লাহোর থেকে স্বাধীন বাংলাদেশ ও স্বাধীনতাত্তর বাংলার রাজনীতি

Author Topic: লাহোর থেকে স্বাধীন বাংলাদেশ ও স্বাধীনতাত্তর বাংলার রাজনীতি  (Read 1134 times)

Offline Mohammad Nazrul Islam

  • Full Member
  • ***
  • Posts: 141
  • Test
    • View Profile
এই ঘোষনার পরপরই বাংলার আপামর জনতা স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়ে। ভাষনের পর থেকেই শেখ মজিবুর রহমানের নির্দেশে বেসামরিক প্রশাসন চলতে থাকে। 1971 সালের 4 এপ্রিল ‘তাজউদ্দিন-ইন্ধিরা গান্ধীর’ বৈঠক করেন। এই বৈঠকেই স্বাধীনতার প্রশ্নে ভারতের অবস্থান অনেকটা পরিস্কার হয়ে যায়। পাকিস্তান সরকারের ক্ষমতা কয়েকটি সেনানিবাসের মধ্যেই সীমিত হয়ে পড়ে। 32 নম্বর ধানমন্ডি বাসার লাইব্রেরী কক্ষে অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবাহান, পাকিস্তান টাইমস্ এর সম্পাদক মাজাহার আলী ও সাংবাদিক আতিউস সামাদের সাথে আলাপকালে শেখ মজিবুর রহমান বলেন ‘আমি তোমাদের স্বাধীনতা দিলাম, এখন যাও সেটা রক্ষা কর। শেখ মজিবুর রহমানের এই রুপ চতুমূর্খী দূরদর্শীতায় পাকিস্তান সরকার দিশেহারা হয়ে পড়ে এবং 10 থেকে 13 মার্চের মধ্যে পাকিস্তান এয়ারলাইন্স তাদের সব আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করে পূর্ব পাকিস্তানে জরুরীভিত্তিতে "সরকারী যাত্রী" পরিবহণ শুরু করে। এই "সরকারী যাত্রী"দের প্রায় সবাই ছিল শাদা পোশাকে পাকিস্তানী সামরিক বাহিনীর সেনা। এমভি ‘সোয়াত’ নামে গোলাবারুদ ও অস্ত্রশস্ত্র বোঝাই একটি পাকিস্তানী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে ভেড়ে। কিন্তু বন্দরের নাবিক ও শ্রমিকেরা মালামাল খালাস করতে অস্বীকার করে। ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসের একটি দল বাঙ্গালী প্রতিবাদকারীদের ওপর গুলী চালাতে অস্বীকার করে, যার মাধ্যমে শুরু হয় বাঙ্গালী সৈনিকদের বিদ্রোহ যার নেতৃত্ব দেন ‍অষ্টম বেঙ্গল রেজিমেন্টের সহঅধিনায়ক মেজর জিয়াউর রহমান। অনেক আশা সত্বেও মুজিব-ইয়াহিয়া বৈঠক ব্যর্থ হলে 25শে মার্চ রাতে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান পাকিস্তানী সামরিক বাহিনীকে বাঙ্গালি নিধনযজ্ঞের সবুজ সংকেত প্রদান করে সন্ধ্যায় গোপনে পশ্চিম পাকিস্তান চলে যান। 25 মার্চ রাতে পাকিস্তান সামরিক বাহিনী শুরু করে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামের গণহত্যাযজ্ঞ। (এশিয়া টাইমসের ভাষ্য অনুযায়ী, সামরিক বাহিনীর বড় বড় অফিসারদের নিয়ে বৈঠকে ইয়াহিয়া খান ঘোষণা করে "তিরিশ লক্ষ বাঙ্গালিকে হত্যা কর, তখন দেখবে তারা আমাদের হাত চেটে খাবে) সে পরিকল্পনা মতোই ২৫শে মার্চের রাতে পাকিস্তানী আর্মি অপারেশন সার্চলাইট আরম্ভ করে যার উদ্দেশ্য ছিল বাঙ্গালি প্রতিরোধ গুঁড়িয়ে দেয়া। এরই অংশ হিসাবে সামরিক বাহিনীর বাঙ্গালি সদস্যদের নিরস্ত্র করে হত্যা করা হয়, ছাত্র ও বুদ্ধিজীবী সমাজ নিধন করা হয় এবং সারা বাংলাদেশে নির্বিচারে সাধারণ মানুষ হত্যা করা হয়।
এই সকল হত্যাকাণ্ডের খবর যাতে পৃথিবীর অন্যান্য দেশে না পৌঁছায় সে লক্ষ্যে ২৫ মার্চের আগেই বিদেশী সাংবাদিককে ঢাকা পরিত্যাগে বাধ্য করা হয়। তারপরও সাংবাদিক সাইমন ড্রিং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঢাকায় অবস্থান করে ওয়াশিংটন পোস্টের মাধ্যমে সারা পৃথিবীকে এই গণহত্যার খবর জানিয়ে দেন। যদিও এই হত্যাযজ্ঞের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল ঢাকা তথাপি পুরোদেশ জোড়েই চলে এই পৈষাশকি হত্যাকান্ড। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো ছিল তাদের বিশেষ লক্ষ। একমাত্র হিন্দু আবাসিক হল,(জগন্নাথ হল) পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয় পাকিস্তান সেনাবাহিনী। এতে ৬০০ থেকে ৭০০ আবাসিক ছাত্রদের নিমর্ম ভাবে হত্যা করা হয়। যদিও পাকিস্তান সেনাবাহিনী বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন ধরনের ঠান্ডা মাথার হত্যাকান্ডের কথা অস্বীকার করেছে তবে হামিদুর রহমান কমিশনের মতে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ব্যাপক শক্তি প্রয়োগ করেছিলো। জগন্নাথ হল এবং অন্যান্য ছাত্র হলগুলোতে পাকিস্তানীদের হত্যাযজ্ঞের চিত্র ভিডিওটেপে ধারণ করেন তদানিন্তন পূর্ব পাকিস্তান ইউনিভার্সিটি অব ইন্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনলজি (বর্তমান বুয়েট এর প্রফেসর নূরুল উলা)। পুরো বাংলাদেশেই হিন্দু এলাকাগুলো বিশেষ ক্ষতির সম্মুখীন হয়। মধ্যরাতের আগেই, ঢাকা পুরোপুরি জ্বলউঠে, বিশেষভাবে পূর্ব দিকের হিন্দু প্রধান এলাকাগুলো। ২রা আগস্ট, ১৯৭১ টাইম সাময়িকীর প্রতিবেদন অনুযায়ী, "হিন্দু,যারা মোট রিফিউজিদের তিন-চতুর্থাংশ, পাকিস্তানী সামরিক বাহিনীর ক্রোধ ও আক্রোশ বহন করছিল এই সময় পূর্বপাকিস্তানের গন-মানুষের নেতা শেখ মজিবকে গ্রেফতার করে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়। ফলে 26 শে মার্চ থেকেই শুরু হয়ে যায় বাংলাকে মুক্ত করার সর্বাত্মক সংগ্রাম। 26 মার্চ দিবাগত রাতে মেজর জিয়াউর রহমান কালোর ঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষনা করেন । প্রথম দিনের ঘোষনায় মেজর জিয়া প্রবল মানসিক চাপ ও উত্তেজনায় নিজেকে ‘রাষ্ট্রপ্রধান’ বলে ঘোষনা দেন যা মুক্তিযুদ্ধের উপ-সেনাপ্রধান ও বর্তমান আওয়ামী লীগের অন্যতম নেতা এ.কে খন্দকার তার রচিত ‘মুক্তিযুদ্ধের পূর্বাপর’ গ্রন্থে স্বীকার করেছেন (প্রকাশ কাল 2009) । পরদিন তিনি ২৭ মার্চ শেখ মুজিবের পক্ষে দ্বিতীয় ঘোষনাটি দেন।` ঘোষনায় তিনি বলেন ‘I major Zia, do hearby declear independence of Bangladesh on behalf of our gread national leader supreme commander bangabandu sheikh mojibur Rahman’. (উল্লেখ্য যে, 25মার্চ রাত 12টার পরপর অর্থাৎ 26মা পাকিস্তানীদের হাতে বন্দী হবার পূর্বেই বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান টি. এ্যান্ড.টি ও ইপিআর (বিডিআর) ওয়্যারলেসের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ন স্থান সমূহে তার স্বাধীনতা ঘোষনা পৌছিয়ে দেন। এতে তিনি বলেন ‘ this may be my last message; from today Bangladesh is independent. I call upon the people of Bangladesh wherever you might be and with whatever you have, to resist the army of occupation to the last. Your fight must go on until the last soldier of the Pakistan occupation army is expelled from the soil of Bangladesh and final victory is achieved. চট্রগ্রাম আওয়ামী লীগ নেতা জহুর আহম্মেদকে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার বার্তাটি সে রাতেই পৌছিয়ে দেয় চট্রগ্রাম ওয়্যারলেস বিভাগ। পরের দিন দুপুর বেলা প্রায় 2টা 30 মিনিটের সময় চট্রগ্রাম আওয়ামী  লীগের সভাপতি এম.এ হান্নান আতাউর রহমান কায়সার, প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য মোশারফ হোসেন, আওয়ামী লীগনেতা ডাঃ আবু জাফর এবং আব্দুর মান্নানের উপস্থিতিতে বঙ্গবন্ধুর ম্যেসেজটি অনুবাদ করেন। কিন্তু তৎকালীন বেতারের প্রধান আব্দুল মান্নান (টাংগাইল) জীবদস্বায় এই ব্যাপারে নিশ্চুপ ছিলেন এবং মুক্তিযুদ্ধের অন্যতমও নায়ক বঙ্গবীর কাদের সিদ্দীকিও এই ব্যাপারে অনেকটাই শীতল)
এই ঘোষনার সাথে সাথে উৎফুল্ল জনতা যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে। বিছিন্ন বিক্ষিপ্ত ভাবে চলতে থাকে বাংলার মুক্তির সংগ্রাম। ভারতীয় বিএসএফ এই সময় সবার্ত্মক ভাবে এই সকল বিছিন্ন বিক্ষিপ্ত মুক্তিযুদ্ধাদের সাহায্য করে। 10এপ্রিল প্রবাসী মজিব নগর সরকার গঠিত হয়। সরকার গঠনের পর পরই দেশের সকল বিছিন্ন্ মুক্তিযুদ্ধাদের সর্বপ্রথম পূর্নগঠিত করে প্রবাসী সরকারের নিয়ন্ত্রনে নেওয়া হয়।
মুজিব নগর প্রবাসী সরকারের সংক্ষিপ্ত রুপরেখাঃ
রাষ্ট্রপতি- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (অনুপস্থিত)
উপরাষ্ট্রপতি- সৈয়দ নজরুল ইসলাম (রাষ্ট্রপতির অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন)
প্রধানমন্ত্রী- তাজউদ্দীন আহমদ
মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রনালয়
নং   মন্ত্রণালয়সমূহের নাম
১   প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
২.   পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
৩   অর্থ,শিল্পওবাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
৪   মন্ত্রিপরিষদ সচিবালয়।
৫   সাধারণ প্রশাসন বিভাগ।
৬   স্বাস্থ্য ও কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
৭   তথ্য ও বেতার মন্ত্রণালয়।
৮   স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
৯   ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়।
১০   সংসদ বিষয়ক বিভাগ।
১১   কৃষি বিভাগ।
12.   
প্রকৌশল বিভাগ।
মন্ত্রণালয় ও দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীগণ

নং    মন্ত্রীর নাম   দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয়[
১   তাজউদ্দীন আহমদ   ক- প্রধানমন্ত্রী খ- প্রতিরক্ষা
গ- তথ্য ও বেতার এবং টেলিযোগাযোগ
ঘ- অর্থনৈতিক বিষয়, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন
ঙ- শিক্ষা,স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন সরকার, স্বাস্থ্য, শ্রম ও সমাজকল্যাণ
চ- সংস্থাপন ও প্রশাসন
ছ- যেসব বিষয়ের দায়িত্ব মন্ত্রিপরিষদের অন্য কোন সদস্যকে প্রদান করা হয়নি
2   খন্দকার মোশতাআহমেদ   ক- পররাষ্ট্র বিষয় খ- আইন ও সংসদ বিষয়
৩   এম মনসুর আলী   ক- অর্থ ও জাতীয় রাজস্ব খ- বাণিজ্য ও শিল্প
গ- পরিবহণ
৪   এএইচএম কামরুজ্জামান   ক- স্বরাষ্ট্র বিষয়ক খ- সরবরাহ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন
গ- কৃষি
মন্ত্রণালয়ের বাইরে আরো কয়েকটি সংস্থা ছিল যারা সরাসরি মন্ত্রিপরিষদের কর্তৃত্বাধীনে কাজ করত। যেমনঃ
1.   - পরিকল্পনা কমিশন
2.   - শিল্প ও বাণিজ্য বোর্ড
3.   - নিয়ন্ত্রণ বোর্ড, যুব ও অভ্যর্থনা শিবির
4.   - ত্রাণ ও পুনর্বাসন কমিটি
5.   - শরণার্থী কল্যাণ বোর্ড ।
উপরাষ্ট্রপতির দপ্তর
উপদেষ্টাবৃন্দ- মোহাম্মদ উল্লাহ (এম এন এ), সৈয়দ আবদুস সুলতান (এম এন এ), কোরবান আলি (এম এন এ)
একান্ত সচিব- কাজী লুৎফুল হক
সহকারী সচিব- আজিজুর রহমান
প্রধান নিরাপত্তা অফিসার- সৈয়দ এম করিম
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরঃ
এডিসি- মেজর নূরুল ইসলাম
একান্ত সচিব- ডাঃ ফারুক আজিজ
তথ্য অফিসার- আলী তারেক
মন্ত্রণালয়সমূহের বিবরণী
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ঃ
পদের নাম   দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি
প্রধান সেনাপতি   কর্নেল এম এ জি ওসমানী
চিফ অব স্টাফ   কর্নেল এম এ রব
বিমান বাহিনী প্রধান   গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খোন্দকার
প্রধান সেনাপতির এডিসি      লেঃ নূর
প্রতিরক্ষা সচিব   আবদুস সামাদ
উপ সচিব   আকবর আলি খান
এস এ ইমাম
সহকারী সচিব   নূরুল ইসলাম চৌধুরী
এম এইচ সিদ্দিকী
কেবিনেট ও সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ঃ
পদের নাম   দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি
প্রধান সচিব   রুহুল কুদ্দুস
সংস্থাপন সচিব   নূরুল কাদের খান
কেবিনেট সচিব    এইচ টি ইমাম
উপ-সচিব   কামাল উদ্দিন আহম্মদ
তৌফিক এলাহী চৌধুরী
দীপক কুমার চৌধুরী
ওলিউল ইসলাম
সহকারী সচিব   বজলুর রহমান
নরেশ চন্দ্র রায়
মতিউর রহমান
এম এ আউয়াল
আবু তালেব
মোহাম্মদ হেদায়েত উল্ল্যা
কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী
শাহ মতিউর রহমান
পরিকল্পনা কমিশনঃ
পদের নাম   দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি
চেয়ারম্যান   ডঃ মুজাফফর আহমদ চৌধুরী
সদস্য   স্বদেশ বসু
ডঃ মোশাররফ হোসেন
ডঃ আনিসুজ্জামান
ডঃ খান সরওয়ার মোর্শেদ
দেপুটি চীফ   এ এ মাসুদ মিঞা
কে এস ডি সরমান
এ এস এম হোসেন
এম খালেকুজ্জামান
এ কে রায়
ডঃ ওয়াজিঊর রহমান
ডঃ এম নুরুল ইসলাম
রিসার্স অফিসার   ডি কে কলিন নো
তপন কুমার বোস
এম এ নওজেশ আলী
ডি কে নাথ
স্বরাষ্ট্র,ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ঃ
সচিব   এম এ খালেক
উপ-সচিব   খসরুজ্জামান চৌধুরী
সহকারী সচিব   সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
জ্ঞানরঞ্জন সাহা
গোলাম আকবর
স্টাফ অফিসার   এম এ গাফফার
জেলা আনসার অফিসার   শরীফুল হক
রশীদ বখত মজুমদার
মহাকুমা আনসার অফিসার   সৈয়দ হাবিবুল বারী
আনসার অফিসার   শামসুর রহমান
আকরাম হোসেন
তবিবুর রহমান
এ কে হুমায়ূন
কে জি কাদের
আবুল বাশার
আবদুল মান্নান
আলী আকবর
মোঃ জহির উদ্দিন
প্রেস,তথ্য,বেতার,ফিল্ম,আর্ট অ্যান্ড ডিজাইনঃ
পদের নাম   দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি
এম এন এ ইনচার্জ   জনাব আবদুল মান্নান (এম এন এ)
সচিব (প্রথম)   আবদুস সামাদ ( ৩ সেপ্টে-১৩ অক্টো)
সচিব (দ্বিতীয়)   আনোয়ারুল হক খান (১৪ অক্টো-১৬ ডিসে)
ডাইরেক্টর-আর্ট অ্যান্ড ডিজাইন   কামরুল হাসান
ডাইরেক্টর-ফিল্ম   আব্দুল জব্বার খান
ডাইরেক্টর-প্রেস অ্যান্ড পাবলিসিটি   এম আর আখতার মুকুল
অর্থ,শিল্প ও বানিজ্য মন্ত্রণালয়ঃ
পদের নাম   দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি
মন্ত্রীর একান্ত সচিব   সাফাত হোসেন
সচিব (অর্থ)   খোন্দকার আসাদুজ্জামান
সহকারী সচিব (অর্থ)   মাখন চন্দ্র মাঝি
শামসুদ্দিন হায়দার
ক্ষিতিশ চন্দ্র কুন্ডু
এ কে এম হেফারত উল্লাহ
আলি করি
সহকারী সচিব (শিল্প ও বাণিজ্য)   মোঃ ইদ্রিস আলি
জগন্নাথ দে
এ কে আনোয়ার হক
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ঃ
পদের নাম   দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি
উপদেষ্টা   কামরুজ্জামান (এম এন এ)
শিক্ষা অফিসার   আহমেদ হোসেন
কৃষি মন্ত্রণালয়ঃ
পদের নাম   দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি
সচিব   নূরউদ্দিন আহমদ
উপ-সচিব   শহিদুল ইসলাম
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা   এন এম সরকার
মোজাম্মেল হোসেন
পররাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়
পদের নাম   দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি
সচিব   মাহবুবুল আলম চাষী
ওএসডি   ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ
মন্ত্রীর একান্ত সচিব   কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মিশনসমূহঃ
কলকাতা
পদের নাম   দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি
বাংলাদেশ হাই কমিশনার, কলকাতা   এম হোসেন আলি
প্রথম সচিব   আর আই চৌধুরী
তৃতীয় সচিব   # আনোয়ারুল চৌধুরী
1.   কাজী নজরুল ইসলাম
সহকারী প্রেস এ্যাটাচী   এম মোকছুদ আলী
অফিসার   জায়েদুর রহমান
নয়াদিল্লী
পদের নাম   দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি
কাউন্সিলর   হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী
দ্বিতীয় সচিব   কে এম শাহাবুদ্দিন
সহকারী প্রেস এ্যাটাচী   আমজাদুল হক
হংকং
পদের নাম   দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি
ট্রেড কমিশনার   মহিউদ্দিন আহমদ
ফিলিপাইন
পদের নাম   দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি
রাষ্ট্রদূত   কে কে পন্নী
নিউইয়র্ক
পদের নাম   দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি
উপ-কন্সাল   এ এইচ মাহমুদ আলী
উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি, জাতিসংঘ   এম এ করিম
ওয়াশিংটন
পদের নাম   দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি
মিনিস্টার   এনায়েত করিম
রাজনৈতিক কাউন্সিলার   এ এম এম এস কিবরিয়া
অর্থনৈতিক কাউন্সিলার   আবুল মাল আব্দুল মুহিত
শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক কাউন্সিলার   এ আর মতিনউদ্দিন
তৃতীয় সচিব   সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলি
একাউন্টস অফিসার   এম আর চৌধুরী
সহকারী তথ্য অফিসার   শেখ রুস্তম আলি
সহকারী প্রশাসনিক অফিসার   এ এম এস আলম
যুক্তরাজ্য
পদের নাম   দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি
দ্বিতীয় সচিব   মহিউদ্দিন আহমদ
পরিচালক(অর্থ)   এ লুৎফুল মতিন
কাউন্সিলার   রেজাউল করিম
ডেপুটি ডাইরেক্টর   আবদুর রঊফ
লেবার এ্যাটাচী   ফজলুল হক চৌধুরী
সুইজারল্যান্ড
পদের নাম   দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি
দ্বিতীয় সচিব   ওয়ালিউর রহমান
ইরাক
পদের নাম   দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি
রাষ্ট্রদূত   এ এফ এম আবুল ফাতাহ
জাপান
পদের নাম   দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি
তৃতীয় সচিব   এ রহিম
প্রেস এ্যাটাচী   এম মাসুদ
নেপাল
পদের নাম   দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি
তৃতীয় সচিব   এম এ জায়গীরদার
আঞ্চলিক প্রশাসনিক পরিষদঃ
বেসামরিক প্রশাসনকে অধিক গণতান্ত্রিক করার জন্য বাংলাদেশের আঞ্চলিক সুবিধা চিন্তা করে সমগ্র বাংলাদেশকে ১৯৭১ এর জুলাই মাসে ৯টি অঞ্চল এবং সেপ্টেম্বর মাসে চূড়ান্তভাবে ১১টি অঞ্চলে ভাগ করা হয়। সেপ্টেম্বর নাগাদ অঞ্চলগুলোর বিন্যাস হয়েছিল এভাবে-
এক নজরে আঞ্চলিক প্রশাসনিক পরিষদ
নং   জোন/অঞ্চল   প্রধান অফিস   এলাকা   চেয়ারম্যান   সচিব
১   দক্ষিণ পূর্ব জোন-১   সাবরুম   চট্টগ্রাম,পার্বত্য চট্টগ্রাম ও ফেনী মহাকুমা   প্রফেসর নুরুল ইসলাম চৌধুরী   এস এ সামাদ
২   দক্ষিণ পূর্ব জোন-২   আগরতলা   ঢাকা, কুমিল্লা, ফেনী বাদে নোয়াখালী   জহুর আহমদ চৌধুরী   কে আর আহমদ
৩   পূর্ব জোন   ধর্মনগর   হবিগঞ্জ, মৌলভিবাজার মহাকুমা   কর্নেল এম এ রব   কে এ হাসান
৪   উত্তর পূর্ব জোন-১   ডাউকি   সিলেট সদর,সুনামগঞ্জ   দেওয়ান ফরিদ গাজী   সি এস এইচ চৌধুরী
৫   উত্তর পূর্ব জোন-২   তুরা   ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল   শামসুর রহমান খান   লুৎফুর রহমান
৬   উত্তর জোন   কুচ বিহার   রংপুর   মতিউর রহমান   ফয়েজউদ্দিন আহমদ
৭   পশ্চিম জোন-১   বালুরঘাট   দিনাজপুর  বগুড়া   আবদুর রহিম   এ কাসেম খান
৮   পশ্চিম জোন-২   মালদহ   রাজশাহী   আশরাফুল ইসলাম   জেড আই ভূঁইয়া
৯   দক্ষিণ-পশ্চিম জোন-১   কৃষ্ণনগর   পাবনা,কুষ্টিয়া   আবদুর রউফ চৌধুরী   শামসুল হক
১০   দক্ষিণ পশ্চিম জোন-২   বনগাঁ   ফরিদপুর যশোর   ফণিভূষণ মজুমদার   বি বি বিশ্বাস
১১   দক্ষিণ জোন   বারাসাত   বরিশাল, পটুয়াখালী  খুলনা   নভেম্বর পর্যন্ত কেউ ছিলেন না   এ মোমেন
প্রতিটি জোনের সার্বিক তত্ত্বাবধানের জন্য আঞ্চলিক প্রশাসনিক পরিষদ গঠিত হয়। সংশ্লিষ্ট এলাকার জাতীয় ও প্রাদেশি পরিষদ সদস্যদের প্রশাসনিক পরিষদের সদস্য করে তাদের ভোটে নির্বাচিত একজন করে চেয়ারম্যানকে পরিষদের প্রধান করা হয়। সরকার হতে চেয়ারম্যানের অধীনে একজন করে সচিব নিযুক্ত করা হয়। একই সাথে প্রতিটি জোনে সরকার হতে ৭ জন করে কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয় তাদের বিভাগীয় কাজ সম্পাদন করতে।
কর্মকর্তাদের পদ মর্যাদা ছিলঃ-[১] আঞ্চলিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। [২] শিক্ষা কর্মকর্তা। [৩] ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা। [৪] প্রকৌশল কর্মকর্তা। [৫] পুলিশ কর্মকর্তা। [৬] তথ্য বিভাগীয় কর্মকর্তা। [৭] হিসাব বিভাগীয় কর্মকর্তা।
আঞ্চলিক প্রশাসনিক পরিষদের নিয়ন্ত্রণে ছিল প্রধানতঃ রিলিফ ক্যাম্প,যুব শিবির,সেনাবাহিনীকে সহযোগীতা সংক্রান্ত কাজ
প্রতিটি আঞ্চলিক জোনে ৫টি উপ-পরিষদ গঠিত হয়ঃ- ১ | অর্থ উপ-পরিষদ। ২ | ত্রাণ উপ-পরিষদ। ৩ |স্বাস্থ্য উপ-পরিষদ। ৪ | প্রচার উপ-পরিষদ। ৫ | শিক্ষা উপ-পরিষদ। প্রয়োজনে আরো উপ-পরিষদ গঠনের ব্যবস্থা রাখা হয়।
প্রতিটি উপ-পরিষদ গঠনের বিধান হয় আঞ্চলিক পরিষদ হতে নূন্যতম ৩ জন ও উর্ধ্বে ৭ জন সদস্য নিয়ে। সদস্যরা তাদের মাঝ হতে একজন চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেন। জোনাল অফিসার বা কর্মকর্তাদের সচিব করা হয়। প্রতিটি জোনে সংসদ সদস্যদের নিয়ে একটি আঞ্চলিক উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হত।

বাংলাদেশের ভূগৌলিক অবস্থানের কথা চিন্তা করে সমগ্র বাংলাকে 11টি সেক্টরে বিভক্ত করে প্রত্যেক সেক্টরে একজন করে ‘সেক্টরকমান্ডার’ নিয়োগ করা হয়। সেক্টর ও সাবসেক্টরসমূহের তালিকা
সেক্টর কমান্ডারেরা নিজ নিজ সেক্টরের যুদ্ধ পরিচালনা করতেন। সুষ্ঠুভাবে যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে প্রতিটি সেক্টরকে কয়েকটি করে উপ-সেক্টরে ভাগ করা হয়। নিচে সেক্টরগুলোর বিবরণ দেয়া হলো।
বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধেরসেক্টরসমূহ[২
সেক্টর   বিস্তৃতি   কমান্ডার   সাবসেক্টরসমূহ(কমান্ডার)
১.   চট্টগ্রামও পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে ফেনী নদী পর্যন্ত   মেজর জিয়াউর রহমান (১০ এপ্রিল,১৯৭১-২৫ জুন,১৯৭১), ক্যাপ্টেন রফিকুল ইসলাম (২৮
জুন,১৯৭১-১৪ ফেব্রুয়ারি,১৯৭২)   1.   রিশিমুখ (ক্যাপ্টেন শামসুল ইসলাম);
2.   শ্রীনগর (ক্যাপ্টেন মতিউর রহমান, ক্যাপ্টেন মাহফুজুর রহমান);
3.   মানুঘাট (ক্যাপ্টেন মাহফুজুর রহমান);
4.   তাবালছড়ি(সার্জেন্ট আলি হোসেন); এবং
5.   দিমাগিরি (আর্মি সার্জেন্ট, নামঃ অজানা).
২.   নোয়াখালী জেলা কুমিল্লজেলার আখাউড়া-ভৈরব রেললাইন পর্যন্ত এবং ফরিদপুর ও ঢাকার অংশবিশেষ   মেজর খালেদ মোশাররফ (১০ এপ্রিল, ১৯৭১-২২ সেপ্টেম্বর,১৯৭১), মেজর   এ.টি.এম. হায়দার (২২ সেপ্টেম্বর,১৯৭১-১৪ ফেব্রুয়ারি,১৯৭২)   1.   গঙ্গাসাগর, আখাউড়া এবং কসবা (মাহবুব,লেফটেন্যান্ট ফারুক এবং লেফটেন্যান্ট হুমায়ুন কবির);
2.   মন্দাভব (ক্যাপ্টেন গফর);
3.   সালদা-নদী (মাহমুদ হাসান);
4.   মতিনগর (ল্লেফটেন্যান্ট দিদারুল আলম);
5.   নির্ভয়পুর (ক্যাপ্টেন আকবর, লেফটেন্যান্ট মাহবুব); এবং
6.   রাজনগর (ক্যাপ্টেন জাফর ইমাম, ক্যাপ্টেন শহীদ,এবং লেফটেন্যান্ট ইমামুজ্জামান
৩.   সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা, কিশোরগঞ্জ মহকুমা, আখাউড়া-ভৈরব রেললাইন থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে কুমিল্লা ও ঢাকা জেলার অংশবিশেষ   মেজর কে এম শফিউল্লাহ (১০ এপ্রিল, ১৯৭১-২১ জুলাই, ১৯৭১), মেজর এ.এন.এম. নূরুজ্জামান (২৩ জুলাই,১৯৭১-১৪ ফেব্রুয়ারি,১৯৭২)   1.   আশ্রমবাড়ি (ক্যাপ্টেন আজিজ, ক্যাপ্টেন ইজাজ);
2.   বাঘাইবাড়ি (ক্যাপ্টেন আজিজ, ক্যাপ্টেন ইজাজ);
3.   হাতকাটা (ক্যাপ্টেন মতিউর রহমান);
4.   সিমলা (ক্যাপ্টেন মতিন);
5.   পঞ্চবাটি (ক্যাপ্টেন নাসিম);
6.   মনতালা (ক্যাপ্টেন এম এস এ ভূঁইয়া);
7.   বিজয়নগর (ক্যাপ্টেন এম এস এ ভূঁইয়া);
8.   কালাচ্ছরা (লেফটেন্যান্ট মজুমদার);
9.   কলকলিয়া (লেফটেন্যান্ট গোলাম হেলাল মোর্শেদ); এবং
10.   বামুতিয়া (লেফটেন্যান্ট সাঈদ)
৪.   সিলেট জেলার পূর্বাঞ্চল এবং খোয়াই-শায়েস্তাগঞ্জ রেললাইন বাদে পূর্ব ও উত্তর দিকে সিলেট-ডাউকি সড়ক পর্যন্ত   মেজর চিত্ত রঞ্জন দত্ত (১০ এপ্রিল,১৯৭১-১৪ ফেব্রুয়ারি,১৯৭২)   1.   জালালপুর (মাহবুবুর রব সাদী);
2.   বাড়াপুঞ্জি (ক্যাপ্টেন এ রব);
3.   আমলাসিদ (লেফটেন্যান্ট জহির);
4.   কুকিতাল (ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কাদের, ক্যাপ্টেন শরিফুল হক);
5.   কৈলাস শহর (লেফটেন্যান্ট ওয়াকিউজ্জামান); এবং
6.   কামালপুর (ক্যাপ্টেন এনাম)
৫.   সিলেট-ডাউকি সড়ক থেকে সিলেট জেলার সমগ্র উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চল   মেজর মীর শওকত আলী (১০ এপ্রিল,১৯৭১-১৪ ফেব্রুয়ারি,১৯৭২)   1.   মুক্তাপুর (সার্জেন্ট নাজির হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা ফারুক ছিলেন সেকেন্ড ইন কমান্ড);
2.   ডাউকি (সার্জেন্ট মেজর বি আর চৌধুরী);
3.   শিলা (ক্যাপ্টেন হেলাল);
4.   ভোলাগঞ্জ (লেফটেন্যান্ট তাহের উদ্দিন আখঞ্জী);
5.   বালাট (সার্জেন্ট গনি, ক্যাপ্টেন সালাউদ্দিন এবং এনামুল হক চৌধুরী);এবং
6.   বারাচ্ছড়া (ক্যাপ্টেন মুসলিম উদ্দিন).
৬.   সমগ্র রংপুর
জেলা এবং দিনাজপুর জেলা ঠাকুরগাঁও মহকুমা   মোহাম্মদ খাদেমুল বাশার (১০ এপ্রিল,১৯৭১-১৪ ফেব্রুয়ারি,১৯৭২)   1.   ভজনপুর (ক্যাপ্টেন নজরুল, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট সদরুদ্দিন এবং ক্যাপ্টেন শাহরিয়ার);
2.   পাটগ্রাম (প্রথমদিকে ই পি আর এর জুনিয়র কমিশন প্রাপ্ত অফিসারদের মধ্যে ভাগ করে দেয়া হয় এবং পরে ক্যাপ্টেন মতিউর রহমান দায়িত্ব নেন।);
3.   সাহেবগঞ্জ (ক্যাপ্টেন নওয়াজেশ উদ্দীন);
4.   মোগলহাট (ক্যাপ্টেন দেলোয়ার); এবং
5.   চাউলাহাটি (ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট ইকবাল)
৭.   দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাঞ্চল, বগুড়া রাজশাহী এবং পাবনা জেলা   মেজর নাজমুল হক (১০ এপ্রিল,১৯৭১-২৭ সেপ্টেম্বর,১৯৭১,দুর্ঘটনায় নিহত), মেজর কাজী নূরুজ্জামান (২৮ সেপ্টেম্বর,১৯৭১-১৪ ফেব্রুয়ারি,১৯৭২)   1.   মালন (প্রথমদিকে ই পি আর এর জুনিয়র কমিশন প্রাপ্ত অফিসারদের মধ্যে ভাগ করে দেয়া হয় এবং পরে ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গির দায়িত্ব নেন );
2.   তপন ( মেজর নাজমুল হক);
3.   মেহেদিপুর (সুবেদার ইলিয়াস, ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গির )
4.   হামজাপুর (ক্যাপ্টেন ইদ্রিস);
5.   আঙিনাবাদ (অজানা মুক্তিযোদ্ধা);
6.   শেখপাড়া (ক্যাপ্টেন রশিদ);
7.   ঠোকরাবাড়ি (সুবেদার মুয়াজ্জেম); এবং
8.   লালগোলা (ক্যাপ্টেন গিয়াসউদ্দিন চৌধুরী).
৮.   সমগ্র কুষ্টিয়া ও যশোর জেলা, ফরিদপুরের অধিকাংশ এলাকা এবং দৌলতপুর-সাতক্ষীরা সড়কের উত্তরাংশ   মেজর আবু ওসমান চৌধুরী (১০ এপ্রিল, ১৯৭১- ১৭ জুলাই,১৯৭১), মেজর এম. এ. মঞ্জুর (১৪ আগস্ট,১৯৭১-১৪ ফেব্রুয়ারি,১৯৭২)   1.   বয়ড়া (ক্যাপ্টেন খন্দকার নাজমুল হুদা);
2.   হাকিমপুর (ক্যাপ্টেন সফিউল্লাহ);
3.   ভোমরা (ক্যাপ্টেন সালাউদ্দিন, ঙ্ক্যাপ্টেন শাহাবুদ্দিন);
4.   লালবাজার (ক্যাপ্টেন এ আর আজম চৌধুরী);
5.   বনপুর (ক্যাপ্টেন মোস্তাফিজুর রহমান);
6.   বেনাপোল (ক্যাপ্টেন আবদুল হালিম, ক্যাপ্টেন তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী); and
7.   শিকারপুর (ক্যাপ্টেন তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, লেফটেন্যান্ট জাহাঙ্গীর)
৯.   দৌলতপুর-সাতক্ষীরা সড়ক থেকে খুলনার দক্ষিণাঞ্চল এবং সমগ্র বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলা   মেজর এম এ জলিল (১০ এপ্রিল,১৯৭১-২৪ ডিসেম্বর,১৯৭১), মেজর জয়নুল আবেদীন(২৪ ডিসেম্বর,১৯৭১-১৪ ফেব্রুয়ারি,১৯৭২)   1.   তাকি
2.   হিঞ্জালগঞ্জ
3.   শমসেরনগর
১০.   কোনো আঞ্চলিক সীমানা নেই। নৌবাহিনীর কমান্ডো দ্বারা গঠিত। শত্রুপক্ষের নৌযান ধ্বংসের জন্য বিভিন্ন সেক্টরে পাঠানো হত   --   --
১১.   কিশোরগঞ্জ মহকুমা বাদে সমগ্র ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলা এবং নগরবাড়ি-আরিচা থেকে ফুলছড়ি-বাহাদুরাবাদ পর্যন্ত যমুনা নদী ও তীর অঞ্চল   মেজর জিয়াউর রহমান (২৬ জুন,১৯৭১-১০ অক্টোবর,১৯৭১), মেজর আবু তাহের (১০ অক্টোবর,১৯৭১-২ নভেম্বর,১৯৭১), ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট এম হামিদুল্লাহ খান (২ নভেম্বর,১৯৭১-১৪ ফেব্রুয়ারি,১৯৭২)   1.   মানকারচর (স্কোয়াড্রন লিডার এম হামিদুল্লাহ খান);
2.   মাহেন্দ্রগঞ্জ (মেজর আবু তাহের; লেফটেন্যান্ট মান্নান);
3.   পুরাখাসিয়া (লেফটেন্যান্ট হাশেম);
4.   ধালু (লেফটেন্যান্ট তাহের; লেফটেন্যান্ট কামাল);
5.   রংগ্রা (মতিউর রহমান)
6.   শিভাবাড়ি (ই পি আর এর জুনিয়র কমিশন প্রাপ্ত অফিসারদের মধ্যে ভাগ করে দেয়া হয় );
7.   বাগমারা (ই পি আর এর জুনিয়র কমিশন প্রাপ্ত অফিসারদের মধ্যে ভাগ করে দেয়া হয় ); এবং
8.   মাহেশখোলা (ই পি আর এর জনৈক সদস্য)
টাংগাইল সেক্টর   সমগ্র টাংগাইল জেলা ছাড়াও ময়মনসিংহ ও ঢাকা জেলার অংশ   কাদের সিদ্দিকী   --
আকাশপথ   বাংলাদেশের সমগ্র আকাশসীমা   গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ.কে. খন্দকার   --
গেরিলা সংগঠনসমূহের তালিকাঃ
কর্নেল ওসমানী তিনটি ব্রিগেড আকারের ফোর্স গঠন করে ছিলেন যেগুলোর নামকরণ করা হয় তাদের অধিনায়কদের নামের অদ্যাংশ দিয়ে ( এস ফোর্স,কে ফোর্স,জেড ফোর্স)।
'জেড' ফোর্সের অধিনায়ক= মেজর জিয়াউর রহমান। ১ম, ৩য় এবং ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত।
o   ১ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট - কমান্ডিং অফিসার - মেজর জিয়াউদ্দিন
o   ৩য় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট - কমান্ডিং অফিসার - মেজর শাফায়াত জামিল
o   ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট - কমান্ডিং অফিসার - মেজর আমিনুল হক
'কে' ফোর্সের অধিনায়ক= মেজর খালেদ মোশাররফ। ৪র্থ, ৯ম এবং ১০ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট  নিয়ে গঠিত।
o   ৪র্থ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট - কমান্ডিং অফিসার -
o   ৯ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট - কমান্ডিং অফিসার -
o   ১০ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট - কমান্ডিং অফিসার -
'এস' ফোর্সের অধিনায়ক= মেজর কে এম সফিউল্লাহ। ১৯৭১ এর অক্টোবর মাসে ২য় এবং ১১ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত।
o   ২য় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট - কমান্ডিং অফিসার -
o   ১১ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট - কমান্ডিং অফিসার - (চলবে)