চোর-প্রতারক-বাটপারের সেরা দশ

Author Topic: চোর-প্রতারক-বাটপারের সেরা দশ  (Read 377 times)

Offline Sahadat

  • Sr. Member
  • ****
  • Posts: 305
  • Test
    • View Profile
বিগত তিন শতাব্দি ধরে বহু সিরিয়াল কিলার থেকে শুরু করে ধূর্ত প্রতারক, জালিয়াত আর ইতরদের জন্ম দিয়েছে আমেরিকা। আমেরিকার ইতিহাসের ত্রিশজন বড় বড় সব ভিলেনদের কথা উঠে এসেছে  ‘ভিলেনস, স্ক্রাউন্ডেলস অ্যান্ড রগস : ইনক্রেডিবল ট্রু টেলস অব মিসচিফ অ্যান্ড মেহাম’ নামক বইটিতে।

ওই বই থেকে  সেরা ১০ জনের সারাংশ তুলে ধরা হলো।

ওয়াল স্ট্রিট পাইরেট ডেনিয়েল ড্রিউ
১৮শ’ শতকের চল্লিশের দশক থেকে সত্তরের দশক পর্যন্ত ওয়াল স্ট্রিটে আমেরিকান ইতিহাসের ভয়ঙ্কর নিষ্ঠুর বিনিয়োগকারী ছিলেন ডেনিয়েল ড্রিউ।

ওয়াল স্ট্রিটের অভ্যন্তরের বিষয় নিয়ে কোনো ধারণা ছাড়াই এই লোকটি বিশ্বাস করতেন, এখানে টাকার লগ্নি হয় গরু আর মোমবাতি কেনার জন্য।

আমেরিকার গৃহযুদ্ধের সময় এই লোকটি নিউ ইয়র্ক এবং এরিক রেইলরোডের স্টকে নাড়াচাড়া দিয়ে বিপুল অর্থের মালিক বনে যান। জে গোউল্ড এবং জিম ফিস্কের সঙ্গে একজোট হয়ে তিনি আরো সুবিধা আদায় করে নেন। এই আঙ্কেল ডেনিয়েল ১৩ মিলিয়ন ডলার (যা বর্তমানে ১৯৪ মিলিয়ন ডলারের সমান) অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েছিলেন এবং মৃত্যুর সময় তার ঝুলিতে ছিল মাত্র ১৪৮ ডলার ২২ সেন্ট।

ম্যাগি এবং কেট ফক্স-ফোনি মিডিয়ামস
১৮৪৮ সালে ম্যাগি এবং কেট ফক্স বোনেরা সর্বপ্রথম মৃত ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের চিন্তাটি মাথায় আনেন। নিউ ইয়র্কে নিজেদের হাইডেসভাইলের ফার্ম হাউজে এক মৃত হকার এবং নিজেদের মায়ের মৃতদেহ নিয়ে এক নিষ্ঠুর  পৈশাচিকতায় মেতে ওঠেন। তারা মৃতদেহের আঙুল ছিঁড়ে এবং পায়ের পাতার সংযোগস্থল খুলে মৃতদের সঙ্গে যোগাযোগের তামাশা তৈরি করেন।

আর সেখান থেকেই জন্ম নেয় 'স্পিরিচ্যুয়ালিজম', যার মাধ্যমে পৃথিবীর লক্ষ-কোটি মানুষ বিশ্বাস করতে শুরু করে যে, মৃতদের সঙ্গে যোগাযাগ স্থাপন করা সম্ভব এবং এখন পর্যন্ত এই ধারণার চর্চা চলে আসছে।

দায়িত্বহীন পুলিশ জন পারকার
ওয়াশিংটনের পুলিশ জন পারকার ফোর্ড থিয়েটারে তার টহল পোস্ট থেকে চলে যান ১৮৬৫ সালের ১৪ এপ্রিল বিকেলে। আর এতেই প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কনের খুনি জন উইলকেস বুথ কোনো প্রকার বাধা ছাড়া ভবনে প্রবেশ করে।

প্রেসিডেন্ট বক্সের পেছনে সরু প্যাসেজ থেকে নাটক দেখতে পারছিলেন না পুলিশ পারকার। ‘আওয়ার আমেরিকান কাজিন' নামের ওই নাটক দেখতে সরে যান পারকার।

বিরতির সময় ওই পুলিশ পাশের একটি বারে গলা ভেজাতে যান এবং আর কখনোই ফিরে আসেননি। এর আগেও তাকে দায়িত্বে অবহেলার কারণে বহু গালমন্দ শুনতে হয়েছিল।

ট্যাক্স লুকোচুরির খেলায় কৃপণ হেটি গ্রিন
উনবিংশ শতাব্দিতে বিনিয়োগকারী হেটি গ্রিন এক হতদরিদ্র কাঙালের মতো বাস করতেন। ওয়াল স্ট্রিটে কপাল ফেরানোর ক্ষেত্রে প্রথম নারী হিসেবে তার নাম উঠে আসে।

এই মিলিওনিয়ার তার সন্তানকে এমন বেশে রাখতেন যে, চিকিৎসা নিতে গেলে ডাক্তার তাদের বেশ দেখে বিনামূল্যে চিকিৎসা দিতেন। একটি স্থায়ী আবাস গড়ে তুললে ট্যাক্স দিতে হবে এই ভয়ে হেটি গ্রিন ভাঙাচোরা পরিত্যক্ত বাড়িগুলোতে সন্তানকে নিয়ে থাকতেন নিউ ইয়র্ক আর নিউ জার্সিতে। এই নারীর ট্যাক্স লুকোনোর নির্লজ্জ আচরণে ১৮৯৪ পর্যন্ত ফেডারেল ট্যাক্স না দেওয়ার অনুপ্রেরণা গড়ে ওঠে। ১৯১৬ সালে তার মৃত্যু ঘটে।

আত্মবিশ্বাসী মানুষ জোসেফ ওইল
শিকাগোর আঁকিয়ে জোসেফ ওইলের একটি গুণ ছিলো নানা পরিচয়ে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করা। তারা তাদের অর্থ পর্যন্ত এই অঙ্কন শিল্পীর হাতে তুলে দিতে কুণ্ঠা বোধ করতেন না।

১৮৯০ এর দশক থেকে ১৯৪০ এর পুরো দশক জোসেফ নিজেকে স্টকব্রোকার, চিকিৎসক, খনির প্রকৌশলী, কেমিস্ট, প্রাণীবিদ এবং ডেভেলপার কোন না পরিচয়ে তাকে দেখা গেছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে তার নিখুঁত বেশ ধারণ রীতিমতো চমকপ্রদ।

পেগি হপকিনস জয়সি-স্বর্ণের খনি
১৯২০ থেকে ৩০ পর্যন্ত চলিচ্চিত্রে সাধারণ অভিনেত্রী ছিলেন। তিনি ‘জেন্টলম্যান প্রেফার বন্ডস’ সিনেমার ধনী স্বামীর চরিত্রের লরেলি লির চরিত্রে দারুণ প্রভাবিত হন। তিনি নিজেও তেমনি হতে চান।

এ জন্য তিনি ছয়টি বিয়ে করেন ধনীর স্বামীর খোঁজে। ধনী লুবারম্যান জেমসের সঙ্গে অল্প সময়ের পরিচয়ে বিয়ে করে তিনি প্রায় দেড় মিলিয়ন ডলারের স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেন। যদিও তার স্বামীর ওই সময় নয় জন প্রেমিকা ছিল। তার নেশা ছিল স্বর্ণ জমানো। এর পক্ষে তার বক্তব্য ছিলো, কষ্টের জীবনের চেয়ে খুনি হওয়া ভালো।

জন ব্রিঙ্কলে-প্রতারক চিকিৎসক
১৯১৭ থেকে ত্রিশের দশক পর্যন্ত জন ব্রিঙ্কলে লাখ লাখ পুরুষকে ভুল ধারণা দিয়ে তাদের কুমারত্ব ধরে রাখতে অণ্ডকোষ ফেলে দিয়ে ছাগলের অণ্ড প্রথিত করেছিলেন। প্রতি সপ্তাহে নতুন ৫০ জন করে পুরুষ কানসাসের মিলফোর্ডের ব্রিঙ্কলের ক্লিনিকে যেতেন।

এই কাজে ৭৫০ ডলার করে সেই সময় প্রদান করা হতো। চিকিৎসা বিজ্ঞানের এই কালো অধ্যায় তার কারণেই রচিত হয়। তিনি এভাবে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার কামাই করে নিয়েছিলেন।

কংগ্রেস স্পাই স্যামুয়েল ডিকস্টেইন
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নিউ ইয়র্কের কংগ্রেস সদস্য স্যামুয়েল ডিকস্টেইন আমেরিকায় নাৎসি সমর্থনকারীদের ওপর দৃষ্টি রাকছিলেন। তিনি ১৯৩৭ থেকে ১৯৪০ পর্যন্ত আমেরিকায় আনাড়ি সোভিয়েত স্পাইদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেন।

এসব সোভিয়েত স্পাইদের কাছে তার কোড নাম ছিল ‘ক্রুক’। তিনি সরকারের লোক এবং পত্রিকার রিপোর্টারদের ঘুষ খাইয়ে এসব ঘটনাকে ‘রাবিশ’ বলতে বাধ্য করেন।

ডন ল্যাপ্রে-তথ্যের হকার
১৯৯০ এর দশক থেকে তার শুরু। টেলিভিশনে নিজের প্রযোজনায় একটি লেট-নাইট অনুষ্ঠান করেন তিনি। তার সবচেয়ে বড় উপার্জন আসে অ্যাড-অন সার্ভিস চালু করেন এবং তার কম্পানির মাধ্যমে বহু ওয়েবসাইট এই সার্ভিসটি গ্রহণ করে।

ধীরে ধীরে তার গড়ে ওঠা এই সাম্রাজ্য ২০১১-তে ধসে পড়ে। তাকে বিশ্ব ব্যবসার একজন প্রতারক হিসেবে চিহ্নিত করা হয় বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়। এর পর তিনি আত্মহত্যা করেন। তিনি তার কম্পানির ডিলারশিপ মাত্র ৩৫ ডলারে বিক্রি করতে থাকেন এবং  মাত্র তিন বছরে ৫২ মিলিয়ন ডলার কামিয়ে ফেলেন ল্যাপ্রে।
Sahadat