প্রাণঘাতী করোনা : সচেতনতা এবং সতর্কতাই প্রধান ওষুধ

Author Topic: প্রাণঘাতী করোনা : সচেতনতা এবং সতর্কতাই প্রধান ওষুধ  (Read 206 times)

Offline Md. Siddiqul Alam (Reza)

  • Sr. Member
  • ****
  • Posts: 253
    • View Profile
সর্বজনবিদিত প্রবাদ, ‘সাবধানের মাইর নাই’ বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রাণঘাতী করোনা থেকে রক্ষা পাওয়ার ক্ষেত্রে উল্লেখিত প্রবাদের বাস্তবায়ন যথোপযুক্ত, কারণ করোনার দুঃসংবাদ ঊর্ধ্বমুখী এবং থামবে কোথায় এখনো অজানা। এই প্রাণঘাতী ভাইরাস ছাড় দিচ্ছে না কাউকে; ধর্ম, বর্ণ, জাতি, কুল, দেশভেদে সবাই এর ছোবলের শিকার। প্রায় তিনমাস আগে চীনের উহান শহরে আঘাতহানার পর, এটি এখন বিশ্বব্যাপী শব্দহীন তাণ্ডব চালাচ্ছে।

কেউ কেউ এর ভেতর ষড়যন্ত্র দেখছেন এবং তথ্য গোপন করা নিয়ে সংবাদ ছাপা হচ্ছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে। এ নিয়ে আর আলোচনায় না যাই, সময়ই বলে দিবে কোভিড-১৯ কি ষড়যন্ত্র? অথবা তথ্য গোপনের বিষয়টি কি আসলেই সত্য! করোনার তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হচ্ছে চিকিৎসা, অর্থনীতি, বিনোদন, যোগাযোগ, শিক্ষা ইত্যাদিসহ অন্যান্য খাত। উন্নত থেকে অনুন্নত সকল দেশে, সরকার থেকে শুরু করে জনগন সবাই আতঙ্কগ্রস্ত এবং বন্ধ হয়ে আছে দৈনন্দিন জীবনের অতিপ্রয়োজনীয় বিষয় ছাড়া বাকি কর্মযজ্ঞ; রঙ্গমঞ্চ নিভে গিয়েছে অনির্দিষ্টকালের জন্য।

কিছু উন্নত দেশ যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছে, তবে আক্রান্ত হওয়ার কিছুকাল পর, ফলে  আনবিক, পারমাণবিক, হাইড্রোজেন বোমা অথবা অস্ত্রের চেয়ে কঠিন ভাইরাস মোকাবেলায় যুদ্ধরত এবং বিধ্বস্ত অবস্থায় আছে। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদশের অধিকাংশ কাজকর্মও স্থবির হয়ে আছে এবং এ দেশের মানুষজন আতঙ্কগ্রস্ত আবার অসতর্কও বললেও অতিরঞ্জিত হবে না। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে করোনার ভয়াবহতা নিয়ে পরিষ্কারভাবে বলা মুশকিল। অন্যান্য দেশে এই ভাইরাসের ছোবলের ভয়াবহতা পর্যালোচনা করে, বাংলাদেশেও অনেক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সরকারি-বেসরকারি অথবা আংশিকভাবে চালু রাখা হয়েছে মানুষের অতিপ্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য।

খ্যাতিমান বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা বাংলাদেশের আক্রান্তের সংখ্যা এবং মৃতের সংখ্যা নিয়ে যে প্রতিবেদন দিয়েছে তা রীতিমতো শিউরে উঠার মতো। প্রতিবেদনগুলো মূলত করা হয়ছে জনসংখ্যার ঘনত্বের হার, শিক্ষার হার, সচেতনতার হার, আর্থসামাজিক অবস্থা ইত্যাদি বিষয় বিবেচনা করে। এই প্রতিবেদনগুলোর যদি কিছুটা সত্যতাও থাকে, তাহলে এই দেশ বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে যাচ্ছে এটা অনুমেয়।

প্রথমদিকে সরকারের সিদ্ধান্তের পর শহরের অধিকাংশ শ্রমজীবী মানুষ শহর থেকে হয়েছিল গ্রামমুখী, যথাযথভাবে দূরত্ব বজায় রাখার বাধ্যবাধকতা মানা হয়নি এবং এখনো নির্ধারিত সময়ের আগেই ফিরছে, মানছেই না দূরত্ব বজায় রাখার বাধ্যবাধকতা। কোনো অদৃশ্যশক্তির বলে নির্ধারিত সময়ের আগেই শ্রমজীবী মানুষেরা শহরমুখী হচ্ছে, পায়ে হেঁটে অথবা ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনে গাদাগাদি করে  ফিরছে এটা নিশ্চিত করে না বলা গেলেও, এর পরিণতি সুখকর হবে না এটা নিশ্চিত করে বলা যায়। অন্যান্য দেশের তুলনায়, বাংলাদেশে অল্পকয়েকজনকে করোনা পরীক্ষা করা হলেও, এর মাঝেই আক্রান্তের এবং মৃতের পরিমাণ বাড়ছে।

অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা করলে এটা বলা বাড়াবাড়ি হবে না যে, অতি শিগগিরই বাংলাদেশে করোনাভাইরাস ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। গত তিনমাস থেকে বিশ্বের সবগুলো নামকরা ওষধ/চিকিৎসাশাস্ত্র গবেষণা প্রতিষ্ঠান করোনার ওষধ এবং টিকা আবিষ্কারের জন্য কাজ করে গেলেও আশানুরূপ সাফল্য এখনো অর্জন করতে পারেনি। সম্ভাব্য অনেক ওষধ এবং টিকা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, পরীক্ষামূলকভাবে এগুলোর কার্যকারিতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা খুব শিগগিরই এর নির্দিষ্ট ওষধ এবং টিকা আবিষ্কারের সম্ভাবনা দেখছে না, বলা হচ্ছে সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। যদিও, অতি শিগগিরই এটি নির্মূল করা যাবে না কিন্তু এর ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ কমানো যাবে অনেকাংশে।

এখন প্রাণঘাতী করোনা মোকাবিলা করার জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হল সচেতনতা এবং সতর্কতা। মানুষকে এর ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন না করতে পারলে সরকার সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেওয়ার পরেও, সর্বাঙ্গে সফল হওয়া সম্ভবপর হবে না। সতর্কতা নির্ভর করে সচেতনতার ওপর।  জনগণ করোনাভাইরাস সম্পর্কে সচেতন না হলে, সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করবেনা। সম্প্রতি কিছু ঘটনার উদ্ভব হয়েছে, যেমন ঝুঁকিপূর্ণভাবে যানবাহনে গাদাগাদি করে শহরে ফেরা, গাদাগাদি করে ত্রাণ গ্রহণ অথবা বিতরণ; যেগুলো মারাত্মকভাবে অসচেতনতাকে নির্দেশ করছে। সচেতন না হলে, সতর্কতা অবলম্বন করা প্রায় অসম্ভব এবং সতর্কতা অবলম্বন না করলে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও মারাত্মকভাবে বেকায়দায় পরে যাবে। যদিও নিরক্ষরতা, অপশিক্ষা, ধর্মীয় গোড়ামী এবং আর্থসামাজিক কারণে মানুষকে অতিদ্রুত সচেতন কর সম্ভব হচ্ছে না, তারপরেও থেমে নেই চেষ্টা।

সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করছে সরকারি, বেসরকারি, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছামূলক প্রতিষ্ঠান/সংগঠন। মানুষকে করোনার ভয়াবহরূপ সম্পর্কে সচেতন করতে না পারলে, দীর্ঘ মেয়াদে সবাই এর কুফল ভোগ করবে। এখন প্রাণঘাতী করোনা মোকাবিলার প্রধান ওষধ হলো সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সর্বোচ্চ সতর্কতা নিশ্চিত করা। 

লেখক : মো. জহির উদ্দিন, সহ-প্রধান গবেষক, বাংলাদেশ সেন্টার ফর কমিউনিকেশন প্রোগ্রাম (বিসিসিপি)।
MD. SIDDIQUL ALAM (REZA)
Senior Assistant Director
(Counseling & Admission)
Employee ID: 710000295
Daffodil International University
Cell: 01713493050, 48111639, 9128705 Ext-555
Email: counselor@daffodilvarsity.edu.bd