টাকার দামে উঁচু মান স্বাদে গন্ধে সব সমান

Author Topic: টাকার দামে উঁচু মান স্বাদে গন্ধে সব সমান  (Read 412 times)

Offline shawket

  • Jr. Member
  • **
  • Posts: 99
    • View Profile
টাকার দামে উঁচু মান স্বাদে গন্ধে সব সমান

কয়েক বছর আগে, ২০১০ সালে, আমি ভিয়েতনাম সফরে গিয়েছিলাম। বিমানবন্দর থেকে বেরোনোর কিছুক্ষণের মধ্যেই আমি 'মিলিয়নেয়ার' (দশ লাখপতি) হয়ে গেলাম। আমি যখন মার্কিন ডলার ভাঙালাম তখন লাখ লাখ ভিয়েতনামি 'ডং' পেলাম, কারণ এক ডলারের বিনিময়মূল্য ১৯ হাজার ভিয়েতনামি 'ডং'। ভিয়েতনামি মুদ্রায় জিনিসপত্রের দাম শুনলে মাথা ঘুরে যায়। ভিয়েতনামি মুদ্রার নোটগুলোও অতি উচ্চ মানের, যেমন- এক লাখ ডং, দুই লাখ ডং ইত্যাদি। এসব মুদ্রাকে টাকা কিংবা ডলারের হিসাবে রূপান্তর করতে বেগ পেতে হয় বৈকি।

ইন্দোনেশিয়ায়ও আমার একই ধরনের অভিজ্ঞতা হয়েছিল। প্রায় কাছাকাছি অভিজ্ঞতা হয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়ায়। মানসিক দিক থেকে এর প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া ছিল ইতিবাচক, সামান্য হলেও আনন্দস্পর্শী। মনে হয়েছিল, আমি হঠাৎ ধনাঢ্য হয়ে গেলাম। সংখ্যার আধিক্যে কিছুটা উৎফুল্ল ভাব। এত অর্থ পকেটে থাকলে ভারী পকেট নিয়ে চলাফেরা করতে কার না ভালো লাগে? এ আনন্দ ছিল ক্ষণস্থায়ী।

বাস্তব ক্ষেত্রে লেনদেন করতে গিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে এই মোহ ভঙ্গ হলো। সাধারণ জিনিসপত্র কিনতে গিয়ে আমাদের হাজার হাজার ডং খরচ করতে হলো। অতি দ্রুত আমাদের পকেট খালি হতে শুরু করল। উচ্চমানের নোটগুলো অর্থনীতির প্রাথমিক পাঠের কাছে আত্মসমর্পণ করে বাতাসে মিশে গেল। ছোটখাটো কেনাকাটার মধ্য দিয়ে আমরা ক্রয়ক্ষমতার সমতা বিধান (Purchasing Power Parity) তত্ত্বের বাস্তব প্রয়োগ নতুন করে শিখলাম।

ভিয়েতনামের দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে প্রথমে আমি ঢাকার বাজারের দাম তুলনা করে দেখলাম। যেহেতু পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বাজারদর সম্পর্কে আমার সম্যক ধারণা রয়েছে, তাই ব্যাংকক, লন্ডন, দিল্লি, সিঙ্গাপুর ও কুয়ালালামপুরের বাজারে এসব জিনিসপত্রের কিরূপ দাম তা মনে মনে যাচাই করে দেখলাম। আমার দৃষ্টিতে একটা মজার ব্যাপার ধরা পড়ল; কোনো একটি বিশেষ মুদ্রায়, ধরুন ডলার কিংবা টাকায়, পিপিপিভিত্তিক বিনিময় হারে রূপান্তর করলে ছোটখাটো পার্থক্য ছাড়া বিভিন্ন জিনিসের দামের মধ্যে একটি লক্ষণীয় সমতা রয়েছে। এই পর্যবেক্ষণ আমাকে আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি দিতে উৎসাহিত করে। তা হলো সময়ের ব্যাপ্ত পরিসরে দ্রব্যমূল্যের সাধারণ সূচকের অব্যাহত ঊর্ধ্বারোহণ।

হাই স্কুলে পড়ার সময় আমরা এ অঞ্চলে শায়েস্তা খাঁর শাসনামলে জিনিসপত্রের অতি অল্প দামের গল্প শুনে মজা পেতাম। পাঠ্য বইয়ের এ অংশটুকু গলা ছেড়ে বারবার পড়তাম। সবচেয়ে বেশি মনে রাখার কথা ছিল টাকায় আট মণ চাল বিক্রি হওয়া। কী অবিশ্বাস্য কাহিনী! এক মণ মানে ৩৭.৫ কেজি চালের দাম দাঁড়ায় মাত্র সাড়ে বারো পয়সা। আর এক কেজি চালের দাম দাঁড়ায় তিন ভাগের এক পয়সা। তবে এর তাৎপর্য ততটা লোভনীয় নয়।

উপর্যুক্ত বর্ণনা থেকে মনে হতে পারে যে জিনিসপত্রের দাম অত্যন্ত কম থাকার কারণে শায়েস্তা খাঁর শাসনামলে এ অঞ্চলের মানুষ অত্যন্ত সচ্ছল ও খুবই হৃষ্টপুষ্ট ছিল। বাস্তব অবস্থা সম্পূর্ণ ভিন্ন। এই সময়ে সাধারণ মানুষ ছিল বঞ্চনার শিকার। দেশ তো দূরের কথা, নিজ সমাজের কর্মকাণ্ড বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তাদের ন্যূনতম অংশগ্রহণ ছিল না। তারা চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করত। কয়েক বছর পর পর দুর্ভিক্ষ ও মহামারীতে গ্রামের পর গ্রাম উজাড় হয়ে যেত। কখনো কখনো বিশাল জনপদ বিরান হয়ে যেত।

গত শতাব্দীর কথাই ধরা যাক। তখনকার দ্রব্যমূল্য এখনকার চেয়ে অনেক কম ছিল। কিন্তু দুর্ভিক্ষ অর্থাৎ চরম খাদ্যাভাবে হাজার হাজার মানুষ মারা গিয়েছিল। সেসব মন্বন্তরের কাহিনী শুনলে রীতিমতো ভয় লাগে। এখন দুর্ভিক্ষের কথা আর শোনা যায় না। মনে হয় সাধারণ মানুষ খেয়ে-পরে ভালো আছে। এতদ্সত্ত্বেও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি আমাদের আহত করে, আমরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করি। আসলে যখন আমাদের সীমিত বাজেটের ওপর টান পড়ে, যখন ভোগ্যপণ্যের ক্রয় কমিয়ে দিতে হয়, তখন ত্যক্তবিরক্ত হওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না।

টাকার দামে উঁচু মান স্বাদে গন্ধে সব সমান

জিনিসপত্রের দাম সাধারণভাবে বেড়ে যাওয়াকে অর্থনীতির পরিভাষায় বলা হয় মূল্যস্ফীতি বা 'ইনফ্লেশন', যা কোনোকালেই ভোক্তাসাধারণ তথা নাগরিকরা পছন্দ করেনি। ইনফ্লেশন জনগণের ক্রয়ক্ষমতা ক্ষয় করে, তারা ভোগবিলাস কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়। এতে তাদের পছন্দ প্রয়োগের পরিসর সংকুচিত হয়ে পড়ে। ইনফ্লেশনকে এ কারণে বলা হয় 'আইনবহির্ভূত ট্যাক্স'।

ইনফ্লেশনের বদৌলতে কয়েক শ্রেণির মানুষ লাভবান হয়। যেমন- মজুদদার, ফটকাবাজারি, প্রকৃত সম্পদে (Real asset) বিনিয়োগকারী, ঋণী ব্যক্তি ও ঋণ গ্রহণকারী উদ্যোক্তা। যে উৎপাদনকারীর নিকট উদ্বৃত্ত উৎপাদন রয়েছে, তিনিও ইনফ্লেশনকে স্বাগত জানান, কারণ এর ফলে তাঁর লাভের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। এখানে উল্লেখ্য, দেশে উৎপাদন ও সম্পদ বৃদ্ধি পেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সামষ্টিক অর্থনীতির ভারসাম্য রক্ষাকল্পে আনুপাতিক হারে মুদ্রা সরবরাহ বৃদ্ধি করতে হবে। অন্যথায় দ্রব্যমূল্যের অধোগতি হয়ে অর্থনীতিতে মন্দাভাব দেখা দিতে পারে।

উৎপাদন বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখা ও জাতীয় আয়ের প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার স্বার্থে সহনীয় মাত্রার মধ্যে যৎকিঞ্চিৎ মুদ্রাস্ফীতি বা ইনফ্লেশন আবশ্যকীয়। উন্নয়নপ্রয়াসী যেকোনো দেশে তাই সহনীয় মাত্রার ইনফ্লেশন একটি স্বাভাবিক ঘটনা, এর থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব নয়; এর (পরিত্রাণের) প্রয়োজনও নেই। একটি উন্নয়নশীল দেশের অধিবাসী হিসেবে আমাদের সহনীয় মাত্রার ইনফ্লেশন নিয়েই বাঁচতে হবে। বলা যায়, এ নিয়েই আমাদের এগোতে হবে।

এতদ্সত্ত্বেও ইনফ্লেশনের পক্ষে কথা বলার লোক পাওয়া মুশকিল। সমাজে বিপুলসংখ্যক সীমিত আয়ের মানুষ রয়েছে। তারা ইনফ্লেশনকে এক ভয়ংকর দৈত্য মনে করে। এই দৈত্য তাদের প্রকৃত আয়ের (Real income) একাংশ চিবিয়ে খেয়ে তাদের জন্য অনেক বাস্তব সমস্যা ডেকে আনে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, কারো আয় যদি মূল্যস্ফীতি সূচকের মাধ্যমে সুরক্ষিত থাকে, তবু আগের দামের চেয়ে বেশি দাম দিয়ে জিনিসপত্র কিনতে গেলে তার গায়ে লাগে। কারণ আগের দামে সে 'মোহাচ্ছন্ন' থাকে। এখন সুরক্ষিত আয়ের পরও বেশি দাম দিয়ে কিনতে গেলে বারবার আগের দামই তার মনোজগতে আবর্তিত হতে থাকে। ফলে যতবার সে বেশি দামে জিনিস কেনে, ততবার সে মনের কোণে কাঁটাবিদ্ধ হয়। ইনফ্লেশন তার কাছে ভয়ংকর দৈত্যই থেকে যায়।

যদি ভোক্তা অতীতগামী (Regressive) মনোভাবাপন্ন হয় তাহলে সে বিশ্বাস করবে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি নিতান্তই সাময়িক। অচিরেই দাম কমে আগের অবস্থায় ফিরে আসবে। মূল্যবৃদ্ধির প্রথম পর্যায়ে আমাদের অনেকের এরূপ ধারণা থাকে। অর্থনীতির ছাত্র হওয়া সত্ত্বেও সত্তরের দশকের প্রথম ভাগে যখন দ্রব্যমূল্য অব্যাহতভাবে বাড়তে থাকল, তখন আমারও বদ্ধমূল ধারণা হয়েছিল যে এই দাম বাড়া সাময়িক, শিগগিরই আবার মূল জায়গায় ফিরে আসবে।

আমার অবচেতন মনে আশা বাসা বেঁধেছিল যে জিনিসপত্রের দাম স্বাধীনতাপূর্বের জায়গায় ফিরে যাবে। আমার দৃষ্টি নিবদ্ধ ছিল সরবরাহ সংকটের (Supply Shock) ওপর। আমি মূল্যস্ফীতির মূলে মুদ্রা সরবরাহের ভূমিকা সম্পর্কে সরল আচ্ছন্নতায় উদাসীন ছিলাম, স্বাধীনতাপূর্ব সময়ের দ্রব্যমূল্য আমার মনে গেঁথে গিয়েছিল। তার মধ্যে ছিল চালের মূল্য এক টাকা সের (কেজি), গরুর মাংস পাঁচ টাকা সের (কেজি)। খাসির মাংস যখন ১৯৭৪-৭৫ সালে ১৪ টাকা কেজি হলো, তখনো আমি চিন্তা করতে পারিনি এই দাম আর কমবে না। আমরা ছিলাম অতীতগামী ধারণায় সম্পূর্ণ নিবেদিত, অর্থনীতির অমোঘ বিধান থেকে অনেক দূরে অবস্থিত। আমাদের ভ্রান্ত প্রমাণ করে ১৯৮৫ সালে গরুর মাংসের দাম বেড়ে দাঁড়াল ৩৩ টাকা কেজি।

এর মধ্যেই চাকরি ও বেতন কমিশনের রিপোর্টের ভিত্তিতে আমাদের বেতন কিছুটা বেড়েছে; আমি ১৯৯০ সালের প্রথম দিকের কথা বলছি। তখনো পর্যন্ত আমার মাথায় ঢোকেনি যে গরুর মাংসের দাম একসময় কেজি ২৫০ টাকা ছাড়িয়ে যাবে। দাম যখনই বাড়ে, তখন আমার মনে হয় এই বৃদ্ধি ক্ষণস্থায়ী। দাম আবার কিছুটা হলেও কমবে। আসলে তা তো হওয়ার নয়, বাজার যতক্ষণ পর্যন্ত সহ্য করবে, দাম ততক্ষণ পর্যন্ত বাড়বে। নানা ধরনের চলকের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় জটিল উপায়ে বাজারের স্থিতিশীলতা (equilibrium) প্রতিষ্ঠিত হয়। গায়ের জোরে বাজারের পদ্ধতিকে ইচ্ছামতো প্রভাবিত করার উপায় নেই। এখন প্রায় নিশ্চিতভাবেই বলা যায় যে কাপড়চোপড়, ইলেকট্রনিক সামগ্রী, কম্পিউটার সামগ্রী ও দু-একটি কৃষিজাত পণ্য ছাড়া অন্য প্রায় সব জিনিসের দামই অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পাবে। এর থেকে কোনো পরিত্রাণ নেই।

যদি সরকারের সংখ্যাভীতি থাকে বা অতি উচ্চমানের মুদ্রার প্রতি অনীহা থাকে, তাহলে তারা কাগজের নোটের ডান দিক থেকে দু-একটি শূন্য বাদ দিতে পারে। তাতে সব কিছুর দাম রাতারাতি কমে যাবে। দু-একটি দেশ এরই মধ্যে এ ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, এর পেছনে মূল কারণ ছিল সেসব দেশে মাত্রাতিরিক্ত মূল্যস্ফীতি (Hyper inflation) দেখা দিয়েছিল এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের মুদ্রার মান মারাত্মকভাবে ক্ষয়ে গিয়েছিল। এর ফলে সে দেশের নাগরিকরা বড়জোর মানসিকভাবে ক্ষণিক স্বস্তি পেয়েছিল। তাদের মোহমুক্তি ঘটতে বেশি সময় লাগেনি।

একজন অর্থনীতিবিদের কাছে এ ধরনের মেকি কৌশল খুব একটা কাজে লাগে না। অর্থনীতিবিদ দেখেন বাস্তব ক্ষেত্রে নাগরিকদের প্রকৃত অবস্থা কেমন। তিনি দেখতে চান নাগরিকদের সক্ষমতা বেড়েছে কি না। তারা খেয়ে-পরে প্রকৃতভাবে ভালো আছে কি না। তাদের ভোগের পরিমাণ ও গুণগত মান বেড়েছে কি না। সর্বোপরি তাদের সম্পদ, জীবন ও চলাফেরা নিরাপদ কি না। এ ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের বাস্তব অবস্থা ও প্রাপ্ত পারিশ্রমিকের ক্রয়ক্ষমতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ উপধায়ক। তার এক সপ্তাহের মজুরি দিয়ে কী জিনিস কত পরিমাণ কিনতে পারে তার ওপর নির্ভর করে তার জীবনযাত্রার প্রকৃত মান কী ধরনের। পণ্যমূল্যের অবস্থান কিংবা মুদ্রামানের কৃত্রিম হেরফের তার প্রকৃত জীবনমানকে বিরূপভাবে প্রভাবিত না করলে তার কিছু যায়-আসে না। শায়েস্তা খাঁর আমলে পণ্যের নিম্নমূল্য সত্ত্বেও অত্যন্ত নিম্ন আয় ও কর্মসংস্থানের অভাবের কারণে মানুষের দৈন্যের সীমা ছিল না। আয় বাড়ার ফলে পণ্যমূল্য শতগুণ বৃদ্ধি পাওয়ার পরও দেশের নাগরিকের দারিদ্র্য উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। তাদের ভোগের পরিমাণ ও মান বেড়েছে। যদি পারিশ্রমিকের পরিমাণ পণ্যমূল্যের তুলনায় যথেষ্ট বেড়ে যায়, তাহলে উচ্চ পণ্যমূল্য কিংবা মুদ্রার উচ্চমান বড়জোর সংখ্যা ও গণনার ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। নাগরিকরা এর ফলে আহত হয় না।

একটি প্রায়োগিক গবেষকদল একজন নাগরিকের গড় মানের ভোগ্যপণ্য অথবা এক সপ্তাহের প্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী সংবলিত একপ্রস্থ 'ভোগ-সম্ভার' তৈরি করতে পারে। বাজার থেকে সেই 'ভোগ-সম্ভার' কিনতে একজন নাগরিকের কত ঘণ্টা বা কত দিনের শ্রম বিক্রি করতে হবে তার ওপর নির্ভর করবে তার জীবনযাত্রার প্রকৃত ব্যয় (Real cost of living)। যত বেশি শ্রম বিক্রি করতে হবে, জীবনযাত্রার ব্যয় তত বেশি হবে; কল্যাণ তত কমে যাবে। পৃথিবীতে বেশি ব্যয়বহুল বা কম ব্যয়বহুল নগরীর হিসাব ও ক্রমমান এভাবেই নির্ধারণ করা হয়। মুদ্রামানের এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেই।

দূর-অতীতের স্মৃতি-জাগানিয়া নিম্নমূল্যের দিকে তাকিয়ে মন খারাপ করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। পণ্যের নিম্নমূল্য ফিরে আসবে না। উচ্চমূল্যের সঙ্গে আমাদের আয় সমন্বয় করতে হবে। উন্নয়নশীল দেশে উন্নয়নের চাকা সচল রাখতে হলে স্বল্প আকারের হলেও মূল্যস্ফীতি মেনে নিতে হবে। এর বাস্তব সংশ্লেষ হচ্ছে, আমাদের দাদারা যে দামে জিনিস কিনেছেন, আমাদের বাবাদের তার চেয়ে বেশি দামে জিনিসপত্র কিনতে হয়েছে। আমরা কিনছি তার চেয়েও বেশি দামে। আমাদের সন্তানরা কিনবে আরো বেশি দামে। পরের প্রজন্ম কিনবে তার চেয়েও বেশি দামে। বিদেশে যারা ডলার-পাউন্ডে কেনাকাটা করে, তাদের জন্যও এ কথা সত্য। দাম বেড়ে চলবে, আয়ও বাড়বে। অবশেষে দেখা যাবে, প্রজন্ম পরম্পরায় নাগরিকরা অধিকতর সমৃদ্ধিতে কালাতিপাত করছে।

লেখক : সাবেক মন্ত্রিপরিষদসচিব ও পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান
Source: http://www.kalerkantho.com/print-edition/sub-editorial/2015/10/17/279976