ফাইনাল ইয়ার ডিফেন্সঃ থিসিস করবো নাকি প্রোজেক্ট?

Author Topic: ফাইনাল ইয়ার ডিফেন্সঃ থিসিস করবো নাকি প্রোজেক্ট?  (Read 49 times)

Offline sanzid.swe

  • Jr. Member
  • **
  • Posts: 53
  • Hi, this is Sanzid, learning to learn!
    • View Profile
    • Sanzid's Cloud
ভার্সিটির থার্ড ইয়ার শেষ হতে না হতেই স্টুডেন্টদের আরেক দফা হতাশাগ্রস্থ করে দেয় ফাইনাল ইয়ার প্রজেক্ট, থিসিস না ইনটার্ন… এই নিয়ে নিজের মধ্যেই টানপারাপারি এবং এই সিদ্ধান্তহীনতা!

অনেকে জানেনই না, “কেন সে সিএসই পড়ছে?” আর ভবিষ্যতে কী করবে, কিভাবে করবে সেটা জানা তো তার কাছে দুষ্কর ব্যাপারস্যাপার। এরই মধ্যে আবার সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে সে ফাইনাল ইয়ারে থিসিস করবে নাকি প্রজেক্ট! এ যেন একপ্রকার পরিবারের বড় ছেলে হওয়ার পরিস্থিতি…



আমাদের মধ্যে অনেকেই তাদের নিজেদের প্যাশান, ভাল লাগা এবং স্কিল সম্পর্কে জানা থাকলেও ফাইনাল ইয়ারের ডিফেন্স নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগে থাকেন। এর কারন, নিজের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ডিফেন্স হিসেবে কোন প্রোগ্রামটা তার জন্য সুফল বয়ে আনবে- থিসিস, প্রজেক্ট নাকি ইনটার্ন? এটি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারনা না থাকা।

এটি নির্ধারন করার ক্ষেত্রে আমি প্রথমেই বলবো, আন্ডার গ্রাজুয়েশন শেষে আপনি কি করতে চান? এটি সম্পর্কে স্পষ্ট উত্তর জানা থাকতে হবে-

মাস্টার্সে ভর্তি হবেন?
জব করবেন?
নাকি বিয়ে?
খুব সহজে বলতে গেলে-

যদি মাস্টার্সে ভর্তি হতে চান, কিংবা আপনার ইচ্ছে শিক্ষকতা লাইনে ক্যারিয়ার গড়ার, কিংবা মাস্টার্স-পিএইচডি করতে দেশের বাইরে ভালো কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যাবেন, তাহলে নিঃসন্দেহে একটি থিসিস করে ফেলাটা ভাল কাজ হবে।

যদি উত্তর হয় জব করবেন, তাহলে একটা সুন্দর দেখে প্রোজেক্ট করার প্লান করে ফেলুন। জব করতে চাইলে যে থিসিস করা যাবেনা তা না। তবে আইটি সেক্টরগুলোতে সাধারনত একাডেমিক লাইফে রিয়েল লাইফ কিছু প্রজেক্ট করা থাকলে তাদেরকে প্রায়োরিটি বেশি দেয়।

আর যদি বিয়ে করতে চান তাহলে সেটা আপনিই ভাল জানেন, আপনাকে কিভাবে একটা ছেলে/ মেয়ের সামনে রিপ্রেজেন্ট করলে তাকে পটাতে পারবেন। তবে ইনটার্ন করলে সেখানে এই সুযোগটা একটু বেশি পাবেন আমি মনে করি। কিউটের ড্রাম দেখে একজন কলিগকে বাছাই করে নিতে পারবেন আপনার বউ হিসেবে। (তবে আমি শুধু বিয়ে করার জন্য রিকমেন্ড করছি না ইনটার্ন করতে, কারন এজন্য আরও অনেক ধরনের স্কিলের প্রয়োজন হয়)।

এই বিষয়ে সিনিয়র-জুনিয়রদের স্পষ্ট ধারনা দিতে আমি অনেক দিন ধরেই লিখবো ভাবছি। কিন্তু আমারও এই বিষয়ে জ্ঞান খুবই সীমিত থাকার কারনে শ্রদ্ধেয় জাবেদ মোরশেদ স্যারের একটা লেখাকে আমি একটু গুছিয়ে লেখার ট্রাই করছি-

প্রজেক্ট
প্রজেক্ট মূলত কোন একটা সফটওয়্যার সলুশন । সাধারণত প্রজেক্টে কোন একটি গ্রুপের কাছ থেকে মোটামোটি কমপ্লিট একটা সফ্টওয়ার প্রজেক্ট আশা করা হয়, যেখানে তারা তাদের কোন একটা প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজের দক্ষতা দেখাতে পারে। তবে তার চেয়েও বড় কথা, এখানে তাদের কাছ থেকে কোন একটা রিয়াল ওয়ার্ল্ড প্রবলেমের আইটি বেইজ সল্যুশন আশা করা হয়। অর্থাৎ প্রোগ্রামিংয়ের সাথে সাথে তাদের সফটয়্যার ইন্জিনিয়ারিং কনসেপ্ট ব্যবহারের সক্ষমতার দিকগুলোও দেখা হয়। সঠিক প্রবলেম আইডেনটিফিকেশন, সলুশন প্লান, ভায়াবিলিটি, কস্ট প্লান, রিকোয়ারমেন্ট অ্যানালাইসিস, ডিজাইন, টেস্টিং… ইত্যাদির ব্যবহার একটা প্রজেক্টে থাকতে হয়।



যেমন একটা উদাহরণ দেই- আমরা যদি বাংলাদেশের ম্যারিজ সার্টিফিকেশন প্রসেসকে ডিজিটালাইজ করতে চাই তাহলে আমাদের কি কি করতে হবে? কেমন হবে এর সিস্টেম আর্কিটেকচার, ডিজাইন ও ইম্পিমেনটেশন?

তবে বলে রাখি- প্রজেক্ট থেকে আশা করা হয়না যে, এটা পুরোপুরি রিয়াল ওয়ার্ল্ড ডিপ্লয়েবল সল্যুশন হবে। তবে তারা সফটওয়্যার ইন্জিনিয়ারিং প্রসেস ফলো করেছে কিনা সেটাই মূলত দেখা হয়। প্রজেক্ট বিভিন্ন ধরনের হতে পারে- ওয়েব বেইজড, মোবাইল অ্যাপ, নেটওয়ার্কিং, সিস্টেম সল্যুশন ইত্যাদি ইত্যাদি..

যেমন আরেকটি উদাহরন দেই- যদি আমারা চাই আমরা একটা মোবাইল পুশ-পুল বেইজড প্রজেক্ট করতে, যেখানে স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা স্বাসক্রাইব করবে। এতে তারা প্রতিদিন সকালে একটা গণিতের বা বিজ্ঞানের প্রশ্ন পাবে। তারা ফিরতি এসএমএস-এ তার উত্তর পাঠাতে পাড়বে। উত্তর ভুল বা সঠিক যাই হোক, পরের মেসেজে তাকে তা জানিয়ে দেয়া হবে।

মূল কথা এখানে সবসময় বাস্তব সম্মত সমস্যার স্মার্ট সমাধান আশা করা হয়…

ভালো দিক
প্রজেক্টে মূলত কোন ছাত্র/ছাত্রীর সফটওয়্যার ইন্জিনিয়ারিং সক্ষমতা যাচাই করা হয়। এখানে ক্রিটিকাল থিংকিংয়ের তেমন সুযোগ নাই বা থাকলেও এটাই এখানে মূল বিবেচ্য বিষয় নয় বরং ইম্পিমেনটেশন দক্ষতাই প্রধান বিবেচ্য। এই ধরনের প্রজেক্ট ছাত্র/ছাত্রীদের সফটওয়্যার ফার্মে কাজ করার প্রাথমিক জ্ঞানটুকু দিয়ে থাকে। তাই ভালো প্রজেক্ট করতে পারলে পরবর্তিতে তা সফটওয়্যার ফার্মে ইন্টারভিউয়ের সময় পজিটিভ অ্যাট্রিবিউট হিসেবে বিবেচিত হয়।

দুর্বলতা
একটা প্রজক্ট থেকে সাধারণত কোন পাবলিকেশন হয় না। তাই অ্যাকাডেমিক ওয়ার্ল্ডে প্রজেক্টের ভ্যালু কম। যারা উচ্চশিক্ষায় যেতে চায় তাদের জন্য এটা কোন বাড়তি ক্রেডিট যোগ করে না।

থিসিস
থিসিসে সাধারনত ছাত্র/ছাত্রীরা যেকোন একটা একাডেমিক প্রবলেমের প্রথমে থিওরিটিক্যাল সল্যুশন দেয় ও পরে ছোট একটা ইমপ্লিমেনটেশন বা সিমুলেশনের মাধ্যমে ভেলিডেশন করে দেখায়। তবে আন্ডারগ্রাজুয়েট ছাত্র/ছাত্রীদের কাছ থেকে সাধারনত কোন যুগান্তকারি সল্যুশন আশা করা হয় না, বরং দেখা হয় তার মধ্যে ক্রিটিক্যাল থিংকিং করার ক্ষমতা আছে কিনা এবং গবেষণা করার যে বিভিন্ন ধাপ বা প্রক্রিয়া আছে তা শিখতে পেরেছে কিনা। যেকোন গবেষণায় প্রথমেই কোন একটি নির্দিষ্ট ফিল্ডে প্রবলেম আইডেন্টিফিকেশন করতে হয়। তারপর এই রিলেডেড অনান্যদের কাজ দেখতে হয়, যদিও প্রবলেম আইডেন্টিফিকেশনের সময়ই অনেকের কাজ সম্পর্কেই ধারনা হয়ে যায়।

তারপর সেই প্রবলেমের অন্য কোন থিউরির মাধ্যমে সল্যুশন আশা করা হয়। তারপর সেই সল্যুশনের একটা ভ্যালিডেশন তাকে করে দেখাতে হয়। ভ্যালিডেশন থিউরি বেইড (যেমন: ম্যাথমেটিক্যাল মডেল) বা সিমুলেশন বেইজড বা ছোটখাটো ইমপ্লিমেন্টেশন বেইজড হতে পারে।



যেমন একটা উদাহরণ দেই- ধরলাম আমরা ক্লাউড কম্পিউটিং নিয়ে কাজ করতে চাই। ক্লাউড কম্পিউটিংয়ে মূলত স্কেলিং, অনডিমান্ড রিকোয়ারমেন্ট, স্টোরেজ, সিকিউরিটিসহ বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। প্রথমেই আমাদের কোন ধরনের সমস্যা সমাধান করতে চাই তা ঠিক করতে হবে। তারপর একটা রিয়াল ওয়ার্ল্ড সিনারিও দাড় কারাতে হবে এবং এই গবেষনার ফলে কি কি উন্নতি আমি আশা করছি তা বলতে হবে (এটাকে মূলত রিসার্চের ভাষায় মটিভেশন বলা হয়ে থাকে)।

তারপর রিলেটেড কাজ ও বিভিন্ন কম্পিউটার সাইন্সের থিউরি ও ধারনার মাধ্যমে সেই সমস্যার সমাধান করতে হবে। থিসিসে যেহেতু কোন একটা নতুন প্রবলেম নিয়ে কাজ করা হয় তাই জানার চেষ্টা করা হয় আমার সলুশ্যন নিয়ে এই ফিল্ডে যারা গন্যমান্য এক্সপার্ট আছেন তাদের মতামত কি। এটি জানার সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো কনফারেন্স। তাই আশা করা হয় ছাত্র/ছাত্রীদের থিসিস কোন কনফারেন্সে যাতে পাবলিশ হয়। গবেষণা পাবলিশ হলে তা তার উচ্চশিক্ষাও কাজে লাগে।

ভালো দিক
থিসিসের সবচেয়ে ভালো দিক হল- এটা ছাত্র/ছাত্রীদের ক্রিটিক্যাল থিংকিং করতে শেখায় যা কিনা একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রের থেকে সবচেয়ে বেশি কাম্য। কারণ তাকে সামনের জীবনে সমাজের, দেশের অনেক আনসিন সমস্যার সমাধানের জন্য তৈরি করা হয়। এটাই মূলত একজন বিশ্ববিদ্যালয় গ্রাজুয়েট ও একজন কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত ছাত্রের মধ্যে পার্থক্য তৈরি করে।

যাই হোক- থিসিসের আরো একটি ভালো দিক হলো, যদি গবেষণাটি ভালো কোন কনফারেন্সে পাবলিশ করে তবে তা তাকে ভালো স্কলারশিপের ক্ষেত্রে সাহায্য করবে।

দুর্বলতা
যেহেতু থিসিসের সময় কোন ছাত্র/ছাত্রী তার বেশিরভাগ সময় কোন একটি নতুন সমস্যা খোজা ও তার সমাধান খুজতে ব্যয় করে তাই তাদের কাছ থেকে প্রজেক্টের মতো কোন রানিং সলুশ্যন পাওয়া যায় না। ইনফ্যাক্ট আশাও করা হয় না বা এটা এর রিকোয়ারমেন্টও নয়।

তাই থিসিস করা ছাত্র/ছাত্রীদের কোন একটি প্রোগ্রামিং ল্যাংগুযের খুটিনাটি সম্পর্কে ধারনা কম থাকে। যেহেতু সে নিজে কোন পুর্ণাঙ্গ সফ্টওয়ার প্রজেক্ট করে নাই, তাই অনেক সময় তাকে নিজে থেকে এইসব শিখে নিতে হয়। তবে যেহেতু তার ক্রিটিক্যাল থিংকিং করার ক্ষমতা আছে তাই খুব সহজেই সে এই ঘাটতি পুরন করে উঠতে পারে।

সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে, প্রজেক্ট হলো মুলত কোন একটি সফ্টওয়ার সলুশ্যন তৈরি যা সাধারণত সফ্টওয়ার ফার্মে কাজ করার সময় কাজে লাগে। আর থিসিস হলো গবেষণা শেখার ও তার ব্যবহার করে সমস্যা সমাধানের উপায়। তাই এটি একাডেমিক ক্ষেত্রে কাজে লাগে। তবে এটা এমনই হবে তারও কোন ধারা বাধা নিয়ম নাই।

তবে যে যাই করুক! লক্ষ্য, সিনসিয়ারিটি ও পরিশ্রম করার মানসিকতা নিয়ে কাজ করলে সাফল্য আসবেই।

শুভ কামনা সবার জন্যই… ☺

মূল লেখাঃ স্যার, প্রজেক্ট করবো নাকি থিসিস করবো ?

আমার ব্লগের মূল লেখাঃ https://blog.sanzidscloud.com/2017/09/19/thesisorproject/
_________
Md. Sanzidul Islam
Lecturer, Dept. of SWE
Daffodil International University
Cell: +880 1864007005
Portfolio: https://sanzidscloud.com
102, Shukrabad, Mirpur Road
Dhanmondi, Dhaka- 1207