উলফ ফিস

Author Topic: উলফ ফিস  (Read 485 times)

Offline mustafiz

  • Hero Member
  • *****
  • Posts: 524
  • Test
    • View Profile
উলফ ফিস
« on: September 28, 2014, 03:58:59 PM »

তোমরা সবাই তো মাছ খেতে বেশ পছন্দ কর তাই না? কিন্তু মাছটি যদি হয় ভয়ানক, তখন কি আর খেতে চাইবে? মনে হয় আর চাইবে না। উলফ ফিস তেমনই একটি মাছ।
তোমার হয়তো মনে হচ্ছে কী সব আজগুবি কথা। উলফ মানে তো নেকড়ে। নেকড়ে আবার মাছ হয় কীভাবে? যে মাছের কথা বলছি, হিংস্রতায় সে মাছ কিছুতেই ডাঙার নেকড়ের চেয়ে কম যায় না। তবে পার্থক্য শুধু এই যে, এ মাছের বাস অন্য মাছেদের মতোই জলে। এজন্য দুটি গুণ মিলিয়ে মাছটির নাম দেওয়া হয়েছে উলফ ফিস। তবে স্বভাবের জন্য একে জলের দানব, দৈত্য মাছ ইত্যাদিও বলা হয়। আজ আমরা এই অদ্ভুত মাছ সম্পর্কে কিছু কথা জানব।

সবাই হয়তো জান যে পৃথিবীর সব প্রাণীর এবং উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নাম রয়েছে। Hoplias aimara হল উলফ ফিসের বৈজ্ঞানিক নাম। জানা যায়, দুই প্রকারের উলফ ফিশ আলাদা আলাদাভাবে দুজন বিজ্ঞানী আবিষ্কার করেন। প্রথমে ১৮৪৬ সালে ভ্যালেনসিয়েনেস (Valenciennes) মাছটির নাম দেন Hoplias aimara। এরপর ১৯০৭ সালে পেলেগ্রিন (Pelegrin) নাম দিয়েছেন Hoplias macophthalmus। আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান 'ইন্টারন্যাশনাল কোড অব জুওলজিক্যাল নোমেনক্ল্যাচার' অনুসারে Hoplias aimara আগে এসেছে বলে সেটিই পেয়েছে স্বীকৃতি। আর যেহেতু দুটিতেই Hoplias আছে, তাই এরা যে একই গোত্রের তোমরা নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছ।

এখন কথা হচ্ছে, উলফ ফিস পাওয়া যায় কোথায়? বলছি। বাকি সব অদ্ভুত প্রাণীদের মতো এদেরও বাস দক্ষিণ আমেরিকার কিছু জায়গায়। মানুষের সভ্যতা এখনও সেখানকার জীব বৈচিত্র্যকে নষ্ট করতে পারেনি। ব্রাজিল, কলম্বিয়া, গায়ানা, সুরিনামের উষ্ণ জলাভূমি এলাকা এবং ত্রিনিদাদ দ্বীপের প্রধান নদী-নালায় তাই অনায়াসেই উলফ ফিসের দেখা মেলে। এছাড়া দক্ষিণ আমেরিকার উত্তর দিকের গভীর বা অগভীর ছোট ঝরনা, নদী, বিক্ষিপ্ত ডোবা অথবা জলাধার-- প্রায় সবখানেই থাকতে পারে উলফ ফিস। উলফ ফিসের পছন্দ মূলত ঝর্ণার স্বচ্ছ পানি।

উলফ ফিস দেখতে কেমন হবে ভাবতে পার? হ্যাঁ মাছটা তার নামের মতোই বেশ বড় আকৃতির। এমনি এমনি তো আর দানব মাছের খেতাব পায়নি। উলফ ফিসের শরীরটা আসলে একটা বড়, দীর্ঘ সিলিন্ডারের মতো। এরা লম্বায় প্রায় ১০০ সেন্টিমিটার বা ৩৯ ইঞ্চি পর্যন্ত হয়। আর ওজন হয় ৪০ কেজি বা ৮৮ পাউন্ড মতো। Hoplias প্রজাতির মস্ত বড় একটা মাছ একবার ধরা পড়েছিল, যার দৈর্ঘ্য ছিল ১২০ সেন্টিমিটার! তারমানে একজন কমবয়সী মানুষের সমান হতে পারে এই মাছগুলো। উলফ ফিসের গায়ের রঙ মূলত বাদামি। পিঠে গাঢ় কালো রঙের উপর লম্বা আড়াআড়ি ডোরাকাটা দাগগুলো বেশ উজ্জ্বল লাগে। তবে পেটের দিকে রঙগুলো হালকা হয়ে সাদাটে হলুদ রং নিয়েছে। মাথা এবং শরীরের সামনের দাগগুলোই অবশ্য দেখতে পাওয়া যায়। তবে হ্যাঁ, স্থান ভেদে এদের রঙ কিন্তু ভিন্ন হয়। আমাদের যেমন রঙ নিয়ন্ত্রণকারী পিগমেন্ট সেল মেলানিন আছে, উলফ ফিসেরও তেমনি ক্রোমাটোফোর নামক পিগমেন্ট সেল আছে। এটা ওদের গোটা শরীরে থাকে।
উলফ ফিসের আরেক বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ওদের শরীরের ভেতরের সংবেদনশীলতা। বাইরের প্রভাব যেমন পানির তাপমাত্রা, স্বচ্ছতা, লবণাক্ততার উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে শরীরের কোষগুলো। এছাড়াও উলফ ফিসের শরীর প্রচুর পরিমাণ মিউকাস এবং ঘন আঁশ দিয়ে ঢাকা । এগুলো এদের শরীরকে বাইরের পরজীবীর আক্রমণ যেমন ধর, জোঁক থেকে রক্ষা করে।