আমি যেন ক্ষমার যোগ্য হই

Author Topic: আমি যেন ক্ষমার যোগ্য হই  (Read 347 times)

Offline Mrs.Anjuara Khanom

  • Sr. Member
  • ****
  • Posts: 266
  • Test
    • View Profile
দ্বিতীয় দশক শেষ হতে আর একদিন বাকি। রমজান রাব্বুল আলামিনের ক্ষমা লাভের সর্বোত্তম সময়। দয়াময় আল্লাহকে ডাকলে তিনি সাড়া দেন। ক্ষমা চাইলে ক্ষমা করে দেন। ক্ষমার দুয়ার সব সময় খোলা থাকে। তা সত্ত্বেও রমজানের মধ্যম দশক বিশেষ ক্ষমার সুযোগ এনে দেয়। এ সময়ে প্রতিটি মুমিন যারা সামান্যতম ইমান রাখেন আল্লাহ তাদের নিজের দয়া ও করুণা গুণে ক্ষমা করে দেবেন।

ক্ষমা একটি মহৎ গুণ। আল্লাহ যেমন ক্ষমাশীল, মানুষকেও ক্ষমাগুণে গুণান্বিত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি ক্ষমাশীল ব্যক্তিকে ভালোবাসেন। তাই মাহে রমজানে আল্লাহ পাকের ক্ষমা লাভ করতে হলে বান্দাকে ক্ষমা গুণেরও অধিকারী হতে হবে। কেননা ক্ষমার মাধ্যমে জান্নাত নিকটবর্তী হয়।

পবিত্র কুরআনে এরশাদ হয়েছে- তোমরা তোমাদের রবের ক্ষমা লাভের জন্য প্রতিযোগিতা কর, আর প্রতিযোগিতা কর সেই জান্নাতের জন্য যার বিশালতা আসমান-জমিনের বিশালতার সমান, যা প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে মুত্তাকিদের জন্য। যারা সচ্ছল কি অসচ্ছল সর্বাবস্থায় নিজেদের সম্পদ আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করেন আর যারা নিজেদের ক্রোধ সংবরণ করেন এবং মানুষের অপরাধগুলো ক্ষমা করে দেন। আর সৎ মানুষকে সবসময় আল্লাহ ভালোবাসেন। (সূরা-আল-ইমরান, আয়াত-১৩৩-১৩৪)।

রাসুল (সা.) বলেছেন, আল্লাহর রাস্তায় দান করলে সম্পদ বাড়ে আর ক্ষমার মাধ্যমে আল্লাহ বান্দার মর্যাদা বৃদ্ধি করেন। যে আল্লাহর উদ্দেশে বিনয় অবলম্বন করে আল্লাহ তাকে সম্মানিত করেন। (মুসলিম শরিফ)।

হজরত আলী (রা.) এর জীবনে ক্ষমার উৎকৃষ্ট নিদর্শন দেখতে পাই। ইসলামের চরম শত্রুর বুকে চেপে ছুরিকাঘাত করার সময় শত্রু তার মুখে থুথু দেয়ায় তিনি প্রচণ্ডভাবে ক্ষুব্ধ হন, কিন্তু শত্রুকে ছেড়ে দেন। তিনি বললেন, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যুদ্ধ করি, ব্যক্তিগত প্রতিহিংসায় শত্রুকে আঘাত করার বিধান নেই। রমজানের ১৯ তারিখে হজরত আলী (রা.) কুফার মসজিদে নামাজ পড়া অবস্থায় ইবনে মুলজামের তরবারির আঘাতে মারাত্মকভাবে আহত হন এবং ২১ রমজান ইন্তেকাল করেন।

তিনি যখন মৃত্যুশয্যায় তখন বন্দি আততায়ীকে তার সামনে হাজির করা হয়। বন্দিকে শক্ত করে রশি দিয়ে বাঁধা হয়েছিল। তিনি নির্দেশ দেন, বন্ধন যেন হালকা করে দেয়া হয়। যাতে বন্দি কষ্ট না পায়। এটিই হল নবীর শিক্ষা, সাহাবাগণের শিক্ষা, ইসলামের শিক্ষা, রমজানের শিক্ষা।

এসব গুণাবলি প্রশিক্ষণের নিয়মতান্ত্রিক সুযোগ হচ্ছে রমজান, যা থেকে পরিপূর্ণ ফায়দা হাসিল করার দায়িত্ব আমাদের। এ মাসে আমরা যতটুকু অর্জন করতে সমর্থ হব, তা নিজ গুণে আল্লাহপাক বাড়িয়ে দেবেন।

তাকওয়া বা আত্মশুদ্ধি অর্জনই রমজানের মূল লক্ষ্য। এক মাসের যতটুকু অর্জন, তা জীবনভর রক্ষা করতে হবে। জীবন ধারণে তাকওয়ার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। ভোগবিলাস ত্যাগ করা, সৎ পথে চলা, হালাল খাওয়া, পরোপকার করা, দান করা ও আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে জীবন কাটাতে ১ মাসের সেহরি খাওয়া, ইফতার করা, তারাবি পড়া সবই তখন কবুল হবে। হজরত আলী (রা.) বলেছেন, তাকওয়া থাকলে কোনো আমলই কম হয় না।

লেখক : ইসলামী চিন্তাবিদ
Mrs, Anjuara Khanom
Assistant Officer, Information Desk
Daffodil International University
Main Campus
9138234-5