হিজাবের শর্তাবলী ও পর্দাহীনতার ভয়াভহ পর&#24

Author Topic: হিজাবের শর্তাবলী ও পর্দাহীনতার ভয়াভহ পর  (Read 1039 times)

Offline BRE SALAM SONY

  • Hero Member
  • *****
  • Posts: 827
  • Alhamdulliha Allah Can makes Me A Muslim
    • View Profile
    • Special Discount For hajj and Umrah Guest
শরীয়তের দৃষ্টিতে পর্দার শর্তাবলী
আল্লাহর কোন সৃষ্টিই বেপর্দা নয়। এই পৃথিবীর পর্দা নীল আকাশ, যাকে আমরা আসমান বলি। এই যমিনের বেষ্টনীতে আছে যত নদ-নদী, হাওর, সাগর-মহাসাগর তাতে আছে যত সম্পদ আর প্রাণী, নানা জাতের আর আকারের মাছ, তাদের ও আল্লাহ তাআলা পর্দার মধ্যে রেখেছেন, পানির পর্দা দিয়ে। বনের জন্তু জানোয়ারকে রাব্বুল আলামীন বনের পর্দা দিয়ে রেখেছেন। কোন ফল এমন নেই যে ফলের পর্দা নেই। যে ফুল সুবাস ছড়ায় সেও তার সৌরভ লুকিয়ে রাখে কলিতে। এভাবে গোটা সৃষ্টিই রয়েছে পর্দায় পরিবৃত। মানুষ নিশ্চয়ই নয় এর ব্যতিক্রম। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাই নারী পুরষকে সম্ভ্রম আর নৈতিকতার পর্দার অনুভূতি দিয়ে সংরক্ষণ করেছেন। চোখের পর্দা, শ্রবন শক্তির পর্দা, বিবেকের পর্দা ভাল মন্দ পরখ করার জ্ঞানের পর্দার ব্যবসা আল্লাহ পাক আমাদের মধ্যে সৃষ্টি করে রেখেছেন। নারীর জন্য সে ব্যবসা দিয়ে তিনি সুষ্পষ্ট নির্দেশনাও দিয়েছেন। সেই পর্দার চমৎকার বর্ণনা রয়েছে এই প্রবন্ধে।
ইসলামী শরীয়তের পক্ষ থেকে মেয়েদের (হিজাব) পর্দার ব্যাপারে কিছু শর্তাবলী রয়েছে। সেগুলো হলোঃ
১. হিজাব (পর্দা) হবে তার গোটা শরীরটাকে আবৃতকারী। আল্লাহ তাআলার ভাষায় :
يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلَابِيبِهِنَّ
অর্থাৎ তারা যেন (উপির দিক থেকে) নিজেদের উপর নিজেদের চাদরের আচল ঝুলিয়ে দেয়। (যাতে আপাদমস্তক ঢেকে যায়)।
অর্থাৎ এমন লম্বা কাপড়, যা মহিলার সমগ্র শরীরটাকেই ঢেকে দেয়। অতএব এটা সুষ্পষ্ট যে, হিজাব হল এমন পর্দা যা গোটা শরীরটাকে ঢেকে ফেলে।
২. হিজাব (পর্দাটা) হালকা কাপড়ের হতে পারবে না। যার মধ্য দিয়ে মেয়েলি শরীরের কোন কিছু দেখা যায়। বরং এটা হতে হবে মোটা কাপড়ের যার মধ্যদিয়ে কোন কিছু দেখার বা বুঝবার কোন আশঙ্কা থাকবে না। কেননা, হিজাবের মূল উদ্দেশ্যই হল আবৃত রাখা। অন্যের দৃষ্টি থেকে এমনকি অন্যের উপলব্দি শক্তি থেকেও।
৩. হিজাবের (পর্দার) কাপড় হবে সাধারণ, কারুকার্য বিহীন। অর্থাৎ হিজাব এমন কারুকার্য সম্বলিত নয়নাভিরাম রং-রেংয়ের হতে পারবে না, যাতে অতি সহজেই অন্যের দৃষ্টি কাড়ে। কেননা আল্লাহ্ তাআলা নিজেই ঘোষণা করেছেন যে :
وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا
তারা যেন নিজেদের সাজসজ্জা প্রকাশিত না করে কেবল তা ছাড়া, যা আপনা হতেই প্রকাশিত হয়ে যায়। (সূরা নূর : আয়াত ৩১)
এখানে যা এমনিতেই প্রকাশিত হয়ে যায় বলতে বুঝানো হয়েছে, যা হিজাব পরিহিতার অনিচ্ছা সত্ত্বেও স্বাভাবিক ভাবেই প্রকাশিত হয়ে যায়।
সুতরাং যদি হিজাবই হয় নয়নাভিরাম, কারুকার্য সম্বলিত, তাহলে তা দ্বারা পর্দা করা জায়েয হবে না। কেননা হিজাব মানেই হল অপর থেকে বা পর পুরুষ থেকে নিজের সৌন্দর্যকে ঢেকে রাখা এবং অন্যের চোখে উজ্জ্বল হয়ে ফুটে না উঠা।
৪. হিজাব সংকীর্ণ বা চিকন হবে না বরং হিজাব হবে প্রশস্ত ও মোটা, যাতে করে হিজাব পরিহিতার শরীরের গঠন আকৃতি পরিলক্ষিত না হয়।
কেননা হিজাব যদি সংকীর্ণ বা চিকন হয়, তাহলে মহিলার অঙ্গাকৃতি হিজাবের উপর দিয়েই প্রস্ফুটিত হয়ে উঠবে এবং এতে করে ফিৎনা ফাসাদ ছড়ানোর বেশী আশঙ্কা দেখা দেবে।
৫. হিজাব অধিক সুগন্ধিময় হতে পারবে না, যাতে করে সুঘ্রাণ পুরুষের মনকে আকৃষ্ট করে হিজাব পরিহিতাকে তাদের আলোচনার বস্তুতে পরিণত করে। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন:
মেয়েরা যখন সুগন্ধি (আতর) ব্যবহার করে পুরুষদের কোন সমাবেশের কাছ দিয়ে অতিক্রম করে, তখন পুরুষরা (স্বাভাবিকভাবেই) বলাবলি শুরু করে দেয় যে, এই মহিলাটা এমন, এমন, এমন। অর্থাৎ সুঘ্রাণ ব্যবহারকারিনী, সুন্দরী ইত্যাদি। (আসহাবে সূনান, তিরমিযী বলেছেন, এই হাদিসটি হাসান, সহীহ্)
মহিলা যখন আতর (সুগন্ধি) ব্যবহার করতঃ কোন গোত্রের কাছ দিয়ে অতিক্রম করে এবং এর সুঘ্রাণ গোত্রবাসীদের কাছে পৌঁছায়, তখন তারা বলাবলি করতে থাকে যে, মহিলাটি তো খুবই সুগন্ধময়ী, সুঘ্রাণ ব্যবহারকারিনী ইত্যাদি।
৬. হিজাব পুরুষদের ব্যবহৃত পোশাকের অনুরূপ হতে পারবে না। যার প্রমাণ পেশ করে আবু হুরায়রা (রা:) কর্তৃক বর্ণিত নিম্নোক্ত হাদীস :
আল্লাহ্র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঐ সকল পুরুষদের উপর অভিসম্পাদ (লা’নত) করেছেন, যারা স্ত্রীলোকদের পোশাক পরিধান করে। অপরদিকে ঐ সকল মেয়ে লোকদের উপরও অভিসম্পাত (লা’নত) করেছেন, যারা পুরুষদের পোশাক পরিধান করে। (আবু দাউদ, নাসায়ী)
অন্য হাদীসে বলা হয়েছে :
আল্লাহ্ তা’আলা অভিসম্পাত (লা’নত) করেছেন ঐ সব পুরুষদের প্রতি যারা মেয়েদের আকৃতি-প্রকৃতি, পোশাক-পরিচ্ছদ গ্রহণ করে, অপরদিকে ঐ সকল মেয়েলোকদের প্রতিও অভিসম্পাত (লা’নত) করেছেন যারা পুরুষদের আকৃতি-প্রকৃতি ও পোশাক-পরিচ্ছদ গ্রহণ করে। (বুখারী)
খুবই পরিতাপের
বিষয় যে, আমাদের এই বর্তমান যুগেই আধুনিকতার নামে অসংখ্য মেয়ে লোকেরা পুরুষদের আকৃতি-প্রকৃতি ও পোশাক-পরিচ্ছদকে নিজেদের ভূষণ হিসাবে গ্রহণ করে নিয়েছে। অনুরূপ অনেক পুরুষও আছে যারা এই আধুনিকতার দোহাই দিয়ে মেয়েদের আকৃতি-প্রকৃতি ও পোশাক-পরিচ্ছদকে নিজেদের ভূষণ বলে গ্রহণ করে থাকে। আমরা আল্লাহ্র কাছে এর থেকে পানাহ্ চাই এবং নিরাপত্তা চাই তার অভিসম্পাত থেকে। (আমীন!!!)

ভয়াবহ পরিণতি
যারা চায় আকর্ষিতা হয়ে সমাজ-বিধ্বংসী বোমায় পরিণত হতে তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলার ঘোষণা, যা কোর’আনের ভাষায় :
إِنَّ الَّذِينَ يُحِبُّونَ أَنْ تَشِيعَ الْفَاحِشَةُ فِي الَّذِينَ آَمَنُوا لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ فِي الدُّنْيَا وَالْآَخِرَةِ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ﴿19﴾

নিশ্চয় যারা এটা পছন্দ করে যে, মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়-ক, তাদের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব। আর আল্লাহ জানেন এবং তোমরা জান না। (সূরা নূর : আয়াত ১৯)
হে বোন,
একটু চিন্তা কর, আল্লাহর এই ঘোষণা হল শুধু তাদের জন্যে, যারা মনে মনে চায় বা আকাঙ্খা করে, কিন্তু বাস্তবে যারা মু’মিনদের মধ্যে এই ব্যভিচার বিস্তারে ব্যস্ত ও তৎপর তাদের পরিণতি কি হবে?
(একদল জাহান্নামী, যাদের আল্লাহর রাসূলও সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দেখেননি, কিন্তু আমরা দেখছি।)
সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুলস্নাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন :
“দুই দল নিকৃষ্ট জাহান্নামী, যাদের আমিও দেখিনি, এদের একটি হল এমন একদল লোক, যাদের হাতে সর্বদাই থাকে চাবুক যা দেখতে গরুর লেজের ন্যায় দেখায়, যা দিয়ে তারা মানুষকে প্রহার করে। (অর্থাৎ যারা সর্বদাই অন্যায়ভাবে মানুষদের প্রতি যুলুম করে চলে)। আর অপর দলটি হল এমন মহিলা, যারা অর্ধনগ্ন অবস্হায় কাপড় পরিধান করে। ফলে তারা লোকদের আকৃষ্ট ও আকর্ষণ করে এবং তারাও হয় দুষ্ট লোকদের দ্বারা আকর্ষীতা এবং ব্যাভিচারের শিকার। তাদের মাথা যেন উঁচু কুঁজ বিশিষ্ট উটের ন্যায়। এরা কখনো জান্নাতে প্রবেশ করবে না, এমনকি জান্নাতের গন্ধও পাবে না। পরিশেষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জাহান্নামে এদের অবস্হানের দূরত্বের আধিক্য বুঝাতে বলেছেন : “জান্নাতের সুঘ্রাণ এত এত দুরত্ব থেকেও পাওয়া যাবে।”
উল্লেখিত হাদীস শরীফে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুষ্ট-লম্পট চরিত্রহীনা ও অসভ্য মহিলাদের এক পরিচিতি তুলে ধরেছেন।
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তারা হল :
“পোষাক পরিহিতা উলঙ্গ অর্থাৎ এমনভাবে কাপড় পরে, যাতে তাদের অর্ধনগ্ন দেখায় অথবা এমন কাপড় পরে যাতে তার শরীরের সকল অঙ্গ-প্রতঙ্গ এমনিতেই ষ্পষ্ট দেখা যায়।।”
আল্লাহ্র আনুগত্য থেকে বিমুখ এবং আকৃষ্টকারিণী, যে লজ্জা শরম কি তা বুঝেই না এবং পর্দার ধারে কাছেও আসে না বরং সর্বদা নিজের প্রবৃত্তিকেই অনুসরণ করে চলে।
আকৃষ্ট বা আকর্ষিতা। যে চলাফেরা ও কাজকর্মের দ্বারা পরপুরষ কর্তৃক আকৃষ্ট হয়। কিন্তু সে এতে কোন অপমান বোধতো করেই না বরং এটাই সে চায়।
অর্থাৎ, তাদের মাথা হল উঁচু কুঁজ বিশিষ্ট চলন্ত উটের ন্যায়। এই সমস্ত মেয়েরা নিজেদের চুলকে উপর দিকে দাঁড় করিয়ে বাঁধে এবং হাটার সময় মাথাটাকে উন্মুক্ত করে উটের ন্যায় অগ্রসর হয়।








আল্লাহর রহমতে প্রতি বছর হজে যাওয়ার সুযোগ হচ্ছে।এভাবেই হাজীদের খেদমত করে যেতে চাই।
01711165606

আমার প্রতিষ্ঠান www.zilhajjgroup.com
www.corporatetourbd.com