চিনির চেয়েও বিপজ্জনক মধু!

Author Topic: চিনির চেয়েও বিপজ্জনক মধু!  (Read 308 times)

Offline mustafiz

  • Hero Member
  • *****
  • Posts: 524
  • Test
    • View Profile
খাদ্যকে সুমিষ্ট করার জন্য মানব সভ্যতার গুহাযুগ থেকে শুরু করে মধুই ছিল প্রধান ও আদর্শ খাদ্য উপকরণ। এরপর মধুর জায়গাটি দখল করে নেয় চিনি। কিন্তু মানুষের স্বাস্থ্যের উপর বিভিন্ন নেতিবাচক প্রভাবের কারণে খাদ্য হিসেবে চিনি গত ছয় দশক ধরে ব্যাপক কুখ্যাতি অর্জন করে। এর বিপরীতে মধুকে চিনির চেয়ে স্বাস্থ্যকর খাদ্য হিসেবেই বিবেচনা করা হতে থাকে। কিন্তু এবার মধুও চিনির মতোই কুখ্যাতি অর্জন করতে যাচ্ছে!

সম্প্রতি খবর বেরিয়েছে চিনির কুখ্যাতির কারণে সুপার মার্কেটগুলোতে মধু বিক্রির পরিমাণ অনেক বেড়ে গেছে। কারণ সাধারণত মধুকে চিনির চেয়ে স্বাস্থ্যকর খাদ্য মনে করা হয়। বাজার গবেষণা বিষয়ক কোম্পানি মিন্টেল হিসেবে কষে দেখেছে, গত বছর বিশ্ব বাজারে ১১২ মিলিয়ন ইউরো মূল্যমানের মধু বিক্রি হয়েছে।

অতিরিক্ত চিনিসমৃদ্ধ খাবারে শিশুদের দাঁত ক্ষয়রোগে আক্রান্ত হয়, আমাদের কোমর স্থুল হয়ে ওঠে এবং চামড়ার স্বাভাবিকতা নষ্ট হয়ে যায়। এমনকি চিনি আমাদের মেজাজ-মর্জি এবং ঘুমের প্যাটার্নেও বিঘ্ন ঘটায়।

সাধারণত মনে করা হয় যে, চিনির চেয়ে মধুই মানব স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। কিন্তু আসলে তা কতটা সত্যি? এর উত্তরে বলা হয় যে, মধুর যে মিষ্টি উপাদান থাকে তার ৫৫ শতাংশই ফল-ফলাদি থেকে উৎপন্ন হয়। ফলে দানাদার চিনির চেয়ে মধু আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য কিছুটা বেশি উপকারী। কিন্তু নতুন গবেষণায় দেখা গেছে মধুও মানব স্বাস্থ্যের জন্য চিনির মতোই ক্ষতিকর হতে পারে। কারণগুলো হল-

চিনি ও মধুর মধ্যে উপাদানগত ও রাসায়নিক ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও এই দুটি খাদ্য গ্রহণের পর আমাদের শরীর একইরকম প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। মধুও পরিশোধিত দানাদার চিনির মতোই রক্তে সুগারের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

চিনির মতো মধু খাওয়ার পর ও আমাদের অগ্নাশয় ইনসুলিন উৎপাদনে উৎসাহিত হয়। আর ইনসুলিন শরীরকে মেদবহুল করে তোলে এবং ওজন বাড়িয়ে দেয়। পরিশোধিত দানাদার চিনির মতো মধুও অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে স্থুলতা, হৃদরোগ, লিভারের রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, মধুতে থাকা ফল-ফলাদি থেকে উৎপন্ন মিষ্টি উপাদান শরীর থেকে খনিজ পুষ্টি উপাদানগুলো বের করে দেয়।

আমাদের শরীর চিনির তুলনায় মধুকে হয়তো অনেক ধীর গতিতে শুষে নেয়। কিন্তু প্রতিক্রিয়া একই।

সত্য হল, মধুতে চিনির চেয়েও বেশি ক্যালোরি থাকে। যেখানে এক চা চামচ মধুতে ২২ ক্যালোরি থাকে সেখানে ১ চা চামচ চিনিতে আছে ১৬ ক্যালোরি। অথচ লোকে সাধারণত মনে করে মধুতে চর্বির পরিমাণ কম। এ কারণে তারা মধু খাওয়ার সময় পরিমাণে একটু বেশিই খায়। যা তাদের জন্য হিতে বিপরীত হয়ে ওঠে।

মধুতে খনিজ পুষ্টি উপাদান কম থাকে। মধুতেও নায়াসিন, রিবোফ্লাবিন, থায়ামিন ও ভিটামিন বি-সিক্স এর মতো খনিজ পুষ্টি উপাদান রয়েছে। কিন্তু এসব উপাদান মধুর পুরো পুষ্টি উপাদানের মাত্র ২ শতাংশ গঠন করে।

অনেক বড় বড় কোম্পানিও মধু বাজারজাত করার আগে তা আগুনে তাপ দিয়ে ও ফিল্টারিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধন করে। মূলত ব্যাকটেরিয়া ও বিষাক্ত পদার্থ দূর করার জন্যই এমনটা করা হয়। কিন্তু এভাবে প্রক্রিয়াজাত করার সময় মধুতে থাকা খনিজ পুষ্টি উপাদানগুলোও হারিয়ে যায়।

লন্ডন স্মাইল ক্লিনিকে কর্মরত ড. জো বানসাল বলেন, গত মাসে পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ড পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে তিন বছর বয়সে প্রতি ৮ জন শিশুর ১ জনই দাঁতের ক্ষয় রোগে আক্রান্ত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, অন্যান্য মিষ্টি জাতীয় খাদ্যের পাশাপাশি মধুও দাঁতের ক্ষয়রোগে সমান ভুমিকা পালন করে।

লন্ডন ওয়াটার হাউজ ইয়াং ক্লিনিক এর চিকিৎসক ড. মিকা ইনজেল বলেন, মধুতে থাকে গ্লুকোজ, ফ্রুকটোজ এবং কার্বস। মধুর এই উপাদানগুলোও ঠিক চিনির মতোই কোলাজেন বা মানবদেহের চামড়ার নিচের কোষের প্রধান গাঠনিক প্রোটিন কাঠামোকে ধ্বংস করে। আর মধুতে থাকা কিছু অতিরিক্ত ভিটামিন উপাদানও তা পুনরায় মেরামত করতে সক্ষম নয়।

সবচেয়ে বড় কথা হলো চিনি বা মধু এ দুটির কোনটিরই মানবদেহের জন্য অতিরিক্ত উপকারী কোনও পুষ্টিগুন নেই। ইংল্যান্ডের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস বলেছে, একজন মানুষের গড়ে প্রতিদিন যতটুকু ক্যালোরি দরকার হয় তার মাত্র ১০ শতাংশ চিনি বা মধু জাতীয় খাদ্য থেকে গ্রহণ করা যেতে পারে। একজন নারীর জন্য প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৫০ গ্রাম বা সাড়ে ১২ চামচ আর একজন পুরুষের জন্য ৭০ গ্রাম বা সাড়ে ১৭ চামচ পরিমাণ চিনি বা মধু নিরাপদ।

তবে অ্যাকশন অন সুগার ক্যাম্পেইন এর সায়েন্স ডিরেক্টর কার্ডিওলোজিস্ট ড. অসীম মালহোত্রা জানিয়েছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রতিদিনকার খাবারের বাইরে চিনি বা মধু গ্রহণের পরিমান ৬ চা চামচের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখার সুপারিশ করেছেন।

অসীম মালহোত্রা আরও বলেন, প্রতিদিনকার স্বাভাবিক খাবার থেকে আমাদের শরীর যে পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ করে সেটাই আমাদের জন্য যথেষ্ট। আমাদের শরীরের এর চেয়ে বেশি পরিমাণ কার্বোহাইড্রেটের কোনই প্রয়োজনীয়তা নেই।

Source: lastnewsbd.com