অর্থনীতির আয়তন বেড়েছে

Author Topic: অর্থনীতির আয়তন বেড়েছে  (Read 630 times)

Offline maruppharm

  • Hero Member
  • *****
  • Posts: 1227
  • Test
    • View Profile
নতুন ২০০৫-০৬ ভিত্তিবছরের হিসাবে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) সব সূচকেই অগ্রগতি হয়েছে। জিডিপির প্রবৃদ্ধি, আকার ও মাথাপিছু আয় বেড়েছে। মূলত নতুন হিসাবে কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতের মোট মূল্য সংযোজনের পরিমাণ বৃদ্ধি অর্থনীতির প্রতিটি সূচকে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।।
দেশের জিডিপির নতুন ভিত্তিবছর (২০০৫-০৬) নিয়ে গতকাল বুধবার পরামর্শক সভায় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) উপস্থাপনায় এসব তথ্য ওঠে এসেছে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পরিসংখ্যান ভবনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
পরিকল্পনামন্ত্রী এ কে খন্দকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাস, খাদ্যমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক, জিডিপি ভিত্তিবছর পরিবর্তনসংক্রান্ত কারিগরি কমিটির সভাপতি ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা সচিব মো. নজিবুর রহমানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
মূলত ক্রমপরিবর্তনশীল অর্থনীতির গতিধারার প্রকৃতি চিত্র নিরূপণ করতেই একটি নির্দিষ্ট সময় পর পর নতুন ভিত্তিবছর করা হয়। ফলে অর্থনীতির নতুন নতুন খাতগুলো এতে অন্তর্ভুক্ত হয়। এতে দেশের অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে আরও স্পস্ট ধারণা পাওয়া যায়।
২০০০ সালে ১৯৯৫-৯৬ ভিত্তিবছর ধরে জিডিপি গণনা করা শুরু হয়। আগের ১৯৮৪-৮৫ ভিত্তিবছরের চেয়ে সেই ভিত্তিবছরে জিডিপির আকার প্রায় ২৭ শতাংশ বেড়েছিল।
কৃষি খাত: নতুন ভিত্তিবছরে কৃষি খাতে মোট মূল্য সংযোজন হবে ৯ শতাংশ। এর মানে আগের ভিত্তিবছরে কৃষি খাতে যে পরিমাণ মূল্য সংযোজন হয়েছে নতুন ভিত্তিবছরে তার চেয়ে বেশি হবে। কৃষি খাতের উৎপাদনের আকার বাড়বে, যা মোট জিডিপিতে বাড়বে। নতুন ভিত্তিবছরের কৃষি খাতের শস্য উপ-খাতে ২৪টি নতুন শস্যসহ সর্বমোট ১২৪টি শস্যের উৎপাদন তথ্য অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযাগ্য হলো গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, ব্যক্তিগত বনায়ন, মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন, শুঁটকি, পোনা মাছ, চাষকৃত মাছ ইত্যাদি।
শিল্প খাত: শিল্প খাতে মোট মূল্য সংযোজন হবে ৫ শতাংশ। যেসব খাতের তথ্য নতুন করে সংযুক্ত হয়েছে সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো মিনারেল ওয়াটার, বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, পৌর অঞ্চলে পানি সরবরাহ প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি।
সেবা খাত: নতুন ভিত্তিবছরে সবচেয়ে লাভবান হবে সেবা খাত। এই খাতে ১৬ শতাংশ বেশি মূল্য সংযোজন হবে। সেবা খাতে যেসব নতুন সংযুক্ত হয়েছে সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো যানবাহন মেরামত, গৃহস্থালি ও ব্যক্তিগত সামগ্রী মেরামত, এয়ারলাইন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, ইন্টারনেট ও কেব্ল সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, ক্ষুদ্র ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান, লিজিং ও ফাইন্যান্স কোম্পানি, সমবায় ব্যাংকসহ সমবায় সমিতি, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি, বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ।
আলোচনা: বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী জানান, দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে— এমন অনেক নতুন খাত যুক্ত হওয়ার ফলে নতুন ভিত্তিবছরের আওতা বেড়েছে, ফলে জিডিপি ও মাথাপিছু আয়ও কিছুটা বেড়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘ক্রয়ক্ষমতার হিসাবে আমরা অনেক দেশ থেকে পিছিয়ে রয়েছি। এর হিসাবগত পদ্ধতি পরিবর্তন করা প্রয়োজন। বাংলাদেশের চেয়ে ভারতীয়দের ক্রয়ক্ষমতা প্রায় দ্বিগুণ, শ্রীলঙ্কায় তিন গুণ। আফ্রিকার অনেক দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আমাদের চেয়ে খারাপ হওয়ার পরও তাদের ক্রয়ক্ষমতার পরিমাণ আমাদের চেয়ে বেশি। সেসব দেশে এখনো ক্ষুধা বড় সমস্যা হলেও আমাদের দেশে ১৫ বছর আগেই ক্ষুধার সমস্যা বিদায় হয়েছে।’
অর্থমন্ত্রী মনে করেন, হিসাবের চেয়ে বাংলাদেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা অনেক বেশি।
পরিকল্পনামন্ত্রী এ কে খন্দকার বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক পরিবর্তনের সঠিক প্রতিফলন ঘটানোর জন্য জিডিপি এবং মূল্যস্ফীতির সূচকের ভিত্তিবছর নির্দিষ্ট সময় পর পর পরিবর্তন করা জরুরি।
Md Al Faruk
Assistant Professor, Pharmacy