টাঙ্গুয়ার হাওড়, সুনামগন্ঞ্জ (শীতকালীন পর্ব)

Author Topic: টাঙ্গুয়ার হাওড়, সুনামগন্ঞ্জ (শীতকালীন পর্ব)  (Read 389 times)

Offline Md. Azizul Hakim

  • Jr. Member
  • **
  • Posts: 93
  • Respect is everything.
    • View Profile
টাঙ্গুয়ার হাওড়,  সুনামগন্ঞ্জ
(শীতকালীন পর্ব)
   আপনি যদি নিজেকে একজন প্রকৃতিপ্রেমী হিসেবে ভাবতে পছন্দ করেন তাহলে সুনামগন্ঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর, নিলাদ্রী,  বড়ছরা হতে পারে আপনার জন্য অন্যতম আদর্শ জায়গা।
( পোষ্টটি বড় হলেও ভ্রমনে অনেক কাজে আসবে বলে আশা করি, তাই কষ্ট করে পড়ে ফেলুন অথবা সেভ করে রাখুন। )
   যাওয়া যাবে ঢাকা থেকে শ্যামলী পরিবহন অথবা মামুন এ করে। ( ভুলেও কোন লোকাল বাসে উঠতে যাবেন না,  কারন এতে সারাদিন লেগে যেতে পারে)  সকাল ৬ টায় ঢাকা ছাড়ে মামুন বাস। ভাড়া পরবে ৫০০ টাকা। নামিয়ে দিবে সুনামগন্ঞ্জের নতুন ব্রিজ এলাকায় , সেখান থেকে বাইকে করে তাহিরপুর বাজার হয়ে মনিপুর ঘাট (ভাড়া পরবে জনপ্রতি ১৪০ টাকা (বাইক ভাড়া) ।  যাতায়াতের জন্য অন্যান্য পরিবহন  যেমন সিএনজি, অটো ও আছে। তবে সময় লাগবে দ্বিগুনের বেশী। আপনি চাইলে তাহেরপুর বাজার থেকেও ইন্ঞ্জিন চালিত নৌকা ভাড়া করতে পারেন সেক্ষেত্রে  মনিপুর ঘাট পর্যন্ত যেতে ৪০ টাকা (বাইক ভাড়া) সেভ হলেও মুল টাংগুয়ার হাওড়ে যেতে ঘন্টা খানেক লেগে যাবে। কিন্তু যেতে যেতে নদীর দুই পারের যে দৃশ্যগুলো চোখে পরবে তা হয়ত বাইকে চড়ে উপভোগ করার নয়।
   যাই হোক, যদি ৪-৫ জনের একটা গ্রুপ হয় তাহলে ১০০০ টাকায় একটা নৌকা ভাড়া করলে খরচ অনেক কমে যাবে। হোটলে রাত্রিযাপন শেষে ( ডাবল বেড এটাচ্ বাথ ৩৫০ টাকা ) তাহেরপুর বাজারে সকালের নাস্তা করে আমরা ১০০০ টাকায় একটা মাঝারি নৌকা ভাড়া করেছিলাম বাজার ঘাট থেকে। এখানে বলে রাখা ভালো ইন্ঞ্জিন চালিত নৌকাটি কিন্তু আপনাকে ওয়াচ টাওয়ার পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারবে,  সেখান থেকে আবার একটা মাছ ধরার ছোট নৌকা বা আপনি চাইলে বড় নৌকাও ব্যবস্থা করতে পারেন,  সেক্ষেত্রে ভাড়া বেশী পরবে। যাই হোক, আমরা একটা ছোট নৌকা ভাড়া করেছিলাম ১৭০ টাকায় ২ ঘন্টায় ঘুরিয়ে সব দেখিয়ে নিয়ে আসবে। আমাদের টার্গেট ছিল অতিথি পাখি দেখবো। মাঝির সাথে আলাপচারিতায় জানা গেল মাঘ মাসের শেষে বসন্তের শুরুতে অনেক প্রজাতির অতিথি পাখির আগমন ঘটে আর হাওড়টাও দেখতে নাকি বেশ  চমৎকার লাগে । যাই হোক, সব দেখা শেষে ফিরলাম সেই ইন্ঞ্জিন চালিত নৌকা করে, বলা ছিল আমাদের আবার নিয়ে আসবে একি ভাড়ায়। আপনারা চাইলে প্রথমদিন হোটলে থেকে পরের দিন সকালে বা চাইলে মধ্য দুপুরে হাওড়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুধুলি লগ্নে হাওড়ের দৃশ্য  চমৎকার হয়ে ধরা পড়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে। সকালের দৃশ্যও অনেক সুন্দর।  ( বি.দ্র. তাহেরপুর থেকে হাওড়ে যেতে চাইলে ৪-৫ ঘন্টা হাতে সময়  নিয়ে বের হবেন। তাহলে মনমতো ঘুরতে পারবেন আর সেইসাথে সুন্দর সুন্দর ছবিও তুলতে পারবেন। ছবি তোলার পারফেক্ট সময় হচ্ছে সকাল ৮ থেকে ৯ টা আর বিকাল ৪টা থেকে ৫টা পর্যাপ্ত আলো থাকা স্বাপেক্ষে।)
    এখানে বলে রাখা ভালো, হাওড়ের পানি এতোই স্বচ্ছ যে আপনার গোসল করতে মন চাইবে তাই আনুসাঙ্গিক জিনিসপত্র সাথে করে নিয়ে যান আর দুপুরে হাওড়ের টাটকা চিংড়ি মাছের আইটেম খেতে চাইলে মাঝির সাথে আলাপ করে হাওড় বিলাস (ওয়াচ টাওয়ারে পাশে একটা ছোট গ্রামে অবস্হিত ছোট একটা দোকানের নাম ) নামে একটা অর্ডারি দোকানে জানিয়ে রাখুন ছোট নৌকা করে ঘুরাঘুরির পূর্বে। আমাদের দুই জনের জন্য ব্যবস্থা করেছিল চিংড়ি মাছের তরকারি,  আলু ভর্তা, ডাল। বিল ৫০০ টাকা! সদস্য বেশি হলে বাবর্চি সাথে করে নিয়ে গেলে খরচের খাতটাও কমে যাবে। সাথে হালকা খাবার নিতে ভুলবেন না। তাহেরপুর বাজার থেকে ওয়াচ টাওয়ার পর্যন্ত যেতে আমাদের লেগে গিয়েছিল দেড় ঘন্টার বেশি কিছু সময়। তবে যদি মনিপুর ঘাট থেকে যেতে চান তাহলে হয়ত আধা ঘন্টা লাগতে পারে। তবে এই মৌসুমে মাঝিরা বাজার ঘাটেই নৌকা ভিড় করিয়ে রাখে,  বর্ষা মৌষুমে তারা মনিপুর ঘাটে চলে যায়।
   যাদের পানি ভীতি আছে তারা অবশ্যই লাইফ জ্যাকেট সাথে করে নিয়ে যাবেন। না হলে ভ্রমনে অস্হিরতা আসতে পারে। যদি সাথে নিয়ে না আসতে পারেন চিন্তার কিছু নেই,  তাহেরপুর বাজার থেকেও কিনতে পারবেন। এখানে যখন ঘুরতে আসবেন, চেষ্টা করবেন জোড় সংখ্যক সদস্য নিয়ে আসার। কারন বাইকে দুইজন করে চলা যায়। আর সান গ্লাস পড়ে নিতে ভুলবেন না,  কারন রাস্তাঘাটের খুবই লাজুক।
    এই ছিল টাংগুয়ার হাওড়ে ঘুরাঘুরির আদ্যপান্ত বিবরন। এইখানে কোন বাইক চালক কিংবা মাঝির নাম্বার দেইনি, কারন আপনি তাদের এভেলএবেল দেখতে পাবেন।  ভাড়া এখানে আমি যা দিয়েছি তা সম্প্রীতি। তারপরও আপনারা কিছু দামাদামি করে নিতে পারেন।
   এবার আসুন আমার অভিজ্ঞতার আলোকে একটা টুর প্ল্যান নি আলোচনা করি।
  ------ --------- ----------- ------------- -------------- ----
Tour Plan : A ( only for tanguar haor)
member : 5 persons
(1 day & 2 nights : 1 night for coming & 1 night for going )
cost : 1780 taka ( 500*2 = 1000 (bus rent) +200 (Bike rent) + 300 ( lunch+dinner) +280 (boat rent)+ 200 (others)
  --------- ----------- ----------- ---------- ------------- -------
    সবচেয়ে ভালো হবে যদি ঢাকা থেকে রাত্রে রওনা  দেওয়া যায়। তাহলে খুব সকালের মধ্যেই সুনামগন্ঞ্জে পৌঁছে যেতে পারবেন। সাধারনত ৬ ঘন্টা লাগে ঢাকা থেকে সুনামগঞ্জে পৌঁছাতে। সেই হিসেব করেই রাত্রে ১২ টায় রওনা দিবেন। আগেই মামুন অথবা শ্যামলী পরিবহনে ফোনে আলাপ করে জেনে নিন ঢাকা /সুনামগঞ্জ থেকে বাস ছাড়ার সময়সূচীগুলো।  আসার পূর্বে অবশ্যই শীতের পোশাক সাথে নিয়ে নিবেন, বিশেষ করে মাফলার আর কান টুপি নিতে ভুল করবেন না।
   মনে করলাম খুব সকাল সকাল সুনামগঞ্জে পৌঁছে গেলেন। বাস থেকে নামার পরপরই নাস্তা করে ফেলেন। ধরুন, সকাল ৭ টার মধ্যে  নাস্তা করে রওনা দিবেন তাহেরপুর বাজারের উদ্দেশ্যে নতুন ব্রীজ এলাকা থেকে বাইকে করে, সেখানে বাইক না পেলে নতুন ব্রীজ পার হবেন অটোতে করে। ভাড়া পড়বে ১০-১৫ টাকা জনপ্রতি। তবে কিছুক্ষন নতুন ব্রীজ এলাকায় দাড়িয়ে থাকলেই দেখবেন বাইক নিয়ে কিছু লোক আপনার সামনে হাজির হয়ে গেছে। ভাড়া পড়বে জনপ্রতি ১০০ টাকা করে।
    সাধারনত ঘন্টা খানেক লাগবে তাহেরপুর বাজারে পৌঁছাতে। যেতে যেতেই দেখবেন মেঘালয়ের পাহাড়গুলো পুরোটা সময় জুড়েই (হাতের ডানদিকে) আপনার ভ্রমনের সংঙ্গী হয়ে থাকবে, এমন দৃশ্য দেখলেই কষ্ট করে এখানে আসাটা স্বার্থক বলে মনে হবে আপনার। যতই এগুতে থাকবেন, পাহাড়গুলো ততই স্পষ্ট হতে থাকবে। পাহাড়গুলোর হাতছানি আপনার ভ্রমনকে করে তুলবে আরো মাতোয়ারা।
     ধরে নিলাম সকাল ৮ টার মধ্যেই তাহেরপুরে পৌঁছে গেলেন।  এবার সদস্য সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে সরোজমিনে গিয়ে দেখেশুনে ভালো একটা নৌকা ভাড়া করুন। সকাল সাড়ে নয়টার মধ্যে ওয়াচ টাওয়ারে পৌঁছে কিছুক্ষন যাত্রা বিরতি দিয়ে ওইখান থেকে আরেকটা নৌকা ভাড়া করেন ৩ ঘন্টার জন্য,  মাঝ হাওড়ে যেতে ১ ঘন্টা, আসতে ১ ঘন্টা,  আর আধা ঘন্টা থেকে ১ ঘন্টা রাখবেন ঘুরে ঘুরে রঙ বেরঙের অতিথি পাখি দেখার জন্য। সাথে একটা ছাতা রাখতে পারলে ফলাফল দেখতে পাবেন সরাসরি,  বলছি এই কারনে যে আপনি যখন মাঝ হাওড়ে থাকবেন সুর্যমামা থাকবে তখন মাথার ওপরে।
   এবার মনে করলাম বেলা ১টা পর্যন্ত ঘুরাঘুরি শেষে তাহেরপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন,  আসতে আসতে  ২ টা বেজে যেতে পারে শুধু ওয়াচ টাওয়ারের এখানেই আসতে। দুপুরের খাওয়াটা এইখানেই সেরে ফেলেন হাওড় বিলাস থেকে। হাওড়ে ঘুরতে যাওয়ার আগেই অর্ডার করে যাবেন। খাওয়া দাওয়া শেষে রওনা দিয়ে তাহেরপুরে আসতে আসতে সাড়ে ৪ টা বেজে যেতে পারে। সেখান থেকে বাইকযোগে সুনামগঞ্জ পুরাতন বাস টার্মিনালে আসতে আসতে লাগবে ৫ টা বেজে যাবে। এবার বাসের টিকিট কনফার্ম করে ঘুরে আসতে পারেন হাসান রাজার বাড়ি থেকে ( যদি সম্ভব হয়)। এবার রাতের বাসে করে ফিরে চলুন নিজ গন্তব্যেরর উদ্দেশ্যে।
     এবার আসি টুর প্ল্যান বি এর ব্যাপারে আলাপ করতে। যদি ঢাকা বেক না করে একটি রাত তাহেরপুর বাজারে কাটিয়ে দিতে পারেন তাহলে আপনার জন্য থাকছে মেঘালয় পাহাড়ের ডাকে সাড়া দেওয়ার অপূর্ব সুযোগ।
  -------  -------- --------- ---------- ---------- ----------- -----
      Tour plan : B ( Tanguar Haur, Borchora, Niladri & Barika tila)
  ( 3 nights & 2 day including coming & going)
       Member : 6 persons
       Cost : 2580 taka (per person)= Tour Plan A cost 1780 taka + 200 (hotel rent per person) + 300 (bike rent) + 100 ( lunch) +200 (others)
  -------  --------  --------- --------- ---------- ---------- -------
     টুর প্ল্যান এ এর টাঙ্গুয়ার হাওড় ঘুরে ওইদিনের জন্য তাহেরপুরে থেকে যেতে পারেন, থাকতে পারেন শাহাজালাল হোটেলে। অথবা বিকেলেই আধা ঘন্টার মধ্যেই চলে যেতে পারেন বাদাঘাটে। থাকতে পারেন সেখানে অবস্হিত আল মদিনা হোটেলে ( সুন্দর পরিবেশের ২০ টা ডাবল রুমের হোটেল)। এইক্ষেত্রে একটা সুবিধা হবে পরেরদিন সময় নিয়ে ঘুরতে পারবেন। সকালের নাস্তা সেরে ৯ টার দিকে রওনা দিবেন যদি তাহেরপুর থেকে আসেন। কারন বাদাঘাট হয়ে বড়ছড়া পৌঁছাতে দেড় ঘন্টার মতো লেগে যাবে। বাইক ভাড়া ১৫০ টাকা তাহেরপুর থেকে আর ১০০ টাকা  বাদাঘাট থেকে। উল্লেক্ষ্য তাহেরপুর থেকে বাদাঘাটে আসার জন্য বাইক ছাড়া অন্য কোন বাহন পাবেন না,  পেলেও অনেক পথ ঘুরে আসতে হবে। আর বাদাঘাট থেকে সকাল ১০ টায় রওনা দিতে পারেন। ধরে নিলাম বড়ছড়া ( টেকেরঘাট) , নিলাদ্রী ঘুরাঘুরি করলেন বেলা ২ টা পর্যন্ত। টেকেরঘাটে দুপুরের খাবার শেষে বারিকাটিলার উদ্দেশ্যে রওনা দিবেন।  যেতে যেতে  সাড়ে তিনটা থেকে চারটা বেজে যেতে পারে। এখানে বাইক এমনভাবে ঠিক করবেন যেন চালক বারিকাটিলা ঘুরিয়ে সরাসরি পুরাতন বাস টার্মিনালে দিয়ে আসবে। টেকেরঘাট বাইক ভাড়া ১৫০ টাকার মতো পরতে পারে জনপ্রতি। পড়ন্ত বিকেলে বারিকটিলার ওপর থেকে মেঘালয় পাহাড় আর জাদুকাটা নদী  দেখতে যে কতো ভালো লাগে তা নিজের চোখে না দেখলে অনুধাবন করতে পারবেন না।
    এই হলো টোটাল টুরের আদ্যপ্রান্ত। বিস্তারিত আরও লিখতে চাইলেও লিখতে পারলাম না বলে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও লজ্জিত। তবে কারো কোন জিঞ্জাসা থাকলে আমাকে ইনবক্ম করতে পারেন।
 
বি.দ্র.  ঘুরাঘুরির সময় খাবারের উষিষ্ট যেখানে সেখানে ফেলে পরিবেশ নষ্ট করবেন না দয়া করে।
Lecturer,
Department of CSE
azizul.cse@diu.edu.bd

Offline afrin.ns

  • Sr. Member
  • ****
  • Posts: 423
  • Test
    • View Profile

Offline safayet

  • Full Member
  • ***
  • Posts: 168
  • Test
    • View Profile

Offline Mousumi Rahaman

  • Hero Member
  • *****
  • Posts: 827
  • Only u can change ur life,No one can do it for u..
    • View Profile
Mousumi Rahaman
Senior Lecturer
Dept. Textile Engineering
Faculty of Engineering
Daffodil International University