকা হাথুরুসিংহে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শতক করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তামিম। সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে বেশি দেরি করেননি তিনি। তৃতীয় ম্যাচে এসেই খেলেছেন তিন অঙ্কে ছোঁয়া ইনিংস।

বাংলাদেশের ইনিংস শেষে তামিম নিজের প্রতিশ্রুতির কথা জানান, “আমি হাথুরুসিংহেকে বলেছিলাম, এই বিশ্বকাপে আমি তোমাকে একটি শতক এনে দেব। এটা খুব ভালো সংগ্রহ।”

তামিমের শতকে ২ উইকেটে ১৮০ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে বাংলাদেশ। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ২৯ রান ওঠে তামিম ও সৌম্য সরকারের জুটিতে। তামিম জানান, আরেকটু দ্রুত রান তোলার পরিকল্পনা ছিল তাদের।

“আমাদের শুরুতে দ্রুত রান তুলতে পারিনি, এই সময়ে তারা ভালো বল করেছে। কয়েকটি চার হাঁকানোর পর আমি ভালো অনুভব করছিলাম। পাওয়ার প্লেতে আমরা ৩৫-৪০ রান চেয়েছিলাম। প্রথম তিন ব্যাটসম্যানের লম্বা সময় ব্যাটিংয়ের পরিকল্পনা ছিল।   

অফ ড্রাইভে বল বাউন্ডারির দিকে পাঠিয়েই উদযাপন শুরু করেন তামিম। শূন্যে লাফ দিয়ে যেন ছুঁতে চাইলেন আকাশ! অবসান হলো বাংলাদেশের অপেক্ষার। তামিমের প্রথম টি-টোয়েন্টি শতক টি-টোয়েন্টিতে দেশের প্রথমও।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টেনে ওঠার লড়াইয়ে ওমানের বিপক্ষে ২০ ওভারে ২ উইকেটে ১৮০ রান করেছে বাংলাদেশ।

সেঞ্চুরির আগেও আরেকটি মাইলফলক ছুঁয়ছেন তামিম। বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে স্পর্শ করেছেন ১ হাজার টি-টোয়েন্টি রান।

এর আগেও দু দফায় পুরো ২০ ওভার ব্যাটিং করেছিলেন তামিম। কোনোবারই ছাড়াতে পারেননি আশির গণ্ডি। এবার নিজেকে ছাড়ালেন, ছাড়িয়ে গেলেন দেশের সবাইকেও। 

৫৮তম ম্যাচে এসে টি-টোয়েন্টিতে প্রথম শতক পেল বাংলাদেশ। এই সংস্করণে বাংলাদেশের আগের সর্বোচ্চ ছিল তামিমেরই অপরাজিত ৮৮, ২০১২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে।

চলতি বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ৫৮ বলে অপরাজিত ৮৩ রানের চমৎকার এক ইনিংস খেলেছিলেন তামিম। সেদিন ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, শতকের ভাবনা তার ছিল না। দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেওয়াই ছিল তার লক্ষ্য।

৮ রানে হারের পর নেদারল্যান্ডসের অধিনায়ক পিটার বোরেন বলেছিলেন, সঙ্গীদের সহায়তা পেলে তামিমের সেদিনই শতক পেয়ে যাওয়ার কথা ছিল। ওমানের বিপক্ষে সঙ্গীদের কাছ থেকে সেই সহায়তা পেলেন দেশসেরা উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান।

ওমানের ‘মালিঙ্গা’ মুনিস আনসারিকে ছক্কায় পা রাখেন নব্বইয়ে। শতকের আগে অবশ্য একটু থমকে গিয়েছিলেন। ৯৭ রানে ডট বল খেলেছিলেন ৩টি। এরপরই ওই অফ ড্রাইভে চারে অসাধারণ এই শতক।

শেষ পর্যন্ত ৬৩ বলে ১০৩ রানে অপরাজিত তামিম। ১০টি চারের পাশে ৫ ছক্কায় স্পর্শ করেছেন বাংলাদেশের রেকর্ড। এর আগে ইনিংসে ৫টি ছক্কা মেরেছিলেন নাজিমউদ্দিন ও জিয়াউর রহমান।

শতকের পর তামিম জড়িয়ে ধরেন অন্য প্রান্তে থাকা সাকিব আল হাসানকে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের আগের সর্বোচ্চ ছিল সাকিবেরই। ২০১২ সালের আসরে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৫৪ বলে ৮৪ রানের সেই ইনিংস খেলেছিলেন বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার।

বাংলাদেশ প্রথম আন্তর্জাতিক শতক দেখেছিল মেহরাব হোসেন অপির ব্যাটে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডেতে শতক করেন তিনি। টেস্টে শতকের পর খুব একটা অপেক্ষা করতে হয়নি। অভিষেকে টেস্টেই শতক করেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল।

বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে শতকের আক্ষেপ গত বছর দূর করেন মাহমুদউল্লাহ। বিশ্বকাপে তার ব্যাট ধরেই আসে প্রথম শতক। এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও শতক পেল বাংলাদেশ।

538
বাগড়া দেওয়ার আগেই বৃষ্টির ছোবল থেকে ম্যাচ বের করে নিয়েছিলেন তামিম। দুর্দান্ত অপরাজিত শতক গড়ে দিয়েছিলেন জয়ের ভিত। বাকি কাজ সেরেছেন বোলাররা। ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে ওমানকে ৫৪ রানে হারিয়ে বাংলাদেশ উঠে গেছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টেন পর্বে।

ধর্মশালায় প্রথম রাউন্ডের শেষ ম্যাচে ২০ ওভারে ২ উইকেটে ১৮০ রান করেছিল বাংলাদেশ। আদ্যন্ত ব্যাট করে তামিম অপরাজিত ১০৩। বৃষ্টির দুই দফা বাগড়ায় ওমানের লক্ষ্য দু দফা কমে শেষ পর্যন্ত দাঁড়ায় ১২ ওভারে ১২০। নবীন দলটি করতে পারে ৯ উইকেটে ৬৫।

গতবারের মত এবারও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিল বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে মহামূল্য অপরাজিত ৮০, বৃষ্টিতে পণ্ড দ্বিতীয় ম্যাচে ৪৬ রানের ঝড় আর শেষের লড়াইয়ে রেকর্ড গড়া শতক - বলতে গেলে তামিমের ভেলাতেই বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডের আবরণে বাছাইপর্বের বৈতরণী পার হলো বাংলাদেশ।

বিশ্বকাপের আগেই কোচ চন্দিকা হাথুরুসিংহেকে কথা দিয়েছিলেন তামিম, টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি এবার উপহার দেবেনই। কথা রাখলেন যোগ্য শিষ্যের মতোই।

সেঞ্চুরি ছোঁয়া অফ ড্রাইভে বল বাউন্ডারির দিকে ছুটতেই ছুটলেন তামিমও। হেলমেট-ব্যাট উইকেট রেখে ড্রেসিং রুমের দিকে ফিরে শূন্যে লাফ। যেন ছুঁতে চাইলেন আকাশ!

তামিম স্পর্শ করেছেন নতুন দিগন্ত। অবসান হয়েছে বাংলাদেশের দীর্ঘ অপেক্ষার। তামিমের প্রথম টি-টোয়েন্টি শতক, দেশের প্রথম টি-টোয়েন্টি শতকও!

সেঞ্চুরির আগে তামিম মাইলফলক ছুঁয়েছেন আরেকটি। বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে স্পর্শ করেছেন ১ হাজার টি-টোয়েন্টি রান।

এর আগেও দু দফায় পুরো ২০ ওভার ব্যাটিং করেছিলেন তামিম। কোনোবারই ছাড়াতে পারেননি আশির গণ্ডি। এবার নিজেকে ছাড়ালেন, ছাড়িয়ে গেলেন দেশের সবাইকেও।

বাংলাদেশের শুরুটা যদিও ছিল বিভ্রান্তিকর। ৪২ রানের উদ্বোধনী জুটি টি-টোয়েন্টিতে বেশ ভালো সূচনা; কিন্তু তাতে লেগে যায় প্রায় ৭ ওভার!

এক পাশে বাঁহাতি পেসার বিলাল খান ও আরেক পাশে অফ স্পিনার আমির আলিকে দিয়ে বোলিং শুরু করে ওমান। নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে এই দুজন ডানা মেলতে দেননি বাংলাদেশের দুই ওপেনারকে।

তামিম অবশ্য খেলছেন স্বচ্ছন্দেই; ধুঁকেছেন সৌম্য। ফর্মে নেই তিনি বেশ কিছু দিন হলো। তবে এদিন একদমই ছিলেন নিজের ছায়া। মনে হচ্ছিল, ব্যাটিংয়ের চেয়ে দু:সাধ্য বুঝি কিছু আর নেই! তামিম বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রান করে গেলেও সৌম্য খেলেছেন প্রায় দ্বিগুণ বল। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে রান আসে মাত্র ২৯!

বাঁহাতি স্পিনার অজয় লালচেতাকে টানা দুই বলে দারুণ দুটি চার ও ছক্কায় শেকল ভাঙার চেষ্টা করেন তামিম। তবে ওই ওভারেই দু:স্বপ্ন থেকে মুক্তি পান সৌম্য, ডাউন দা উইকেট বাজে এক শটে বোল্ড (২২ বলে ১২)।

সাব্বিরকে সঙ্গী পাওয়ার পর দলের ইনিংসটাকে দারুণ গতিময় করেন তামিম। ফর্মে থাকা দুই ব্যাটসম্যান দারুণ সব শটের প্রদর্শনীতে দুজন মুহূর্তেই বদলে দেন ম্যাচের চিত্র।

বাঁহাতি স্পিনার আমির কালিমকে চার মেরে তামিম স্পর্শ করেন পঞ্চাশ, ৩৫ বলে। পরের বলেই ডাউন দা উইকেটে ছক্কায় উদযাপন করেন অর্ধশতক। লেগ স্পিনার খাওয়ার আলিকে ৯৬ মিটার লম্বা ছক্কায় গ্যালারিতে আছড়ে ফেলেন সাব্বির। তামিম যেন পাল্লা দিতে চাইলেন একই বোলারকে ৯৪ মিটার লম্বা ছক্কায়।

৫৫ বলে ৯৭ রানের জুটি ভাঙে নিরীহ এক ডেলিভারিতে। খাওয়ারকে সুইপ করতে গিয়ে পায়ের পেছন দিয়ে বোল্ড হন সাব্বির (২৬ বলে ৪৪)।

তামিম তাতে দমে যাননি। ওমানের ‘মালিঙ্গা’ মুনিস আনসারিকে ছক্কা মেরে পা রাখেন নব্বইয়ে। সেঞ্চুরির আগে অবশ্য একটু থমকে গিয়েছিলেন। ৯৭ রানে ডট বল খেলেছিলেন ৩টি। এরপরই ওই অফ ড্রাইভে চার মেরে মুক্তির আনন্দ; ৬০ বলে সেঞ্চুরি।

ছবি: আইসিসি

ছবি: আইসিসি
শেষ পর্যন্ত ৬৩ বলে ১০৩ রানে অপরাজিত তামিম। ১০টি চারের পাশে ৫ ছক্কায় স্পর্শ করেছেন বাংলাদেশের রেকর্ড। এর আগে ইনিংসে ৫টি ছক্কা মেরেছিলেন নাজিমউদ্দিন ও জিয়াউর রহমান।

শেষ দিকে ৯ বলে ১৭ রানের ইনিংসে ব্যাট হাতে ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দিলেন সাকিব।

বিশ্বের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডার পরে বল হাতেও ছিলেন দুর্দান্ত। নিজের বুদ্ধিমত্তা আর ওমানের ব্যাটসম্যানদের রান তোলার তাড়ায় করলেন ক্যারিয়ার সেরা বোলিং। নতুন বলে তাসকিন আহমেদ ও আল আমিন হোসেন যথারীতি ছিলেন দুর্দান্ত। চ্যালেঞ্জই জানাতে পারেনি ওমান।

এশিয়া কাপ খেলে আসার ক্লান্তি-শ্রান্তি আর প্রতিকূল কন্ডিশন মিলিয়ে প্রথম রাউন্ড বাংলাদেশের জন্য ছিল পরীক্ষা। দারুণ পারফরম্যান্সে বাংলাদেশ এখন বলতেই পারে, মূল পর্বের আগে প্রস্তুতিটা হলো দারুণ! 

539
Cricket / আবার বৃষ্টি ধর্মশালায়
« on: March 13, 2016, 05:08:54 PM »
সকাল থেকেই আশা দেখাচ্ছিল ধর্মশালার আকাশ। বৃষ্টি ছিল না, ফাঁকে ফাঁকে মেঘের আনাগোনা। হল্যান্ড-আয়ারল্যান্ড ম্যাচটাও শুরু হয়ে যাবে বলেই মনে হচ্ছিল। টসও হয়ে গিয়েছিল, তাতে জিতে ফিল্ডিং নিয়েছিল আয়ারল্যান্ড। কিন্তু ম্যাচ শুরু হওয়ার মুখেই আবারও পরিচিত চেহারায় ফিরে গেল ধর্মশালার আকাশ, শুরু হয়ে গেল বৃষ্টি। ধর্মশালা থেকে প্রথম আলোর ক্রীড়া সম্পাদক উৎপল শুভ্র জানিয়েছেন,  আধঘণ্টা ধরেই আকাশ মেঘলা, ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হচ্ছে। রাত ৮টায় বাংলাদেশ-ওমান ম্যাচ শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু ঠিক সময়ে খেলা শুরু হবে কি না, সেটা নিয়েই এখন সংশয়।
মাশরাফিরা বারবারই বলছিলেন, বৃষ্টির কারণে খেলা পণ্ড হোক, সেটি তাঁরা চান না। পুরো ম্যাচটাই তাঁরা খেলতে চান। অবশ্য ম্যাচটা শেষ পর্যন্ত যদি একেবারে ভেসে যায়, তাতেও সমস্যা নেই। ওমানের চেয়ে নেট রান রেটে এগিয়ে থাকায় বাংলাদেশই চলে যাবে সুপার টেনে।

540
কার্টেল ওভারের ম্যাচ হলেও বাংলাদেশ যেভাবে খেলতে শুরু করেছিল, তাতে জয়টা যেন হাতের মুঠোতেই দেখতে পাচ্ছিলাম। বৃষ্টি আবার না আসলে নিশ্চিত জিততে পারতাম আমরা। বরং, বৃষ্টির কারণে ম্যাচটা পরিত্যক্ত হওয়ায় আমরা একটা নিশ্চিত জয় বঞ্চিত হলাম। টি-টোয়েন্টিতে যে বাংলাদেশ একটি পরিবর্তিত শক্তিরূপে আবির্ভূত হচ্ছিল, জিততে পারলে তাতে আরেকটা মাত্রা যোগ হতে পারতো; কিন্তু প্রকৃতি সেটা আর হতে দিল না। জয়টাকে ভাগাভাগি করে নিতে হলো।

এতে অবশ্য আমাদের ক্ষতির চেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে আয়ারল্যান্ডের। দলটি ভালো। মূল পর্বে হয়তো খেলতে পারতো না; কিন্তু লড়াই তো জমিয়ে দিতে পারতো। অথচ প্রথম ম্যাচে অঘটনের শিকার হয়ে দ্বিতীয় ম্যাচে পড়ে গেলো ভাগ্যের ফেরে। নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগই পেল না।

যদিও তামিম-সৌম্যরা যেভাবে ব্যাটিং শুরু করেছিল, তাতে বাংলাদেশ শক্তিশালি একটা স্কোরই দাঁড় করিয়ে দিতে পারতো আয়ারল্যান্ডের সামনে। সেই স্কোর তাদের পক্ষে পার হওয়া ছিল সবচেয়ে কঠিন। কারণ, আমি প্রথম থেকেই বলে আসছিলাম, বাংলাদেশের বোলিং অ্যাটাক অনেক শক্তিশালি। এই অ্যাটাককে চ্যালেঞ্জ করে ১২ ওভারে শতাধিক রান করা আইরিশদের পক্ষে অন্তত সম্ভব হতো না।

যে সামান্য খেলা হয়েছে, তাতেই তামিম অসাধারণ ব্যাট করলো। বাংলাদেশকে ভালো কিছু করতে হলে তার মত ওপেনারের এমন ধারাবাহিকতা খুব প্রয়োজন। তামিমের ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপটাকে সে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে। গত বেশ কিছুদিন ধরে টি-টোয়েন্টিতে সে যে ধারাবাহিক ফর্মে রয়েছে, তার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছে যেন বিশ্বকাপে এসে।

ডাচদের বিপক্ষে ব্যাট হাতে একাই জিতিয়েছিল সে। আজও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তামিম ওভাবে মারমুখি না হলে কোনভাবেই জয়ের স্বপ্ন দেখা সম্ভব হতো না। কারণ, এ ধরনের শর্টার ভারসনে আইরিশ ব্যাটসম্যানরা ভয়ঙ্কর। পল স্টার্লিং, ও’ব্রায়েনদের দুই ভাই (নেইল ও কেভিন) জ্বলে উঠলে জয় পাওয়াই কঠিন হয়ে যেতো।


কিন্তু ব্যাট হাতে তামিম সব শঙ্কা দুর করে দিল। ওর মধ্যে অসম্ভব আত্মবিশ্বাস দেখতে পেয়েছি। প্রথমদিনই বলেছিলাম, টি-টোয়েন্টিত তামিমের মত ব্যাটসম্যানের স্ট্রাইকরেট ১০৭ কোনভাবেই মানায় না। তার স্ট্রাইকরেট হওয়া উচিৎ কম করে হলেও ১২৫-১৩০ করে। এই বিশ্বকাপেই তার সুযোগ স্ট্রাইক রেট বাড়ানোর। তামিমের ব্যাটিং যেন আমার কথারই প্রতিদ্বনি। অসাধারণ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করে যাচ্ছে। আজ যেমন তার স্ট্রাইকরেট ছিল ১৮০’র ওপর। সৌম্য ২০ রান করলেও স্ট্রাইক রেট ছিল ১৫০-এর ওপর। টি-টোয়েন্টিতে এমনই তো চাই।

গতকালই বলেছিলাম বাংলাদেশকে এগিয়ে যেতে হলে টপ অর্ডারের ব্যাটসম্যানদের স্ট্রাইকরেট ১৩০ এর ওপর রাখতে হবে এবং একজন-দু’জনকে লম্বা ইনিংস খেলতে হবে। লম্বা ইনিংস খেলার কাজটা তামিম একাই নিজের ওপর টেনে নিয়েছে দেখে ভালো লাগছে। আশা করি পুরো টুর্নামেন্টে এভাবেই নিজের সেরাটা ঢেলে দেবে সে।

আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়াতে শেষ ম্যাচের অংকটা একটু কঠিন হয়ে গেলো। কারণ বাংলাদেশ এবং ওমানের পয়েন্ট সমান। শেষ ম্যাচে আবার মুখোমুখি এই দুই দেশ। সুতরাং, বাংলাদেশের জন্য বাঁচা-মরার লড়াই। পরবর্তী রাউন্ডে যেতে হলে অবশ্যই বাংলাদেশকে জিততে হবে। যদিও ওমান এতটা শক্তিশালি দল নয়। আয়ারল্যান্ডকে হারিয়েছে বলে বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়রা যেন ওমানকে দেখে ভিতু হয়ে না পড়ে।

Pages: 1 ... 34 35 [36] 37 38 ... 40