কোরআন ও হাদিসে অপচয় নিষিদ্ধ

Author Topic: কোরআন ও হাদিসে অপচয় নিষিদ্ধ  (Read 39 times)

Offline Md. Abul Bashar

  • Full Member
  • ***
  • Posts: 139
  • Test
    • View Profile
কোরআন ও হাদিসে অপচয় নিষিদ্ধ

মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের জন্য অফুরন্ত নিয়ামতের ব্যবস্থা করেছেন। এবং তাঁর দেওয়া নিয়ামতগুলো যথাযথভাবে ভোগ করার নির্দেশ দিয়েছেন। কারণ আল্লাহর নির্দেশিত পদ্ধতিতে নিয়ামতের সঠিক ও যথাযথ ব্যবহার আল্লাহর শুকরিয়ার অংশ। যেসব কারণ মানুষের ওপর নিয়ামত সংকুচিত করা হয় বা মানুষকে বিপদে পড়তে হয়, তন্মধ্যে একটি হলো অপচয়। মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের পবিত্র কোরআন ও হাদিসের অসংখ্য স্থানে অপচয় করতে নিষেধ করা হয়েছে। এক আয়াতে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘হে আদম সন্তান, প্রত্যেক নামাজের সময় তোমরা সুন্দর পোশাক গ্রহণ করো। আর পানাহার করো; কিন্তু অপচয় কোরো না। নিশ্চয় তিনি অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ৩১)

তবে এর মানে এই নয় যে অপচয় রোধ করতে গিয়ে কৃপণতা অবলম্বন করবে। মহান আল্লাহ কৃপণদের পছন্দ করেন না। অপচয় ত্যাগ করার অর্থ হলো মধ্যপন্থা অবলম্বন করা।

এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তুমি একেবারে ব্যয়কুণ্ঠ হয়ো না, আর একেবারে মুক্তহস্তও হয়ো না, তাহলে তুমি তিরস্কৃত, নিঃস্ব হয়ে বসে থাকবে।’ (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ২৯)
অন্য আয়াতে মহান আল্লাহ তাঁর পছন্দের বান্দাদের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, ‘আর তারা যখন ব্যয় করে তখন অপব্যয় করে না এবং কার্পণ্যও করে না; বরং মাঝামাঝি অবস্থানে থাকে।’ (সুরা : ফুরকান, আয়াত : ৬৭)

বিষয়টি হাদিস শরিফে এভাবে এসেছে, ‘পানাহার করো, সদকা করো আর পোশাক পরিধান করো, যতক্ষণ তা অপচয় ও অহংকার মিশ্রিত না হয়।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩৬০৫)

উল্লেখ্য, আল্লাহর অবাধ্যতায় (পাপকাজে) খরচ করা অপব্যয় এবং আল্লাহর পথে খরচ না করা কৃপণতা। আর আল্লাহর নির্দেশানুসারে ও তাঁর আনুগত্যের পথে খরচ করা হলো মধ্যপন্থা অবলম্বন করা। (ফাতহুল কাদির) অনুরূপ আবশ্যকীয় খরচে ও বৈধ খরচেও সীমা অতিক্রম করা অপব্যয় বলে গণ্য। অতএব সে ক্ষেত্রেও সাবধানতা ও মধ্যপন্থা অবলম্বন করা একান্ত জরুরি।

আল্লাহর দেওয়া সম্পদ অপচয় করা আল্লাহ তাআলা কিছুতেই পছন্দ করেন না। ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ তোমাদের তিন বস্তু পছন্দ করেন আর তিন বস্তু অপছন্দ করেন। আল্লাহর পছন্দনীয় বস্তুগুলো হলো, তাঁর ইবাদত করা, তাঁর সঙ্গে কাউকে অংশীদার না করা এবং সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ থাকা, বিচ্ছিন্ন না হওয়া।

আর আল্লাহর অপছন্দনীয় বস্তু তিনটি হলো, অহেতুক কথা বলা, অহেতুক প্রশ্ন করা ও অনর্থক সম্পদ বিনষ্ট করা।’ (মুসলিম, হাদিস : ১৭১৫)

কোনো ব্যক্তি অপচয় বা অপব্যয় করে শয়তান কর্তৃক প্ররোচিত হয়ে শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে। শয়তানের ধোঁকায় পড়ে সে আল্লাহর আদেশ ভুলে অপচয়ে মত্ত হয়ে থাকে। মনের খাহেশের পূজারি হয়ে ওঠে। এ জন্য পবিত্র  কোরআনে অপচয়কারীকে শয়তানের ভাই আখ্যায়িত করা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই।’ (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ২৭)

আল্লামা বরকুভি (রহ.) বলেন, ‘শয়তানের ভাই শয়তানের মতোই। এই পৃথিবীতে শয়তানের চেয়ে নিকৃষ্ট কোনো নাম নেই। এ হিসেবে অপচয়কারীকে শয়তানের ভাই আখ্যায়িত করার চেয়ে নিকৃষ্ট কোনো বিশেষণ নেই।’ (আত-ত্বরিকতুল মুহাম্মদিয়্যা, পৃষ্ঠা : ১০৩)