Famous > History

History of Muslim'S

(1/5) > >>

Md. Zakaria Khan:
দুঃখের সাথেই রয়েছে সুখ
إِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا
অবশ্যই দুঃখের সাথে সুখ আছে।” (৯৪-সূরা আল ইনশিরাহ: আয়াত ৬)
আহার করার পর পুনরায় ক্ষুধা লাগে, পান করার পর পুনরায় পিপাসা জাগে। অস্থিরতার পর ঘুম আসে। অসুস্থতার পর সুস্থতা আসে, পথ হারার পর পথ খুঁজে পাবে আর রাতের পর দিন আসবে এটাই নিয়ম।
"সম্ভবত আল্লাহ বিজয় ঘটাবেন অথবা তার ইচ্ছানুযায়ী কোন সিদ্ধান্ত নিবেন।" (সূরা-৫ মায়িদা: আয়াত-৫২)
অন্ধকার রাত্রিতে এক আলোকিত সুপ্রভাতের আগমনের সংবাদ জানাও, যে প্রভাতের আলো পাহাড় ও উপত্যকাসমূহে ছড়িয়ে পড়বে। দুঃখ-পীড়িতদেরকে এমন ত্বরিত প্রশান্তির শুভসংবাদ দাও যা নাকি তাদের কাছে আলোর গতিতে বা একপলকে পৌঁছে যাবে, যদিও বা আপনি মরুভূমিকে মাইলকে মাইল বিস্তৃত দেখছেন, তবুও জেনে রাখুন যে, এই দূরত্বের পরেও পর্যাপ্ত পরিমাণ ছায়াঘেরা অনেক সবুজ অবারিত মাঠ রয়েছে।
আপনি যদি দেখেন যে, রশি শুধু কষছে আর কষছেই তবে জেনে রাখুন যে, এটা অচিরেই পটু করে ছিড়ে যাবে। কান্নার পর হাসি, ভয়ের পর সান্ত্বনা এবং উদ্বিগ্নতার পর প্রশান্তি আসে। যখন ইব্রাহীম (আঃ)-কে আগুনে ফেলা হল তখন তার প্রভুর সাহায্য পাওয়ার কারণে তিনি আগুনের তাপ অনুভব করেননি।
قُلْنَا يَا نَارُ كُونِي بَرْدًا وَسَلَامًا عَلَىٰ إِبْرَاهِيمَ
“আমি (আল্লাহ) বললাম: হে আগুন! তুমি ইব্রাহীমের জন্য শীতলতা প্রদানকারী ও নিরাপত্তা দানকারী হয়ে যাও।” (২১-সূরা আল আম্বিয়া: আয়াত-৬৯)
সাগরতো মূসা (আঃ)-কে ডুবাতে পারেনি; কেননা, তিনি অত্যন্ত আত্মপ্রত্যয়ী দৃঢ় ও সৎভাবে বলেছিলেন-
كَلَّا إِنَّ مَعِيَ رَبِّي سَيَهْدِينِ
“কখনও নয়; নিশ্চয় আমার সাথে আমার প্রভু আছেন, তিনি আমাকে পথ দেখাবেন।” (২৬-সূরা আশ শোয়ারা: আয়াত-৬২)
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকর (রাঃ)-কে গুহাতে বলেছিলেন যে, আল্লাহ তাদের সাথে আছেন, তারপর তাদের উপর শান্তি ও প্রশান্তি অবতীর্ণ হয়েছিল।
যারা দুর্দিনের শিকার তারাতো শুধু দুর্দশা ও দুর্ভাগ্যই দেখে। এর কারণ এই যে, তারা কেবল ঘরের দেয়াল ও দরজাই দেখতে পায়, যখন নাকি তাদের সামনে যে বাধার প্রাচীরসমূহ আছে সেগুলোর বাইরে তাদের তাকানো উচিত।
অতএব, হতাশ হবেন না; অবস্থা একই রকম থাকা অসম্ভব। দিনগুলো ও বছরগুলো পালা করে ঘুরে ঘুরে আসে, ভবিষ্যৎ অদৃশ্য আর প্রতিদিনই আল্লাহ্ তায়ালার কিছু কাজ করার থাকে। আপনি তো এটা জানেন না, তবে এমনটা হতে পারে যে, আল্লাহ তায়ালা পরবর্তীতে নতুন কিছু আনবেন। আর অবশ্যই, কষ্টের সাথে আরাম আছে।

Md. Zakaria Khan:
ট্রিপল ফিল্টার টেস্ট(TFT)
------------------------------------------

একদিন সক্রেটিসের কাছে তার এক পরিচিত লোক এসে বলল, আপনি কি জানেন আপনার বন্ধু সম্পর্কে আমি কি শুনেছি!

সক্রেটিস তেমন আগ্রহী না হয়ে বললেন, এক মিনিট থামেন। আমাকে কিছু বলার আগে আপনার ছোট একটা পরীক্ষা পার হতে হবে, এই পরীক্ষার নাম ‘ট্রিপল ফিল্টার টেস্ট’।

লোকটা অবাক হয়ে প্রশ্ন করল, ট্রিপল ফিল্টার?

সক্রেটিস বললেন, ঠিক তাই। আমার বন্ধু সম্পর্কে আমাকে কিছু বলার আগে আপনি যা বলবেন তা ফিল্টার করে নেওয়া ভালো। তিন ধাপে ফিল্টার হবে বলে আমি এটাকে ট্রিপল ফিল্টার টেস্ট বলি।

১. প্রথমটি হলো ‘সত্য’ ফিল্টার। আপনি কি নিশ্চিত যে আপনি যা বলবেন তা সত্য?

লোকটা বলল, না, আমি শুধু শুনেছি আর…সক্রেটিস বললেন, ঠিক আছে। তাহলে আপনি জানেন না এটা সত্য কিনা।

২. এবার দ্বিতীয় ফিল্টার। এই ফিল্টারের নাম হল ‘ভালোত্ব’। আমার বন্ধু সম্পর্কে আপনি কি ভালো কিছু বলবেন?

লোকটা একটু আমতা আমতা করে বলল, না, বরং উলটা…

সক্রেটিস বললেন, তার মানে আপনি আমার বন্ধু সম্পর্কে খারাপ কিছু বলবেন এবং আপনি নিশ্চিতও না যে তা সত্য কিনা। আপনি হয়ত এখনো পরীক্ষাটা পার হতে পারেন, কারণ তিন নাম্বার ফিল্টার বাকি আছে।

৩. তৃতীয়টি হল ‘উপকারিতা’ ফিল্টার। আপনি আমার বন্ধু সম্পর্কে যা বলবেন তা কি আমার কোনো উপকারে লাগবে?

লোকটি বলল, না, সেরকম না।

সক্রেটিস তখন শান্তভাবে বললেন, বেশ, আপনি যা বলতে চান তা সত্য না, ভালো কিছুও না, আবার আমার কোনো উপকারেও আসবে না। তাহলে আমাকে কেনই বা তা বলবেন?

ঠিক তেমনভাবে ব্যক্তিজীবনে কাউকে কিছু বলার বা শোনার আগে বা কিছু শেয়ার করার আগে করিয়ে নিন সক্রেটিসের 'ট্রিপল ফিল্টার টেস্ট'। আখেরে কাজে দেবে।

(Iftekhar Mahmud এর পোস্ট থেকে পাওয়া)

Md. Zakaria Khan:
তওবাঃ-
তওবা আরবি শব্দ। তওবা শব্দের আভিধানিক অর্থ হ’ল প্রত্যাবর্তন করা, ফিরে আসা। পবিত্র কোরআন এবং হাদীসে শব্দটি আল্লাহর নিষেধকৃত বিষয়সমূহ ত্যাগ করা ও তার আদেশকৃত বিষয়সমূহর দিকে ফিরে আসা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে। ইসলামী ধর্মমতে তওবা শব্দটি নিজের কৃত পাপের জন্য অনুতপ্ত হওয়া, তার জন্য আল্লাহ নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করা, এবং তা পরিত্যাগের দৃঢ় সংকল্পকে বুঝায়। তওবা ব্যাতিরেকে কবিরা গুনাহ মাফ হয় না। যে তওবার পর পাপকর্মের পুনরাবৃত্তি হয় না, তাকে বলে তওবাতুন নাসুহা বা খাঁটি তওবা।

পবিত্র কুরআনের একটি পূর্ণাঙ্গ সূরার নামকরণ করা হয়েছে সূরা তওবা। এছাড়াও বিভিন্ন সুরার বিভিন্ন স্থানে তওবা এবং এর গুরুত্ব উল্লেখ করা হয়েছে।
আল্লাহ বলেন,
****** “আর হে মুমিনগণ! তোমরা সকলে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন (তওবা) কর, যেন তোমরা সফলকাম হতে পার।”
(সূরা নুরঃ আয়াত ৩১ এর অংশ)।

সুরা তাহরিমে আল্লাহ বলেন,
********* “হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর সমীপে খাঁটি তওবা কর, এই আশায় যে তোমাদের প্রভু তোমাদের সকল পাপ ক্ষমা করে দেবেন আর তোমাদেরকে এমন উদ্যানসমূহে উপবিষ্ট করবেন যার নিম্নদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত থাকবে”.(সূরা তাহরিমঃ আয়াত ৮)

সুরা বাকারায় আল্লাহ বলেন,
********** “নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদেরকে ভালবাসেন যারা তাঁর কাছে তওবা করে, এবং তিনি তাদেরকে ভালবাসেন যারা নিজেদেরকে পবিত্র করে।”
(সূরা বাকারাঃ আয়াত ২২২)

Md. Zakaria Khan:
দৃষ্টি সংযত রাখার মাহাত্ম্য ও মর্যাদা
আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা বলেছেন,
“(হে নবী) আপনি  মু’মিন পুরুষদের বলুন, তারা তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখবে এবং তাদের  লজ্জাস্থানের হিফাযত করবে। এটাই তাদের জন্য অধিক পবিত্র। নিশ্চয়ই তারা যা করে, সে সম্পর্কে আল্লাহ্  সম্যক অবহিত।
(সূরা আন-নূর; ২৪ : ৩০)
অতএব, আল্লাহ্ পবিত্রতা ও আত্মিক উন্নয়নকে দৃষ্টি সংযত রাখার এবং লজ্জাস্থান হিফাযত করার প্রতিদান হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কারণ নিষিদ্ধ বস্তু থেকে নিজের দৃষ্টি সংযত করার ফলে তিনটি উপকার হয় যেগুলো ভীষণভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও অত্যন্ত মূল্যবান।
প্রথমত : ঈমানের মধুরতা আস্বাদন করা
দ্বিতীয়ত : আলোকিত হৃদয়, স্বচ্ছ উপলব্ধিবোধ এবং তীক্ষ্ণ অন্তর্দৃষ্টি
তৃতীয়ত : হৃদয় হবে শক্তিশালী, দৃঢ় এবং সাহসী

Md. Zakaria Khan:
একবার এক ইহুদি রসুলুল্লাহ সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপরে এসে চড়াও হলো। তার জামা আর চাদর টেনে ধরে খুব রুক্ষ ভাবে বলল,
"এই মুহাম্মাদ, আমার ঋণ শোধ করো না কেন?"
এরপরেও আরো কিছু কড়া এবং কটু কথা বলতে থাকল।

দৃশ্যটা উমার রাদিয়াল্লাহু তা'আলা দেখলেন। তিনি ইহুদিকে বললেন, তুমি রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে যে ব্যবহার করলে, আল্লাহর কসম, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাধা না দিলে তোমার কল্লা নামিয়ে ফেলতাম।

রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শান্তভাবে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুর দিকে তাকিয়ে বললেন, তোমার কাছ থেকে এমন কথা তো আশা করিনি উমার। তুমি আমাকে বলবে ঋণ তাড়াতাড়ি শোধ করে দিতে আর তাকে বলবে ভালো ব্যবহার করতে। যাই হোক, লোকটাকে আমার ঋণ শোধ করে দাও আর অতিরিক্ত বিশ সা’ খেজুর দিয়ে দাও।
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু তাই করলেন।

ইহুদি জিজ্ঞেস করল, বেশি দিলে কেন উমার?
- রাগের জন্য।
ইহুদি জিজ্ঞেস করল, আমাকে চিনতে পেরেছ?
- না।
- আমি যায়েদ বিন সু’নাহ।
- ওহ, তুমি সেই ইহুদি পাদ্রী?
- হ্যাঁ।
- তুমি আমাদের রসুলের সাথে এত দুর্ব্যবহার করেছিল কেন?
- আমি তাঁর মধ্যে নবুওয়াতের সব আলামত পেয়েছি, খালি দুটি জিনিসের জন্য পরীক্ষা করছিলামঃ

১) তাঁর সহিষ্ণুতা অজ্ঞতার উপর অগ্রগামী কিনা
২) মুর্খতা বশত তাঁর সাথে কেউ অসদাচরণ করলে তার ধৈর্য বাড়ে কিনা।

এ দুটি বিষয় পরীক্ষার জন্যই আমি এ আচরণ করেছি। উমার শোনো, তোমাকে সাক্ষী করে বলছি: আল্লাহ তা‘আলা আমার রব্ব হওয়াতে, ইসলাম আমার দ্বীন হওয়াতে ও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নবী হওয়াতে আমি সন্তুষ্ট।
আমি তোমাকে এও সাক্ষী রাখছি যে, আমার অর্ধেক সম্পদ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতের জন্য দান করে দিলাম।
তারপর যায়েদ রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে গিয়ে বললেন,

" আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন সত্য মাবুদ নেই এবং আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।"

ভাইয়েরা - এই মানুষটা আমাদের রসুল ছিলেন। আমরা কীভাবে অধৈর্য হব, অসহিষ্ণু হব বলেন?

যারা আমাদের ভুল ধরেন তারা আমাদের ভালোর জন্যই ধরেন, আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ তাদের মাকাম অনেক উন্নত করুন।আমরা যেন তাদের শত্রু মনে না করি। আমরা যেন আমাদের ভুলগুলো সংশোধন করে নিতে সচেষ্ট হই।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা তাওফিক দিন।

Navigation

[0] Message Index

[#] Next page

Go to full version