‘ডিজিটাল আসক্তি’ কেড়ে নিচ্ছে স্বাভাবিক জীবন

Author Topic: ‘ডিজিটাল আসক্তি’ কেড়ে নিচ্ছে স্বাভাবিক জীবন  (Read 433 times)

Offline Abdul Awal

  • Newbie
  • *
  • Posts: 18
  • Test
    • View Profile
‘ডিজিটাল আসক্তি’ কেড়ে নিচ্ছে স্বাভাবিক জীবন
প্রকাশের সময় : জুন ৩, ২০১৮, ৮:৫৯ অপরাহ্ণ

আপডেট সময় : জুন ৩, ২০১৮ at ৮:৫৯ অপরাহ্ণ

 
 

প্রমা সঞ্চিতা:বর্তমান সময়ের একটি অন্যতম সমস্যা হলো ডিজিটাল আসক্তি বা যন্ত্রের প্রতি অতি-নির্ভরতা। আধুনিক জীবনে যন্ত্র ছাড়া চলার উপায় নেই এটা যেমন সত্যি তেমনি আবার যন্ত্রের প্রতি মাত্রাতিরিক্ত নির্ভরতা অনেক সময় বিষিয়ে তুলছে আমাদের সামাজিক জীবন। কিছু নিয়ম মেনে চললে আমরা বেরিয়ে আসতে পারি এ আসক্তি থেকে। চলুন জেনে নেই কি করে মুক্তি পাওয়া যাবে ‘ডিজিটাল আসক্তি’ থেকে।


 
ডিজিটাল আসক্তি কী?

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং ইলেকট্রনিক যন্ত্র যেমন- ল্যাপটপ, মোবাইলফোন, আইপড ইত্যাদি নানারকম গ্যাজেট আমরা ব্যবহার করে থাকি প্রতিনিয়ত। কাজের প্রয়োজনে, কখনো বা ¯্রফে সময় কাটাতেই আমরা অভ্যস্ত হয়ে পরছি এ যন্ত্রগুলোতে। পরবর্তীতে এই অভ্যস্ততাই পরণিত হয় আসক্তিতে। যন্ত্র বা সামাজিক যোগাযাগ মাধ্যমের প্রতি এই আসক্তিকেই বিশেষজ্ঞরা বলছেন ‘ডিজিটাল আসক্তি’। আর দশটা আসক্তির মতোই ‘ডিজিটাল আসক্তি’র রয়েছে বেশ ভয়াবহ কিছু দিক।

ডিজিটাল আসক্তি ও আমাদের জীবনে এর প্রভাব ফেলছে

এ কথা কারও অজানা নেই যে যন্ত্র-নির্ভরতা কেড়ে নিচ্ছে আমাদের জীবনের স্বাভাবিকতা। যন্ত্রের মাধ্যমে বিনোদন পেতে অভ্যস্ত হওয়ায় আমরা হারিয়ে ফেলছি আমাদের সামাজিক দক্ষতা যেমন- বন্ধু তৈরির ক্ষমতা, মানুষের সঙ্গে মেলামেশার দক্ষতা, সৃজণশীলতা। ডিজিটাল আসক্তি মানুষকে একা করে দিচ্ছে, ঠেলে দিচ্ছে বিছিন্নবাদিতার দিকে।

যন্ত্র থেকে দূরে থাকার কিছু উপায়:

যন্ত্র ছাড়া আধুনিক জীবন- শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটা সম্ভব! স¤প্রতি এক গবেষণায় পাওয়া তথ্য বলছে বছরে অন্তত ১৫ দিনের জন্য যন্ত্র থেকে দূরে থাকার অভ্যস করা উচিত আমাদের। মানসিক প্রশান্তির জন্য যান্ত্রিক জীবন থেকে বেড়িয়ে প্রকৃতি ও প্রিয় মানুষের সান্নিধ্যে সময় কাটানোর পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। বিশেষজ্ঞদের চোখে যন্ত্র-নির্ভরতা কমিয়ে আনার কিছু উপায়:

. নিয়মিত মেডিটেশন করা:
নিয়মিত মেডিটেশন এবং নিজ নিজ ধর্মানুসারে প্রার্থনায় বসা মানসিক প্রশান্তি ফিরিয়ে আনে। দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় মেডিটেশন করার জন্য রাখতে বলা হয়েছে। ভোরে ঘুম থেকে উঠে কিংবা রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ১৫ মিনিট সময় নিজের সঙ্গে কাটানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

. সময় পেলেই ঘুরতে যাওয়া:
সময় পেলেই ঘুরতে যাওয়া আর ঘুরতে যাওয়ার সময় অবশ্যই মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ইত্যাদি যন্ত্র বাসায় রেখে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বছরে ১৫ দিন বা দুই- তিন মাস পরপর সপ্তাহখানেকের জন্য কোথাও ঘুরতে বেড়িয়ে পরা যেমন মানসিক প্রশান্তির জন্য জুরুরি, তেমনি এ অভ্যাস ডিজিটাল আসক্তি থেকে দূরে রাখবে আমাদের।

. প্রকৃতি ও প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটানো:
ডিজিটাল পণ্যের সঙ্গে সময় কাটানো পরিবর্তে প্রিয় মানুষ বা প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

. অ্যালার্ম ঘড়ির ব্যবহারের অভ্যস:
মোবাইল ফোনের পরিবর্তে ঘড়িতে অ্যলার্ম দিয়ে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ সকালে মোবাইল ফোনের অ্যালার্ম শুনে ফোন হাতে নিয়েই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঢুঁ মারা অভ্যাস রয়েছে অনেকেরই! এমনকি সময় দেখতে হাত-ঘড়ি বা দেয়াল ঘড়ি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

রাত ৯ থেকে সকাল ৯টা পযন্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে দূরে থাকা:

প্রতিদিন রাত ৯টা থেকে সকাল ৯টা পযন্ত ইন্টারনেট বন্ধ করে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রথম দিকে এই অভ্যাসটা আয়ত্তে আনতে একটু কষ্ট হবে। প্রথমে অল্প সময়ের জন্য এ অভ্যাসটা করে ধীরে ধীরে সময় বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে যোগোযোগের জন্য অন্য কোনো উপায় যেমন- মেইল করা, ফোনে মেসেজ পাঠিয়ে রাখা কিংবা চিরক‚ট লেখার অ্যভাস করতে বলা হয়েছে! টাইমস অফ ইন্ডিয়া