বছরে ৯ ডলার খরচ করেই উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব

Author Topic: বছরে ৯ ডলার খরচ করেই উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব  (Read 52 times)

Offline Shahana Parvin

  • Newbie
  • *
  • Posts: 26
  • Test
    • View Profile
হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকির প্রধান কারণ উচ্চ রক্তচাপ, যা প্রতিরোধযোগ্য। রোগীপ্রতি বছরে মাত্র ৯ ডলার (৮৫৫ টাকা) খরচ করেই দেশব্যাপী উচ্চ রক্তচাপের মানসম্মত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব। ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত নতুন এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।

বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশ হাইপারটেনশন কন্ট্রোল ইনিশিয়েটিভস’ শীর্ষক মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগনিয়ন্ত্রণ (এনসিডিসি) প্রোগ্রাম, প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান), ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ (এনএইচএফবি), গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই) এবং রিজলভ টু সেভ লাইভস।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়েছে, বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যবিষয়ক অলাভজনক সংস্থা রিজলভ টু সেভ লাইভসের সহযোগিতায় ২০১৮ সাল থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে এনসিডিসি ও এনএইচএফবি যৌথভাবে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এ প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রে উচ্চ রক্তচাপ শনাক্ত করা, চিকিৎসা প্রদান ও ফলোআপ কার্যক্রম শক্তিশালী করা হচ্ছে।

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির বার্ষিক বাস্তবায়ন খরচ নির্ণয়ে ব্যবহৃত হার্টস কস্টিং টুল নামের একটি অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে এই গবেষণা করা হয়। চিকিৎসক ও এই সেবার সঙ্গে জড়িত অন্যদের মধ্যে দায়িত্ব ভাগাভাগি (টাস্ক-শেয়ারিং) নিশ্চিত করা, টাস্ক-শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়ায় স্থানীয় কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করা এবং গুণগত মান ঠিক রেখে প্রতি ইউনিট ওষুধের দাম আরও কমিয়ে আনা গেলে হার্টস প্যাকেজ বাস্তবায়ন বেশি সাশ্রয়ী হবে বলে এতে সুপারিশ করা হয়েছে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনায় নার্স ও অন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের ভূমিকা বাড়ানো হলে বিপুল অর্থ সাশ্রয় হবে। এই গবেষণা ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিসের অর্থায়নে পরিচালিত হয়েছে।

রিজলভ টু সেভ লাইভসের প্রেসিডেন্ট ও সিইও এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) সাবেক পরিচালক টম ফ্রিইডেন বলেন, বাংলাদেশে প্রতি পাঁচজন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে একজনের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে। বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্কদের উচ্চ রক্তচাপজনিত চিকিৎসা দেওয়ার জন্য সরকারের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে অসংখ্য জীবন বাঁচানোসহ হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। এ সময় আলোচকেরা জানান, সাধারণ ওষুধের মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। কিন্তু বাংলাদেশে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ মানুষের মধ্যে মাত্র ৪৯ শতাংশের উচ্চ রক্তচাপ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। মাত্র ৩৫ শতাংশ চিকিত্সাসেবা গ্রহণ করছেন এবং ১৪ শতাংশ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছেন।

মিট দ্য প্রেসে বলা হয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এনসিডিসি এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের যৌথ পরিচালনায় উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি দেশের ৫১টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হার্টস টেকনিক্যাল প্যাকেজের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রোগীদের উচ্চ রক্তচাপ সেবা প্রদান করা হচ্ছে। কর্মসূচির আওতায় চিকিৎসার জন্য এ পর্যন্ত নিবন্ধিত ১ লাখ রোগীর মধ্যে ৫৮ শতাংশই উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব.) আব্দুল মালিক বলেন, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর ৩০ শতাংশই ঘটে হৃদ্‌রোগের কারণে। অথচ স্বাস্থ্য খাতের বাজেটের ৫ শতাংশের কম বরাদ্দ রাখা হয় অসংক্রামক রোগের চিকিৎসার জন্য।

রিজলভ টু সেভ লাইভসের সহযোগিতায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এনসিডিসি এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন পরিচালিত উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিটি টাস্ক-শেয়ারিং এবং টিমভিত্তিক সেবা প্রদানের নীতিমালা অন্তর্ভুক্ত করে সফলতার মুখ দেখছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগনিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক মোহাম্মদ রোবেদ আমিন। তিনি জানান, দুই বছরের ব্যবধানে এক লাখের বেশি রোগী নিবন্ধন করেছেন। অর্থাৎ মাসে গড়ে চার হাজারের বেশি নতুন রোগী নিবন্ধিত হয়েছে। সেবা গ্রহণকারীদের ৫৮ শতাংশই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সফল হয়েছেন। সাফল্যের এই হার জাতীয় গড়ের প্রায় চার গুণ।

অনুষ্ঠানে আলোচকেরা বলেন, প্রবীণের সংখ্যা বৃদ্ধি, দ্রুত নগরায়ণ, শারীরিক পরিশ্রম অত্যন্ত কম এমন জীবনাচরণ, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য গ্রহণ এবং অন্যান্য আর্থসামাজিক ও জীবনযাত্রা সম্পর্কিত বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশে উচ্চ রক্তচাপের বোঝা আগামী বছরগুলোতে বাড়বে। বাংলাদেশে এই উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পটি সম্প্রসারণ করা হলে অল্প ব্যয়ে অনেক জীবন বাঁচানো সম্ভব হবে।