সারাদিনের জন্য ঘুরে আসুন কুমিল্লার দর্শনিয় স্থান সমুহ

Author Topic: সারাদিনের জন্য ঘুরে আসুন কুমিল্লার দর্শনিয় স্থান সমুহ  (Read 309 times)

Offline SabrinaRahman

  • Sr. Member
  • ****
  • Posts: 333
  • Never give up because great things take time
    • View Profile
সারাদিনের জন্য ঘুরে আসুন কুমিল্লার দর্শনিয় স্থান সমুহ

৬০০/৭০০ টাকায় সারাদিনের জন্য ঘুরে আসুন কুমিল্লার দর্শনিয় স্থান সমুহ
সায়দাবাদ (এশিয়া লাইন ২০০,২৫০, তিশা ২০০) সকাল ৫ঃ৩০ অথবা কমলাপুর(রয়েল ২৫০/৩২০ , বি আর টি সি ) সকাল ৬ঃ৩০  থেকে কুমিল্লার বাস পাওয়া  যায়  - ফাস্ট টিপে গেলে ৭ঃ৩০/৮ টায় কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট থাকবেন
সকালের  নাস্তা সেরে নিন ক্যান্টনমেন্ট এর কাকলি /কফি হাউস/জিয়ান থেকে (৬/৭ জন বা ১০/১২ জনের গ্রুপ হলে noha/hicae সারাদিনের  জন্য ভাড়া করে নিলে ভালো - ক্যান্টনমেন্ট মার্কেটে রেন্টেকার আছে-০১৭৩৬২৪৪৪৪৫ )  ক্যান্টনমেন্ট থেকে (২০ টাকা অটো ) প্রথম চলেযান "ময়নামতি যুদ্ধ সমাধি "(Maynamati War Cemetery )  ময়নামতি রণ সমাধিক্ষেত্র মূলত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে (১৯৩৯-১৯৪৫) নিহত  ভারতীয় (তৎকালীন) ও বৃটিশ সৈন্যদের কবরস্থান। এটি ১৯৪৩-১৯৪৪ সালে তৈরি  হয়েছে। কুমিল্লা শহর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে কুমিল্লা  ক্যান্টনমেন্টের খুব কাছেই এই যুদ্ধ সমাধির অবস্থান। এই সমাধিক্ষেত্রটি  Commonwealth War Graves Commission (CWGC) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ও  তারাই এই সমাধিক্ষেত্র পরিচালনা করেন। প্রতি বছর নভেম্বর মাসে সকল ধর্মের  ধর্মগুরুদের সমন্বয়ে এখানে একটি বার্ষিক প্রার্থণাসভা অনুষ্ঠিত হয়। এই  সমাধিক্ষেত্রের ৭৩৬টি কবর আছে। 
Address: Comilla-Sylhet Road 
Hours:   
Wednesday 8AM–12PM, 2–5PM 
Thursday     8AM–12PM, 2–5PM 
Friday     8AM–12PM, 2–5PM 
Saturday     8AM–12PM, 2–5PM 
Sunday     8AM–12PM, 2–5PM 
Monday     8AM–12PM, 2–5PM 
Tuesday     8AM–12PM, 2–5PM 
"ময়নামতি যুদ্ধ সমাধিতে ৪০-৫০ মিনিটের মত ব্যয় করতে পারেন , এর পরে ১.১  কিঃমিঃ সামনে Palace of Queen Mainamoti "রাণী ময়নামতি প্রাসাদ ও মন্দির"  ঘুরে আসুন 
এটি একটি  প্রত্নতত্ত্ব স্থাপনা , সাহেবের বাজার এলাকায়  রাণী ময়নামতি প্রাসাদ ও মন্দির অবস্থিত। স্থানীয়ভাবে এটি রানী ‘ময়নামতি  প্রাসাদ’ নামে পরিচিত। জানা যায় ১৯৮৮ সালের নাগাদ এর খনন কাজ শুরু  হয়।খননের ফলে একটি বৌদ্ধ মন্দিরের চারটি নির্মাণ যুগের স্থাপত্য কাঠামো  উন্মোচিত হয়েছে।খননের সময় এখান থেকে বেশ কিছু পোড়ামাটির ফলক ও অলংকৃত ইট  আবিষ্কৃত হয়েছে। স্থাপত্যিক বৈশিষ্ট ও প্রত্নসম্পদের বিশ্লেষণে এটি ৮ম থেকে  ১২শ শতকের প্রাচীন কীর্তি বলে ধারনা করা হয়। এখানে বছরের পর বছর ধরে সনাতন  ধর্মালম্বীদের লোকনাথ পঞ্জিকা অনুযায়ী প্রতি ৭ বৈশাখ থেকে মাসব্যাপী বড়  পরিসরে বৈশাখী মেলার আয়োজন করে। এছাড়া এ ঐতিহ্যবাহী স্থানটি দেখতে দূর  দূরান্ত থেকে আগত অসংখ্য দর্শনার্থী প্রতিদিন ভিড় জমায়। 
এরপরে ক্যান্টনমেন্ট ফেরত আসুন চলেযান কোটবাড়ি বিশ্বরোড হয়ে  কুমিল্লা শালবন বিহার এবং জাদুঘর 
শালবন বৌদ্ধ বিহার বাংলাদেশের প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনগুলোর মধ্যে  অন্যতম। কুমিল্লা জেলার কোটবাড়িতে বার্ডের কাছে লালমাই পাহাড়ের মাঝামাঝি  এলাকায় এ বিহারটির অবস্থান। বিহারটির আশপাশে এক সময় শাল-গজারির ঘন বন ছিল  বলে এ বিহারটির নামকরণ হয়েছিল শালবন বিহার। এ বিহারটি পাহাড়পুর বৌদ্ধ  বিহারের মতো হলেও আকারে ছোট। ১৮৭৫ সালের শেষ দিকে বর্তমান কোটবাড়ি  এলাকায় একটি সড়ক তৈরির সময় একটি ইমারতের ধ্বংশাবশেষ উন্মোচিত হয়ে পড়ে। সে  সময় আবিষ্কৃত ধ্বংসাবশেষকে একটি দুর্গ বলে অনুমান করা হয়েছিল। ১৯১৭ সালে  ঢাকা জাদুঘরের অধ্যক্ষ নলিনী কান্ত ভট্টাশালী সে এলাকায় যান এবং উক্ত  এলাকায় অনুসন্ধান পরিচালনাকালে ধ্বংশাবশেষটিকে রণবংকমল্ল হরিকেল দেবের  তাম্রশাসনের (খৃষ্টীয় তের শতক) দুর্গ ও বিহার পরিবেষ্টিত পট্টিকেরা নগর বলে  সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। বিহারে সর্বমোট ১৫৫টি কক্ষ আছে। ধারণা করা হয় যে  এখানে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা থাকতেন এবং ধর্মচর্চ্চা করতেন। কক্ষের সামনে ৮.৫ ফুট  চওড়া টানা বারান্দা ও তার শেষ প্রান্তে অনুচ্চ দেয়াল। প্রতিটি কক্ষের  দেয়ালে তিনটি করে কুলুঙ্গি রয়েছে যেখানে অতীতে প্রতিমা বা তেলের প্রদীপ  ইত্যাদি রাখা হতো। অন্যদিকে চার দিকের দেয়াল ও সামনে চারটি বিশাল গোলাকার  স্তম্ভের ওপর নির্মিত হলঘরটি ভিক্ষুদের খাবার ঘর ছিল বলে ধারণা করা হয়।  হলঘরের মাপ ১০ মিটার বাই ২০ মিটার। হলঘরের চার দিকে ইটের চওড়া রাস্তা  রয়েছে। নানা সময়ে প্রত্নতাত্ত্বিক খননের মাধ্যমে বিহারটির ধ্বংসাবশেষ থেকে  আটটি তাম্রলিপি, প্রায় ৪০০টি স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রা, অসংখ্য পোড়া মাটির  ফলক বা টেরাকোটা, সিলমোহর, ব্রৌঞ্জ ও মাটির মূর্তি পাওয়া গেছে। 
শালবন বিহারের পাশেই শালবন জাদুঘর - কুমিল্লায় প্রায় ২০টির অধিক  প্রত্নতত্ত্ব স্থাপনা রয়েছে - প্রত্নতত্ত্ব স্থাপনা খনন কালে প্রাপ্ত  নিদর্শন গুল শালবন জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে  কোটবাড়ি বাজারে দুপুরের  খাবার সেরে নিতে পারেন -
কোটবাড়ি বাজার থেকে ৫০০ গজ পশ্চিমে কোটবাড়ি -  কালির বাজার রোডে রয়েছে - BIRD(Bangladesh Academy for Rural Development) ,  লতিকট মুড়া, ইটাখোলা মুড়া ও রুপবান মুড়া - (কোটবাড়ি - কালির বাজার রোডটি  অত্তন্ত চমৎকার একটি রোড)  সবশেষে কুমিল্লা শহরে চলে আসতে পারেন -  বিকেলটা ধর্ম সাগরে কাটিয়ে - মণোহরপুর মাতৃভান্ডার (অরিজিনাল) থেকে  কুমিল্লার বিখ্যাত রশমালাই নিয়ে শাসনগাছা / জাংগালিয়া থেকে ঢাকার বাসে ঊঠতে  পারেন  - শুভকামনা কুমিল্লার
চিত্তাকর্ষক স্থান সমুহ ঃ
 বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি,  শালবন বিহার,  আনন্দ বিহার,  ময়নামতি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও যাদুঘর,  ময়নামতি ওয়ার সেমেট্রি  বোটানিক্যাল গার্ডেন,  ব্লু ওয়াটার পার্ক  চিড়িয়াখানা,  কুমিল্লা পৌর উদ্যান,  শাহ সুজা মসজিদ,  ধর্মসাগর দীঘি,  রূপসাগর দীঘি,  বলেশ্বর দীঘি,  রূপবানমুড়া,  চন্ডীমুড়া,  লালমাই বৌদ্ধ বিহার,  লালমাই পাহাড়,  ময়নামতি পাহাড়  কুটিলা মুড়া,  ইটাখোলা মুড়া,  সতের রত্নমুড়া,  রাণীর বাংলার পাহাড়,  আনন্দ বাজার প্রাসাদ,  ভোজ রাজদের প্রাসাদ,  রাজশেপুর ইকোপার্ক,  বিরাহিমপুর শাল বন,  রানির কুঠির।
Sabrina Rahman
Lecturer
Department of Architecture, DIU