তিন পরিবারের হাতে ১২ ব্যাংক-বিমা

Author Topic: তিন পরিবারের হাতে ১২ ব্যাংক-বিমা  (Read 240 times)

Offline Md. Alamgir Hossan

  • Hero Member
  • *****
  • Posts: 935
  • Test
    • View Profile
চট্টগ্রামভিত্তিক শিল্প গ্রুপ এস আলম। দেশের অন্যতম আলোচিত এই ব্যবসায়িক গ্রুপটির চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদ। একই সঙ্গে তিনি ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকেরও চেয়ারম্যান। তার স্ত্রী ফারজানা পারভীন রয়েছেন ব্যাংকটির পরিচালক পদে।

শুধু এই ব্যাংকটিই নয়, আরও অন্তত ছয়টি ব্যাংকে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, পরিচালকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন সাইফুল আলম মাসুদের পরিবারের সদস্যরা। এই ব্যাংকগুলোর মধ্য থেকে এস আলম গ্রুপের নামে বড় আকারের আর্থিক সুবিধা দেওয়াও হচ্ছে।

এস আলম পরিবার ছাড়াও অনেক পরিবারের হাতেই ব্যাংক-বিমা আছে। তবে হাতে একাধিক ব্যাংক-বিমা রয়েছে, এমন অন্তত তিনটি পরিবার রয়েছে। বাকি দুই পরিবার হলো-সিকদার পরিবার ও হাসেম পরিবার।

 

 কোন পরিবারের হাতে কতগুলো ব্যাংক-বিমা রয়েছে, তার চিত্র

সিকদার পরিবার

বেসরকারি ন্যাশনাল ব্যাংক সাফল্যের সাথে কাজ শুরু করলেও সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিষ্ঠানটির নানা অনিয়মের চিত্র সামনে এসেছে। এই ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে রয়েছে জয়নুল হক সিকদার পরিবারের একচ্ছত্র আধিপত্য। ব্যাংকটির চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন জয়নুল হক সিকদার নিজেই।

দেশের আইন অনুযায়ী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে একই পরিবারের দুজন সদস্য থাকতে পারেন। কিন্তু ন্যাশনাল ব্যাংকে জয়নুল ছাড়াও রয়েছেন সিদকার পরিবারের আরও পাঁচ সদস্য। তারা হলেন-জয়নুল হক সিকদারের স্ত্রী মনোয়ারা সিকদার, মেয়ে পারভীন হক সিকদার, দুই ছেলে রিক হক সিকদার ও রণ হক সিকদার, জয়নুল হক সিকদারের নাতি জোনাস সিকদার খান।


মূলত ন্যাশনাল ব্যাংকের সবকিছুই নির্ধারণ করে দেয় সিকদার পরিবার। সিকদার পরিবারের আরেকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান সিকদার ইন্সুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। এই বিমা প্রতিষ্ঠানটিরও পরিচালক পদে রয়েছেন সিকদার পরিবারের একঝাঁক সদস্য। চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন সিকদার পরিবারের নাসিম হক সিকদার, পরিচালক পদে রয়েছেন শহীদুল হক সিকদার। এ ছাড়া স্বতন্ত্র পরিচালক পদে রয়েছেন মনিকা সিকদার, মান্ডি খান সিকদার, জেফেরি খান সিকদার, জোনাস খান সিকদার, জন হক সিকদার ও সিয়ান হক সিকদার।

এস আলম পরিবার

দেশের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী গ্রুপ হিসেবে এস আলম গ্রুপের অবস্থান ওপরের সারিতে। ২০১৭ সালে ইসলামী বাংকের ১২ ভাগেরও বেশি শেয়ার বিভিন্ন কোম্পানির মাধ্যমে কিনে নেয় এস আলম গ্রুপ। এ নিয়ে গণমাধ্যমে বিভিন্ন খবর প্রকাশ পায়। কিন্তু ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কেনার সময় এস আলম গ্রুপ তাদের প্রতিষ্ঠিত কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করেনি। বিভিন্ন সূত্রের খবর অনুযায়ী, নতুন কোম্পানি সৃষ্টি করে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কেনে এস আলম গ্রুপ। এসব কোম্পানির মধ্যে প্যারাডাইস ইন্টারন্যাশনাল ২.০০৯, প্লাটিনাম এনডোর্স ২.০০৫, ব্লু ইন্টারন্যাশনাল ২.০০৯, এবিসি ভেঞ্চার ২.০০৬, গ্রান্ড বিজনেস ২.০২ এবং এক্সেল ডায়িং কেনে ৩.৪০ শতাংশ শেয়ার। এরপর এর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান আরাস্তু খান। এর আগে তিনি এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন।


ইউনিয়ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শহিদুল আলম। তিনি সাইফুল আলম মাসুদের ভাই। এই ব্যাংকের পরিচালক পদে আছেন সাইফুল আলমের ছেলে আহসানুল আলম। এ ছাড়া ব্যাংকের শেয়ার হোল্ডার হিসেবে রয়েছেন সাইফুল আলমের ছেলে আহসানুল আলম ও স্ত্রী ফারজানা পারভীন।

বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকেরও মালিকানা এস আলম গ্রুপের হাতে। ব্যাংকটির ৪০ শতাংশ শেয়ারের মালিক চট্টগ্রামের এই ব্যবসায়ী গ্রুপ। ব্যাংকটির পরিচালক পদে আছেন এ এ এম জাকারিয়া। এর আগে তিনি এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে ৮ বছরের বেশি দায়িত্ব পালন করেন।   

এ ছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের অনেক শেয়ার কিনেছে এস আলম গ্রুপ। সম্প্রতি ব্যাংকটির  ১৪ ভাগের বেশি শেয়ার চলে গেছে এই গ্রুপটির হাতে। এই ব্যাংকে ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সাইফুল আলমের জামাতা বেলাল আহমেদ। ২.০৬ শতাংশ করে এ ব্যাংকে রয়েছে প্যারাডাইস ইন্টারন্যাশনাল এবং প্লাটিনাম এনডোর্সের শেয়ার। ইসলামী ব্যাংকেও রয়েছে এই প্রতিষ্ঠান দুটির শেয়ার। এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন পোর্টম্যান সিমেন্টের শেয়ার ২.৬ শতাংশ, প্রসাদ প্যারাডাইস রিসোর্টের শেয়ার ২.০৬, শাহ আমানত প্রাকৃতিক গ্যাসের ২.০৩, গ্লোবাল ট্রেডিংয়ের ২.৫ এবং লায়ন সিকিউরিটিজের ২.০৬ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

এগুলো ছাড়াও আল আরাফা ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদের ভাই আবদুস সামাদ। সেই সঙ্গে এই ব্যাংকের স্পন্সর শেয়ার হোল্ডার হিসেবে রয়েছেন এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদ।

এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকও রয়েছে এস আলম পরিবারের হাতে। সাইফুল আলমের বড় ভাই মোরশেদুল আলম এই ব্যাংকের পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন।

এম এ হাসেম পরিবার

ব্যাংক খাতে প্রভাব রয়েছে পারটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান শিল্পপতি এম এ হাসেম পরিবারের। তার দুই ছেলে রুবেল আজিজ ও আজিজ আল কায়সার এবং ছেলেদের স্ত্রীরা সিটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য। এম এ হাসেমের আরেক ছেলে আজিজ আল মাহমুদের স্ত্রীও আছেন সিটি ব্যাংকের পরিচালক হিসেবে। আজিজ আল কায়সারের স্ত্রী তাবাসসুম কায়সার এখন সিটি ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান।

রুবেল আজিজের স্ত্রী সৈয়দা শাইরিন আজিজ ব্যাংকটির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আজিজ আল মাহমুদের স্ত্রী সাভেরা এইচ মাহমুদও ব্যাংকটির পরিচালক।