অফিসে মজা করলে কী হয়?

Author Topic: অফিসে মজা করলে কী হয়?  (Read 502 times)

Offline Shakil Ahmad

  • Sr. Member
  • ****
  • Posts: 374
  • Test
    • View Profile
অফিসে মজা করলে কী হয়?
« on: July 09, 2017, 06:06:38 PM »
ধরুন, একটি অফিসে ডেস্কের সামনে বসে গম্ভীর মুখে কাজ করছেন সবাই। বসও গম্ভীর মুখে ঘুরে দেখছেন অফিস। কর্মীরা তটস্থ। যেন সবাই ‘রামগড়ুরের ছানা, হাসতে তাদের মানা।’

এখন প্রশ্ন আসতেই পারে, অফিসে তাহলে কীভাবে থাকা উচিত? হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়তে হবে? তা হলে তো আর অফিস আর বাড়ির মধ্যে পার্থক্য রইল না। সেটি কি কর্তৃপক্ষ বা সহকর্মীরা ভালোভাবে নেবেন?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অফিসে কর্মী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে রসবোধ থাকা মন্দ কিছু নয়। বরং আখেরে এতে প্রতিষ্ঠানেরই লাভ হয়। কারণ, যখন আপনি মানসিকভাবে উৎফুল্ল থাকবেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই কাজে উৎসাহ পাবেন বেশি। এতে একদিকে কাজ বেশি হবে, অন্যদিকে তাতে ভুলও থাকবে কম।

অবশ্য একটি অফিসে নানা ধরনের মানুষ থাকে। কেউ মজা করতে পছন্দ করেন, আবার কেউ চুপচাপ কাজ করে যান। আবার মজা বিষয়টিও আপেক্ষিক। কারও কাছে যা মজা, কারও কাছে মজা না-ও হতে পারে। কেউ কেউ একে ব্যক্তিগত আক্রমণ মনে করতে পারেন। সুতরাং মানুষ বুঝে মজা করা উচিত।

কানাডার জেনারেল মোটরসের প্রেসিডেন্ট স্টিভ কার্লাইল যখন কোম্পানির প্রধান কার্যালয় পরিদর্শন করতেন, তখন প্রায়ই কর্মীদের সঙ্গে রসিকতা করতেন। স্টিভ বলতেন, এই আচরণ কর্মীদের সঙ্গে তাঁর বন্ধন আরও দৃঢ় করত। তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, হাস্যরস করার জ্ঞান থাকা নেতৃত্বের গুণাবলির একটি অংশ। এটি মানুষকে কঠোর নিয়মকানুনের মধ্যেও একটু নিশ্বাস নেওয়ার সুযোগ করে দেয়। এতে করে কর্মীরা অফিসের মধ্যে কিছুটা অনুকূল পরিবেশ পায় এবং তাঁরা আরও বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।’

ফিলাডেলফিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের হোয়ারটন স্কুলের অধ্যাপক মরিস শোয়েইতজার সম্প্রতি অফিসে রসবোধের ব্যবহার সম্পর্কে একটি গবেষণা করেছেন। তাতে দেখা গেছে, কোনো কর্মী বা বস যদি অফিসে রসবোধ সফলভাবে ব্যবহার করতে পারেন, তবে তা প্রতিষ্ঠান ও কর্মী—উভয় পক্ষের জন্যই ভালো হয়। এটি ওই নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে এবং প্রতিষ্ঠানে তাঁর অবস্থান শক্তিশালী করে।

অধ্যাপক শোয়েইতজার বলেন, ‘কর্মক্ষেত্রে যাঁরা আত্মবিশ্বাসী থাকেন, মানুষ তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হয়। যখন আপনি মজা করা শুরু করবেন, তখনই আপনি একটি ঝুঁকি নিচ্ছেন। আপনার সেই রসবোধ অন্য ব্যক্তি কীভাবে গ্রহণ করবেন, সেটিই হলো ঝুঁকি। আর যখনই আপনি ঝুঁকি নেবেন, তখনই আপনার ব্যক্তিত্বে আত্মবিশ্বাস ফুটে উঠবে।’

কিন্তু এই রসবোধের বিষয়টি অন্য সহকর্মীরা কীভাবে নেন? শোয়েইতজার বলেন, একটি ভালো রসিকতাকে অবশ্যই বুদ্ধিদীপ্ত ও সহানুভূতিশীল হতে হবে। এতে করে সহকর্মীরা রসবোধসম্পন্ন ব্যক্তির যোগ্যতা সম্পর্কে বুঝতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই অন্যের দৃষ্টিভঙ্গিকে বিবেচনায় রাখতে হবে। তাঁরা কোন বিষয়টিকে মজাদার মনে করেন, সেটি বুঝেই রসিকতা করতে হবে।

অসময়ে বলা বাজে রসিকতা কিন্তু পারস্পরিক সম্পর্কে খারাপ প্রভাব ফেলে। সাম্প্রতিক গবেষণায় বলা হয়েছে, এতে করে সহকর্মীর কাছে নিজের অযোগ্যতা প্রকাশিত হয়ে পড়ে। ফলে অফিসে অবস্থান হয়ে পড়ে নড়বড়ে।

টরন্টোর প্লাস্টিসিটি ল্যাব আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা ও ব্যবসাক্ষেত্রের সুখী পরিবেশ নিয়ে গবেষণা করে থাকে। এ প্রতিষ্ঠানের সহপ্রতিষ্ঠাতা জেনিফার মস বলেন, ‘বড় বড় প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলতে রসবোধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এতে করে পারস্পরিক সম্পর্ক বেশ সহজ হয়ে আসে।’

বিহেভিরাল অ্যান্ড অ্যাপ্লাইড ম্যানেজমেন্ট নামের একটি জার্নালে ২০০৬ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, যেসব কর্মী কর্মস্থলে মজার পরিবেশে কাজ করেন, তাঁরা মানসিক অবসাদে ভোগেন কম।

অফিসের সহকর্মীদের মধ্যে কিন্তু খুনসুটিও হয়। কলম্বিয়া বিজনেস স্কুলের অধ্যাপক অ্যাডাম গ্যালিনস্কি বলেন, হাস্যরসের পাশাপাশি বিদ্রূপও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়। তবে এটি ব্যবহার করতে গিয়ে একটু সতর্ক হতে হবে। যখন উভয় পক্ষের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে উঠবে, তখনই বিদ্রূপাত্মক কৌতুক করা যাবে। তা না হলে অনেকেই একে ব্যক্তিগত আক্রমণ বলে মনে করতে পারেন।

অ্যাডাম গ্যালিনস্কি বলেন, ‘একজন একটি শব্দের অর্থ কী করছেন, সেটির ওপর পুরো বিষয়টি নির্ভর করে। এটি একটি নির্দিষ্ট ধরনের সামাজিক বুদ্ধিমত্তা, যা সবাই একইভাবে গ্রহণ করেন না বা বুঝতে পারেন না।’

বিবিসি অবলম্বনে অর্ণব সান্যাল