‘ম্যাক অ্যাড্রেস’ কি?

Author Topic: ‘ম্যাক অ্যাড্রেস’ কি?  (Read 654 times)

Offline mahmud_eee

  • Hero Member
  • *****
  • Posts: 591
  • Assistant Professor, EEE
    • View Profile
‘ম্যাক অ্যাড্রেস’ কি?
« on: August 07, 2014, 04:31:17 PM »
‘ম্যাক অ্যাড্রেস’ কি?

‘ম্যাক অ্যাড্রেস’ এর পূর্নরূপ হচ্ছে ‘Media Access Control Adress”। আপনার কম্পিউটারে আপনি যে ‘ইথারনেট বেসড’ (ল্যান) কানেকশন ব্যবহার করে থাকেন সেই কানেকশনটির একটি নিম্নস্তরের সাধারণ কম্পোনেন্ট হচ্ছে এই ‘ম্যাক অ্যাড্রেস’।

প্রতিটি নেটওয়ার্ক কার্ডেরই রয়েছে একটি ইউনিক (অন্যের সাথে মিল নেই এমন) ম্যাক অ্যাড্রেস। আমরা প্রতিনিয়ত ইন্টারনেটে ‘প্যাকেট’ চালাচালির যে খেলা খেলছি সেটা মূলত যাচ্ছে একটি ম্যাক অ্যাড্রেস থেকে এবং ঠিক একই ভাবে আসছেও অন্য একটি ম্যাক অ্যাড্রেস। ধরুন, একটি নেটওয়ার্ক অ্যাডাপ্টার যখন একটি ‘প্যাকেট’ রিসিভ করে তখন এটি সেই প্যাকেট এর ডেসটিনেশনের ম্যাক অ্যাড্রেসের সাথে নিজের ম্যাক অ্যাড্রেসটি কমপেয়ার (তুলনা) করে দেখে এবং শুধু মাত্র তখনই সেই প্যাকেটটিকে পরবর্তী ধাপের জন্য প্রোসেস করা যদি তুলনা করার পর অ্যাড্রেস মিলে যায়, অন্যথায় প্যাকেটটিকে বাতিল করে দেয়া হয়।

ইথারনেট কার্ডের মতই  ওয়াইফাই কার্ড, ব্লুটুথ ডঙ্গেল, ওয়াইম্যাক্স কার্ড ইত্যাদি ডিভাইসের অবশ্যই একটি করে অনন্য বা ইউনিক ম্যাক অ্যাড্রেস থেকে থাকে। এমনকি আপনি যে স্মার্টফোন ব্যবহার করছেন সেখানেও আপনার স্মার্টফোনের ব্লুটুথ এবং ওয়াইফাই ইউনিটের আলাদা ম্যাক অ্যাড্রেস রয়েছে। সমগ্র বিশ্বের এরকম বিভিন্ন ডিভাইসের সংখ্যা যেহেতু অগণিততাই ম্যাক অ্যাড্রেস ১২ ডিজিটের হেক্সাডেসিমাল নাম্বার হয় এবং তা জোড়ায় জোড়ায় কোলন দিয়ে আলাদা করে লেখা হয়। যেমন  ff:ff:ff:ff:ff:ff একটি ম্যাক অ্যাড্রেস। প্রতিটা ডিভাইস প্রস্তুতকারক কোম্পানি তাদের কোম্পানির আইডি, ডিভাইস এর কোডনেম ইত্যাদি অনুসারে ম্যাক তৈরী করে থাকে। আবার প্রযুক্তি বাজারে এমনও কিছু সফটওয়্যার রয়েছে যেগুলো  ব্যবহার করে কিছু ক্ষেত্রে সাময়িকভাবে ডিভাইসের ম্যাক বদলানো সম্ভব।

 
ম্যাক অ্যাড্রেস এর কি কি ব্যবহার রয়েছে?

 

ম্যাক অ্যাড্রেসের অনেক রকম ব্যবহার রয়েছে যেগুলো যেমন নেটওয়ার্কের প্রোটোকল হিসেবে ব্যবহার করা যায় আবার সেই প্রোটোকল ভাঙ্গার কাজেও ব্যবহার করা যায়। চলুন, জেনে নেয়া যাক ‘ম্যাক অ্যাড্রেস’ এর কিছু ব্যবহার।

    স্ট্যাটিক আইপি অ্যাসাইনমেন্টঃ বিভিন্ন রাউটার কম্পিউটারে স্ট্যাটিক আইপি অ্যাড্রেস অ্যালোকেট করার সুবিধা দেয়। যখন একটি ডিভাইস সেই নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হতে চায় তখন সেটা শুধুমাত্র সেই সব ডিভাইসকেই সুযোগ দেয় যেগুলোর ম্যাচিং ম্যাক অ্যাড্রেস থাকে।
    ম্যাক অ্যাড্রেস ফিল্টারিংঃ অনেক নেটওয়ার্কে সিকিউরিটি প্রোটোকল হিসাবে ম্যাক অ্যাড্রেস ফিল্টার সুবিধা ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এর ফলে সেই নেটওয়ার্কে শুধু মাত্র সেই সব ডিভাইস সংযুক্ত হতে পারে যে সব ডিভাইস সমূহের ম্যাক অ্যাড্রেস উক্ত নেটওয়ার্কের ফিল্টার লিস্টে থাকে। তবে, এই নিরাপত্তা লেয়ারটি খুব একটা কাজে দেয়না কেননা ম্যাক অ্যাড্রেস পরিবর্তন করা যায় সহজেই। ম্যাক অ্যাড্রেস পরিবর্তন করার প্রক্রিয়াকে বলা হয়ে থাকে ‘ম্যাক স্পুফ’।
    ম্যাক অথোনটিকেশনঃ সহজে বুঝাই। অনেক ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডররা ম্যাক অ্যাড্রেস এর ভিত্তিতে ইন্টারনেট কানেকশন সরবারহ করে থাকে। ধরুন, আপনি এরকম একটা আইএসপির কাছ থেকে ইন্টারনেট কানেকশন নিয়ে থাকলে আপনাকে শুধুমাত্র ঐ একটি মাত্র ম্যাক অ্যাড্রেস এর মাধ্যমেই ইন্টারনেট ব্যবহার করতে হবে। যদি অন্য ডিভাইসে সেই ইন্টারনেট কানেকশনটি ব্যবহার করতে চান তবে ঐ ডিভাইসটিতে উক্ত ম্যাক অ্যাড্রেসটি আস্যাইন করতে হবে।
    ডিভাইস আইডেন্টিফিকেশনঃ আমি ভূমিকা অংশেই বলেছি যে একটি ডিভাইসের একটি মাত্র ম্যাক অ্যাড্রেস থাকে যা কিনা ইউনিক বা অনন্য। এর জন্য অনেক নেটওয়ার্কই ডিভাইস আইডেন্টিফাই করার ক্ষেত্রে ম্যাক অ্যাড্রেস এর ব্যবহার করে থাকে। যেমন ধরুন, একটি এয়ারপোর্টে ফ্রি ওয়াইফাই সুবিধা রয়েছে। কিন্তু, সেখানে শুধুমাত্র দিনে ৩০ মিনিটের জন্যেই সেই সুবিধা একটি ম্যাক অ্যাড্রেসের ক্ষেত্রে অ্যালোকেট করা আছে। এর ফলে, আপনি যদি আপনার ডিভাইসটি দ্বারা সেই নেটওয়ার্কের আওতায় ৩০ মিনিট ইন্টারনেট কানেকশন ব্যবহার করে থাকেন তবে সয়ংক্রিয় ভাবে ৩০ মিনিট পরেই আপনার ডিভাইসের ম্যাকটি নেটওয়ার্ক সিস্টেমের ব্যান লিস্টে চলে যাবে।
    ডিভাইস ট্র্যাকিংঃ আপনার ডিভাইসের যেহেতু একটি অনন্য পরিচয় রয়েছে তাই আপনার ডিভাইসটি ট্র্যাকিং করার জন্য সেই অনন্য ম্যাক অ্যাড্রেসটিই যথেষ্ট।

মনে রাখবেন, প্রতিটি নেটওয়ার্ক ইন্টারফেসের নিজস্ব ম্যাক অ্যাড্রেস রয়েছে। তাই, একটি ল্যাপটপের যেমন একটি ইথারনেট ম্যাক অ্যাড্রেস রয়েছে তেমনি ওয়াইফাই এবং ব্লুটুথ ডিভাইসেরও একটি করে অনন্য ম্যাক অ্যাড্রেস রয়েছে।   

 

এতটুকু পড়ে যদি আপনারা কেউ 'ম্যাক অ্যাড্রেস'কে আইপি অ্যাড্রেস ভেবে ভূল করে থাকেন তবে কিন্তু ভূল করছেন। চলুন, আপনার ধারণা পরিবর্তন করতে বা এরকম ধারণা তাড়িয়ে দিতে সংক্ষেপে এই দু'টির পার্থক্য আপনাদের জানিয়ে দিচ্ছি।
আইপি অ্যাড্রেস এবং ম্যাক অ্যাড্রেস এর মধ্যে পার্থক্যঃ

আইপি এড্রেস হচ্ছে কোন কম্পিউটারের অ্যাড্রেস বা ঠিকানা যার মাধ্যমে আমরা একটি নির্দিষ্ট কম্পিউটারকে চিনতে পারি। যেমন, আপনার বন্ধু আপনার ফোন নম্বরের মাধ্যমে আপনাকে চিনতে পারে এবং ট্রেস করতে পারে তাই এটাকে আপনি ফোন নাম্বারের সাথেও তুলনা করতে পারেন।

অন্যদিকে, ম্যাক এড্রেস হচ্ছে কোন নেটওয়ার্ক ডিভাইসের জন্য একটি ইউনিক শনাক্তকারী নাম্বার। প্রথমেই লিখেছি ম্যাক অ্যাড্রেস হেক্সাডেসিমাল ফরম্যাটে হয়ে থাকে। যেমন : ff:ff:ff:ff:ff:ff।

ম্যাক এড্রেসের প্রথম অর্ধেক অংশ দ্বারা বুঝায় ডিভাইসটি কোন মডেলবা ব্রান্ডের আর বাকী অর্ধেক অংশটি হচ্ছে ঐ ডিভাইসটি অনন্য বা unique নাম্বার। এটাকে মোবাইলের IMEI বা গাড়ির VIN নাম্বারের সাথে তুলনা করা যেতে পারে।

এখন নিশ্চয়ই আপনার মনে প্রশ্ন জাগছে, 'ম্যাক তো বুঝলাম' কিন্তু বের কীভাবে করতে হয়? চলুন, ব্লগ শেষ করার আগে তাও জানিয়ে দিচ্ছি।

 
ম্যাক অ্যাড্রেস বের করবেন যেভাবেঃ

ম্যাক অ্যাড্রেস পরিবর্তন করার আগে নিশ্চয়ই আমাদের জানা উচিৎ একটি ডিভাইসের ম্যাক অ্যাড্রেস কীভাবে পরিবর্তন করতে হয়। ইন্টারনেটে খুঁজলে আপনি যে কোন ডিভাইসের জন্য ম্যাক অ্যাড্রেস বের করার পদ্ধতি পেয়ে যাবেন তবুও আমি বর্তমান সময়ে বহুল ব্যবহারিত দুটি অপারেটিং সিস্টেম ‘উইন্ডোস ৭’ এবং ‘লিনাক্সে’র জন্য ডিভাইসের ম্যাক অ্যাড্রেস বের করার পদ্ধতিটি আপনাদের সামনে পেশ করছি।
উইন্ডোজ ৭ এর জন্যঃ

Cmd (command prompt) এ গিয়ে লিখুন ipconfig /all

লেখার পরে আপনি অনেক ধরণের তথ্য দেখতে পারবেন। যে তথ্যটির বাম পাশে ‘Physical Adress’ লেখাটি দেখতে পারবেন সেটিই আপনার ডিভাইসের ম্যাক অ্যাড্রেস। আপনি লক্ষ্য করলে দেখবেন সেই তথ্যগুলোর মাঝে আপনার ইথারনেট ডিভাইসের ম্যাক অ্যাড্রেস, ব্লুটুথ এবং ওয়াইফাই ডিভাইসের (যদি থাকে) ম্যাক অ্যাড্রেস দেখাচ্ছে।
লিনাক্স

লিনাক্সের জন্যে privileged terminal session এ লিখুন ifconfig ।

এই কমান্ডটির মাধ্যমে আপনি দেখতে পাবেন আপনার কম্পিউটারে কি কি নেটওয়ার্ক ডিভাইস ইন্সটল অবস্থায় আছে। সাধারনত HWaddr নামে ম্যাক এড্রেসটি রেফার করা থাকে। আপনি আপনার Wireless card এর ম্যাক এড্রেস পাওয়ার জন্য লিখুন iwconfig ।

আর আপনি যদি অনান্য অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করে থাকেন তবে একটু কষ্ট করে ইন্টারনেটে সার্চ করলেই পেয়ে যাবেন। যাই হোক, আজ এ পর্যন্তই থাক। আগামীতে আপনাদের দেখাবো এই 'ম্যাক অ্যাড্রেস' পরবির্তনের পদ্ধতি সমূহ। সে পর্যন্ত, ভালো থাকুন এবং সুস্থ থাকুন, থাকুন প্রিয় টেকের সাথেই।
Md. Mahmudur Rahman
Assistant Professor, EEE
FE, DIU