‘নিজেকে এখনো তারকা মনে করি না’

Author Topic: ‘নিজেকে এখনো তারকা মনে করি না’  (Read 1020 times)

Offline maruppharm

  • Hero Member
  • *****
  • Posts: 1227
  • Test
    • View Profile
শুরুটা আশা জাগানিয়াই ছিল।একটু একটু করে সে আশা পূরণ করে তিনি হয়ে উঠছিলেন ‘দ্য ফিনিশার’।কিন্তু ফর্ম হারিয়ে গত কিছুদিন সেই নাসির হোসেনই যেন নিজেকে হারিয়ে খুঁজছেন! মিরপুরে কাল তারেক মাহমুদের সঙ্গে এসব নিয়েই কথা বলেছেন বাংলাদেশ দলের মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান
l ক্যারিয়ারের শুরুটা বেশ ভালো ছিল। ২০১২ সালটাও কাটল দুর্দান্ত। কিন্তু সম্প্রতি ফর্মটা যেন পড়তির দিকে। কারণ কী মনে হয়?
নাসির হোসেন: যেভাবে শুরু করেছিলাম, সর্বশেষ কয়েকটা ম্যাচে সেভাবে খেলতে পারিনি। তা ছাড়া গত কিছুদিন আমরা বেশি খেলেছি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। টি-টোয়েন্টি এমন একটা খেলা, বলা যায় না কে কখন রান করবে, কখন করবে না। হ্যাঁ, ওয়ানডেতেও আমি চার-পাঁচটা ম্যাচ খারাপ খেলেছি। ইনশা আল্লাহ খুব তাড়াতাড়ি এটা কাটিয়ে উঠব।
l অভিষেক ম্যাচ থেকেই তো মনে হতো ব্যাটিংটা আপনার জন্য অনেক সহজ। তখনকার তুলনায় এখন তো সেটা আরও সহজ হওয়ার কথা...
 নাসির: তখনো আমি খেলা উপভোগ করেছি, এখনো করি। কিন্তু এখন হয়তো বা আমার কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেড়ে গেছে। তবে যেহেতু আমি পেশাদার ক্রিকেটার, চাপ নিয়েই খেলতে হবে।
l চাপও কি পড়তি ফর্মের একটা কারণ?
নাসির: আপনি যখন ভালো খেলবেন, আপনার কাছে প্রত্যাশা থাকবেই। এটা স্বাভাবিক। আর আমার মনে হয় না কেউ চাপ ছাড়া খেলে। চাপ থেকে বের হয়ে আসতে পারাটাই চ্যালেঞ্জ।
l একটা পর্যায়ে আপনার নাম হয়ে যাচ্ছিল ‘দ্য ফিনিশার’। সে নামটা তো এখন হারিয়ে যেতে বসেছে...
নাসির: দুই-তিনটা ম্যাচ ভালোভাবে শেষ করতে পেরেছি, সে জন্যই মানুষ ফিনিশার নামটা দিয়েছে। এখন আবার তারাই অনেক ধরনের কথা বলছে। এটা স্বাভাবিক, এটা বলবেই। আমি তাদের দোষ দেব না। এটা আমারই দোষ, খারাপ খেললে মানুষ কথা বলবে। আমি চেষ্টা করছি এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে।
l দ্য ফিনিশার নামটা কি উপভোগ করতে শুরু করেছিলেন?
 নাসির: অবশ্যই। তবে সবাই যখন বলতে শুরু করল ‘ফিনিশার’, আমার ওপর একটা চাপও কাজ করেছে। আমাকে ম্যাচ জেতাতে হবে, দলের জন্য ভালো খেলতে হবে।
l শুরুর দিকে উইকেটে গিয়ে গান গাইতেন, শিষ বাজাতেন...এসব আপনার মুখেই শোনা। এখনো কি অতটা হালকা মেজাজে থাকেন?
 নাসির: এটা আমার ব্যক্তিগত একটা ব্যাপার ছিল...কিছু জিনিস করলে আমি ভালো খেলতাম। যখন আমি রান করেছি, তখন অন্যদেরও সে জিনিসগুলো ভালো লেগেছে। বলত—দেখো, ও কত রিল্যাক্সড থাকে! রান না করায় এগুলো এখন খারাপ হয়ে গেছে। অর্থ অন্য রকম হয়ে গেছে। এসব নিয়ে তাই আর কথা বলতে চাই না।
l মাঠে অত নির্ভার থাকতেন কী করে? কোনো টেনশন কাজ করত না?
নাসির: টেনশন আমার সব সময়ই কাজ করে। তবে আমি চিন্তা করি খুব কম। যেটা মন চায় সেটা করি, তাৎক্ষণিক কাজ করতে পছন্দ করি। বলতে পারেন চিন্তার গভীরতা কম।

l খেলা নিয়ে চিন্তাটা যদি আরও আগেই বাড়াতেন, খারাপ সময় হয়তো এত দ্রুত আসত না...

নাসির: আমি ছোট থেকে যেভাবে বড় হয়েছি, চেষ্টা করছি এখনো সেভাবে থাকার। খেলা নিয়ে চিন্তা অবশ্যই করি। কোচ, সিনিয়র ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা বলি। তবে এটা ঠিক, আমিও কখনো ভাবিনি, এত তাড়াতাড়ি খারাপ সময় আসবে।

l এ’ দলের অধিনায়ক হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজে গিয়েও ফর্মে ফিরতে পারলেন না। জাতীয় দলের আসন্ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরটা নিশ্চয়ই বাড়তি চ্যালেঞ্জ হবে আপনার জন্য...

নাসির: প্রত্যেকটা ম্যাচই চ্যালেঞ্জ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ আমাদের জন্য খুব সহজ হবে না। ওখানকার উইকেট, কন্ডিশন সবই বাড়তি চ্যালেঞ্জ। ওখানে ৫০, ৬০ বা ৭০ রান করা মানে বাংলাদেশে ১০০ রান করা।

l এমন কি মনে হয় যে, খুব অল্প সময়ের মধ্যে তারকা ক্রিকেটার হয়ে যাওয়াটাই সমস্যা হয়েছে? নিজেকে সেভাবে ধরে রাখতে পারেননি...

নাসির: নিজেকে এখনো আমি তারকা মনে করি না। খুব ভালো খেলোয়াড়ও মনে করি না। আমার একটাই কথা—আমি যদি ভালো খেলি, আমাকে মাথায় তোলার দরকার নেই। আমি যদি খারাপ খেলি আমাকে ফেলে দেওয়ারও দরকার নেই। ভালো খেললে আমাকে আপনারা যে চোখে দেখবেন, খারাপ খেললেও যেন সেভাবেই দেখেন।

l হঠাৎ করে বিখ্যাত হয়ে যাওয়া, তারকাখ্যাতি পাওয়া এসব অনেক সময় মাথা ঘুরিয়ে দেয়। আপনি কীভাবে সামলাচ্ছেন এই ব্যাপারগুলো?

 নাসির: জাতীয় দলে আসার পর প্রথম প্রথম এসব খুব উপভোগ করতাম। এখনো করি, কিন্তু আগের মতো নয়। চাইলেই এখন পাবলিক প্লেসে যেতে পারি না, চাইলেই প্রকাশ্যে সবকিছু করতে পারি না। চেষ্টা করি সব সময় রিজার্ভ থাকতে। তবে মাঝে মাঝে হাসি লাগে—মানুষ আমার সঙ্গে ছবি তোলে কেন? আমার অটোগ্রাফ নেয় কেন? যারা অটোগ্রাফ নেয়, আমি তো তাদের মতোই মানুষ!

l ব্যক্তিগত জীবনে আপনি একটু চঞ্চল স্বভাবের। হাসি-ঠাট্টা বেশি করেন। এগুলো কোনোভাবে খেলায় প্রভাব ফেলছে না তো?

 নাসির: যেভাবে বড় হয়েছি, যেভাবে জাতীয় দলে ঢুকেছি বা ঢোকার পর যেভাবে খেলেছি, সেটা তো রাতারাতি বদলে ফেলা যায় না। আর বদলালেই যে ভালো খেলব, এমনও কথা নেই। তবে এটা ঠিক যে আগে এমন অনেক কিছুই করতাম, জাতীয় দলে খেলায় যেগুলো এখন করতে পারছি না।
Md Al Faruk
Assistant Professor, Pharmacy